পুলিশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পুলিশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে বিয়ের ঠিক দুই দিন আগে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল বাবা-মায়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ছেলের বিয়ের কেনাকাটা শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে ঈশ্বরদীতে ট্রাকচাপায় এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে পৌর শহরের আলহাজ্ব মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নের মালিথাপাড়া এলাকার মৃত টুনি মালিথার ছেলে আনোয়ার মালিথা (৪০) ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুন (৩৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগামী শুক্রবার তাঁদের ছেলে সিয়ামের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। এ উপলক্ষে ওই দম্পতি ঈশ্বরদী শহরে কেনাকাটা করতে আসেন। কাজ শেষে সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে আলহাজ্ব মোড় এলাকায় একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাঁদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই স্বপ্না খাতুনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আনোয়ার মালিথাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান জানান, মরদেহগুলো উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকচালক পালিয়ে যাওয়ায় তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ঈশ্বরদীতে মুঠোফোন চুরির অপবাদে তরুণকে মারধর, চুল কেটে দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে চুরির অভিযোগে সিয়াম হোসেন (১৯) নামের এক তরুণকে আটকের পর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর মধ্যপাড়া (প্রামাণিকপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সিয়াম হোসেন একই ইউনিয়নের মানিকনগর পূর্বপাড়া গ্রামের সুজন সরদারের ছেলে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, মঙ্গলবার দুপুরে সিয়াম জয়নগর মধ্যপাড়া গ্রামের শাহিনুর প্রামাণিকের বাড়ি থেকে একটি মুঠোফোন নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁকে আটক করেন। পরে বকুল প্রামাণিক নামের এক ব্যক্তি তাঁর মাথার চুল কেটে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সিয়াম মাদকাসক্ত এবং মাদক সেবনের জন্যই তিনি মুঠোফোনটি চুরি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এদিকে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ভুক্তভোগীর বাবা সুজন সরদার বলেন, ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। তাঁর দাবি, সিয়াম মানসিকভাবে অসুস্থ এবং না বুঝেই মুঠোফোনটি নিয়ে থাকতে পারেন। তবে চুরির অভিযোগ থাকলেও এভাবে তাঁর ছেলের চুল কেটে দেওয়া অমানবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে স্কুল কমিটি গঠন নিয়ে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে আহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শাহিনুর ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে চরকুড়ুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শাহিনুর চরগড়গড়ি গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির কমিটি গঠন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে উভয় পক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠলে একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে শাহিনুর গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে ট্রেনে ওঠার সময় নারীর চেইন ছিনতাই, আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদী বাইপাস রেলস্টেশনে সিল্কসিটি এক্সপ্রেসে ওঠার সময় এক নারীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চার নারীকে আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

আটক চার নারী হলেন পাবনার চাটমোহরের শেফালী বেগম (৩২), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের রোজিনা আক্তার (২৫) ও সরাইলের মায়া ওরফে সুবর্ণা (২২) এবং হবিগঞ্জের মাধবপুরের রুপালী (২২)।

অভিযোগকারী নাটোরের লালপুরের আজিজা খাতুন জানান, টাঙ্গাইলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি সিল্কসিটি ট্রেনে উঠছিলেন। এ সময় কয়েকজন নারী পরিকল্পিতভাবে ভিড় ও ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। এই সুযোগে তাঁর গলায় থাকা লকেটসহ প্রায় ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন খুলে নেওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫ হাজার টাকা।

তাঁর চিৎকারে উপস্থিত যাত্রীরা তিনজনকে আটক করেন। পরে ট্রেনে পালিয়ে যাওয়া শেফালী বেগমকেও যাত্রীদের সহায়তায় আটক করে পুলিশ।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ চার নারীকে আটক করে। ছিনতাই হওয়া চেইন উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতার অস্ত্র হাতে মহড়া, গ্রেপ্তারের পর মুক্তি- কার ইশারায়?


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মাথা ও শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে এবং লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়া সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পীকে (৩৫) আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তাঁর ব্যবহৃত লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এদিকে বাপ্পীকে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে থানার সামনে মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেছেন মেহেদী হাসানের অনুসারীরা। সন্ধ্যায় থানার সামনে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, পৌর যুবদলের বহিষ্কৃত আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব মেহেদী হাসান।

এর আগে সোমবার বিকেলে ঈশ্বরদী পৌর শহরের প্রধান সড়কে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অস্ত্র হাতে মহড়া দেন বাপ্পী। তিনি ছাত্রদলের সাবেক নেতা, ঈশ্বরদী পৌরসভার বকুলের মোড় এলাকার বাসিন্দা এবং পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে মাথা ও শরীরে সাদা কাফনের কাপড় জড়িয়ে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বের হন বাপ্পী। পরে তিনি শহরের বিভিন্ন সড়কে অস্ত্র হাতে ঘোরেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে কয়েকজন অনুসারী ছিলেন। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাপ্পী ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে অস্ত্রটি জমা দেন বলে দাবি করে পুলিশ। এ সময় তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পাবনা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাপ্পীকে আটকের পর সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ডিবি হেফাজতে দেয় ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৪টার দিকে তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় ডিবি পুলিশ।’

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে আটকের তথ্য জানান ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার। তখন তিনি ছেড়ে দেওয়ার তথ্য জানাননি। শুধু বলেছেন, ‘তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাবনা জেলা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

বিকেলে বাপ্পীর বিষয়ে জানতে চাইলে প্রণব বলেন, ‘মুচলেকা নিয়ে বাপ্পীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাপ্পী কেন প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন, তাঁর অস্ত্রের লাইসেন্সের কোনো শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না এবং পুরো ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তবে বাপ্পীর দাবি, তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে হুমকিদাতাদের পাশাপাশি মাদক ও সুদের কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং তাঁদের ওপেন চ্যালেঞ্জ অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে বাপ্পী নিজ বাড়ি থেকে শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে ও হাতে লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে মহড়া শুরু করেন। ঈশ্বরদী থানার কাছাকাছি পৌঁছালে অপর একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা মহড়া দেয়। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে রাতে থানায় গিয়ে বাপ্পী তাঁর লাইসেন্স করা অস্ত্রটি জমা দেন। পরে প্রভাবশালী একজন রাজনৈতিক নেতার তদবিরে তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। কারণ ওই নেতাই তাঁকে শেল্টার দিচ্ছেন বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।

এদিকে বাপ্পীর অস্ত্র হাতে মহড়ার প্রতিবাদে বিএনপির অপর পক্ষের নেতাকর্মীরা সোমবার রাতে ঈশ্বরদী থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এই পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু। অন্যদিকে হাবিবুর রহমান ফেসবুক লাইভে এসে বাপ্পীর পক্ষে বক্তব্য দেন।


ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকেরা থানার ফটকের সামনে অবস্থান নেন। তাঁরা বিক্ষোভ ও বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে অস্ত্র হাতে মহড়ার প্রতিবাদ জানান। 

বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন বাপ্পী। প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে তিনি পুরো শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। প্রতিপক্ষকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যেই তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন।


বাপ্পীর রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বলেন, ‘বাপ্পী মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে থানায় অস্ত্র জমা দিতে গিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে।’

তবে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার বলেন, ‘আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের দলের হলেও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, তাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাপ্পী প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাকে হত্যার জন্য বকুলের মোড় থেকে রেলগেটে এসে আমাকে গালাগালি ও হত্যার হুমকি দিয়েছে। আমি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তাকে গ্রেপ্তার করে তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।’

বাপ্পীকে গ্রেপ্তারের দাবি জামায়াতের


পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মন্ডল ও পাবনা জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য গোলাম রাব্বানী খান জুবায়েরকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য প্রদান এবং ঈশ্বরদী শহরে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঈশ্বরদী উপজেলা শাখা।

মঙ্গলবার বিকেলে শহরের আলহাজ মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এই দাবি জানানো হয়।

ঈশ্বরদীতে চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মুদি দোকানে চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে সুমন (৩২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। চোরকে বাধা দিতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের হামলায় দোকানমালিক ও তাঁর দুই ছেলে গুরুতর আহত হন। তাঁরা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

রোববার রাত আনুমানিক ১টায় উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়া ঠান্ডাতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন ওই ইউনিয়নের মহাদেবপুর আজিজলতলা এলাকার মৃত বয়েন মণ্ডলের ছেলে।

স্থানীয় ব্যক্তি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে মুদিব্যবসায়ী হবিবুল ইসলামের দোকানে চুরির উদ্দেশ্যে ঢোকেন সুমন। দোকানের সঙ্গেই বসতবাড়ি হওয়ায় বিষয়টি টের পান হবিবুল। তিনি বাইরে বেরিয়ে এসে আটকানোর চেষ্টা করলে সুমন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে ও তাঁর দুই ছেলেকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। এ সময় তাঁদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে সুমনকে ধরে পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঈশ্বরদী থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য তা পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে মোটরসাইকেল চুরির চেষ্টায় তিনজন গ্রেপ্তার, উদ্ধার দুই বাইক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করার সময় তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক সপ্তাহ আগে একই এলাকা থেকে চুরি হওয়া আরও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচের পার্কিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সংগ্রামপুর গ্রামের মো. রোমান (২৫), সোনাইকান্দি গ্রামের মো. আসিফ রহমান (১৮) এবং শীতলাপাড়া গ্রামের কিশোর আপন (১৪)।

পুলিশ জানায়, ঈশ্বরদীর যুক্তিতলা এলাকার বাসিন্দা মো. আরাফাত তাঁর তিন বন্ধুকে নিয়ে একটি মোটরসাইকেল ব্রিজের নিচে পার্কিং করে পাশে ঘুরতে যান। এ সুযোগে ওত পেতে থাকা চোর চক্রের তিন সদস্য মোটরসাইকেলটির তালা ভেঙে চুরি করার চেষ্টা চালায়। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে টহলরত পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাঁদের আটক করেন। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ জুলাই একই এলাকা থেকে চুরি হওয়া অপর একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, উদ্ধার করা মোটরসাইকেলসহ অন্য আলামত পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঈশ্বরদীতে কোরআন পোড়ানোর অভিযোগ, গণপিটুনি


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে স্ত্রীর কাছে মাদকের টাকা চেয়ে না পেয়ে পবিত্র কোরআন শরিফ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জুয়েল রানা (৪০) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার সাঁড়াগোপালপুর বকশিরচক তালতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ওই ব্যক্তিকে ধরে পিটুনি দেওয়ার পর পুলিশে সোপর্দ করেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, জুয়েল রানা দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি মাদক কেনার জন্য তাঁর স্ত্রীর কাছে টাকা চান। স্ত্রী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জুয়েল ঘরে ঢুকে কোরআন শরিফের পাতা উল্টে টাকা খুঁজতে থাকেন। কোনো টাকা না পেয়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে পবিত্র গ্রন্থটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।

খবরটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জুয়েলকে বাড়ি থেকে আটক করে তালতলা মোড়ে নিয়ে আসেন। তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নানা স্লোগান দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ঈশ্বরদী-রূপপুর রেলপথের তালতলা রেলগেটের পিলারের সঙ্গে তাঁকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। উত্তেজিত জনতা তাঁর চুল ও দাড়ি কেটে, মুখে চুনকালি মেখে এবং গলায় জুতার মালা পরিয়ে গণপিটুনি দেয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, জুয়েল রানা একজন চিহ্নিত মাদকসেবী। নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁর স্ত্রী মাঝেমধ্যে কোরআন শরিফের ভেতরে কিছু টাকা লুকিয়ে রাখতেন। জুয়েল সেখানে টাকা না পেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পবিত্র ধর্মগ্রন্থে আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ওসি আরও জানান, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

সুজানগরে পুলিশের ওপর হামলা: আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার


নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে আজ শনিবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ জানায়, এ হামলার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে সুজানগর থানায় দলটির জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আসামি করে দুটি মামলা করা হয়।

ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, মামলার পর সুজানগরের বিভিন্ন স্থানে রাতভর অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতপরিচয় আসামি রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।

সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, ওসিসসহ আহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন ও কনস্টেবল সবুজ হোসেন আহত হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার মথুরাপুর এলাকার দোপপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মধ্যরাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের একটি বিশেষ ম্যাচ থাকায় ভোররাত পর্যন্ত মথুরাপুর এলাকায় ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। পুলিশের কাছে গোপন তথ্য ছিল, এই সুযোগে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আবদুল ওহাবের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা সেখানে নাশকতার পরিকল্পনা করছেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি টহল দল দুটি গাড়িতে করে দোপপাড়া এলাকায় যায়।

পুলিশের দাবি, সেখানে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখে স্থানীয় একটি মসজিদের মাইক থেকে ডাকাত সন্দেহে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ওই দলের শতাধিক নেতা-কর্মী ও কয়েক শ সমর্থক দেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।

তবে পুলিশের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওহাব। তিনি বলেন, ‘পুলিশের অভিযানের কারণে আমি নিজেই এলাকায় যেতে পারি না, সেখানে উপস্থিত থাকার প্রশ্নই আসে না। আমি যতটুকু জেনেছি, রাতে খেলা দেখার পর স্থানীয় যুবকেরা সেখানে খিচুড়ি রান্না করে খাচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ গিয়ে ১০-১৫ জনকে আটক করলে স্থানীয় বাসিন্দা ও নারীরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে তাঁদের ছাড়িয়ে নেন। এ সময় ধস্তাধস্তিতে পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুজন পুলিশ সদস্য সামান্য চোট পান।’

এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, হামলায় ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঈশ্বরদীতে মাদক সেবন ও বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে মাদক সেবনের অপরাধে ১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকি ৫ জনের মধ্যে একজন নিয়মিত মামলার এবং চারজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার ফতেমোহাম্মাদপুর, আমবাগান, মুলাডুলি, লক্ষ্মীকুণ্ডা ও পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ জানায়, বিশেষ অভিযান চলাকালে মাদক সেবনের অভিযোগে ১৫ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আটক ব্যক্তিদের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকারের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত অপরাধের ধরন অনুযায়ী ওই ১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। সাজা কার্যকরের জন্য তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া বাকি ৫ জনের মধ্যে একজন নিয়মিত মামলার আসামি এবং অন্য চারজন আদালতের পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি। তাঁদেরও আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক সেবন কিংবা কারবারের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঈশ্বরদীর নাজমুল


নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএসএ) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন পাবনার ঈশ্বরদীর সন্তান নাজমুল হাসান।

নাজমুল হাসান বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বুধবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাজমুল হাসান। 

প্রতিক্রিয়ায় নাজমুল হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ। সংগঠনের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করব। সহকর্মীদের কল্যাণ, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যেতে চাই। এ জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।’

সাঁথিয়ায় ভ্যানচালককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা, হাসপাতালে ভর্তি


নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা: পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে জুয়েল রানা (৩৪) নামের এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি এখন পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

শনিবার রাতে উপজেলার জোলা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতের ভাই মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে সাঁথিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—চর কলাগাছী গ্রামের রাসেল (৩৪), শাহীন (৩৫), হবি (৫৮), আলী (৪৫), হালিম (৪৫), রাজ্জাক (২৫) ও ওয়ালিদ (২২)।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশায় ভ্যানচালক জুয়েল রানা শনিবার রাতে চব্বিশ মাইল বাজার থেকে ভ্যান নিয়ে কাশিনাথপুর মোড়ের জোলা এলাকায় পৌঁছালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুয়েল রানা অভিযোগ করেন, কয়েক বছর আগে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অভিযুক্ত রাসেলের পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তিনি স্ত্রীকে তালাক দেন। সেই ঘটনার জের ধরেই হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় তাঁর হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আহতের বোন সুফিয়া খাতুন ও ভাই মোক্তার হোসেন বলেন, জুয়েল রানা ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। পূর্ব শত্রুতার জেরে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অসম্পূর্ণ লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আহত ব্যক্তির চিকিৎসা শেষ হলে পূর্ণাঙ্গ অভিযোগ দেওয়া হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ সাতজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া বাজারের এনসিডিপি গোয়ার্স মার্কেটে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে সাতজনকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইকবাল হোসেন ইমন (৩১), নাজমুল হাসান (৩০), সজীব (২৭), তুষার ইমরান (৩৩), জনি ইসলাম (৩০), রতন ইসলাম (১৯) এবং সাজাদুর রহমান (২১)।

রোববার বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ জানান, অভিযানের সময় ঘটনাস্থলের একটি চৌকির নিচ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ম্যাগাজিনে থাকা পাঁচ রাউন্ড ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি ইকবাল হোসেন ইমনের কাছে ছিল। তবে অস্ত্রটির কোনো বৈধ লাইসেন্স বা কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘অস্ত্রটির উৎস এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।’

ভাঙ্গুড়ায় যুবলীগ নেতা আটক, বিক্ষোভের পর ছেড়ে দিল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় রিপন সরকার নামে এক যুবলীগ নেতাকে আটক করে থানায় নেওয়ার পর ছাত্রদল নেতা ও গ্রামবাসীর বিক্ষোভের মুখে তাঁকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, নাশকতার ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাঁকে আটক করা হয়েছিল।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলীপাড়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে রিপন সরকারকে আটক করে পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের হাবিবুর সরকারের ছেলে এবং ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাশকতায় জড়িত থাকার সন্দেহে রিপন সরকারকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সোহেলের নেতৃত্বে দুই শতাধিক গ্রামবাসী থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়। এরপর ওসির কক্ষে পুলিশ, ছাত্রদল নেতা শফিকুল ইসলাম সোহেল এবং গ্রামের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তি আলোচনায় বসেন। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে রিপন সরকারকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সোহেল বলেন, তাঁদের গ্রামের স্বার্থে একটি খাসজমির ওপর বাজার বসানো হয়েছে। এ নিয়ে গ্রামে বিরোধ চলছে। এক ব্যক্তির স্বার্থে রিপন সরকারকে থানায় আটক করে আনা হয়েছে। তাই তাঁরা থানায় গিয়েছিলেন।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকিউল আজম বলেন, রিপন সরকার ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। নাশকতার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাঁকে আটক করে থানায় আনা হয়েছিল। তবে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় মুচলেকা নিয়ে গ্রামবাসীর জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

ঈশ্বরদী রেলগেটে ট্রাফিক পুলিশ বক্স উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী রেলগেট এলাকায় যানজট কমানো, সড়কের শৃঙ্খলা ঠিক রাখা এবং মানুষের সেবার মান বাড়ানোর জন্য ট্রাফিক পুলিশের  নতুন বক্স উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রেল কর্তৃপক্ষ ও পাবনা জেলা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ট্রাফিক পুলিশ বক্সের উদ্বোধন করেন পাবনা জেলা পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার, রেলওয়ে সার্কেলের পুলিশ কর্মকর্তা দ্বীন-ই-আলম, ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান, ঈশ্বরদী ট্রাফিক ইনচার্জ আব্দুল আল মাহমুদ, আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আফজাল হোসেনসহ পুলিশ ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

উদ্বোধন শেষে পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, ‘উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে ট্রাফিক পুলিশ বক্স তৈরির ফলে ট্রাফিক সদস্যরা আরও দ্রুত ও ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষও জরুরি প্রয়োজনে সহজেই পুলিশের সাহায্য নিতে পারবেন।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই ট্রাফিক পুলিশ বক্স চালুর মাধ্যমে ঈশ্বরদী রেলগেট এলাকায় যানজট কমানো, সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসেবার কাজ আরও গতিশীল হবে।

ঈশ্বরদীতে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ‘টেম্পু আলম’

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর আলোচিত খালেক খাঁন হত্যাচেষ্টা মামলার অন্যতম আসামি আলম প্রামাণিক ওরফে ‘টেম্পু আলম’কে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি তাজা গুলি ও বিভিন্ন দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তাঁর বয়স ৪০ বছর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনার পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, চলমান অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার রাতে ঈশ্বরদী থানা এলাকায় গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমের বসতবাড়ি ও আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি তাজা গুলি এবং বিভিন্ন দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার আলম প্রামাণিক ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চর-রূপপুর বিশুতলা এলাকার মৃত খবির প্রামাণিকের ছেলে।

পাবনা জেলার সেরা সার্কেল কর্মকর্তা ঈশ্বরদীর প্রণব কুমার

নিজস্ব প্রতিবেদক:  আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাবনা জেলার মে মাসের সেরা সার্কেল কর্মকর্তা বা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নির্বাচিত হয়েছেন ঈশ্বরদী সার্কেলের প্রণব কুমার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তাঁর হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পাবনার পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে এই স্বীকৃতি দেন।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী সার্কেলের অধীন ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া—এই দুই থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর, নিয়মিত ও অপমৃত্যু মামলা নিষ্পত্তি এবং মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় প্রণব কুমারকে জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল কর্মকর্তা হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়েছে। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই অর্জনের বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, পুরস্কার পাওয়া বড় কথা নয়; আসল বিষয় হলো জনগণকে কেমন সেবা দিতে পারলাম। ঈশ্বরদী সার্কেলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমি সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করি।

ঈশ্বরদী থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন করলেন পুলিশ সুপার


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী সার্কেল কার্যালয়, থানা এবং রূপপুর-পাকশী পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন করেছেন জেলার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ।

শুক্রবার তিনি ঈশ্বরদী থানায় পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশাদুর রহমান।


পরে পুলিশ সুপার থানা ও ফাঁড়িগুলোর চত্বর ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন শাখার নথিপত্র পরীক্ষা করেন। এ সময় তিনি সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জনসেবা কার্যক্রম, অপরাধ দমন এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন।

মো. ছুফি উল্লাহ জনবান্ধব পুলিশি কার্যক্রম আরও জোরদার এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।


পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক এবিএম মনিরুল ইসলাম এবং আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির আফজাল হোসেন।

ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে পদ্মায় টহল দেয়ার সময় পুলিশের ওপর হামলা, গুলিবিদ্ধ ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে টহল দেয়ার সময় পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নৌ-পুলিশের পাঁচ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে কুষ্টিয়ার হরিপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন-ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার শফিকুল ইসলাম এবং সদস্য এনামুল হক, শাহিনুর হক, নাজমুল হাসান ও মানিক মিয়া। তারা সবাই ওই ফাঁড়িতে কর্মরত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে পুলিশের একটি দল নৌকা নিয়ে নদীতে যায়। দলটি কুষ্টিয়ার হরিপুর এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে লুকিয়ে থাকা একদল সশস্ত্র হামলাকারী তাদের ওপর গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দুই পক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ গোলাগুলি চলে। এতে ফাঁড়ির ইনচার্জসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে এনামুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পরপরই এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন