পুলিশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পুলিশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে পদ্মায় টহল দেয়ার সময় পুলিশের ওপর হামলা, গুলিবিদ্ধ ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে টহল দেয়ার সময় পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নৌ-পুলিশের পাঁচ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে কুষ্টিয়ার হরিপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন-ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার শফিকুল ইসলাম এবং সদস্য এনামুল হক, শাহিনুর হক, নাজমুল হাসান ও মানিক মিয়া। তারা সবাই ওই ফাঁড়িতে কর্মরত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে পুলিশের একটি দল নৌকা নিয়ে নদীতে যায়। দলটি কুষ্টিয়ার হরিপুর এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে লুকিয়ে থাকা একদল সশস্ত্র হামলাকারী তাদের ওপর গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দুই পক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ গোলাগুলি চলে। এতে ফাঁড়ির ইনচার্জসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে এনামুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পরপরই এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঈশ্বরদীতে চালকদের প্রশিক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা রোধে যানবাহন চালকদের নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল শনিবার বিকেলে শহরের স্কুলপাড়া ঈদগাহ মাঠে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সম্প্রতি ঈশ্বরদী-লালপুর মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। প্রধান বক্তার বক্তব্যে ঈশ্বরদী ট্রাফিক সার্কেলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আব্দুল্লাহ আল মামুদ চালকদের ট্রাফিক আইন ও নিরাপদ ড্রাইভিং সংক্রান্ত বিভিন্ন কারিগরি দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

স্কুলপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে এবং সামাজিক সংগঠন ‘মানাব’-এর ঈশ্বরদী শাখার সভাপতি মাসুম পারভেজ কল্লোলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক মুকুল, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আব্দুল আলীম খান, সাংবাদিক সেলিম সরদার, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি মো. দুখু মিয়া এবং সংবাদকর্মী মিথুন মাহবুব খান।

বক্তারা বলেন, সড়কে বিশৃঙ্খলা ও নিয়ম না মানার প্রবণতার কারণে ঈশ্বরদীতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে চালকদের বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার মানসিকতা এর অন্যতম প্রধান কারণ। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে শুধু প্রশাসনের অভিযানই যথেষ্ট নয়, বরং চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ ও সাধারণ মানুষের সচেতনতাও জরুরি।

রূপপুর প্রকল্প ও ঈশ্বরদী থানা পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ঈশ্বরদী থানা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) আকরাম হোসেন। গতকাল বুধবার বিকেলে তিনি এই বড় প্রকল্প ও থানা কার্যালয় ঘুরে দেখেন।

বিকেল তিনটার দিকে অতিরিক্ত আইজিপি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান। পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ দেখার পাশাপাশি চলমান কাজের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে তিনি বিশেষ জোর দেন।

প্রকল্প এলাকা থেকে অতিরিক্ত আইজিপি ঈশ্বরদী থানায় যান। সেখানে তিনি থানার দাপ্তরিক কাজ ও জনসেবার মান যাচাই করেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যেন থানায় এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার, ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান এবং রূপপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুবুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ছাত্রদল নেতা সোহাগ হত্যা: বিচারের দাবিতে ঈশ্বরদী থানা ঘেরাও


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্যসচিব ইমরান হোসেন সোহাগ (২৬) হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। শনিবার দুপুরে ঈশ্বরদী থানার প্রধান ফটকের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভ চলাকালে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা সোহাগ হত্যার নেপথ্যের কারণ খুঁজে বের করা এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’—এমন স্লোগানে এই সময় থানা এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় প্রধান ফটক আটকে রাখায় থানার স্বাভাবিক কাজকর্মে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ছাত্রদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বিটু, নাজমুল হাসান রিশাদ ও মাহমুদুল ইসলাম শাওন। বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পরিকল্পিতভাবে সোহাগকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত সোহাগের পরিবারকে বর্তমানে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।

নেতারা আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নিরাপত্তা না দিয়ে উল্টো আওয়ামী লীগ নেতা মিলন চৌধুরী ও রাজীব ফরাজির বাড়ি পাহারা দিচ্ছে। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে ঈশ্বরদীতে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সবকিছু অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুজ্জামান ও পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। সোহাগের হত্যাকারীদের খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে নেতা-কর্মীরা কর্মসূচি তুলে নেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের সাঁড়া গোপালপুর মন্নবীপাড়া এলাকায় ইমরান হোসেন সোহাগকে গুলি ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি ওই গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরদী শাখার অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন সোহাগ।

ঈশ্বরদীতে ভুয়া জজ পরিচয় দিয়ে সাবেক তহশিলদার আটক


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নিজেকে জেলা সহকারী জজ পরিচয় দিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন সৈয়দ জিয়া পির মোহাম্মদ আলী নামের এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ঈশ্বরদী থানায় ছদ্মবেশে অবস্থানকালে পুলিশের সন্দেহ হলে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে যান ওই ব্যক্তি। সেখানে তিনি নিজেকে যশোর জেলা আদালতের সহকারী জজ হিসেবে পরিচয় দেন। নিজেকে বিচারক দাবি করে তিনি সে রাতে পুলিশি পাহারায় থাকার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগিতা চান।

তবে কথা বলার একপর্যায়ে তার আচরণ ও চালচলনে অসংলগ্নতা ধরা পড়ে। এতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সন্দেহ হলে তিনি দ্রুত ওই ব্যক্তির পরিচয় যাচাই শুরু করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি কোনো বিচারক নন, বরং ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করছিলেন। জালিয়াতি ধরা পড়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তার সঙ্গে আসা ওই নারী কৌশলে থানা থেকে পালিয়ে যান।

আটক জিয়া পির মোহাম্মদ আলীর বাড়ি যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার বাগমারা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল আলীমের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিয়া আগে ভূমি অফিসে তহশিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে চারিত্রিক অবনতি ও দুর্নীতির অভিযোগে তিনি চাকরি হারিয়েছিলেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুজ্জামান জানান, নিজেকে বিচারক পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি থানা হেফাজতে আছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঈশ্বরদীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার


নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি ওয়ান শুটার গান ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পাকশী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পারেন পাকশী বাজারপাড়া জামে মসজিদের পূর্ব পাশে রাস্তার ধারের একটি ময়লার স্তূপে অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে ঝটিকা অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ময়লার স্তূপ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি ওয়ান শুটার গান ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।

এসআই মনিরুল ইসলাম আরও জানান, উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি ঈশ্বরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কে বা কারা জনবহুল এলাকায় ময়লার স্তূপে এসব অস্ত্র ফেলে গেছে, তাদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনিকে হত্যা: নেপথ্যে কিশোরীর চাচার প্রতিহিংসা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলায় দাদি ও নাতনিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামের এক ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। অভিযুক্ত শরিফুল নিহত কিশোরীর সম্পর্কে চাচা হন। গতকাল শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন—দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া এলাকার সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। জানা গেছে, কিছুদিন আগে ওই কিশোরীর সঙ্গে অশালীন আচরণের চেষ্টা করেছিলেন শরিফুল। এতে বাধা পেয়ে তিনি অপমানিত বোধ করেন এবং নাতনি ও দাদির ওপর ক্ষুব্ধ হন। সেই প্রতিশোধ নিতেই তিনি এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন।

ঘটনার রাতে ক্ষমা চাওয়ার অযুহাতে শরিফুল তাদের ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে তর্কের একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে দাদি ও নাতনির ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়।

পরদিন সকালে স্থানীয়রা ঘরটিতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। ঈশ্বরদী থানা পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পাবনা জেলা ডিবি পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শরিফুলের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে শনিবার রাতে তাকে আটক করা হয়।

পাবনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ধৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ঈশ্বরদীতে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ: পাল্টাপাল্টি মামলা


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে গত বৃহস্পতিবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর দুই দল পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. স. ম. আব্দুন নুর শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুপুরে মামলা দুটি নথিভুক্ত হয়েছিল।

ওসি জানান, সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার ছেলে বাঁধন হাসান আলিম ৩২ জন জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন। এছাড়া আরও ১৫০ থেকে ২০০ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলকে।

অপরদিকে, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম ৩৮ জন বিএনপির নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধাকে। এছাড়া ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের আত্মীয় ও অনুসারী।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটায় ঈশ্বরদী উপজেলার চর গড়গড়ি গ্রামে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক নেতা-কর্মী এলাকা থেকে সরে পড়েছেন।

এদিকে শনিবার বিকেলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব পাবনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ‘জামায়াতের লোকজন গ্রামের মহিলা ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে। এতে জনতা তাদের প্রচারণার প্রতিবাদ করেছে। তারা চর গড়গড়ি গেলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায় তারা স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি সমর্থকদের ওপর গুলি চালায় এবং হামলা চালায়।’

হাবিব আরও জানান, ‘তুষার নামের একজন জামায়াত কর্মী, যিনি মনোনীত প্রার্থী তালেবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনায় বিএনপির ১১ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।’

অন্যদিকে একই দিন বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামী তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে।

জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন, ‘হামলায় আমাদের ৫০ জনের বেশি সদস্য আহত হয়েছেন। পাশাপাশি শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বলেন, ‘যে ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করছিল, তাকে চিনি না। এটি আমাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির সমর্থকেরা আমাদের লোকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এখন তারা আমাদের দোষারোপ করছে।’

ঈশ্বরদীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বেকারত্ব আর অনলাইন জুয়ার আসক্তি থেকে চরম হতাশায় নিজের জীবন শেষ করেছেন মো. সেলিম (২৪) নামে এক যুবক।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার পাকশী যুক্তিতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সেলিম নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার থানাইখাড়া গ্রামের বাবু হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস ধরে স্ত্রী খাদিজা ও তিন বছর বয়সী মেয়ে সাবিহাকে নিয়ে পাকশী যুক্তিতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন সেলিম। তার স্ত্রী খাদিজা ঈশ্বরদী ইপিজেডের ‘আইএম বিডি’ নামে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কাজ শেষে বাসায় ফিরে খাদিজা দেখেন, সেলিম গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এ সময় ঘর থেকে একটি চিঠি পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর আগে সেলিম চিঠিটি লিখে গেছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেলিম দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন এবং অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। এতে পরিবারের অনেক টাকা নষ্ট হয়। টানা ক্ষতি আর কাজ না পাওয়ার হতাশায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।

পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।’

ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা গ্রেপ্তার


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর হামলা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার দিবাগত রাত ১২টায় পাবনা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সহায়তায় ঈশ্বরদী থানা পুলিশ পাবনা শহরের ঈদগাহ পাড়ার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম।

থানার উপ-পরিদর্শক মো. শরিফুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তারকৃত শরিফুল ইসলাম শরিফ গত ৪ আগস্ট ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া ট্রাফিক মোড়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান নিশ্চিত করে পাবনা শহরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুন নুর বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শরিফকে পাবনা শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাকে পাবনা জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

ঈশ্বরদীর ধান খেত থেকে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে এক বৃদ্ধের লাশ ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকাল ৮টার দিকে উপজেলা সদরের ফতেমোহাম্মদপুর বেনারসি পল্লির কাছে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম সিরাজুল ইসলাম (৫০)। তিনি ফতেমোহাম্মদপুর প্রামাণিকপাড়ার মৃত কেটি আহমেদের ছেলে।

সিরাজুল ইসলামের বোন রাশেদা বেগম জানান, 'শনিবার রাত ১০টার পর তিনি খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। কিন্তু সকালে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারেন তাঁর ভাইয়ের লাশ ধানক্ষেতে পড়ে আছে।'

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লাশটি তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে একটি ধানক্ষেতে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে এক ব্যাগ কাঁচা কলা এবং এক জোড়া স্যান্ডেলও উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, নিহত সিরাজুল ইসলাম কোনো স্থায়ী কাজ করতেন না, তিনি মূলত ভবঘুরে জীবন যাপন করতেন। তাঁর স্ত্রী প্রায় ১২ বছর আগে মারা গেছেন, এবং তাঁর ১৫ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী ছেলে আছে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ. স. ম. আব্দুন নুর জানান, 'খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।'

ঈশ্বরদীতে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে উদযাপন নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থানার মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এই সভা।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার। সভার সভাপতিত্ব করেন থানার অফিসার ইনচার্জ আ. স. ম. আব্দুন নূর।

এ সময় ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল আল মাহমুদ, আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আফজাল হোসেন, পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম এবং রূপপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নয়ন কুমার সাহা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপজেলা সভাপতি সুনীল চক্রবর্তি ও সাধারণ সম্পাদক গণেশ সরকার, মৌবাড়ি ও ঠাকুরবাড়ি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্বপন কুমার কুন্ডু ও সাধারণ সম্পাদক রাজেশ সরাফ, উপজেলা হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক দেব দুলাল রায়সহ উপজেলার সকল পূজা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা সভায় অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় তিনজন আটক, ল্যাপটপ ফেরত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া দুটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার রাতে পৌরসভার ইস্তা গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন- নাটোরের লালপুর উপজেলার দক্ষিণ লালপুর কলোনির আসাদুল ইসলাম ও শামীম মণ্ডল, এবং দিনাজপুরের কোতোয়ালি থানার মো. রনি।

পুলিশ জানায়, আসামি শামীম মণ্ডলের কাছ থেকে ঈশ্বরদী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চুরি হওয়া দুটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

গত ১৮ আগস্ট সোমবার রাতে শহরের স্টেশন সড়কের পাশে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন বিদ্যালয়ে তালা ভেঙে দুটি ল্যাপটপ চুরি হয়। পরের দিন রাতে পূর্বটেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তালা ভেঙে প্রবেশ করে ফাইলপত্র তছনছ করা হলেও ল্যাপটপ নিতে ব্যর্থ হয় চোরেরা। সেখান থেকে মাত্র ২১৭ টাকা চুরি হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

ঈশ্বরদীর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরমান গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা  নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার মোহাম্মদ আরমান উদ্দিন (২৮) গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি পৌরসভার পূর্ব টেংরি এলাকার মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে।

শনিবার ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুন নুর এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আরমানকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত দুটি মামলার আসামি। 

ওসি আরও বলেন, “দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে ঈশ্বরদী থানায় আনা হয় এবং বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে আরমান কিছু সময় চাঁদপুর জেলায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে তিনি একটিবেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে বুধবার চাঁদপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পালানোর সময় বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার ঈশ্বরদী ছাত্রলীগ সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি আবির হাসান শৈশব (২৭) কাতারে পালানোর চেষ্টা করার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন। শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শৈশব পিয়ারাখালী জামতলা মহল্লার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিনের ছেলে। শুক্রবার বিকেলে বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে থেকে ধরা পড়ে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট শহরে যুবদল কর্মী নজরুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হন। এই ঘটনায় নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ৭১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৮০–৯০ জনকে আসামি করেন। শৈশবও ওই মামলার একজন আসামি ছিলেন।

ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, 'ঈশ্বরদীতে যুবদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজনের নাম আদালতের নির্দেশে ইমিগ্রেশনে পাঠানো হয়েছিল। শৈশব বিমানবন্দরে পৌঁছালে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়।'

থানার ওসি আ ফ ম আব্দুর নূর বলেন, শৈশব ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মিছিলে হামলার মামলায় এজাহারে ১০ নম্বর আসামি ছিলেন। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে ছিলেন। শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বিট পুলিশিং সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুরি, ছিনতাই, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জুয়া ও ইভটিজিংসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ঈশ্বরদী পৌরসভার মুশুড়িয়াপাড়ায় বিট পুলিশিং সভা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে মুশুড়িয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করে সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শেখ আব্দুল হাই। প্রধান অতিথি ছিলেন ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রনব কুমার। সঞ্চালনায় ছিলেন আতাউর রহমান বাবলু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী থানার ওসি আ.স.ম. আব্দুন নুর, আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আফজাল হোসেন এবং মুশুড়িয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান রবি।

এছাড়া বক্তব্য দেন বাঘইল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দিন, ব্যবসায়ী মো. আসাদুজ্জামান, ছাত্রদল নেতা নাসির হোসেন, শিক্ষক শাহেনেওয়াজ সানজু, এনজিও পরিচালক মনোয়ার হোসেন, শিক্ষক ইউনুছ আলী, সমাজসেবক আবুল বাসার লিমন, আবুল কালাম ও ফিরোজ বিশ্বাস।

সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী জুবায়ের হোসেন বাপ্পী।

ঈশ্বরদীতে ৭ বছর আত্মগোপনে, শেষ রক্ষা হলো না মকলেছের

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে চুরি, ছিনতাই, খুন, মারামারি ও ডাকাতির মতো একাধিক অপরাধে জড়িত পলাতক এক আসামিকে সাত বছর পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাতে ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) ওবাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে শহরের পিয়ারাখালি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে ধরা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম মকলেছ (৪০)। তিনি উপজেলার গোকুলনগর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মঞ্জিল সরকার।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন মকলেছ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, খুন, মারামারি ও ডাকাতিসহ মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।

এএসআই ওবাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।’

ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হাওয়া আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে শহরের মধ্য অরণকোলা এলাকার একটি বাড়ি থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মতলেবুর রহমান মিনহাজ ফকিরকে আটক করা হয়।

এর আগের দিন শুক্রবার রাতে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. নাজিম উদ্দিন রনিকে শহরের একটি ইটভাটা থেকে গ্রেপ্তার করে  থানা পুলিশ। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খানের ছেলে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুন নূর বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এ দুজন এজাহারভুক্ত আসামি। ঘটনার পর থেকে তাঁরা পলাতক ছিলেন। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, হামলার মামলার অন্য আসামিদের আটকে অভিযান চলমান রয়েছে।

ঈশ্বরদীতে ছাত্র আন্দোলন হামলায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর হামলার অভিযোগে রিফাত হাসান উচ্ছ্বাস (২৯) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের শেরশাহ রোডের একটি বাসা থেকে উচ্ছ্বাসকে আটক করা হয়। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহজাবিন শিরিন পিয়ার ছেলে।

ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, মামলায় উচ্ছ্বাস ১৪ নম্বর আসামি ছিলেন। হামলার সময় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে তাকে শনাক্ত করা হয়। পরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঈশ্বরদীতে একনলা বন্দুক ও গুলি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীর ফতেমোহাম্মদপুর এলাকা থেকে একটি একনলা বন্দুক ও একটি গুলি উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। 

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি বুধবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেন পাবনা ডিবির ওসি মো. রাশিদুল ইসলাম। 

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি লোডেড ওয়ান শুটারগান ও একটি গুলি পাওয়া যায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ওসি রাশিদুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এসআই বেনু রায় ও অসিত কুমার বসাকসহ পুলিশের একটি দল। 

উদ্ধার করা অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন