জামায়াত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জামায়াত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে জামায়াত নেতার কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদন:  সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত ও কটূক্তি করার অভিযোগে জামায়াত নেতা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা আমির হামজার কুশপুত্তলিকায় জুতার মালা পরিয়ে জুতা নিক্ষেপ করেন।

শনিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে ঈশ্বরদী পৌর শহরের রেলগেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাজারের পুরাতন রিকশাস্ট্যান্ডে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

বিক্ষোভ চলাকালে নেতা-কর্মীরা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।

তিনি বলেন, একজন ধর্মীয় বক্তার মুখ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য আসা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত।

জাকারিয়া পিন্টু আরও বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষক। ধানের শীষ স্বাধীনতার পক্ষের প্রতীক আর দাঁড়িপাল্লা স্বাধীনতার বিরুদ্ধের প্রতীক। জামায়াত নেতা আমির হামজা যেভাবে আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করেছেন, তার প্রতিবাদে জনগণ ঘৃণা প্রকাশ করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি মনে করেন একাত্তরের প্রতিশোধ নেবেন, তবে ভুল করবেন; জামায়াত ইসলামী স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি।

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন মালিথা, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল, সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি এবং শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আশিকুর রহমান নান্নুসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

ঈশ্বরদীতে সংঘর্ষ: বিএনপি নেতার মামলায় জামায়াতের এমপি প্রার্থীসহ ৩১ জনের জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাঁধন হাসান আলিমের করা মামলায় পাবনা-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মন্ডলসহ ৩১ নেতাকর্মীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার পাবনা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক (ভারপ্রাপ্ত) তরিকুল ইসলাম তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে শনিবার উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ও চরগড়গড়ি গ্রামের মক্কেল আলী মৃধার ছেলে বাঁধন হাসান আলিম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় পাবনা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মন্ডলসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সুলতান মাহমুদ এহিয়া জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজ  বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতারা ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা করেছিলেন। এ মামলায় সংসদ সদস্য প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়। আজ আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক ৩১ জনের জামিন মঞ্জুর করেন।

তিনি আরও বলেন, তুষার নামের আরেক আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার জামিন মঞ্জুর করা হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি যগির মোড়ে নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিএনপি -জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই দলের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হন ছয়জন।

ঈশ্বরদীতে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ: পাল্টাপাল্টি মামলা


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে গত বৃহস্পতিবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর দুই দল পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. স. ম. আব্দুন নুর শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুপুরে মামলা দুটি নথিভুক্ত হয়েছিল।

ওসি জানান, সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার ছেলে বাঁধন হাসান আলিম ৩২ জন জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন। এছাড়া আরও ১৫০ থেকে ২০০ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলকে।

অপরদিকে, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম ৩৮ জন বিএনপির নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধাকে। এছাড়া ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের আত্মীয় ও অনুসারী।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটায় ঈশ্বরদী উপজেলার চর গড়গড়ি গ্রামে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক নেতা-কর্মী এলাকা থেকে সরে পড়েছেন।

এদিকে শনিবার বিকেলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব পাবনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ‘জামায়াতের লোকজন গ্রামের মহিলা ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে। এতে জনতা তাদের প্রচারণার প্রতিবাদ করেছে। তারা চর গড়গড়ি গেলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায় তারা স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি সমর্থকদের ওপর গুলি চালায় এবং হামলা চালায়।’

হাবিব আরও জানান, ‘তুষার নামের একজন জামায়াত কর্মী, যিনি মনোনীত প্রার্থী তালেবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনায় বিএনপির ১১ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।’

অন্যদিকে একই দিন বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামী তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে।

জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন, ‘হামলায় আমাদের ৫০ জনের বেশি সদস্য আহত হয়েছেন। পাশাপাশি শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বলেন, ‘যে ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করছিল, তাকে চিনি না। এটি আমাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির সমর্থকেরা আমাদের লোকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এখন তারা আমাদের দোষারোপ করছে।’

ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ায় ভোটকেন্দ্র পরিচালকদের প্রশিক্ষণ দিল জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের কেন্দ্র পরিচালকদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে।

 শুক্রবার সকালে আলহাজ মোড়ে অবস্থিত দারুস সালাম ট্রাস্ট মিলনায়তনে এই কর্মশালার আয়োজন করে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। তিনি বলেন, 'ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্র পরিচালকদের পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। আমাদের লক্ষ্য কেবল একটি নির্বাচন নয়, একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলা—যেখানে ইসলামী মূল্যবোধ হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।' 

তিনি আরও বলেন, 'বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আদর্শবান হওয়া জরুরি। কেন্দ্র পরিচালনা শুধু দায়িত্ব নয়, বরং তা একটি আমানত।' 

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারি এস এম সোহেল এবং কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা গোলাম রব্বানী খান জুবায়ের।

ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আমির ডা. নুরুজ্জামান প্রামানিকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহসভাপতি ও আটঘরিয়া জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আমিরুল ইসলাম, আটঘরিয়া উপজেলার বর্তমান আমির মাওলানা নকিবুল্লাহ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সাইদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন আটঘরিয়া উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল আলিম মাসউদ, ঈশ্বরদী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম আজম খান, উপজেলা অফিস সেক্রেটারি মারুফ মো. আহসানউজ্জামান, আইন ও মানবসম্পদ সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান খান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাহফুজুর রহমান এবং পৌর সেক্রেটারি মাওলানা আল আমিন।

দিনব্যাপী এ কর্মশালায় ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলার ১২৯টি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণে কেন্দ্রীয় আচরণবিধি, নিরাপত্তা, ভোটার সহায়তা, প্রার্থী এজেন্টদের সঙ্গে সমন্বয় এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ঈশ্বরদী থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে জামায়াত কর্মীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে দলটির এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত মোস্তাফিজুর রহমান কলম বিশ্বাস (৫০) ঈশ্বরদী উপজেলার চরমিরকামারী গ্রামের মাহবুব বিশ্বাসের ছেলে।

শুক্রবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে গাজীপুরের চান্দুরা এলাকায় বাসের মধ্যে অসুস্থ হলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তিনি ঈশ্বরদী থেকে বাসে ঢাকায় সমাবেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

পাবনা জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য গোলাম রব্বানী খান জুবায়ের বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান কলম বিশ্বাস যমুনা সেতু পার হওয়ার পর অসুস্থ অনুভব করলে তাকে বাসে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে চান্দুরা এলাকায় পৌঁছলে তার অবস্থার অবনতি হয়। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে আপিল বিভাগের নির্দেশ


নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

তবে দলটির প্রতীক দাঁড়িপাল্লার বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি আদালত। আপিল বিভাগ প্রতীকের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

রোববার সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দেশের সর্ব্বোচ আদালত এ রায় দেন।

আদালতে জামায়াতের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম।

আদালতে জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসেন, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিনসহ অনেকে।

এর আগে গত ১৪ মে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পেতে আপিলের শুনানি শেষ হয়। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য ১ জুন দিন ধার্য করা হয়।

গত ১২ মার্চ রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে আপিল শুনানি শুরু হয়। গত বছরের ২২ অক্টোবর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করে দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ। এর ফলে নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ফিরে জামায়াতের আইনি লড়াই করার পথ খুলে যায়।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান এ. সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড আলী আজম।

গত ১ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদনের শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করা হয়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত এ দিন ধার্য করেন। আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খারিজ হওয়া আপিলটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

এক রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এরপর ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তীতে হাইকোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াতে ইসলামী। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানিতে জামায়াতের মূল আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় গত বছরের নভেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগ ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ বলে আপিল খারিজের আদেশ দেন। ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল থাকে।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গত ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে শেখ হাসিনার সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারায় জামায়াত, ছাত্রশিবিরসহ তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে গত ২৮ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আটঘরিয়ায় জিয়া স্মরণে হাবিবের হুঁশিয়ারি, ‘জামায়াতের মুখোশ খুলে গেছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক:  বিনম্র শ্রদ্ধা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শনিবার পাবনার আটঘরিয়ায় পালিত হয়েছে স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী।

দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও দলটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আতাউর রহমান রানার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হায়দার রানা, শরিফ উদ্দিন শেখ, পাবনা জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মেহেরুন্নেসা শাজাহান, পৌর বিএনপির সভাপতি আজহার আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আব্দুল বারেক, সদস্য সচিব ময়েজ উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোশারফ হোসেন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আয়তুল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন শফিসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

বক্তব্যে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, 'বিএনপির কোনো নেতাকর্মী পবিত্র কোরআনে আগুন দিতে পারে না। বিএনপি জামায়াতকে সব সময় রক্ষা করেছে, কিন্তু আজ তারাই বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। সম্প্রতি আটঘরিয়ায় বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর—সবই জামায়াতের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড।'

তিনি আরও বলেন, 'জামায়াত ইসলামের কথা বলে, অথচ নিজেরাই আগুন লাগিয়ে বিএনপির ওপর দোষ চাপাচ্ছে। এ ধরনের মিথ্যাচার ও জঙ্গিবাদী আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।' 

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকার কথা তুলে ধরে হাবিব বলেন, 'এরা পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী ছিল। এখন আবার গণতন্ত্রের মুখোশ পরে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।' 

স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে ছড়ানো অপপ্রচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'মিথ্যাবাদীর পেছনে নামাজ পড়া যায় না—এ কথা বলাতেই জামায়াত অপপ্রচার চালিয়েছে। অথচ সত্য হলো, মসজিদের চাবি নিয়ে যাওয়ায় মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারেননি।' 

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'বিগত সরকার আমাকে মিথ্যা মামলায় চার বছর কারাবন্দি করেছিল। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মী রক্ত দিয়েছে, জেল খেটেছে। আর এখন জামায়াত আমাদের সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করছে! এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।'

তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, 'এই দেশের মানুষ তারেক রহমানকে ভালোবাসে, তার ওপর বিশ্বাস রাখে। শহীদ জিয়া সৌদি আরবে নিমগাছ রোপণের মাধ্যমে যে কর্মসংস্থানের দরজা খুলেছিলেন, আজ সেই ধারাবাহিকতায় লাখ লাখ শ্রমিক বিদেশে কাজ করছে।' 

অনুষ্ঠান শেষে জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মুলাডুলিতে আবু তালেবের গণসংযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। তিনি দলটির  পাবনা জেলা আমির ।

রোববার বিকেলে মুলাডুলি বাজারে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে দেখা করে কুশল বিনিময় করেন তিনি। তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকার নানা সমস্যা শোনেন।

আবু তালেব মন্ডল বলেন, ‘আমি মানুষের পাশে থাকতে চাই। ঈশ্বরদী-আটঘরিয়াকে উন্নত ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব।’

গণসংযোগে আরও ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলার সাবেক আমির মাওলানা গোলাম রব্বানী খান জুবায়ের, সেক্রেটারি মো. সাইদুল ইসলাম, শিক্ষক নেতা আব্দুর রহমান মাস্টার, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির শাহিনুল আলম, সেক্রেটারি মাওলানা ফোরকান আলীসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

সাহাপুরে জামায়াতের দাওয়াতী সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে দাওয়াতী সভা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে সাহাপুরের মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের পাবনা জেলা নায়েবে আমির জহুরুল ইসলাম খান।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা জামায়াতের তারবিয়াত সেক্রেটারি মাওলানা আওকাতুল্লাহ। সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাসুম বিল্লাহ।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি ছগির বিন নাসির, ইউপি সদস্য ফরিদ আহমেদ, জামায়াত নেতা ইকবাল হোসেন, আকিবুর রহমান রিয়াদ, কবির আহমেদ ও আকমল হোসেন।

সভা পরিচালনা করেন জামায়াতের ইউনিয়ন অফিস সেক্রেটারি মাওলানা মুফতি এনামুল কবির।

স্বাধীনতা দিবসে ঈশ্বরদীতে জামায়াতের আলোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে শহরের আলহাজ মোড় এলাকায় এ সভার আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেল জামায়াতে ইসলামী জেলার আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল। 

তিনি বলেন, 'স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব অপরিসীম।' তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করে তাঁদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন।

এছাড়া, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আমির ডক্টর অধ্যাপক নুরুজ্জামান প্রামাণিকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা নূর মোহাম্মদ, উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়ব আলী মণ্ডল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উপজেলা সভাপতি মো. মাহফুজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভা শেষে দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। 

ঈশ্বরদীতে তালেব মন্ডলের ইফতার মাহফিলে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশিষ্টজনদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাবনা জেলার আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল।

বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের ভেলুপাড়ায় নিজ বাড়িতে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

পাবনা জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এস এম সোহেল ও ঈশ্বরদী উপজেলা সেক্রেটারি মো. সাইদুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতের বগুড়া অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, পাবনা জেলা নায়েবে আমির প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন, দারুল আমান ট্রাস্ট পাবনার সেক্রেটারি নেসার আহমেদ নান্নু।

বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পাবনা এনএস আই ডেপুটি ডিরেক্টর তৌফিক হোসেন, পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজুনুর রহমান, পাবনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম, ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাস, মর্জিনা লতিফ ট্রাস্টের মহাসচিব আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, পাবনা জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা গোলাম রাব্বানী খান জুবায়ের, ঈশ্বরদী উপজেলা আমির ডক্টর নুরুজ্জামান প্রামানিক, পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক এডভোকেট সুলতান মাহমুদ খান এহিয়া, পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, হেমায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, ঈশ্বরদী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম, আটঘরিয়া থানার ওসি শফিকুজ্জামান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাবনা জেলা সভাপতি ইসরাইল হোসেন শান্ত, পাবনা শহর শাখার সভাপতি ফিরোজ হোসেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পাবনা জেলা আহ্বায়ক বরকাতুল্লাহ ফাহাদ প্রমুখ।

মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল গাফফার খান, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এস এম আব্দুল্লাহ, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি অধ্যাপক রেজাউল করিম, সহ সভাপতি মজিবুর রহমান, আটঘরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা নকিবুল্লাহ, সাবেক আমির হাফেজ আমিরুল ইসলাম, মাওলানা নাসির উদ্দিন, সেক্রেটারি আব্দুল আলিম মাসউদ, পাবনা পৌরসভা আমির মাওলানা আব্দুল লতিফ, সদর উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুর রব, ঈশ্বরদী পৌর আমির মাওলানা গোলাম আজম খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথা, সদ্য কারামুক্ত বিএনপি নেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহীন, আজমল হোসেন ডাবলু, নুরুল ইসলাম আক্কেল, হাফিজুর রহমান মুকুল, জাতীয় নাগরিক কমিটি উপজেলা আহবায়ক মুয়াজ বিন মাহমুদ, ঈশ্বরদী নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আরিফুল ইসলাম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ঈশ্বরদী সার্কেলের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন, আর আর পি গ্রুপের পরিচালক রফিকুল ইসলাম রফিক, ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হামিদুর রহমান, আলহাজ্ব টেক্সটাইল মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাউসুস আজম মাসুম, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফজলুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসেন, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতে নায়েবে আমির মাওলানা নুর মোহাম্মদ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মাসউদুর রহমান, অফিস সেক্রেটারি মারুফ মো. আহসানউজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সেক্রেটারি বীরমুক্তিযোদ্ধা তৈয়ব আলী মন্ডল, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সেক্রেটারি বাকিবিল্লাহ খান, আইন বিষয়ক সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান খান, প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মাসুদ রানা মাসুম, উপজেলা আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রহমান মাস্টার, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন উপজেলা সভাপতি মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি খান আমিনুর রহমান, উপজেলা পল্লী চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি মো. মুনসুর রহমান, ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট বিজনেসমেন এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উপজেলা সভাপতি জামিলুর রহমান সবুজ, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আল আমিন, ছাত্রশিবিরের পাবনা শহর সভাপতি ফিরোজ হোসেন, জেলা প্রকাশনা সম্পাদক বোরহান উদ্দিন আলভি, ঈশ্বরদী উপজেলা সভাপতি সজীব হাসান, জামায়াতের বিভিন্ন ইউনিয়নের আমির, সেক্রেটারি, ওয়ার্ড সভাপতিবৃন্দ প্রমুখ।

সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাবনা প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি এস এম আব্দুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান শাহীন, সাবেক সভাপতি  মোস্তাক আহমেদ কিরণ, এস এম রাজা, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তৌহিদ আক্তার পান্না, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সহসম্পাদক শেখ ওয়াহেদ আলী সিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম আহমেদ, ক্রীড়া সম্পাদক আমিরুল ইসলাম রিংকু, প্রেসক্লাব পাবনার সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা বিপ্লব, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম রঞ্জু, যুগ্ম সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সাপ্তাহিক ঈশ্বরদী বার্তার সম্পাদক আজিজুর রহমান খান, নির্বাহী সম্পাদক শহিদুল্লাহ খান, বার্তা সম্পাদক মু. ওহিদুল ইসলাম সোহেল, সাপ্তাহিক সময়ের ইতিহাসের সম্পাদক শেখ মহাসিন, প্রথম সকাল সম্পাদক মহিদুল ইসলাম, সংবাদ ভূমির সম্পাদক খালেদ মাহমুদ সুজন, দৈনিক নিরপেক্ষ ঈশ্বরদী প্রতিনিধি রেজাউল করিম ফেরদৌস, চ্যানেল এস এর পাবনা পশ্চিম প্রতিনিধি বায়েজিদ বোস্তামি পলাশ, বিজয় টিভির ঈশ্বরদী প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম সবুজ, চ্যানেল এস এর ঈশ্বরদী প্রতিনিধি রাসেল আলী, দৈনিক আনন্দবাজার ঈশ্বরদী প্রতিনিধি তুহিন হোসেন, আতাইকুলা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি ইকবাল হোসাইন, দেশ টিভির পাবনা প্রতিনিধি শামসুল আলম, ঢাকা পোস্টের পাবনা প্রতিনিধি রাকিব হাসনাত। 

সলিমপুরে জামায়াতে ইসলামীর আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মিরকামারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল।

ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সলিমপুর ইউনিয়ন শাখার আমির মো. তবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের বগুড়া অঞ্চল টিমের সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, পাবনা জেলা তালিমুল কুরআন বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম রব্বানী খান জুবায়ের, ঈশ্বরদী উপজেলা আমির অধ্যাপক নুরুজ্জামান প্রামাণিক, উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা নুর মোহাম্মদ, উপজেলা সেক্রেটারি মো. সাইদুল ইসলাম ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পাবনা জেলা সহসভাপতি মো. মজিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা অফিস সেক্রেটারি মারুফ মো. আহসানউজ্জামান, আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের উপজেলা সভাপতি আব্দুর রহমান মাস্টার, পল্লী চিকিৎসক পরিষদের উপজেলা সভাপতি মো. মুনসুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উপজেলা সভাপতি মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি খান মো. আমিনুর রহমান, উপজেলা প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মাসুদ রানা মাসুম ও পাকশী ইউনিয়ন আমির ডা. ইবনুল কায়সার রাজ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ইসলামের শিক্ষা, নৈতিকতা ও সমাজ সংস্কারের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন এবং রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরেন।

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব ছাত্র-জনতার, কোনো দলের নয়: জামায়াতের আমীর

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব ছাত্র-জনতার, কোনো দলের নয়: জামায়াতের আমীর
জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। ছবিঃ সংগৃহীত

স্টাফ রির্পোটার: জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের ক্রেডিট কোনো দলের নয়, এর ক্রেডিট শুধু ছাত্র-জনতার। ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন মেধাবী সেনা অফিসারের ত্যাগ দিয়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল ৫ আগস্ট হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কুশিয়ারা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে এসব কথা বলেন জামায়াতের আমীর।

তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে যে সাময়িক পরিবর্তন এসেছে তাকে স্থায়ী রূপ দিতে সৎলোকের শাসন ও আল্লাহর আইন প্রয়োজন। যেখানে দল-মতের উর্ধ্বে সব নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। আমরা কাজের মাধ্যমে দেশবাসীর প্রকৃত ভালোবাসা অর্জন করতে চাই।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু ভেদাভেদ চাই না। এমন সমাজ তৈরি করতে হবে যেখানে মসজিদের মতো মন্দিরেও পাহারার প্রয়োজন হবে না।’

কেউ সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাইলে ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের রুখে দিতে আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াতের আমীর বলেন, ‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তাণ্ডবে মানুষ হত্যার উল্লাসের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পথ হারিয়েছিল। সেই বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আবার পথে ফিরেছে। আমাদের ছাত্র ও যুবসমাজ সেই অসাধ্য সাধন করেছে। যে জাতির দেড় বছরের শিশু থেকে ৭০ বছরের বৃদ্ধরা রাজপথে নামতে পারেন সেই জাতিকে আর দমিয়ে রাখা যাবে না।’

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি মজলুমের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তারা আমাদের শীর্ষ নেতাদের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসি দিয়ে শহীদ করেছে। আজ তারা ইতিহাসের মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।’

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে মহানগরীর কয়েক হাজার কর্মীর সমাগম হয়। বেলা ৩টার আগেই কুশিয়ারা কনভেনশন হলের ভেতর লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা উত্তরের আমীর হাফিজ আনওয়ার হোসাইন খান ও জেলা দক্ষিণের আমীর অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন মানবে না জনগণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের বিরুদ্ধে নিজেরাই ডামি প্রার্থী দিয়ে এই নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করেছে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচনই দেশের জনগণ মানবে না। যেকোনো মূল্যে ৭ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন প্রতিহত করা হবে।

৩ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে শাহবাগে নির্বাচন বর্জনের লিফলেট বিতরণকালে একথা বলেন তিনি।

কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্বাচন বর্জন ও ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ৩ জানুয়ারি রাজধানীর ৬৮টি সাংগঠনিক থানার বিভিন্ন স্পটে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মীরা।

অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকার জগদ্দল পাথরের মতো জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছে। ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছে। তারা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করতে সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করেছে। 

তিনি আরও বলেন, বিরোধী মতের ওপর অব্যাহত জুলুম নিপীড়ন চালিয়ে পুরো বাংলাদেশকেই কারাগারে রূপান্তর করেছে। বাকশালী সরকার দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। আদালতকে ব্যবহার করে ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে সাজা প্রদান করে প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে চায়।

ইতিহাস থেকে আমরা দেখতে পাই, জনগণকে নির্যাতন করে অতীতে কোনো স্বৈরাচার সরকার টিকে থাকতে পারেনি, এই সরকারও টিকে থাকতে পারবে না। এদেশের জনগণই এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতার মসনদ থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে ছাড়বে ইনশাআল্লাহ।

তিনি ৭ জানুয়ারির ভোট বর্জন ও সরকার পতনের চলমান গণআন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

একইদিন ডেমরা, কোনাপাড়া, শাহজাহানপুর, মুগদা, কলাবাগান, নিউমার্কেট, যাত্রাবাড়ী-শ্যামপুর, মতিঝিল, পল্টন, খিলগাঁও  সবুজবাগ, বংশাল, রমনা, কোতোয়ালি, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, কদমতলী, সূত্রাপুর, চকবাজার, লালবাগ, গেন্ডারিয়া থানায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।

ঈশ্বরদীতে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্বে জামায়াত নেতারা

লোগোটি জামায়াতে ইসলামীর টুইটার হ্যান্ডেল থেকে নেওয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ আসনে ঈশ্বরদীতে পৌর জামায়াতের আমিরসহ ৯ জামায়াত নেতা সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হয়েছেন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে জামায়াতের নেতাকর্মী এসব দায়িত্ব পেলেও বাদ পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই শিক্ষক। এ নিয়ে শহরজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আশরাফুল হক স্বাক্ষরিত প্রশিক্ষণের আমন্ত্রণপত্রের ফটোকপি হাতে পাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গেল বছরের ৩০ ডিসেম্বর জামায়াতের এসব নেতাকর্মীরা সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে সারাদিনব্যাপী নির্বাচনী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে এলে বিষয়টি নিয়েও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়।

অফিসাররা হলেন- পৌর জামায়াত ইসলামের আমির শহরের নারিচা মশুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ধর্ম শিক্ষক গোলাম আজম, সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া বাবুল উলুম ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক আরিফুল ইসলাম, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক মুজাহিদ, আরিফ হাসনাত, সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম, শামসুর রহমান, সাঈদুর রহমান, প্রতিষ্ঠানটির ইবতেদায়ী প্রধান আবু ইলিয়াস খান, পোলিং এজেন্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানটির অফিস সহকারী সুফিয়া খাতুন ও অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর আরাফাত খান।

মাঝদিয়া বাবুল উলুম ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক তৌহিদ সরওয়ার বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে তিনিসহ দুজন মাত্র আওয়ামী লীগ সমর্থিত। তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালন থেকে বাদ রাখতে মাদ্রাসা থেকে নির্বাচন অফিসে তালিকা পাঠানো হয়েছে। যাদের নাম পাঠানো হয়েছে তারা সবাই জামায়াত নেতা।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক গোলাম আজম বলেন, চাকরি করি। আমাকে নির্বাচনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন অবশ্যই দায়িত্ব পালন করবো।

জামায়াত ইসলাম দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এখন সঙ্গে ভোটে কোনরূপ অংশগ্রহণ না করার জন্য দলের পক্ষ থেকে আপনাদের (নেতাকর্মীদের) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন কি না জানতে চাইলে জামায়াতের এই আমির বলেন, দলের সিদ্ধান্তের সাথে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে কোন প্রতিবন্ধকতা আছে বলে মনে করি না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সুবীর কুমার দাশ বলেন, কে কোন দল করে এটা মুখ্য বিষয় না। নির্বাচনে দায়িত্ব কীভাবে পালন করবে সেটা দেখার বিষয়। তাছাড়া নির্বাচন উপলক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য শিক্ষকদের প্যানেল চাওয়া হয়েছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পাঠানো তালিকা মোতাবেক গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তাছাড়া নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নীতিমালায় কোথাও উল্লেখ নেই যে জামায়াত ইসলাম বা অন্য কোন দল সমর্থিত শিক্ষকরা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না।

পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রত্যেকেই কোনও না কোনও ভাবে তাঁদের (জামায়াতে ইসলামী) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। 

ভোট বর্জনের গণসংযোগ কর্মসূচি দুদিন বাড়ালো জামায়াত


নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বর্জন ও ভোটদান থেকে বিরত থাকার আহ্বানে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি আরও দুই দিন বাড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

৩০ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম। বিএনপির পর এবার জামায়াতও গণসংযোগ কর্মসূচি দুদিন বাড়ালো।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন ঘোষিত প্রহসনের নির্বাচনের তফসিল দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করার নীল নকশা বাস্তবায়নের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তারা দেশকে ধ্বংস করে গণতন্ত্রহীনতার দিকে ঠেলে দিতে চায়। সরকারের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে দেওয়া যাবে না। 

তিনি বলেন, মুক্তিকামী জনতা গণতন্ত্র ধ্বংসকারী সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছে। আমি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামী রোববার ও সোমবার দেশব্যাপী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বানও জানান তিনি।

পাবনা ও ঈশ্বরদীতে জামায়াত-ছাত্রদলের সাবেক নেতাকর্মীদের মহাসড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনায় জামায়াত-ছাত্রদলের সাবেক নেতাকর্মীদের মহাসড়ক অবরোধ পাবনায় বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা দুই দিনের অবরোধের প্রথম দিন ঢাকা-পাবনা ও পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদলের সাবেক নেতাকর্মী ও জামায়াতে ইসলামী।

৫ নভেম্বর বুধবার সকালে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াতে ইসলামীর নেতার্মীরা। পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের দাশুড়িয়া গোলচত্বরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নেতাকর্মীরা। বেশ কিছুক্ষণ সড়ক অবরোধ করে স্লোগান দেন তারা।

জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম, পেশাজীবী সেক্রেটারি ডা. মুনসুর রহমান, সমাজকল্যাণ সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান খান, প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মাসুদ রানা মাসুম, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

অপরদিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পাবনা হোমিওপ্যাথিক কলেজের সামনে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত সাবেক নেতাকর্মীরা। এসময় মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন।

পাবনা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তসলিম হাসান খান সুইটের নেতৃত্বে অবরোধ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রানা, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান হোসেন হৃদয়, পাবনা জেলা যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক বাহার হোসেন, জেলা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহবুব সুজন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহবুব সুজন, জেলা যুবদল নেতা সোহানুর রহমান শোভন বিশ্বাস, সোহেল রানা ও খালিদ হোসেন হৃদয় প্রমুখ।

ঈশ্বরদীতে জামায়াতের ১১ নেতাকর্মী আটক

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার রাতে আটকের পর বুধবার দুপুরে ঈশ্বরদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান বাদী হয়ে আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি করেন। 

মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলা ছলিমপুর ইউনিয়নের শেখেরদাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। তারা সরকার পতনের জন্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ভাঙচুর, রেললাইন উৎপাটন, রেলস্টেশন ও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করার পরিকল্পনা করছিলেন। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে নেতাকর্মীরা পালিয়ে যান। এ সময় সেখান থেকে মো. আব্দুল বাতেন (৪০), মো. আব্দুল মজিদ (৬৩), মো. আব্দুল আজিজ (৬০), মো. মামুন হোসেন (৩৫), মো. মজিবুর রহমান (৬২), মো. ফরিদ আহমেদ (৬০), মো. শাহান আলী (৩২), মো. ইয়াছির আরাফাত ওরফে সুজন মাস্টার (৩৬), হাফেজ মো. ইনতাজ উদ্দিন (৬২) মো. শামীম হোসেন (২৬) ও মো. মোস্তফা কামাল (৩৫) আটক করে পুলিশ। 

এজাহারে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল, বস্তাবন্দি ২০টি ইটের টুকরা ও ১৫টি বাঁশের লাঠি জব্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

গ্রেপ্তারকৃত ফরিদ আহমেদের এক আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার ভাই জামায়াতের সদস্য ঠিক। কিন্তু তিনি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত না। পুলিশ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।’ 

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা জামায়াতের আমীর গোলাম রব্বানি খান জোবায়ের বলেন, ‘আমাদের জনস্রোত ঠেকাতে সরকার জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে দিয়ে গায়েবি মামলা করেছে। 

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন