আওয়ামী লীগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আওয়ামী লীগ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হাওয়া আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে শহরের মধ্য অরণকোলা এলাকার একটি বাড়ি থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মতলেবুর রহমান মিনহাজ ফকিরকে আটক করা হয়।

এর আগের দিন শুক্রবার রাতে উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. নাজিম উদ্দিন রনিকে শহরের একটি ইটভাটা থেকে গ্রেপ্তার করে  থানা পুলিশ। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খানের ছেলে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুন নূর বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এ দুজন এজাহারভুক্ত আসামি। ঘটনার পর থেকে তাঁরা পলাতক ছিলেন। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, হামলার মামলার অন্য আসামিদের আটকে অভিযান চলমান রয়েছে।

ঈশ্বরদীতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পিন্টু গ্রেপ্তার


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুজ্জামান পিন্টুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে রূপপুর এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ৫ আগস্টের ঘটনার পর ঈশ্বরদীর বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা আত্মগোপনে চলে গেলেও সাইফুজ্জামান পিন্টুর নামে তখন কোনো মামলা না থাকায় তিনি নিয়মিত দপ্তরে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-সংক্রান্ত ঘটনার তদন্তে সাইফুজ্জামান পিন্টুর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

ঈশ্বরদীতে ৩ ইউপি সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখার পর তিন ইউপি সদস্যকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয়রা।

রোববার দুপুরে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশের হেফাজতে নেওয়া ইউপি সদস্যরা হলেন— দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফিরোজ হোসেন বাকী , ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রফিকুল ইসলাম এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আলাউদ্দিন খান ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এই তিন ইউপি সদস্য ইউনিয়ন পরিষদে আর নিয়মিত আসতেন না। দুপুর ১২টার দিকে তারা একসঙ্গে পরিষদ কার্যালয়ে গেলে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয়দের। পরে তারা তিন সদস্যকে আটকে রাখেন এবং থানায় খবর দেন। পরে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে যায়।

ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেন বাকির ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা মামলা করে। পরে আদালত থেকে তারা জামিনে মুক্ত হন। ইউনিয়ন পরিষদের কাজে গেলে বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের লাঞ্চিত করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।'

ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম বলেন, 'ইউনিয়ন পরিষদে তিন সদস্য আটকে রাখা হয়েছে, এমন খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং তাঁদের থানায় নিয়ে আসি। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।'

থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, 'তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ আছে কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এ বিষয়ে দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সুলভ মালিথা বলেন, 'শেখ হাসিনার শাসনামলে এই তিন ইউপি সদস্য বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার কথা বলে তারা বিভিন্ন সময় টাকা আদায় করেছেন। সাধারণ মানুষকেও নানাভাবে হয়রানি করেছেন। তাঁদের পরিষদে উপস্থিতির খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন।'

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী মারা গেছেন

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী মারা গেছেন। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

এভারকেয়ার হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাবেক মন্ত্রী ও মতিয়া চৌধুরীর মামা মোস্তফা জামাল হায়দারও তার মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে দুপুর ১টার দিকে মারা যান মতিয়া চৌধুরী। আরিফ মাহমুদ বলেন, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত মতিয়া চৌধুরীকে সকালে হাসপাতালে আনা হয়েছিলো। এরপরই আমরা ইসিজি করে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করি। শেষ পর্যন্ত আমরা সব ধরনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সফল হতে পারিনি। দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মতিয়া চৌধুরীর জন্ম ১৯৪২ সালের ৩০ জুন পিরোজপুরে। তার বাবা মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মা নুরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী। ১৯৬৪ সালের ১৮ জুন খ্যাতিমান সাংবাদিক বজলুর রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মতিয়া চৌধুরী।

তিনি ইডেন কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে ‘অগ্নিকন্যা’ নামে পরিচিত মতিয়া পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন এবং এর কার্যকরী কমিটির সদস্য হন। ১৯৭০ ও ১৯৭১ এর মাঝামাঝি সময়ে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, প্রচারণা, তদবির এবং আহতদের শুশ্রুষায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন।

১৯৭১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময়কালে তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হন।

১৯৯৬ ও ২০০৯ এবং ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মতিয়া চৌধুরী। সর্বশেষ তিনি আওয়ামী লীগের ১ নং প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সহযোগী সংগঠন মাঠে থাকায় নাশকতা করতে পারেনি জামায়াত-শিবির: এমপি গালিব

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-৪ আসনের সংসদ গালিবুর রহমান শরীফ এমপি বলেছেন, দেশব্যাপী কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে দেশে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি সহিংসতা চালিয়েছে। গান পাউডার দিয়ে সরকারি সম্পদে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ঈশ্বরদীতে আ.লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের সঙ্গে মাঠে থাকায় জামায়াত ও শিবির কোনো নাশকতা চালাতে পারেনি।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা আ.লীগের দলীয় কার্যালয়ে সাংগঠনিক বিষয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। 

এই জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামীতেও জামায়াত-শিবির ও বিএনপির যে কোনো ধরনের আন্দোলনকে প্রতিহত করার আহবান জানান এমপি গালিব। 

দুঃখ প্রকাশ করে দলীয় নেতাকমীদের উদ্দেশ্যে এমপি গালিব বলেন, অভিযান চালিয়ে সহিংসতা ও নাশকতার চেষ্টাকারী জামায়াত-শিবির ও বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। আর তাদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে আ.লীগের কিছু নেতাকর্মী জোর তদরিব করছে। জামায়াত ও শিবিরের জন্য তদরিব করবেন না। দুই একজন নির্দোষ ব্যক্তি গ্রেপ্তার হলেও সমস্যা নেই। ছাড়ানোর জন্য থানায় তদবির করবেন না। তারা আদালতে গিয়ে জামিন নিয়ে আসবে। 

গালিব আরও বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলায় আ.লীগের মধ্যে সাংগঠনিক তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সাত বছরেও যুবলীগের কমিটি গঠন হয়নি। আ.লীগের কমিটির একই অবস্থা। এরমধ্যে সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছে। এটা খুবই দুঃখজনক ব্যপার। কারণ আমার বাবা সাবেক ভূমিমন্ত্রী প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মৃত্যুর আগে ঈশ্বরদীতেই তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই সময় আ.লীগেরই এক ভাই আরেক ভাইকে অস্ত্রের ঝনঝনা দেখিয়েছে ,মারপিট করেছে। এটা আর দেখতে চাই না। সময় এসেছে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে জামায়াত শিবির ও বিএনপির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে উন্নয়নের রাজনীতিতে শরীক হই।

পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথার সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মাদ রশিদুল্লাহর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদার, সাবেক চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টু ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক প্রমুখ।

সহিংসতায় নিহতদের স্মরণে শুক্রবার আ.লীগের দোয়া কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহতদের স্মরণ ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দেশব্যাপী সকল মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত করবে আওয়ামী লীগ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, সম্প্রতি ঢাকাসহ সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতায় নিহত শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের আত্মার মাগফেরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুম্মা সারাদেশে সকল মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে আগামী রোববার দেশের মন্দির, মঠ, গির্জা ও প্যাগোডাসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উক্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য সাংগঠনিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে বলা হয়, টোটাল শাটডাউন আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ব্যাপক অগ্নিসন্ত্রাস, নাশকতার কারণে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের প্রতি শোক জ্ঞাপন ও বিদেহী আত্মার মঙ্গল কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে আগামী রোববার দেশের সকল মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জায় সুবিধামতো সময়ে প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২২ আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। গতকাল শপথ নিয়েছেন নতুন সংসদ সদস্যরা। আজ মন্ত্রিসভার ৩৭ সদস্য শপথ নেন। সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগের মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য নতুন মন্ত্রিসভায়ও স্থান পেয়েছেন। এমনকি তাদের কারও কারও পূর্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ও পরিবর্তন হয়নি।

আ. ক. ম মোজাম্মেল হক (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়), ওবায়দুল কাদের (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়), নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন (শিল্প মন্ত্রণালয়), আসাদুজ্জামান খান (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), ডা. দীপু মনি (সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়), মো. তাজুল ইসলাম (স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়), মুহাম্মদ ফারুক খান (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়), আবুল হাসান মাহমুদ আলী (অর্থ মন্ত্রণালয়), আনিসুল হক (আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়), হাছান মাহমুদ (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), আবদুস শহীদ (কৃষি মন্ত্রণালয়), সাধন চন্দ্র মজুমদার (খাদ্য মন্ত্রণালয়), র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী (গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়), আব্দুর রহমান (মৎস্য ও ‍প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়), নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (ভূমি মন্ত্রণালয়), আবদুস সালাম (পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়), মহিবুল হাসান চৌধুরী (শিক্ষা মন্ত্রণালয়), ফরহাদ হোসেন (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়), ফরিদুল হক খান (ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়), জিল্লুল হাকিম (রেলপথ মন্ত্রণালয়), সাবের হোসেন চৌধুরী (পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়), জাহাঙ্গীর কবির নানক (বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়), নাজমুল হাসান পাপন (যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়), ইয়াফেস ওসমান (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) ড. সামন্ত লাল সেন (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়)।
 
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ ২৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তারা শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে।

নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে গোলযোগের কারণে একটি আসনের ফল স্থগিত রাখা হয়েছে। বাকি ২৯৮টি আসনের ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ২২২ আসনে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ১১টি আসন। বাকি ৬৫ আসনের মধ্যে ৬২টিতে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আর জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও কল্যাণ পার্টি পেয়েছে একটি করে আসন।

স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হওয়া ৬২ জনের মধ্যে ৫৯ জন আওয়ামী লীগের নেতা। জাতীয় পার্টি যে ১১টি আসনে জয়লাভ করেছে সেগুলোতে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এছাড়া জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছে আর কল্যাণ পার্টি যে আসনে জিতেছে সেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে।

বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ আজ

নিজস্ব প্রতিব্দক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা বঙ্গভবনে শপথ নেবে আজ। শপথের পর তাদের দায়িত্ব বণ্টন করবেন প্রধানমন্ত্রী। 

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন গতকাল সন্ধ্যায় বাসসকে বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। বঙ্গভবনের মুখপাত্র আরও জানান, সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন নতুন মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। 

এ উপলক্ষ্যে প্রায় ১৪০০ অতিথিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে বঙ্গভবন। 

গত ৭ জানুয়ারি ২৯৯ আসনে ১২তম জাতীয় সংসদ  নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ ২২২টি, জাতীয় পার্টি ১১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২টি এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) একটি করে আসন পেয়েছে। একটি আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি। 

এদিকে নতুন মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিদায়ী মন্ত্রিসভার ৩০ জন স্থান পাননি নতুন মন্ত্রিসভায়। আর প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছেন ১৪ জন। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য ৩৭ জন।

সাতক্ষীরায় নৌকার নির্বাচনী অফিসে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ৫ জানুয়ারি শুক্রবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

কালিগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সুলতান আহমেদ (৪৮) জানান, রাত ২টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্পে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায়। কালিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই অফিসের আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভস্মীভূত হয়ে যায়। একই সঙ্গে রাজ টেলিকম ও এশিয়া স্টিল অ্যান্ড থাই অ্যালুমিনিয়াম নামক দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় পাশের একটি বসতঘরও আংশিক পুড়ে গেছে।

এ খবর জানতে পেরে ৬ জানুয়ারি শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এসএম আতাউল হক দোলন, সাতক্ষীরা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব শেখ এজাজ আহম্মেদ স্বপন, জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাশিমাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আনিছুজ্জামান আনিচ, কুশুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল কাশেম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মথুরেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিমসহ কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। 

সাতক্ষীরা-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এসএম আতাউল হক দোলন জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় এ ঘটনা ঘটেছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই। 

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) আমিনুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে সকলকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

স্মার্ট সোনার বাংলা গড়তে আরেকবার ‍সুযোগ চাই

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণে তিনি উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে আরেকবার নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ভাষণ প্রদান করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ২৭ ডিসেম্বর আপনাদের সামনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরেছি। বিশদভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছি কী অবস্থায় দেশকে পেয়েছিলাম, আর আপনাদের জীবনমান উন্নয়নে কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। দেশের যে উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছে, তা টেকসই করে আরও উন্নত জীবন যাতে আপনারা পান—আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে আগামী ৫ বছরে আমরা কী কী কাজ করব সেই ব্যাখ্যা তুলে ধরেছি। 

‘আজকে আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাইতে হাজির হয়েছি। এই উন্নয়নকে টেকসই করা, আপনাদের জীবন মান উন্নত করা, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত স্মার্ট সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ চাই।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দারিদ্র্য হ্রাস, ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি ও জীবন জীবিকার স্থায়ী ব্যবস্থা করা, যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের আজকের শিশু এবং তরুণদের সুশিক্ষিত করা, স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করা, ১০০টা অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, প্রতি উপজেলায় কারিগরি ও কম্পিউটার ট্রেনিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছি তা সম্পন্ন করা, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন কর্মক্ষেত্র খুঁজে বের করা, গ্রামের মানুষের জন্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, রাস্তাঘাট উন্নত করা, বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের যে ব্যবস্থা নিয়েছি— তা টেকসই করে সব মানুষের জীবনমান উন্নত করাই আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য।আপনাদের মূল্যবান ভোটে নির্বাচিত হয়ে আরেকটিবার সরকার গঠন করতে পারলে আমাদের গৃহীত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করে আপনাদের জীবনমান আরও উন্নত করার সুযোগ পাবো।

নদী, খাল, পুকুর, জলাধার খনন, ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ, বনায়ন সৃষ্টি, উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করে সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদী ভাঙনের হাত থেকে দেশের জনগণকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলেও ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সড়ক, রেল, নৌ, বিমান পথ ও সেবা উন্নত করে যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, অধিক ফসল উৎপাদন, খাদ্য সংরক্ষণ, খাদ্য ও কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাত করা, দেশের চাহিদা পূরণ করা ও বিদেশে রপ্তানির উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ অব্যাহত থাকবে। রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে নতুন বাজার খুঁজে বের করা, উপযুক্ত পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে। সে ক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিভাইস, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত, ওষুধ, কুটির শিল্প, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্প উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ রিসাইক্লিনং শিল্প ও কারখানা গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত থাকবে। ব্যাপক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এই লক্ষ্যে কৃষি পণ্য, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, প্রযুক্তি বিজ্ঞান, পরমাণু গবেষণা, অ্যায়ারোস্পেস ও এভিয়েশন গবেষণা, সমুদ্র গবেষণা, জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণার জন্য ইন্সটিটিউশন ও গবেষণাগার তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

সন্ত্রাসী ও খুনিদের দলে পরিণত হয়েছে জনবিচ্ছিন্ন বিএনপি : নানক


নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে দেশে ভোটের উৎসব তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা-১৩ আসনের নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। পাশাপাশি বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, নির্বাচন বর্জনের মধ্যদিয়ে বিএনপি দেশের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে এখন সন্ত্রাসী ও খুনিদের দলে পরিণত হয়েছে।

৩ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে নির্বাচনী গণসংযোগের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর রায়ের বাজারের উত্তর সিটির ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের রহিম ব্যাপারী ঘাট থেকে গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় চলে এই গণসংযোগ।

নানক বলেন, ভোটের দিন খুবই সন্নিকটে। ঢাকা-১৩ আসনের মতো সারা দেশে ভোটের উৎসব লক্ষ্য করা গেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি নির্বাচনী জনসভায় মানুষের ঢল নেমেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে, ৭ জানুয়ারি জনগণের অংশগ্রহণে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

 ভোটারদের উদ্দেশে নৌকার প্রার্থী নানক বলেন, আপনারা পরিবার নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আপনাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার নির্বাচন। এ দেশের এত উন্নয়ন হয়েছে, সবই আওয়ামী লীগের হাত ধরে হয়েছে। চলমান এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকারের বিকল্প নেই। তাই আপনারা ভোট দিয়ে উন্নয়নের এই দ্বারা ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে শামিল হন।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা-১৩ আসনের বর্তমান এমপি সাদেক খান, স্থানীয় কাউন্সিলরসহ ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গণসংযোগে অংশ নেন।

নতুন ভোটারদের নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান শেখ হাসিনার


নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন ভোটারদের নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। তরুণ সমাজ ও তারুণ্যই হচ্ছে আমাদের অগ্রদূত। যারা প্রথম ভোটার হয়েছে, তাদেরকে আহ্বান করব... নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে।

১ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে রাজধানীর কলাবাগান মাঠে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় তিনি এই আহ্বান জানান।

ভোটারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত অগ্নিসন্ত্রাস করে আপনাদের ভোট কেড়ে নিতে চায়। আপনারা তার জবাব দেবেন। প্রত্যেক ভোটার সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যাবেন, আপনার ভোট আপনি দেবেন... কেউ যেন ঠেকাতে না পারে। তাদের উপযুক্ত জবাব দেবেন। আপনারা অগ্নিসন্ত্রাসের জবাব দেবেন।

ঢাকার নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করে দিয়ে তিনি বলেন, ‌আপনাদের সামনে এই ১৫টি রত্ন তুলে দিলাম। এই ১৫টি রত্ন আপনাদের হাতে দিলাম, যারা আপনাদের সেবক হিসেবে কাজ করবে, আপনাদের সেবা করবে। এই নৌকা হচ্ছে নূহ নবীর নৌকা... মহাপ্লাবনে মানব জাতিকে রক্ষা করেছিল। এই নৌকায় মানুষের উন্নতি হয়। এই নৌকা মানুষকে নিশ্চিত জীবন দেয়, শান্তি দেয় ও সমৃদ্ধি দেয়। এই নৌকায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতা পেয়েছে। এই নৌকায় ভোট দেওয়ায় আজকে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ।

সরকারপ্রধান বলেন, আগামীতেও নৌকায় ভোট দেবেন। ৪১ সালের মধ্যে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলব। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আজকের এই নির্বাচন। এই নির্বাচনে ভোট দিয়ে নৌকাকে জয়যুক্ত করবেন। শুধু ভোট দেবেন না, আপনার ভোট রক্ষাও করবেন। আর ওই অগ্নিসন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী বিএনপিকে উপযুক্ত জবাব দেবেন।

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০১ এর পর হানাদারদের মতো অত্যাচার করেছিল বিএনপি। তাদের দুঃশাসনেই দেশে ইমার্জেন্সি এসেছিল। তারা শুধু জানে মানুষের ওপর অত্যাচার করতে।

ভোট চুরি করতে পারবে না জেনেই বিএনপি নির্বাচনে আসেনি মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন মানুষের অধিকার, এটা বন্ধ করার সাহস তাদের নেই। এদের বিষয়ে মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে ওরা দেশটার সর্বনাশ করে দেবে। আমরাই ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করেছি। জিয়াউর রহমান যখন ভোট চুরির জন্য হ্যাঁ-না ভোট করেছিলেন, আওয়ামী লীগ তখন জনগণের ভোটের অধিকার ফিরে দিয়েছে। ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’-এই স্লোগানটিও আমাদের দেওয়া। আমরাই জনগণের হাতে ভোটাধিকার এনে দিয়েছি।

বিএনপিকে খুনি আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, বিএনপির চুরি-দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কারণে জনগণ তাদের ২০০৮ সালে প্রত্যাখ্যান করেছে। জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ খুন করা তারা শুধু এটাই জানে। এখন আবার নির্বাচন বানচাল করতে চায়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, শুনেছি সে নাকি ক্যাসিনো থেকে টাকা ইনকাম করে। জুয়া খেলে টাকা ইনকাম করে সেই টাকা দিয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান। এতে আরও বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা-১৩ আসনের নৌকার প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৮ আসনের নৌকার প্রার্থী আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা-১০ আসনের নৌকার প্রার্থী নায়ক ফেরদৌস আহমেদ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপস। 

বিএনপি স্বাভাবিক আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে নাশকতার দিকে গেছে: ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি স্বাভাবিক আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে নাশকতার দিকে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা খবর পাচ্ছি, লন্ডন থেকে বার্তা দেয়া হচ্ছে, প্রয়োজনে গুপ্ত হত্যা চালাবে। তারা আরও ভয়ংকর গুপ্ত হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ওবায়দুল কাদের আজ শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সকল আন্দোলনে বিএনপি ব্যর্থ, গত ডিসেম্বর থেকে তারা যে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করেছিল, তারা স্বাভাবিক আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে, নাশকতার দিকে গেছে। এখনও আমরা খবর পাচ্ছি, লন্ডন থেকে বার্তা দেয়া হয়েছে যে, গুপ্ত হত্যার দিকে তারা যাবে। এ নির্বাচনকে ঘিরে হয়তো দেখা যাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতা বা প্রার্থীকে লাশ বানানোর চক্রান্ত তাদের আছে। আমরা সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘খুবই ভয়াবহ পরিকল্পনা নিয়ে তারা আগাচ্ছে। সবকিছু ব্যর্থ হওয়ার পর তারা এখন লিফলেট বিতরণ করছে। এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে আরও ভয়ংকর কোনো হামলার। গুপ্তহত্যার পথে তারা যাচ্ছে আমরা সেই খবর পাচ্ছি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনে আমরা সহিংসতা চাই না। প্রার্থীরা যদি সংঘর্ষে জড়ায়, তার দায় আমরা নেব না। নির্বাচন কমিশন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে যার জন্য যে শাস্তি নির্ধারণ করবে, সেখানে আমাদের কোনো আপত্তির কিছু নেই।’

তিনি বলেন, ‘এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করবে। এটাই নিয়ম। এটাই আমাদের সংবিধান। নির্বাচন কমিশন এখন শাস্তি দেয়ার মালিক, তারা পরিচিতি পর্যবেক্ষণ করে, খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রার্থীদেরকে দায়িত্বশীল আচরণ করার জন্য আহ্বান জানাব। নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ বিতর্কে জড়াবে না। নির্বাচনের আচরণবিধি সবাইকে মানতে হবে। আচরণবিধি লংঘন যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিবে।’

তিনি বলেন, ‘তারা লাশ বানিয়ে জনগণকে আতঙ্কিত করতে পারে, এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক হতে হবে।’

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন, ‘আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ দপ্তর সায়েম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি প্রমুখ।

স্বামী প্রার্থী, কিন্তু স্ত্রী ভোট চাচ্ছেন অন্য প্রার্থীর

সুফিয়া রহমান ও মাসুদুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনীতিতে মত পার্থক্য একটি চিরায়ত ব্যাপার। একই পদের জন্য স্বামী-স্ত্রীর ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকে লড়াইয়ের সংবাদ ইতিপূর্বে পাওয়া গেলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনে দেখা গেছে স্বামী মাসুদুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লাঙ্গল প্রতীকে আর স্ত্রী সুফিয়া রহমান ভোট চাচ্ছেন নৌকায়। একই ঘরে বসবাস করেও স্বামী স্ত্রীর বিপরীতমুখী রাজনীতির বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল, আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মাসুদুর রহমান পদত্যাগ করার পর তার স্ত্রী সুফিয়া রহমান আওয়ামী মহিলা লীগে যোগদান করেন। এর কিছুদিন পরে সুফিয়া রহমান আওয়ামী মহিলা লীগের শরীয়তপুর সদর উপজেলার সভাপতি নির্বাচিত হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছুদিন আগে মাসুদুর রহমান জাতীয় পার্টিতে ফিরে এসে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পান। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়ে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাসুদুর রহমান। অন্যদিকে তার স্ত্রী সুফিয়া রহমান আওয়ামী মহিলা লীগেই থেকে যান। 

নির্বাচনী প্রচারণায় লাঙ্গলের প্রার্থী মাসুদুর রহমান

মাসুদুর রহমান তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দিন-রাত আসনটির সর্বস্তরের নাগরিকদের কাছে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করছেন। অন্যদিকে স্ত্রী সুফিয়া রহমান আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুকে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের কাছে গিয়ে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরছেন। ইকবাল হোসেন অপুর স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিনের সঙ্গে সুফিয়া রহমান মহিলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে উঠোন বৈঠকও করছেন।

মেহেদী হাসান ফাহিম নামে এক ভোটার বলেন, এর আগে কোনো এক নির্বাচনে একই পদের জন্য স্বামী স্ত্রীকে একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখেছি। তবে স্বামী প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রী অন্য এক প্রার্থীর প্রচারণা করে ভোট চাইছেন, এটা প্রথম দেখলাম। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিলেও আমি মনে করি, রাজনৈতিক এই মত পার্থক্য বাংলাদেশের নারীদের জেগে ওঠার চিত্র।

লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাসুদুর রহমানের স্ত্রী সুফিয়া রহমান বলেন, রাজনীতির মাঠে আমাদের মত পার্থক্য থাকলেও সংসার জীবনে আমরা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই, একে অপরের কথা মেনে চলি। কিন্তু রাজনৈতিক মাঠে দুইজনই আলাদা পথে হাঁটছি। কেউ কাউকে বাধা দিচ্ছি না, প্রভাবিত করার চেষ্টাও করছি না। ৫ বছর ধরে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভোটের মাঠে প্রচারণা করছি। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছি। আমার স্বামী মাসুদুর রহমান জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি তার দলীয় মনোনয়ন পেয়ে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন। তিনি তার মত ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।

নৌকার প্রচারণায় সুফিয়া রহমান

মহিলা আওয়ামী লীগের শরীয়তপুর জেলার সভাপতি সামিনা ইয়াছমিন বলেন, সুফিয়া রহমান এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। দলের একজন কর্মী হিসেবে তিনি আমাদের সঙ্গে নৌকা প্রতীকের প্রচার-প্রচারণা করছেন। তার স্বামী মাসুদুর রহমান জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছেন বলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে স্বামী-স্ত্রী পরস্পর বিরোধী দুই প্রতীকের নির্বাচন করায় বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা আছে।

জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাসুদুর রহমান বলেন, সুফিয়া ও আমি সংসার জীবনে সুখী দম্পতি। আমাদের তিন কন্যা সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমি জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলীয় সিদ্ধান্তে আমি নিজে প্রার্থী হলেও আমার স্ত্রী ভিন্ন মতাদর্শের হওয়ায় তাকে আমার পক্ষে কাজ করতে বলিনি। সুফিয়া আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করছে। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। রাজনীতিতে ভিন্নতা থাকলেও পারিবারিক জীবনে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।

শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ইকবাল হোসেন অপু, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ প্রতীকের প্রার্থী আবুল বাশার মাদবর, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকের আব্দুস সামাদ ও ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। আসনটির মোট সংখ্যা ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩৪৯ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯০ হাজার ৪২৮ ও নারী ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১০ জনসহ তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ১১ জন। এসব ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন।

সহিংসতামুক্ত শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় আওয়ামী লীগ: ওবায়দুল কাদের


নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলছেন, ‘সহিংসতামুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় আওয়ামী লীগ। তাই নির্বাচন বিরোধী কোনো প্রকার সহিংসতাকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। অপরাধ প্রমাণিত হলে সে যেই হোক পড়তে হবে শাস্তির আওতায়।’

আজ রোববার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দলীয় কিংবা স্বতন্ত্র কারো প্রতিই কোনো পক্ষপাত করবে না আওয়ামী লীগ। নির্বাচনবিরোধী কোনো সহিংসতা করলে নির্বাচন কমিশন যে ব্যবস্থা নিবে তা সমর্থন করবে আওয়ামী লীগ। আইন ভঙ্গ করলে আইনের আওতায় পড়তে হবে।’

নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সর্বত্র নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমরা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই, কোনো সহিংসতা চাই না। নেত্রী সেটা বারবার বলছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী কিংবা প্রার্থীর কোনো সহযোগী যদি সহিংসতায় জড়ায়, তাহলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইনগত ব্যবস্থায় আমরা সমর্থন জানাই। যৌক্তিক কারণে কারও প্রার্থিতা গেলে আমাদের কিছু বলার নেই, ইসি স্বাধীন।’

‘তারেক রহমানের কথায় সাড়া দিলে বিএনপির আম-ছালা সব যাবে’ উল্লেখ করে কাদের বলেন, ‘নির্বাচন ঠেকাতে লন্ডনে পলাতক তারেক রহমানের কথায় সাড়া দিলে বিএনপির নেতাকর্মীদের আম-ছালা সব যাবে।’

তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘বিদেশে বসে রিমোট কন্ট্রোলে উদ্ভট আন্দোলনের ডাক দিচ্ছেন, সাহস থাকলে দেশে আসেন না কেন? বাংলাদেশে খোমেনি স্টাইলের বিপ্লব হবে না। হয় রাজপথে, না হয় জেলে যেতে হবে, বিদেশে বসে আন্দোলন হবে না।

বিএনপির ডাকা অসহযোগ আন্দলেন নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা খাজনা-ট্যাক্স-ইউটিলিটি দেবে না, এটা তাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি? দেশ কি আরেকবার স্বাধীন হচ্ছে? এটা কি বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ?’

তিনি বলেন, ‘ট্যাক্স না দিলে জেলে যেতে হবে, ইউটিলিটি বিল না দিলে শাস্তি হবে। বিদ্যুৎ-পানির বিল না দিলে লাইন কেটে দেয়া হবে, সোজা কথা।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কিন্তু এদেশে আর ওয়ান ইলেভেন হবে না। পিটার হাস ভারতে গেছেন। কিন্তু ভারতের অবস্থান এক জায়গায়। তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সহিসংতার বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করছে। যারা দোষী হবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। যে যা বলার বলুক, আমরা আমাদের লক্ষ্য-অভিমুখে অবিচল। আমাদের অগ্রযাত্রা থামবে না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা নির্বাচন বর্জন করছে, দেশের জনগণই তাদের বর্জন করতে শুরু করেছে। যারা সন্ত্রাস করছে, তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব আরও সংকুচিত হবে, অনিশ্চয়তা বাড়বে, নেতিবাচক রাজনীতির জন্য, সন্ত্রাসের পথ তারা বেছে নিয়েছে। এই সন্ত্রাসের রাজনীতি আর গণতন্ত্র বিপরীতমুখী। যারা সন্ত্রাস করে, তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না।’

তিনি বলেন, ‘দলের প্রার্থী কিংবা স্বতন্ত্র, যারা অনেকে আমাদের দলের, তাদেরকেও প্রতিদ্বন্দী হিসেবে ভাবতে হবে। কোনো প্রকার বৈরী মনোভাব সমর্থনযোগ্য নয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তারা যেই হোক, কোনো প্রকার পক্ষপাত নেয়া হবে না, আইন ভাঙলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইসির আইনগত পদক্ষেপকে আমরা সমর্থন করি।’

তিনি বলেন, ‘সারা দুনিয়ার মতো আমাদের এখানেও ভোটারের স্ট্যান্ডার্ড উপস্থিতি হবে। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে তুলনা করলে হতাশ হতে হবে না, ভালো উপস্থিতি হবে।’

আমি কখনো ভোট চাই না : শামীম ওসমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, মা-বোনেরা আমাকে যেভাবে আজ আদর করেছে, আমি ভুলবো না। আমি কখনো ভোট চাই না। কারণ আপনি আমার থেকে কম বোঝেন না। আমি নাটক করতে পারি না, আমি ভণ্ডামি করি না। রাজনীতিকে আমি ইবাদত হিসেবে দেখি। আমাকে মারার চেষ্টা করা হচ্ছে, আমি জানি। আমার জন্য একটাই দোয়া করবেন, আপনাদের ভালোবাসার প্রতিদান যাতে দিতে পারি।

২১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণা শেষে উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

শামীম ওসমান বলেন, যত বড় শক্তি বিদেশ থেকে আসুক না কেন, কিছু করতে পারবে না। আগামী ৭ তারিখে নির্বাচন হবেই। তারা আমাদের মানচিত্রে আঘাত করেছে। সিরিয়া, লিবিয়ার মতো দেশ বানাতে না চাইলে ভোট দিতে আসবেন। ভোট আমাকে দিয়েন না, যাকে খুশি তাকে ভোট দিয়েন। তবে ভোটটা দিয়েন। তাদের কোনো সুযোগ দিয়েন না। এবারের ভোটটা দেওয়া আপনাদের খুব দরকার। 

তিনি আরও বলেন, আল্লাহর হুকুম হয়েছে, তাই আমি এই এলাকায় অনেক কাজ করতে পেরেছি। আমরা বাচ্চাদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ চাই। হয়তো এটা আমার শেষ নির্বাচন। নির্বাচন করার ইচ্ছা আমার নাই, অন্য কেউ আসুক। আমরা ফতুল্লা অঞ্চলে ৬৫০ কোটি টাকার রাস্তা করেছি। ২৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে পঞ্চবটি-মুন্সীগঞ্জ সড়ক হচ্ছে, ১৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিএনডি প্রজেক্টের কাজ চলমান আছে হয়তো জুন মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। ১২-১৫ হাজার কোটি টাকার কাজ আমরা শেষ করতে পেরেছি।

শামীম ওসমান বলেন, নির্বাচনের পর আমার প্রথম কাজ মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি- এগুলো বন্ধ করবো। আপনারা জিজ্ঞেস করতে পারেন, কেন করবেন এগুলো? কারণ আমি আল্লাহকে খুশি করে মরতে চাই।

এ সময় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ নিজাম, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফউল্লাহ বাদল, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান কাশীপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. বশির আলম ফাতুসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতকার্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

২৭ ডিসেম্বর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা আওয়ামী লীগের


নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২৭ ডিসেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করবে আওয়ামী লীগ। এইদিন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন।

১৮ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে আওয়ামী লীগের সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘আগামী ২৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হবে। ওইদিন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন।’

নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে চলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী ২০ ডিসেম্বর সিলেটে নির্বাচনী প্রথম জনসভা করা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম ও সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, শফিকুল ইসলাম শফিক, মেরিনা জাহান কবিতা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিজেদের প্রতীকে আস্থা নেই, নৌকা নিয়ে ভোট করবেন ইনু-মঞ্জু-মেনন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলীয় জোটের নেতাদের নিজেদের দলীয় প্রতীকে আস্থা নেই। এজন্য এবার দলীয় প্রতীক ছেড়ে নৌকা প্রতীকে ভোট করবেন জোটের হেভিওয়েট তিন নেতা হাসানুল হক ইনু, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও রাশেদ খান মেনন। এছাড়া আ. লীগ থেকে ছেড়ে দেওয়া বাকি ৩ আসনেও জোটের প্রার্থীরা নৌকা মার্কায় ভোট করবেন।

১৭ ডিসেম্বর রোববার প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার সঙ্গে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলমের বৈঠকের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবারও নিজ দলের প্রতীক মশাল ছেড়ে নৌকা ধরেছেন। একাদশ সংসদের মতো দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকে ভোটে লড়বেন তিনি। কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে লড়বেন জোটের এ নেতা।

নিজস্ব প্রতীক ছেড়ে জাসদ নেতা এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন বগুড়া-৪ থেকে এবং লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসন থেকে জাসদ নেতা মোশারফ হোসেনও নৌকা প্রতীকে লড়বেন।

এ ছাড়া, জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পিরোজপুর-২ আসন ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর আগে জাতীয় পার্টি-জেপির প্রতীক সাইকেল নিয়ে ভোটের মাঠে লড়লেও এবার তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়বেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন

নিজেদের প্রতীক হাতুড়ি ছেড়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবারও লড়বেন নৌকা প্রতীকে। নিজস্ব প্রতীক ছেড়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাও রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে নৌকা প্রতীকে ভোটের মাঠে থাকবেন। 

প্রসঙ্গত, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের জন্য ৩২ আসন ছেড়ে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে জাতীয় পার্টিকে ২৬টি এবং শরিকদের জন্য ৬টি আসন ছাড় দিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে দলটি।

সব নেতাকে মুক্তির প্রস্তাবেও রাজি হয়নি বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে সরকার চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে আনার জন্য বিএনপির নেতাদের কারাগার থেকে মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বিএনপি।

১৭ ডিসেম্বর রোববার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটির ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি প্রতিবেদন চ্যানেলটির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করা হয়।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে বারবার বলা হয়েছে যে, তারা (বিএনপি) যদি নির্বাচনে আসে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হবে। শুধু পিছিয়ে দেওয়া নয়, বলা হয়েছিল তাদের জেল থেকেও ছেড়ে দেওয়া হবে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সহিংসতা আটকাতে পরিকল্পিতভাবেই এটা করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ২০ হাজার নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার না করলে কি আর হরতালের দিন গাড়ি চলত? গণগ্রেপ্তার ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না। যেটাই করা হয়েছে, আমরা চিন্তা-ভাবনা করেই করেছি।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সংবিধান সমুন্নত রেখে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে নির্বাচনে বদ্ধপরিকর আওয়ামী লীগ। নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করতে আওয়ামী লীগের চেষ্টার কমতি নেই।

বুদ্ধিজীবী হত্যায়ও জাতিকে পঙ্গু করা যায়নি, বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে দেশ বহুদূর এগিয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বুদ্ধিজীবী হত্যা করেও জাতিকে পঙ্গু করা যায়নি, বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহুদূর এগিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে যাদেরকে হত্যা করা হয়েছিল, বাঙালি জাতির স্বাধীনতার লক্ষ্যে মনন তৈরি করতে বঙ্গবন্ধুর সহযোগী হিসেবে তারা তাদের লেখনী ও বক্তব্যের মাধ্যমে নানাভাবে কাজ করেছিলেন। কিন্তু তাদেরকে হত্যা করেও বাঙালি জাতিকে পঙ্গু করা যায়নি এবং গত ৫২ বছরের বেশি সময়ে পথ চলায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বহুদূর এগিয়ে গেছে।’

১৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের ড. হাছান মাহমুদ এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যখন আসন্ন, পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী উপলব্ধি করতে পেরেছিল বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে যাচ্ছে এবং সেই জাতিকে পঙ্গু করার উদ্দেশ্যেই ১৪ ডিসেম্বর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করা হয়েছিল।’

‘বাংলাদেশে যদি বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে অপরাজনীতি, সাম্প্রদায়িকতা আশ্রয়ী রাজনীতি, জ্বালাও-পোড়াও, ধংসাত্মক রাজনীতি না থাকত, আমরা বঙ্গবন্ধুর সমস্ত স্বপ্ন ইতিমধ্যেই বাস্তবায়ন করতে পারতাম’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ করে যারা স্বাধীনতা চায়নি, স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে যারা পাকিস্তানিদের হয়ে যুদ্ধ করেছে সেই জামায়াতে ইসলামীকে সাথে নিয়ে বিএনপি অপরাজনীতি করছে। এই অপরাজনীতি যদি দেশে না থাকত দেশ আজকে বহুদূর এগিয়ে যেতে পারতো।’

তিনি বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশ পৃথিবীর কাছে একটি গর্বিত জাতি এবং বাংলাদেশের প্রশংসা সমস্ত বিশ্ব পঞ্চমুখ। অথচ দুঃখের বিষয় এখনো বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি হয়।’

হাছান মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। আমরা যখন বিচারের ঘোষণা দিলাম তখন অনেকেই ভেবেছে এই বিচার হবে না। বিচার কার্যক্রম শুরুর পরও অনেকেই ভেবেছে কার্যক্রম শুরু হলেও শেষ হবে না। আবার রায় হবার পরও অনেকে ভেবেছিলো রায় হলেও বাস্তবায়ন হবে না। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে পৃথিবীর অনেক বড় রাষ্ট্রের রক্তচক্ষু ও চাপকে উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন, বিচারের রায় বাস্তবায়ন করেছেন। শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে সমস্ত মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার হবে বিচারের রায়ও কার্যকর হবে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন