জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জাতীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জরুরি আন্তর্জাতিক সম্মেলন চান অধ্যাপক ইউনূস

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর 'নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ' প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনসহ রোহিঙ্গা সংকটের প্রতি 'জরুরি মনোযোগ' দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার এক বাণীতে তিনি বলেন, 'রাখাইন রাজ্য (মিয়ানমার) বা গাজায় যারা অব্যাহতভাবে নিপীড়ন, উৎখাত ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন, আমরা তাদের উপেক্ষা করতে পারি না।  সংখ্যা বা পরিচয় নির্বিশেষে কোনো ব্যক্তিই প্রসারণযোগ্য নয়।’

সম্প্রতি নতুন করে আসা ৪০ হাজার রোহিঙ্গাসহ বাংলাদেশ বর্তমানে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে।

১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হওয়ার বার্ষিকী হিসেবে এই দিবস পালন করা হয়। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যসহ সনদে সইকারীদের সংখ্যাগরিষ্ঠের দ্বারা এই প্রতিষ্ঠাকালীন নথি অনুমোদনের মাধ্যমে জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে অস্তিত্ব লাভ করে।

অধ্যাপক ইউনূস একটি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সকল মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে জাতিসংঘকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ ও প্রতিক্রিয়াশীল করতে এর সংস্কারের আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বেসামরিক শিশু, নারী ও পুরুষদের রক্ষায় জাতিসংঘের চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে গাজা ও লেবানন এবং বৃহত্তর অঞ্চলে শান্তি নিশ্চিতে সংলাপেরও তাগিদ দেয়।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান নোবেলজয়ী ইউনূস বলেন, ‘এই দিনে বাংলাদেশ তার 'অভিন্ন স্বার্থে' আরও ন্যায়সঙ্গত, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। একই সঙ্গে সবার জন্য মর্যাদা ও অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে।’
দিবসটি উপলক্ষে তিনি বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে বিশ্বজুড়ে জাতিসংঘ পরিবারের সকল নারী ও পুরুষকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং জাতিসংঘ সনদের আদর্শের প্রতি তার (বাংলাদেশের) অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আট দশক ধরে জাতিসংঘ শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নে কাজ করছে।

জলবায়ু পরিবর্তন, সংঘাত, বৈষম্যের মতো নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের সময়ে জাতিসংঘের ম্যান্ডেট দেওয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং দেশজুড়ে প্রযুক্তির লাভজনক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মতো উদীয়মান বিষয়গুলো সবার জন্য শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ ব্যবস্থার বর্ধিত ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছে।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে তৃতীয় বৃহত্তম শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘ ব্যবস্থার সঙ্গে সক্রিয় অংশীদারিত্বে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, 'শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমতার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার আমাদের জাতীয় মূল্যবোধের মধ্যে নিহিত। ন্যায়বিচারের জন্য আমাদের জনগণের চলমান অনুসন্ধানে যা দেখা গেছে। অতি সম্প্রতি আমাদের ছাত্র ও যুবকদের নেতৃত্বে গণবিপ্লবে প্রদর্শিত হয়েছে।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জনগণ হিসেবে তারা বহুপাক্ষিকতার প্রতি দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। ‘টেকসই উন্নয়ন হোক বা বাণিজ্য কিংবা জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, বাংলাদেশ ও গ্লোবাল সাউথের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য নিয়মভিত্তিক বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা প্রয়োজন,’ বলেন তিনি।

দ্রুত ন্যায় বিচার নিশ্চিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে : রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিচার প্রার্থীরা যাতে দ্রুত ন্যায় বিচার পায়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। 'বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট দিবস' উপলক্ষ্যে আদালতের ইনার কোর্টে এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান । এছাড়া, রাষ্ট্রপ্রধান মামলা নিষ্পত্তির পর রায়ের কপির জন্যও যাতে বিচারালয়ের বারান্দায় ঘুরতে না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে যত্নবান হওয়ার ও পরামর্শ দেন।

রাষ্ট্রপতি বিচারিক কর্মকান্ডে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার মামলা নিষ্পত্তিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে উল্লেখ করে বলেন,''আমি আশা করব, এখন থেকে ‘জাষ্টিস ডিলেইড, জাষ্টিস ডিনায়েড’ প্রবাদটি আমাদের বিচার বিভাগে উদাহরণ হিসেবে আর ব্যবহৃত হবে না।''

তিনি আশা করেন, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট ন্যায় বিচার প্রাপ্তিতে ও জনগণের আশা-আকাঙ্খা পূরণের মাধ্যমে ত্রিশ লাখ শহিদের রক্তে লেখা সংবিধানের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করবেন। তিনি মনে করেন, অমর শহিদের রক্তে লেখা এই সংবিধান রাষ্ট্র পরিচালনা ও বাঙ্গালির অধিকার আদায়ের যেমন অনন্য দলিল, তেমনি বিশ্বের নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায়ও অনুপ্রেরণার উৎস হিসাবে মুক্তির পথ দেখাবে।

আইনজীবীগণ বিচার ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এই আইনজীবী বলেন, “আইনজীবীদের সহায়তা ছাড়া বিচারের কাজ কিছুতেই অগ্রসর হতে পারে না। বিচার কাজে বেঞ্চ ও বারের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা খুবই জরুরি।” আইন, নির্বাহী ও বিচার- রাষ্ট্রের এই তিন অঙ্গের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা রাষ্ট্র পরিচালনায় খুবই অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দায়রা জজ হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত, মোঃ সাহাবুদ্দিন, তাঁর আইন পেশার কিছু স্মৃতিচারণের পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপটও তুলে ধরে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়, যেখানে তারা ন্যায় বিচার ও অধিকার রক্ষার জন্য মুখাপেক্ষী হন। দেশের সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের ভরসার এবং জাতির গৌরবের প্রতীক হলো সুপ্রিম কোর্ট। তিনি বলেন, সুপ্রীম কোর্ট সংবিধানের রক্ষক এবং চূড়ান্ত ব্যাখ্যা প্রদানকারী। সুপ্রীম কোর্টের রয়েছে জুডিসিয়াল রিভিউ’র ক্ষমতা। কিন্তু এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বিজয়ের এক বছরের মধ্যেই জাতিকে তিনি উপহার দিয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি সংবিধান, যেটা বিশ্ব গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি বিরল ও অবিস্মরণীয় ঘটনা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট তার যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মানবাধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি শান্তি ও সঙ্কটে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট সংবিধানের অভিভাবক ও রক্ষক হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক যে কোনো আইন বাতিলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট সবসময় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দেশে সামরিক শাসন জারি করে, সংবিধানকে নানাভাবে কাটাছেড়া করে গণতন্ত্রকে চিরতরে হত্যা করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু জনতার প্রতিরোধের মুখে স্বৈরশাসকদের পতন হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, বঙ্গবন্ধু আমৃত্যু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ধর্ম-বর্ণ ও ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে কেউ যাতে ন্যায় বিচার প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন এবং তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও, দেশের বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোঃ মোমতাজ উদ্দিন ফকির এবং বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট জাজেস কমিটির সভাপতি ও আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বক্তব্য রাখেন।

ব্যালট পেপার সংরক্ষণ ও গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারদের কাছে ব্যালট পেপারসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যালট পেপার সংরক্ষণ ও সেসবের গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

১৮ ডিসেম্বর সোমবার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান।

নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যালট পেপার এবং অন্যান্য মালামাল প্রিসাইডিং অফিসারদের মধ্যে বিতরণের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে এবং সকল পর্যায়ে যাতে ব্যালট পেপার, মার্কিং সিল এবং অফিসিয়াল সিলের গোপনীয়তা রক্ষিত হয়, তার নিশ্চয়তা বিধান করবেন।

আরও বলা হয়, ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনা, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৩৬ এর বিধান অনুসারে ভোটগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার সংগে সংগে প্রিসাইডিং অফিসারকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট অথবা পোলিং এজেন্ট ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের সম্মুখে আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে ভোট গণনার কাজ শেষ করতে হবে। সকল প্রিসাইডিং অফিসারকে বুঝিয়ে দেবেন যে, ভোটগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে ভোট গণনার কাজ ভোটকেন্দ্রেই শেষ করা তাদের আইনগত দায়িত্ব। এই দায়িত্ব তাদেরকে অবশ্যই পালন করতে হবে। কোনো অবস্থায়ই ভোটকেন্দ্র ছাড়া অন্য কোথাও ভোট গণনা করা যাবে না। ভোট গণনার বিবরণী ভোটকেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড/দেয়াল/ঝুলিয়ে প্রকাশ করতে হবে।

ভোট গণনার কাজ শেষ হওয়ার পর পরই প্রত্যেক প্রিসাইডিং অফিসারকে ব্যবহৃত ব্যালট পেপার ভর্তি সিলমোহরকৃত বিভিন্ন ধরনের প্যাকেট, ভোট গণনার বিবরণী, ব্যালট পেপারের হিসাব এবং অন্যান্য কাগজপত্রাদি সরাসরি উপযুক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রেরণ করতে হবে।

সোমবার প্রচারণায় মাঠে নামছেন প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:১৮ ডিসেম্বর সোমবার বিকেল থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রচারণায় ভোটের মাঠে নামছেন প্রার্থীরা।

১৮ ডিসেম্বর সোমবার সারাদেশে রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। প্রতীক পেয়েই ভোটের মাঠে পুরোদমে প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।

সংসদ নির্বাচনে বৈধ প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ১৭ ডিসেম্বর রোববার বেলা চারটা পর্যন্ত। অফিস চলাকালে রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করে প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এরপর চূড়ান্ত হয় প্রার্থী তালিকা। সোমবার প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এদিন থেকেই নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। প্রতীক নিয়েই প্রার্থীরা ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত ভোটের প্রচার চালাতে পারবেন। আর ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৬৩ আসনে লড়বেন। দলটি ২৯৮ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে ৫টি আসন ইসির বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া শরিকদের ৬টি আসন ও জাতীয় পার্টিকে ২৬টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়।

জাপার সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে- ঠাকুরগাঁও-৩, নীলফামারী-৩ ও ৪, রংপুর-১ ও ৩, কুড়িগ্রাম-১ ও ২, গাইবান্ধা-১ ও ২, বগুড়া-২ ও ৩, সাতক্ষীরা-২, পটুয়াখালী-১, বরিশাল-৩, পিরোজপুর-৩, ময়মনসিংহ-৫ ও ৮, কিশোরগঞ্জ-৩, মানিকগঞ্জ-১, ঢাকা-১৮, হবিগঞ্জ-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ফেনী-৩, চট্টগ্রাম-৫ ও ৮, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন। এই আসনগুলোতে নৌকার প্রার্থী থাকবে না।

১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে- বগুড়া-৪, রাজশাহী-২, কুষ্টিয়া-২, বরিশাল-২, পিরোজপুর-২, লক্ষীপুর-৪ আসনে। 

এর আগে নারায়ণগঞ্জ-৫ ও কুষ্টিয়া-২ আসন বাকি রেখে ২৯৮ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে ক্ষমতাসীনরা। এবার এ দুই আসন জোটের শরিক দলের প্রার্থী সেলিম ওসমান ও হাসানুল হক ইনুকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনে মনোনয়ন জমা ২৭১৩টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭৪৭ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ৩০০টি আসনে মোট ২ হাজার ৭১৩টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৩২টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৯৬৬ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ৭৪৭ জন।

শুক্রবার এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।

তিনি জানান, নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৩২টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৯৬৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৭৪৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

রাজনৈতিক দলগুলো যে কয়টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তা হলো; আওয়ামী লীগ ২৯৮টি (পাঁচটি আসনে দুটি করে মনোনয়ন জমা দেয় দলটি), জাতীয় পার্টি ২৮৬টি (১৮টি আসনে দুইটি করে দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়েছে দলটি), তৃণমূল বিএনপি ১৫১টি, জাসদ ৯১টি, ইসলামী ঐক্যজোট ৪৫টি, জাকের পার্টি ২১৮টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ৩৯টি, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি ৩৩টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৩৪টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ৩৭টি, গণফ্রন্ট ২৫টি, গণফোরাম ৯টি ও জমিয়তে ইসলাম বাংলাদেশ ১টি।

আরও রয়েছে, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ১৪২টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ২টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১৩টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ৪৭টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ২০টি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল ০৬টি, গণতন্ত্রী পার্টি ১২টি, বাংলাদেশ ন্যশনাল আওয়ামী পার্টি ৬টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ ১৪টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১৩টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১৮টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ বিএমএল ৫টি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ৭৪টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট বিএনএফ ৫৫টি, বাংলাদেশ কংগ্রেস ১১৬টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বিএনএম ৪৯টি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি ৮২। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৭৪৭ জন।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা বাছাই করবেন ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি ৫ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি (রোববার)।

এর আগে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশ বসেছিল ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। আর ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ১০৩টি।

পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল; ঢাকা-মাওয়া ১২০ কি.মি গতিতে ছুটবে ট্রেন, স্থানীয়দের সতর্কবার্তা


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত নতুন নির্মিত ব্রডগেজ রেলপথে ১২০ কিলোমিটার গতিতে চালানো হবে পরীক্ষামূলক ট্রেন। এ সময় যে কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

২৫ অক্টোবর বুধবার দুপুরে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের পরিচালক আফজাল হোসেন।

তিনি বলেন, ২৫ এবং ২৬ অক্টোবর মাওয়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ট্রেন উচ্চগতিতে চলাচল করবে। ট্রেনের গতি থাকবে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার।

এক সতর্ক বার্তায় বলা হয়, ট্রেন চলাচলের সময় রেললাইনের ওপর জনসাধারণের চলাচল সম্পূর্ণ নিষেধ ও অপরাধ। পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচলের সময় কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে প্রকল্প সংলগ্ন এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া শিশু, বৃদ্ধ, মানসিক প্রতিবন্ধী (যদি থাকে) এবং গৃহপালিত প্রাণী নিজ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যও বিশেষ অনুরোধ করা হয়।

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ১২ রবিউল আউয়াল ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর শুভ জন্ম ও মৃত্যু দিবস। প্রায় দেড় হাজার বছর আগে ৫৭০ সালের এই দিনে মানব জাতির জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মহানবী (সা.) মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন। দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নামে পরিচিত। 
 
দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান সম্প্রদায়ের কাছে দিনটি অতি পবিত্র দিন হিসেবে গণ্য। সারাবিশ্বের মুসলমানরা আজ ইবাদত, প্রার্থনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে প্রিয় নবী (সা.) কে স্মরণ করবেন। 

এদিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবকল্যাণে ব্রতী হওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের জন্য সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবী (সা.)-এর জীবনের ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। 

এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পক্ষকালব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন। একইদিনে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলার উদ্বোধন করেন তিনি। 

ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে- গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধিসৌধে পবিত্র কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল, ১৫ দিনব্যাপী ওয়াজ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় সেমিনার, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আরবি খুতবা লিখন প্রতিযোগিতা, কিরাত মাহফিল, হামদ-না’ত, স্বরচিত কবিতা পাঠের মাহফিল, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্কুলে নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনবিষয়ক সেমিনার, বিশেষ স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ। 

এ ছাড়া পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৪ হিজরি উদযাপন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সব বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ৫০টি ইসলামিক মিশন ও ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। 

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধ নিবাস, মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে উন্নত খাবার পরিবেশনেরও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

যেসব আন্তঃনগর ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে নতুন লাগেজ ভ্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের আন্তঃনগর ট্রেনে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন লাগেজ ভ্যান। রেলের আয় বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নিয়ে চীন থেকে ১২৫টি রেফ্রিজারেটর ও নন-রেফ্রিজারেটর লাগেজ ভ্যান কিনেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের ১৬টি ট্রেনে ১৬টি লাগেজ ভ্যান যুক্ত করা হবে।

২৪ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল ১০টায় দেশের প্রধান ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনের সুবিধার্থে আন্তঃনগর ট্রেনে আধুনিক লাগেজ ভ্যান সংযোজনের উদ্বোধন করেন রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।

কোন কোন ট্রেনে এই লাগেজ ভ্যান যুক্ত হবে এবং প্রারম্ভিক ও গন্ত্যবের স্টেশন ছাড়া কোন কোন স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং ও আনলোডিং করা যাবে তা জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ের তথ্যমতে লাগেজ ভ্যান সুবিধা পাওয়া যেসব ট্রেন ও যেসব স্টেশন থেকে—
১. ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটের পারাবত এক্সপ্রেসে (৭০৯/৭১০) শুধুমাত্র চট্টগ্রাম ও সিলেট স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

২. সিলেট-চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেসে (৭২০/৭২৩) শুধুমাত্র চট্টগ্রাম ও সিলেট স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে। 

৩. চট্টগ্রাম-সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেসে (৭১৯/৭২৪) শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, শ্রীমঙ্গল ও সিলেট স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

৪. চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম রুটের বিজয় এক্সপ্রেসে (৭৮৫/৭৮৬) শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, গৌ. ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব বাজার স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে

৫. ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-ঢাকা রুটের ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসে (৭৪৩/৭৪৪) শুধুমাত্র ঢাকা, মেলান্দহ বাজার, ইসলামপুর বাজার, দেওয়ানগঞ্জ বাজার স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

৬. ঢাকা-ভূয়াপুর-ঢাকা রুটের জামালপুর এক্সপ্রেসে (৭৯৯/৮০০) শুধুমাত্র ঢাকা, তারাকান্দি, সরিষাবাড়ী, জামালপুর স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

৭. ঢাকা-কিশোরগঞ্জ-ঢাকা রুটের কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসে (৭৮১/৭৮২) শুধুমাত্র ঢাকা, নরসিংদী, ভৈরব বাজার, কিশোরগঞ্জ স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।
 

৮. ঢাকা-মোহনগঞ্জ-ঢাকা রুটের হাওর এক্সপ্রেসে (৭৭৭/৭৭৮) শুধুমাত্র ঢাকা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, মোহনগঞ্জ স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে। 

৯. চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের মহানগর এক্সপ্রেসে (৭২১/৭২২) শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, লাকসাম, কুমিল্লা ও ঢাকা স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

১০. চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের চট্টলা এক্সপ্রেসে (৮০১/৮০২) শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, ফেনী, লাকসাম, ভৈরব বাজার, নরসিংদী ও ঢাকা স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

১১. ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটের জয়ন্তিকা ও উপবন এক্সপ্রেসে (৭১৭/৭৪০) শুধুমাত্র ঢাকা, শায়েস্তাগঞ্জ ও সিলেট স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

১২. সিলেট-ঢাকা-সিলেট রুটের জয়ন্তীকা ও উপবন এক্সপ্রেসে (৭১৮/৭৩৯) শুধুমাত্র সিলেট, শ্রীমঙ্গল ও ঢাকা স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

১৩. ঢাকা-লালমনিরহাট-ঢাকা রুটের লালমনি এক্সপ্রেসে (৭৫১/৭৫২) শুধুমাত্র ঢাকা, সান্তাহার, বগুড়া, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

১৪. ঢাকা-রংপুর-ঢাকা রুটের রংপুর এক্সপ্রেসে (৭৭১/৭৭২) শুধুমাত্র ঢাকা, সান্তাহার, বগুড়া, গাইবান্ধা ও রংপুর স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবেভ

১৫. ঢাকা-কুড়িগ্রাম-ঢাকা রুটের কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে (৭৯৭/৭৯৮) শুধুমাত্র ঢাকা, সান্তাহার, পার্বতীপুর, রংপুর ও কুড়িগ্রাম স্টেশন থেকে মালামাল লোডিং বা আনলোডিং করা যাবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলের আয়ের অন্যতম খাত পণ্য পরিবহন। আর এটি করা হয় লাগেজ ভ্যানের মাধ্যমে। বর্তমানে রেলওয়েতে ৪১টি মিটারগেজ ও ১০টি ব্রডগেজ লাগেজ ভ্যান আছে। সেগুলোর বেশির ভাগের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে অনেক আগেই। ফলে পণ্য পরিবহন থেকে যথেষ্ট আয় করতে পারছে না রেলওয়ে। এখন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে রেলওয়ের রোলিং স্টক অপারেশন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নতুন করে অত্যাধুনিক ৭৫টি মিটারগেজ ও ৫০টি ব্রডগেজ লাগেজ ভ্যান সংযোজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এর আগে সরকার ২০১৮ সালের ২৬ জুন পণ্য পরিবহন ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে আধুনিক, নিরাপদ ও গুণগত মানসম্মত রোলিং বহরে স্টক যুক্ত করার লক্ষ্যে ৩ হাজার ৬০২ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিং স্টক অপারেশন উন্নয়ন প্রকল্পের (রোলিং স্টক সংগ্রহ) অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ২ হাজার ৮৩৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ঋণ দেবে। প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত হলেও পরে তা বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।

২২ দিন ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

আজ ২০ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে মৎস্য অধিদপ্তরে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধের সময় নির্ধারণ এবং মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৩ বাস্তবায়নের জন্য ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর (২৭ আশ্বিন থেকে ১৭ কার্তিক ১৪৩০) পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময় দেশব্যাপী ইলিশ পরিবহণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়ন করা হবে। ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকাকালে ইলিশ আহরণে বিরত থাকা জেলেদের সরকার ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেবে।

মন্ত্রী বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদই শুধু নয়, এটি জিআই সনদপ্রাপ্ত একটি সম্পদ যা বিশ্ব পরিমণ্ডলে আমাদের আলাদা পরিচয় বহন করে। অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইলিশ উৎপাদনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সবার অবদান রয়েছে। ইলিশ সংরক্ষণে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, মৎস্যজীবী ও মৎস্যজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের কারণে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অভয়াশ্রম সৃষ্টি, বিভিন্ন সময়ে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা, জাটকা নিধন বন্ধ করা, আহরণ বন্ধ থাকাকালে ইলিশ আহরণে সম্পৃক্ত জেলেদের ভিজিএফ সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়াসহ নানাভাবে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি। 

মন্ত্রী বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে মৎস্যজীবীরাই সে ইলিশ আহরণ করবে। তারাই লাভবান হবেন। সরকার শুধু ইলিশ উৎপাদনের পরিসর বৃদ্ধির জন্য কাজ করছে। জাতীয় সম্পদ ইলিশ যাতে কোনভাবে বিপন্ন না হয় সেক্ষেত্রে কাজ করতে হবে। ইলিশ সারাদেশের সম্পদ। এজন্য এ মাছ রক্ষায় সবাই মিলে আন্তরিকভাবে ভূমিকা রাখতে হবে।

ইলিশ সংক্রান্ত জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স এর সভা দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা এবং জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ দ্রুততার সাথে বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে ইলিশ রক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, দরিদ্র-অসহায় মৎস্যজীবীদের ব্যবহার করে এক শ্রেণির মুনাফা লোভী দুর্বৃত্ত। তারা মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকালে নদীতে-সমুদ্রে মাছ ধরতে জেলেদের নামায়। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় নয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এসব দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশের সম্পদ রক্ষায় রাষ্ট্র চেষ্টা করছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেষ্টা করছেন। এর ব্যত্যয় ঘটালে, যতই প্রভাবশালী হোক ব্যবস্থা নিতে হবে। ইলিশ সম্পৃক্ত এলাকায় এ সময় প্রয়োজনে বরফ কল বন্ধ করে দিতে হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশীদ, অতিরিক্ত সচিব নৃপেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ, এ টি এম মোস্তফা কামাল, মো. আব্দুল কাইয়ূম ও মো. তোফাজ্জেল হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খ. মাহবুবুল হক, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ভারতে যাচ্ছে ৩ হাজার ৯৫০ টন ইলিশ। এ লক্ষ্যে ৭৯টি প্রতিষ্ঠানকে রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৭৯টি প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেককে ৫০ টন করে রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে জাটকা সংরক্ষণের জন্য ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস ৬ জেলার ৫টি অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল।

ডিএমপি কমিশনার হলেন হাবিবুর রহমান

অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার পদে নিয়োগ পেয়েছেন অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) হাবিবুর রহমান। তিনি বর্তমানে ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বিদায়ী কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

অতিরিক্ত আইজিপি হাবিবুর রহমান ট্যুরিস্ট পুলিশের আগে ডিএমপির উপকমিশনার (সদর দপ্তর), ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কর্মক্ষেত্রে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি তিনবার বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও দুবার রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পেয়েছেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, বেদে সম্প্রদায় ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে নিয়ে তার কাজ প্রশংসিত হয়েছে। তাছাড়া ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও তার খ্যাতি রয়েছে।

১৯৬৭ সালে গোপালগঞ্জের চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া হাবিবুর রহমান ১৭তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে।

২০২২ সালের ২৩ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান খন্দকার গোলাম ফারুক। আগামী ১ অক্টোবর তিনি অবসরে যাচ্ছেন।

কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ব্রাউন ইউনিভার্সিটির সম্মাননা

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্রাউন ইউনিভার্সিটি বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেছে। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক মডেল তৈরির জন্য জাতিসংঘ স্বীকৃতির পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে এই বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির স্বাস্থ্য বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ওয়ারেন অ্যালপার্ট মেডিকেল স্কুলের মেডিসিন অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের ডিন ডা. মুকেশ কে. জৈন এখানে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার অবস্থানস্থল দি লোটে নিউইয়র্ক হোটেলে প্রশংসাপত্রটি হস্তান্তর করেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মো. নূরে এলাহি মিনা এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়ারেন অ্যালপার্ট মেডিকেল স্কুল কমিউনিটি ক্লিনিক মডেলের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য জাতিসংঘ কর্তৃক প্রধানমন্ত্রীকে তার স্বীকৃতির জন্য বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া প্রশংসাপত্রে বলা হয়েছে, “জাতিসংঘ কর্তৃক ‘শেখ হাসিনা উদ্যোগ’-এর সাম্প্রতিক স্বীকৃতির জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন।”

এতে আরও বলা হয়, ‘কমিউনিটিভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার একটি সফল মডেল: প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, নারীর ক্ষমতায়ন, এবং কমিউনিটি সম্পৃক্ততা উন্নয়নের মাধ্যমে সর্বজনীন স্বাস্থ্য পরিধির জন্য একটি অংশগ্রহণমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি।’

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ড. মুকেশ জৈন জনস্বাস্থ্য ও গবেষণার ক্ষেত্রে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি সম্ভাব্য প্লাটফর্ম হিসেবে বাংলাদেশ-ব্রাউন বায়োমেডিকেল রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন ইনিশিয়েটিভ সম্পর্কে আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এর প্রতি তার সমর্থন ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে চিকিৎসা ও ক্লিনিক্যাল গবেষণার উন্নয়নের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় গবেষণাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় দারুণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

ব্রাউন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের পরীক্ষা করছে।

ড. জৈন জানান, তারা ক্লিনিক থেকে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী রোগীদের রেকর্ড রাখার জন্য বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিককে ইলেকট্রনিক ডেটা ম্যানেজমেন্ট চালু করতে বাংলাদেশকে সাহায্য করতে পারেন।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটি গবেষণা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে একটি অংশীদারত্ব গড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এ লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বৈশ্বিক অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্মার্ট পুলিশিং অপরিহার্য: আইজিপি

আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন মঙ্গলবার পুলিশ স্টাফ কলেজে ‘কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট পুলিশিং’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, বিশ্বায়নের এ যুগে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জঙ্গিবাদ, ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম এবং নতুন নতুন অপরাধ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সাইবার ক্রাইম, মানিলন্ডারিং, জাল মুদ্রা, সন্ত্রাসী অর্থায়ন ইত্যাদি অপরাধ মোকাবিলা বিশ্বব্যাপী পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে এক চ্যালেঞ্জ। বৈশ্বিক অপরাধের এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সনাতনী পুলিশিংয়ের পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট পুলিশিং অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের (পিএসসি) ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে (আইসিসি) ‘কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট পুলিশিং’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পিএসসির রেক্টর ড. মল্লিক ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপ্যাল মীর রেজাউল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিএসসির এমডিএস (অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড রিসার্চ) এস এম আক্তারুজ্জামান। কর্মশালায় স্মার্ট পুলিশিংয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমডিএস মো. মতিউর রহমান শেখ ও মো. গোলাম রসুল।

ওয়ার্কশপে বাংলাদেশ পুলিশের সব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অংশ নেন। এছাড়া পুলিশ স্টাফ কলেজের ফ্যাকাল্টি মেম্বাররা ওয়ার্কশপে উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি রাজারবাগে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৩’ অনুষ্ঠানে স্মার্ট পুলিশিংয়ের কথা ঘোষণা করেন। পুলিশিংয়ে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সন্ত্রাস, উগ্র জঙ্গিবাদ এবং প্রযুক্তি নির্ভর অন্যান্য অপরাধ দমনে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে। আগামীতে পুলিশের এ সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।

আইজিপি বলেন, আজকের ওয়ার্কশপ বাংলাদেশ পুলিশের জন্য উপযোগী একটি স্মার্ট পুলিশিং কারিকুলাম প্রণয়নে সহায়ক হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মল্লিক ফখরুল ইসলাম বলেন, পিএসসি স্মার্ট পুলিশিং অনুশীলনের জন্য একটি তাত্ত্বিক ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘স্মার্ট পুলিশিং’ সম্পর্কিত কারিকুলামের খসড়া প্রণয়ন করেছে, যা এ ওয়ার্কশপের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।

চোখের পানি ছাড়া আর কিছুই নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: দোকানে ৮০-৯০ লাখ টাকার কাপড় ছিল। এগুলোর কিছুই সরাতে পারিনি। এখন রাস্তায় ভিখারির মতো হাতও পাততে পারি না। কে আমাকে সাহায্য সহযোগিতা করবে? এখন আমাদের চোখের পানি ছাড়া আর কিছুই নেই। 

কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডে নিঃস্ব হয়ে পড়া থান কাপড়ের ব্যবসায়ী তারেক ক্লথ স্টোরের মালিক মো. আব্দুস সালাম ভূইয়া।

তিনি বলেন, ‘কেউ হয়ত সাহায্য করবে সেই আশায় এখনো মার্কেটের সামনে সবসময় চেয়ে থাকি। অপেক্ষায় আছি কখন আবার এখানে বসে বেঁচে থাকার জন্য কোনো ব্যবস্থা করতে পারব। কিন্তু এখন পর্যন্ত ১০টি টাকাও মালিকপক্ষ কিংবা কারো কাছ থেকে অনুদান পাইনি। এই দুরাবস্থার মধ্যে আমরা দিন পার করছি। এখন যে যেভাবে বলছে, সেভাবেই তাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছি। আমরা ঢাকায় পরিবার নিয়ে বাসায় ভাড়া থাকি। এখন সেই বাসাভাড়া দেওয়া সম্ভব হবে না। আমাদের বাসা ছেড়ে দিতে হবে। কারণ, আমরা বাসা ভাড়া কোথায় থেকে দেব? এই দোকান থেকে আমি ১০টি টাকাও নিয়েও বের হতে পারিনি।’

মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আব্দুস সালাম ভূইয়া বলেন, ‘আমার কাছে একটি টাকাও নেই যে, ১০ টাকার জিনিস আমি কিনে সংসার চালাব। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় পানি খেয়ে বের হয়ে এসেছি। আল্লাহ যে কখন আমার রিজিক রেখেছেন, সেটি একমাত্র তিনিই জানেন।’

খোকন স্টোরের মালিকের ভাই মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, ‘পুড়ে যাওয়া অংশ দেখিয়ে জনগণ বলছে এগুলো ময়লা। কিন্তু আমি বলছি এগুলো ময়লা নয়, এগুলো সবই হচ্ছে টাকা। এই ব্যবসা নিয়ে জীবন বাঁচানোর যে আশা-ভরসা ছিল... সে আশা তো এখন শেষ। এখন যে একটা মানুষ উঠে দাঁড়াবে সেই ক্ষমতাও কারো নেই। সিটি কর্পোরেশন যদি এই ময়লাগুলো নিয়ে আমাদের ব্যবসা করার একটু সুযোগ-সুবিধা দিতো, তাহলে হয়ত আমরা ধার বা ব্যাংক লোন করে আবার ব্যবসা-বাণিজ্য করার চেষ্টা করতে পারব। তাছাড়া আর কিছু করার নেই।’

তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন প্রথম দুইদিন সামনের ময়লাগুলো নিয়ে গেছে। কিন্তু ভেতরের ময়লাগুলো তারা এখন আর নিচ্ছে না। তাদের তেমন কোনো কার্যক্রমও দেখছি না। এখনই মার্কেট আমাদেরকে দেবে না কি দেবে না, সেটিরও ভরসা পাচ্ছি না। এখন প্রধানমন্ত্রী যদি আমাদের দিকে তাকায়, তাহলে হয়ত আমরা কিছু করতে পারব। না হলে আর কিছু করার থাকবে না। বর্তমানে আমাদের এখানে এসে চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কিছু করার নেই।’


মার্কেটের খ-৪০ ও খ-৮৫ দোকানের মালিক ইয়াসিন বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশন যদি টিনগুলো সরিয়ে দেয় তাহলে আমরা ব্যবসা শুরু করতে পারব। আমরা তো অলরেডি মরেই গেছি, আর কী মরব! কিন্তু ক্রেতাদের যেন কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সেজন্য অন্তত জায়গাটা পরিষ্কার করে ময়লাগুলো নিয়ে যাক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে কিছুই বুঝতে পারছি না। এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে, সিটি কর্পোরেশনের উচিত ছিল তারপরের দিনই ময়লাগুলো পরিষ্কার করে দেওয়া। আজকে ৩-৪ দিন হয়ে গেল ময়লা পরিষ্কারের কোনো ‘নাম-গন্ধও’ নেই। সিটি কর্পোরেশন থেকে বলা হয়েছিল, যার যার দোকানের ময়লা তারা যেন বের করে সামনে রাখে। আমরা তাদের কথামতো ময়লাগুলো বের করে সামনে রেখেছি। কিন্তু এখন তারা তাদের কথা রাখছে না।’


মুদি দোকানের মালিক আব্দুল লফিত বলেন, ‘বর্তমানে যদি এই মার্কেটের ময়লা পরিষ্কার করে পুড়ে যাওয়া টিনগুলো সরিয়ে দিয়ে এবং এঙ্গেলগুলো যদি সোজা করে দেয়, তাহলে হয়ত আমরা আবার ব্যবসা শুরু করতে পারব। আমাদের আর তেমন কোনো সহযোগিতার দরকার নেই। আমরা নিজেরা দোকানদারি করতে পারব। এখন আমাদের একটাই দাবি এগুলো সরিয়ে দেওয়া হোক।’

তিনি বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনকে জানানো হয়েছে। তারা বলেছে যে, আপনার কিছু ধরবেন না আমরা সব পরিষ্কার করে দেব। কিন্তু এই যে তিনদিন হয়ে গেল এখন পর্যন্ত তারা কোনো পরিষ্কারই করেনি। আমরা নিজেরা ময়লা পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু টাকা দিয়েও আমরা গাড়ির ব্যবস্থা করতে পারছি না। আমরা এই মুশকিলের মধ্যে আছি এখন।’



ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চালু হলো বিআরটিসির বাসসেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে সোমবার থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। বেলা ১১টা ২৭ মিনিটে ফার্মগেটের খেজুর বাগান বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী ও সাংবাদিক নিয়ে বিআরটিসির একটা বাস বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

এখন থেকে এ পথে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসগুলো চলবে। আজ সারা দিন চলবে বিআরটিসির আটটি দ্বিতল বাস। এগুলো ফার্মগেট–বিমানবন্দর রুটে চলবে বিরতিহীনভাবে। এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের বর্ধিত ভাড়া দেয়া লাগবে না।

বাস চালু করার সময় উপস্থিত ছিলেন সড়ক বিভাগের সচিব আমিন এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী ও বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

আপাতত এক্সপ্রেসওয়ের দুই প্রান্ত থেকে ওঠা-নামা করতে পারবেন যাত্রীরা। জসীমউদ্‌দীন অ্যাভিনিউ, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন ও কাওলা থেকে দক্ষিণমুখী যাত্রীদের নিয়ে বিআরটিসির বাস এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে কোথাও না থেমে ফার্মগেটে নামবে। ফার্মগেটে যাত্রী নামিয়ে বিমানবন্দর, উত্তরা অভিমুখী যাত্রীদের তুলবে সংসদ ভবনের খেজুরবাগান এলাকার বঙ্গবন্ধু গোলচত্বর, খামারবাড়ি কিংবা বিজয় সরণি থেকে; যা গণপরিবহনের নতুন একটি রুট হবে।

প্রসঙ্গত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে এই পথে ১৬ বা এর বেশি আসনের পরিবহনের টোল ১৬০ টাকা।

ওজোন স্তরের ক্ষতিতে জীববৈচিত্র্য হুমকিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ওজোন স্তরের ক্ষতির কারণে জলজ ফ্লাইটোপ্লাঙ্কটন নষ্ট হচ্ছে, জীববৈচিত্র্যেও প্রভাব পড়ছে। বায়ুতে ওজোন গ্যাসের উপস্থিতির তারতম্য একদিকে যেমন বায়ুমান খারাপ করে অপরদিকে এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটও তৈরি করে। ওজোন স্তর রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

আন্তর্জাতিক ওজোন স্তর সুরক্ষা দিবস উপলক্ষে শনিবার দুপুরে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন বায়ুমান গবেষকরা। ইউএস ফরেস্ট ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসের সহযোগিতায় বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

ওয়েবিনারে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য অধ্যাপক গুলশান আরা লতিফা বলেন, ‘ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে জলজ ফ্লাইটোপ্লাঙ্কটন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে ইকোসিস্টেমের ওপর প্রভাব পড়ছে। জীববৈচিত্র্য যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে এবং কীভাবে ওজোন স্তরকে রক্ষা করা যায় সেটি গবেষণার মাধ্যমে নির্ণয় করতে হবে।’

গবেষকরা বলছেন, বায়ুমণ্ডলে দুই ধরনের ওজোন রয়েছে। একটি খারাপ ওজোন যা ভূপৃষ্ঠে থাকে। একে গ্রাউন্ড লেভেল ওজোন বলা হয়। অপরটি বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার থাকে। এটি ওজন স্তর বা ওজোনস্ফিয়ার নামে পরিচিত। এটিকে ভালো ওজোন হিসেবে ধরা হয়। মহাশূন্যের এই ওজোনস্তর সূর্যের ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মিকে পৃথিবীতে প্রবেশ থেকে বাধা সৃষ্টি করে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ক্যাপস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, ‘ওজোন গ্যাস একটি স্বল্প আয়ুর জলবায়ু দূষক হিসেবে পরিচিত এবং এটি একটি অন্যতম বায়ু দূষক। বায়ুতে ওজোন গ্যাসের উপস্থিতির তারতম্য একদিকে যেমন বায়ুমান খারাপ করে অপরদিকে এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটও তৈরি করে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘সিএফসিযুক্ত এসির ব্যবহার দিনকে দিন বাড়ছে। এতে ওজোন স্তরের ক্ষয় বাড়াচ্ছে যা গণপরিবেশ ধ্বংসের অন্যতম কারণ।’

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদা পারভীন বলেন, ‘অসচেতনতামূলক কাজের মাধ্যমে আমরা ওজোন স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করছি। চোখে ছানিসহ বিভিন্ন রকম ক্যান্সারের প্রধান কারণ সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি। ওজোন হোলের মাধ্যমে এই অতি বেগুনি রশ্মি আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।’

সমাপনী বক্তব্যে ক্যাপসের গবেষক মারজিয়াত রহমান বলেন, ‘ওজোন স্তরের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শুধু বাংলাদেশেরই নয় এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সিএফসি গ্যাসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমরা ওজোন স্তরকে রক্ষা করব, এটাই হোক আমাদের শপথ।’

ওয়াবিনারে উপস্থিত ছিলেন ইউএস ফরেস্ট ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসের কো-অর্ডিনেটর স্পেশালিস্ট মো. শামস উদ্দিন, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মাহমুদা ইসলাম, প্রভাষক মো. হুমায়ুন কবির, সিজিইডির নির্বাহী পরিচালক আব্দুল ওহাব।

ভূমিকম্পে কাঁপল ঢাকা

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের এ কম্পন অনুভূত হয়।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৯। ১০ কিলোমিটার (কিমি) গভীরতার এ ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল টাঙ্গাইল থেকে ২৮ কিমি দূরে।

১৩ দিনের সফর শেষে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ছবি: ফোকাস বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ১৩ দিনের ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর সফর শেষে শনিবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরেছেন। তিনি বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করেন। উড়োজাহাজটি সিঙ্গাপুরের সময় বিকেল ৪টা ২২ মিনিটে চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

এর আগে রাষ্ট্রপতি ৮ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে সিঙ্গাপুরে যান। গত ৪ সেপ্টেম্বর বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি জাকার্তার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন।

রাষ্ট্রপতি, তার স্ত্রী ও সফর সঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে রীতি অনুযায়ী অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময়ে বিমানবন্দরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত, তিন বাহিনী প্রধান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)-সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা রাষ্ট্রপ্রধানকে স্বাগত জানান।

ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ৫-৭ সেপ্টেম্বর জাকার্তা কনভেনশন সেন্টারে তিন দিনব্যাপী ৪৩তম ‘আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলন’, ১৮তম ‘পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন’ এবং সাইডলাইনে অন্যান্য কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যোগ দেন।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান ২০২৩-এর সভাপতি জোকো উইডোডোর আমন্ত্রণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জাকার্তায় যান। তিনি সেখানে ৪-৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিন অবস্থান করেন।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তার স্ত্রীসহ ৫ সেপ্টেম্বর সকালে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অটিজম ও নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারস বিষয়ক বাংলাদেশের জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনও সেখানে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ছিলেন।

৪৩তম আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসিয়ান দেশগুলির ১০টি সাংগঠনিক নেতা এবং কিছু রাষ্ট্রীয় নেতা, রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানসহ অংশীদার দেশগুলিও এতে অংশ নেন।

আয়োজক দেশ ইন্দোনেশিয়া জাকার্তা আসিয়ান সম্মেলনের জন্য ২৭জন বিশ্ব নেতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের আমন্ত্রণ জানায়।

রাষ্ট্রপতি ৬ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি জোকো উইডোডো এবং ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) মহাসচিব ড. সালমান আল ফারিসির সাথে আলাদা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেছেন।

শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ১৮তম ‘পূর্ব এশিয়া’ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদান করেন এবং ৭ সেপ্টেম্বর আমন্ত্রিত অতিথির হিসেবে ভাষণ দেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সঙ্কটের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন, আসিয়ানের বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাত বছর আগে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১.২ মিলিয়ন মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ এখন নানামুখী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের ফাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তারা হলেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন এবং লাওসের প্রধানমন্ত্রী সোনেক্সে সিফানডোন।

ঢামেক হাসপাতালে প্রথম টেস্টটিউব বেবির জন্ম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রথম টেস্টটিউট বেবির জন্ম হয়েছে। প্রায় আড়াই সপ্তাহ আগে জন্মানো শিশুটি এখন সুস্থ আছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের উপস্থিতিতে শিগগিরই একদিন শিশুটির জন্মেরর প্রক্রিয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে চায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার রাতে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। 

তিনি বলেন, টেস্টটিউব বেবি জন্ম দেওয়া দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া। সিলেক্টেড দম্পতিকে উপযোগী করে তোলা। এরপর স্ত্রীর ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা আর স্বামীর শরীর থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করে ল্যাবে আর্টিফিশিয়াল টিউবে ভ্রুণ তৈরি করা। সেই ভ্রূণ স্ত্রীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়। স্বাভাবিক ভ্রূণ যেভাবে গর্ভাশয়ে বেড়ে ওঠে, কৃত্রিম ভ্রূণও একইভাবে বেড়ে উঠতে থাকে। এভাবে ৯ মাস পর টেস্টটিউব বেবির জন্ম হয়। শিশু জন্মের এই লম্বা প্রক্রিয়ার পর আমাদের গবেষক দলটি সফল হয়েছে। গত দুই সপ্তাহের কিছুদিন আগে ঢামেক হাসপাতালে প্রথম টেস্টটিউব বেবির জন্ম হয়েছে। শিশুটি এখন সুস্থ আছে। শিগগিরই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দেশের সবাইকে বিষয়টি জানানো হবে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, বন্ধ্যা নারীর মা হওয়ার আধুনিক পদ্ধতি টেস্টটিউব বেবি। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান না হওয়ার কারণে অনেক স্বামী-স্ত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। অনেকে অনেকভাবে সন্তান জন্মদানের চেষ্টা করেন। বহু দম্পতি প্রতিবেশী দেশ ভারতে যান বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার জন্য। দেশে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বা ভারতে টেস্টটিউব শিশুর জন্য ব্যয় অনেক বেশি। কোনো নিম্নবিত্তের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। ঢাকা মেডিকেলের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেক নিম্নবিত্ত দম্পতিও নতুন করে সন্তান জন্ম দেওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০১ সালে একটি বাংলাদেশে প্রথম একটি বেসরকারি হাসপাতালে টেস্টটিউব বেবির জন্ম হয়। এরপর একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের শিশুর জন্ম হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই প্রথম এ ধরনের কোনো শিশুর জন্ম হলো।

খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি রেকর্ড সাড়ে ১২ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগস্টের শেষদিকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ সরকারের বেশ কয়েকজন নীতিনির্ধারক। এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা এখন অতিমাত্রায় ‍মূল্যস্ফীতি, অর্থাৎ নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম। কিছুটা থেমে হাসি মুখে তিনি বলেন, ‘যদিও আমি মনে করি এ মাসে তা কমে আসবে, এটা বলা কিছুটা সাহসের ব্যাপারও বটে।’ মন্ত্রী সাহস করে হাসিমুখে যে কথাটি বলেছিলেন মাস শেষে হয়েছে ঠিক তার উল্টোটা। মূল্যস্ফীতি কমার পরিবর্তে বরং আরও বেড়েছে আগস্ট শেষে।

মূল্যস্ফীতি কী কিংবা কতটা প্রভাব ফেলে মানুষের জীবনে তা হয়তো অনেক সাধারণ মানুষই বোঝেন না কিংবা বোঝার চেষ্টাও করেন না। তবে নিত্যপণ্যের অসহনীয় দাম যে বড্ড ভোগাচ্ছে সাধারণ মানুষকে তা হয়তো সরকারের কর্তারাও টের পাচ্ছেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএসের প্রতিবেদন দেখে।

আগস্ট মাস শেষে বিবিএসের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়েছে। আগের দুই মাসে খুব সামান্য কিছুটা কমার পর আবারও ১০ শতাংশ ছুঁই ছুঁই করছে মূল্যস্ফীতি। সরকারি প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে চলতি বছরের আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। জুলাই মাসে যা ছিল ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ। খাদ্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্য নিয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি তৈরি করে বিবিএস। আর শুধু খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি এ মাসে ছাড়িয়েছে ১২ শতাংশের ঘর। রোববার প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, খাদ্যপণ্যে সার্বিক বা সারাদেশের মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। তার আগের মাস জুলাইয়ে যেটি ছিল ৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। যারা ভাবেন গ্রামে নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা কম তাদের অবাক করে গ্রামাঞ্চলের খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রামাঞ্চলে ২০২২ সালের আগস্টে যে খাদ্যপণ্য কিনতে ১০০ টাকা গুনতে হতো, তা ২০২৩ সালের আগস্টে এসে দাঁড়িয়েছে ১১২ টাকা ৭১ পয়সা।

তবে কিছুটা কমেছে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি, জুলাই মাসে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ, আগস্টে যা কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। তবে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে খাদ্যপণ্যে প্রায় তিন শতাংশ মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায়। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে এই মূল্যস্ফীতি।

মূল্যস্ফীতির বাড়তি হারকে অর্থনীতি বিশ্লেষকরা করের মতোই বোঝা বলে মনে করেন। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে যার কোনো আয় বাড়েনি তার জন্যও এখন বাড়তি প্রায় ১৩ শতাংশ খরচ করতে হচ্ছে শুধু খাদ্যপণ্য কিনতে।

সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ে টেলিফোনে অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ডলারের সংকট মূল্যস্ফীতি কে উসকে দিচ্ছে। তার সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাকে তিনি এ জন্য দায়ী করেন। অবশ্য তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন সরকারি হিসেবের চেয়েও বাস্তবে মূল্যস্ফীতির পরিমাণ আরও বেশি। তবে সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এই সময়ে টিসিবির মাধ্যমে পণ্য বিক্রি বাড়িয়ে দেয়ার পরামর্শ দেন এই অর্থনীতিবিদ। ‘সরকারকে মাথায় রাখতে হবে একটা বিশাল জনগোষ্ঠী এখনও দরিদ্র, তাদের জন্য খাদ্য কেনা এখন বড় দায় হয়ে পড়েছে। তাই এসব মানুষের কথা ভেবে মূল্যস্ফীতি কমানোর কোনো বিকল্প নেই’- মন্তব্য করেন এই অর্থনীতিবিদ।

নিয়ন্ত্রণহীন প্রসাধনী সামগ্রীর বাজার, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক: একটি বিউটি পার্লার থেকে ছয় বছর আগে বিয়ের সাজ সেজেছিলেন দীপা। বিউটি সেলুনে এটাই তার প্রথম মেকআপ নেয়া। বিয়ের সাজ বলে মেকওভারও ছিল ভারি। যাই হোক, বিয়ের অনুষ্ঠানে সুন্দর দেখালেও পর দিন থেকেই শুরু হলো বিপত্তি। জীবনে প্রথমবার ত্বকে সমস্যা দেখা দিল। ব্রণ, চামড়া খসখসে হয়ে যাওয়া শুরু হলো। মুখে একটার পর একটা কালো দাগ পড়তে শুরু করল। অনেক ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞ দেখিয়েও ঠিক হচ্ছিল না। সবাই বললেন, পার্লারে ভারী মেকআপ এবং স্থানীয় নিম্নমানের প্রসাধনী ব্যবহারে ত্বকে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। টানা পাঁচ বছর চিকিৎসার পর ইভার ত্বক এখন ব্রণমুক্ত।

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ শারমিনা হক বলেন, ‘পার্লারে স্কিন কেয়ার নিতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে, এরকম কেস আমরা প্রচুর পেয়ে থাকি। সমস্যাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রথম আসে মুখে র‌্যাশ, ব্রণ এবং মুখে কালো ছোপ ছোপ দাগ পড়ে যাচ্ছে।’

পার্লারগুলোতে ব্যবহার করা হয় রং ফর্সাকারী বিভিন্ন উপাদান। যেমন- পারদ এবং স্টেরয়েড। এগুলো তাৎক্ষণিক রং ফর্সা করলেও ভবিষ্যতে ত্বকের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এসব কেমিক্যালের প্রভাবে ত্বকের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দুই ধরনের ক্ষতি হয়। বাহ্যিক ক্ষতি হলো, ত্বকের ওপরের আবরণ নষ্ট হয়ে যায়, ত্বক সংবেদনশীল হয়ে যায়। সূর্য বা তাপে গেলে মুখের ত্বক লাল হয়ে যায়। অভ্যন্তরীণ ক্ষতি হলো- ত্বকের সবচেয়ে ওপরের আবরণ বা এপিডার্মিস লেয়ার যখন ড্যামেজ হয় তখন সেটা সহজে ঠিক হয় না।

রূপবিশেষজ্ঞের মত

বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ কেয়ারের স্বত্বাধিকারী ও রূপ বিশেষজ্ঞ শারমিন কচি বলেন, ‘অনেকেই পার্লারে গিয়ে অল্প সময়ে মুখের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ফেয়ার পলিশ, স্কিন হোয়াইটেনিং করে থাকেন। ব্রণ বা র‍্যাশ আছে এমন ত্বক হলে ফেয়ার পলিশ করা উচিত নয়। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ। স্কিন টেস্ট না করে ফেয়ার পলিশ করা কোনোভাবেই উচিত নয়। ফেয়ার পলিশের কার্যকারিতা নির্ভর করে কত ভালোভাবে করা হচ্ছে এবং এর মধ্য়ে ব্লিচিং উপাদান আছে কি না, তার ওপর। সে ক্ষেত্রে ব্লিচিং উপাদান অবশ্যই কম থাকতে হবে। না হলে ত্বকের ক্ষতি হবে।

যা বলছে ঔষধ প্রশাসন

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও আইন কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম  বলেন, বাজারে প্রচলিত কসমেটিকস রাসায়নিক দ্রব্যের সংমিশ্রণে তৈরি হয় বলে এর মান নিয়ন্ত্রণ করা খুব জরুরি। তা না হলে, জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘নকল, ভেজাল, মানহীন কসমেটিকস ব্যবহারের ফলে স্কিন ক্যানসার, কিডনি-ফুসফুস ও লিভার ডিজিজ, চোখের ইনফেকশন, ইরিটেশন এবং হৃদরোগসহ নানান ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। তাই কসমেটিকসের মান, নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা মূল্যায়নপূর্বক রেজিস্ট্রেশন, উৎপাদনে গুড ম্যানফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি) নিশ্চিত করা, কসমেটিকস পণ্যের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে দেশের অসাধু কসমেটিকস ব্যবসায়ীরা নকল প্রসাধনী আসল বলে চালিয়ে দিতে পারবে না।’

তিনি জানান, এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েই ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, জাপান, ফিলিপাইন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ বিশ্বের প্রায় সব ড্রাগ রেগুলেটরি অথিরিটি ওষুধ ও মেডিকেল ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কসমেটিকস নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

সংসদে বিল পাস

নুরুল আলম বলেন, ‘ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর দীর্ঘদিন ধরে কসমেটিকস ব্যবহারের ঝুঁকি প্রতিরোধে সচেতনতার কথা বলে আসছে। এর সূত্র ধরে ওষুধ ও কসমেটিকসের বিল নির্ধারণের জন্য সংসদে আবেদন করেন তারা। ৭ সেপ্টেম্বর সংসদে ওষুধ ও কসমেটিকস বিল- ২০২৩ পাস হয়। অসাধু প্রসাধনী ব্যবসায়ীদের রোধে এবং প্রসাধনীর সঠিক মানোন্নয়নে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আইন।

ওষুধ ও কসমেটিকস বিল-২০২৩ কার্যকর হওয়ার ফলে ওষুধের মতো কসমেটিকসগুলো বিশ্ববাজারে সমাদৃত হবে। বর্তমানে আমদানিনির্ভর সম্ভাবনাময় কসমেটিকস সেক্টরটি রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত হবে এবং এর মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন