বিশেষ সংবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিশেষ সংবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে পিন্টুর পক্ষে মেহেদীর টানা উঠান বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদন: পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর পক্ষে ব্যাপক প্রচার শুরু করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসান। ২৫ জানুয়ারি থেকে তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ৩০টিরও বেশি নির্বাচনী উঠান বৈঠক করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর 'মোটরসাইকেল' প্রতীককে বিজয়ী করতে মাঠপর্যায়ে নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে ধারাবাহিক এই মতবিনিময় করছেন মেহেদী হাসান। এসব বৈঠকে পিন্টুর অনুসারী ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিচ্ছেন।

উঠান বৈঠকগুলোতে মেহেদী হাসান ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, বিএনপির প্রকৃত ও তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে এমন একজনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যাঁর সঙ্গে সাধারণ কর্মীদের কোনো যোগাযোগ নেই। মূলত তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষা ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই জাকারিয়া পিন্টু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন।

একটি বৈঠকে তিনি আরও বলেন, মোটরসাইকেল প্রতীককে ঘিরে বর্তমানে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের যে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আমরা আশাবাদী। ইনশাআল্লাহ, ধানের শীষ প্রতীকের চেয়েও বেশি ভোট পেয়ে মোটরসাইকেল প্রতীক বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হবে।

মোটরসাইকেলের বিজয়কে 'তৃণমূল বিএনপির বিজয়' হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের দলমত নির্বিশেষে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

ঈশ্বরদীতে জমি দখল ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পৈতৃক জমি দখল এবং আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় পাবনা আদালতে চাঁদাবাজির মামলা ও ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে শহরের বকুলের মোড় এলাকায় ভুক্তভোগী আসমাউল হুসনার নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি তাঁদের ওপর হওয়া হয়রানি ও হুমকির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।

আসমাউল হুসনা জানান, উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল (কলাপাড়া) গ্রামে তাঁর বাবার রেখে যাওয়া তিন শতক জমি উত্তরাধিকার সূত্রে তিন বোন ও তাঁদের মা পান। তাঁরা জমির নামজারি (খারিজ) করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছিলেন। সম্প্রতি আর্থিক প্রয়োজনে সব ওয়ারিশের সম্মতিতে জমিটি তাঁরা গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।

অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ১৯ অক্টোবর ক্রেতাকে জমিটি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আমিন দিয়ে মাপজোখ শুরু করা হয়। এ সময় গ্রামের অভিযুক্ত হান্নান, বুলবুল, মনি ও তুহিনসহ বেশ কয়েকজন অতর্কিত হামলা চালায় এবং ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তারা জমিটি নিজেদের দখলে নিতে চায়।

ভুক্তভোগী পরিবারটি আরও জানায়, এ ঘটনায় আদালতে মামলা করা হলে অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত হয়ে উল্টো তাঁদের হুমকি দিচ্ছে। গত ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাঘইল সাঁকো এলাকায় আসমাউল হুসনা ও মামলার সাক্ষী এ কে এম শামসুদ্দিন সুজনকে গালিগালাজ করে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আসমাউল হুসনা বলেন, আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, আমাদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া হোক এবং এই সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হোক।

ঈশ্বরদীতে ধানের শীষের প্রচারণা, দলীয় নির্দেশ অমান্য করলে বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি


নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করে ধানের শীষের বিপক্ষে অবস্থান নিলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

রোববার দুপুরে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার পোস্ট অফিস মোড়ে এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় হাবিবুর রহমান ভোটারদের হাতে লিফলেট তুলে দেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আপনারা দীর্ঘ ১৭ বছর জেল-জুলুম ও নানামুখী নির্যাতন সহ্য করে রাজনীতির মাঠে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করেছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের আদর্শকে লালন করেছেন। কিন্তু আজ যদি কেউ ব্যক্তিস্বার্থে ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করেন, তবে তিনি আর কখনো বিএনপির রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না। যারা এখনো দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছেন, তাদের দ্রুত ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সাধারণ মানুষ ভোট দেওয়ার অধিকার হারিয়েছিল। গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল। আজ সেই পরিবেশ নেই। এখন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার সময় এসেছে। সারা দেশে ধানের শীষের যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তা ধরে রেখে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই আসনটি পুনরুদ্ধার করে তারেক রহমানকে উপহার দিতে হবে।

ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মোখলেসুর রহমান বাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা আহসান হাবিব, বিএনপি নেতা আজমল হোসেন ডাবলু, মাহবুবুর রহমান পলাশ, শরিফুল ইসলাম তুহিন, এবং আব্দুল্লাহ ওমর খান সুমার।

উঠান বৈঠকে পৌর ও উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় পর নিজ এলাকায় বিএনপির এমন সরব প্রচারণায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।

ঈশ্বরদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় করিমন চালক নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় জহিরুল ইসলাম (৪৫) নামের এক করিমন চালক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের লালন শাহ সেতু সংলগ্ন টোল প্লাজা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জহিরুল উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের ইলশামারী গ্রামের মৃত শামসের রহমানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জহিরুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর করিমনে করে কুষ্টিয়ায় আসবাবপত্র পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে লালন শাহ সেতুর পাকশী প্রান্তের টোল প্লাজার কাছে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি অজ্ঞাত যান তাঁর গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়ে মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সকালে মহাসড়কের পাশে জহিরুলের মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত করিমনটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পাকশী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নান্নু খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কোন যানবাহনের ধাক্কায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ঈশ্বরদীতে ভোট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও যৌথ বাহিনীর নিরাপত্তা মহড়া

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন 

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও যৌথ বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসন ও জেলা নির্বাচন অফিসের উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

বিকেল তিনটায় ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়। এরপর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের অংশগ্রহণে এলাকায় বিশেষ মহড়া দেওয়া হয়। মহড়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন।

নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি জানান দিতেই এ মহড়ার আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এমন তৎপরতা ভোটারদের মনে আস্থা বাড়াতে ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. শাহেদ মোস্তফা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। এ সময় পাবনা জেলা সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেজর মো. আসাদুজ্জামান, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ড. শাহেদ মোস্তফা বলেন, নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে যৌথ বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ জানান, আইনবিরোধী যেকোনো তৎপরতা দমনে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে। এই সতর্কতামূলক টহল নির্বাচনের আগপর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

এর আগে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নির্বাচনের দিন তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

দিনভর চলল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক:  স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রূপপুর হাই স্কুল মাঠে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এই ক্যাম্পের আয়োজন করে। এতে এলাকার শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পান।

দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে নারী, শিশু ও প্রবীণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরামর্শ (কনসালটেন্সি), ডায়াবেটিস পরীক্ষা, রক্তচাপ পরিমাপ ও ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়সহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এনপিসিবিএলের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের উপপরিচালক ড. খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. জায়েদুল হাসান বলেন, রূপপুর প্রকল্পে কর্মরতদের জন্য ইতোমধ্যে আধুনিক মানের মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে কর্মীরা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাচ্ছেন। এখন স্থানীয় মানুষের জন্য এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই এলাকার মানুষ যেন নূ্যনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের রোগ নির্ণয় ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন আবু তালেব মন্ডল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী পৌরসভায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে পৌর শহরের শেরশাহ রোড কোবা মসজিদ এলাকায় এই সভার আয়োজন করা হয়। এটি আয়োজন করে ঈশ্বরদী পৌর ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাবনা–৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়াকে পরিকল্পিত, সুশাসিত ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে জামায়াতে ইসলামী বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতি ও দলীয় লুটপাটমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নৈতিকতার সমন্বয়ে উন্নয়নই জামায়াতের রাজনীতির মূল দর্শন। জনগণের আমানতকে আমরা আমানত হিসেবেই রক্ষা করব। ইসলামভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা গোলাম রাব্বানী খান জুবায়ের, উপজেলা সেক্রেটারি মো. সাইদুল ইসলাম, পৌর আমির মাওলানা গোলাম আজম খান ও উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সেক্রেটারি মো. বাকিবিল্লাহ খান।

ঈশ্বরদী পৌর ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আলহাজ্ব আবু বক্কর সিদ্দিক নান্টু সভার সভাপতিত্ব করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আইন ও মানবসম্পদ বিষয়ক সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান খান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাহফুজুর রহমান, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আল আমিন, পৌর প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মো. সাইফুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

নির্বাচনী সভায় পৌর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ, কর্মী এবং স্থানীয় সূধীজন উপস্থিত ছিলেন।

বিজয়ী হলে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া সুন্দর, সুরক্ষিত ও সমৃদ্ধ হবে: হাবিবুর রহমান হাবিব

নিজস্ব প্রতিবেদন: পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে অঞ্চলটিকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করবেন।

২৪ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় হাবিব বলেন, তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—বন্ধ বিমানবন্দর চালু করা, ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন আধুনিকায়ন, শিক্ষার মান উন্নয়ন, স্টেডিয়াম ব্যবহার উপযোগী করা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উন্নয়ন, রেলগেটে ফ্লাইওভার নির্মাণ, কমিউনিটি সেন্টার ও পাঠাগার স্থাপন, শিশুপার্ক নির্মাণ, সড়ক সংস্কার, আটঘরিয়ায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, লিচু গবেষণা কেন্দ্র এবং শাকসবজি সংরক্ষণাগার স্থাপন।

হাবিবুর রহমান হাবিব সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা সংবাদ প্রচারে দলীয় প্রভাবমুক্ত থাকবেন এবং সঠিক তথ্য পৌঁছে দেবেন। তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধান করতে হলে প্রথমে নির্বাচিত হতে হবে। তাই তিনি সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন—ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল হক সন্টু সরদার, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হক ডাবলু, যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সুমন, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়নসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

হাবিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচিত হলে পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে এবং শিক্ষার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে।

রূপপুর প্রকল্পে ব্যয় সমন্বয়, জিওবি খাতে সাশ্রয় ১৬৬ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদন:  ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় পুনর্নির্ধারণ করা হলেও এতে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) খাতে প্রায় ১৬৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। সেসময় প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ধরা হয় ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে।

সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। যদিও সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- জিওবি খাতে ব্যয় ১৬৬ কোটি টাকা কমেছে। ফলে জাতীয় বাজেটের ওপর সরকারের সরাসরি চাপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রতি মার্কিন ডলার ৮০ টাকা ধরে ব্যয় হিসাব করা হয়েছিল। কিন্তু গত নয় বছরে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে প্রায় ১২২.৪০ টাকা হওয়ায় বৈদেশিক ঋণের অংশ টাকায় রূপান্তরিত হয়ে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বাস্তবতায় সংশোধিত ডিপিপিতে বিভিন্ন খাতে ব্যয় পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

সংশোধিত প্রস্তাবে ৩৪টি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং ৪৯টি খাতে বরাদ্দ হ্রাস করা হয়েছে। জনবল ব্যয়, ভূমি অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণ, বিদ্যুৎ বিল ও পরামর্শক খাতে সাশ্রয়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত প্রয়োজন মেটাতে ১০টি নতুন খাত সংযোজন করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা নিশ্চিত করতে অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সেবা চুক্তি এবং খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ চুক্তির বিষয়েও আলোচনা চলমান রয়েছে। এছাড়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি জনবলের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকার অসমাপ্ত ভবন সম্পন্ন এবং নতুন অধিগ্রহণকৃত প্রায় ৬.০৬ একর জমিতে প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনাও সংশোধিত প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, সরবরাহ চেইনের সীমাবদ্ধতা এবং প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি বিবেচনায় Joint Coordination Committee (JCC) ঋণচুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২-এর প্রভিশনাল টেকওভার সময়সীমা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, একই VVER-1200 প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাঙ্গেরিতে দুই ইউনিটের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, মিশরে চার ইউনিটে ৩০ বিলিয়ন ডলার, তুরস্কে রাশিয়ার মালিকানাধীন চার ইউনিটে ২০ বিলিয়ন ডলার এবং বেলারুশে দুই ইউনিটে ১১ বিলিয়ন ডলার। এসব প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় আন্তর্জাতিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন।

অন্যদিকে ভারতের কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে VVER-1000 প্রযুক্তির পঞ্চম ও ষষ্ঠ ইউনিটের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র যন্ত্রপাতি সরবরাহেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের পারমাণবিক শক্তিতে পূর্ব অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর কারণে তুলনামূলক কম ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এর কমিশনিং কার্যক্রম বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুই ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।

ধানের শীষের প্রচারণায় হাবিবুর রহমান হাবিব: ‘দলের বিপক্ষে গেলে বহিষ্কার’

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। ঈশ্বরদী শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে শুরু করে বাজারের প্রতিটি দোকানে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় ভোটারদের হাতে ধানের শীষের লিফলেট তুলে দেন তিনি।

গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পাবনা জেলা বিএনপির এই আহ্বায়ক। দলীয় শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চ্যালেঞ্জ করার ধৃষ্টতা দেখায়, তারা কখনো প্রকৃত জাতীয়তাবাদী দল করতে পারে না। অনেকে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে গাড়ি-বাড়ি ও ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন, অথচ তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কোনো মামলা নেই। অন্যদিকে, আমরা জেল খেটেছি এবং অসংখ্য হামলা-মামলার শিকার হয়েছি।

হাবিবুর রহমান হাবিব আরও বলেন, সবাইকে দলের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা ভুলে যাওয়া চলবে না। তারেক রহমান দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে তার মায়ের সাথে একবেলা খাবার খাওয়ার সুযোগ পর্যন্ত পাননি। যারা এই কঠিন সময়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেবেন, সংগঠন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং প্রত্যেককে বহিষ্কার করা হবে।

প্রচারণায় হাবিবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা আহসান হাবিব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ এবং ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আজমল হোসেন সুজন, আতিয়ার রহমান, হাক্কে মন্ডল, শরিফুল ইসলাম তুহিন, রোকেয়া হাসেম ও রেজাউল করিম শাহীনসহ উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

সকাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণায় নেতা-কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়ে আবু তালেব মন্ডলের প্রচারণা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঈশ্বরদী বাজারে গণসংযোগ এবং সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তিনি এই কার্যক্রমের সূচনা করেন।

পরিদর্শনকালে অধ্যাপক আবু তালেব অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন। তিনি বিপদে পড়া এসব মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন এবং তাঁদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণ ও ব্যবসায়িক সমৃদ্ধি কামনা করে সেখানে এক বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

বাজার পরিদর্শনের পর তিনি স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। গণসংযোগকালে তিনি ভোটারদের কাছে দোয়া চান এবং নির্বাচিত হলে এই জনপদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইন সম্পাদক হাফিজুর রহমান খাঁন, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাহাফুজুর রহমান, পৌর আমির গোলাম আযম খাঁন, পৌর সেক্রেটারি মাওলানা আলামীনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

পাবনা-৪: বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা পিন্টু

নিজস্ব প্রতিবেদক:  পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু। ধানের শীষ প্রতীকের বিপরীতে ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি এখন ভোটের মাঠে।  বুধবার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে বিএনপি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক আদেশে জাকারিয়া পিন্টুকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান খন্দকার এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ধানের শীষের প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই জাকারিয়া পিন্টু তাঁর সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। তাঁর সমর্থকেরা জানিয়েছেন, পিন্টু নিজে একটি ‘ইনফিল্ড’ মোটরসাইকেলে চড়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছেন এবং ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তাঁকে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার বিভিন্ন সংযোগ সড়ক ও জনপদে গণসংযোগ করতে দেখা যায়।

দলের বহিষ্কারাদেশ প্রসঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু বলেন, দলের হাইকমান্ড তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ওপর বারবার ভুল সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। আমি মূলত তৃণমূলের দাবি ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছি।

বিজয় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, আমি শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে উঠে এসেছি, তাই বহিষ্কারকে ভয় পাই না। দল নয়, জনগণই আমার মূল শক্তি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আমার জয় নিশ্চিত।

পাবনা-৪: ধানের শীষের প্রচারণায় হাবিবুর রহমান হাবিব

নিজস্ব প্রতিবেদন: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঈশ্বরদী শহরের পোস্ট অফিস মোড় এলাকা থেকে গণসংযোগের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেন।

প্রচারণা শুরুর পর হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক ও রেলগেট এলাকা হয়ে স্থানীয় বাজারে যান। সেখানে তিনি বাজারের প্রতিটি দোকানে গিয়ে ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সাধারণ মানুষের কাছে ভোট ও দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি তিনি সবার সমর্থন কামনা করেন। এ সময় দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

প্রচারণা চলাকালীন এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, যারা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চ্যালেঞ্জ করার ধৃষ্টতা দেখায়, তারা কখনোই দলের আদর্শ ধারণ করতে পারে না। আমি নির্বাচিত হলে ঈশ্বরদীকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করার পাশাপাশি সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলব।

তিনি প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। তিনি ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছেন, ভাইকে হারিয়েছেন, এমনকি মায়ের সঙ্গে শেষ সময়ে বসে খাওয়ার সুযোগটুকুও পাননি। দেশের মানুষ তাঁর ওপর আস্থা রেখে একটি সুন্দর রাষ্ট্র গড়ে তুলবে। আজ তাঁর আহ্বানে সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তা অভূতপূর্ব।

হাবিবুর রহমান আরও যোগ করেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনেই আমি কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে এই আসনটি আমি তাঁকে উপহার দিতে পারব।

ঈশ্বরদীতে জামায়াত নেতার কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদন:  সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত ও কটূক্তি করার অভিযোগে জামায়াত নেতা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা আমির হামজার কুশপুত্তলিকায় জুতার মালা পরিয়ে জুতা নিক্ষেপ করেন।

শনিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে ঈশ্বরদী পৌর শহরের রেলগেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাজারের পুরাতন রিকশাস্ট্যান্ডে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

বিক্ষোভ চলাকালে নেতা-কর্মীরা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।

তিনি বলেন, একজন ধর্মীয় বক্তার মুখ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য আসা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত।

জাকারিয়া পিন্টু আরও বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষক। ধানের শীষ স্বাধীনতার পক্ষের প্রতীক আর দাঁড়িপাল্লা স্বাধীনতার বিরুদ্ধের প্রতীক। জামায়াত নেতা আমির হামজা যেভাবে আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করেছেন, তার প্রতিবাদে জনগণ ঘৃণা প্রকাশ করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি মনে করেন একাত্তরের প্রতিশোধ নেবেন, তবে ভুল করবেন; জামায়াত ইসলামী স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি।

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন মালিথা, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল, সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি এবং শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আশিকুর রহমান নান্নুসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। শুক্রবার দুপুরে তিনি প্রকল্প এলাকায় যান। এ সময় তিনি প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি সরাসরি ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

মতবিনিময়ের সময় ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রকল্প বাস্তবায়নের নানা বিষয়ে প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বর্তমান কাজের অগ্রগতি তাঁর সামনে তুলে ধরেন। কাজের সার্বিক অবস্থা দেখে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং কর্মরত সব পর্যায়ের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান।

পরিদর্শন শেষে উপদেষ্টা বলেন, কমা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। দেশের বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপদেষ্টার এই সফরের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মজিবুর রহমান এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেনসহ অনেকে।

ঈশ্বরদীতে আরআরপি ফার্মাসিউটিক্যালসের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরদীতে প্রাণিজ ওষুধ তৈরির প্রতিষ্ঠান ‘আরআরপি ফার্মাসিউটিক্যালসের (ভেটেরিনারি)’ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের সরইকান্দি এলাকায় দেশের পরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান আরআরপি গ্রুপের এই নতুন শাখাটি উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. আবু সুফিয়ান। আরআরপি গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. মনিরুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনসুর আলম এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আশরাফ হোসাইন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (উৎপাদন) ড. এ বি এম খালেকুজ্জামান, উপপরিচালক (প্রশাসন) ড. মো. তারেক হোসেন, উপপরিচালক ড. শেখ শাহীনুর ইসলাম এবং রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. আনন্দ কুমার। এ ছাড়া ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওয়াহিদ মাহমুদ ও তানভীর আহমেদ, পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জহুরুল ইসলাম, পাবনা এনএসআইয়ের উপপরিচালক তৌহিদ ইকবাল, আরআরপি ফার্মাসিউটিক্যালসের সিইও মি. মার্ক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মি. লি ও খামারি সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আরআরপি গ্রুপের পরিচালক (মার্কেটিং) মো. আজমল হোসেন। অনুষ্ঠানটি গুছিয়ে আনার দায়িত্বে (সমন্বয়) ছিলেন গ্রুপের পরিচালক (অপারেশন) রফিকুল আলম ও মামুনুর রশিদ রেইন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মো. আবু সুফিয়ান বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে মিলেমিশে কাজ করার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, আমাদের নিজেদের চেষ্টায় লালন-পালন করা গবাদিপশু দিয়েই দেশের চাহিদা মেটাতে হবে। ওষুধের মান নিয়ে কোনো আপস করা চলবে না জানিয়ে তিনি বলেন, মানসম্মত পণ্য ছাড়া বর্তমান বাজারে টিকে থাকা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

ঈশ্বরদীতে ভাড়া বাসা থেকে ছাত্রদল নেতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ভাড়া বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ফসিউল আলম অনীক (৩০) নামের এক ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়াড় সাহাপুর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত অনীক ওই এলাকার মো. রানা মোল্লার ছেলে।

উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভির হাসান সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অনীক মূলত রাজধানীর খিলগাঁও ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তবে ঈশ্বরদীতেও থাকতেন।

নিহত অনীকের চাচা শাহিনুর রহমান মাস্টার বলেন, ঢাকা থেকে ফিরে আসার পর কিছুদিন ধরে অনীক একাই দিয়াড় সাহাপুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। ঢাকা থেকে ফেরার পর তিনি স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। কিন্তু রোববার সন্ধ্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে ভাড়া বাসার আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত থাকার খবর পেয়ে সেখানে গেলে মরদেহ উদ্ধার করেন। তিনি মৃত্যুকে রহস্যজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ঈশ্বরদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দীন জানান, আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, নিহত অনীকের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা রয়েছে।

মুসাব্বির হত্যার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্বেচ্ছাসেবক দল।

শনিবার বিকেলে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার পোস্ট অফিস মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে রেলগেটে গিয়ে পথসভায় রূপ নেয়।

প্রতিবাদ সমাবেশে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বিপুল হোসেন বুদুর সভাপতিত্বে এবং মো. আউয়াল কবিরের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ।

সমাবেশ থেকে আজিজুর রহমান মুসাব্বির হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত শাস্তির দাবি জানানো হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হোসেন ডাবলু, উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ছবি মণ্ডল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুলতান আলী বিশ্বাস টনি, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি, সদস্য আরিফ বাঙাল, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আলী জুবায়ের পথিক, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন, যুবদল নেতা শাকিল সরদার, আবু সাঈদ উজ্জ্বল, মিজানুর রহমান মিজান, হেকমতউল্লাহ কনক, মীর তুহিন, চঞ্চল সরদার, জুবায়ের ফারুক রাজিব, ছাত্রদল নেতা রিয়ামুল ইসলাম রিয়াম, রুহুল আমিন, আলিমুল মৃধা, আলম প্রামাণিক, কাজী বাপ্পি, মনিরুল ইসলাম, রাব্বি ও রাজিব ফরাজীসহ আরও অনেকে।

ঈশ্বরদীতে শৈত্যপ্রবাহে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতির মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে টানা ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের বীজতলা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সাধারণত তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে বোরোসহ প্রায় সব ধরনের ফসলের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলতি পৌষ মাসের শুরু থেকেই এই এলাকায় তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

গত ৭ জানুয়ারি, বুধবার এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ পৌষের শুরুতে তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি। প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে বোরো ধানের কচি চারাগুলো তাদের সতেজ সবুজ রং হারিয়ে ধীরে ধীরে কুঁকড়ে হলুদাভ হয়ে যাচ্ছে।

কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে ৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। বাকি জমিতে এখনো চারা দেওয়া যায়নি। যেটুকু বীজতলা তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশই শৈত্যপ্রবাহের কারণে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। এই অবস্থা আরও এক সপ্তাহ চলতে থাকলে চারাগুলো আর রোপণের উপযোগী থাকবে না।

কৃষকরা জানিয়েছেন, বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরও চারাগুলোকে হলদে হওয়া থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। কৃষি বিভাগ থেকে বীজতলা ঢেকে রাখা, প্রতিদিন সকালে চারা থেকে কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা, নিয়মিত সেচ দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ১৫ দিন ধরে এই এলাকায় টানা তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা চলছে। এই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি থেকে নেমে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে ঠেকেছে। বর্তমানে এলাকায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

উমিরপুর গ্রামের কৃষক আদম আলী বলেন, ‘চারা রোপণের উপযোগী হওয়ার আগেই হলুদ হয়ে যাচ্ছে। কুয়াশার প্রভাব কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না।’

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন জানান, তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রির নিচে নামলে বীজতলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রার ৪৫ হেক্টরের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৮ হেক্টরে বোরো চারা তৈরি হয়েছে। বীজতলা রক্ষার জন্য কৃষকদের নিয়মিত সেচ দেওয়া, কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা, সালফারজাতীয় ছত্রাকনাশক ব্যবহার এবং রাতে সাদা পলিথিন দিয়ে চারা ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

ঈশ্বরদীতে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর বাঁশেরবাদা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এই বিদ্যালয় থেকে ১৬৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার ২২০ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার ৬০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগের ফি ২ হাজার ৪৮৫ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ফি ২ হাজার ৩৬৫ টাকা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এই বাড়তি টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে টাকা নেওয়ার বিপরীতে কোনো রশিদ দেওয়া হয়নি। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরে সবাইকে একসঙ্গে রশিদ দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা দ্রুত এই ঘটনার তদন্ত করে অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ওবায়দুর রহমান বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না; প্রধান শিক্ষকই এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলতে পারবেন। প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলাম জানান, সরকারি ফি কম হওয়ায় কিছু দরিদ্র শিক্ষার্থী ও মাস্টার রোলে থাকা শিক্ষকদের সহায়তার জন্য এই অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে।

তবে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান এই যুক্তিকে নিয়মবহির্ভূত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি এক টাকা নেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন