বিশেষ সংবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিশেষ সংবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পৃথক দুই স্থান থেকে এক নারীসহ দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে ঈশ্বরদী-রাজশাহী রেলপথের পাটিকাবাড়ি ও ঈশ্বরদী-ঢাকা রেলপথের মুলাডুলি এলাকায় এ দুটি ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল সাতটার দিকে রাজশাহী থেকে খুলনাগামী আন্তনগর ‘সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন অতিক্রম করছিল। ট্রেনটি আসার কিছুক্ষণ আগে স্থানীয় লোকজন রেললাইনের পাশে বোরকা পরা এক নারীকে বসে থাকতে দেখেন। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পর লাইনের ওপর তাঁর দ্বিখণ্ডিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

এদিকে বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের মোকারমপুর এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে আনুমানিক ২৭ বছর বয়সী এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় এক নারী খেতে সবজি তুলতে গিয়ে মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। পুলিশের ধারণা, শনিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে এখনো ওই নারী এবং যুবকের পরিচয় জানা যায়নি।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে ওই নারী ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, যুবকের ঘটনাস্থলটি সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে থানার আওতাভুক্ত হওয়ায় ওই থানাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। থানার পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে রেলওয়ে পুলিশ জানিয়েছে।

ছাত্রদল নেতা সোহাগ হত্যা: বিচারের দাবিতে ঈশ্বরদী থানা ঘেরাও


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্যসচিব ইমরান হোসেন সোহাগ (২৬) হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। শনিবার দুপুরে ঈশ্বরদী থানার প্রধান ফটকের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভ চলাকালে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা সোহাগ হত্যার নেপথ্যের কারণ খুঁজে বের করা এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’—এমন স্লোগানে এই সময় থানা এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় প্রধান ফটক আটকে রাখায় থানার স্বাভাবিক কাজকর্মে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ছাত্রদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বিটু, নাজমুল হাসান রিশাদ ও মাহমুদুল ইসলাম শাওন। বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে পরিকল্পিতভাবে সোহাগকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত সোহাগের পরিবারকে বর্তমানে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।

নেতারা আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে নিরাপত্তা না দিয়ে উল্টো আওয়ামী লীগ নেতা মিলন চৌধুরী ও রাজীব ফরাজির বাড়ি পাহারা দিচ্ছে। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে ঈশ্বরদীতে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সবকিছু অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুজ্জামান ও পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল উদ্দিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। সোহাগের হত্যাকারীদের খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে নেতা-কর্মীরা কর্মসূচি তুলে নেন।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের সাঁড়া গোপালপুর মন্নবীপাড়া এলাকায় ইমরান হোসেন সোহাগকে গুলি ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তিনি ওই গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরদী শাখার অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন সোহাগ।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা সোহাগ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, জানাজা সম্পন্ন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা ও উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সদস্য সচিব ইমরান হোসেন সোহাগকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় সাঁড়াগোপালপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ইমরান হোসেন সোহাগের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলে পৌর শহরের খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাজারের এক নম্বর গেটে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি। এ সময় ছাত্রদল নেতা নাজমুল হাসান রিশাদ, মাহমুদুল ইসলাম শাওন ও মোস্তাফিজুর রহমান বিটুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইমরান তাঁর বন্ধুদের নিয়ে সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের রেললাইনের পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় মুখে কালো কাপড় বেঁধে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান সোহাগ।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেন সোহাগ (২৫) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইমরান ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল মন্নবীপাড়া গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্যসচিব এবং জিয়া সাইবার ফোর্সের উপজেলা শাখার সদস্যসচিব ছিলেন। এ ছাড়া তিনি গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই মেহেদী হাসানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে ইমরান তাঁর বন্ধুদের নিয়ে সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের পাশের একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষের একদল সশস্ত্র লোক এসে তাঁর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তারা ইমরানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিহতের মাথার একটি অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে গুলি করার পর কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। কারা, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঈশ্বরদীতে তেল নিতে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, যুবককে ছুরিকাঘাত

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে একটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে এক যুবক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আড়ামবাড়িয়া বাজারের মুনসুর ফিলিং স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে।

আহত ওই যুবকের নাম উজ্জ্বল হোসেন (৩৭)। তিনি সাঁড়া ইউনিয়নের ইলশামারী গ্রামের আকমল হোসেনের ছেলে।

ভুক্তভোগী উজ্জ্বল হোসেন জানান, সকালে মোটরসাইকেলে পেট্রল নিতে তিনি মুনসুর ফিলিং স্টেশনে যান। সেখানে সবাই আগে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। শৃঙ্খলা ফেরাতে তিনি সবাইকে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। এতে উপস্থিত অধিকাংশ ব্যক্তি রাজি হলেও কয়েকজন তাঁর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সেখানে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং সেই সুযোগে পেছন থেকে কেউ একজন তাঁকে ছুরিকাঘাত করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সময় ফিলিং স্টেশনে প্রায় দুই শ মোটরসাইকেল আরোহী জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হঠাৎ করেই কোনো কারণ ছাড়াই সেখানে ধাক্কাধাক্কি ও হট্টগোল শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পরই দেখা যায়, এক ব্যক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. আলী এহসান জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হলে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, ‘আড়ামবাড়িয়ায় তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে একজনকে ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

ঈশ্বরদীতে ১ হাজার কৃষকের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা দিতে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় স্থানীয় চাষিদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ফসলের বীজ ও সার বিতরণ করেছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গণে এই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এদিন ১ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের হাতে রোপা আউশ ধান, মুগ ডাল, তিল ও পাটের বীজ তুলে দেওয়া হয়। বীজের পাশাপাশি আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সারও দেওয়া হয়েছে তাঁদের।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সরকারি সহায়তার সঠিক ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটলে ঈশ্বরদী জেলা ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে কৃষি উৎপাদনে শীর্ষস্থান দখল করতে পারবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আবাদের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যেই সরকারের এই পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সময়মতো মানসম্মত বীজ ও সার পাওয়ায় কৃষকরা আবাদে আরও উৎসাহী হবেন।

বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুবিধাভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং পেছাচ্ছে, জুলাইয়ে বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে জ্বালানি ভরার কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এর আগে ৭ এপ্রিল জ্বালানি ভরার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ৭ এপ্রিল জ্বালানি ভরা শুরুর প্রস্তুতি থাকলেও সময়মতো কাজ শুরুর অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি। ফলে আগের সূচি অনুযায়ী কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন তারিখের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করছে। ছাড়পত্র পাওয়ার পরই নতুন সময়সূচি ঠিক করা হবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রুশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ৭ এপ্রিলের তারিখটি চূড়ান্ত করেছিল। লক্ষ্য ছিল, জুলাইয়ের মধ্যে কেন্দ্রটি থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হবে। তবে জ্বালানি ভরায় দেরি হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই সময়সীমাও পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি ভরার প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এর দুই মাস পর শুরু হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ধাপ। সব মিলিয়ে জ্বালানি ভরা থেকে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে ১০ থেকে ১১ মাস সময় প্রয়োজন। অবশ্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তাদের দাবি, ৭ এপ্রিল সম্ভব না হলেও এই মাসের শেষ নাগাদ জ্বালানি ভরা শুরু করা যাবে। ইতিমধ্যে নির্মাণকাজ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষ হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য প্রচার কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ জানান, গত মাসেই ১ নম্বর ইউনিটের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিরাপত্তার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হলেই কেবল কাজ শুরুর অনুমতি দেবে। তবে এই অনুমতি দেওয়ার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান বর্তমানে রূপপুর এলাকায় পর্যালোচনার কাজে ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বর্তমানে ১ নম্বর ইউনিটের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ২ নম্বর ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের প্রায় ৮১ শতাংশ অর্থ ইতিমধ্যে ব্যয় হয়েছে। শুরুতে ২০২২ সালে কেন্দ্রটি চালুর কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে যায়। পরে দুই দেশের সম্মতিতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। তবে ১ নম্বর ইউনিটের মূল কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ঈশ্বরদীতে অনুমোদনহীন তেল পাম্পে অভিযান, সাড়ে ১৩ হাজার লিটার জ্বালানি জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অনুমোদনহীন একটি তেল পাম্পে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার লিটার পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের পূর্ব বাঘইল এলাকায় অবস্থিত ‘যমুনা মিনি তেল পাম্প’-এ এই অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে জব্দ করা জ্বালানির মধ্যে ছিল প্রায় সাড়ে ৪ হাজার লিটার অকটেন, সাড়ে ৪ হাজার লিটার পেট্রল এবং সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পাম্পটি বন্ধ রেখে এসব জ্বালানি জমা করে রাখা হয়েছিল। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পাম্প কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং জমা করা তেল সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধভাবে জমিয়ে রাখা জ্বালানি জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরিমানা করা হয়। এর পাশাপাশি পাম্পে থাকা তেল ক্রেতাদের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঈশ্বরদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ: ধামাচাপা দিতে পরিবারকে মারধর ও উচ্ছেদের হুমকি


নিজস্ব প্রতিবেদন:  ঈশ্বরদীতে ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে মারধর ও এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়েছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। গত ২৯ মার্চ দুপুরে পৌর শহরের কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. আব্দুল (৫৫)। তিনি স্থানীয় একটি মুরগির খামারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে একটি নির্মাণাধীন ঘরে ওই কিশোরীকে একা পেয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন আব্দুল। এ সময় ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে বিপ্লব নামের এক প্রতিবেশী এগিয়ে যান এবং আব্দুলকে হাতেনাতে ধরেন।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় প্রভাবশালী রফিকুল ইসলাম ও শাহজাহান বাবুর্চিসহ কয়েকজন অভিযুক্তের পক্ষ নেন। তাঁরা ঘটনাটি গোপন রাখতে ওই কিশোরীকে মারধর করে চাপ সৃষ্টি করেন। কিশোরীর মা কাজ থেকে ফিরে এর প্রতিবাদ করলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কিশোরীর বাবা জানান, রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী তাঁর বাড়িতে গিয়ে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন। তিনি এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁকে সপরিবারে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে তিনি ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এদিকে অভিযুক্তকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে রফিকুলের শ্বশুর আমিন হোসেন জানান, তাঁর জামাতা আব্দুলকে নিজের বাড়িতে এনে রেখেছিলেন এবং পরে রাতে নিয়ে গেছেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়রা অভিযুক্তকে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ায় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারকে মারধর ও হুমকির বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে ভুয়া জজ পরিচয় দিয়ে সাবেক তহশিলদার আটক


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নিজেকে জেলা সহকারী জজ পরিচয় দিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন সৈয়দ জিয়া পির মোহাম্মদ আলী নামের এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ঈশ্বরদী থানায় ছদ্মবেশে অবস্থানকালে পুলিশের সন্দেহ হলে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে যান ওই ব্যক্তি। সেখানে তিনি নিজেকে যশোর জেলা আদালতের সহকারী জজ হিসেবে পরিচয় দেন। নিজেকে বিচারক দাবি করে তিনি সে রাতে পুলিশি পাহারায় থাকার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগিতা চান।

তবে কথা বলার একপর্যায়ে তার আচরণ ও চালচলনে অসংলগ্নতা ধরা পড়ে। এতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সন্দেহ হলে তিনি দ্রুত ওই ব্যক্তির পরিচয় যাচাই শুরু করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি কোনো বিচারক নন, বরং ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করছিলেন। জালিয়াতি ধরা পড়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তার সঙ্গে আসা ওই নারী কৌশলে থানা থেকে পালিয়ে যান।

আটক জিয়া পির মোহাম্মদ আলীর বাড়ি যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার বাগমারা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল আলীমের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিয়া আগে ভূমি অফিসে তহশিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে চারিত্রিক অবনতি ও দুর্নীতির অভিযোগে তিনি চাকরি হারিয়েছিলেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুজ্জামান জানান, নিজেকে বিচারক পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি থানা হেফাজতে আছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঈদের চাল নিয়ে ঈশ্বরদীতে নেতাদের টানাহেঁচড়া, ৪ হাজার দুস্থ পরিবার বঞ্চিত


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের বরাদ্দ দেওয়া ভিজিএফের চাল বিতরণ বন্ধ রয়েছে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ও সাঁড়া ইউনিয়নে। জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে চালের কার্ড ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঈদের আগে ৪ হাজার ৩৪০টি অসহায় পরিবার সরকারি এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবার ঈদে সাঁড়া ইউনিয়নে ১ হাজার ৬৪০টি এবং সাহাপুর ইউনিয়নে ২ হাজার ৭০০টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী এই চাল দুস্থদের মাঝে বিতরণের কথা থাকলেও বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মী এবং ইউপি সদস্যদের মধ্যে কার্ডের অংশীদারত্ব নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপির মূল অংশ ও বিদ্রোহী অংশের মধ্যে কার্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পাশাপাশি সংসদ সদস্য জামায়াত ঘরানার হওয়ায় তারাও কার্ডের দাবি জানায়। সব পক্ষই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে কার্ড রেখে বিতরণের জেদ ধরায় পুরো প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়ে।

সাহাপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমলাক হোসেন বাবু বিশ্বাস বলেন, দলীয় লোকজন সব কার্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। একদিকে মেম্বাররা ছাড় দিতে নারাজ, অন্যদিকে বিএনপির একাধিক গ্রুপ ও জামায়াতও ভাগ চায়। এই রশি টানাটানির কারণেই চাল বিতরণ বন্ধ আছে।

একই কথা জানান সাঁড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এক পক্ষ হুমকি দিয়েছে তাদের ভাগ না দিলে চাল বিতরণ করতে দেবে না। সংঘাত এড়াতেই আমরা বাধ্য হয়ে বিতরণ স্থগিত রেখেছি।

এই অচলাবস্থার জন্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারীদের দায়ী করেছেন অনেকে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে ইউনিয়ন পরিষদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বিএনপির ওপর দায় চাপাচ্ছে।

বর্তমানে বরাদ্দের চাল উপজেলা পরিষদের গুদামে পড়ে আছে। ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় উৎসবের আগে এই চাল বিতরণের আর কোনো সম্ভাবনা নেই।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, চেয়ারম্যানদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই চাল বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় সেখানে সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

ঈশ্বরদীতে কৃষিজমির মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের মধ্যরাত অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে ইটভাটার জন্য কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান সরকার। তার সঙ্গে ছিলেন ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামান। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ করতে এই ‘রাত্রিকালীন অভিযান’ চালানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বিচারে মাটি কাটার ফলে উর্বর ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে এবং জমির দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এটি স্থানীয় পরিবেশের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এসব অনিয়ম ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, যারা আইন অমান্য করে অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ সময় তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ড রুখতে স্থানীয় জনগণকে সচেতন হওয়ার এবং তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব নিয়ে পাল্টা কমিটির ‘নীল নকশা’: প্রতিবাদ সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং ‘পাল্টা কমিটি’ গঠনের অপচেষ্টার প্রতিবাদে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ১৭ মার্চ ইফতার মাহফিলের নামে মূলত প্রেসক্লাব বিরোধী একটি চক্র ও বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ শাসনামলে) সুবিধাভোগী কিছু ব্যক্তি একত্রিত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছে।

প্রতিবাদ সভায় প্রেসক্লাবের বর্তমান আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান টিপু বলেন, ৭ মার্চ সব সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই সময় হাত তুলে সমর্থন দিলেও পরবর্তীতে সুমার খাঁন ও আমিরুল ইসলাম রিংকু ক্লাববিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ মার্চ শহরের একটি রেস্তোরাঁয় ইফতার মাহফিলের আড়ালে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু নামধারী সাংবাদিককে নিয়ে পাল্টা কমিটি গঠনের নীল নকশা করা হয়।

আয়োজকরা পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়ে পুরো বিষয়টি নিয়ে তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন বলে সভায় জানানো হয়। আব্দুল মান্নান টিপু বলেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য না জেনেই তিনি বর্তমান আহ্বায়ক কমিটিকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে একপর্যায়ে ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে তিনি নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত করার আহ্বান জানান। এ জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই।

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০১৬ সালে সাংবাদিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একতরফা কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রেসক্লাবকে কুক্ষিগত করা হয়েছিল। স্বপন কুণ্ডু ও আব্দুল বাতেন গংরা টানা সাত বছর অবৈধভাবে ক্লাব দখল করে রেখেছিলেন। ওই সময় বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের বহিষ্কার এবং ক্লাবের অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটে। ৫ আগস্টের পর তারা আত্মগোপনে চলে গেলেও এখন সুমার খাঁন ও রিংকুর হাত ধরে পুনরায় ক্লাব দখলের পাঁয়তারা করছেন।

আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান টিপু স্পষ্ট করে বলেন, এই কমিটি ক্লাব দখল করতে আসেনি। আমাদের মূল লক্ষ্য তরুণ প্রজন্মের সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্ত করে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া। গঠনতান্ত্রিক নিয়ম মেনেই দ্রুত এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

সভায় হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় যে, ক্লাবের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অচিরেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, মহিদুল ইসলাম, ওয়াহেদ আলী সিন্টু, ওয়াহিদুজ্জামান টিপু, শহীদুল্লাহ খানসহ স্থানীয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

বাবার বন্ধুদের কাছে আবেগপ্রবণ সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি সফরে পাবনা এসে নিজের বাবা, প্রয়াত সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান পটলের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বর্তমান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। 

সোমবার দুপুরে পাবনা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম রবি, অধ্যাপক শিবজিত নাগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলাম ও অধ্যক্ষ মাহাতাব বিশ্বাসকে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের কাছে ছুটে যান এবং পরম শ্রদ্ধায় দোয়া নেন। এ সময় বাবার বন্ধুরা তাঁর মাথায় হাত দিয়ে স্নেহ করেন। পরে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

ফজলুর রহমান পটলের কৈশোর ও যৌবনের অনেকটা সময় কেটেছে পাবনায়। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আইনজীবী আমিনউদ্দিনের ভাতিজা ছিলেন। পাবনা শহরের ‘পুষ্পালয়’ নামের বাড়িতে থেকেই ফজলুর রহমান পটল ছাত্র রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। সেই সময়ের তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু আজও বেঁচে আছেন। প্রতিমন্ত্রীর অনুরোধে পাবনা প্রেস ক্লাব তাঁর বাবার বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানায়। বাবার প্রিয়জনদের প্রতি তাঁর এই বিনয় ও শ্রদ্ধা উপস্থিত সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক জীবনের যেখানেই যাই, শুনতে পাই—‘ওহ, তুমি পটল ভাইয়ের মেয়ে?’ আমার এগিয়ে যাওয়ার মূল শক্তি আমার বাবা। তিনি যাঁদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করেছেন, আজ তাঁদের সেই স্নেহের পরশ আমি নিজে অনুভব করছি। সন্তান হিসেবে এটি আমার জন্য বড় সৌভাগ্যের বিষয়।

পাবনা প্রেস ক্লাবের ঐতিহ্য ও প্রয়াত সাংবাদিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের উন্নয়নে আপনাদের ভূমিকা অপরিসীম। আপনারা আমাদের সঠিক পথ দেখান এবং আমাদের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করবেন, এটাই আমার প্রত্যাশা।

পাবনা ও নাটোরের লালপুরের সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার শেকড় এই পাবনায়। তাই লালপুরের মতো এখানকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও আমি ভূমিকা রাখতে চাই। দ্বিতীয় ধাপে পাবনার দরিদ্র মানুষেরা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজেও আমি পাবনাবাসীর পাশে থাকব।

সভায় আরও বক্তব্য দেন পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য আইনজীবী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব এবং প্রেস ক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাহিত্য সম্পাদক ইয়াদ আলী মৃধা পাভেল।

ঈশ্বরদীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার


নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি ওয়ান শুটার গান ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পাকশী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পারেন পাকশী বাজারপাড়া জামে মসজিদের পূর্ব পাশে রাস্তার ধারের একটি ময়লার স্তূপে অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে ঝটিকা অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে ময়লার স্তূপ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি ওয়ান শুটার গান ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি।

এসআই মনিরুল ইসলাম আরও জানান, উদ্ধার করা আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি ঈশ্বরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। কে বা কারা জনবহুল এলাকায় ময়লার স্তূপে এসব অস্ত্র ফেলে গেছে, তাদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে গৃহবধূর গোসলের ভিডিও ধারণ: ব্ল্যাকমেল ও মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে এক গৃহবধূর গোসলের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেল, অর্থ আত্মসাৎ ও পরে ওই দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারী মাথালপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নয়ন মন্ডল ওই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নয়ন মন্ডল দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিবেশী ওই গৃহবধূর গোসলের দৃশ্য গোপনে মোবাইল ফোনে ধারণ করে আসছিলেন। সেসব ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিনি ওই নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। লোকলজ্জার ভয়ে ওই নারী এতদিন বিষয়টি গোপন রাখলেও মঙ্গলবার বিকেলে নয়ন আবারও ভিডিও করার চেষ্টা করলে দম্পতি তা দেখে ফেলেন।

ভিডিও ধারণের প্রতিবাদ জানাতে ওই গৃহবধূ ও তাঁর স্বামী নয়নের বাড়িতে গেলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, নয়ন ও তাঁর ভাই হৃদয় ওই দম্পতিকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। এই ঘটনার পর লোকচক্ষুর অন্তরালে চরম মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে ভুক্তভোগী গৃহবধূ একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অভিযুক্ত নয়ন মন্ডল স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করলেও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, প্রভাবশালী একটি মহলের রাজনৈতিক চাপে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।

সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য হাফিজ খান বলেন, শুরুতে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার কথা ছিল। তবে ঘটনাটি যেহেতু থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই আমরা এখন সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড সরকারের বড় সাফল্য: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:  একটি অনন্য ও বড় সাফল্য। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। দল, মত, ধর্ম কিংবা বর্ণ কোনো কিছুই এই কার্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। আগামী মাসে আরও ৩৭ থেকে ৫০ হাজার পরিবারের কাছে এই সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে নাটোরের লালপুর উপজেলার গৌরীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নারীপ্রধান পরিবারগুলোর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে সারা দেশে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করার পর ইতিমধ্যে সুবিধাভোগীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে অর্থ পৌঁছে গেছে। এর অংশ হিসেবে লালপুর উপজেলার ২ নম্বর ঈশ্বরদী ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে ৩৭৮ জনকে এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং প্রত্যেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে ফারজানা শারমীন পুতুল উল্লেখ করেন, "বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল এই ফ্যামিলি কার্ড। সরকার গঠনের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় এটি উদ্বোধন করা হয়েছে, যা বর্তমান সরকারের কর্মতৎপরতার একটি বড় প্রমাণ।"

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান, নাটোর জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব এবং লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলহাস হোসেন সৌরভ। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবির হোসেন, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান, নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ঈশ্বরদীতে ২০ দিনে ৫৫ ছাগলের মৃত্যু: দিশেহারা ক্ষুদ্র খামারিরা

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদী উপজেলার মাজদিয়া পশ্চিম খাঁ পাড়ায় অজ্ঞাত এক রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২০ দিনে অন্তত ৫৫টি ছাগল মারা গেছে। হঠাৎ করে এই মড়ক দেখা দেওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খামারিরা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রমজানের শুরু থেকে গ্রামটিতে ছাগলের অস্বাভাবিক অসুস্থতা দেখা দিতে শুরু করে। আক্রান্ত ছাগলগুলোর শরীরে তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও কাশির লক্ষণ দেখা দেয়। সংক্রমণের কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাণীগুলো মারা যাচ্ছে।

গত ২০ দিনে গ্রামের দিনমজুর শফিকুল আলমের ৪টি, হোসেন আলীর ৩টি, সাইদুল ঘোষের ৩টি এবং জহুরুল ইসলামের ৪টিসহ গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে অন্তত ৫৫টি ছাগল মারা গেছে। ভুক্তভোগী শফিকুল আলম বলেন, ‘ধারদেনা করে ছাগলগুলো কিনেছিলাম। আশা ছিল কোরবানির ঈদের আগে বিক্রি করে ঋণ শোধ করব এবং পরিবারের জন্য নতুন কাপড় কিনব। কিন্তু এখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছা. আকলিমা খাতুন জানান, অসুস্থ ছাগলগুলোর শরীরে ১০৫ থেকে ১০৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর দেখা যাচ্ছে। তীব্র শ্বাসকষ্ট ও কাশির কারণে প্রাণীগুলো খাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি ছাগলের ‘কন্টাজিয়াস ক্যাপরিন প্লিউরোপ্নিউমোনিয়া’ (সিসিপিপি) রোগ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে নমুনা সংগ্রহ করে সিরাজগঞ্জের ফিল্ড ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে (এফডিআইএল) পাঠানো হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত রোববার ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল দল এলাকাটি পরিদর্শন করে। পরবর্তীতে মঙ্গলবার উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে সেখানে একটি বিশেষ চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে অসুস্থ ছাগলদের চিকিৎসা দেন এবং খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। রোববার সকালে তিনি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছালে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় তাঁকে অভ্যর্থনা জানান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান এবং ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান।

মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আজাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনের শুরুতে মন্ত্রী প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ও কারিগরি বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় ফকির মাহবুব আনাম প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কাজের মান বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক এই প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে তিনি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন।

পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান ললিতা গুলশান

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ–দপ্তর সম্পাদক ললিতা গুলশান মিতা। পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত আসন থেকে তিনি বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

শনিবার  দুপুরে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ললিতা গুলশান বলেন, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক। রাজনীতি কেবল ক্ষমতার মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের সেবা করার একটি পবিত্র দায়িত্ব। তিনি জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জাতীয় সংসদে নারীদের কণ্ঠ আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তৃণমূলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমি সংসদীয় আসনে অবহেলিত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।

তরুণ সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে এই নেত্রী আরও বলেন, তারুণ্যের শক্তিই আগামীর বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি। তরুণদের মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হোসেন ডাবলু এবং ঈশ্বরদী পৌর মহিলা দলের সহসভাপতি শিরিনা আক্তার। এ সময় স্থানীয় মহিলা দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন