বিশেষ সংবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিশেষ সংবাদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে আজ লিচু উৎসব, থাকছেন দুই মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ শুক্রবার ঈশ্বরদীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলা-২০২৬’। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ (কুল ময়েজ)। তিনি বলেন, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও লিচুর মৌসুমকে ঘিরে এই ‘লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলা’র আয়োজন করা হয়েছে। দেশের কৃষি ও বাণিজ্য খাতের উন্নয়নে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক আব্দুল জলিল মন্ডল (লিচু কিতাব) জানান, ঈশ্বরদীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়। চলতি মৌসুমে ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার লিচু বেচাকেনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, লিচুর পাশাপাশি ঈশ্বরদীতে বিভিন্ন ধরনের সবজি, আম, কাঁঠাল, জাম, বাঙ্গি ও কলার ব্যাপক চাষাবাদ রয়েছে। এ ছাড়া ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি, মাল্টা ও আঙুরের মতো বেশি দামের বিদেশি ফলও বর্তমানে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে।

আব্দুল জলিল মন্ডল আরও বলেন, কৃষকেরা কঠোর পরিশ্রম করে বিপুল পরিমাণ ফল ও ফসল উৎপাদন করলেও এখনো ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে কৃষকদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হবে।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু, লিচু গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, লিচু প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ।

কৃষক নেতাদের মতে, এসব দাবি বাস্তবায়ন হলে কৃষকদের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে এবং মৌসুমের কৃষিপণ্য থেকে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব হবে।

এ ছাড়া তাঁরা জানান, পাঠ্যপুস্তকে দিনাজপুরকে লিচুর জন্য বিখ্যাত জেলা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ লিচু উৎপাদনকারী অঞ্চল ঈশ্বরদীর নাম সেখানে নেই। তাই পাঠ্যপুস্তকে ঈশ্বরদীকে লিচু উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হবে।

রূপপুর গ্রিন সিটিতে রুশ নাগরিকদের বিজয় দিবসের শোভাযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আবাসিক এলাকা গ্রিন সিটিতে রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির পরাজয় এবং যুদ্ধে প্রাণ দেওয়া সৈনিকদের স্মরণে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন প্রকল্পে কর্মরত রুশ নাগরিকেরা।

শোভাযাত্রায় রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত শত শত রুশ নাগরিকের পাশাপাশি তাঁদের স্ত্রী ও সন্তানেরাও অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত যোদ্ধাদের ছবি দেওয়া ফেস্টুন নিয়ে পুরো গ্রিন সিটি এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

আয়োজনে অংশ নেওয়া রুশ নাগরিকেরা বলেন, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো শহীদ যোদ্ধাদের স্মরণ করা, ইতিহাসের প্রতি সম্মান জানানো এবং শান্তি ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। শোভাযাত্রাকে ঘিরে পুরো গ্রিন সিটি এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষে সন্ধ্যায় সেখানে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।

দেশের বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অন্যতম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি রাশিয়ার সরাসরি সহযোগিতায় ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের দুটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, প্রকল্পটি চালু হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

যাতায়াত ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে ঈশ্বরদী ইপিজেডে শ্রমিক বিক্ষোভ


নিজস্ব প্রতিবেদক: যাতায়াত ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে ঈশ্বরদী ইপিজেডে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আজ শনিবার সকালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ইপিজেডের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। এতে কয়েক ঘণ্টার জন্য ইপিজেডের ভেতরে সব ধরনের প্রবেশ ও কাজ বন্ধ থাকে।

জানা গেছে, সম্প্রতি শ্রমিকদের যাতায়াত ভাড়া হঠাৎ বাড়ানো হলে তাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। ভাড়া কমানোসহ বিভিন্ন দাবিতে আজ সকাল থেকে শ্রমিকেরা প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে ভেতরে ও বাইরে পণ্যবাহী যানবাহনসহ কর্মীদের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফটকের বাইরে অবস্থান নেন কয়েক হাজার শ্রমিক।

ঘটনার খবর পেয়ে বেপজা কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত সেখানে পৌঁছান। পরে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেপজা কর্তৃপক্ষের একটি জরুরি বৈঠক হয়। আলোচনায় শ্রমিকদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয় কর্তৃপক্ষ।

ঈশ্বরদী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক এ বি এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শ্রমিকদের কিছু দাবি ও ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সাময়িক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তাঁদের দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং উৎপাদন কার্যক্রম যথারীতি চলছে।’

পরিত্যক্ত ভবনে মাদকসেবীদের আড্ডা, নিরাপত্তাহীন ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস


নিজস্ব প্রতিবেদক: জরাজীর্ণ ভবন, ভাঙাচোরা সীমানাপ্রাচীর আর কার্যালয়ের ভেতরে মাদকসেবীদের অবাধ যাতায়াত দেখে প্রথমে মনে হতে পারে এটি কোনো পরিত্যক্ত এলাকা। অথচ এটি দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও আধুনিক সুবিধাবঞ্চিত ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের একটি পাইলট বেলুন পর্যবেক্ষণাগার এটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর এলাকায় ১৯৬৫ সালে পাঁচ একর জমির ওপর কার্যালয়টির কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কয়েকটি আবাসিক ভবন ও একটি পর্যবেক্ষণাগার নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় পুরো এলাকাজুড়ে এখন জরাজীর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। তদারকির অভাবে ভবনগুলোর দরজা, জানালা এমনকি জানালার গ্রিলও চুরি হয়ে গেছে।

আবহাওয়া পরিমাপের দুটি যন্ত্রের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে আছে। ফলে একটি যন্ত্র দিয়েই কোনোমতে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত ভবনগুলো এখন মাদকসেবীদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় ও বাইরের লোকজনের আনাগোনায় দিন-রাত সেখানে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে।

আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন বলেন, ভারত থেকে আনা স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া স্টেশন স্থাপন করা হলেও সেটি এক দিনের জন্যও চালু করা সম্ভব হয়নি। নির্জন এলাকায় নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় রাতে দায়িত্ব পালনেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়।

তিনি আরও বলেন, জনবল কম থাকায় দিন-রাত বাড়তি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার জন্য কোনো বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় না।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান, ১৪ জনের জায়গায় বর্তমানে মাত্র ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে অফিস পরিচালনা করতে হচ্ছে। আবাসিক ভবনগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ায় সেগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে পুরো এলাকাতেই এক ধরনের ভূতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেক আগেই ভবনগুলোর দরজা-জানালা চুরি হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি।


রূপপুরের প্রথম ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:  দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে নতুন একটি মাইলফলক যুক্ত হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ ‘স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ সরবরাহ ও স্থাপনের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে।

শুক্রবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি ভরার (লোডিং) মাধ্যমে প্রকল্পটি চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আধুনিক এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হলো।

রোসাটমের অটোমেশন ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ‘রোসাটম অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস’ এই প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে। প্রথম ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ও বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ মোট ২২টি উপ-ব্যবস্থা (সাব-সিস্টেম) স্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রোসাটম জানায়, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু ও নিয়মিত পরিচালনার সময় যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা, বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া, বিকিরণ পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য কারিগরি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে তদারকি করা হবে।

অটোমেটেড প্রসেস কন্ট্রোল সিস্টেম বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্লেব মুরাশভ বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বিশেষ চাহিদা বিবেচনা করে এই ব্যবস্থায় কয়েকটি উন্নয়ন ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এখানে ছোট ও সুবিধাজনক নকশার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও রয়েছে। বর্তমানে প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম সরবরাহ ও চালুর কাজ শেষ হয়েছে।’

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

‘থ্রি-প্লাস’ প্রজন্মের এই রিঅ্যাক্টর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান মেনে নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে একই প্রযুক্তির ছয়টি ইউনিট রাশিয়া ও বেলারুশে চালু রয়েছে। এ ছাড়া মিসর, হাঙ্গেরি, তুরস্ক ও চীনেও একই প্রযুক্তির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে।

রূপপুর প্রকল্পে ‘স্মৃতি উদ্যান’ কর্মসূচি, রোপণ করা হলো ২০০ গাছের চারা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীর নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মীরা আন্তর্জাতিক ‘স্মৃতি উদ্যান’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী আবাসন এলাকা গ্রিন সিটির ভেতরে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

এ উপলক্ষে গ্রিন সিটি এলাকায় আম, লিচু ও ডালিমসহ বিভিন্ন জাতের ফল ও ফুলের প্রায় ২০০টি চারা রোপণ করা হয়। এই আয়োজনে অংশ নেন প্রায় ৬০০ জন কর্মী।

বাংলাদেশে রাশিয়ার পারমাণবিক প্রকল্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি দেরি বলেন, ‘সাত বছর ধরে চলমান স্মৃতি উদ্যান কর্মসূচি এখন আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এতে অংশ নিয়ে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এ ধরনের যৌথ আয়োজন মানুষের মধ্যে ঐক্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্মীদের জন্য এটি পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ইতিবাচক একটি উদ্যোগে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।’

ঈশ্বরদীতে কলা চুরির অপবাদে তিন কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন


নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে শখের বশে কলা ছিঁড়তে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছে তিন কিশোর শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের দুবলাচারা এলাকায় তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে অমানবিক আচরণ করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে কোচিং শেষ করে ওই তিন কিশোর অটোরিকশা নিয়ে দুবলাচারা এলাকায় ঘুরতে যায়। সেখানে তারা নিজেদের মধ্যে বাজি ধরে একটি বাগান থেকে কয়েকটি কলা ছেঁড়ে। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় কিছু যুবক তাদের আটক করে এবং দুপুর ১২টার দিকে একটি গাছের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রাখে।

কিশোরদের বেঁধে রাখার ছবি ও ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কিশোরেরা স্রেফ নিজেদের মধ্যে বাজি ধরে এমনটি করেছে বলে জানা গেছে। তবে এভাবে তাদের গাছে বেঁধে রাখা একটি অমানবিক ঘটনা।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। উদ্ধারকৃত শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে আগাম লাভের আশায় বাজারে টক লিচু, ঠকছেন ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর লিচুর খ্যাতি দেশজুড়ে। এর মিষ্টতা আর রসাল স্বাদের জন্য সব মহলে এটি জনপ্রিয়। তবে সেই সুনামকে কাজে লাগিয়ে একদল বাগানমালিক ও ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় বাজারে অপরিপক্ব লিচু বিক্রি শুরু করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে পাবনা শহরের হামিদ সড়ক, ঈশ্বরদী পৌর বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন হাটে দেখা গেছে টক ও কাঁচা লিচুর ছড়াছড়ি। জ্যৈষ্ঠ মাস শুরু হতে এখনো কয়েক দিন বাকি, কিন্তু বৈশাখেই বাজারে চলে এসেছে এই ফল। তবে এসব লিচুর বেশির ভাগই এখনো ঠিকমতো পাকেনি। লিচুগুলো খেতে টক এবং মানও ভালো নয়। এরপরও মৌসুমের নতুন ফল হওয়ায় ক্রেতারা বেশ চড়া দামেই তা কিনছেন।

লিচুচাষিরা দাবি করছেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে গাছ থেকে লিচু ঝরে পড়ছে। এই ক্ষতি এড়াতে তারা সময়ের আগেই ফল পেড়ে বাজারে নিয়ে আসছেন। তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন অন্য কথা। তাদের মতে, লিচু ঝরে পড়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মূলত আঁটি ও মোজাফফর জাতের লিচু অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বাজারে তোলা হচ্ছে। এসব ফল এখনো পরিপক্ব না হওয়ায় ক্রেতারা আসল স্বাদ ও পুষ্টিগুণ পাচ্ছেন না।

নতুন ফল হিসেবে বাজারে এর দামও বেশ চড়া। বর্তমানে ১০০ পিস দেশি লিচুর এক ঝোপা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিক্রেতারা ঝুড়ি বা ক্যারেটে সাজিয়ে লিচু প্রদর্শন করছেন। সকালে যে লিচু ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, দুপুরে পৌর বাজারে সেই একই লিচু ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

রুবেল আলী নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘পরিবারের আবদার মেটাতে নতুন ফল হিসেবে লিচু কিনেছি। কিন্তু বেশির ভাগই কাঁচা হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত স্বাদ পাচ্ছি না।’

এদিকে চিকিৎসকেরা কাঁচা বা অপরিপক্ব লিচু না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ভালো স্বাদ ও মান নিশ্চিত করতে মোজাফফর জাতের লিচু আরও অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন পর সংগ্রহ করা উচিত। কর্মকর্তারা বলছেন, এখনই বাজারজাত করলে লিচুর ওজন ও মিষ্টতা—দুটিই কম থাকবে।

চলতি বছর ঈশ্বরদীতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। এখানে দেশি আঁটি লিচু ছাড়াও বোম্বাই, চিলি বোম্বাই ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু উৎপাদিত হয়, যা সারা দেশে সরবরাহ করা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, গাছে এখনো পর্যাপ্ত লিচু রয়েছে এবং ফলনের সম্ভাবনাও বেশ ভালো। তিনি বলেন, ‘লিচুর প্রকৃত স্বাদ ও পুষ্টি পেতে হলে ফল পুরোপুরি পাকার পরই তা পাড়া ও বাজারে বিক্রি করা উচিত।’

লালন শাহ সেতু সরানোর খবরটি গুজব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ এক দশকের অবকাঠামো নির্মাণ ও জটিল কারিগরি প্রস্তুতির পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ; শুরু হলো দেশের জ্বালানি খাতে নতুন অধ্যায়।

তবে এই অগ্রগতির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রূপপুর প্রকল্পের কারণে লালন শাহ সেতু সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে’—এমন একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব বলে জানিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, লালন শাহ সেতু সরানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বরং ওই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

পদ্মা নদীর ওপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছেই নির্মিত লালন শাহ সেতু কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও পাবনার ঈশ্বরদীকে (পাকশী) যুক্ত করেছে। এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম সড়ক সেতু। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সেতুটি।

সূত্র জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল প্রকল্প। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মার তীরে নির্মিত এই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা)। রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই কেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে রূপপুর ও আশপাশের এলাকায় রেল ও সড়কসহ নানা অবকাঠামো উন্নয়ন চলছে। ঢাকা–এলেঙ্গা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পর এখন এলেঙ্গা–হাটিকুমরুল–রংপুর মহাসড়ক চার লেনে বাড়ানোর কাজ চলছে। ভবিষ্যতে ঝিনাইদহ থেকে রূপপুর হয়ে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে সওজ জানিয়েছে, এসব পরিকল্পনা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ব্যয় ও অর্থায়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ শাখা) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, লালন শাহ সেতু সরানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি আগের জায়গাতেই থাকবে।

তিনি আরও জানান, ঝিনাইদহ–ঈশ্বরদী–রূপপুর–নাটোর–বনপাড়া হয়ে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ছয় লেনের সড়ক নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির কাজ চলছে।

২০০৪ সালের ১৮ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া লালন শাহ সেতু উদ্বোধন করেন। প্রায় ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৮ দশমিক ১০ মিটার প্রশস্ত এই সেতুটি ১৭টি পিলারের (স্প্যান) ওপর নির্মিত। চীনা প্রতিষ্ঠান মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো এটি নির্মাণ করে।

সেতুটি চালুর পর কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

শ্রদ্ধা ও স্মরণে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে ৫ মে গণহত্যা দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক:  নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেডে ‘৫ মে গণহত্যা দিবস’ পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মিলটি ঘেরাও করে তৎকালীন প্রশাসকসহ ৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শতাধিক সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যা করে।

মঙ্গলবার সকালে মিল চত্বরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘শহীদ সাগর’ চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরআন তেলাওয়াত, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনের নির্মম হত্যাযজ্ঞ দেশের ইতিহাসে এক শোকাবহ অধ্যায়। শহীদদের আত্মত্যাগ জাতিকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর গণসমাধির নীরব সাক্ষী সেই পুকুরটির নাম রাখা হয় ‘শহীদ সাগর’। এ ছাড়া শহীদ তৎকালীন প্রশাসক লেফটেন্যান্ট আনোয়ারুল আজিমের নামানুসারে গোপালপুর রেলস্টেশনের নামকরণ করা হয় ‘আজিমনগর’।

বিভাগীয় কর্মকর্তা ও মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ। আরও বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. নজরুল ইসলাম মোলাম, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোমিনুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পিন্টু। 

এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্য ফরহাদ-উজ-জামান রুবেলসহ মিলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

জ্বালানি লোডিংয়ে প্রস্তুত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের আশঙ্কার মধ্যেই দেশের জ্বালানি খাতে বড় অর্জনের পথে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কেন্দ্রটি ‘কমিশনিং লাইসেন্স’ বা পরীক্ষামূলক পরিচালনার অনুমতি পাওয়ায় এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের একেবারে শেষ ধাপে রয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম ভরার কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রথম ইউনিটে মোট ১৬৩টি জ্বালানি কাঠামো স্থাপন করা হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় ৪৫ দিন সময় লাগতে পারে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে আগামী জুলাই বা আগস্টের মধ্যে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক জ্বালানির ক্ষমতা অনেক বেশি। মাত্র ১ কেজি ইউরেনিয়াম থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, তা উৎপাদন করতে প্রায় ২৪ লাখ কেজি কয়লার প্রয়োজন হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মেগা প্রকল্পটি ২০১৭ সালে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটমের সহযোগিতায় শুরু হয়। পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এই কেন্দ্রে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি চুল্লি রয়েছে। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যা রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পেও টিকে থাকতে পারবে।

সম্প্রতি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করার মাধ্যমে চুল্লিটি সক্রিয় হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার করেছে। দুটি ইউনিট পুরোপুরি চালু হলে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, যা দেশের মোট চাহিদার বড় একটি অংশ পূরণ করবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ওঠানামা করলেও পারমাণবিক বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ সাধারণত স্থিতিশীল থাকে। তাই দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেও এটি সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা খুবই জরুরি। তিনি কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম মনে করেন, মানুষের আস্থা বাড়াতে নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে আরও সচেতনতা দরকার। পাশাপাশি বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। স্বাগত বক্তব্য দেবেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রসি এবং রোসাটমের প্রধান নির্বাহী আলেক্সি লিখাচভসহ দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন।

সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের পুরো কারিগরি নিয়ন্ত্রণ দেশীয় প্রকৌশলীদের হাতে চলে আসবে। নির্মাণ ব্যয় ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও রূপপুর প্রকল্পকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, কার্যালয় ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ছাত্রশিবিরের একটি মিছিল কলেজ ফটকের সামনে পৌঁছালে সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষের সময় কয়েকটি হাতে তৈরি বোমা বা ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের দোকানপাট সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ছাত্রদলের একটি অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সজীব হাসান দাবি করেন, আগে থেকে ঠিক করা কর্মসূচির জন্য তারা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের অনুমতি নিয়েছিলেন। মিছিলটি কলেজ ফটকের সামনে পৌঁছালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর ইট-পাটকেল ছোড়ে। তবে কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে, কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি ইমরান হোসেন খান অভিযোগ করে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বাইরের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে শতাধিক শিবিরকর্মী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে হামলা চালায় এবং তাদের অস্থায়ী কার্যালয় ভাঙচুর করে।

ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাস ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ রাখা হয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আসাদুর রহমান বলেন, ঘটনার পর দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে তৃণমূলের খেলোয়াড়দের জন্য নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে মেধাবী খেলোয়াড় খুঁজে বের করে তাঁদের দেশসেরা ও আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট হিসেবে তৈরি করার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্দেশ্য সামনে রেখে শুরু হচ্ছে নতুন একটি ক্রীড়া কর্মসূচি।

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইবের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অংশ নেন।

সভায় জানানো হয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে ক্রীড়া পরিদপ্তরের উদ্যোগে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে খেলোয়াড় বাছাই করা হবে। এই কর্মসূচির আওতায় ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, দৌড়ঝাঁপ, ব্যাডমিন্টন, যুদ্ধকলা ও সাঁতারসহ আটটি বিভাগে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদনের সঙ্গে জন্মসনদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুপারিশপত্র এবং অভিভাবকের অনুমতিলিপি জমা দিতে হবে।

সভায় উপজেলা শিক্ষাতত্ত্ব তত্ত্বাবধায়ক আরিফুল ইসলামসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনও হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, এই উদ্যোগের ফলে ঈশ্বরদীর গ্রামগঞ্জ থেকেও মেধাবী খেলোয়াড়রা উঠে আসবে। ভবিষ্যতে তাঁদের মধ্য থেকেই দেশ ও বিদেশের সেরা মানের ক্রীড়াবিদ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে পদ্মায় টহল দেয়ার সময় পুলিশের ওপর হামলা, গুলিবিদ্ধ ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে টহল দেয়ার সময় পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নৌ-পুলিশের পাঁচ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে কুষ্টিয়ার হরিপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন-ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার শফিকুল ইসলাম এবং সদস্য এনামুল হক, শাহিনুর হক, নাজমুল হাসান ও মানিক মিয়া। তারা সবাই ওই ফাঁড়িতে কর্মরত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে পুলিশের একটি দল নৌকা নিয়ে নদীতে যায়। দলটি কুষ্টিয়ার হরিপুর এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে লুকিয়ে থাকা একদল সশস্ত্র হামলাকারী তাদের ওপর গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দুই পক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ গোলাগুলি চলে। এতে ফাঁড়ির ইনচার্জসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে এনামুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পরপরই এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ) প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দিয়েছে, ফলে এ মাসের শেষ দিকে জ্বালানি সংযোজনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর পথ খুলে গেল।

বিএইআরএর চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, নানা কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক মান যাচাই শেষে বৃহস্পতিবার  এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে ৭ এপ্রিল নির্ধারিত সময়সূচি নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে এখন সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধান হওয়া এবং অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ায় লাইসেন্স দিতে আর বাধা থাকেনি।

প্রায় ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের এই মেগা প্রকল্পে রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এই ইউনিট থেকে ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান বলেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’-এর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রূপপুর প্রকল্পকে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প উৎস হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

দুই ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৮ সালের মধ্যে পুরোপুরি চালু হওয়ার কথা। যদিও ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে বাণিজ্যিক উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তবু চলতি বছরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়াকে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

চরাঞ্চলে দুই বাংলার সাহিত্যিকদের মিলনমেলা, শেষ হলো তিন দিনের উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক: পদ্মা নদীবেষ্টিত ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নের নিভৃত গ্রাম চরগড়গড়ি। তিন দিন ধরে এই গ্রামটি ভারত ও বাংলাদেশের কবি, সাহিত্যিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের উপস্থিতিতে আনন্দমুখর ছিল। দুই দেশের প্রায় দুই শতাধিক লেখকের অংশগ্রহণে ‘চরনিকেতন কাব্যমঞ্চে’ অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী ‘চরনিকেতন সাহিত্য উৎসব’। 

বৃহস্পতিবার উৎসবের আয়োজক কবি মজিদ মাহমুদের ৬০তম জন্মদিন পালনের মধ্য দিয়ে এই জমকালো আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। কবি মজিদ মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জেলা পরিষদ প্রশাসক জহুরুল ইসলাম বিশু।

দুই বাংলার সাহিত্যিকদের এই মিলনমেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা প্রেসক্লাব সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, কবি সৈকত হাবিব, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অখিল পোদ্দার এবং ভারত থেকে আসা কবি মানিক পণ্ডিত ও আব্দুল কাইয়ুম। এ ছাড়া পীপিলিকা সাহিত্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস হোসেন হিমেল রানা, অধ্যাপক হাসানুজ্জামান ও খোন্দকার মাহাবুবুল হক দুদুসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তিন দিনের এই উৎসবে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনা সভা, নিজেদের লেখা কবিতা পাঠ, নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও উন্মুক্ত আলোচনার ব্যবস্থা ছিল। মূল অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রাঙ্গণজুড়ে ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বাউল ও জারি গানের আসর। বিভিন্ন বইয়ের দোকান ও হস্তশিল্পের প্রদর্শনী চরাঞ্চলের এই আয়োজনকে একটি পূর্ণাঙ্গ লোকজ মেলায় রূপ দেয়।

সমাপনী দিনে কবি মজিদ মাহমুদের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর লেখা ছড়া আবৃত্তি করে ‘সাহিত্য-সংস্কৃতি ও আবৃত্তি সংসদ’-এর শিশুশিল্পীরা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কবি আব্দুল আল মামুন। এ সময় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব, ঈশ্বরদী সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদ, নোঙ্গর-ঈশ্বরদী, বৌটুবানী পাঠশালা ও উত্তরণ পাবনার পক্ষ থেকে কবিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মজিদ মাহমুদ বলেন, গত এক দশক ধরে এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা অবহেলিত চরাঞ্চলে শিল্পের আলো ছড়ানোর চেষ্টা করছি। আমার জন্মমাটির এই প্রান্তিক মানুষের সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য ভবিষ্যতে এখানে একটি ‘সংস্কৃতি বিশ্ববিদ্যালয়’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল জাতীয় সংগীত ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে এই উৎসব শুরু হয়েছিল। দুই দেশের লেখক ও গুণীজনদের মধ্যে চিন্তার আদান-প্রদান এবং সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল এই আয়োজন।

ঈশ্বরদীতে তিন দিনের ‘চরনিকেতন বৈশাখী সাহিত্য উৎসব’ শুরু কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চলে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘চরনিকেতন বৈশাখী সাহিত্য উৎসব-১৪৩৩’। ওসাকা চরনিকেতন কাব্যমঞ্চে আয়োজিত এই উৎসবে দেশ-বিদেশের কবি, সাহিত্যিক, গবেষক ও সৃজনশীল ব্যক্তিত্বরা অংশ নেবেন।

উৎসবকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে ওসাকা চত্বরে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অতিথিদের জন্য আবাসনসহ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজক কমিটি। স্থানীয়দের মতে, রাজধানী ঢাকার বাইরে এটি এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ সাহিত্যিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

উৎসবের প্রথম দিন থাকছে মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা ও বাউল গানের আসর। দ্বিতীয় দিনে থাকছে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, কবিদের স্বকণ্ঠে কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমাপনী দিন তথা তৃতীয় দিনে গুণীজনদের মতবিনিময় ও সেমিনারের পাশাপাশি প্রখ্যাত কবি মজিদ মাহমুদের জন্মদিন উদযাপন করা হবে। এছাড়াও আয়োজনে থাকছে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা, জারিগান এবং নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন।

এই উৎসবের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রবর্তক বিশিষ্ট কবি ও গবেষক মজিদ মাহমুদ। নিজ গ্রাম চরগড়গড়িকে শিল্প-সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় এখানে গড়ে উঠেছে ‘চরনিকেতন কমপ্লেক্স’, যা বর্তমানে একটি আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি পাঠাগার, গবেষণা কেন্দ্র ও প্রবীণদের সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত। বর্তমানে সেখানে একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের কাজও চলছে।

২০১৫ সাল থেকে নিয়মিত আয়োজিত এই উৎসব বর্তমানে আবহমান বাংলার সংস্কৃতি ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার অন্যতম প্রধান মঞ্চ। স্থানীয়দের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই মেলা ও সাহিত্য আসর নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে।

বিশিষ্টজনদের মতে, শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে এমন একটি মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ বাংলাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রতিবছরের মতো এবারও এই মিলনমেলা আধুনিক বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে মুখর হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ঈশ্বরদীতে রেলওয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করলেন দুই সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. এহসানুল হক ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনসহ রেলওয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা থেকে ‘বুড়িমারী এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি বিশেষ কোচে তাঁরা ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনে এসে পৌঁছান।

সচিবদ্বয় স্টেশনে পৌঁছালে পাবনা জেলা প্রশাসন ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে পাকশী বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁদের ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান। এরপর তাঁরা ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশনের বর্তমান অবকাঠামো এবং যাত্রীসেবার সার্বিক মান ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে সচিবদের সঙ্গে ছিলেন পাবনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) আমিনুল ইসলাম, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদুল ইসলাম, ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব ও পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) আবু হেনা মোস্তফা আলম। এ ছাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার ও ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমানসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রেলওয়ে ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাইপাস স্টেশন পরিদর্শন শেষে সচিবদ্বয় পাবনা সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভা শেষে তাঁরা নবনির্মিত রূপপুর রেল স্টেশন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত রেলওয়ের সাইডিং লাইনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেন।

এ সময় তাঁরা সরকারের মেগা প্রকল্পের আওতায় রেলওয়ের পরিবহন ব্যবস্থার সক্ষমতা ও বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঈশ্বরদীতে চালকদের প্রশিক্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা রোধে যানবাহন চালকদের নিয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১১ এপ্রিল শনিবার বিকেলে শহরের স্কুলপাড়া ঈদগাহ মাঠে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সম্প্রতি ঈশ্বরদী-লালপুর মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। প্রধান বক্তার বক্তব্যে ঈশ্বরদী ট্রাফিক সার্কেলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আব্দুল্লাহ আল মামুদ চালকদের ট্রাফিক আইন ও নিরাপদ ড্রাইভিং সংক্রান্ত বিভিন্ন কারিগরি দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

স্কুলপাড়া জামে মসজিদের পেশ ইমাম ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে এবং সামাজিক সংগঠন ‘মানাব’-এর ঈশ্বরদী শাখার সভাপতি মাসুম পারভেজ কল্লোলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক মুকুল, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আব্দুল আলীম খান, সাংবাদিক সেলিম সরদার, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি মো. দুখু মিয়া এবং সংবাদকর্মী মিথুন মাহবুব খান।

বক্তারা বলেন, সড়কে বিশৃঙ্খলা ও নিয়ম না মানার প্রবণতার কারণে ঈশ্বরদীতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে চালকদের বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার মানসিকতা এর অন্যতম প্রধান কারণ। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে শুধু প্রশাসনের অভিযানই যথেষ্ট নয়, বরং চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ ও সাধারণ মানুষের সচেতনতাও জরুরি।

রূপপুর প্রকল্প ও ঈশ্বরদী থানা পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ঈশ্বরদী থানা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) আকরাম হোসেন। গতকাল বুধবার বিকেলে তিনি এই বড় প্রকল্প ও থানা কার্যালয় ঘুরে দেখেন।

বিকেল তিনটার দিকে অতিরিক্ত আইজিপি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান। পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ দেখার পাশাপাশি চলমান কাজের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে তিনি বিশেষ জোর দেন।

প্রকল্প এলাকা থেকে অতিরিক্ত আইজিপি ঈশ্বরদী থানায় যান। সেখানে তিনি থানার দাপ্তরিক কাজ ও জনসেবার মান যাচাই করেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যেন থানায় এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার, ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান এবং রূপপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুবুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন