পাবনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পাবনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

পাবনায় ‘মেমোরিয়াল ক্লাব বুকস’ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার দিলালপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো ‘মেমোরিয়াল ক্লাব বুকস’।  সোমবার শহরের সাহিত্যপ্রেমী, সংস্কৃতি–সেবী ও বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে নতুন প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়।

দেশবরেণ্য কবি, প্রাবন্ধিক ও গবেষক মজিদ মাহমুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন। তাঁকে ঘিরে স্থানীয় কবি–সাহিত্যিকদের সঙ্গে ঢাকার অতিথিদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মজিদ মাহমুদ বলেন, ‘এটি শুধু বই কেনা–বেচার জায়গা নয়; ধীরে ধীরে সমাজ, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার এক মুক্ত মিলনমেলায় রূপ নেবে।’

অনুষ্ঠানে ঢাকার বিশিষ্ট সাহিত্যিক কবি রফিক সোলায়মান এবং পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. রুহুল আমিন, কবি ও গল্পকার আখতার জামান, গবেষক মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, চিকিৎসক ডা. সরওয়ার জাহান ফয়েজ, জোড়গাছা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হাই, শিক্ষাবিদ ফৌজিয়া আখতার এবং পাবনা জেলা রোভার সম্পাদক আলী আকবর মিয়া রাজু।

পাবনা-ঢালারচর রুটে নতুন ট্রেন চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ে দুই সচিবের রেল পরিদর্শন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন চালুর সম্ভাবনা যাচাই করতে রেল ও সড়ক ও জনপথ মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলরুট পরিদর্শন করেছেন। 

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বুড়িমারী এক্সপ্রেসের একটি বিশেষ কোচে রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম ও সড়ক ও জনপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব এহছানুল হক ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী বাইপাস রেলস্টেশনে পৌঁছান।

স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসন, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে পাকশী বিভাগ ও স্থানীয় কর্মকর্তারা। তারা ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে সচিবদ্বয়কে স্বাগত জানান। এরপর তারা বাইপাস রেলস্টেশন ঘুরে দেখেন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মুনসুর আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরুজ্জামান, পাকশী রেলওয়ে বিভাগের ব্যবস্থাপক লিয়াকত শরিফ খান এবং ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. স. ম. আব্দুন নূরসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনের পর তারা পাবনার ঢালারচর রেলস্টেশনও ঘুরে দেখেন। পরে বেড়া উপজেলার ঢালারচরে তারা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ঢাকা–পাবনা রুটে নতুন ট্রেন চালুর সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সুপ্ত শিখা স্কুলে শিক্ষাসামগ্রী পেল বিশেষ শিশুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার বেড়া উপজেলার মাসুমদিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত 'সুপ্ত শিখা স্কুলে' বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় স্কুল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ রুরাল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (ব্রেড)। সহযোগিতায় ছিল গ্লোবাল ফান্ড ফর চিলড্রেন ইউএস।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোরশেদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সুপ্ত শিখা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সালাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মোরশেদুল ইসলাম বলেন, 'প্রতিবন্ধীদের বোঝা না ভেবে, ভালোবাসা দিয়ে তাদের স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে হবে। অটিস্টিক শিশুদের শুধু পাঠ্যপুস্তকে আটকে না রেখে খেলাধুলায়ও আগ্রহী করে তুলতে হবে, যেন তারা আনন্দের মধ্য দিয়ে শেখে।' 

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'আপনারা এই বিশেষ শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে যে শ্রম দিচ্ছেন, তা প্রশংসার দাবিদার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই স্কুলের পাশে থাকার চেষ্টা করব।' 

অনুষ্ঠানে ব্রেডের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কার্যক্রম সমন্বয়কারী আশিকুর রহমান, এ এইচ এ গিফারী, বায়েজিদ বোস্তামী ও আবুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা। তারা উৎসাহ ও উচ্ছ্বাসের সঙ্গে পুরো আয়োজনে অংশ নেন।

ব্রেডের ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক: গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ রুরাল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (ব্রেড)। প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বেড়া উপজেলার নাকালিয়া মন্জুর কাদের ডিগ্রি কলেজ মিলনায়তনে শনিবার বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়।

দিনভর চলে বিভিন্ন কর্মসূচি, যার মধ্যে ছিল টি-শার্ট বিতরণ, ব্যাচ পরিধান, সেমিনার, কেক কাটা, মধ্যাহ্নভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ব্রেডের সদস্য, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

ব্রেডের নির্বাহী পরিচালক শহিদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক যুগ্ম সচিব মো: শামছুল হক। তিনি বলেন, 'গ্রামের মানুষকে উন্নয়নের মূলধারায় টেনে আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।' 

সভায় ব্রেডের উপ-পরিচালক হুমায়রা ইয়াছমিন পিয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ড. শরিফ আহমেদ চৌধুরী, উপদেষ্টা জাকিয়া শিশির, নরেশ চন্দ্র মধু এবং বেড়া প্রেসক্লাব সভাপতি ডা. মো: আব্দুল হান্নান।

ব্রেডের প্রকল্প সমন্বয়ক আশিকুর রহমান লুলু ৩০ বছরের অর্জন নিয়ে প্রেজেন্টেশন করেন। অনুষ্ঠানে চিকিৎসা ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য ডা. মো: আব্দুল হান্নান ও মরহুম ওয়ারেজ আনোয়ারকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ব্রেডের এই ৩০ বছরের যাত্রা গ্রামের মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলার এক গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পাবনা প্রেসক্লাবের ৬৪ বছর পূর্তিতে দুইদিনব্যাপী নানা আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিষ্ঠার ৬৪ বছর পেরিয়েছে পাবনা প্রেসক্লাব। বৃহস্পতিবার পদার্পণ করেছে ৬৫ তে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল রেখেছে সংগঠনটি।

এ আয়োজনে থাকছে, প্রেসক্লাব ভবন আলোকসজ্জাকরণ, শোভাযাত্রা, শুভেচ্ছা বিনিময় কর্মসূচি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এছাড়া কেক কেটে প্রতিষ্ঠা দিবস পালন করা হবে বলেও জানান আয়োজকরা।

ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার জানান, প্রতিবছরই অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আমরা পাবনার সাংবাদিকেরা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করে থাকি। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটবে না। গৃহীত কর্মসূচি অনুযায়ী ১ মে শোভাযাত্রা, শুভেচ্ছা বিনিময় ও কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হবে। এছাড়া এদিনে ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে যারা এ যাবত সভাপতি-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের জীবিত ও মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হবে। ২ মে রয়েছে সাংস্কৃতিক আয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রেসক্লাবের মূল শক্তির জায়গা পাবনার পেশাদার সকল সাংবাদিকের মধ্যে একতা ও ঐক্যবদ্ধতা। এখানে সব মতের সহাবস্থান রয়েছে। আমাদের আরেকটি ইতিবাচক জায়গা হলো, ১৯৬১ সাল থেকে এ পর্যন্ত নির্বাচনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক পন্থায় এই প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়ে আসছে। এ ক্লাব আমাদের গৌরব ও অহংকারের। বর্তমানে পাবনা প্রেসক্লাবের সদস্য সংখ্যা ৬৪।

সংগঠনটির সদস্যরা জানান, পাবনায় সাংবাদিকতা চর্চা শুরুর পর তৃণমূল পর্যায়ের সাংবাদিকতা পেশার স্বীকৃতির দাবিকে সামনে রেখে ১৯৬১ সালের ১ মে পাবনা শহরে পাবনা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি একেএম আজিজুল ইসলামের বাসা সানভিউ ভিলায় এর প্রথম কমিটি ঘোষিত হয়। সেই থেকে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় নানা প্রেক্ষাপট ও ঘটনার সাক্ষী প্রেসক্লাব। সারা দেশে সাংবাদিকদের মধ্যে বিভেদ, অনৈক্য ও একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও পাবনা প্রেসক্লাব সে ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। সকল অনৈক্যকে পায়ে ঠেলে জেলায় এক ও অভিন্ন প্রেসক্লাব হিসেবে দেশব্যাপী বিশেষ পরিচিতি বহন করে আসছে এখনো।

জানা যায়, প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার বছর ৮-৯ মে পাবনায় অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান মফস্বল সাংবাদিক সম্মেলন। যে সভা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় পূর্ব পাকিস্তান মফস্বল সাংবাদিক সমিতি, যা বর্তমানে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি হিসেবে পরিচিত। এই সম্মেলনের মাধ্যমে মফস্বল সাংবাদিকরা পেশার স্বীকৃতি তথা রিটেইনার, লাইনেজ, পোস্টাল চার্জ, টেলিগ্রাম চার্জ, ছবির বিলসহ অন্যান্য খরচ পাওয়া শুরু করেন। পাবনা প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে সংবাদপত্রে মফস্বলে কর্মরত প্রতিনিধিদের পেশার স্বীকৃতি ঘটেছিল।

পাবনার সংবাদকর্মীরা বলছেন, অতীত ঐতিহ্য ও গৌরবময় ইতিহাসে পাবনা প্রেসক্লাব আজও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের গর্বের সমীকরণ। কালের পরিক্রমায় বদলেছে ক্লাবটি। নতুন নেতৃত্ব পাওয়ার পাশাপাশি সমৃদ্ধ অর্জনও অনেক। বর্তমানে একটি ভিআইপি অডিটোরিয়াম, অত্যাধুনিক অফিস কক্ষ ও লাইব্রেরিও রয়েছে ক্লাবটিতে।

এজলাসে পুলিশকে মারধর, ঈশ্বরদীর বিএনপি ৬ নেতাকর্মী আটক

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনায় আদালতের ভেতরে শুনানি চলাকালে ভিডিও ধারণ করতে বাধা দেওয়ায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিএনপির ৬ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন- ঈশ্বরদী উপজেলা সদরের ফতে মোহাম্মদপুর নিউ কলোনি এলাকার মৃত আব্দুল ওহাবের ছেলে এবং ঈশ্বরদী পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আওয়াল কবির (৩৮), হাবিবুর রহমানের ছেলে ও পৌর ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী সরোয়ার জাহান শিশির (৩৩), দাশুড়িয়া গ্রামের মৃত আমজাদ খানের ছেলে ও দাশুড়িয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কালাম খান (৪০), এমএস কলোনি এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে ও পৌর ৪নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেন (৩৩), লোকসেড গাউছিয়া মসজিদ এলাকার মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে সবুজ হোসেন (৩৫) এবং ভাঁড়ইমারী বাঁশেরবাদা গ্রামের মৃত আব্দুল গাফফার সরদারের ছেলে ডালিম সলিমপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য জহুরুল ইসলাম।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর ঈশ্বরদীতে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সময় নাশকতার একটি মামলার শুনানি ছিল। সেই মামলায় আটককৃতরা হাজিরা দিতে এসেছিলেন। হাজিরা চলা অবস্থায় তারা এজলাসে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে থাকেন। এ সময় সেখানে থাকা পুলিশ সদস্য শাহ আলম তাদের ছবি তুলতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই পুলিশ‌সদস্যকে মারধর করেন। এ সময় আদালতের আইনজীবী ও উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আদালতের শুনানি শেষে তাদের আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) রাশেদুল ইসলাম জানান, সঙ্গে সঙ্গে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে পাবনা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আইনজীবী মাসুদ খন্দকার বলেন, আদালতের এজলাসে এ ধরনের ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো নয়। বিএনপির কেউ যদি সত্যিই এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তবে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাবনায় মধ্যরাতে মহাসড়কে গাছ ফেলে গণডাকাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনায় মধ্যরাতে মহাসড়কের ওপর গাছ ফেলে বাস-ট্রাকসহ অন্তত ৪০টি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে পাবনা-সাঁথিয়া মহাসড়কের ছেচানিয়া ব্রিজের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবু বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। এখনো বিস্তারিত জানি না। তবে ওই রাস্তাটি খুব বেশি ব্যস্ত না হলেও বেড়া-বাঘাবাড়ি হয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বেশ কিছু গাড়ি ওই রাস্তা দিয়ে যায়। হয়তো এটি ডাকাতরা জেনেই গাছ ফেলে ডাকাতি করেছে।’

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত দেড়টার দিকে ছেচানিয়া ব্রিজের পাশে মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রথমে একটি পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রাখে ডাকাত দলের সদস্যরা। এতে কিছু সময়ের মধ্যেই বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও হাইয়েচসহ প্রায় ৪০টি গাড়ি আটকা পড়ে। এ সময় ৪০-৫০ জন হাসুয়া, রামদা, ছুরি, চাকুসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রের মুখে পর্যায়ক্রমে গাড়িগুলোতে ডাকাতি করে। গেট খুলতে দেরি করায় কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে তারা। এ সময় পরিবহণ শ্রমিক ও যাত্রীদের মারধর করে তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইলফোন, টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ তাণ্ডব চলে।

ডাকাতির কবলে পড়া আব্দুস সালাম নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে ভিডিওতে বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে এই সড়কে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ডাকাতি করেছে। হুট করে আমাদের গাড়িতে আক্রমণ করে ডাকাতদলের সদস্যরা। বারবার গাড়িতে আঘাতের পর আমরা ড্রাইভারকে গেট খুলে দিতে বললে ডাকাতরা ঢুকে ড্রাইভারের গলা ও পেটে চাকু ধরে। একইভাবে অন্যদেরও জিম্মি করে সব লুটে নিয়ে যায়। আমরা বলেছি, ভাই যা আছে সব নেন, কিন্তু কাউকে আঘাত কইরেন না। আমাদের গাড়িতে কাউকে আঘাত করেনি। অনুরোধ করায় আমার দুটি মোবাইলফোন দিয়ে যায়।’ 

আব্দুস সালাম আরও বলেন, ‘একটা হাইয়েচে করে দেশে ফিরছিলেন এক প্রবাসী। ওই গাড়িতে আক্রমণ করে কয়েকজনকে মারধর করে সব লুটে নিয়ে গেছে। একইভাবে সব গাড়িতে পর্যায়ক্রমে ডাকাতি চালায়। গাড়ি ভাঙচুর ও অনেককেই মারধর করে।’ 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ পাঠানো হয়। সুনির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও কয়েকটি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাবনায় বিএনপির জনসভা কাল, ঐতিহাসিক জমায়েতের আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার পাবনায় জনসভা করবে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই জনসভায় স্মরণকালের সর্বোচ্চ জনসমাগম ঘটানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি।

সোমবার সন্ধ্যায় পাবনার পিসিসিএস রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা বিএনপির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে জনসভার প্রস্তুতি সম্পর্কে কথা বলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

তারা জানান, পাবনায় দেশের অন্যতম বৃহৎ আটরশি দরবার শরীফের মাহফিল থাকায় গণপরিবহনে সংকট দেখা দিলেও বিএনপি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের আশা, হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ এই জনসভায় অংশ নেবেন এবং এটি পাবনার ইতিহাসে সর্ববৃহৎ জনসমাগম হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ মন্ট, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু ওবায়েদ শেখ তুহিন, নুর মোহাম্মদ মাসুম বগা, সাবেক সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমান, জেলা মহিলা দলের সভাপতি পূর্ণিমা ইসলাম, জেলা যুবদলের সভাপতি হিমেল রানা, ড্যাব পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান এবং জেলা জাসাসের আহ্বায়ক খালেদ হোসেন পরাগ।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ হাসান টুকু। অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী ও ইথুন বাবু সংগীত পরিবেশন করবেন।

পাবনায় পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনায় “মানব সম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কৌশল নির্ধারণ” শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি বুধবার পাবনা জেলা পরিষদের রশিদ হলে পাবনা প্রতিশ্রুতির আয়োজনে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিকেএসএফ-এর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোঃ জসীম উদ্দিন। তিনি বলেন, “পিকেএসএফ মানুষকে ঋণ দিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার নির্মাণে উৎসাহিত করেছে। আগে যেখানে মানুষ ঘরের মধ্যে শৌচাগারের কথা চিন্তাও করত না, এখন তারা সেটি প্রথমেই খোঁজে।” তিনি আরও যোগ করেন, “স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার বলতে শুধু শৌচাগারই নয়, পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাও থাকা জরুরি। সুস্থ থাকতে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন পাবনা প্রতিশ্রুতির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার খালেদ হাসান টিপু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন "আত্মবিশ্বাস" এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আকরামুল হক বিশ্বাস। এছাড়াও ওসাকার নির্বাহী পরিচালক কবি ও প্রাবন্ধিক মজিদ মাহমুদ, নিউ এরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম এবং পিসিডির নির্বাহী পরিচালক শফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি উন্নয়নের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও মতবিনিময় হয়।

কর্মশালায় পিকেএসএফ-এর মহাব্যবস্থাপক হুমায়ন আজম, ব্যবস্থাপক মোঃ জাহিদ হোসেন, নিউ এরা ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোস্তাক আহমেদ কিরণ, ওসাকার জ্যেষ্ঠ পরিচালক মোঃ মাজাহারুল ইসলাম, পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম, পাবনা প্রতিশ্রুতির পরিচালক (অর্থ) আব্দুল ওয়াদুদ, পরিচালক (কার্যক্রম) খোন্দকার বোরহানুর হাসান এবং আত্মবিশ্বাসের পরিচালক রফিকুল হাসানসহ পিকেএসএফ-এর সহযোগী ৮টি সংস্থার ৫৫ জন শাখা ব্যবস্থাপক, এলাকা ও আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় “মানব সম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি” বিষয়ক একটি ভিডিও চিত্রও উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন পাবনা প্রতিশ্রুতির পরিচালক মো. মনির হোসেন।

এই কর্মশালার মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি উন্নয়নের মাধ্যমে মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হয়েছে।

পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতার, সম্পাদক জহুরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা প্রেস ক্লাবের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে আখতারুজ্জামান আখতার (যুগান্তর, চ্যানেল আই) সভাপতি এবং জহুরুল ইসলাম (কালবেলা) সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। পরে গণনা শেষে রাত ৮টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনে অন্যান্য পদে বিজয়ীরা হলেন- সহ-সভাপতি ছিফাত রহমান সনম (দৈনিক ইছামতি) ও এসএম আলাউদ্দিন (নয়া দিগন্ত)।

যুগ্ম-সম্পাদক পদে মোখলেছুর রহমান খান বিপ্লব (দৈনিক ইছামতি), অর্থ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ (আরটিভি), ক্রীড়া সম্পাদক পদে ইমরোজ খন্দকার বাপ্পী (জিটিভি), কল্যাণ সম্পাদক পদে কলিট তালুকদার (যমুনা টেলিভিশন)‌ নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন আবু হাসনা মুহাম্মদ আইয়ুব (আজকের ইতিহাস), রফিকুল ইসলাম সুইট (বাসস), শাহীন রহমান (চ্যানেল ২৪ ও আজকের পত্রিকা), জিকে সাদী, আরিফ আহমেদ সিদ্দিকী (যায় যায় দিন), সুশীল কুমার তরফদার ও মিজানুর‌ রহমান (বৈশাখী টেলিভিশন)।

মোট ৬২ জন ভোটারের মধ্যে ৫৭ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট মির্জা আজিজুর রহমান। নির্বাচন কমিশনার ছিলেন অ্যাডভোকেট শাজাহান আলী মণ্ডল ও অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম।

নবনির্বাচিত সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে প্রেসক্লাবের আজকে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। পাবনার সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে কাজ করব ইনশাআল্লাহ।

ঝুট কাপড়ে হোসিয়ারিশিল্প: পাবনায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনায় ঝুট কাপড় ব্যবহার করে হোসিয়ারি শিল্পে এসেছে এক নতুন দিগন্ত। দেশের বিভিন্ন কারখানায় পরিত্যক্ত ঝুট কাপড় এখন পাবনার ছোট-বড় উদ্যোক্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালে পরিণত হয়েছে। এই কাপড় থেকে তৈরি হচ্ছে শার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জি, টাওয়েলসহ বিভিন্ন হোসিয়ারি পণ্য, যা স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও চাহিদা পেয়েছে।

ঝুট কাপড় ব্যবহার করার ফলে উৎপাদন খরচ কমেছে প্রায় ২০-৩০ শতাংশ, যা এই শিল্পের প্রসারের একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঝুট কাপড় ব্যবহার করে হোসিয়ারি পণ্য উৎপাদনকে আরও লাভজনক হিসেবে পাচ্ছেন। এতে যেমন তাদের ব্যবসায়িক লাভ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। পাবনার হাজারো মানুষ এই শিল্পের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

পাবনার একাধিক হোসিয়ারি কারখানার মালিক জানান, ঝুট কাপড় ব্যবহার করে পণ্যের উৎপাদনশীলতা যেমন বেড়েছে, তেমনি পণ্যের গুণগত মানও উন্নত হচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে এই পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

কিছু উদ্যোক্তা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন, যেন এই শিল্পের প্রসার ও উন্নয়নে আরও সহায়ক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ব্যাংক ঋণ সহজলভ্যতা, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো গেলে এই শিল্প আরও শক্তিশালী হতে পারবে।

এই ধরনের সরকারি সহায়তা থাকলে পাবনার ঝুট কাপড়ভিত্তিক হোসিয়ারি শিল্প দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। তাছাড়া, এই উদ্যোগ অন্যান্য জেলায়ও অনুকরণীয় হতে পারে, যা দেশের হোসিয়ারি শিল্পের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

সারমর্মে, ঝুট কাপড়ে হোসিয়ারি শিল্পের বিকাশ পাবনা জেলাকে শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকে সমৃদ্ধই করছে না, বরং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে। এভাবে এই শিল্পের উন্নয়নে পাবনা একটি উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও একটি অনুপ্রেরণা যোগাবে।


পাবনায় অতিরিক্ত মদপানে দুইজনের মৃত্যু, অসুস্থ ৩

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চরভাঙ্গুড়া গ্রামে অতিরিক্ত মদপানে ২ জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাতে এক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়।


মৃতরা হলেন- উপজেলার চর ভাঙ্গুরা গ্রামের রামচন্দ্র ঘোষের ছেলে রবীন ঘোষ (২৫) ও মানিক চৌধুরীর ছেলে হৃদয় চৌধুরী (১৭)। ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম দু’জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গাপূজার উৎসব পরবর্তী আনন্দে সোমবার সন্ধ্যার পর বন্ধুদের সঙ্গে অতিরিক্ত মদপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন উপজেলার চরভাঙ্গুড়া গ্রামের ঘোষপাড়ার পাঁচ যুবক। তারা পরস্পরের বন্ধু। তাদেরকে সোমবার রাতে প্রথমে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে হৃদয় চৌধুরীর মৃত্যু হয়। আর রবিন ঘোষকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. উজ্জল হোসেন বলেন, দুইজন মারা যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। আর গুরুতর অসুস্থ তিনজনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।


ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মদপান করে পাঁচজন অসুস্থ হয়েছিল। তার মধ্যে দুইজন মারা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

পাবনায় কলেজছাত্রকে হত্যার দায়ে তিনজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার আমিনপুর থানা এলাকার কলেজছাত্র আব্দুল গাফফার মাছুমকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পাবনার বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আহসান তারেক এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিরাজগঞ্জের চৌহালী থানার মিনিদিয়ার চর এলাকার নুরাল মেম্বারের ছেলে মো. আজিম (৩৫), চৌহালীর বাউসা এলাকার ওহাব মোল্লার ছেলে মো. শহিদুল (২৮) এবং একই এলাকার মৃত মছলত সরদারের ছেলে ছাবেদ আলী (৩০)। আসামিরা রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল গাফফার মাছুম সুজানগরের দুলাই ডা. জহরুল কামাল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৯ আগস্ট কলেজে ক্লাস চলাকালীন সময় মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয়ের কথা বলে কৌশলে অপহরণ করেন তার চাচাতো দুলাভাই মো. আজিম। পরের দিন মাছুমের ফোনে কল করা হলে অজ্ঞাত পরিচয়ে একজন জানান মাছুমকে অপহরণ করা হয়েছে। মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় দুলাভাই মো. আজিমকে সন্দেহ করে তার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। পরে আজিমকে জিজ্ঞাসাবাদে মাছুমকে অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা করে মরদেহ যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনার তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর আজিমসহ আরও তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। পরে রমজান নামের এক আসামির মৃত্যু হলে তিনজনের বিচার শেষে আজ এই রায় দেন আদালত।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট দেওয়ান মজনুল হক এবং আসামিপক্ষে শুনানি করেন শফিকুল ইসলাম সুমন ও কামাল আহমেদ। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট হলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী।

চার দিনের সফরে পাবনায় পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি

পাবনা প্রতিনিধি: চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চতুর্থবারের মতো নিজ জেলা পাবনায় পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি রোববার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে পাবনার শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে পৌঁছান।

এ সময় পাবনার জেলা প্রশাসক মুহা. আসাদুজ্জামান, পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে শুভেচ্ছা জানান। সেখান থেকে পাবনা সার্কিট হাউসে উপস্থিত হয়ে রাষ্ট্রপতি গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।

পাবনার জেলা প্রশাসক মুহা. আসাদুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি চতুর্থবারের মতো নিজ জেলা পাবনায় ইতোমধ্যে পৌঁছেছেন। তাকে শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির পাবনা সফরকে ঘিরে ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তার সফর যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় সেজন্য প্রশাসন তৎপর থাকবে।

জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি সার্কিট হাউসে পৌঁছে গার্ড অব অনার শেষে বিশ্রাম গ্রহণ করবেন। তিনি রাতে সার্কিট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন।

এরপর তিনি আগামীকাল ১০ জুন বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে পাবনার সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। দুপুর ১টার দিকে সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। এরপর ১১ জুন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন। ১২ জুন দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে পাবনা থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতির পাবনা সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে চলছে আনন্দ উৎসব। অভিনন্দন জানিয়ে জেলা শহরজুড়ে ব্যানার-ফেস্টুন টানাচ্ছে নেতাকর্মীরা। এর আগের কয়েকটি সফরে তিনি পাবনার উন্নয়নমূলক বেশ কিছু কাজের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেগুলো বাস্তবায়নের পথে। এ সফরেও বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজের ঘোষণার আশা করছেন পাবনাবাসী।

পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাষ্ট্রপতির পাবনা সফরকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা পাবনায় আসেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার স্মৃতিবিজড়িত লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, প্যারাডাইস সুইটস অ্যান্ড মিষ্টান্ন ভাণ্ডার পরিদর্শন করেন। পাবনা প্রেসক্লাবে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর পাবনা মিডিয়া সেন্টার ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি শেখ কামাল হাইটেক পার্ক ও রাজাপুরে হেলিপ্যাড নির্মাণের ঘোষণা দেন।

৪ দিনের সফরে পাবনা যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রোববার নিজ জেলা পাবনায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে পাবনার জেলা প্রশাসক মুহা. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার মো. মামুনুল হক স্বাক্ষরিত সফরসূচি থেকে জানা গেছে, রোববার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ঢাকা থেকে রাষ্ট্রপতি হেলিকপ্টারযোগে পাবনায় পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে পৌঁছে গার্ড অব অনার শেষে বিশ্রাম নেবেন এবং রাত্রিযাপন করবেন।

সোমবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে পাবনার সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। দুপুর ১টার দিকে সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন এবং সার্কিট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন। এরপর ১১ জুন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন। দুপুর ১টার দিকে সার্কিট হাউজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। ১২ জুন দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে পাবনা থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন রাষ্ট্রপতি।

এদিকে জেলাজুড়ে রাষ্ট্রপতির পাবনা সফরকে কেন্দ্র করে চলছে আনন্দ উৎসব। অভিনন্দন জানিয়ে জেলা শহরজুড়ে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙাচ্ছে নেতাকর্মীরা। এর আগের কয়েকটি সফরে তিনি পাবনার উন্নয়নমূলক বেশ কিছু কাজের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেগুলো বাস্তবায়নের পথে। এ সফরেও বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজের ঘোষণার আশা করছেন পাবনাবাসী।

পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী বলেন, রাষ্ট্রপতির পাবনা সফরকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বস্তরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

পাবনার জেলা প্রশাসক মুহা. আসাদুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রপতির পাবনা সফরকে ঘিরে ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। তার চতুর্থবারের মতো নিজ জেলা পাবনা সফর যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় সেজন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

চুরি করে পালানোর সময় গণপিটুনিতে নিহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গরু চুরি করে পালানোর সময় গণপিটুনিতে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ৬ জানুয়ারি শনিবার  ভোরে উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, পাবনার চাটমোহর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের গোলাপ হোসেনের বাড়ি থেকে ২টি গরু চুরি করে নৌকায় গুমানী নদী পথে পালাচ্ছিলেন চোরের দল। এ সময় স্থানীয় লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে চোরচক্রের সদস্যদের ধাওয়া দেয়। চোরচক্রের সদস্যরা নৌকা থেকে গরুগুলো ফেলে দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পথে ভাঙ্গুড়ার বেতুয়ান ঘাটে তিনজনকে গণপিটুনী দিলে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। চোরচক্রের ধারালো অস্ত্রাঘাতে স্থানীয় তিন যুবক আহত হন। তাদের ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ভাঙ্গুড়ার দিলপাশার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলেন, রাতে পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে যায়। তবে এর আগেই উত্তেজিত জনতার পিটুনিতে ওই তিন যুবক নিহত হন। গত দুই সপ্তাহ ধরে এলাকায় গরু চোরের উৎপাত বেড়েছে। অনেকের বাড়ি থেকে গরু চুরিও হযেছে। ঊর্ধ্বতন মহলকে বিষয়টি অবগতও করা হয়েছিল।

ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিহত ব্যক্তিদের নামপরিচয় পাওয়া যায়নি। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

পাবনায় আ. লীগ ও ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম মিন্টু ও পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সবুজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ২ জানুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাবনার ৪নং আমলী আদালত এবং রাতে চাটমোহর থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউর রহমান ও চাটমোহর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন মামলা দায়েরের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তিনি নিজে বাদী হয়ে মন্ডতোষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম মিন্টুর বিরুদ্ধে ৪নং আমলী আদালত (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া) এ মামলা করেন।

তিনি আরও জানান, আদালতের বিচারক ফারহানা ইয়ামিম মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। আগামী ১৪ জানুয়ারি আসামি নুর ইসলাম মিন্টুকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর ভাঙ্গুড়া উপজেলার মল্লিকচক গ্রামে স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় মন্ডতোষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম মিন্টু বক্তব্য দেন, ‘ভোট হবে একমাত্র নৌকার, এর বাইরে কোনো লোক বা এজেন্ট থাকবে না। আফসারের সাঙ্গ পাঙ্গদের হাড়-হাড্ডি ভেঙে এলাকা থেকে শেষ করে দেবেন’ মর্মে হুমকি ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

তার এই বক্তব্য সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ১১(ক) এর বিধান লঙ্ঘন করেছেন মর্মে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের জন্য নির্দেশ দেন নির্বাচন কমিশন।

১ জানুয়ারি সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-সচিব (আইন) আব্দুছ ছালাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের আলোকে মামলা দায়ের করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।

এদিকে একইভাবে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সবুজের বিরুদ্ধে চাটমোহর থানায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাটমোহর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) রাতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২ ডিসেম্বর চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত পথসভায় মিজানুর রহমান সবুজ ‘পাবনা-৩ আসনে মকবুল চাচা ছাড়া কেউ ভোট করতে পারবে না। যারা নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান করবে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম’ মর্মে হুমকি ও উষ্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

তার এই বক্তব্য সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ১১(ক) এর বিধান লঙ্ঘন করেছেন মর্মে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার দায়েরের জন্য নির্দেশ দেন নির্বাচন কমিশন।

১ জানুয়ারি সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-সচিব (আইন) আব্দুছ ছালাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের আলোকে মামলার এজাহার দায়ের করেন চাটমোহর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।

চাটমোহর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা বলেন, ‘মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নং ৬। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।’

এ বিষয়ে মন্ডতোষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম মিন্টুর সঙ্গে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সবুজ বলেন, ‘মামলার বিষয়টি অবহিত হয়েছি। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনগতভাবেই আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করবো। আর এই মামলা প্রমাণ করে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।’

স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস ও সাংবাদিকের বাড়িতে ভাঙচুর


নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হামিদ মাস্টারের ট্রাক প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে হামলা ও পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ উঠেছে নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে স্থানীয় সাংবাদিকের বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলাকারীরা নানারকম হুমকি-ধমকি দিয়ে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। 

২২ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে এবং ২৩ ডিসেম্বর শনিবার বিকেলে দুই দফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। অপরদিকে পাল্টা মামলা করেছে অভিযুক্তদের একজন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল লতিফ রঞ্জু জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে নৌকা প্রতীকের একদল সমর্থক রেলবাজার এলাকায় মিছিল করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হামিদ মাস্টারের ট্রাক প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। এ নিয়ে ট্রাক প্রতিকের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। এই ঘটনার জেরে রাত সোয়া ২টার দিকে ব্যবসায়ী ফুরকান আলী বিশ্বাস, তার শ্বশুর এসএম আলম বাবলুর নেতৃত্বে ৫ জন লোক আমার বাসার প্রধান ফটকে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এ সময় তারা বাসা সংলগ্ন আমার ওষুধের দোকানে সাটার ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে দোকানের সামনে থাকা একটি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।

এদিকে শনিবার বিকেলে নৌকার সমর্থকরা রেলবাজার এলাকায় ওই সাংবাদিকের বাড়ির পাশে অবস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর ট্রাক প্রতীকের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করে এবং আবারও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি পাবনা-৩ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ তাজউল ইসলাম, চাটমোহর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার হাবিবুল ইসলাম ও চাটমোহর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ওসি সেলিম রেজা বলেন, শনিবার উভয়পক্ষ পৃথক দু’টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। দুটি অভিযোগই মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হামিদ মাস্টার বলেন, ‘প্রচারণার শুরু থেকেই নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা একের পর এক হুমকি ধামকি দিয়ে চলেছে। এখন শুরু করেছে ভাঙচুর। ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তাদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর নির্বাচনের বিষয় নিয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর ন্যাক্কারজনক। আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমি নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির কাছে অভিযোগ করব।’

এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত ফুরকান আলী বিশ্বাসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি তো হামলা করিনি। বরং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছেলে ও সাংবাদিকের ভাইসহ তাদের কিছু লোকজন ওইদিন রাতে আমাকেই মারধর করেছে। হামলা ভাঙচুর করলে কি আমি এখন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকি ভাই।’

পাবনায় ছাত্রলীগের সভায় হামলা-ভাঙচুর, সভাপতি আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত পাবনা জেলা ছাত্রলীগের বর্ধিত সভায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সবুজ আহত হয়েছেন। ১৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পাবনা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনের ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নির্বাহী সদস্য মুস্তাকিম মুহিব ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শীষ হাসানের নেতৃত্বে একদল যুবক এ হামলা করেছে বলে অভিযোগ জেলা ছাত্রলীগ নেতাদের।

প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রলীগ নেতারা জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য কর্মীদের নির্দেশনা দিতে বৃহস্পতিবার দলীয় কার্যালয়ে বর্ধিত সভা আহ্বান করে জেলা ছাত্রলীগ। সভার শুরুতেই শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে নীরবতা পালনের সময় হঠাৎ করেই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মুস্তাকিম মুহিব ও শীষ হাসানের নেতৃত্বে একদল যুবক এসে সভা আয়োজনে তাদের পরামর্শ নেওয়া হয়নি অভিযোগ তুলে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মিজানুর রহমান সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক মীর রাব্বিউল ইসলাম সীমান্তকে ধমকাতে শুরু করেন।

এ সময় তারা আগতদের বসতে বললে তারা চেয়ার ভাঙচুর শুরু করেন ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। আকস্মিক হামলায় নেতাকর্মীরা ছোটাছুটি শুরু করলে সভাপতি সবুজ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ সাবেক নেতারা চেয়ার তুলে আঘাত করলে কপালে লেগে আহত হন সবুজ। পরে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে সভাস্থল ত্যাগ করেন হামলাকারীরা। এরপর জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে আবারো সভা শুরু করেন।

পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর রাব্বিউল ইসলাম সীমান্ত বলেন, কতিপয় চিহ্নিত যুবক প্রকাশ্যে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা ছাত্রলীগের কেউ না। পরিকল্পিতভাবে তারা আক্রমণ ও সভা পণ্ডের চেষ্টা করেছে। আমরা এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেব।

পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনের ছেলে মুহিব ছাত্রলীগে সক্রিয় নয়। তারা কোনো কারণ ছাড়াই হামলা করেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

তবে অপ্রীতিকর ঘটনার কথা স্বীকার করলেও হামলার ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি মুস্তাকিম মুহিবের। 

তিনি বলেন, আমরা ছাত্রলীগের সাথে দীর্ঘদিন জড়িত। এই সভাপতি-সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার বছর পেরিয়ে গেলেও তারা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করেনি। নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন দলীয় কার্যক্রমও তারা স্বৈরাচারী প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করে। নির্বাচনী কমিটিগুলোতে কেন আমাদের রাখা হচ্ছে না তা জানতে আমরা গিয়েছিলাম। এ সময় তারা আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে বঞ্চিত কর্মীদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টিকে হামলা বলে ঘটনা ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দলীয় কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী বলেন, জেলা ছাত্রলীগের সভায় একটি ঘটনা ঘটেছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কেউ অভিযোগ দেয়নি।

১৫ বছরে টুকুর আয় বেড়েছে ১৩ গুণ, সম্পদ ১৪৬ গুণ


জেলা প্রতিনিধি: গেল ১৫ বছরে অর্থাৎ তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন মেয়াদে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুর বার্ষিক আয় বেড়েছে ১৩ গুণ। আর এই সময়ের মধ্যে তার অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১৪৬ গুণ।

শামসুল হক টুকুর দাখিল করা নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

হলফনামায় দেখা গেছে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় শামসুল হক টুকু বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ২ লাখ ৫ হাজার টাকা। আর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিলকৃত হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ২৬ লাখ ৮৪ হাজার ৫৭৮ টাকা। অর্থাৎ গেল ১৫ বছরে (তিন সংসদ মেয়াদে) তার আয় বেড়েছে ১৩ গুণ।

অপরদিকে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি অস্থাবর সম্পদের হিসেব দিয়েছিলেন ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। আর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি দেখিয়েছেন ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪ হাজার ৫৫৩ টাকা। অর্থাৎ তার বর্তমান অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১৪৬ গুণ।    

হলফনামা সূত্রে আরও জানা যায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে তার বার্ষিক আয় ছিল ১৫ লাখ ১৯ হাজার ২৪১ টাকা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে সেটি ছিল ১১ লাখ ৪ হাজার ২৮৯ টাকা। অনুরূপভাবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অস্থাবর সম্পদ ছিল ১৩ কোটি ৭৪ লাখ ৬ হাজার ৯৭১ টাকা সমমূল্যের। একাদশে গিয়ে সেই সম্পদ দাঁড়ায় ১২ কোটি ৩৬ লাখ ২ হাজার ৫৪৬ টাকা।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৩ কাঠা জমির মালিকানা দেখিয়েছিলেন। পরবর্তী দশম ও একাদশ এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় সেটির তথ্য উল্লেখ নেই। নবম হলফনামায় তার ৮ তোলা স্বর্ণ থাকলেও পরবর্তী দশম, একাদশ ও দ্বাদশে এসে সেটি ১০ তোলায় পরিণত হয়েছে। যার দাম ধরা হয়েছে ১০ হাজার টাকা তোলা। নবম হলফনামায় কোনো যানবাহন খরচ বা সম্পদ দেখানো হয়নি। দশমে ৭১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৫ টাকা, একাদশে ৯৩ লাখ টাকা এবং দ্বাদশে ৭৬ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।

নবম সংসদের হলফনামায় তার স্ত্রীর নামে নগদ ছিল ৮ হাজার টাকা। ব্যাংকে ছিল ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণ ছিল। যার মূল্য ৫ হাজার টাকা তোলা হিসেবে ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া ২০ লাখ টাকা মূল্যের অর্ধেক বাড়ির শেয়ার ছিল। দশম সংসদের হলফনামায় এসে সব মিলিয়ে দেখানো হয় ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৫ হাজার ৮০ টাকা। ১০ লাখ টাকা মূল্যের একটি বাসা, একটি ওয়ারিশ ও দুইটি হেবা সূত্রে ৪৪ লাখ টাকা সমমানের সম্পদের মালিক হন। একাদশে এসে সব মিলিয়ে তিনি ৬৬ লাখ ৭২ হাজার ৮৩ টাকা সম্পদের মালিক হিসেবে হলফনামায় দাখিল করা হয়েছে।

এদিকে দ্বাদশ নির্বাচনের হলফনামায় তার স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ বিবরণী দেওয়া হয়নি। দ্বাদশ হলফনামায় তিনি একটি ব্যাংক থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার ঋণ গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন। আর একাদশে তিনটি ব্যাংক, দশমে তিনটি ব্যাংকের ঋণের তথ্য দাখিল করেছিলেন।

এবারের হলফনামায় তার একটি পিস্তল রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৮৬ হাজার ৯০০ টাকা। স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ দেখিয়েছেন ৩ কোটি ৭১ লাখ ৪১ হাজার ৩৬৬ টাকা। এছাড়া নিজের নামে ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ও ৫০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে। তার নগদ অর্থ রয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৪৭ লাখ ৬ হাজার ২৮৭ টাকা।

শামসুল হক টুকুর শিক্ষাগত যোগ্যতা এম কম, এলএলবি। পেশা আইনজীবী। তিনি এই পেশা থেকে বার্ষিক ২ লাখ টাকা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাবদ বছরে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় করেন। আর সম্মানীভাতা বাবদ তিনি বছরে আয় দেখিয়েছেন ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু নিজ নির্বাচনী এলাকায় পৈত্রিক ভিটা ও পাবনা শহরে একটি বাড়ি রয়েছে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন