মামলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মামলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে সংঘর্ষ: বিএনপি নেতার মামলায় জামায়াতের এমপি প্রার্থীসহ ৩১ জনের জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাঁধন হাসান আলিমের করা মামলায় পাবনা-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মন্ডলসহ ৩১ নেতাকর্মীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার পাবনা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক (ভারপ্রাপ্ত) তরিকুল ইসলাম তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে শনিবার উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ও চরগড়গড়ি গ্রামের মক্কেল আলী মৃধার ছেলে বাঁধন হাসান আলিম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় পাবনা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মন্ডলসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সুলতান মাহমুদ এহিয়া জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজ  বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতারা ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা করেছিলেন। এ মামলায় সংসদ সদস্য প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়। আজ আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক ৩১ জনের জামিন মঞ্জুর করেন।

তিনি আরও বলেন, তুষার নামের আরেক আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার জামিন মঞ্জুর করা হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি যগির মোড়ে নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিএনপি -জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই দলের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হন ছয়জন।

ঈশ্বরদীতে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ: পাল্টাপাল্টি মামলা


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে গত বৃহস্পতিবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর দুই দল পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. স. ম. আব্দুন নুর শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুপুরে মামলা দুটি নথিভুক্ত হয়েছিল।

ওসি জানান, সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার ছেলে বাঁধন হাসান আলিম ৩২ জন জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন। এছাড়া আরও ১৫০ থেকে ২০০ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলকে।

অপরদিকে, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম ৩৮ জন বিএনপির নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধাকে। এছাড়া ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের আত্মীয় ও অনুসারী।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটায় ঈশ্বরদী উপজেলার চর গড়গড়ি গ্রামে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক নেতা-কর্মী এলাকা থেকে সরে পড়েছেন।

এদিকে শনিবার বিকেলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব পাবনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ‘জামায়াতের লোকজন গ্রামের মহিলা ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে। এতে জনতা তাদের প্রচারণার প্রতিবাদ করেছে। তারা চর গড়গড়ি গেলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায় তারা স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি সমর্থকদের ওপর গুলি চালায় এবং হামলা চালায়।’

হাবিব আরও জানান, ‘তুষার নামের একজন জামায়াত কর্মী, যিনি মনোনীত প্রার্থী তালেবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনায় বিএনপির ১১ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।’

অন্যদিকে একই দিন বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামী তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে।

জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন, ‘হামলায় আমাদের ৫০ জনের বেশি সদস্য আহত হয়েছেন। পাশাপাশি শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বলেন, ‘যে ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করছিল, তাকে চিনি না। এটি আমাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির সমর্থকেরা আমাদের লোকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এখন তারা আমাদের দোষারোপ করছে।’

ঈশ্বরদীতে ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় মুক্তিযোদ্ধা চান্না মন্ডল গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা ওরফে চান্না মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি।

বুধবার রাতে পৌর শহরের স্টেশন রোড এলাকার নিজ বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।

ঈশ্বরদী থানার ওসি এ.এস.এম. আব্দুন নূর বলেন, ‘আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা মামলার তদন্তে গোলাম মোস্তফার সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।’

ঈশ্বরদীতে সংবাদ সম্মেলনে চেক জালিয়াতি মামলায় নির্দোষ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, 'ঢাকায় তার স্বাক্ষর থাকা একটি ফাঁকা চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার জালিয়াতির মামলা দায়ের হয়েছে।'

শনিবার ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তরিকুল জানান,  '২০১৩ সালের ৩ মার্চ তিনি ঢাকার মতিঝিলের কারমো ফোম অ্যান্ড অ্যাডহেসিভ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে যোগদান করেন। প্রথমদিকে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ করেন, পরে বিপণন বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পান। ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কোম্পানির হিসাব পর্যালোচনা করার সময় দেখা যায়, বাজার থেকে কোম্পানির কাছে তার পাওনা ছিল প্রায় তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। অন্যদিকে, কোম্পানি থেকে তার ব্যক্তিগত পাওনা ছিল পাঁচ লাখের কাছাকাছি।'

তরিকুল অভিযোগ করেন, 'ওইদিন সন্ধ্যায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন মফিজুর রহমান বাবুল, পরিচালক মো. আওলাদ হোসেন তুহিন, ভ্রাম্যমাণ বিভাগের কর্মকর্তা মো. ওমর চিশতী ও হিসাবরক্ষক ইয়াসিন মাসুদ মিলে তাকে জোরপূর্বক একটি ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর করান এবং একটি চুক্তিপত্রে সই করানো হয়। এরপর থেকে তাকে অফিসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়, হাজিরা বন্ধ করা হয় এবং বেতনও দেওয়া হয় না। অন্য কোনো স্থানে কাজ করতে চাইলেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে ২০১৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।'

এক বছর পর, ২০১৬ সালে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার স্বাক্ষর থাকা ফাঁকা চেকে ইচ্ছামতো প্রায় ৩৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা লিখে জালিয়াতির মামলা করেন। তরিকুল অভিযোগ করেছেন, এই মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো।

তিনি জানান, আগে থেকেই জোরপূর্বক নেওয়া ওই চেক নিয়ে থানায় জিডি দিয়েছিলেন এবং সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় দলিল আদালতে জমা দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

তরিকুল আরও বলেন, দীর্ঘ সময় বেকার থাকার কারণে তিনি মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এই মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলা: ফাঁসির ৯ আসামিসহ সবাই খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ফাঁসির ৯ আসামিসহ সাজাপ্রাপ্ত সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। 
 
বুধবার বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলাম ও বিচারপতি হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ ও অ্যাডভোকেট জামিল আক্তার এলাহী । ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত থেকে খালাস পাওয়া ৯ আসামি হলেন, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি, বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নির্বাহী সদস্য মোখলেছুর রহমান বাবলু, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাকারিয়া পিন্টু, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এ কে এম আক্তারুজ্জামান, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শামসুল আলম, সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহীন, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অটল, ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি  আজিজুর রহমান শাহীন, ঈশ্বরদী পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নূরে মোস্তফা  শ্যামল এবং ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাহাবুবুর রহমান পলাশ। ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা 'রূপসা এক্সপ্রেস' ট্রেনযোগে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে সভা করার কথা থাকলেও বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুসহ তার নেতৃত্বে মামলার অন্যান্য আসামিরা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঈশ্বরদী স্টেশন এলাকায় ট্রেনে গুলি ও বোমা বর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী জিআরপি থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওইদিনই একটি মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল ৫২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। এদের মধ্যে পাঁচ জন মারা গেলে তাদের চার্জশিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১৯ সালে ৩ জুলাই জাকারিয়া পিন্টুসহ ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। সেই সঙ্গে ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১৩ জনকে ১০ বছর মেয়াদ কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়। পরে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি খালাস চেয়ে আপিল করেন আসামিরা। সেসব আবেদনের শুনানি শেষে রায় ঘোষণা করলেন হাইকোর্ট।

পাবনায় আ. লীগ ও ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম মিন্টু ও পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সবুজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ২ জানুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাবনার ৪নং আমলী আদালত এবং রাতে চাটমোহর থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউর রহমান ও চাটমোহর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন মামলা দায়েরের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তিনি নিজে বাদী হয়ে মন্ডতোষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম মিন্টুর বিরুদ্ধে ৪নং আমলী আদালত (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া) এ মামলা করেন।

তিনি আরও জানান, আদালতের বিচারক ফারহানা ইয়ামিম মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানি শেষে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। আগামী ১৪ জানুয়ারি আসামি নুর ইসলাম মিন্টুকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৭ ডিসেম্বর ভাঙ্গুড়া উপজেলার মল্লিকচক গ্রামে স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় মন্ডতোষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম মিন্টু বক্তব্য দেন, ‘ভোট হবে একমাত্র নৌকার, এর বাইরে কোনো লোক বা এজেন্ট থাকবে না। আফসারের সাঙ্গ পাঙ্গদের হাড়-হাড্ডি ভেঙে এলাকা থেকে শেষ করে দেবেন’ মর্মে হুমকি ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

তার এই বক্তব্য সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ১১(ক) এর বিধান লঙ্ঘন করেছেন মর্মে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের জন্য নির্দেশ দেন নির্বাচন কমিশন।

১ জানুয়ারি সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-সচিব (আইন) আব্দুছ ছালাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের আলোকে মামলা দায়ের করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।

এদিকে একইভাবে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সবুজের বিরুদ্ধে চাটমোহর থানায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। চাটমোহর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) রাতে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২ ডিসেম্বর চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত পথসভায় মিজানুর রহমান সবুজ ‘পাবনা-৩ আসনে মকবুল চাচা ছাড়া কেউ ভোট করতে পারবে না। যারা নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান করবে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম’ মর্মে হুমকি ও উষ্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

তার এই বক্তব্য সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ১১(ক) এর বিধান লঙ্ঘন করেছেন মর্মে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার দায়েরের জন্য নির্দেশ দেন নির্বাচন কমিশন।

১ জানুয়ারি সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপ-সচিব (আইন) আব্দুছ ছালাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের আলোকে মামলার এজাহার দায়ের করেন চাটমোহর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।

চাটমোহর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা বলেন, ‘মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা নং ৬। তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।’

এ বিষয়ে মন্ডতোষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম মিন্টুর সঙ্গে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সবুজ বলেন, ‘মামলার বিষয়টি অবহিত হয়েছি। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনগতভাবেই আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করবো। আর এই মামলা প্রমাণ করে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।’

ট্রেনে অগ্নিসংযোগে চার ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

নাশকতার আগুনে নিহত নাদিরা আক্তার পপি ও তার শিশু সন্তান ইয়াসিন এবং পুড়ে যাওয়া ট্রেন। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ডাকা সবশেষ হরতালের দিন মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় দুর্বৃত্তদের ট্রেনে আগুন দেওয়ায় চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা রেলওয়ে থানায় মামলা করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মঙ্গলবার রাতে মামলাটি করা হয়।

নাশকতার আগুনে পুড়ে মারা যান- নাদিরা আক্তার পপি (৩৫), তার ৩ বছর বয়সি ছেলে ইয়াসিন, রশিদ ঢালী (৬০) ও খোকন মিয়া (৩৫)।

বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি ফেরদৌস আহমেদ বিশ্বাস দৈনিক বাংলাকে বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচালক খালেদ মোশারফ বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মঙ্গলবার রাতে মামলা করেন। ট্রেনে আগুন দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তবে ট্রেনে আগুন দেওয়ার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি।

প্রসঙ্গত, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে সোমবার রাত ১১টার দিকে ছেড়ে আসে যাত্রীবাহী আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন। বিমানবন্দর স্টেশন ছেড়ে আসার পর ট্রেনটিতে মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে নাশকতাকারীরা বনানী এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়। ট্রেন তেজগাঁও স্টেশনে এসে থামে। ততক্ষণে ট্রেনের তিনটি বগি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এ ঘটনায় ‘জ’ বগিতে থাকা নারী ও শিশুসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিচয় শনাক্তের পর স্বজনদের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

ঈশ্বরদীতে গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় মামলা

প্রতিকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে গরুচোর সন্দেহে গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে বাবু হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী রোজি খাতুন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলাটি করেছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ২০ থেকে ২৫ জনকে।

সোমবার দুপুরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের গোয়াল বাথান এলাকায় গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। নিহত বাবু হোসেনের বাড়ি জেলার সাঁথিয়া উপজেলার দত্তকান্দি গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দিবাগত রাত দুইটার দিকে গ্রামের ঈদ্রিস আলী নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা গোয়ালঘর থেকে গরু নিয়ে পালানোর সময় বাড়ির লোকজন টের পান। এ সময় তাঁরা চিৎকার–চেঁচামেচি শুরু করলে প্রতিবেশীরা ‘চোর চোর’ বলে ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে গ্রামের তালতলা মাঠ থেকে বাবু হোসেনকে চোর সন্দেহে আটক করেন গ্রামবাসী। পরে তাঁকে মারপিট শুরু করলে কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।

ওসি অরবিন্দ সরকার বলেন, খবর পেয়ে নিহত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তর জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। স্থানীয়রা গরুচোর সন্দেহে গণপিটুনি দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিহতের স্ত্রী করা মামলাটিরও তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন