অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অর্থনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে ৫ কিলোমিটার সড়ক মেরামত, হাসি ফুটেছে সবজিচাষিদের মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা গ্রাম থেকে কদিমপাড়ার দিকে হেঁটে চললে কয়েক মাস আগেও চোখে পড়ত করুণ দৃশ্য। গভীর খানাখন্দে ভরা মেঠো পথে সবজি বোঝাই ভ্যান আটকে থাকত কাদা-মাটিতে। ধুলো আর কাদার যন্ত্রণায় বাজারে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই অর্ধেকের বেশি তাজা সবজি নষ্ট হয়ে যেত, মেলেনি ন্যায্য দামও।

তবে সেই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগে এখন লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। গ্রামীণ সড়ক মেরামত প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কদিমপাড়া হাট হয়ে বাবুলচারা পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক নতুন রূপ পেয়ে নতুন প্রাণ ফিরিয়েছে চারপাশের ১০টি গ্রামে। মেঠো পথ রূপ নিয়েছে মসৃণ পাকা রাস্তায়, যা মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে পুরো অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতির।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় ‘লক্ষ্মীকুন্ডা ইউপি কদিমপাড়া হাট আরএইচডি হয়ে বাবুলচারা সড়ক’ পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় ২ কোটি ৬৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শুরুর পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংস্কার শেষ হয়েছে। সম্পূর্ণ নতুনভাবে প্রশস্তকরণ ও পুনর্নির্মাণ শেষ হওয়ায় সড়ক দিয়ে এখন দিন-রাত নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করছে।

লক্ষীকুন্ডা, কদিমপাড়া, দাদাপুর, কামালপুর, ছিলিমপুর ও বিলকেদার এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সবজি উৎপাদনকারী এসব গ্রামের মাঠে লাউ, করলা, শসা ও কলাসহ নানা জাতের ফসলের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাকা সড়ক হওয়ায় মাঠের পাশ থেকেই ভ্যান, পিকআপ ও ট্রাকে করে মুহূর্তে এসব তাজা সবজি পৌঁছে যাচ্ছে ছিলিমপুর ও কামালপুরের স্থানীয় আড়তে। সেখান থেকে তা ছড়িয়ে পড়ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারি বাজারে। সময় ও পরিবহন খরচ অর্ধেক কমে যাওয়ায় কায়িক শ্রমের উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছেন কৃষকেরা।

সড়কের সুফল কেবল কৃষি উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বদলে দিয়েছে পুরো এলাকার জনজীবনও। আগে পথ বেহাল থাকায় মধ্যরাতে মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা বর্ষায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া ছিল এক মহা যুদ্ধ। এখন সহজেই দূর হয়েছে সেই যাতায়াত কষ্ট।

যোগাযোগ ব্যবস্থার এই আমূল পরিবর্তনে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। বাবুলচারা গ্রামের ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি ছিল। মানসম্মতভাবে কাজটি সম্পন্ন হওয়ায় এখন কৃষক সরাসরি আড়তে ফসল পাঠাতে পারছেন।

একই কথা জানান বিলকেদার গ্রামের কৃষক জিন্নাহ মন্ডল। তিনি বলেন, আগে খেত থেকে সবজি তুলে সময়মতো হাটে নেওয়া মারাত্মক কষ্টকর ছিল। পরিবহন খরচ যেমন বেশি হতো, তেমনি উপযুক্ত দামও মিলত না। এখন সড়ক মসৃণ হওয়ায় সময় ও খরচ দুটোই কমেছে, দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

ছিলিমপুর গ্রামের বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘আগে মুমূর্ষু রোগী বা গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে নিতে চরম বিপদে পড়তে হতো। বেহাল দশার কারণে শিক্ষার্থীরাও সময়মতো স্কুলে যেতে পারত না। এখন দ্রুত যাতায়াত করা যাচ্ছে। ফসল উৎপাদন থেকে বিক্রি পর্যন্ত এই সড়ক বড় উপকারে আসছে।’

পাবনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারহীন থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের কষ্ট হচ্ছিল। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মানসম্মতভাবে কাজটি শেষ করা হয়েছে। কৃষকেরা সরাসরি আড়তে ফসল পৌঁছাতে পারছেন, যা সার্বিক অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছে। পর্যায়ক্রমে পাবনার সব কৃষিপ্রধান গ্রামীণ সড়কই আধুনিক ও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

টানা বৃষ্টিতে ঈশ্বরদীতে কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর বাজারে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির প্রভাবে কাঁচা মরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে কচু ও বেগুনের দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে অন্যান্য বেশিরভাগ সবজির দাম স্বাভাবিক রয়েছে।

শনিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ প্রতি কিলোগ্রাম ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এই পণ্যের দাম ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

বাজারে কচু, যা আগে ৪০ টাকা কিলোগ্রাম ছিল, এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। বেগুনের দামও কিলোগ্রামপ্রতি ৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা।

অন্যদিকে আলু, পেঁয়াজ, পটল, ঝিঙে, করলা, ঢ্যাঁড়শ ও শসার দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। বর্তমানে প্রতি কিলোগ্রাম আলু ২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা, পটল ৩০ টাকা, ঝিঙে ৩০ টাকা, করলা ৪০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৩০ টাকা এবং শসা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের সবজি বিক্রেতা আমিন উদ্দিন বলেন, আরও দু-এক দিন টানা বৃষ্টি হলে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বাড়তে পারে। বৃষ্টির কারণে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় কাঁচা মরিচের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে।

ডিমের দাম আরও বাড়ল, চড়া মাছের বাজারও

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কাঁচাবাজারে মাংস ও ব্রয়লার মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও বেড়েছে ডিমের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বাজারে অধিকাংশ মাছের দামও চড়া। ফলে কেনাকাটায় স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা এবং এক ডজন লাল ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে মূল্যের এই চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়েছে। প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা ছিল। অন্যদিকে সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ১১০ টাকা ছিল। বাজারে প্রতি কেজি খাসির মাংস কিনতে খরচ হচ্ছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ মাছের দাম বেশ চড়া। মানভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি ৬০০ থেকে ৮০০, পাবদা ৩০০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ এবং ট্যাংরা ৬০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ভেটকি ৪০০ থেকে৫৫০, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৩০, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০, মৃগেল ২৫০-৩০০, বাইম ৬০০-৮০০, কৈ ৪০০-৫০০, পোয়া ২৬০ এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে চাষের কৈ, তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি আকারের রুই মাছের দাম কিছুটা স্বাভাবিক রয়েছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় কেনা যাচ্ছে। রূপচাঁদা ও নদীর বোয়াল মাছ কিনতে প্রতি কেজিতে এক হাজার টাকার বেশি গুনতে হচ্ছে।

ইলিশের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বাজারে ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে।

রায়েরবাজারের মাছ ব্যবসায়ী মনতাজ উদ্দিন বলেন, মাছের বাজার কয়েক মাস ধরে প্রায় একই রকম রয়েছে। চিংড়ি, রূপচাঁদা, শোল ও বড় রুই মাছের দাম সব সময় কিছুটা বেশিই থাকে। তবে ইলিশের দাম এত বেশি হওয়া উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত তিন-চার বছরে ইলিশের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। বাজারে সরবরাহের চেয়ে ক্রেতা বেশি থাকায় এমনটি হচ্ছে।

ধানমন্ডির বাসিন্দা আনিসুর রহমান বাজারে মাছ কিনতে এসে বলেন, ‘শোল মাছ ৭০০ টাকা ও ভেটকি ৪০০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। সব ধরনের মাছের দামই বেশি। বৃষ্টির কারণে দাম বেড়েছে কি না, জানি না।’

এদিকে মুরগির বাজার গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে হঠাৎ লাগামহীন পেঁয়াজের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদী বাজারে হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বাড়ায় এখন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাঁচ দিন আগেও মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৭০ থেকে ৭৫ টাকায়। এখন সেই দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

গত ৪ নভেম্বর (মঙ্গলবার) ঈশ্বরদীর বিভিন্ন বাজারে পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। পরদিন বুধবার পৌর এলাকা ও উপজেলার বাঁশেরবাদা, আওতাপাড়া, আরামবাড়িয়া, বড়ইচারা, জয়নগর, সাহাপুর, দাশুড়িয়া, পাকশী, রূপপুর ও মুলাডুলি বাজারে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। মাঝারি মানের পেঁয়াজের দাম ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা। তবে পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে এই মাঝারি মানের পেঁয়াজই বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়।

কৃষক, ব্যবসায়ী ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দেশে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন দিয়েই বাজারের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। কিন্তু মৌসুমের শেষ দিকে মজুদ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পাইকারি পর্যায়ে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭২ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। উৎপাদনকারী জেলা যেমন পাবনাতেও গত দুই দিনে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা।

ঈশ্বরদী পৌরবাজারের বিক্রেতা আবুল হাসেম বলেন, “গত দশ মাস সরবরাহ ভালো থাকায় দাম স্থির ছিল। কিন্তু এখন মোকামগুলোয় সরবরাহ কমে গেছে, তাই দাম বেড়েছে।”

আরামবাড়িয়া বাজারের ব্যবসায়ী মিলন ও খোকন বলেন, “ডিসেম্বরের শেষদিকে বা জানুয়ারির শুরুতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ ওঠার মৌসুম শুরু হবে। ততদিন পর্যন্ত সরবরাহ কম থাকবে, তাই দামও বেশি থাকতে পারে।”

কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রবি মৌসুমের শুরুতে (অক্টোবরের মাঝামাঝি) পেঁয়াজ রোপণ শুরু হলেও বিলম্বিত বৃষ্টি ও পরে অতিবৃষ্টিতে অনেক জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। কৃষকদের আবার নতুন করে রোপণ করতে হচ্ছে, ফলে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে সময় লাগবে, তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমদানি অনুমোদন (আইপি) না দিলে দাম আরও বাড়তে পারে।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাচায় মজুদ থাকায় পেঁয়াজ শুকিয়ে ওজন কমে যায়। ফলে ব্যাপারী ও কৃষক পর্যায়ে লাভ ধরে রাখতে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

দেশে বছরে দুটি ধাপে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। রবি মৌসুমের শুরুতে ওঠে মুড়িকাটা জাত, যা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না। এই পেঁয়াজ শেষ হলে কৃষক একই জমিতে বীজ পেঁয়াজ লাগান, যা পরে মাচায় রেখে সংরক্ষণ করা হয়। সরকার দীর্ঘদিন ধরে পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেয়নি, ফলে বাজার পুরোপুরি দেশীয় উৎপাদনের ওপর নির্ভরশীল হয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে আগাম পেঁয়াজ আসেনি, ফলে মজুদ কমেছে। তবে এ বছর কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ভালো দাম পাওয়ায় আগামী মৌসুমে বেশি পরিমাণে চাষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে দেশীয় উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব।”

ঈদের আগে চাঙা প্রবাসী আয়, ১৫ দিনে এলো ১৬৫ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র রমজান মাস চলছে, কিছুদিন পরই আসছে খুশির ঈদ। প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের আগে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি বেশি রে‌মিট্যান্স পাঠান প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এখন থেকেই প্রবাসী আয়ে বেশ চাঙা ভাব লক্ষ্য করা যা‌চ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাং‌কের সবশেষ তথ্য বলছে, চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে ১৬৫ কো‌টি ৬১ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলা‌দেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা) এই অঙ্ক ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে মাসের শেষে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় আসবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এর আগে, ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)। দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৯ কো‌টি ডলার বা এক হাজার ১১০ কো‌টি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়া‌রি পর্যন্ত ৮ মাসে দেশে এক হাজার ৮৪৯ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে; যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৩ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৪৯৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, আগস্টে এসেছে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, নভেম্বর মাসে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়া‌রি‌তে ২১৯ কোটি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পা‌ঠি‌য়েছেন প্রবাসীরা। অর্থাৎ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দা‌য়িত্ব নেওয়ার পর টানা ৭ মাস দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসে‌ছে বাংলাদেশে।

এলপি গ্যাসের দাম কমলো

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের নতুন মূল্য ঘোষণা করা হয়েছে। ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৪৭৮ টাকা থেকে ২৮ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার নতুন মূল্য ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আজ সন্ধ্যা থেকে এ মূল্য কার্যকর হবে।

একই ঘোষণায় ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের মূল্য ১ টাকা ৩১ পয়সা কমিয়ে ৬৬ টাকা ৪৩ পয়সায় সমন্বয় করা হয়েছে।

গত মাসে ২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৭৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন অটোগ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬৭ টাকা ৭৪ পয়সা।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য বিশ্লেষণ করে প্রতি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াল ২৬ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডলারের দাম বাড়ায় বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। একইসঙ্গে যোগ হয়েছে দাতা সংস্থার ঋণ ও অনুদান। সব মিলিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ২৬.০৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা এ তথ‌্য নি‌শ্চিত করেছেন। তিনি ঢাকা পো‌স্টকে বলেন, বিদেশি অনুদান যোগ হয়েছে। এ ছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহ ভালো, এসব কারণে রিজার্ভ বেড়েছে।

অবশ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নিয়ম মেনে বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ-এর পরিমাণ এখন ২১.৩৩ বিলিয়ন ডলার। এই হিসাবেও আগের চেয়ে বেড়েছে রিজার্ভ।

নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের ‘বিপিএম-৬’ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ পাওয়া যায়।

তবে এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, তা হলো ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ। এ তথ‌্য আনুষ্ঠা‌নিকভাবে খুব একটা প্রকাশ করে না কেন্দ্রীয় ব‌্যাংক। সেখানে আইএমএফের এসডিআর খাতে থাকা ডলার, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং হিসাবে থাকা বৈদেশিক মুদ্রা এবং আকুর বিল বাদ দিয়ে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের হিসাব করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেই হিসাবে দেশের ব্যয়যোগ্য প্রকৃত রিজার্ভ এখন ১৫ বিলিয়ন ডলার। প্রতি মাসে ৫ বিলিয়ন ডলার হিসেবে এ রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। সাধারণত একটি দেশের ন্যূনতম তিন মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়।

চলতি মাসের প্রথম ২৮ দিনে দেশে বৈধ পথে ২৪২ কোটি মার্কিন ডলারের সমপ‌রিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে, দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ২৯ হাজার ৪০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে)। দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৮ কোটি ৬৪ লাখ ডলার।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখায় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল ছিল। বিশেষ করে ডলারের দাম ১২০ টাকায় ছিল দীর্ঘদিন ধরে। তবে গত সপ্তাহে ডলারের চা‌হিদা বাড়ায় দাম কিছুটা বেড়ে যায়। যার কারণে রে‌মিট‌্যান্স প্রবাহও বেড়েছে। যা রিজার্ভ বাড়ায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

মদ ও গরুর মাংস আমদানি সমস্যার সমাধান চায় আন্তর্জাতিক হোটেলগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক অতিথিদের চাহিদা মেটাতে মদ কেনার প্রক্রিয়া সহজীকরণের জন্য নীতিমালা ও বিফ আমদানি সমস্যার সমাধান চেয়েছে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন ‘বিহা’।

ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক সভায় এবিষয়ে আলোচনা করেছে তারা।

বিহার প্রেসিডেন্ট এইচ এম হাকিম আলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের শীর্ষ তারকা মানের হোটেলগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় আতিথেয়তা শিল্পের উন্নয়ন ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার কৌশল, তারকা হোটেলগুলোর ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং টেকসই ও ব্যয় সাশ্রয়ী সমাধান খোঁজার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এসময় উচ্চমানের রেস্তোরাঁগুলোর মেনু প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলছে এমন বিফ আমদানি সমস্যার সমাধান নিয়েও আলোচনা হয়।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিহা জানায়, সভায় বিহা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২০২৫-এর পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়, যা হোটেলগুলোর মধ্যে সৌহার্দ্য এবং দলগত কাজের উন্নয়নের জন্য একটি আন্তঃহোটেল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হিসেবে আয়োজন করা হবে। তাছাড়া, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে হোটেলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়, যাতে দেশি ও আন্তর্জাতিক অতিথিদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় ।

এসময় বিহা স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এর কো-চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেনকে ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জনের জন্য স্বীকৃতি প্রদান করে।

সভায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও, দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা, ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা, র‍্যাডিসন ঢাকা, লো মেরিডিয়ান ঢাকা, রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেল, ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান, হোটেল সারিনা, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টার, সিগাল হোটেল, মেপল লিফ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, ফার্স হোটেল, গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, মম ইন, রোজ ভিউ হোটেল, দ্য পেনিনসুলা চট্টগ্রাম, হোটেল ওমনি রেসিডেন্সি, ওশান প্যারাডাইস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, হোটেল এলিট প্যালেস, গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্ট, প্লাটিনাম হোটেল, সায়েমান বিচ রিসোর্ট, হানসা রেসিডেন্স এবং রয়্যাল পার্ক রেসিডেন্স হোটেলসহ শীর্ষস্থানীয় হোটেলগুলোর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন— পুলিশ সুপার মো. নাইমুল হক  (ঢাকা অঞ্চল, ট্যুরিস্ট পুলিশ বাংলাদেশ) ।

বেড়েছে ব্রয়লারের দাম, স্বস্তি মাছের বাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত। ফলে আজকের বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। তবে মুরগি-গরু-খাসির মাংসের তুলনায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে মাছের বাজারে।

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানী রামপুরা এলাকার বাজার ঘুরে মাছ-মাংসের দামের এসব চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আজকের বাজারে গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা পর্যন্ত। প্রতি কেজি খাসির মাংস এক হাজার ৫০ টাকা থেকে এক হাজার ২০০ টাকা ও ছাগলের মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। দেশি মুরগি কেজি ৬৫০-৭০০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৫০ টাকা ও লাল লেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায় এবং প্রতি কেজি সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকায়।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পাঙাশ বিক্রি ১৭০-১৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০-২২০ টাকা, কার্প মাছ ২২০-২৫০ টাকা, রুই মাছ ২৬০-৩০০ টাকা, মলা মাছ ২৮০, চাষের কই ২০০ টাকা এবং দেশি কই ৬৫০-৭০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বড় চিংড়ি মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায়, যেখানে গত সপ্তাহেও ছিল ৭০০ টাকা পর্যন্ত। শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। তবে সপ্তাহ ব্যবধানে পাবদা মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। গত সপ্তাহে যেখানে পাবদা মাছ ছিল ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫০ টাকা, আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও বাজারে শোল মাছ ৬০০-৭০০ টাকা, টাকি মাছ ৩৫০ টাকা এবং সরপুঁটি মাছ ২০০ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে নিম্ন আয়সহ সাধারণ ক্রেতাদের মাংসের চাহিদা মেটাতে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ব্রয়লার মুরগি। তবে মাঝেমধ্যেই হুটহাট করে দাম বেড়ে যায়, তখন আবার বিক্রিও কিছুটা কমে যায়। তবে নদী ও সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ ভালো থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে মাছের দাম কিছুটা কমেছে।

রামপুরা এলাকার তিতাস রোডে একটি মেসে ভাড়া থাকেন কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী মো. নাঈম আহমেদ। দ্রব্যমূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলেই দীর্ঘশ্বাস দেখা যায় তার কণ্ঠে। তিনি বলেন, বছর দুয়েক আগেও ৪ থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকাতেই থাকা-খাওয়া সব মিটে যেতো। কিন্তু এখন প্রতিমাসে খরচ হচ্ছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। মাছ-মাংসসহ প্রতিটা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যেরই দাম বেড়েছে। যেকারণে আমার মতো নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির ঢাকা শহরে টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাঈম আরও বলেন, পড়াশোনা ছাড়া আর কিছুই করি না। একটা টিউশনি করাতাম, সেটাও ছুটে গেছে। প্রতিমাসে হাত পেতে বাড়ি থেকে টাকা আনতে হয়। কিন্তু গত দেড়-দুই বছরে পরিবারের আয়ও তো বাড়েনি। তারাই বা দেবে কি করে? আমাদের আসলে এমন পরিস্থিতি হয়েছে, না পারছি কারও কাছে হাত পাততে, আবার না পারছি প্রতিমাসে ঠিকঠাক মতো খরচ চালাতে।

বাজার করতে আসা আরিফুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় আজকের বাজারে মুরগি দামটা একটু বেশি। দুই সপ্তাহ আগেও ১৭৫ টাকা কেজি ব্রয়লার কিনেছি, আজকে কিনতে হয়েছে ১৯০ টাকায়। তবে মাছের দাম কিছুটা তুলনামূলক কম আছে।

তিনি বলেন, একটা সময় প্রতি সপ্তাহে একদিন গরুর মাংস খাওয়া হতো। এখন গরুর মাংসের জায়গা দখল করেছে মুরগির মাংস। গরুর মাংস এখন কিনতে গেলেও বারবার হিসাব করতে হয়। মুরগির দাম কম থাকাটা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির জায়গা। তবে এর দামটা আরও কম হওয়া উচিত।

মুরগির মাংস বিক্রেতা মনসুর আলী বলেন, বাজারে মুরগির চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। সে তুলনায় দামটা কমই বলা যায়। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লারের দামটা কিছুটা বেড়েছে। সম্ভবত শীতের কারণে বেড়েছে। এই সময়ে শীতে কিছু মুরগি মরে যায় এবং রোগবালাইও বেশি হয়। যে কারণে খামারি পর্যায়েই বেশি দামে কিনে আনতে হয়। তবুও আলহামদুলিল্লাহ, ভালো বিক্রি হচ্ছে।

গরুর মাংস বিক্রেতা শান্ত ইসলাম বলেন, এখন খামারিরা গরু কম ছাড়ছে। সামনে ঈদকে কেন্দ্র করে তারা গরু তৈরি করছে। যে কারণে এখন যেগুলোও বিক্রি হচ্ছে দাম তুলনামূলক একটু বেশি। তাই মাংসের বাজারেও তার প্রভাবটা পড়েছে। গরুর মাংস মোটামুটি ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকার মধ্যেই আটকে আছে। আর কমবে বলে মনে হয় না।

নতুন নকশার নোট বাজারে ছাড়বে বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বহুল আলোচিত বাংলাদেশি ২০ টাকা, ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা ও এক হাজার টাকা মূল্যমানের নতুন নোট আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাজারে আসবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্য প্রকাশ করার পর আসন্ন নোটের নকশার উপাদান নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা বলেন,নতুন নোট আসা নিশ্চিত। তবে নকশার সঠিক উপাদানগুলো নিশ্চিত করার সময় এখনও আসেনি।

মুজিব থাকছে কিনা?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো নকশায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিতে দিয়েছেন। নতুন নোটে শেখ মুজিবুর রহমানের আইকনিক প্রতিকৃতি আর নাও থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

ধারণা করা হচ্ছে, নতুন মুদ্রায় বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক বা জুলাই বিপ্লবের দেয়ালচিত্র তুলে ধরা হতে পারে, যা একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক মূল্যবোধকে তুলে ধরবে।

তারা বলেন, সরকার নতুন নোট মুদ্রণের অনুমোদন দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করার পরে ছয় মাসের মধ্যে সেগুলোর প্রচলন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নকশা সংস্কার

সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত অন্তর্দৃষ্টি থেকে বোঝা যায় যে, প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো বাংলাদেশের ব্যাংক নোটের দৃশ্যমান পরিচয়কে নতুন আকার দিতে প্রস্তুত।

যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তবে নকশাগুলো শেখ মুজিবুর রহমানের স্থলে ধর্মীয় স্থান, ঐতিহ্যবাহী বাংলা মোটিফ এবং কৌতূহলের জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতির উদ্দীপক চিত্রগুলো স্থান পাবে।

এই পুনর্বিন্যাসটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গোটা সম্প্রদায় থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতি পর্যায়ক্রমে বাদ দেওয়ার একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

এই মাসে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরের জুনের মধ্যে এই নোটগুলো প্রচলনের পরিকল্পনা রয়েছে।

উত্তরাধিকারের রূপান্তর

বাংলাদেশে ২ টাকা থেকে ১০০০ টাকা মূল্যমানের প্রতিটি কাগজের নোটে বর্তমানে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং নোটের উভয় পাশে তার প্রতিকৃতি রয়েছে।

এমনকি ধাতব মুদ্রাতেও তার ছবি রয়েছে। এটি তার স্থায়ী উত্তরাধিকারকে তুলে ধরে। নতুন নোট চালু করা হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে, বিদ্যমান সমস্ত মুদ্রার প্রচলন থাকবে।

জাতি যখন অধীর আগ্রহে এই বিশাল পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছে। আসন্ন নোটগুলো বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে একটি নতুন আখ্যানের সঙ্গে একত্রিত করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এটি দেশের এগিয়ে যাওয়ার যাত্রাকে তুলে ধরে।

নভেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতি ১১.৩৮%

নিজস্ব প্রতিবেদক: নভেম্বরে দেশে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশে। আগের মাস অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এই হার গত চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশে।

এদিকে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ হয়েছে নভেম্বরে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির হারও গত মাসে বেড়েছে।

নভেম্বরে গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ছিল ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং অক্টোবরে ছিল ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

একই সময় গ্রামাঞ্চলে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং অক্টোবরে ছিল ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে গ্রামাঞ্চলে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি নভেম্বর ও অক্টোবরে অপরিবর্তিত ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ ছিল।

অন্যদিকে নভেম্বরে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ১০ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

নভেম্বরে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ১৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ১২ দশমিক ৫৩ শতাংশ, নভেম্বরে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।

নভেম্বরে মজুরি হার সূচক ছিল ৮ দশমিক ১০ শতাংশ, যা অক্টোবরে ছিল ৮ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে: স্থিতিশীলতার আশ্বাস দিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংক

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং স্থিতিশীল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

রবিবার ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, 'আগের সরকারের আমলে রিজার্ভ প্রতি মাসে ১.৩ বিলিয়ন ডলার করে কমে আসছিল, তবে এখন তা একটি ইতিবাচক প্রবণতাঢ ফিরছে।’

তিনি বলেন, ‘সার, বিদ্যুৎ ও আদানি-শেভরনের বকেয়া পাওনার জন্য এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।’

শুধু গত দুই মাসেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক জ্বালানি ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সেবার বকেয়া ১.৮ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে অপরিশোধিত বিল ২.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ৭০০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে এনেছে।

৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিপিএম৬ হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১৯.৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে এবং মোট রিজার্ভ ২৪.৯৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাথমিক লক্ষ্য আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকি ঋণ পরিশোধ করে নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে ঋণমুক্ত হওয়া। ‘এটি অর্জন করা সম্ভব হলে, বাজারে তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

এই বকেয়া পরিশোধ করলে অর্থনীতির উপর চাপ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার ফলে অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ ত্বরান্বিত হবে।

অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গভর্নর অবশ্য দেশের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক ঋণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন; যা এখন ১০৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এ কারণে ঋণ পরিশোধের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।

তা সত্ত্বেও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান ঋণের চ্যালেঞ্জ সফলভাবে কাটিয়ে উঠতে কমপক্ষে এক বছর সময় লাগবে।

খরায় কাঁচা মরিচের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা; বাজারেও সংকট

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: দেশে শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য আকাশছোঁয়া। দাম বাড়ছে ক্রমবর্ধমান গতিতে। এর মধ্যে তীব্র খরায় মানিকগঞ্জে কমে গেছে কাঁচা মরিচের উৎপাদন। এ অবস্থায় ব্যাপক লোকসানের শঙ্কায় পড়েছেন চাষিরা।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর ও শিবালয় উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মরিচ উৎপাদন হয়। এই দুই জেলায় উৎপাদিত মরিচ দিয়ে জেলার চাহিদা পূরণের পর দেশের অন্য জেলাসহ বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে হরিরামপুর ও শিবালয়ে মরিচের ক্ষেতে কোনো মরিচ নেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মানিকগঞ্জে ৩ হাজার ৭১৭ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের আবাদ হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় ১৭৬ হেক্টর বেশি। প্রতি বছর এখানকার উৎপাদিত মরিচ দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। দুই বছর আগেও এ অঞ্চল থেকে শত কোটি টাকার মরিচ বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছিল। তবে এ বছর প্রচণ্ড গরম ও সঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় এই ফলন বিপর্যয় বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

প্রায় সব জমিতেই মরিচ গাছের পাতাগুলো কুঁকড়ে মরে যাচ্ছে। আসছে না নতুন ফুল। ফলনও নেই। হতাশায় পড়েছেন মরিচচাষিরা। তারা জানান, অতি খরায় মরিচের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। মরিচ গাছ মরে যাচ্ছে।

হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা উজানপাড়া গ্রামের কৃষক সামছুদ্দিন বলেন, দুই বিঘা জমিতে এবার মরিচ লাগিয়েছিলাম। শুরুতে গাছে ফলন ভালো ছিল। তখন ফলন বেশি থাকায় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে দাম ছিল না। সর্বোচ্চ ৪০ টাকা কেজিতে মরিচ বিক্রি করেছি। এর কিছুদিন পর অতি খরায় মরিচ ক্ষেত নষ্ট হতে থাকলে বাজারে মরিচের সংকট তৈরি হয়। তখন বাজারে সর্বোচ্চ প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি করেছি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত। ধীরে ধীরে মরিচ ক্ষেত নষ্ট হয়ে ফলন কমে যায়। দুই বিঘা জমিতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মরিচ বিক্রি করেছি। খরচ বাদ দিলে হাজার বিশেক টাকা লাভ পেয়েছি। এখন অতি খরায় মরিচ ক্ষেতগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতির মুখে পড়েছি।

একই গ্রামের মরিচ চাষি নূর হোসেন বলেন, এই অঞ্চলে মরিচের আবাদ ভালো হওয়ায় এবার ৩০ হাজার টাকা ধার-দেনা করে সাড়ে চার বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করি। কিন্তু এমন বিপর্যয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছি।

তিনি আরও বলেন, ‘মরিচ গাছের পাতা কুঁকড়ানো রোগে আক্রান্ত হয়ে গাছের মাথা থুবরে গেছে। শুধু আমার অবস্থাই এমন না, আশপাশের সব কৃষকের একই অবস্থা। সব কৃষকের মাথায় হাত।’

উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামের মরিচ চাষী আবদুর রহমান ব্যাপারী বলেন, তীব্র খরায় অধিকাংশ মরিচ গাছের পাতা কুঁকড়ে যায়। কয়েক বার সেচ দেওয়ার পর সামান্য ভালো হয়। দ্বিতীয় দফায় আবার তীব্র খরায় একই অবস্থা হয়। পরে অনেক গাছ মরে যায়। তবে যে গাছগুলো আছে তাতে ফুল এলেও মরিচ ধরছে না।

এদিকে শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর ইউনিয়নের বরংগাইল গ্রামের কৃষক আফসার উদ্দিন জানান, দুই বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করতে চারা, সার, কীটনাশক, সেচসহ তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এই সময়ে প্রতিদিন জমি থেকে দুই আড়াই মণ মরিচ হওয়ার কথা থাকলেও ফলন বিপর্যয়ের কারণে প্রতিদিন দুই কেজিও মিলছে না। সার, কীটনাশক, সেচ দিয়েও সুফল পাননি তিনি।

একই উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের কৃষক আব্বাস উদ্দিন বলেন, এ বছর অতি খরার কারণে মরিচ ক্ষেতে মাটি ফেটে যাওয়ায় গাছ মরে গেছে। আবার অতি বৃষ্টির কারণে ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় গাছের গোড়া পঁচে গিয়ে গাছ মরে গেছে।

চাষিরা বলছেন, ফলন বিপর্যয়ের কারণে বাজারে খুব অল্প মরিচ উঠছে। এর প্রভাবে গত বছরের মতো এবারও কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে চলছে। বিভিন্ন আড়তে মানভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩৫০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, মানিকগঞ্জের মরিচের উৎপাদন না থাকায় এখন পাইকারি মোকামগুলোতে মরিচের চালান আসে দেশের কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গাসহ কয়েকটি জেলা থেকে। এছাড়া এলসির মাধ্যমে ভারতীয় মরিচ আমদানি হচ্ছে মানিকগঞ্জের পাইকারি আড়ৎগুলোতে।

মানিকগঞ্জের বড় একটি পাইকারি আড়ৎ জাগীর বন্দর ধলেশ্বরী পাইকারি আড়ৎ।

সোমবার সকালে এই আড়তে ভারতীয় এলসির কাঁচা মরিচ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৩৫০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকায়।

পাইকাররা জানান, দেশীয় মরিচের উৎপাদন কম হওয়ায় মরিচের সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী কোনো মরিচ এখন আড়তে আসছে না। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কিছু মরিচ আসলেও দাম বেশি।

মানিকগঞ্জ জাগীর বন্দর ধলেশ্বরী পাইকারি বাজারের আড়তদার আবদুস সাত্তার জানান, ‘এখান থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে মরিচ নিয়ে যায় পাইকাররা। ভারতীয় আমদানি করা মরিচ একদিন আসা বন্ধ থাকলে দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। তাছাড়া এলসির মরিচ অর্ধেক পঁচা বের হচ্ছে। এতে ঘাটতি পূরণ করতে দাম দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে।’

এদিকে, পাইকারি বাজারে বাড়তি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫২০ টাকায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. রবীআহ নুর আহমেদ বলেন, ‘টানা তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে মানিকগঞ্জের মরিচ চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাছাড়া সঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়ায় এই ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। যেহেতু বছরে একাধিকবার মরিচের আবাদ করা হয়, তাই আবহাওয়া অনুকূলে এলে কৃষকরা আগের মতো ফলন পাবেন। আর পাতা কুঁকড়ানো রোগের সমাধানের জন্য বগুড়ার মসলা গবেষণাকেন্দ্রে যোগাযোগ করেছি। তারা এ বিষয়ে আমাদের যেভাবে পরামর্শ দিয়েছেন তা কৃষকদের জানানো হয়েছে।’

কোনো পরিবর্তন ছাড়াই চলবে সর্বজনীন পেনশন প্রকল্প: অর্থ মন্ত্রণালয়

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সর্বজনীন পেনশন প্রকল্প চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সোমবার অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের উপস্থিতিতে পর্ষদ সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বৈঠকে কর্মকর্তারা জানান, সার্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি ব্যক্তি নিবন্ধন করেছেন, যা সব মিলিয়ে ১৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা।

চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এসব বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত মুনাফা চলতি মাসে উপকারভোগীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। পেনশনের সুবিধাভোগীরা অ্যাকাউন্টে আমানত ও অর্জিত মুনাফা দেখতে পাবেন।

গত বছরের ১৭ আগস্ট চালু হওয়া ইউনিভার্সাল পেনশন স্কিমের লক্ষ্য একটি সুসংগঠিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়া। এটি প্রাথমিকভাবে জনসংখ্যার বিভিন্ন অংশকে লক্ষ্য করে চারটি মূল প্রকল্প- প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা এবং সমতা নিয়ে শুরু হয়।

নিত্যপণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার তদারকি করলেন উপদেষ্টা

নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাজার তদারকি করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।ছবিঃ সংগৃহীত
সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: ডিম, ব্রয়লার মুরগি, সবজি,আলু, ডাল, পিঁয়াজ, রসুন, আদা ও ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্য স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যেই তিনি বাজার তদারকিতে অংশ নেন।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

বাজার তদারকি কার্যক্রমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম উদ্দিন ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খানসহ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর, সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কারওয়ান বাজারে কিচেন মার্কেটের চাল, আলু, ডাল, পিঁয়াজ, রসুন, আদা ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও ভোজ্যতেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান তদারকি করেন। তখন তিনি ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে নিত্যপণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির তথ্য জানতে চান।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন, বন্যা, অতিবৃষ্টি ইত্যাদির কারণে ডিমের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি সবজিসহ কিছু পণ্যের উৎপাদন নষ্ট হয়েছে। যার ফলে সাপ্লাই চেইনে কিছুটা ঘাটতির কারণে এসব পণ্যের মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

উপদেষ্টা এ সময় ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক লাভ করে ব্যবসা করার অনুরোধ জানান।

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, উৎপাদনকারী, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার মূল্যের ব্যবধান যেন সহনীয় পর্যায়ে থাকে তা টাস্কফোর্স কর্তৃক মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ অতি মুনাফা বা সুযোগ বুঝে মূল্য বৃদ্ধি করলে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। পণ্যের মূল্য বেঁধে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এ জন্য সাপ্লাই চেইন  ঠিক রাখতে শুল্ক কমানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে তাদের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

সবশেষ সবার সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক করার মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বস্তি ফিরে আসবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্যে দুর্ভোগে মাগুরাবাসী, বাজার না নিয়েই ফিরতে হচ্ছে ঘরে

সংবাদ সাতদিন ডেস্কমাগুরায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। জিনিসপত্রের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখে অনেককে বাজার না করেই ফিরতে হচ্ছে ঘরে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের দুর্ভোগ দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে বিক্রেতাদের আক্ষেপ, আগের মতো বেচাকেনা হচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা শহর থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি হাট-বাজারে শাক-সবজিসহ সব কাঁচা বাজারের দাম বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। অনেকেই বাজারে এসেও কাঁচা বাজার না নিয়ে চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বেশি দামেই কিনছেন।

মাগুরার বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিন ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কাঁচা মরিচ, ডিম ও সবজির দাম।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে হয়েছে ৫০০ টাকা।

জেলার বিভিন্ন কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়।

গত দুই সপ্তাহ আগেও কাঁচা মরিচের কেজি ছিল ১০০ থেকে ১২০ টাকা, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি প্রায় ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা বাড়াকে অস্বাভাবিক বলছেন ক্রেতারা।

পাশাপাশি প্রতি কেজি আলু ৬০ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, কচু প্রতি কেজি ৮০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, প্রতি কেজি ঢেঁড়স ৮০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ১২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৮০ টাকা, মাঝারি লাউ প্রতিটি ১০০ টাকা, ফুলকপি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, পেঁয়াজ ১২০, শসা ৮০ টাকা ও প্রতি কেজি মুলা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়াও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ডিমের দাম।

প্রথমবারের মতো ফার্মের মুরগির এক ডজন ডিমের দাম রেকর্ড মূল্য ১৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রতি হালি ডিমের দাম ৬০ টাকা, যা সপ্তাহখানেক আগে ছিল ৫০ টাকা থেকে ৫৫ টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। আর মুদি দোকানে প্রতি পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা দরে। যেখানে মাত্র এক সপ্তাহ আগে ডিমের ডজন ছিল ১৫০ টাকা। যার প্রতি হালি বিক্রি হতো ৫০ টাকায়।

ডিমের দাম বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলেন, গত কয়েকদিনে মুরগির খাবারের দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে ডিমের দাম বেশি তাই স্বাভাবিকভাবেই খুচরা বাজারেও দাম বেশি।

গরু, ছাগল এবং দেশি ও ব্রয়লার মুরগির মাংসের দাম না বাড়লে মাছের দাম ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারগুলোতে ছোট মাছ নেই বললেই চলে। যেগুলো আছে সেগুলো সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। আবার বড় মাছের দামও অনেক বেশি। ইলিশের ভরা মৌসুমেও দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এছাড়া বেড়েছে সব ধরনের চাল ও তেলের দাম।

তবে হঠাৎ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে বিক্রিও কমে গিয়েছে।

ক্রেতারা বলছেন, সবকিছুর দাম বাড়লেও তাদের উপার্জন বাড়েনি। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এত বেশি যে বাজারে যেতেই ভয় হয়। বাজার মনিটরিং না থাকার কারণে হু-হু করে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম।

বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে দ্রুত বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানান তারা।

এ ব্যাপারে জেলার বাজার নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সামুনুল ইসলাম জানান, অধিক পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ায় ও পাইকারি দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে প্রতিদিনই কাঁচা মরিচ ও সবজির দাম বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া পরিবহন খরচও বেড়ে যাওয়ায় নিরুপায় হয়েই দাম বাড়াচ্ছে বিক্রেতারা।

দাম নিয়ন্ত্রণে চাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর চিন্তা করছে সরকার

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: দেশে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে চালের আমদানি শুল্ক কমানোর কথা ভাবছে সরকার।

অর্থ, বাণিজ্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় ধান চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ সিদ্ধান্তের কথা ভাবা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লাসহ প্রধান কৃষি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে রংপুর, শেরপুর, লালমনিরহাট, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ বন্যার কবলে পড়েছে। এই অঞ্চলগুলো দেশের ধান উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে স্থানীয় বাজারে চালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা সংকটে পড়েছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন ধরনের চালের দাম বেড়েছে ৮-১০ শতাংশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ অবস্থায় সরকারের লক্ষ্য চাল আমদানি করে দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল করা। চালের ওপর আমদানি শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

বর্তমানে চাল আমদানিতে ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। এই শুল্ক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর যুগ্ম সচিব লুৎফর রহমান এনবিআরকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠান।

উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকদের প্রণোদনা দিতে চলতি বোরো মৌসুমে ৫ লাখ টন ধান ও ১ কোটি ৪৭ লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩১ আগস্ট পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৭০ টন ধান ও ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৪৯৭ টন চাল। বর্তমানে সরকারি গুদামে ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৪০ টন চাল ও ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৯২৮ টন গম মজুদ রয়েছে।

তবে বন্যার পর উৎপাদন, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে চালের দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে। এ কারণে খাদ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য অধিদপ্তর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার নজরদারি বাড়িয়েছে। সুষ্ঠু বাজার পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এরপরও খাদ্যশস্যের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সম্প্রতি ১৪টি জেলায় বন্যায় আউশ, আমনের চারা এবং আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চালের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সরবরাহ কমে গেলে দাম আরও বাড়তে পারে। উপরন্তু, ভারতের গম রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গম আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম বৃদ্ধি শস্যের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

এ প্রেক্ষাপটে চালের বাজার স্থিতিশীল করা এবং সরকারের মজুদ বাড়ানো অপরিহার্য। বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানিরও প্রয়োজন হতে পারে। এরই মধ্যে পাঁচ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন পেয়েছে সরকার।

যদিও বর্তমানে স্থানীয় বাজারের তুলনায় বৈশ্বিক বাজারে চালের দাম বেশি, তবে বিদ্যমান চালের আমদানি শুল্ক ৬২.৫০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে কমানোর সিদ্ধান্তকে দাম স্থিতিশীল রাখতে একটি জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে চালের আমদানিতে ২৫ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক, ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ শুল্ক, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর, ৫ শতাংশ অগ্রিম ট্যাক্স, ১ শতাংশ বীমা, ১ শতাংশ ল্যান্ডিং চার্জ এবং ০.৫ শতাংশ ডি এফ ভ্যাট প্রযোজ্য।

সম্প্রতি ভারত তাদের চাল রপ্তানি শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে। বাংলাদেশ যদি তার আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনে, তাহলে ভারত থেকে চাল আমদানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ সম্মিলিত শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এই শুল্ক হ্রাস আমদানিকারকদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে উৎসাহিত করবে। সরকারি-বেসরকারি আমদানিতে বাসমতি ছাড়াই অন্যান্য সিদ্ধ চাল ও সুগন্ধি ছাড়াই আতপ চালের শুল্ক কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এনবিআরকে অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

শেখ মুজিবের ছবি মুছে টাকার নোটের নতুন নকশার পরিকল্পনা সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০ টাকা, ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা ও এক হাজার টাকা নোট নতুন করে বানানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। উল্লেখ্য, নতুন নোটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি থাকবে না।

অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমান নকশা থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে চারটি নোট পুনরায় নকশা করা হবে। পরবর্তীতে অন্যান্য নোটগুলোতেও পরিবর্তন আনা হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে নতুন নোটের বিস্তারিত নকশা প্রস্তাব দাখিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারেন্সি অ্যান্ড ডিজাইন অ্যাডভাইজরি কমিটি এসব পরিবর্তনের মূল্যায়ন ও সুপারিশ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি অ্যান্ড ডিজাইন অ্যাডভাইজরি কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করে যত দ্রুত সম্ভব সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

সাবেক শেখ হাসিনার সরকারের আমলে প্রচলিত সব নোট ও মুদ্রায়ই শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি আছে যা মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২ টাকা থেকে ১ হাজার টাকার কাগজের নোটের সবগুলোতেই তার ছবি রয়েছে।

ফের পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরি!

নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহ জুড়ে বাজারে নতুন পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা থাকলেও রোববার থেকে হঠাৎ পেঁয়াজের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। খুচরা বাজারে দাম বাড়তে বাড়তে ফের ১০০ টাকায় পৌঁছে গেছে।

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দাম বৃদ্ধির এ চিত্র দেখা গেছে। বাজারের বেশিরভাগ দোকানেই নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজিতে।
 
রাজধানীর মিরপুর শেওড়াপাড়া বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত ৪-৫ দিন আগে পেঁয়াজ কিনলাম ৮০ টাকায় আর আজ কিনতে এসে দেখি দাম হয়ে গেছে ১০০ টাকা। ২-১ দিনের মধ্যে হঠাৎ কিভাবে দাম ২০ টাকা বেড়ে যায়? দেশে বাজার মনিটরিং বলে কী কিছু আছে? যারা অসাধু ব্যবসায়ী তারা হঠাৎ সব কিছুর দাম বাড়িয়ে দিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের জিম্মি করে ফেলে।

রাজধানীর গুলশান সংলগ্ন লেকপাড় বাজারে দীর্ঘদিন ধরে পেঁয়াজ বিক্রি করে আসছেন সিরাজুল ইসলাম নামের একজন বিক্রেতা। হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি মূলত পাবনা থেকে পেঁয়াজ কিনে এনে এখানে আমার দোকানে খুচরা বিক্রি করি। এছাড়া মাঝে মাঝে ঢাকার কারওয়ান বাজারসহ পাইকারি বাজারগুলো থেকে পেঁয়াজ আনি। পাবনাতে এখন প্রতি মণ পেঁয়াজ কেনা পড়ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। পরিবহনসহ নানান খরচ মিলিয়ে ঢাকার খুচরা বাজারে সেই পেঁয়াজ আজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা। আমার যে ব্যবসায়ীরা পাবনাতে আছে তারা আমাকে গতকাল জানিয়েছে সেখানে প্রতি মণ ৩২০০ থেকে ৩৪০০ টাকা কেনা পড়ছে। মূলত গতকাল থেকেই এমন দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, মূলত নতুন বা মুড়িকাটা পেঁয়াজ তোলা শেষের দিকে। প্রায় দেড় মাস আগে এই পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছিল, এখন কৃষকের সেই পেঁয়াজ শেষের দিকে। ফলে সরবরাহ কমতে শুরু করেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকায় হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এখন কৃষকের মূল পেঁয়াজ যেটা বছর জুড়ে পাওয়া যায় সেই পেঁয়াজ উঠতে কিছুদিন সময় লাগবে। সে পর্যন্ত এমন বাড়তি দাম থাকতে পারে।

রাজধানীর মালিবাগ বাজারে বাজার করতে আসা গার্মেন্টস কর্মী রেজাউল করিম বলেন, পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে জানলাম পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এক কেজি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা তাই আধা কেজি পেঁয়াজ কিনলাম। সব জিনিসের দাম বাজারে অতিরিক্ত বেশি, এরমধ্যে আবার বাড়লে পেঁয়াজের দাম। সব কিছুর দাম এভাবে বাড়তে থাকলে আমাদের মত নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার পরিচালনা করাই কঠিন।

পেঁয়াজ পাইকারি কেনা দামই বেশি পড়ছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে জানিয়ে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার এক মুদির দোকানি রহমান মিয়া বলেন, আজ সকালে দোকানে বিক্রির জন্য কয়েক পাল্লা পেঁয়াজ কিনে এনেছি। সেখানে প্রতি পাল্লা (৫ কেজিতে এক পাল্লা) দাম পড়েছে ৪৭০ টাকা, মানে প্রতি কেজি পড়েছে ৯৪ টাকা। এরপর আছে রিকশায় করে আনার খরচ। সব মিলিয়ে আজ খুচরা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করছি ১০০ টাকায়। তিন দিন আগেই পাইকারি পেঁয়াজ কিনেছি ৭০ টাকায় তখন বিক্রি করেছি ৮০ টাকা কেজি। কিন্তু গতকাল থেকে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। পাইকারি বাজারে কেনা বেশি তাই খুচরা বাজারেও পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে।

এদিকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী গতকাল রাজধানীতে প্রতি কেজি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়।

টিসিবির সহকারী পরিচালক (বাজার তথ্য) নাসির উদ্দিন তালুকদার জানান, গতকাল নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, ঠিক এক দিন আগে এটার দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। সেই সঙ্গে গত মাসে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল তাই সে সময়ও নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। তবে গত বছর এই সময় নতুন পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে।

দাম বাড়ল এলপিজি ও অটোগ্যাসের

নিজস্ব প্রতিবেদক: তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আবারও বেড়েছে। জানুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৯ টাকা বেড়ে এক হাজার ৪৩৩ টাকা নির্ধারণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ডিসেম্বর মাসে এই দাম ছিল এক হাজার ৪০৪ টাকা। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর হবে।

আজ মঙ্গলবার বিইআরসি হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন দর ঘোষণা করা হয়। বিইআরসি প্রতি কেজি এলপিজির খুচরা দাম ১১৯ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করেছে। সে অনুযায়ী সাড়ে ৫, ১২, ১৫, ১৬, ১৮, ২০, ২৫, ৩০, ৩৫ ও ৪৫ কেজি ওজনের সিলিন্ডারগুলোর দাম বেড়েছে। যদিও বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে ভোক্তাকে কিনতে হয় বলে তাদের অভিযোগ রয়েছে। বাজার ঘুরে সে অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে। 

এলপিজির পাশাপাশি গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ টাকা ৬৭ পয়সা। যা গত মাসে ছিল ৬৪ টাকা ৪৩ পয়সা।

গত নভেম্বর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল এক হাজার ৩৮১ টাকা, অক্টোবর মাসে ছিল এক হাজার ৩৬৩ টাকা, সেপ্টেম্বরে ছিল এক হাজার ২৮৪ টাকা, আগস্ট মাসে এক হাজার ১৪০ টাকা, জুলাই মাসে ছিল ৯৯৯ টাকা, জুনে ছিল এক হাজার ৭৪ টাকা, মে মাসে ছিল এক হাজার ২৩৫ টাকা ও এপ্রিলে ছিল এক হাজার ১৭৮ টাকা, মার্চে ছিল এক হাজার ৪২২ টাকা, ফেব্রুয়ারিতে ছিল এক হাজার ৪৯৮ টাকা ও জানুয়ারি মাসে ছিল এক হাজার ২৩২ টাকা।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সৌদি আরামকো কম্পানির প্রপেন ও বিউটেনের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি। ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। এর পর থেকে প্রতি মাসে একবার দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন