বিএনপি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিএনপি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান রোকেয়া হাসেম

নিজস্ব প্রতিবেদক:  সংরক্ষিত মহিলা আসনে (পাবনা–সিরাজগঞ্জ) বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ঈশ্বরদী উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ও পাবনা জেলা মহিলা দলের দপ্তর সম্পাদক মিসেস রোকেয়া হাসেম। বুধবার দুপুরে ঈশ্বরদী শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রোকেয়া হাসেম তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে তাঁর রাজনীতি শুরু। ‘শিক্ষা, ঐক্য ও প্রগতি’—এই মূলমন্ত্র সামনে রেখে তিনি দীর্ঘদিন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব তাঁর পরিবারের সদস্য।

রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ও ৮ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছেন।

এ সময় তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। রোকেয়া হাসেম দাবি করেন, তাঁর স্বামী রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে কর্মরত অবস্থায় প্রশাসনিক চাপের মুখে অফিসেই মারা যান। এ ছাড়া তাঁর সন্তান বিসিএস পরীক্ষায় চারবার ভাইভা পর্যন্ত উত্তীর্ণ হয়েও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরি পাননি।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর বড় ভাই তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য, ছোট ভাই সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং তাঁর ভাবিও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ফলে সংসদীয় কার্যক্রম ও উন্নয়নের বিষয়ে তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দল তাঁর ত্যাগ বিবেচনা করে মনোনয়ন দিলে তিনি পাবনার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে রোকেয়া হাসেমের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী পৌর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক আফরোজা খাতুন, সহসভাপতি শাহিনা আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসমিন আক্তার নিফা, মুলাডুলি ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী হোসনে আরা বেগম এবং সলিমপুর ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী হিরা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক চুমকি বেগমসহ তৃণমূলের নারী নেত্রীরা।

পাবনা-সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান ললিতা গুলশান

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সহ–দপ্তর সম্পাদক ললিতা গুলশান মিতা। পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত আসন থেকে তিনি বিএনপির দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

শনিবার  দুপুরে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে ললিতা গুলশান বলেন, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক। রাজনীতি কেবল ক্ষমতার মাধ্যম নয়, বরং এটি মানুষের সেবা করার একটি পবিত্র দায়িত্ব। তিনি জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

জাতীয় সংসদে নারীদের কণ্ঠ আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তৃণমূলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমি সংসদীয় আসনে অবহেলিত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।

তরুণ সমাজের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে এই নেত্রী আরও বলেন, তারুণ্যের শক্তিই আগামীর বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি। তরুণদের মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হোসেন ডাবলু এবং ঈশ্বরদী পৌর মহিলা দলের সহসভাপতি শিরিনা আক্তার। এ সময় স্থানীয় মহিলা দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউএনওর বিরুদ্ধে ইসিতে দেওয়া অভিযোগ ফেসবুকে প্রকাশ করলেন হাবিব

নিজস্ব প্রতিবেদক: সদ্য শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাত, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব তাঁর বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছিলেন।

গত রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ওই অভিযোগপত্রের অনুলিপি প্রকাশ করেন তিনি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ঈশ্বরদীতে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম রাতেই ইউএনও মো. আরিফুর রহমান তাঁর কার্যালয়ে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলের সঙ্গে দীর্ঘ সময় গোপন বৈঠক করেন। অভিযোগকারীর দাবি, নির্বাচনের আগে এমন বৈঠক সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করেছে।

আবেদনে ইউএনওর পারিবারিক ও রাজনৈতিক পটভূমিও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তাঁর বাবা নিজ এলাকায় একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাঁর নিকটাত্মীয়রা বিভিন্ন সময় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া ছাত্রজীবনে তিনি একটি বিশেষ ছাত্রসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া চিঠিতে ইউএনওর ‘বিতর্কিত’ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগের কপি প্রকাশ করে হাবিবুর রহমান লিখেছেন, ‘যাঁরা ঈশ্বরদীর ইউএনওর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ দেখতে চেয়েছিলেন, তাঁদের বিবেচনার জন্য এটি প্রকাশ করা হলো।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ইউএনও কেমন নির্বাচন উপহার দিয়েছেন, তা এখন আপনারাই বুঝে নিন।’

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যদি বিশেষ একটি দলের ‘প্রতিনিধি’ হিসেবে কাজ করেন, তাহলে সেখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জনমতের প্রতিফলন সম্ভব নয়। তিনি ওই কর্মকর্তাকে দ্রুত সরিয়ে দিয়ে নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান।

এই নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবু তালেব মন্ডল (দাঁড়িপাল্লা) ১ লাখ ৩৭ হাজার ৬৭৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাবিব পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৭৪ ভোট।

উপজেলা বিএনপির নেতা ও সম্মিলিত নাগরিক জোটের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমরা বারবার প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। এই অভিযোগপত্র আমাদের দাবির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে।’

ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু বলেন, জনগণের রায়কে প্রভাবিত করতে প্রশাসনের একটি অংশ যে ভূমিকা পালন করেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন।

তবে এই বিষয়ে ইউএনও মো. আরিফুর রহমানের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ঈশ্বরদীতে ভাষা শহীদদের প্রতি বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পাবনার ঈশ্বরদীতে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা। তারা পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

শনিবার সকালে শহরের পোস্ট অফিস মোড়স্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও শোক পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে নেতা-কর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু, বিএনপি নেতা জিয়াউল হক সন্টু সরদার, আজমল হোসেন ডাবলু, মাহবুবুর রহমান পলাশ, ঈশ্বরদী কলেজ ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন,সাবেক ভিপি ও ছাত্রনেতা রেজাউল করিম শাহীন, যুবদল নেতা মোস্তফা নুরে আলম শ্যামল, ইমরুল কায়েস সুমন,ছাত্রদল নেতা তানভীর আহমেদ সুমন সহ বিএনপির অনান্য নেতাকর্মীরা।

বিজয়ী হলে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া সুন্দর, সুরক্ষিত ও সমৃদ্ধ হবে: হাবিবুর রহমান হাবিব

নিজস্ব প্রতিবেদন: পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে অঞ্চলটিকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করবেন।

২৪ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় হাবিব বলেন, তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—বন্ধ বিমানবন্দর চালু করা, ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন আধুনিকায়ন, শিক্ষার মান উন্নয়ন, স্টেডিয়াম ব্যবহার উপযোগী করা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উন্নয়ন, রেলগেটে ফ্লাইওভার নির্মাণ, কমিউনিটি সেন্টার ও পাঠাগার স্থাপন, শিশুপার্ক নির্মাণ, সড়ক সংস্কার, আটঘরিয়ায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, লিচু গবেষণা কেন্দ্র এবং শাকসবজি সংরক্ষণাগার স্থাপন।

হাবিবুর রহমান হাবিব সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা সংবাদ প্রচারে দলীয় প্রভাবমুক্ত থাকবেন এবং সঠিক তথ্য পৌঁছে দেবেন। তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধান করতে হলে প্রথমে নির্বাচিত হতে হবে। তাই তিনি সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন—ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল হক সন্টু সরদার, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হক ডাবলু, যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সুমন, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়নসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

হাবিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচিত হলে পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে এবং শিক্ষার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে।

ঈশ্বরদীতে জামায়াত নেতার কুশপুত্তলিকা দাহ ও বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদন:  সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত ও কটূক্তি করার অভিযোগে জামায়াত নেতা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা আমির হামজার কুশপুত্তলিকায় জুতার মালা পরিয়ে জুতা নিক্ষেপ করেন।

শনিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে ঈশ্বরদী পৌর শহরের রেলগেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাজারের পুরাতন রিকশাস্ট্যান্ডে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

বিক্ষোভ চলাকালে নেতা-কর্মীরা মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমাবেশে বক্তব্য দেন পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।

তিনি বলেন, একজন ধর্মীয় বক্তার মুখ থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য আসা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত।

জাকারিয়া পিন্টু আরও বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষক। ধানের শীষ স্বাধীনতার পক্ষের প্রতীক আর দাঁড়িপাল্লা স্বাধীনতার বিরুদ্ধের প্রতীক। জামায়াত নেতা আমির হামজা যেভাবে আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করেছেন, তার প্রতিবাদে জনগণ ঘৃণা প্রকাশ করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি মনে করেন একাত্তরের প্রতিশোধ নেবেন, তবে ভুল করবেন; জামায়াত ইসলামী স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি।

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন মালিথা, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল, সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি এবং শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আশিকুর রহমান নান্নুসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতা হত্যার ঘটনায় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক বিরু মোল্লা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দোনলা বন্দুক ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার রাত আনুমানিক আটটার দিকে লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বুধবার রাতেই অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, এর আগে হত্যা মামলার প্রধান আসামি জহুরুল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার দিবাগত গভীর রাতে লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের সাহাপাড়া মৌজায় তার মালিকানাধীন তিন নম্বর ইটভাটার পশ্চিম প্রান্তে অভিযান চালানো হয়। এ সময় টিন দিয়ে ঘেরা একটি অস্থায়ী টয়লেটের পেছন থেকে মাটির নিচে পুঁতে রাখা একটি পুরোনো কাপড়ের বাজারের ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। ব্যাগটির ভেতর থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, একটি বিদেশি রিভলভার, পাঁচ রাউন্ড শর্টগানের গুলি এবং ২৬ রাউন্ড রিভলভারের গুলি পাওয়া যায়।

প্রণব কুমার আরও জানান, পারিবারিক কলহ ও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১৭ ডিসেম্বর লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়া মোল্লাপাড়ায় প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন বিএনপি নেতা বিরু মোল্লা। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই জহুরুল মোল্লাকে প্রধান আসামি করে ১৮ ডিসেম্বর ঈশ্বরদী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

এর আগে গত রোববার দিবাগত রাতে সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানার রঘুনাথপুর এলাকা থেকে সিপিসি-২ ও র‍্যাব-১২ (পাবনা)–এর সহায়তায় মামলার প্রধান আসামি জহুরুল মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ইটভাটার জন্য মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে গত ১৭ ডিসেম্বর সকালে বিরু মোল্লাকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে।

পাবনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাঁর পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন বিএনপির নেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ। এ সময় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোছা. শামসুন্নাহার ভূইয়া মনোনয়ন ফরম হস্তান্তর করেন।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার, সাবেক সদস্যসচিব আজমল হোসেন সুজন, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হোসেন ডাবলু, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহীনসহ দলীয় নেতারা।

উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, পাবনা-৪ আসনে এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে সাংবাদিকদের মাহবুবুর রহমান পলাশ বলেন, ‘আমরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। ইনশাআল্লাহ, জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত নির্বাচনগুলোতে বিএনপির ভোট চুরি করার প্রয়োজন হয়নি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া জনগণের রায় নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। আমরা আশা করি, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হবে। সেই নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে।’

ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়ের গুলিতে বীরু মোল্লা (৪৮) নামের এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বীরু মোল্লা ওই গ্রামের আবুল মোল্লার ছেলে। তিনি লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বীরু মোল্লার চাচাতো ভাই জহুরুল মোল্লা পারিবারিক বিরোধে থাকা একটি জমি থেকে ইটভাটার জন্য মাটি কাটেন। এ বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানাতে বুধবার সকালে বীরু মোল্লা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে জহুরুল মোল্লার বাড়িতে যান। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজনার মধ্যে জহুরুল মোল্লা ও তাঁর ছেলে প্রথমে ফাঁকা গুলি ছুড়ে ভয় দেখান। এরপরও বীরু মোল্লা ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন সেখান থেকে না গেলে আবার গুলি করা হয়। এতে বীরু মোল্লা মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামান বলেন, পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন নিহত ব্যক্তি। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে গুলি করা হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও জানান, তিনি নিজে এবং ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঈশ্বরদীতে সংঘর্ষ: বিএনপি নেতার মামলায় জামায়াতের এমপি প্রার্থীসহ ৩১ জনের জামিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাঁধন হাসান আলিমের করা মামলায় পাবনা-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মন্ডলসহ ৩১ নেতাকর্মীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার পাবনা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক (ভারপ্রাপ্ত) তরিকুল ইসলাম তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে শনিবার উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক ও চরগড়গড়ি গ্রামের মক্কেল আলী মৃধার ছেলে বাঁধন হাসান আলিম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় পাবনা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মন্ডলসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সুলতান মাহমুদ এহিয়া জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আইনবিষয়ক সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজ  বলেন, জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতারা ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা করেছিলেন। এ মামলায় সংসদ সদস্য প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলসহ ৩২ জনকে আসামি করা হয়। আজ আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিচারক ৩১ জনের জামিন মঞ্জুর করেন।

তিনি আরও বলেন, তুষার নামের আরেক আসামি আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার জামিন মঞ্জুর করা হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি যগির মোড়ে নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিএনপি -জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই দলের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হন ছয়জন।

ঈশ্বরদীতে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষ: পাল্টাপাল্টি মামলা


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে গত বৃহস্পতিবার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর দুই দল পাল্টাপাল্টি মামলা করেছে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. স. ম. আব্দুন নুর শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে দুপুরে মামলা দুটি নথিভুক্ত হয়েছিল।

ওসি জানান, সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার ছেলে বাঁধন হাসান আলিম ৩২ জন জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন। এছাড়া আরও ১৫০ থেকে ২০০ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলকে।

অপরদিকে, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম ৩৮ জন বিএনপির নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধাকে। এছাড়া ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের আত্মীয় ও অনুসারী।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটায় ঈশ্বরদী উপজেলার চর গড়গড়ি গ্রামে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদার করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেক নেতা-কর্মী এলাকা থেকে সরে পড়েছেন।

এদিকে শনিবার বিকেলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব পাবনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ‘জামায়াতের লোকজন গ্রামের মহিলা ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে। এতে জনতা তাদের প্রচারণার প্রতিবাদ করেছে। তারা চর গড়গড়ি গেলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে। একপর্যায় তারা স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি সমর্থকদের ওপর গুলি চালায় এবং হামলা চালায়।’

হাবিব আরও জানান, ‘তুষার নামের একজন জামায়াত কর্মী, যিনি মনোনীত প্রার্থী তালেবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনায় বিএনপির ১১ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।’

অন্যদিকে একই দিন বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামী তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করে।

জামায়াত নেতারা দাবি করেছেন, ‘হামলায় আমাদের ৫০ জনের বেশি সদস্য আহত হয়েছেন। পাশাপাশি শতাধিক মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

সংঘর্ষের সময় আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বলেন, ‘যে ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করছিল, তাকে চিনি না। এটি আমাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির সমর্থকেরা আমাদের লোকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এখন তারা আমাদের দোষারোপ করছে।’

ঈশ্বরদীতে বিএনপির কর্মী সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে বিএনপির উদ্যোগে কর্মী সমাবেশ হয়েছে। সলিমপুর ইউনিয়নের বোর্ডঘর মোড় এলাকায় শনিবার বিকেলে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা–৪ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। 

এসময় তিনি বলেন, 'জামায়াতের নারী কর্মীরা যেন কোরআন ছুঁইয়ে মা–বোনদের কাছে ভোট চাইতে না পারেন—দেশবাসীকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।' 

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পরিবারের কথা না ভেবে দেশকে স্বাধীন করতে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, জেড ফোর্স গঠন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭১–কে অপমান করার সুযোগ আমরা কোনোভাবেই দেব না,মন্তব্য করেন তিনি।

হাবিব অভিযোগ করে বলেন, যারা পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেছে, ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে—তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

বক্তব্যে হাবিব আগষ্ট বিপ্লবের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাস আমরা ভুলতে পারি না। ১৯৭১ সালের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রথম স্বাধীন হয়েছে, আর আগষ্ট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৪ সালের আগষ্ট বিপ্লবে দেশ ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে।

খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থেই বেগম খালেদা জিয়া দেশ ত্যাগ করেননি। একজন সন্তানের মৃত্যু, আরেকজনের জীবনসংকট—এই পরিস্থিতিতেও তিনি মানুষের জন্য দেশ ছেড়ে যাননি। আজ তিনি অসুস্থ—তার সুস্থতা কামনা করি।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন— ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার, সাবেক সদস্য সচিব আজমল হোসেন সুজন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোখলেসুর রহমান বাবলু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হোসেন ডাবলু, সলিমপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন, সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহিন, বিএনপি নেতা তুহিন চৌধুরী, সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল ইসলাম হামদু মেম্বার, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী চামেলী খাতুন, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ভাষা প্রামানিক, সাধারণ সম্পাদক ছবি মন্ডল, উপজেলা জাসাস সভাপতি নূর মোহাম্মদ বিশ্বাস, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি পাঞ্জুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানবীর হাসান সুমন, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার সর্বশেষ মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নয়ন, সলিমপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক সুমন মালিথা, সদস্য সচিব মশিউর রহমান রতন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপুল হোসেন বুদুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা।

ঈশ্বরদীতে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল


নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিলের হয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজনে শুক্রবার বিকেলে শহরের মাল গুদাম চত্বরে দোয়া ও মিলাদ অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা অলিউল্লাহ। এর আগে জুম্মার নামাজের পর উপজেলার সকল মসজিদে দোয়া ও মাদ্রাসাগুলোতে কোরআন খানি এবং এতিমদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শামসুদ্দীন আহমেদ মালিথা, পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এসএম ফজলুর রহমান, বিএনপি নেতা আজিজুর রহমান শাহীন, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আতাউর রহমান পাতা, আমিনুল ইসলাম স্বপন, শামসুজ্জোহা পিপপু, ঈশ্বরদী শিল্প ও বনিক সমিতির সভাপতি আশিকুর রহমান নান্নু ও সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন জনি, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, আক্কাস আলী খান মেম্বার, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল, মাহমুদুর রহমান সোনামণি, পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ নান্টু, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার তৌফিক আলম সোহেল, যুবদল নেতা আক্তার হোসেন নিফাসহ বিএনপি, যুবদল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

ঈশ্বরদীতে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দাবি নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। সাহাপুর ইউনিয়নের জগির মোড় ও চর আলহাজ্ব মোড় এলাকায় তাদের ওপর হামলা ও গুলি বর্ষণের ঘটনা, জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন এবং বিএনপির বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়।

শুক্রবার বিকেলে শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুরাতন মোটর স্ট্যান্ডে এক পথসভায় মিলিত হয়। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হোসেন ডাবলু।

পথসভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতা আবু তালেব মন্ডল নিজে উপস্থিত থেকে তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে হামলা চালিয়েছেন। পরে তারা সংবাদ সম্মেলন করে দোষ চাপানোর চেষ্টা করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেখা গেছে, এক যুবক অস্ত্র হাতে গুলি করছেন, যিনি জামায়াতের সক্রিয় ক্যাডার।

বক্তারা দাবি করেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অস্ত্রধারী তুষার মন্ডলকে গ্রেফতার করতে হবে। তা না হলে ঈশ্বরদীতে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে। তারা স্থানীয় পুলিশ ও জামায়াত নেতাকে দায়ী রাখার কথাও উল্লেখ করেন। এছাড়াও বক্তারা বলেন, জামায়াত ছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা বিরোধী সংগঠন।

এসময় পথসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা তুহিন চৌধুরী, দাশুড়িয়া ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সামাদ, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি, শ্রমিক দলের সভাপতি ভাষা প্রামানিক, সাধারণ সম্পাদক ছবি মন্ডল, সাবেক ছাত্রনেতা এনামুল হক, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক বিপুল হোসেন বুদু, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানবীর হাসান সুমন, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নয়নসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

ঈশ্বরদীতে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ভাইরাল যুবকের পরিচয় মিলল

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এই দৃশ্যগুলো গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় একজন যুবককে সামনে থাকা প্রতিপক্ষের দিকে গুলি করতে দেখা যায়।

পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর নিয়ে ওই যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি তুষার, ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়া এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। তিনি পাবনা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের সহচর এবং জামায়াতের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।

থানা সুত্রে জানা গেছে, তুষারের বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।

পাবনা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলি করেছে জামায়াতের তুষার । তিনি তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের সন্ত্রাসী।

অন্যদিকে, পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামী আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া যুবক আমাদের দলের কেউ নয়। তিনি বলেন, আমি তাকে চিনি না। তিনি জামায়াতের কর্মী নন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ.স.ম. আব্দুন নূর জানান, বিভিন্ন সূত্র থেকে ওই যুবকের নাম পরিচয় আমাদের কাছে এসেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি আলহাজ্ব মোড় (জগির মোড়) এলাকায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে গুলি, ভাঙচুর এবং মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উভয় দলের প্রায় অর্ধশত নেতা ও কর্মী আহত হয়েছেন।

ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২৫


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রচারে নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। জামায়াতের দাবি, তাঁদের প্রচারণার সময় বিএনপির লোকজন হামলা চালিয়েছেন। বিএনপি বলছে, গ্রামের লোকজন একজোট হয়ে জামায়াতের লোকজনকে ধাওয়া দিয়েছেন।

উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামে এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে সাতজনকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বাকিরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, পাবনা–৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান। আর জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মন্ডল। চরগড়গড়ি গ্রামে কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দুই দিন আগে কথা–কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ বিকেলে জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল এলাকায় গণসংযোগে যান। আলহাজ্ব মোড়ে পৌঁছালে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকেরা তাঁদের বাধা দেন। সেখানে কিছুক্ষণ কথা–কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির পর আবু তালেব মন্ডল সরে আসেন। ফিরে আসার পথে মৃধাপাড়া মহল্লায় আবার দুই পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে এবং কয়েকটি মোটরসাইকেলসহ জামায়াত প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। দুই পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল অভিযোগ করেন, তাঁরা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় যান। তাঁদের সঙ্গে প্রায় ১৫০টি মোটরসাইকেল ছিল। ফেরার পথে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমানের লোকজন হামলা চালিয়ে গুলি ছোড়ে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এতে ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন বলে তিনি দাবি করেন। গুলিবিদ্ধদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটের বিনিময়ে ‘বেহেশতর টিকিট’ পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা প্রতিবাদ করলে জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল অস্ত্রসহ গাড়ি ও লোকজন নিয়ে গ্রামে ঢোকেন এবং বিএনপির দুজন কর্মীকে মারধর করেন। তখন গ্রামের লোকজন একজোট হয়ে তাঁদের ধাওয়া দেন। এ সময় জামায়াতের লোকজন গুলি ছোড়ে ও বিএনপি নেতা–কর্মীদের মারধর করে। এতে বিএনপির বেশ কয়েকজন আহত হন। একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আবদুন নুর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

জামায়াত আমির বিএনপি নেতার বক্তব্যকে মিথ্যা দাবি করে চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা  ও দলটির জেলা কমিটির আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে  চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী পাবনা জেলা আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল।

তিনি বলেন, 'সাহাপুরে অনুষ্ঠিত কর্মী সমাবেশে হাবিবুর রহমান হাবিব যে দাবি করেছেন—জামায়াতের মহিলা কর্মীরা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে—এটি মিথ্যা। আমাদের বোনেরা এমন কোনো কথা বলেনি। কবে, কোথায়, কার বাড়িতে এসব বলা হয়েছে, তা স্পষ্ট প্রমাণ দিতে হবে। 

মঙ্গলবার রাতে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে জামায়াতের আয়োজনে উমিরপুর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এই কথা বলেন।

আবু তালেব মন্ডল আরও বলেন, আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের আমানত রক্ষা করা। আমরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না; জনগণের ভালোবাসা, বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা ঈশ্বরদী–আটঘরিয়াকে ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও আধুনিক এলাকায় রূপান্তরিত করতে চাই।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সবসময় নৈতিক, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় কাজ করে এসেছে। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিই, তা রক্ষা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। মানুষ আমাদের পাশে থাকায় আমরা সাহস পাই। আগামীর বাংলাদেশ হবে সুশাসন, ন্যায়নীতি ও জনকল্যাণের দেশ—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাবনা জেলা তালিমুল কুরআন বিভাগের সেক্রেটারি   গোলাম রাব্বানী খান জুবায়ের, উপজেলা আমির ড. নুরুজ্জামান প্রামাণিক এবং ঈশ্বরদী পৌর আমির মাওলানা গোলাম আজম খান।

পৌর ৮  নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি খোন্দকার ইউনুস আলীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মাসুদ রানা মাসুম, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাহফুজুর রহমান, পৌর সেক্রেটারি মাওলানা আল আমিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ঈশ্বরদীতে বিশাল মশাল মিছিল


নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা–৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের মনোনয়ন বাতিল করে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুকে মনোনয়নের দাবিতে ঈশ্বরদীতে মশাল মিছিল করেছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা।

ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সকল অঙ্গসংগঠন মিলিয়ে সোমবার রাত ৭টায় শহরের আলহাজ মোড় থেকে মিছিলটি শুরু করে। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় খায়রুজ্জামান বাবু বাসটার্মিনাল সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে সমাবেশে পরিণত হয়।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা জাতীয় বীর, পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাকারিয়া পিন্টুকে পাবনা-৪ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার দাবি জানান। জাকারিয়া পিন্টু সম্প্রতি স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর ফাঁসির মঞ্চ থেকে রেহাই পান।

ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস. এম. ফজলুর রহমান, আটঘরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন জনি, ইসলাম হোসেন জুয়েল, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সংগ্রামে জাকারিয়া পিন্টুকে নানা হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় কারাবন্দি রাখা হয়েছে। তারা চান, পাবনা-৪ আসনের প্রার্থী হোক একজন ত্যাগী ও সাহসী নেতা।

মশাল মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা ‘হাবিবের মনোনয়ন মানি না, মানবো না’ ও ‘ছাত্রলীগের মনোনয়ন মানি না, মানবো না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

গোল্ডেন এ প্লাস অর্জনকারী শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিলেন হাবিব

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর সাহাপুর শহীদ আবুল কাশেম উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়া এক শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ উপহার দিয়ে প্রতিশ্রুতি রাখলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব। বুধবার বিদ্যালয়ে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশ ও এসএসসি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি ল্যাপটপটি তুলে দেন। এটি গত বছর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিক অংশ।

অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের উদ্দেশে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, শুধু বেতনের জন্য নয়—নিজেদের সন্তানের মতো ভেবে আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াতে হবে। তিনি আশা করেন, এভাবে চেষ্টা করলে প্রতিটি শিক্ষার্থীই ভবিষ্যতে এ প্লাস বা গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করতে পারবে। তিনি আরও জানান, গত বছর তিনি ঘোষণা করেছিলেন—যারা গোল্ডেন এ প্লাস পাবে, তাদের সবাইকে তিনি ল্যাপটপ দেবেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আজ একজন শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিতে পেরে তিনি আনন্দিত।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আল্লাহ যদি তাঁকে সুস্থ রাখেন এবং উপজেলার মানুষ ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য বানায়—আর বিএনপি যদি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে, তাহলে তাঁর প্রথম কাজ হবে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং স্কুল ভবনগুলোর সংস্কার। পাশাপাশি ডিজিটাল উপায়ে শিক্ষার মান কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে দিকেও তিনি নজর দেবেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবান আলীর সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষক শামিমউদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ও উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম রকি, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হামিদুর রহমান, দাশুড়িয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, চরমিরকামারী ভাষা শহীদ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেন, প্রয়াত সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নেফাউর রহমান রাজুর সহধর্মিণী খাদিজা আক্তার, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক চামেলী খাতুন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপুল হোসেন বুদুসহ বিভিন্ন কলেজ-স্কুলের অধ্যক্ষ ও দলীয় নেতারা।

২০২৫ সালের ঘোষণার ভিত্তিতে হাবিবুর রহমান হাবিব গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থী লামাইয়া খাতুনকে ল্যাপটপ দেন। এছাড়া ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ও উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম রকির ঘোষণায় নুসরাত জাহান, সুমাইয়া খাতুন, লামিয়া খাতুন ও নীরব হোসেন নামে চার শিক্ষার্থীকে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উপহার দেওয়া হয়।

পুরস্কার পাওয়া শিক্ষার্থীরা হাবিবুর রহমান হাবিব এবং রফিকুল ইসলাম রকিকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক অভিভাবক বলেন, এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি উৎসাহ বাড়াবে এবং শিক্ষায় স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি করবে।

ঈশ্বরদীতে ক্ষুধার্ত প্রতিবন্ধী সাগরের খোঁজ নিলেন তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মরহুম সুরুজ দম্পতির কনিষ্ঠ ছেলে সাগর মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী। ক্ষুধা লাগলে সে বাবা–মায়ের কবরের পাশে গিয়ে কাঁদত আর খাবার চাইত। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নজরে আসে।

মঙ্গলবার বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, সাগরের সারাজীবনের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান।

হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আজকের যুগে কেউ পেটের ক্ষুধায় মৃত বাবা–মায়ের কবরের পাশে গিয়ে কাঁদবে—এটা খুব বেদনাদায়ক ও অমানবিক। খবরটি জানার পর আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাগরের আজীবন দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।’

তিনি আরও জানান, সাগরের যত্ন নিচ্ছিলেন তার ফুফা মল্লিক চাঁদ, যিনি পেশায় চা বিক্রেতা। আর্থিক কষ্টের মধ্যেও তিনি সাগরকে আগলে রেখেছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সাগরের স্থায়ী ভরণপোষণ ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার, সাবেক সদস্য সচিব আজমল হক সুজন, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হোসেন ডাবলু, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহীন, পাবনা জেলা যুবদলের আহ্বায়ক হিমেল রানা, সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রকি, সাবেক ছাত্রনেতা সাইফুদ্দিন স্বপন, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়নসহ বিএনপি, যুবদল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন