ঈশ্বরদীতে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের উপস্থিতিতে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
ঈশ্বরদীতে ট্রেনবহরে হামলার মামলার কারামুক্ত নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলার মিথ্যা মামলায় কারাভোগের পর কারামুক্তির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার জয়নগর বোর্ড অফিস মোড়সংলগ্ন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়।
সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের আয়োজনে এবং ছাত্রদল নেতা আল আমিন হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দুই বছর আগে কারামুক্ত সলিমপুর ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা জানানো হয়।
সংবর্ধিত ব্যক্তিরা হলেন সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, যুবদল নেতা কামাল পারভেজ চাঁদ, বিএনপি নেতা জামিরুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন ও পলাশ মাহমুদ।
ছাত্রদল নেতা আল আমিন হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল, যুবদল নেতা রাসেল হোসেন, ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম হোসেন প্রমুখ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য আসাদুল হক আশা, বিএনপি নেতা সানাউল হক প্রামাণিক, সেলিম রেজা, আফজাল হোসেন, নূর সালাম মন্ডল, হযরত আলী ও ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেনসহ ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠান শেষে কারামুক্তির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে কেক কাটা হয়। একই সঙ্গে মৃত্যুবরণকারী নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
বহিষ্কৃতরা তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিয়েছে: ঈশ্বরদীতে হাবিবুর রহমান হাবিব
নিজস্ব প্রতিবেদন: তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাঁরা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন এবং কৌশলে জামায়াতকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন, সেই বহিষ্কৃতরা এখন নতুন দল তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব এই মন্তব্য করেছেন।
বুধবার বিকেলে ঈশ্বরদীতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

দলের বিদ্রোহীদের কড়া সমালোচনা করে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘যাঁরা ভাই ও দলীয় নেতাকর্মীদের হত্যা করেছেন এবং নিরীহ নারীদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন, আজ তাঁরাই বড় বড় কথা বলছেন। দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারী এসব ব্যক্তির পতন খুব নিকটেই। ষড়যন্ত্র করে যেভাবে আওয়ামী লীগ টিকতে পারেনি, তেমনি জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করে দলের ভেতরে লুকিয়ে থাকা চক্রটিও বেশি দিন টিকতে পারবে না।’
ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ, সদস্যসচিব ইমরুল কায়েস সুমন, সাবেক ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম নয়ন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আজমল হোসেন সুজন, সাবেক সহসভাপতি আতিয়ার রহমান, যুবদল নেতা সুলতান আলী বিশ্বাস ও ছাত্রদল নেতা তানভীর হাসানসহ স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা।
এর আগে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে পৌর শহরের আলহাজ মোড় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। কয়েক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন বাস টার্মিনালে গিয়ে জনসভায় রূপ নেয়।
ঈশ্বরদীতে 'পকেট কমিটি'র অভিযোগে বিএনপির পাল্টা কমিটি, সংঘাতের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ সাত বছর পর ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পরপরই শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। ঘোষিত কমিটিকে সুবিধাবাদীদের ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে বিপরীতে আজ রোববার পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেছেন দলের বহিষ্কৃত নেতারা।
একই সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কেন্দ্র করে শহরের একই স্থানে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি তোরণ নির্মাণ নিয়ে হাতাহাতির উপক্রম হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হলেও স্থানীয় রাজনীতিতে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় শহরের রেলওয়ে গেট এলাকায় ‘তৃণমূল বিএনপি’র ব্যানারে ৩১ সদস্যের এই পাল্টা কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপিতে ইসলাম হোসেন জুয়েলকে আহ্বায়ক ও আনোয়ার হোসেন জনিকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। আর উপজেলা কমিটিতে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আহ্বায়ক ও মো. সাহাবুদ্দিন সেন্টু সরদারকে সদস্যসচিব করা হয়।
ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু (বর্তমানে বহিষ্কৃত) এ দুটি কমিটি অনুমোদন দেন। এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ২২ আগস্ট রাতের অন্ধকারে যে পকেট কমিটি দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। পরীক্ষিতদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগীদের বসানো হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তৃণমূলের অধিকার রক্ষায় এ কমিটি গঠন করা হলো।’
এদিকে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন কেন্দ্র করে দুই পক্ষের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। শহরের আলহাজ্ব মোড়ে একই স্থানে দুই পক্ষ তোরণ নির্মাণ শুরু করলে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ান কর্মীরা। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এক পক্ষ পোস্ট অফিস মোড়ে এবং অপর পক্ষ আলহাজ্ব মোড়ে তোরণ সরাতে সম্মত হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার জানান, প্রশাসনিক পদক্ষেপে আপাতত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পৃথক কর্মসূচি ঘিরে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে আহ্বায়ক ও শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্যসচিব করে উপজেলা এবং মাহবুবুর রহমান পলাশকে আহ্বায়ক ও ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্যসচিব করে পৌর কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে কমিটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁরা দুই দফায় ঝাড়ুমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
ঈশ্বরদীতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপির প্রস্তুতি সভা, শীঘ্রই আসছে আহ্বায়ক কমিটি
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগেই ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে রাজনৈতিকভাবে দূরদর্শী ও কার্যকর পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন পাবনা জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।
শনিবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জাকারিয়া পিন্টু বলেন, ‘সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আজ রোববার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে। নতুন কমিটি গঠনের পর এক মাসের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় সংগঠন পুনর্গঠন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক প্রতিবাদ র্যালি করে আমরা কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন নিয়ে আসব। বিএনপি আমরা করেছি, আমরাই করব; নিজেদের অধিকার নিজেরা আদায় করে নেব।’
দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যক্রমে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল উল্লেখ করে জাকারিয়া পিন্টু জানান, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে দলকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃত্ব পুনর্গঠন করা হলে মাঠপর্যায়ে নতুন গতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ছাড়াও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে আসা বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘাতে বাড়ছে অস্থিরতা ও আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন কেবল দলীয় বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত দুই বছর ধরে দলটির স্থানীয় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অস্ত্রের মহড়া জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের পাশাপাশি বালুমহাল, ঝুট ব্যবসা, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন স্ট্যান্ড এবং মাদক ব্যবসার দখল নিয়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফকে লক্ষ্য করে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার জন্য পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন ভুক্তভোগী শরিফ।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট মাথা ও শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে এবং হাতে অস্ত্র নিয়ে ঈশ্বরদী শহরের বিভিন্ন সড়কে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ ওঠে হাবিবপন্থী সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা ও দলীয় নেতাকর্মীরা থানার সামনে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে পরদিন জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীরা থানা ঘেরাও করেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীদের মধ্যকার এই বিরোধ দীর্ঘদিনের। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সেই সুপ্ত কোন্দল প্রকাশ্য সংঘর্ষ ও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারের রূপ নেয়।
এর পরদিনই সাহাপুরের জিগাতলায় ছাত্রদল কর্মী শচীন বিশ্বাসকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর ২৯ আগস্ট দুই পক্ষের মধ্যে ফের গুলিবিনিময় ঘটে। পরবর্তীতে ১৮ অক্টোবর আরামবাড়িয়া বাজারে যুবদল নেতা সোহান পারভেজ বিপু এবং ১২ ও ১৩ নভেম্বর পাকশী ইপিজেড ও মাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। ৮ ডিসেম্বর পাকশীর বাঘইল কাঁঠালতলায় সংঘর্ষে হাবিবপন্থী যুবদল কর্মী হাজি সেলিমসহ দুজন এবং ১৩ ডিসেম্বর চরাঞ্চলের খাসজমি দখল নিয়ে সংঘর্ষে আরও একজন আহত হন।
২০২৫ সালজুড়ে এই সহিংসতার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। ১ ফেব্রুয়ারি সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়ায় এবং ১১ ফেব্রুয়ারি সাবেক মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলুর কারামুক্তির আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ১২ ও ১৩ এপ্রিল ঈশ্বরদী ইপিজেডের ঝুট ব্যবসা এবং দাশুড়িয়ার ট্রাফিক মোড়ে সিএনজি স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।
পরবর্তীতে ২১ এপ্রিল ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সামনে সংঘর্ষ, ৩০ এপ্রিল গুলি বর্ষণ, ২২ মে সাঁড়ার বালুরঘাট এবং ৫ জুন সাঁড়াঘাটের বালুমহাল দখল নিয়ে ৪০ থেকে ৫০ রাউন্ড গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ১১ জুন রূপপুর প্রকল্প এলাকা, ৩০ জুন মাদক বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ, এবং ৪, ১২ জুলাই ও ২১ জুলাই পদ্মা নদীর বালুরঘাট ও সাহাপুরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বছরের শেষভাগে ৩ ও ৬ অক্টোবর এবং ২৮ অক্টোবর ইপিজেডে টেন্ডার জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে অস্ত্রসহ মহড়ার অভিযোগ ওঠে।
চলতি বছরেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ২৮ জানুয়ারি জাকারিয়া পিন্টুর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর, ৪ ফেব্রুয়ারি বাচ্চু হোসেনকে মারধর এবং ১২ ফেব্রুয়ারি আরামবাড়িয়া বাজারে ১৫ থেকে ২০ রাউন্ড গুলিবিনিময় হয়। ২৩ মার্চ রেলগেট ও পোস্ট অফিস মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে ফুল দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে বড় সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়।
তবে ২ এপ্রিল রাতে পিন্টুপন্থি ছাত্রদল নেতা ইমরান হোসেন সোহাগকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া ২০ এপ্রিল পাকশীতে গাড়ি ভাঙচুর, ২৫ এপ্রিল মাদক বিরোধে গুলিবর্ষণ, ২৭ নাজিম উদ্দিন উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে হামলা, ৩ মে চররূপপুরে মারধর, ৫ মে স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য রবিনকে ছুরিকাঘাত এবং ৯ জুন ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি আব্দুল খালেক খাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। ৩০ জুন সলিমপুরে একটি স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠানে হামলা এবং ২১ জুলাই ঝুট ব্যবসার দুটি ট্রাক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এই অস্ত্রের মহড়া ও সহিংসতার শিকার হয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
জাকারিয়া পিন্টুর ভাই ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসান বলেন, ধারাবাহিক অস্ত্রবাজি ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জননিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। অস্ত্রধারীদের পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও একটি পক্ষ তাদের ছাড়িয়ে নিতে প্রভাব খাটায়।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, অহেতুক বিভিন্ন অনৈতিক ঘটনার সঙ্গে আমাকে জড়ানো হচ্ছে। পিন্টুর চার ভাই দল থেকে বহিষ্কৃত এবং মূলত তারাই বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
সার্বিক বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশাদুর রহমান জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশের নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে মাঝেমধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলেও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে—এমনটি বলার অবকাশ নেই।
ঈশ্বরদীতে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক বিপুল হোসেন বুদুকে প্রধান আসামি করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের নতুনহাট গোলচত্বর এলাকায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নতুনহাট গোলচত্বর মোড়ে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়। এতে বক্তব্য দেন পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক বরকত আলী, দাশুরিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লাকী, পাকশী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহীন উদ্দিন শেখ, ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আলীমুল ইসলাম মৃধা, সাহাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আলিমুল ইসলাম বাধন ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক কনক মন্ডল।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, বিপুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। কোনো একটি পক্ষের নির্দেশে কিংবা প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে ঘটনার আসল পথ ভিন্নখাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুলকে মিথ্যা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে। বক্তারা এই মামলাকে হয়রানিমূলক দাবি করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ১৯ আগস্ট রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে জয়নগরের নিজ বাসায় ফিরছিলেন শরিফুল ইসলাম শরীফ। পথে জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়ির পথরোধ করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তাঁকে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার ছয় দিন পর ২৫ আগস্ট শরিফুল বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিপুল হোসেনকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
ঈশ্বরদীতে কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির আনন্দ মিছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত আংশিক আহ্বায়ক কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ও পথসভা করেছেন দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা।
রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার দাশুড়িয়া গোলচত্বর এলাকায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মিছিলটি দাশুড়িয়া গোলচত্বর ও বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা এসে মিছিলে অংশ নেন।
পরে আয়োজিত পথসভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন এ নেতৃত্বের মাধ্যমে ঈশ্বরদীতে বিএনপি আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে। আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থেকে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
ঘোষিত কমিটিতে জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও মো. শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। অন্যদিকে মাহাবুবুর রহমান পলাশকে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বিএনপির কমিটি বাতিল চেয়ে ঈশ্বরদীতে একাংশের ঝাড়ু মিছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির সদ্য ঘোষিত আংশিক আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল করেছেন দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা। এ সময় পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবি জানানো হয়।
রোববার রাত আটটার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
এর আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রেলওয়ে গেট এলাকার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে সেখানে ঝাড়ু মিছিল বের করা হয়। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়কের ছবি প্রদর্শন করে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন তারা। মিছিলটি স্টেশন রোড প্রদক্ষিণ করে ঈশ্বরদী বাজারের প্রধান ফটকে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বিষ্টু কুমার সরকার এবং সঞ্চালনা করেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল। এতে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা সিন্টু সরদার, শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আশিকুর রহমান নান্নু, সাবেক কমিশনার আনোয়ার হোসেন জনি, যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মাহমুদুর রহমান ফুল জুয়েলসহ অন্যরা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে নির্যাতিত ও রাজপথের সক্রিয় কর্মীদের বাদ দিয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিগত সরকারের অনুসারীদের সঙ্গে সখ্য ছিল—এমন ব্যক্তিদেরও পদে রাখা হয়েছে। ঘোষিত কমিটিকে দলের নীতিপরিপন্থী আখ্যা দিয়ে তারা অবিলম্বে এটি বাতিলের দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন নেতাকর্মীরা।
অভিযোগের বিষয়ে সদ্য ঘোষিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন, তারা মূলত বহিষ্কৃত। তাই বহিষ্কৃতদের কমিটিতে রাখার কোনো সুযোগ নেই।
একই কথা জানান পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি বলেন, একাধিকবার বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা এই কমিটিকে অবৈধ বলার অধিকার রাখেন না। শীর্ষ নেতৃত্বের পছন্দ ও নির্দেশনা অনুসারেই ত্যাগীদের নিয়ে কমিটি অনুমোদিত হয়েছে। তারা বারবার শান্ত পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ আগস্ট জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপিতে জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে আহ্বায়ক ও শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্যসচিব এবং পৌর বিএনপিতে মাহাবুবুর রহমান পলাশকে আহ্বায়ক ও ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্যসচিব করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা জেলা বিএনপি ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির কমিটিতে মো. জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে আহ্বায়ক এবং মো. শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির কমিটিতে মাহবুবুর রহমান পলাশকে আহ্বায়ক ও ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ আগস্ট উপজেলা বিএনপি এবং ১৮ আগস্ট পৌর বিএনপির কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে হাবিব
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে হাবিবুর রহমান বলেন, আমি এই ন্যাক্কারজনক ও বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব দুর্বৃত্তকে দ্রুত শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহর দরবারে শরিফের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করছি—তিনি যেন দ্রুত আরোগ্য লাভ করে আবারও রাজপথে ও রাজনীতির ময়দানে আমাদের মাঝে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন।
এর আগে বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে জয়নগরে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে শরিফুল ইসলামের প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। গাড়িটি থেমে গেলে তাঁরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ মিছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অশ্লীল স্লোগান, মিথ্যা বক্তব্য এবং থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
বুধবার বিকেলে দাশুড়িয়া বাজারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মিছিলে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ও স্থানীয় জামায়াত নেতা হাফিজ মেম্বারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ঈশ্বরদী থানার সামনে জড়ো হয়ে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিনসহ দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান ও মিথ্যা বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে থানায় তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগও করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা ঈশ্বরদীতে হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সুদের কারবারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান তারা।
ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নানা আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
বুধবার সকাল ৯টায় উপজেলার রেলওয়ে গেট এলাকার বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বিষ্টু কুমার সরকার।
ঈশ্বরদী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মাহমুদুর রহমান ফুল জুয়েলের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন জনি, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুমন আলী এবং ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ শাখার প্রস্তাবিত আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান শাওনসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল কবির।
সমাবেশে বক্তারা পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের কঠোর সমালোচনা করেন এবং তার বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি দিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসানসহ সব নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
ঈশ্বরদীতে সভাপতি না পেয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে পোস্ট, স্থানীয় নেতাদের প্রতিবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পদ ঘিরে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে 'অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ' এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম শরীফ।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
অভিযোগকারী শরীফুল ইসলামের দাবি, অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কমিটির সভাপতি হিসেবে তসলিম আরিফ তুষারকে নির্বাচিত করেছেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।
শনিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জেলা বিএনপির আহ্বায়ককে উদ্দেশ্য করে শরীফুল লেখেন, ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার স্বজনকে মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি করতে পদটি কত টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে এই পোস্ট আসার পর থেকেই পক্ষ-বিপক্ষে নানা মন্তব্য করতে থাকেন স্থানীয় রাজনীতিকেরা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শরীফুল ইসলাম ইতিপূর্বে বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের এডহক কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে এবার অভিভাবকেরা তাঁকে কমিটিতে রাখেননি। পদ হাতছাড়া হওয়ার ক্ষোভ থেকেই তিনি জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়েছেন। লেনদেনের কোনো প্রমাণ তিনি দিতে পারবেন না উল্লেখ করে নেতারা জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শরীফুলকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দাবি জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল হক সন্টু সরদার, সাবেক সদস্যসচিব আজমল হোসেন সুজন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন, সাবেক চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান, বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান মুকুল, নবনির্বাচিত সভাপতি তসলিম আরিফ তুষার, কৃষক দলের সদস্যসচিব মইনুল হক সরদার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন ও হাবিবুর মহলদারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সুস্থ হয়ে ঈশ্বরদীতে ফিরলেন সাবেক সাংসদ সিরাজ সরদার
নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হয়ে ঈশ্বরদীর বাঘইল গ্রামে ফিরেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার। এলাকাতে ফেরার পর তাঁকে দেখতে আসা সর্বস্তরের মানুষের স্নেহ ও প্রার্থনার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই রাজনীতিক।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৭ জুলাই হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে তড়িঘড়ি ঢাকার গুলশানের একটি বেসরকারি চিকিৎসালয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যায় তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন। গত ২৮ জুলাই নিজ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান প্রবীণ এই জননেতা। বাড়ি ফেরার পরদিন সকালেই বাসভবনে স্থানীয় সাধারণ নাগরিক ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক এই সভাপতি।
এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে সিরাজুল ইসলাম সরদার বলেন, চিকিৎসালয়ের শয্যায় যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলাম, তখন ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার মানুষের ভালোবাসাই আমাকে বেঁচে থাকার শক্তি জুগিয়েছে। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় আবার আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পেরেছি। জীবনাবসান পর্যন্ত এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এবং অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
কুশল বিনিময়কালে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে বাসভবনে আসেন পাকশী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সোবহান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কবির আহমেদ, বিএনপি নেতা আজিজুল হক, মো. হাসেম আলী এবং পাকশী ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. জাহিদ হাসান মিঠুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নেতা-কর্মীরা।
ঈশ্বরদীতে সাবেক মেয়র বাবলুর স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মোকলেসুর রহমান বাবলুর স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার উপজেলার দাশুড়িয়া মোকাররম মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ জিন্নাহ মিলনায়তনে এই আয়োজন করা হয়। দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যৌথভাবে এই স্মারক সভা ও দোয়ার আয়োজন করে।
দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।
স্মরণসভায় মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান, আনিসুল হক, আবু ওবায়দা শেখ, নূর মোহাম্মদ মাসুম, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী মোল্লা এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুন নবী।
সভা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতাদের সংবাদ সম্মেলন, পরে গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতিতে প্রস্থান
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঝুটবোঝাই দুটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার দিয়ার বাঘাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নুরুন্নবী আলমকে প্রধান আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জিয়াউল হাসান বিপ্লব।
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার রূপপুর কড়ইতলা এলাকায় নিজেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত পক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে নুরুন্নবী লিখিত বক্তব্যে জানান, ঝুট ব্যবসার অংশীদারত্বের ভিত্তিতে তাঁরা প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। তবে চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ বা আসল মূলধন—কোনোটিই তাঁরা পাননি। পাওনা অর্থ দাবি করায় ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় ঘোরাতে তাঁদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছে এবং গণমাধ্যমে তাঁদের 'ডাকাত' হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। এ সময় জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে সংবাদ সম্মেলন চলাকালেই পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রধান আসামি নুরুন্নবীসহ অন্য অভিযুক্তরা সেখান থেকে দ্রুত সরে যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, ডাকাতির ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতেই গাছপাড়া এলাকা থেকে অপহৃত ট্রাক দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। মামলায় নুরুন্নবীসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার আসামি মো. নিজামকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
বাবলুকে নিয়ে ঈশ্বরদীতে নাগরিক স্মরণসভা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র প্রয়াত মকলেছুর রহমান বাবলুর স্মরণে নাগরিক স্মরণসভা হয়েছে। শনিবার বিকেলে ঈশ্বরদীর আরআরপি কমিউনিটি সেন্টারে সম্মিলিত নাগরিক জোট এ সভার আয়োজন করে।
‘জীবিত বাবলুর চেয়ে প্রয়াত বাবলু অনেক শক্তিশালী’ স্লোগানে আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা পি এম আজাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সম্মিলিত নাগরিক জোটের সদস্যসচিব আশিকুর রহমান লুলু। সভায় রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
আরও বক্তব্য দেন নেদারল্যান্ডস বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম মিন্টু, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন নোঙরের মুখ্য সমন্বয়ক হাসানুজ্জামান, পূর্বটেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জমশেদ আলী, ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের প্রভাষক আব্দুর রশীদ, বিএনপির নেতা আতাউর রহমান পাতা, অবসরপ্রাপ্ত ট্রেন পরিচালক (গার্ড) আফজাল হোসেন, পাবনা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল উপজেলা শাখার সভাপতি ভাষা প্রামানিক, ঈশ্বরদী প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি সেলিম সরদার, সহসম্পাদক ওহিদুজ্জামান টিপু, ঈশ্বরদী সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিষদের সহ-সভাপতি জাহিদুল আলম সনু, সহ-সম্পাদক আতাউর রহমান বাবলু, কোষাধ্যক্ষ নূরুল ইসলাম বাবলু, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহীন উদ্দিন, নির্বাহী সদস্য আদু বালা শীল, শাহিনা আক্তার বানু, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান শিহাব, মেয়রের ছেলে আসাদুর রহমান সজিব, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রিয়ামুল ইসলাম রিয়াম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবলুর কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, 'তিনি একজন দক্ষ রাজনৈতিক সংগঠক, সফল মেয়র ও উদার মানসিকতার মানুষ ছিলেন। পৌর এলাকার উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে ঈশ্বরদীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।'
স্মরণসভায় কবিতা আবৃত্তি করেন ইঞ্জিনিয়ার আলমগীরুল নিউটন, শিক্ষক আরিফুর রহমান আরিফ ও কবি রমজান আলী। স্মরণসভা শেষে মরহুম মকলেছুর রহমান বাবলুর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
ক্যানসার আক্রান্ত মেধাবী ছাত্র ছাবিদের পাশে বিএনপি নেতা শাহীন
ঈশ্বরদীতে এমপি ও বিএনপি নেতার বাগবিতণ্ডা, পরে কোলাকুলি
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে 'জুলাই শহীদ দিবসের' আলোচনা সভায় পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের সঙ্গে বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন জনির বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভায় এ ঘটনা ঘটে। পরে অবশ্য তারা কোলাকুলি করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
সভায় জেলা জামায়াতের আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল প্রধান অতিথি ছিলেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি রচনা করেছে। তাদের স্বপ্ন পূরণে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠন জরুরি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে গণভোট ও জুলাই সনদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জুলাই চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে পৌঁছেছিল। কিন্তু বিএনপি এখনো গণভোটের বিষয়ে শপথ গ্রহণ করেনি, যা জাতির প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তার এই বক্তব্যের পরপরই সভাকক্ষে উপস্থিত ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি দাঁড়িয়ে আপত্তি জানান। উত্তেজিত হয়ে জনি বলেন, ‘আপনি সরকারের বিরুদ্ধে এভাবে কথা বলতে পারেন না। সরকারি দলের কোনো সমালোচনা করা যাবে না।’
এ সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান তাৎক্ষণিক দাঁড়িয়ে বিএনপি নেতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পরিবেশ শান্ত হলে অনুষ্ঠান পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চলে। একপর্যায়ে এমপি ও বিএনপি নেতা কোলাকুলি করেন।
এ ব্যাপারে শুক্রবার দুপুরে সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, ‘বিএনপি এখনো গণভোটের বিষয়ে শপথ গ্রহণ করেনি—এ কথায় রাগান্বিত হওয়ার কী আছে? আমরা যদি সহনশীল না হই, তাহলে রাজনীতি করি কেন?’
যোগাযোগ করা হলে আনোয়ার হোসেন জনি বলেন, সভাটি ছিল জুলাই শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর। সেখানে বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলায় তিনি প্রথমে সাধারণ প্রতিবাদ জানান। কিন্তু এমপি আঙুল উঁচিয়ে ধমকের সুরে ‘তুমি কে?’ বলায় তিনিও রেগে কথা বলতে বাধ্য হন।
ইউএনও হাসান মোহাম্মদ শোয়াইবের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার, ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম, পৌর আমির মাওলানা গোলাম আজম খান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন এবং সাংবাদিক শেখ মেহেদী হাসান।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জুলাই আন্দোলনের নেতা, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




























