বিনোদন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিনোদন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১২০০ রুপি পকেটে নিয়ে ১৩০ কোটি আয় করা ছবির নায়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছর বলিউড বক্স অফিসে ছড়ি ঘুরিয়েছে হরর-কমেডি ধাঁচের সিনেমাগুলো। এর মধ্যে সবচেয়ে চমকে দিয়েছে দীনেশ বিজন প্রযোজিত ‘মুনজ্যা’। এ ছবিটি দিয়েই রাতারাতি পরিচিতি পেয়েছেন অভয় ভার্মা। কীভাবে? সেটাই হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি।

গত ৭ জুন প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় আদিত্য সারপোতদার পরিচালিত ‘মুনজ্যা’। মাত্র ৩০ কোটি রুপি বাজেটের সিনেমাটি সবাইকে চমকে দিয়ে বক্স অফিসে ১৩২ কোটি রুপি ব্যবসা করে। অথচ এ ছবিতে অভিনয়ের আগে অভয় ভার্মার কাছে বলতে গেলে পয়সাই ছিল না।

চলতি বছরকে অভয়ের ক্যারিয়ারের বাঁকবদলের বছর বলা যায়। হিন্দুস্তান টাইমসকে অভয় বলেন, ‘আমি ছয় বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে আছি। কিন্তু এ বছর “মুনজ্যা” দিয়ে অবশেষে পরিচিতি পেলাম। আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর এটি। দর্শকেরা আমাকে পছন্দ করেছেন, এটা বড় প্রাপ্তি।’

সাক্ষাৎকারে তরুণ এই অভিনেতা জানান, ‘মুনজ্যা’ মুক্তির আগে তাঁর অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিল না।
‘মুনজ্যা’ মুক্তির আগেও তিনি এ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। তাঁর কথায়, ‘ছবিটি মুক্তির তিন দিন আগে আমি ছিলাম গ্রামের বাড়িতে। তখন আমার হাতে মোটে ১ হাজার ২০০ রুপি। আমার এক বন্ধুকে বলি, ছবিটি কি ভালো কিছু করতে পারবে? যদিও আমার বিশ্বাস ছিল “মুনজ্যা”র মধ্যে সেই শক্তি আছে, তবে মুক্তির আগে তো কিছুই বলা যায় না।’

তরুণ এই অভিনেতা জানান, ছবিটি মুক্তির পর তাঁর ক্যারিয়ার বদলে গেছে। অনেক নতুন নতুন কাজের প্রস্তাব পাচ্ছেন। উন্নতি হয়েছে অর্থনৈতিক অবস্থার। তবে সাফল্যের জোয়ারে গা ভাসিয়ে দিতে চান না অভয়, ২০২৫ সালে বুঝেশুনে পা ফেলতে চান।

আপত্তিকর দৃশ্য নিয়ে বিতর্কে আল্লু অর্জুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘পুষ্পা টু’র প্রিমিয়ারে নারী ভক্তের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। সেই আবহ না কাটতেই আরও এক বিপদের মুখে দক্ষিণী সুপারস্টার আল্লু অর্জুন। ‘পুষ্পা টু’ ছবির একটি দৃশ্য নিয়েই এবার নায়কের বিরুদ্ধে মামলা করলেন কংগ্রেস নেতা তথা তেলঙ্গানা বিধান পরিষদের সদস্য টি মাল্লানা। শুধু আল্লুই নয়, ছবির পরিচালক সুকুমারের বিরুদ্ধেও মামলা করেছেন তিনি।

‘পুষ্পা টু’ ছবিতে আল্লু অভিনীত চরিত্র ‘পুষ্পা’র সুইমিং পুলে প্রস্রাব করার একটি দৃশ্য রয়েছে। আর সেখানে পুলিশ অফিসারের চরিত্রে অভিনয় করা এক অভিনেতাকেও ওই দৃশ্যে সুইমিং পুলে দেখা গেছে। আর সেই দৃশ্যই আল্লুর জন্য এবার বিপদ ডেকে আনল।

আল্লুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা সেই কংগ্রেস নেতা ছবির ওই দৃশ্যটিকে ‘অবমাননাকর’ বলে দাবি করেন। তার দাবি, যেভাবে ওই দৃশ্যটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পর্দায়, তাতে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসারের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। আল্লু এবং ছবির পরিচালক, দুজনের বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

এদিকে ‘পুষ্পা টু’ ছবিটি ঘিরে শুরু থেকেই বিতর্ক। হায়দরাবাদের থিয়েটারে ছবির প্রদর্শনীতে হাজির হন আল্লু। সেখানে অভিনেতাকে দেখতে ৩৫ বছর বয়সি এক নারী পদপিষ্ট হয়ে মারা যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে এক শিশু। সেই ঘটনায় গ্রেপ্তারও হন আল্লু। জামিনে মুক্তিও পান পরে।

এদিকে গেল রোববার হায়দরাবাদের জুবিলি হিলে আল্লুর নিজ বাসায় ভাঙচুর চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। সেখানে তার বাড়ি ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি অভিনেতার বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন সকলে। এমন আবহে সিনেমার দৃশ্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কে পড়লেন এই দক্ষিণী সুপারস্টার।

আল্লু অর্জুনের পুষ্পা-২ রিভিউ: ছবি নিয়ে যত হইচই

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংলাপ, অ্যাকশন, গান ও বৈচিত্র্যপূর্ণ গল্পের পরিবেশনে সর্বদাই আলাদা আবেদন থাকে দক্ষিণ ভারতীয় মুভিগুলোতে। চলচ্চিত্র মুক্তির প্রতিটি উৎসবমুখর মৌসুমে তারই প্রমাণ মেলে কলিউড, টলিউড, মলিউড ও স্যান্ডালউড জুড়ে। সেখানে যদি আবার ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত নায়ক আল্লু অর্জুনের ছবির কথা আসে, তাহলে স্বভাবতই প্রত্যাশা আরও একটু বেড়ে যায়। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার রেকর্ড সৃষ্টিকারী সিনেমা ‘পুষ্পা: দ্যা রাইজ’-এর সিকুয়াল ‘পুষ্পা: দ্যা রুল’। এরই মধ্যে শিরোনামটির পাশে যুক্ত হয়েছে পাহাড় সমান উপার্জনের অংক। চলুন, এ পর্যন্ত চলচ্চিত্রটির মোট উপার্জন এবং পর্দার সামনের ও পেছনের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া জেনে নেওয়া যাক।

পুষ্পা-২ চলচ্চিত্র বৃত্তান্ত

তেলেগু ভাষার ছবিটির রচনা ও পরিচালনায় ছিলেন সুকুমার। সুকুমার রাইটিংস ও মিথ্রি মুভি মেকার্স প্রযোজিত চলচ্চিত্রটির সংলাপ রচনা করেছেন শ্রীকান্থ ভিস্সা। পুষ্পা ফ্যাঞ্চাইজির এই দ্বিতীয় কিস্তিটি ‘পুষ্পা: দ্যা রাইজ’ (২০২১)-এর সিক্যুয়াল। নাম ভূমিকায় আল্লু অর্জুনের পাশাপাশি প্রধান নারী চরিত্রে যথারীতি অভিনয় করেছেন রাশ্মিকা মন্দানা। অন্যান্য ভূমিকায় আছেন ফাহাদ ফাসিল, জগপতি বাবু, রাও রমেশ, সুনীল এবং অনসূয়া ভরদ্বাজ।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল ধনঞ্জয়ের ক্যামিও। গত ৫ ডিসেম্বর ছবিটি ভারতসহ সারা বিশ্বে মুক্তি পায়।

ভারতীয় বক্স অফিসে পুষ্পা-২

ভারতের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্রগুলোর তালিকায় স্থান পাওয়া এই ছবিটির নির্মাণ বাজেট ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি রুপি। বাংলাদেশি টাকায় এই বাজেট ৫৬৫ কোটি থেকে ৭০৬ কোটি টাকা (১ রুপি = ১ দশমিক ৪১ বাংলাদেশি টাকা)।

আর উপার্জনের দিক থেকে চলচ্চিত্রটির বিস্ময়কর অবস্থান জন্ম দিয়েছে বিপুল উত্তেজনার। মুক্তির আগেই এটি ভারতে সর্বোচ্চ প্রি-রিলিজ ব্যবসার রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে থিয়েট্রিকাল ও নন-থিয়েট্রিকাল ব্যবসা থেকে সর্বমোট আয় ছিল ১ হাজার ৮৫ কোটি রুপি (১ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা)।

এর মধ্যে ২০০ কোটি রুপি (২৮২ কোটি টাকা) উঠেছে হিন্দি ডাব্ড ডিস্ট্রিবিউশন স্বত্ত্ব থেকে। ভারতের বাইরে গোটা বিশ্ব থেকে আয় হয়েছে ১৪০ কোটি রুপি (১৯৭ কোটি টাকা)। ডিজিটাল, স্যাটেলাইট এবং সঙ্গীত স্বত্ত্ব থেকে আয় হয়েছে মোট ৪২৫ কোটি রুপি (৬০০ কোটি টাকা)।

কেবল অগ্রিম টিকেট বুকিং থেকেই বিশ্বব্যাপি আয় হয়েছে ১০০ কোটি রুপি (১৪১ কোটি টাকা)। এভাবে অগ্রিম বিক্রি করা টিকেটের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। ছবিটি ‘বুকমাইশো’-তে প্রথম ১০ লাখ টিকেট বিক্রিতে দ্রুততম চলচ্চিত্র হওয়ার রেকর্ড স্থাপন করেছে।

আর মুক্তির পর প্রথম দিনেই মুভিটি বিশ্বজুড়ে ২৮০ কোটি রুপি (৩৯৫ কোটি টাকা) আয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ উপার্জনকারী ভারতীয় চলচ্চিত্রের রেকর্ডটি দখল করে নেয়।

পুষ্পা-২ সিনেমা ঘিরে যত প্রতিক্রিয়া

গত ৪ ডিসেম্বর হায়দ্রাবাদের সন্ধ্যা হলে মুভি চলার সময় এক নারী তার ছোট ছেলেসহ দুর্ঘটনাবশত ভিড়ের মধ্যে মাটিতে পড়ে যান। এতে পায়ের নীচে চাপা পড়ে ছোট ছেলেটি গুরুতরভাবে আহত হয় আর নারীটি মারা যান। এতে আল্লু অর্জুনসহ গোটা ফিল্মের ইউনিট, হল মালিক ও অর্জুনের নিরাপত্তা দলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অর্জুনের টিম ছেলেটিকে সবরকম সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

এর আগে মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অনলাইন পাইরেসির শিকার হয় সিনেমাটি। এটি বিনামূল্যে ডাউনলোডের জন্য বেশ কয়েকটি পাইরেসি ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত হয়ে যায়। এগুলোর মধ্যে ছবিটির ন্যূনতম ২৪০ পিক্সেল থেকে ১ হাজার ৮০ পিক্সেলের এইচডি প্রিন্ট পর্যন্ত একাধিক রেজোলিউশন অন্তর্ভূক্ত ছিল। এর ফলে রোষানলে পড়ে চলচ্চিত্রটির উচ্চ মূল্যের টিকিট এবং সেই সঙ্গে বক্স অফিস সাফল্য। পরবর্তীতে রাজনৈতিক সমর্থনে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এছাড়াও মুভিটির কিছু বানোয়াট সংলাপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সংলাপগুলোর রচয়িতা হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির নাম দাবি করা হয়, যারা কোনোভাবে এই মুভির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না। এই মিথ্যাচার বন্ধের লক্ষ্যে মিথ্রি মুভি মেকার্স তাদের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মাধ্যমে কঠোর সতর্কতা জারি করে।

বক্স অফিসের প্রভাব কতটুকু ছিল সিনেমার পর্দায়

পরিচালনা

৩ ঘণ্টা ২০ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটি স্থান পেয়েছে এখন পর্যন্ত নির্মিত ভারতের দীর্ঘতম পূর্ণদৈর্ঘ্য মুভিগুলোর তালিকায়। এই বিস্তৃত পরিসরের পরিবেশনার প্রধান দিক ছিল পরিচালক সুকুমারের নৈপুণ্য। তিনি এখানে সামাজিক আবহের সঙ্গে সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন চিত্তাকর্ষক বিনোদনের। চিত্রনাট্যের বুননে ছিল আবেগ, অ্যাকশন এবং চক্রান্তের ভারসাম্যপূর্ণ নাট্যরূপ। গ্রহণযোগ্য গতিশীলতার কারণে দীর্ঘ পরিসরের দৃশ্যায়নগুলোর প্রতিটি অংশ ছিল মনোযোগ ধরে রাখার মতো।

শুধু পুষ্প রাজ-ই নয়, বনওয়ার শিং শেখাওয়াতসহ অন্যান্য পার্শ্ব চরিত্রগুলোকেও তিনি প্রাণবন্ত রেখেছেন সূক্ষ্ম রসবোধের মাধ্যমে। প্রতিটি চরিত্র নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় নিয়ে ধরা দিয়েছে পূর্ণদৈর্ঘ্য ফ্রেমে। এমনকি শেষের দিকে পুষ্পার আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক দ্বন্দ্বের দৃশ্যায়নটিও ছিল বেশ সন্তোষজনক এবং উপভোগ্য।

অভিনয়

এই সিনেমার মধ্য দিয়ে আরও একটি সেরা পারফরম্যান্সের কারণে নতুন এক মাত্রা পেলো অর্জুনের ফিল্ম ক্যারিয়ার। বেশ কিছু সফল মুভির নায়ক হওয়ায় তাকে ঘিরে ভক্তদের প্রত্যাশা বরাবরই বেশি। এবারেও তাদের হতাশ হতে হয়নি। বিশেষ করে জাতারার দৃশ্যগুলো ছিল দুর্দান্ত, যার রেশ থেকে যাবে অনেকটা সময় ধরে। তার অভিব্যক্তি, বাচনভঙ্গি ও অঙ্গভঙ্গিমাকে দর্শকদের উচ্ছ্বাসের পর্যায়ে নিয়ে যেতে অবদান রেখেছে ছবির কোরিওগ্রাফি, ভিজ্যুয়াল ও সম্পাদনা। ফলশ্রুতিতে, অর্জুন যে কেবল টলিউডের নন, গোটা ভারতের একজন তুখোড় অভিনয়শিল্পী তা আবারও প্রতিষ্ঠা পেলো।

অপরদিকে গল্পের শ্রীভাল্লিকে নিছক পার্শ্বচরিত্র থেকে গল্পের প্রাণকেন্দ্রে নিয়ে গেছেন রশ্মিকা মন্দানা। তার সংবেদনশীল উপস্থাপনা পুষ্পা চরিত্রসহ গোটা সিনেমাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পুষ্প-শ্রীভাল্লির রসায়ন, বিশেষত তাদের ‘পেপি নাম্বার পিলিংস’ পরিবেশনা আরও একবার জানান দিলো পুষ্পা ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বকীয়তা।

ফাহাদ ফাসিল কেবল একজন খল নায়কই নন, তার অদ্ভূত হুমকি এবং উদাসীনতা অব্যাহত রেখেছে মুভির বৈচিত্র্য। মারদাঙ্গা চলচ্চিত্র মানেই যে শক্তিশালী ও ভীতিকর প্রতিপক্ষ, তারই উন্মুক্ত প্রকাশ ঘটেছে চলচ্চিত্র জুড়ে।

প্রযুক্তিগত সংযোজন ও কারিগরি দিক

প্যান ভারতীয় মুভির অগ্রগতির এক অন্যতম দৃষ্টান্ত হচ্ছে ‘পুষ্পা দ্যা রুল’। সাম্প্রতিক হাইটেক মুভিগুলোর মতো এখানেও দৃশ্যমান ছিল প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ। এই কারিগরি দিকটি কিছুটা হলেও এই কিস্তিকে এগিয়ে দিয়েছে প্রথমটা থেকে। মিরোস্ল কুবা ব্রোজেক-এর দক্ষ সিনেমাটোগ্রাফিতে অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে প্রকাশ পেয়েছে গহীন বন, সরব ও নিরবতার বৈচিত্র্যপূর্ণ দৃশ্যপট। এক দৃশ্য থেকে অন্য দৃশ্যে রূপান্তরগুলো ছিল বিরামহীন।

সংগীতায়োজন

ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর প্রথম মুভিটির সঙ্গে দ্বিতীয়টির যথেষ্ট সঙ্গতি রেখেছে। এর একটা বিরাট কৃতিত্ব হচ্ছে দেবী শ্রী প্রসাদের সংগীতায়োজনের। ‘সুসেকি’ ও ‘কিসিকি’ গান দুটো যেন এক গল্পের মধ্যেই আরও দুটো পূর্ণাঙ্গ গল্প বলার প্রয়াস।

দৃষ্টিগোচর বিচ্যুতি


যে রচনার উপর দাঁড়িয়ে গোটা চলচ্চিত্র, সেখানে ছিল না কোনো বৈচিত্র্য। বর্তমান সময়ের অন্যান্য প্যান ভারতীয় ক্রাইম থ্রিলারগুলোর সঙ্গে আলাদা করে নতুন কিছুর সংযোজন ঘটাতে পারেনি মুভির স্ক্রিপ্ট। উপরন্তু, মুখোমুখি দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ত্রুটিপূর্ণ অংশগুলো বেশ চোখে পড়ার মতো, যা এত বড় বাজেটের একটি ছবির জন্য একদমই অনুচিত।

শেষাংশ


আল্লু অর্জুনের পুষ্পা-২ নিয়ে হইচই-এর মূল ইন্ধন যুগিয়েছে মূলত হায়দ্রাবাদের হলে নারীর মৃত্যু এবং মুক্তির ঘণ্টখানেকের মধ্যে পাইরেসির ঘটনা। এতে উদাত্ত নেতিবাচক প্রচার পেলেও ছবির প্রতি ভক্তদের প্রত্যাশাটা ছিল অনেক আগে; সেই পুষ্পা-১ দেখার পর থেকে। তারই প্রমাণ মিলেছে সাড়া জাগানো বক্স অফিস রেকর্ডের মাধ্যমে, যে সাফল্য কোনো কিছুতেই দমিয়ে রাখা যায়নি। তবে এত বড় বাজেটের একটি অ্যাকশন মুভি হিসেবে গল্প ও অ্যাকশন সিকুয়েন্সে প্রথম কিস্তিকে ছাপিয়ে যেতে পারেনি।

ভেঙে ফেলা হলো আমির খানের ৪০ বছরের অ্যাপার্টমেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক: হঠাৎ ভেঙে ফেলা হলো বলিউড অভিনেতা আমির খানের মুম্বাইয়ের অভিজাত পালি হিলের অ্যাপার্টমেন্ট। আসলে বলিউড তারকা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এটি নতুন করে নির্মাণের।

তিনি যে এমনটা করতে চলেছেন, তা গত বছর থেকেই শোনা যাচ্ছিল অবশেষে শুরু হল কাজ। মুম্বইয়ের অভিজাত অঞ্চল পালি হিল। সেখানেই বেলা ভিস্তা ও মারিনা নামের দুটি বিলাসবহুল আবাসনের ২৪টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ৯টিই আমিরের।

ভারতীয় গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই পুরো বিষয়টির সঙ্গেই আমির যুক্ত রয়েছেন। তিনি এবং আরও যাদের এখানে ফ্ল্যাট রয়েছে তারা


এবার ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ বেশি এলাকা পাবেন বসবাসের জন্য। খরচ পড়বে প্রতি বর্গ ফুটে ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘ওই অ্যাপার্টমেন্টগুলো চল্লিশ বছরের পুরোনো। এখানে প্রথম থেকেই থাকেন আমির ও তার পরিবার। এবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেগুলো ভেঙে ফেলে নতুন করে তৈরি করা হবে। প্রথমে বাকি আবাসিকদের ততটা উৎসাহ না থাকলেও পরে সকলেই রাজি হয়ে যান বলিউড তারকার প্রস্তাবে।’

এই মুহূর্তে আমির ব্যস্ত ‘তারে জমিন পর’-এর সিকোয়েল ‘সিতারে জমিন পর’-এর কাজে। ছবিটি মুক্তি পাবে ২০২৫ সালে। ছবিতে আমিরের বিপরীতে দেখা যাবে অভিনেত্রী জেনেলিয়া দেশমুখকে। ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত স্প্যানিশ ছবি ‘চ্যাম্পিয়নস’ অবলম্বনে তৈরি হবে ছবিটি।

প্রসঙ্গত, আমিরের শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ছিল ‘লাল সিং চাড্ডা’। সেটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে। তবে ২০২৩ সালে ‘লাপাতা লেডিজ’ ছবিটি প্রযোজনা করেছিলেন আমির। যদিও ছবিতে তিনি অভিনয় করেননি।

লাকি ভাস্কর মুভি রিভিউ: সততা বনাম লোভের এক জমজমাট গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবনমুখী গল্পের আবেগঘন নাটকীয়তা দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার বিরাট এক জনরা দখল করে আছে। এমন ঘরানার চলচ্চিত্রের প্রাণপুরুষদের অন্যতম হচ্ছেন দুলকার সালমান। তার উপস্থিতি অনায়াসে ঘুচিয়ে দেয় ছবির বাণিজ্যিক আবেদন ও শৈল্পিক গভীরতার মধ্যকার ব্যবধান। এই ধারাবাহিকতার উন্মুক্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সাম্প্রতিক মুভি লাকি ভাস্করে।

চরিত্র ও গল্পের বৈচিত্র্যময় পরিবেশনা নিয়ে সমালোচক ও দর্শকদের মধ্যে দুলকার সালমানের লাকি ভাস্কর সিনেমাটি ইতোমধ্যে বেশ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। কারা ছিলেন সিনেমাটির নেপথ্যের কলাকুশলী, পর্দায় তাদের পরিবেশনাই বা কেমন ছিল, চলুন, তা পর্যালোচনা করা যাক।


লাকি ভাস্কর বৃত্তান্ত
তেলেগু ভাষার অপরাধ ঘরানার চলচ্চিত্রটির রচনা ও পরিচালনায় ছিলেন ভেঙ্কি আটলুরি। সিথারা এন্টারটেইনমেন্ট্স, ফরচুন ফোর সিনেমা ও শ্রীকারা স্টুডিওর অধীনে ছবির প্রযোজনা করেছেন এস নাগা ভামসি ও সাই সৌজন্যা।

শ্রেষ্ঠাংশে সিনেমার নাম ভূমিকায় থাকা দুলকার সালমানের বিপরীতে ছিলেন মীনাক্ষী চৌধুরী। অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন তিনু আনান্দ, পি সাই কুমার, রামকি, রঘু বাবু, সর্বদামান ডি ব্যানার্জি, শচীন খেড়েকার, প্রভাস শ্রীনু, হাইপার আদি, শিবনারায়ণ নারিপেদি ও সূর্য শ্রীনিবাস।

সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র ভাস্কর কুমার একজন নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষ যিনি পেশায় ব্যাংকের ক্যাশিয়ার। টানাপোড়েনের জীবন থেকে বাঁচতে এক ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার পর তিনি জড়িয়ে পড়েন ভয়াবহ এক আর্থিক কেলেঙ্কারিতে।

সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী মুক্তি পায় চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর।


লাকি ভাস্কর মুভি রিভিউ
ছবিটিতে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার বিষয়টি হচ্ছে একই চরিত্রের মধ্যে বিচিত্রতা। ভিন্ন অংশগুলোর প্রতিটি প্রেক্ষাপটের সঙ্গে পার্শ্ব-চরিত্রগুলোকে পরিমিত অনুষঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন নির্দেশক আটলুরি। ফলে উপজীব্য কাহিনীর আবহে উঠে এসেছে পরস্পরের মধ্যে সম্পর্কযুক্ত গুটি কয়েক বিষয়। চলুন, গভীরভাবে তা বিশ্লেষণ করা যাক।


গল্পের আবেদন ও পরিণতি
সিনেমার প্রধান চরিত্র ভাস্কর ব্যাংকের একজন ক্যাশিয়ার, যিনি নিজের সংসার চালাতে রীতিমত যুদ্ধ করে চলেছেন। তার পরিবারে রয়েছে তার স্ত্রী সুমতি ও অসুস্থ বাবা।

ভাস্করের দিন বদলের জন্য আলোকবর্তিকা নিয়ে হাজির হন অ্যান্টনি। জীবনের যাবতীয় সমস্যা থেকে বাঁচার চাবিকাঠি থাকলেও মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে অ্যান্টনির প্রস্তাবে।

এই সুযোগ আপাতদৃষ্টিতে আশীর্বাদ মনে হলেও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভাস্কর নিমেষেই এগিয়ে যেতে থাকে অন্ধকার জগতের দিকে। আর এভাবেই চলচ্চিত্রটি দর্শকদের নিকট আবেদন রেখে যায় গল্পে প্রবেশের।

এক দিকে ভাস্কারের অবৈধ পদক্ষেপগুলো সাময়িক স্বস্তির উদ্রেক করে, অন্যদিকে লোভের কারণে তার জীবন জড়িয়ে পড়তে থাকে নানাবিধ জটিলতায়। সফলতা পাওয়ার শর্টকাট রাস্তাগুলো খুব আকর্ষণীয় হলেও দিন শেষে যে এর চরম মূল্য দিতে হয়- তা-ই ফুটে ওঠে গল্পের পরিণতিতে।


কাহিনী বিন্যাসের জড়তার রোমাঞ্চকর রূপান্তর
মুভির প্রথমার্ধের ধীরগতিটা যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল তা খুব সহজেই বোঝা যায়। যথেষ্ট সাবধানতার সঙ্গে প্রতিটি চরিত্র ও কাহিনীর স্তম্ভগুলোর গাঁথুনি দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ ভনিতা দর্শকদের কিছুটা খেই হারানোর দিকে ধাবিত করলেও আবেগের উপকরণগুলো চিত্রনাট্যকে একদম গতিহীন হতে দেয়নি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হয় নাটকীয়তার অভিকর্ষ প্রভাব, যেখানে পরতে পরতে থাকে অপ্রত্যাশিত টুইস্ট।

নেপথ্যে আবেগঘন পটভূমি থাকলেও ব্যাংক রসিদ কেলেঙ্কারির ক্লাইমেক্সটি উত্তেজনাকে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দেয়। এ অংশে মুভির সামগ্রিক সম্পাদনা ও আটলুরির চিত্রনাট্যে মেধার বিশদ পরিচয় মেলে।

বৈচিত্র্যপূর্ণ স্তরে চরিত্রের বিকা
একজন ভাস্করকে লাখ লাখ মধ্যবিত্ত চাকরীজীবীদের অন্তরে পৌঁছে দিয়েছেন দুলকার। আর্থিক নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গে অপমান, হতাশা এবং সেই সঙ্গে ধন-দৌলতের নেশা ছিল তার চরিত্রের প্রধান দিক। বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রত্যেকটির স্বাধীন পরিস্ফূটন ঘটেছে তার অভিব্যক্তিতে, যা কোনো প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই স্পর্শ করেছে দর্শকদের অনুভূতি।

সুমতির চরিত্রে মীনাক্ষী চৌধুরীর অবস্থান সংলাপ ও আবহতে যোগ করেছে উষ্ণতা। চলচ্চিত্রের কাহিনীকে পূর্ণতা দিয়েছেন ব্যাংকের জিএমের ভূমিকায় শচীন খেড়েকার ও অ্যান্টনির চরিত্রের রামকি।


শৈল্পিকতা ও চিত্তবিনোদনের যুগপৎ বিচরণ
মুভির পরিবেশ, আবহ, দৃশ্যধারণের নৈপুণ্য বাড়ানোর জন্য প্রযুক্তিগত দিকগুলো নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। জি ভি প্রকাশ কুমারের সঙ্গীত পরিচালনা উদ্দীপনা ও অপ্রতুলতার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিকতা বজায়ে পরিপূরক হিসেবে কাজ করেছে।

সঙ্গীতায়োজনে দারুণ সংযোজন ছিল ভিশা মিশ্র ও শ্বেতা মোহানের ডুয়েট এবং উশা উথুপের প্লেব্যাকগুলো। গল্পের মূল আবেদন থেকে রোমাঞ্চকর দৃশ্যের রূপায়নকে চমকপ্রদ করে তুলেছে নিমিশ রাভির সিনেমাটোগ্রাফি। ভাস্করের সংকট নিরসণের কায়দা এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির ক্লাইম্যাক্স সিনেমার পরিণত সম্পাদনার দৃষ্টান্ত।

কিছু অপূর্ণতা
মূলত প্রথমার্ধের ধীরগতিটাই এই ছবির সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা। বিশেষত সংকটের সুবিধাজনক সমাধান দৃশ্যায়নে পরিমিতিবোধের কিঞ্চিত ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। উপরন্তু, মাঝেমধ্যেই দুলকারের চতুর্থ দেওয়াল ভাঙ্গার ব্যাপারটি ‘টুয়েল্ফথ ফেইলের’ রিস্টার্টের মতো স্লোগান বা পাঞ্চ লাইন হয়ে উঠতে পারেনি।


পরিশেষ
লাকি ভাস্কর মুভিটি ৮০-এর দশকের শেষের দিকে মধ্যবিত্তের সহজাত প্রবৃত্তি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও জীবন সংগ্রামের নিরঙ্কুশ পরিস্ফূটন। প্রধান ভূমিকায় দুলকার সালমানের সপ্রতিভ অভিনয়ের পাশাপাশি নিজেদের চরিত্রগুলোর সুবিচারে সচেষ্ট ছিলেন সহ-অভিনয়শিল্পীরা।

এখানে গল্পের মূল নির্যাস তুলে এনে কাঙ্ক্ষিত বার্তাটি প্রকাশে ভেঙ্কি আটলুরির অবদান অনস্বীকার্য। সিনেমার প্রথমার্ধে কাহিনী গঠনের জড়তা গতি পেয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে, যেখানে বায়োপিকের রূপান্তর ঘটেছে রুদ্ধঃশ্বাস থ্রিলারে।

সর্বোপরি, সম্পাদনা, সঙ্গীত ও সিনেমাটোগ্রাফির দুর্দান্ত সমন্বয়ে চলচ্চিত্রের শেষ পর্যন্ত দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

আবার আসছে সিআইডি, রয়েছে চমক

বিনোদন প্রতিবেদক: ফিরছে হিন্দি টেলিভিশনের জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘সিআইডি’। শেষবার ২০১৮ সালের ২৭ অক্টোবর এই জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকের শেষ পর্বের সম্প্রচার হয়েছিল। টানা ২০ বছর ধরে চলেছে এই শো। ১৫৪৭টি পর্ব হয়েছিল এই ধারাবাহিকের।

কেন ৬ বছর পর নির্মাতারা আবারও ফিরিয়ে আনল ‘এসিপি প্রদ্যুম্ন’, ‘দয়া’ এবং ‘অভিজিতকে? জানা গেছে, নেপথ্যে রয়েছে এই ধারাবাহিক ঘিরে দর্শকের না কমা আগ্রহ।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সিআইডি নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এ শো-এর কিছু ঝলক দর্শকমহলে প্রকাশ করা হয়েছে। একটি পুলিশের গাড়ি থেকে উত্তেজিত অবস্থায় নামতে দেখা যাচ্ছে ‘এসিপি প্রদ্যুম্নকে নিকষ কালো অন্ধকার রাত তখন চিরে দিচ্ছে গাড়ির হেডলাইটের আলো।

মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে ছাতা মাথায় কালো ওভারকোট পরা ‘এসিপি প্রদ্যুম্নকে দেখার পাশাপাশি ভিডিওর আবহে শোনা যাচ্ছে সিআইডির ধারাবাহিকের সেই ক্লাসিক থিম মিউজিক। ভিডিওর একেবারে শেষে একটা গুলির শব্দ শোনা যায়। ইঙ্গিত পরিষ্কার এবার এই দ্বিতীয় সিজনে আরও অ্যাকশনে ভরপুর থাকবে সিআইডি।

এই ঝলক দেখামাত্রই হইচই শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কেউ লিখলেন, ‘ছোটবেলা ফিরে এল’ আরও একজন লিখলেন, ‘উত্তেজনার পারদ চরমে। শৈশবের স্মৃতি উস্কে দিল এই ঝলক।’

জানা গেছে, চলতি বছরের নভেম্বরে শুরু হয়ে যাবে ‘সিআইডি’ নতুন সিজনের শুটিং। এইমুহূর্তে চলছে প্রি-প্রোডাকশনের কাজ। শো-এর ঘনিষ্ঠ এক সূত্র ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ‘নির্মাতাদের পক্ষ থেকে সিআইডির এই নতুন সিজনের প্রস্তাব পেয়ে দারুণ খুশি ধারাবাহিকের অভিনেতারা।’

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে শুরু হয় বিপি সিংহ পরিচালিত সিআইডি। এই সিরিয়ালে এসিপি প্রদ্যুম্নর চরিত্রে অভিনয় করেন শিবাজি সত্যম। দয়ার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন দয়ানন্দ শেঠি। এক সময় এই সিরিয়াল থেকে ধারাবাহিক জগতের একাধিক তারকাও উঠে আসেন।

এসিপি প্রদ্যুম্ন, দয়া এবং অভিজিৎ ত্রয়ীর জনপ্রিয়তা আজও অটুট। এবারেও এই ধারাবাহিকের ওই ত্রয়ীর পাশাপাশি দেখা যাবে নরেন্দ্র গুপ্তা, হৃষীকেশ পাণ্ডে, অংশা শায়েদ প্রমুখ অভিনেতাকে।

বাস্তব ঘটনায় নির্মিত এই হরর ছবি নিয়ে এখনও রহস্য!

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: বলিউড ছবিতে ভূতের গল্পে নাকি ভয় নেই। এছাড়াও রয়েছে ভয়ংকর গল্পের অভাব, যার কারণে খুব বেশি দর্শক টানতে পারে না ছবিগুলো। কিন্তু এই বলিউড থেকেই এমন এক হরর ছবি নির্মিত হয়েছিল, যা নিয়ে এখনও রয়েছে নানা রহস্য।

সত্তর-আশির দশকে হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিজে একাধিক হরর ঘরানার ছবি উপহার দিয়েছেন রামসে ব্রাদার্স। এমনই এক ছবি হল 'ভিরানা'। ২০২৪-এ দাঁড়িয়ে এই ছবির কনটেন্ট 'ক্রিঞ্জ' মনে হলেও সে সময় এই ছবি বক্স অফিসে তুমুল আলোড়ন ফেলে।

তবে শুধু যে বক্সঅফিসেই এই ছবি আলোড়ন ফেলেছিল তা নয়। ছবিটিকে ঘিরে এত ঘটনা ঘটে যা রীতিমতো ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল খোদ পরিচালককেই। এমনকি পরিচালক শ্যাম রামসে এও দাবি করেছিলেন, এ নেহাত ছবি নয়, বরং বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে।
এক সাক্ষাৎকারে শ্যাম জানান, ১৯৮৩ সালে ‘পুরানা মন্দির’ ছবির শ্যুটিং শেষ করে মুম্বাই ফিরছিলেন। রাতে সড়কপথে নিজেই গাড়ি ছুটিয়ে রওনা হন। হঠাৎ মাঝরাস্তায় এক মহিলাকে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে চমকে যান শ্যাম। আচমকা ওই নারীকে দেখতে পেয়ে গাড়ি থামিয়ে দেন। তার গাড়ি দেখে শ্যামের দিকে এগিয়ে আসেন ওই নারী। শ্যাম সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, ‘ওই নারী আমার কাছে লিফ্ট চান। অত রাতে কোনও গাড়ি পাচ্ছেন না বলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন তিনি।’

ওই নারীকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নিজের গাড়িতে উঠতে বলেন শ্যাম। ওই নারী গাড়ির পেছনের আসনে না বসে শ্যামের পাশে সামনের আসনে এসে বসেন। তবে গাড়িতে বসার পর ওই নারী একদম চুপ করে ছিলেন বলেও দাবি করেন শ্যাম। তা দেখে সন্দেহ হয় তার। বারবার ওই নারীর সঙ্গে কথা চালানোর চেষ্টা করছিলেন। তা সত্ত্বেও কোনও উত্তর দিচ্ছিলেন না ওই নারী। একপর্যায়ে তার পায়ের দিকে লক্ষ করে দেখেন যে ওই নারীর পা বিপরীত দিকে ঘুরে রয়েছে। এই দৃশ্য দেখে ভয় পেয়ে যান শ্যাম। সেই মুহূর্তে পাশে তাকিয়ে দেখেন, সেই নারী আর সামনের আসনে বসে নেই।

শ্যামের দাবি, ‘প্রেতাত্মা’র সঙ্গে সাক্ষাতের ঘটনা ভুলতে পারেননি তিনি। নিজে হরর ঘরানার ছবি বানান শ্যাম। তবে, কোনও দিন সত্যিই ‘ভূত’ দেখতে পাবেন তা কল্পনা করেননি তিনি। পরে শ্যাম সিদ্ধান্ত নেন, এই ঘটনার উপর ভিত্তি করে একটি ছবি বানাবেন।

পাঁচ বছর পর এই ঘটনার উপর ভিত্তি করেই শ্যাম 'ভিরানা' বানানোর সিদ্ধান্ত নেন । ছবিতে অভিনয় করেছিলেন জ্যাসমিন।

কিন্তু এই ছবিকে ঘিরে এখনও রয়েছে রহস্য। কারণ, ছবির ‘হট পিশাচিনি’ খ্যাতি পাওয়া সেই অভিনেত্রী জ্যাসমিন ছবিটিতে কাজ করার পর বাস্তব জীবন থেকে গায়েব হয়ে যান। অনেক দিন তার খোঁজ মেলেনি। পরে যদিও শোনা যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংসারী হয়েছেন তিনি; যদিও এর সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি।
শোনা যায়, এই ছবির পর থেকেই মুম্বাইয়ের অন্ধকার জগৎ থেকে নাকি নানা হুমকি আসতো জ্যাসমিনের কাছে। আসত খারাপ প্রস্তাব। সব কিছু এড়াতেই বিদেশে পালিয়ে যান।

তবে একাধিক মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, আন্ডারওয়ার্ল্ড সংযোগের কারণে তিনি নিজের জীবন শেষ করেছেন জ্যাসমিন। একইসঙ্গে কারও কারও দাবি, দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয়েছে তার- তবে তারও কোনো প্রমাণ নেই।

চার বছর পর আসছে ফোক ফেস্ট

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: চার বছর বিরতির পর আবারও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফোক ফেস্ট। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছে আয়োজক প্রতিষ্ঠান সান কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিচালক (হিসাব) আসিফুজ্জামান খান।

বিগত ৯ বছর ধরে এই আয়োজন করে আসছে সান ফাউন্ডেশন। সর্বশেষ ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’। ইতোমধ্যে ফোকফেস্ট নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সান ফাউন্ডেশনের আলোচনা শুরু হয়েছে।

শিল্পী বাছাই প্রক্রিয়াও চলছে। সাধারণত শীতকালেই বসে গানের উৎসবটি। সেই ভাবনা থেকে আসছে নভেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হতে পারে ফোকফেস্ট।

২০১৫ সালে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় লোকসংগীতের উৎসব ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট’। ফোক ফেস্ট হলো একটি সংগীত উৎসব যেখানে বিভিন্ন দেশের লোকশিল্পীরা একই মঞ্চে পারফর্ম করে লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।

এই উৎসবের মূল লক্ষ্য হচ্ছে লোকসংগীতের আদি এবং মাটির গন্ধমাখা সুরকে শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে এই সাংস্কৃতিক ধারা পৌঁছে দেওয়া।

সুজিত সরকারের সঙ্গে অভিষেক বচ্চনের নতুন ছবি 'আই ওয়ান্ট টু টক'

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: এবার পরিচালক সুজিত সরকারের ফিরছেন অভিনেতা অভিষেক বচ্চন। গতকাল বুধবার তাদের নতুন ছবির এক ঝলক উন্মোচিত হয়েছে।  

'আই ওয়ান্ট টু টক' শিরোনামের ছবিটি ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।

ইনস্টাগ্রামে অভিষেক একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে আমরা দেখা যাচ্ছে, অভিষেকের মুখ একটি বাবলহেডে রাখা হয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে অভিনেতার কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে, 'আমি শুধু কথা বলতে ভালোবাসি না, আমি কথা বলার জন্যই বাঁচি। আমি শুধু জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে এই মৌলিক পার্থক্যটাই দেখতে পাই। যারা বেঁচে আছেন তারা কথা বলতে পারেন; যারা মারা গেছে তারা পারবে না।’

ওই পোস্টের ক্যাপশনে অভিষেক লেখেন, ‘আমরা সবাই জানি যে একজন মানুষ কথা বলতে ভালোবাসে। এখানে এমন একজন ব্যক্তির গল্প বলা হয়েছে, যিনি সর্বদা জীবনের উজ্জ্বল দিকটি দেখেন; জীবন তাকে যেটাই দিক না কেন! আপনার পরিচিত ব্যক্তিকে ট্যাগ করুন যিনি কথা বলার জন্য বেঁচে আছেন।’

চলতি বছরের মার্চে মুম্বাইয়ে প্রাইম ভিডিওর অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এই পরিচালক ও অভিনেতা জুটি আশ্বাস দিয়েছিলেন, প্রকল্পটি দর্শকদের মুখে হাসি ফোটাবে।

সুজিচত বলেন, ‘আমি সাধারণ জীবন নিয়ে সিনেমা বানাই এবং সেই সাধারণ চরিত্রগুলোকে অসাধারণ করে তোলার চেষ্টা করি। এই ছবি আপনাকে হাসাবে এবং আপনাকে উষ্ণতা দেবে।’

প্রকল্পের অফিসিয়াল সারসংক্ষেপে লেখা ছিল, কখনো কখনো জীবন আমাদের দ্বিতীয় সুযোগ দেয়। অর্জুন নামে এক ব্যক্তি 'দ্য আমেরিকান ড্রিম' এর সন্ধানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসতি স্থাপন করেছিলেন। এটি তার মেয়ের সঙ্গে তার বন্ধনকে পুনরায় আবিষ্কার এবং আলিঙ্গন করার একটি সুযোগ।

এতে আরও লেখা হয়েছে, সুজিত সরকার এই সিনেমা বাবা ও কন্যার সম্পর্ক নিয়ে তৈরি করেছেন। একটি অন্তরঙ্গ আবেগঘন যাত্রা, যেখানে তারা জীবনের অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলোকে মোকাবিলা করে একটি কাহিনীর মাধ্যমে। চলচ্চিত্রটি আমাদের জীবনের ক্ষণস্থায়ী মুহূর্তগুলোর সত্যিকারের মূল্য আবিষ্কার করে, প্রত্যেককে লালন করতে শিখে।

রাইজিং সান ফিল্মস এবং কিনো ওয়ার্কস প্রযোজিত এই ছবিতে আরও রয়েছেন জনি লিভার, অহল্যা বামরু এবং জয়ন্ত কৃপলানি।

একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী সুজেয় শ্যাম আর নেই

সুজেয় শ্যাম
সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক : স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

তার মেয়ে রূপা মঞ্জুরী শ্যাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর রাজধানীর সবুজবাগ বরদেশ্বরী শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

সুজেয় শ্যাম ক্যান্সার, উচ্চ ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যাসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন।

তার মেয়ে জানান, গত সেপ্টেম্বরে তার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানোর পর তার সংক্রমণ শুরু হয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। এ সময় আইসিইউতে শয্যা খালি না থাকায় তাকে সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন সুজেয় শ্যাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শেষ গান এবং পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর প্রথম গানের সুরকার হিসেবে সম্মানিত তিনি।

গানটি ছিল “বিজয় নিশান উড়ছে ঐ”। এটি লিখেছিলেন গীতিকার শহিদুল আমিন এবং কণ্ঠ দিয়েছিলেন অজিত রায়; ১৯৭১ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জন্য তার মোট নয়টি গান গাওয়া হয়েছিল।

তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে "রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি", "রক্ত চাই রক্ত চাই", "আহা ধন্য আমার জন্মভূমি" এবং "আয়রে চাষি মজুর কুলি"।

১৯৪৬ সালের ১৪ মার্চ সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন সুজেয় শ্যাম। বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ২০১৮ সালে একুশে পদক এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে ২০১৫ সালে শিল্পকলা পদক লাভ করেন।

তিনি হাছন রাজা (২০০২), জয়যাত্রা (২০০৪), অবুঝ বউ (২০১০) ও যৈবতী কন্যার মন (২০২১) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চারবার শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

কষ্ট পুষে রাখা মানুষটি নেই ছয় বছর

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: রূপালি গিটার ফেলে, একদিন চলে যাবো দূরে বহুদূরে’- এক উদাত্ত কণ্ঠে, গিটার বাজিয়ে গানটি গেয়েছিলেন বাংলা ব্যান্ডের কিংবদন্তী শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু। বুকে অনেক কষ্ট পুষে রাখা সেই গানের কথার ব্যতিক্রম ঘটেনি; ২০১৮ সালের আজকের এই দিনে লাখো ভক্তকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান আইয়ুব বাচ্চু।

২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর। এদিন ঘুম ভাঙতেই এক দুঃসংবাদ কানে আসে দেশবাসীর। আইয়ুব বাচ্চু আর নেই! সত্যি? যেন কেউ বিশ্বাসই করছেন না। রাস্তায় বের হতেই মানুষের মুখে মুখে একই খবর। তাহলে কি সত্যিই রুপালি গিটার ফেলে দূরে, বহুদূরেই চলে গেলেন গিটারের জাদুকর!

মুহূর্তের মধ্যেই শোকে ভারী হয়ে ওঠে সারাদেশ। সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক নেটিজেনদের শোক; ভেসে ওঠে প্রিয় শিল্পীকে হারানোর বেদনা। সমাজ মাধ্যমের পাতাও ভরে ওঠে আইয়ুব বাচ্চুর সাদাকালো ছবিতে। বেলা বাড়তেই হাসপাতালে লোকারণ্য। চট্টগ্রামের শেষযাত্রার আয়োজনে জনসমুদ্র। ব্যান্ড সংগীতের জগতে এত বিষণ্নতা হয়তো এর আগে কেউ দেখেনি।

কিংবদন্তী এই শিল্পী বিদায় নেন মাত্র ৫৬তেই। এখন তার রুপালি গিটারটিও হয়তো রয়ে গেছে। সঙ্গে রেখে গেছেন- সেই তুমি, এক আকাশে তারা, ফেরারি মন, আমি বারো মাস, এখন অনেক রাত, রূপালী গিটারসহ অসংখ্য কালজয়ী গান। তবে প্রতিভা বলতে যদি বোঝায় শুধু আইয়ুব বাচ্চু, তাহলে তাই-ই।

১৯৮৩ সালে মাত্র ৬০০ টাকা নিয়ে ঢাকায় আসেন আইয়ুব বাচ্চু। এরপর কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে গড়তে থাকেন। এক পর্যায়ে বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক তারকা হয়ে উঠলেন।

আইয়ুব বাচ্চু যখন গিটার বাজাতেন, সেই সুর ঝলক দিয়ে উঠত শ্রোতাদের মনে। কনসার্টে একসঙ্গে এবির সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতেন ভক্তরা। ‘এবি’ ছাড়াও ভক্তরা তাকে আরও এক নামে ডাকতেন ‘বস’।

আইয়ুব বাচ্চু এমন একটি নাম, যেই নামটি অনেক বেশি ইউনিক। তার বাবাও চাইতেন ছেলের এমন একটা নাম হবে, যা অন্য কারও নেই। যেমন আইয়ুব আলী, আইয়ুব হোসেন—এমন তো হয়-ই। দুটি নাম থেকে আলাদা অংশ নিয়ে রাখা হলো, আইয়ুব বাচ্চু। সেই থেকে তিনি হলেন ‘ওয়ান অ্যান্ড অনলি’ আইয়ুব বাচ্চু।

নব্বই দশক থেকে আইয়ুব বাচ্চু জনপ্রিয়তা্র তুঙ্গে অবস্থান করে। কিন্তু এরপরও তেমন স্টারডর্ম কাজ করত না। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে থেকেছেন এই কিংবদন্তী। বলা বাহুল্য, তারকা হিসেবে নয়, একজন ‘ভালো মানুষ’ হয়ে, সবার হৃদয়ে থেকে বাঁচতে চেয়েছিলেন এই গিটারের জাদুকর।

'গানওয়ালাদের গান' কনসার্টে গাইবেন সাত গায়ক-গীতিকার

গায়ক-গীতিকার

 

স্টাফ রির্পোটার: সাতজন জনপ্রিয় গায়ক-গীতিকারের সমন্বয়ে আগামী ২ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে 'গানওয়ালদের গান' শীর্ষক বিশেষ কনসার্ট।

কনসার্টের লাইন আপে থাকছেন রেজাউল করিম লিমন, জয় শাহরিয়ার, আহমেদ হাসান সানি, শুভেচ্ছা, শুভ্র, সুহৃদ স্বাগতা ও কাকতাল ব্যান্ড। এসব শিল্পী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংগীত প্রেমীদের মধ্যে বিশেষত তরুণ শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা সবাই গায়ক-গীতিকার। তারা প্রত্যেকেই নিজের লেখা ও সুর করা সংগীতে কণ্ঠ দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে আয়োজক ও শিল্পীদের পক্ষ থেকে জয় শাহরিয়ার বলেন, 'সংগীতের জগতে যারা সুরকে নিজের ভাষায় ধারণ করেন এবং নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করেন, তাদেরই বলা হয় 'গায়ক-গীতিকার'। আমরা তাদের নাম দিয়েছি 'গানওয়ালা'—এই শিল্পীরা একটু আলাদা।’

জয় বলেন, ‘এসব শিল্পী তাদের নিজস্ব গান পরিবেশন করেন কারণ প্রত্যেকেরই কথা বলা, দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গির একটি অনন্য পদ্ধতি রয়েছে। বাংলা সংগীতে এই শিল্পীদের যাত্রা শুরু থেকেই একই রকম এবং শ্রোতাদের মধ্যে এর প্রভাব ব্যাপক।’

জয় শাহরিয়ার জানান, জনপ্রিয় এই শিল্পী ও তাদের অসাধারণ সৃষ্টির ওপর আলোকপাত করতে এই বিশেষ কনসার্টের আয়োজন করছে আজব কারখানা।

'গানওয়ালাদের গান'-এর টিকিট পাওয়া যাচ্ছে getsetrock.com ওয়েবসাইট থেকে।

শাকিব-রাজের পর এবার দেবের নায়িকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পশ্চিমবঙ্গের টিভি সিরিয়ালের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইধিকা পালের সিনেমায় অভিষেক হয়েছিল বাংলাদেশের ছবি ‘প্রিয়তমা’য়। শাকিব খানের সঙ্গে বাংলাদেশের এই সিনেমায় অভিষেক ঘটার পর আর পিছু ফিরে তাকাতে হচ্ছে না তাঁকে। একের পর এক নতুন সিনেমার প্রস্তাব পাচ্ছেন। এরই মধ্যে বাংলাদেশের ‘কবি’তে শরিফুল রাজের বিপরীতে শুটিং শুরু করেছেন।

হাসিবুর রেজা কল্লোলের ছবিটির প্রথম লটের শুটিং হয়েছে ভারতেই। এবার নতুন খবর দিলেন ইধিকা। ঘরের মেয়ে অবশেষে ঘরের ছবিতে অভিনয় করতে চলেছেন। টালিগঞ্জের সুপারস্টার দেবের বিপরীতে ‘খাদান’ ছবিতে দেখা যাবে ইধিকাকে।

সুরিন্দর ফিল্মস ও দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চারসের প্রযোজনায় ছবিটি পরিচালনা করবেন সুজিত দত্ত। খবরটি আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল, তবে ইধিকা মুখ খুলতে চাননি। সোমবার রাতে ছবিটির ফার্স্ট লুক মোশন পোস্টার ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন ইধিকা নিজেই। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘টলিউডে আমার অভিষেক ছবির প্রথম পোস্টার।

আমার সঙ্গে সুপারস্টার দেব অভিনয় করবেন। অ্যাকশন, থ্রিলার ও বিনোদনের জন্য আমরা আসছি।’

২০২৪-এ বলিউডে আসছে নতুন জুটির ধামাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুখ থুবড়ে পড়া বলিউড আবার যেন প্রাণ ফিরে পেল নতুন নতুন হিট সিনেমা উপহার দিয়ে ।২০২৩ এর মতো এ যাত্রা অব্যাহত থাকবে ২০২৪ এ এমন প্রত্যাশা নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছেন দর্শকরা। চলতি বছরে ‘পাঠান’, ‘দ্য কেরালা স্টোরি’, ‘গদর ২’, ‘জওয়ান’, ‘টাইগার ৩’ ‘অ্যানিমেল’ ‘ডানকি’ এর মতো ছবিগুলো রেকর্ড ব্যবসা করেছে। সবাই চাইছেন, আগামী বছরেও এমনই সাফল্য আসুক।

হৃতিক রোশন-দীপিকা পাড়ুকোন (ফাইটার) 

২০২৪ সালে সিনেমার ব্যবসা কেমন হবে, তা মুক্তির আগে নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও বেশ কিছু নতুন জুটি আশা দেখাচ্ছে। এ তালিকায় রয়েছে হৃতিক রোশন-দীপিকা পাড়ুকোন, ক্যাটরিনা কাইফ-বিজয় সেতুপতি, শাহিদ কাপুর-কৃতি শ্যাননের নাম। দেখা যাক কারা আসছেন নতুন কোন ধামাকা নিয়ে। ২০২৪ সালের শুরুতেই আসছে বড় ধামাকা। সিদ্ধার্থ আনন্দের পরিচালনায় প্রথমবার একসঙ্গে বড়পর্দায় দেখা যাবে হৃতিক রোশন ও দীপিকা পাড়ুকোনকে। আগামী ২৫ জানুয়ারি মুক্তি পাবে ‘ফাইটার’। ছবিটি ভারতের প্রথম এরিয়াল অ্যাকশন (যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত)। ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছে সিনেমার ট্রেলার-গান। যেখানে দুই অভিনেতা-অভিনেত্রীর কেমিস্ট্রি বেশ মনে ধরেছে দর্শকদের। পুরো ছবিতেও তাদের অভিনয় যে সবার পছন্দ হবে, এমনটা আশা রাখাই যায়।

ক্যাটরিনা কাইফ-বিজয় সেতুপতি (মেরি ক্রিসমাস)

শ্রীরাম রাঘবনের মতো পরিচালকের ছবি মানেই দর্শকদের প্রত্যাশা তুঙ্গে থাকবে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তার ওপর ছবিতে প্রথমবার জুটি বেঁধেছেন ক্যাটরিনা কাইফ ও বিজয় সেতুপতি। পরিচালকের প্রত্যেকটি ছবির বিষয়বস্তুতেই ভিন্নস্বাদের হয়। ‘মেরি ক্রিসমাস’-এও শ্রীরাম রাঘবন যে নতুন কিছুর ছোঁয়া দেবেন, তা বলাই বাহুল্য। তবে সবকিছুর মধ্যেও নতুন জুটি নিয়ে বেশি আলোচনা চলছে।

শাহিদ কাপুর-কৃতি শ্যানন (আনটাইটেলড)

প্রযোজক দীনেশ ভিজানের নতুন ছবিতে এই জুটিকে দেখা যাবে। ইতিমধ্যে ছবিটির ফার্স্ট লুকও প্রকাশ্যে এসেছে। তবে ছবির নাম এখনও ঠিক হয়নি। আপাতত জোরকদমে সিনেমাটির প্রি প্রোডাকশনের কাজ চলছে। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের শুরুতেই শ্যুটিং শুরুর কথা। বলিউড সূত্রে খবর, ২০২৪-এই বড়পর্দায় মুক্তি পাবে শাহিদ-কৃতি জুটির প্রথম ছবি।

এছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি নতুন জুটির ছবি বলিউডে আসতে চলেছে আগামী বছর। ভিকি কৌশলের সঙ্গে প্রথমবার আসতে চলেছেন দক্ষিণী (বর্তমানে বলিউডেও) তারকা রাশমিকা মান্দানা। সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও রাশি খান্নাকে প্রথমবার জুটিতে দেখা যাবে ‘যোদ্ধা’ ছবিতে। আবার ‘হিরো নম্বর ওয়ান’ ছবিতে টাইগার শ্রফের বিপরীতে বড়পর্দায় ডেবিউ করবেন হৃতিক রোশনের বোন পশমিনা রোশন।

ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র ও দর্শক রুচির পর্যবেক্ষণ নিয়ে সেমিনার


নিজস্ব প্রতিবেদক: চলচ্চিত্র শিল্প হলো সংস্কৃতির সবোর্চ্চ ধাপের একটি। সব শিল্প মাধ্যম নিয়েই চলচ্চিত্র। যা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে আমাদের একটি গর্বের জায়গা। এই শিল্পকে যথাযথ ভাবে পরিচর্যা করে এর বিকাশ ঘটাতে হবে বলে মনে করেন আজকের সেমিনারের আলোচকগণ।

আজ বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সেমিনার হলে ‘বাংলাদেশের ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র ও দর্শক রুচির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে গবেষণাকর্ম উপস্থাপন করেন নির্বাচিত গবেষক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক শোভন চক্রবর্তী।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক, চলচ্চিত্র পরিচালক ও সমালোচক রফিকুজ্জামান, চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি কাজী হায়াৎ এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শবনম ফেরদৌসী।

উক্ত গবেষণাকর্মের তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুল হক। সেমিনার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মোফাকখারুল ইকবাল, চলচ্চিত্র পরিচালক আলী জুলফিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক প্রযোজক হাবিবুল ইসলাম হাবিব সহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ঠ বিভিন্ন ব্যক্তিগণ। সেমিনার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের পরিচালক ফারহানা রহমান।

আদালতের দ্বারস্থ বলিউড সুন্দরী জ্যাকলিন


নিজস্ব প্রতিবেদক: চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত বলিউড তারকা জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ। নিজের ক্যারিয়ার নিয়েও বিপাকে পড়েছেন শৌখিন এই অভিনেত্রী। ঠগবাজ সুকেশ চন্দ্র শেখরের সঙ্গে প্রেমের মূল্য যে এভাবে দিতে হবে, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি তিনি। এখন তার জীবন এমন বিষিয়ে উঠেছে, না পারছেন সইতে না পারছেন কিছু করতে। নিজেকে মুক্ত রাখতে শেষমেশ আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হলেন এই লাস্যময়ী অভিনেত্রী।

ভালোই চলছিল সব। গোপনে দেখা হচ্ছিল, ভরপুর প্রেম ছিল। হাতভর্তি উপহার ছিল। আর এখন, হাতে শুধুই নানা সময় নানা মামলার কাগজপত্র। হ্যাঁ, বলিউডের এই অভিনেত্রীর মনে এখন এমনই ঝড়। টালমাটাল ক্যারিয়ার সামলে উঠতে না উঠতেই দুর্নীতির সঙ্গে যোগ। প্রেমিকের ছদ্মবেশে যে ঠগ আসবেন, তা কখনোই জানতেন না তিনি। এখন উপায়? বলিউড সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, এরইমধ্য ভারতের দিল্লি হাইকোর্টে গিয়েছিলেন জ্যাকলিন। ২০০ কোটি টাকার দুর্নীতিতে সুকেশ চন্দ্র শেখরের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ইডির পক্ষে ফৌজদারি মামলা জারি করা হয়েছে জ্যাকলিনের নামে। সম্প্রতি এই ফৌজদারি মামলা বাতিল করার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন জ্যাকলিন। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশের পক্ষে করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় প্রধান সাক্ষী তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০০ কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত সুকেশ। তার সঙ্গে সম্পর্কের জেরেই আইনি জটিলতায় জড়াতে হয়েছে জ্যাকলিনকে। যদিও এর আগে আদালতে সুকেশ দাবি করে, ২০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের মামলায় জ্যাকলিন কোনোভাবেই জড়িত নন। বিচারকের সামনে সুকেশ তখন বলেছিলেন, ‘জ্যাকলিন এই মামলার অংশ নয়, ওর কোনো চিন্তা নেই। আমি ওকে বাঁচানোর জন্যই এখানে আছি।’ যদিও সুকেশ প্রসঙ্গে মুখে কুলুপ এঁটেছেন জ্যাকলিন। এ বিষয়ে একটিও মন্তব্য খরচ করতে তিনি রাজি নন।

আপাতত তিহার জেলে বন্দি সুকেশ। সেখান থেকেই জ্যাকলিনকে একের পর এক চিঠি পাঠাচ্ছেন তিনি। এবার জ্যাকলিনকে বাঘিনী বলে সম্বোধন করে লিখেছিলেন, ‘বেবি প্রথমেই বলি, দোহার শোতে তোমায় দারুণ হট লাগছিল। আমার বম্মা তোমার থেকে সুন্দর এ পৃথিবীতে আর কেউ নেই।’ তবে এসব মিথ্যে প্রেমের ফাঁদে জ্যাকলিন আর পড়তে চান না। বরং জ্যাকলিন এখন এসব থেকে দূরে থাকতে পারলেই বেঁচে যাবেন।

পাবনায় শাকিব খানকে দেখতে ভক্তদের ঢল


নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘রাজকুমার’ সিনেমার শুটিংয়ে বর্তমানে পাবনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের শীর্ষ নায়ক শাকিব খান। কয়েকদিন আগেই ঢাকা শুরু হয়েছিল এই সিনেমার শুটিং।

যেখানে শাকিব খানের সঙ্গে প্রথম লটে অংশ নিয়েছিলেন এই ছবির মার্কিন অভিনেত্রী কোর্টনি কফি। ঢাকায় নিজের অংশের শুটিংয়ের কাজ শেষ করে আমেরিকায় ফিরে গেছেন তিনি। 

অন্যদিকে ঢাকার শুটিং পর্ব শেষে গত (১৮ ডিসেম্বর) পাবনায় এসেছেন শাকিব খান। সেখানে চলছে সিনেমার দ্বিতীয় লটের কাজ।  শাকিবের আগমনী খবরে তার শুটিংস্পটে ভিড় জমাচ্ছেন হাজারো জনতা। নায়ককে কাছ থেকে দেখতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন তারা। ভক্তদের এমন ভালোবাসার দৃশ্য নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করেছেন শাকিব খান। 

পাবনায় শুটিং চলাকালীন উৎসুক জনতার ঢল, এমনই একটি ভিডিও প্রকাশ করে শাকিব লিখেছেন, ‘আমাকে ভালোবাসায় রাখুন।’

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শুটিং শেষ করে গাড়িতে চড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন শাকিব খান। এসময় হাজারো মানুষ তাকে দেখার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছে। 

জানা গেছে, পাবনায় প্রায় ৯ দিন চলবে ‘রাজকুমার’ সিনেমার শুটিং। এরপর শাকিব উড়াল দেবেন আমেরিকায়। সেখানে হবে এই ছবির বাকি অংশের কাজ। সেখান থেকে ভারতে আসার কথা রয়েছে পুরো ইউনিটের। সেখানেও ধারণ করা হবে কিছু দৃশ্য। 

রাজকুমার সিনেমা নির্মাণ করছেন ‘প্রিয়তমা’ খ্যাত পরিচালক হিমেল আশরাফ। ছবিটি প্রযোজনা করছেন আরশাদ আদনান। আগামী বছরের ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই সিনেমা।

ঝলক দেখালেন হ্যান্ডসাম বয় হৃত্বিক রোশান


নিজস্ব প্রতিবেদক: সদ্য প্রকাশ্যে এসেছে বলিউডের হ্যান্ডসাম বয়খ্যাত শৌখিন অভিনেতা হৃত্বিক রোশান অভিনীত মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘ফাইটার’ সিনেমার প্রথম গান। ‘শের খুল গায়ে’ শিরোনামের পার্টি মেজাজের গানের তালে রীতিমতো ঝলক দেখালেন এই বলিউড সুপারস্টার। গানটিতে হৃত্বিক রোশানের সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন ফাইটারের নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোন। গানটি গেয়েছেন বিশাল শেখর, বেনি দয়াল ও শিল্পা রাও। কুমারের লেখায় গানটির সংগীত আয়োজন করেছেন বিশাল শেখর।

এর মাধ্যমে অনেক দিন পর দর্শকের মাঝে ঝলক দেখালেন হৃত্বিক রোশান। কদিন আগেই মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটির টিজার। আর অ্যাকশনে ভরপুর টিজারটি দেখে মুগ্ধ দর্শক। এর পরই প্রকাশ্যে এল সিনেমাটির প্রথম গান। টি-সিরিজের ইউটিউবে মুক্তি পাওয়া গানটি প্রথম তিন ঘণ্টায় দেখা হয়েছে ১৫ লাখ বারেরও বেশি।

গানটির ভিডিওতে হৃত্বিক রোশান, দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে দেখা গেছে করণ সিং গ্রোভারকে। নাইট ক্লাবের আবহ তৈরি করা গানে এক ঝলক দেখা গেছে অভিনেতা অনিল কাপুরকেও।

‘ফাইটার’কে ভারতের প্রথম অ্যারিয়েল অ্যাকশন ফিল্ম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যার আভাস মিলেছে কয়েক দিন আগে মুক্তি পাওয়া টিজারের বেশ কিছু জেট স্ট্যান্টের দৃশ্যে। তবে সব ছাপিয়ে টিজারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল হৃত্বিক ও দীপিকার অন্তরঙ্গ দৃশ্য।

সিনেমায় হৃত্বিক অভিনয় করছেন স্কোয়াড্রন লিডার শমসের পাঠানিয়া ওরফে প্যাটির চরিত্রে। অনিল গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাকেশ জয় সিং ওরফে রকি এবং দীপিকা স্কোয়াড্রন লিডার মিনাল রাঠোর ওরফে মিন্নির ভূমিকায় অভিনয় করছেন।

প্রসঙ্গত, ‘ফাইটার’ প্রযোজনা করেছে ‘ভায়াকম ১৮ মোশন পিকচার্স’। সিদ্ধার্থ আনন্দের সঙ্গে ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন সাবেক সেনা অফিসার রমন চিব। সিনেমাটিতে করণ সিং গ্রোভার, অক্ষয় ওবেরয়কে দেখা যাবে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। আর এই ছবির মাধ্যমেই প্রথমবার জুটি বেঁধে পর্দায় আসছেন হৃত্বিক ও দীপিকা।

মুক্তি পেল নির্বাচনী প্রচারণা গান ‘নৌকার পালে জয়ের বাতাস’

নিজস্ব প্রতিবেদক: গানের মাধ্যমে সকলের কাছে দেশের উন্নয়ন তুলে ধরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ‘নৌকার পালে জয়ের বাতাস’ নামে গানের শুভমুক্তি ঘোষণা করল প্রযোজক প্রতিষ্ঠান ‘সেরা বাংলা’। এর মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হলো আরেকটি নতুন গান।

 ১৩ ডিসেম্বর বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ ভিশন ২০২১ টাওয়ার-১ (সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক)-এর দ্বিতীয় তলার কনফারেন্স রুমে আনুষ্ঠানিকভাবে গানটির উদ্বোধন করেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

‘নৌকার পালে জয়ের বাতাস’ গানটির কথা লিখেছেন জুলফিকার রাসেল। কণ্ঠ দিয়েছেন- মিলন মাহমুদ, মিজান রাজিব, অবন্তী সিঁথী, মীর মাসুম, নাশা ও মিরাজ। সুর ও সংগীতায়োজনে ছিলেন মীর মাসুম। আর গানটি প্রযোজনা করেছেন সেরা বাংলার ফাউন্ডার তৌহিদ হোসেন।

গানটির উদ্বোধন ঘোষণা করে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণার জন্য এমন একটি গান উপহার দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশে চিত্র উঠে এসেছে গানটিতে। আশা করি দেশবাসীও গানটিকে পছন্দ করবে। আর আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় নিশ্চয়ই গানটি নতুন মাত্রা যোগ করবে।’

গানটির শিল্পী ও কলাকুশলীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় গান একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্বাচনী প্রচারণাকে উৎসবমুখর করতে নির্বাচনী গানের ব্যবহার এখন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। প্রতিবারই আওয়ামী লীগের প্রচারণায় নতুন গান যুক্ত হচ্ছে যার মাধ্যমে সরকারের সাফল্য ও উন্নয়নের কথা ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। আমি মনে করি এ গানটিও নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।’

গানটির প্রযোজক তৌহিদ হোসেন বলেন, “নির্বাচনী প্রচারণার জন্য অনেক গান হয়েছে। আরও নতুন নতুন হচ্ছে। ‘নৌকার পালে জয়ের বাতাস’ গানটি নির্বাচনী প্রচারণায় আরেকটি নতুন সংযোজন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনী প্রচারণায় এই গানটি সারা দেশের আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করবে। নির্বাচনী প্রচারণাকে করে তুলবে আরও উৎসবমুখর। মূলত, নির্বাচনী প্রচারণায় উৎসবের আমেজ আনতেই আমাদের এই গানটি প্রকাশ করা।”

গানটির শিল্পী ও কলাকুশলীরা ‘নৌকার পালে জয়ের বাতাস’ গানটিকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত। তারা মনে করছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় গানটি ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা পাবে।

ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করে যা বললেন মাহিয়া মাহি


নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করেছেন ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি।

১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের তেজগাঁও কার্যালয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। 

এ বিষয়ে মাহিয়া মাহি জানান, নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করতে আজ রাতেই ঢাকা ত্যাগ করছেন তিনি। এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে দোয়া নিতেই এ সৌজন্য সাক্ষাৎ।

মাহি বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে জনপ্রিয়তার। ভোটারদের কাছে যার জনপ্রিয়তা বেশি, তিনিই জয়ী হবেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও আমি একজন আওয়ামী লীগের কর্মী। যেহেতু গতকাল আমার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা হয়েছে, তাই আজ রাতেই আমি রাজশাহীতে গিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছি। তার আগেই আজ (মঙ্গলবার) ওবায়দুল কাদের স্যারের সঙ্গে দেখা করেছি।’

এই নায়িকা আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনে জনপ্রিয়তার যাচাই হবে। যে জনপ্রিয় সেই জিতে আসবে।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হলে আওয়ামী লীগ তাকে বরণ করে নিবে বলেই বিশ্বাস মাহিয়া মাহির। আপাতত নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আর কোনো বাধা কিংবা চ্যালেঞ্জ দেখছেন না তিনি।

এর আগে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পরেই মঙ্গলবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ‘অগ্নি’খ্যাত এই চিত্রনায়িকা। 

মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধুর সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মাহি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ কিছু স্থিরচিত্র শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‌‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মোনাজাত করে আমার নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করলাম। সকলের কাছে আমার জন্য দোয়া চাই আমি যেন আগামী ৭ই জানুয়ারি নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণের সেবা করতে পারি। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানাবাড়ির আসনে (রাজশাহী-১) স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মাহিয়া মাহি। এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে লড়বেন। 

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন