জীবনযাপন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জীবনযাপন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সিগারেটের মতই ক্ষতি করে ‘ভ্যাপ’

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভ্যাপিং হলো ইলেকট্রনিক সিগারেট। সাধারণ সিগারেটের তুলনায় এর গন্ধ অনেক কম। এসব কারণে ভ্যাপিং হয়ে উঠেছে ধূমপানের আরেক মাধ্যম। তবে ভ্যাপে সিগারেটের তুলনায় ক্ষতি কম হয়বলে মনে করেন অনেকে। কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য এটাও সমান ক্ষতিকর।

নিয়মিত সিগারেট টানলে যে সব ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, ভ্যাপেও তাই।

ভ্যাপ কী এবং কীভাবে কাজ করে

ভ্যাপ একটি ব্যাটারি চালিত ডিভাইস। এটা মূলত অ্যারোসেল তৈরি করে। আমেরিকার টেক্সাস হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যারোসেল দেখতে অনেকটা জলীয় বাষ্পের মতো। কিন্তু এতে নিকোটিন, ফ্লেভারিং এবং ৩০টির বেশি ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে।

যখন কেউ ভ্যাপ মুখে নিয়ে টানেন, তখন ব্যাটারি একটি হিটিং এলিমেন্টকে সক্রিয় করে দেয়। এই হিটিং এলিমেন্ট আবার এক ধরনের তরল পদার্থকে গরম করে, যাকে ই-লিকুইড বলা হয়। এতেই নিকোটিন, ফ্লেভারিং এবং অন্যান্য রাসায়নিক থাকে। এটা গরম হলে অ্যারোসেল বা বাষ্পে পরিণত হয়, যা ধুমপায়ী শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করেন।

ভ্যাপ-এ ব্যবহৃত প্রযুক্তি  

ভ্যাপ ডিভাইসে একাধিক প্রযুক্তি রয়েছে, যেগুলো একসঙ্গে কাজ করে।

ব্যাটারি

ভ্যাপ রিচার্জেবল ব্যাটারিতে চলে। এটাই ডিভাইসকে শক্তির যোগান দেয়।

হিটিং এলিমেন্ট

ভ্যাপে একটা ছোট কয়েল রয়েছে, এটাই ই-লিকুইডকে গরম করে।

অ্যাটোমাইজার

এটি ডিভাইসের সেই অংশ যেখানে ই-লিকুইড গরম হয়ে অ্যারোসল বা বাষ্পে রূপান্তরিত হয়।

সেন্সর

ভ্যাপে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর থাকে। এগুলোই ডিভাইসটিকে নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন তাপমাত্রা, ভোল্টেজ মনিটর করা, ব্যাটারি। ই-লিকুইড – এটা সেই তরল পদার্থ যা গরম করে অ্যারোসল তৈরি করা হয়।

ভ্যাপিং-এর কারণে শরীরের ক্ষতি

ভ্যাপিং ডিভাইস জটিল প্রযুক্তিতে কাজ করে। কিন্তু সিগারেটের মতো এটাও শরীরের জন্য ক্ষতিকর। নানা রকম স্বাস্থ্য ঝুঁকি তো রয়েছেই, এ থেকে নিকোটিনে আসক্তিও জন্মাতে পারে। তাই ভ্যাপিং থেকে দূরে থাকাই সবচেয়ে ভালো।

শীতকালে নিরাপদে মোটরসাইকেল চালকদের প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার ও পোশাক

নিজস্ব প্রতিবেদক: শীতকালে প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে মোটরসাইকেল চালকরা নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন। কুয়াশায় চারপাশ অন্ধকার এবং শিশির পড়ে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়াটা মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে। তাই ঠান্ডা বাতাস, অন্ধকারাচ্ছন্নতা ও অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি থেকে নিরাপত্তার জন্য রাইডারদের উপযুক্ত পোশাক পড়া জরুরি। এগুলো শরীরের জন্য অনেকটা প্রতিরক্ষামূলক বর্মের মতো কাজ করে। তবে এর সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে কেনার সময় এর গুণগত মান যাচাই করে নেওয়া উচিত। এই প্রয়োজনীয় পোশাক ও আনুষঙ্গিক নিরাপত্তা সামগ্রী নিয়েই আজকের নিবন্ধ। চলুন, শীতকালীন বাইক চালনাকে উপভোগ্য এবং নিরাপদ করতে উপকারি পরিধেয় সম্বন্ধে বিশদ জেনে নেওয়া যাক।
 

শীতকালে নিরাপদ বাইক রাইডিং-এ ১০টি দরকারি গিয়ার ও পোশাক
.
থার্মাল বেস লেয়ার

এই স্কিন-টাইট পোশাকগুলো শরীরে তাপ ধরে রাখার পাশাপাশি আর্দ্রতা দূর করতেও সক্ষম। ফলে এগুলো পড়ে বাইক চালানোর পুরো সময়টা জুড়ে চালক উষ্ণ এবং শুষ্ক থাকে। টি-শার্ট ও প্যান্টগুলোর মূল উপকরণ হিসেবে থাকে মেরিনো উল বা পলিয়েস্টার; কখনও বা দুটোরই সংমিশ্রণ ঘটানো হয়। এতে করে লেয়ারগুলো ত্বকের সঙ্গে খুব সহজভাবে ফিট করে।

ময়েশ্চার-দূরীকরণ বৈশিষ্ট্যের কারণে আকস্মিক ঘেমে যাওয়ার অস্বস্তির আশঙ্কা থাকে না। তাছাড়া উপাদানগত দিক থেকে শুষ্ক হওয়ায় এটি প্রচণ্ড ঠান্ডাজনিত আঘাতের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। বাইক চালকের শরীরের ভারসাম্যপূর্ণ উষ্ণতা এবং শুষ্কতা বজায় রাখতে এই থার্মাল বেস লেয়ার প্রথম প্রতিরক্ষা পদক্ষেপ।

বাজারে টাইট টি-শার্টগুলো সাধারণত ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় পাওয়া যায়। তবে উচ্চ মানের পলিয়েস্টারের বেস লেয়ার পেতে হলে ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ করতে হবে।

মোটরবাইক জ্যাকেট

বাইক চলমান অবস্থায় অগ্রহায়ণের হাল্কা শীতেও শরীরে কাঁপুনি ধরে যাওয়ার যোগাড় হয়। এ থেকে রক্ষা করতে পারে হিটেড রাইডিং জ্যাকেটগুলো। নমনীয়তার পাশাপাশি তাপ সুরক্ষা প্রদান এগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এগুলোর ভেতরে সাধারণত ডাউন বা সিন্থেটিক নিরোধকের মতো তাপীয় আস্তরণ থাকে, যেগুলোর মূল কাজ হচ্ছে শরীরে তাপ ধরে রাখা।

উপরন্তু, বায়ুরোধী এবং জল-প্রতিরোধী উপকরণগুলো ঠান্ডা বাতাস এবং বৃষ্টিতে নির্ভরযোগ্য ঢাল হিসেবে কাজ করে।

এই বাইক জ্যাকেটগুলো সাধারণত ৭০০ থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। তবে ব্র্যান্ডের গুলোর দাম শুরু হয় ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা থেকে।
 

জলরোধী রাইডিং প্যান্ট
ভেজা পরিবেশ, কুয়াশা, এমনকি ঘর্মাক্ত কলেবর অবস্থার জন্য যথেষ্ট উপযোগী এই প্যান্টগুলো। যেকোনো পরিস্থিতিতে সব ধরনের স্যাঁতসেঁতে ও আর্দ্রতা ভাব দূর করাই এই পরিধেয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

অধিকাংশ রাইডিং প্যান্ট বানানো হয় ভেড়ার লোম বা অন্যান্য তাপ অন্তরক উপকরণ দিয়ে। রেখাযুক্ত প্যান্টগুলো ঠান্ডা থেকে সুরক্ষার এক অতিরিক্ত স্তর যোগ করে। অনেক ক্ষেত্রে এগুলোতে বায়ুপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য থাকে ভেন্ট। তদুপরি, এদের টেকসই ফ্যাব্রিক দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।

বাজারে এগুলোর দাম ন্যূনতম ২ থেকে ৬ হাজার টাকা। ব্র্যান্ডেরগুলোতে খরচ পড়বে ৫ থেকে ১৩ হাজার টাকা।
 

মোটা গ্লাভ্স
মোটরসাইকেলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চালককে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে হয় তার হাত দুটোকে। তাই হিমবাহতে কোনোভাবেই যেন হাত অসাড় বা জড়সড় হয়ে না যায় সেই দিকে খেয়াল রাখা আবশ্যক। নতুবা একটু বেখেয়ালে ভয়াবহ কোনো বিপদ ঘটতে পারে।

এই ঝুঁকি থেকে দূরে থাকতেই প্রয়োজন মান সম্পন্ন এক জোড়া গ্লাভ্স। এগুলোর অতিরিক্ত প্যাডিং এবং নিরোধক বৈশিষ্ট্য কনকনে ঠান্ডায়ও হাতকে গরম রাখে। চামড়া বা একাধিক উপকরণের মিশ্রণে তৈরি সংকর কৃত্রিম কাপড় গ্লাভের স্থায়িত্ব এবং বায়ুরোধী ক্ষমতার জন্য দায়ী। কিছু সংস্করণ দীর্ঘক্ষণ যাবৎ শৈত্যপ্রবাহতেও হাতকে বাইকের গ্রিপের উপর সক্রিয় রাখে। একই সঙ্গে হ্যান্ডেলবার থেকে হাতের তালুর পিছলে যাওয়াও প্রতিরোধ করে।

নিদেনপক্ষে ৫০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া গ্লাভগুলো দিয়ে যথেষ্ট কাজ চালানো যায়। তবে অতিরিক্ত সুরক্ষিত এবং অত্যাধুনিক ফিচারযুক্ত সংস্করণগুলোর দাম শুরু হয় ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে।

তাপ সঞ্চালক গ্রিপ্স এবং সিট কভার
দীর্ঘ যাত্রার সময় মোটরসাইকেলকে সঠিক অবস্থানে রাখার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি অংশ হচ্ছে গ্রিপ এবং সিট। নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে বাইককে সঙ্গতিপূর্ণ গতিতে চালানোর জন্য চালকের আরামে বসে গ্রিপে স্বাধীনভাবে হাত রাখাটা জরুরি। শীতের মৌসুমে প্রায় ক্ষেত্রে এই অবস্থানটি সঠিক রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে তাপ সঞ্চালনকারি গ্রিপ অসাড়তা কাটিয়ে হাতের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক হয়। বর্তমানে উচ্চ মানের গ্রিপে সাধারণত তাপ কমবেশি করার সুবিধা পাওয়া যায়।

অপরদিকে, শক্ত পৃষ্ঠের পরিবর্তে তাপ প্রদানকারী নমনীয় সিট কভার শীতলতার বদলে আরামদায়ক উষ্ণতা প্রদান করে। এই প্রয়োজনীয় তাপের কারণে চালনার পুরোটা সময় জুড়ে মোটরসাইকেল কেবল নিয়ন্ত্রণেই থাকে না বরং ঠান্ডার চিন্তা বাদ দিয়ে চালক সামনের রাস্তার দিকে ফোকাস দিতে পারেন।

গ্রিপগুলোর দাম সাধারণত ২ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। রাবারেরগুলো অবশ্য ৫০০ থেকে ১ হাজারের মধ্যেই পাওয়া যায়। আর সিট কভারের জন্য খরচ করতে হবে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা।

কুয়াশারোধী ভিসার সহ ফুল-ফেস হেলমেট
যেকোনো মৌসুমেই মোটরসাইকেল চালানো সময় নিরাপত্তাজনিত সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ হচ্ছে হেলমেট। শীতের ক্ষেত্রে এর তাৎপর্য আরও বহুগুনে বেড়ে যায়। মাথা, ঘাড়সহ পুরো মুখমন্ডল আবৃত রাখার পরেও দৃষ্টির সুবিধার্তে আরও একধাপ এগিয়ে যোগ করতে হবে অ্যান্টি ফগ ভিসার। এই স্বচ্ছ দৃষ্টি বন্ধনীর মাধ্যমে ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশার ভেতরেও সামনের সড়ক পরিস্কারভাবে দেখতে পারা যায়।

সাধারণ গ্লাসগুলো প্রায় শিশিরে ভিজে সামনের পথ ঝাপসা করে দেয়, যা মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে। সেখানে কুয়াশারোধী ভিসারসহ হেলমেট সর্বাঙ্গীনভাবে গোটা মুখমন্ডলকে সুরক্ষা দেয়। শৈত্যপ্রবাহের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলেও এই আবরণ ভেতরে ভারসাম্যপূর্ণ বায়ুচলাচল অব্যাহত রাখে। ফলে দীর্ঘক্ষণ ধরে বদ্ধ থাকার কারণে মাথা, মুখ এবং ঘাড় ঘামে ভিজে যায় না।

সাধারণ ১ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকাতে মোটামুটি ভালো মানের হেলমেট কেনা যায়। তবে ব্রেথ গার্ড এবং চিবুক ডিফ্লেক্টরসহ ভালো মানের ভিসার নিতে হলে ৮ থেকে ১০ হাজারের উপরে খরচ হতে পারে।
 

মাংকি টুপি বা বালাক্লাভা
শীতের প্রকোপ থেকে ঘাড় ও মুখের উন্মুক্ত অঞ্চলগুলোকে মুক্ত রাখার জন্য একটি চমৎকার উপায় হচ্ছে বালাক্লাভা। ঘাড় থেকে শুরু করে (চোখ বাদে) নাক-মুখ ও মাথা আবৃত করা এই টুপি বরফ ঠান্ডা বাতাসের বিপরীতে প্রয়োজনীয় তাপের যোগান দেয়।

জ্যাকেটের কলারের সঙ্গে এর প্রান্তদেশ মসৃণভাবে ফিট হয়ে যায় বিধায় জ্যাকেটের ভেতরে বাতাস প্রবেশ করতে পারে না। থার্মাল বেস লেয়ারের মতো এতেও আছে আর্দ্রতা-দূরীকরণ বৈশিষ্ট্য। তাই চলমান মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় সারাক্ষণ পড়ে থাকলেও ঘাম জমে ওঠার ঝামেলা নেই।

দেশ জুড়ে জনপ্রিয় এই মাংকিটুপির মূল্য গড়ে ৩৫০ থেকে ৭৫০ টাকা।
 

সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন পরিধেয়
মাঘ মাসের দিকে ঘন কুয়াশার দিনগুলোতে অনেক সড়কে কাছাকাছি গাড়ির অবয়বকে স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হয় না। তাছাড়া আন্তঃজেলা মহাসড়কগুলোতে বড় বড় গাড়ির অবস্থান বোঝা গেলেও পাশ কাটানোর সময় দূরত্ব বোঝা মুশকিল হয়ে পড়ে। আর এই কারণেই সড়ক দূর্ঘটনার সৃষ্টি হয়।

এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি এড়াতে মোটরসাইকেল আরোহীরা রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট বা উজ্জ্বল হলুদ বা কমলার মতো ফ্লুরোসেন্ট রঙের জ্যাকেট পড়তে পারেন। এই পরিধেয়গুলোতে থাকে একাধিক রিফ্লেক্টিভ স্ট্রিপ বা প্যানেল, যেগুলোর কারণে খারাপ আবহাওয়া এমনকি রাতেও যে কেউ নিকট দূরত্ব থেকে চালককে শনাক্ত করতে পারেন। ওজনে বেশ হাল্কা হওয়ায় অন্যান্য পোশাকের উপরেই পড়া যেতে পারে এই বিশেষ আবরণটি।

এ ধরনের পোশাকের মূল্য গড়পড়তায় ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।
 

তাপধারক রেখাযুক্ত জলরোধী বুট
দীর্ঘ যাত্রায় মোটরসাইকেল চালনায় হাতের পাশাপাশি পা-এরও রয়েছে সমান গুরুত্ব। তাই অতিরিক্ত ঠান্ডায় পা যেন অসাড় হয়ে অকেজো হয়ে না পড়ে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে তাপধারক রেখাযুক্ত জলরোধী লম্বা বুট যথেষ্ট উপকারি। উপাদানগত দিক থেকে এগুলো প্রতিকূল আবহাওয়ার বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকার জন্য উপযোগী। শিলা বৃষ্টির শিলা, শিশির বা অন্যান্য ধুলাবালি এই বুটের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না।

তাপধারক রেখা অংশের প্রধান উপকরণ হলো ভেড়ার লোম, যা পায়ের জন্য পরিমিত উষ্ণতা সঞ্চিত রাখে। এগুলোর মধ্যে কিছু কিছু সংস্করণে নন-স্লিপ সোল থাকে, যা বরফ বা ভেজা পৃষ্ঠে ট্র্যাকশন দেয়। ফলে পিচ্ছিল রাস্তায় বাইক থেকে নামতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।

উচ্চ মানের বুটগুলোর দাম ৬ থেকে শুরু করে ১২ হাজার টাকারও বেশি হয়ে থাকে। তবে কিছু রেইন বুট রাইডিংয়ের জন্য উপযোগী, যেগুলোর ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় পাওয়া যেতে পারে।
 

অত্যাধুনিক নিরাপত্তা গ্যাজেট
রাইডিং অভিজ্ঞতায় নিরাপত্তার নতুন মাত্রা এবং আত্মবিশ্বাস যোগ করতে প্রয়োজন উন্নত নিরাপত্তা গ্যাজেট। যেমন টায়ার প্রেশার মনিটর সাইকেলের চাকার টায়ারের চাপ সর্বোচ্চ মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে কাজে লাগে। আধুনিক বেশ কিছু বাইকে এই মনিটরিং ব্যবস্থা দেখা যায়।

আরও একটি উদ্ভাবনী গ্যাজেট হচ্ছে হিটেড ভিসার সিস্টেম, যেটি হেলমেট ভিসারের কুয়াশা এবং জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে।

জিপিএস ডিভাইসগুলো প্রতিকূল পরিবেশে অপরিচিত জায়গায় পথ চিনে চলতে সহায়তা করে। এই ডিভাইসগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সামনের কোনো স্থানের আবহাওয়া কেমন রয়েছে তা আগে থেকে জানান দেয়।

এখানে মোটামুটি ভালো মানের প্রেসার মনিটরের জন্য বাজেট রাখতে হবে ৮০০ টাকার মতো। ফগ লাইটের দাম ২৫০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং জিপিএস ট্র্যাকার পাওয়া যেতে পারে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকায়।
 

শেষাংশ
শীতে মোটরসাইকেল চালনার ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় এই পরিধেয় ও সেফটি গিয়ারগুলো সংগ্রহের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। থার্মাল বেস লেয়ার, ইনসুলেটেড জ্যাকেট, ওয়াটারপ্রুফ রাইডিং প্যান্ট, হিটেড গ্রিপ্স এবং বালাক্লাভা সম্মিলিতভাবে তীব্র ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। উপরন্তু, গ্লাভ্স, অ্যান্টি-ফগ ভিসারসহ ফুল-ফেস হেলমেট, হাই-ভিজিবিলিটি গিয়ার এবং জলরোধী বুটের মতো সামগ্রীগুলো প্রতিকূল আবহাওয়ায় বাইক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সর্বপরি, এগুলোর সঙ্গে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা গ্যাজেটের সমন্বয় সার্বিক নিরাপত্তায় যুক্ত করতে পারে অনন্য মাত্রা।

এসব বদভ্যাসে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছেন না তো?

নিজস্ব প্রতিবেদক: আত্মবিশ্বাস যেমন এক দিনে গড়ে ওঠে না, তেমনি এক দিনে এটি ভাঙেও না; বরং ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে থাকে আত্মবিশ্বাস। প্রাত্যহিক জীবনে এমন কিছু কাজ রয়েছে, যা নিয়মিত করতে গিয়ে মনের অজান্তে চিড় ধরে নিজের আত্মবিশ্বাসে। এমন অভ্যাস আপনার নেই তো?

নেতিবাচক চিন্তাধারার মানুষজন সব সময় মানুষের নেতিবাচক দিকে বেশি মনোযোগ দেন। মানুষের ভুলত্রুটি, খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা। দৈনন্দিন জীবনের হতাশা-ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলা মানুষদের সঙ্গে বেশি সময় কাটালে আপনার সময়ও হতাশা-ব্যর্থতার দোলাচলে আটকে যাবে। তাই ইতিবাচক মানসিকতার লোকজনের সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন।

ছোটবেলায় ‘আমার জীবনের লক্ষ্য’ রচনায় অনেকেই লিখেছেন, লক্ষ্যবিহীন জীবন মাঝিবিহীন নৌকার মতো। সুনির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য না থাকলে জীবনে এগিয়ে চলা বেশ মুশকিল। কিন্তু তাই বলে একেবারে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য তৈরি করতে যাবেন না যেন। উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য যেমন আপনাকে কাজে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে, তেমনি লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে তা আত্মবিশ্বাসেও বেশ বড় আঘাত হানে।

উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য তৈরি না করে ছোট ছোট লক্ষ্য তৈরি করুন, সেগুলো পূরণ করার চেষ্টা করুন। এতে করে কাজ যেমন হবে, তেমনি আত্মবিশ্বাসী ও মানসিকভাবে চাঙা থাকবেন নিয়মিত।

ছোটবেলা থেকেই অন্যের সঙ্গে তুলনা দেওয়ার ব্যাপারে বেশ পারদর্শী ছিলেন গুরুজনেরা। এতে ছোটবেলা থেকে সবার মনে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা বাসা বাঁধে। বড় হয়ে যা প্রভাব ফেলে ব্যক্তি ও কর্মজীবনে। সবার জীবন একভাবে এগোয় না। প্রত্যেকের জীবন প্রত্যেকের থেকে আলাদা।

তাই তুলনা হওয়া উচিত কেবল নিজের সঙ্গে। অন্যের সঙ্গে তুলনা করে পিছিয়ে না পড়ে নিজের সঙ্গে নিজের তুলনা করুন। দেখবেন নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে পেরে নিজেরই আনন্দ হচ্ছে, আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছেন।

আত্মসমালোচনা গুরুত্বপূর্ণ। নিজের কাজে উন্নতি করতে চাইলে আত্মসমালোচনার কোনো বিকল্প নেই। তাই বলে প্রতিটি কাজে নিজের ভুলগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বের করবেন না। কখনো কখনো অতিরিক্ত আত্মসমালোচনা হয়ে উঠতে পারে ক্ষতিকর। অতিরিক্ত আত্মসমালোচনা নিজের ভালো কাজও আড়ালে ঠেলে দেয়। মনে হতে থাকে প্রতিবারই শুধু ভুল করে চলছি। সব সময় নিজের সমালোচনা না করে নিজের ভালো কাজকেও কিছুটা মূল্যায়ন করুন।

সফলতা-ব্যর্থতা মিলিয়ে এই জীবন। কোনো কাজ করতে গেলে সফল যেমন হতে পারবেন, তেমনি ব্যর্থতাও কড়া নাড়তে পারে দরজায়। তাই বলে থেমে থাকা চলবে না। ব্যর্থতার ভয় না পেয়ে সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করুন শক্ত হাতে।

ঘোরলাগা বিজ্ঞান

মডেল: অয়ন ও সূচি, ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাঁকা চোখে ‘নিশা’ এমনি এমনি লাগে না কিন্তু। তার জন্য শরীরের ভেতরে স্নায়ুতে স্নায়ুতে চলে ব্যাপক কর্মকাণ্ড। সেসব অবশ্য চোখে দেখা যায় না। কিন্তু তার ছাপ পড়ে চোখে, শরীরের অভিব্যক্তিতে, চলাফেরায় কিংবা কথাবার্তায়। এই যে চোখে চোখ রাখতে গিয়ে আপনি নার্ভাস হয়ে যাচ্ছেন, সেটা কেন হচ্ছে? কিংবা একটা ফুল অথবা একটি চকলেট উপহার দিতে গিয়ে হাতে হাত ছুঁয়ে যেতেই যে শিহরণ খেলে গেল শরীরে, সেটাই-বা কেন হচ্ছে? এগুলো বিজ্ঞানের বিষয়। এর নাম ভালোবাসার বিজ্ঞান।

গবেষকেরা দেখেছেন যে মানুষের মস্তিষ্ক প্রেমে পড়ার ক্ষেত্রে কোনো মানুষ কিছু বিষয় বিবেচনা করে। তার মধ্যে ৫৫ শতাংশ হলো বাহ্যিক রূপ, ৩৮ শতাংশ কণ্ঠস্বর ও কথা বলার ভঙ্গি এবং মাত্র ৭ শতাংশ তাদের মূল বক্তব্য শোনে।

প্রেমের তিনটি স্তর থাকে বলে জানান গবেষকেরা। এর প্রথম স্তর হলো ভালোবাসার ইচ্ছা। যখন কাউকে ভালো লাগে তখন তাকে ভালোবাসার ইচ্ছে থেকে ছেলেদের ক্ষেত্রে টেসটোসটেরন ও মেয়েদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসৃত হয়। তারপর তৈরি হয় আকর্ষণ। এটি ভালোবাসার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্তর।

কাউকে দীর্ঘদিন ধরে ভালো লাগার ফলে তার প্রতি একধরনের আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। এই স্তরের সঙ্গে তিনটি নিউরোট্রান্সমিটার জড়িত— এড্রিনালিন, ডোপামিন ও সেরাটোনিন। এই তিনটি স্নায়ুকোষে স্নায়ুকোষে সংকেত দেয়। বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই। এর পরেই এড্রিনালিন তার কাজ শুরু করে। এটি ভালোবাসার ক্ষেত্রে তৃতীয় স্তর।

পছন্দের বা প্রিয় মানুষটিকে দেখলেই যে আপনার কপালে চিকচিকে ঘাম দেখা দেয়, হৃৎপিণ্ডের গতি বেড়ে যায় ও গলা শুকিয়ে আসে, তার জন্য দায়ী হলো এড্রিনালিন। প্রেমে পড়ার প্রাথমিক পর্যায়ে এড্রিনালিন গ্রন্থি ও কর্টিসলে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। সে জন্যই এই ঘটনাগুলো ঘটে। এর পরেই কাজে নামে ডোপামিন। এই রাসায়নিক পদার্থটি ব্যক্তির মধ্যে ‘পাওয়ার’ আকাঙ্ক্ষা তৈরি করে। ডোপামিনের নিঃসরণ বেশি হলে শক্তি বাড়ে, ঘুম ও খাওয়ার চাহিদা কমে যায় ও মনোযোগ বাড়ে। কী? সত্যি করে বলুন তো এসব লক্ষণ দেখা দেয়নি আপনার মধ্যে? জানি জানি, লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছেন। থাক বলতে হবে না। তবে শেষ স্তরের কথাটা শোনেননি। সেটা সেরাটোনিনের খেলা। সেরাটোনিন নামে এই হরমোনটিই নির্ধারণ করে কেন ও কখন আপনি প্রেমে পড়বেন!

এই মুহূর্তে আপনি যাঁর সঙ্গে কোনো পার্কে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ফুচকা খেতে গেছেন কিংবা কোনো রেস্তোরাঁর আলো-আঁধারিতে বসে আছেন, তাঁর জন্য এই সেরাটোনিনকে ধন্যবাদ দিন। কফি, চকলেট বা আইসক্রিমে দু চুমুক বা দু কামড় বেশি বসিয়ে তাঁকে ধন্যবাদ দিন।

এখানেই কিন্তু রসায়নের খেলা শেষ নয়। আরও আছে। প্রেমের সফল পরিণতি বলে যে বিষয়টি আছে, তার জন্যও কাজ করে রসায়ন। দীর্ঘদিন একসঙ্গে ঘোরাঘুরি, ওঠাবসা, বিভিন্নভাবে একে অপরের সান্নিধ্যে থাকার পর দুজন মানুষ একে অপরের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে বা পরস্পরের প্রতি আত্মসমর্পণ করে। এ সময়টাতেই দুজন মানুষ ঘর বাঁধে। অক্সিটোসিন ও ভ্যাসোপ্রেসিন নামের দুটি হরমোন ঘরবাঁধার কাজে সহায়তা করে সক্রিয়ভাবে।

সেরে ওঠার এক বছর পরও শরীরে করোনার উপসর্গ থাকছে: গবেষণা

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার এক বছর পরও শরীরে ভাইরাসটির উপসর্গ মিলছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। 

বৃহস্পতিবার আইইডিসিআরের ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। 

গবেষণা বলছে, প্রথম উপসর্গ দেখা দেওয়ার তিন মাস পর ৭৮ শতাংশ, ছয় মাস পর ৭০ শতাংশ, নয় মাস পর ৬৮ শতাংশ ও এক বছর পর ৪৫ শতাংশ রোগীর মধ্যে কোভিড পরবর্তী উপসর্গ থাকতে দেখা গেছে। 

এতে আরও বলা হয়, যারা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ নানা অসংক্রামক রোগে ভুগছেন, তাঁদের কোভিড পরবর্তী উপসর্গ থাকার ঝুঁকি ২ থেকে ৩ গুণ পর্যন্ত বেশি।

যেখানে কোভিডে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর, সর্দি, হাাঁচি, কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, স্বাদ-গন্ধের অনুভূতি লোপ পাওয়া, অবসাদ ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

আইইডিসিআরের গবেষণায় বলা হচ্ছে, সুস্থ হওয়ার পরও রোগীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা থেকে যেতে পারে। এসব সমস্যাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে কোভিড পরবর্তী জটিলতা বা ‘পোস্ট কোভিড কন্ডিশনস’।

অসংক্রামক ব্যাধি, যেমন উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের কোভিড পরবর্তী উপসর্গের আশঙ্কা ২ থেকে ৩ গুণ বেশি বলে উল্লেখ করেছে আইইডিসিআর। তবে নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে কোভিড জটিলতার ঝুঁকি কিছুটা কমে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অবশ্য গবেষণার সময় এবং অংশগ্রহণকারী রোগীর সংখ্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানায়নি আইডিসিআর।

সন্তানকে শেখাতে হবে শৃঙ্খলা

প্রতীকী ছবি

সাহিদা আক্তার: প্রত্যেক মা–বাবাই চান তাঁর সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে। অর্থাৎ, সন্তানের কল্যাণ, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ যেন সুরক্ষিত হয়। সব বাবা–মায়ের কাছেই সন্তান অনেক আদরের, অনেক ভালোবাসার। তবে অনেক অভিভাবকই অতি আদরের কারণে ভুলে যান সন্তানকে সঠিক সময়ে সঠিক আদবকেতা, নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাও শেখানো উচিত।

সন্তানকে শৃঙ্খলা শেখানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, অভিভাবকদের নিজেদের নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন। যখন সন্তান দেখবে তার মা–বাবা নিয়ম মেনে শৃঙ্খলার সঙ্গে যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করছেন, তখন নিজেরাও নিয়ম মানতে উৎসাহী হবে।

যে নিয়মগুলো সন্তানকে মানাতে হবে নিয়মিত, বাবা–মায়েরও উচিত সন্তানের পাশাপাশি নিজেদেরও সেই নিয়মগুলো মেনে চলা। আপনি যদি সময়ে–অসময়ে টিভি চালিয়ে দেন বা ফোনে আড্ডা দেন, তাহলে কখনোই আশা করবেন না যে আপনার ছেলেমেয়ে সময়মতো হোমওয়ার্ক শেষ করবে। নিজে সময়ের কাজ সময়ে করুন, সন্তানেরা আপনাকে দেখেই শিখবে। তবে কখনো কখনো এমনও পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়, যখন এই নিয়ম হয়তো কাজে আসবে না। সে ক্ষেত্রে আরও কিছু টিপস মনে রাখুন।

আপনি যদি সন্তানের থেকে সম্মান আশা করেন, তাহলে আপনারও তাকে সম্মান করতে হবে। তার মতামতকে গুরুত্ব দিন, কথা শুনুন। সন্তান যত ছোটই হোক না কেন, সে যে পরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, এই বোধ যেন তার ছোট থেকেই জেগে ওঠে। যদি তার অভিমত মানার মতো না হয়, তাহলে বুঝিয়ে বলুন কেন তা সম্ভব নয়। নিজের মতামত জোর করে চাপিয়ে দেবেন না।

সন্তানকে শাসন করার সময় খেয়াল রাখবেন, মা-বাবা দুজনই একসঙ্গে শাসন করবেন না যেন। একজন বকাঝকা করলেন, আরেকজন রেগে না গিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করবেন। সন্তানকে শাসন করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা করবেন না। তাকে বোঝাতে হবে ভুলটা ভুলই। সে যেন বুঝতে পারে অন্যায় করলে মা–বাবা দুজনেই রাগ করেন। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সন্তানের পছন্দ–অপছন্দকে গুরুত্ব দিন। কেন আপনি সিদ্ধান্তটা নিচ্ছেন, সেটা বুঝলে ওর নিজেরও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুবিধা হবে।

ভাষা বা শব্দ প্রয়োগে সচেতন থাকুন। সন্তানকে বকার প্রয়োজন হলে কখনো কোনো খারাপ শব্দ প্রয়োগ করবেন না। এতে সন্তানের সুস্থ মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তার মধ্যেও নোংরা শব্দ প্রয়োগের ঝোঁক সৃষ্টি হবে। অন্য কারোর সঙ্গে তুলনা করে কথা বলবেন না। এতে তার আত্মবিশ্বাস কমে যায়। যেমন ‘অমুক কত বুদ্ধিমান। তোমার মাথায় একেবারেই বুদ্ধি নেই’, এ ধরনের তুলনা করবেন না। বরং বলুন, এটা কি বুদ্ধিমান ছেলের মতো কাজ হয়েছে?

একেক শিশুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য একেক রকম। সেই অনুযায়ী আপনার পরিকল্পনা তৈরি করুন। সন্তান কীভাবে সময় কাটাতে ভালোবাসে, কোন সময়ে পড়তে বসতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে, এই সবকিছু মাথায় রেখে দিনের রুটিন নির্দিষ্ট করুন। আলোচনা করে রুটিন করুন।

অতিরিক্ত নিয়মকানুন সন্তানদের ওপর চাপিয়ে দেবেন না। স্কুল থেকে ফিরে অন্তত দুই ঘণ্টা যেন ছোটাছুটি করে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে পারে। ছবি আঁকা, গান গাওয়া, গাছের পরিচর্যার মতো নিজস্ব কিছু শখ থাকলে উৎসাহিত করুন।

কোনো অন্যায় করতে দেখলে প্রথমে সতর্ক করুন, বুঝিয়ে বলুন, তারপর শাস্তি দিন। শাস্তি মানে কিন্তু উচ্চ স্বরে রাগান্বিত বা গায়ে হাত তোলা নয় একেবারেই। কিছুদিনের জন্য ওর পছন্দের কোনো জিনিস দেওয়া বন্ধ করে দিন বা ওর সঙ্গে কথা বলা কমিয়ে দিন।

সবার সামনে সন্তানের সমালোচনা বা নিন্দা করবেন না, এতে ওর আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরতে পারে। এমনকি এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে। অনেক সন্তান বড় হয়েও শৈশবে তার প্রতি বাবা–মায়ের যে সমালোচনা ছিল, তা নিয়ে মনে কষ্ট থেকে যায়। কথাবার্তায়, আচার–আচরণে ইতিবাচক ইঙ্গিত থাকলে সন্তান উৎসাহিত বোধ করবে।

একইভাবে ওর সামনে কখনোই কোনো গুরুজনের সমালোচনা বা মিথ্যাচার করবেন না, তাহলে সে তাঁদের প্রতি ধীরে ধীরে শ্রদ্ধা তো হারাবেই, আপনাকেও শ্রদ্ধা করতে শিখবে না।

সন্তানকে সময় দিন, যেন আপনারা একে অপরকে ভালো করে চিনতে পারেন। এই সময়ের মধ্যে সুস্থ রুচি, সামাজিকতার খুঁটিনাটি তার মধ্যে গেঁথে দিন।

কোনো উপলক্ষ ছাড়াই সন্তানকে পছন্দমতো ছোট কোনো উপহার দিন, যাতে ও বুঝতে পারে ওর ব্যবহারে এবং কাজকর্মে আপনারা খুশি।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সপরিবার প্রকৃতির সান্নিধ্যে ঘুরে আসুন। সবুজ প্রকৃতি মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাড়তি সতর্কতার বিকল্প নেই

ডেঙ্গু মশা।ফাইল ছবি।
 
নিজেস্ব প্রতিবেদন: দুই বছর আগের এই সময়টাতে রাজধানীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ও মৃত্যুর খবর ছিল অনেক। গত বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম ছিল। তবে এ বছর করোনার উচ্চ সংক্রমণের সময়ে এসেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর। চিকিৎসকেরা এই সময়টাতে বাড়তি সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় সমন্বয় কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেছেন, এখন ডেঙ্গুর মৌসুম। এ সময়টাতে বাংলাদেশে বৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকে। সেখানে এডিস মশা ডিম পাড়ে ও বংশবিস্তার করে। এডিস মশার কামড়েই ডেঙ্গু হয়।

এ সময়টাতে বিশেষ সতর্কতা হিসেবে কোথাও যেন পানি না জমে, সেদিকে নজর দিতে বলেন এ বি এম আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, নিজের ঘরের দায়িত্ব নিজের নিতে হবে। মশার কামড় থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে হবে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বিশেষ খেয়াল রাখা দরকার। ফুল প্যান্ট ও ফুল হাতার জামা পরানো এবং তাদের মশারির মধ্যে ঘুমাতে দিতে হবে।

ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলেন, জ্বর উঠলে নিজ থেকে প্যারাসিটমলের বাইরে কিছু সেবন করা যাবে না। প্রচুর পানি, শরবত খেতে হবে। জ্বর হলে তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। রক্তের প্লাটিলেট কমলে ভয় থাকে। ডেঙ্গু হলে কারও কারও গায়ে র‌্যাশ ওঠে, রক্তক্ষরণও হয় অনেকের। মেয়েদের অসময়ে পিরিয়ডও হতে পারে। এ রকম দেখা দিলেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলেন, কারও যদি একই সঙ্গে করোনা ও ডেঙ্গু্—দুটিই ধরা পড়ে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক বে–নজির আহমেদ এডিস মশার বংশবিস্তার রোধের ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এডিস মশার বংশবিস্তারের জায়গা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মতো অপরিকল্পিত নগরায়ণে এডিস মশার বংশবিস্তারের জায়গার অভাব নেই। নানা রকমের পাত্রের ব্যবহারও হচ্ছে এখন।’

বে–নজির আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু এখন বাড়ছে কি না এবং কী পরিস্থিতি, সে তথ্য সরকারের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা সিটি করপোরেশনকে জানাবে। এলাকাগুলোতে জরিপ করতে হবে। তাতে যদি বেরিয়ে আসে কোন এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ, সে অনুযায়ী সিটি করপোরেশন ব্যবস্থা নেবে। পানি জমে থাকলে তা নিষ্কাশন, লার্ভা পাওয়া গেলে ধ্বংস করা এবং পূর্ণাঙ্গ মশা ফগিংয়ের মাধ্যমে মেরে ফেলতে হবে। এই সব কটি ব্যবস্থা নিয়ে যদি এডিস মশার ঘনত্ব কমিয়ে ফেলা যায়, তাহলে যে এলাকায় সংক্রমণ বেড়ে যায়, সেখানে প্রবণতা কমে আসবে।

তবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সম্পৃক্ত করার কথা উল্লেখ করে এই সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলরের উদ্যোগে বিভিন্ন ভবনের কমিটি বা পাড়াভিত্তিক যেসব সোসাইটি থাকে, তাদের যুক্ত করতে হবে। তারা নিজ নিজ ভবন বা এলাকায় পানি জমে থাকা স্থান বা কনটেইনারের পানি সরিয়ে ফেলবে। নির্মাণাধীন ভবনেও তারা খেয়াল রাখবে। এই কাজগুলো করলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

তাহসিন সরকার বাঁধন/জেএইচ/এমএস

বৃষ্টির পানি পান স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভালো?


নিজস্ব প্রতিবেদন: এখন বর্ষা মৌসুম। স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন আসতে পারে, বৃষ্টির পানি পান করা কতটা নিরাপদ? সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো: সবসময় এটি নিরাপদ নয়। তাহলে কখন নিরাপদ, কখন নয়- চলুন জেনে নেওয়া যাক।

বৃষ্টির পানি যখন অনিরাপদ

বৃষ্টির পানি পরিষ্কার হয়ে থাকলে, পান করায় ভুল কিছু নেই। প্রকৃতপক্ষে, বিশ্বের অনেক সম্প্রদায় পানীয় জলের প্রাথমিক উৎস হিসেবে বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে। কিন্তু তাই বলে, বৃষ্টির সব ধরনের পানি পান করা যাবে না।

বৃষ্টি মাটিতে পড়ার আগে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে আসে, তাই এটি বাতাসের যে কোনো দূষক ধারণ করতে পারে। বায়ুমণ্ডলে ধুলোবালি এবং অনেক ক্ষতিকর পদার্থ থাকে যেগুলো বৃষ্টির ফোঁটার সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারে। বায়ুদূষণ বেশি এমন এলাকার বৃষ্টির পানি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। রাসায়নিক কারখানা রয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে এমন এলাকায় বৃষ্টির পানি পান না করাটাই ভালো। একইভাবে গাছপালা বা বাড়িঘর ছোঁয়া বৃষ্টির পানিও পান করা উচিত নয়।

বৃষ্টির পানি যখন নিরাপদ

বৃষ্টির পানি শতভাগ পরিষ্কার- নিশ্চিত হলে তবেই পান করতে পারেন। এছাড়া অনেক সময় কলের পানির তুলনায় বৃষ্টির পানি কম দূষিত হতে পারে।

বৃষ্টির পানি নিরাপদ করবেন যেভাবে

বৃষ্টির পানির গুণমান উন্নত করতে দুটি কাজ করতে পারেন। বৃষ্টির পানি ফুটিয়ে নেওয়া বা পানি ফিল্টার করে পান করা। পানি ফুটানো হলে প্যাথোজেনগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। ফিল্টারের ফলে ধূলিকণাসহ অন্যান্য দূষকগুলো দূর হয়ে যাবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, বৃষ্টির পানি কীভাবে সংগ্রহ করছেন তার ওপরও পানির মান নির্ভর করে। আকাশ থেকে সরাসরি বৃষ্টির পানি পরিষ্কার বালতি বা বাটিতে সংগ্রহ করতে পারেন। বৃষ্টির পানি কমপক্ষে এক ঘণ্টা বসতে দিন যাতে এর ভারী উপাদানগুলো নিচে জমা হয়।

বৃষ্টির পানিতে স্বাস্থ্য উপকারিতা

এ বিষয়ে ইন্টারনেটে সার্চ করলে আপনি বেশ কিছু আর্টিকেল পেয়ে যাবেন। যেখানে বৃষ্টির পানি পানের নানা স্বাস্থ্যগত উপকারিতা দাবি করা হয়েছে। কিন্তু এ জাতীয় বেশিরভাগ দাবির কোনো শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বৃষ্টির পরিষ্কার পানি পান স্বাস্থ্যকর হলেও, অন্যান্য পরিষ্কার পানির উৎসের তুলনায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি উপকারী নয়।

অর্থাৎ বৃষ্টির পানি পানে হজমের উন্নতি, শরীরের বর্জ্য পদার্থ দূর হওয়াসহ অন্যান্য যেসব স্বাস্থ্য উপকারিতার কথা বলা হচ্ছে, এগুলো যে কোনো উৎসের বিশুদ্ধ পানি পানের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।

মূল কথা

বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করাটা সহজ একটি সমাধান মনে হলেও, এটি সর্বদা নিরাপদ নাও হতে পারে। এতে বিদ্যমান নানা ধরনের দূষক আপনাকে অসুস্থ করতে পারে। আকাশ থেকে সরাসরি যে বৃষ্টি পড়েছে শুধু সেই বৃষ্টির পানি পান করার জন্য সংগ্রহ করা উচিত।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন, থটসিও

নিঃসঙ্গতা হবে দূর

নিজস্ব প্রতিবেদক: জীবন ও জীবিকার কারণে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবকে ছেড়ে যখন শহরে পাড়ি জমাতে হয়, তখন খুব মনে পড়ে প্রিয়জনদের কথা। মন কিছুতেই টিকতে চায় না কর্মস্থলে। সারাক্ষণ কুঁকড়ে থাকতে থাকতে বিষণ্ন হয়ে পড়ে মন। নিঃসঙ্গ জীবনে যখন প্রিয় মানুষদের মনে পড়ে, তখন আর কিছুই ভালো লাগে না। তবে সারাক্ষণ বিষণ্ন থাকলে মনের পাশাপাশি অসুস্থ হয়ে পড়বে শরীরও। তাই একা থাকলেও ভালো থাকতে শেখা জরুরি। সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কিছু উপায় রয়েছে।

নিজেকে সময় দিন

মন ভালো রাখার জন্য নিজেকে সময় দিন। নিজের প্রতি মনোযোগ দিন। গভীরভাবে নিজের প্রয়োজনের কথা ভাবুন। এর মাধ্যমে বিষণ্নতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। নিজের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বললে মন হালকা হবে। জীবনকে ভারী করে তুলছে এমন কিছু থেকে দূরে থাকুন। নিজের উত্তরোত্তর উন্নতির ব্যাপারে ভাবুন।

আশাবাদী হোন

নিজের ভবিষ্যতের প্রতি আশাবাদী হোন। নিজের ভেতরে সর্বোচ্চ সুখ অনুভব করতে শুরু করলে প্রিয় মানুষদের থেকে দূরে থাকলেও আর একা লাগবে না। ভালো কাজ করার চেষ্টা করুন। জীবন সম্পর্কে ভালো দৃষ্টিভঙ্গি লালন করুন। আশাবাদী মানুষ জীবন ও পৃথিবীকে আলাদাভাবে দেখেন। এই কারণে তাদের সবাই ভালোবাসে।

নতুন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন

শহরে এসে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন। সিনেমা হলে বা রেস্টুরেন্টে যান। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে শখের কাজ করুন। তাদের কাছে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করুন। পুরনো কোনো কষ্টের স্মৃতি থাকলে তা মনে করবেন না। শহরের বন্ধু ও সহকর্মীদের খোঁজ নিন। তাদের ভালো-মন্দ জিজ্ঞাসা করুন। তাহলেই পুরোনো বন্ধুদের কথা ভেবে মন খারাপ হবে না।

ব্যায়াম করুন

সপ্তাহে অন্তত তিনদিন ব্যায়াম করুন। শরীর সুস্থ রাখতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটুন। এতে আর দশজন মানুষের সঙ্গে পরিচিতি ও সখ্যতা হবে। বিষণ্নতা দূর হয়ে যাবে। জিমে গিয়ে ব্যায়াম করা যায়। এছাড়া ঘরে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে ঘরেও হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে।

ডায়েরি লিখুন

নিঃসঙ্গতা কাটানোর অন্যতম উপায় ডায়েরি লেখা। নিজের অনুভূতি সম্পর্কে কোথাও লিখে রাখলে মন অনেক হালকা হয়। সেইসঙ্গে লেখালেখির অভ্যাস তৈরি হয়। এর মাধ্যমে জীবন সম্পর্কে আশাবাদী হওয়া যায়। কবিতা বা প্রবন্ধও লেখা যেতে পারে।
স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন