অপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে ভাড়া বাসা থেকে ছাত্রদল নেতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ভাড়া বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ফসিউল আলম অনীক (৩০) নামের এক ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়াড় সাহাপুর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত অনীক ওই এলাকার মো. রানা মোল্লার ছেলে।

উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভির হাসান সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অনীক মূলত রাজধানীর খিলগাঁও ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তবে ঈশ্বরদীতেও থাকতেন।

নিহত অনীকের চাচা শাহিনুর রহমান মাস্টার বলেন, ঢাকা থেকে ফিরে আসার পর কিছুদিন ধরে অনীক একাই দিয়াড় সাহাপুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। ঢাকা থেকে ফেরার পর তিনি স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। কিন্তু রোববার সন্ধ্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে ভাড়া বাসার আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত থাকার খবর পেয়ে সেখানে গেলে মরদেহ উদ্ধার করেন। তিনি মৃত্যুকে রহস্যজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ঈশ্বরদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দীন জানান, আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, নিহত অনীকের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা রয়েছে।

ঈশ্বরদীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মেহেদী হাসান (২৬) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার অরণকোলা এলাকার হারুখালী এলাকার ধানের খেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এটি উদ্ধার করে।

মেহেদী হাসান উপজেলা সদরের অরণকোলা এলাকার আবু বক্করের ছেলে।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার বিকেল থেকে মেহেদীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ সোমবার সকালে কৃষকেরা মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল লতিফ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কাদামাটিতে ঠেসে ধরে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান জানান, নিহত মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এ কারণে তিনি নিয়মিত বাড়িতে থাকতেন না। গতকাল রোববার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

তিনি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে স্কুলে চুরি, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল চোর

প্রতীক ছবি 

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। পূর্বটেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে চোর।

বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে একজন চোর লোহার রড দিয়ে তালা ভাঙছে—এমন দৃশ্য ধরা পড়েছে বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায়। খবর পেয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য আনোয়ার হোসেন জনি ঘটনাস্থলে যান।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শুধু বাসাবাড়ি নয়, সম্প্রতি ঈশ্বরদীতে টানা কয়েক রাত ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাতেও চুরি হচ্ছে। এর আগের দিন মঙ্গলবার রাতে একই ওয়ার্ডের ঈশ্বরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষ থেকে দুটি ল্যাপটপ ও কিছু আসবাবপত্র চুরি হয়। তারও এক দিন আগে সোমবার রাতে ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় গোরস্থানের দানবাক্স ভেঙে টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী শামসুল আলম বলেন, 'প্রতিদিনের মতো রাতভর দায়িত্ব পালন শেষে ফজরের নামাজ পড়ে সকালে বাড়ি যাই। আজ স্কুল ছুটি ছিল। এই সুযোগে চোর গ্রিল ভেঙে ভেতরে ঢুকে আলমিরা তছনছ করেছে'।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোমসেদ আলী জানান, 'সিসিটিভির ফুটেজে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে এক ব্যক্তি রড দিয়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। অফিসকক্ষের আলমিরা ভেঙে নগদ টাকা ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে গেছে।'

ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আফজাল হোসেন জানান, 'খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে চোর শনাক্তের চেষ্টা চলছে।'

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রনব কুমার বলেন, 'চোরকে শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।' 

ঈশ্বরদীতে কৃষকের এক হাজার লাউগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে সুমন আলী নামের এক কৃষকের লাউ বাগানে হামলা চালিয়ে এক হাজার লাউগাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতের কোনো এক সময়, উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে।

ক্ষতিগ্রস্ত সুমন আলী জানান, পাবনা চিনিকলের পশ্চিম পাশে তিন বিঘা জমিতে তিনি লাউয়ের চাষ করেছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই ফলন বাজারে বিক্রি উপযোগী হতো। কিন্তু তার আগেই কে বা কারা রাতের আঁধারে পুরো বাগান নষ্ট করে দিয়েছে।

সুমনের ভাষায়, ‘প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে মাঠে গিয়ে দেখি বাগানের সব লাউগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। প্রতিটি গাছের গোড়া কাটা, পাতাগুলো শুকিয়ে মাটিতে লটকে আছে। মুহূর্তেই আমার সব স্বপ্ন ভেঙে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘লাউ বিক্রি করে সংসার চালানো, ঋণ শোধ আর ছেলেমেয়ের জন্য কিছু করার পরিকল্পনা ছিল। এখন আমি নিঃস্ব।’

সুমনের বাবা ইয়ার আলী বলেন, ‘এতে আমাদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তবে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ইতোমধ্যে দুইজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা হবে।’

ঈশ্বরদীতে আগ্নেয়াস্ত্র-গুলিসহ একজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ আবু বক্কার নামের এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের সরইকান্দি ও পাবনা সদর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। পরে মালিগাছা ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে আবু বক্কারকে আটক করা হয়। ধরার সময় আবু বক্কারের কাছে পাওয়া যায় একটি বন্দুক, একটি নীল ব্যাগে রাখা ৫০টি তাজা গুলি ও আরেকটি ব্যাগে থাকা ৬টি গুলি ।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, 'আবু বক্কারকে ঈশ্বরদী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।'  

অস্ত্রের মহড়ায় উদ্বিগ্ন ঈশ্বরদী, নিরাপত্তা দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের ইসলামপাড়া ঘাটে নদীপথে গুলির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্থানীয় ও বালু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও অস্ত্র মহড়া চলে। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে ভীতি এবং উত্তেজনা।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, নাটোরের লালপুর থেকে আসা কাকন ও তার অনুসারীরা ঈশ্বরদীর বালুমহাল দখলের জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে উত্তপ্ত সংঘর্ষে লিপ্ত। বৃহস্পতিবার সকালে তারা গুলিবর্ষণ শুরু করে বালু ব্যবসায়ীদের অফিস ভাঙচুর করে। নদীতে মাছ ধরতে নামা মাঝিদেরও বাধা দিচ্ছে তারা। নিরাপত্তাহীনতার কারণে নদীপাড়ের বাসিন্দারা রাতেও বিশ্রামে থাকতে পারছেন না।

বিকেলে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, থানা পুলিশ ও নৌপুলিশের যৌথ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুন নুর বলেন, 'গত দুই দিন ধরে বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আগের ঘটনাগুলোতে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। আজও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আমরা যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছি। তদন্ত শেষে পুরো ঘটনা পরিষ্কার হবে।' 

ঈশ্বরদীতে ট্রাক থামিয়ে অস্ত্রের মুখে ১৭টি গরু ডাকাতি

ফাইল ছবি 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে চলন্ত ট্রাক থামিয়ে অস্ত্রের মুখে ১৭টি গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দাশুড়িয়া-নাটোর-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের মুলাডুলি-শেখপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, ডাকাতরা ট্রাক চালকসহ তিনজনকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রাজশাহীর চারঘাট সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। গরুগুলো কোরবানির হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে দিনাজপুর থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুজ্জামান বলেন, 'ঘটনার খবর পাওয়ার পরই অভিযান শুরু করি। পরে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে ডাকাতির ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গরুগুলোর খোঁজ মেলেনি।' 

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, রাত ২টার দিকে সাত-আটজনের ডাকাত দল একটি ট্রাক দিয়ে গরুবোঝাই ট্রাকটির পথ আটকে দেয়। এরপর অস্ত্র দেখিয়ে চালক, হেলপারসহ তিনজনকে বেঁধে ফেলে। পরে লালনশাহ সেতু দিয়ে তারা ট্রাকসহ গরু নিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশের ধারণা, ডাকাত দলের আরেকটি ট্রাকে জিম্মি তিনজনকে রাখা হয়েছিল, যা সেতু পার না হয়ে অন্যদিকে চলে যায়। পরে রাজশাহীর চারঘাটে সড়কের পাশে তিনজনকে ফেলে রেখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। সকালেই ওই তিনজন ঈশ্বরদী থানায় এসে বিস্তারিত জানান।

এ বিষয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, 'ডাকাত চক্র শনাক্তে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ও গরু উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।' 

ঈশ্বরদীতে বিএনপির দু'পক্ষে সংঘর্ষ, চার দোকানে ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শহরের কলেজ রোডের বকুল মোড় এলাকায় চারটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্ব নিয়ে বকুল মোড়ে দলীয় কয়েকজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই সংঘবদ্ধ একদল যুবক ওই এলাকায় হামলা চালায় এবং চারটি দোকানে ভাঙচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যবসায়ী আহমেদ আলী বলেন, 'আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নই। আমাদের নিরীহ দোকানে কেন এই হামলা হলো? বিচার না হলে আমি আত্মহত্যার পথ বেছে নেব।' 

আরেক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, 'আমি তখন বাড়িতে ছিলাম। হঠাৎ খবর পাই, আমার দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। কারা করেছে, জানি না।' 

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন  দাবি করেন, 'এটা কোনো দলীয় ঘটনা নয়। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের আশ্রিতরা এই ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপির নামে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।' 

ঘটনার পরদিন বুধবার  বণিক সমিতির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন জনি, ছাত্রদল নেতা নয়নসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের কিছু সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেন।

আনোয়ার হোসেন জনি বলেন, 'বিএনপিতে কোনো গ্রুপিং নেই। এটা পরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে হেয় করার চেষ্টা।' 

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ. স ম আব্দুন নূর বলেন, 'একটি ছোট ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এখনও কেউ অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' 

ঈশ্বরদীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, খাদেম গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে এক কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে খাদেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বহরপুর দারুসুন্নাহ মদিনাতুল উলুম কওমী মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই তরুণের নাম মো. নাইম হোসেন (২১)। তিনি মাদ্রাসাটির বড় হুজুরের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতেই শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামে। তিনি মৃত সাদিকুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাদ্রাসার দ্বিতীয় মক্তব শাখায় পড়ালেখা করে। শুক্রবার দুপুরে অজু করতে গেলে নাইম তাকে একাকী পেয়ে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন নাইমকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া নাইমকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী ছাত্রকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বিয়ের আশ্বাসে প্রেম, শেষে ধর্ষণ: ঈশ্বরদীতে যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিয়ের আশ্বাসে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে প্রেমিক একাধিকবার তাকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে তরুণী গর্ভবতী হলে বিয়ে তো করেনইনি, উল্টো সন্তান নষ্ট করতে চাপ দেন প্রেমিক। শেষ পর্যন্ত সেই প্রেমিকের বিরুদ্ধেই ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী। মামলার পর অভিযুক্ত যুবক শিমুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া শিমুল সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর বালুরখাদ মোড় এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে পড়ার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিমুলের সঙ্গে এক তরুণীর পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় এবং তারা বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে সময় কাটান। এই ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে শিমুল একাধিকবার তরুণীকে শারীরিকভাবে ব্যবহার করেন। 

গত বছরের ২৫ নভেম্বর মুলাডুলির একটি পার্কে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শিমুল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। প্রায় এক মাস পর তরুণী গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে শিমুলকে জানান। কিন্তু শিমুল গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন এবং জানান, সন্তান রেখে দিলে তিনি বিয়ে করবেন না। বাধ্য হয়ে তরুণী শিমুলের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন। কিন্তু তার পরিবার বিয়েতে রাজি না হয়ে উল্টো অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে তরুণী ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিমুল ভুক্তভোগীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।

ঈশ্বরদী আধিপত্য নিয়ে সেনাবাহিনী-র‍্যাব-পুলিশের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কুষ্টিয়ার ‘মুকুল বাহিনী’ আবারও শক্তি প্রদর্শন করেছে।

আজ রোববার সকালে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কয়েক দফা ফাঁকা গুলি ছুড়ে উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় তারা। এ সময় পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। শনিবার সকালেও ওই গ্রামে ফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার দুপুরের পর সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়।

তবে পুলিশ আটক ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেনি।

গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন, চরকুড়লিয়া গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে মো. পিঙ্গু আলী এবং হাবিবুল ইসলামের ছেলে সোয়াইব হোসেন। তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে গুলিবিদ্ধ আরও দুইজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

সরজমিনে দেখা যায়, চরকুড়ুলিয়া গ্রামজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। ভীত-সন্ত্রস্ত সাধারণ মানুষ অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলে করে চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে টহল দিচ্ছেন। বেশ কিছু বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্র বলছে, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ইয়াছিন আলীর নেতৃত্বে ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেলযোগে একদল লোক ডিগ্রির চরে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল কুষ্টিয়ার মুকুল-তরিকুল বাহিনীর অন্তত ৫০ জনের একটি দল। দুই পক্ষ কাছাকাছি এলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

চরের একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'ডিগ্রির চর ঈশ্বরদী উপজেলার মধ্যে হলেও এর অনেক অংশ কুষ্টিয়ার সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় মুকুল বাহিনী জমিগুলো দখলে রাখতে চায়। অন্যদিকে ইয়াছিন বাহিনীও চরের দখলে মরিয়া।'

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, ‘অনেক বছর পর এমন আতঙ্ক দেখলাম। শিশুরা কাঁদছে, মানুষ রাতের বেলা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে।’

গ্রামের গৃহবধূ রোকেয়া খাতুন আতঙ্কের মধ্যে জানান, 'বাচ্চাগুলারে কোলে নিয়ে দুপুর থেকে ঘরের ভেতর লুকাইয়া ছিলাম। জানি না কখন গুলি লাগবে। এখনো ভয়ে কাঁপতেছি।'

চরকুড়ুলিয়ার কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানায়, 'শুক্রবার হঠাৎ গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এখন তো জীবন বাঁচানই মুশকিল।'

স্থানীয় দোকানি আজিজুল হক বলেন, 'দোকানপাট বন্ধ। কেউ বাজারে আসে না। দুইদিনে এক টাকাও বিক্রি হয়নি। এমন চলতে থাকলে আমরা না খেয়ে মরবো।'

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, 'আধিপত্য ও চর দখল নিয়ে গোলাগুলির খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে।'

ঈশ্বরদীতে চর দখল নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদী উপজেলার ডিগ্রির চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত চারজন।

এ ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার সকালে উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চরকুড়লিয়া গ্রামে।

গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন, চরকুড়লিয়া গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে মো. পিঙ্গু আলী এবং হাবিবুল ইসলামের ছেলে সোয়াইব হোসেন। তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে গুলিবিদ্ধ আরও দুইজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাদেরকে অন্যত্র চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহত ও তাদের স্বজনদের ভাষ্য, তরিকুল ইসলাম, মুকুল হোসেন, জিহাদ হোসেন এবং রকিবুল ইসলাম রকিবসহ কয়েকটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে চরের জমি দখল এবং ফসল লুটসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। শুক্রবারের সংঘর্ষেও তারা জড়িত ছিলেন। এই চর দখলকে কেন্দ্র করে আগেও দুই বাহিনীর মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, সকাল ৯টার দিকে ইয়াছিন আলীর নেতৃত্বে ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেলযোগে একদল লোক ডিগ্রির চরে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল কুষ্টিয়ার মুকুল-তরিকুল বাহিনীর অন্তত ৫০ জনের একটি দল। দুই পক্ষ কাছাকাছি এলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চরের একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'ডিগ্রির চর ঈশ্বরদী উপজেলার মধ্যে হলেও এর অনেক অংশ কুষ্টিয়ার সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় কুষ্টিয়ার জামাল বাহিনী জমিগুলো দখলে রাখতে চায়। অন্যদিকে ইয়াছিন বাহিনীও চরের দখলে মরিয়া।'

ঈশ্বরদী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, 'সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।'

ঈশ্বরদীতে দুই ভাইয়ের মারামারি, নিহত ১ জন

জিপু সরদার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে দুই ভাইয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর ভাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের কৈকুন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম জিপু সরদার (৩০)। আহত মনিরুল সরদার (৩৫) তাঁর বড় ভাই। তাঁরা ওই গ্রামের রিকাত আলী সরদারের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাই মিলে একসঙ্গে বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। কিন্তু জমি ও নির্মাণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে আজ সকালে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। জিপু ও মনিরুল—উভয়ই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে জিপুর মৃত্যু হয়। মনিরুল বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঈশ্বরদী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, 'পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।'

ঈশ্বরদীতে চোরাই ৪ টি মোটরসাইকেল উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার ও সংঘবদ্ধ চোর চক্রের মূল হোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া চারটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, পাবনা সদর থানার দড়ি কামালপুর এলাকার নেসকো কর্মচারী মো. মোশাররফ হোসেনের ডিসকভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলটি ৩ মার্চ সন্ধ্যায় চুরি হয়। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঈশ্বরদীর আলহাজ মোড় থেকে চোর চক্রের মূল হোতা প্রান্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা সদর ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অভিযান চালিয়ে আরও দুই সদস্য জুয়েল  ও ওয়াজেদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে একটি ইয়ামাহা এফজেড, লিফান ১০০ সিসি, ডিসকভার ১২৫ সিসি এবং অ্যাপাচি ১৬০ সিসির মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

ঈশ্বরদী থানার ওসি বলেন, 'মোটরসাইকেল চুরি চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।' 

ঈশ্বরদীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুইজন গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার সময় দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে  সলিমপুর ইউনিয়নের ভারইমারী উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার হওয়া দুইজন হলেন— বগুড়ার আমিনপুর আশগাঁও গ্রামের রঞ্জু (৩২) এবং সিরাজগঞ্জ সদর মালিগাতি গ্রামের রফিকুল।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি ট্রাকে করে কয়েকজন ব্যক্তি সন্দেহজনকভাবে এলাকায় ঘুরছিলেন। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের টহল দল ঘটনাস্থলে যায় এবং ট্রাকটি আটকানোর চেষ্টা করে। এ সময় ৮-৯ জন ব্যক্তি দ্রুত ট্রাকে উঠে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ দুইজনকে ধরে ফেলে। তাদের কাছ থেকে একটি বড় বোল্ট কাটার, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়।

ঈশ্বরদী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন, পলাতক সহযোগীদের সঙ্গে মিলে তারা গরুর খামার ও বাড়িতে ডাকাতির পরিকল্পনা করছিলেন।

ঈশ্বরদীতে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছে থাকা চুরি যাওয়া ৪টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার পূর্ণকলস উত্তরপাড়ার ইদ্রিস মোল্লার ছেলে মো. রিদয় মোল্লা (২৩), একই জেলার সিংড়া উপজেলার মাহমুদপুর এলাকার সামজাদ ফকিরের ছেলে মো. আরমান ফকির (৩৮) এবং পাবনার বাহাদুরপুর এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে মো. রাজিব হোসেন (৩১)।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দিবাগত রাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। 

উদ্ধার মোটরসাইকেলের মধ্যে রয়েছে একটি ১০০ সিসি বাজাজ ডিসকভার, একটি ১২৫ সিসি বাজাজ ডিসকভার, একটি ১৩৫ সিসি বাজাজ ডিসকভার এবং একটি আরটিআর মোটরসাইকেল। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম জানান, গত ৯ মার্চ উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের জগনাথপুর গ্রামের শান্টু আলী খানের দোকান কর্মচারী বাপ্পি হোসেন উপজেলার মুলাডুলির ফরিদপুর জামে মসজিদের কাছে মোটরসাইকেল নিয়ে তারাবারি নামাজ আদায় করতে যান। সেখান থেকে শান্টু আলী খানের মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় একটি চুরির মামলা হয়। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোটরসাইকেল চোর চক্রের তিন সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে এই ৪টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাদেরকে মোটরসাইকেল চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। 

ঈশ্বরদী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার তিনজনই আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

ঈশ্বরদীতে নারীকে বেঁধে জুতার মালা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে চুরির অভিযোগে মধ্যবয়সী (৫৪) এক নারীকে লোহার খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গলায় জুতা-স্যান্ডেলের মালা পরিয়ে শাস্তি দিয়েছেন কয়েক জন যুবক।

সোমবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই নারীকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী থানা হেফাজতে নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক নারী। সে সময় কিছু যুবক তাঁকে 'টাকা ও সোনাদানা' চুরির অভিযোগে আটক করে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ভাটাপাড়া বকুলের মোড় এলাকার আপন হোসেন দেশ ও মুর্শিদপুরের দাশুড়িয়া এলাকার মো. আশিক। তারা ওই নারীকে হাসপাতালের সামনে নিয়ে গিয়ে লোহার খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে,  জুতা-স্যান্ডেলের মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে নির্যাতন চালায়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ দ্রুত এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ঈশ্বরদী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চুরির সন্দেহে আটক ওই নারীর বিরুদ্ধে কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি জানার পরপরই আমি দ্রুতই ওই নারীকে পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।’

ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে কোকেনসহ যুবক গ্রেপ্তার

ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালিয়ে ৫০০ গ্রাম কোকেনসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শুক্রবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে ট্রেনটির 'ছ' নম্বর বগিতে তল্লাশি চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার যুবকের নাম আসীর ইনতেসার রোজেন (১৯)। তিনি চুয়াডাঙ্গার কোর্টপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাসানুজ্জামান ওরফে হাবুর ছেলে।

পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি হাসান বাসির জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালানো হয়। ৫১ নম্বর সিটে বসা এক যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করে ৫০০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করা হয়। আটক যুবক ঢাকা যাচ্ছিলেন। পরে তাকে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে জিআরপি থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দায়ের করা মামলার পর শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে রোজেনকে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বৈশ্বিক অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্মার্ট পুলিশিং অপরিহার্য: আইজিপি

আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন মঙ্গলবার পুলিশ স্টাফ কলেজে ‘কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট পুলিশিং’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক: পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, বিশ্বায়নের এ যুগে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জঙ্গিবাদ, ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম এবং নতুন নতুন অপরাধ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সাইবার ক্রাইম, মানিলন্ডারিং, জাল মুদ্রা, সন্ত্রাসী অর্থায়ন ইত্যাদি অপরাধ মোকাবিলা বিশ্বব্যাপী পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে এক চ্যালেঞ্জ। বৈশ্বিক অপরাধের এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সনাতনী পুলিশিংয়ের পরিবর্তে প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট পুলিশিং অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের (পিএসসি) ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে (আইসিসি) ‘কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট অব স্মার্ট পুলিশিং’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পিএসসির রেক্টর ড. মল্লিক ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপ্যাল মীর রেজাউল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিএসসির এমডিএস (অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড রিসার্চ) এস এম আক্তারুজ্জামান। কর্মশালায় স্মার্ট পুলিশিংয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমডিএস মো. মতিউর রহমান শেখ ও মো. গোলাম রসুল।

ওয়ার্কশপে বাংলাদেশ পুলিশের সব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা অংশ নেন। এছাড়া পুলিশ স্টাফ কলেজের ফ্যাকাল্টি মেম্বাররা ওয়ার্কশপে উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি রাজারবাগে ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৩’ অনুষ্ঠানে স্মার্ট পুলিশিংয়ের কথা ঘোষণা করেন। পুলিশিংয়ে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সন্ত্রাস, উগ্র জঙ্গিবাদ এবং প্রযুক্তি নির্ভর অন্যান্য অপরাধ দমনে সহায়ক হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়েছে। আগামীতে পুলিশের এ সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।

আইজিপি বলেন, আজকের ওয়ার্কশপ বাংলাদেশ পুলিশের জন্য উপযোগী একটি স্মার্ট পুলিশিং কারিকুলাম প্রণয়নে সহায়ক হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. মল্লিক ফখরুল ইসলাম বলেন, পিএসসি স্মার্ট পুলিশিং অনুশীলনের জন্য একটি তাত্ত্বিক ভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘স্মার্ট পুলিশিং’ সম্পর্কিত কারিকুলামের খসড়া প্রণয়ন করেছে, যা এ ওয়ার্কশপের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।

ঈশ্বরদীতে গৃহবধুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ছেলেকে পড়ানোর কথা বলে মুঠোফোনে বিদেশী ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রে ডেকে এনে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ শুক্রবার ভোরে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক নাহিয়ান ইসলাম নাহিদকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে।

নাহিয়ান ইসলামের বাড়ি শহরের পূর্বটেংরী ঈদগাহ সড়কে। সে ওই এলাকার শাহ নেওয়াজের ছেলে। গেপ্তারের পর তাঁকে গতকাল দুপুরে আদালতের মাধ্যমে পাবনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ আগষ্ট বিকেলে শহরের শেরশাহ রোডে ‘এ্যাম্বিশন কোরিয়ান ল্যাংগুয়েজ সেন্টার’ নামে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধু তাঁর স্বামীসহ পরিবারের কয়েক সদস্যদের সঙ্গে ঈশ্বরদী থানায় এসে লিখিত এজাহার দাখিল করেন। এতে ‘এ্যাম্বিশন কোরিয়ান ল্যাংগুয়েজ সেন্টারের’ মালিক মোঃ নাহিয়ান ইসলাম নাহিদকে প্রধান আসামী করে তিনজনের নামে গনধর্ষনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলার সূত্রে পুলিশ জানায়, শহরের মশুরিয়া পাড়ায় ওই গৃহবধুর বাড়ি। তাঁর একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পরিচয় সূত্রে ওই গৃহবধু তাঁর ছেলেকে পড়ানোর জন্য নাহিয়ান ইসলাম নাহিদের কাছে একজন শিক্ষক খঁুজে দিতে বলেন। এরই সূত্র ধরে গত ২৯ আগষ্ট বিকেলে ল্যাংগুয়েজ সেন্টারের মালিক নাহিয়ান মুঠোফোনে ছেলেকে পড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করার জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠানে আসতে বলেন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে গৃহবধু ওই প্রতিষ্ঠানে ভিতরে গেলে নাহিয়ানসহ অপরিচিত আরও দুইব্যক্তিকে তিনি বসে থাকতে দেখেন। গৃহবধু ওই কক্ষে ঢোকার পরপরই তিন যুবক প্রতিষ্ঠানটির দরজা বন্ধ করে দিয়ে গৃহবধুর মুখ চেপে ধরে এবং তিনজন পালাক্রমে ধর্ষন করে। ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় তিনি বাসায় ফিরে মা ও স্বামীকে বিস্তারিত খুলে বলেন। পরিবারের সকলের সঙ্গে আলোচনা করে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঈশ্বরদী থানায় এসে নাহিয়ানসহ তিনজন ব্যক্তির নামে মামলা দায়ের করেন।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গভীর রাতে মামলাটি থানায় নথিভূক্ত করার পরপরই ধর্ষন মামলার প্রধান আসামী নাহিয়ানকে তাঁর বাড়ি থেকে গেপ্তার করা হয়। গেপ্তারের পর সে প্রাথমিক কিছু তথ্য দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার নাহিয়ানকে পাবনা আদালতে পাঠানো হয়। এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। অপরদিকে গৃহবধুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর গতকাল গৃহবধুকে পাবনার ওয়ান স্টপ ক্রাইসেস সেন্টারে রাখা হয়েছে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন