অপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে মুঠোফোন চুরির অপবাদে তরুণকে মারধর, চুল কেটে দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে চুরির অভিযোগে সিয়াম হোসেন (১৯) নামের এক তরুণকে আটকের পর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগর মধ্যপাড়া (প্রামাণিকপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সিয়াম হোসেন একই ইউনিয়নের মানিকনগর পূর্বপাড়া গ্রামের সুজন সরদারের ছেলে। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, মঙ্গলবার দুপুরে সিয়াম জয়নগর মধ্যপাড়া গ্রামের শাহিনুর প্রামাণিকের বাড়ি থেকে একটি মুঠোফোন নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁকে আটক করেন। পরে বকুল প্রামাণিক নামের এক ব্যক্তি তাঁর মাথার চুল কেটে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সিয়াম মাদকাসক্ত এবং মাদক সেবনের জন্যই তিনি মুঠোফোনটি চুরি করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। এদিকে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

ভুক্তভোগীর বাবা সুজন সরদার বলেন, ছেলেকে আটকের খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। তাঁর দাবি, সিয়াম মানসিকভাবে অসুস্থ এবং না বুঝেই মুঠোফোনটি নিয়ে থাকতে পারেন। তবে চুরির অভিযোগ থাকলেও এভাবে তাঁর ছেলের চুল কেটে দেওয়া অমানবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে স্কুল কমিটি গঠন নিয়ে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে আহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শাহিনুর ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে চরকুড়ুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শাহিনুর চরগড়গড়ি গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির কমিটি গঠন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে উভয় পক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠলে একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে শাহিনুর গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে খাদ্য গুদাম চত্বরে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে যুবক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে সরকারি খাদ্য গুদাম চত্বরে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

শুক্রবার দুপুরে ঈশ্বরদী সরকারি খাদ্য গুদামের ৬ নম্বর ভবনের পশ্চিম পাশে এ ঘটনা ঘটে। আটক যুবকের নাম মো. আহাদ আলী খাঁন (২১)। তিনি ঈশ্বরদী সরকারি খাদ্য গুদামের বি কোয়ার্টারের বাসিন্দা আলমগীর হোসেনের ছেলে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা খাদ্য গুদামে একটি পদে কর্মরত। তিনি স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে বি-২ কোয়ার্টারে বসবাস করেন। আহাদ আলীও বাবার চাকরির সুবাদে পাশের কোয়ার্টারে বসবাস করায় শিশুটির পরিবারের পূর্বপরিচিত ছিলেন।

শুক্রবার ছুটির দিনে শিশুটির মা যখন রান্নাঘরে ব্যস্ত ছিলেন, তখন শিশুটি বারান্দায় খেলছিল। দুপুর ১২টার দিকে আহাদ আলী কোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে শিশুটিকে ৬ নম্বর ভবনের পশ্চিম পাশে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর পোশাক খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় ফাইয়াজ বিন খালেদ নামের এক ব্যক্তি নিজ বাড়ির বারান্দা থেকে বিষয়টি দেখতে পেয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন এবং আহাদ আলীকে ধমক দেন। পরে অভিযুক্ত শিশুটিকে ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ তাঁকে আটক করে।

কান্না করতে করতে শিশুটি কোয়ার্টারে ফিরে এসে তার মা ও খাদ্য গুদামের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. রবিউল ইসলামকে বিষয়টি জানায়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ঈশ্বরদীতে অটোরিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মেহেদী হাসান (১৭) নামের এক অটোরিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ভোরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত মেহেদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের মাঝদিয়া ইসলামপাড়া গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গুরুতর আহত অবস্থায় মেহেদীকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে রেখে চলে যান। খবর পেয়ে স্বজনেরা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে রাজশাহী পাঠানো হয়। পথিমধ্যে নাটোরের লালপুরে পৌঁছালে তিনি মারা যান।

নিহতের স্বজনদের দাবি, মেহেদীর সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। কী কারণে এবং কারা তাঁকে হত্যা করেছে, তা তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে দণ্ডপ্রাপ্ত ২ মাদকসেবী কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী দুটি পৃথক অভিযানে দুই মাদকসেবীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়ে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

বৃহস্পতিবার উপজেলার শৈলপাড়া ও মাজদিয়া এলাকার বিভিন্ন স্পটে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন ঈশ্বরদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকার।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—ঈশ্বরদীর শৈলপাড়া এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে রাকিব (৩১) এবং একই এলাকার টগরের ছেলে আকাশ (২১)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পাবনা জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে ওই দুই যুবককে আটক করা হয়। পরে ডিএনসি পাবনার উপপরিদর্শক জামালুর রহমান ও শের আলম তাঁদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকার এ সাজা দেন।

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক শহিদুল মান্নাফ কবীর জানান, মাদকের আগ্রাসন রোধে চলতি আগস্ট মাসেই এ পর্যন্ত ১০৫ জন মাদক কারবারি ও সেবীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এমন তদারকিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

হত্যাচেষ্টার শিকার শরীফ, প্রধান আসামি বিএনপির হাবিবের ভাই

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার ছয় দিন পর গতকাল মঙ্গলবার রাতে হামলার শিকার শরিফুল নিজে বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলাটি করেন।

মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপুল হোসেন বুদুকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের ছোট ভাই।

মামলায় বিপুলসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—উপজেলা তারুণ্য দলের যুগ্ম সম্পাদক রাব্বি মালিথা, যুবদল নেতা সাহান হোসেন, বিএনপি নেতা নসু প্রামাণিক, আরিফ হোসেন (কালা আরিফ) ও মুকুল হোসেন।

এজাহারের বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জয়নগর শিমুলতলা বাজার থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন শরিফুল। পথে দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়ির গতিরোধ করে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালায়। বুলেট গাড়ির কাচ ভেদ করে শরিফুলের চোয়ালে লাগে। এরপর তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি থানায় গিয়ে এই মামলা করেন।

শরিফুলের দাবি, তিনি হামলাকারীদের চিনতে পেরেছেন। আসামিদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা ছিল না। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অন্যের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলার সময় জেলা বিএনপি নেতার ভাই বিপুল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

হামলার নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে শরিফুল জানান, সম্প্রতি স্থানীয় মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে জেলা বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। ওই সময় শরিফুল তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় হাবিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে এক পোস্টে লেখেন, আওয়ামী লীগ নেতার স্বজনের কাছে ওই স্কুলের সভাপতির পদ বিক্রি করা হয়েছে। এই বিরোধের জেরেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে তাঁর ধারণা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান আসামি বিপুল হোসেন বুদু বলেন, আমাদের পরিবার সম্পর্কে এলাকার মানুষ ভালোভাবে জানেন। আমি কখনো কোনো সহিংস রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় আমার নাম জড়ানো হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলেই মূল সত্য বেরিয়ে আসবে।

স্কুল কমিটির বিরোধের বিষয়টি নিয়ে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, শরিফুলের অনুরোধেই তাঁকে মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সাময়িক কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্বে থাকাকালে তিনি এক দিনও স্কুলে যাননি। পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিষ্ঠানপ্রধান মিলে নতুন কমিটি তৈরি করেন, এতে তাঁর কোনো ভূমিকা ছিল না।

পাল্টা অভিযোগ তুলে হাবিবুর রহমান আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর শরিফুল বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় দখল, চাঁদাবাজি ও লুটপাট চালিয়ে বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি অতীতেও নির্বাচনের সময় ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করেছিলেন। এখন রাজনৈতিক চক্রান্ত করে তাঁর ছোট ভাইকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। পুলিশও কোনো প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই মামলাটি নথিবদ্ধ করেছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, হামলার পরদিন থেকেই অপরাধীদের শনাক্তে কাজ করছিল পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তা মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঈশ্বরদীতে ১৩ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ১৩ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. মজিদ মন্ডল (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের খড়ের দাইড় গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

শনিবার ভুক্তভোগী কিশোরীর মা ঈশ্বরদী থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্ত মজিদকে আটক করে।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি মাগুরা সদর উপজেলার একটি হাফিজিয়া নূরানী মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে মাগুরায় নানাবাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। গত ২০ আগস্ট অসুস্থ দাদিকে দেখতে মা-বাবার সঙ্গে ঈশ্বরদীর খড়ের দাইড় গ্রামে স্বজনদের বাড়িতে আসে সে। শুক্রবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশের রাস্তায় হাঁটছিল। এ সময় প্রতিবেশী মজিদ মন্ডল তাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যান। তখন বাড়িতে কেউ ছিলেন না। আসামি শিশুটির হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে এবং মুখে ওড়না পেঁচিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি কাউকে না বলতে ভয়ভীতি দেখানোর একপর্যায়ে চাকু দিয়ে শিশুটির বাম হাতের তর্জনী কেটে জখম করা হয়।

পরদিন শনিবার কিশোরী অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চান। তখন সে বিষয়টি বিস্তারিত জানায়। এরপরই স্বজনেরা থানায় গিয়ে এজাহার দায়ের করেন।

ঈশ্বরদী থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীর মায়ের এজাহার দায়েরের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর সাজা

নিজস্ব প্রতিবেদক:ঈশ্বরদীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পৃথক অভিযানে দুই মাদকসেবী আটক হয়েছেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

ডিএনসি সূত্র জানায়, শনিবার  উপজেলার সাঁড়া ঝাউদিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. শিশির (২২) নামের এক তরুণকে আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার মো. ইজাজুল ইসলামের ছেলে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান সরকারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ডিএনসি পাবনার উপপরিদর্শক মো. সোহান ও জামালুর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিয়ার সাহাপুর ও জয়নগর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মো. জিএস আহম্মেদ (২৪) নামের আরেক তরুণকে আটক করা হয়। তাঁকেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়।

ডিএনসি পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল মান্নাফ কবীর জানান, মাদকের প্রাদুর্ভাব রোধে ঈশ্বরদীসহ জেলাজুড়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ ধরনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

ইয়াবাসহ ঈশ্বরদীতে গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ১০০ পিস ইয়াবাসহ শাহ আলম তুষার (৩৭) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার সাহাপুর শহীদ আবুল কাশেম উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার শাহ আলম তুষার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী বাজারপাড়া এলাকার মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে।

ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সাহাপুর শহীদ আবুল কাশেম উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এক ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রির জন্য অবস্থান করছেন। খবর পেয়ে রাত দুইটার দিকে সেখানে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশের একটি দল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে শাহ আলমকে আটক করা হয়। পরে তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ হাজার টাকা।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

ঈশ্বরদীতে হামলায় আহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন, আশঙ্কামুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর এই অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।

এর আগে জয়নগরে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে তাঁর প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। গাড়িটি থেমে গেলে তাঁরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ছাত্রনেতা জয়নগর মধ্যপাড়ার প্রয়াত আব্দুল মজিদ প্রামাণিকের ছেলে। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, প্রাথমিক অস্ত্রোপচার সফল হলেও শারীরিক অবস্থা আরও স্থিতিশীল হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নিয়ে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হতে পারে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঈশ্বরদীতে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, এলাকা ছেড়েছেন অভিযুক্ত

নির্মানাধীন পাকা বাড়িতে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করা হয় 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে এক বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার দূরসম্পর্কের চাচার বিরুদ্ধে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বেতবাড়ীয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি মো. এসকেন হোসেন (৭০)। তিনি ওই গ্রামের মৃত আয়জদ্দির ছেলে এবং সম্পর্কের বিচারে ভুক্তভোগী কিশোরীর চাচা।

ভুক্তভোগী কিশোরী পরিবারসহ বেতবাড়ীয়া গ্রামে নানা বাড়িতে থাকে। তার বাবা সাইদুল ইসলাম মুলাডুলি ফার্মপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরী বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবার তাকে সব সময় ঘরের ভেতরেই রাখত। সকালে পরিবারের অগোচরে সে ঘর থেকে বের হয়। এ সময় এসকেন তাকে টেনে হিঁচড়ে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে রেখা খাতুন নামের এক প্রতিবেশী অন্য বাসিন্দাদের ডাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসকেনকে হাতেনাতে ধরলেও একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে যান।

কিশোরীর মামা আরাফাত রহমান বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরি। তবে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান। আমরা থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রতিবেশী অভিযোগ করেন, এসকেনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক নারীঘটিত ও ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। পূর্বে গ্রাম্য সালিসে অর্থদণ্ড দিয়ে তিনি পার পেয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি ও কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শরিফুলকে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরিফুল প্রাইভেটকার চালিয়ে জয়নগরে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। গাড়িটি জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন অস্ত্রধারী তার গতিপথ রোধ করে গুলি চালায়। এতে গাড়িটি থেমে গেলে তারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। হামলায় তার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি হয়।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানকার চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা জিয়া সাংস্কৃতিক সংসদের (জাসাস) সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক জানান, শরিফুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অ্যাম্বুলেন্সে রাজশাহী নেওয়া হচ্ছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

ঈশ্বরদীতে ৭ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে ৭ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার দাশুড়িয়া-বনপাড়া মহাসড়কের দাশুড়িয়া কারিগরপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

ডিএনসি জানায়, ওই এলাকায় একটি নম্বরবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী আসনে তল্লাশি চালিয়ে মো. আব্দুল রাকিব আলী রকি (২৮) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাজশাহী শহরের শাহ মখদুম থানার বড় বনগ্রাম এলাকার মো. সাজাহান আলীর ছেলে। এ ঘটনায় ডিএনসির উপপরিদর্শক সোহান বাদী হয়ে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল মান্নাফ কবীর অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদকের বিরুদ্ধে তাঁদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঈশ্বরদীতে ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে মাছ ব্যবসায়ীর সাড়ে ৪ লাখ টাকা ছিনতাই


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মাছ বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে ভুয়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীর ৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঈশ্বরদী-দাশুড়িয়া সড়কের হারুখালী মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জানান, ফরিদপুরের ভাঙা থেকে মাছ বিক্রি শেষে পিকআপ ভ্যানে তারা ফিরছিলেন। লালন শাহ সেতু পার হওয়ার পর গাড়ি থামিয়ে প্রস্রাব করতে নামেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে চার ব্যক্তি এসে নিজেদের প্রশাসনের লোক পরিচয় দেয়। তাদের কাছে মাদকদ্রব্য আছে দাবি করে পিকআপটিতে তল্লাশি শুরু করে চক্রটি।

তল্লাশির একপর্যায়ে সিটের পেছনে রাখা মাছ বিক্রির টাকার ব্যাগটি দেখে আবার মাদকের অজুহাত তোলে ওই ব্যক্তিরা। সেখানে ব্যাগ পরীক্ষা না করে নিকটস্থ পুলিশ ফাঁড়িতে যাওয়ার কথা বলে মাছ ব্যবসায়ীদের পিছু পিছু আসতে বলা হয়।

তবে ফাঁড়ির দিকে না গিয়ে নির্জন হারুখালী মাঠের দিকে মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে নেয় চক্রটি। রাস্তা পরিবর্তনের প্রতিবাদ করায় ব্যবসায়ীদের গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে নির্জন এলাকায় গাড়ি থামিয়ে ধারালো ছুরির মুখে জিম্মি করে টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে ছিনতাইকারীরা।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় এক মোটরবাইক চালক ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করলেও তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগীদের দাবি, ব্যাগে মাছ বিক্রির মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা ছিল।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ঈশ্বরদীতে মোটরসাইকেল চুরির চেষ্টায় তিনজন গ্রেপ্তার, উদ্ধার দুই বাইক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করার সময় তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক সপ্তাহ আগে একই এলাকা থেকে চুরি হওয়া আরও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচের পার্কিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সংগ্রামপুর গ্রামের মো. রোমান (২৫), সোনাইকান্দি গ্রামের মো. আসিফ রহমান (১৮) এবং শীতলাপাড়া গ্রামের কিশোর আপন (১৪)।

পুলিশ জানায়, ঈশ্বরদীর যুক্তিতলা এলাকার বাসিন্দা মো. আরাফাত তাঁর তিন বন্ধুকে নিয়ে একটি মোটরসাইকেল ব্রিজের নিচে পার্কিং করে পাশে ঘুরতে যান। এ সুযোগে ওত পেতে থাকা চোর চক্রের তিন সদস্য মোটরসাইকেলটির তালা ভেঙে চুরি করার চেষ্টা চালায়। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে টহলরত পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাঁদের আটক করেন। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ জুলাই একই এলাকা থেকে চুরি হওয়া অপর একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, উদ্ধার করা মোটরসাইকেলসহ অন্য আলামত পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঈশ্বরদীতে অস্ত্রের মুখে ঝুটবোঝাই দুটি ট্রাক ডাকাতি, উদ্ধার করেছে ডিবি


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঝুটবোঝাই দুটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) রাতভর অভিযান চালিয়ে মালামালসহ ট্রাক দুটি উদ্ধার করেছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

মঙ্গলবার রাতে উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের দিয়াড় বাঘইল এলাকায় লালন শাহ সেতুর সংযোগ সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতেই মো. বিপ্লব নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা করেন।

বুধবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী ইপিজেডের একটি কারখানা থেকে ঝুটবোঝাই ছয়টি ট্রাক বের হয়। রাত ৯টার দিকে পাকশীর দিয়াড় বাঘইল এলাকার একটি ডিজিটাল স্কেলে ওজন পরিমাপের জন্য ট্রাকগুলো নেওয়া হয়। এ সময় ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল মোটরসাইকেলে এসে চালক, সহকারী ও স্কেলের কর্মচারীদের মারধর করে ভয়ভীতি দেখায়। এরপর তারা ঝুটসহ দুটি ট্রাক ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়।

ছিনতাই হওয়া ঝুটসহ মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা।

পরবর্তীকালে ডাকাত দলটি পাকশীর নতুন রূপপুর স্কুলের পাশে কড়ইগাছের নিচে ট্রাক দুটি কিছুক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখে। সেখান থেকে পাবনা বিসিক এলাকায় নিয়ে পুনরায় ওজন মেপে বাইপাস সড়কসংলগ্ন গাছপাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে ডিবি পুলিশ দ্রু অভিযান চালিয়ে চালকসহ মালামাল ও ট্রাক দুটি উদ্ধার করে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ডিবি কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, এটি স্রেফ ছিনতাই নয়, একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতি। কারণ অপরাধীদের সংখ্যা ছিল ১০-১২ জন। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তারা একটি প্রাইভেট কারে পালিয়ে যায়। তবে অভিযুক্তদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, এ বিষয়ে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।

ঈশ্বরদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজে বেড়াতে গিয়ে মোটরসাইকেল চুরি, থানায় অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর ঐতিহাসিক পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে গিয়ে এক ব্যক্তির মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। 

থানায় দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল কলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শামীম হোসেন (৪০) শুক্রবার বিকেলে ব্যক্তিগত কাজে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। কাজ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে স্ত্রী মোছা. বিপাশা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় ঘুরতে যান। শামীম হোসেন তাঁর ব্যবহৃত নীল রঙের মোটরসাইকেলটি ব্রিজের নিচে রেখে স্ত্রীকে নিয়ে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে ফিরে এসে দেখেন, সেটি আর সেখানে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, ওই অল্প সময়ের মধ্যেই অজ্ঞাত কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্র গাড়িটি চুরি করে নিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী শামীম হোসেন জানান, অল্প সময়ের জন্য মোটরসাইকেলটি রেখে তাঁরা ঘুরতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে সেটি না পেয়ে আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর করেন এবং স্থানীয়দের কাছেও জানতে চান। কিন্তু কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, চুরির লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের পাশাপাশি এ চক্রের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে চালককে ছুরিকাঘাত করে অটোরিকশা ছিনতাই

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে যাত্রীবেশে উঠে এক চালককে ছুরিকাঘাত করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে পাবনা-নাটোর মহাসড়কের দাশুড়িয়া তেঁতুলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত চালকের নাম মো. নিশাত (২৮)। তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বলবাড়িয়া গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে। নিশাত দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া এলাকায় নানার বাড়িতে থেকে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে পাবনা শহরের ঘোড়া স্ট্যান্ড থেকে রূপপুরে যাওয়ার কথা বলে দুই ব্যক্তি নিশাতের অটোরিকশায় ওঠেন। ২০০ টাকা ভাড়ায় তাদের নিয়ে রওনা হন তিনি। পথিমধ্যে তেঁতুলতলা নামক নির্জন স্থানে পৌঁছালে যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তরা আচমকা নিশাতকে ছুরিকাঘাত করে। এতে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে গেলে বাহনটি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা।

আহত নিশাত বলেন, যাত্রীদের আচরণে শুরুতে কোনো সন্দেহ হয়নি। কিন্তু নির্জন এলাকায় পৌঁছানো মাত্র তারা পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর হামলা চালিয়ে গাড়িটি ছিনিয়ে নেয়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে আহত চালককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফিরেছেন। ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, ওসিসসহ আহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন ও কনস্টেবল সবুজ হোসেন আহত হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার মথুরাপুর এলাকার দোপপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মধ্যরাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের একটি বিশেষ ম্যাচ থাকায় ভোররাত পর্যন্ত মথুরাপুর এলাকায় ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। পুলিশের কাছে গোপন তথ্য ছিল, এই সুযোগে নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আবদুল ওহাবের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা সেখানে নাশকতার পরিকল্পনা করছেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি টহল দল দুটি গাড়িতে করে দোপপাড়া এলাকায় যায়।

পুলিশের দাবি, সেখানে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখে স্থানীয় একটি মসজিদের মাইক থেকে ডাকাত সন্দেহে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ওই দলের শতাধিক নেতা-কর্মী ও কয়েক শ সমর্থক দেশি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।

তবে পুলিশের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওহাব। তিনি বলেন, ‘পুলিশের অভিযানের কারণে আমি নিজেই এলাকায় যেতে পারি না, সেখানে উপস্থিত থাকার প্রশ্নই আসে না। আমি যতটুকু জেনেছি, রাতে খেলা দেখার পর স্থানীয় যুবকেরা সেখানে খিচুড়ি রান্না করে খাচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ গিয়ে ১০-১৫ জনকে আটক করলে স্থানীয় বাসিন্দা ও নারীরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে তাঁদের ছাড়িয়ে নেন। এ সময় ধস্তাধস্তিতে পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুজন পুলিশ সদস্য সামান্য চোট পান।’

এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, হামলায় ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য সামান্য আহত হয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

সাঁথিয়ায় প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, সালিশে ‘জুতাপেটা’ করে ছাড়


প্রতিনিধি  সাঁথিয়া: পাবনার সাঁথিয়ায় এক বুদ্ধি ও বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে (৩০) ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ না করে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ২০টি জুতার আঘাত করার পর বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গুরুতর অপরাধের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা এবং এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের হারিয়াকাহন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মহব্বত আলী খাঁ (৪৫) ওই গ্রামের মৃত তায়জাল খাঁর ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন ওই নারীকে বাড়িতে একা রেখে তাঁর মা পাশের বাড়িতে থাকা ছেলের কাছে যান। এ সময় সুযোগ পেয়ে মহব্বত আলী ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। ওই নারীর চিৎকার ও কান্নার শব্দ শুনে তাঁর মা ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। প্রায় চার দিন পর রোববার সন্ধ্যায় হারিয়াকাহন এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মালেক মণ্ডলের বাড়ির উঠানে সালিশ বসানো হয়।

সালিশে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিল্টন, আরশেদ আলী, আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়। পরে তাঁকে ২০টি জুতার আঘাত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সেখানেই তা কার্যকর করে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধ গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা আইনবহির্ভূত। ভুক্তভোগী পরিবারটি সহজ-সরল হওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিষয়টি সালিশে সমাধানের চেষ্টা করেছেন।

ভুক্তভোগী নারীর দুলাভাই মহরম আলী বলেন, ‘মহব্বত এর আগেও দুই জায়গায় একই ধরনের অপরাধ করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। শনিবার সালিশ হওয়ার কথা থাকলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত হয়নি। পরে রোববার সালিশে প্রথমে তাঁকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো ও সাতটি জুতার আঘাতের কথা বলা হয়। পরে ২০টি জুতার আঘাত দিয়ে বিষয়টি শেষ করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন প্রতিবন্ধী নারীর সঙ্গে এমন ঘটনার বিচার কি শুধু ২০টি জুতার আঘাত? আমরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিইনি। আমাদের কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই, আমরা সঠিক বিচার চাই। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে আইনের আশ্রয় নেব।’

সালিশে উপস্থিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে ইউপি সদস্য আরশেদ আলী বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে আইন জানি না। ওই ওয়ার্ডের সদস্যও আমি নই।’

গৌরীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব বলেন, ‘সাঁথিয়ায় একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে আমাকে ওই সালিশে ডাকা হয়। সেখানে গিয়ে দেখি দুই পক্ষের স্বজনরা বসে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন। শুনেছি, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।’

এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারীর বড় ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের ঘটনার বিচার কোনোভাবেই গ্রাম্য সালিশে করার সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইন অমান্য করে জনপ্রতিনিধিরা কেন সালিশে অংশ নিলেন, তা জানতে চেয়ারম্যানকে ডাকা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইউএনও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। এরপর তিনি থানার ওসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ভুক্তভোগী পরিবার যাতে আইন অনুযায়ী বিচার পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন