অপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেন সোহাগ (২৫) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইমরান ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল মন্নবীপাড়া গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্যসচিব এবং জিয়া সাইবার ফোর্সের উপজেলা শাখার সদস্যসচিব ছিলেন। এ ছাড়া তিনি গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই মেহেদী হাসানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে ইমরান তাঁর বন্ধুদের নিয়ে সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের পাশের একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষের একদল সশস্ত্র লোক এসে তাঁর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তারা ইমরানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিহতের মাথার একটি অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে গুলি করার পর কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। কারা, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঈশ্বরদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ: ধামাচাপা দিতে পরিবারকে মারধর ও উচ্ছেদের হুমকি


নিজস্ব প্রতিবেদন:  ঈশ্বরদীতে ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে মারধর ও এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়েছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। গত ২৯ মার্চ দুপুরে পৌর শহরের কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. আব্দুল (৫৫)। তিনি স্থানীয় একটি মুরগির খামারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে একটি নির্মাণাধীন ঘরে ওই কিশোরীকে একা পেয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন আব্দুল। এ সময় ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে বিপ্লব নামের এক প্রতিবেশী এগিয়ে যান এবং আব্দুলকে হাতেনাতে ধরেন।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় প্রভাবশালী রফিকুল ইসলাম ও শাহজাহান বাবুর্চিসহ কয়েকজন অভিযুক্তের পক্ষ নেন। তাঁরা ঘটনাটি গোপন রাখতে ওই কিশোরীকে মারধর করে চাপ সৃষ্টি করেন। কিশোরীর মা কাজ থেকে ফিরে এর প্রতিবাদ করলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কিশোরীর বাবা জানান, রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী তাঁর বাড়িতে গিয়ে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন। তিনি এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁকে সপরিবারে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে তিনি ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এদিকে অভিযুক্তকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে রফিকুলের শ্বশুর আমিন হোসেন জানান, তাঁর জামাতা আব্দুলকে নিজের বাড়িতে এনে রেখেছিলেন এবং পরে রাতে নিয়ে গেছেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়রা অভিযুক্তকে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ায় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারকে মারধর ও হুমকির বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে ভুয়া জজ পরিচয় দিয়ে সাবেক তহশিলদার আটক


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নিজেকে জেলা সহকারী জজ পরিচয় দিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন সৈয়দ জিয়া পির মোহাম্মদ আলী নামের এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ঈশ্বরদী থানায় ছদ্মবেশে অবস্থানকালে পুলিশের সন্দেহ হলে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে যান ওই ব্যক্তি। সেখানে তিনি নিজেকে যশোর জেলা আদালতের সহকারী জজ হিসেবে পরিচয় দেন। নিজেকে বিচারক দাবি করে তিনি সে রাতে পুলিশি পাহারায় থাকার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগিতা চান।

তবে কথা বলার একপর্যায়ে তার আচরণ ও চালচলনে অসংলগ্নতা ধরা পড়ে। এতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সন্দেহ হলে তিনি দ্রুত ওই ব্যক্তির পরিচয় যাচাই শুরু করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি কোনো বিচারক নন, বরং ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করছিলেন। জালিয়াতি ধরা পড়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তার সঙ্গে আসা ওই নারী কৌশলে থানা থেকে পালিয়ে যান।

আটক জিয়া পির মোহাম্মদ আলীর বাড়ি যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার বাগমারা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল আলীমের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিয়া আগে ভূমি অফিসে তহশিলদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে চারিত্রিক অবনতি ও দুর্নীতির অভিযোগে তিনি চাকরি হারিয়েছিলেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুজ্জামান জানান, নিজেকে বিচারক পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি থানা হেফাজতে আছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঈশ্বরদীতে কৃষিজমির মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের মধ্যরাত অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে ইটভাটার জন্য কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান সরকার। তার সঙ্গে ছিলেন ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামান। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ করতে এই ‘রাত্রিকালীন অভিযান’ চালানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বিচারে মাটি কাটার ফলে উর্বর ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে এবং জমির দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এটি স্থানীয় পরিবেশের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এসব অনিয়ম ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, যারা আইন অমান্য করে অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ সময় তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ড রুখতে স্থানীয় জনগণকে সচেতন হওয়ার এবং তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

ঈশ্বরদীতে গৃহবধূর গোসলের ভিডিও ধারণ: ব্ল্যাকমেল ও মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে এক গৃহবধূর গোসলের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেল, অর্থ আত্মসাৎ ও পরে ওই দম্পতিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারী মাথালপাড়া এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নয়ন মন্ডল ওই এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নয়ন মন্ডল দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিবেশী ওই গৃহবধূর গোসলের দৃশ্য গোপনে মোবাইল ফোনে ধারণ করে আসছিলেন। সেসব ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিনি ওই নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। লোকলজ্জার ভয়ে ওই নারী এতদিন বিষয়টি গোপন রাখলেও মঙ্গলবার বিকেলে নয়ন আবারও ভিডিও করার চেষ্টা করলে দম্পতি তা দেখে ফেলেন।

ভিডিও ধারণের প্রতিবাদ জানাতে ওই গৃহবধূ ও তাঁর স্বামী নয়নের বাড়িতে গেলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, নয়ন ও তাঁর ভাই হৃদয় ওই দম্পতিকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। এই ঘটনার পর লোকচক্ষুর অন্তরালে চরম মানসিক যন্ত্রণায় ভুগে ভুক্তভোগী গৃহবধূ একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অভিযুক্ত নয়ন মন্ডল স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করলেও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, প্রভাবশালী একটি মহলের রাজনৈতিক চাপে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।

সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য হাফিজ খান বলেন, শুরুতে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার কথা ছিল। তবে ঘটনাটি যেহেতু থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে, তাই আমরা এখন সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঈশ্বরদীতে দাদিকে কুপিয়ে ও নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যা: এলাকায় শোক ও আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর গ্রামে দাদিকে হত্যা ও নাতনিকে অপহরণের পর ধর্ষণের পর হত্যার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে দাদি ও নাতনির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন—ভবানিপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা নজিমুদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৬৫) এবং তাঁর নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)। জামিলার বাবা জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে দাদি একা থাকায় শুক্রবার দিবাগত রাতে তাঁর সঙ্গেই ছিলেন জামিলা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা কিশোরী জামিলাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিলে বাড়ির উঠানে দেশি অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বৃদ্ধা সুফিয়া খাতুনকে। পরে কিশোরীকে পাশের একটি সরিষাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা।

প্রতিবেশী আশা বেগম জানান, রাত প্রায় ১১টার দিকে তিনি মারপিট ও গোঙানির শব্দ শুনতে পান। তবে বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ না থাকায় তিনি বাইরে বের হননি। পরে বিষয়টি বাড়ির অন্য স্বজনদের জানালে তাঁরা বাইরে গিয়ে অস্পষ্ট শব্দ শুনলেও উৎস নিশ্চিত হতে না পেরে ঘরে ফিরে আসেন।

ভোরে প্রতিবেশীরা বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় নাতনি জামিলাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে সরিষাক্ষেত থেকে তাঁর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাস্তায় রক্তের দাগ এবং টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চিহ্ন দেখে ধস্তাধস্তির বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নাতনিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে কিশোরীকে পাশের সরিষাক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

পাবনা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ এবং ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মরদেহের প্রাথমিক প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে কাজ করছে।

এদিকে, এই ঘটনায় ভবানিপুর গ্রামে গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য জানিয়েছেন, এই ঘটনায় সন্দেহভাজন এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

ঈশ্বরদীতে ভাড়া বাসা থেকে ছাত্রদল নেতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ভাড়া বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ফসিউল আলম অনীক (৩০) নামের এক ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের দিয়াড় সাহাপুর এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত অনীক ওই এলাকার মো. রানা মোল্লার ছেলে।

উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভির হাসান সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অনীক মূলত রাজধানীর খিলগাঁও ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তবে ঈশ্বরদীতেও থাকতেন।

নিহত অনীকের চাচা শাহিনুর রহমান মাস্টার বলেন, ঢাকা থেকে ফিরে আসার পর কিছুদিন ধরে অনীক একাই দিয়াড় সাহাপুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। ঢাকা থেকে ফেরার পর তিনি স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। কিন্তু রোববার সন্ধ্যায় গলায় ফাঁস দিয়ে ভাড়া বাসার আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত থাকার খবর পেয়ে সেখানে গেলে মরদেহ উদ্ধার করেন। তিনি মৃত্যুকে রহস্যজনক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ঈশ্বরদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দীন জানান, আলামত দেখে প্রাথমিকভাবে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, নিহত অনীকের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা রয়েছে।

ঈশ্বরদীতে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মেহেদী হাসান (২৬) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার অরণকোলা এলাকার হারুখালী এলাকার ধানের খেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এটি উদ্ধার করে।

মেহেদী হাসান উপজেলা সদরের অরণকোলা এলাকার আবু বক্করের ছেলে।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার বিকেল থেকে মেহেদীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। আজ সোমবার সকালে কৃষকেরা মাঠে কাজ করতে যাওয়ার সময় একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল লতিফ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কাদামাটিতে ঠেসে ধরে শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি মো. মমিনুজ্জামান জানান, নিহত মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এ কারণে তিনি নিয়মিত বাড়িতে থাকতেন না। গতকাল রোববার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

তিনি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে স্কুলে চুরি, সিসিটিভিতে ধরা পড়ল চোর

প্রতীক ছবি 

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে আবারও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। পূর্বটেংরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দুটি কক্ষের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে গেছে চোর।

বুধবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে একজন চোর লোহার রড দিয়ে তালা ভাঙছে—এমন দৃশ্য ধরা পড়েছে বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায়। খবর পেয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য আনোয়ার হোসেন জনি ঘটনাস্থলে যান।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শুধু বাসাবাড়ি নয়, সম্প্রতি ঈশ্বরদীতে টানা কয়েক রাত ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনাতেও চুরি হচ্ছে। এর আগের দিন মঙ্গলবার রাতে একই ওয়ার্ডের ঈশ্বরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষ থেকে দুটি ল্যাপটপ ও কিছু আসবাবপত্র চুরি হয়। তারও এক দিন আগে সোমবার রাতে ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় গোরস্থানের দানবাক্স ভেঙে টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী শামসুল আলম বলেন, 'প্রতিদিনের মতো রাতভর দায়িত্ব পালন শেষে ফজরের নামাজ পড়ে সকালে বাড়ি যাই। আজ স্কুল ছুটি ছিল। এই সুযোগে চোর গ্রিল ভেঙে ভেতরে ঢুকে আলমিরা তছনছ করেছে'।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোমসেদ আলী জানান, 'সিসিটিভির ফুটেজে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে এক ব্যক্তি রড দিয়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। অফিসকক্ষের আলমিরা ভেঙে নগদ টাকা ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে গেছে।'

ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আফজাল হোসেন জানান, 'খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে চোর শনাক্তের চেষ্টা চলছে।'

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রনব কুমার বলেন, 'চোরকে শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।' 

ঈশ্বরদীতে কৃষকের এক হাজার লাউগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে সুমন আলী নামের এক কৃষকের লাউ বাগানে হামলা চালিয়ে এক হাজার লাউগাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতের কোনো এক সময়, উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে।

ক্ষতিগ্রস্ত সুমন আলী জানান, পাবনা চিনিকলের পশ্চিম পাশে তিন বিঘা জমিতে তিনি লাউয়ের চাষ করেছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই ফলন বাজারে বিক্রি উপযোগী হতো। কিন্তু তার আগেই কে বা কারা রাতের আঁধারে পুরো বাগান নষ্ট করে দিয়েছে।

সুমনের ভাষায়, ‘প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে মাঠে গিয়ে দেখি বাগানের সব লাউগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। প্রতিটি গাছের গোড়া কাটা, পাতাগুলো শুকিয়ে মাটিতে লটকে আছে। মুহূর্তেই আমার সব স্বপ্ন ভেঙে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘লাউ বিক্রি করে সংসার চালানো, ঋণ শোধ আর ছেলেমেয়ের জন্য কিছু করার পরিকল্পনা ছিল। এখন আমি নিঃস্ব।’

সুমনের বাবা ইয়ার আলী বলেন, ‘এতে আমাদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তবে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ইতোমধ্যে দুইজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা হবে।’

ঈশ্বরদীতে আগ্নেয়াস্ত্র-গুলিসহ একজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গুলিসহ আবু বক্কার নামের এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ডিবি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের সরইকান্দি ও পাবনা সদর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। পরে মালিগাছা ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে আবু বক্কারকে আটক করা হয়। ধরার সময় আবু বক্কারের কাছে পাওয়া যায় একটি বন্দুক, একটি নীল ব্যাগে রাখা ৫০টি তাজা গুলি ও আরেকটি ব্যাগে থাকা ৬টি গুলি ।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, 'আবু বক্কারকে ঈশ্বরদী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।'  

অস্ত্রের মহড়ায় উদ্বিগ্ন ঈশ্বরদী, নিরাপত্তা দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের ইসলামপাড়া ঘাটে নদীপথে গুলির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্থানীয় ও বালু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও অস্ত্র মহড়া চলে। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে ভীতি এবং উত্তেজনা।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, নাটোরের লালপুর থেকে আসা কাকন ও তার অনুসারীরা ঈশ্বরদীর বালুমহাল দখলের জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে উত্তপ্ত সংঘর্ষে লিপ্ত। বৃহস্পতিবার সকালে তারা গুলিবর্ষণ শুরু করে বালু ব্যবসায়ীদের অফিস ভাঙচুর করে। নদীতে মাছ ধরতে নামা মাঝিদেরও বাধা দিচ্ছে তারা। নিরাপত্তাহীনতার কারণে নদীপাড়ের বাসিন্দারা রাতেও বিশ্রামে থাকতে পারছেন না।

বিকেলে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, থানা পুলিশ ও নৌপুলিশের যৌথ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুন নুর বলেন, 'গত দুই দিন ধরে বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আগের ঘটনাগুলোতে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। আজও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আমরা যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছি। তদন্ত শেষে পুরো ঘটনা পরিষ্কার হবে।' 

ঈশ্বরদীতে ট্রাক থামিয়ে অস্ত্রের মুখে ১৭টি গরু ডাকাতি

ফাইল ছবি 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে চলন্ত ট্রাক থামিয়ে অস্ত্রের মুখে ১৭টি গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দাশুড়িয়া-নাটোর-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের মুলাডুলি-শেখপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, ডাকাতরা ট্রাক চালকসহ তিনজনকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রাজশাহীর চারঘাট সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। গরুগুলো কোরবানির হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে দিনাজপুর থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুজ্জামান বলেন, 'ঘটনার খবর পাওয়ার পরই অভিযান শুরু করি। পরে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে ডাকাতির ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গরুগুলোর খোঁজ মেলেনি।' 

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, রাত ২টার দিকে সাত-আটজনের ডাকাত দল একটি ট্রাক দিয়ে গরুবোঝাই ট্রাকটির পথ আটকে দেয়। এরপর অস্ত্র দেখিয়ে চালক, হেলপারসহ তিনজনকে বেঁধে ফেলে। পরে লালনশাহ সেতু দিয়ে তারা ট্রাকসহ গরু নিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশের ধারণা, ডাকাত দলের আরেকটি ট্রাকে জিম্মি তিনজনকে রাখা হয়েছিল, যা সেতু পার না হয়ে অন্যদিকে চলে যায়। পরে রাজশাহীর চারঘাটে সড়কের পাশে তিনজনকে ফেলে রেখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। সকালেই ওই তিনজন ঈশ্বরদী থানায় এসে বিস্তারিত জানান।

এ বিষয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, 'ডাকাত চক্র শনাক্তে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ও গরু উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।' 

ঈশ্বরদীতে বিএনপির দু'পক্ষে সংঘর্ষ, চার দোকানে ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শহরের কলেজ রোডের বকুল মোড় এলাকায় চারটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্ব নিয়ে বকুল মোড়ে দলীয় কয়েকজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই সংঘবদ্ধ একদল যুবক ওই এলাকায় হামলা চালায় এবং চারটি দোকানে ভাঙচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যবসায়ী আহমেদ আলী বলেন, 'আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নই। আমাদের নিরীহ দোকানে কেন এই হামলা হলো? বিচার না হলে আমি আত্মহত্যার পথ বেছে নেব।' 

আরেক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, 'আমি তখন বাড়িতে ছিলাম। হঠাৎ খবর পাই, আমার দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। কারা করেছে, জানি না।' 

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন  দাবি করেন, 'এটা কোনো দলীয় ঘটনা নয়। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের আশ্রিতরা এই ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপির নামে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।' 

ঘটনার পরদিন বুধবার  বণিক সমিতির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন জনি, ছাত্রদল নেতা নয়নসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের কিছু সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেন।

আনোয়ার হোসেন জনি বলেন, 'বিএনপিতে কোনো গ্রুপিং নেই। এটা পরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে হেয় করার চেষ্টা।' 

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ. স ম আব্দুন নূর বলেন, 'একটি ছোট ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এখনও কেউ অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' 

ঈশ্বরদীতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, খাদেম গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে এক কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে খাদেমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বহরপুর দারুসুন্নাহ মদিনাতুল উলুম কওমী মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার হওয়া ওই তরুণের নাম মো. নাইম হোসেন (২১)। তিনি মাদ্রাসাটির বড় হুজুরের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতেই শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামে। তিনি মৃত সাদিকুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাদ্রাসার দ্বিতীয় মক্তব শাখায় পড়ালেখা করে। শুক্রবার দুপুরে অজু করতে গেলে নাইম তাকে একাকী পেয়ে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন নাইমকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া নাইমকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগী ছাত্রকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বিয়ের আশ্বাসে প্রেম, শেষে ধর্ষণ: ঈশ্বরদীতে যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিয়ের আশ্বাসে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে প্রেমিক একাধিকবার তাকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে তরুণী গর্ভবতী হলে বিয়ে তো করেনইনি, উল্টো সন্তান নষ্ট করতে চাপ দেন প্রেমিক। শেষ পর্যন্ত সেই প্রেমিকের বিরুদ্ধেই ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী। মামলার পর অভিযুক্ত যুবক শিমুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া শিমুল সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর বালুরখাদ মোড় এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে পড়ার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিমুলের সঙ্গে এক তরুণীর পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় এবং তারা বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে সময় কাটান। এই ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে শিমুল একাধিকবার তরুণীকে শারীরিকভাবে ব্যবহার করেন। 

গত বছরের ২৫ নভেম্বর মুলাডুলির একটি পার্কে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শিমুল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। প্রায় এক মাস পর তরুণী গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে শিমুলকে জানান। কিন্তু শিমুল গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন এবং জানান, সন্তান রেখে দিলে তিনি বিয়ে করবেন না। বাধ্য হয়ে তরুণী শিমুলের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন। কিন্তু তার পরিবার বিয়েতে রাজি না হয়ে উল্টো অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে তরুণী ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিমুল ভুক্তভোগীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।

ঈশ্বরদী আধিপত্য নিয়ে সেনাবাহিনী-র‍্যাব-পুলিশের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কুষ্টিয়ার ‘মুকুল বাহিনী’ আবারও শক্তি প্রদর্শন করেছে।

আজ রোববার সকালে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কয়েক দফা ফাঁকা গুলি ছুড়ে উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় তারা। এ সময় পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। শনিবার সকালেও ওই গ্রামে ফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার দুপুরের পর সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়।

তবে পুলিশ আটক ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেনি।

গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন, চরকুড়লিয়া গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে মো. পিঙ্গু আলী এবং হাবিবুল ইসলামের ছেলে সোয়াইব হোসেন। তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে গুলিবিদ্ধ আরও দুইজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

সরজমিনে দেখা যায়, চরকুড়ুলিয়া গ্রামজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। ভীত-সন্ত্রস্ত সাধারণ মানুষ অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলে করে চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে টহল দিচ্ছেন। বেশ কিছু বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্র বলছে, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ইয়াছিন আলীর নেতৃত্বে ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেলযোগে একদল লোক ডিগ্রির চরে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল কুষ্টিয়ার মুকুল-তরিকুল বাহিনীর অন্তত ৫০ জনের একটি দল। দুই পক্ষ কাছাকাছি এলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

চরের একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'ডিগ্রির চর ঈশ্বরদী উপজেলার মধ্যে হলেও এর অনেক অংশ কুষ্টিয়ার সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় মুকুল বাহিনী জমিগুলো দখলে রাখতে চায়। অন্যদিকে ইয়াছিন বাহিনীও চরের দখলে মরিয়া।'

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, ‘অনেক বছর পর এমন আতঙ্ক দেখলাম। শিশুরা কাঁদছে, মানুষ রাতের বেলা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে।’

গ্রামের গৃহবধূ রোকেয়া খাতুন আতঙ্কের মধ্যে জানান, 'বাচ্চাগুলারে কোলে নিয়ে দুপুর থেকে ঘরের ভেতর লুকাইয়া ছিলাম। জানি না কখন গুলি লাগবে। এখনো ভয়ে কাঁপতেছি।'

চরকুড়ুলিয়ার কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানায়, 'শুক্রবার হঠাৎ গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এখন তো জীবন বাঁচানই মুশকিল।'

স্থানীয় দোকানি আজিজুল হক বলেন, 'দোকানপাট বন্ধ। কেউ বাজারে আসে না। দুইদিনে এক টাকাও বিক্রি হয়নি। এমন চলতে থাকলে আমরা না খেয়ে মরবো।'

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, 'আধিপত্য ও চর দখল নিয়ে গোলাগুলির খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে।'

ঈশ্বরদীতে চর দখল নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদী উপজেলার ডিগ্রির চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত চারজন।

এ ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার সকালে উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চরকুড়লিয়া গ্রামে।

গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন, চরকুড়লিয়া গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে মো. পিঙ্গু আলী এবং হাবিবুল ইসলামের ছেলে সোয়াইব হোসেন। তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে গুলিবিদ্ধ আরও দুইজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাদেরকে অন্যত্র চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহত ও তাদের স্বজনদের ভাষ্য, তরিকুল ইসলাম, মুকুল হোসেন, জিহাদ হোসেন এবং রকিবুল ইসলাম রকিবসহ কয়েকটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে চরের জমি দখল এবং ফসল লুটসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। শুক্রবারের সংঘর্ষেও তারা জড়িত ছিলেন। এই চর দখলকে কেন্দ্র করে আগেও দুই বাহিনীর মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, সকাল ৯টার দিকে ইয়াছিন আলীর নেতৃত্বে ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেলযোগে একদল লোক ডিগ্রির চরে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল কুষ্টিয়ার মুকুল-তরিকুল বাহিনীর অন্তত ৫০ জনের একটি দল। দুই পক্ষ কাছাকাছি এলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চরের একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'ডিগ্রির চর ঈশ্বরদী উপজেলার মধ্যে হলেও এর অনেক অংশ কুষ্টিয়ার সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় কুষ্টিয়ার জামাল বাহিনী জমিগুলো দখলে রাখতে চায়। অন্যদিকে ইয়াছিন বাহিনীও চরের দখলে মরিয়া।'

ঈশ্বরদী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, 'সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।'

ঈশ্বরদীতে দুই ভাইয়ের মারামারি, নিহত ১ জন

জিপু সরদার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে দুই ভাইয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর ভাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের কৈকুন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম জিপু সরদার (৩০)। আহত মনিরুল সরদার (৩৫) তাঁর বড় ভাই। তাঁরা ওই গ্রামের রিকাত আলী সরদারের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাই মিলে একসঙ্গে বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। কিন্তু জমি ও নির্মাণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে আজ সকালে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। জিপু ও মনিরুল—উভয়ই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে জিপুর মৃত্যু হয়। মনিরুল বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঈশ্বরদী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, 'পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।'

ঈশ্বরদীতে চোরাই ৪ টি মোটরসাইকেল উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার ও সংঘবদ্ধ চোর চক্রের মূল হোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় চুরি হওয়া চারটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, পাবনা সদর থানার দড়ি কামালপুর এলাকার নেসকো কর্মচারী মো. মোশাররফ হোসেনের ডিসকভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেলটি ৩ মার্চ সন্ধ্যায় চুরি হয়। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঈশ্বরদীর আলহাজ মোড় থেকে চোর চক্রের মূল হোতা প্রান্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা সদর ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অভিযান চালিয়ে আরও দুই সদস্য জুয়েল  ও ওয়াজেদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে একটি ইয়ামাহা এফজেড, লিফান ১০০ সিসি, ডিসকভার ১২৫ সিসি এবং অ্যাপাচি ১৬০ সিসির মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

ঈশ্বরদী থানার ওসি বলেন, 'মোটরসাইকেল চুরি চক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।' 

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন