সংঘর্ষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সংঘর্ষ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে স্কুল কমিটি গঠন নিয়ে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে আহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর সাহাপুর ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শাহিনুর ইসলাম (৪০) নামের এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে চরকুড়ুলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শাহিনুর চরগড়গড়ি গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে এবং স্থানীয়ভাবে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির কমিটি গঠন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে উভয় পক্ষ উত্তপ্ত হয়ে ওঠলে একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে শাহিনুর গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে অটোচুরির টাকার ভাগ নিয়ে মারামারি, যুবক ছুরিকাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে চুরি করা অটোরিকশার টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন যুবক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ছুরিকাঘাতে জখম হন।

রোববার সন্ধ্যায় শহরের আলহাজ ক্যাম্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মো. তারেক ও তাঁর সহযোগী মো. সাইদ আলহাজ ক্যাম্প এলাকায় বসবাস করেন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে চুরির টাকাকে কেন্দ্র করে তাঁদের সঙ্গে একই এলাকার মো. মাসুদ, মো. রিপন ও মো. রনির কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাসুদ, রিপন ও রনি লাঠি ও সোটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারেক ও সাইদকে মারধর করেন। অভিযোগ রয়েছে, মাসুদ ছুরি দিয়ে তারেকের মাথায় আঘাত করেন, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ঘটনার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলহাজ মোড়ে একদল মানুষ জড়ো হয়ে বিরোধে জড়ানো যুবকদের খুঁজে ধাওয়া দেন। এ সময় আতঙ্ক ছড়াতে কয়েকটি ফটকা ফাটানো হয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পর পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঈশ্বরদীতে চর দখল নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদী উপজেলার ডিগ্রির চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত চারজন।

এ ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার সকালে উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চরকুড়লিয়া গ্রামে।

গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন, চরকুড়লিয়া গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে মো. পিঙ্গু আলী এবং হাবিবুল ইসলামের ছেলে সোয়াইব হোসেন। তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে গুলিবিদ্ধ আরও দুইজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাদেরকে অন্যত্র চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহত ও তাদের স্বজনদের ভাষ্য, তরিকুল ইসলাম, মুকুল হোসেন, জিহাদ হোসেন এবং রকিবুল ইসলাম রকিবসহ কয়েকটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে চরের জমি দখল এবং ফসল লুটসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। শুক্রবারের সংঘর্ষেও তারা জড়িত ছিলেন। এই চর দখলকে কেন্দ্র করে আগেও দুই বাহিনীর মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, সকাল ৯টার দিকে ইয়াছিন আলীর নেতৃত্বে ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেলযোগে একদল লোক ডিগ্রির চরে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল কুষ্টিয়ার মুকুল-তরিকুল বাহিনীর অন্তত ৫০ জনের একটি দল। দুই পক্ষ কাছাকাছি এলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চরের একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'ডিগ্রির চর ঈশ্বরদী উপজেলার মধ্যে হলেও এর অনেক অংশ কুষ্টিয়ার সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় কুষ্টিয়ার জামাল বাহিনী জমিগুলো দখলে রাখতে চায়। অন্যদিকে ইয়াছিন বাহিনীও চরের দখলে মরিয়া।'

ঈশ্বরদী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, 'সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।'

ঈশ্বরদীতে চরের আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের গোলাগুলি-ককটেল বিস্ফোরণ

প্রতীকী ছবি 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের ডিগ্রির চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় পৌনে ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত লক্ষীকুন্ডার চরকুড়লিয়া গ্রামের নছিরের ঘাট ও আকাতের ঘাট এলাকায় গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শনিবার সকাল থেকে দুই পক্ষের শক্তি প্রদর্শনের মহড়া শুরু হয়। এ সময় প্রতিপক্ষরা কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে হুমকি-ধামকি দেয়। রাস্তায় হামলার শিকার হন চরকুড়লিয়া গ্রামের সাহাবুল ইসলামসহ দু’জন, যাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর গ্রামবাসীর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, অনেকে ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, চরকুড়লিয়া গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান ও কুষ্টিয়ার হরিপুর ইউনিয়নের মুকুল গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এই দুই গ্রুপের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও জড়িত।

দুই দিন আগে লক্ষীকুন্ডার তালবাড়িয়া এলাকার সরকারি খাস জমি ইজারা দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ওই জমির বণ্টন নিয়ে সাইদুর ও মুকুল গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। শুক্রবার রাতে এই দ্বন্দ্ব সংঘর্ষে রূপ নেয়।

রাত ১২টার দিকে দুই পক্ষ এলাকায় মহড়া দিতে শুরু করে এবং গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের শব্দে গ্রামবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, 'শব্দ এত জোরালো ছিল যে আমরা ভয় পেয়ে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে ছিলাম। মনে হয়েছে গুলি ও ককটেলের শব্দ।'

সংঘর্ষের খবর পেয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই)  জামাল মিয়ার নেতৃত্বে তিনটি গাড়ি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ঈশ্বরদী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম শহীদ বলেন, এলাকার আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় মুকুল গ্রুপের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে সাইদুর রহমান দাবি করেছেন, এই ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বরং প্রতিপক্ষরা তাদের লোকজনকে চর এলাকায় যেতে দিচ্ছে না।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন