পদ্মা নদী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
পদ্মা নদী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই গ্রুপের মুখোমুখি অবস্থান: পদ্মার বালুমহল-আধিপত্য নিয়ে চরম উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পদ্মা নদীর বালুমহলের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মুখামুখি অবস্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও মানববন্ধনের ঘটনায় যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা। অস্থিতিশীলতা নিরসন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান (হাক্কে মণ্ডল)-এর সমর্থকেরা ঈশ্বরদী-বাঘা আঞ্চলিক মহাসড়কের আরামবাড়িয়া বাজার এলাকায় একটি মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন। উক্ত মানববন্ধনে স্থানীয় অধিবাসীদের পাশাপাশি বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারী হিসেবে পরিচিত স্থানীয় সন্ত্রাসী জুয়েল ও বিপুর বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সামাজিক নৈরাজ্য সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগ আনেন। অনতিবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তাঁরা।

এর আগে টানা দুই দিন জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকেরা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে মানববন্ধন করে হাসিবুর রহমান হাক্কে মণ্ডলের অনুসারীদের বিরুদ্ধে পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের পাল্টা অভিযোগ তোলেন।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন যুবদল নেতা হেকমত উল্লাহ (কনক মণ্ডল)। তাঁর ভাষ্যমতে, তাঁরা আইনসম্মত উপায়ে বালু ক্রয় করে বৈধ ব্যবসা পরিচালনা করছেন। রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে পিন্টুর সমর্থকেরা তাঁর বাবা হাসিবুর রহমান ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। কনক মণ্ডল আরও অভিযোগ করেন, নদীর বালুমহলের দখলদারত্বকে কেন্দ্র করে অতীতেও জাকারিয়া পিন্টুর অনুসারীরা একাধিকবার সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়েছে।

অন্যদিকে, পিন্টু সমর্থিত ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেন ও প্রিন্স মাহমুদ জানান, এলাকায় একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সন্ত্রাসী তৎপরতায় অতিষ্ঠ হয়েই তাঁরা সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন।

আরামবাড়িয়া এলাকার মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংগঠক তহিদুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন, জয় ইসলাম, যুবদল নেতা আতাউর রহমান, মনোয়ার হোসেন, সাজেদুল হোসেন, আকরাম হোসেন, জাকারিয়া সেন্টু এবং মহিলা দলের নেত্রী আনজু খাতুন ও রনিফা বেগম।

এলাকাবাসীর অনুযোগ, পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও এলাকাভিত্তিক প্রভাব খাটানো নিয়ে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। প্রায়শই ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, ‘পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে একাধিক পয়েন্টে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করা হয়েছে। তবে সুযোগ বুঝে অসাধুচক্র পুনরায় তৎপর হওয়ার চেষ্টা করে। সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলন ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জোরদার রাখা হয়েছে।’

পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে ঈশ্বরদীর চরাঞ্চল ও ফসলি জমিতে হাহাকার, নদীভাঙনে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ছে। পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা ও ফসলের জমিতে পানি প্রবেশ করায় কৃষক ও গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের রাত কাটছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাকশী ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে প্রায় ৫ হেক্টর করে মুলা ও গাজরের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া আওতাপাড়া গ্রামের পেঁপে ও কলাবাগানসহ প্রায় ৭৫ হেক্টর জমির ফসলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে।

এদিকে উপজেলার সাঁড়া ও পাকশী এলাকায় পদ্মার বাঁধ উপচে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সাঁড়া ও সাহাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী ইসলামপাড়া ও সাঁড়া ঘাটসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় উঁচু সড়ক অতিক্রম করে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন তীরবর্তী বাসিন্দারা। কোথাও কোথাও বসতবাড়ির আঙিনাও ভাঙনের কবলে পড়েছে। স্থানীয়রা বাঁশের খুঁটি ও বেড়া দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।

সাঁড়ার আরামবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় আরামবাড়িয়া, কোমরপুর, বাদলীর মোড়, মাজদিয়া ও ইসলামপাড়ার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। নদী কখন বাড়িঘর গ্রাস করে নেয়—এমন আশঙ্কায় অনেকেই নদীর পাড়ে অবস্থান করছেন।

সাহাপুর গ্রামের কৃষক আমিরুল সরদার বলেন, বন্যার পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফসলের ক্ষতি নিয়েও কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত এবং পদ্মার প্রবল স্রোতের কারণে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। গত কয়েক দিনে পানি কখনো বাড়ছে, আবার কিছুটা কমছে। গত রোববার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ১৩ দশমিক ০৫ মিটার উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হওয়ার রেকর্ড করা হয়েছে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্রা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার মাত্র ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ জানান, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে গত বৃহস্পতিবার পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। শুক্রবার তা বেড়ে ১৩ দশমিক ০২ মিটার, শনিবার ১৩ দশমিক ০৬ মিটার এবং রোববার ১৩ দশমিক ০৫ মিটারে পৌঁছায়।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মমিন বলেন, সাহাপুর, পাকশী, সাঁড়া ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের বিভিন্ন ফসলি জমিতে ইতোমধ্যে বন্যার পানি ঢুকেছে। পানি আরও বাড়লে শীতকালীন সবজি, আগাম জাতের শাকসবজি ও বিভিন্ন ফলের আবাদে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেহাব উদ্দিন জানান, ঈশ্বরদীর নিচু এলাকাগুলো ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি ইউনিয়নের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি হালনাগাদ করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসাম মোহাম্মদ সোয়াইব বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পদ্মা নদীতে নিখোঁজ ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে ট্রলার দুর্ঘটনার দুই দিন পর রাকিবুজ্জামান রকি (৩০) নামের নিখোঁজ এক ছাত্রদল নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকার পদ্মা নদীতে তাঁর মরদেহ ভেসে ওঠে।

মৃত রাকিবুজ্জামান ঝিনাইদহের শৈলকূপা পৌরসভার কবিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়পাড়া এলাকার মৃত হাছান আলীর ছেলে। তিনি শৈলকূপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছিলেন।

এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় ট্রলারটি সেতুর চার নম্বর পিলারে ধাক্কা দিলে রাকিবুজ্জামানসহ তিনজন নদীতে পড়ে যান। পরে ট্রলারে থাকা অন্য যাত্রীরা লিটন (৩৮) ও ওহাবকে (৪৫) জীবিত উদ্ধার করেন। তবে রাকিবুজ্জামান নিখোঁজ ছিলেন।

নৌপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপার কাতলাঘাট থেকে প্রায় ১২০ জনের একটি দল ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে ভেড়ামারা উপজেলার সোলাইমান শাহ মাজারে বেড়াতে যায়। রাতে ফেরার পথে পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় ট্রলারটি সেতুর চার নম্বর পিলারে ধাক্কা খায়। এতে তিন যাত্রী নদীতে পড়ে যান।

দুর্ঘটনার পর খবর পেয়ে লক্ষ্মীকুন্ডা নৌপুলিশ ফাঁড়ি এবং ঈশ্বরদী ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। শুক্রবার রাত ও শনিবার দিনভর অভিযান চালিয়েও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে আজ রোববার সকালে নদীতে মরদেহ ভেসে উঠলে পুলিশ তা উদ্ধার করে।

লক্ষ্মীকুন্ডা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রলার দুর্ঘটনার পর থেকে ছাত্রদল নেতা রাকিবুজ্জামান নিখোঁজ ছিলেন। সকালে নদীতে ভাসমান অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কা: নদীতে পড়ে ছাত্রদল নেতা নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় হার্ডিঞ্জ সেতুর পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কায় পদ্মা নদীতে পড়ে ছাত্রদলের এক নেতা নিখোঁজ হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার রাত নয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই দুর্ঘটনায় নদীতে পড়া অন্য দুজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হয়।

নিখোঁজ ব্যক্তির নাম রাকিবুজ্জামান রকি (৩২)। তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব।

উপজেলা প্রশাসন ও নৌভ্রমণে আসা যাত্রীদের সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের শৈলকুপার কাতলাগাড়ি এলাকা থেকে ১২৩ জনের একটি দল বাল্কহেডে করে নৌভ্রমণে বের হয়। ভেড়ামারার গোলাপনগর এলাকা ঘুরে ফেরার পথে রাত নয়টার দিকে হার্ডিঞ্জ সেতু এলাকায় পৌঁছায় তারা। একপর্যায়ে তীব্র স্রোতে বাল্কহেডটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর চার নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। এতে তিন যাত্রী নদীর পানিতে পড়ে যান।

পরে অন্য যাত্রীরা লিটন ও ওহাব নামের দুজনকে উদ্ধার করে তীরে তোলেন। তাঁরা সুস্থ আছেন। তবে রাকিবুজ্জামান এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার পর ঈশ্বরদী ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং নৌ পুলিশ উদ্ধারকাজ শুরু করে।

রাকিবুজ্জামানের বন্ধু আনিসুজ্জামান বলেন, রাকিবুজ্জামান যখন নৌকা থেকে পড়ে যান, তখন তাঁকে ধরতে গিয়েও ধরা সম্ভব হয়নি। তিনি সাঁতারে দক্ষ ও শক্তিশালী যুবক। আশা করা হচ্ছে, তিনি ফিরে আসবেন।

রাকিবুজ্জামানকে উদ্ধারে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসসহ বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে বলে জানান ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান।

রাতে উদ্ধারকাজ কিছুটা কঠিন ছিল জানিয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত প্রথম আলোকে বলেন, রাকিবুজ্জামানকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে পদ্মায় টহল দেয়ার সময় পুলিশের ওপর হামলা, গুলিবিদ্ধ ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে টহল দেয়ার সময় পুলিশের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নৌ-পুলিশের পাঁচ সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে কুষ্টিয়ার হরিপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন-ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার শফিকুল ইসলাম এবং সদস্য এনামুল হক, শাহিনুর হক, নাজমুল হাসান ও মানিক মিয়া। তারা সবাই ওই ফাঁড়িতে কর্মরত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে পুলিশের একটি দল নৌকা নিয়ে নদীতে যায়। দলটি কুষ্টিয়ার হরিপুর এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে লুকিয়ে থাকা একদল সশস্ত্র হামলাকারী তাদের ওপর গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। দুই পক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ গোলাগুলি চলে। এতে ফাঁড়ির ইনচার্জসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে এনামুল হকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পরপরই এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

ঈশ্বরদীতে চরাঞ্চল ডুবে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে খামারিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের চারণভূমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে গবাদিপশু পালনকারীরা খামার ও মালপত্র নিয়ে নিরাপদ এলাকায় সরে যাচ্ছেন।

শুক্রবার বিকেলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ১২ দশমিক ৯৪ মিটার রেকর্ড করা হয়। বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার হওয়ায় পানি দ্রুত বাড়ছে বলে জানা গেছে।

এদিন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুনের নেতৃত্বে একটি দল নৌকায় চরজাজিরা এলাকায় গিয়ে খামারিদের খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, দুটি পরিবার ছাড়া সবাই তাদের পশু-পাখি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। বন্যার সময় খাদ্য সংকট মোকাবেলায় খামারিরা ভুষি, ধৈঞ্চা, আখ, গমের খোসা ও গামা ঘাস ব্যবহার করছেন।

উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলে প্রায় ৬০টি পরিবার বসবাস করে। চর ডুবে যাওয়ায় অন্তত এক হাজার মহিষ, সাড়ে চার শ গরু, পাঁচ শ পঞ্চাশ ভেড়া, দুই শ ছাগল, আড়াই শ হাঁস এবং দেশি মুরগি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। চর ডুবে যাওয়ার পর খামারিরা নিরাপদ জায়গায় চলে যান এবং দুই মাস পর চর ভেসে উঠলে আবার ফিরে আসেন।

ডুবে যাওয়া চর এলাকার খামারি আবুল ফজল বলেন, তিনি তাঁর ১৫টি মহিষ আগেই সরিয়ে নিয়েছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের পক্ষ থেকে খামারিদের বন্যাকালে গবাদিপশুর সেবা, টিকা ও কৃমিনাশক ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে পদ্মার পানি বিপৎসীমার কাছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:  টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে জুলাই থেকে ঈশ্বরদীতে পদ্মার পানি বেড়েই চলেছে। তবে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে হঠাৎ অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার করে বাড়ছে পানি। মঙ্গলবার পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা মাপা হয় ১২ দশমিক ৮০ মিটার। বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার— অর্থাৎ আর মাত্র এক মিটার বাড়লেই তা অতিক্রম করবে।

দুপুরে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ১৫টি গার্ডারের মধ্যে ১৪টিই তলিয়ে গেছে, বাকি একটির কাছেও পানি পৌঁছতে শুরু করেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে রাতের মধ্যেই শেষ গার্ডারটিও ডুবে যেতে পারে। ব্রিজের নিচে অস্থায়ী খাবারের দোকান, ফলের স্টল ও খেলনার দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে দোকান সরিয়ে নিয়েছেন। ওয়াক্তিয়া মসজিদের চারপাশও পানিতে ঘেরা, কয়েক দিনের মধ্যেই মসজিদটি পুরোপুরি তলিয়ে যেতে পারে।

উপজেলার ধাপাড়ি, আরামবাড়িয়া, ইসলামপুরসহ তীরবর্তী গ্রামের নদী রক্ষা বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে ঢোকার উপক্রম হয়েছে। লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের শতাধিক একর কলাবাগান ডুবে গেছে, শাকসবজির ক্ষেতেও পানি উঠেছে। ফসল নষ্ট হতে শুরু করেছে। চরাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় গো-খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে, গবাদিপশুর বাথান ভেঙে মালিকেরা পশু সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে ফুচকা বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, 'যেখানে দোকান ছিল সেখানে এখন পানি। তাই সরিয়ে নিয়েছি। ঘুরতে আসা মানুষও কমে গেছে। মনে হচ্ছে দুই–এক দিনের মধ্যে পুরো নিচের অংশ পানিতে ডুবে যাবে।' 

ফল বিক্রেতা আশরাফ হোসেন জানান, নদীতে ভাঙনের শঙ্কায় সকালে দোকান সরানো শুরু করেছেন।

পানি দেখতে আসা কলেজছাত্র পার্থ ইসলাম বলেন, 'গত সপ্তাহে এখানে এসে মোটরসাইকেল রেখে ঘুরেছি, আজ সেই জায়গা পানির নিচে।'  

তারেক হাসান নামে আরেক দর্শনার্থী বলেন, 'দুই মাস আগে নদী শুকনো ছিল, এখন সব ভরে গেছে।'  

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক হারিফুন নাঈম ইবনে সালাম জানান, 'সোমবার পানি ছিল ১২ দশমিক ৭০ মিটার, মঙ্গলবার সকালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৮০ মিটারে। প্রতিদিনই ১০–১৫ সেন্টিমিটার করে বাড়ছে।' 

উপ–সহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, 'বিপৎসীমা অতিক্রম করবে কিনা এখনই নিশ্চিত নয়, তবে পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত আছে।' 

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, লক্ষ্মীকুন্ডার কয়েকটি গ্রামের ফসলি জমি ডুবে গেছে, বিশেষ করে কলাবাগান ক্ষতির মুখে। কৃষকদের জন্য এটি বড় ধাক্কা হতে পারে।

পদ্মায় যৌথ অভিযানে অস্ত্র-মাদক ও টাকা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে তিনটি পিস্তল, গুলি, মাদক, একটি মানুষের খুলি ও নগদ ১২ লাখ টাকার বেশি উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার  সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নদীর দিয়াড় বাহাদুরপুর এলাকায় ‘মোল্লা ট্রেডার্স’-এর বালু মহালে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশ অংশ নেয়।

আটক দুজন হলেন—মাহফুজুর রহমান সোহাগ ও আশরাফুল ইসলাম বাপ্পি।

পুলিশ জানায়, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বালুবোঝাই নৌকা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে এ অভিযান চালানো হয়। বালু মহালে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় তিনটি বিদেশি পিস্তল, ৪৮টি গুলি, একটি মানুষের খুলি, বেশ কিছু মাদকদ্রব্য ও নগদ ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ঈশ্বরদী ও নাটোরের লালপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী মোল্লার চরে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ দুজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়।

লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন বলেন, ‘আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

অস্ত্রের মহড়ায় উদ্বিগ্ন ঈশ্বরদী, নিরাপত্তা দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের ইসলামপাড়া ঘাটে নদীপথে গুলির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত স্থানীয় ও বালু ব্যবসায়ীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও অস্ত্র মহড়া চলে। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে ভীতি এবং উত্তেজনা।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, নাটোরের লালপুর থেকে আসা কাকন ও তার অনুসারীরা ঈশ্বরদীর বালুমহাল দখলের জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে উত্তপ্ত সংঘর্ষে লিপ্ত। বৃহস্পতিবার সকালে তারা গুলিবর্ষণ শুরু করে বালু ব্যবসায়ীদের অফিস ভাঙচুর করে। নদীতে মাছ ধরতে নামা মাঝিদেরও বাধা দিচ্ছে তারা। নিরাপত্তাহীনতার কারণে নদীপাড়ের বাসিন্দারা রাতেও বিশ্রামে থাকতে পারছেন না।

বিকেলে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, থানা পুলিশ ও নৌপুলিশের যৌথ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুন নুর বলেন, 'গত দুই দিন ধরে বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আগের ঘটনাগুলোতে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। আজও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। আমরা যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছি। তদন্ত শেষে পুরো ঘটনা পরিষ্কার হবে।' 

আজ থেকে পদ্মা সেতু দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিয়মিত যাত্রী নিয়ে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে আজ বুধবার শুরু হচ্ছে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ অক্টোবর ঢাকা-ভাঙ্গা পথে রেল চলাচলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর অন্যান্য প্রস্তুতি শেষে আজ পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে ট্রেন চলাচলের শুভ সূচনা ঘটছে। রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মতর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, শুভারম্ভে ১১৫ টাকা কমানো হয়েছে ঢাকা-ভাঙা রুটের ট্রেনের ভাড়া।

রেলওয়ে সূত্র নিশ্চিত করেছে, শুরুতে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে চলবে দুটি ট্রেন। এর একটি সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও অপরটি বেনাপোল এক্সপ্রেস। এর মধ্যে সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে ভাঙ্গা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও যশোর হয়ে খুলনায় যাবে। অন্যটি একই পথ ধরে যাবে বেনাপোল পর্যন্ত। নভেম্বরের শেষ দিকে ট্রেন আরও বাড়বে বলে রেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে, যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে রেলপথ মন্ত্রণালয় গতকাল ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে ট্রেনের ভাড়া ১১৫ টাকা কমিয়েছে।

এর আগে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত চালু হওয়া আন্তঃনগর ট্রেনের (নন-এসি) ভাড়া ছিল ৩৫০ টাকা। তা কমিয়ে এখন ২৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এই রুটে ট্রেন-ভাড়া কমল ১১৫ টাকা।

রেলের মহাপরিচালক মো. কামরুল আহসান সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, যাত্রীদের সুবিধার জন্য ভাড়া কমানো হয়েছে।

ঈশ্বরদীতে পদ্মায় বালু ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব, হামলায় যুবলীগ কর্মী আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর বালুঘাটের ব্যবসা নিয়ে ঈশ্বরদী ও নাটোরের লালপুর উপজেলার যুবলীগ সমর্থিত দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ শুক্রবার দুপুরে ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মানদীর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে।

হামলায় ঈশ্বরদীর রবিউল ইসলাম রবু (৪০) নামে এক যুবলীগ কর্মী গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা তাকে অস্ত্রের মুখে ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর ঘাট থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে। আহত যুবলীগ কর্মী রবিউল ইসলাম উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের উত্তর বাঘইল গ্রামের কাশেম মন্ডলের ছেলে ও ঈশ্বরদী উপজেলা যুবলীগ নেতা ইমতিয়াজ চৌধুরী মিলনের সহযোগী।

লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) জামাল মিঞা বলেন, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নৌপুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈশ্বরদীর সাঁড়াঘাট ও লালপুরের বালুঘাটের ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরদী উপজেলা যুবলীগ নেতা ইমতিয়াজ চৌধুরী মিলনের সঙ্গে লালপুর এলাকার যুবলীগ কর্মী কাকনের দ্বন্দ্ব চলছিল।

আজ শুক্রবার দুপুরে সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মানদী ঘাটে যুবলীগ নেতা মিলনের সহযোগীরা ঘাটে বসে কাজ করছিল। এ সময় হঠাৎ লালপুরের দিক থেকে নদীপথে দুটি স্পিডবোটে ১৫-২০ জন যুবক অস্ত্রসহ ঈশ্বরদীর সাঁড়াঘাট নদীপাড়ে এসে মিলনের সহযোগীদের ওপর হামলা ও মারধর করে। একপর্যায়ে রবিউল ইসলামকে তারা ঘাট থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

টের পেয়ে মিলন চৌধুরীর লোকজন রবিউলকে উদ্ধারের জন্য নদীর চর এলাকায় গেলে প্রতিপক্ষরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। একই সঙ্গে খবর পেয়ে টহলরত নৌ-পুলিশের সদস্যরা লালপুরের সীমানাবর্তী নদীর চর এলাকা থেকে আহত অবস্থায় রবিউলকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দিয়ে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ-পুলিশের পরিদর্শক (এসআই) জামাল বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের সাত বর্গকিলোমিটারের মধ্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ হলেও কিছু ব্যবসায়ী জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ইতিপূর্বে কয়েকবার সংঘর্ষ, ধাওয়া-ধাওয়া ও গোলাগুলি হয়। আজ একইভাবে হামলাকারীরা স্পিড বোর্ড নিয়ে এসে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়।

ঘটনা সম্পর্কে জানতে যুবলীগ নেতা মিলন চৌধুরী ও কাকনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন