অভিযান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অভিযান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে মল্লিক ফার্মেসিকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অবৈধ ওষুধ মজুত রাখা ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে ‘মল্লিক ফার্মেসি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে চার হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ ওষুধ জব্দ করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার রূপপুর বিবিসি বাজারে পাবনা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিবিসি বাজারের মল্লিক ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়। বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধ ওষুধ মজুত রাখা এবং ক্রেতাদের কাছে বেশি দাম নেওয়ার অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় ফার্মেসির মালিক তাজুল ইসলাম সোহাগকে ‘ওষুধ ও প্রসাধন সামগ্রী আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী চার হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে সেখান থেকে প্রায় ১০ হাজার টাকা মূল্যের ওষুধ জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঈশ্বরদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকার। এ সময় পাবনা ওষুধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক মিঠুন সাহাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানে ঈশ্বরদী থানা-পুলিশের একটি দল সহায়তা করে।

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকার জানান, ভোক্তা স্বার্থরক্ষা ও বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অবৈধ ওষুধ মজুত ও বাড়তি দামে বিক্রির বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

ইয়াবাসহ ঈশ্বরদীতে গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ১০০ পিস ইয়াবাসহ শাহ আলম তুষার (৩৭) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার সাহাপুর শহীদ আবুল কাশেম উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার শাহ আলম তুষার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী বাজারপাড়া এলাকার মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে।

ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সাহাপুর শহীদ আবুল কাশেম উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এক ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রির জন্য অবস্থান করছেন। খবর পেয়ে রাত দুইটার দিকে সেখানে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশের একটি দল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে শাহ আলমকে আটক করা হয়। পরে তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ হাজার টাকা।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

ঈশ্বরদীতে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ধ্বংস

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর একটি জলমহালে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ৬টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের (মোবাইল কোর্ট) মাধ্যমে জব্দ করা এসব জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বাঁশেরবাদা এলাকার একটি জলাশয়ে এই অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া জালগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ হাজার টাকা।

মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চায়না দুয়ারি জালের ফাঁস অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় মাছের পাশাপাশি রেণু পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণী এতে আটকে মারা পড়ে। এতে দেশীয় মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। তাই এই অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মী শিরিনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত জব্দ করা জালগুলো পুড়িয়ে বিনষ্ট করেন। অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করে লক্ষীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাম্মী শিরিন জানান, প্রজনন মৌসুমে পোনা ও দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে জলাশয়ে বৈধ পদ্ধতিতে মাছ ধরতে জেলেদের সচেতন করা হচ্ছে। নির্দেশ অমান্য করে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাবনায় র‍্যাবের অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র-গুলিসহ আটক ১

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা শহরের বাংলা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলভার ও দুই রাউন্ড গুলিসহ ফরিদ উদ্দিন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। আজ শুক্রবার ভোরে র‍্যাব-১২-এর পাবনা ক্যাম্পের একটি দল এ অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার ফরিদ উদ্দিন পাবনা সদর উপজেলার দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর বাংলা বাজার এলাকার ইসমাইল মৃধার ছেলে।

র‍্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে বাংলা বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‍্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ওয়াহিদুজ্জামান। এ সময় ফরিদ উদ্দিনের কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ওয়াহিদুজ্জামান জানান, পাবনা অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র‍্যাবের এই বিশেষ অভিযান নিয়মিত জারি থাকবে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দিয়ে তাকে পাবনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঈশ্বরদীতে মাদক সেবন ও বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে মাদক সেবনের অপরাধে ১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকি ৫ জনের মধ্যে একজন নিয়মিত মামলার এবং চারজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার ফতেমোহাম্মাদপুর, আমবাগান, মুলাডুলি, লক্ষ্মীকুণ্ডা ও পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ জানায়, বিশেষ অভিযান চলাকালে মাদক সেবনের অভিযোগে ১৫ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আটক ব্যক্তিদের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকারের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত অপরাধের ধরন অনুযায়ী ওই ১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। সাজা কার্যকরের জন্য তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া বাকি ৫ জনের মধ্যে একজন নিয়মিত মামলার আসামি এবং অন্য চারজন আদালতের পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি। তাঁদেরও আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক সেবন কিংবা কারবারের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

ঈশ্বরদীতে ৩০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ, জরিমানা ৫ হাজার টাকা


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পরিবেশ দূষণ রোধে নিষিদ্ধ পলিথিনের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। এ সময় প্রায় ৩০ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন রোল জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সোমবার উপজেলার বহরপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঈশ্বরদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকার। মামলার পক্ষে শুনানি করেন পরিবেশ অধিদপ্তর পাবনা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. আব্দুল মমিন। এ সময় অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ইউসুফ আলী উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে ঈশ্বরদী থানা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

আসাদুজ্জামান সরকার জানিয়েছে, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পাবনায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সুমন হক (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।

সোমবার ভোরে জেলার আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুমন ওই এলাকার মো. মোফাজ্জল হকের ছেলে।

ডিবি পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুষ্পপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সুমন পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।

পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাঁর দেহ তল্লাশি করে একটি নীল রঙের জিপার ব্যাগ থেকে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে আতাইকুলাসহ আশপাশের এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন বলে স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়।

পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। পাবনাকে মাদকমুক্ত করতে বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।’

ঈশ্বরদীতে মাদক আস্তানায় অভিযান, তিন মাদকসেবী কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে তিন মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়ে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বুধবার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকারের নেতৃত্বে দিয়ার সাহাপুর, চর সাহাপুর, নতুনহাট ও রূপপুর এলাকার বিভিন্ন মাদক আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়।

দণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া এলাকার মো. রতন (৪০), নাটোরের লালপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার মো. শাহীন (৪০) এবং ঈশ্বরদী উপজেলার ইলশামারী এলাকার মো. আলমগীর (৪৪)।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে সরকারের পক্ষে মামলার বিবরণ ও অভিযোগ তুলে ধরেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঈশ্বরদী কেন্দ্রের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শের আলম। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন এবং পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল মান্নাফ কবীর অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং ভবিষ্যতেও তা জারি থাকবে।

চাটমোহরে মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজন আটক, কারাদণ্ড

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহরে পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে তিন মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বাঘলবাড়ি গ্রামের বজলুর রশিদের ছেলে ইমন আলী (২১), পার্শ্ববর্তী তাড়াশ উপজেলার মহেশ রুহালী চারালপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে শামীম উদ্দিন (২১) এবং হান্ডিয়াল ইউনিয়নের পাটিয়াতা গ্রামের ইমন আলীর ছেলে সাব্বির হোসেন (২৬)।

পরে তাঁদের চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরীর ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউর রহমান বলেন, ‘জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় চাটমোহরকে মাদক ও জুয়ামুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

ঈশ্বরদীতে অনুমোদনহীন তেল পাম্পে অভিযান, সাড়ে ১৩ হাজার লিটার জ্বালানি জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অনুমোদনহীন একটি তেল পাম্পে অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার লিটার পেট্রল, অকটেন ও ডিজেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের পূর্ব বাঘইল এলাকায় অবস্থিত ‘যমুনা মিনি তেল পাম্প’-এ এই অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে জব্দ করা জ্বালানির মধ্যে ছিল প্রায় সাড়ে ৪ হাজার লিটার অকটেন, সাড়ে ৪ হাজার লিটার পেট্রল এবং সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পাম্পটি বন্ধ রেখে এসব জ্বালানি জমা করে রাখা হয়েছিল। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পাম্প কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন এবং জমা করা তেল সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার জানান, গোপন খবরের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় অবৈধভাবে জমিয়ে রাখা জ্বালানি জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরিমানা করা হয়। এর পাশাপাশি পাম্পে থাকা তেল ক্রেতাদের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ঈশ্বরদীতে কুরিয়ার থেকে নকল ও ভেজাল ফিড জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেডের অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ নকল ও ভেজাল ফিড জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈশ্বরদী-পাবনা আঞ্চলিক সড়কে কোম্পানিটির অফিসে অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ২০০ বস্তা এসব ফিড উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, উদ্ধারকৃত ফিডগুলো ফিস ফিড, ক্যাটল ফিড ও পোল্ট্রি ফিড হিসেবে লেবেলযুক্ত ছিল। এগুলো পাবনার আটঘড়িয়া উপজেলা থেকে বুকিং করে ঈশ্বরদীতে পাঠানো হয়েছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা মৎস্য অফিসারের সহায়তায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ফিড উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকা, মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি এবং উৎপাদনের তারিখ আগাম দেখানোর মতো বেআইনি কার্যক্রমের অভিযোগে এসব পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বাজারে নকল ও ভেজাল ফিড সরবরাহ রোধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। আজকের অভিযানেই যে ফিডগুলো জব্দ করা হয়েছে, তা প্রাণিসম্পদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানে মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে মাছ শিকারে নয় জেলে আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীতে মাছ শিকারের অভিযোগে নয় জনকে আটক করেছে লক্ষীকুন্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। ১২ অক্টোবর রোববার দিবাগত রাত ২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত পদ্মা নদীর পাকশী ও লালপুর পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন পাশ্ববর্তী নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার নূরুল্লাপুর এলাকার মৃত মজিবার রহমানের ছেলে ময়নাল মন্ডল ও জয়নুল আবেদীন, একই এলাকার আশরাফ প্রাংয়ের ছেলে ফরহাদ হোসেন, মৃত টেংরা সরদারের ছেলে মনিরুল ইসলাম ও শামীম সরদার, মুনসুর রহমানের ছেলে নাঈমুদ্দীন, রেজাউল সরদারের ছেলে রুবেল সরদার, রশিদ সরদারের ছেলে রহিম সরদার এবং মৃত কাশেম বিশ্বাসের ছেলে শহীদুল বিশ্বাস।

নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম জানান, সরকার ঘোষিত ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ইলিশ প্রজনন মৌসুমে নদীতে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুদকের হঠাৎ অভিযান, দুর্নীতি-অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হঠাৎ অভিযান চালিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির সন্ধান পেয়েছে। বুধবার  দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, প্রয়োজনীয় ওষুধের অনিয়ম এবং এক্সরে বিভাগের যন্ত্রপাতি ব্যবস্থাপনায় গোপন দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুদকের পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাধন সূত্রধরের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। শুরুতে হাসপাতালের বহির্ভাগে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি যাচাই করা হয়। এরপর গুরুতর অনিয়মের তথ্য পেয়ে হাসপাতাল ভবনে অভিযান চালানো হয়।

জানা যায়, রোগীদের খাবারের নিয়মমাফিক তালিকা মেনে খাবার দেওয়া হয় না। প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতালে মজুদ থাকলেও তা দেওয়া হয় না, ফলে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হয়। তাছাড়া, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসাররাই ওষুধের নির্দেশনা দিচ্ছেন, যা চিকিৎসার নিয়মের বিরুদ্ধে। এক্সরে বিভাগের কাজ দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকলেও সেখানে থাকা যন্ত্রপাতির সঠিক তালিকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দিতে পারেননি। পুরনো যন্ত্রগুলো কোথায় রাখা আছে এবং তাদের অবস্থা কী, সে বিষয়ে কেউ স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসা নিতে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে থাকতে হচ্ছে। শৌচাগার ব্যবহারের অযোগ্য ও রোগীদের বাজার থেকে দামি ওষুধ কিনতে হচ্ছে। তারা বলছেন, এখানে সুস্থ হওয়ার বদলে যেন অসুস্থ হয়ে ফেরার ঘটনা ঘটে।

দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে তারা উল্লেখযোগ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছেন। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ব্যবস্থায় দুই দিক থেকেই সমস্যা লক্ষ্য করা গেছে। তাদের অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।

পদ্মায় যৌথ অভিযানে অস্ত্র-মাদক ও টাকা উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে তিনটি পিস্তল, গুলি, মাদক, একটি মানুষের খুলি ও নগদ ১২ লাখ টাকার বেশি উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় দুজনকে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার  সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নদীর দিয়াড় বাহাদুরপুর এলাকায় ‘মোল্লা ট্রেডার্স’-এর বালু মহালে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশ অংশ নেয়।

আটক দুজন হলেন—মাহফুজুর রহমান সোহাগ ও আশরাফুল ইসলাম বাপ্পি।

পুলিশ জানায়, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বালুবোঝাই নৌকা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে এ অভিযান চালানো হয়। বালু মহালে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয় তিনটি বিদেশি পিস্তল, ৪৮টি গুলি, একটি মানুষের খুলি, বেশ কিছু মাদকদ্রব্য ও নগদ ১২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ঈশ্বরদী ও নাটোরের লালপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী মোল্লার চরে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ দুজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করা হয়।

লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ উদ্দিন বলেন, ‘আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

ঈশ্বরদী আধিপত্য নিয়ে সেনাবাহিনী-র‍্যাব-পুলিশের অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে জমি দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কুষ্টিয়ার ‘মুকুল বাহিনী’ আবারও শক্তি প্রদর্শন করেছে।

আজ রোববার সকালে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কয়েক দফা ফাঁকা গুলি ছুড়ে উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় তারা। এ সময় পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। শনিবার সকালেও ওই গ্রামে ফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার দুপুরের পর সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়।

তবে পুলিশ আটক ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেনি।

গুলিবিদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন, চরকুড়লিয়া গ্রামের ইয়াছিন আলীর ছেলে মো. পিঙ্গু আলী এবং হাবিবুল ইসলামের ছেলে সোয়াইব হোসেন। তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে গুলিবিদ্ধ আরও দুইজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

সরজমিনে দেখা যায়, চরকুড়ুলিয়া গ্রামজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। ভীত-সন্ত্রস্ত সাধারণ মানুষ অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলে করে চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে টহল দিচ্ছেন। বেশ কিছু বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন চারজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্র বলছে, শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে ইয়াছিন আলীর নেতৃত্বে ৩০-৩৫টি মোটরসাইকেলযোগে একদল লোক ডিগ্রির চরে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল কুষ্টিয়ার মুকুল-তরিকুল বাহিনীর অন্তত ৫০ জনের একটি দল। দুই পক্ষ কাছাকাছি এলে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

চরের একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'ডিগ্রির চর ঈশ্বরদী উপজেলার মধ্যে হলেও এর অনেক অংশ কুষ্টিয়ার সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় মুকুল বাহিনী জমিগুলো দখলে রাখতে চায়। অন্যদিকে ইয়াছিন বাহিনীও চরের দখলে মরিয়া।'

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আলম মিয়া বলেন, ‘অনেক বছর পর এমন আতঙ্ক দেখলাম। শিশুরা কাঁদছে, মানুষ রাতের বেলা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে।’

গ্রামের গৃহবধূ রোকেয়া খাতুন আতঙ্কের মধ্যে জানান, 'বাচ্চাগুলারে কোলে নিয়ে দুপুর থেকে ঘরের ভেতর লুকাইয়া ছিলাম। জানি না কখন গুলি লাগবে। এখনো ভয়ে কাঁপতেছি।'

চরকুড়ুলিয়ার কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানায়, 'শুক্রবার হঠাৎ গুলির শব্দে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এখন তো জীবন বাঁচানই মুশকিল।'

স্থানীয় দোকানি আজিজুল হক বলেন, 'দোকানপাট বন্ধ। কেউ বাজারে আসে না। দুইদিনে এক টাকাও বিক্রি হয়নি। এমন চলতে থাকলে আমরা না খেয়ে মরবো।'

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, 'আধিপত্য ও চর দখল নিয়ে গোলাগুলির খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে।'

পদ্মা নদীতে যৌথ প্রশাসনের অভিযান. দু'জনের অর্থদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: পদ্মানদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে ঈশ্বরদী ও কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে পাকশীর পদ্মানদীতে এ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভেড়ামারা সীমানায় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে দুই ব্যক্তির প্রত্যেককে ৫০ হাজার করে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

দন্ডিতরা হলেন ভেড়ামারার ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের ইদ্রিস প্রামাণিকের ছেলে আরিফুল ইসলাম এবং একই ইউনিয়নের রায়টা গ্রামের বজলু মসলদারের ছেলে রফিকুল ইসলাম। 

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকাশ কুমার কুন্ডু ও ঈশ্বরদীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) টি এম রাহসিন কবির এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে পদ্মা নদীর সাঁড়াঘাট, পাকশী ও ভেড়ামারা প্রান্তে বালু উত্তোলন বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় পাকশীর নদীপ্রান্তে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে ভেড়ামারা প্রান্তে নদীর মাঝ থেকে বালু উত্তোলনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত 'বালুবহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫ ধারা’ অনুযায়ী জড়িত দুইজনের প্রতিজনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও সর্তক করেন। ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ অর্থদণ্ড প্রদান করেন।

ঈশ্বরদীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) টি এম রাহসিন কবির বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাটিকাটা বন্ধে প্রশাসনের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। শীঘ্রই অভিযান চালানো হবে।
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন