ধর্ষণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ধর্ষণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, এলাকা ছেড়েছেন অভিযুক্ত

নির্মানাধীন পাকা বাড়িতে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করা হয় 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে এক বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার দূরসম্পর্কের চাচার বিরুদ্ধে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বেতবাড়ীয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ব্যক্তি মো. এসকেন হোসেন (৭০)। তিনি ওই গ্রামের মৃত আয়জদ্দির ছেলে এবং সম্পর্কের বিচারে ভুক্তভোগী কিশোরীর চাচা।

ভুক্তভোগী কিশোরী পরিবারসহ বেতবাড়ীয়া গ্রামে নানা বাড়িতে থাকে। তার বাবা সাইদুল ইসলাম মুলাডুলি ফার্মপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরী বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবার তাকে সব সময় ঘরের ভেতরেই রাখত। সকালে পরিবারের অগোচরে সে ঘর থেকে বের হয়। এ সময় এসকেন তাকে টেনে হিঁচড়ে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে রেখা খাতুন নামের এক প্রতিবেশী অন্য বাসিন্দাদের ডাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসকেনকে হাতেনাতে ধরলেও একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে যান।

কিশোরীর মামা আরাফাত রহমান বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে দ্রুত বাড়িতে ফিরি। তবে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান। আমরা থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রতিবেশী অভিযোগ করেন, এসকেনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক নারীঘটিত ও ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। পূর্বে গ্রাম্য সালিসে অর্থদণ্ড দিয়ে তিনি পার পেয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ঈশ্বরদীতে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে সাত বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাসুদ রানা মদন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর নানি ঈশ্বরদী থানায় লিখিত এজাহার দেওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মাসুদ রানা উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বহরপুর গ্রামের বাসিন্দা।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে অভিযুক্ত ব্যক্তির মেয়ের কাছে বেসরকারিভাবে পড়ার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে তাঁদের বাড়িতে খেলাধুলা করতে যেত।

অভিযোগে বলা হয়, গত ৩১ জুলাই সকালে শিশুটি খেলাধুলার উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে যায়। সে সময় বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে টাকার লোভ দেখিয়ে ঘরে নিয়ে নির্যাতন চালান। পরে বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখান।

পরদিন ১ আগস্ট বিকেলে শিশুটির জ্বর এলে নানি তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকের কাছে শিশুটি তার ওপর ঘটা নির্যাতনের কথা প্রকাশ করে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। হাসপাতাল থেকে স্বজনেরা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে।

শিশুটির নানি বলেন, আমার অবুঝ নাতনিকে লোভ ও ভয় দেখিয়ে এই অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করে থানায় মামলা করেছি। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান।

সাঁথিয়ায় প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, সালিশে ‘জুতাপেটা’ করে ছাড়


প্রতিনিধি  সাঁথিয়া: পাবনার সাঁথিয়ায় এক বুদ্ধি ও বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে (৩০) ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ না করে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ২০টি জুতার আঘাত করার পর বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গুরুতর অপরাধের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা এবং এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের হারিয়াকাহন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মহব্বত আলী খাঁ (৪৫) ওই গ্রামের মৃত তায়জাল খাঁর ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন ওই নারীকে বাড়িতে একা রেখে তাঁর মা পাশের বাড়িতে থাকা ছেলের কাছে যান। এ সময় সুযোগ পেয়ে মহব্বত আলী ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। ওই নারীর চিৎকার ও কান্নার শব্দ শুনে তাঁর মা ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। প্রায় চার দিন পর রোববার সন্ধ্যায় হারিয়াকাহন এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মালেক মণ্ডলের বাড়ির উঠানে সালিশ বসানো হয়।

সালিশে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিল্টন, আরশেদ আলী, আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়। পরে তাঁকে ২০টি জুতার আঘাত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সেখানেই তা কার্যকর করে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধ গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা আইনবহির্ভূত। ভুক্তভোগী পরিবারটি সহজ-সরল হওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিষয়টি সালিশে সমাধানের চেষ্টা করেছেন।

ভুক্তভোগী নারীর দুলাভাই মহরম আলী বলেন, ‘মহব্বত এর আগেও দুই জায়গায় একই ধরনের অপরাধ করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। শনিবার সালিশ হওয়ার কথা থাকলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত হয়নি। পরে রোববার সালিশে প্রথমে তাঁকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো ও সাতটি জুতার আঘাতের কথা বলা হয়। পরে ২০টি জুতার আঘাত দিয়ে বিষয়টি শেষ করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন প্রতিবন্ধী নারীর সঙ্গে এমন ঘটনার বিচার কি শুধু ২০টি জুতার আঘাত? আমরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিইনি। আমাদের কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই, আমরা সঠিক বিচার চাই। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে আইনের আশ্রয় নেব।’

সালিশে উপস্থিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে ইউপি সদস্য আরশেদ আলী বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে আইন জানি না। ওই ওয়ার্ডের সদস্যও আমি নই।’

গৌরীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব বলেন, ‘সাঁথিয়ায় একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে আমাকে ওই সালিশে ডাকা হয়। সেখানে গিয়ে দেখি দুই পক্ষের স্বজনরা বসে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন। শুনেছি, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।’

এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারীর বড় ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের ঘটনার বিচার কোনোভাবেই গ্রাম্য সালিশে করার সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইন অমান্য করে জনপ্রতিনিধিরা কেন সালিশে অংশ নিলেন, তা জানতে চেয়ারম্যানকে ডাকা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইউএনও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। এরপর তিনি থানার ওসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ভুক্তভোগী পরিবার যাতে আইন অনুযায়ী বিচার পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।

ডিএনএ প্রতিবেদনের অপেক্ষায় থমকে আছে ঈশ্বরদীর দাদি-নাতনি হত্যা মামলা

ভবানীপুর গ্রামে দাদিকে হত্যার পর নাতনিকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামী শরিফুল ইসলাম শরিফ গ্রেপ্তার ।  

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনি হত্যার ঘটনার চার মাস পেরিয়ে গেলেও ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এ কারণে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিচারপ্রক্রিয়া পিছিয়ে পড়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন নিহত কিশোরী জামিলা আক্তারের বাবা মো. জয়নাল আবেদিন।

২৮ ফেব্রুয়ারি ঈশ্বরদীতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন জয়নাল আবেদিনের মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) এবং তাঁর ১৬ বছর বয়সী মেয়ে জামিলা আক্তার। ঘটনার পর থেকে মামলার অগ্রগতির খোঁজ নিতে তিনি নিয়মিত আদালতে যাচ্ছেন।

পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তার হওয়া শরিফুল ইসলামের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, শরিফুল ইসলাম (৩৫) পেশায় ট্রাকচালক এবং নিহত জামিলার দূরসম্পর্কের চাচা।

তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে শরিফুল তাঁদের বাড়িতে যান। ওই সময় তিনি জামিলাকে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করলে জামিলা এর প্রতিবাদ করেন। পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে তিনি আবার সেই বাড়িতে যান। একপর্যায়ে সুফিয়া খাতুনকে কাঠের বাটাম দিয়ে আঘাত করেন। এরপর জামিলার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাঁকে বাড়ির পাশের একটি সরিষাক্ষেতে নিয়ে যান। সেখানে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ঘটনার পরদিন জয়নাল আবেদিনের বোন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল প্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তিনি আদালতেও নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

তবে ঘটনার চার মাস পার হলেও ডিএনএ প্রতিবেদন না পাওয়ায় অভিযোগপত্র জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন সময়ে পাবনা–ঈশ্বরদী মহাসড়কে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত জামিলার বাবা মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। আমার মা আর মেয়েকে হারিয়েছি। আমাকে বলা হয়েছিল তিন মাসের মধ্যে মামলার কাজ শেষ হবে। কিন্তু চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো চার্জশিট দেওয়া হয়নি। আমি দ্রুত বিচার চাই।’

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান জানান, মামলার মূল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন। তদন্তের প্রায় সব কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু ডিএনএ প্রতিবেদনের অপেক্ষা। প্রতিবেদন হাতে পেলেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।

পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জ মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, তদন্তের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। এরপরই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, সে লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে।

ধর্ষণের অভিযোগে ক্ষোভ, সাঁথিয়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার বিলকুলা গ্রামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

রোববার দুপুরে বিলকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং শত শত এলাকাবাসী অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘোরে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সমাজে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়বে। তাঁরা ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিলকুলা গ্রামের জুয়েল ও মামুন নামে দুই যুবক ওই শিক্ষার্থীকে তাঁর বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যান। পরে পাশের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় মামলা করেছেন।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, ‘মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে। ঘটনার পর থেকেই জুয়েল ও মামুন পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।’

ঈশ্বরদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ: ধামাচাপা দিতে পরিবারকে মারধর ও উচ্ছেদের হুমকি


নিজস্ব প্রতিবেদন:  ঈশ্বরদীতে ১২ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে মারধর ও এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়েছে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। গত ২৯ মার্চ দুপুরে পৌর শহরের কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. আব্দুল (৫৫)। তিনি স্থানীয় একটি মুরগির খামারের শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে একটি নির্মাণাধীন ঘরে ওই কিশোরীকে একা পেয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করেন আব্দুল। এ সময় ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে বিপ্লব নামের এক প্রতিবেশী এগিয়ে যান এবং আব্দুলকে হাতেনাতে ধরেন।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় প্রভাবশালী রফিকুল ইসলাম ও শাহজাহান বাবুর্চিসহ কয়েকজন অভিযুক্তের পক্ষ নেন। তাঁরা ঘটনাটি গোপন রাখতে ওই কিশোরীকে মারধর করে চাপ সৃষ্টি করেন। কিশোরীর মা কাজ থেকে ফিরে এর প্রতিবাদ করলে তাঁকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

কিশোরীর বাবা জানান, রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী তাঁর বাড়িতে গিয়ে তিন লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন। তিনি এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁকে সপরিবারে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে তিনি ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এদিকে অভিযুক্তকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে রফিকুলের শ্বশুর আমিন হোসেন জানান, তাঁর জামাতা আব্দুলকে নিজের বাড়িতে এনে রেখেছিলেন এবং পরে রাতে নিয়ে গেছেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়রা অভিযুক্তকে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ায় তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারকে মারধর ও হুমকির বিষয়টি তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিয়ের আশ্বাসে প্রেম, শেষে ধর্ষণ: ঈশ্বরদীতে যুবক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিয়ের আশ্বাসে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে প্রেমিক একাধিকবার তাকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে তরুণী গর্ভবতী হলে বিয়ে তো করেনইনি, উল্টো সন্তান নষ্ট করতে চাপ দেন প্রেমিক। শেষ পর্যন্ত সেই প্রেমিকের বিরুদ্ধেই ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী। মামলার পর অভিযুক্ত যুবক শিমুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া শিমুল সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর বালুরখাদ মোড় এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে পড়ার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিমুলের সঙ্গে এক তরুণীর পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় এবং তারা বিভিন্ন জায়গায় একসঙ্গে সময় কাটান। এই ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে শিমুল একাধিকবার তরুণীকে শারীরিকভাবে ব্যবহার করেন। 

গত বছরের ২৫ নভেম্বর মুলাডুলির একটি পার্কে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শিমুল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। প্রায় এক মাস পর তরুণী গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে শিমুলকে জানান। কিন্তু শিমুল গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন এবং জানান, সন্তান রেখে দিলে তিনি বিয়ে করবেন না। বাধ্য হয়ে তরুণী শিমুলের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন। কিন্তু তার পরিবার বিয়েতে রাজি না হয়ে উল্টো অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে তরুণী ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিমুল ভুক্তভোগীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।

ঈশ্বরদীতে ধর্ষণের শিকার ৭ বছরের শিশু

ছবি: প্রতীকী
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে সাত বছরের এক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাবু (৪৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করা হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র জানায়, ওই শিশুর মা একজন কর্মজীবী নারী। তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগে সিরাজুল ইসলাম মোল্লা মোটরসাইকেলে বেড়ানোর লোভ দেখিয়ে একটি কারখানার ভেতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

স্থানীয়দের সূত্র জানায়, সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী শিশুটির মা ফিরে এলে ঘটনা জানতে পারেন। তিনি বাড়িওয়ালা সিরাজুলের বড় ভাই আসাদুলের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ দেন। তখন আসাদুল ও তার স্ত্রী ভুক্তভোগীর মাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ওই রাতেই বাড়ি থেকে বের করে দেন।

এ বিষয়ে আসাদুলের স্ত্রী বলেন, রূপপুর ফাঁড়ির পুলিশ মেয়েটিকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসা করেন বাচ্চাটিকে চেনেন নাকি। তখন মেয়েটি দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে। তখন পুলিশ মেয়েটিকে আমার জিম্মায় রেখে চলে যায়। ধর্ষণের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

মনিরুল ইসলাম জানান, শিশুর মা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। 

ঈশ্বরদীতে গৃহবধুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ছেলেকে পড়ানোর কথা বলে মুঠোফোনে বিদেশী ভাষা শিক্ষা কেন্দ্রে ডেকে এনে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ শুক্রবার ভোরে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক নাহিয়ান ইসলাম নাহিদকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে।

নাহিয়ান ইসলামের বাড়ি শহরের পূর্বটেংরী ঈদগাহ সড়কে। সে ওই এলাকার শাহ নেওয়াজের ছেলে। গেপ্তারের পর তাঁকে গতকাল দুপুরে আদালতের মাধ্যমে পাবনা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ আগষ্ট বিকেলে শহরের শেরশাহ রোডে ‘এ্যাম্বিশন কোরিয়ান ল্যাংগুয়েজ সেন্টার’ নামে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধু তাঁর স্বামীসহ পরিবারের কয়েক সদস্যদের সঙ্গে ঈশ্বরদী থানায় এসে লিখিত এজাহার দাখিল করেন। এতে ‘এ্যাম্বিশন কোরিয়ান ল্যাংগুয়েজ সেন্টারের’ মালিক মোঃ নাহিয়ান ইসলাম নাহিদকে প্রধান আসামী করে তিনজনের নামে গনধর্ষনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলার সূত্রে পুলিশ জানায়, শহরের মশুরিয়া পাড়ায় ওই গৃহবধুর বাড়ি। তাঁর একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পরিচয় সূত্রে ওই গৃহবধু তাঁর ছেলেকে পড়ানোর জন্য নাহিয়ান ইসলাম নাহিদের কাছে একজন শিক্ষক খঁুজে দিতে বলেন। এরই সূত্র ধরে গত ২৯ আগষ্ট বিকেলে ল্যাংগুয়েজ সেন্টারের মালিক নাহিয়ান মুঠোফোনে ছেলেকে পড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করার জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠানে আসতে বলেন। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে গৃহবধু ওই প্রতিষ্ঠানে ভিতরে গেলে নাহিয়ানসহ অপরিচিত আরও দুইব্যক্তিকে তিনি বসে থাকতে দেখেন। গৃহবধু ওই কক্ষে ঢোকার পরপরই তিন যুবক প্রতিষ্ঠানটির দরজা বন্ধ করে দিয়ে গৃহবধুর মুখ চেপে ধরে এবং তিনজন পালাক্রমে ধর্ষন করে। ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় তিনি বাসায় ফিরে মা ও স্বামীকে বিস্তারিত খুলে বলেন। পরিবারের সকলের সঙ্গে আলোচনা করে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঈশ্বরদী থানায় এসে নাহিয়ানসহ তিনজন ব্যক্তির নামে মামলা দায়ের করেন।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, গভীর রাতে মামলাটি থানায় নথিভূক্ত করার পরপরই ধর্ষন মামলার প্রধান আসামী নাহিয়ানকে তাঁর বাড়ি থেকে গেপ্তার করা হয়। গেপ্তারের পর সে প্রাথমিক কিছু তথ্য দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার নাহিয়ানকে পাবনা আদালতে পাঠানো হয়। এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। অপরদিকে গৃহবধুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর গতকাল গৃহবধুকে পাবনার ওয়ান স্টপ ক্রাইসেস সেন্টারে রাখা হয়েছে।

ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লী প্রকল্প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লী প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার ওবাইদুর রহমান জিলানীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই নারীর ভাষ্য, ফেসবুকের মাধ্যমে বন্ধুত্ত হয় তাঁদের। একপর্যায়ে তাঁদের প্রথম দেখা হয় পাবনার টেবুনিয়াতে। এরপর দেখা করার জন্য ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লী প্রকল্পে নিয়ে আসেন জিলানী৷ সেখানে নিজ অফিস কক্ষে জোর করে ধর্ষণ করেন। এরপর বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে সেখান থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। পরবর্তীতে ঢাকার বিভিন্ন হোটেলসহ তার কয়েকজন আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে সেখানে তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এক পর্যায়ে টালবাহানা করতে থাকে।

ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এ সকল বিষয়ে জিলানীর বাবা খন্দকার আব্দুল মান্নান মুকুলকে জানালে তিনি ছেলের সাথে বিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্ত পরবর্তীতে জানা যায় আরেকজন মেয়ে  সাথেও আমার মতোই দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ও শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে। তাকেও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে টালবাহানা দেখিয়ে আসছে।

এ বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মান্নান মুকুল বলেন, আমি আমার ছেলের সাথে কথা বলেছি। আমার ছেলের সাথে দুইটি মেয়ের সম্পর্ক আছে বলে আমি জেনেছি। এ কারণে আমি আমার ছেলেকে বলেছি যে কোনো একটি মেয়েকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে জানাও। দুইজনের সাথে বিয়ে দেওয়া তো সম্ভব না৷

এ বিষয়ে ওবাইদুর রহমান জিলানীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, এ ঘটনায় কেউ থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন