কৃষক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কৃষক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

আলুর দাম না বাড়ায় বিপাকে ঈশ্বরদীর কৃষক-ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কম দামে কিনে শত শত মণ আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। গত মার্চ মাস থেকে সংরক্ষিত ওই আলু এখন তাদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। লাভের আশায় রাখা আলু বিক্রি করতে গিয়ে এখন লাখ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। হিমাগারে সংরক্ষণের সময় ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু বাজারে দাম বাড়ার কোনো লক্ষণ নেই। এতে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন সংরক্ষণকারীরা।

জানা গেছে, গত বছর দেশে আলুর উৎপাদন হয়েছিল চাহিদার দ্বিগুণেরও বেশি। উৎপাদন বেশি হওয়ায় তখন আলুর দাম ছিল একেবারেই কম। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে দাম বাড়বে- এ আশায় আলু কম দামে কিনে হিমাগারে রাখেন। কিন্তু এ বছর বাজারে দাম বৃদ্ধি না পাওয়ায় পরিস্থিতি উল্টো হয়েছে। অনেকেই জানাচ্ছেন, এবার আলুর দাম এতটাই কম যে, সংরক্ষিত আলু বেচে মূলধনও উঠবে না।

ঈশ্বরদীতে রয়েছে ‘আলহাজ আহম্মদ আলী হিমাগার’। যার ধারণক্ষমতা ৬৫ হাজার বস্তা বা প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টন। ঈশ্বরদীতে বাণিজ্যিকভাবে আলু উৎপাদন কম হলেও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আলু এনে সংরক্ষণ করেন।

হিমাগারটি ঘুরে দেখা যায়, হিমাগার ভর্তি হাজার হাজার বস্তা আলু। শ্রমিকরা ব্যস্ত বাছাই ও স্থানান্তরের কাজে। একদল নারী শ্রমিক আলু পরিষ্কার করছেন। হিমাগারের মালিক রুহুল ইসলাম মন্টু বলেন, ‘আমাদের হিমাগারের ধারণক্ষমতা ৬৫ হাজার বস্তা। এবার রাখা হয়েছে ৬০ হাজার বস্তা। প্রতি বছর এই সময়ের মধ্যে চার ভাগের তিন ভাগ আলু বেচা হয়ে যায়। কিন্তু এবার অর্ধেকও হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘৬০ হাজার বস্তার মধ্যে এখনো ৪২ হাজার বস্তা আলু হিমাগারে রয়েছে। মাত্র ১৮ হাজার বস্তা বের হয়েছে। এবারের মতো এমন পরিস্থিতিতে আমরা কখনো পড়িনি। কেউই আগে লোকসানে পড়েনি। কিন্তু এবার অনেকে আলু বেচে বিনিয়োগের অর্ধেক টাকাও ফিরে পাবেন না।’

রুহুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ঈশ্বরদীতে আলু উৎপাদন কম হলেও ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, নাটোর, রাজশাহী ও বাঘা এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এখানে আলু সংরক্ষণ করে থাকেন। এখন তারা সরকার থেকে কোনো সুসংবাদের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিছুদিন আগে সরকার হিমাগার গেটে প্রতি কেজি আলুর দাম ২২ টাকা নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করেছিল। কিন্তু বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।’

স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, তিনি চার গাড়ি আলু কিনে ঈশ্বরদীর হিমাগারে রেখেছিলেন। আশা ছিল, ‘গতবারের মতো ৮০ টাকা না হলেও অন্তত ৪০ টাকা কেজি পাওয়া যাবে।’ কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। গত সপ্তাহে তাকে লোকসানে এক গাড়ি আলু বেচতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দাম না বাড়লে বাকি আলুও লোকসানে বেচতে হবে। এতে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’

হিমাগার মালিকদের আশঙ্কা, নির্ধারিত সময়ের (নভেম্বর) পরে আলু রাখা সম্ভব হবে না। তখন সবাই কম দামে বেচতে বাধ্য হবেন। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি হিমাগার মালিকরাও বিপাকে পড়বেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে চাহিদার ঘাটতি এবং রপ্তানির অনিশ্চয়তার কারণে আলুর দাম স্থিতিশীল হতে পারছে না। সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর না হলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়বে।

অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, আলু উৎপাদনে পরিশ্রম ও খরচ অনেক বেশি। তাই বিক্রির সময় সঠিক দাম না পেলে চাষে উৎসাহ কমে যায়। তাদের দাবি, সরকার যেন রপ্তানি বাড়ায় এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীল দাম নিশ্চিত করে।

ঈশ্বরদীতে কৃষকের এক হাজার লাউগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে সুমন আলী নামের এক কৃষকের লাউ বাগানে হামলা চালিয়ে এক হাজার লাউগাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতের কোনো এক সময়, উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে।

ক্ষতিগ্রস্ত সুমন আলী জানান, পাবনা চিনিকলের পশ্চিম পাশে তিন বিঘা জমিতে তিনি লাউয়ের চাষ করেছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই ফলন বাজারে বিক্রি উপযোগী হতো। কিন্তু তার আগেই কে বা কারা রাতের আঁধারে পুরো বাগান নষ্ট করে দিয়েছে।

সুমনের ভাষায়, ‘প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে মাঠে গিয়ে দেখি বাগানের সব লাউগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। প্রতিটি গাছের গোড়া কাটা, পাতাগুলো শুকিয়ে মাটিতে লটকে আছে। মুহূর্তেই আমার সব স্বপ্ন ভেঙে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘লাউ বিক্রি করে সংসার চালানো, ঋণ শোধ আর ছেলেমেয়ের জন্য কিছু করার পরিকল্পনা ছিল। এখন আমি নিঃস্ব।’

সুমনের বাবা ইয়ার আলী বলেন, ‘এতে আমাদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তবে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ইতোমধ্যে দুইজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা হবে।’

ঈশ্বরদীতে বালু উত্তোলনকে ঘিরে উত্তেজনা, কৃষকদের ওপর হামলা–গরু লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর চর এলাকায় বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার জেরে আটজন কৃষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের সময় কৃষকদের দুটি গরু লুট করে নিয়ে গিয়ে জবাই করে খাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে ।

এ ঘটনা ঘটে রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আরমবাড়িয়া পদ্মা চরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় ইঞ্জিনিয়ার কাকন বাহিনী বালু উত্তোলনের দখল নিতে গিয়ে সাধারণ কৃষকদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন।

আহত কৃষকদের মধ্যে রয়েছেন—সাঁড়া ঝাউদিয়া এলাকার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে আনছার মাঝি (৬৭), তাঁর ছেলে মজনু (৩৫), মাঝদিয়া এলাকার সাদেকের ছেলে মাছিদুল (৩৬) ও মজিদুল (৪০), দুলাল খাঁর ছেলে লিটন (৪০), এবং সোহান, আরাফাত ও এজাজুল। আহতদের মধ্যে লিটনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহত কৃষকরা জানান, পদ্মা নদীতে জেগে ওঠা নিজেদের এবং লিজ নেওয়া জমিতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। নদী থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুলতান আলী বিশ্বাস টনি ও ভেড়ামারার বাহাদুরপুর এলাকার ইঞ্জিনিয়ার কাকনের মধ্যে বিরোধ চলছে। এর জের ধরেই চর এলাকায় গোলাগুলি ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

আহত মাছিদুল বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে জড়িত না। আমাদের জমিতে চাষ করতে গেলে কাকনের লোকজন আমাদের মারধর করে। এমনকি আমাদের দুটি গরু নিয়ে গিয়ে জবাই করে খেয়ে ফেলে।’

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সাহিদুল ইসলাম শিশির বলেন, ‘আহতদের মধ্যে লিটনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে রামেকে পাঠানো হয়েছে।’

লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ওসি এমরান মাহমুদ তুহিন বলেন, ‘ঘটনার কথা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে যুবদল নেতা সুলতান আলী বিশ্বাস টনি ও কাকনের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

ঈশ্বরদীতে কৃষকদের জন্য দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরদীতে কৃষকদের জন্য দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে। রোববার উপজেলা কৃষক প্রশিক্ষণ মিলনায়তনে এর আয়োজন করা হয়।

কর্মশালার প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা রানী সরকার। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, 'ভালো ফলনের জন্য সঠিক কৃষি পদ্ধতি জানা জরুরি। এতে কৃষকদের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি আয়ও বাড়বে।'

এ সময় অন্যদের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহমুদা মোতমাইন্ন, কৃষিবিদ প্রহল্লাদ কুমার কুন্ডু এবং কৃষিবিদ মো. ধীমান তানভীর উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণে ৫০ জন কৃষক, কৃষাণী ও উদ্যোক্তা অংশ নেন। তাদের হাতে-কলমে সঠিক কৃষি চর্চা, এর সুবিধা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি, ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিকার, খামারের সঠিক পরিকল্পনা এবং কৃষি খামারের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ঈশ্বরদীতে প্রথমবারেই মৌরি চাষে নতুন স্বপ্ন বুনছে কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে এবারই প্রথমবারের মতো চাষ হলো মৌরি মসলা। উপজেলার ইস্তা গ্রামের কৃষক আনিসুর রহমান নিজ উদ্যোগে এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ১০ শতক জমিতে এই মৌরি আবাদ করেন। রোববার সরজমিনে দেখা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এই আবাদ হয়েছে। জমির পাশে একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে। তাতে মৌরির জাত, কৃষকের নাম, জমির পরিমাণসহ প্রদর্শনীর তথ্য দেওয়া আছে।

জানতে চাইলে আনিসুর রহমান জানান, ‘এই এলাকায় আগে কখনো মৌরি চাষ হয়নি। নতুন কিছু করার আগ্রহ থেকেই শুরু করি। কৃষি বিভাগ বারী-১ জাতের বীজ ও পরামর্শ দিয়েছে। ডিসেম্বরের শুরুতে বপন করি। এখন পর্যন্ত গাছের বৃদ্ধি ভালো। আশা করছি ফলনও ভালো হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খরচ হয়েছে চার-পাঁচ হাজার টাকার মতো। এখনো কাটা হয়নি, তাই লাভের হিসাব মেলানো যাচ্ছে না। তবে যেভাবে গাছ বেড়েছে, তাতে মনে হচ্ছে এই মসলার সম্ভাবনা অনেক। 

যদি লাভজনক হয়, আগামীতে আরও বড় পরিসরে আবাদ করব।’ স্থানীয় আরেক কৃষক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘আমি আগে কখনো ভাবিনি এই জমিতে মৌরি চাষ করা যাবে। আনিসুর শুরু করার পর আমরা প্রতিদিন মাঠে গিয়ে দেখেছি কীভাবে গাছ বড় হচ্ছে। ফলন দেখে উৎসাহ পাচ্ছি আমরাও। যদি ভালো দাম পাওয়া যায়, তাহলে আমি নিজেও আগামী মৌসুমে চাষ করতে আগ্রহী।’

প্রদর্শনী পর্যবেক্ষণে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুজন কুমার রায় বলেন, ‘বীজ ও সার প্রকল্প থেকে দেওয়া হয়েছে। মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, ফলন আশানুরূপ হবে। প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৫ মণ ফলন পাওয়া যেতে পারে।’ ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার জানান, ‘দেশে মসলার চাহিদা অনেক। তাই আমদানিতে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়। সেই ব্যয় কমাতেই স্থানীয় পর্যায়ে মসলা উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে ঈশ্বরদীতে কালোজিরা, ধনিয়া ও তেজপাতার আবাদ হচ্ছে। এবার শুরু হলো মৌরি চাষ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বারী-১ জাতটি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। আমরা সেই জাতের বীজ সরবরাহ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে, কৃষকরা আগ্রহী হলে আগামীতে এর আবাদ আরও বাড়ানো হবে।’

ঈশ্বরদীতে কৃষকদের মধ্যে বীজ ও সার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলা কৃষি কার্যালয় চত্বরে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।   

এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েব আলী বিশ্বাস। তার বক্তব্যে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই ’৭১ সালের পরেই কৃষকদের কথা চিন্তা করেছেন। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে তিনি কাজ করে গেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজও কৃষি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় থাকে, তখনই দেশের কৃষক ও গণমানুষের কথা চিন্তা করে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকারই একমাত্র কৃষকদের কথা চিন্তা করে বিনামূল্যে সার বীজ দিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় ভর্তুকি মূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতিসহ নানান সুবিধা দিচ্ছে। এতে এটাই প্রমাণ হয়, আওয়ামী লীগ সরকার জনদরদি সরকার এবং গরীব দুঃখী মানুষের সরকার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকারের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন- উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান, আতিয়া ফেরদৌস কাকলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবীর কুমার দাশ,  ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কিরণ ও  উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ন আহবায়ক মুরাদ আলী মালিথা।

কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের ৪০০ কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি মাষকলাইয়ের বীজ, ১০ কেজি ডিএফপি সার ও ৫ কেজি করে এমওপি সার বিতরণ করা হয়। 

ঈশ্বরদীর চর কুরুলিয়ায় রাতে কাটা হলো ১৫০০ কলাগাছ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে রাতের অন্ধকারে এক কৃষকের ১৫০০ কলা গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চর কুরুলিয়া দক্ষিণপাড়া মাঠের জমিতে এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের দাবি, পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা গত রাতের কোনো একসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কলাবাগানের গাছগুলো কেটে ফেলেছে। এতে তার পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনার পরদিন বুধবার দুপুরে চর কুরুলিয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত চাষি আলাউদ্দিন মালিথার পরিবারের পক্ষ থেকে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। তবে পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈশ্বরদী শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে লক্ষীকুন্ডার চর কুরুলিয়া গ্রাম। এ গ্রামের শাখা নদী পেরিয়ে বিরান মাঠে আলাউদ্দিন মালিথার কলাবাগান। এখানেই তিনি পাঁচবিঘা জমি ভাড়া নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে কলার চাষ করেছিলেন। কলা চাষাবাদে তাঁর আরও দেড় টাকা খরচ হয়। এছাড়া রয়েছে বাগান পরিচর্যার খরচ। কিন্তু প্রতিপক্ষের 'শত্রুরা' গোপনে কলাগাছগুলো কেটে নষ্ট করায় তিনি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

মামলার এজাহার ও স্থায়ীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চর কুরুলিয়া গ্রামের জমিতে এবারই প্রথম কলার আবাদ করেন কৃষক আলাউদ্দিন।।

শরীফ মালিথা নামে তাঁর এক ভাই জানান, পাঁচ মাস আগে এক ব্যক্তির জমি ভাড়া নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই আলাউদ্দিন সেখানে কলার চাষ করেন। কিন্তু পূর্বশত্রুতার জেরে তার প্রতিপক্ষের লোকজন রাতের অন্ধকারে কলাগাছ কেটে সাবার করে দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আলাউদ্দিন মালিথা বলেন, ‘লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে বুধবার সকালে গিয়ে দেখি বাগানের ১ হাজার ৫০০ কলাগাছ গোড়া ও মাঝ থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। গাছগুলো নিচে পড়ে আছে। এসব কলাগাছে থোড় আসা শুরু করেছিল। তাঁর ধারণা, শত্রুতাবশত কেউ এ কাজ করেছেন। সাধারণ মানুষ এমন জঘন্য অপরাধ করবে না। তিনি এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় লিখিত এজহার জমা দিয়েছেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অরবিন্দ সরকার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। এর আগে ঘটনাটি জানার পরপরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, তবে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হবে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন