কৃষক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কৃষক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে বিনামূল্যে কৃষি প্রণোদনা পেলেন ৩ হাজার ২২০ কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঈশ্বরদীতে খরিপ মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন ও উপকরণ বিতরণ করা হয়।  

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩ হাজার ২২০ জন কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও বিভিন্ন সবজির বীজ, রাসায়নিক ও জৈব সার, বালাইনাশক এবং লেবুর চারা বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে উপজেলার ১ হাজার ৬২ দশমিক ৬ একর জমিতে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন।  

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কর্মসূচির আওতায় ৫০০ জন কৃষককে প্রতিজনে ১ কেজি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি, ১০ কেজি এমওপি সার, ১ কেজি বালাইনাশক ও ২ কেজি পলিথিন দেওয়া হয়। ২০ জন কৃষককে দেওয়া হয় ৫টি করে উচ্চফলনশীল লেবুর চারা ও ৩০ কেজি জৈব সার। এছাড়া বসতবাড়িতে সবজি চাষের জন্য ২ হাজার ৭০০ জন কৃষককে বিভিন্ন শাকসবজির বীজ এবং ১৫ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার দেওয়া হয়।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা সুবিধাভোগী কৃষকদের হাতে প্রণোদনার উপকরণ তুলে দেন।

অনাবৃষ্টিতে থমকে আছে ঈশ্বরদীর আমন আবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলছে শ্রাবণের ভরা বর্ষা। অথচ ঈশ্বরদী অঞ্চলের ফসলের মাঠে এখনও সেই চিরচেনা রূপ নেই। খালের পানিতে টইটম্বুর থাকার কথা যে জমিগুলো, সেগুলোর বড় অংশজুড়ে এখন কৃত্রিম উপায়ে সেচ দেওয়া হচ্ছে। আমন মৌসুমে অনাবৃষ্টির এমন দৃশ্য গত কয়েক বছর ধরেই দেখছেন এ এলাকার কৃষকেরা।

একসময় ঈশ্বরদীর আকাশে মেঘ দেখা দিলেই কৃষকের মুখে হাসি ফুটত। কিন্তু সেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি এখন ক্রমেই দুর্লভ হয়ে উঠছে। বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার পাশাপাশি তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বিরূপ প্রভাব পড়ছে পুরো গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিতে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনাবৃষ্টির কারণে সময়মতো জমি তৈরি ও চারা রোপণ করতে পারছেন না কৃষকেরা। অনেক স্থানে সেচযন্ত্রের সাহায্যে কোনোক্রমে কাদা তৈরি করে চারা লাগানো হচ্ছে। এতে চাষিদের উৎপাদন খরচ অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আগস্টের শুরু পর্যন্ত আবাদ হয়েছে মাত্র ২১০ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার সাড়ে ৫ শতাংশেরও কম। অবশ্য কৃষি বিভাগ জানায়, অধিকাংশ জমিতে পাট থাকায় এবং জলাশয়ে পানি না থাকায় কৃষকেরা সময়মতো পাট কাটতে ও পচাতে পারছেন না। পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে পাট কেটে ধান লাগানো সম্ভব হলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশা প্রকাশ করছে দপ্তরটি।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে ৩১৮ দশমিক ০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে বৃষ্টি হয়েছিল ৩৯৪ দশমিক ৭ মিলিমিটার। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার জুলাইয়ে প্রায় সাড়ে ৭৬ মিলিমিটার কম বৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার সলিমপুর ও সাঁড়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, অনাবৃষ্টির কারণে এবার বিদ্যুৎ কিংবা জ্বালানি চালিত যন্ত্র দিয়ে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। ডিজেল, সার, কীটনাশক ও অতিরিক্ত শ্রমিকের মজুরি মেটাতে গিয়ে আমনের উৎপাদন ব্যয় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু ধান কাটার পর উপযুক্ত দাম পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয়ে রয়েছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রহল্লাদ কুমার কুন্ডু জানান, আগস্টের শেষ দিক পর্যন্ত আমন চারা রোপণের সময় রয়েছে। বৃষ্টি শুরু হলে দ্রুতই লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। সাময়িকভাবে কৃষকদের ভূগর্ভস্থ পানি তুলে চারা রোপণ ও জমি প্রস্তুত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে শুরু হলো কৃষক স্মার্ট কার্ডের তথ্য সংগ্রহ, মিলবে সহজ কৃষিসেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষকদের কাছে সরকারি সেবা সহজ ও কার্যকর করতে ঈশ্বরদীতে ২য় পর্যায়ের ‘কৃষক স্মার্ট কার্ড’ কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। গত পহেলা বৈশাখে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর মাঠপর্যায়ে কৃষকদের ডাটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। ধাপে ধাপে পুরো দেশেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈশ্বরদী উপজেলার আরামবাড়িয়া কৃষি ব্লকে ১৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত।

এ কার্যক্রমের আওতায় স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জমির তথ্য ও চাষাবাদ সংক্রান্ত বিষয়াদি সংগ্রহ করছেন। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীম, মো. রওশন আলম, মো. মশিউর রহমান, মো. সুজন ইসলাম, মো. নয়ন খান ও মো. ইমরান খান সাগর।

আরামবাড়িয়া ব্লকের গোপালপুর গ্রামের কৃষক মো. মাহাবুল প্রামাণিক বলেন, স্মার্ট কার্ড পেলে আমাদের খুব সুবিধা হবে। সরকারি বীজ-সার, কৃষি ঋণ ও বিভিন্ন প্রণোদনা পেতে আর কোনো হয়রানির শিকার হতে হবে না।

কৃষি দপ্তর জানায়, প্রতিটি কৃষকের তথ্য যাচাই করে ডিজিটাল ডাটাবেজে যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো সরকারি সহায়তা দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমটি মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি করছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রহল্লাদ কুমার কুণ্ডু এবং উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. একলাছুর রহমান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ঈশ্বরদীর প্রতিটি প্রকৃত কৃষকের সঠিক ডিজিটাল পরিচয় নিশ্চিত করা। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কৃষকবান্ধব হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ভুল তথ্য দিয়ে সহায়তার জন্য ঈশ্বরদীর কৃষকদের অনুরোধ জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস।

পানি সংকটে ঈশ্বরদীর পাটচাষিদের দুর্ভোগ, জাগ দিতে পারছেন না কাটা পাট

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্ষার মৌসুমেও প্রয়োজনীয় পানি ও উপযুক্ত জলাশয়ের অভাবে কাটা পাট জাগ  দিতে পারছেন না ঈশ্বরদীর পাটচাষিরা। এ কারণে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে প্রধানত তোষা ও দেশি জাতের পাট চাষ হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩৫৯ হেক্টর। তবে গত বছর পাটের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বেড়ে যায়। ফলে এবার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ বিনামূল্যে উন্নত জাতের পাটবীজ ও সার বিতরণ করেছে।

উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারী গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘এবার ১০ বিঘা জমিতে তোষা পাট চাষ করেছি। চার বিঘার পাট ইতোমধ্যে কেটেছি। কিন্তু জাগ দেওয়ার মতো কোনো জায়গা পাচ্ছি না। পানি না থাকায় পাট নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।’

অরণকোলা এলাকার কৃষক মো. মিজানুর বলেন, ‘আগে গ্রামের বিভিন্ন ডোবা-খালে সহজেই পাট জাগ দেওয়া যেত। এখন অধিকাংশ জায়গা মাছ চাষের পুকুরে রূপ নিয়েছে। ফলে পাট পচানোর মতো জলাশয় খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে।’

দিনমজুর কাদের আলী জানান, পাট কাটার পর কয়েক দিন জমিতে স্তূপ করে রেখে পাতা ঝরানো হয়। এরপর পানিতে ডুবিয়ে জাগ দিতে হয়। কিন্তু পানি না থাকায় কাটা পাট জমিতেই পড়ে আছে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও জাগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, ‘এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছি। বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে কৃষকরা লাভবান হবেন। কৃষকদের উৎসাহ দিতে ১০০ জন কৃষকের মধ্যে উন্নত জাতের পাটবীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাছ চাষের পুকুরে পাট জাগ দেওয়া উপযুক্ত নয়। তাই কৃষকদের বাড়ির আশপাশের পরিত্যক্ত বা বুজে যাওয়া পুকুর এবং সরকারের খনন করা খালগুলো ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এসব জলাশয় পাট পচানোর জন্য তুলনামূলকভাবে উপযোগী।’ 

ঈশ্বরদীতে বাড়ছে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চাষ, লাভের আশায় কৃষকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে একসময় পেঁয়াজের চাষ তেমন ছিল না। তবে কৃষি বিভাগের তৎপরতায় ধীরে ধীরে বিঘা থেকে হেক্টরে পৌঁছেছে এ মসলাজাতীয় ফসলের চাষ। পৌর এলাকাসহ উপজেলার সাতটি ইউনিয়নেই এখন কমবেশি পেঁয়াজ চাষ হচ্ছে।

শীতকালীন মৌসুমের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালেও বাড়ছে পেঁয়াজের চাষ। উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মৃধা ও আবুল বাশার আগাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষ করে লাভের আশা করছেন। তাঁদের দেখে অন্য কৃষকেরাও এ ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৬-৭ বছর আগে পেঁয়াজের চাষ শুরু হয়। শুরুতে কৃষকদের আগ্রহ কম থাকলেও লাভজনক হওয়ায় এখন তাঁরা পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন। দিন দিন বাড়ছে চাষের জমির পরিমাণও। বর্তমানে উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হচ্ছে।

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চাষ আষাঢ় মাসে শুরু হলেও আব্দুর রাজ্জাক ও আবুল বাশার দেড় মাস আগেই কৃষি বিভাগের দেওয়া নাসিক-৫৩ জাতের পেঁয়াজ চাষ শুরু করেন। তাঁদের দাবি, বৃষ্টি না থাকা এবং প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও আগাম গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে।

লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক আব্দুর রাজ্জাক মৃধা তাঁর দুই বিঘা জমির পেঁয়াজখেত পরিদর্শন করছেন। আর দুই সপ্তাহ পর তিনি পেঁয়াজ তুলবেন।

আব্দুর রাজ্জাক মৃধা বলেন, ‘ঈশ্বরদী কৃষি অফিস থেকে সরকারি সহায়তার আওতায় আমাকে বিনা মূল্যে নাসিক-৫৩ জাতের পেঁয়াজের বীজ দেওয়া হয়। মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী বীজ থেকে চারা তৈরি করে জমিতে রোপণ করি। প্রথমে মনে হয়েছিল ফলন ভালো হবে না। কিন্তু এখন জমির পেঁয়াজ দেখে মনে হচ্ছে লোকসান নয়, লাভই হবে।’

তিনি জানান, সেচ ও শ্রমিক খরচসহ দুই বিঘা জমিতে তাঁর ব্যয় হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। আর পেঁয়াজ বিক্রি হবে প্রায় ৭০ হাজার টাকার। এতে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

একই কথা জানান বিলকেদা এলাকার কৃষক আবুল বাশার। তিনি বলেন, ‘এখন প্রচণ্ড গরম, বৃষ্টি নেই। গরম কম থাকলে এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টি হলে পেঁয়াজের ফলন আরও ভালো হতো।’

লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়ন ভাগের দায়িত্বে থাকা মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, ঈশ্বরদীতে আগে পেঁয়াজের চাষ তেমন ছিল না। এখন কৃষকেরা এ ফসল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। পরীক্ষামূলকভাবে গ্রীষ্মকালীন মৌসুম শুরুর দুই মাস আগে চারা তৈরি করে চাষ করা হলেও ফলন আশানুরূপ হয়েছে। আর দুই সপ্তাহ পর জমি থেকে পেঁয়াজ তুলে একই জমিতে আবারও পেঁয়াজের চাষ করবেন কৃষকেরা।

তিনি বলেন, একই জমিতে একই সময়ে দুই দফা পেঁয়াজ চাষের এ উদ্যোগে কৃষি অফিস থেকে নানা সামগ্রী ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফলে ফলন ভালো হয়েছে এবং কৃষকেরা লাভবান হবেন। আগামীতে ঈশ্বরদীতে পেঁয়াজের চাষ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, ‘ঈশ্বরদীতে ৬-৭ বছর আগেও পেঁয়াজের চাষ তেমন ছিল না। কিছু মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ হতো। ধীরে ধীরে পেঁয়াজের চাষ বাড়ছে, যা মসলাজাতীয় ফসল উৎপাদনের জন্য ইতিবাচক দিক। প্রতিটি উৎপাদিত ফসল থেকে কৃষকেরা লাভবান হবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে যাতে পেঁয়াজ আমদানি করতে না হয়, সে লক্ষ্য নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমরাও কৃষকদের পাশে থেকে পেঁয়াজের চাষ বৃদ্ধিতে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’

ঈশ্বরদীতে আজ লিচু উৎসব, থাকছেন দুই মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ শুক্রবার ঈশ্বরদীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলা-২০২৬’। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ (কুল ময়েজ)। তিনি বলেন, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও লিচুর মৌসুমকে ঘিরে এই ‘লিচু উৎসব ও কৃষি বাণিজ্য মেলা’র আয়োজন করা হয়েছে। দেশের কৃষি ও বাণিজ্য খাতের উন্নয়নে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় পদকপ্রাপ্ত কৃষক আব্দুল জলিল মন্ডল (লিচু কিতাব) জানান, ঈশ্বরদীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়। চলতি মৌসুমে ৬০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকার লিচু বেচাকেনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, লিচুর পাশাপাশি ঈশ্বরদীতে বিভিন্ন ধরনের সবজি, আম, কাঁঠাল, জাম, বাঙ্গি ও কলার ব্যাপক চাষাবাদ রয়েছে। এ ছাড়া ড্রাগন ফল, স্ট্রবেরি, মাল্টা ও আঙুরের মতো বেশি দামের বিদেশি ফলও বর্তমানে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে।

আব্দুল জলিল মন্ডল আরও বলেন, কৃষকেরা কঠোর পরিশ্রম করে বিপুল পরিমাণ ফল ও ফসল উৎপাদন করলেও এখনো ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে কৃষকদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হবে।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালু, লিচু গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, লিচু প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ।

কৃষক নেতাদের মতে, এসব দাবি বাস্তবায়ন হলে কৃষকদের স্বার্থ আরও সুরক্ষিত হবে এবং মৌসুমের কৃষিপণ্য থেকে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব হবে।

এ ছাড়া তাঁরা জানান, পাঠ্যপুস্তকে দিনাজপুরকে লিচুর জন্য বিখ্যাত জেলা হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ লিচু উৎপাদনকারী অঞ্চল ঈশ্বরদীর নাম সেখানে নেই। তাই পাঠ্যপুস্তকে ঈশ্বরদীকে লিচু উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হবে।

ঈশ্বরদীতে ১ হাজার কৃষকের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ মৌসুমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তা দিতে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগের আওতায় স্থানীয় চাষিদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ফসলের বীজ ও সার বিতরণ করেছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা কৃষি অফিস প্রাঙ্গণে এই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, এদিন ১ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের হাতে রোপা আউশ ধান, মুগ ডাল, তিল ও পাটের বীজ তুলে দেওয়া হয়। বীজের পাশাপাশি আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সারও দেওয়া হয়েছে তাঁদের।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, কৃষিই বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। সরকারি সহায়তার সঠিক ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটলে ঈশ্বরদী জেলা ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ে কৃষি উৎপাদনে শীর্ষস্থান দখল করতে পারবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আবাদের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যেই সরকারের এই পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সময়মতো মানসম্মত বীজ ও সার পাওয়ায় কৃষকরা আবাদে আরও উৎসাহী হবেন।

বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সুবিধাভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

মাচানে লাল স্বপ্ন, ঈশ্বরদীতে টমেটো চাষে কৃষকের সাফল্য


নিজস্ব প্রতিবেদক: বাঁশের খুঁটি আর পাটকাঠির তৈরি মাচায় সবুজ লতায় ভর করে ঝুলছে টমেটো। পাতার ফাঁকে ফাঁকে লাল টকটকে ফল যেন মাঠজুড়ে রঙের ছটা ছড়িয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বাঘহাছলা মাঠে মাচান পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে এমনই সাফল্যের মুখ দেখেছেন স্থানীয় কৃষক আসলাম।

রমজান মাসে বাজারে টমেটোর চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় কয়েক মাসের পরিশ্রমের সুফল পাচ্ছেন তিনি। প্রতি বছরের মতো এবারও প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে উচ্চফলনশীল ‘বিজলি-১১’ ও ‘সুলতান সোলেমান’ জাতের টমেটো আবাদ করেছেন।

আসলাম জানান, মাচান পদ্ধতিতে চাষ করলে গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে না, ফলে পচনের ঝুঁকি কমে। একই সঙ্গে ফলনও হয় তুলনামূলক বেশি। তাঁর হিসাবে, চারা রোপণ থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারদর ধরে প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকার টমেটো বিক্রির আশা করছেন তিনি।

তবে সাফল্যের মাঝেও ক্ষোভ আছে তাঁর। আসলামের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা সহায়তা নিয়মিত পাওয়া যায় না। যোগাযোগ করলে নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সরকারি তদারকি ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর সমন্বয় হলে এ অঞ্চলের টমেটো দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।

অবশ্য কৃষকদের অভিযোগ নাকচ করেছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মাচান পদ্ধতিতে সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা সহজ হয় এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকে। এ কারণে এবার ফলন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদ হয়েছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। বাজারদর অনুকূলে থাকায় কৃষকেরা ভালো লাভ পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কর্মকর্তা।

ঈশ্বরদীতে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়, হুমকিতে কৃষি ও সড়ক


নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কেটে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। দিন-রাত এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে পরিবহনের ফলে একদিকে যেমন আবাদি জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ পাকা সড়ক।
 
বুধবার সরেজমিনে ঈশ্বরদী উপজেলার অরনকোলার বাগবাড়িয়া ও মুলাডুলির প্রতিরাজপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফসলি জমিতে পুকুর খননের নামে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। অন্তত ১০টি ট্রাক্টর অবিরাম মাঠ ও রাস্তা দিয়ে মাটি বহন করছে। এতে এলাকায় প্রচণ্ড ধুলার সৃষ্টি হচ্ছে এবং বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রতিরাজপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরিষা খেত থেকে এস্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে তিন থেকে চার ফুট গভীর করে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি যাচ্ছে পাশের ইটভাটাগুলোতে। ভেকু চালক দেলোয়ার হোসেন জানান, অরনকোলা এলাকার মাটি ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম তাঁদের ভাড়া করেছেন। ঘণ্টা ও দিন চুক্তিতে তাঁরা মাটি কেটে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দিচ্ছেন।

মাটি ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম জানান, জমির মালিক সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারি এলাকার জহুরুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গেই পুকুর খননের চুক্তি হয়েছে। তবে ফসলি জমির মাটি কাটা বা বিক্রির বিষয়ে প্রশাসনের কোনো অনুমতি তাঁর নেই। তবে সব পক্ষকে 'ম্যানেজ' করেই কাজ চালাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে মাটি ক্রেতা ইটভাটা মালিক জিন্নাহ আলী বলেন, ইট তৈরির জন্য মাটির প্রয়োজন, তাই আশরাফুলের কাছ থেকে কিনছি। তিনি কার জমি কাটছেন বা অনুমতি আছে কি না, তা আমাদের জানা নেই।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মমিন বলেন, জমির উপরিভাগের মাটিতেই ফসল উৎপাদনের মূল শক্তি থাকে। এই মাটি কেটে ফেললে সেই জমিতে পুনরায় আগের মতো ফলন পেতে অন্তত ২০ বছর সময় লাগে। অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেণি পরিবর্তন বা মাটি কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

তিনি আরও জানান, জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতির প্রয়োজন হয়, যা এখানে মানা হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে উপজেলায় আবাদি জমির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে।

আলুর দাম না বাড়ায় বিপাকে ঈশ্বরদীর কৃষক-ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কম দামে কিনে শত শত মণ আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। গত মার্চ মাস থেকে সংরক্ষিত ওই আলু এখন তাদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। লাভের আশায় রাখা আলু বিক্রি করতে গিয়ে এখন লাখ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। হিমাগারে সংরক্ষণের সময় ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু বাজারে দাম বাড়ার কোনো লক্ষণ নেই। এতে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন সংরক্ষণকারীরা।

জানা গেছে, গত বছর দেশে আলুর উৎপাদন হয়েছিল চাহিদার দ্বিগুণেরও বেশি। উৎপাদন বেশি হওয়ায় তখন আলুর দাম ছিল একেবারেই কম। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে দাম বাড়বে- এ আশায় আলু কম দামে কিনে হিমাগারে রাখেন। কিন্তু এ বছর বাজারে দাম বৃদ্ধি না পাওয়ায় পরিস্থিতি উল্টো হয়েছে। অনেকেই জানাচ্ছেন, এবার আলুর দাম এতটাই কম যে, সংরক্ষিত আলু বেচে মূলধনও উঠবে না।

ঈশ্বরদীতে রয়েছে ‘আলহাজ আহম্মদ আলী হিমাগার’। যার ধারণক্ষমতা ৬৫ হাজার বস্তা বা প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টন। ঈশ্বরদীতে বাণিজ্যিকভাবে আলু উৎপাদন কম হলেও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আলু এনে সংরক্ষণ করেন।

হিমাগারটি ঘুরে দেখা যায়, হিমাগার ভর্তি হাজার হাজার বস্তা আলু। শ্রমিকরা ব্যস্ত বাছাই ও স্থানান্তরের কাজে। একদল নারী শ্রমিক আলু পরিষ্কার করছেন। হিমাগারের মালিক রুহুল ইসলাম মন্টু বলেন, ‘আমাদের হিমাগারের ধারণক্ষমতা ৬৫ হাজার বস্তা। এবার রাখা হয়েছে ৬০ হাজার বস্তা। প্রতি বছর এই সময়ের মধ্যে চার ভাগের তিন ভাগ আলু বেচা হয়ে যায়। কিন্তু এবার অর্ধেকও হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘৬০ হাজার বস্তার মধ্যে এখনো ৪২ হাজার বস্তা আলু হিমাগারে রয়েছে। মাত্র ১৮ হাজার বস্তা বের হয়েছে। এবারের মতো এমন পরিস্থিতিতে আমরা কখনো পড়িনি। কেউই আগে লোকসানে পড়েনি। কিন্তু এবার অনেকে আলু বেচে বিনিয়োগের অর্ধেক টাকাও ফিরে পাবেন না।’

রুহুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ঈশ্বরদীতে আলু উৎপাদন কম হলেও ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, নাটোর, রাজশাহী ও বাঘা এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এখানে আলু সংরক্ষণ করে থাকেন। এখন তারা সরকার থেকে কোনো সুসংবাদের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিছুদিন আগে সরকার হিমাগার গেটে প্রতি কেজি আলুর দাম ২২ টাকা নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করেছিল। কিন্তু বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।’

স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, তিনি চার গাড়ি আলু কিনে ঈশ্বরদীর হিমাগারে রেখেছিলেন। আশা ছিল, ‘গতবারের মতো ৮০ টাকা না হলেও অন্তত ৪০ টাকা কেজি পাওয়া যাবে।’ কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। গত সপ্তাহে তাকে লোকসানে এক গাড়ি আলু বেচতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দাম না বাড়লে বাকি আলুও লোকসানে বেচতে হবে। এতে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’

হিমাগার মালিকদের আশঙ্কা, নির্ধারিত সময়ের (নভেম্বর) পরে আলু রাখা সম্ভব হবে না। তখন সবাই কম দামে বেচতে বাধ্য হবেন। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি হিমাগার মালিকরাও বিপাকে পড়বেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে চাহিদার ঘাটতি এবং রপ্তানির অনিশ্চয়তার কারণে আলুর দাম স্থিতিশীল হতে পারছে না। সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর না হলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়বে।

অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, আলু উৎপাদনে পরিশ্রম ও খরচ অনেক বেশি। তাই বিক্রির সময় সঠিক দাম না পেলে চাষে উৎসাহ কমে যায়। তাদের দাবি, সরকার যেন রপ্তানি বাড়ায় এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীল দাম নিশ্চিত করে।

ঈশ্বরদীতে কৃষকের এক হাজার লাউগাছ কেটে দিল দুর্বৃত্তরা


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে সুমন আলী নামের এক কৃষকের লাউ বাগানে হামলা চালিয়ে এক হাজার লাউগাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতের কোনো এক সময়, উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামে।

ক্ষতিগ্রস্ত সুমন আলী জানান, পাবনা চিনিকলের পশ্চিম পাশে তিন বিঘা জমিতে তিনি লাউয়ের চাষ করেছিলেন। কিছুদিনের মধ্যেই ফলন বাজারে বিক্রি উপযোগী হতো। কিন্তু তার আগেই কে বা কারা রাতের আঁধারে পুরো বাগান নষ্ট করে দিয়েছে।

সুমনের ভাষায়, ‘প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে মাঠে গিয়ে দেখি বাগানের সব লাউগাছ কেটে ফেলা হয়েছে। প্রতিটি গাছের গোড়া কাটা, পাতাগুলো শুকিয়ে মাটিতে লটকে আছে। মুহূর্তেই আমার সব স্বপ্ন ভেঙে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘লাউ বিক্রি করে সংসার চালানো, ঋণ শোধ আর ছেলেমেয়ের জন্য কিছু করার পরিকল্পনা ছিল। এখন আমি নিঃস্ব।’

সুমনের বাবা ইয়ার আলী বলেন, ‘এতে আমাদের কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতি সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা শুনেছি। তবে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ইতোমধ্যে দুইজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা হবে।’

ঈশ্বরদীতে বালু উত্তোলনকে ঘিরে উত্তেজনা, কৃষকদের ওপর হামলা–গরু লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর চর এলাকায় বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনার জেরে আটজন কৃষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষের সময় কৃষকদের দুটি গরু লুট করে নিয়ে গিয়ে জবাই করে খাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে ।

এ ঘটনা ঘটে রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আরমবাড়িয়া পদ্মা চরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় ইঞ্জিনিয়ার কাকন বাহিনী বালু উত্তোলনের দখল নিতে গিয়ে সাধারণ কৃষকদের ওপর হামলা চালাচ্ছেন।

আহত কৃষকদের মধ্যে রয়েছেন—সাঁড়া ঝাউদিয়া এলাকার মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে আনছার মাঝি (৬৭), তাঁর ছেলে মজনু (৩৫), মাঝদিয়া এলাকার সাদেকের ছেলে মাছিদুল (৩৬) ও মজিদুল (৪০), দুলাল খাঁর ছেলে লিটন (৪০), এবং সোহান, আরাফাত ও এজাজুল। আহতদের মধ্যে লিটনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) পাঠানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহত কৃষকরা জানান, পদ্মা নদীতে জেগে ওঠা নিজেদের এবং লিজ নেওয়া জমিতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। নদী থেকে বালু উত্তোলন নিয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুলতান আলী বিশ্বাস টনি ও ভেড়ামারার বাহাদুরপুর এলাকার ইঞ্জিনিয়ার কাকনের মধ্যে বিরোধ চলছে। এর জের ধরেই চর এলাকায় গোলাগুলি ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

আহত মাছিদুল বলেন, ‘আমরা কারও সঙ্গে জড়িত না। আমাদের জমিতে চাষ করতে গেলে কাকনের লোকজন আমাদের মারধর করে। এমনকি আমাদের দুটি গরু নিয়ে গিয়ে জবাই করে খেয়ে ফেলে।’

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সাহিদুল ইসলাম শিশির বলেন, ‘আহতদের মধ্যে লিটনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে রামেকে পাঠানো হয়েছে।’

লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ-পুলিশ ওসি এমরান মাহমুদ তুহিন বলেন, ‘ঘটনার কথা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে যুবদল নেতা সুলতান আলী বিশ্বাস টনি ও কাকনের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

ঈশ্বরদীতে কৃষকদের জন্য দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরদীতে কৃষকদের জন্য দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে। রোববার উপজেলা কৃষক প্রশিক্ষণ মিলনায়তনে এর আয়োজন করা হয়।

কর্মশালার প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা রানী সরকার। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, 'ভালো ফলনের জন্য সঠিক কৃষি পদ্ধতি জানা জরুরি। এতে কৃষকদের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি আয়ও বাড়বে।'

এ সময় অন্যদের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহমুদা মোতমাইন্ন, কৃষিবিদ প্রহল্লাদ কুমার কুন্ডু এবং কৃষিবিদ মো. ধীমান তানভীর উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণে ৫০ জন কৃষক, কৃষাণী ও উদ্যোক্তা অংশ নেন। তাদের হাতে-কলমে সঠিক কৃষি চর্চা, এর সুবিধা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি, ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিকার, খামারের সঠিক পরিকল্পনা এবং কৃষি খামারের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ঈশ্বরদীতে প্রথমবারেই মৌরি চাষে নতুন স্বপ্ন বুনছে কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে এবারই প্রথমবারের মতো চাষ হলো মৌরি মসলা। উপজেলার ইস্তা গ্রামের কৃষক আনিসুর রহমান নিজ উদ্যোগে এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ১০ শতক জমিতে এই মৌরি আবাদ করেন। রোববার সরজমিনে দেখা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এই আবাদ হয়েছে। জমির পাশে একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে। তাতে মৌরির জাত, কৃষকের নাম, জমির পরিমাণসহ প্রদর্শনীর তথ্য দেওয়া আছে।

জানতে চাইলে আনিসুর রহমান জানান, ‘এই এলাকায় আগে কখনো মৌরি চাষ হয়নি। নতুন কিছু করার আগ্রহ থেকেই শুরু করি। কৃষি বিভাগ বারী-১ জাতের বীজ ও পরামর্শ দিয়েছে। ডিসেম্বরের শুরুতে বপন করি। এখন পর্যন্ত গাছের বৃদ্ধি ভালো। আশা করছি ফলনও ভালো হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খরচ হয়েছে চার-পাঁচ হাজার টাকার মতো। এখনো কাটা হয়নি, তাই লাভের হিসাব মেলানো যাচ্ছে না। তবে যেভাবে গাছ বেড়েছে, তাতে মনে হচ্ছে এই মসলার সম্ভাবনা অনেক। 

যদি লাভজনক হয়, আগামীতে আরও বড় পরিসরে আবাদ করব।’ স্থানীয় আরেক কৃষক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘আমি আগে কখনো ভাবিনি এই জমিতে মৌরি চাষ করা যাবে। আনিসুর শুরু করার পর আমরা প্রতিদিন মাঠে গিয়ে দেখেছি কীভাবে গাছ বড় হচ্ছে। ফলন দেখে উৎসাহ পাচ্ছি আমরাও। যদি ভালো দাম পাওয়া যায়, তাহলে আমি নিজেও আগামী মৌসুমে চাষ করতে আগ্রহী।’

প্রদর্শনী পর্যবেক্ষণে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুজন কুমার রায় বলেন, ‘বীজ ও সার প্রকল্প থেকে দেওয়া হয়েছে। মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, ফলন আশানুরূপ হবে। প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৫ মণ ফলন পাওয়া যেতে পারে।’ ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার জানান, ‘দেশে মসলার চাহিদা অনেক। তাই আমদানিতে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়। সেই ব্যয় কমাতেই স্থানীয় পর্যায়ে মসলা উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে ঈশ্বরদীতে কালোজিরা, ধনিয়া ও তেজপাতার আবাদ হচ্ছে। এবার শুরু হলো মৌরি চাষ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বারী-১ জাতটি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। আমরা সেই জাতের বীজ সরবরাহ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে, কৃষকরা আগ্রহী হলে আগামীতে এর আবাদ আরও বাড়ানো হবে।’

ঈশ্বরদীতে কৃষকদের মধ্যে বীজ ও সার বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। রোববার সকালে উপজেলা কৃষি কার্যালয় চত্বরে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।   

এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েব আলী বিশ্বাস। তার বক্তব্যে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই ’৭১ সালের পরেই কৃষকদের কথা চিন্তা করেছেন। কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে তিনি কাজ করে গেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজও কৃষি উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় থাকে, তখনই দেশের কৃষক ও গণমানুষের কথা চিন্তা করে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকারই একমাত্র কৃষকদের কথা চিন্তা করে বিনামূল্যে সার বীজ দিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় ভর্তুকি মূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতিসহ নানান সুবিধা দিচ্ছে। এতে এটাই প্রমাণ হয়, আওয়ামী লীগ সরকার জনদরদি সরকার এবং গরীব দুঃখী মানুষের সরকার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকারের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন- উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান, আতিয়া ফেরদৌস কাকলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবীর কুমার দাশ,  ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কিরণ ও  উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ন আহবায়ক মুরাদ আলী মালিথা।

কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নের ৪০০ কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি মাষকলাইয়ের বীজ, ১০ কেজি ডিএফপি সার ও ৫ কেজি করে এমওপি সার বিতরণ করা হয়। 

ঈশ্বরদীর চর কুরুলিয়ায় রাতে কাটা হলো ১৫০০ কলাগাছ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে রাতের অন্ধকারে এক কৃষকের ১৫০০ কলা গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চর কুরুলিয়া দক্ষিণপাড়া মাঠের জমিতে এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের দাবি, পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুর্বৃত্তরা গত রাতের কোনো একসময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কলাবাগানের গাছগুলো কেটে ফেলেছে। এতে তার পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনার পরদিন বুধবার দুপুরে চর কুরুলিয়া গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত চাষি আলাউদ্দিন মালিথার পরিবারের পক্ষ থেকে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। তবে পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈশ্বরদী শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে লক্ষীকুন্ডার চর কুরুলিয়া গ্রাম। এ গ্রামের শাখা নদী পেরিয়ে বিরান মাঠে আলাউদ্দিন মালিথার কলাবাগান। এখানেই তিনি পাঁচবিঘা জমি ভাড়া নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে কলার চাষ করেছিলেন। কলা চাষাবাদে তাঁর আরও দেড় টাকা খরচ হয়। এছাড়া রয়েছে বাগান পরিচর্যার খরচ। কিন্তু প্রতিপক্ষের 'শত্রুরা' গোপনে কলাগাছগুলো কেটে নষ্ট করায় তিনি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। 

মামলার এজাহার ও স্থায়ীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চর কুরুলিয়া গ্রামের জমিতে এবারই প্রথম কলার আবাদ করেন কৃষক আলাউদ্দিন।।

শরীফ মালিথা নামে তাঁর এক ভাই জানান, পাঁচ মাস আগে এক ব্যক্তির জমি ভাড়া নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই আলাউদ্দিন সেখানে কলার চাষ করেন। কিন্তু পূর্বশত্রুতার জেরে তার প্রতিপক্ষের লোকজন রাতের অন্ধকারে কলাগাছ কেটে সাবার করে দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আলাউদ্দিন মালিথা বলেন, ‘লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে বুধবার সকালে গিয়ে দেখি বাগানের ১ হাজার ৫০০ কলাগাছ গোড়া ও মাঝ থেকে কেটে ফেলা হয়েছে। গাছগুলো নিচে পড়ে আছে। এসব কলাগাছে থোড় আসা শুরু করেছিল। তাঁর ধারণা, শত্রুতাবশত কেউ এ কাজ করেছেন। সাধারণ মানুষ এমন জঘন্য অপরাধ করবে না। তিনি এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় লিখিত এজহার জমা দিয়েছেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অরবিন্দ সরকার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। এর আগে ঘটনাটি জানার পরপরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, তবে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হবে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন