ডাকাতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ডাকাতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ঈশ্বরদীর তিন যুবকসহ ছয়জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক:  চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পাবনার ঈশ্বরদীর তিন যুবকসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ছোট ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার নতুনপাড়া এলাকার মো. মুন্না হাসান, মো. আসিফ হোসেন ও রতন আলী। বাকি তিনজনও একই ঘটনায় আটক হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে আম ব্যবসায়ী পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি রহনপুরের নুনগোলা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং তাঁদের কাছে অস্ত্র রয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোমস্তাপুর থানা ও রহনপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা যৌথ অভিযান চালান। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ছয়জনকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রহনপুর রেলস্টেশন-সংলগ্ন নিমতলা এলাকা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি নম্বর প্লেট ছাড়া ছোট ট্রাক উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি তার কাটার যন্ত্র, লোহার রড, হাতুড়ি, হাঁসুয়াসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে।

গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরে আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি করা দলের সক্রিয় সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি ও ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার পর তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঈশ্বরদীতে ট্রাক থামিয়ে অস্ত্রের মুখে ১৭টি গরু ডাকাতি

ফাইল ছবি 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে চলন্ত ট্রাক থামিয়ে অস্ত্রের মুখে ১৭টি গরু ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দাশুড়িয়া-নাটোর-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের মুলাডুলি-শেখপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, ডাকাতরা ট্রাক চালকসহ তিনজনকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রাজশাহীর চারঘাট সড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। গরুগুলো কোরবানির হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে দিনাজপুর থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুজ্জামান বলেন, 'ঘটনার খবর পাওয়ার পরই অভিযান শুরু করি। পরে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে ডাকাতির ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে গরুগুলোর খোঁজ মেলেনি।' 

পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, রাত ২টার দিকে সাত-আটজনের ডাকাত দল একটি ট্রাক দিয়ে গরুবোঝাই ট্রাকটির পথ আটকে দেয়। এরপর অস্ত্র দেখিয়ে চালক, হেলপারসহ তিনজনকে বেঁধে ফেলে। পরে লালনশাহ সেতু দিয়ে তারা ট্রাকসহ গরু নিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশের ধারণা, ডাকাত দলের আরেকটি ট্রাকে জিম্মি তিনজনকে রাখা হয়েছিল, যা সেতু পার না হয়ে অন্যদিকে চলে যায়। পরে রাজশাহীর চারঘাটে সড়কের পাশে তিনজনকে ফেলে রেখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। সকালেই ওই তিনজন ঈশ্বরদী থানায় এসে বিস্তারিত জানান।

এ বিষয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, 'ডাকাত চক্র শনাক্তে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ও গরু উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।' 

পাবনায় মধ্যরাতে মহাসড়কে গাছ ফেলে গণডাকাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনায় মধ্যরাতে মহাসড়কের ওপর গাছ ফেলে বাস-ট্রাকসহ অন্তত ৪০টি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে পাবনা-সাঁথিয়া মহাসড়কের ছেচানিয়া ব্রিজের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবু বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। এখনো বিস্তারিত জানি না। তবে ওই রাস্তাটি খুব বেশি ব্যস্ত না হলেও বেড়া-বাঘাবাড়ি হয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বেশ কিছু গাড়ি ওই রাস্তা দিয়ে যায়। হয়তো এটি ডাকাতরা জেনেই গাছ ফেলে ডাকাতি করেছে।’

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত দেড়টার দিকে ছেচানিয়া ব্রিজের পাশে মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রথমে একটি পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রাখে ডাকাত দলের সদস্যরা। এতে কিছু সময়ের মধ্যেই বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও হাইয়েচসহ প্রায় ৪০টি গাড়ি আটকা পড়ে। এ সময় ৪০-৫০ জন হাসুয়া, রামদা, ছুরি, চাকুসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রের মুখে পর্যায়ক্রমে গাড়িগুলোতে ডাকাতি করে। গেট খুলতে দেরি করায় কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে তারা। এ সময় পরিবহণ শ্রমিক ও যাত্রীদের মারধর করে তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইলফোন, টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ তাণ্ডব চলে।

ডাকাতির কবলে পড়া আব্দুস সালাম নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে ভিডিওতে বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে এই সড়কে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ডাকাতি করেছে। হুট করে আমাদের গাড়িতে আক্রমণ করে ডাকাতদলের সদস্যরা। বারবার গাড়িতে আঘাতের পর আমরা ড্রাইভারকে গেট খুলে দিতে বললে ডাকাতরা ঢুকে ড্রাইভারের গলা ও পেটে চাকু ধরে। একইভাবে অন্যদেরও জিম্মি করে সব লুটে নিয়ে যায়। আমরা বলেছি, ভাই যা আছে সব নেন, কিন্তু কাউকে আঘাত কইরেন না। আমাদের গাড়িতে কাউকে আঘাত করেনি। অনুরোধ করায় আমার দুটি মোবাইলফোন দিয়ে যায়।’ 

আব্দুস সালাম আরও বলেন, ‘একটা হাইয়েচে করে দেশে ফিরছিলেন এক প্রবাসী। ওই গাড়িতে আক্রমণ করে কয়েকজনকে মারধর করে সব লুটে নিয়ে গেছে। একইভাবে সব গাড়িতে পর্যায়ক্রমে ডাকাতি চালায়। গাড়ি ভাঙচুর ও অনেককেই মারধর করে।’ 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ পাঠানো হয়। সুনির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও কয়েকটি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন