মারামারি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মারামারি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ভাইরাল যুবকের পরিচয় মিলল

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এই দৃশ্যগুলো গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় একজন যুবককে সামনে থাকা প্রতিপক্ষের দিকে গুলি করতে দেখা যায়।

পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর নিয়ে ওই যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি তুষার, ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়া এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। তিনি পাবনা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের সহচর এবং জামায়াতের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।

থানা সুত্রে জানা গেছে, তুষারের বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।

পাবনা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলি করেছে জামায়াতের তুষার । তিনি তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের সন্ত্রাসী।

অন্যদিকে, পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামী আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া যুবক আমাদের দলের কেউ নয়। তিনি বলেন, আমি তাকে চিনি না। তিনি জামায়াতের কর্মী নন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ.স.ম. আব্দুন নূর জানান, বিভিন্ন সূত্র থেকে ওই যুবকের নাম পরিচয় আমাদের কাছে এসেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি আলহাজ্ব মোড় (জগির মোড়) এলাকায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে গুলি, ভাঙচুর এবং মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উভয় দলের প্রায় অর্ধশত নেতা ও কর্মী আহত হয়েছেন।

ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২৫


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী প্রচারে নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। জামায়াতের দাবি, তাঁদের প্রচারণার সময় বিএনপির লোকজন হামলা চালিয়েছেন। বিএনপি বলছে, গ্রামের লোকজন একজোট হয়ে জামায়াতের লোকজনকে ধাওয়া দিয়েছেন।

উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামে এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে সাতজনকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। বাকিরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, পাবনা–৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান। আর জামায়াতের প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির আবু তালেব মন্ডল। চরগড়গড়ি গ্রামে কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। দুই দিন আগে কথা–কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

স্থানীয় মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আজ বিকেলে জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল এলাকায় গণসংযোগে যান। আলহাজ্ব মোড়ে পৌঁছালে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকেরা তাঁদের বাধা দেন। সেখানে কিছুক্ষণ কথা–কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির পর আবু তালেব মন্ডল সরে আসেন। ফিরে আসার পথে মৃধাপাড়া মহল্লায় আবার দুই পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে এবং কয়েকটি মোটরসাইকেলসহ জামায়াত প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। দুই পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল অভিযোগ করেন, তাঁরা পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় যান। তাঁদের সঙ্গে প্রায় ১৫০টি মোটরসাইকেল ছিল। ফেরার পথে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমানের লোকজন হামলা চালিয়ে গুলি ছোড়ে এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এতে ছয়জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন বলে তিনি দাবি করেন। গুলিবিদ্ধদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটের বিনিময়ে ‘বেহেশতর টিকিট’ পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা প্রতিবাদ করলে জামায়াতের প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল অস্ত্রসহ গাড়ি ও লোকজন নিয়ে গ্রামে ঢোকেন এবং বিএনপির দুজন কর্মীকে মারধর করেন। তখন গ্রামের লোকজন একজোট হয়ে তাঁদের ধাওয়া দেন। এ সময় জামায়াতের লোকজন গুলি ছোড়ে ও বিএনপি নেতা–কর্মীদের মারধর করে। এতে বিএনপির বেশ কয়েকজন আহত হন। একজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আবদুন নুর বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

ঈশ্বরদীতে বিএনপির দু'পক্ষে সংঘর্ষ, চার দোকানে ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শহরের কলেজ রোডের বকুল মোড় এলাকায় চারটি দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্ব নিয়ে বকুল মোড়ে দলীয় কয়েকজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে রাতেই সংঘবদ্ধ একদল যুবক ওই এলাকায় হামলা চালায় এবং চারটি দোকানে ভাঙচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যবসায়ী আহমেদ আলী বলেন, 'আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নই। আমাদের নিরীহ দোকানে কেন এই হামলা হলো? বিচার না হলে আমি আত্মহত্যার পথ বেছে নেব।' 

আরেক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, 'আমি তখন বাড়িতে ছিলাম। হঠাৎ খবর পাই, আমার দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে। কারা করেছে, জানি না।' 

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন  দাবি করেন, 'এটা কোনো দলীয় ঘটনা নয়। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের আশ্রিতরা এই ঘটনা ঘটিয়ে বিএনপির নামে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।' 

ঘটনার পরদিন বুধবার  বণিক সমিতির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন জনি, ছাত্রদল নেতা নয়নসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিদের কিছু সামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেন।

আনোয়ার হোসেন জনি বলেন, 'বিএনপিতে কোনো গ্রুপিং নেই। এটা পরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে হেয় করার চেষ্টা।' 

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ. স ম আব্দুন নূর বলেন, 'একটি ছোট ঘটনার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। এখনও কেউ অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' 

ঈশ্বরদীতে বালুমহাল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৭


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর বালুমহাল দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের পদ্মা নদীর চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দাশুড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব নওদাপাড়া গ্রামের সেলিম হোসেন (৪৫), পাকশীর রূপপুর বিবিসি বাজার এলাকার চপল সরদার (২৭), চররূপপুরের রেজাউল হক ওরফে লালু, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার শওকত ইসলাম, গোলাপনগর বাঙালপাড়ার রিপন হোসেন ও ফকিরাবাদ গ্রামের মো. সানাউল্লাহ। গুরুতর আহত সেলিম হোসেনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈশ্বরদীর সাঁড়া এলাকার পদ্মা নদীতে বালু ব্যবসার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার মো. কাকন ও ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুলতান আলী টনি বিশ্বাসের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার উভয়পক্ষ পদ্মার চরে মহড়া দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে কাকনের অনুসারীরা কয়েকটি ট্রলারে করে এসে চরের বালুমহাল দখলের চেষ্টা করলে টনি বিশ্বাসের লোকজন তাদের প্রতিরোধ করে। এরপরই উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে।

টনি বিশ্বাস বলেন, ‘আমি বৈধভাবে ইজারা নিয়ে বালুর খাজনা আদায় করছি। প্রতিপক্ষ কাকনের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে এতে বাধা দিয়ে আসছে। আজ সকালে তারা হঠাৎ করে ট্রলারে করে এসে হামলা চালায় ও গুলি ছোড়ে। আমার অন্তত ১০-১২ জন লোক আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭ জন গুলিবিদ্ধ।’ তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন।

অপরদিকে, কাকনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশের ওসি ইমরান মাহমুদ জানান,  ‘এ ঘটনায় ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মূলত বালুর ইজারা ও খাজনা আদায় নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ থেকে এ সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এখনো কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি।’

ঈশ্বরদীতে অটোচুরির টাকার ভাগ নিয়ে মারামারি, যুবক ছুরিকাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে চুরি করা অটোরিকশার টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুজন যুবক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন ছুরিকাঘাতে জখম হন।

রোববার সন্ধ্যায় শহরের আলহাজ ক্যাম্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মো. তারেক ও তাঁর সহযোগী মো. সাইদ আলহাজ ক্যাম্প এলাকায় বসবাস করেন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে চুরির টাকাকে কেন্দ্র করে তাঁদের সঙ্গে একই এলাকার মো. মাসুদ, মো. রিপন ও মো. রনির কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মাসুদ, রিপন ও রনি লাঠি ও সোটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারেক ও সাইদকে মারধর করেন। অভিযোগ রয়েছে, মাসুদ ছুরি দিয়ে তারেকের মাথায় আঘাত করেন, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনেরা তাঁকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ঘটনার পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আলহাজ মোড়ে একদল মানুষ জড়ো হয়ে বিরোধে জড়ানো যুবকদের খুঁজে ধাওয়া দেন। এ সময় আতঙ্ক ছড়াতে কয়েকটি ফটকা ফাটানো হয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পর পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঈশ্বরদীতে দুই ভাইয়ের মারামারি, নিহত ১ জন

জিপু সরদার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে দুই ভাইয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর ভাই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের কৈকুন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম জিপু সরদার (৩০)। আহত মনিরুল সরদার (৩৫) তাঁর বড় ভাই। তাঁরা ওই গ্রামের রিকাত আলী সরদারের ছেলে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাই মিলে একসঙ্গে বাড়ি নির্মাণ করছিলেন। কিন্তু জমি ও নির্মাণসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে আজ সকালে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। জিপু ও মনিরুল—উভয়ই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে জিপুর মৃত্যু হয়। মনিরুল বর্তমানে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঈশ্বরদী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, 'পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। কী কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।'

অটোরিকশা স্ট্যান্ড নিয়ে ঈশ্বরদীতে যুবদলের সংঘর্ষ

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: অটোরিকশা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঈশ্বরদীতে যুবদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত কয়েকজন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর চালানো হয়েছে একটি শ্রমিক ইউনিয়ন নেতার কার্যালয়েও।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে উপজেলার দাশুড়িয়া গোলচত্বর এলাকায়। সংঘর্ষ হয় যুবদল নেতা রিপন প্রামানিকের বড় ভাই ও স্থানীয় শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি রকু প্রামানিক এবং দাশুড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব বিপুল মোল্লার অনুসারীদের মধ্যে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই অটোরিকশা স্ট্যান্ডটি রকু প্রামানিকের নিয়ন্ত্রণে ছিল। শুক্রবার বিকেলে বিপুল মোল্লা তার লোকজন নিয়ে স্ট্যান্ডে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রথমে বাগবিতণ্ডা, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। একাধিক দফায় চলা এই সংঘর্ষে বিপুল মোল্লাসহ কয়েকজন আহত হন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বিপুল মোল্লা অভিযোগ করেন, ‘চাঁদা না দেওয়ায় প্রথমে আমাকে মারধর করে রকু প্রামানিকের লোকজন। পরে দুইজন অটোরিকশা চালককেও মারধর করা হয়। এরপর স্ট্যান্ডে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। তবে কারা রকুর অফিস ভেঙেছে, সেটা আমি জানি না। আমরা তখন হাসপাতালে ছিলাম।’

অন্যদিকে, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন হোসেন বলেন, ‘বিকেলে যাত্রী তোলা নিয়ে সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে আমি দুই পক্ষকেই মীমাংসার জন্য ডাকি। কিন্তু রাতে বিপুল মোল্লার অনুসারীরা এসে আমার ভাইয়ের অফিস ভাঙচুর করে।’

ঘটনার পর বিপুল মোল্লা ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঈশ্বরদী থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঈশ্বরদীতে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে তৃতীয় পক্ষের মারপিটে নারীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার ঈশ্বরদীতে পাওনা টাকা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে তৃতীয় পক্ষের মারপিটে ময়না বেগম (৫০) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলা সদরের মশুরিয়াপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। নিহত ময়না বেগম মশুরিয়াপাড়ার রহম আলীর স্ত্রী।

নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রতিবেশী শিলা খাতুনের কাছ থেকে বাকিতে কিছু কাপড় নিয়েছিলেন ময়না বেগম। বাকির টাকা পরিশোধ করতে তাঁর কিছুটা দেরি হচ্ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রাত আটটার দিকে শিলা লোকজন নিয়ে ময়নার বাড়িতে যান। এ সময় পাওনা টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। শিলা পরে সেখান থেকে চলে যান। কিছুক্ষণ পর জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি ময়নাদের বাড়িতে গিয়ে ঝগড়ার বিষয়ে জানতে চান। এ সময় ময়না বেগম ও তাঁর মেয়ে নিশি খাতুন ঝগড়ার বিষয়ে বলতে গেলে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে তাঁদের কথা–কাটাকাটি শুরু হয়। খবর পেয়ে জাহাঙ্গীরের লোকজন সেখানে ছুটে যান। এ সময় মারামারির একপর্যায়ে ময়নার মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত ময়নার মেয়ে নিশি খাতুনের দাবি, ঝগড়ার সময় প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর লোকজন নিয়ে তাঁর মাকে লোহার রড দিয়ে ব্যাপক মারধর করেন। এতেই তাঁর মা মারা গেছেন। তিনি মা হত্যার বিচার চান।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন এলাকাছাড়া। এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য জানার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তর জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার জাহাঙ্গীর হোসেনসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অরবিন্দ সরকার বলেন, আজ বিকেল পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি। মামলা হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন