মাদক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মাদক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে ১২০ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ১২০ পিস ইয়াবাসহ মো. ইমরান হোসেন রনো (৩৪) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। আজ বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে পৌর শহরের ফতেহ মোহাম্মদপুর লোকো কলোনি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ইমরান হোসেন রনো লোকো কলোনি ফতেহ মোহাম্মদপুর উত্তর এলাকার মৃত মোক্তার হোসেনের ছেলে।

ডিবি পুলিশ জানায়, ঈশ্বরদী থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার সময় গোপন সংবাদ মেলে যে লোকো কলোনি এলাকায় ইয়াবা বিক্রির জন্য এক ব্যক্তি অবস্থান করছেন। সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির দলটি সেখানে অভিযান চালালে ইমরান পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাঁকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে পকেটে থাকা একটি জিপার ব্যাগ থেকে ১২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়; যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৬ হাজার টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান জানান, তিনি পাবনার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে খুচরা বিক্রি করতেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইমরানের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মাদকের বিরুদ্ধে ডিবির এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঈশ্বরদীতে তিন মাদকসেবীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে তিন মাদকসেবীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার মশুরিয়াপাড়া ও দাশুড়িয়া এলাকার বিভিন্ন মাদক স্পটে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন ঈশ্বরদীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান সরকার। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন দাশুড়িয়া এলাকার মো. হৃদয়ের ছেলে মো. মানিক (৪০), মাহাতাব কলোনি এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে মো. আকাশ (২০) এবং মশুরিয়াপাড়া এলাকার মৃত নূর ইসলামের ছেলে মো. হারুন (২৮)।

ডিএনসি পাবনার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শের আলম আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করেন। পরে আদালত তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়ে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল মান্নাফ কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে এ পর্যন্ত মাদক অপরাধে মোট ২৭ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইয়াবাসহ ঈশ্বরদীতে গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ১০০ পিস ইয়াবাসহ শাহ আলম তুষার (৩৭) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার সাহাপুর শহীদ আবুল কাশেম উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার শাহ আলম তুষার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী বাজারপাড়া এলাকার মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে।

ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সাহাপুর শহীদ আবুল কাশেম উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এক ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রির জন্য অবস্থান করছেন। খবর পেয়ে রাত দুইটার দিকে সেখানে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশের একটি দল। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে শাহ আলমকে আটক করা হয়। পরে তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে ১০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩০ হাজার টাকা।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

ঈশ্বরদীতে ৪ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার, পালিয়েছেন অপরজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের  অভিযানে ৪ কেজি গাঁজা ও মাদক বিক্রির ৩৯ হাজার ৫০০ টাকাসহ মোছা. নাছরিন খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় সালমা (৪৫) নামে অপর এক নারী মাদক কারবারি পালিয়ে যান।

একই এলাকায় পৃথক অভিযানে এক মাদকসেবীকে আটকের পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার উপজেলার পিয়ারাখালী গ্রামে ডিএনসির উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শের আলমের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। নিজ বসতবাড়ি থেকে নাছরিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মো. সোবাহান শেখের স্ত্রী। পলাতক সালমা ঈশ্বরদীর রহিমপুর গ্রামের মৃত হযরত আলীর স্ত্রী।

ডিএনসি জানায়, এ ঘটনায় উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শের আলম বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় দুই নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন।

এদিকে একই দিন পিয়ারাখালী এলাকা থেকে মোছা. চুমকি (৩১) নামে এক মাদকসেবীকে আটক করা হয়। পরে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তোলা হলে বিচারক কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। সেখান থেকে তাকে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ডিএনসি পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল মান্নাফ কবীর জানান, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। চলতি আগস্ট মাসে এ পর্যন্ত মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে ৭৪ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

ঈশ্বরদীতে গাঁজাসহ নারী গ্রেপ্তার, তিন মাদকসেবীকে কারাদণ্ড


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পৃথক অভিযানে ২৪০ গ্রাম গাঁজাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

জানা গেছে, সোমবার ডিএনসির পাবনা জেলা কার্যালয়ের নিয়মিত অভিযানে উপজেলার চর সাহাপুর গ্রামের নিজ বসতঘর থেকে গাঁজাসহ রেহেনা খাতুনকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

এদিকে ঈশ্বরদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান সরকারের নেতৃত্বে মুনসিদপুর ও দাশুড়িয়া এলাকার মাদক বেচাকেনার স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাবু (৬০), লোকমান (৫৫) ও শিশির আহমেদ (২০) নামের তিন মাদকসেবীকে আটক করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দোষ স্বীকার ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়ে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

ঈশ্বরদীতে মাদক মামলায় ছয় মাসের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ডাবলু (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার পৌর শহরের ইস্তা এলাকায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ডাবলু ওই এলাকার মো. আতর আলীর ছেলে।

ঈশ্বরদী আমবাগান পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আফজাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ডাবলুকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ও আইনগত কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

পাবনায় ৫০০ বোতল ফেনসিডিলসহ কারবারি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় ৫০০ বোতল ফেনসিডিলসহ মিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার গোডাউন মোড়ে স্থাপিত পুলিশ চেকপোস্ট থেকে তাঁকে আটক করা হয়। মিরাজুল ইসলাম চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের মো. ইয়াসিন আলীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, জেলাজুড়ে চলমান মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোডাউন মোড়ে একটি চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন একটি সিলভার রঙের প্রাইভেটকারকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। পরে গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে পেছনের ডালা থেকে সাদা রঙের তিনটি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তাগুলোর ভেতরে নেটের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় ৫০০ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গাড়িচালক মিরাজুল ইসলামকে আটক করা হয়।

পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ফেনসিডিলের চালানটি চুয়াডাঙ্গা থেকে পাবনা ও সিরাজগঞ্জ হয়ে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঈশ্বরদীতে মাদক সেবন ও বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে মাদক সেবনের অপরাধে ১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকি ৫ জনের মধ্যে একজন নিয়মিত মামলার এবং চারজন গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার ফতেমোহাম্মাদপুর, আমবাগান, মুলাডুলি, লক্ষ্মীকুণ্ডা ও পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

ঈশ্বরদী থানা-পুলিশ জানায়, বিশেষ অভিযান চলাকালে মাদক সেবনের অভিযোগে ১৫ জনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আটক ব্যক্তিদের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকারের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত অপরাধের ধরন অনুযায়ী ওই ১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। সাজা কার্যকরের জন্য তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া বাকি ৫ জনের মধ্যে একজন নিয়মিত মামলার আসামি এবং অন্য চারজন আদালতের পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি। তাঁদেরও আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, মাদক নির্মূলে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক সেবন কিংবা কারবারের সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

ঈশ্বরদীতে গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ২৫০ গ্রাম গাঁজাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার দাদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ২৫০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।

পাবনা জেলা পুলিশ জানায়, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ঈশ্বরদী থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ  জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি মাদকমুক্ত পাবনা গড়ে তুলতে জনসাধারণকে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাবনায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অভিযানে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সুমন হক (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।

সোমবার ভোরে জেলার আতাইকুলা থানার পুষ্পপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সুমন ওই এলাকার মো. মোফাজ্জল হকের ছেলে।

ডিবি পুলিশ জানায়, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুষ্পপাড়া এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সুমন পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।

পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাঁর দেহ তল্লাশি করে একটি নীল রঙের জিপার ব্যাগ থেকে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে আতাইকুলাসহ আশপাশের এলাকায় বিক্রি করে আসছিলেন বলে স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়।

পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। পাবনাকে মাদকমুক্ত করতে বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।’

পাবনায় মাদকবিরোধী লাল কার্ড প্রদর্শন, সাইকেল শোভাযাত্রা


নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘মশালের ভাবনা, মাদকমুক্ত পাবনা’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে পাবনা শহরে মাদকের বিরুদ্ধে লাল কার্ড প্রদর্শন ও সাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে মশাল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম।

পরে শোভাযাত্রাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় মশাল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আহমেদ মোস্তফা নোমানের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনুর রহমান, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আক্তারুজ্জামান আক্তার, সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম এবং মশাল ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক মাহফুজ হোসেন শ্রাবণসহ অনেকে।

ঈশ্বরদীতে পৃথক অভিযানে দুই মাদকসেবী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে আলাদা অভিযানে দুই মাদকসেবীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

বৃহস্পতিবার উপজেলার সাহাপুর, মুলাডুলি ও আওতাপাড়া এলাকার বিভিন্ন মাদকের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এই অভিযান চালান।

আটক দুজন হলেন—উপজেলার দিয়ার সাহাপুর এলাকার ছাইদুল প্রামাণিকের ছেলে শাহীন প্রামাণিক (৪১) এবং চর সাহাপুর এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে জিন্নাহ হোসেন (৩১)।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আটক দুজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করেন। পরে তাঁদের পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঈশ্বরদী সার্কেলের পরিদর্শক মো. আব্দুর রহিম বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

ঈশ্বরদীতে মাদক আস্তানায় অভিযান, তিন মাদকসেবী কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে তিন মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়ে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বুধবার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান সরকারের নেতৃত্বে দিয়ার সাহাপুর, চর সাহাপুর, নতুনহাট ও রূপপুর এলাকার বিভিন্ন মাদক আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়।

দণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া এলাকার মো. রতন (৪০), নাটোরের লালপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার মো. শাহীন (৪০) এবং ঈশ্বরদী উপজেলার ইলশামারী এলাকার মো. আলমগীর (৪৪)।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে সরকারের পক্ষে মামলার বিবরণ ও অভিযোগ তুলে ধরেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঈশ্বরদী কেন্দ্রের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শের আলম। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন এবং পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পাবনা জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল মান্নাফ কবীর অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং ভবিষ্যতেও তা জারি থাকবে।

চাটমোহরে মাদকবিরোধী অভিযানে তিনজন আটক, কারাদণ্ড

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহরে পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে তিন মাদকসেবীকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন হান্ডিয়াল ইউনিয়নের বাঘলবাড়ি গ্রামের বজলুর রশিদের ছেলে ইমন আলী (২১), পার্শ্ববর্তী তাড়াশ উপজেলার মহেশ রুহালী চারালপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে শামীম উদ্দিন (২১) এবং হান্ডিয়াল ইউনিয়নের পাটিয়াতা গ্রামের ইমন আলীর ছেলে সাব্বির হোসেন (২৬)।

পরে তাঁদের চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরীর ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউর রহমান বলেন, ‘জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় চাটমোহরকে মাদক ও জুয়ামুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

ঈশ্বরদীতে ইয়াবাসহ তরুণ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ৮০টি ইয়াবাসহ সাজিম ইসলাম নয়ন (১৯) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাহাপুর ইউনিয়নের আওতাপাড়া বাজারের চেয়ারম্যান মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। নয়ন উপজেলার দীঘা পশ্চিমপাড়া এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে।

ডিবি পুলিশ জানায়, রোববার দিবাগত রাতে গোপন খবরের ভিত্তিতে পাবনা–পাকশী সড়কসংলগ্ন আওতাপাড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নয়ন পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁর শরীর তল্লাশি করে নীল রঙের একটি প্লাস্টিকের প্যাকেটে রাখা ৮০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নয়ন স্বীকার করেছেন, তিনি পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করতেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ঈশ্বরদী থানায় মামলা হয়েছে। 

ঈশ্বরদীতে ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৩৫ পিস ইয়াবাসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার ভোররাতে উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের আটঘরিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই নারী একটি বসতবাড়িতে ঢুকে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে নারী পুলিশ সদস্যের সহায়তায় তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে ৩৫ পিস ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির ৫ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নাটোর ও পাবনার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বড়াইগ্রাম, ঈশ্বরদীসহ আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া নারী হলেন নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম থানার পূর্ণকলস কলেজপাড়া এলাকার লাবনী আক্তার রাখি (৩৬)।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় একটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। 

মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন মা, কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার সাঁথিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন এক মা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই যুবককে এক বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রাজ্জাক (৩০) সাঁথিয়া পৌর এলাকার ফকিরপাড়া মহল্লার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। পরিবার ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

পুলিশ জানায়, মাদকের টাকা না পেলে আব্দুর রাজ্জাক প্রায়ই তাঁর মা ও স্ত্রীকে মারধর করতেন এবং পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করতেন। একাধিকবার তিনি মাকে বাড়ি থেকেও বের করে দেন। ছেলের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মনোয়ারা খাতুন পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে সাঁথিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে নিজ বাড়ি থেকে আব্দুর রাজ্জাককে আটক করে পুলিশ।

রোববার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিজু তামান্না ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদক সেবন ও বিক্রির অপরাধে তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফলে তাঁর মোট সাজা হয় এক বছর এক মাস।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুর রাজ্জাককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ের পর তাঁকে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলার নাগডেমড়া ইউনিয়নের ভিটাপাড়া গ্রামের ইউনুস প্রামাণিকের ছেলে সানাউল্লাহকে মাদক সেবনের দায়ে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে চার মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১২ জনের জেল-জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ১২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারা ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাঁদের মধ্যে সাতজনকে পাঁচ দিন থেকে তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে শুধু অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঈশ্বরদীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান সরকার। অভিযানে থানা-পুলিশ সহযোগিতা করে।

কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন শহরের ফতেমোহাম্মদপুর এলাকার রনি বিশ্বাস (২৩), নূরমহল্লার মো. আক্কাস (২০), পূর্ব টেংরি এলাকার বাচ্চু মিয়া (৩৫), আব্দুস সালাম তাহসিন (১৯), উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল খাঁপাড়ার মো. মিঠু (৫৫), মেরিনপাড়ার সাইফুল ইসলাম (২৭) এবং ছলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামের মো. রানা মণ্ডল (৩২)। তাঁদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮–এর ৩৬(৫) ধারায় সাজা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ছলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামের সেজান মাহমুদ বাঁধন (১৯), মাহমুদ তাসিন (২৯), সাহাপুর ইউনিয়নের মসজিদ মোড় এলাকার মো. হাফিজুল (৩০), পাকশী হরিজন কলোনির মুন্নি (৪০) এবং বহরপুর এলাকার মো. বনি (২৫)–কে মাদক আইনের আরেকটি ধারায় এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান সরকারের নেতৃত্বে এবং থানা-পুলিশের সহযোগিতায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার দিন ও রাতে পরিচালিত অভিযানে মাদক-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং পাঁচজনকে এক হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।’

ঈশ্বরদী জংশন রেলওয়ে স্টেশনকে ঘিরে গ্রামেগঞ্জে মাদকের বিস্তার

 

ইলাস্ট্রেশন: সংবাদ সাতদিন 

নিজস্ব প্রতিবেদক: শত বছরের বেশি পুরোনো ব্রিটিশ আমলে নির্মিত পাবনার ঈশ্বরদী জংশন রেলওয়ে স্টেশন ও এর আশপাশের এলাকায় মাদক কারবার, জুয়া, চুরি, পকেটমার ও ছিনতাই বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, স্টেশনসহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা এবং উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ড এবং উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা, দেশি-বিদেশি মদ, বাংলা ও চোলাই মদ সহজেই পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসরও বসছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

ভুক্তভোগী পরিবার, সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, চিলাহাটি–পার্বতীপুর–সান্তাহার–দর্শনা রেলপথের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল ঈশ্বরদী জংশন। এই রেলপথের মাধ্যমে খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, নীলফামারী ও দর্শনার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। যমুনা রেলসেতুর মাধ্যমে এটি দেশের পূর্বাঞ্চলের সঙ্গেও সংযুক্ত। ঈশ্বরদী সীমান্তবর্তী এলাকা না হলেও দর্শনামুখী রেলপথ আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগের অংশ। এ ছাড়া স্টেশন থেকে পাকশী, রূপপুর, দাশুড়িয়া, পাবনা সদর, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা ও রাজশাহী অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দর্শনামুখী রেলপথ ব্যবহার করে মাদকের চালান ঈশ্বরদীতে আসে। পরে বিভিন্ন কৌশলে সেগুলো পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা চললেও কার্যকরভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে স্টেশন এলাকায় ছিনতাই ও চুরির ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

মাদক কারবারিদের হাতে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে মো. মাসুদ মিয়া, শাহআলমসহ কয়েকজন বলেন, ঈশ্বরদী জংশন রেলওয়ে স্টেশনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, যাত্রীরা স্টেশনে নামার পর নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন।

তাঁদের অভিযোগ, পৌরসভার এলাকার নয়টি ওয়ার্ডে শক্তিশালী মাদক কারবারি ও জুয়াড়িদের একটি চক্র গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া ফতেমোহাম্মদপুর, বস্তিপাড়া, মিলপট্টি, কাচারিপাড়া, আড়ামবাড়িয়া ও পাকশীর হঠাৎপাড়া এলাকায়ও মাদক কারবারের বিস্তার ঘটেছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জংশন স্টেশন এলাকার আশপাশে নিয়মিত জুয়ার আসর বসে। মাদক ও জুয়ার অর্থ জোগাড় করতে কিছু কিশোর অপরাধচক্র চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তাঁদের আরও অভিযোগ, মাদকসেবীদের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রকাশ্যে চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধের পাশাপাশি মাদক সেবনের পর পথচারীদের সঙ্গে অসদাচরণের ঘটনাও ঘটছে।

এদিকে সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানে কয়েকটি গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। ২৪ জুন দিবাগত রাতে ঢাকা থেকে খুলনাগামী একটি আন্তনগর ট্রেনে অভিযান চালিয়ে ৭৬ বোতল কোডিনযুক্ত সিরাপসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন থানা-পুলিশ। এর আগে ১১ জুন একই ধরনের অভিযানে ১১০ বোতল কোডিনযুক্ত এসকাফ সিরাপসহ আরেক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া ২৬ জুন রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালিয়ে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে।

একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে। তাঁর দাবি, সাহাপুর মসজিদ মোড়, মন্ত্রী মোড়, আজিজলতলা, নিশীতলা, সিলিমপুর বাজার, দীঘা, তিলকপুর, রহিমপুর, তিলকপুর সরদার মার্কেট, আওতাপাড়া গার্লস স্কুলের পেছন, আওতাপাড়া বাজার, বাঁশের বাঁধা দোকান এলাকা ও স্কুলপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক বিক্রির হটস্পট গড়ে উঠেছে। উপজেলার অন্য ইউনিয়নগুলোর অবস্থাও প্রায় একই বলে তিনি দাবি করেন। এসব বিষয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও কার্যকর পরিবর্তন হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান বলেন, ঈশ্বরদী জংশন রেলওয়ে স্টেশন এলাকা মাদকমুক্ত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা, সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে। মাদক কারবারি ও জুয়াড়িরা যতই প্রভাবশালী হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে অনেক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় মাদক ব্যবসায়ী ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বলেন, মাদকের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে হেরোইনসহ গ্রেপ্তার ৩, মোটরসাইকেল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বিশেষ অভিযানে ৩০ গ্রাম হেরোইনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে মাদক বিক্রির নগদ টাকা এবং একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার গভীর রাতে ঈশ্বরদী বাস টার্মিনাল এলাকায় এই অভিযান চালায়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার মো. মামুন হোসাইন (২৫), নাটোরের লালপুর উপজেলার মো. মোহন আলী (১৯) এবং একই উপজেলার নবীনগর গ্রামের মো. অনিক মাহমুদ (২০)।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডিবির একটি বিশেষ দল মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে একটি সন্দেহভাজন মোটরসাইকেলে তল্লাশি করে ৩০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করে। একই সঙ্গে মাদক বিক্রির নগদ টাকা এবং মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়।

পাবনা ডিবি পুলিশের ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পরস্পরের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় হেরোইন কেনাবেচা ও সরবরাহের কথা স্বীকার করেছেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পাবনার পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। জেলা থেকে মাদক নির্মূলে ডিবি পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই চক্রের অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন