কৃষি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কৃষি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে শৈত্যপ্রবাহে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতির মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে টানা ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের বীজতলা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সাধারণত তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে বোরোসহ প্রায় সব ধরনের ফসলের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলতি পৌষ মাসের শুরু থেকেই এই এলাকায় তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

গত ৭ জানুয়ারি, বুধবার এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ পৌষের শুরুতে তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি। প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে বোরো ধানের কচি চারাগুলো তাদের সতেজ সবুজ রং হারিয়ে ধীরে ধীরে কুঁকড়ে হলুদাভ হয়ে যাচ্ছে।

কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে ৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। বাকি জমিতে এখনো চারা দেওয়া যায়নি। যেটুকু বীজতলা তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশই শৈত্যপ্রবাহের কারণে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। এই অবস্থা আরও এক সপ্তাহ চলতে থাকলে চারাগুলো আর রোপণের উপযোগী থাকবে না।

কৃষকরা জানিয়েছেন, বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরও চারাগুলোকে হলদে হওয়া থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। কৃষি বিভাগ থেকে বীজতলা ঢেকে রাখা, প্রতিদিন সকালে চারা থেকে কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা, নিয়মিত সেচ দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ১৫ দিন ধরে এই এলাকায় টানা তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা চলছে। এই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি থেকে নেমে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে ঠেকেছে। বর্তমানে এলাকায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

উমিরপুর গ্রামের কৃষক আদম আলী বলেন, ‘চারা রোপণের উপযোগী হওয়ার আগেই হলুদ হয়ে যাচ্ছে। কুয়াশার প্রভাব কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না।’

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন জানান, তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রির নিচে নামলে বীজতলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রার ৪৫ হেক্টরের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৮ হেক্টরে বোরো চারা তৈরি হয়েছে। বীজতলা রক্ষার জন্য কৃষকদের নিয়মিত সেচ দেওয়া, কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা, সালফারজাতীয় ছত্রাকনাশক ব্যবহার এবং রাতে সাদা পলিথিন দিয়ে চারা ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

ঈশ্বরদীতে এক দশকে আবাদি জমি কমেছে ৬৪৮ হেক্টর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে যত্রতত্র কলকারখানা নির্মাণ, তিন ফসলি জমিতে বসতি স্থাপন, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহনের কারণে গত এক দশকে চাষযোগ্য জমি কমেছে প্রায় ৬৪৮ হেক্টর। এতে প্রতি বছরে কেবল ধানের উৎপাদনই কমেছে ৯৩৫ মেট্রিক টন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে মোট ফসলি জমি ছিল ১৮,২৪৯ হেক্টর, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১৭,৬০১ হেক্টরে। উপজেলার চরাঞ্চলের (পাকশী, লক্ষীকুন্ডা, নবীনগর) বিতৃর্ণ এলাকার ফসলি জমির সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইটভাটার কারণে। উপজেলায় মোট ৪৯টি বৈধ ও অবৈধ ইটভাটা রয়েছে, যা প্রতি বছর প্রায় ১৭০ হেক্টর চাষযোগ্য জমি নষ্ট করছে।

রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের জন্যও ২৯৪ একর জমি অধিগ্রহণ হয়েছে, যেখানে এক সময় গম, সবজি, ডাল ও তৈলজাতীয় শস্য উৎপাদন হতো, এখন সেখানে আবাসন গড়ে উঠেছে। এছাড়া অরকোলা মাঠ, বাঘহাছলা, মুলাডুলি, খয়েরবাড়িয়া, পতিরাজপুর ও আরকান্দি এলাকায় বিস্তীর্ণ তিন ফসলি জমিতে ছোট ছোট আবাসন ও মিল কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানা ও আশেপাশে খনন করা পুকুরের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যা ফসলি জমি ধ্বংস করছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত দশকে শুধু ধান ও সবজির জমি কমেছে ১৫০ থেকে ১৭০ হেক্টর। ফলে এ অঞ্চলে খাদ্য উৎপাদন কমেছে প্রায় ৯,৩৫০ মেট্রিক টন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, রাজশাহী-ঢালারচর রেলপথ নির্মাণ ও খামার স্থাপনের কারণে তিন ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অরণকোলা মাঠে খামারের জন্য পুকুর খনন এবং জলাবদ্ধতার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই ধান তলিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে উৎপাদন ব্যাপক হারে কমছে।

কৃষি জমি সুরক্ষা আইনের খসড়ায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকার জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশের সকল কৃষিজমি শুধু কৃষি কাজে ব্যবহার করতে হবে এবং কৃষি জমিতে স্থাপনা নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। দুই বা তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনো কাজ করা যাবে না।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন বলেন, ফসলি জমিতে আবাসন ও অন্যান্য কাজের আগে স্থানীয় কৃষি অফিসের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। জনসচেতনতা ছাড়া কৃষি জমির অপচয় রোধ সম্ভব নয়। নইলে দ্রুত ফসলি জমি কমার কারণে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতির সমস্যা দেখা দেবে।

আলুর দাম না বাড়ায় বিপাকে ঈশ্বরদীর কৃষক-ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: কম দামে কিনে শত শত মণ আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। গত মার্চ মাস থেকে সংরক্ষিত ওই আলু এখন তাদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। লাভের আশায় রাখা আলু বিক্রি করতে গিয়ে এখন লাখ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা। হিমাগারে সংরক্ষণের সময় ফুরিয়ে আসছে। কিন্তু বাজারে দাম বাড়ার কোনো লক্ষণ নেই। এতে উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন সংরক্ষণকারীরা।

জানা গেছে, গত বছর দেশে আলুর উৎপাদন হয়েছিল চাহিদার দ্বিগুণেরও বেশি। উৎপাদন বেশি হওয়ায় তখন আলুর দাম ছিল একেবারেই কম। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে দাম বাড়বে- এ আশায় আলু কম দামে কিনে হিমাগারে রাখেন। কিন্তু এ বছর বাজারে দাম বৃদ্ধি না পাওয়ায় পরিস্থিতি উল্টো হয়েছে। অনেকেই জানাচ্ছেন, এবার আলুর দাম এতটাই কম যে, সংরক্ষিত আলু বেচে মূলধনও উঠবে না।

ঈশ্বরদীতে রয়েছে ‘আলহাজ আহম্মদ আলী হিমাগার’। যার ধারণক্ষমতা ৬৫ হাজার বস্তা বা প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টন। ঈশ্বরদীতে বাণিজ্যিকভাবে আলু উৎপাদন কম হলেও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে আলু এনে সংরক্ষণ করেন।

হিমাগারটি ঘুরে দেখা যায়, হিমাগার ভর্তি হাজার হাজার বস্তা আলু। শ্রমিকরা ব্যস্ত বাছাই ও স্থানান্তরের কাজে। একদল নারী শ্রমিক আলু পরিষ্কার করছেন। হিমাগারের মালিক রুহুল ইসলাম মন্টু বলেন, ‘আমাদের হিমাগারের ধারণক্ষমতা ৬৫ হাজার বস্তা। এবার রাখা হয়েছে ৬০ হাজার বস্তা। প্রতি বছর এই সময়ের মধ্যে চার ভাগের তিন ভাগ আলু বেচা হয়ে যায়। কিন্তু এবার অর্ধেকও হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘৬০ হাজার বস্তার মধ্যে এখনো ৪২ হাজার বস্তা আলু হিমাগারে রয়েছে। মাত্র ১৮ হাজার বস্তা বের হয়েছে। এবারের মতো এমন পরিস্থিতিতে আমরা কখনো পড়িনি। কেউই আগে লোকসানে পড়েনি। কিন্তু এবার অনেকে আলু বেচে বিনিয়োগের অর্ধেক টাকাও ফিরে পাবেন না।’

রুহুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ঈশ্বরদীতে আলু উৎপাদন কম হলেও ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, নাটোর, রাজশাহী ও বাঘা এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এখানে আলু সংরক্ষণ করে থাকেন। এখন তারা সরকার থেকে কোনো সুসংবাদের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিছুদিন আগে সরকার হিমাগার গেটে প্রতি কেজি আলুর দাম ২২ টাকা নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করেছিল। কিন্তু বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।’

স্থানীয় সবজি ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, তিনি চার গাড়ি আলু কিনে ঈশ্বরদীর হিমাগারে রেখেছিলেন। আশা ছিল, ‘গতবারের মতো ৮০ টাকা না হলেও অন্তত ৪০ টাকা কেজি পাওয়া যাবে।’ কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। গত সপ্তাহে তাকে লোকসানে এক গাড়ি আলু বেচতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দাম না বাড়লে বাকি আলুও লোকসানে বেচতে হবে। এতে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’

হিমাগার মালিকদের আশঙ্কা, নির্ধারিত সময়ের (নভেম্বর) পরে আলু রাখা সম্ভব হবে না। তখন সবাই কম দামে বেচতে বাধ্য হবেন। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি হিমাগার মালিকরাও বিপাকে পড়বেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে চাহিদার ঘাটতি এবং রপ্তানির অনিশ্চয়তার কারণে আলুর দাম স্থিতিশীল হতে পারছে না। সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর না হলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়বে।

অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, আলু উৎপাদনে পরিশ্রম ও খরচ অনেক বেশি। তাই বিক্রির সময় সঠিক দাম না পেলে চাষে উৎসাহ কমে যায়। তাদের দাবি, সরকার যেন রপ্তানি বাড়ায় এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে স্থিতিশীল দাম নিশ্চিত করে।

ঈশ্বরদীতে শত্রুতা করে গাজরের ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে শত্রুতা করে দুর্বৃত্তরা তিন বিঘা জমির গাজর নষ্ট করেছে। শুক্রবার ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলামের ক্ষেতের এই ঘটনা ঘটে। এতে তিনি ব্যাপক আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

রবিউল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাঠ দেখার পর বাড়ি ফিরে যান। শুক্রবার সকালে মাঠে আসতে পারেননি। বিকেলে মাঠে গিয়ে দেখেন, তার সব গাজর ‘মারা’ বিষ ছিটিয়ে পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, রাতের আঁধারে আমার সঙ্গে শত্রুতা করে কেউ আমার ক্ষেত নষ্ট করেছে। আমি একজন ক্ষুদ্র চাষি। বীজ, সার ও কীটনাশকের দোকান থেকে বাকি টাকা দিয়ে এবার গাজর রোপণ করেছিলাম। চারা ভালোই হয়েছে। আশা করছিলাম প্রতি বিঘা গাজর এক লাখ বিশ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারব। কিন্তু দুর্বৃত্তরা সেই স্বপ্ন ছিনিয়ে নিয়েছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, কৃষকের তিন বিঘা জমির গাজর শত্রুতা করে বিষ প্রয়োগ করে পুড়িয়ে দেওয়া খুবই দুঃখজনক। একজন চাষি নিজের ফসলকে সন্তানের মতো লালন করে। তাদের প্রধান পেশা কৃষি, আর এই ফসলের মাধ্যমে তারা সংসার চালায়। হয়তো পুরো ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, তবুও আমাদের কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত রবিউল ইসলামের সহায়তার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে।

ঈশ্বরদীতে পাটের মৌসুম, চাষি ও নারীরাও মাঠে ব্যস্ত


নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বর্ষায় নদ-নদী ও খাল-বিলে যথাসময়ে পানি আসায় ঈশ্বরদীতে পাট কাটা, জাগ দেওয়া, পাটের আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ এখন তুঙ্গে। উপজেলার পাটচাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন, আর বাড়তি আয়ের আশায় স্থানীয় নারীরাও পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে যুক্ত হয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মুলাডুলি, দাশুড়িয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে নারীরা নিজেদের জমির পাশাপাশি অন্যের পাটের আঁশ ছাড়িয়ে পাটখড়ি সংগ্রহ করছেন। খাল-বিল ও রাস্তার পাশে নারীদের পাট ছাড়ার দৃশ্যও চোখে পড়ে। তারা পাটখড়ি আঁটি হিসেবে বিক্রি করছেন বা রান্নার জ্বালানি ও গৃহস্থালিতে ব্যবহার করছেন। অনেক নিম্নবিত্ত পরিবারের গৃহিণী দলবেঁধে খোলা জায়গায় বসে পাট ছাড়ার কাজ করছেন।

কৃষকরা অনেক জায়গায় পাটের আঁশ ছাড়াতে আলাদা মজুরি দিচ্ছেন না। নারীরা পাট গাছ থেকে পাট আলাদা করে পাটখড়ি নিয়ে বাড়িতে শুকিয়ে আশপাশের হাট বা পাইকারের কাছে বিক্রি করছেন। উপজেলা জুড়ে মুলাডুলি, দাশুড়িয়া, সাহাপুর, লক্ষীকুন্ডা, সাঁড়া ও ঈশ্বরদী বাইপাস স্টেশন এলাকায় সবচেয়ে বেশি পাট চাষ হয়।

গত বছর পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এবার পাট খেত ও সংলগ্ন খাল-বিলে জাগ দেওয়া সম্ভব হওয়ায় পরিবহন খরচ কমেছে। এবছর বিভিন্ন হাটে পাটের দাম মণপ্রতি ২৮০০–৩০০০ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ২০০–৩০০ টাকা কম। তবে ভালো ফলনের কারণে চাষীরা ভালো মুনাফা আশা করছেন। অনেকে অধিক লাভের আশায় পাট মজুত করে রাখছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩৬৫ হেক্টর জমিতে মেস্তা পাটসহ বিভিন্ন জাতের পাট চাষ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হেক্টর কম। তবে আগাম বৃষ্টিপাতের কারণে চাষিরা পাট কেটে খেতের আশেপাশেই জাগ দিতে পারছেন, ফলে পরিবহন খরচও কমেছে।

ঈশ্বরদীতে গবাদিপশুর খাবার সংরক্ষণের কৌশল শিখলেন খামারিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে গরুর খাবার ও তা সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়ে মাঠ দিবস হয়েছে। বুধবার বিকেলে মুলাডুলি ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রায় ৪০ জন খামারি হাতে-কলমে শিখেছেন কীভাবে কাঁচা ঘাস ব্যবহার করে সাইলেজ তৈরি করা যায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ.কে.এস.এম. মুশাররফ হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘উবিনীগ’ ও ‘শস্য প্রবর্তনা’র ব্যবস্থাপক মোছা. আজমেরী খাতুন, ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন, এলইও ডা. মো. আহাদ, এলএফএ মো. নবীনসহ স্থানীয় ডেইরি খামারিরা।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের সামনে ঘাস কেটে সাইলেজ তৈরির প্রতিটি ধাপ দেখানো হয়। এতে খামারিরা সরাসরি পদ্ধতিটি অনুশীলনের সুযোগ পান।

ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন বলেন, ‘সাইলেজ হলো কাঁচা ঘাস সংরক্ষণের একটি কার্যকর উপায়। বর্ষার সময় মাঠে পানি জমে গেলে সবুজ ঘাসের সংকট দেখা দেয়। তখন সংরক্ষিত খাবার ব্যবহার করলে গরুর পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়, যা দুধের উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক।’

ঈশ্বরদীতে কৃষকদের জন্য দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ঈশ্বরদীতে কৃষকদের জন্য দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে। রোববার উপজেলা কৃষক প্রশিক্ষণ মিলনায়তনে এর আয়োজন করা হয়।

কর্মশালার প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা রানী সরকার। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, 'ভালো ফলনের জন্য সঠিক কৃষি পদ্ধতি জানা জরুরি। এতে কৃষকদের উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি আয়ও বাড়বে।'

এ সময় অন্যদের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহমুদা মোতমাইন্ন, কৃষিবিদ প্রহল্লাদ কুমার কুন্ডু এবং কৃষিবিদ মো. ধীমান তানভীর উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণে ৫০ জন কৃষক, কৃষাণী ও উদ্যোক্তা অংশ নেন। তাদের হাতে-কলমে সঠিক কৃষি চর্চা, এর সুবিধা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি, ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিকার, খামারের সঠিক পরিকল্পনা এবং কৃষি খামারের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

ঈশ্বরদীতে ৩৫০ কৃষক পেলেন আউশ ধানের বীজ ও সার

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি প্রণোদনার অংশ হিসেবে ঈশ্বরদীতে ৩৫০ জন প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনা মূল্যে আউশ ধানের বীজ ও সার বিতরণ শুরু হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদত হোসেন খান। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রল্লদ কুমার কুণ্ডু, কৃষি কর্মকর্তা তানভীর স্বাক্ষর ও উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা এখলাছুর রহমান।

প্রতিটি কৃষক পাচ্ছেন ৫ কেজি উফশী আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার।

উপজেলার মোট সাতটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার কৃষকেরা এই সহায়তা পাচ্ছেন। এর মধ্যে মুলাডুলিতে ১০০ জন, দাশুড়িয়ায় ৫০, লক্ষ্মীকুণ্ডায় ৫০, পৌর এলাকায় ৫০, সলিমপুরে ৩০, পাকশীতে ৩০, সাড়ায় ৩০ ও সাহাপুর ইউনিয়নে ১০ জন কৃষক এই প্রণোদনার আওতায় এসেছেন।

কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকার বলেন, 'কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং প্রান্তিক কৃষকদের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ। আমরা চাই, কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে।'

ঈশ্বরদীতে প্রথমবারেই মৌরি চাষে নতুন স্বপ্ন বুনছে কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে এবারই প্রথমবারের মতো চাষ হলো মৌরি মসলা। উপজেলার ইস্তা গ্রামের কৃষক আনিসুর রহমান নিজ উদ্যোগে এবং কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ১০ শতক জমিতে এই মৌরি আবাদ করেন। রোববার সরজমিনে দেখা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এই আবাদ হয়েছে। জমির পাশে একটি সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে। তাতে মৌরির জাত, কৃষকের নাম, জমির পরিমাণসহ প্রদর্শনীর তথ্য দেওয়া আছে।

জানতে চাইলে আনিসুর রহমান জানান, ‘এই এলাকায় আগে কখনো মৌরি চাষ হয়নি। নতুন কিছু করার আগ্রহ থেকেই শুরু করি। কৃষি বিভাগ বারী-১ জাতের বীজ ও পরামর্শ দিয়েছে। ডিসেম্বরের শুরুতে বপন করি। এখন পর্যন্ত গাছের বৃদ্ধি ভালো। আশা করছি ফলনও ভালো হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘খরচ হয়েছে চার-পাঁচ হাজার টাকার মতো। এখনো কাটা হয়নি, তাই লাভের হিসাব মেলানো যাচ্ছে না। তবে যেভাবে গাছ বেড়েছে, তাতে মনে হচ্ছে এই মসলার সম্ভাবনা অনেক। 

যদি লাভজনক হয়, আগামীতে আরও বড় পরিসরে আবাদ করব।’ স্থানীয় আরেক কৃষক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘আমি আগে কখনো ভাবিনি এই জমিতে মৌরি চাষ করা যাবে। আনিসুর শুরু করার পর আমরা প্রতিদিন মাঠে গিয়ে দেখেছি কীভাবে গাছ বড় হচ্ছে। ফলন দেখে উৎসাহ পাচ্ছি আমরাও। যদি ভালো দাম পাওয়া যায়, তাহলে আমি নিজেও আগামী মৌসুমে চাষ করতে আগ্রহী।’

প্রদর্শনী পর্যবেক্ষণে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুজন কুমার রায় বলেন, ‘বীজ ও সার প্রকল্প থেকে দেওয়া হয়েছে। মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, ফলন আশানুরূপ হবে। প্রতি বিঘায় ৪ থেকে ৫ মণ ফলন পাওয়া যেতে পারে।’ ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিতা সরকার জানান, ‘দেশে মসলার চাহিদা অনেক। তাই আমদানিতে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়। সেই ব্যয় কমাতেই স্থানীয় পর্যায়ে মসলা উৎপাদনের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে ঈশ্বরদীতে কালোজিরা, ধনিয়া ও তেজপাতার আবাদ হচ্ছে। এবার শুরু হলো মৌরি চাষ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বারী-১ জাতটি উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। আমরা সেই জাতের বীজ সরবরাহ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে, কৃষকরা আগ্রহী হলে আগামীতে এর আবাদ আরও বাড়ানো হবে।’

আমন ও বোরোতে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলমান ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমন ধান কাটা চলছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৮২ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। এবার ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। 

এ বছর আমন মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ মেট্রিক টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমনে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টন আর ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ কোটি ৫০ লাখ টন চাল উৎপাদিত হয়েছিল।

অন্যদিকে, আসন্ন বোরো মৌসুমে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ৫০ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর ও ২ কোটি ২২ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

১৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সরকারি এক তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, প্রায় সাড়ে ২৯ লাখ কৃষকের মাঝে ১৯৮ কোটি টাকার সার, বীজসহ বিভিন্ন প্রণোদনা বিনামূল্যে বিতরণ কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে চলমান আছে। 

উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ভালো হওয়ার কারণে ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো চাল আমদানি করার প্রয়োজন হয়নি।

অতিরিক্ত দামের আশায় অপরিপক্ব পেঁয়াজ তুলছে কৃষক


নিজস্ব প্রতিবেদক: বাজারে পেঁয়াজের মূল্য আকাশছোঁয়া। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। ফলে খোলা বাজারের বিক্রেতারাও বাধ্য হচ্ছেন দাম বাড়াতে। আর অসহায় ক্রেতা বাধ্য হচ্ছে বেশি দামে সেই পেঁয়াজ কিনতে।

এ অবস্থায় বেশি দাম পেতে কৃষকও ক্ষেতের অপরিপক্ব পেঁয়াজ তুলে ফেলছেন বিক্রির জন্য। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

রাজবাড়ি জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় ক্রেতাদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ পড়েছে। কিন্তু একই সময় বিক্রেতা এবং কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। কখনো ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বাক-বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। তবে পর্দার আড়ালে থেকে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের গডফাদার ও সদস্যদের নাম।

এদিকে বাজারে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ দাম হওয়ায় অনেক কৃষক সময়ের চেয়ে অনেক আগে পেঁয়াজ উঠিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন। এতে কৃষক ভালো মূল্য পেলেও উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মো. ইউসুফ খাঁ নামের এক কৃষক বলেন, প্রতিবছর পেঁয়াজ-রসুনে লোকসান হয়। এবার বাজারে বেশি দাম হওয়ায় আমরা পেঁয়াজ উঠাতে শুরু করেছি। কারণ পরে দাম কমে যেতে পারে।

পেঁয়াজ অসময়ে উঠালে উৎপাদন কমে যাবে এমন প্রশ্নে এই কৃষক বলেন, ‘পরে আমরা ন্যায্যমূল্য পাব, এই নিশ্চয়তা কে দেবে? পেঁয়াজের সঠিক দামের নিশ্চয়তা পেলে অসময়ে পেঁয়াজ উঠাতাম না। বাজারে বেশি দাম থাকায় লাভের আশায় ১৫ দিন আগে পেঁয়াজ উঠাতে শুরু করেছি।’

হাসিনা নামের আরেক নারী কৃষক বলেন, তিনি ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ লাগিয়েছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ৫৫-৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। বর্তমান দাম আর কিছুদিন থাকলে কৃষক এবার কিছুটা লাভবান হবেন। তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজ ভালো করে পাকলে বিঘাপ্রতি ৭০-৮০ মণ হবে। এখন উঠালে বিঘাপ্রতি ৫০-৬০ মণ হবে। তবে এই দাম তখন আমরা পাব না। তাই আমরা অগ্রিম পেঁয়াজ উঠিয়ে বাজারে বিক্রি করছি।’

মো. হাসেম শেখ নামের এক কৃষক বলেন, ‘বর্তমান বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন সংবাদে এক বিঘা জমির পেঁয়াজ উঠিয়ে বিক্রি করেছি। তিনি বলেন, এখনো ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ রয়েছে। এমন দাম থাকলে সব পেঁয়াজ উঠিয়ে বিক্রি করব।’

এই কৃষক আরও বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে কারসাজি এর আগেও হয়েছে। সিন্ডিকেট না ধরে কৃষকের কাছে এলে কী হবে? পেঁয়াজের কারসাজি বন্ধ করতে হলে অবশ্যই সিন্ডিকেট ধ্বংস করতে হবে। আইনের আওতায় সিন্ডিকেট গডফাদারদের নিয়ে আসতে হবে।

গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোকন উজ্জামান বলেন, আর ১০-১৫ দিন পর পেঁয়াজগুলো কৃষকরা তুললে তারা আরও বিঘাপ্রতি ১-১৫ মণ বেশি পেত, কিন্তু তারা লাভের আশায় এখনই পেঁয়াজ তুলে বাজারজাত করছে। অসময়ে অপরিপক্ব পেঁয়াজ উঠালে কিছুটা উৎপাদন কমে গেলেও কৃষক সরাসরি বেশি দাম পাবে। আবার এই জমিতে পেঁয়াজ উঠিয়ে হালি পেঁয়াজ অথবা ভুট্টা লাগাতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু পেঁয়াজ নয়, যেকোনো ফসলে বেশি দাম পেলে কৃষক-চাষি উৎসাহ পাবে। তবে সিন্ডিকেট নয়, সরাসরি কৃষক দাম পেলেই উৎপাদন বেশি হবে।

নিম্নচাপ আতঙ্কে ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত উপকূলের কৃষকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকরা। কিন্তু হঠাৎ আবহাওয়া অফিসের দুঃসংবাদে আতঙ্ক বিরাজ করছে কৃষকদের মাঝে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হওয়া নিম্নচাপ রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড়ে এমন সংবাদের ভিত্তিতে ধান কাটা, মাড়াই দেওয়া এবং ধান ঘরে তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার হাজারো কৃষক।

২৯ নভেম্বর বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, ধান কাটতে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কেউ কাটাচ্ছেন মেশিনের মাধ্যমে কেউ আবার কাটাচ্ছেন মানুষ দিয়ে। অনেকে আবার খেতে বসেই বিক্রি করে দিচ্ছেন ধান। ধান কাটার এত তাড়াহুড়ো সবই সমুদ্রে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপকে কেন্দ্র করে।

উপজেলার কুয়াকাটা এলাকার কৃষক  হাফিজ সিকদার বলেন, ১৭ নভেম্বর ঘুর্ণিঝড় মিধিলিতে খেতের অনেক ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তাই এখন খেতে যা আছে তা লোকজন দিয়ে কাটায়ে নিচ্ছি। কাটা হয়ে গেলে সব বিক্রি করে দেব। আবহাওয়া খারাপ হওয়ার আগে বিক্রি করতে না পারলে পুরো চালানসহ ক্ষতি হয়ে যাবে।

একই চিত্র দেখা গেছে উপজেলার, লতাচাপলী, মহিপুর, নীলগঞ্জ, ধুলাসর, ধানখালী, চম্পাপুর, টিয়াখালী, ডালবুগঞ্জসহ পুরো উপকূলে। ধান কাটা, মাড়াই করা এমনকি বেচা-বিক্রিও শুরু হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই রয়েছেন নিম্নচাপ আতঙ্কে,এমনটাই বলছিলেন কৃষকরা।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, দক্ষিণ আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও আরও ঘনীভূত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, নভেম্বর মাস সাইক্লোন প্রবণ মাস। জলবায়ুগত কারণে এই লঘুচাপ ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় মিগজাউমে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার এ আর এম সাইফুল্লাহ বলেন, ইতোমধ্যে পুরো উপজেলায় ধানকাটা শুরু হয়ে গেছে। আমরা আবহাওয়া অফিসের সতর্ক বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি ধান কেটে ঘরে নেওয়ার জন্য। তবে এখনো অনেক জায়গায় ধান পুরোপুরি পাকেনি। তবে আবহাওয়া খারাপ হলে এই সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে কৃষকদের। তাই পুরো উপজেলায় কৃষকরা ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বোরোতে উফশী ধানের উৎপাদন বাড়াতে ১০৮ কোটি টাকার প্রণোদনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছর বোরো মৌসুমে উচ্চফলনশীল জাতের ধানের আবাদ ও উৎপাদন বাড়াতে ১০৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়।  

এর আওতায় সারা দেশের ১৫ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক প্রণোদনা পাবেন। একজন কৃষক এক বিঘা জমিতে চাষের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ কেজি উফশী জাতের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে পাবেন। 

সোমবার এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে শিগগিরই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

এর আগে গতমাসে প্রথম ধাপে বোরোতে হাইব্রিড জাতের ধানের উৎপাদন বাড়াতে ৯০ কোটি টাকার প্রণোদনার আদেশ জারি হয়। এসব প্রণোদনা মাঠ পর্যায়ে বিতরণ চলছে। 

সব মিলিয়ে দুই ধাপে বোরোতে প্রণোদনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯৮ কোটি টাকা। সুবিধাভোগী কৃষকের সংখ্যা দাঁড়াল প্রায় সাড়ে ২৯ লাখ।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন