নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে টানা ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে বোরো ধানের বীজতলা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, সাধারণত তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে বোরোসহ প্রায় সব ধরনের ফসলের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলতি পৌষ মাসের শুরু থেকেই এই এলাকায় তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
গত ৭ জানুয়ারি, বুধবার এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ পৌষের শুরুতে তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি। প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশার প্রভাবে বোরো ধানের কচি চারাগুলো তাদের সতেজ সবুজ রং হারিয়ে ধীরে ধীরে কুঁকড়ে হলুদাভ হয়ে যাচ্ছে।
কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে ঈশ্বরদীতে ৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৮ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। বাকি জমিতে এখনো চারা দেওয়া যায়নি। যেটুকু বীজতলা তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশই শৈত্যপ্রবাহের কারণে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। এই অবস্থা আরও এক সপ্তাহ চলতে থাকলে চারাগুলো আর রোপণের উপযোগী থাকবে না।
কৃষকরা জানিয়েছেন, বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরও চারাগুলোকে হলদে হওয়া থেকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। কৃষি বিভাগ থেকে বীজতলা ঢেকে রাখা, প্রতিদিন সকালে চারা থেকে কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা, নিয়মিত সেচ দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ১৫ দিন ধরে এই এলাকায় টানা তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা চলছে। এই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি থেকে নেমে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রিতে ঠেকেছে। বর্তমানে এলাকায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
উমিরপুর গ্রামের কৃষক আদম আলী বলেন, ‘চারা রোপণের উপযোগী হওয়ার আগেই হলুদ হয়ে যাচ্ছে। কুয়াশার প্রভাব কোনোভাবেই কমানো যাচ্ছে না।’
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন জানান, তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রির নিচে নামলে বীজতলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রার ৪৫ হেক্টরের মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৮ হেক্টরে বোরো চারা তৈরি হয়েছে। বীজতলা রক্ষার জন্য কৃষকদের নিয়মিত সেচ দেওয়া, কুয়াশা ঝেড়ে ফেলা, সালফারজাতীয় ছত্রাকনাশক ব্যবহার এবং রাতে সাদা পলিথিন দিয়ে চারা ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’


.jpg)



.jpg)






.jpg)
