সংবাদ সম্মেলন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সংবাদ সম্মেলন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে সভাপতি না পেয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে পোস্ট, স্থানীয় নেতাদের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পদ ঘিরে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে 'অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ' এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম শরীফ। 

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

অভিযোগকারী শরীফুল ইসলামের দাবি, অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কমিটির সভাপতি হিসেবে তসলিম আরিফ তুষারকে নির্বাচিত করেছেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।

শনিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জেলা বিএনপির আহ্বায়ককে উদ্দেশ্য করে শরীফুল লেখেন, ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার স্বজনকে মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি করতে পদটি কত টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে এই পোস্ট আসার পর থেকেই পক্ষ-বিপক্ষে নানা মন্তব্য করতে থাকেন স্থানীয় রাজনীতিকেরা।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শরীফুল ইসলাম ইতিপূর্বে বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের এডহক কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে এবার অভিভাবকেরা তাঁকে কমিটিতে রাখেননি। পদ হাতছাড়া হওয়ার ক্ষোভ থেকেই তিনি জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়েছেন। লেনদেনের কোনো প্রমাণ তিনি দিতে পারবেন না উল্লেখ করে নেতারা জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শরীফুলকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দাবি জানানো হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল হক সন্টু সরদার, সাবেক সদস্যসচিব আজমল হোসেন সুজন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন, সাবেক চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান, বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান মুকুল, নবনির্বাচিত সভাপতি তসলিম আরিফ তুষার, কৃষক দলের সদস্যসচিব মইনুল হক সরদার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন ও হাবিবুর মহলদারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতাদের সংবাদ সম্মেলন, পরে গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতিতে প্রস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঝুটবোঝাই দুটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।  মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার দিয়ার বাঘাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নুরুন্নবী আলমকে প্রধান আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জিয়াউল হাসান বিপ্লব।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার রূপপুর কড়ইতলা এলাকায় নিজেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত পক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে নুরুন্নবী লিখিত বক্তব্যে জানান, ঝুট ব্যবসার অংশীদারত্বের ভিত্তিতে তাঁরা প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। তবে চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ বা আসল মূলধন—কোনোটিই তাঁরা পাননি। পাওনা অর্থ দাবি করায় ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় ঘোরাতে তাঁদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছে এবং গণমাধ্যমে তাঁদের 'ডাকাত' হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। এ সময় জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে সংবাদ সম্মেলন চলাকালেই পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রধান আসামি নুরুন্নবীসহ অন্য অভিযুক্তরা সেখান থেকে দ্রুত সরে যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, ডাকাতির ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতেই গাছপাড়া এলাকা থেকে অপহৃত ট্রাক দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। মামলায় নুরুন্নবীসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার আসামি মো. নিজামকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

এনসিপি নেতাদের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি পাবনা বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও শ্রমিক নেতা অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে সারোয়ার আলম তুষার ও সারজিস আলমকে পাবনায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাবনা জেলা বিএনপি।

সোমবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপির নেতারা এ হুঁশিয়ারি দেন।

পাবনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় গুলিবর্ষণে দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জেলা বিএনপি।

লিখিত বক্তব্যে পাবনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার বলেন, গত ৯ জুলাই এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ও মুখ্য আহ্বায়ক সারোয়ার আলম তুষার পাবনা সদর ও চাটমোহরে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। একটি গণতান্ত্রিক দলের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে আগে থেকেই অবহিত করা হয়েছিল এবং বিএনপির পক্ষ থেকে সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখা হয়।

তিনি বলেন, ওই সফরের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। এসব বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

মাসুদ খন্দকার আরও বলেন, এনসিপির দুই নেতাকে অবিলম্বে এসব বক্তব্য প্রত্যাহার করে শিমুল বিশ্বাস ও পাবনাবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় পাবনার মানুষ তাঁদের কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে দেবে না এবং অবাঞ্ছিত ঘোষণা করবে।

এনসিপির নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে জামায়াতের বক্তব্যের মিল রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মাসুদ খন্দকার। তিনি বলেন, ‘দুই দলের বক্তব্যের ভাষায় অনেক মিল রয়েছে। কে কোন সুরে কথা বলছে, তা জনগণ বুঝতে পারছে।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জহুরুল ইসলাম বাবু, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মান্নান মাস্টার, যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল হক বাবু, নুর মোহাম্মদ মাসুম বগা, আবু ওবায়দা শেখ তুহিন, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোসাব্বির হোসেন সঞ্জু ও বর্তমান আহ্বায়ক ইলিয়াস আহমেদ হিমেল রানাসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ৯ জুলাই পাবনা সফর শেষে ১০ জুলাই নাটোরে এক পদযাত্রায় এনসিপির মুখ্য আহ্বায়ক সারোয়ার আলম তুষার অভিযোগ করেন, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পাবনায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ করে দুই শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ খান ওরফে সাঈদ চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন।

একই অভিযোগ তুলে ওই দিন সারজিস আলম তাঁর ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন।

ঈশ্বরদীতে দোকান থেকে ব্যাটারি চুরি, পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে একটি যৌথ মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ইজিবাইকের ৮১টি ব্যাটারি চুরির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। ৬ জুলাই, সোমবার রাত ৮টায় উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের বড়ইচারা হাটে অবস্থিত ‘থ্রি স্টার ব্যাটারি হাউজ’ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের তিন মালিক জাকারিয়া সুমন, জামিলুর রহমান সবুজ ও আরিফুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে জামিলুর রহমান সবুজ জানান, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর রাতে থ্রি স্টার ব্যাটারি হাউজের সাটার ভেঙে ইজিবাইকের ৮১টি ব্যাটারি, নগদ টাকা ও সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্কসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়। এ ঘটনায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা করা হয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মামলার পর দীর্ঘ ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশের কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা মেলেনি। তদন্ত কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেননি এবং কোনো আলামতও সংগ্রহ করেননি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়,  ২৮ মে এলাকার ‘জাবির ট্রেডার্স’ নামের আরেকটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেও প্রায় দুই লাখ টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি হয়। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ঘটনার সঙ্গেই জড়িত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা দফায় দফায় বদলি হওয়ার কারণে থ্রি স্টার ব্যাটারি হাউজের চুরির মামলার তদন্তে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ এখন কাজ করছে।

ঈশ্বরদীতে জমি বিরোধে যুবককে কুপিয়ে জখম, মামলা করায় হুমকির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে জমিজমা নিয়ে পুরোনো বিরোধের জেরে মতিউর রহমান অন্তর (২৯) নামের এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তাঁর মাথা, হাত ও পায়ে গভীর ক্ষত হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাজদিয়া পশ্চিম খাঁপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আহত অন্তরের স্বজনেরা। এ সময় তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি বিচার দাবি করেন।

পরিবারের অভিযোগ, এ ঘটনায় থানায় মামলা করার পর অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ডাকাতির মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্তরের বাবা কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন, জমিজমা নিয়ে বিরোধ এবং বাগানের কলা চুরি ও কেটে নেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদের খালাতো ভাইদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২৯ জুন রাত আনুমানিক ১টার দিকে ট্রাকের সহকারী ও মৎস্যচাষি মতিউর রহমান অন্তর কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে সাঁড়া এলাকার মাজদিয়া পশ্চিম খাঁপাড়ায় উজ্জলের বাড়ির কাছে পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একই এলাকার রফিকুল ইসলাম, লালু মালিথা, শাহিন মালিথা, কলিমুদ্দিন ওরফে কালু মালিথা এবং রায়হান মালিথা ধারালো চাপাতি, চীনা কুড়াল ও লোহার পাইপ নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান।

হামলায় অন্তরের মাথায় চাপাতি ও চীনা কুড়ালের আঘাতে গুরুতর ক্ষত হয়। এ ছাড়া হাত ও পায়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে তাঁকে গুরুতর জখম করা হয়। পরে চিৎকার শুনে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

পরিবার জানায়, এ ঘটনায় অন্তরের মা বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এরপর থেকেই অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ডাকাতি মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

আহত অন্তরের মা মমতাজ বেগম বলেন, তাঁর ছেলে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। একই সঙ্গে মিথ্যা ডাকাতি মামলার ভয়ও তাঁদের তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ডাকাতি মামলা করার কোনো সুযোগ নেই। মতিউর রহমান অন্তরের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে রফিকুল ইসলাম নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ঈশ্বরদীতে বিদায় অনুষ্ঠানের ঘটনা রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা, বিএনপির প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর প্রচারণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দলটির স্থানীয় নেতারা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর এলাকায় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে উপজেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মইনুল ইসলাম সরদার অভিযোগ করেন, কয়েক দিন আগে উপজেলার ছলিমপুরের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে ‘দলের বিতর্কিত’ এক ব্যক্তিকে প্রধান অতিথি করায় স্থানীয় মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়। এর জেরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায়। কিন্তু এই ঘটনার জন্য একটি পক্ষ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কুৎসা রটাচ্ছে। এমনকি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমেও তাঁর বিরুদ্ধে মানহানিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে।

তিনি এই অপপ্রচারের জন্য জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সরদার ও তাঁর অনুসারীদের দায়ী করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, অতীতে ওই নেতা বিএনপিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে ধানের শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং আওয়ামী লীগের এমপি শামসুর রহমান শরীফ ডিলুকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি ধানের শীষের পরিবর্তে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে অবস্থান নেন। এতে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হন। এরপর থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তাঁরা আরও বলেন, এই পরিস্থিতির মধ্যেই কয়েক দিন আগে জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করা হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকেই সিরাজুল ইসলাম সরদার ও তাঁর অনুসারীরা বিএনপির সিনিয়র নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবকে নিয়ে বিভিন্ন মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য প্রচার করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল আহসান সন্টু সরদার, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম সুলভ মালিথা, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক মুকুল, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব ওহিদুল ইসলাম, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আলম প্রামাণিকসহ স্থানীয় নেতারা।

এদিকে বুধবার ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নাম ব্যবহার করে একটি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান ও বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় বিএনপির সিনিয়র নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবকে দায়ী করে তাঁর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সিরাজুল ইসলাম সরদারের অনুসারী ও বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ফজলুর রহমানসহ স্থানীয় একটি পক্ষ।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম সরদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, সিরাজুল ইসলাম সরদার এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করেন। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরও তাঁকে পাবনা-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কোনো নির্বাচনী প্রচারণায় দেখা যায়নি। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হন। এরপর থেকেই হাবিবুর রহমান হাবিব ও সিরাজুল ইসলাম সরদারের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে হামলার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে সংবাদ সম্মেলন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলামের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

বুধবার সকালে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম, পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদারসহ অন্যরা।

লিখিত বক্তব্যে ফজলুর রহমান বলেন, পরিচালনা কমিটির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ৩০ জুন প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলামের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা এবং তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, পাবনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান শেখ, জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

তিনি দাবি করেন, অনুষ্ঠানের প্রায় এক ঘণ্টা আগে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী আবুল কাশেম এবং উপজেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মইনুল ইসলাম সরদার, আলম ওরফে দালাল আলম, মনিকাসহ ১৫ থেকে ২০ জন সেখানে আসেন। তাঁরা হাবিবুর রহমান হাবিবকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ না জানানোর কারণ জানতে চান এবং একপর্যায়ে মঞ্চ, চেয়ার-টেবিল ও ব্যানার ভাঙচুর করেন। এ সময় অতিথি ও শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না করা খাবারও নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঢুকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়।

ফজলুর রহমান বলেন, তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হতে হবে, তা তিনি কখনো কল্পনা করেননি। এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সিরাজুল ইসলাম সরদার ঈশ্বরদী অঞ্চলে বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁকে উপেক্ষা করে ঈশ্বরদীতে বিএনপির একটি পক্ষ রাজনীতি করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন ফজলুর রহমান।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার এবং সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওর্য়াড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিএনপি নেতা হাবিবের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা প্রচারের’ প্রতিবাদে ইটভাটা মালিকদের সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা তথ্য প্রচারের’ অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়ন ইটভাটা মালিক সমিতি।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের বিলকেদা গ্রামের একটি ইটভাটায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির কোষাধ্যক্ষ ফরিদুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সম্পাদক শেখ মেহেদী হাসান, দৈনিক যায়যায়দিন-এর ঈশ্বরদী প্রতিনিধি খালেদ মাহমুদ সুজন এবং সাংবাদিক ওহিদুজ্জামান টিপুর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে করা পোস্ট ও শেয়ারের মাধ্যমে তাঁরা দেখতে পান, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে তথ্য প্রচার করা হয়েছে।

বক্তব্যে দাবি করা হয়, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৫ আগস্টের পর নিজ উপজেলা লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের ৫৬টি ইটভাটায় সরকারি খাসজমি থেকে মাটি কাটার চক্রের মাধ্যমে প্রতিদিন ৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে এবং একটি ইটভাটা থেকেই ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের মৌসুমে অন্তত তিন কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে।

ইটভাটা মালিক সমিতির নেতারা এসব তথ্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, কোনো ধরনের তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যা আইনগতভাবে অপরাধ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। তাঁদের সঠিক ও দায়িত্বশীল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে সমাজ উপকৃত হয়। তাই কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে তথ্য যাচাই ছাড়া মনগড়া অভিযোগ প্রচার না করার আহ্বান জানান তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়ন ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি সান্টু বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রাফেল, কোষাধ্যক্ষ ফরিদুল ইসলাম এবং ইটভাটা মালিক মাসুদ রানা, আব্দুল্লাহ মোল্লা, আবু বকর সিদ্দিক, ওবায়দুল্লাহ, কালু মণ্ডল, আরিফ ও সালাম মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন।

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন চান রোকেয়া হাসেম

নিজস্ব প্রতিবেদক:  সংরক্ষিত মহিলা আসনে (পাবনা–সিরাজগঞ্জ) বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন ঈশ্বরদী উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী ও পাবনা জেলা মহিলা দলের দপ্তর সম্পাদক মিসেস রোকেয়া হাসেম। বুধবার দুপুরে ঈশ্বরদী শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রোকেয়া হাসেম তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে তাঁর রাজনীতি শুরু। ‘শিক্ষা, ঐক্য ও প্রগতি’—এই মূলমন্ত্র সামনে রেখে তিনি দীর্ঘদিন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব তাঁর পরিবারের সদস্য।

রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ও ৮ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছেন।

এ সময় তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। রোকেয়া হাসেম দাবি করেন, তাঁর স্বামী রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে কর্মরত অবস্থায় প্রশাসনিক চাপের মুখে অফিসেই মারা যান। এ ছাড়া তাঁর সন্তান বিসিএস পরীক্ষায় চারবার ভাইভা পর্যন্ত উত্তীর্ণ হয়েও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে চাকরি পাননি।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর বড় ভাই তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য, ছোট ভাই সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যান এবং তাঁর ভাবিও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ফলে সংসদীয় কার্যক্রম ও উন্নয়নের বিষয়ে তাঁর বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দল তাঁর ত্যাগ বিবেচনা করে মনোনয়ন দিলে তিনি পাবনার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে রোকেয়া হাসেমের প্রার্থিতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী পৌর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক আফরোজা খাতুন, সহসভাপতি শাহিনা আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসমিন আক্তার নিফা, মুলাডুলি ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী হোসনে আরা বেগম এবং সলিমপুর ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী হিরা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক চুমকি বেগমসহ তৃণমূলের নারী নেত্রীরা।

ঈশ্বরদীতে জমি দখল ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পৈতৃক জমি দখল এবং আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় পাবনা আদালতে চাঁদাবাজির মামলা ও ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে শহরের বকুলের মোড় এলাকায় ভুক্তভোগী আসমাউল হুসনার নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি তাঁদের ওপর হওয়া হয়রানি ও হুমকির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।

আসমাউল হুসনা জানান, উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল (কলাপাড়া) গ্রামে তাঁর বাবার রেখে যাওয়া তিন শতক জমি উত্তরাধিকার সূত্রে তিন বোন ও তাঁদের মা পান। তাঁরা জমির নামজারি (খারিজ) করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছিলেন। সম্প্রতি আর্থিক প্রয়োজনে সব ওয়ারিশের সম্মতিতে জমিটি তাঁরা গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।

অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ১৯ অক্টোবর ক্রেতাকে জমিটি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আমিন দিয়ে মাপজোখ শুরু করা হয়। এ সময় গ্রামের অভিযুক্ত হান্নান, বুলবুল, মনি ও তুহিনসহ বেশ কয়েকজন অতর্কিত হামলা চালায় এবং ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তারা জমিটি নিজেদের দখলে নিতে চায়।

ভুক্তভোগী পরিবারটি আরও জানায়, এ ঘটনায় আদালতে মামলা করা হলে অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত হয়ে উল্টো তাঁদের হুমকি দিচ্ছে। গত ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাঘইল সাঁকো এলাকায় আসমাউল হুসনা ও মামলার সাক্ষী এ কে এম শামসুদ্দিন সুজনকে গালিগালাজ করে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আসমাউল হুসনা বলেন, আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, আমাদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া হোক এবং এই সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হোক।

বিজয়ী হলে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া সুন্দর, সুরক্ষিত ও সমৃদ্ধ হবে: হাবিবুর রহমান হাবিব

নিজস্ব প্রতিবেদন: পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে অঞ্চলটিকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করবেন।

২৪ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় হাবিব বলেন, তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—বন্ধ বিমানবন্দর চালু করা, ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন আধুনিকায়ন, শিক্ষার মান উন্নয়ন, স্টেডিয়াম ব্যবহার উপযোগী করা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উন্নয়ন, রেলগেটে ফ্লাইওভার নির্মাণ, কমিউনিটি সেন্টার ও পাঠাগার স্থাপন, শিশুপার্ক নির্মাণ, সড়ক সংস্কার, আটঘরিয়ায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, লিচু গবেষণা কেন্দ্র এবং শাকসবজি সংরক্ষণাগার স্থাপন।

হাবিবুর রহমান হাবিব সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা সংবাদ প্রচারে দলীয় প্রভাবমুক্ত থাকবেন এবং সঠিক তথ্য পৌঁছে দেবেন। তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধান করতে হলে প্রথমে নির্বাচিত হতে হবে। তাই তিনি সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন—ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল হক সন্টু সরদার, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হক ডাবলু, যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সুমন, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়নসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

হাবিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচিত হলে পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে এবং শিক্ষার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে।

'হাবিবের সমর্থকদের অত্যাচারে সংকটে ঈশ্বরদী বিএনপি'

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের ছত্রছায়ায় তার সমর্থকদের মাদক, অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অতিষ্ঠ ঈশ্বরদী বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা প্রতিকার চেয়ে ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এছাড়াও গতকালের বিএনপি কার্যালয়ে গুলি ও ভাঙচুরের ঘটনায় হাবিবের সমর্থকরা জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়।

রোববার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নেতাকর্মীরা। তারা পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকরা।

সংবাদ সম্মেলনে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, ‘গতকাল মানিকনগরের বিএনপি কার্যালয়ে গুলি ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে হাবিব ভাই নিরীহ, নির্দোষ মানুষকে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় যারা প্রকৃত জড়িত তারা হাবিব সাহেবের লোক। তিনি এ নিয়ে নোংরা রাজনীতি করতে চাচ্ছেন। মূলত মাদক ও চুরির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে আমাদের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। এর আগেও সাহাপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে যাতে জাকারিয়া পিন্টুর লোক থাকতে না পারে, এজন্য একজন কর্মীর বিরুদ্ধে হাবিব ভাই মিথ্যা মামলা দিয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাকারিয়া পিন্টুর জনপ্রিয়তাকে ভয় পেয়ে তার নেতাকর্মীদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তার অত্যাচারে উপজেলাবাসী অতিষ্ঠ। বিএনপির হয়ে বিএনপির দ্বারা নির্যাতনের শিকার হওয়া খুবই দুঃখজনক। নিজের স্বার্থের জন্য তিনি যা করছেন, সমাজে সেটি প্রতিষ্ঠিত হবে না। আগামীতে জনগণ এর জবাব দেবে। সারাঘাট এলাকার নদীপথে আওয়ামী গোষ্ঠী কাকন বাহিনী অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। টকশোতে গিয়ে তিনি তাদের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা সেখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তারা ভালো, বিএনপির যারা প্রতিবাদ করেছে তারা সন্ত্রাসী।’

স্বেচ্ছাসেবকদলের এ নেতা আরও বলেন, ‘হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক রাব্বি একজন সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। তার সঙ্গে পূর্ব শক্রতার জের রয়েছে সলিমপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন পলাশের। পলাশ মানিকনগরের মসজিদ ও মাদ্রাসার সেক্রেটারি। ৫ আগস্টের পর রাব্বি নামে ওই ব্যক্তি একটি মাদ্রাসা ও মসজিদ মার্কেটের দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছিল। ভাড়া মাদ্রাসায় দিতে হতো। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি হাবিব সাহেবের অফিস করবেন। হাবিব সাহেবের অফিস হবে তো মাদ্রাসায় কেন ভাড়া দিতে হবে? এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এর সূত্র ধরে বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকদের বাড়ি থেকে ছাগল, টাকা, গহনাপাতি লুট করা হয়। এজন্য গতকালের ঘটনার সাথে নাজমুল হোসেন পলাশ জড়িত না হলেও তার নাম আনা হয়েছে। এটি জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকদের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাদক ও সন্ত্রাস কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। যাঁরাই জড়িত তাঁদের সবাইকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা উচিত। ৫ আগস্টের পর থেকে ঈশ্বরদীর সব জায়গায় হাবিব সাহেবের সমর্থকরা চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে, তবে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, ঈশ্বরদী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক আরজ আলী সরদার, ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হোসেন আতিয়ার, উপজেলা যুবদলের সদস্য মতিউর রহমান, হেলাল, মাসুদ, সলিমপুর ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু মজুমদার, সলিমপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন পলাশ, সলিমপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ প্রমুখ।

ঢাকার সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে বিএনপির পাল্টা সংবাদ সম্মেলন


নিজস্ব প্রতিবেদন: ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঈশ্বরদীর বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপি।

রোববার দুপুরে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথা।

তিনি বলেন, 'ঢাকায় জুবায়ের হোসেন বাপ্পির মাধ্যমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ত্যাগী নেতা মো. জাকারিয়া পিন্টু, মেহেদী হাসান ও তাঁর (মালিথা) বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিশেষ করে জাকারিয়া পিন্টুকে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে—যা চরমভাবে মানহানিকর।' 

সংবাদ সম্মেলনে শামসুদ্দিন মালিথা অভিযোগ করেন, 'এসব অপপ্রচারের নেপথ্যে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। জাকারিয়া পিন্টু যখন পাবনা-৪ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেন, তখন থেকেই তাকে ঘিরে ষড়যন্ত্র শুরু হয়।; 

পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, 'পদ্মা নদীর পাড়ে বৈধ ইজারাদার ও নেতাকর্মীবান্ধব ব্যক্তি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র চলছে। তাঁকে ঘিরে ‘কাকন বাহিনী’র পক্ষ নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিব। এমনকি সম্প্রতি সেনাবাহিনীর অভিযানে কাকন বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে ঘুরিয়ে পিন্টুর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়েছে।' 

সংবাদ সম্মেলনে শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথাকে 'সন্ত্রাসের গডফাদার'  বলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ অপমানজনক ও রাজনৈতিকভাবে চরিত্রহননের অপচেষ্টা।

পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকেও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান জুয়েল।

তিনি আরও বলেন, 'গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জুবায়ের হোসেন বাপ্পি বিএনপির কোনো সাংগঠনিক পদে না থেকেও ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে দলের নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তিনি।' 

এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা ষড়যন্ত্রে জড়িত হাবিবুর রহমান হাবিব, শরীফুল ইসলাম তুহিন ও সুলভ মালিথাসহ সংশ্লিষ্টদের মুখোশ উন্মোচন ও শাস্তির দাবি জানান। সেই সঙ্গে বিএনপির রাজনীতিতে সুষ্ঠু ধারার প্রবাহ বজায় রাখার আহ্বানও জানানো হয়।

পাল্টা এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রবীণ নেতা আহসান হাবিব, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর দুলাল, বিএনপি নেতা আতাউর রহমান পাতা, আমিনুর রহমান স্বপন, শামসুদ্দোহা পিপ্পু, মো. নান্নু রহমান, ইসলাম হোসেন জুয়েল, কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, আবু সাঈদ লিটন, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে ঠাকুর জাহাঙ্গীর, সাহাবুদ্দিন সেন্টু, আজিজুর রহমান শাহীন, মামনুর রশিদ নান্টু, মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, মাহমুদ হাসান সোনামনি প্রমুখ।

ঈশ্বরদীতে স্ত্রীর ওপর হামলার অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্ত্রীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ব্যক্তি।  বুধবার বিকেলে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে ঈশ্বরদী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের শৈলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আবু তালেব বলেন, ‘আমার বাড়ি থেকে আব্দুল করিমের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে মূল সড়কে যাতায়াত করতাম। এটাই ছিল আমাদের বাড়ির একমাত্র চলাচলের পথ। আওয়ামী লীগের এক সময়ের চেয়ারম্যান মিন্টু, তার জামাতা মিতুল ও তার ভাই টুটুল, পলক, পিয়াস, বজলু, শিরিন আক্তার, স্মৃতি এবং আব্দুল করিম ওই রাস্তাটি বন্ধ করে দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক দিন অন্যের বাড়ি ঘুরে চলাফেরা করেছি। এর মধ্যে আমার পরিবারকে হেনস্তা করতে আমাদের নামে একাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। এসব মামলার বেশির ভাগেই আমরা আদালত থেকে মুক্ত হই।’

আবু তালেবের ভাষ্য, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি ও তাঁর ছেলে ফিরোজ ওই অবৈধ প্রাচীর ভেঙে ফেলেন। পরে আব্দুল করিম জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং আগের দলবল নিয়ে আবারও প্রাচীর তুলে চলাচল বন্ধের চেষ্টা চালাতে থাকেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘একদিন প্রাচীর তোলার সময় আমার স্ত্রী ফিরোজা বেগম বাধা দিতে গেলে তাঁকে লোহার রড, পাইপ, লাঠি ও চেনি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। আমি ও আমার ছেলে তখন বাড়িতে ছিলাম না। প্রতিবেশীরা তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।’

ঈশ্বরদীতে সংবাদ সম্মেলনে চেক জালিয়াতি মামলায় নির্দোষ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, 'ঢাকায় তার স্বাক্ষর থাকা একটি ফাঁকা চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার জালিয়াতির মামলা দায়ের হয়েছে।'

শনিবার ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তরিকুল জানান,  '২০১৩ সালের ৩ মার্চ তিনি ঢাকার মতিঝিলের কারমো ফোম অ্যান্ড অ্যাডহেসিভ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে যোগদান করেন। প্রথমদিকে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ করেন, পরে বিপণন বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পান। ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কোম্পানির হিসাব পর্যালোচনা করার সময় দেখা যায়, বাজার থেকে কোম্পানির কাছে তার পাওনা ছিল প্রায় তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। অন্যদিকে, কোম্পানি থেকে তার ব্যক্তিগত পাওনা ছিল পাঁচ লাখের কাছাকাছি।'

তরিকুল অভিযোগ করেন, 'ওইদিন সন্ধ্যায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন মফিজুর রহমান বাবুল, পরিচালক মো. আওলাদ হোসেন তুহিন, ভ্রাম্যমাণ বিভাগের কর্মকর্তা মো. ওমর চিশতী ও হিসাবরক্ষক ইয়াসিন মাসুদ মিলে তাকে জোরপূর্বক একটি ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর করান এবং একটি চুক্তিপত্রে সই করানো হয়। এরপর থেকে তাকে অফিসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়, হাজিরা বন্ধ করা হয় এবং বেতনও দেওয়া হয় না। অন্য কোনো স্থানে কাজ করতে চাইলেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে ২০১৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।'

এক বছর পর, ২০১৬ সালে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার স্বাক্ষর থাকা ফাঁকা চেকে ইচ্ছামতো প্রায় ৩৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা লিখে জালিয়াতির মামলা করেন। তরিকুল অভিযোগ করেছেন, এই মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো।

তিনি জানান, আগে থেকেই জোরপূর্বক নেওয়া ওই চেক নিয়ে থানায় জিডি দিয়েছিলেন এবং সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় দলিল আদালতে জমা দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

তরিকুল আরও বলেন, দীর্ঘ সময় বেকার থাকার কারণে তিনি মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এই মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

পাবনা-৪ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন রশিদুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-৪ আসনে (ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া) আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন জাতীয় শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রশিদুল্লাহ।
 
শনিবার দুপুরে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ ঘোষণা দেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি এ ঘোষণা দিলেন।

তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, বিলুপ্ত পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য।

মোঃ রশিদুল্লাহ জানান, তিনি ১৯৬৭ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা বাস্তবায়নের জন্য মিছিল করতে গিয়ে প্রথম তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এভাবে দীর্ঘ সময় রাজনীতি করতে গিয়ে সাড়ে ৪ বছর কারাভোগ করেছেন। ৭১ সালে জীবনবাজী রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

এসময় তিনি দাবি করেন, “আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি আটক কর্নেল ফারুক রহমানের গায়ে  ‘থুতু’ মেরে ঘৃণা প্রকাশ করেছিলাম।”

উত্তরবঙ্গের শ্রমিক নেতা বলেন, ঈশ্বরদীতে যারা বর্তমানে রাজনীতি করছেন তাঁদের চেয়ে তাঁর অবদান কোন অংশে কম নয়। তাই দলের প্রতি অনুগত্যে রেখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, স্বাধীনতার মূল্যবোধ, বাঙালি জাতির কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে তিনি এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে প্রার্থী হবেন। তবে যেহেতু আমি দল করি, তাই দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল ইসলাম হব্বুল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু মন্ডল, সহসভাপতি আব্দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, পাকশী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম, ওয়ার্ড সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধাখালেকুজ্জামান টোকন, সাইফুল হক বাবুল, পাকশী যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও রেলওয়ে শ্রমিক লীগ সভাপতি ইকবাল হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত: পাবনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য রয়েছেন দলের সিনিয়র নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: নুরুজ্জামান বিশ্বাস। পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপির মৃত্যুতে ২০১৯ সালে এ আসনে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনেও তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
 

‘উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন চাই, পরীক্ষার আগে উচ্ছেদ নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন চাই, পরীক্ষার আগে উচ্ছেদ নয়’ এ দাবিতে পাবনার ঈশ্বরদীর বিভাগীয় রেল শহর পাকশীতে পাঁচ শতাধিক ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে পাকশীর এম এস কলোনি চত্বরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে কলোনির বসবাসরত পরিবার, তাদের সন্তান ও এলাকাবাসী উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন ও তাদের সন্তানদের পরীক্ষার পরে উচ্ছেদের দাবি জানান। 

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পাকশী রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম। উপস্থিত ছিলেন—কলোনির মনিরুজ্জামান টুটুল সরদার, পাকশী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ফাতেমা আক্তার পলি ও মনোয়ার হোসেন লিটন, কলোনির বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বাবু, মাজহারুর ইসলাম, আনোয়ার হোসেন বুলবুল, হাবিবুর রহমান বাবর প্রমুখ। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাকশীর এসব পুরোনো কোয়ার্টারে তাঁরা দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে বসবাস করছেন। বর্তমানে কলোনির ৯টি ভবনে ১০৮টি পরিবারের বসবাস। জনসংখ্যা পাঁচ শতাধিক। এখনকার প্রায় দুইশো ছেলে-মেয়ে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে লেখাপড়া করছে। নভেম্বরে স্কুলপর্যায়ে চূড়ান্ত ও আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত হবে উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা। এসব শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেই মুহূর্তে পাকশী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যানারে গত ১৭ জুলাই মাইকিং করা উচ্ছেদের জন্য। 

পরবর্তীতে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় বর্ধিত করেন। ইতিমধ্যে ৩১ তারিখ অতিবাহিত হয়েছে। তারা এখন পরিবার পরিজন নিয়ে উচ্ছেদ আতঙ্কে আছেন। 

কলোনির বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বাবু জানান, তাঁদের বাসস্থানের কোনো জায়গা নেই। তার দুই ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করছে। হঠাৎ উচ্ছেদের চূড়ান্ত নোটিশ পেয়ে তিনি এখন দিশেহারা। কী হবে তার ছেলেমেয়ের লেখাপড়া! 

ওই কলোনির আরেক বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন লাবলু উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে রেলের পুরোনো এসব কোয়ার্টারে বসবাস করছি। আমাদের কোনো বাড়িঘর নেই। উচ্ছেদ করলে আমরা কোথায় যাব?’ 

এ বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার শাহ্ সূফি নূর মোহাম্মদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এমএস কলোনির কোয়ার্টারে দখলদারের কোনো বৈধতা নেই। তাদেরকে কোয়ার্টারের বাসাবাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা শুনছেন না।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘রেলওয়েতে নিয়োগ পাওয়া নতুন কর্মচারীদের ওই কোয়ার্টারে রাখা হবে। আমরা মানবিকতা দেখিয়ে এই মুহূর্তে মাত্র দুটি ভবন ছেড়ে দিতে বলেছি। কিন্তু তারা তাও মানতে নারাজ।’ 

ওই আদেশের প্রেক্ষিতে পাকশী রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা তো বলছি না কোয়ার্টার ছেড়ে দেব না। আমরা শুধু উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য সময় চাচ্ছি। এতে আমাদের অপরাধ কোথায় বলুন?’

ঈশ্বরদীতে মায়ের জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ আইনজীবীর


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে এক আইনজীবীর মায়ের জমি জোরপূর্বক 'সন্ত্রাসী কায়দায়' দখল নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের গোকুলনগরে একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি মো: জামিল আক্তার এলাহী।

সংবাদ সম্মেলনে জামিন আক্তার বলেন, তাঁর বৃদ্ধ মা মোসা: লাইনুন নাহার দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বিমানবন্দর সড়কের গোকুলনগরের জমি ভোগদখল করে আছেন। সেখানে একটি বাগানবাড়ি করা হয়েছে। এরইমধ্যে স্থানীয় জালজমি জালিয়াতি চক্রের প্ররোচনায় একটি পক্ষ তাঁর মায়ের বাগানবাড়ির সেই জমি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে গত শুক্রবার সকালে তাদের বাগান বাড়ির সীমানা প্রাচীরের তালা ভেঙে সন্ত্রাসী কায়দায় পাঁচ-ছয়জন যুবক লাঠি ও হাসুয়া নিয়ে ভেতরে ঢুকে বাড়ি দখলের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে তিনি সেখানে গেলে ওই যুবকেরা তাকে জীবননাশের হুমকি ও মারবার জন্য তাড়া দিলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন। পরে তিনি তিনি ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা একটি জালিয়াতি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ মানুষকে জমিজমা সংক্রান্তে নানা হয়রানি করে আসছেন। চক্রটি মাঝেমধ্যে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের এনে জমির মালিকদের হুমকিধামকি দিচ্ছেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাঁড়ার ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ইতিপূর্বে বেশ কয়েকজন নিরীহ মানুষ ওই জালিয়াতি চক্রের শিকার হয়েছেন। শহরের বাবুপাড়ার ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, জালিয়াতি চক্রের খপ্পরে পড়ে তাঁর এক আত্মীয় অবর্ননীয় হয়রানির শিকার হয়েছেন। এই চক্রের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, ঘটনাটি  জানার পরপরপরই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তিনি তদন্ত করছেন।
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন