সংবাদ সম্মেলন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সংবাদ সম্মেলন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে জমি দখল ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পৈতৃক জমি দখল এবং আড়াই লাখ টাকা চাঁদা দাবির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় পাবনা আদালতে চাঁদাবাজির মামলা ও ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে শহরের বকুলের মোড় এলাকায় ভুক্তভোগী আসমাউল হুসনার নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি তাঁদের ওপর হওয়া হয়রানি ও হুমকির বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।

আসমাউল হুসনা জানান, উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল (কলাপাড়া) গ্রামে তাঁর বাবার রেখে যাওয়া তিন শতক জমি উত্তরাধিকার সূত্রে তিন বোন ও তাঁদের মা পান। তাঁরা জমির নামজারি (খারিজ) করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছিলেন। সম্প্রতি আর্থিক প্রয়োজনে সব ওয়ারিশের সম্মতিতে জমিটি তাঁরা গ্রামের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন।

অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ১৯ অক্টোবর ক্রেতাকে জমিটি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আমিন দিয়ে মাপজোখ শুরু করা হয়। এ সময় গ্রামের অভিযুক্ত হান্নান, বুলবুল, মনি ও তুহিনসহ বেশ কয়েকজন অতর্কিত হামলা চালায় এবং ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তারা জমিটি নিজেদের দখলে নিতে চায়।

ভুক্তভোগী পরিবারটি আরও জানায়, এ ঘটনায় আদালতে মামলা করা হলে অভিযুক্তরা জামিনে মুক্ত হয়ে উল্টো তাঁদের হুমকি দিচ্ছে। গত ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাঘইল সাঁকো এলাকায় আসমাউল হুসনা ও মামলার সাক্ষী এ কে এম শামসুদ্দিন সুজনকে গালিগালাজ করে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আসমাউল হুসনা বলেন, আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, আমাদের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া হোক এবং এই সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করা হোক।

বিজয়ী হলে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া সুন্দর, সুরক্ষিত ও সমৃদ্ধ হবে: হাবিবুর রহমান হাবিব

নিজস্ব প্রতিবেদন: পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে অঞ্চলটিকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করবেন।

২৪ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় হাবিব বলেন, তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে—বন্ধ বিমানবন্দর চালু করা, ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন আধুনিকায়ন, শিক্ষার মান উন্নয়ন, স্টেডিয়াম ব্যবহার উপযোগী করা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উন্নয়ন, রেলগেটে ফ্লাইওভার নির্মাণ, কমিউনিটি সেন্টার ও পাঠাগার স্থাপন, শিশুপার্ক নির্মাণ, সড়ক সংস্কার, আটঘরিয়ায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, লিচু গবেষণা কেন্দ্র এবং শাকসবজি সংরক্ষণাগার স্থাপন।

হাবিবুর রহমান হাবিব সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা সংবাদ প্রচারে দলীয় প্রভাবমুক্ত থাকবেন এবং সঠিক তথ্য পৌঁছে দেবেন। তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধান করতে হলে প্রথমে নির্বাচিত হতে হবে। তাই তিনি সবাইকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন—ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল হক সন্টু সরদার, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হক ডাবলু, যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সুমন, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়নসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

হাবিব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচিত হলে পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে এবং শিক্ষার অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গুণগত মান নিশ্চিত করা হবে।

'হাবিবের সমর্থকদের অত্যাচারে সংকটে ঈশ্বরদী বিএনপি'

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের ছত্রছায়ায় তার সমর্থকদের মাদক, অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অতিষ্ঠ ঈশ্বরদী বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা প্রতিকার চেয়ে ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এছাড়াও গতকালের বিএনপি কার্যালয়ে গুলি ও ভাঙচুরের ঘটনায় হাবিবের সমর্থকরা জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়।

রোববার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নেতাকর্মীরা। তারা পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকরা।

সংবাদ সম্মেলনে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, ‘গতকাল মানিকনগরের বিএনপি কার্যালয়ে গুলি ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে হাবিব ভাই নিরীহ, নির্দোষ মানুষকে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় যারা প্রকৃত জড়িত তারা হাবিব সাহেবের লোক। তিনি এ নিয়ে নোংরা রাজনীতি করতে চাচ্ছেন। মূলত মাদক ও চুরির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে আমাদের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। এর আগেও সাহাপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে যাতে জাকারিয়া পিন্টুর লোক থাকতে না পারে, এজন্য একজন কর্মীর বিরুদ্ধে হাবিব ভাই মিথ্যা মামলা দিয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাকারিয়া পিন্টুর জনপ্রিয়তাকে ভয় পেয়ে তার নেতাকর্মীদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তার অত্যাচারে উপজেলাবাসী অতিষ্ঠ। বিএনপির হয়ে বিএনপির দ্বারা নির্যাতনের শিকার হওয়া খুবই দুঃখজনক। নিজের স্বার্থের জন্য তিনি যা করছেন, সমাজে সেটি প্রতিষ্ঠিত হবে না। আগামীতে জনগণ এর জবাব দেবে। সারাঘাট এলাকার নদীপথে আওয়ামী গোষ্ঠী কাকন বাহিনী অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। টকশোতে গিয়ে তিনি তাদের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা সেখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তারা ভালো, বিএনপির যারা প্রতিবাদ করেছে তারা সন্ত্রাসী।’

স্বেচ্ছাসেবকদলের এ নেতা আরও বলেন, ‘হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক রাব্বি একজন সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। তার সঙ্গে পূর্ব শক্রতার জের রয়েছে সলিমপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন পলাশের। পলাশ মানিকনগরের মসজিদ ও মাদ্রাসার সেক্রেটারি। ৫ আগস্টের পর রাব্বি নামে ওই ব্যক্তি একটি মাদ্রাসা ও মসজিদ মার্কেটের দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছিল। ভাড়া মাদ্রাসায় দিতে হতো। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি হাবিব সাহেবের অফিস করবেন। হাবিব সাহেবের অফিস হবে তো মাদ্রাসায় কেন ভাড়া দিতে হবে? এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এর সূত্র ধরে বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকদের বাড়ি থেকে ছাগল, টাকা, গহনাপাতি লুট করা হয়। এজন্য গতকালের ঘটনার সাথে নাজমুল হোসেন পলাশ জড়িত না হলেও তার নাম আনা হয়েছে। এটি জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকদের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাদক ও সন্ত্রাস কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। যাঁরাই জড়িত তাঁদের সবাইকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা উচিত। ৫ আগস্টের পর থেকে ঈশ্বরদীর সব জায়গায় হাবিব সাহেবের সমর্থকরা চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে, তবে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, ঈশ্বরদী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক আরজ আলী সরদার, ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হোসেন আতিয়ার, উপজেলা যুবদলের সদস্য মতিউর রহমান, হেলাল, মাসুদ, সলিমপুর ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু মজুমদার, সলিমপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন পলাশ, সলিমপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ প্রমুখ।

ঢাকার সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে বিএনপির পাল্টা সংবাদ সম্মেলন


নিজস্ব প্রতিবেদন: ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঈশ্বরদীর বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপি।

রোববার দুপুরে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথা।

তিনি বলেন, 'ঢাকায় জুবায়ের হোসেন বাপ্পির মাধ্যমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ত্যাগী নেতা মো. জাকারিয়া পিন্টু, মেহেদী হাসান ও তাঁর (মালিথা) বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিশেষ করে জাকারিয়া পিন্টুকে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে—যা চরমভাবে মানহানিকর।' 

সংবাদ সম্মেলনে শামসুদ্দিন মালিথা অভিযোগ করেন, 'এসব অপপ্রচারের নেপথ্যে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। জাকারিয়া পিন্টু যখন পাবনা-৪ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের নাম ঘোষণা করেন, তখন থেকেই তাকে ঘিরে ষড়যন্ত্র শুরু হয়।; 

পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, 'পদ্মা নদীর পাড়ে বৈধ ইজারাদার ও নেতাকর্মীবান্ধব ব্যক্তি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র চলছে। তাঁকে ঘিরে ‘কাকন বাহিনী’র পক্ষ নিয়ে অবস্থান নিয়েছেন হাবিবুর রহমান হাবিব। এমনকি সম্প্রতি সেনাবাহিনীর অভিযানে কাকন বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে ঘুরিয়ে পিন্টুর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়েছে।' 

সংবাদ সম্মেলনে শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথাকে 'সন্ত্রাসের গডফাদার'  বলা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ অপমানজনক ও রাজনৈতিকভাবে চরিত্রহননের অপচেষ্টা।

পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকেও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান জুয়েল।

তিনি আরও বলেন, 'গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জুবায়ের হোসেন বাপ্পি বিএনপির কোনো সাংগঠনিক পদে না থেকেও ত্যাগী নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে দলের নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তিনি।' 

এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা ষড়যন্ত্রে জড়িত হাবিবুর রহমান হাবিব, শরীফুল ইসলাম তুহিন ও সুলভ মালিথাসহ সংশ্লিষ্টদের মুখোশ উন্মোচন ও শাস্তির দাবি জানান। সেই সঙ্গে বিএনপির রাজনীতিতে সুষ্ঠু ধারার প্রবাহ বজায় রাখার আহ্বানও জানানো হয়।

পাল্টা এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রবীণ নেতা আহসান হাবিব, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর দুলাল, বিএনপি নেতা আতাউর রহমান পাতা, আমিনুর রহমান স্বপন, শামসুদ্দোহা পিপ্পু, মো. নান্নু রহমান, ইসলাম হোসেন জুয়েল, কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, আবু সাঈদ লিটন, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে ঠাকুর জাহাঙ্গীর, সাহাবুদ্দিন সেন্টু, আজিজুর রহমান শাহীন, মামনুর রশিদ নান্টু, মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, মাহমুদ হাসান সোনামনি প্রমুখ।

ঈশ্বরদীতে স্ত্রীর ওপর হামলার অভিযোগ, প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্ত্রীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ব্যক্তি।  বুধবার বিকেলে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে ঈশ্বরদী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের শৈলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আবু তালেব বলেন, ‘আমার বাড়ি থেকে আব্দুল করিমের বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে মূল সড়কে যাতায়াত করতাম। এটাই ছিল আমাদের বাড়ির একমাত্র চলাচলের পথ। আওয়ামী লীগের এক সময়ের চেয়ারম্যান মিন্টু, তার জামাতা মিতুল ও তার ভাই টুটুল, পলক, পিয়াস, বজলু, শিরিন আক্তার, স্মৃতি এবং আব্দুল করিম ওই রাস্তাটি বন্ধ করে দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক দিন অন্যের বাড়ি ঘুরে চলাফেরা করেছি। এর মধ্যে আমার পরিবারকে হেনস্তা করতে আমাদের নামে একাধিক মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। এসব মামলার বেশির ভাগেই আমরা আদালত থেকে মুক্ত হই।’

আবু তালেবের ভাষ্য, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি ও তাঁর ছেলে ফিরোজ ওই অবৈধ প্রাচীর ভেঙে ফেলেন। পরে আব্দুল করিম জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং আগের দলবল নিয়ে আবারও প্রাচীর তুলে চলাচল বন্ধের চেষ্টা চালাতে থাকেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘একদিন প্রাচীর তোলার সময় আমার স্ত্রী ফিরোজা বেগম বাধা দিতে গেলে তাঁকে লোহার রড, পাইপ, লাঠি ও চেনি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। আমি ও আমার ছেলে তখন বাড়িতে ছিলাম না। প্রতিবেশীরা তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।’

ঈশ্বরদীতে সংবাদ সম্মেলনে চেক জালিয়াতি মামলায় নির্দোষ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, 'ঢাকায় তার স্বাক্ষর থাকা একটি ফাঁকা চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩৯ লাখ টাকার জালিয়াতির মামলা দায়ের হয়েছে।'

শনিবার ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তরিকুল জানান,  '২০১৩ সালের ৩ মার্চ তিনি ঢাকার মতিঝিলের কারমো ফোম অ্যান্ড অ্যাডহেসিভ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে যোগদান করেন। প্রথমদিকে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ করেন, পরে বিপণন বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পান। ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর কোম্পানির হিসাব পর্যালোচনা করার সময় দেখা যায়, বাজার থেকে কোম্পানির কাছে তার পাওনা ছিল প্রায় তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা। অন্যদিকে, কোম্পানি থেকে তার ব্যক্তিগত পাওনা ছিল পাঁচ লাখের কাছাকাছি।'

তরিকুল অভিযোগ করেন, 'ওইদিন সন্ধ্যায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন মফিজুর রহমান বাবুল, পরিচালক মো. আওলাদ হোসেন তুহিন, ভ্রাম্যমাণ বিভাগের কর্মকর্তা মো. ওমর চিশতী ও হিসাবরক্ষক ইয়াসিন মাসুদ মিলে তাকে জোরপূর্বক একটি ফাঁকা চেকে স্বাক্ষর করান এবং একটি চুক্তিপত্রে সই করানো হয়। এরপর থেকে তাকে অফিসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়, হাজিরা বন্ধ করা হয় এবং বেতনও দেওয়া হয় না। অন্য কোনো স্থানে কাজ করতে চাইলেও ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে ২০১৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি ঢাকার মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।'

এক বছর পর, ২০১৬ সালে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার স্বাক্ষর থাকা ফাঁকা চেকে ইচ্ছামতো প্রায় ৩৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা লিখে জালিয়াতির মামলা করেন। তরিকুল অভিযোগ করেছেন, এই মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো।

তিনি জানান, আগে থেকেই জোরপূর্বক নেওয়া ওই চেক নিয়ে থানায় জিডি দিয়েছিলেন এবং সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় দলিল আদালতে জমা দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।

তরিকুল আরও বলেন, দীর্ঘ সময় বেকার থাকার কারণে তিনি মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং এই মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

পাবনা-৪ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন রশিদুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-৪ আসনে (ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া) আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন জাতীয় শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রশিদুল্লাহ।
 
শনিবার দুপুরে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ ঘোষণা দেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি এ ঘোষণা দিলেন।

তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, বিলুপ্ত পাকশী নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য।

মোঃ রশিদুল্লাহ জানান, তিনি ১৯৬৭ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা বাস্তবায়নের জন্য মিছিল করতে গিয়ে প্রথম তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এভাবে দীর্ঘ সময় রাজনীতি করতে গিয়ে সাড়ে ৪ বছর কারাভোগ করেছেন। ৭১ সালে জীবনবাজী রেখে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

এসময় তিনি দাবি করেন, “আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনি আটক কর্নেল ফারুক রহমানের গায়ে  ‘থুতু’ মেরে ঘৃণা প্রকাশ করেছিলাম।”

উত্তরবঙ্গের শ্রমিক নেতা বলেন, ঈশ্বরদীতে যারা বর্তমানে রাজনীতি করছেন তাঁদের চেয়ে তাঁর অবদান কোন অংশে কম নয়। তাই দলের প্রতি অনুগত্যে রেখে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, স্বাধীনতার মূল্যবোধ, বাঙালি জাতির কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে তিনি এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের কাছে প্রার্থী হবেন। তবে যেহেতু আমি দল করি, তাই দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল ইসলাম হব্বুল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু মন্ডল, সহসভাপতি আব্দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, পাকশী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম, ওয়ার্ড সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধাখালেকুজ্জামান টোকন, সাইফুল হক বাবুল, পাকশী যুবলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও রেলওয়ে শ্রমিক লীগ সভাপতি ইকবাল হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত: পাবনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য রয়েছেন দলের সিনিয়র নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: নুরুজ্জামান বিশ্বাস। পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভূমি মন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপির মৃত্যুতে ২০১৯ সালে এ আসনে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনেও তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলেন।
 

‘উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন চাই, পরীক্ষার আগে উচ্ছেদ নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন চাই, পরীক্ষার আগে উচ্ছেদ নয়’ এ দাবিতে পাবনার ঈশ্বরদীর বিভাগীয় রেল শহর পাকশীতে পাঁচ শতাধিক ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে পাকশীর এম এস কলোনি চত্বরে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে কলোনির বসবাসরত পরিবার, তাদের সন্তান ও এলাকাবাসী উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন ও তাদের সন্তানদের পরীক্ষার পরে উচ্ছেদের দাবি জানান। 

এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পাকশী রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম। উপস্থিত ছিলেন—কলোনির মনিরুজ্জামান টুটুল সরদার, পাকশী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ফাতেমা আক্তার পলি ও মনোয়ার হোসেন লিটন, কলোনির বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বাবু, মাজহারুর ইসলাম, আনোয়ার হোসেন বুলবুল, হাবিবুর রহমান বাবর প্রমুখ। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাকশীর এসব পুরোনো কোয়ার্টারে তাঁরা দীর্ঘ পঁচিশ বছর ধরে বসবাস করছেন। বর্তমানে কলোনির ৯টি ভবনে ১০৮টি পরিবারের বসবাস। জনসংখ্যা পাঁচ শতাধিক। এখনকার প্রায় দুইশো ছেলে-মেয়ে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে লেখাপড়া করছে। নভেম্বরে স্কুলপর্যায়ে চূড়ান্ত ও আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত হবে উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা। এসব শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেই মুহূর্তে পাকশী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ব্যানারে গত ১৭ জুলাই মাইকিং করা উচ্ছেদের জন্য। 

পরবর্তীতে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় বর্ধিত করেন। ইতিমধ্যে ৩১ তারিখ অতিবাহিত হয়েছে। তারা এখন পরিবার পরিজন নিয়ে উচ্ছেদ আতঙ্কে আছেন। 

কলোনির বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বাবু জানান, তাঁদের বাসস্থানের কোনো জায়গা নেই। তার দুই ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করছে। হঠাৎ উচ্ছেদের চূড়ান্ত নোটিশ পেয়ে তিনি এখন দিশেহারা। কী হবে তার ছেলেমেয়ের লেখাপড়া! 

ওই কলোনির আরেক বাসিন্দা সাহাব উদ্দিন লাবলু উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে রেলের পুরোনো এসব কোয়ার্টারে বসবাস করছি। আমাদের কোনো বাড়িঘর নেই। উচ্ছেদ করলে আমরা কোথায় যাব?’ 

এ বিষয়ে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার শাহ্ সূফি নূর মোহাম্মদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এমএস কলোনির কোয়ার্টারে দখলদারের কোনো বৈধতা নেই। তাদেরকে কোয়ার্টারের বাসাবাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা শুনছেন না।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘রেলওয়েতে নিয়োগ পাওয়া নতুন কর্মচারীদের ওই কোয়ার্টারে রাখা হবে। আমরা মানবিকতা দেখিয়ে এই মুহূর্তে মাত্র দুটি ভবন ছেড়ে দিতে বলেছি। কিন্তু তারা তাও মানতে নারাজ।’ 

ওই আদেশের প্রেক্ষিতে পাকশী রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা তো বলছি না কোয়ার্টার ছেড়ে দেব না। আমরা শুধু উচ্ছেদের আগে পুনর্বাসন ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য সময় চাচ্ছি। এতে আমাদের অপরাধ কোথায় বলুন?’

ঈশ্বরদীতে মায়ের জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ আইনজীবীর


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে এক আইনজীবীর মায়ের জমি জোরপূর্বক 'সন্ত্রাসী কায়দায়' দখল নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের গোকুলনগরে একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি মো: জামিল আক্তার এলাহী।

সংবাদ সম্মেলনে জামিন আক্তার বলেন, তাঁর বৃদ্ধ মা মোসা: লাইনুন নাহার দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বিমানবন্দর সড়কের গোকুলনগরের জমি ভোগদখল করে আছেন। সেখানে একটি বাগানবাড়ি করা হয়েছে। এরইমধ্যে স্থানীয় জালজমি জালিয়াতি চক্রের প্ররোচনায় একটি পক্ষ তাঁর মায়ের বাগানবাড়ির সেই জমি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে গত শুক্রবার সকালে তাদের বাগান বাড়ির সীমানা প্রাচীরের তালা ভেঙে সন্ত্রাসী কায়দায় পাঁচ-ছয়জন যুবক লাঠি ও হাসুয়া নিয়ে ভেতরে ঢুকে বাড়ি দখলের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে তিনি সেখানে গেলে ওই যুবকেরা তাকে জীবননাশের হুমকি ও মারবার জন্য তাড়া দিলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন। পরে তিনি তিনি ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা একটি জালিয়াতি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ মানুষকে জমিজমা সংক্রান্তে নানা হয়রানি করে আসছেন। চক্রটি মাঝেমধ্যে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের এনে জমির মালিকদের হুমকিধামকি দিচ্ছেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাঁড়ার ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ইতিপূর্বে বেশ কয়েকজন নিরীহ মানুষ ওই জালিয়াতি চক্রের শিকার হয়েছেন। শহরের বাবুপাড়ার ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, জালিয়াতি চক্রের খপ্পরে পড়ে তাঁর এক আত্মীয় অবর্ননীয় হয়রানির শিকার হয়েছেন। এই চক্রের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, ঘটনাটি  জানার পরপরপরই এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে কাউকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তিনি তদন্ত করছেন।
স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন