নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির পদ ঘিরে স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত পদ না পেয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের বিরুদ্ধে 'অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ' এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম শরীফ।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
অভিযোগকারী শরীফুল ইসলামের দাবি, অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কমিটির সভাপতি হিসেবে তসলিম আরিফ তুষারকে নির্বাচিত করেছেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।
শনিবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে জেলা বিএনপির আহ্বায়ককে উদ্দেশ্য করে শরীফুল লেখেন, ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক এক পুলিশ কর্মকর্তার স্বজনকে মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি করতে পদটি কত টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে এই পোস্ট আসার পর থেকেই পক্ষ-বিপক্ষে নানা মন্তব্য করতে থাকেন স্থানীয় রাজনীতিকেরা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শরীফুল ইসলাম ইতিপূর্বে বিদ্যালয়টির পরিচালনা পর্ষদের এডহক কমিটির দায়িত্বে ছিলেন। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে এবার অভিভাবকেরা তাঁকে কমিটিতে রাখেননি। পদ হাতছাড়া হওয়ার ক্ষোভ থেকেই তিনি জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়েছেন। লেনদেনের কোনো প্রমাণ তিনি দিতে পারবেন না উল্লেখ করে নেতারা জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শরীফুলকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দাবি জানানো হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল হক সন্টু সরদার, সাবেক সদস্যসচিব আজমল হোসেন সুজন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন, সাবেক চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান, বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান মুকুল, নবনির্বাচিত সভাপতি তসলিম আরিফ তুষার, কৃষক দলের সদস্যসচিব মইনুল হক সরদার, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন ও হাবিবুর মহলদারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।


















