জাতীয় নির্বাচন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জাতীয় নির্বাচন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে পিন্টুর পক্ষে মেহেদীর টানা উঠান বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদন: পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর পক্ষে ব্যাপক প্রচার শুরু করেছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসান। ২৫ জানুয়ারি থেকে তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ৩০টিরও বেশি নির্বাচনী উঠান বৈঠক করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর 'মোটরসাইকেল' প্রতীককে বিজয়ী করতে মাঠপর্যায়ে নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে ধারাবাহিক এই মতবিনিময় করছেন মেহেদী হাসান। এসব বৈঠকে পিন্টুর অনুসারী ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিচ্ছেন।

উঠান বৈঠকগুলোতে মেহেদী হাসান ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, বিএনপির প্রকৃত ও তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে এমন একজনকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যাঁর সঙ্গে সাধারণ কর্মীদের কোনো যোগাযোগ নেই। মূলত তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষা ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই জাকারিয়া পিন্টু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন।

একটি বৈঠকে তিনি আরও বলেন, মোটরসাইকেল প্রতীককে ঘিরে বর্তমানে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের যে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আমরা আশাবাদী। ইনশাআল্লাহ, ধানের শীষ প্রতীকের চেয়েও বেশি ভোট পেয়ে মোটরসাইকেল প্রতীক বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হবে।

মোটরসাইকেলের বিজয়কে 'তৃণমূল বিএনপির বিজয়' হিসেবে উল্লেখ করে তিনি ভোটারদের দলমত নির্বিশেষে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

ত্যাগীরা অবহেলিত, হাইব্রিডদের দাপট চলছে: মেহেদী হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক: দলের দুঃসময়ে যারা হাল ধরেছিলেন, তারাই আজ অবহেলিত বলে মন্তব্য করেছেন ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান। তিনি অভিযোগ করেন, ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে বর্তমানে ‘হাইব্রিড’ নেতাদের নিয়ে মেতে উঠেছে দল। তবে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়ে গেছে।

শনিবার বিকেলে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাড়া গোপালপুরে এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীকের সমর্থনে এই গণসংযোগ ও সভার আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যে মেহেদী হাসান বলেন, দলের একনিষ্ঠ কর্মীরা জাকারিয়া পিন্টু ছাড়া অন্য কিছু ভাবছেন না। পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে তিনি জনগণের মনে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি আপনাদের নিকটতম প্রতিবেশী; বিপদে-আপদে তাকেই সবচেয়ে আগে পাশে পাবেন। তাই আগামী নির্বাচনে তাকে মূল্যবান ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা দাবি করেন, দলের দুর্দিনের কাণ্ডারিদের উপেক্ষা করার পরিণাম ভালো হবে না এবং সাধারণ ভোটাররা এবার যোগ্য নেতাকেই বেছে নেবেন।

উঠান বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা তোজাম ও আরশেদ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফয়সাল আহম্মেদ ফারুক, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিন্টু, রোকন, জুয়েল, মোখলেস, খন্দকার তৌফিক আলম সোহেল, উপজেলা ছাত্রদল নেতা ইমরান সোহাগ, মেহেদী হাসান লিখন, স্বপন ইসলামসহ অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

ঈশ্বরদীতে ধানের শীষের প্রচারণা, দলীয় নির্দেশ অমান্য করলে বহিষ্কারের হুঁশিয়ারি


নিজস্ব প্রতিবেদক:
পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, তারেক রহমানের নির্দেশ অমান্য করে ধানের শীষের বিপক্ষে অবস্থান নিলে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

রোববার দুপুরে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার পোস্ট অফিস মোড়ে এক উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় হাবিবুর রহমান ভোটারদের হাতে লিফলেট তুলে দেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আপনারা দীর্ঘ ১৭ বছর জেল-জুলুম ও নানামুখী নির্যাতন সহ্য করে রাজনীতির মাঠে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করেছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের আদর্শকে লালন করেছেন। কিন্তু আজ যদি কেউ ব্যক্তিস্বার্থে ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করেন, তবে তিনি আর কখনো বিএনপির রাজনীতিতে ফিরতে পারবেন না। যারা এখনো দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছেন, তাদের দ্রুত ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সাধারণ মানুষ ভোট দেওয়ার অধিকার হারিয়েছিল। গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল। আজ সেই পরিবেশ নেই। এখন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার সময় এসেছে। সারা দেশে ধানের শীষের যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তা ধরে রেখে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই আসনটি পুনরুদ্ধার করে তারেক রহমানকে উপহার দিতে হবে।

ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মোখলেসুর রহমান বাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা আহসান হাবিব, বিএনপি নেতা আজমল হোসেন ডাবলু, মাহবুবুর রহমান পলাশ, শরিফুল ইসলাম তুহিন, এবং আব্দুল্লাহ ওমর খান সুমার।

উঠান বৈঠকে পৌর ও উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় পর নিজ এলাকায় বিএনপির এমন সরব প্রচারণায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।

ঈশ্বরদীতে ভোট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও যৌথ বাহিনীর নিরাপত্তা মহড়া

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন 

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও যৌথ বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসন ও জেলা নির্বাচন অফিসের উদ্যোগে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

বিকেল তিনটায় ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়। এরপর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের অংশগ্রহণে এলাকায় বিশেষ মহড়া দেওয়া হয়। মহড়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন।

নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি জানান দিতেই এ মহড়ার আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এমন তৎপরতা ভোটারদের মনে আস্থা বাড়াতে ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. শাহেদ মোস্তফা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। এ সময় পাবনা জেলা সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেজর মো. আসাদুজ্জামান, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ড. শাহেদ মোস্তফা বলেন, নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে যৌথ বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ জানান, আইনবিরোধী যেকোনো তৎপরতা দমনে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে। এই সতর্কতামূলক টহল নির্বাচনের আগপর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

এর আগে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নির্বাচনের দিন তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন আবু তালেব মন্ডল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী পৌরসভায় জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে পৌর শহরের শেরশাহ রোড কোবা মসজিদ এলাকায় এই সভার আয়োজন করা হয়। এটি আয়োজন করে ঈশ্বরদী পৌর ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাবনা–৪ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়াকে পরিকল্পিত, সুশাসিত ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে জামায়াতে ইসলামী বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতি ও দলীয় লুটপাটমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা গেলে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নৈতিকতার সমন্বয়ে উন্নয়নই জামায়াতের রাজনীতির মূল দর্শন। জনগণের আমানতকে আমরা আমানত হিসেবেই রক্ষা করব। ইসলামভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা গোলাম রাব্বানী খান জুবায়ের, উপজেলা সেক্রেটারি মো. সাইদুল ইসলাম, পৌর আমির মাওলানা গোলাম আজম খান ও উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সেক্রেটারি মো. বাকিবিল্লাহ খান।

ঈশ্বরদী পৌর ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি আলহাজ্ব আবু বক্কর সিদ্দিক নান্টু সভার সভাপতিত্ব করেন। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আইন ও মানবসম্পদ বিষয়ক সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান খান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাহফুজুর রহমান, পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আল আমিন, পৌর প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মো. সাইফুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

নির্বাচনী সভায় পৌর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ, কর্মী এবং স্থানীয় সূধীজন উপস্থিত ছিলেন।

ধানের শীষের প্রচারণায় হাবিবুর রহমান হাবিব: ‘দলের বিপক্ষে গেলে বহিষ্কার’

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। ঈশ্বরদী শহরের পোস্ট অফিস মোড় থেকে শুরু করে বাজারের প্রতিটি দোকানে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় ভোটারদের হাতে ধানের শীষের লিফলেট তুলে দেন তিনি।

গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পাবনা জেলা বিএনপির এই আহ্বায়ক। দলীয় শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চ্যালেঞ্জ করার ধৃষ্টতা দেখায়, তারা কখনো প্রকৃত জাতীয়তাবাদী দল করতে পারে না। অনেকে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে গাড়ি-বাড়ি ও ব্যবসা-বাণিজ্য করেছেন, অথচ তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কোনো মামলা নেই। অন্যদিকে, আমরা জেল খেটেছি এবং অসংখ্য হামলা-মামলার শিকার হয়েছি।

হাবিবুর রহমান হাবিব আরও বলেন, সবাইকে দলের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা ভুলে যাওয়া চলবে না। তারেক রহমান দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে তার মায়ের সাথে একবেলা খাবার খাওয়ার সুযোগ পর্যন্ত পাননি। যারা এই কঠিন সময়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেবেন, সংগঠন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং প্রত্যেককে বহিষ্কার করা হবে।

প্রচারণায় হাবিবের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা আহসান হাবিব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ এবং ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আজমল হোসেন সুজন, আতিয়ার রহমান, হাক্কে মন্ডল, শরিফুল ইসলাম তুহিন, রোকেয়া হাসেম ও রেজাউল করিম শাহীনসহ উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।

সকাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণায় নেতা-কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সাধারণ ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়ে আবু তালেব মন্ডলের প্রচারণা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঈশ্বরদী বাজারে গণসংযোগ এবং সম্প্রতি অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তিনি এই কার্যক্রমের সূচনা করেন।

পরিদর্শনকালে অধ্যাপক আবু তালেব অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারানো ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের ক্ষয়ক্ষতির খোঁজখবর নেন। তিনি বিপদে পড়া এসব মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন এবং তাঁদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণ ও ব্যবসায়িক সমৃদ্ধি কামনা করে সেখানে এক বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

বাজার পরিদর্শনের পর তিনি স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। গণসংযোগকালে তিনি ভোটারদের কাছে দোয়া চান এবং নির্বাচিত হলে এই জনপদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইন সম্পাদক হাফিজুর রহমান খাঁন, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাহাফুজুর রহমান, পৌর আমির গোলাম আযম খাঁন, পৌর সেক্রেটারি মাওলানা আলামীনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

পাবনা-৪: বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা পিন্টু

নিজস্ব প্রতিবেদক:  পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু। ধানের শীষ প্রতীকের বিপরীতে ‘মোটরসাইকেল’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি এখন ভোটের মাঠে।  বুধবার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে বিএনপি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক আদেশে জাকারিয়া পিন্টুকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান খন্দকার এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ধানের শীষের প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রতীক পাওয়ার পর থেকেই জাকারিয়া পিন্টু তাঁর সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা শুরু করেছেন। তাঁর সমর্থকেরা জানিয়েছেন, পিন্টু নিজে একটি ‘ইনফিল্ড’ মোটরসাইকেলে চড়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছেন এবং ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তাঁকে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়ার বিভিন্ন সংযোগ সড়ক ও জনপদে গণসংযোগ করতে দেখা যায়।

দলের বহিষ্কারাদেশ প্রসঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু বলেন, দলের হাইকমান্ড তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ওপর বারবার ভুল সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। আমি মূলত তৃণমূলের দাবি ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছি।

বিজয় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, আমি শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক। তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে উঠে এসেছি, তাই বহিষ্কারকে ভয় পাই না। দল নয়, জনগণই আমার মূল শক্তি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে আমার জয় নিশ্চিত।

পাবনা-৪: ধানের শীষের প্রচারণায় হাবিবুর রহমান হাবিব

নিজস্ব প্রতিবেদন: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঈশ্বরদী শহরের পোস্ট অফিস মোড় এলাকা থেকে গণসংযোগের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেন।

প্রচারণা শুরুর পর হাবিবুর রহমান ঈশ্বরদী-পাবনা সড়ক ও রেলগেট এলাকা হয়ে স্থানীয় বাজারে যান। সেখানে তিনি বাজারের প্রতিটি দোকানে গিয়ে ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সাধারণ মানুষের কাছে ভোট ও দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি তিনি সবার সমর্থন কামনা করেন। এ সময় দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

প্রচারণা চলাকালীন এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, যারা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চ্যালেঞ্জ করার ধৃষ্টতা দেখায়, তারা কখনোই দলের আদর্শ ধারণ করতে পারে না। আমি নির্বাচিত হলে ঈশ্বরদীকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত করার পাশাপাশি সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলব।

তিনি প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, তারেক রহমান দেশে ফিরেছেন। তিনি ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছেন, ভাইকে হারিয়েছেন, এমনকি মায়ের সঙ্গে শেষ সময়ে বসে খাওয়ার সুযোগটুকুও পাননি। দেশের মানুষ তাঁর ওপর আস্থা রেখে একটি সুন্দর রাষ্ট্র গড়ে তুলবে। আজ তাঁর আহ্বানে সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তা অভূতপূর্ব।

হাবিবুর রহমান আরও যোগ করেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনেই আমি কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে এই আসনটি আমি তাঁকে উপহার দিতে পারব।

বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ঈশ্বরদীতে বিশাল মশাল মিছিল


নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা–৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের মনোনয়ন বাতিল করে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুকে মনোনয়নের দাবিতে ঈশ্বরদীতে মশাল মিছিল করেছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা।

ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সকল অঙ্গসংগঠন মিলিয়ে সোমবার রাত ৭টায় শহরের আলহাজ মোড় থেকে মিছিলটি শুরু করে। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় খায়রুজ্জামান বাবু বাসটার্মিনাল সংলগ্ন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে সমাবেশে পরিণত হয়।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা জাতীয় বীর, পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাকারিয়া পিন্টুকে পাবনা-৪ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার দাবি জানান। জাকারিয়া পিন্টু সম্প্রতি স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর ফাঁসির মঞ্চ থেকে রেহাই পান।

ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস. এম. ফজলুর রহমান, আটঘরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ খান, বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন জনি, ইসলাম হোসেন জুয়েল, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সংগ্রামে জাকারিয়া পিন্টুকে নানা হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় কারাবন্দি রাখা হয়েছে। তারা চান, পাবনা-৪ আসনের প্রার্থী হোক একজন ত্যাগী ও সাহসী নেতা।

মশাল মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা ‘হাবিবের মনোনয়ন মানি না, মানবো না’ ও ‘ছাত্রলীগের মনোনয়ন মানি না, মানবো না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ঈশ্বরদীতে গাজা ইস্যুতে বিক্ষোভ বিএনপির, সংসদ নির্বাচনে লড়ার বার্তা জাকারিয়া পিন্টুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্মম হামলা ও গণহত্যার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে 'মার্চ ফর গাজা' নামে এই কর্মসূচি পালিত হয়। 

বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের ঈশ্বরদী গার্লস হাইস্কুল এণ্ড কলেজ মোড় থেকে শুরু হয়ে কাচারীপাড়া, কড়ইতলা, রেলগেট ও স্টেশন রোড প্রদক্ষিণ করে বাজারের ১ নম্বর গেটে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন নেতৃবৃন্দ। 

বিক্ষোভের আগে খায়রুজ্জামান বাবু ঈদগাহ সংলগ্ন ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবে একটি 'কর্মী সভা' হয়। সেখানে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘দলীয় নেতাকর্মীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমি এবার প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর আগেও মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছিলাম, তবে পাইনি। এবার প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছি। দেশনায়ক তারেক রহমান যেটা সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই আমি মেনে চলব।’

জাকারিয়া পিন্টু জানান, 'শেখ হাসিনার ট্রেনে হামলার মামলায় ফরমায়েশি রায়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছেন তিনি। একাধিক মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন। তারপরও দলের আদর্শে বিশ্বাস রেখে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।'

তিনি আরও বলেন, 'বর্তমান দুঃশাসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ভোটাধিকার হরণে মানুষ অতিষ্ঠ। বিএনপির পক্ষ থেকে জনগণের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। আমি চেষ্টা করব, দলের নীতি ও নেতৃত্ব অনুসরণ করে মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে।'

বিক্ষোভ কর্মসূচির সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু। কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ বিএনপি নেতা আহসান হাবিব, পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান, হুমায়ুন কবীর দুলাল, আক্কাস আলী খান, আমিনুর রহমান স্বপন, শামসুদ্দোহা পিপ্পু, আতাউর রহমান পাতা, আনোয়ার হোসেন জনি, আবদুর রাজ্জাক ফিরোজ, ইসলাম হোসেন জুয়েল, আজিজুর রহমান শাহীন, মো. নান্নু রহমান, টুটুল সরদার, জাহাঙ্গীর আলম, রুহুল আমীন বাবলু। 

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল, সদস্য সচিব সাজেদুজ্জামান জিতু, যুবদল নেতা মাহামুদ হাসান সোনামনি, পৌর স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ নান্টু, সদস্য সচিব মাহামুদুর রহমান জুয়েলসহ বিএনপির উপজেলা, পৌর এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। 

বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, গাজায় নিরীহ শিশু, নারী ও সাধারণ মানুষের ওপর যেভাবে নৃশংস হামলা চালানো হচ্ছে, তা মানবতাবিরোধী অপরাধ। তারা অবিলম্বে এই গণহত্যা বন্ধের দাবি জানান এবং ইসরায়েলের সব পণ্য বর্জনের আহ্বান জানান।

বিধিমালা প্রয়োগে নির্লিপ্ততা : অবস্থান পরিষ্কার করল ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা প্রয়োগে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন নির্লিপ্ত— গণমাধ্যমে বিশিষ্টজনদের দেওয়া এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসি। কমিশন বলছে, টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে এবং পত্রপত্রিকায় বিশিষ্টজনদের বক্তব্য জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে।

শনিবার নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ‘নির্লিপ্ত’ ইস্যুতে ইসির প্রকৃত অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশিষ্টজনদের কেউ কেউ টকশোতে বা পত্রপত্রিকায় মন্তব্য করছেন যে নির্বাচন কমিশন আচরণ বিধিমালার প্রয়োগ বিষয়ে নির্লিপ্ত। গণমাধ্যমে প্রচারিত বিশিষ্টজনদের এমন মনগড়া বক্তব্য জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে। সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা বিনষ্টের মাধ্যমে তা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যা মোটেই কাম্য নয়। এ কারণে আইন ও বিধির প্রকৃত অবস্থান প্রকাশ করা হলো—

(ক) জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচনে প্রচারণা বিষয়ে আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজনৈতিক প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ নামে একটি সংবিধিবদ্ধ বিধিমালা রয়েছে। এই বিধিমালার ৫নং বিধি অনুযায়ী রাজনৈতিক দল, মনোনীত প্রার্থী কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিধিমালার ৬ থেকে ১৪নং বিধিতে বর্ণিত নির্দেশনা প্রতিপালন করতে হবে। এক্ষেত্রে আচরণবিধির মূল বিষয় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী। প্রার্থী দলের পক্ষে মনোনীত প্রার্থী হতে পারেন বা স্বতন্ত্র হতে পারেন। বিধিমালার ১২নং বিধিতে ২১ দিন আগের কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ প্রার্থীরা প্রচারণার জন্য ২১ দিনের বেশি সময় পাবেন না।

(খ) রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনীত বা স্বতন্ত্র কোনো প্রার্থী আইন ও আচরণবিধির অর্থে প্রার্থী নন। নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ হবে রিটার্নিং অফিসার বাছাই, আপিলের সিদ্ধান্ত ইত্যাদি সম্পন্ন করে কোনো একটি নির্বাচনী এলাকার জন্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করে প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে প্রচারণার জন্য মাঠ উন্মুক্ত করার পর। তখন ওই নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীদের সবাই সমভাবে একেকজন প্রার্থী হবেন। সেসময় থেকে তাদের ক্ষেত্রে আচরণ বিধিমালা প্রযোজ্য হবে। আচরণ প্রতিপালন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ১২নং বিধিতে ২১ দিন আগে কোনো প্রার্থীর দ্বারা বা প্রার্থীর পক্ষে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ। প্রার্থীদের জন্য প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারের সময় চলতি বছরের ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ১৮ ডিসেম্বর তারিখের আগে কোনো ব্যক্তির প্রার্থী হওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। ফলে আগে কোনো নির্বাচনী এলাকায় কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে নির্বাচনী প্রচারণারও সুযোগ নেই।

নৌকার টিকিট পেলেন না চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি


নিজস্ব প্রতিবেদক: আলোচনায় থেকেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। এই আসন থেকে নৌকার মাঝি হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমান। 

২৬ নভেম্বর রোববার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়েজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৯৮ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। যেখানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে জিয়াউর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়।

এর আগে ১৮ নভেম্বর শনিবার  চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি। এরপর ২০ নভেম্বর বিকেলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হাজির হয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দেন তিনি। 

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে এই একই আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন মাহি। সেবারও দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউর রহমানকে।

ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া নৌকার মনোনয়ন পেলেন গালিবুর রহমান শরীফ

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেলেন পাবনা জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও  প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ ডিলু এমপি ছেলে গালিবুর রহমান শরীফ গালিব।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদে প্রার্থিতা করতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। ২৬ নভেম্বর রবিবার বিকাল ৪টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রার্থীদের নামের তালিকা ঘোষণা করেন।

এবার সংসদের ৩০০টি আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৩৬২টি। গত ২৩ নভেম্বর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভবনে দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন দুটি বিভাগের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। শুক্র ও শনিবারও দলটির সভাপতি ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বোর্ডের সভায় বাকি ছয় বিভাগের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়।

২০২০ সালে বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ প্রয়াত শামসুর রহমান শরীফ ডিলু এমপি মৃত্যুবরন করলে  আসনটি শূন্য হয়। উপনির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দী হাবিবুর রহমান হাবিব কে ২ লক্ষ ৩৪ হাজার ভোটে পরাজিত করে বিজয়ী হন নুরুজ্জামান বিশ্বাস। এদিকে গালিবুর রহমান শরীফ মনোনয়ন পাওয়ায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করেছে তাঁর কমী-সমর্থকরা। তরুন প্রজন্মের মধ্য থেকে মনোনয়ন দেওয়ায় এই সংসদীয় আসনটি আরও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের আসনগুলোর প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।  

২৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, রংপুরের ৩৩টি, রাজশাহীর ৩৯টিসহ মোট ৭২টি আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। আমরা সব আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত ফল প্রকাশ করব না। আমরা একসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সারা দেশের ফল ঘোষণা করব।

২৪ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মনোনয়ন বোর্ডের সভা মুলতবি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য কয়েকজন বাদ পড়ছেন। এই মুহূর্তে আমি তাদের নাম বলতে পারছি না, তবে বাদ পড়ছেন। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ২৫ নভেম্বর শনিবার প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করা হবে।

বিদ্রোহীদের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগে আমরা দেখি কারা বিদ্রোহী হয়, তারপর সিদ্ধান্ত নেব।’

‘নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। জোট হবে বিভিন্নভাবে। কার সঙ্গে কার জোট হবে, কোথায় গিয়ে ঠেকবে, এখন বলা মুশকিল। নির্বাচনের আগে জোট হতেও পারে, সময় আছে। এমনও কিছু হতে পারে যা আপনি ভাবছেন না, আমিও ভাবছি না’— বলেন ওবায়দুল কাদের।

এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, আজ মনোনয়ন বোর্ডে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বাইরে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

বৃহস্পতিবার সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মনোনয়ন বোর্ডের সভা শুরু হয়। সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন স্বচ্ছ করার জন্য যা যা দরকার আমরা সব করব।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে কোনো সরকারি কর্মকর্তার বদলি নির্বাচন কমিশনারের অনুমতি ছাড়া করা যাবে না। নির্বাচন কমিশন চাইলে পরিবর্তন করতে পারবেন।’

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন