আরএনপিপি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আরএনপিপি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রূপপুর প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেইজে আগুন: মূল কার্যক্রমে প্রভাব পড়েনি দাবি কর্তৃপক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেইজে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েকের) জিসিভি সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে কম্পিউটার, এসি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কাগজপত্র ও ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে।

রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বায়েকের পাইওনিয়ার বেইজে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে ঘটনাটি মঙ্গলবার বিকেলে প্রকাশ্যে আসে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের দুটি কক্ষে মেরামতের কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া ও আগুন আশপাশের কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডের পর পাইওনিয়ার বেইজসহ বায়েকের আশপাশের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কাস্টমস বিল্ডিং ও ক্যান্টিনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

অগ্নিকাণ্ডের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল বুধবার দুপুরে প্রকল্পের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, পাইওনিয়ার বেইজ রূপপুর প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের অংশ নয়; এটি প্রকল্পের একটি সহায়ক অংশ। ফলে অগ্নিকাণ্ডের কারণে মূল প্রকল্পের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি এবং সার্বিক কাজ স্বাভাবিক রয়েছে।

ওই সূত্র আরও জানায়, মূল প্রকল্প এলাকায় বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে পাইওনিয়ার বেইজে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা প্রকল্পের দৃষ্টিকোণ থেকে তেমন বড় কিছু নয়। শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অফিসের দুটি কক্ষে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

তবে গভীর রাতে পাইওনিয়ার বেইজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি কোনো নাশকতা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। সূত্রটি জানায়, ডিজিটাল সিস্টেমে ফাইলের ব্যাকআপ কপি সংরক্ষিত থাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিটি ফাইল অক্ষত রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই রূপপুর প্রকল্পের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান করছেন।

পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী বলেন, গভীর রাতে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকল্প এলাকায় ছুটে যান। ঈশ্বরদীর চারটি ইউনিট দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রূপপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু হাশেম বলেন, প্রকল্পের ভেতরে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। যে দুটি কক্ষে আগুন লেগেছিল, সেগুলো মূল প্রকল্পের রেডিয়েশন এরিয়ার বাইরে অবস্থিত। ভবনটি মূলত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের একটি অস্থায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তিনি আরও জানান, ওই ভবনে প্রায় ২০টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে বায়েকের অফিসের বিভিন্ন কম্পিউটার, এসি, কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

সেফটি ভালভের ত্রুটি: রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পেছাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সেফটি ভালভের ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তবে এটি কবে মেরামত করা সম্ভব হবে এবং কবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন। সরকারের ১৮০ দিনের অর্জন জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের আগে প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শুরু হয়। এ পর্যায়ে চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য ছিল। বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা চালিয়ে বর্তমানে 'বি' স্টেজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে দুটি সেফটি ভালভের সমস্যার কারণে পরবর্তী 'সি' স্টেজে যাওয়া যাচ্ছে না।

সেফটি ভালভ মেরামত ও কমিশনিংয়ের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ দিতে না পেরে মন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না। ভালভ কেন কাজ করছে না, তা নির্ধারণ করতে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসবে। তাদের পরীক্ষার পর সমস্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

তিনি জানান, ডিজাইনারের মূল্যায়ন অনুযায়ী ভালভ দুটি পুরোপুরি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দুটি বিকল্প ভাবা হচ্ছে—একটি হলো দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য বরাদ্দ থাকা ভালভ প্রথম ইউনিটে বসানো, অন্যটি রুশ ভেন্ডরকে দ্রুত নতুন ভালভ সরবরাহের অনুরোধ করা। এর মধ্যে দ্রুততম ও সময়োপযোগী বিকল্পটিই বেছে নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল ডেটা প্যাকেজ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অব্যবহৃত ডেটা যাতে গ্রাহক ব্যবহার করতে পারেন, সে বিষয়ে অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। মেয়াদ শেষের পর আরও এক-দুই দিন তা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে কথা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা।

জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রূপপুর: জিই ভার্নোভার সঙ্গে চুক্তি সই

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। কেন্দ্রটিকে জাতীয় লোড ডেসপাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের আওতায় আনতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জিই ভার্নোভার মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে।

গত বুধবার ঢাকায় পরমাণু শক্তি কমিশন কার্যালয়ে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। রূপপুর প্রকল্পের পক্ষে প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন এবং জিই ভার্নোভার প্রতিনিধি দেবেশ ঝা চুক্তিতে সই করেন।

দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হলো এনএলডিসি। এখান থেকেই উৎপাদন, সঞ্চালন এবং চাহিদার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এই চুক্তির ফলে রূপপুরের দুই ইউনিটের মোট আটটি সঞ্চালন লাইন এবং দুটি উপকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে এনএলডিসির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে।

প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন জানান, বিশ্বস্ততার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য প্রেরণে এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক। এটি কেন্দ্রটির কমিশনিং ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখবে। উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মো. খালেকউজ্জামান বলেন, এনএলডিসির স্কাডা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে, যা গ্রিডের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ সমন্বয় সহজ করবে।

এদিকে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি লোডিং গত ২৮ এপ্রিল শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। নিয়ম অনুযায়ী, শুরুর দিকে এই ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে এবং ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে।

উল্লেখ্য, রূপপুর প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। জ্বালানি ঘাটতির এই সময়ে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে এই কেন্দ্র বড় ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

রূপপুরে আবার আঁধার

বিশেষ প্রতিবেদক: চলমান তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে সবার নজর ছিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে। প্রত্যাশা ছিল, আসন্ন সেপ্টেম্বরেই মিলবে বহুল কাঙ্ক্ষিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ। তবে সেই আশায় এখন অনিশ্চয়তার মেঘ। ‘সেফটি ভালভ’ নামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র টানা দেড় মাস ধরে মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছে না। নতুন ভালভ সংস্থাপন ছাড়া মূল কাজে এগোনোর উপায় নেই, আর সেটি বিদেশ থেকে আনিয়ে প্রতিস্থাপন করতে লেগে যেতে পারে কয়েক মাস। একই সঙ্গে আটকে আছে কেন্দ্রটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত কয়েকটি জরুরি চুক্তি। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এমনিতেই অতিরিক্ত সময় পার হয়ে গেছে। বর্তমান সংকটে দেশের স্বার্থেই দ্রুত এখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা জরুরি।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম এ বিষয়ে বলেন, “বিদ্যুতের ঘাটতি ও উৎপাদন খরচ কমাতে রূপপুর কেন্দ্রটি দ্রুত চালু করা এখন অত্যন্ত জরুরি। এটি চালু হলে বিদ্যুতের দর কমবে এবং জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতাও হ্রাস পাবে। কিন্তু নানা অজুহাতে বারবার এ প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নীরব। কেন্দ্রটি সময়মতো চালু না হওয়ায় রাষ্ট্র আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং তার মাশুল দিচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।”

দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট’ এটি নির্মাণ করছে।

প্রকল্পের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন। তবে প্রকল্প পরিচালক মো. কবির হোসেনের বক্তব্য জানতে কয়েকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পরমাণু শক্তি কমিশনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, রূপপুর সাধারণ কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়। এখানে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে জটিল সব পরীক্ষা চালাতে হয়। এসব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদনে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ বলা সম্ভব নয়।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সেফটি ভালভ রিঅ্যাক্টরের ভেতরের চাপ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। কুলিং সিস্টেমে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে গিয়ে বাড়তি চাপ নিরাপদে নিষ্কাশন করে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা পাইপ ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি দূর করে। পারমাণবিক প্রকল্পে নিরাপত্তার একাধিক স্তর থাকলেও এই যন্ত্রটির গুরুত্ব অপরিসীম।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরমাণু শক্তি কমিশন সূত্রের খবর, রূপপুরে এখন মূলত এই সেফটি ভালভ নিয়েই জটিলতা তৈরি হয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বারবার চেষ্টা করেও যন্ত্রটি গুণগত মানের মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। বর্তমানে বিকল্প উপায়ে আরও কয়েকবার পরীক্ষার পাশাপাশি নতুন ভালভ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, এই উচ্চপ্রযুক্তির সেফটি ভালভ মূলত ইউক্রেন, তুরস্ক ও জার্মানি তৈরি করে। শুরুতে রাশিয়া ইউক্রেনকে এর কার্যাদেশ দিলেও যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীকালে তুরস্ক থেকে যন্ত্রটি সংগৃহীত হয়।

এখন নতুন করে আরেকটি ভালভ আনার তোড়জোর চলছে। তবে এমন বিশেষ যন্ত্র তৈরি ও সরবরাহে সাধারণত ছয় থেকে আট মাস সময়ের প্রয়োজন হয়। ফলে বিদ্যমান ভালভটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর করা না গেলে নতুনটির জন্য ওই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেই হবে। অন্যদিকে, বর্তমান ভালভটি কোনোভাবে সফল হলেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে অন্তত আড়াই মাস সময় লাগবে। কারণ সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরও গ্রিড সংযোগের প্রক্রিয়াটি শেষ হতে ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ সময় নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশনের দুই কর্মকর্তা জানান, কাজের যে বর্তমান অগ্রগতি, তাতে চলতি বছরের মধ্যে প্রকল্পটির প্রথম ইউনিট চালু হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

বর্তমানে দেশে ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সংকটে দিনে গড়ে ১৬ থেকে সাড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সম্প্রতি এলএনজি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় গত ১০ আগস্ট লোডশেডিং প্রায় পৌনে চার হাজার মেগাওয়াটে গিয়ে ঠেকেছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া গেলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে জনজীবন ও শিল্পোৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ বাড়াতে গিয়ে শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ সীমিত করা হয়েছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামিয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে সরকারের লোকসান ও ভর্তুকির চাপ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুর কেন্দ্রটি উৎপাদনে এলে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রটি পূর্ণ চালুর পর প্রতি মাসে জ্বালানি আমদানি বাবদ সরকারের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এই বিদ্যুতের দাম এখনো চূড়ান্ত না হলেও তা এলএনজি, কয়লা বা তেলভিত্তিক বিদ্যুতের চেয়ে অনেকটাই সাশ্রয়ী হবে।

এই কেন্দ্রের অন্যতম সুবিধা হলো, একবার জ্বালানি লোড করলে একটানা দেড় বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম দুই চালানে মোট তিন বছরের জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘টিভিইএল’।

রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। মূল সময়সূচি অনুযায়ী প্রথম ইউনিট ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এবং দ্বিতীয়টি ২০২৩ সালের অক্টোবরে চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে কোভিড মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা অযুহাতে এ পর্যন্ত অন্তত সাতবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

সবশেষ চলতি বছরের ১২ মে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করার পর জানানো হয়, চলতি মাসেই প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। পরে সেই সময় পিছিয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে ধরা হলেও এখন তা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ফলে প্রথম ইউনিটের সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের চালু হওয়ার তারিখও পিছিয়ে যাচ্ছে।

সব পরীক্ষা শেষে প্রাথমিক চালুর পর টানা সাত থেকে আট মাস পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন চালানো হবে। এরপরই শুরু হবে পূর্ণমাত্রায় বাণিজ্যিক উৎপাদন। দুটি ইউনিটই চালুর পর কেন্দ্রটি থেকে মোট ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা রয়েছে।

পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি লোড করার ৪৫ দিনের মধ্যে রিঅ্যাক্টরে ফিশন প্রক্রিয়া শুরু হওয়া উচিত এবং ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হওয়াই নিয়ম। সেই হিসাবে গত আগস্টেই উৎপাদন শুরুর কথা। একই প্রযুক্তিতে নির্মিত বেলারুশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তিন মাসেরও কম সময়ে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হয়েছিল। রূপপুরের প্রযুক্তি পরীক্ষা-নিরীক্ষিত হলেও বাংলাদেশে কেন এমন জটিলতা তৈরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

প্রকল্পে অতিরিক্ত যন্ত্রাংশের অভাব, ব্যবস্থাপনা ত্রুটি ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতার বিষয়টিও এখন আলোচনায়। বর্তমান প্রকল্প পরিচালক মো. কবির হোসেনের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এই পদে বসানো নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। অভিজ্ঞ তিনজন কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে তাঁকে এই পদে আনায় প্রকল্প পরিচালনায় অদক্ষতা স্পষ্ট হচ্ছে বলে অনেকের মত।

মেগা এই প্রকল্পটির মোট চুক্তিভিত্তিক ব্যয় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার। মেয়াদ চার বছর বাড়লেও চুক্তি অনুযায়ী রাশীয় কনট্রাক্টরকে বাড়তি অর্থ দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে ডলারের দরবৃদ্ধির কারণে দেশীয় মুদ্রায় প্রকল্পের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। তাছাড়া উৎপাদনে বিলম্বের কারণে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতির স্বাভাবিক মেয়াদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নির্ধারিত সময়ে সেবা না মেলায় রাষ্ট্র চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

জাতীয় জ্বালানি সংকট নিরসনে রূপপুর প্রকল্পকে ঘিরে যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বারবার সময় পিছিয়ে যাওয়া এবং প্রযুক্তিগত অচলাবস্থায় সেই আশার আলো এখন অনিশ্চয়তার ঘন আঁধারে ঢাকা পড়েছে।

রসাটমের আন্তর্জাতিক যুব বোর্ডে বাংলাদেশের প্রমোদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটমের আন্তর্জাতিক যুব উপদেষ্টা পর্ষদ ‘ইমপ্যাক্ট টিম ২০৫০’-এর দ্বিতীয় বোর্ডে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রমোদ চন্দ্র বৈদ্য। তিনি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) একজন প্রযুক্তি কর্মকর্তা।

রসাটমের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি সংস্থাটির মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রথম বোর্ডের সদস্যরা তাঁদের উত্তরসূরিদের পরিচয় করিয়ে দেন।

নতুন এই পর্ষদে বাংলাদেশসহ ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, কিরগিজস্তান, রুয়ান্ডা, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, তানজানিয়া ও উজবেকিস্তানের মোট ১৩ জন তরুণ পেশাজীবী সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তরুণ গবেষক, পারমাণবিক খাতের পেশাদার ও যুব সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয় বোর্ডটি গঠন করা হয়েছে। ৫৮টি দেশের ২০৭ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে ১৩ জনকে বেছে নেওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রমোদ।

রসাটমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে বোর্ডের সদস্যরা আগামী কয়েক মাসের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তাঁরা বিভিন্ন দেশে যুব সংলাপের আয়োজন করবেন। পরিচ্ছন্ন, উদ্ভাবনী ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর খাত হিসেবে পারমাণবিক শিল্পের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তরুণরা কেন অন্য পেশা বেছে নিচ্ছেন, তা নিয়ে মতামতের পাশাপাশি গবেষণালব্ধ তথ্য সংগ্রহ করা হবে এসব সংলাপে।

এসব আলোচনার ফলাফল তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ-৩১) উপস্থাপন করা হবে। সেখানে সদস্যরা রসাটমের মহাপরিচালকের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে অংশ নেবেন। এ ছাড়া জলবায়ু সম্মেলনে আয়োজিত ‘পারমাণবিক দিবস’ উপলক্ষে যুব কর্মসূচি প্রণয়নে সহায়তা এবং তুরস্কের আকুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করবেন তাঁরা।

রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক যুব সংলাপের রূপরেখা তৈরিতে এই পর্ষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা তরুণদের কাছ থেকে সাহসী ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রত্যাশা করি। বিশ্বব্যাপী আমাদের বিশেষজ্ঞ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব উদ্যোগে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর অপেক্ষা, বদলাবে বিদ্যুতের চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু হলে তা দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ১৫ শতাংশ সরবরাহ করবে। ২০২৮ সালের মধ্যে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটই বা চুল্লি পুরোপুরি উৎপাদনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর দেশের নির্ভরতা অনেকটাই কমবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ চলছে। তবে করোনাভাইরাস মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে কাজের গতি ব্যাহত হওয়ায় প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে গেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাসান জানান, প্রথম ইউনিটটি ২০২৭ সালের শুরুতে এবং দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২৮ সালের শুরুতে পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনে আসবে।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পের মূল ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার। তবে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় স্থানীয় মুদ্রায় প্রকল্পের খরচ প্রায় ২৫ শতাংশ বা এক-চতুর্থাংশ বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হলে এই বাড়তি ব্যয় এড়ানো যেত এবং জ্বালানি আমদানির খরচও দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।

অবশ্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘ মেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যয়ের দিক থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জন্য শেষ পর্যন্ত লাভজনকই হবে।

সরকার এখন ভবিষ্যতের জন্য বড় কেন্দ্রের চেয়ে ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, ৩০০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার ছোট কেন্দ্র (স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর) নির্মাণের বিষয়ে বিভিন্ন দেশের নির্মাতাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। এ ধরনের কেন্দ্র নদীর তীরে দ্রুত নির্মাণ করা সম্ভব। তবে বড় আকারের নতুন কোনো পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই বলেও তিনি জানান।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে আগামী পাঁচ থেকে সাত বছর দেশে বড় কোনো নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজন হবে না। এই সময়ে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা আধুনিক করার একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সফল ও নিরাপদভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল তৈরি, শক্তিশালী ও স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা (নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি অথরিটি), জনসমর্থন এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক বর্জ্য নিরাপদে ব্যবস্থাপনার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী নির্মাণাধীন অধিকাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই রাশিয়া ও চীনের প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে। একই সময়ে প্রতিবেশী ভারত পারমাণবিক বিদ্যুতের উৎপাদন বড় পরিসরে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে এবং পাকিস্তানও চীনের সহায়তায় একাধিক কেন্দ্র চালু করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতিই মেটাবে না, বরং শিল্পায়ন ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছেই পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আপৎকালীন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়েছে। আকস্মিক কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রস্তুতি, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় এবং জরুরি সাড়াদানের সক্ষমতা যাচাই করতে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) উপ-প্রধান তত্ত্বাবধায়ক এস এম মাহমুদ আরাফাত এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মহড়ায় সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির বিভিন্ন ধাপ বাস্তবায়ন করা হয়। এর মধ্যে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র চালু করা, কারিগরি সক্ষমতা যাচাই, সম্ভাব্য তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব মূল্যায়ন, যোগাযোগব্যবস্থা পরীক্ষা এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতিও যাচাই করা হয়েছে।

মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও তাদের কারিগরি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভিও-সেফটি’র প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, জাতীয় সংকট কেন্দ্র, ‘সিআরইএ’, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। রাশিয়ার মস্কো থেকে আসা পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধিদলও মহড়াটি পর্যবেক্ষণ করে।

অনুশীলনের অংশ হিসেবে একটি কৃত্রিম জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এরপর আপৎকালীন পরিকল্পনা অনুযায়ী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র কার্যক্রম শুরু করে। সংশ্লিষ্ট দলগুলো নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুশীলন চালায়।

এ সময় কারিগরি দল কেন্দ্রের বিভিন্ন পরিচালনাগত সূচক বিশ্লেষণ, তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপ, বিকিরণের উৎস শনাক্ত, আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ এবং বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়তার সম্ভাব্য বিস্তৃতি মূল্যায়নের কাজ করে। পাশাপাশি কর্মরত ব্যক্তি ও আশপাশের এলাকার মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুশীলন করা হয়।

এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সাড়াদানকারী দলগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের কার্যকারিতাও পরীক্ষা করা হয়। জরুরি বার্তা পাঠানো, পরিস্থিতি প্রতিবেদন তৈরি, সমন্বয় সভা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি ধাপ অনুশীলনের আওতায় ছিল।

মহড়া শেষে এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, ‘আজকের এই সফল জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়াটি দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আপৎকালীন প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে একটি বড় অর্জন। এটি আমাদের উচ্চমানের কারিগরি দক্ষতা, সঠিক নেতৃত্ব এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের জরুরি সাড়াদানকারী সংস্থাগুলোর যৌথ সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘মহড়ার একটি বড় লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সংস্থার সম্মিলিত কমান্ড ব্যবস্থার অধীনে একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা যাচাই করা। অংশগ্রহণকারী সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও কারিগরি দলের অংশগ্রহণ মহড়াটিকে আরও বাস্তবসম্মত করেছে।’

আন্তর্জাতিক পরমাণু কুইজে বিশ্বসেরা হয়ে রাশিয়া যাচ্ছে ঈশ্বরদীর খুদে শিক্ষার্থী সিদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে পাবনার ঈশ্বরদীর কৃতি সন্তান সিদ্ধা কর্মকার। আন্তর্জাতিক ‘গ্লোবাল অ্যাটমিক কুইজ’ বা বিশ্ব পরমাণু কুইজে অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগে বিশ্বের সেরা তিন প্রতিযোগীর একজন হয়েছে মাত্র ১২ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী।

এ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটমের আমন্ত্রণে আগামী ২৩ জুন আট দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রাশিয়া যাচ্ছে সিদ্ধা। সফরে তার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে থাকছেন বড় ভাই দুর্জয় কর্মকার। তিনিও একই কুইজের ১৮ থেকে ২৫ বছর বিভাগে বিশ্বসেরা ১০০ জনের মধ্যে স্থান পেয়েছেন।

সিদ্ধা কর্মকার ঈশ্বরদী পৌরসভার নূরমহল্লা এলাকার সমর কর্মকারের মেয়ে। সে ঈশ্বরদীর আর.এ.আর.এস. উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার ভাই দুর্জয় কর্মকার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী।

আগামী ২৬ জুন রাশিয়ার ঐতিহাসিক বিজ্ঞাননগরী ওবনিন্সকে অনুষ্ঠিত হবে ‘চতুর্থ আন্তর্জাতিক তরুণ পারমাণবিক ফোরাম—ওবনিন্সক নিউ’। এতে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন এই দুই ভাই-বোন।

১৯৫৪ সালের ২৬ জুন ওবনিন্সক শহরেই বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী, গবেষক, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং উদীয়মান তরুণ নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে থাকার সুযোগ পাবে সিদ্ধা। সেখানে পারমাণবিক শক্তির ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন দলীয় আলোচনা, বৈজ্ঞানিক সেমিনার এবং বিশেষায়িত কর্মশালায় অংশ নেবে সে।

ওবনিন্সকের মূল আয়োজন শেষে তারা মস্কো সফর করবেন। এ সময় রেড স্কয়ার, ক্রেমলিন, সেন্ট বেসিলস ক্যাথেড্রাল এবং ‘অ্যাটম’ পরমাণু প্রদর্শনী কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক স্থাপনা পরিদর্শনের কথা রয়েছে। আগামী ৩০ জুন তাদের দেশে ফেরার কথা।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে সিদ্ধা কর্মকার বলে, ‘এত বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে আমি খুব আনন্দিত। গত নভেম্বরে নিজের মেধা যাচাইয়ের জন্য বিশ্ব পরমাণু কুইজে অংশ নিয়েছিলাম। বিশ্বের সেরা তিনজনের একজন হওয়া আমার জন্য বড় চমক ছিল। আর রাশিয়ার ঐতিহাসিক বিজ্ঞাননগরী ওবনিন্সকে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও প্রাপ্তি।’

রূপপুর প্রকল্পের রুশ নাগরিকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে কর্মরত এক রাশিয়ান নাগরিক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহরের পিয়ারপুর কোর্টপাড়া জামে মসজিদে কালেমা পাঠের মাধ্যমে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এ সময় মসজিদে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আগে ওই রাশিয়ান নাগরিকের নাম ছিল সেরগি। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তাঁর নাম রাখা হয়েছে মো. আব্দুল্লাহ।

মো. আব্দুল্লাহ নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমে কর্মরত।

পিয়ারপুর কোর্টপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মো. এনামুল হক বলেন, রাশিয়ান নাগরিকটি স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে ও স্বপ্রণোদিত হয়ে কালেমা পাঠের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে গোলটেবিল আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে ‘উচ্চপর্যায়ের পারমাণবিক শক্তি কৌশল, বাস্তবতা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা’ শিরোনামে একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুই দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার  দুপুরে ঈশ্বরদীর স্বপ্নদ্বীপ রিসোর্টের সভাকক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

গোলটেবিল আলোচনায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি, পারমাণবিক প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার, দক্ষ জনবল তৈরি, নিয়ন্ত্রণকারী কাঠামো শক্তিশালী করা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং জাতীয় উন্নয়নে পারমাণবিক প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশের বাড়তে থাকা বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, খাদ্য নিরাপত্তা, পানি ব্যবস্থাপনা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মণ্ডল, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং অ্যাম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ রাসেল।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম. মঈনুল ইসলাম এবং প্রধান সমন্বয়ক (এনএসপিসি) ব্রিগেডিয়ার রোবায়েত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন বা উপস্থাপনা করেন।

এই গোলটেবিল আলোচনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা, শিক্ষাবিদ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে আজ শনিবার সকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁরা প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ ও অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

ঈশ্বরদীতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হলো রাশিয়া দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাশিয়ার মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঈশ্বরদীতে পালিত হয়েছে রাশিয়া দিবস। শুক্রবার বিকেলে গ্রীন সিটিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন  রোসাটমের প্রকৌশল শাখা।

আয়োজকেরা জানান, ১৯৯২ সাল থেকে প্রতি বছর ১২ জুন রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাশিয়া দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে। আধুনিক রুশ ফেডারেশন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের স্মরণে দিনটি পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের রুশ প্রকল্প পরিচালক আলেক্সি দেইরি। তিনি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘বন্ধুপ্রতিম বাংলাদেশি জনগণের সঙ্গে আমাদের গৌরবময় জাতীয় দিবস উদযাপন করতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।’

অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক দল ‘সং অ্যান্ড ডান্স অ্যানসাম্বেল’-এর পরিবেশনা। ঘণ্টাব্যাপী গান ও নৃত্যের মাধ্যমে দলটি রুশ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মানুষের আবেগ-অনুভূতির নানা দিক তুলে ধরে। তাদের এই পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

সাংস্কৃতিক আয়োজনে ‘কালিনকা’, ‘নাদ ভোদোই’, ‘কাতিউশা’, ‘গোরি, গোরি ইয়াসনো’, ‘কাদরিল’ এবং ‘রাশিয়া উইল রিমেইন রাশিয়া’সহ জনপ্রিয় রুশ গান ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। এসব পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে রোসাটমের প্রকৌশল শাখার বিভিন্ন অংশীজন ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন। এতে এতমস্ত্রয়এক্সপোর্টের হেড অব কমিউনিকেশনস নিনা দেমেন্তসোভাসহ রুশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অতিথিদের স্বাগত জানান এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এ ছাড়া রাশিয়া দিবস উপলক্ষে ম্যাজিক শো, বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে বাংলাদেশ-রাশিয়া সম্পর্কের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্তও তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে বিশেষ অবদানের জন্য কয়েকজন কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

আগস্টেই রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ: বিজ্ঞানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের আগস্টের শেষদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে এক হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করার আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

এ ছাড়া, দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং ২০২৭ সালের এপ্রিলে সম্পন্ন হবে বলে জানান মন্ত্রী। শুক্রবার বিকেলে ঈশ্বরদীতে এক উচ্চপর্যায়ের কৌশলগত গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি যতই সমৃদ্ধ হচ্ছে, শিল্পকারখানা সচল রাখতে ও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানির চাহিদাও তত দ্রুত বাড়ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট কম-কার্বন বা পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।’

এর আগে, কারিগরি অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিউক্লিয়ার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট সেকশনের টেকনিক্যাল লিড মেহমেত চেইহানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আজ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন শুরু করেন। এই প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন সংস্থাটির সিনিয়র নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ার এরিক জঁ বার্নার্ড ম্যাথেট। আইএইএ পরিদর্শনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করা।

ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, ‘সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট থেকেও আরও এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ করতে পারব আমরা। এর ফলে ২০২৭ সালের শেষ বা ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে রূপপুরের দুটি ইউনিট থেকে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করা সম্ভব হবে।’

২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে ফুয়েল বা পারমাণবিক জ্বালানি লোডিংয়ের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে তার কার্যক্রম বা অপারেশনাল ধাপে প্রবেশ করে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে চুল্লির কোরে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি সফলভাবে লোডিং করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব প্রসেসিং সিস্টেমের নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ অপারেশন নিশ্চিত করতে ধারাবাহিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

টেস্টিং ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রথম ইউনিটটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চেইন রিয়্যাকশন (শৃঙ্খল বিক্রিয়া) শুরু করার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

রূপপুর গ্রিন সিটিতে রুশ নাগরিকদের বিজয় দিবসের শোভাযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আবাসিক এলাকা গ্রিন সিটিতে রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির পরাজয় এবং যুদ্ধে প্রাণ দেওয়া সৈনিকদের স্মরণে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন প্রকল্পে কর্মরত রুশ নাগরিকেরা।

শোভাযাত্রায় রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত শত শত রুশ নাগরিকের পাশাপাশি তাঁদের স্ত্রী ও সন্তানেরাও অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত যোদ্ধাদের ছবি দেওয়া ফেস্টুন নিয়ে পুরো গ্রিন সিটি এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

আয়োজনে অংশ নেওয়া রুশ নাগরিকেরা বলেন, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো শহীদ যোদ্ধাদের স্মরণ করা, ইতিহাসের প্রতি সম্মান জানানো এবং শান্তি ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। শোভাযাত্রাকে ঘিরে পুরো গ্রিন সিটি এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষে সন্ধ্যায় সেখানে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।

দেশের বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অন্যতম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি রাশিয়ার সরাসরি সহযোগিতায় ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের দুটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, প্রকল্পটি চালু হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:  দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে নতুন একটি মাইলফলক যুক্ত হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ ‘স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ সরবরাহ ও স্থাপনের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে।

শুক্রবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি ভরার (লোডিং) মাধ্যমে প্রকল্পটি চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আধুনিক এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হলো।

রোসাটমের অটোমেশন ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ‘রোসাটম অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস’ এই প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে। প্রথম ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ও বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ মোট ২২টি উপ-ব্যবস্থা (সাব-সিস্টেম) স্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রোসাটম জানায়, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু ও নিয়মিত পরিচালনার সময় যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা, বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া, বিকিরণ পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য কারিগরি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে তদারকি করা হবে।

অটোমেটেড প্রসেস কন্ট্রোল সিস্টেম বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্লেব মুরাশভ বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বিশেষ চাহিদা বিবেচনা করে এই ব্যবস্থায় কয়েকটি উন্নয়ন ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এখানে ছোট ও সুবিধাজনক নকশার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও রয়েছে। বর্তমানে প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম সরবরাহ ও চালুর কাজ শেষ হয়েছে।’

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

‘থ্রি-প্লাস’ প্রজন্মের এই রিঅ্যাক্টর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান মেনে নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে একই প্রযুক্তির ছয়টি ইউনিট রাশিয়া ও বেলারুশে চালু রয়েছে। এ ছাড়া মিসর, হাঙ্গেরি, তুরস্ক ও চীনেও একই প্রযুক্তির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে।

রূপপুর প্রকল্পে ‘স্মৃতি উদ্যান’ কর্মসূচি, রোপণ করা হলো ২০০ গাছের চারা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীর নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মীরা আন্তর্জাতিক ‘স্মৃতি উদ্যান’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী আবাসন এলাকা গ্রিন সিটির ভেতরে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

এ উপলক্ষে গ্রিন সিটি এলাকায় আম, লিচু ও ডালিমসহ বিভিন্ন জাতের ফল ও ফুলের প্রায় ২০০টি চারা রোপণ করা হয়। এই আয়োজনে অংশ নেন প্রায় ৬০০ জন কর্মী।

বাংলাদেশে রাশিয়ার পারমাণবিক প্রকল্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি দেরি বলেন, ‘সাত বছর ধরে চলমান স্মৃতি উদ্যান কর্মসূচি এখন আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এতে অংশ নিয়ে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এ ধরনের যৌথ আয়োজন মানুষের মধ্যে ঐক্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্মীদের জন্য এটি পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ইতিবাচক একটি উদ্যোগে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।’

রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ) প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দিয়েছে, ফলে এ মাসের শেষ দিকে জ্বালানি সংযোজনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর পথ খুলে গেল।

বিএইআরএর চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, নানা কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক মান যাচাই শেষে বৃহস্পতিবার  এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে ৭ এপ্রিল নির্ধারিত সময়সূচি নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে এখন সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধান হওয়া এবং অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ায় লাইসেন্স দিতে আর বাধা থাকেনি।

প্রায় ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের এই মেগা প্রকল্পে রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এই ইউনিট থেকে ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান বলেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’-এর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রূপপুর প্রকল্পকে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প উৎস হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

দুই ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৮ সালের মধ্যে পুরোপুরি চালু হওয়ার কথা। যদিও ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে বাণিজ্যিক উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তবু চলতি বছরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়াকে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রূপপুর প্রকল্প ও ঈশ্বরদী থানা পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ঈশ্বরদী থানা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) আকরাম হোসেন। গতকাল বুধবার বিকেলে তিনি এই বড় প্রকল্প ও থানা কার্যালয় ঘুরে দেখেন।

বিকেল তিনটার দিকে অতিরিক্ত আইজিপি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান। পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ দেখার পাশাপাশি চলমান কাজের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে তিনি বিশেষ জোর দেন।

প্রকল্প এলাকা থেকে অতিরিক্ত আইজিপি ঈশ্বরদী থানায় যান। সেখানে তিনি থানার দাপ্তরিক কাজ ও জনসেবার মান যাচাই করেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যেন থানায় এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার, ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান এবং রূপপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুবুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং পেছাচ্ছে, জুলাইয়ে বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে জ্বালানি ভরার কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এর আগে ৭ এপ্রিল জ্বালানি ভরার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ৭ এপ্রিল জ্বালানি ভরা শুরুর প্রস্তুতি থাকলেও সময়মতো কাজ শুরুর অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি। ফলে আগের সূচি অনুযায়ী কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন তারিখের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করছে। ছাড়পত্র পাওয়ার পরই নতুন সময়সূচি ঠিক করা হবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রুশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ৭ এপ্রিলের তারিখটি চূড়ান্ত করেছিল। লক্ষ্য ছিল, জুলাইয়ের মধ্যে কেন্দ্রটি থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হবে। তবে জ্বালানি ভরায় দেরি হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই সময়সীমাও পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি ভরার প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এর দুই মাস পর শুরু হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ধাপ। সব মিলিয়ে জ্বালানি ভরা থেকে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে ১০ থেকে ১১ মাস সময় প্রয়োজন। অবশ্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তাদের দাবি, ৭ এপ্রিল সম্ভব না হলেও এই মাসের শেষ নাগাদ জ্বালানি ভরা শুরু করা যাবে। ইতিমধ্যে নির্মাণকাজ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষ হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য প্রচার কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ জানান, গত মাসেই ১ নম্বর ইউনিটের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিরাপত্তার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হলেই কেবল কাজ শুরুর অনুমতি দেবে। তবে এই অনুমতি দেওয়ার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান বর্তমানে রূপপুর এলাকায় পর্যালোচনার কাজে ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বর্তমানে ১ নম্বর ইউনিটের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ২ নম্বর ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের প্রায় ৮১ শতাংশ অর্থ ইতিমধ্যে ব্যয় হয়েছে। শুরুতে ২০২২ সালে কেন্দ্রটি চালুর কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে যায়। পরে দুই দেশের সম্মতিতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। তবে ১ নম্বর ইউনিটের মূল কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। রোববার সকালে তিনি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছালে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় তাঁকে অভ্যর্থনা জানান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান এবং ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান।

মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আজাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনের শুরুতে মন্ত্রী প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ও কারিগরি বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় ফকির মাহবুব আনাম প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কাজের মান বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক এই প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে তিনি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন।

দিনভর চলল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক:  স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রূপপুর হাই স্কুল মাঠে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এই ক্যাম্পের আয়োজন করে। এতে এলাকার শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পান।

দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে নারী, শিশু ও প্রবীণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরামর্শ (কনসালটেন্সি), ডায়াবেটিস পরীক্ষা, রক্তচাপ পরিমাপ ও ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়সহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এনপিসিবিএলের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের উপপরিচালক ড. খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. জায়েদুল হাসান বলেন, রূপপুর প্রকল্পে কর্মরতদের জন্য ইতোমধ্যে আধুনিক মানের মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে কর্মীরা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাচ্ছেন। এখন স্থানীয় মানুষের জন্য এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই এলাকার মানুষ যেন নূ্যনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের রোগ নির্ণয় ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন