আরএনপিপি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আরএনপিপি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রূপপুর গ্রিন সিটিতে রুশ নাগরিকদের বিজয় দিবসের শোভাযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আবাসিক এলাকা গ্রিন সিটিতে রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির পরাজয় এবং যুদ্ধে প্রাণ দেওয়া সৈনিকদের স্মরণে এ কর্মসূচির আয়োজন করেন প্রকল্পে কর্মরত রুশ নাগরিকেরা।

শোভাযাত্রায় রূপপুর প্রকল্পে কর্মরত শত শত রুশ নাগরিকের পাশাপাশি তাঁদের স্ত্রী ও সন্তানেরাও অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত যোদ্ধাদের ছবি দেওয়া ফেস্টুন নিয়ে পুরো গ্রিন সিটি এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়।

আয়োজনে অংশ নেওয়া রুশ নাগরিকেরা বলেন, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো শহীদ যোদ্ধাদের স্মরণ করা, ইতিহাসের প্রতি সম্মান জানানো এবং শান্তি ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া। শোভাযাত্রাকে ঘিরে পুরো গ্রিন সিটি এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষে সন্ধ্যায় সেখানে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে।

দেশের বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অন্যতম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি রাশিয়ার সরাসরি সহযোগিতায় ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের দুটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, প্রকল্পটি চালু হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:  দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে নতুন একটি মাইলফলক যুক্ত হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ ‘স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা’ সরবরাহ ও স্থাপনের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে।

শুক্রবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি ভরার (লোডিং) মাধ্যমে প্রকল্পটি চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আধুনিক এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হলো।

রোসাটমের অটোমেশন ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ‘রোসাটম অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস’ এই প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে। প্রথম ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ও বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ মোট ২২টি উপ-ব্যবস্থা (সাব-সিস্টেম) স্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রোসাটম জানায়, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু ও নিয়মিত পরিচালনার সময় যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা, বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া, বিকিরণ পর্যবেক্ষণ এবং অন্যান্য কারিগরি কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে তদারকি করা হবে।

অটোমেটেড প্রসেস কন্ট্রোল সিস্টেম বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্লেব মুরাশভ বলেন, রূপপুর প্রকল্পের বিশেষ চাহিদা বিবেচনা করে এই ব্যবস্থায় কয়েকটি উন্নয়ন ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এখানে ছোট ও সুবিধাজনক নকশার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও রয়েছে। বর্তমানে প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম সরবরাহ ও চালুর কাজ শেষ হয়েছে।’

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত রূপপুর প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। কেন্দ্রটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

‘থ্রি-প্লাস’ প্রজন্মের এই রিঅ্যাক্টর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান মেনে নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে একই প্রযুক্তির ছয়টি ইউনিট রাশিয়া ও বেলারুশে চালু রয়েছে। এ ছাড়া মিসর, হাঙ্গেরি, তুরস্ক ও চীনেও একই প্রযুক্তির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে।

রূপপুর প্রকল্পে ‘স্মৃতি উদ্যান’ কর্মসূচি, রোপণ করা হলো ২০০ গাছের চারা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীর নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মীরা আন্তর্জাতিক ‘স্মৃতি উদ্যান’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী আবাসন এলাকা গ্রিন সিটির ভেতরে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

এ উপলক্ষে গ্রিন সিটি এলাকায় আম, লিচু ও ডালিমসহ বিভিন্ন জাতের ফল ও ফুলের প্রায় ২০০টি চারা রোপণ করা হয়। এই আয়োজনে অংশ নেন প্রায় ৬০০ জন কর্মী।

বাংলাদেশে রাশিয়ার পারমাণবিক প্রকল্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেক্সি দেরি বলেন, ‘সাত বছর ধরে চলমান স্মৃতি উদ্যান কর্মসূচি এখন আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এতে অংশ নিয়ে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এ ধরনের যৌথ আয়োজন মানুষের মধ্যে ঐক্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর্মীদের জন্য এটি পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ইতিবাচক একটি উদ্যোগে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে।’

রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ) প্রয়োজনীয় লাইসেন্স দিয়েছে, ফলে এ মাসের শেষ দিকে জ্বালানি সংযোজনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর পথ খুলে গেল।

বিএইআরএর চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, নানা কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আন্তর্জাতিক মান যাচাই শেষে বৃহস্পতিবার  এই অনুমোদন দেওয়া হয়। এর আগে ৭ এপ্রিল নির্ধারিত সময়সূচি নিরাপত্তাজনিত কারণে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে এখন সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধান হওয়া এবং অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ায় লাইসেন্স দিতে আর বাধা থাকেনি।

প্রায় ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের এই মেগা প্রকল্পে রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এই ইউনিট থেকে ধাপে ধাপে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান বলেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’-এর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রূপপুর প্রকল্পকে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প উৎস হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

দুই ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৮ সালের মধ্যে পুরোপুরি চালু হওয়ার কথা। যদিও ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে বাণিজ্যিক উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তবু চলতি বছরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়াকে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রূপপুর প্রকল্প ও ঈশ্বরদী থানা পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ঈশ্বরদী থানা পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) আকরাম হোসেন। গতকাল বুধবার বিকেলে তিনি এই বড় প্রকল্প ও থানা কার্যালয় ঘুরে দেখেন।

বিকেল তিনটার দিকে অতিরিক্ত আইজিপি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান। পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ দেখার পাশাপাশি চলমান কাজের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখতে তিনি বিশেষ জোর দেন।

প্রকল্প এলাকা থেকে অতিরিক্ত আইজিপি ঈশ্বরদী থানায় যান। সেখানে তিনি থানার দাপ্তরিক কাজ ও জনসেবার মান যাচাই করেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যেন থানায় এসে কাঙ্ক্ষিত সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার, ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান এবং রূপপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুবুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রূপপুরে জ্বালানি লোডিং পেছাচ্ছে, জুলাইয়ে বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে জ্বালানি ভরার কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এর আগে ৭ এপ্রিল জ্বালানি ভরার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করেছিল। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানান, ৭ এপ্রিল জ্বালানি ভরা শুরুর প্রস্তুতি থাকলেও সময়মতো কাজ শুরুর অনুমতিপত্র পাওয়া যায়নি। ফলে আগের সূচি অনুযায়ী কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

নতুন তারিখের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করছে। ছাড়পত্র পাওয়ার পরই নতুন সময়সূচি ঠিক করা হবে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রুশ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী মন্ত্রণালয় ৭ এপ্রিলের তারিখটি চূড়ান্ত করেছিল। লক্ষ্য ছিল, জুলাইয়ের মধ্যে কেন্দ্রটি থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হবে। তবে জ্বালানি ভরায় দেরি হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই সময়সীমাও পিছিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি ভরার প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় এক মাস সময় লাগে। এর দুই মাস পর শুরু হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ধাপ। সব মিলিয়ে জ্বালানি ভরা থেকে পূর্ণ মাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে ১০ থেকে ১১ মাস সময় প্রয়োজন। অবশ্য বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তাদের দাবি, ৭ এপ্রিল সম্ভব না হলেও এই মাসের শেষ নাগাদ জ্বালানি ভরা শুরু করা যাবে। ইতিমধ্যে নির্মাণকাজ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষ হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য প্রচার কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ জানান, গত মাসেই ১ নম্বর ইউনিটের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দেশে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিরাপত্তার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হলেই কেবল কাজ শুরুর অনুমতি দেবে। তবে এই অনুমতি দেওয়ার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান বর্তমানে রূপপুর এলাকায় পর্যালোচনার কাজে ব্যস্ত থাকায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বর্তমানে ১ নম্বর ইউনিটের কাজ শেষ পর্যায়ে থাকলেও ২ নম্বর ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের প্রায় ৮১ শতাংশ অর্থ ইতিমধ্যে ব্যয় হয়েছে। শুরুতে ২০২২ সালে কেন্দ্রটি চালুর কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে যায়। পরে দুই দেশের সম্মতিতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। তবে ১ নম্বর ইউনিটের মূল কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ করা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। রোববার সকালে তিনি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছালে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় তাঁকে অভ্যর্থনা জানান নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান এবং ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান।

মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আজাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনের শুরুতে মন্ত্রী প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ও কারিগরি বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে তিনি নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় ফকির মাহবুব আনাম প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কাজের মান বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক এই প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে তিনি ও তাঁর সফরসঙ্গীরা প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন।

দিনভর চলল ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক:  স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার রূপপুর হাই স্কুল মাঠে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এই ক্যাম্পের আয়োজন করে। এতে এলাকার শতাধিক মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পান।

দিনব্যাপী এই ক্যাম্পে নারী, শিশু ও প্রবীণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরামর্শ (কনসালটেন্সি), ডায়াবেটিস পরীক্ষা, রক্তচাপ পরিমাপ ও ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়সহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এনপিসিবিএলের  ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের উপপরিচালক ড. খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. জায়েদুল হাসান বলেন, রূপপুর প্রকল্পে কর্মরতদের জন্য ইতোমধ্যে আধুনিক মানের মেডিকেল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে কর্মীরা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাচ্ছেন। এখন স্থানীয় মানুষের জন্য এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই এলাকার মানুষ যেন নূ্যনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের রোগ নির্ণয় ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণের এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রূপপুর প্রকল্পে ব্যয় সমন্বয়, জিওবি খাতে সাশ্রয় ১৬৬ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদন:  ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় পুনর্নির্ধারণ করা হলেও এতে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) খাতে প্রায় ১৬৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। সেসময় প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ধরা হয় ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে।

সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। যদিও সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- জিওবি খাতে ব্যয় ১৬৬ কোটি টাকা কমেছে। ফলে জাতীয় বাজেটের ওপর সরকারের সরাসরি চাপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রতি মার্কিন ডলার ৮০ টাকা ধরে ব্যয় হিসাব করা হয়েছিল। কিন্তু গত নয় বছরে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে প্রায় ১২২.৪০ টাকা হওয়ায় বৈদেশিক ঋণের অংশ টাকায় রূপান্তরিত হয়ে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বাস্তবতায় সংশোধিত ডিপিপিতে বিভিন্ন খাতে ব্যয় পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

সংশোধিত প্রস্তাবে ৩৪টি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং ৪৯টি খাতে বরাদ্দ হ্রাস করা হয়েছে। জনবল ব্যয়, ভূমি অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণ, বিদ্যুৎ বিল ও পরামর্শক খাতে সাশ্রয়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত প্রয়োজন মেটাতে ১০টি নতুন খাত সংযোজন করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা নিশ্চিত করতে অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সেবা চুক্তি এবং খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ চুক্তির বিষয়েও আলোচনা চলমান রয়েছে। এছাড়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি জনবলের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকার অসমাপ্ত ভবন সম্পন্ন এবং নতুন অধিগ্রহণকৃত প্রায় ৬.০৬ একর জমিতে প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনাও সংশোধিত প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, সরবরাহ চেইনের সীমাবদ্ধতা এবং প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি বিবেচনায় Joint Coordination Committee (JCC) ঋণচুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২-এর প্রভিশনাল টেকওভার সময়সীমা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, একই VVER-1200 প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাঙ্গেরিতে দুই ইউনিটের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, মিশরে চার ইউনিটে ৩০ বিলিয়ন ডলার, তুরস্কে রাশিয়ার মালিকানাধীন চার ইউনিটে ২০ বিলিয়ন ডলার এবং বেলারুশে দুই ইউনিটে ১১ বিলিয়ন ডলার। এসব প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় আন্তর্জাতিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন।

অন্যদিকে ভারতের কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে VVER-1000 প্রযুক্তির পঞ্চম ও ষষ্ঠ ইউনিটের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র যন্ত্রপাতি সরবরাহেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের পারমাণবিক শক্তিতে পূর্ব অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর কারণে তুলনামূলক কম ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এর কমিশনিং কার্যক্রম বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুই ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি ভর্তি প্রস্তুতি শেষের পথে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে জ্বালানি ভর্তির প্রস্তুতি ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করতে বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা), রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা ভিও সেফটি এবং দেশটির অন্যান্য নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান টানা ১৪ দিন ধরে প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছে। বুধবার বায়েরা চেয়ারম্যান মো. মাহমুদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রকল্প–সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দলটি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) জনবল, ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তিগত কাঠামো, বিভিন্ন ইউনিটের কাজের ধরন ও পরিচালনার নথি পরীক্ষা করে। একই সঙ্গে কমিশনিং কার্যক্রম, স্থাপনা, সমন্বয় প্রটোকল, সনদপত্র এবং অগ্রগতির ধাপগুলোও পর্যালোচনা করা হয়। পুরো তদারকি করেন এনপিসিবিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান এবং সমন্বয় করেন প্রধান পরিদর্শক মো. ইয়ামিন আলী।

ফিজিক্যাল স্টার্টআপ ও জ্বালানি লোডিং পারমাণবিক কেন্দ্র চালুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। এতে প্রথমবার রিয়্যাক্টরে জ্বালানি ভরার পর সীমিত মাত্রায় নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া চালিয়ে প্রতিটি সিস্টেমের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়। এর পরেই মূল পাওয়ার স্টার্টআপের দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হয়।

এনপিসিবিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক  ড. জাহেদুল হাসান জানান, প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন শেষ করেছে—আইএইএ’র দুই সপ্তাহের পরীক্ষামূলক প্রি-ওসার্ট, পরের তিন সপ্তাহের প্রি-ওসার্ট পর্যায় এবং সর্বশেষ বায়েরা–ভিও সেফটি–রস্টেকনাদজর যৌথ দুই সপ্তাহের পরিদর্শন। পাশাপাশি এনপিসিবিএল ও রসএনার্গোএটম স্ব-মূল্যায়নও নিয়মিত করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তার ভাষায়, ‘নিরাপত্তা ও সুরক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বায়েরা প্রকল্পের স্টার্টআপ প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছে। দলটির সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’ মূল্যায়ন শেষে বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি ও ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলেও তিনি জানান।

এনপিসিবিএল এখন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বাস্তবায়নে কাজ করছে। এসব ধাপ শেষ হলে প্রতিবেদন বায়েরা–তে পাঠানো হবে। যাচাই–বাছাইয়ের ফল সন্তোষজনক হলে প্রথমবারের মতো জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন ও লাইসেন্স দেওয়া হবে।

বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে স্টার্টআপ রেডিনেস ইন্সপেকশন সম্পন্ন হয়েছে। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার মূল্যায়ন ইতিবাচক হলে ফুয়েল লোডিংয়ের অনুমতি দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, জ্বালানি লোডিং শুরু করতে রসাটম ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন (জেনারেল ডিজাইনার), ঘিদ্রোপ্রেস (রিয়্যাক্টর ডিজাইনার), রাশিয়ার জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘কুরচাতভ ইনস্টিটিউট’ ও বায়েরা অনুমোদনের পাশাপাশি ভিও সেফটি’র মূল্যায়ন প্রতিবেদনও বাধ্যতামূলক।

রূপপুর বিদ্যুকেন্দ্রের আগুন নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সীমানার বাইরে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানায়, ওই দিন দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প এলাকার বাইরে পদ্মা ও ইছামতী নদীর প্রবাহ সচল রাখতে তৈরি করা কৃত্রিম চ্যানেলের পাশে কাঠের বর্জ্য সরানোর সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সময় ইমামুল এন্টারপ্রাইজের কয়েকজন শ্রমিক তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণকক্ষে (কন্ট্রোল রুম) জানান। পরে কন্ট্রোল রুম থেকে দ্রুত প্রকল্পের নিজস্ব ফায়ার ইউনিটসহ রূপপুর মডার্ন ফায়ার স্টেশন ও গ্রিনসিটি ফায়ার স্টেশনকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যেই—দুপুর ১টার দিকে—আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই ঘটনায় প্রকল্পের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমেও কোনো প্রভাব পড়েনি। তবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রূপপুর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সব ফায়ার সার্ভিস ইউনিট, কর্মী ও দায়িত্বশীলদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে পরমাণু শক্তি কমিশন।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে ময়লার স্তূপে আগুন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরে পদ্মা নদীর তীরে পরিত্যক্ত কার্টন ও কাঠের ময়লার স্তূপে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিটের টানা ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং কেউ হতাহতও হননি।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের এক পাশে কার্টন ও কাঠসহ নানা ধরনের ময়লার স্তুপ ফেলে রাখা ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৩২ মিনিটের দিকে সেখানকার শ্রমিকেরা হঠাৎ আগুন দেখতে পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাত্র ৩০০ গজ দূরে অবস্থিত স্টেশন থেকে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

পরে রূপপুর মডার্ন, গ্রিন সিটি, রূপপুর অস্থায়ী ও ঈশ্বরদী ফায়ার স্টেশনের মোট আটটি ইউনিট একসঙ্গে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। শেষে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র মডার্ন ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার রাকিবুল ইসলাম বলেন, আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি: আইএইএ বিশেষজ্ঞ দল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান প্রায় অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।

গত ১০ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত কেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে এক বিবৃতিতে আইএইএ’র বিশেষজ্ঞ দল জানায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়ালেও অগ্নি প্রতিরোধ ও তত্ত্বাবধানের ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।

আইএইএ’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের অনুরোধে ‘প্রাক-পরিচালনা নিরাপত্তা পর্যালোচনা মিশন’ পরিচালনা করে দলটি। মূল উদ্দেশ্য ছিল বাণিজ্যিক উৎপাদনের আগে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের নিরাপত্তা প্রস্তুতি যাচাই করা।

বিশেষজ্ঞরা কেন্দ্রটির কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। তারা জানান, সিমুলেটরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে রিফুয়েলিং মেশিন পরিচালনা আন্তর্জাতিক মানের উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

আইএইএ’র সিনিয়র অফিসার সাইমন মরগ্যান বলেন, “কমিশনিং থেকে পূর্ণ পরিচালনায় রূপান্তরের সময়ই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। রূপপুর কেন্দ্র এ পরিবর্তন নিরাপদে সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তবে নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে দলটি কিছু সুপারিশ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার, সার্বিক তত্ত্বাবধান উন্নয়ন ও যন্ত্রপাতির সংরক্ষণ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা।

রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক মো. কবির হোসেন বলেন, 'বাংলাদেশ সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। আইএইএ’র এ মূল্যায়ন দুর্বলতা চিহ্নিত করে আমাদের নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।'

২৭ আগস্ট পরিদর্শন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক কবির হোসেন, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির এমডি ড. জায়েদুল হাসান, রাশিয়ার এতমস্ত্রয় এক্সপোর্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষজ্ঞ দল খসড়া প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যা চূড়ান্ত করে আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশকে দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, রাশিয়ার সহযোগিতায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি রিঅ্যাক্টর নির্মাণাধীন। প্রথম ইউনিট ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর এবং দ্বিতীয়টি ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর হস্তান্তরের কথা রয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র: নিরাপদ, চেরোনোবিলের মতো বিপদ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, চেরোনোবিলের মতো দুর্ঘটনার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং উৎপাদন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা শর্ত পূরণের মাধ্যমে শুরু হবে। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই প্রকল্পটি রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে। দীর্ঘ নির্মাণ পর এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কমিশনিং কাজ চলছে।

সম্প্রতি মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে কেন্দ্রের নিয়োগ ও পরিচালনায় অনিয়ম এবং অদক্ষতার অভিযোগ তুলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত চিফ সুপারইন্টেন্ডেন্টসহ কিছু পদে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ঘাটতির অভিযোগ করা হয়েছে। তবে প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। রোসাটমের চিঠিতে প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপত্তি নেই।

প্রকল্পের প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা তদারকিতে লাইসেন্স প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে। কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার শর্ত না পূরণ হলে পরবর্তী ধাপের লাইসেন্স পাওয়া সম্ভব নয়।

চিফ সুপারইন্টেন্ডেন্ট পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত মুশফিকা আহমেদ বলেন, তার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন তিনি নিরাপত্তা ও রেডিওঅ্যাক্টিভ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। রাশিয়া ও বাংলাদেশের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তার দক্ষতা উন্নত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তারা যেমন রবিউল আলম, আল মামুন, এ.কে.এম নাজমুল হাসান এবং আবু কায়সার দাবী করেছেন, তারা বৈধ প্রকৌশল ডিগ্রি ও প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। রাশিয়ায় রোসাটম টেকনিক্যাল একাডেমিতে প্রশিক্ষণসহ যথাযথ যোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা অনুমোদনের ভিত্তিতে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ বলেন, “৫০ বছর আগের চেরনোবিলের সঙ্গে এই প্রকল্প তুলনা করার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সর্বাধুনিক ভিভিইআর থ্রি প্লাস প্রযুক্তিতে নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতের অপারেটরদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার পর দায়িত্ব দেয়া হবে।”

প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ কবীর হোসেন বলেন, “উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কর্মীদের দক্ষতা নিশ্চিত করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালনায় কোনো সমস্যা নেই।”

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প: প্রথম ইউনিটের রিয়্যাক্টর কনটেইনমেন্টের পরীক্ষা সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কম্পার্টমেন্টাল কন্টেইনমেন্টের অভেদ্যতা ও দৃঢ়তা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষায় প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী কন্টেইনমেন্টের সর্বোচ্চ নিরাপত্তামান নিশ্চিত হয়েছে। পরবর্তী পরীক্ষায় অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ হলে জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে রাশিয়ার পরমাণু সংস্থা রোসাটম একটি বেসরকারি বার্তা সংস্থার মাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে রোসাটম।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কন্টেইনমেন্ট মূলত একটি অতি সুদৃঢ় কাঠামো, যা নির্মাণে ব্যবহৃত হয় প্রিস্ট্রেসড রিইনফোর্সড কংক্রিট। ভেতরের দেয়ালে একটি শক্ত ইস্পাতের আবরণ থাকে। এটির নকশা এমনভাবে করা হয়, যাতে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ রিঅ্যাক্টর কম্পার্টমেন্টের বাইরে বের হতে না পারে। সব তেজস্ক্রিয় পদার্থ কন্টেইনমেন্টের ভেতরে আবদ্ধ ও সুরক্ষিত অবস্থায় থাকতে পারে। এই কন্টেইনমেন্ট বাহ্যিক বড় কোনো আঘাত ও বিপর্যয় রোধ করতে সক্ষম।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষার সময় নকশা অনুযায়ী কন্টেইনমেন্টের অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ানো হয়। এ জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্প্রেসর ব্যবহৃত হয়। এ সময় অবকাঠামোটির দৃঢ়তা ও অভেদ্যতার পরীক্ষা করা হয়। অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কন্টেইনমেন্টের ভেতরে চাপ বাড়লে তা কতটুকু সহ্য করতে সক্ষম, সে জন্য পরীক্ষাটি করা হয়। পরমাণু জ্বালানি লোডিংয়ের আগে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কারণ, কোনো বিপর্যয় ঘটলে কন্টেইনমেন্টই শেষ সুরক্ষা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে শিগগির কিছু ‘হট মিডিয়া টেস্ট’ চালানো হবে। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী কুল্যান্ট সার্কিটকে নির্ধারিত তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা ও বাষ্প উৎপাদন করা হবে। এ ছাড়া অন্য নিরাপত্তা প্যারামিটারগুলো চূড়ান্তভাবে পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার সময় বেশ কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ তৈরি হবে, যা সম্পূর্ণ পূর্বনির্ধারিত। এ নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। রোসাটম নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুটি ইউনিট নির্মাণাধীন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংস্থা রোসাটমের প্রকৌশল বিভাগ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। দুটি ইউনিটের প্রতিটি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহে সক্ষম। বর্তমানে প্রথম ইউনিটের কাজ প্রায় শেষের দিকে।

রূপপুর প্রকল্প বন্ধের ‘ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বন্ধের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ  হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের স্টেশন সড়কের ফকিরের বটতলায় ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে বিএনপিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং পেশাজীবীরা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা রূপপুর প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর দাবি জানান।

সমাবেশে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, নানা কারণেই প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম বারবার পিছিয়ে গেছে। তবে চলতি মাসেই সঞ্চালন লাইন নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এবং ডিসেম্বরে ‘স্টার্টআপ’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে একটি মহল ‘দাবি আদায়ের’ নামে প্রকল্প এলাকায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে, যা প্রকল্পের জন্য উদ্বেগজনক। এতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, রাশিয়ার মূল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট ও এর কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে তারা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। কারণ, প্রকল্প এলাকার ভেতরে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে। রূপপুর প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার সরাসরি নজরদারিতে রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ লাইসেন্স প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ সময় বক্তারা প্রকল্পের সুরক্ষা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্টদের আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান এবং যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান শাহীন, সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কিরণ, সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর, বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান টুটুল, শামসুজোহা পিপ্পু, রফিকুল ইসলাম রকি, ইমরুল কায়েস সুমন, আনোয়ার হোসেন জনি, আবু সাঈদ লিটন ও শামীম আরা সাথী।

মানববন্ধনের আগে চাঁদ আলী মোড় থেকে ফকিরের বটতলা পর্যন্ত কয়েকটি মিছিল বের হয়। এসব মিছিল থেকে রূপপুর প্রকল্পবিরোধী ‘ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ তাঁদের রূপপুর প্রকল্প ও গ্রিন সিটি বহুতল আবাসিক এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করে পৃথক চিঠি দেওয়া হয়েছে।

চাকরিচ্যুত ব্যক্তিরা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাছান স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক আদেশে এই অব্যাহতির কথা জানানো হয়।

এতে ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যেককে শনিবার রাতে ই-মেইলসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হয়।

রূপপুর প্রকল্পের সাইড ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস বিষয়ের সত্যতা স্বীকার করে শনিবার রাতে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত অথরিটির প্রধানকে অবহিত করা হয়েছে। তিনিও বিষয়টি জেনেছেন। এর বেশি তাঁর জানা নেই।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সূত্রে জানা গেছে, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. মো. জাহেদুল হাছান স্বাক্ষরিত অব্যাহতিপত্রে কোম্পানির ১৮ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা ঢাকায় আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।

অব্যাহতিপত্রে বলা হয়, এনপিসিবিএল কোম্পানিতে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত ১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এনপিসিবিএলের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পৃথক আরেকটি পত্রে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের রূপপুর প্রকল্প এলাকায় ও গ্রিন সিটিতে প্রবেশ বন্ধে অনুরোধ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে কোম্পানির প্রায় ১ হাজার ৮০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী গত ২৮ এপ্রিল আন্দোলন শুরু করেন। ৬ মে তাঁরা ঈশ্বরদী শহরে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন। পরদিন ৭ মে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে কোম্পানির অফিসে তারা অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেন। এতে এনপিসিবিএল কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি ও কোম্পানির আইন মেনে চলার চিঠি দেয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিচালকের অপসারণের দাবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছানের অপসারণের দাবিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ সড়কের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।  এরপর  অভিজাত রেস্তোরাঁতে সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তারা অভিযোগ করেন, ড. জাহেদুল হাছান একসাথে প্রকল্প পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা, প্রধান প্রশাসনিক ও অর্থ কর্মকর্তা এবং স্টেশন ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করছেন, যা একদম অস্বাভাবিক এবং কারও একার পক্ষে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। 

বক্তারা আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ আছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কর্মসংস্থানের নির্দিষ্ট নিয়মাবলি, সংগঠন কাঠামো এবং বেতন কাঠামো না থাকায় কর্মীরা বছরের পর বছর ধরে পেশাগত নিরাপত্তা ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কেউ চাকরি ছেড়ে দিলে সিপিএফ, অভিজ্ঞতা সনদ বা এনওসি দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া, রাশিয়া থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অদক্ষ দেখিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা আরও জানান, কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম সুবিধা যেমন বসার স্থান, টয়লেট, ক্যান্টিন এবং চিকিৎসাসেবা পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়নি। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় অনেক কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন বা কর্মস্থলে প্রবেশের অনুমতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জ্যেষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক ফাহিম শাহরিয়ার তুহিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী ব্যবস্থাপক শহীদুল ইসলাম, হালিম সরকার, রুবেল হোসেন এবং উপ-সহকারী ব্যবস্থাপক রমজান আলীসহ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাহেদুল হাছান বলেন, ‘মাত্র চার মাস ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েছি। এর মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রমোশন, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, গ্রেড বৃদ্ধি, সার্ভিস রুলসহ নানা দাবি তুলেছেন। এসব দাবির একটিও পূরণ করার সাধ্য আমার নেই। সবই সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কনস্ট্রাকশন প্ল্যান্টে কাজ করি। এখানে নতুন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার ব্যবস্থা করা কঠিন। এরপরও সম্প্রতি ৪০০ জনের বসার ব্যবস্থা, নামাজের ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরপরও অভিযোগ। আগামী ২০ দিন পর অবসরে যাচ্ছি। ধারণা করছি, এসব অভিযোগ আমরা বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শনে জ্বালানী উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ দ্রুত শেষ করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

শনিবার তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় উপদেষ্টা বলেন, 'আমরা অনেক কিছু দাবি করি, কিন্তু দেশের ও প্রতিষ্ঠানের জন্য কী করছি, সে বিষয়টি নিয়ে ভাবি না। এখন সময় এসেছে কাজে নামার। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে হলে সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে।' 

এ সময় তিনি পেছনে পড়ে থাকা গ্রিড লাইনের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩০ মে'র মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোকাব্বির হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. কামরুল হুদা, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রশীদ খান এবং রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহেদুল হাছান।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র: চুক্তি হচ্ছে অপারেটর সংস্থার সঙ্গে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনতে চুক্তি করতে যাচ্ছে। এজন্য 'বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি' নামে একটি চুক্তি সই করা হবে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার রূপপুর প্রকল্প এলাকায় একটি ধন্যবাদ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, 'পিপিএ নিয়ে আগে কিছু বিভ্রান্তি ছিল, কিন্তু এখন মন্ত্রণালয় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এনপিসিবিএলের সঙ্গেই চুক্তি হবে, যা যৌক্তিক।'

তিনি আরও বলেন, '২০১৫ সালের পারমাণবিক শক্তি আইন অনুযায়ী, রূপপুর প্রকল্পের সব দায়িত্ব ধীরে ধীরে এনপিসিবিএলের হাতে যাবে। তারা এই বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করবে, তাই তাদের সঙ্গেই বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি হওয়া উচিত।'

অনুষ্ঠানে প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী হাসমত আলী, পিপিএস প্রধান এস. এম. মাহমুদ আরাফাত এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শেষে কেক কেটে ও ফুল দিয়ে ড. জাহেদুল হাসানকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন