আরএনপিপি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আরএনপিপি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে ‘স্টেজ-সি’ কার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তবে কেন্দ্রটিতে এখনো পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়নি; বরং প্রথম ইউনিটে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ (বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতিমূলক তৃতীয় পর্যায়) কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ে চুল্লির ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে কেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, পরিচালনব্যবস্থা ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে। গত  শুক্রবার রাতে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েয়া) চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি) এবং এনপিসিবিএলকে এই স্টেজ-সি কার্যক্রম শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেন। অনুমোদন পাওয়ার পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

স্টেজ-সি হলো প্রথম ইউনিটের কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও সমন্বিত পরিচালনক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে রিঅ্যাক্টর, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের শীতলীকরণ ব্যবস্থা, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণব্যবস্থা এবং রিঅ্যাক্টর সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা।

এ ছাড়া রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করা হবে। বিশেষ করে টারবাইনের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করা হবে।

স্টেজ-সি কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো নির্ধারিত পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করার পর প্রথম ইউনিটের জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সিনক্রোনাইজেশন’। এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পথে অগ্রসর হবে কেন্দ্রটি। তবে এ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত, কমিশনিংয়ের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত অনুমোদন সাপেক্ষে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।

এনপিসিবিএল জানায়, প্রথম ইউনিটে স্টেজ-সি কার্যক্রমের অনুমোদন ও সূচনা বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির কমিশনিং প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এ পর্যায়ের সব কার্যক্রমে পারমাণবিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান ঈশ্বরদীতে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আমদানি করা ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। আজ শনিবার সকাল সাতটা ১৭ মিনিটে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি বিশেষায়িত লরি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ নিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মোট পাঁচটি চালানের ইউরেনিয়াম পৌঁছাল। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানির একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য চারটি চালান এসেছে।

এর আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছিল, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো বিমানে মোট ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরও দুটি কার্গোতে অতিরিক্ত ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনা হবে। সব মিলিয়ে মোট নয়টি চালানে এসব পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দুটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটে ইতিমধ্যে ‘বিদ্যুৎ চালুকরণ সি-ধাপ’  কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েয়া) চেয়ারম্যান প্রথম ইউনিটে এই কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেন।

সি-ধাপের এই পর্যায়ে ধাপে ধাপে চুল্লির (রিঅ্যাক্টর) ক্ষমতা বাড়িয়ে কেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, বাষ্পীয় টারবাইন-জেনারেটর এবং পরিচালন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। এসব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে প্রথম ইউনিটের জেনারেটর জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সমন্বয়সাধন’ ।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি নভেম্বর মাসেই প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে এই কার্যক্রম নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে সম্পন্ন হবে।

ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। প্রয়োজনীয় ফিজিক্যাল স্টার্টআপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে ‘স্টেজ-সি’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েয়া)। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান।

এনপিসিবিএল সূত্রে জানা যায়, বায়েয়া চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান অনুমোদনপত্রে সই করেছেন। এর ফলে রিঅ্যাক্টরের কার্যক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক সরবরাহের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। পাওয়ার স্টার্টআপের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপে রিঅ্যাক্টর, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, রিঅ্যাক্টরের তাপীয় ক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হলেই জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, চলমান পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। তবে পুরো বিষয়টি পরীক্ষার ফলাফল ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নির্ধারিত কারিগরি শর্ত যথাযথভাবে পূরণের ওপর নির্ভর করছে। কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, পাওয়ার স্টার্টআপের অনুমতি পাওয়ার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু নয়; বরং পরীক্ষামূলক সরবরাহের পর প্রয়োজনীয় সব কারিগরি যাচাই শেষেই পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়া হবে।

দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই উন্নয়ন প্রকল্পে দুটি ইউনিট রয়েছে, যার প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়নে বর্তমান প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে রূপপুর

নিজস্ব প্রতিবেদন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সংস্থার অনুমোদন পেলে ইউনিটটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরের ধাপে বা পাওয়ার স্টার্টআপে প্রবেশ করবে। এ ধাপে রিঅ্যাক্টরসহ বিদ্যুৎকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও সুরক্ষাব্যবস্থা যাচাই করা হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এ ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বিভিন্ন কারিগরি দিক পরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রটি নিরাপদ ও সঠিকভাবে পরিচালনার সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতিও মূল্যায়ন করা হবে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান বলেন, এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা অংশের কার্যক্রম পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি যন্ত্রের পারস্পরিক সমন্বয় ঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তাও দেখা হবে।

তিনি জানান, রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিশেষ করে টারবাইনের নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা, জেনারেটর এবং সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

ড. জাহেদুল হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা। এ সময় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় রেখে স্থিতিশীলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রের সব গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থার নিরাপদ কার্যক্রম নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষ করা, শর্ত পূরণ এবং নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর ইউনিটটি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সুযোগ তৈরি হবে। তবে এই ধাপে প্রবেশ, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করা এক কথা নয়। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাওয়ার আগে আরও কারিগরি পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সব শর্ত পূরণ করতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা শেষ, অনুমোদন পেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে রূপপুর


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ সব পরীক্ষা শেষ হয়েছে। পরীক্ষার বিস্তারিত প্রতিবেদন ইতিমধ্যে তদারকি সংস্থা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

সংস্থার অনুমোদন পেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর মূল ধাপে প্রবেশ করবে দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদন মিললে চলতি মাসের শেষ দিকে, অর্থাৎ আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যেই প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রাথমিক কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানান, শুরুতে কম পরিমাণে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরে প্রতিটি ধাপের সফলতা অনুযায়ী উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।

প্রকৌশলীরা আশা করছেন, কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে। সব ঠিক থাকলে চলতি ২০২৬ সালের শেষ দিকে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি পরীক্ষার সফলতা ও প্রশাসনিক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বৃহস্পতিবার রাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনামের সঙ্গে বৈঠক করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর প্রতিনিধিদল। রোসাটমের উপমহাপরিচালক আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের সাফল্য ও কাজের অগ্রগতি মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয় এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

রূপপুর প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় ঢাকা-মস্কো আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক কাজ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

গত ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর রাশিয়া থেকে আসা একটি প্রতিনিধিদল রূপপুর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে এসব বৈঠকে অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর উপমহাপরিচালক আন্দ্রেই পেত্রোভ। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনও উপস্থিত ছিলেন।

সফরকালে প্রকল্প এলাকায় কয়েক দফায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের চলমান কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেন কর্মকর্তারা। রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনা অনেক সন্তোষজনক হয়েছে।

রূপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান, নভেম্বরেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আসা ইউরেনিয়ামের দ্বিতীয় চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। বুধবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটের দিকে চালানটি প্রকল্প এলাকায় এসে পৌঁছায়।

এর আগে ২ অক্টোবর রাতে রাশিয়া থেকে ভারত হয়ে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে ইউরেনিয়ামের চালানটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সড়কপথে তা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

প্রকল্প সূত্র জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে গত ১১ অক্টোবর সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। এর আগে ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটের পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।

এই কেন্দ্রের চুল্লিতে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। আগামী নভেম্বরের শেষ দিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি নিরাপত্তায় মাইলফলক: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, এই মেগা প্রকল্প দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

 রোববার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) আয়োজিত ‘বেসিক প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে গত ১১ অক্টোবর সফলভাবে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নিউক্লিয়ার চেইন রিঅ্যাকশন (পরমাণু বিক্রিয়া) শুরু হলো। পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ক্ষমতায় চুল্লির কার্যক্রম পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুতই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, নিখুঁত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য দেশের নবীন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের আন্তর্জাতিক মানের গভীর প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মঈনুল ইসলাম বলেন, এই নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পারমাণবিক পদার্থবিদ্যা, বিকিরণ সুরক্ষা, নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ডিজাইন, জ্বালানি চক্র, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে তরুণদের দক্ষতা বাড়বে; যা দেশের নিরাপদ ও টেকসই পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) টেকনিক্যাল অফিসার রাহিলা হাম্মাদ।

চার সপ্তাহব্যাপী এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সে বায়েরা, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বায়েক) এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ৪০ জন নবীন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী অংশগ্রহণ করছেন। ১৮ অক্টোবর শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ আগামী ১২ নভেম্বর শেষ হবে।

রূপপুরের বিদ্যুৎ গ্রিডে আনতে দ্রুত কাজ চলছে: রোসাটম

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম। মস্কোয় স্থানীয় সময় শুক্রবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আশ্বাস দেন রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ।

বৈঠকে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কাজের অগ্রগতি এবং প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সীমা নিয়ে আলোচনা হয়।

রোসাটমের মহাপরিচালক জানান, রূপপুরের প্রথম ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর থেকে খুব দ্রুত জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। দেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১১ শতাংশ পূরণ করবে।

বৈঠকে রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী বছর থেকে প্রকল্পটির দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিং ও প্রাথমিক স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরু হবে। এ ছাড়া রূপপুর প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে দেশের পারমাণবিক খাতের সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের দোরগোড়ায় রূপপুর, বি টু অনুমতির অপেক্ষায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। এখন শুধু বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) অনুমতির অপেক্ষা। অনুমতি মিললে ডিসেম্বরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার রাতে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে ১৬ দশমিক ১ মেগাপ্যাসকেল পরিচালন চাপ এবং ২৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রেখে ১২টি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পরবর্তী ধাপে ১৮ দশমিক ৬৫ মেগাপ্যাসকেল চাপের পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়। প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে এ পরীক্ষাগুলো পরিচালনা করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এখন বড় মাইলফলক হলো ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। বায়রার অনুমতি পাওয়ার পর রিঅ্যাক্টরে একটি স্থিতিশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হবে। এর মাধ্যমে রিঅ্যাক্টর সক্রিয় অপারেশনাল পারমাণবিক স্থাপনায় রূপান্তরের পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ১ শতাংশের কম রেখে প্রাথমিক ক্রিটিক্যালিটি অর্জন করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে ক্ষমতা বাড়িয়ে টারবাইন সিনক্রোনাইজেশন এবং গ্রিড সংযোগের কাজ করা হবে। এজন্য বায়রার কাছ থেকে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে।

উৎপাদন শুরুর পর টানা ৭ থেকে ৮ মাস পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলতে পারে। গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, আমরা বায়রাকে দিয়েছি। বায়রার কাছ থেকে আমরা রিকোয়ার্ড পারমিট পাওয়ার পরে আমরা ফারদার প্রসিড করব। আর কি ভিউ কমপ্লিট না? এখন সব কমপ্লিট। এখন আর কিছুই নাই। সব আমরা বায়রাকে সাবমিট করছি। এখন বায়রার পারমিশন পেলে ইনশাআল্লাহ আমরা পরবর্তী স্টেজে যাব, যেটাকে বি টু বলে।

উল্লেখ্য, রূপপুর প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ বাড়লেও খরচ বাড়ার সুযোগ নেই। তবে ডলারের বিনিময় হার বাড়ায় প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়ে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

রূপপুর পৌঁছেছে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়াম

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আসা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান আজ শনিবার দুপুরে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাশিয়া থেকে ভারত হয়ে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে ইউরেনিয়ামের চালানটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সড়কপথে চালানটি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এই বহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তেজস্ক্রিয় জ্বালানিবাহী গাড়ি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করলে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি ও রাশিয়ান কর্মকর্তারা চালানটিকে স্বাগত জানান।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বাডেরা) চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, শুক্রবার রাতে ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ কার্গো ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। রাশিয়ায় তৈরি চার ইঞ্জিনের ‘ইলিউশিন আইএল-৭৬’ মডেলের একটি বিমানে এই চালান দেশে আনা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে মোট নয়টি চালানে রূপপুরের জন্য আরও ইউরেনিয়াম দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের জন্য ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান দেশে পৌঁছাবে।

রাশিয়ার ঋণ ও কারিগরি সহায়তায় রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে বাংলাদেশ। প্রকল্পটিতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেইজে আগুন: মূল কার্যক্রমে প্রভাব পড়েনি দাবি কর্তৃপক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেইজে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েকের) জিসিভি সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে কম্পিউটার, এসি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কাগজপত্র ও ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে।

রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বায়েকের পাইওনিয়ার বেইজে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে ঘটনাটি মঙ্গলবার বিকেলে প্রকাশ্যে আসে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের দুটি কক্ষে মেরামতের কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া ও আগুন আশপাশের কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডের পর পাইওনিয়ার বেইজসহ বায়েকের আশপাশের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কাস্টমস বিল্ডিং ও ক্যান্টিনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

অগ্নিকাণ্ডের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল বুধবার দুপুরে প্রকল্পের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, পাইওনিয়ার বেইজ রূপপুর প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের অংশ নয়; এটি প্রকল্পের একটি সহায়ক অংশ। ফলে অগ্নিকাণ্ডের কারণে মূল প্রকল্পের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি এবং সার্বিক কাজ স্বাভাবিক রয়েছে।

ওই সূত্র আরও জানায়, মূল প্রকল্প এলাকায় বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে পাইওনিয়ার বেইজে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা প্রকল্পের দৃষ্টিকোণ থেকে তেমন বড় কিছু নয়। শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অফিসের দুটি কক্ষে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

তবে গভীর রাতে পাইওনিয়ার বেইজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি কোনো নাশকতা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। সূত্রটি জানায়, ডিজিটাল সিস্টেমে ফাইলের ব্যাকআপ কপি সংরক্ষিত থাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিটি ফাইল অক্ষত রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই রূপপুর প্রকল্পের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান করছেন।

পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী বলেন, গভীর রাতে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকল্প এলাকায় ছুটে যান। ঈশ্বরদীর চারটি ইউনিট দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রূপপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু হাশেম বলেন, প্রকল্পের ভেতরে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। যে দুটি কক্ষে আগুন লেগেছিল, সেগুলো মূল প্রকল্পের রেডিয়েশন এরিয়ার বাইরে অবস্থিত। ভবনটি মূলত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের একটি অস্থায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তিনি আরও জানান, ওই ভবনে প্রায় ২০টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে বায়েকের অফিসের বিভিন্ন কম্পিউটার, এসি, কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

সেফটি ভালভের ত্রুটি: রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পেছাচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সেফটি ভালভের ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তবে এটি কবে মেরামত করা সম্ভব হবে এবং কবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন। সরকারের ১৮০ দিনের অর্জন জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের আগে প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা শুরু হয়। এ পর্যায়ে চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য ছিল। বিভিন্ন ধাপে পরীক্ষা চালিয়ে বর্তমানে 'বি' স্টেজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে দুটি সেফটি ভালভের সমস্যার কারণে পরবর্তী 'সি' স্টেজে যাওয়া যাচ্ছে না।

সেফটি ভালভ মেরামত ও কমিশনিংয়ের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ দিতে না পেরে মন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছি না। ভালভ কেন কাজ করছে না, তা নির্ধারণ করতে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসবে। তাদের পরীক্ষার পর সমস্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

তিনি জানান, ডিজাইনারের মূল্যায়ন অনুযায়ী ভালভ দুটি পুরোপুরি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দুটি বিকল্প ভাবা হচ্ছে—একটি হলো দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য বরাদ্দ থাকা ভালভ প্রথম ইউনিটে বসানো, অন্যটি রুশ ভেন্ডরকে দ্রুত নতুন ভালভ সরবরাহের অনুরোধ করা। এর মধ্যে দ্রুততম ও সময়োপযোগী বিকল্পটিই বেছে নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল ডেটা প্যাকেজ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অব্যবহৃত ডেটা যাতে গ্রাহক ব্যবহার করতে পারেন, সে বিষয়ে অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। মেয়াদ শেষের পর আরও এক-দুই দিন তা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে কথা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা।

জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রূপপুর: জিই ভার্নোভার সঙ্গে চুক্তি সই

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। কেন্দ্রটিকে জাতীয় লোড ডেসপাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের আওতায় আনতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জিই ভার্নোভার মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে।

গত বুধবার ঢাকায় পরমাণু শক্তি কমিশন কার্যালয়ে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। রূপপুর প্রকল্পের পক্ষে প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন এবং জিই ভার্নোভার প্রতিনিধি দেবেশ ঝা চুক্তিতে সই করেন।

দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র হলো এনএলডিসি। এখান থেকেই উৎপাদন, সঞ্চালন এবং চাহিদার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এই চুক্তির ফলে রূপপুরের দুই ইউনিটের মোট আটটি সঞ্চালন লাইন এবং দুটি উপকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে এনএলডিসির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে।

প্রকল্প পরিচালক ড. কবির হোসেন জানান, বিশ্বস্ততার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদনের তথ্য প্রেরণে এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক। এটি কেন্দ্রটির কমিশনিং ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখবে। উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মো. খালেকউজ্জামান বলেন, এনএলডিসির স্কাডা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে, যা গ্রিডের সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ সমন্বয় সহজ করবে।

এদিকে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি লোডিং গত ২৮ এপ্রিল শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। নিয়ম অনুযায়ী, শুরুর দিকে এই ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে এবং ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে।

উল্লেখ্য, রূপপুর প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। জ্বালানি ঘাটতির এই সময়ে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে এই কেন্দ্র বড় ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

রূপপুরে আবার আঁধার

বিশেষ প্রতিবেদক: চলমান তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে সবার নজর ছিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে। প্রত্যাশা ছিল, আসন্ন সেপ্টেম্বরেই মিলবে বহুল কাঙ্ক্ষিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ। তবে সেই আশায় এখন অনিশ্চয়তার মেঘ। ‘সেফটি ভালভ’ নামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যন্ত্র টানা দেড় মাস ধরে মানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছে না। নতুন ভালভ সংস্থাপন ছাড়া মূল কাজে এগোনোর উপায় নেই, আর সেটি বিদেশ থেকে আনিয়ে প্রতিস্থাপন করতে লেগে যেতে পারে কয়েক মাস। একই সঙ্গে আটকে আছে কেন্দ্রটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত কয়েকটি জরুরি চুক্তি। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে এমনিতেই অতিরিক্ত সময় পার হয়ে গেছে। বর্তমান সংকটে দেশের স্বার্থেই দ্রুত এখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা জরুরি।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম এ বিষয়ে বলেন, “বিদ্যুতের ঘাটতি ও উৎপাদন খরচ কমাতে রূপপুর কেন্দ্রটি দ্রুত চালু করা এখন অত্যন্ত জরুরি। এটি চালু হলে বিদ্যুতের দর কমবে এবং জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতাও হ্রাস পাবে। কিন্তু নানা অজুহাতে বারবার এ প্রকল্পের সময় ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে নীরব। কেন্দ্রটি সময়মতো চালু না হওয়ায় রাষ্ট্র আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে এবং তার মাশুল দিচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা।”

দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রোসাটমের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট’ এটি নির্মাণ করছে।

প্রকল্পের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে আলোচনার পরামর্শ দেন। তবে প্রকল্প পরিচালক মো. কবির হোসেনের বক্তব্য জানতে কয়েকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পরমাণু শক্তি কমিশনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, রূপপুর সাধারণ কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়। এখানে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে জটিল সব পরীক্ষা চালাতে হয়। এসব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদনে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট তারিখ বলা সম্ভব নয়।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সেফটি ভালভ রিঅ্যাক্টরের ভেতরের চাপ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করে। কুলিং সিস্টেমে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে গিয়ে বাড়তি চাপ নিরাপদে নিষ্কাশন করে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা পাইপ ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি দূর করে। পারমাণবিক প্রকল্পে নিরাপত্তার একাধিক স্তর থাকলেও এই যন্ত্রটির গুরুত্ব অপরিসীম।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরমাণু শক্তি কমিশন সূত্রের খবর, রূপপুরে এখন মূলত এই সেফটি ভালভ নিয়েই জটিলতা তৈরি হয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বারবার চেষ্টা করেও যন্ত্রটি গুণগত মানের মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি। বর্তমানে বিকল্প উপায়ে আরও কয়েকবার পরীক্ষার পাশাপাশি নতুন ভালভ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, এই উচ্চপ্রযুক্তির সেফটি ভালভ মূলত ইউক্রেন, তুরস্ক ও জার্মানি তৈরি করে। শুরুতে রাশিয়া ইউক্রেনকে এর কার্যাদেশ দিলেও যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীকালে তুরস্ক থেকে যন্ত্রটি সংগৃহীত হয়।

এখন নতুন করে আরেকটি ভালভ আনার তোড়জোর চলছে। তবে এমন বিশেষ যন্ত্র তৈরি ও সরবরাহে সাধারণত ছয় থেকে আট মাস সময়ের প্রয়োজন হয়। ফলে বিদ্যমান ভালভটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর করা না গেলে নতুনটির জন্য ওই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতেই হবে। অন্যদিকে, বর্তমান ভালভটি কোনোভাবে সফল হলেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে অন্তত আড়াই মাস সময় লাগবে। কারণ সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পরও গ্রিড সংযোগের প্রক্রিয়াটি শেষ হতে ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ সময় নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিশনের দুই কর্মকর্তা জানান, কাজের যে বর্তমান অগ্রগতি, তাতে চলতি বছরের মধ্যে প্রকল্পটির প্রথম ইউনিট চালু হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

বর্তমানে দেশে ২৯ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সংকটে দিনে গড়ে ১৬ থেকে সাড়ে ১৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে আড়াই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সম্প্রতি এলএনজি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় গত ১০ আগস্ট লোডশেডিং প্রায় পৌনে চার হাজার মেগাওয়াটে গিয়ে ঠেকেছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া গেলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে জনজীবন ও শিল্পোৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ বাড়াতে গিয়ে শিল্পকারখানায় গ্যাস সংযোগ সীমিত করা হয়েছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামিয়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে সরকারের লোকসান ও ভর্তুকির চাপ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুর কেন্দ্রটি উৎপাদনে এলে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রটি পূর্ণ চালুর পর প্রতি মাসে জ্বালানি আমদানি বাবদ সরকারের প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এই বিদ্যুতের দাম এখনো চূড়ান্ত না হলেও তা এলএনজি, কয়লা বা তেলভিত্তিক বিদ্যুতের চেয়ে অনেকটাই সাশ্রয়ী হবে।

এই কেন্দ্রের অন্যতম সুবিধা হলো, একবার জ্বালানি লোড করলে একটানা দেড় বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম দুই চালানে মোট তিন বছরের জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘টিভিইএল’।

রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। মূল সময়সূচি অনুযায়ী প্রথম ইউনিট ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এবং দ্বিতীয়টি ২০২৩ সালের অক্টোবরে চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে কোভিড মহামারী এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা অযুহাতে এ পর্যন্ত অন্তত সাতবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

সবশেষ চলতি বছরের ১২ মে পারমাণবিক জ্বালানি লোড করার পর জানানো হয়, চলতি মাসেই প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। পরে সেই সময় পিছিয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে ধরা হলেও এখন তা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ফলে প্রথম ইউনিটের সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটের চালু হওয়ার তারিখও পিছিয়ে যাচ্ছে।

সব পরীক্ষা শেষে প্রাথমিক চালুর পর টানা সাত থেকে আট মাস পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন চালানো হবে। এরপরই শুরু হবে পূর্ণমাত্রায় বাণিজ্যিক উৎপাদন। দুটি ইউনিটই চালুর পর কেন্দ্রটি থেকে মোট ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পরিচ্ছন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা রয়েছে।

পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি লোড করার ৪৫ দিনের মধ্যে রিঅ্যাক্টরে ফিশন প্রক্রিয়া শুরু হওয়া উচিত এবং ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হওয়াই নিয়ম। সেই হিসাবে গত আগস্টেই উৎপাদন শুরুর কথা। একই প্রযুক্তিতে নির্মিত বেলারুশের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তিন মাসেরও কম সময়ে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হয়েছিল। রূপপুরের প্রযুক্তি পরীক্ষা-নিরীক্ষিত হলেও বাংলাদেশে কেন এমন জটিলতা তৈরি হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

প্রকল্পে অতিরিক্ত যন্ত্রাংশের অভাব, ব্যবস্থাপনা ত্রুটি ও কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতার বিষয়টিও এখন আলোচনায়। বর্তমান প্রকল্প পরিচালক মো. কবির হোসেনের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এই পদে বসানো নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। অভিজ্ঞ তিনজন কর্মকর্তাকে ডিঙিয়ে তাঁকে এই পদে আনায় প্রকল্প পরিচালনায় অদক্ষতা স্পষ্ট হচ্ছে বলে অনেকের মত।

মেগা এই প্রকল্পটির মোট চুক্তিভিত্তিক ব্যয় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার। মেয়াদ চার বছর বাড়লেও চুক্তি অনুযায়ী রাশীয় কনট্রাক্টরকে বাড়তি অর্থ দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে ডলারের দরবৃদ্ধির কারণে দেশীয় মুদ্রায় প্রকল্পের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। তাছাড়া উৎপাদনে বিলম্বের কারণে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতির স্বাভাবিক মেয়াদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নির্ধারিত সময়ে সেবা না মেলায় রাষ্ট্র চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

জাতীয় জ্বালানি সংকট নিরসনে রূপপুর প্রকল্পকে ঘিরে যে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বারবার সময় পিছিয়ে যাওয়া এবং প্রযুক্তিগত অচলাবস্থায় সেই আশার আলো এখন অনিশ্চয়তার ঘন আঁধারে ঢাকা পড়েছে।

রসাটমের আন্তর্জাতিক যুব বোর্ডে বাংলাদেশের প্রমোদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটমের আন্তর্জাতিক যুব উপদেষ্টা পর্ষদ ‘ইমপ্যাক্ট টিম ২০৫০’-এর দ্বিতীয় বোর্ডে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রমোদ চন্দ্র বৈদ্য। তিনি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) একজন প্রযুক্তি কর্মকর্তা।

রসাটমের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি সংস্থাটির মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রথম বোর্ডের সদস্যরা তাঁদের উত্তরসূরিদের পরিচয় করিয়ে দেন।

নতুন এই পর্ষদে বাংলাদেশসহ ব্রাজিল, চীন, মিসর, ইথিওপিয়া, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, কিরগিজস্তান, রুয়ান্ডা, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, তানজানিয়া ও উজবেকিস্তানের মোট ১৩ জন তরুণ পেশাজীবী সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তরুণ গবেষক, পারমাণবিক খাতের পেশাদার ও যুব সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্বিতীয় বোর্ডটি গঠন করা হয়েছে। ৫৮টি দেশের ২০৭ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে ১৩ জনকে বেছে নেওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রমোদ।

রসাটমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে বোর্ডের সদস্যরা আগামী কয়েক মাসের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তাঁরা বিভিন্ন দেশে যুব সংলাপের আয়োজন করবেন। পরিচ্ছন্ন, উদ্ভাবনী ও উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর খাত হিসেবে পারমাণবিক শিল্পের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তরুণরা কেন অন্য পেশা বেছে নিচ্ছেন, তা নিয়ে মতামতের পাশাপাশি গবেষণালব্ধ তথ্য সংগ্রহ করা হবে এসব সংলাপে।

এসব আলোচনার ফলাফল তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ-৩১) উপস্থাপন করা হবে। সেখানে সদস্যরা রসাটমের মহাপরিচালকের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে অংশ নেবেন। এ ছাড়া জলবায়ু সম্মেলনে আয়োজিত ‘পারমাণবিক দিবস’ উপলক্ষে যুব কর্মসূচি প্রণয়নে সহায়তা এবং তুরস্কের আকুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ পরিদর্শন করবেন তাঁরা।

রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ বলেন, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক যুব সংলাপের রূপরেখা তৈরিতে এই পর্ষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা তরুণদের কাছ থেকে সাহসী ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রত্যাশা করি। বিশ্বব্যাপী আমাদের বিশেষজ্ঞ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব উদ্যোগে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে আমরা প্রস্তুত।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর অপেক্ষা, বদলাবে বিদ্যুতের চিত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু হলে তা দেশের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ১৫ শতাংশ সরবরাহ করবে। ২০২৮ সালের মধ্যে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটই বা চুল্লি পুরোপুরি উৎপাদনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর দেশের নির্ভরতা অনেকটাই কমবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ চলছে। তবে করোনাভাইরাস মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে কাজের গতি ব্যাহত হওয়ায় প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে গেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাসান জানান, প্রথম ইউনিটটি ২০২৭ সালের শুরুতে এবং দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২৮ সালের শুরুতে পুরোপুরি বিদ্যুৎ উৎপাদনে আসবে।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পের মূল ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৬৫ কোটি মার্কিন ডলার। তবে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় স্থানীয় মুদ্রায় প্রকল্পের খরচ প্রায় ২৫ শতাংশ বা এক-চতুর্থাংশ বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হলে এই বাড়তি ব্যয় এড়ানো যেত এবং জ্বালানি আমদানির খরচও দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব হতো।

অবশ্য প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, দীর্ঘ মেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও উৎপাদন ব্যয়ের দিক থেকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জন্য শেষ পর্যন্ত লাভজনকই হবে।

সরকার এখন ভবিষ্যতের জন্য বড় কেন্দ্রের চেয়ে ছোট আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, ৩০০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার ছোট কেন্দ্র (স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর) নির্মাণের বিষয়ে বিভিন্ন দেশের নির্মাতাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। এ ধরনের কেন্দ্র নদীর তীরে দ্রুত নির্মাণ করা সম্ভব। তবে বড় আকারের নতুন কোনো পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই বলেও তিনি জানান।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে আগামী পাঁচ থেকে সাত বছর দেশে বড় কোনো নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজন হবে না। এই সময়ে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা আধুনিক করার একটি বড় সুযোগ তৈরি হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সফল ও নিরাপদভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল তৈরি, শক্তিশালী ও স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা (নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি অথরিটি), জনসমর্থন এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক বর্জ্য নিরাপদে ব্যবস্থাপনার বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী নির্মাণাধীন অধিকাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই রাশিয়া ও চীনের প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে। একই সময়ে প্রতিবেশী ভারত পারমাণবিক বিদ্যুতের উৎপাদন বড় পরিসরে বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে এবং পাকিস্তানও চীনের সহায়তায় একাধিক কেন্দ্র চালু করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতিই মেটাবে না, বরং শিল্পায়ন ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছেই পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আপৎকালীন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়া হয়েছে। আকস্মিক কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রস্তুতি, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় এবং জরুরি সাড়াদানের সক্ষমতা যাচাই করতে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়।

বৃহস্পতিবার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) উপ-প্রধান তত্ত্বাবধায়ক এস এম মাহমুদ আরাফাত এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মহড়ায় সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির বিভিন্ন ধাপ বাস্তবায়ন করা হয়। এর মধ্যে জরুরি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র চালু করা, কারিগরি সক্ষমতা যাচাই, সম্ভাব্য তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব মূল্যায়ন, যোগাযোগব্যবস্থা পরীক্ষা এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতিও যাচাই করা হয়েছে।

মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ও তাদের কারিগরি সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভিও-সেফটি’র প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, জাতীয় সংকট কেন্দ্র, ‘সিআরইএ’, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন। রাশিয়ার মস্কো থেকে আসা পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধিদলও মহড়াটি পর্যবেক্ষণ করে।

অনুশীলনের অংশ হিসেবে একটি কৃত্রিম জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। এরপর আপৎকালীন পরিকল্পনা অনুযায়ী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র কার্যক্রম শুরু করে। সংশ্লিষ্ট দলগুলো নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুশীলন চালায়।

এ সময় কারিগরি দল কেন্দ্রের বিভিন্ন পরিচালনাগত সূচক বিশ্লেষণ, তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপ, বিকিরণের উৎস শনাক্ত, আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ এবং বায়ুমণ্ডলে তেজস্ক্রিয়তার সম্ভাব্য বিস্তৃতি মূল্যায়নের কাজ করে। পাশাপাশি কর্মরত ব্যক্তি ও আশপাশের এলাকার মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুশীলন করা হয়।

এ ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সাড়াদানকারী দলগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের কার্যকারিতাও পরীক্ষা করা হয়। জরুরি বার্তা পাঠানো, পরিস্থিতি প্রতিবেদন তৈরি, সমন্বয় সভা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি ধাপ অনুশীলনের আওতায় ছিল।

মহড়া শেষে এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, ‘আজকের এই সফল জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়াটি দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আপৎকালীন প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে একটি বড় অর্জন। এটি আমাদের উচ্চমানের কারিগরি দক্ষতা, সঠিক নেতৃত্ব এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের জরুরি সাড়াদানকারী সংস্থাগুলোর যৌথ সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘মহড়ার একটি বড় লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সংস্থার সম্মিলিত কমান্ড ব্যবস্থার অধীনে একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা যাচাই করা। অংশগ্রহণকারী সব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও কারিগরি দলের অংশগ্রহণ মহড়াটিকে আরও বাস্তবসম্মত করেছে।’

আন্তর্জাতিক পরমাণু কুইজে বিশ্বসেরা হয়ে রাশিয়া যাচ্ছে ঈশ্বরদীর খুদে শিক্ষার্থী সিদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে পাবনার ঈশ্বরদীর কৃতি সন্তান সিদ্ধা কর্মকার। আন্তর্জাতিক ‘গ্লোবাল অ্যাটমিক কুইজ’ বা বিশ্ব পরমাণু কুইজে অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগে বিশ্বের সেরা তিন প্রতিযোগীর একজন হয়েছে মাত্র ১২ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী।

এ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটমের আমন্ত্রণে আগামী ২৩ জুন আট দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রাশিয়া যাচ্ছে সিদ্ধা। সফরে তার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে থাকছেন বড় ভাই দুর্জয় কর্মকার। তিনিও একই কুইজের ১৮ থেকে ২৫ বছর বিভাগে বিশ্বসেরা ১০০ জনের মধ্যে স্থান পেয়েছেন।

সিদ্ধা কর্মকার ঈশ্বরদী পৌরসভার নূরমহল্লা এলাকার সমর কর্মকারের মেয়ে। সে ঈশ্বরদীর আর.এ.আর.এস. উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার ভাই দুর্জয় কর্মকার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী।

আগামী ২৬ জুন রাশিয়ার ঐতিহাসিক বিজ্ঞাননগরী ওবনিন্সকে অনুষ্ঠিত হবে ‘চতুর্থ আন্তর্জাতিক তরুণ পারমাণবিক ফোরাম—ওবনিন্সক নিউ’। এতে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন এই দুই ভাই-বোন।

১৯৫৪ সালের ২৬ জুন ওবনিন্সক শহরেই বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মেলনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী, গবেষক, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং উদীয়মান তরুণ নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে থাকার সুযোগ পাবে সিদ্ধা। সেখানে পারমাণবিক শক্তির ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন দলীয় আলোচনা, বৈজ্ঞানিক সেমিনার এবং বিশেষায়িত কর্মশালায় অংশ নেবে সে।

ওবনিন্সকের মূল আয়োজন শেষে তারা মস্কো সফর করবেন। এ সময় রেড স্কয়ার, ক্রেমলিন, সেন্ট বেসিলস ক্যাথেড্রাল এবং ‘অ্যাটম’ পরমাণু প্রদর্শনী কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক স্থাপনা পরিদর্শনের কথা রয়েছে। আগামী ৩০ জুন তাদের দেশে ফেরার কথা।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে সিদ্ধা কর্মকার বলে, ‘এত বড় আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে আমি খুব আনন্দিত। গত নভেম্বরে নিজের মেধা যাচাইয়ের জন্য বিশ্ব পরমাণু কুইজে অংশ নিয়েছিলাম। বিশ্বের সেরা তিনজনের একজন হওয়া আমার জন্য বড় চমক ছিল। আর রাশিয়ার ঐতিহাসিক বিজ্ঞাননগরী ওবনিন্সকে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও প্রাপ্তি।’

রূপপুর প্রকল্পের রুশ নাগরিকের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে কর্মরত এক রাশিয়ান নাগরিক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহরের পিয়ারপুর কোর্টপাড়া জামে মসজিদে কালেমা পাঠের মাধ্যমে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এ সময় মসজিদে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আগে ওই রাশিয়ান নাগরিকের নাম ছিল সেরগি। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর তাঁর নাম রাখা হয়েছে মো. আব্দুল্লাহ।

মো. আব্দুল্লাহ নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমে কর্মরত।

পিয়ারপুর কোর্টপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মো. এনামুল হক বলেন, রাশিয়ান নাগরিকটি স্বেচ্ছায়, স্বজ্ঞানে ও স্বপ্রণোদিত হয়ে কালেমা পাঠের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন