হত্যা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হত্যা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা সোহাগ হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, জানাজা সম্পন্ন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতা ও উপজেলা জিয়া সাইবার ফোর্সের সদস্য সচিব ইমরান হোসেন সোহাগকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করেন বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় সাঁড়াগোপালপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ইমরান হোসেন সোহাগের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেলে পৌর শহরের খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাজারের এক নম্বর গেটে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি। এ সময় ছাত্রদল নেতা নাজমুল হাসান রিশাদ, মাহমুদুল ইসলাম শাওন ও মোস্তাফিজুর রহমান বিটুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইমরান তাঁর বন্ধুদের নিয়ে সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের রেললাইনের পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় মুখে কালো কাপড় বেঁধে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সময় বেশ কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান সোহাগ।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেন সোহাগ (২৫) নামের এক ছাত্রদল নেতাকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে ঈশ্বরদী শহরের সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইমরান ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল মন্নবীপাড়া গ্রামের এনামুল হকের ছেলে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্যসচিব এবং জিয়া সাইবার ফোর্সের উপজেলা শাখার সদস্যসচিব ছিলেন। এ ছাড়া তিনি গত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর ছোট ভাই মেহেদী হাসানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে ইমরান তাঁর বন্ধুদের নিয়ে সাঁড়া গোপালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের পাশের একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষের একদল সশস্ত্র লোক এসে তাঁর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে তারা ইমরানকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) প্রণব কুমার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিহতের মাথার একটি অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে গুলি করার পর কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। কারা, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনিকে হত্যা: নেপথ্যে কিশোরীর চাচার প্রতিহিংসা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলায় দাদি ও নাতনিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে শরিফুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামের এক ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ড ঘটান। অভিযুক্ত শরিফুল নিহত কিশোরীর সম্পর্কে চাচা হন। গতকাল শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন—দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া এলাকার সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। জানা গেছে, কিছুদিন আগে ওই কিশোরীর সঙ্গে অশালীন আচরণের চেষ্টা করেছিলেন শরিফুল। এতে বাধা পেয়ে তিনি অপমানিত বোধ করেন এবং নাতনি ও দাদির ওপর ক্ষুব্ধ হন। সেই প্রতিশোধ নিতেই তিনি এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন।

ঘটনার রাতে ক্ষমা চাওয়ার অযুহাতে শরিফুল তাদের ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানে তর্কের একপর্যায়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে দাদি ও নাতনির ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু হয়।

পরদিন সকালে স্থানীয়রা ঘরটিতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। ঈশ্বরদী থানা পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পাবনা জেলা ডিবি পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শরিফুলের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে শনিবার রাতে তাকে আটক করা হয়।

পাবনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, ধৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ঈশ্বরদীতে দাদিকে কুপিয়ে ও নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যা: এলাকায় শোক ও আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর গ্রামে দাদিকে হত্যা ও নাতনিকে অপহরণের পর ধর্ষণের পর হত্যার এক নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে দাদি ও নাতনির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন—ভবানিপুর উত্তরপাড়ার বাসিন্দা নজিমুদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৬৫) এবং তাঁর নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)। জামিলার বাবা জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে দাদি একা থাকায় শুক্রবার দিবাগত রাতে তাঁর সঙ্গেই ছিলেন জামিলা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা কিশোরী জামিলাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিলে বাড়ির উঠানে দেশি অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বৃদ্ধা সুফিয়া খাতুনকে। পরে কিশোরীকে পাশের একটি সরিষাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা।

প্রতিবেশী আশা বেগম জানান, রাত প্রায় ১১টার দিকে তিনি মারপিট ও গোঙানির শব্দ শুনতে পান। তবে বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ না থাকায় তিনি বাইরে বের হননি। পরে বিষয়টি বাড়ির অন্য স্বজনদের জানালে তাঁরা বাইরে গিয়ে অস্পষ্ট শব্দ শুনলেও উৎস নিশ্চিত হতে না পেরে ঘরে ফিরে আসেন।

ভোরে প্রতিবেশীরা বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় নাতনি জামিলাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে সরিষাক্ষেত থেকে তাঁর বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাস্তায় রক্তের দাগ এবং টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চিহ্ন দেখে ধস্তাধস্তির বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নাতনিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে কিশোরীকে পাশের সরিষাক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

পাবনা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ এবং ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস হত্যাকাণ্ড। মরদেহের প্রাথমিক প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে কাজ করছে।

এদিকে, এই ঘটনায় ভবানিপুর গ্রামে গভীর শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সদস্য জানিয়েছেন, এই ঘটনায় সন্দেহভাজন এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতাকে গুলি করে হত্যা


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়ের গুলিতে বীরু মোল্লা (৪৮) নামের এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বীরু মোল্লা ওই গ্রামের আবুল মোল্লার ছেলে। তিনি লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বীরু মোল্লার চাচাতো ভাই জহুরুল মোল্লা পারিবারিক বিরোধে থাকা একটি জমি থেকে ইটভাটার জন্য মাটি কাটেন। এ বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানাতে বুধবার সকালে বীরু মোল্লা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে জহুরুল মোল্লার বাড়িতে যান। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, উত্তেজনার মধ্যে জহুরুল মোল্লা ও তাঁর ছেলে প্রথমে ফাঁকা গুলি ছুড়ে ভয় দেখান। এরপরও বীরু মোল্লা ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন সেখান থেকে না গেলে আবার গুলি করা হয়। এতে বীরু মোল্লা মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামান বলেন, পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন নিহত ব্যক্তি। এ সময় বাড়ির ভেতর থেকে গুলি করা হয়। পরে মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও জানান, তিনি নিজে এবং ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঈশ্বরদীতে ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নিখোঁজের দুই দিন পর ভ্যান চালক ইমান আলী প্রামাণিকের (৫৪) মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। 

বুধবার সন্ধ্যায় পাবনা সুগার মিলের পার্শ্ববর্তী রাস্তার পাশে তার মরদেহ পাওয়া যায়। নিহত ইমান আলী মনসিদপুর তেঁতুলতলা এলাকার মৃত জয়নাল প্রামাণিকের ছেলে। এর আগে পার্শবর্তী স্থান তেঁতুলতলা গোডাউন হতে তার ভাতিজার মরদেহ পাওয়া গিয়েছিলো। স্থানীয়রা ধারনা করছেন এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ইমান আলী প্রামাণিক গত সোমবার দিবাগত রাতে ভ্যান চালানোর উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। বুধবার সন্ধ্যায় এলাকায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে মানিককড় এলাকায় আঞ্চলিক সড়কের পাশে নির্জন স্থানে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি ইমান আলীর বলে শনাক্ত করেন।

ঈশ্বরদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা বলেন, মরদেহটি উপুড় হয়ে পড়ে ছিল এবং তার হাত-পা ও মুখ বাঁধা ছিল। মরদেহটি অর্ধ-উলঙ্গ অবস্থায় ছিল। প্রাথমিকভাবে দেখে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি হত্যা কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে ময়নাতদন্তের পর। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। 


ঈশ্বরদীতে আয়েশা হত্যার দ্রুত বিচার চেয়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন

 

নিজস্ব প্রতিবেদন: খেড়ের দাইড় এলাকায় আলোচিত আয়েশা বেগম হত্যার মূল আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার এবং মামলাকে অন্য খাতে নেওয়ার চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করে স্থানীয় নারী ও পুরুষরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

বুধবার বিকালে উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের খেড়ের দাইড় এলাকায় নিহত আয়েশা বেগমের বাড়িতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে পিন্টু প্রামাণিক।

পিন্টু প্রামাণিক বলেন, 'আমরা গভীর দুঃখ ও শোকের মধ্যে জানাচ্ছি, স্থানীয় সুমন, বারিক, চাঁদু, ইয়াকুব ও জাব্বারুল গংরা আমাদের বাড়িতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আচমকা হামলা চালায়। আমার ভাই সালাম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার উপর আক্রমণ চালানো হয়। এ সময় মা এগিয়ে আসলে তার উপরও হামলা চালানো হয়, যার ফলশ্রুতিতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। আমরা শোকে কাতর যখন, ঠিক তখনই আসামিরা মামলাকে অন্য খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিও দেখানো হচ্ছে, যেখানে একজন মহিলার অন্ধকার ঘরে পড়ার দৃশ্য দেখানো হয়েছে; কিন্তু লাইট জ্বালানোর পর সে একাই উঠে যান। এটি সম্পূর্ণভাবে সাজানো, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা।' 

তিনি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দাবি করেন, 'অভিলম্বে সকল আসামিকে গ্রেফতার করে দ্রুত সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক।' 

সংবাদ সম্মেলনের পর আয়েশা হত্যার মূল আসামিদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে এলাকার শত শত নারী ও পুরুষ বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল শেষে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিহতের ছেলে পিন্টু প্রামাণিক, সালাম প্রামাণিক, হেলাল প্রামাণিক, পুত্রবধূ বেদেনা, মমতাজ বেগম ও নাসিমা বেগম।

সাঁথিয়ায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে বাবাকে মেরে ফেললেন ছেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক:  পাবনার সাঁথিয়ায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে বাবাকে হত্যা করেছেন ছেলে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কাশিনাথপুর পাইকরহাটি ভাটিপাড়া গ্রামে বাবা আব্দুল মালেককে (৬০) ছেলে মানিক (২৮) কুপিয়ে হত্যা করেন। 

নিহত আব্দুল মালেক উপজেলার বরাট গ্রামের তয়জল শেখের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবা আব্দুল মালেক ও মানিকের মধ্যে তেমন বড় ঝামেলা ছিল না। তবে ছেলে কাজ কাম কম করতে চাইতো। শনিবার সকালে বাবা বাঁশ কাটার জন্য উঠানে কুড়াল ধার দিচ্ছিলেন এবং ছেলেকে কাজে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে ডাকছিলেন। ঘুম থেকে উঠে এসে বাবার সঙ্গে তর্কে জড়ায় ছেলে মানিক। তর্কের একপর্যায়ে বাবার ধার দেওয়া কুড়াল নিয়েই বাবাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। এরপর ঘটনাস্থলেই বাবা মালেক মারা গেলে স্থানীয়রা মানিককে আটকে রাখলেও পরে পালিয়ে যান। 

নিহত মালেক শেখের দুই ছেলে দুই মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে মানিক বড়। মালেক পেশায় একজন বাঁশ ব্যবসায়ী এবং কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

সাঁথিয়া থানা ওসি সাইদুর রহমান বলেন, বাবা-ছেলের কথা কাটাকাটি থেকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ছেলে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

৭ দিনের রিমান্ডে আইনজীবী সাইফুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি চন্দনকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলার আরেক আসামি রিপন দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলামের আদালত এসব আদেশ দেন।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকা থেকে আইনজীবী সাইফুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিসেবে চন্দনকে গ্রেপ্তার
করা হয়। পরদিন (বৃহস্পতিবার) রাতে তাকে কোতোয়ালি থানায় আনা হয়। একই মামলার আরেক আসামি রিপন দাসকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চট্টগ্রাম আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, সাইফুল হত্যা মামলার দুই আসামিকে আজ (শুক্রবার) আদালতে তোলা হয়। এ সময় তাদের প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক আইনজীবী শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন। শুনানি শেষে প্রধান আসামি চন্দনকে ৭ দিন এবং আরেক আসামি রিপনকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় সম্মিলিত সনাতন জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নাকচ হওয়ার পর গত ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে বিক্ষোভ শুরু করে তার অনুসারীরা। এ সময় চিন্ময়ের প্রিজন ভ্যান আটকে প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন তারা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ছুড়লে শুরু হয় সংঘর্ষ। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে আশপাশের এলাকায়। ওই সময় রঙ্গম কনভেনশন হলের পাশের গলির ভেতরে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। একই দিনের ঘটনায় আরও ৫টি মামলা কোতোয়ালি থানায় রুজু হয়।

ঈশ্বরদীতে সাংবাদিক নাদিম হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামালপুরের বকশীগঞ্জে সন্ত্রাসীদের হামলায় সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০ টায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের আয়োজনে উপজেলা সদর স্টেশন রোডে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কিরণের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাতেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন- মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গোলাম মোস্তফা চান্না মন্ডল, সহ-সভাপতি খন্দকার মাহবুবুল হক দুদু, সহ-সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম বিশ্বাস, কোষাধ্যক্ষ শেখ মহসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান বাবলু, নির্বাহী সদস্য স্বপন কুমার কুন্ডু, আ ত ম শহীদুজ্জামান নাসিম, এম এম রাজা, হাশেম আলী, সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারী মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহিদুল হক শাহীন ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মাসুদ রানাসহ উপজেলায় সকল সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক নাদিম হত্যার মাস্টার মাইন্ড ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু সাংবাদিক নাদিমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তা খারিজ করে দেন। মামলা খারিজের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু নিজে উপস্থিত থেকে নাদিমকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।

বক্তারা বলেন, আজ দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নাই। সঠিক সংবাদ পরিবেশন করেও নাদিমকে প্রাণ দিতে হয়েছে। বক্তারা নাদিম হত্যাকান্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলত শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, শুধু নাদিম হত্যার বিচার নয়, সাংবাদিক হুমায়ূন করিব বালু, শাসসুর রহমান, সাগর রুনি দম্পতি, সাংবাদিক মানিক সাহার হত্যাকারীদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একযুগ পেরিয়ে গেলেও সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতির হত্যার বিচার হয়নি।

বক্তারা সকল সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার দাবি করেন ও অবিলম্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং সারাদেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিধানের জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রলীগকর্মীকে গুলি করে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে তাফসির আহমেদ মনা (২৪) নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের এমপির মোড়ে পাবনা ট্যাংক লরি ও কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত তাফসির আহমেদ মনা পাকশী ইউনিয়নের দিয়ার বাঘইল গ্রামের সৌদিপ্রবাসী তানজির রহমান তুহিনের ছেলে ও (হাতকাটা) টুনটুনির আপন ছোট ভাই।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময় জানান, নিহত তাফসির আহমেদ মনা পাকশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন।

নিহতের পারিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনা পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর ফটু মার্কেটসংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে মাটি ও বালু কাটার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই নিয়ে প্রতিপক্ষ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে মনার পক্ষের লোকজনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। কয়েক দিন আগে প্রতিপক্ষ ওই গোষ্ঠী মনার পক্ষের শাহিন নামের যুবলীগের এক কর্মীর মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। এই ঘটনায় যুবলীগকর্মী মো. লিটন, লিখনসহ কয়েকজনের নামে থানায় মামলা করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, লক্ষীকুন্ডা গ্রামের এমপি মোড়ে ইকবুলের দোকানে বসেছিলেন ছাত্রলীগ কর্মী মনা। এ সময় হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে মনাকে লক্ষ্য করে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আড়াইশৎ শয্যা বিশিষ্ট পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন