নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করার ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এই দৃশ্যগুলো গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় একজন যুবককে সামনে থাকা প্রতিপক্ষের দিকে গুলি করতে দেখা যায়।
পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর নিয়ে ওই যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি তুষার, ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়া এলাকার আবু তাহেরের ছেলে। তিনি পাবনা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের সহচর এবং জামায়াতের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত।
থানা সুত্রে জানা গেছে, তুষারের বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।
পাবনা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলি করেছে জামায়াতের তুষার । তিনি তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের সন্ত্রাসী।
অন্যদিকে, পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামী আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, অস্ত্র হাতে ভাইরাল হওয়া যুবক আমাদের দলের কেউ নয়। তিনি বলেন, আমি তাকে চিনি না। তিনি জামায়াতের কর্মী নন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ.স.ম. আব্দুন নূর জানান, বিভিন্ন সূত্র থেকে ওই যুবকের নাম পরিচয় আমাদের কাছে এসেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি আলহাজ্ব মোড় (জগির মোড়) এলাকায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এতে গুলি, ভাঙচুর এবং মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উভয় দলের প্রায় অর্ধশত নেতা ও কর্মী আহত হয়েছেন।


