ফুটবল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ফুটবল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত জেনে গুটি কয়েক দল পি আর পদ্ধতি চাচ্ছেন: ঈশ্বরদীতে হাবিবুর রহমান হাবিব

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫ ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি ছিলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা, ৯০'র স্বৈরাচার বিরোধী গণ আন্দোলনের মহানায়ক ও পাবনা জেলা বিএনপির সুযোগ্য আহবায়ক জননেতা হাবিবুর রহমান হাবিব। প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিব বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত জেনে গুটি কয়েক দল পি আর পদ্ধতি চাচ্ছেন।

প্রধান অতিথি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সব সময় জনগণের শক্তিকে বিশ্বাস করে এবং দেশের শান্তি, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের সংগ্রামে জনগণের পাশে ছিল ও থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব।

শুক্রবার  বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫ ফাইনাল খেলায় পুরস্কার বিতরণের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশের সংকটময় মুহূর্তে জনগণই পারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে সফল করতে। বিএনপি গণমানুষের দল। এই দল ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম করছে। তাই বিএনপি সব সময় জনগণের শক্তির ওপর আস্থা রাখে এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে এবং মানুষের ভোট-অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বিএনপি শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বিগত সরকারের দুঃশাসন, দুর্নীতি ও লুটপাটে আজ দেশ স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশ হারিয়েছে। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। খেলোয়ারদের উদ্দেশ্যে বলেন, জয় পরাজয় বড় কথা নয়। অংশগ্রহণ করাটাই সাফল্য বয়ে আনে। আজকে যারা বিজয়ী বা বিজিত সবাই ভালো খেলেছো। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আরো বেশি বেশি খেলাধুলার আয়োজন করা হবে।

জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় মিরকামারি ইয়াং স্মৃতি সংঘ ২-০ গোলে মহরম হাফিজুর রহমান মহলদার স্মৃতি সংঘকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার, সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান, উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ছবি মন্ডল,

উপজেলা কৃষক দলের আহবায়ক মোঃ পাঞ্জু সরদার, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, হাফিজুর রহমান মুকুল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানবীর হাসান সুমনসহ বিএনপি, শ্রমিক দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 

ঈশ্বরদীতে আইলা নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে তুহিন একাদশের জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে দাশুড়িয়ার নওদাপাড়া কোল মাঠে অনুষ্ঠিত হলো ৪র্থ আইলা নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল। শুক্রবার বিকেলে নওদাপাড়া স্পোর্টস অ্যান্ড ডোনার ক্লাবের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

ফাইনালে মরহুম নান্টু স্মৃতি ফুটবল একাদশকে ৩–১ গোলে হারিয়ে শরিফুল ইসলাম তুহিন একাদশ চ্যাম্পিয়ন হয়।

খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা, পাবনা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ সুলভ মালিথা, সহসভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান মকুল, উপজেলা বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব মইনুল ইসলাম সরদার, জেলা যুবদলের সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাচ্চু, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অনিক খন্দকার, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব বিপুল মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রকিবুল ইসলাম লাকী, কৃষক দলের মহিদুল ইসলাম ও ছাত্রনেতা মেরিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

মেসি ছুঁয়ে ফেললেন রোনালদোর হ্যাটট্রিকের রেকর্ড

মেসির উল্লাস রোনালদোর দুঃখ। ছবি: সংবাদ সাতদিন
সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: ক্যারিয়ারের একেবারে শেষপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি। তারপরও রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায় একের পর এক একে অপরকে টেক্কা দিয়ে চলেছেন।

মঙ্গলবার রাতে লাতিন আমেরিকা পর্বের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে বলিভিয়াকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচে হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি আরও দুটি অ্যাসিস্টসহ মোট ৫ গোলে অবদান রেখেছেন আর্জেন্টাইন মায়েস্ত্রো।

বলিভিয়ার বিপক্ষে এটি ছিল মেসির ক্যারিয়ারের ৫৮তম হ্যাটট্রিক, দেশের জার্সিতে যা দশম। এতেই পর্তুগিজ মহাতারকার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন তিনি।

২০২১ সালে লুক্সেমবার্গের বিপক্ষে পর্তুগালের ৫-০ গোলের জয়ের ম্যাচে দেশের জার্সিতে দশম হ্যাটট্রিক করেন রোনালদো। ছেলেদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে সুইডেনের সভেন রিডেলের সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিকের রেকর্ড (৯) ভেঙে সেদিন অনন্য উচ্চতায় ওঠেন তিনি। এর তিন বছরের মধ্যে তাকে ছুঁয়ে ফেললেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসি।

অবশ্য ১০ম হ্যাটট্রিকের দেখা পেতে ১৯১ ম্যাচ খেলা লাগে রোনালদোর, মেসির সেখানে লাগল ১৮৯ ম্যাচ।

তবে আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যায় মেসির চেয়ে অনেক উপরে রয়েছেন রোনালদো। পর্তুগালের হয়ে ২১৬ ম্যাচে ১৩৩ গোল করেছেন তিনি, যেখানে এই ম্যাচের পর ১৮৯ ম্যাচে ১১২ গোল হলো মেসির। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলের তালিকায় এ দুজনই সবার উপরে। ১৪৮ ম্যাচে ১০৮ গোল নিয়ে তাদের পরে রয়েছেন ইরানের সাবেক ফরোয়ার্ড আলী দাইয়ি।

এদিকে, ক্যারিয়ার হ্যাটট্রিকেও মেসির চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন রোনালদো। মেসির ৫৮ হ্যাটট্রিকের জায়গায় রোনালদোর হ্যাটট্রিক সংখ্যা ৬৬টি। তবে পেশাদার ফুটবলে তাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছেন আরও তিন ফুটবলার। ১৪১টির বেশি হ্যাটট্রিক নিয়ে এই তালিকায় সবার উপরে জার্মানির এরভিন হেলমশেন, ১০১টির বেশি হ্যাটট্রিক করেছেন অস্ট্রিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের হয়ে খেলা জোসেফ বাইকান এবং ১০০টির বেশি হ্যাটট্রিক রয়েছে হাঙ্গেরির ফেরেঙ্ক ডিকের।

এছাড়া, লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি হ্যাটট্রিক করলেন মেসি। এর ২টিই বলিভিয়ার বিপক্ষে, অন্যটি ইকুয়েডরের বিপক্ষে।

এদিনের ম্যাচের পর ১০ ম্যাচে ৭ জয় ও ১ ড্রয়ে ২২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান মজবুত করল আর্জেন্টিনা। ৩ পয়েন্ট কম নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলম্বিয়া।

দিনের অপর ম্যাচে রাফিনিয়ার জোড়া পেনাল্টির পর পেরুকে ৪-০ গোলে হারিয়ে সমান সংখ্যক ম্যাচে ৫টি জয় ও একটি ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ব্রাজিল। সমান পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে তাদের চেয়ে এগিয়ে থাকায় তিনে রয়েছে উরুগুয়ে। ইকুয়েডরের বিপক্ষে এদিন গোলশূন্য ড্র করেছে মার্সেলো বিয়েলসার শিষ্যরা।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে স্যার ফার্গুসনের

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন যেন একই সূত্রে গাঁথা। ছবি: সংগৃহীত

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে অবশেষে সম্পর্কচ্ছেদ হতে চলেছে ক্লাবটির ইতিহাসের সেরা ম্যানেজার স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের। খরচ কমানোর অংশ হিসেবে তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্লাবটির মালিকদের অন্যতম অংশীদার স্যার জিম র‌্যাটক্লিফ।

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দীর্ঘ ২৬ বছর (১৯৮৬-২০১৩) কোচিং করানোর পর থেকে ক্লাবটির বৈশ্বিক শুভেচ্ছাদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন ৮২ বছর বয়সী এই ফুটবলবোদ্ধা। তবে চলতি মৌসুম শেষে অবশেষে ইউনাউটেডের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হচ্ছে তার।

শুভেচ্ছাদূত হিসেবে ইউনাইটেড থেকে প্রতি বছর ২৬ লাখ (২.৬ মিলিয়ন) পাউন্ড করে পারিশ্রমিক নিতেন স্যার ফার্গুসন। পাশাপাশি ক্লাবের পরিচালকের পদেও ছিলেন এই কিংবদন্তি কোচ।

তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে স্যার র‌্যাটক্লিফ ইউনাইটেডের শেয়ার কেনার পর থেকে ক্লাবের খরচ কমানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ক্লাবের আড়াইশ জনের বেশি কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার স্যার ফার্গুসনের সঙ্গেও সম্পর্ক ছিন্ন হতে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

অবশ্য স্যার জিম র‍্যাটক্লিফের সঙ্গে স্যার ফার্গুসনের সরাসরি আলোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

খেলোয়াড়দের উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগ করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্লাবের একটি সূত্র।

গত মাসে ইউনাইটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, তারা ১১৩ মিলিয়ন পাউন্ড লোকসানে আছে, যা প্রিমিয়ার লিগের তিন বছরের লোকসান সীমার (১১৫ মিলিয়ন পাউন্ড) খুব কাছাকাছি।

এ বিষয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিয়ম মানতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কোচিং ছাড়লেও ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের গ্যালারিতে নিয়মিত মুখ ছিলেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। ছবি: সংগৃহীত
২০১৩ সালে স্যার ফার্গুসন দায়িত্ব ছাড়ার পর থেকে ঘরোয়া লিগ ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খুব বেশি ভালো করতে পারছে না ম্যানটচেস্টার ইউনাইটেড। স্যার ফার্গুসনই তাদের সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতান। অন্যদিকে, এই সময়ে পেপ গার্দিওলার অধীনে দুহাত ভরে সাফল্য কুড়িয়ে চলেছে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটি।

ফার্গুসন-পরবর্তী দশ বছরে একবারও প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি ইউনাইটেড, অন্যদিকে এই সময়ে ৬ বার প্রিমিয়ার লিগ জিতে ইংলিশ ফুটবলে একক আধিপত্য বিস্তার করেছে গার্দিওলার দল।

গত দশ বছরে ইউনাইটেডের শিরোপা জয় বলতে গেলে একটি করে এফএ কাপ ও লিগ কাপ এবং তিনটি কমিউনিটি শিল্ড। এই সময়ে তাদের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি ছিল ২০১৬-১৭ মৌসুমের ইউরোপা লিগ জয়।

অন্যদিকে, সিটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপাই জিতেছে ৬টি, যার মধ্যে সর্বশেষ চার মৌসুম ধরে টানা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা।

এছাড়া, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, দুটি এফএ কাপ, ৭টি লিগ কাপ ও ৩টি কমিউনিটি শিল্ডসহ এই সময়ের মধ্যে মোট ১৯টি প্রধান শিরোপা জিতেছে তারা। এর মধ্যে ২০২২-২৩ মৌসুমটি ছিল সিটি সমর্থকদের জন্য স্মরণীয়। সেবার প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ক্লাবের ইতিহাসে প্রথম ট্রেবল জয় করে সিটি।

ফার্গুন-পরবর্তী সময়ে ম্যানচেস্টার ডার্বিতেও ঈর্ষণীয়ভাবে এগিয়ে রয়েছে সিটি। বিগত ১০ বছরে প্রিমিয়ার লিগে ২০ বার মুখোমুখি হয়ে ১২টি ডার্বি জিতেছে সিটি, ইউনাইটেডের জয় তার অর্ধেক, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

অথচ, শক্তিশালী দল গঠনে খরচের কমতি রাখেনি ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ। এরিক টেন হাগের তত্ত্বাবধায়নে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি খরচ করেও ক্লাবটির ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে (অষ্টম) অবস্থানে থেকে গত মৌসুম শেষ করে তারা। চলতি মৌসুমে সপ্তম রাউন্ডের খেলা শেষে তাদের অবস্থান আরও নিচে, চতুর্দশ। সাত ম্যাচের মাত্র দুটি জিততে পেরেছে এরিক টেন হাগের শিষ্যরা।

ডাচ এই কোচ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে খেলোয়াড় কিনতে এ পর্যন্ত ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি খরচ করেছে ইউনাইটেড, কিন্তু মাঠের খেলায় পরিবর্তন আনতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন টেন হাগ।

কোচিং ক্যারিয়ারে অসংখ্য শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে বিশ্ব ফুটবলে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর একটিতে পরিণত করেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন। ছবি: সংগৃহীত
উল্লেখ্য, স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের সময়কালে শুধু ইংল্যান্ড নয়, ইউরোপের অন্যতম সেরা দলে পরিণত হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ১৯৮৬ সালের নভেম্বরে ক্লাবটির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ইউনাইটেডকে একটি বিশ্বমানের দল হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।

তার হাত ধরেই ডেভিড বেকহ্যাম, পল স্কোলস, রায়ান গিগস, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও ওয়েন রুনির মতো তরুণ খেলোয়াড়দের একেকজন তারকা থেকে মহাতারকা হয়েছেন।

শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও মানসিক দৃঢ়তার জন্য সুপরিচিত ছিলেন স্যার ফার্গুসন। শুধু কৌশলগত দিক থেকে নয়, শারীরিক ও মানসিকভাবেও শিষ্যদের শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছিলেন এই কিংবদন্তি কোচ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হার না মানা ছিল তার খেলোয়াড়ি দর্শন। শেষ মুহুর্তে গোল করে ম্যাচ জেতা কিংবা হার এড়াতে তার দল এত পটু হয়েছিল যে ম্যাচের অন্তিম পর্ব সে সময় ‘ফার্গি টাইম’ নামে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচ হিসেবে ২০১৩ সালে অবসর গ্রহণের আগে ইউনাইটেডকে ১৩টি প্রিমিয়ার লিগ, ৫টি এফএ কাপ, ২টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ৪টি লিগ কাপ এবং ইউরোপীয় সুপার কাপ, ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপসহ অসংখ্য শিরোপা জেতান স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন।

মেসিবিহীন বলিভিয়াকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক: লাপাজের সাড়ে ৩ হাজার মিটার উচ্চতায় আগেরদিনও অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজরা। দলের বড় একটা অংশেরই বলিভিয়ার মাঠটিতে খেলার অভিজ্ঞতা ছিল এই প্রথম। একইসঙ্গে দলের প্রধান তারকা ও নিয়মিত অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে ম্যাচটিতে পাওয়া শঙ্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে স্কোয়াডের বাইরে রেখেই একাদশ সাজান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে মাঠে নামতেই সব দুশ্চিন্তা উধাও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। বল দখলে আধিপত্য দেখানোর পর আর্জেন্টিনা স্বাগতিক বলিভিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে মেসিরা কষ্টসাধ্য জয় পেয়েছিলেন। একমাত্র ফ্রি-কিক গোলেই সেই জয় নিশ্চিত করেছিলেন বিশ্বজয়ী মহাতারকা। কিন্তু চোটের অস্বস্তি নিয়ে তিনি সেদিন মাঠ ছেড়েছিলেন, যা সতীর্থদের বাড়তি চাপেই রাখার কথা। সেসব দুশ্চিন্তা পাশ কাটিয়ে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন অভিজ্ঞ আনহেল ডি মারিয়া। গোল না পেলেও করেছেন দুটি অ্যাসিস্ট। দলের জয়ে এনজো ফার্নান্দেজ, নিকোলাস তালিয়াফিকো এবং নিকোলাস গনসালেস একটি করে গোল পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে লাপাজের এস্তাদিও হার্নান্দো সাইলস স্টেডিয়ামে ৬০ শতাংশ বলই দখলে ছিল আর্জেন্টিনার। অন্যদিকে ৩৯ মিনিটে দুই হলুদ কাডের পর লাল কার্ড হজম করে মাঠ ছাড়তে হয় বলিভিয়ার রবার্তো ফার্নান্দেজকে। ঘরের মাঠের বিরূপ পরিস্থিতি দিয়ে প্রতিপক্ষকে কাবু করা তো দূরে থাক, স্বাগতিকরা উল্টো ১০ জনের দল নিয়ে আরও চাপে পড়ে যায়।

প্রথম দশ মিনিট থেকেই ম্যাচের প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় আর্জেন্টিনা। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের রদ্রিগো দি পলের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ঠিক দুই মিনিট পর এনজোর দুর্দান্ত এক শট আঙুল ছুঁয়ে ঠেকিয়ে দেন বলিভিয়ার গোলরক্ষক। তবে ৩১ মিনিটে আর ভুল করলেন না এই চেলসি মিডফিল্ডার। জুলিয়ান আলভারেজ ও ডি মারিয়া হয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে বল পেয়ে যান এনজো। সেখান থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে তিনি দলকে এগিয়ে দেন।

এরপরই দশ জনের দলে পরিণত হওয়া বলিভিয়া আরও চাপে পড়ে যায়। তারই সুযোগ নিয়ে বিরতির আগমুহূর্তে লিড ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তালিয়াফিকো। ডি মারিয়ার ফ্রি কিক বলটি তিনি হেডে লক্ষ্যভেদ করেন। ২-০ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় স্কালোনির শিষ্যরা।

বিরতির পরও বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা খেলায় আধিপত্য ধরে রাখে। তবে খেলার গতি ঠিক আগের মতো ছিল না। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাঠের উচ্চতা-ই হয়তো এই প্রভাব ফেলেছে। তবে ৭০ ও ৭২ মিনিটে নেওয়া আলভারেজ ও ডি মারিয়ার দূরপাল্লার শটেও হতে পারত গোল। তবে সেবার জালের দেখা না পেলেও ৮৩ মিনিটে ঠিকই সফরকারী আলবিসেলেস্তে বাহিনী তৃতীয় গোল আদায় করে নেয়। বদলি নামা এজিকিয়েল পালাসিওসের পাস থেকে নিকোলাস গনসালেস সফল লক্ষ্যভেদ করেন।

এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে বাছাইয়ের টেবিলে শীর্ষস্থান দখল করে নিল আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে ইন্টার মায়ামি ও জাতীয় দলের হয়ে টানা ম্যাচ খেলার ধকলও কিছুটা সামলাতে পারলেন মেসি। বয়স ও ক্লান্তির কথা মাথায় রেখেই এদিন তাকে বাইরে রেখেছিলেন স্কালোনি।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন