জাতীয় নির্বাচন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
জাতীয় নির্বাচন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

পাবনা-৪: বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক:  আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা–৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।

বুধবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে পাঠানো এক চিঠিতে হাবিবুর রহমান হাবিবের নাম চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

দলীয়ভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী বিএনপি নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

হাবিব অনুসারী ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত ১৭ ডিসেম্বর পাবনা–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে হাবিবুর রহমান হাবিবের নাম চূড়ান্ত হয়। তবে বুধবার আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র হাতে পেয়েছি।

উল্লেখ্য, পাবনা–৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আরও ছিলেন পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিট আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জামিল আক্তার এলাহী ও ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জাকারিয়া পিন্টু। তাঁরা তিনজনই সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।

পাবনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাঁর পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন বিএনপির নেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ। এ সময় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোছা. শামসুন্নাহার ভূইয়া মনোনয়ন ফরম হস্তান্তর করেন।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার, সাবেক সদস্যসচিব আজমল হোসেন সুজন, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হোসেন ডাবলু, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহীনসহ দলীয় নেতারা।

উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, পাবনা-৪ আসনে এখন পর্যন্ত একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে সাংবাদিকদের মাহবুবুর রহমান পলাশ বলেন, ‘আমরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। ইনশাআল্লাহ, জয়ের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত নির্বাচনগুলোতে বিএনপির ভোট চুরি করার প্রয়োজন হয়নি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া জনগণের রায় নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। আমরা আশা করি, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হবে। সেই নির্বাচনে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে আবারও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে।’

বিনা ভোটে নির্বাচিত হলে ব্যবস্থা, হুঁশিয়ারি শেখ হাসিনার


নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেউ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দলীয় প্রার্থীদের সাবধান করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে দলীয় ডামি প্রার্থী রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক করার নির্দেশও দেন।

২৬ নভেম্বর রোববার সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের সভাপতির সঙ্গে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সাক্ষাৎ করতে গেলে এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন একাধিক মনোনয়নপ্রত্যার্শী।

শেখ হাসিনা বলেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ পাস করে আসতে পারবেন না। প্রত্যেক প্রার্থীকেই একজন করে দলীয় ডামি প্রার্থী রাখতে হবে।

সূত্রমতে, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে উৎসব ও প্রতিযোগিতামূলক করতে নৌকার প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা অন্যান্য দলের কেউ প্রার্থী হলে তাকেও সহযোগী ও উৎসাহ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রধান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রার্থী জানান, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কেউ যদি কোনো আসনে জয়ী হয়, তাহলে বিজয়ী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে দলীয় প্রধান জানিয়েছেন। দলীয় প্রতীকের প্রার্থীর পাশাপাশি দলের যে কোনো নেতা বা যে কোনো ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবে বলেও নির্দেশনা দিয়েছেন।

আরেক প্রার্থী জানান, নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে প্রয়োজনে ডামি প্রার্থী রাখতে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। একইসঙ্গে নির্বাচনের সময় ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসতেও নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ প্রধান।

সভায় উপস্থিত একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী বলেন, নেত্রী বলেছেন— আপনারা সাড়ে তিন হাজারের মতো প্রার্থী। এর মধ্যে থেকে আপনারাই আমাকে ৩০০ নাম দেন। পরে উপস্থিত সবাই নেত্রীকে দায়িত্ব দেন। আরেকটা হচ্ছে— নেত্রী ডামি প্রার্থী রাখতে বলছেন। আবার যে কেউ চাইলে নির্বাচন করতে পারবে বলেও জানিয়েছেন।

এর আগে সকাল থেকেই গণভবনের প্রবেশ পথে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। মোট ৩ হাজার ৩৬২ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী আজ গণভবনে এসেছেন। দিনব্যাপী সভা শেষে বিকেলে নৌকা প্রতীকে মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হবে।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গণভবনে ডাকা হয়।

এদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি চলে গত ১৮ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। এই চার দিনে ৩৩৬২ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী ফরম সংগ্রহ করেন। 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১৮ থেকে ২১ নভেম্বর বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ। এই চার দিনে মোট তিন হাজার ৩৬২টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে অনলাইনে ১২১ জন ফরম কিনেছেন। ফরম বিক্রি করে ১৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা আয় হয়েছে দলটির।

ঢাকা বিভাগে বিক্রি হয়েছে ৭৩০টি ফরম। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৫৯টি, সিলেট বিভাগে ১৭২টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৯৫টি, বরিশাল বিভাগে ২৫৮টি, খুলনা বিভাগে ৪১৬টি, রংপুর বিভাগে ৩০২টি এবং  রাজশাহী বিভাগে ৪০৯টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। কয়েকটি বাদে প্রতিটি আসনে নৌকার মাঝি হতে লড়ছেন ১১ জন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, মনোনয়ন আপিল ও নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত এবং ভোটগ্রহণ ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া সংসদ নির্বাচনের জন্য ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ৫৯২ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নির্বাচনে আসেন, দেখি কার কত দম: শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনে আসেন, কার কত দম সেটা আমরা দেখি; জনগণ কাকে চায় সেটা আমরা যাচাই করে দেখি।  

২৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১০ টায় তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শুরু হওয়া দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভার সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, তারা নির্বাচনে আসুক সেই আহ্বান জানাই। নির্বাচনে আসেন, কার কত দম সেটা আমরা দেখি; জনগণ কাকে চায় সেটা আমরা যাচাই করে দেখি।

আগামীতে নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ হবে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন নিয়ে যারা এখনো দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে তাদের বলবো আপনারা আসেন নির্বাচনে। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।

ইতোমধ্যে যেসব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে তাদের সাধুবাদ জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, এটুকু বলতে পারি এবারের নির্বাচন, আওয়ামী লীগের আমলে প্রত্যেকটা নির্বাচন অবাধ-নিরপেক্ষ হয়। এবার আমি বারবার নির্দেশনা দিয়েছি জনগণের ভোটের অধিকার...‘আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব’ জনগণের সে অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ করব না। নির্বাচন কমিশন অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে সেটাই আমরা চাই।  

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা নিজেরা আহ্বান করেছি যদি পর্যবেক্ষক আসতে চায় আসবে, এখানে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই। কারণ আমাদের জনগণের ভোট চুরি করতে হবে না, জনগণের আস্থা-বিশ্বাস আমাদের ওপর আছে।

বিএনপির ওপর জনগণের আস্থা-বিশ্বাস নাই এজন্য বিএনপি নির্বাচনে আসবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আসলে নির্বাচনে আসার মতো তাদের আস্থা বিশ্বাস নাই।

রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়ে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি বলেই বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে এবং উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। এটাকে ধ্বংস করার জন্য তাদের নানা প্রক্রিয়া। এখন রাজনৈতিকভাবে তারা পারেনি, এখন অর্থনৈতিকভাবে কীভাবে চাপে ফেলবে সেই প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

দেশের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার চক্রান্ত চলছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, পৃথিবীর কিছু মোড়ল আছে, যেখানে তাদের সমর্থন সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হলেও সেটা মানবাধিকার লঙ্ঘন না, আরেক জায়গায় যদি হয় সেটা মানবাধিকার লঙ্ঘন। এরকম দু-মুখো—বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাটাকে নস্যাৎ করার চক্রান্ত।

জনগণের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের ভোটের অধিকার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রয়োগ করবেন। যাকে খুশি তাকে ভোট দেন, আমাদের সে ব্যাপারে কোনো কথা নেই। আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আমি আপনাদের কাছে দাবি করব আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দেন। কিন্তু সম্পূর্ণ জনগণের ইচ্ছা, ভোটারের ইচ্ছা; যাকে খুশি তাকে দিতে পারে।

তিনি বলেন, আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো, এটাই আমাদের স্লোগান। তারপরও আমি নৌকায় ভোট চেয়ে রাখলাম, কারণ এটা আমাকে চাইতেই হবে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নৌকা মার্কা যখন সরকারে এসেছে, তখন এ দেশের মানুষের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ গেছে, রাস্তা-ঘাট, পুল-ব্রিজ সব আমরা নির্মাণ করে মানুষকে আধুনিক, উন্নত জীবন দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি। অনেকটা আমরা সাফল্য অর্জন করেছি।

তিনি বলেন, কাজেই নৌকা মার্কা থাকলে যে মানুষের জীবনে শান্তি থাকে, সমৃদ্ধি আসে, জীবন উন্নত হয়, এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। নিশ্চয়ই দেশবাসী সেই বাস্তবতা মাথায় রেখে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের প্রার্থী জয়যুক্ত করে তাদেরকে সেবা করার সুযোগ দেবেন।

বিএনপি আমলের নির্বাচনের সমালোচনা করে শেষের হাসিনা বলেন, যতবার বিএনপি নির্বাচন করেছে ততবারই এই ভোটের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। আওয়ামী লীগ জনগণের উপযুক্তির অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে যে ক্ষমতা এক সময় ক্যান্টনমেন্টে বন্দী ছিল সেটা এখন জনগণের হাতে চলে এসেছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০১৪ সালে আত্মবিশ্বাস ছিল না বলেই জ্বালাও-পোড়াও করে তারা নির্বাচনে আসেনি। ২০১৮ সালের নির্বাচন নিয়ে অপবাদ দিলেও কেউ এখন পর্যন্ত অনিয়মের একটি সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভার প্রথম দিনে কয়েকটি বিভাগের সংসদীয় আসনগুলোর মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে ৩০০ সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আগামী কয়েক দিন বৈঠক করবে দলটি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেতে ৩০০ আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন মোট ৩ হাজার ৩৬২ জন। প্রতি আসনে গড়ে ১১ জন এ ফরম কিনেছেন।

আ.লীগের মনোনয়ন ফরম কিনলেন মাশরাফি


নিজস্ব প্রতিবেদক: নড়াইল-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র কিনেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

১৯ নভেম্বর সোমবার সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তার পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবাস চন্দ্র বোস।

খুলনা বিভাগের মনোনয়ন ফরম বিক্রির দায়িত্বে থাকা নেতা শফিকুল ইসলাম শফিক বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে জানান।

১৮ নভেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। প্রথম দিনে দলটি ১ হাজার ৭৪ মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে। দ্বিতীয় দিন রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২১২টি ফরম বিক্রি করা হয়। ফলে দুই দিনে ২ হাজার ২৮৬টি ফরম বিক্রি হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের আয় হয়েছে ১১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

আগামীকাল চূড়ান্ত হবে তফসিল ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৫ নভেম্বর বুধবার বিকেল ৫টায় তফসিলের বিষয়ে বৈঠকে বসবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপরেই প্রথমবারের মতো সরাসরি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। এ ভাষণেই ঘোষণা হবে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল।

১৪ নভেম্বর মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১৫ নভেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় অথবা বৃহস্পতিবার চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা হবে তফসিল। এরপরই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন তারিখ জানা যাবে।

সংবিধান অনুযায়ী সংসদের ৫ বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বর্তমান সংসদের মেয়াদ ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি শেষ হবে। এক্ষেত্রে ৯০ দিনের গণনা শুরু হয়েছে গত ১ নভেম্বর থেকে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩০০ আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করেছে ইসি। এ তালিকা অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে। এ নির্বাচনে ভোট দেবেন ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন ভোটার।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ভোটার ছিল ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৭ জন। সে হিসেবে গত ৫ বছরে দেশে ভোটার বেড়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৫২ হাজার ৯৫৬ জন।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন