নির্বাচন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নির্বাচন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে বিএনপির কর্মী সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে বিএনপির উদ্যোগে কর্মী সমাবেশ হয়েছে। সলিমপুর ইউনিয়নের বোর্ডঘর মোড় এলাকায় শনিবার বিকেলে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা–৪ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব। 

এসময় তিনি বলেন, 'জামায়াতের নারী কর্মীরা যেন কোরআন ছুঁইয়ে মা–বোনদের কাছে ভোট চাইতে না পারেন—দেশবাসীকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।' 

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পরিবারের কথা না ভেবে দেশকে স্বাধীন করতে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন, জেড ফোর্স গঠন করেছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭১–কে অপমান করার সুযোগ আমরা কোনোভাবেই দেব না,মন্তব্য করেন তিনি।

হাবিব অভিযোগ করে বলেন, যারা পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করেছে, ঘরবাড়ি পুড়িয়েছে—তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

বক্তব্যে হাবিব আগষ্ট বিপ্লবের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাস আমরা ভুলতে পারি না। ১৯৭১ সালের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রথম স্বাধীন হয়েছে, আর আগষ্ট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৪ সালের আগষ্ট বিপ্লবে দেশ ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে।

খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থেই বেগম খালেদা জিয়া দেশ ত্যাগ করেননি। একজন সন্তানের মৃত্যু, আরেকজনের জীবনসংকট—এই পরিস্থিতিতেও তিনি মানুষের জন্য দেশ ছেড়ে যাননি। আজ তিনি অসুস্থ—তার সুস্থতা কামনা করি।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন— ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার, সাবেক সদস্য সচিব আজমল হোসেন সুজন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোখলেসুর রহমান বাবলু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হোসেন ডাবলু, সলিমপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন, সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহিন, বিএনপি নেতা তুহিন চৌধুরী, সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল ইসলাম হামদু মেম্বার, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী চামেলী খাতুন, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ভাষা প্রামানিক, সাধারণ সম্পাদক ছবি মন্ডল, উপজেলা জাসাস সভাপতি নূর মোহাম্মদ বিশ্বাস, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি পাঞ্জুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানবীর হাসান সুমন, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও পৌরসভার সর্বশেষ মেয়র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম নয়ন, সলিমপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক সুমন মালিথা, সদস্য সচিব মশিউর রহমান রতন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপুল হোসেন বুদুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা।

পিআর পদ্ধতির নির্বাচন জনগণ চায় না: হাবিবুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, যাদের রাজনীতির মাঠে কোনো ভিত্তি নেই, তারাই পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চাইছে। দেশের সাধারণ মানুষ এই প্রক্রিয়া চায় না। তারা চায় প্রচলিত ধারায় অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। জনগণ যেন নির্ভয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, সেটিই সবার প্রত্যাশা।

শনিবার ঈশ্বরদীর রূপপুর বিবিসি বাজারে পাকশী ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাবিবুর রহমান বলেন, 'একদল বলছে গণভোট না হলে নির্বাচনে যাবে না, আরেকদল বলছে পিআর ছাড়া যাবে না। অথচ তারাই আবার সব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, মসজিদে মসজিদে প্রচারণা চালাচ্ছে। ঘরে ঘরে গিয়ে বলছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতে নিয়ে যাবে। জামায়াত আসলে প্রতারণা আর ভণ্ডামির রাজনীতি করে।' 

সভায় সভাপতিত্ব করেন পাকশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানবীর হাসান সুমন। এ সময় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বিশ্বাস, সাবেক সদস্য সচিব আজমল হোসেন সুজন, সাবেক ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এনামুল হক, পাবনা জেলা ছাত্র দলের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মো. পাঞ্জু সরদার, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ, তাঁতি দলের আহ্বায়ক নাফিজ আহমেদ আরিফ, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ছবি মণ্ডল, উপজেলা জাসাসের সভাপতি নূর মোহাম্মদ বিশ্বাসসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

ঈশ্বরদীতে শ্রমিকদলের কর্মী সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কর্মী সমাবেশ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সমাবেশটি শনিবার বিকেলে পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সভাপতি ভাষা প্রারামানিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ছবি মণ্ডলের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- পাকশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন আলম, বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক ও কর্মচারী দল ঈশ্বরদী শাখার সভাপতি মাসুদ রানা নয়ন, পাকশী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম পাতা, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লাকী, পাকশী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহীন শেখ, লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি বাবু সরদার, পাকশী ইউনিয়ন যুবদলের নেতা নিজাম উদ্দিন, শ্রমিকদল নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম, পাকশী ইউনিয়ন শ্রমিকদল নেতা মো. ফরহাদ হোসেন ও সাহাপুর ইউনিয়ন শ্রমিকদল নেতা সাগর হোসেন প্রমুখ। 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে গেছেন এবং সেখানে নতুন ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করছেন। এই ষড়যন্ত্র রোধ করতে বিএনপি ও শ্রমিকদলসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।

ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ায় ভোটকেন্দ্র পরিচালকদের প্রশিক্ষণ দিল জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের কেন্দ্র পরিচালকদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে।

 শুক্রবার সকালে আলহাজ মোড়ে অবস্থিত দারুস সালাম ট্রাস্ট মিলনায়তনে এই কর্মশালার আয়োজন করে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।

প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। তিনি বলেন, 'ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্র পরিচালকদের পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। আমাদের লক্ষ্য কেবল একটি নির্বাচন নয়, একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলা—যেখানে ইসলামী মূল্যবোধ হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।' 

তিনি আরও বলেন, 'বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের আস্থা অর্জনই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আদর্শবান হওয়া জরুরি। কেন্দ্র পরিচালনা শুধু দায়িত্ব নয়, বরং তা একটি আমানত।' 

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, সহকারী সেক্রেটারি এস এম সোহেল এবং কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা গোলাম রব্বানী খান জুবায়ের।

ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আমির ডা. নুরুজ্জামান প্রামানিকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহসভাপতি ও আটঘরিয়া জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আমিরুল ইসলাম, আটঘরিয়া উপজেলার বর্তমান আমির মাওলানা নকিবুল্লাহ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সাইদুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন আটঘরিয়া উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল আলিম মাসউদ, ঈশ্বরদী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম আজম খান, উপজেলা অফিস সেক্রেটারি মারুফ মো. আহসানউজ্জামান, আইন ও মানবসম্পদ সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান খান, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাহফুজুর রহমান এবং পৌর সেক্রেটারি মাওলানা আল আমিন।

দিনব্যাপী এ কর্মশালায় ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলার ১২৯টি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালকরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণে কেন্দ্রীয় আচরণবিধি, নিরাপত্তা, ভোটার সহায়তা, প্রার্থী এজেন্টদের সঙ্গে সমন্বয় এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিএনপি সন্ত্রাসের পক্ষে নয়, সতর্ক থাকছে দল: আলাউদ্দিন বিশ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিশ্বাস করে না এবং যেসব নেতা সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত, তাদের কখনো দলের প্রার্থী করা হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপি ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বিশ্বাস।

তিনি বলেন, 'যাদের হাতে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিরাপদ মনে হয়নি, তাদের বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় না। দলের নেতৃত্ব বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রার্থী চূড়ান্ত করে।' 

বৃহস্পতিবার বিকেলে সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজিত আনন্দ মিছিল ও সমাবেশে আলাউদ্দিন বিশ্বাস এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, 'বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের জন্য যথাযথ প্রার্থী বাছাই করেছেন।'

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও দলটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে মৌখিক অনুমতি দেওয়ায় দাবী করে আয়োজিত এ সমাবেশে দলীয় ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দেওয়া হয়।

আনন্দ মিছিলটি আওতাপাড়া বাজার থেকে শুরু হয়ে সিলিমপুর মোড়ে এসে সমাবেশে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন বিএনপির যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক খন্দকার সাগর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন।

সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান হামদু মেম্বারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রমজান আলীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রকি।

এ সময় সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান লিটন, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তৌহিদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক আক্কাস আলী, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, ছাত্রদল নেতা হাসিবুর রহমান ইমন, ইব্রাহিম হোসেনসহ আরও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পাবনা-৪: মনোনয়নের আশ্বাসে উচ্ছ্বাস, নেতাকর্মীদের মিছিল-সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পাবনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে হাবিবুর রহমান হাবিব মৌখিক অনুমোদন পেয়েছেন এ দাবি করে আনন্দ র‍্যালি ও সমাবেশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

রোববার সকালে পাকশী ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো এই কর্মসূচির আয়োজন করে। আমতলা এলাকা থেকে শুরু হয়ে র‍্যালিটি পাকশীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শেষ হয় পুনরায় একই স্থানে। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পাকশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আলম। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আজমল হোসেন সুজন।

আজমল হোসেন সুজন বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে পাবনা-৪ আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য হাবিবুর রহমান হাবিবকে মৌখিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে কর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে আজকের আনন্দ র‍্যালির আয়োজন করি।’

সমাবেশ পরিচালনা করেন পাবনা জেলা ছাত্রদলের সহ-সমাজসেবা সম্পাদক রাজন আলী।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পাকশী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম পাতা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল আজাদ অনল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নুরুন নবী, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোল্লা রেজা ও শাহিন হোসেন, যুবদল নেতা কবির হোসেন ও চঞ্চল হোসেন, ইউনিয়ন কৃষকদলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা সুজন ও সাব্বির হোসেনসহ আরও অনেকে।

মনোনয়ন নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জাকারিয়া পিন্টুর

নিজস্ব প্রতিবেদক:  পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে মনোনয়ন পাবেন, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী ইপিজেড গেট ব্যবসায়ী সমিতির আয়োজনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।

জাকারিয়া পিন্টু বলেন, ‘পাবনা-৪ আসনে কে বেশি জনপ্রিয়, কে তৃণমূলে গ্রহণযোগ্য-তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করে মনোনয়ন দিতে হবে। যারা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, দলের কঠিন সময়ে পাশে থেকেছেন, তাদের গুরুত্ব দেওয়া দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘দলের ভেতরেই এখন ষড়যন্ত্র চলছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। উপজেলা, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা আমার পাশে আছেন। ইনশাআল্লাহ, সব বাধা ডিঙিয়ে আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাব।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকিউল ইসলাম তপন সরদার, কেন্দ্রীয় শ্রমিকদল নেতা আহসান হাবিব এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সামসুদ্দীন আহমেদ মালিথা।

অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ঐকমত্য কমিশনের দুই সদস্যের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই তাগিদ দেন। 

শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ এবং সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে প্রফেসর আলী রীয়াজ ও ড. বদিউল আলম মজুমদার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। তারা জানান, বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা চলমান রয়েছে। শনিবার পর্যন্ত মোট ৮টি দলের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করা আছে।

তারা আরও জানান, সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে জনমত যাচাই এবং সে বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ সময় কমিশনের সভাপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা তথা সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন।

ঈশ্বরদী মহিলা কলেজ ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী মহিলা কলেজ ছাত্রদলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ মাঠে এই কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন ছাত্রদলের সহসভাপতি তৌহিদুর রহমান আউয়াল।

কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্মসম্পাদক রাজিব আহমেদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ছাত্রদলের সহসভাপতি রেহানা আক্তার শিরিন, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নাসরিন 
আক্তার পপি, সহসাধারণ সম্পাদক শারমিন সুলতানা রুমা, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সহসাধারণ সম্পাদক নাদিম হায়দার ও মাহাবুবুর রহমান তরুণ।

কাউন্সিলে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ধীরে ধীরে সেই অধিকার পুনরুদ্ধার হচ্ছে। নতুন নেতৃত্ব তরুণ প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করবে।

পাবনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান প্রিন্সের সঞ্চালনায় এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঈশ্বরদী মহিলা কলেজ ছাত্রদলের নতুন সভাপতি হিসেবে সুবর্ণ রায় এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মরিয়ম নির্বাচিত হয়েছেন।

আজ ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের ভোট যুদ্ধ, আনারসের সঙ্গে লড়াই হবে মোটরসাইকেলের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ঈশ্বরদীতে নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ বুধবার।  সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। এ নির্বাচনে লড়ছেন চেয়ারম্যান পদে ৩জন প্রার্থীসহ মোট ১৪ প্রার্থী। ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি। 

তৃতীয় ধাপে এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় ১৭ এপ্রিল। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিলো ২ মে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হয় ৫ মে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিলো ১২ মে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ হয় ১৩ মে। 

এই নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাঁড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদার (আনারস) প্রতীকে, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ মিন্টু মোটরসাইকেল প্রতীকে ও ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম সিদ্দিকী (ঘোড়া প্রতীক) নির্বাচন করছেন। সকলে প্রথম বারের মতো চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করছে। তবে আবুল কালাম আজাদ মিন্টু দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।

এবারও কি পাবনা জেলার শ্রেষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান এমদাদুল হক রানা সরদার জিতছে নাকি তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক পৌর মেয়র কালাম আজাদ মিন্টু জিতবে, এমন নানামুখী আলোচনার উত্তর পাওয়া যাবে আজ রাতের মধ্যেই। বিকেল চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের পর শুরু হবে ভোট গণনা। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের এবারই প্রথমবারের মতো এখানে ইভিএমে ভোট হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা। অবশ্য নির্বাচন কর্মকর্তারা আশা করছেন, রাত ৯ থেকে ১০টার মধ্যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান কারা, সে সম্পর্কে জানতে পারবে সাধারণ মানুষ। 

এমদাদুল হক রানা সরদার জনগণকে নির্ভয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, নানা প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেছি। আমি উপজেলায় পা দেওয়ার পর থেকে ব্যাপক উন্মাদনা টের পেয়েছি। ঈশ্বরদীর মানুষ আমাকে গ্রহণ করে নিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ পাক আমাদের সহায় হোন। 

অন্যদিকে কালাম আজাদ মিন্টু বলেছেন, ভোটের পরিবেশ সুন্দর থাকলে জনগণ আমার পক্ষে, মোটরসাইকেলের পক্ষে রায় দেবে। তিনি ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে তাঁর সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

নির্বাচন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, ‘উৎসবমুখর ভোট হবে, এটাই আশা।’ তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

নির্বাচনী সব সরঞ্জাম ইতিমধ্যে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে পৌঁছে যায়। ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকছেন। 

প্রসঙ্গত ঈশ্বরদী উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৭ টি ইউনিয়নের ৮৪ টি কেন্দ্রের ৬০২ টি ভোট কক্ষে সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহন চলবে। ঈশ্বরদী উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৪৩ হাজার ৩৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২২ হাজার ৮৭৬ জন এবং নারী ১ লাখ ২০ হাজার ৫১২ জন। 

‘মিছা কথা কমু না, ভোট দুইটা দিছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক: আমার বয়স ৭৫ বছর। স্বাধীনতা যুদ্ধ নিজের চোখে দেখেছি। সবগুলো নির্বাচনে ভোট দিয়েছি। ৫ বছর অপেক্ষায় থাকি ভোট দেওয়ার জন্য। মিছা কথা কমু না, আজকে দুইটা ভোট দিছি।

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের বনকোট কেন্দ্রের সামনে থেকে কথাগুলো বলছিলেন তমিজ উদ্দিন ভূইয়া নামের এক ভোটার। তিনি বনকোট এলাকার আলী আকবরের ছেলে। 

৭ জানুয়ারি রোববার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন তমিজ উদ্দিন ভূইয়া।

তিনি আরও বলেন, দিন-রাতে ঘুম নাই। এই আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল আমাদের ভাতিজা। কখন তাকে ভোট দিব সেই টেনশনে ঘুম আসে না। ভোট দেওয়ার পর শান্তি লাগছে। আমার পরিবারে ৮জন ভোটার। আমার স্ত্রীও ভোট দিয়ে গেছে। আমরা চাই রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ৩৫ হাজার ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হোক।

উল্লেখ্য, রোববার সকাল ৮টায় বহুল আলোচিত এবং প্রতিক্ষীত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দেশজুড়ে ৪২ হাজার ১০৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলবে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন মোট ১৯৭১ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৫৩৪ জন ২৮টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী। বাকি ৪৩৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সংখ্যা ২৬৬ জন। জাতীয় পাটির ২৬৫ জন, তৃণমূল বিএনপির ১৩৫ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ১২২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ৯৬ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ৫৬ জন ভোটের মাঠে আছেন।

নির্বাচনে এবার ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন পুরুষ আর ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন নারী ভোটার। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ৮৫২। সারা দেশে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ১০৩টি, আর ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১২টি। 

ভোটের আগের রাতে ১২ ঘণ্টায় ১৫ স্থানে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে সারাদেশে ১৫টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডের এসব ঘটনায় ১০টি যানবাহন ও ৭টি স্থাপনা পুড়ে গেছে।

৭ জানুয়ারি রোববার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শনিবার ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৫টি আগুনের সংবাদ পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২টি, চট্টগ্রামে ৩টি, সিলেটে ১টি, ময়মনসিংহে ৩টি,  খুলনায় ১টি, বরিশালে ৪টি ও রংপুরে ১টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

এসব ঘটনায় ৩টি বাস, ১টি ট্রাক, ৩টি কাভার্ড ভ্যান, ২টি মোটরসাইকেল, ১টি প্রাইভেটকার, ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১টি নির্বাচনী ক্যাম্প, কমিশনারের অফিস ও ১টি নৌকা পুড়ে যায়। 

এসব অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর ৩০টি ইউনিট ও ১৫০ জন জনবল কাজ করে। 

ফায়ার সার্ভিস জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বিসিকের বাদামতলীতে ১টি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এরপর ময়মনসিংহ সদরের নতুন বাজারে ১টি প্রাইভেট কারে, হবিগঞ্জে ২টি মোটরসাইকেল, নেত্রকোনায় ১টি কাভার্ড ভ্যান, মুন্সিগঞ্জে রাস্তার পাশে নৌকা, পিরোজপুর সদরে ১টি ট্রাক, ফেনী সদরে ২টি কাভার্ড ভ্যান, বরিশাল সদরে ২টি বাসে আগুন দেওয়া হয়।

এছাড়া ময়মনসিংহ, খুলনা ও লালমনিরহাটের ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলসকাঠীর বাকেরগঞ্জে নির্বাচনী ক্যাম্প, ফেনী সদরে কমিশনার অফিসে, কিশোরগঞ্জে স্কুলের একটি রুমে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

নরসিংদীর এক কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসনের একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে। এই আসনের বেলাবোতে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা।

৭ জানুয়ারি রোববার সকালে বেলাব উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মতিউর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

তিনি বলেন, বেলাবো উপজেলার সল্লাবাদ ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা অনিয়মের কারণে ভোটগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

এ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন পাঁচবারের উপজেলা চেয়ারম্যান ও নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম খাঁন বীরু।

বিএনপি অংশ নিলে নির্বাচন আরও গ্রহণযোগ্য হতো: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি অংশ নিলে আরও গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতো বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

৬ জানুয়ারি শনিবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে এটি আরও গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক হতো। তারা ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। আমরা বলবো, তাদের (ভোটার) ভোট দিতে আসা উচিত। এটি তাদের পবিত্র রাজনৈতিক কর্তব্য যে ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচন করা।

নির্বাচন সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য করতে চেষ্টা করবেন বলেও জানান তিনি।

কত শতাংশ ভোট পড়লে নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে হাবিবুল আউয়াল বলেন, এটি বলা কঠিন। কত ভোট পড়লে আমি খুশি হবো, এ বিষয়ে এখন কথা বলা কঠিন। তবে দুই শতাংশ ভোট পড়লেই নির্বাচন হয়ে যাবে। কত শতাংশ পড়লে একটা নির্বাচন গ্রহণযাগ্য হবে, সেটা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে।

এসময় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আহসান হাবিব খান (অব.), বেগম রাশেদা সুলতানা, মো. আলমগীর, আনিছুর রহমান, ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম ও পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন স্বচ্ছ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তাও পোলিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন না। কাল সকাল ৮টায় যখন নির্বাচন হবে, সেটাই পোলিং। সেই পোলিংয়ে যদি ভোটচুরি, কারচুপি কিংবা অনিয়ম ব্যাপকভিত্তিতে হয়, তাহলে তার কিছু দায়ভার আমাদের ওপর পড়বে।

‌‌রিটার্নিং কর্মকর্তারা সরকারি কর্মকর্তা। তাদের সর্বোচ্চ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, সচেতন করার জন্য। তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে, এটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। আপনারাও (মিডিয়া) ক্যামেরা নিয়ে ঘুরবেন, যারা পর্যবেক্ষক ও মিডিয়াকর্মী ভোটকেন্দ্রে যাবেন, তাদের অবাধ প্রবেশাধিকার থাকবে- বলেন সিইসি।

রাজধানীর গোপীবাগে ট্রেনে যে আগুন দেওয়া হয়েছে, সেটিকে অমার্জনীয় অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল।

তিনি বলেন, চলন্ত ট্রেনে আগুন দেওয়া হয়েছে, এতে চার থেকে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এই বেদনাদায়ক দৃশ্য অবলোকন করতে হয়েছে। কে আগুন লাগিয়েছে, কারা লাগিয়েছে, তা আমরা জানি না। দেশে হরতাল-অবরোধ চলছে। এতে এ হরতালের সঙ্গে কাকতালীয়ভাবে মিল খুঁজতে পারেন। এটা সত্য কিংবা মিথ্যা হতে পারে।

সিইসি আরও বলেন, যে কোনো অগ্নিকাণ্ড গুরুতর অপরাধ। রাজনীতিতে মতভেদ থাকলে সংলাপ ও আলাপের মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে। তবে সেটি নির্বাচন কমিশনের কাজ না। আগুন ও হতাহতের ঘটনায় আমরা বেদনাহত, এ ধরনের ঘটনা ঘটানো উচিত না, এটি কোনো রাজনৈতিক দল করলে তা অমার্জনীয় অপরাধ।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন মানবে না জনগণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের বিরুদ্ধে নিজেরাই ডামি প্রার্থী দিয়ে এই নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করেছে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচনই দেশের জনগণ মানবে না। যেকোনো মূল্যে ৭ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন প্রতিহত করা হবে।

৩ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে শাহবাগে নির্বাচন বর্জনের লিফলেট বিতরণকালে একথা বলেন তিনি।

কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্বাচন বর্জন ও ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ৩ জানুয়ারি রাজধানীর ৬৮টি সাংগঠনিক থানার বিভিন্ন স্পটে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মীরা।

অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকার জগদ্দল পাথরের মতো জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছে। ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছে। তারা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করতে সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করেছে। 

তিনি আরও বলেন, বিরোধী মতের ওপর অব্যাহত জুলুম নিপীড়ন চালিয়ে পুরো বাংলাদেশকেই কারাগারে রূপান্তর করেছে। বাকশালী সরকার দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। আদালতকে ব্যবহার করে ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে সাজা প্রদান করে প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে চায়।

ইতিহাস থেকে আমরা দেখতে পাই, জনগণকে নির্যাতন করে অতীতে কোনো স্বৈরাচার সরকার টিকে থাকতে পারেনি, এই সরকারও টিকে থাকতে পারবে না। এদেশের জনগণই এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতার মসনদ থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে ছাড়বে ইনশাআল্লাহ।

তিনি ৭ জানুয়ারির ভোট বর্জন ও সরকার পতনের চলমান গণআন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

একইদিন ডেমরা, কোনাপাড়া, শাহজাহানপুর, মুগদা, কলাবাগান, নিউমার্কেট, যাত্রাবাড়ী-শ্যামপুর, মতিঝিল, পল্টন, খিলগাঁও  সবুজবাগ, বংশাল, রমনা, কোতোয়ালি, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, কদমতলী, সূত্রাপুর, চকবাজার, লালবাগ, গেন্ডারিয়া থানায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।

সন্ত্রাসী ও খুনিদের দলে পরিণত হয়েছে জনবিচ্ছিন্ন বিএনপি : নানক


নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে দেশে ভোটের উৎসব তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা-১৩ আসনের নৌকার প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। পাশাপাশি বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, নির্বাচন বর্জনের মধ্যদিয়ে বিএনপি দেশের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে এখন সন্ত্রাসী ও খুনিদের দলে পরিণত হয়েছে।

৩ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে নির্বাচনী গণসংযোগের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর রায়ের বাজারের উত্তর সিটির ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের রহিম ব্যাপারী ঘাট থেকে গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় চলে এই গণসংযোগ।

নানক বলেন, ভোটের দিন খুবই সন্নিকটে। ঢাকা-১৩ আসনের মতো সারা দেশে ভোটের উৎসব লক্ষ্য করা গেছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি নির্বাচনী জনসভায় মানুষের ঢল নেমেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে যে, ৭ জানুয়ারি জনগণের অংশগ্রহণে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

 ভোটারদের উদ্দেশে নৌকার প্রার্থী নানক বলেন, আপনারা পরিবার নিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আপনাদের নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষার নির্বাচন। এ দেশের এত উন্নয়ন হয়েছে, সবই আওয়ামী লীগের হাত ধরে হয়েছে। চলমান এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকারের বিকল্প নেই। তাই আপনারা ভোট দিয়ে উন্নয়নের এই দ্বারা ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে শামিল হন।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, ঢাকা-১৩ আসনের বর্তমান এমপি সাদেক খান, স্থানীয় কাউন্সিলরসহ ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগসহ দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গণসংযোগে অংশ নেন।

পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিলেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি ও তার সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা ৩ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে বঙ্গভবনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পাবনা সদরের ভোটার।

এদিন ভোট প্রদান শেষে আগামী ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

মো. সাহাবুদ্দিন আশা প্রকাশ করেন, সবার অংশগ্রহণে সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।  

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সচিব সংযুক্ত  মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান। 

‘ডামি নির্বাচন’ বন্ধ করুন : জয়নুল আবদিন ফারুক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে একদলীয় ও ‘অবৈধ ডামি নির্বাচন’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে সংকট চলছে, সেটিকে দূর করার জন্য বিএনপি এবং সমমাননা দলগুলো আন্দোলন সংগ্রাম করছে। তাই সরকারকে অনুরোধ করবো বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য বিএনপি যে আন্দোলন সংগ্রাম করছে, সেই আন্দোলন সংগ্রামের প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে নতুন বছরে পদত্যাগ করে এই একদলীয় ডামি নির্বাচন বন্ধ করুন।

২ জানুয়ারি মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, সরকার যে একদলীয় ডামি নির্বাচন আয়োজন করেছে, সেই নির্বাচনে জনগণ যাতে অংশগ্রহণ না করে তার জন্য বিএনপি লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করছে। এই কর্মসূচি সফল করার মধ্য দিয়ে আমরা জনগণকে আহ্বান করবো, আপনারা এই ডামি নির্বাচন বর্জন করুন।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি যে একদলীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেই নির্বাচনে জনগণ অংশগ্রহণ করবে না। তাই অবিলম্বে ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের মতো একদলীয় ডামি নির্বাচন বন্ধ করুন।

তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে স্বৈরাচার সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত এবং তাদের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য নানা কূটোকৌশল অবলম্বন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। কিন্তু কোনো স্বৈরাচার সরকারি ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি, এই সরকারও পারবে না।

সংগঠনের সভাপতি গোলাম সরোয়ার সরকারের সভাপতিত্ব লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে আরও অংশগ্রহণ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাহমুদুল আলম মাহমুদ, কৃষকদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান মিয়া সম্রাট, মৎসজীবী দলের কেন্দ্রীয় নেতা ইসমাইল হোসেন সিরাজী, জিয়াউর রহমান সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকন প্রমুখ।

নতুন ভোটারদের নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান শেখ হাসিনার


নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন ভোটারদের নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। তরুণ সমাজ ও তারুণ্যই হচ্ছে আমাদের অগ্রদূত। যারা প্রথম ভোটার হয়েছে, তাদেরকে আহ্বান করব... নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে।

১ জানুয়ারি সোমবার বিকেলে রাজধানীর কলাবাগান মাঠে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় তিনি এই আহ্বান জানান।

ভোটারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত অগ্নিসন্ত্রাস করে আপনাদের ভোট কেড়ে নিতে চায়। আপনারা তার জবাব দেবেন। প্রত্যেক ভোটার সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যাবেন, আপনার ভোট আপনি দেবেন... কেউ যেন ঠেকাতে না পারে। তাদের উপযুক্ত জবাব দেবেন। আপনারা অগ্নিসন্ত্রাসের জবাব দেবেন।

ঢাকার নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের পরিচয় করে দিয়ে তিনি বলেন, ‌আপনাদের সামনে এই ১৫টি রত্ন তুলে দিলাম। এই ১৫টি রত্ন আপনাদের হাতে দিলাম, যারা আপনাদের সেবক হিসেবে কাজ করবে, আপনাদের সেবা করবে। এই নৌকা হচ্ছে নূহ নবীর নৌকা... মহাপ্লাবনে মানব জাতিকে রক্ষা করেছিল। এই নৌকায় মানুষের উন্নতি হয়। এই নৌকা মানুষকে নিশ্চিত জীবন দেয়, শান্তি দেয় ও সমৃদ্ধি দেয়। এই নৌকায় ভোট দিয়ে বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতা পেয়েছে। এই নৌকায় ভোট দেওয়ায় আজকে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ।

সরকারপ্রধান বলেন, আগামীতেও নৌকায় ভোট দেবেন। ৪১ সালের মধ্যে আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলব। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আজকের এই নির্বাচন। এই নির্বাচনে ভোট দিয়ে নৌকাকে জয়যুক্ত করবেন। শুধু ভোট দেবেন না, আপনার ভোট রক্ষাও করবেন। আর ওই অগ্নিসন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী বিএনপিকে উপযুক্ত জবাব দেবেন।

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০১ এর পর হানাদারদের মতো অত্যাচার করেছিল বিএনপি। তাদের দুঃশাসনেই দেশে ইমার্জেন্সি এসেছিল। তারা শুধু জানে মানুষের ওপর অত্যাচার করতে।

ভোট চুরি করতে পারবে না জেনেই বিএনপি নির্বাচনে আসেনি মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন মানুষের অধিকার, এটা বন্ধ করার সাহস তাদের নেই। এদের বিষয়ে মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে ওরা দেশটার সর্বনাশ করে দেবে। আমরাই ভোটাধিকারের জন্য লড়াই করেছি। জিয়াউর রহমান যখন ভোট চুরির জন্য হ্যাঁ-না ভোট করেছিলেন, আওয়ামী লীগ তখন জনগণের ভোটের অধিকার ফিরে দিয়েছে। ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’-এই স্লোগানটিও আমাদের দেওয়া। আমরাই জনগণের হাতে ভোটাধিকার এনে দিয়েছি।

বিএনপিকে খুনি আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, বিএনপির চুরি-দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কারণে জনগণ তাদের ২০০৮ সালে প্রত্যাখ্যান করেছে। জ্বালাও-পোড়াও, মানুষ খুন করা তারা শুধু এটাই জানে। এখন আবার নির্বাচন বানচাল করতে চায়।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সমালোচনা করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, শুনেছি সে নাকি ক্যাসিনো থেকে টাকা ইনকাম করে। জুয়া খেলে টাকা ইনকাম করে সেই টাকা দিয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান। এতে আরও বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা-১৩ আসনের নৌকার প্রার্থী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-৮ আসনের নৌকার প্রার্থী আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, ঢাকা-১০ আসনের নৌকার প্রার্থী নায়ক ফেরদৌস আহমেদ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপস। 

জেলা প্রশাসককে হুমকি : স্বতন্ত্র প্রার্থী পবনকে ডেকেছে কমিশন


নিজস্ব প্রতিবেদক: জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে গালাগালি ও হুমকির অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পবনকে কমিশনে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

৩১ জানুয়ারি রোববার বিকেলে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন) আব্দুছ সালামের সই করা চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পবন নির্বাচনী অপরাধসহ ‘নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম’ করেছেন।

তিনি গতকাল ৩০ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারকে একটি মুঠোফোন নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফোন করে অকথ্য, আপত্তিকর ও অশোভন বক্তব্য দিয়েছেন। একইসঙ্গে রিটার্নিং অফিসার ও পুলিশ সুপারকে ৩ দিনের মধ্যে বদলিসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে ভয়-ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান পবনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধে জড়িত থেকে ‘নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম’ সংঘটন করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। তারা এই প্রতিবেদন ৩১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনেও পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এই প্রার্থী এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্বাচনের বিধান লঙ্ঘন করেছেন। ফলে বিধান অনুযায়ী হাবিবের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আগামী ০১ জানুয়ারি বিকেল ৩টায়  নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে (কক্ষ নম্বর-৩১৪, নির্বাচন ভবন, আগারগাঁও, ঢাকা) অনুষ্ঠিত হবে। 

সেখানে তাকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নির্বাচন কমিশনের নিকট ব্যাখ্যা দিতে হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন