নিজস্ব প্রতিবেদন: বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের ছত্রছায়ায় তার সমর্থকদের মাদক, অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অতিষ্ঠ ঈশ্বরদী বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তারা প্রতিকার চেয়ে ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এছাড়াও গতকালের বিএনপি কার্যালয়ে গুলি ও ভাঙচুরের ঘটনায় হাবিবের সমর্থকরা জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়।
রোববার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নেতাকর্মীরা। তারা পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকরা।
সংবাদ সম্মেলনে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব মেহেদী হাসান বলেন, ‘গতকাল মানিকনগরের বিএনপি কার্যালয়ে গুলি ও ভাঙচুরের ঘটনায় প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে হাবিব ভাই নিরীহ, নির্দোষ মানুষকে মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় যারা প্রকৃত জড়িত তারা হাবিব সাহেবের লোক। তিনি এ নিয়ে নোংরা রাজনীতি করতে চাচ্ছেন। মূলত মাদক ও চুরির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে আমাদের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। এর আগেও সাহাপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে যাতে জাকারিয়া পিন্টুর লোক থাকতে না পারে, এজন্য একজন কর্মীর বিরুদ্ধে হাবিব ভাই মিথ্যা মামলা দিয়েছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাকারিয়া পিন্টুর জনপ্রিয়তাকে ভয় পেয়ে তার নেতাকর্মীদের উপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তার অত্যাচারে উপজেলাবাসী অতিষ্ঠ। বিএনপির হয়ে বিএনপির দ্বারা নির্যাতনের শিকার হওয়া খুবই দুঃখজনক। নিজের স্বার্থের জন্য তিনি যা করছেন, সমাজে সেটি প্রতিষ্ঠিত হবে না। আগামীতে জনগণ এর জবাব দেবে। সারাঘাট এলাকার নদীপথে আওয়ামী গোষ্ঠী কাকন বাহিনী অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। টকশোতে গিয়ে তিনি তাদের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যারা সেখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তারা ভালো, বিএনপির যারা প্রতিবাদ করেছে তারা সন্ত্রাসী।’
স্বেচ্ছাসেবকদলের এ নেতা আরও বলেন, ‘হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক রাব্বি একজন সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। তার সঙ্গে পূর্ব শক্রতার জের রয়েছে সলিমপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন পলাশের। পলাশ মানিকনগরের মসজিদ ও মাদ্রাসার সেক্রেটারি। ৫ আগস্টের পর রাব্বি নামে ওই ব্যক্তি একটি মাদ্রাসা ও মসজিদ মার্কেটের দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছিল। ভাড়া মাদ্রাসায় দিতে হতো। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি হাবিব সাহেবের অফিস করবেন। হাবিব সাহেবের অফিস হবে তো মাদ্রাসায় কেন ভাড়া দিতে হবে? এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এর সূত্র ধরে বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকদের বাড়ি থেকে ছাগল, টাকা, গহনাপাতি লুট করা হয়। এজন্য গতকালের ঘটনার সাথে নাজমুল হোসেন পলাশ জড়িত না হলেও তার নাম আনা হয়েছে। এটি জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকদের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদক ও সন্ত্রাস কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। যাঁরাই জড়িত তাঁদের সবাইকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা উচিত। ৫ আগস্টের পর থেকে ঈশ্বরদীর সব জায়গায় হাবিব সাহেবের সমর্থকরা চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়েছে, তবে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সলিমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেন, ঈশ্বরদী পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোস্তফা নূরে আলম শ্যামল, ঈশ্বরদী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুনুর রশিদ, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক আরজ আলী সরদার, ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হোসেন আতিয়ার, উপজেলা যুবদলের সদস্য মতিউর রহমান, হেলাল, মাসুদ, সলিমপুর ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু মজুমদার, সলিমপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন পলাশ, সলিমপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ প্রমুখ।

