মৃত্যু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মৃত্যু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে কিশোর ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতার মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী-ঢাকা রেলপথের ঈশ্বরদী বাইপাস রেলস্টেশন এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে আহাম্মদ আলী (১৭) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আহাম্মদ আলী পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের কুবিরদিয়ার মাঠপাড়া গ্রামের দিনমজুর ইউসুফ আলীর ছেলে। জীবিকার তাগিদে সে বিভিন্ন ট্রেনে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা হিসেবে পপকর্ন বিক্রি করত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অভাব-অনটনের কারণে আহাম্মদ আলীর লেখাপড়া বেশিদূর এগোয়নি। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে অল্প বয়সেই সে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতার কাজ শুরু করে। প্রতিদিনের মতো সোমবার ভোরে চাটমোহর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে করে ঈশ্বরদী বাইপাস রেলস্টেশনে আসে। পরে ঢাকাগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে ওঠার সময় পা পিছলে ট্রেনের নিচে পড়ে যায়। এতে ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ওসি মো. জিয়াউর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।

ঈশ্বরদীতে সাবেক মেয়র বাবলুর স্মরণে দোয়া মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রয়াত মকলেছুর রহমান বাবলুর স্মরণে দোয়া মাহফিল হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঈশ্বরদী লোকো কলোনি জামে মসজিদে মরহুমের পরিবারের উদ্যোগে এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, রেল শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতি আহসান হাবিব ও ঈশ্বরদী পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা গোলাম আজম খানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।

মেয়র বাবলুর পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তাঁর ভাই মাহবুবুর রহমান পলাশ ও রেজাউল করিম শাহিন।

সাবেক মেয়র বাবলুর স্মরণে ঈশ্বরদী পৌরসভার তিন দিনের কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মখলেসুর রহমান বাবলুর মৃত্যুতে তিন দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঈশ্বরদী পৌরসভা।

রোববার সকালে পৌরসভা চত্বরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। এ সময় তাঁরা এক মিনিট নীরবতা পালন, প্রয়াত নেতার স্মৃতিচারণ এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়ার আয়োজন করেন।

ঈশ্বরদী পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, মখলেসুর রহমান বাবলু দীর্ঘদিন ঈশ্বরদী পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পৌরসভার উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

শনিবার দুপুরে নিজ বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মখলেসুর রহমান বাবলুকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা ১টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মখলেসুর রহমান বাবলু ১৯৯৩, ১৯৯৭, ১৯৯৮ ও ২০০৪ সালে ঈশ্বরদী পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

শেষ বিদায়ে মানুষের ঢল, দাফন হলেন সাবেক মেয়র বাবলু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মকলেছুর রহমান বাবলুকে দ্বিতীয় জানাজার পর শনিবার রাতে শহরের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

রাত ১০টায় ফতেমোহাম্মদপুর লোকো ফুটবল মাঠে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে সেখানে নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। শোকাবহ পরিবেশে উপস্থিত সবাই তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

শনিবার দুপুরে নিজ বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা ১টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

জানাজায় বক্তব্য দেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু এবং উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন।

এ ছাড়া নাটোরের লালপুর, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, মকলেছুর রহমান বাবলু সাদাসিধে জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সব দল ও ধর্মের মানুষের কাছে তিনি সম্মানিত ছিলেন।

পারিবারিক ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, মকলেছুর রহমান বাবলু  ১৯৯৩, ১৯৯৭, ১৯৯৮ ও ২০০৪ সালে ঈশ্বরদী পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের পৌরসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। আশির দশকে পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। পরে পৌর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দলকে সুসংগঠিত করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিন দশকের বেশি সময় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি ‘বাবলু ভাই’ নামে পরিচিত ছিলেন।

উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৯ সালের ৩ জুলাই আদালত মখলেসুর রহমান বাবলুকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে পাঁচ বছর কারাভোগের পর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তাঁকে খালাস দেন। একই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

ঈশ্বরদীর সাবেক মেয়র বাবলুর জানাজা দুই দফায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মখলেসুর রহমান বাবলুর দুটি জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জানাজার আগে তাঁর মরদেহে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার রাত ১০টায় ঈশ্বরদী শহরের ফতেহমোহাম্মদপুর লোক ফুটবল মাঠে প্রথম এবং পরে রাত সাড়ে ১০টায় ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় ঈদগাহে দ্বিতীয় জানাজা হবে।

শনিবার দুপুরে নিজ বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে বেলা ১টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মখলেসুর রহমানের বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর। তিনি স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এদিকে তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঈশ্বরদীতে চলমান একটি কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে ফতেহমোহাম্মদপুরের বাসভবনে ছুটে যান সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ। পরে সেখানে যান পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল এবং পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। 

বাবলুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ইছাহক আলী মালিথা এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

পারিবারিক ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, মখলেসুর রহমান বাবলু ১৯৯৩, ১৯৯৭, ১৯৯৮ ও ২০০৪ সালে ঈশ্বরদী পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের পৌরসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। আশির দশকে পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। পরে পৌর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দলকে সুসংগঠিত করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিন দশকের বেশি সময় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি ‘বাবলু ভাই’ নামে পরিচিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৯ সালের ৩ জুলাই আদালত মখলেসুর রহমান বাবলুকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে পাঁচ বছর কারাভোগের পর ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট তাঁকে খালাস দেন। একই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

ঈশ্বরদীর সাবেক মেয়র বাবলু আর বেঁচে নেই


নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবলু আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, হৃদরোগসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। শনিবার দুপুর ১টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর শহরের ফতেহমোহাম্মদপুরে নিজ বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. কাবেরী শাহ বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।

মকলেছুর রহমান বাবলু ঈশ্বরদী শহরের ফতেহমোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি আফসার উদ্দিনের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বাসভবনে ছুটে যান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ।

এদিকে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ইছাহক আলী মালিথা। এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

মকলেছুর রহমান বাবলুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, বিএনপি মকলেছুর রহমান বাবলুর মতো একজন জনপ্রিয় ও কর্মীবান্ধব নেতাকে হারাল। এটি দলের রাজনীতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

তাঁর ভাই ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ জানান, শনিবার রাত ১০টায় লোকো ফুটবল মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

পারিবারিক ও রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, মকলেছুর রহমান বাবলু ১৯৯৩, ১৯৯৭, ১৯৯৮ ও ২০০৪ সালে ঈশ্বরদী পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালের পৌরসভা নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে গুলি ও বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০১৯ সালের ৩ জুলাই আদালত মকলেছুর রহমান বাবলুকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট ওই মামলায় তাঁকে খালাস দেন। একই বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

শামসুর রহমান শরীফের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুর রহমান শরীফের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২ এপ্রিল। ২০২০ সালের এই দিনে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

শামসুর রহমান শরীফ পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি তাকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার জেল খেটেছেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর তৎকালীন সরকারের আমলে টানা পাঁচ বছর এবং পরে এরশাদ সরকারের আমলেও তিনি দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন।

তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু ছাত্রাবস্থায়। ১৯৫২ সালে পাবনা জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন ভাষা আন্দোলনের মিছিল থেকে তিনি প্রথম গ্রেপ্তার হন। পরে ১৯৭১ সালে তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার জনপ্রতিনিধিত্ব শুরু হয়। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে উপজেলা এবং পরে ২০০৫ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। আমৃত্যু তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছেন।

শামসুর রহমান শরীফ ১৯৪০ সালের ১০ মার্চ পাবনা সদর উপজেলার চর শানিকদিয়ার মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি ঈশ্বরদী উপজেলার কৈকুণ্ডা গ্রামে। তার বাবার নাম লুৎফর রহমান এবং মায়ের নাম জোবেদা খাতুন।

২০২০ সালের ২ এপ্রিল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বরেণ্য এই রাজনীতিকের মৃত্যু হয়।

ঈশ্বরদীতে ডেঙ্গুতে ছেলের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর মারা গেলেন মা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর মিরকামারী গ্রামে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডেঙ্গুতে মা ও ছেলে মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার রাতেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান রোজি বেগম (৪৫)।

এর এক সপ্তাহ আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান তার ছেলে নাহিদ ইসলাম (১৯)। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মা ও ছেলে দুজনই ডেঙ্গুর জেরে জীবন হারিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৪০৯ জন।

নাহিদের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, ‘আমার ছেলে প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ডেঙ্গু ধরা পড়ে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। ছেলেকে হারানোর শোক সামলানোর আগেই তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েক দিন পর বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু ধরা পড়ে তাকে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।’

এক সপ্তাহের ব্যবধানে মা–ছেলের এই করুণ মৃত্যু শুধু পরিবারকেই নয়, পুরো গ্রামকেও শোকের ছায়ায় ঢেকে দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩৮৭ জন ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে মোট ১ লাখ ৪৭৭ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯৮,৭২৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১,৭৪৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চলতি বছরের মৃত্যু সংখ্যা মাসভিত্তিক: জানুয়ারিতে ১০, ফেব্রুয়ারিতে ৩, মার্চে কোন মৃত্যু হয়নি। এপ্রিল মাসে ৭, মে মাসে ৩ জনের মৃত্যু হলেও জুন থেকে বৃদ্ধি পেতে থাকে। জুনে ১৯, জুলাইয়ে ৪১, আগস্টে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ৭৬, অক্টোবর ৮০ এবং নভেম্বর মাসে ৯৯ জন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন।

ঈশ্বরদী থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে জামায়াত কর্মীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে দলটির এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত মোস্তাফিজুর রহমান কলম বিশ্বাস (৫০) ঈশ্বরদী উপজেলার চরমিরকামারী গ্রামের মাহবুব বিশ্বাসের ছেলে।

শুক্রবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে গাজীপুরের চান্দুরা এলাকায় বাসের মধ্যে অসুস্থ হলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তিনি ঈশ্বরদী থেকে বাসে ঢাকায় সমাবেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

পাবনা জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য গোলাম রব্বানী খান জুবায়ের বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান কলম বিশ্বাস যমুনা সেতু পার হওয়ার পর অসুস্থ অনুভব করলে তাকে বাসে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে চান্দুরা এলাকায় পৌঁছলে তার অবস্থার অবনতি হয়। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

ঈশ্বরদীতে সাপের কামড়ে সাপুড়ের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে সাপের কামড়ে নাঈম হোসেন (২২) নামে এক সাপুড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মুলাডুলি এলাকার এক ওঝার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার এক স্থানীয় সাপের খেলা প্রদর্শন করার সময় নাঈমের হাতে থাকা একটি গোখরা সাপ তার বৃদ্ধাঙ্গুলিতে কামড় দেয়। পরে আশেপাশের লোকজন তার হাতে তিনটি বাঁধন পরিয়ে দেন। তবে নিজের ইচ্ছায় তিনি বাঁধন খুলে ফেলেন। কিছু সময় পরে নাঈমের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার বদলে তাকে মুলাডুলি এলাকার এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ওঝা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুন নূর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, 'নাঈম একজন সাপুড়ে ছিলেন এবং সাপের খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।  একটি গোখরা সাপ ধরে নিজ কাছে রেখেছিলেন। আজ সেই সাপ নিয়ে খেলা দেখানোর সময় সাপটি তাকে কামড় দিলে তার মৃত্যু হয়।' 

ঈশ্বরদীতে বিষ্ণু কুমার সরকারের মায়ের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বিষ্ণু কুমার সরকারের মা অনুরূপা রানী সরকার বার্ধক্যজনিত কারণে মঙ্গলবার সকালে মারা গেছেন।

তিনি সকাল ৮টার দিকে অরোণকালা এলাকার নিজ বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে, চার কন্যাসহ নাতি-নাতনী, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। দুপুর দেড়টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপির সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোকলেছুর রহমান বাবলু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু,  ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান এবং ঈশ্বরদী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আশিকুর রহমান নান্নু।

ঈশ্বরদীতে সড়কে ঝরল সাইকেল আরোহীর প্রাণ

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে অটোরিকশার ধাক্কায় কমল (৩৫) নামে এক সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কমল উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের যুক্তিতলা লাইনপাড়া এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কমল সাইকেলে করে ঈশ্বরদী বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা খেয়ে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঈশ্বরদী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, 'পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।'

ঈশ্বরদীতে বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান আক্তারের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান আক্তার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিকেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আক্তার। দ্রুত তাঁকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আক্তারুজ্জামান আক্তার চার ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

দলীয় সুত্রে জানা গেছে, আক্তারুজ্জামান আক্তার ২০১৯ সালে ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনাকে বহন করা ট্রেনে হামলার মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। চলতি বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে তিনি খালাস পান। পরে ১১ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এদিকে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। শোক জানিয়েছেন ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু ও ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।

আক্তারের ছেলে পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ. কে.এম. সাজেদুজ্জামান জিতু জানান, জানাজার সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

ঈশ্বরদীতে বৈদ্যুতিক কাজ করতে গিয়ে নিহত শ্রমিক

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পুকুরে বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক শ্রমিকের। 

নিহতের নাম শীতল (২৫), তিনি সাঁড়া গোপালপুর নতুন পাড়ার আব্দুল আজিজের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,   শহরের পাতিবিল এলাকায়  শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পুকুরে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে গিয়ে শীতল অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঈশ্বরদী থানার ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, 'ঘটনাটি শুনেছি। আইনগত সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'

ঈশ্বরদীতে পিজিসিবি প্রকৌশলীর মৃত্যুরহস্য

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের বিশ্রামঘর থেকে শামীম হোসেন (২৫) নামে এক উপসহকারী প্রকৌশলীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে উপজেলার জয়নগর এলাকায় পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) বিশ্রামঘরের দোতলা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

শামীম হোসেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শৈলগাড়ী গ্রামের মসলেম উদ্দীনের ছেলে।

বিশ্রামঘরের দেখভালের দায়িত্বে থাকা বাবুর্চি হাফিজুর রহমান জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে রান্নার কাজ করতে এসে তিনি দোতলায় শামীমের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। এরপর তিনি স্থানীয়দের জানালে থানা পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

পিজিসিবির ঈশ্বরদী শাখার একজন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, শামীম ২১ এপ্রিল ঢাকার পিএনডি শাখা থেকে বদলি হয়ে ঈশ্বরদীতে কাজে যোগ দেন। তিনি কেন এমন করলেন, সেটা এখনো কেউ বলতে পারছে না।

শামীমের বাবা মসলেম উদ্দীন বলেন, তাঁর ছেলে কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে চাপের মধ্যে ছিল। বগুড়ায় প্রশিক্ষণের সময় সে কয়েকবার চাকরি ছাড়ার কথা বলেছিল।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় খালাসপ্রাপ্ত বিএনপি কর্মীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনাকে বহন করা ট্রেনে হামলার মামলায় খালাসপ্রাপ্ত বিএনপির কর্মী আজাদ হোসেন খোকন মারা গেছেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের কাচারিপাড়ার বাড়িতে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫০ বছর।

আজ বুধবার বেলা ২টার দিকে শহরের পশ্চিম টেংরি কাচারী পাড়া ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে পিয়ারাখালী জান্নাতুল আমান কবরস্থানে দাফন করা হয়। এতে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।

জানাজা শুরুর আগে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু, সাবেক সভাপতি এ কে এম আখতারুজ্জামান, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলটির জেলা বিকমিটির আহবায়ক ও হাবিবুর রহমান হাবিব ও পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল প্রয়াত খোকনের জন্য দোয়া কামনাসহ কোনো অপরাধ বা ভুলত্রুটি করে থাকলে মাফ করে দেওয়ার আবেদন জানান।

খোকন শহরের কাচারিপাড়ার পিয়ার আলী মণ্ডলের ছেলে। ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনাকে বহন করা ট্রেনে হামলার মামলায় তিনি ২০১৯ সালে পাবনা আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ৫ ফেব্রুয়ারি ওই মামলার ৪৭ নেতাকর্মীর সঙ্গে তিনিও খালাস পান।  

জাকারিয়া পিন্টু জানান, ‘খোকন তৃণমূল বিএনপির বেশ সাহসী ও নিবেদিত কর্মী ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা অনেক মর্মাহত! আমরা একটা ত্যাগী কর্মী হারালাম। শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মিথ্যা মামলায় পাঁচবছর কারাভোগ করেন। এ মামলা থেকে আমিসহ ৪৭ নেতা-কর্মী পাঁচ ফেব্রুয়ারি খালাস পেয়েছিলাম।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী মারা গেছেন

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী মারা গেছেন। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

এভারকেয়ার হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাবেক মন্ত্রী ও মতিয়া চৌধুরীর মামা মোস্তফা জামাল হায়দারও তার মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে দুপুর ১টার দিকে মারা যান মতিয়া চৌধুরী। আরিফ মাহমুদ বলেন, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত মতিয়া চৌধুরীকে সকালে হাসপাতালে আনা হয়েছিলো। এরপরই আমরা ইসিজি করে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করি। শেষ পর্যন্ত আমরা সব ধরনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সফল হতে পারিনি। দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মতিয়া চৌধুরীর জন্ম ১৯৪২ সালের ৩০ জুন পিরোজপুরে। তার বাবা মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মা নুরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী। ১৯৬৪ সালের ১৮ জুন খ্যাতিমান সাংবাদিক বজলুর রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মতিয়া চৌধুরী।

তিনি ইডেন কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে ‘অগ্নিকন্যা’ নামে পরিচিত মতিয়া পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন এবং এর কার্যকরী কমিটির সদস্য হন। ১৯৭০ ও ১৯৭১ এর মাঝামাঝি সময়ে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, প্রচারণা, তদবির এবং আহতদের শুশ্রুষায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন।

১৯৭১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময়কালে তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হন।

১৯৯৬ ও ২০০৯ এবং ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মতিয়া চৌধুরী। সর্বশেষ তিনি আওয়ামী লীগের ১ নং প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পাবনায় অতিরিক্ত মদপানে দুইজনের মৃত্যু, অসুস্থ ৩

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চরভাঙ্গুড়া গ্রামে অতিরিক্ত মদপানে ২ জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাতে এক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়।


মৃতরা হলেন- উপজেলার চর ভাঙ্গুরা গ্রামের রামচন্দ্র ঘোষের ছেলে রবীন ঘোষ (২৫) ও মানিক চৌধুরীর ছেলে হৃদয় চৌধুরী (১৭)। ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম দু’জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গাপূজার উৎসব পরবর্তী আনন্দে সোমবার সন্ধ্যার পর বন্ধুদের সঙ্গে অতিরিক্ত মদপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন উপজেলার চরভাঙ্গুড়া গ্রামের ঘোষপাড়ার পাঁচ যুবক। তারা পরস্পরের বন্ধু। তাদেরকে সোমবার রাতে প্রথমে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে হৃদয় চৌধুরীর মৃত্যু হয়। আর রবিন ঘোষকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. উজ্জল হোসেন বলেন, দুইজন মারা যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। আর গুরুতর অসুস্থ তিনজনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।


ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মদপান করে পাঁচজন অসুস্থ হয়েছিল। তার মধ্যে দুইজন মারা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

ট্রাকের পেছনে আরেক ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরের বড়াইগ্রামে বালুভর্তি একটি ট্রাককে পেছন থেকে আরেকটি ট্রাক ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। ৬ জানুয়ারি শনিবার ভোরে বড়াইগ্রাম উপজেলার গলাকাটা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ঝিনাইদহের বাড়ইপাড়ার বাসিন্দা ট্রাকচালক শাহীনুর আকাশ (২৮) এবং অচিন্তপুর গ্রামের ট্রাকচালকের সহকারী (হেলপার) জসিম উদ্দিন (২৬)।

ঝলমলিয়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এন এম মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, দিনাজপুর থেকে একইসঙ্গে বালুভর্তি দুটি ট্রাক কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নাটোর-বনপাড়া মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার গলাকাটা এলাকায় ট্রাক দুটি পৌঁছালে পেছনে থাকা ট্রাকটি সামনের ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এতে পেছনের ট্রাকের চালক ও হেলপার গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও বলেন, ট্রাক দুটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাড়ির জন্য কেনা জমিতে একসঙ্গে ৪ জনের কবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দাদি, বাবা, আর ছোট দুই বোনের শেষ বিদায়ের সময় বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া জান্নাতুল মারুফা (৮)। একটু দূরে দাঁড়িয়ে চোখের জলে তাদের শেষ বিদায় দিচ্ছিল সে। অটোরিকশাচালক বাবা জামাল উদ্দিন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী মা মরিয়ম আক্তার টাকা জমিয়ে যে আট শতক জমি কিনেছিলেন, সেই জমিতেই ৩১ ডিসেম্বর রোববার সকালে দাফন করা হয় তাদের।

গতকাল শনিবার নান্দাইল উপজেলার বীর ঘোষপালা গ্রামে বসতঘরে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন- জামাল উদ্দিন (৪০), তার মা আনোয়ারা বেগম (৭০) এবং জামালের দুই মেয়ে ফাইজা মনি (৬) ও আনিকা (৪)। রোববার সকাল ১০টায় নিহতদের বাড়ির সামনে থাকা ফসলি জমিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের লোক ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষ হওয়ার পর একে একে চারজনের মরদেহ চারটি কবরে নামানো হয়। মাঝখানে জামালের দুই মেয়েকে রেখে দুই পাশে জামাল ও তার মা আনোয়ারাকে দাফন করা হয়।

জামাল উদ্দিনের স্ত্রী মরিয়ম আক্তার ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরি করেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। স্বামী-সন্তানদের মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতে বাড়িতে আসেন তিনি। 

মরিয়ম জানান, স্বামী-স্ত্রীর আয় দিয়ে জমি কিনেছিলেন। সেই জমিতে বাড়ি বানাতে পারেননি। এখন তাকে ছেড়ে সবাই চলে গেলেন। এ কথা বলে কাঁদতে কাঁদতে তিনি মূর্ছা যান।

অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া জামালের বড় মেয়ে জান্নাতুল মারুফা জানায়, দুপুরের পর সে ঘরে ঢুকে দেখতে পায় বাবা, দাদি ও ছোট দুই বোন ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। তখন সে দাদির শরীরে ধাক্কা দেয়। এ সময় সে (মারুফা) প্রচন্ড ঝাঁকি খেয়ে ঘরের এক কোণে গিয়ে ছিটকে পড়ে। তখন দাদি বলে চিৎকার করতে থাকলে কিছুটা দূরে পুকুরে গোসলরত বড় চাচা নুরুল হক ছুটে এসে শুকনো বাঁশ দিয়ে আঘাত করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করেন।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন