মৃত্যু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মৃত্যু লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে ডেঙ্গুতে ছেলের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর মারা গেলেন মা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর মিরকামারী গ্রামে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডেঙ্গুতে মা ও ছেলে মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার রাতেই রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান রোজি বেগম (৪৫)।

এর এক সপ্তাহ আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারান তার ছেলে নাহিদ ইসলাম (১৯)। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মা ও ছেলে দুজনই ডেঙ্গুর জেরে জীবন হারিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আরও পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৪০৯ জন।

নাহিদের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, ‘আমার ছেলে প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ডেঙ্গু ধরা পড়ে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। ছেলেকে হারানোর শোক সামলানোর আগেই তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। কয়েক দিন পর বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু ধরা পড়ে তাকে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।’

এক সপ্তাহের ব্যবধানে মা–ছেলের এই করুণ মৃত্যু শুধু পরিবারকেই নয়, পুরো গ্রামকেও শোকের ছায়ায় ঢেকে দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩৮৭ জন ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে মোট ১ লাখ ৪৭৭ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯৮,৭২৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১,৭৪৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চলতি বছরের মৃত্যু সংখ্যা মাসভিত্তিক: জানুয়ারিতে ১০, ফেব্রুয়ারিতে ৩, মার্চে কোন মৃত্যু হয়নি। এপ্রিল মাসে ৭, মে মাসে ৩ জনের মৃত্যু হলেও জুন থেকে বৃদ্ধি পেতে থাকে। জুনে ১৯, জুলাইয়ে ৪১, আগস্টে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ৭৬, অক্টোবর ৮০ এবং নভেম্বর মাসে ৯৯ জন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন।

ঈশ্বরদী থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে জামায়াত কর্মীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে দলটির এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত মোস্তাফিজুর রহমান কলম বিশ্বাস (৫০) ঈশ্বরদী উপজেলার চরমিরকামারী গ্রামের মাহবুব বিশ্বাসের ছেলে।

শুক্রবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে গাজীপুরের চান্দুরা এলাকায় বাসের মধ্যে অসুস্থ হলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তিনি ঈশ্বরদী থেকে বাসে ঢাকায় সমাবেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

পাবনা জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য গোলাম রব্বানী খান জুবায়ের বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান কলম বিশ্বাস যমুনা সেতু পার হওয়ার পর অসুস্থ অনুভব করলে তাকে বাসে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে চান্দুরা এলাকায় পৌঁছলে তার অবস্থার অবনতি হয়। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

ঈশ্বরদীতে সাপের কামড়ে সাপুড়ের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদন: ঈশ্বরদীতে সাপের কামড়ে নাঈম হোসেন (২২) নামে এক সাপুড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মুলাডুলি এলাকার এক ওঝার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার এক স্থানীয় সাপের খেলা প্রদর্শন করার সময় নাঈমের হাতে থাকা একটি গোখরা সাপ তার বৃদ্ধাঙ্গুলিতে কামড় দেয়। পরে আশেপাশের লোকজন তার হাতে তিনটি বাঁধন পরিয়ে দেন। তবে নিজের ইচ্ছায় তিনি বাঁধন খুলে ফেলেন। কিছু সময় পরে নাঈমের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসার বদলে তাকে মুলাডুলি এলাকার এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ওঝা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুন নূর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, 'নাঈম একজন সাপুড়ে ছিলেন এবং সাপের খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।  একটি গোখরা সাপ ধরে নিজ কাছে রেখেছিলেন। আজ সেই সাপ নিয়ে খেলা দেখানোর সময় সাপটি তাকে কামড় দিলে তার মৃত্যু হয়।' 

ঈশ্বরদীতে বিষ্ণু কুমার সরকারের মায়ের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বিষ্ণু কুমার সরকারের মা অনুরূপা রানী সরকার বার্ধক্যজনিত কারণে মঙ্গলবার সকালে মারা গেছেন।

তিনি সকাল ৮টার দিকে অরোণকালা এলাকার নিজ বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে, চার কন্যাসহ নাতি-নাতনী, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন। দুপুর দেড়টার দিকে ঈশ্বরদী পৌর শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপির সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোকলেছুর রহমান বাবলু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু,  ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফজলুর রহমান এবং ঈশ্বরদী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আশিকুর রহমান নান্নু।

ঈশ্বরদীতে সড়কে ঝরল সাইকেল আরোহীর প্রাণ

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে অটোরিকশার ধাক্কায় কমল (৩৫) নামে এক সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কমল উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের যুক্তিতলা লাইনপাড়া এলাকার মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কমল সাইকেলে করে ঈশ্বরদী বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা খেয়ে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঈশ্বরদী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, 'পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।'

ঈশ্বরদীতে বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান আক্তারের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আক্তারুজ্জামান আক্তার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিকেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন আক্তার। দ্রুত তাঁকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আক্তারুজ্জামান আক্তার চার ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

দলীয় সুত্রে জানা গেছে, আক্তারুজ্জামান আক্তার ২০১৯ সালে ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনাকে বহন করা ট্রেনে হামলার মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। চলতি বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে তিনি খালাস পান। পরে ১১ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এদিকে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। শোক জানিয়েছেন ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু ও ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।

আক্তারের ছেলে পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ. কে.এম. সাজেদুজ্জামান জিতু জানান, জানাজার সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

ঈশ্বরদীতে বৈদ্যুতিক কাজ করতে গিয়ে নিহত শ্রমিক

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে পুকুরে বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক শ্রমিকের। 

নিহতের নাম শীতল (২৫), তিনি সাঁড়া গোপালপুর নতুন পাড়ার আব্দুল আজিজের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,   শহরের পাতিবিল এলাকায়  শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পুকুরে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে গিয়ে শীতল অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঈশ্বরদী থানার ওসি শহীদুল ইসলাম জানান, 'ঘটনাটি শুনেছি। আইনগত সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'

ঈশ্বরদীতে পিজিসিবি প্রকৌশলীর মৃত্যুরহস্য

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদীতে একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের বিশ্রামঘর থেকে শামীম হোসেন (২৫) নামে এক উপসহকারী প্রকৌশলীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে উপজেলার জয়নগর এলাকায় পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) বিশ্রামঘরের দোতলা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

শামীম হোসেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শৈলগাড়ী গ্রামের মসলেম উদ্দীনের ছেলে।

বিশ্রামঘরের দেখভালের দায়িত্বে থাকা বাবুর্চি হাফিজুর রহমান জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে রান্নার কাজ করতে এসে তিনি দোতলায় শামীমের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। এরপর তিনি স্থানীয়দের জানালে থানা পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

পিজিসিবির ঈশ্বরদী শাখার একজন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, শামীম ২১ এপ্রিল ঢাকার পিএনডি শাখা থেকে বদলি হয়ে ঈশ্বরদীতে কাজে যোগ দেন। তিনি কেন এমন করলেন, সেটা এখনো কেউ বলতে পারছে না।

শামীমের বাবা মসলেম উদ্দীন বলেন, তাঁর ছেলে কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে চাপের মধ্যে ছিল। বগুড়ায় প্রশিক্ষণের সময় সে কয়েকবার চাকরি ছাড়ার কথা বলেছিল।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় খালাসপ্রাপ্ত বিএনপি কর্মীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনাকে বহন করা ট্রেনে হামলার মামলায় খালাসপ্রাপ্ত বিএনপির কর্মী আজাদ হোসেন খোকন মারা গেছেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের কাচারিপাড়ার বাড়িতে হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫০ বছর।

আজ বুধবার বেলা ২টার দিকে শহরের পশ্চিম টেংরি কাচারী পাড়া ঈদগাহ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে পিয়ারাখালী জান্নাতুল আমান কবরস্থানে দাফন করা হয়। এতে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।

জানাজা শুরুর আগে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু, সাবেক সভাপতি এ কে এম আখতারুজ্জামান, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলটির জেলা বিকমিটির আহবায়ক ও হাবিবুর রহমান হাবিব ও পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল প্রয়াত খোকনের জন্য দোয়া কামনাসহ কোনো অপরাধ বা ভুলত্রুটি করে থাকলে মাফ করে দেওয়ার আবেদন জানান।

খোকন শহরের কাচারিপাড়ার পিয়ার আলী মণ্ডলের ছেলে। ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনাকে বহন করা ট্রেনে হামলার মামলায় তিনি ২০১৯ সালে পাবনা আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ৫ ফেব্রুয়ারি ওই মামলার ৪৭ নেতাকর্মীর সঙ্গে তিনিও খালাস পান।  

জাকারিয়া পিন্টু জানান, ‘খোকন তৃণমূল বিএনপির বেশ সাহসী ও নিবেদিত কর্মী ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা অনেক মর্মাহত! আমরা একটা ত্যাগী কর্মী হারালাম। শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মিথ্যা মামলায় পাঁচবছর কারাভোগ করেন। এ মামলা থেকে আমিসহ ৪৭ নেতা-কর্মী পাঁচ ফেব্রুয়ারি খালাস পেয়েছিলাম।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী মারা গেছেন

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী মারা গেছেন। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

এভারকেয়ার হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাবেক মন্ত্রী ও মতিয়া চৌধুরীর মামা মোস্তফা জামাল হায়দারও তার মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে দুপুর ১টার দিকে মারা যান মতিয়া চৌধুরী। আরিফ মাহমুদ বলেন, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত মতিয়া চৌধুরীকে সকালে হাসপাতালে আনা হয়েছিলো। এরপরই আমরা ইসিজি করে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করি। শেষ পর্যন্ত আমরা সব ধরনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সফল হতে পারিনি। দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মতিয়া চৌধুরীর জন্ম ১৯৪২ সালের ৩০ জুন পিরোজপুরে। তার বাবা মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মা নুরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী। ১৯৬৪ সালের ১৮ জুন খ্যাতিমান সাংবাদিক বজলুর রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মতিয়া চৌধুরী।

তিনি ইডেন কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে ‘অগ্নিকন্যা’ নামে পরিচিত মতিয়া পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন এবং এর কার্যকরী কমিটির সদস্য হন। ১৯৭০ ও ১৯৭১ এর মাঝামাঝি সময়ে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, প্রচারণা, তদবির এবং আহতদের শুশ্রুষায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন।

১৯৭১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময়কালে তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হন।

১৯৯৬ ও ২০০৯ এবং ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মতিয়া চৌধুরী। সর্বশেষ তিনি আওয়ামী লীগের ১ নং প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পাবনায় অতিরিক্ত মদপানে দুইজনের মৃত্যু, অসুস্থ ৩

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চরভাঙ্গুড়া গ্রামে অতিরিক্ত মদপানে ২ জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ অক্টোবর) রাতে এক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়।


মৃতরা হলেন- উপজেলার চর ভাঙ্গুরা গ্রামের রামচন্দ্র ঘোষের ছেলে রবীন ঘোষ (২৫) ও মানিক চৌধুরীর ছেলে হৃদয় চৌধুরী (১৭)। ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম দু’জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গাপূজার উৎসব পরবর্তী আনন্দে সোমবার সন্ধ্যার পর বন্ধুদের সঙ্গে অতিরিক্ত মদপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন উপজেলার চরভাঙ্গুড়া গ্রামের ঘোষপাড়ার পাঁচ যুবক। তারা পরস্পরের বন্ধু। তাদেরকে সোমবার রাতে প্রথমে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে হৃদয় চৌধুরীর মৃত্যু হয়। আর রবিন ঘোষকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. উজ্জল হোসেন বলেন, দুইজন মারা যাওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। আর গুরুতর অসুস্থ তিনজনকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।


ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মদপান করে পাঁচজন অসুস্থ হয়েছিল। তার মধ্যে দুইজন মারা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

ট্রাকের পেছনে আরেক ট্রাকের ধাক্কা, নিহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরের বড়াইগ্রামে বালুভর্তি একটি ট্রাককে পেছন থেকে আরেকটি ট্রাক ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। ৬ জানুয়ারি শনিবার ভোরে বড়াইগ্রাম উপজেলার গলাকাটা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- ঝিনাইদহের বাড়ইপাড়ার বাসিন্দা ট্রাকচালক শাহীনুর আকাশ (২৮) এবং অচিন্তপুর গ্রামের ট্রাকচালকের সহকারী (হেলপার) জসিম উদ্দিন (২৬)।

ঝলমলিয়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এন এম মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, দিনাজপুর থেকে একইসঙ্গে বালুভর্তি দুটি ট্রাক কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নাটোর-বনপাড়া মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার গলাকাটা এলাকায় ট্রাক দুটি পৌঁছালে পেছনে থাকা ট্রাকটি সামনের ট্রাকটিকে ধাক্কা দেয়। এতে পেছনের ট্রাকের চালক ও হেলপার গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও বলেন, ট্রাক দুটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বাড়ির জন্য কেনা জমিতে একসঙ্গে ৪ জনের কবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দাদি, বাবা, আর ছোট দুই বোনের শেষ বিদায়ের সময় বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া জান্নাতুল মারুফা (৮)। একটু দূরে দাঁড়িয়ে চোখের জলে তাদের শেষ বিদায় দিচ্ছিল সে। অটোরিকশাচালক বাবা জামাল উদ্দিন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী মা মরিয়ম আক্তার টাকা জমিয়ে যে আট শতক জমি কিনেছিলেন, সেই জমিতেই ৩১ ডিসেম্বর রোববার সকালে দাফন করা হয় তাদের।

গতকাল শনিবার নান্দাইল উপজেলার বীর ঘোষপালা গ্রামে বসতঘরে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন- জামাল উদ্দিন (৪০), তার মা আনোয়ারা বেগম (৭০) এবং জামালের দুই মেয়ে ফাইজা মনি (৬) ও আনিকা (৪)। রোববার সকাল ১০টায় নিহতদের বাড়ির সামনে থাকা ফসলি জমিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের লোক ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষ হওয়ার পর একে একে চারজনের মরদেহ চারটি কবরে নামানো হয়। মাঝখানে জামালের দুই মেয়েকে রেখে দুই পাশে জামাল ও তার মা আনোয়ারাকে দাফন করা হয়।

জামাল উদ্দিনের স্ত্রী মরিয়ম আক্তার ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরি করেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। স্বামী-সন্তানদের মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতে বাড়িতে আসেন তিনি। 

মরিয়ম জানান, স্বামী-স্ত্রীর আয় দিয়ে জমি কিনেছিলেন। সেই জমিতে বাড়ি বানাতে পারেননি। এখন তাকে ছেড়ে সবাই চলে গেলেন। এ কথা বলে কাঁদতে কাঁদতে তিনি মূর্ছা যান।

অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া জামালের বড় মেয়ে জান্নাতুল মারুফা জানায়, দুপুরের পর সে ঘরে ঢুকে দেখতে পায় বাবা, দাদি ও ছোট দুই বোন ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। তখন সে দাদির শরীরে ধাক্কা দেয়। এ সময় সে (মারুফা) প্রচন্ড ঝাঁকি খেয়ে ঘরের এক কোণে গিয়ে ছিটকে পড়ে। তখন দাদি বলে চিৎকার করতে থাকলে কিছুটা দূরে পুকুরে গোসলরত বড় চাচা নুরুল হক ছুটে এসে শুকনো বাঁশ দিয়ে আঘাত করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করেন।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু


নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইলে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর শনিবার বিকেলে উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ঘোষপালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ঘোষপালা গ্রামের জামাল উদ্দিন (৩২), তার মা আনোয়ারা বেগম (৬৫), শিশু কন্যা আনিকা আক্তার (৪) ও মোছা. ফাইজা (৬)।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে- অটোরিকশাচালক জামাল উদ্দিন নিজের বসতঘরেই অটোরিকশা চার্জ দিতেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিনে চার্জ দেওয়া অটোরিকশাটি ঘর থেকে বাইরে বের করতে যান তিনি। অসাবধানতায় অটোরিকশাটি বিদ্যুৎতায়িুুুত হয়ে গেলে জামাল উদ্দিন বিদ্যুস্পৃষ্ট হন। এতে জামাল চিৎকার দিলে তার মেয়ে আনিকা ও ফাইজা দৌঁড়ে বাবার কাছে গেলে তারাও বিদ্যুতায়িত হয়। এ সময় জামাল উদ্দিনের মা আনোয়ারা বেগম দৌঁড়ে গিয়ে ছেলে ও নাতিদের ধরলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। 

নান্দাইল মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুল মজিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে মারলেন স্বামী


নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরের গুরুদাসপুরে স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে পাঁচদিন পর মারা গেছেন গৃহবধূ রেবেকা সুলতানা (৩৯)। ২০ ডিসেম্বর বুধবার সকালে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে তার মৃত্যু হয়। 

এর আগে গত শুক্রবার রাতে দগ্ধ রেবেকাকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ রেবেকার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। 

এ ঘটনায় স্বামী মেহেদী হাসানসহ (৩৫) তিনজনের নামে মামলা দায়ের করেন রেবেকার মা লাবলী বেগম। তবে এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। অন্য আসামিরা হলেন- দেবর তানজিল (৩০) ও শাশুড়ি মেহেরজান (৫৫)।

নিহত রেবেকা গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় বাজারপাড়া মহল্লার নবির সরদারের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী মেহেদী হাসান একই উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের চলনালী কান্দিপাড়া গ্রামের জয়নাল হোসেনের ছেলে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বছরখানেক আগে মেহেদী হাসানের সঙ্গে রেবেকার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে নানা ধরনের সমস্যা লেগেই ছিল সংসারে। সম্প্রতি যৌতুকের জন্য রেবেকাকে চাপ দিয়ে শারীরিক নির্যাতন শুরু করে মেহেদী। এ নিয়ে দুটি মামলাও করেন রেবেকা। তারপর থেকে মায়ের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন রেবেকা। মামলাটি প্রত্যাহার করতে তাদের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখায় স্বামী মেহেদী হাসান।

রেবেকার মা লাবলী বেগম বলেন, গত শুক্রবার দুই বছর বয়সী সন্তানকে হত্যার হুমকি দিয়ে মেহেদী হাসান তাদের বাড়িতে ডেকে নেয় রেবেকাকে। সেখানে যাওয়া মাত্রই স্বামী মেহেদী, দেবর তানজিল ও শাশুড়ি মেহেরজান তার হাত-পা বেঁধে ফেলেন। এরপর মেহেদী প্রথমে সারা শরীরে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেন। চাকু দিয়ে হাত পায়ের বিভিন্ন অংশ কেটে দেন। একপর্যায়ে কেরোসিন ঢেলে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। 

গুরুদাসপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. উজ্জল হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, মরদেহ নাটোরে এসে এখনও পৌঁছায়নি। এ ঘটনায় ১৮ তারিখে স্বামীসহ তিনজনের নামে মামলা হয়েছে। এখনও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

কিশোরগঞ্জে পুলিশের গুলিতে ২ জন নিহত, দাবি বিএনপির

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিএনপির অবরোধ চলাকালে পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ছয়সূতি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম দাবি করেন, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপির দুইজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন বড় ছয়সূতি ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা শেফায়েত উল্লাহ (২০) ও একই ইউনিয়নের কৃষকদল সভাপতি বিল্লাল মিয়া (৩০)।

এ বিষয়ে বাজিতপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার রুখন উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, কুলিয়ারচরে সংঘর্ষে শেফায়েত উল্লাহ নামে একজনের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। তিনি বড় ছয়সূতি গ্রামের কাওসার মিয়ার ছেলে।

তবে এ বিষয়ে জানতে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তুফাকে (ওসি) একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ঈশ্বরদীতে বালু ধসে ২ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বালু চাপা পড়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার  বিকেলে বালুর খামালের নিচে চাপা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়।

নিহত দুই শিশু হলো- সাঁড়া ইউনিয়নের পানিহাটা গ্রামের দিনমজুর আহসান আলীর ছেলে জিহাদ (৮) ও একই গ্রামের দিনমজুর আশরাফুল ইসলামের ছেলে হিমেল (৮)। তারা সাঁড়া পানিহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে পদ্মা নদীর তীরে বালুর খামালে বন্ধুদের সঙ্গে শিশু হিমেল ও জিহাদ খেলাধুলা করছিল। এ সময় বৃষ্টির পানিতে বালু নরম থাকায় বালু ধসে ওই দুই শিশু বালির স্তুপের নিচে চাপা পড়ে।

এ সময় অন্য শিশুদের চেঁচামেচি ও চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করে। পরে দুই শিশুর পরিবারের স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই জনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার জানান, পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেছে। কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে মামলা হবে। প্রাথমিকভাবে এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের রুশ কর্মীর লাশ মিলল হাসপাতালের টয়লেটে

ফাইল ছবি 
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর প্রকল্পের লিভাইনা ইউলিয়া নামে এক রুশ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদেশিদের জন্য নির্মিত গ্রিনসিটি বহুতল আবাসিক ভবনে রুশ এনারগাতন কোম্পানির কনসার্ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার রুশ নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

জানা যায়, মঙ্গলবার পেটের ব্যথার চিকিৎসা নিতে রুশ নাগরিক ইউলিয়া শহরের আলো জেনারেল হাসপাতালে আসেন। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালের ভর্তি করেন। তিনি ধীরে ধীরে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন। 

বুধবার ভোরে পেটের প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে ইউলিয়া টয়লেটে যান। এ সময় টয়লেটে থেকে তার ফিরতে দেরি দেখে হাসপাতালের এক সেবিকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। হাসপাতালের লোকজন ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় টয়লেটের দরজা ভেঙে ফেলেন। এ সময় ইউলিয়াকে মেঝেতে পরে থাকতে দেখেন। পরে শারীরিক পরীক্ষা শেষে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে ঈশ্বরদী থানায় খবর দেন। 

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অরবিন্দ সরকার বলেন, খবর পেয়ে সকালের দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের স্বজনদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ঈশ্বরদীর সাবেক সাংসদ মঞ্জুর রহমান বিশ্বাস আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া) আসনের সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর রহমান বিশ্বাস (৭৪) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন।

মঞ্জুর রহমান বিশ্বাসের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রয়াতের ভাগিনা ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কিরণ।  

মরহুমের প্রথম জানাজা বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঞ্জুর রহমান বিশ্বাসের জন্মভূমি ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারি গ্রামে বাদ আসর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিউ এরা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। মঞ্জুর রহমান বিশ্বাস স্থানীয় সাংবাদিকদের অকৃত্রিক বন্ধু ছিলেন। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য নিরলস ভূমিকার পালন করেন। রাজনীতিসহ বহুমুখী কর্মময় জীবনে মঞ্জুর রহমান সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও যুক্ত ছিলেন।

এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর রহমান বিশ্বাসের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস এমপি। শোকবার্তায় মহান মুক্তিযুদ্ধে মঞ্জুর রহমান বিশ্বাসের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। শোক প্রকাশ করেছে ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েব আলী বিশ্বাস, পৌর মেয়র ইছাহক আলী মালিথা ও ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন