লালপুরে বিনামূল্যে ছানি অপারেশন ও চক্ষু চিকিৎসাসেবা
ভাঙ্গুড়ায় আদিবাসীদের অধিকার ও সরকারি সেবা নিশ্চিতে মতবিনিময় সভা
নিজস্ব প্রতিবেদক: আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সরকারি সেবা নিশ্চিত করা, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদারের লক্ষ্যে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নে এক অ্যাডভোকেসি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার খানমরিচ ইউনিয়নের বিএম কলেজের হলরুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে আদিবাসী সমবায় সমিতির সভাপতি বাবু জ্ঞানেন্দ্র মুরালি সভাপতিত্ব করেন।
সভার শুরুতে সূচনা বক্তব্যে 'ব্রেড'-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী আশিকুর রহমান প্রকল্পের মূল লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আদিবাসী প্রতিনিধিরা স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে মাঠে নানা অবহেলার কথা জানান। আদিবাসী নারী প্রতিনিধি অনিতা মুরারি বৈষম্যহীন সেবা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বলেন, আমরা সেবাকেন্দ্রে গেলে অনেক সময় অবমূল্যায়নের শিকার হই।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে স্বাস্থ্য সহকারী শিমুল সরকার বলেন, আমরা স্বাস্থ্যসেবা দিতে সর্বদা প্রস্তুত। আপনারা যেকোনো সময় কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা গ্রহণ করতে পারেন। এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রওশন আলীসহ অন্য প্রতিনিধিরা ইউনিয়ন পরিষদের সেবা ও সুবিধার চিত্র তুলে ধরেন।
সমাপনী পর্বে বিএম কলেজের শিক্ষক ড. এস এম সি মো আদিবাসীদের ওপর পরিচালিত নিজের গবেষণার অভিজ্ঞতা জানিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
সভাপতির বক্তব্যে বাবু জ্ঞানেন্দ্র মুরালি বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি। তিনি সরকারি সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
ডিসি পার্কের পুকুরে গোসল করতে নেমে প্রাণ গেল ঈশ্বরদীর কলেজছাত্রের
নিজস্ব প্রতিবেদক: কুষ্টিয়া শহরের ডিসি পার্কের পুকুরে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে ডুবে কাওসার (২৫) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার দুপুরে শহরের ডিসি পার্কের পুকুর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
নিহত কাওসার ঈশ্বরদী উপজেলার ইসলামপাড়া এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উদিবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহতের বন্ধু শাওন জানান, দুপুরে তাঁরা কয়েকজন বন্ধু মিলে ডিসি পার্কের পুকুরে গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে কাওসার সাঁতরে পুকুরের মাঝখানে গিয়ে তলিয়ে যেতে থাকেন এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। বন্ধুরা তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
খবর পেয়ে কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর কাওসারের মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয় এবং দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) চিকিৎসক ইকবাল হোসেন বলেন, পুকুরে ডুবে যাওয়া ছাত্রটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঈশ্বরদীর পদ্মায় জেলেদের ওপর হামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন চার জেলে। হামলাকারীদের লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন তাঁরা।
শনিবার দুপুরে ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নের মাজদিয়া ইসলামপাড়া ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নাটোরের লালপুর উপজেলার ১০ থেকে ১১ জন জেলে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় পদ্মা নদীতে মাছ ধরছিলেন। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরে জেলেদের নৌকা থেকে পাড়ে তুলে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্রের ভোঁতা অংশ দিয়ে মারধর করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সাইদুর মণ্ডল, সোহেল রানা ও মজনু বাড়ি ফিরে গেলেও শিশির আহমেদ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
আহত ব্যক্তিরা হলেন- লালপুর উপজেলার তিলকপুর গ্রামের মোহাম্মদ মণ্ডলের ছেলে সাইদুর মণ্ডল (৬৫), সমতউল্লা প্রামাণিকের ছেলে সোহেল রানা (৩৭), মজেল প্রামাণিকের ছেলে মজনু (৪২) এবং সোহেল রানার ছেলে শিশির আহমেদ (১৮)।
লক্ষীকুণ্ডা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার শফিকুল ইসলাম বলেন, জেলেরা নৌকায় করে নদীতে মাছ ধরার সময় মাজদিয়ার ইসলামপাড়া ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে হামলার কারণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছে।
অন্যদিকে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, পদ্মা নদীর মাঝখানে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে সেখানে কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
৫ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ঈশ্বরদীর তিন যুবকসহ ছয়জন গ্রেপ্তার
নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পাবনার ঈশ্বরদীর তিন যুবকসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ছোট ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার নতুনপাড়া এলাকার মো. মুন্না হাসান, মো. আসিফ হোসেন ও রতন আলী। বাকি তিনজনও একই ঘটনায় আটক হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে আম ব্যবসায়ী পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি রহনপুরের নুনগোলা বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বাড়িতে অবস্থান করছেন এবং তাঁদের কাছে অস্ত্র রয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোমস্তাপুর থানা ও রহনপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা যৌথ অভিযান চালান। অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁরা পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ছয়জনকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রহনপুর রেলস্টেশন-সংলগ্ন নিমতলা এলাকা থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি নম্বর প্লেট ছাড়া ছোট ট্রাক উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি তার কাটার যন্ত্র, লোহার রড, হাতুড়ি, হাঁসুয়াসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে।
গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরে আলম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি করা দলের সক্রিয় সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি ও ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করার পর তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন, উপকরণ পেলেন কৃষকেরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষি দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। কৃষকদের সহায়তায় সরকার বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।
শনিবার বিকেলে নাটোরের লালপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় কৃষকদের মধ্যে রোপা আমন ধানের উন্নত বীজ, রাসায়নিক সার, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির বীজ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির চারা ও জৈব সার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রীতম কুমার হোড়। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বরকত উল্লাহ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. হারুনার রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিদ্দিক আলী মিষ্টু এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ রনজু।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, লালপুরের আয়োজনে অনুষ্ঠানে উপজেলার কৃষকদের মধ্যে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। বক্তারা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের সার্বিক উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানের শেষে কৃষকদের হাতে প্রণোদনার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এই উদ্যোগ চাষাবাদে নতুন উদ্দীপনা জোগাবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজায় মানুষের ঢল
ভোলা প্রতিনিধি: প্রবীণ রাজনীতিবিদ ’৬৯-এর গণ অভ্যুত্থানের মহানায়ক সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ভোলা সরকারি স্কুল মাঠের দ্বিতীয় জানাজার নামাজে মানুষের ঢল নামে। আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ), বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ দলমতনির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নিয়েছেন। গতকাল দুপুর আড়াইটায় ভোলা জেলা স্কুল মাঠে তাঁর জানাজা হয়। এর আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার জানানো হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদকে।
জানাজা শেষে তাঁর লাশ সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে তোফায়েল আহমেদের বাড়ির সামনে তৃতীয়বার জানাজা হয়। সেখানেও দলীয় নেতা-কর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষ জানাজায় অংশ নেন। এর আগে সোমবার রাতে ঢাকায় তাঁর প্রথম জানাজা হয়। গতকাল দুপুর ১টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে তোফায়েল আহমেদের লাশ ঢাকা থেকে ভোলায় আনা হয়।
বাবা-মায়ের কবরের পাশে শায়িত : বাবা-মায়ের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। স্বজনরা জানান, তিনি যখনই গ্রামের বাড়ি আসতেন তখনই বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতেন। কবরের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। দোয়া করতেন। বলতেন, তাঁর মৃত্যুর পর যেন তাঁকে বাবা-মায়ের পাশেই কবর দেওয়া হয়। সেই চাওয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁকে বাবা-মায়ের পাশেই সমাহিত করা হয়েছে। গত কয়েক বছর তোফায়েল আহমেদ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। স্ট্রোকজনিত কারণে তাঁর চলাফেরা সীমিত হয়ে পড়েছিল এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
বিক্ষোভ : তোফায়েল আহমেদের জানাজা নামাজ ভোলার সরকারি স্কুল মাঠে হওয়ার ঘোষণার পর একটি গ্রুপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানাজা হতে দেবে না- এমন বক্তব্য ছড়ায়। পরবর্তীতে গতকাল সকালে একদল যুবক ‘স্বৈরাচারের আস্তানা এই ভোলাতে রাখব না’/‘ছাত্রলীগের আস্তানা, এই ভোলাতে রাখব না’/শহীদের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’- এ ধরনের স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করে। পরবর্তীতে তারা ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে গিয়ে বিক্ষোভ জানায় এবং জানাজা হতে দেবে না বলে স্লোগান দেয়। এর কিছুক্ষণ পরই জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ ট্রুুম্যান, যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়ারুল আলম লিটনসহ জেলা বিএনপির নেতারা মাঠে গিয়ে ওদের সরিয়ে দেন। এ সময় নেতারা বলেন, ‘তোফায়েল আহমেদের জানাজা নামাজ এই মাঠেই হবে। শান্তিপূর্ণভাবেই হবে। কেউ কোনো রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা যেন না করে। পরবর্তীতে আর কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই জানাজা হয়েছে। জানাজায় বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ সব দলমতের নেতা-কর্মী, সমর্থকসহ কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছেন। এদিকে তোফায়েল আহমেদের জানাজাকে কেন্দ্র করে ভোলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্পটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জানাজা মাঠে পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৩ শতাধিক সদস্য অবস্থান করেছেন। হেলিকপ্টার থেকে লাশ নামানোর পর থেকে দাফন পর্যন্ত পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী ছিল। লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সামনে পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কয়েকটি গাড়ি পাহারায় থাকতে দেখা গেছে।
তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে স্লোগান : কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগ-যুবলীগের ছয় নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের ঢাকার ধানমন্ডি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম ফাহমিদা খন্দকার আন্নার আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মধু, কালীগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. স্বাধীন ইসলাম, ধামরাই যুবলীগের সদস্য হাসিবুল হোসেন ওরফে লিটন মোল্লা, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সদস্য ইফতেখার আহমেদ সবুজ, পটুয়াখালী যুবলীগের সদস্য খোকন ফরাজী ও মনপুরা থানা যুবলীগের সদস্য মাকসুদুর রহমান বাবলু।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ২০০ নেতা-কর্মী সমবেত হন। জানাজা শেষে তোফায়েল আহমেদের লাশ মসজিদ থেকে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে নেওয়ার সময় তারা জয়বাংলা ও সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল শুরু করেন। এ সময় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অন্যরা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় তাদের নাম উল্লেখ করে ধানমন্ডি মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই মিঠুন সিংহ।
শ্রদ্ধা ও স্মরণে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে ৫ মে গণহত্যা দিবস
নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেডে ‘৫ মে গণহত্যা দিবস’ পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মিলটি ঘেরাও করে তৎকালীন প্রশাসকসহ ৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শতাধিক সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যা করে।
মঙ্গলবার সকালে মিল চত্বরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘শহীদ সাগর’ চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরআন তেলাওয়াত, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনের নির্মম হত্যাযজ্ঞ দেশের ইতিহাসে এক শোকাবহ অধ্যায়। শহীদদের আত্মত্যাগ জাতিকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর গণসমাধির নীরব সাক্ষী সেই পুকুরটির নাম রাখা হয় ‘শহীদ সাগর’। এ ছাড়া শহীদ তৎকালীন প্রশাসক লেফটেন্যান্ট আনোয়ারুল আজিমের নামানুসারে গোপালপুর রেলস্টেশনের নামকরণ করা হয় ‘আজিমনগর’।
বিভাগীয় কর্মকর্তা ও মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ। আরও বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. নজরুল ইসলাম মোলাম, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোমিনুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পিন্টু।
এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্য ফরহাদ-উজ-জামান রুবেলসহ মিলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফ্যামিলি কার্ড সরকারের বড় সাফল্য: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: একটি অনন্য ও বড় সাফল্য। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। দল, মত, ধর্ম কিংবা বর্ণ কোনো কিছুই এই কার্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। আগামী মাসে আরও ৩৭ থেকে ৫০ হাজার পরিবারের কাছে এই সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে নাটোরের লালপুর উপজেলার গৌরীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী নারীপ্রধান পরিবারগুলোর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে সারা দেশে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করার পর ইতিমধ্যে সুবিধাভোগীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে অর্থ পৌঁছে গেছে। এর অংশ হিসেবে লালপুর উপজেলার ২ নম্বর ঈশ্বরদী ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে ৩৭৮ জনকে এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং প্রত্যেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে ফারজানা শারমীন পুতুল উল্লেখ করেন, "বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল এই ফ্যামিলি কার্ড। সরকার গঠনের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় এটি উদ্বোধন করা হয়েছে, যা বর্তমান সরকারের কর্মতৎপরতার একটি বড় প্রমাণ।"
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক সৈয়দ মোস্তাক হাসান, নাটোর জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুল ওয়াহাব এবং লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলহাস হোসেন সৌরভ। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবির হোসেন, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান, নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত সবার মাঝে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
লালপুরে তরুণদের নিয়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট ও বৃক্ষরোপণ
নিজস্ব প্রতিবেদন: নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্জুনপুর বরমহাটী ইউনিয়নে সমৃদ্ধি কর্মসূচির আওতায় উদযাপিত হলো ‘তারুণ্যের উৎসব–২০২৫’।
রোববার বরমহাটী সমবায় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয় যুব-কিশোর ফুটবল টুর্নামেন্ট ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)–এর অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় এবং নিউ এরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউ এরা ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোস্তাক আহমেদ কিরণ। সভাপতিত্ব করেন বরমহাটী সমবায় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালিক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরমহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম, নিউ এরা ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক বিএম ফাহিম রহমান, ইউপি সদস্য মো. কাওছার ইসলাম সোনো (৩ নম্বর ওয়ার্ড), শাখা ব্যবস্থাপক এস এম জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা কর্মসূচি সমন্বয়কারী শোভন কুমার লাহিড়ী, প্রধান কার্যালয়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মুন্সি মো. সাজেদুর রহমান, সহকারী সমন্বয়কারী নেয়ামুল বাশির, সমৃদ্ধির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল সাকিবসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেয় ‘পদ্মা’ ও ‘যমুনা’ দল। জমজমাট খেলায় যমুনা ১-০ গোলে জয়ী হয়। ম্যাচ শেষে বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার এবং গাছের চারা তুলে দেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কবরস্থান, মসজিদ, বিদ্যালয় ও ঈদগাহসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে ২০০টিরও বেশি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করে যুব, কিশোর ও প্রবীণদের ক্লাবগুলো।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তাক আহমেদ কিরণ বলেন, 'তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও সচেতনতার বিকল্প নেই। পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক অংশগ্রহণের মতো উদ্যোগে তাদের যুক্ত করতে পারলে গড়ে উঠবে দায়িত্বশীল নাগরিক।'
‘যে নামেই হোক, শোভাযাত্রায় দেশজ কৃষ্টি ও ঐতিহ্য থাকুক’
নিজস্ব প্রতিবেদক: চার দশক আগের কথা। ১৯৮৫ সালের ১৪ এপ্রিল বা বাংলা ১৩৯২ সনের প্রথম দিন। পয়লা বৈশাখের ভোরে সর্বপ্রথম যশোরে বের হয়েছিল নববর্ষের এক বর্ণিল শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। তখনো তাঁরা জানতেন না, পরের বছরগুলোয় এটা জেলার সীমানা ডিঙিয়ে যাবে এবং বাংলা বর্ষবরণের প্রধান ঐতিহ্য হয়ে উঠবে।
ওই বৈশাখী শোভাযাত্রার অন্যতম উদ্যোক্তা চারুপীঠ আর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মাহবুব জামিল শামীম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বন্ধু শিল্পী হিরণ্ময় চন্দ্রসহ আরও কয়েকজন।
শুক্রবার দুপুরে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ সংবাদ সম্মেলন করে মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ ঘোষণা এল। তখন শোভাযাত্রার অন্যতম উদ্যোক্তা শামীম তাঁর প্রিয় প্রাঙ্গণ যশোর পৌর পার্কে অবস্থিত চারুপীঠ আর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে শোভাযাত্রার প্রস্তুতির কাজ করছিলেন। বয়সে রুগ্ণ হয়ে যাওয়া মাহবুব জামিল শামীম গভীর মনোযোগে রং করছিলেন একটি কুমিরের প্রপসে।
মাহবুব জামিল শামীম জানান, বিধ্বংসী নানা কর্মকাণ্ড থেকে পরিবেশ, প্রতিবেশ আর প্রাণিকুলকে রক্ষায় সচেতনতার বার্তা তুলে ধরা হবে যশোরের এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায়। যেখানে থাকবে বন, বনের প্রাণী, যেমন—বাঘ, হরিণ, হাতি, ঘোড়া, পাখপাখালি, পাহাড়, নদী ইত্যাদি। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মতো সেজে হইহুল্লোড় করে, নেচে, গেয়ে পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তুলবেন। শুরুর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে দলমত-নির্বিশেষে যশোরের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন।
তাঁর কাজের মধ্যে জানতে চাওয়া হলো বৈশাখের শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার গল্প। একটু মৃদু হেসে বললেন, ‘একুশের প্রভাতফেরি থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রার চিন্তা মাথায় আসে। বাংলা ভাষার রাষ্ট্রের আন্দোলনে তারুণ্যের রক্তে গড়া একুশের পথ ধরে এসেছে আমাদের ভাষা ও স্বাধীনতা। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার মিলন। এ একুশের প্রভাতফেরিকেই যেন ফেলে আসা সব শিল্প ঐতিহ্যের সম্ভারে সাজিয়ে এ উৎসব রচনা করা হয়েছিল।’
মাহবুব জামিল বলেন, ‘নিগৃহীত ৯৫ ভাগ গ্রাম্য মানুষের মাঝে লালিত দেশজ কৃষ্টি। তাকেই আজ আমরা আদরে নয়ন মেলে দেখছি। শিল্প মর্যাদায় অনুভব করছি। তারই প্রাণবন্ত অথই জলের ধারা আজ স্বাধীন বাংলাদেশের নগরের মাঝ দিয়ে মৃত্তিকা ভেঙে যেন নদী হয়ে আশ্চর্য সুন্দর দেশজ কৃষ্টির রাজসিক উৎসব মঙ্গল শোভাযাত্রা। দলমত-নির্বিশেষে সব পর্যায়ের মানুষ এ আয়োজনে যুক্ত হয়েছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে “মঙ্গল শোভাযাত্রা” সত্যিকার অর্থেই মাঙ্গলিক এক বিনোদনের অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে। বাংলা ১৪০০ বর্ষবরণ উৎসবের ইতিহাস তো সবার জানা। যা যশোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সৃষ্টি করেছিল এক নতুন মহাকাব্য।’
১৯৮৮ সালে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য মাহবুব জামিল শামীম ও হিরণ্ময় চন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় ভর্তি হন। তাঁদের প্রচেষ্টায় ১৯৮৯ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটির চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা বের করেন ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’।
এই শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের ইতিহাস বলতে গিয়ে মাহবুব জামিল জানান, ১৯৯০ সালের দিকে ঢাকাতে বিভিন্ন সংস্কৃতিমনা মানুষেরা দাবি ওঠাল, বছরের প্রথম দিন মানেই নতুন একটি বছর বা শিশুর জন্ম হলো। জন্মের প্রথম দিনে তাঁর শুভ বা মঙ্গল কামনা করা উচিত। সেই থেকেই আনন্দ শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’য়। এ মঙ্গল শোভাযাত্রা ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের নানা প্রান্তে। এখন যা বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। শোভাযাত্রা বের হচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যে মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন স্থান করে নিয়ে বিশ্ব সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেও। বাংলাদেশের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ এখন জাতিসংঘের ইউনেসকো স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এর সূচনা হয়েছিল ১৯৮৫ সালে চারুপীঠ যশোর থেকে।
হঠাৎ নাম পরিবর্তন হওয়াতে কিছু করার নেই বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন প্রথম শুরু করি, তখনই বলেছিলাম বিভিন্ন অঞ্চল বিভিন্ন নাম রাখতে পারবে এই শোভাযাত্রার। শোভাযাত্রা উদ্দেশ্য ছিল, ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের শোভাযাত্রায় ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি উঠে আসবে। আর সেসব সংস্কৃতি জাতীয় কৃষ্টি-কালচার চর্চার অংশ হবে। আর্ট কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে এটার চর্চা হবে। এখন নাম পরিবর্তন হয়েছে; সেটা তো আমার কিছু করার নাই। আমি একজন সংস্কৃতিকর্মী। সংস্কৃতিকর্মীরা বিবাদে জড়ায় না। তাঁরা চায় বন্ধুত্ব। অনেক বাধা-বিপত্তি পার করেই আমরা শোভাযাত্রা অব্যাহত রেখেছি। যে শোভাযাত্রার শুরু হয়েছিল সেটা তো সবার উৎসব। রাষ্ট্রের উৎসব, আন্তর্জাতিক উৎসব।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামীণ মানুষের মাঝে লালিত দেশজ কৃষ্টি তুলে ধরা হয় এই শোভাযাত্রাতে। এটা আমাদের শিল্প মর্যাদা। এখন যে নামেই হোক না কেন; এটার যে লক্ষ্য ছিল, সেটা থেকে লক্ষ্যচ্যুত না হই আমরা, আমাদের শিল্প, মর্যাদা ও ঐতিহ্য যাতে বন্ধ না হয় সেটাই আমার কাম্য।’
চাঁদপুরে অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন
নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরিফ মাঠে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এ জামাতে ইমামতি করেন দরবার শরিফের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি। অন্যদিকে সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে সকাল ১০টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন সাদ্রা দরবার শরিফের পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী।
স্থানীয়রা জানান, প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ১৯২৮ সালে আগাম রোজা রাখাসহ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের নিয়ম চালু করেন সাদ্রা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইসহাক (রা.)। তার অনুসারীরা প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপন করা শুরু করেন। সেই থেকে বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা আরব দেশসমূহের সঙ্গে মিল রেখে রোজা এবং ঈদসহ ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। এর মধ্যে জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলীপুর, ভোলাচোঁ, ঝাকনি, সোনাচোঁ, প্রতাপপুর ও সুরঙ্গচাইল গ্রাম, ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুরঙ্গচাউল, কাইতাড়া, উভারামপুর, টোরামুন্সিরহাট, মতলব উত্তর উপজেলার পাঁচানী, বাহেরচর পাঁচানী, আইটাদি পাঁচানী, দেওয়ানকান্দিসহ অর্ধশতাধিক গ্রামের মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকে সমেশপুর ঈদগাহ মাঠ, সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল, মাদরাসা মাঠ সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠসহ ১২টি ঈদগাহ মাঠে এবং উত্তর সাদ্রা বায়তুল সালাম জামে মসজিদ, দক্ষিণ সাদ্রা জামে মসজিদ, উত্তর অলিপুর বেপারী বাড়ি জামে মসজিদ, উত্তর অলিপুর ঢালী বাড়ি মসজিদ, দক্ষিণ বলাখাল হাজী বাড়ি, দক্ষিণ বলাখাল স্কুল বাড়ি, পাঁচানী দরগাম মসজিদ, পূর্ব পাঁচানী সরকার বাড়ি, দেওয়ানজিকান্দি প্রধানিয়াবাড়ী মসজিদ, সাড়ে পাঁচানী প্রধানিয়া জামে মসজিদ, দক্ষিণ মাথাভাঙ্গা ভেন্ডরবাড়ী মসজিদ, পাড়ে পাঁচানী উত্তরপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ ১৮টি জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ৩০টি ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া স্ব-স্ব এলাকায় এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মতলব উত্তরের দেওয়ানকান্দি গ্রামের বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, আমরা চট্টগ্রামের মির্জাখিল দরবার শরীফের অনুসারী। প্রতি বছর আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করে আসছি। এবারও দেশটির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছি।
মানিক মিজি বলেন, বুঝতে শেখার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রথম চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রোজা, ঈদ পালন করে আসছি। আমরা বিশ্বের যেকোনো জায়গায় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ পালন করি।
হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরিফের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি বলেন, আমরা কোরআন সুন্নাহের আলোকে সাদ্রা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা পীর মাওলানা ইসহাক (র.) এর নিয়ম অনুযায়ী প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছি। কোরআন সুন্নাহর ধর্মীয় উৎসবগুলো পালন করে আসছি।
হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফের পীর ও সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আরিফ চৌধুরী বলেন, আমরা ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলেই আমরা রোজা ও ঈদুল ফিতর পালন করছি। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে কোরবানির ঈদ উদযাপন করি। বর্তমানে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর হয়ে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ঈদ উদযাপন করছে।সুতরাং পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলেই আমরা তারাবি, রোজা ও ঈদ পালন করি। এবছরও একই সময়ে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের দরবার শরীফের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ লুৎফর রহমান বলেন, আজ জেলার বিভিন্ন স্থানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মুসল্লিদের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নর্থ বেঙ্গল চিনিকলে এবার ১১ হাজার টন চিনি উৎপন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরের লালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলসের ৯২তম আখমাড়াই মৌসুম শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মিল চত্বরে এক দোয়া ও মাহফিলের মাধ্যমে চলতি মৌসুমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
মিলের ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) মো. শাফীকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এবার মিলটি ১২৬ কর্মদিবসে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৪১ টন আখমাড়াই করেছে। চিনি উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ৩৫০ টন। এ বছর মিলটি গত মৌসুমের চেয়ে ৮ হাজার টন বেশি আখমাড়াই করলেও চিনি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৬৫০ টন কম করেছে।
চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২ লাখ টন আখমাড়াই করে ১৫ হাজার টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।
চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মো. আসহাব উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে এই মিলে মাড়াইয়ের জন্য ১৭ হাজার ৫০০ একর জমিতে আখ রোপণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে মিলের নিজস্ব জমি ২ হাজার ৫০০ একর। কৃষকদের কাছ থেকে কেনার জন্য প্রতি মণ আখের মূল্য মিল গেটে ২৪০ টাকা ও মিলের ৩১টি ক্রয়কেন্দ্রে ২৩৭ টাকা দেওয়া হয়। আগামী ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১৮ হাজার একর জমিতে আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা সফল করতে ৫ হাজার ৬০০ আখচাষির মধ্যে বীজ ও প্রায় ১২ কোটি টাকার সার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা হলে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া টুটুল বলেন, এই মিল জোনে যে পরিমাণ আখ উৎপাদন হয়, তাতে মিলের আখমাড়াই ক্ষমতা বাড়ানো দরকার। দৈনিক ক্ষমতা ৩ হাজার টনে উন্নীত করা সম্ভব হলে মৌসুমে ৩ লাখ টন মাড়াই করা সম্ভব হবে। এতে চাষিরা ধৈর্যহারা হবেন না। চিনির উৎপাদন বাড়বে ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
এবার আখ থেকে চিনি আহরণের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত হয়েছে ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়া প্রসঙ্গে এমডি জানান, চিনি আহরণের বিষয়টি প্রকৃতিগতভাবে আখের ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া দীর্ঘ ৯১ বছরের পুরোনো এই মিলের আধুনিকায়ন করা গেলে উৎপাদন প্রক্রিয়ার ঘাটতি (প্রসেস লস) কমে যাবে এবং চিনি আহরণের মাত্রা বাড়বে।
লালপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন
নিজস্ব প্রতিবেদক: অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন: নারী ও কন্যার উন্নয়ন- প্রতিপাদ্যে নাটোরের লালপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করেছে ডাসকো ফাউন্ডেশন। নেট্জ বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার সকালে আড়বাব ইউনিয়নে একটি র্যালি বের করা হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দীপ্তি রাণী, আর প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আড়বাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেসুর রহমান। সভা পরিচালনা করেন সুনীল কুমার রায়।
বিশেষ অতিথি ছিলেন নিউ এরা ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও সংবাদ সাতদিন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ কিরণ।
বক্তারা বলেন, 'নারীরা শিক্ষিত হলে পুরো সমাজ এগিয়ে যাবে। ছেলে-মেয়ের মধ্যে বৈষম্য করা যাবে না। নারীর অধিকার নারীকেই আদায় করে নিতে হবে।'
তারা আরও বলেন, 'দেশজুড়ে আলোচিত আছিয়ার নির্মম হত্যাকাণ্ড আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস থাকতে হবে।'
আলোচনায় আরও অংশ নেন নিজেরা করি সংস্থার রিনা রায়সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
শাহজাদপুরে আবাসিক হোটেলে আগুন, চারজনের মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর শাহজাদপুরে সৌদিয়া নামে একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লাগার পর সেখান থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। নিহত চারজনই পুরুষ। প্রাথমিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
সোমবার দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটের দিকে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটের দিকে আমাদের কাছে সংবাদ আসে শাহজাদপুরে সৌদিয়া হোটেলে আগুন লেগেছে। আমরা সেখানে দুটি ইউনিট পাঠাই। তারা আধা ঘণ্টা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও বলেন, হোটেল ভবনটি ছয়তলা, আগুন লাগে দুই তলায়। পরে উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর আমাদের তল্লাশি দল হোটেলের ভেতরে চারজনের মরদেহ পায়। সব মরদেহ পাওয়া যায় ৬ষ্ঠ তলায়। সেখানে শৌচাগারের ভেতরে তিনটি সিঁড়ির গোড়ায় মরদেহগুলো পাওয়া যায়। সিঁড়ির দরজায় তালা মারা ছিল। নিহতরা সবাই পুরুষ। প্রাথমিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
অর্জুনপুরে নিউ এরা ফাউন্ডেশনের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা
নিজস্ব প্রতিবেদক: লালপুর উপজেলার বিলায়েত খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিউ এরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লালপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাজমুল খান। ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং পরিচালক মোস্তাক আহমেদ কিরণের সঞ্চালনায় আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্জুনপুর বরমহাটী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবেদ আলী, ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামের আমির শরিফুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. নাজমুল খান বলেন, 'শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে হবে। এতে তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটে এবং তারা মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হয়ে গড়ে উঠতে পারে।'
ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, 'শুধু পড়াশোনা নয়, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সংস্কৃতির চর্চা করাও জরুরি। এতে মন ও শরীর ভালো থাকে এবং ভবিষ্যতে তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে পারে।' তিনি শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারী উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক নাসরিন আক্তার শেলি, সমাজসেবক হাসান আলী মণ্ডল, আব্দুর রাজ্জাক, আফাজ আলী, ইউপি সদস্য সাহাবুল ইসলাম, রুকসানা বেগম, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুসসহ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা, শিক্ষক, শিক্ষিকা, সেবিকা এবং শিক্ষার্থীরা।
দিনব্যাপী আয়োজনে শিশু, কিশোর, যুবক, প্রবীণ, অভিভাবক, শিক্ষক ও সেবিকাদের জন্য ছিল চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, রচনা, দৌড়, গণিত দৌড়, গোলক নিক্ষেপ, চামচ দৌড়, মোরগযুদ্ধ, ভলিবলসহ নানা প্রতিযোগিতা। শেষে ৪১টি ইভেন্টের বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ও সমৃদ্ধি ফোকাল পার্সন বি. এম. ফাহিম রহমান। সকাল শুরু হয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা ও ক্রীড়া পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে।
বরমহাটীতে নিউ এরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা
নিজস্ব প্রতিবেদক: লালপুর বরমহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিউ এরা ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় বুধবার এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
সকালে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন নিউ এরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।
প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোস্তাক আহমেদ কিরণের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অর্জুনপুর বরমহাটী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবেদ আলী, উপ-পরিচালক বি. এম. ফাহিম রহমান, সমাজসেবক মো. আমিনুর রহমান মতি এবং বরমহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম।
উপজেলা সমৃদ্ধি সমন্বয়কারী শোভন লাহিড়ীর সঞ্চালনায় আয়োজিত এ স্বাস্থ্য ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন মেডিসিন, বাতব্যথা ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. এ. এস. এম. হানিফ এবং গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. তামান্না সুলতানা। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে প্রায় ২০০ জন রোগী বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন।
সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবেদ আলী বলেন, নিউ এরা ফাউন্ডেশনের এই মানবিক উদ্যোগ এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য আশীর্বাদ। এ ধরনের উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বঞ্চিত মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষা নিয়ে নিউ এরা ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। সেবামূলক কাজের এই ধারাবাহিকতা আমরা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখব।
পঞ্চগড়ে রাত যেন বরফ শীতল, তাপমাত্রার পারদ নামল ১০ ডিগ্রির ঘরে
নিজস্ব প্রতিবেদক: পঞ্চগড়ে অগ্রহায়নের শেষ সপ্তাহেই যেন শীত জেঁকে বসেছে। দুই দিন ধরে ভোরে কুয়াশা না থাকলেও হিমেল বাতাসে অনুভব হচ্ছে বরফের শীত। তাপমাত্রা কমে আসায় কনকনে শীতের প্রকোপে জর্জরিত হয়ে পড়েছে উত্তরের হিমালয়ের জেলা পঞ্চগড়ের মানুষ। গ্রামাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষগুলো খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে তাপমাত্রার রেকর্ডের তথ্যটি জানান জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার তেঁতুলিয়া অফিস।
ভোরেই দেখা যায় রক্তিম আভা নিয়ে জেগে উঠেছে ভোরের সূর্য। প্রকৃতি জুড়ে জড়িয়ে রয়েছে হালকা কুয়াশা। ঝিরঝির করে বইছে হিমেল বাতাস। প্রয়োজনের বাইরে অনেকেই ঘর থেকে বের না হলেও জীবিকার তাগিদে কাজে বের হতে দেখা গেছে নিম্নআয়ের মানুষদের। পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, দিনমজুর, সবজি চাষি।
কথা হয় সবজি চাষি আজমিরের সাথে। তিনি জানান, ভাই খুবই ঠান্ডা। রাত-ভোর পর্যন্ত বরফের মতো লাগে। এতো ঠান্ডা, কাজ কাম করা খুবই কঠিন হয়ে উঠে। ভোরে পালং শাক, লাফা শাক ও লাউ শাক তুলতে এসেছি। ধরা যাচ্ছে না, বরফের মতো মনে হচ্ছে। হাত অবশ হয়ে আসে। কিন্তু কি করবো, টাটকা সবজি বাজারে নিতেই কাজ করতে হচ্ছে।
ঘর-গৃহস্থালী ও শিশু ছেলে-মেয়েদের রান্না তৈরি করতে শীতে বেকায়দায় পড়েন গৃহিনীর। তারা বলছেন, সন্ধ্যার পর থেকেই খুবই ঠান্ডা। ঘরের বিছানা,ফ্লোরসহ আসবাবপত্র বরফ হয়ে উঠে। ঘরে আনা পানিও বরফ হয়ে উঠে। ভোরে উঠে রান্নাবান্না করা খুবই কষ্টকর।
এদিতে শীতের কারণে বেড়েছে বিভিন্ন শীতজনিত রোগব্যাধি। জেলার পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগীর ভিড়। শিশু ও বয়স্করা সর্দি,কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা শীতে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে চিকিৎসকরা চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।
পঞ্চগড়ের প্রথম প্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ বলেন, গতকাল রোববারের চেয়ে আরও তাপমাত্রা কমেছে। তাপমাত্রা কমে গত ১০ ডিগ্রির ঘরে এসেছে। আজ সোমবার সকাল ৯টায় ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৯টায় ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছিল। তার আগে শনিবার রেকর্ড হয়েছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ ভোরেই সূর্য দেখা গেছে।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো.সাবেত আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে দুই হাজার কম্বলের বরাদ্দ পেয়েছি। তা বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুস্বর্গ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তারা ৭ হাজার কোমলমতি শিশুদের শীতের উপহার দিচ্ছে। এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শীতবস্ত্র দিতে শুরু করেছে। শীতার্তদের পাশে সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসা উচিত।
কুতুবদিয়ায় এলপিজি বহনকারী লাইটারেজ জাহাজে আগুন, ৩১ জন উদ্ধার
শনিবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
কুতুবদিয়া কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শাকিব মেহবুব জানান, কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল পয়েন্টে নোঙর করা সুফিয়া নামে এলপিজি বহনকারী একটি লাইটারেজ জাহাজে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
জাহাজে আগুন লাগলে নাবিকরা সাগরে লাফ দেয়। পরে নাবিকদের উদ্ধার করা হয়।
তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
এর আগে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এছাড়া নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডকে জানানো হয়েছে।
খবর পেয়ে রাতেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে এবং জাহাজে থাকা ক্রুদের উদ্ধারে যোগ দিয়েছে নৌবাহিনীর জাহাজ। পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হয়েছে কোস্ট গার্ড ও বন্দরের জাহাজ।
স্থানীয়রা জানায়, ‘বি-এলপিজি সুফিয়া’ নামের জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙরে অবস্থান করছিল। রাত ১টার দিকে জাহাজটি বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়।



























