সমগ্র বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সমগ্র বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ভোলায় তোফায়েল আহমেদের জানাজায় মানুষের ঢল

ভোলা প্রতিনিধি: প্রবীণ রাজনীতিবিদ ’৬৯-এর গণ অভ্যুত্থানের মহানায়ক সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ভোলা সরকারি স্কুল মাঠের দ্বিতীয় জানাজার নামাজে মানুষের ঢল নামে। আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ), বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ দলমতনির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ জানাজায় অংশ নিয়েছেন। গতকাল দুপুর আড়াইটায় ভোলা জেলা স্কুল মাঠে তাঁর জানাজা হয়। এর আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার জানানো হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদকে।

জানাজা শেষে তাঁর লাশ সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে নেওয়া হয়। সেখানে তোফায়েল আহমেদের বাড়ির সামনে তৃতীয়বার জানাজা হয়। সেখানেও দলীয় নেতা-কর্মীসহ কয়েক হাজার মানুষ জানাজায় অংশ নেন। এর আগে সোমবার রাতে ঢাকায় তাঁর প্রথম জানাজা হয়। গতকাল দুপুর ১টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে তোফায়েল আহমেদের লাশ ঢাকা থেকে ভোলায় আনা হয়।

বাবা-মায়ের কবরের পাশে শায়িত : বাবা-মায়ের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। স্বজনরা জানান, তিনি যখনই গ্রামের বাড়ি আসতেন তখনই বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করতেন। কবরের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। দোয়া করতেন। বলতেন, তাঁর মৃত্যুর পর যেন তাঁকে বাবা-মায়ের পাশেই কবর দেওয়া হয়। সেই চাওয়ার প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁকে বাবা-মায়ের পাশেই সমাহিত করা হয়েছে। গত কয়েক বছর তোফায়েল আহমেদ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। স্ট্রোকজনিত কারণে তাঁর চলাফেরা সীমিত হয়ে পড়েছিল এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বিক্ষোভ : তোফায়েল আহমেদের জানাজা নামাজ ভোলার সরকারি স্কুল মাঠে হওয়ার ঘোষণার পর একটি গ্রুপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানাজা হতে দেবে না- এমন বক্তব্য ছড়ায়। পরবর্তীতে গতকাল সকালে একদল যুবক ‘স্বৈরাচারের আস্তানা এই ভোলাতে রাখব না’/‘ছাত্রলীগের আস্তানা, এই ভোলাতে রাখব না’/শহীদের রক্ত, বৃথা যেতে  দেব না’- এ ধরনের স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করে। পরবর্তীতে তারা ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে গিয়ে বিক্ষোভ জানায় এবং জানাজা হতে দেবে না বলে স্লোগান দেয়। এর কিছুক্ষণ পরই জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ ট্রুুম্যান, যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইয়ারুল আলম লিটনসহ জেলা বিএনপির নেতারা মাঠে গিয়ে ওদের সরিয়ে দেন। এ সময় নেতারা বলেন, ‘তোফায়েল আহমেদের জানাজা নামাজ এই মাঠেই হবে। শান্তিপূর্ণভাবেই হবে। কেউ কোনো রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা যেন না করে। পরবর্তীতে আর কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই জানাজা হয়েছে। জানাজায় বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ সব দলমতের নেতা-কর্মী, সমর্থকসহ কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছেন। এদিকে তোফায়েল আহমেদের জানাজাকে কেন্দ্র করে ভোলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্পটে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জানাজা মাঠে পুলিশ, র‌্যাব, কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৩ শতাধিক সদস্য অবস্থান করেছেন। হেলিকপ্টার থেকে লাশ নামানোর পর থেকে দাফন পর্যন্ত পুলিশের কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী ছিল। লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সামনে পেছনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বেশ কয়েকটি গাড়ি পাহারায় থাকতে দেখা গেছে।  

তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে স্লোগান : কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজা শেষে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগ-যুবলীগের ছয় নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের ঢাকার ধানমন্ডি থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।  গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম ফাহমিদা খন্দকার আন্নার আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।  কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন- ঝালকাঠি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মধু, কালীগঞ্জ থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. স্বাধীন ইসলাম, ধামরাই যুবলীগের সদস্য হাসিবুল হোসেন ওরফে লিটন মোল্লা, দৌলতপুর আওয়ামী লীগের সদস্য ইফতেখার আহমেদ সবুজ, পটুয়াখালী যুবলীগের সদস্য খোকন ফরাজী ও মনপুরা থানা যুবলীগের সদস্য মাকসুদুর রহমান বাবলু।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ২০০ নেতা-কর্মী সমবেত হন। জানাজা শেষে তোফায়েল আহমেদের লাশ মসজিদ থেকে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে নেওয়ার সময় তারা জয়বাংলা ও সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল শুরু করেন। এ সময় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অন্যরা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় তাদের নাম উল্লেখ করে ধানমন্ডি মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন এসআই মিঠুন সিংহ।

শ্রদ্ধা ও স্মরণে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে ৫ মে গণহত্যা দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক:  নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস লিমিটেডে ‘৫ মে গণহত্যা দিবস’ পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মিলটি ঘেরাও করে তৎকালীন প্রশাসকসহ ৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শতাধিক সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যা করে।

মঙ্গলবার সকালে মিল চত্বরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘শহীদ সাগর’ চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরআন তেলাওয়াত, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে শহীদদের স্মরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনের নির্মম হত্যাযজ্ঞ দেশের ইতিহাসে এক শোকাবহ অধ্যায়। শহীদদের আত্মত্যাগ জাতিকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার পর গণসমাধির নীরব সাক্ষী সেই পুকুরটির নাম রাখা হয় ‘শহীদ সাগর’। এ ছাড়া শহীদ তৎকালীন প্রশাসক লেফটেন্যান্ট আনোয়ারুল আজিমের নামানুসারে গোপালপুর রেলস্টেশনের নামকরণ করা হয় ‘আজিমনগর’।

বিভাগীয় কর্মকর্তা ও মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ। আরও বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. নজরুল ইসলাম মোলাম, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোমিনুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পিন্টু। 

এ সময় শহীদ পরিবারের সদস্য ফরহাদ-উজ-জামান রুবেলসহ মিলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

লালপুরে তরুণদের নিয়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট ও বৃক্ষরোপণ

নিজস্ব প্রতিবেদন: নাটোরের লালপুর উপজেলার অর্জুনপুর বরমহাটী ইউনিয়নে সমৃদ্ধি কর্মসূচির আওতায় উদযাপিত হলো ‘তারুণ্যের উৎসব–২০২৫’।

রোববার বরমহাটী সমবায় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজন করা হয় যুব-কিশোর ফুটবল টুর্নামেন্ট ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)–এর অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় এবং নিউ এরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউ এরা ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোস্তাক আহমেদ কিরণ। সভাপতিত্ব করেন বরমহাটী সমবায় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মালিক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরমহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম, নিউ এরা ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক বিএম ফাহিম রহমান, ইউপি সদস্য মো. কাওছার ইসলাম সোনো (৩ নম্বর ওয়ার্ড), শাখা ব্যবস্থাপক এস এম জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা কর্মসূচি সমন্বয়কারী শোভন কুমার লাহিড়ী, প্রধান কার্যালয়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মুন্সি মো. সাজেদুর রহমান, সহকারী সমন্বয়কারী নেয়ামুল বাশির, সমৃদ্ধির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল সাকিবসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেয় ‘পদ্মা’ ও ‘যমুনা’ দল। জমজমাট খেলায় যমুনা ১-০ গোলে জয়ী হয়। ম্যাচ শেষে বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার এবং গাছের চারা তুলে দেন অতিথিরা।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় কবরস্থান, মসজিদ, বিদ্যালয় ও ঈদগাহসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে ২০০টিরও বেশি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ কার্যক্রমে সহযোগিতা করে যুব, কিশোর ও প্রবীণদের ক্লাবগুলো।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোস্তাক আহমেদ কিরণ বলেন, 'তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও সচেতনতার বিকল্প নেই। পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক অংশগ্রহণের মতো উদ্যোগে তাদের যুক্ত করতে পারলে গড়ে উঠবে দায়িত্বশীল নাগরিক।' 

‘যে নামেই হোক, শোভাযাত্রায় দেশজ কৃষ্টি ও ঐতিহ্য থাকুক’

নিজস্ব প্রতিবেদক: চার দশক আগের কথা। ১৯৮৫ সালের ১৪ এপ্রিল বা বাংলা ১৩৯২ সনের প্রথম দিন। পয়লা বৈশাখের ভোরে সর্বপ্রথম যশোরে বের হয়েছিল নববর্ষের এক বর্ণিল শোভাযাত্রা। এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন পাঁচ শতাধিক মানুষ। তখনো তাঁরা জানতেন না, পরের বছরগুলোয় এটা জেলার সীমানা ডিঙিয়ে যাবে এবং বাংলা বর্ষবরণের প্রধান ঐতিহ্য হয়ে উঠবে।

ওই বৈশাখী শোভাযাত্রার অন্যতম উদ্যোক্তা চারুপীঠ আর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মাহবুব জামিল শামীম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বন্ধু শিল্পী হিরণ্ময় চন্দ্রসহ আরও কয়েকজন।

শুক্রবার দুপুরে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ সংবাদ সম্মেলন করে মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’ ঘোষণা এল। তখন শোভাযাত্রার অন্যতম উদ্যোক্তা শামীম তাঁর প্রিয় প্রাঙ্গণ যশোর পৌর পার্কে অবস্থিত চারুপীঠ আর্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে শোভাযাত্রার প্রস্তুতির কাজ করছিলেন। বয়সে রুগ্‌ণ হয়ে যাওয়া মাহবুব জামিল শামীম গভীর মনোযোগে রং করছিলেন একটি কুমিরের প্রপসে।

মাহবুব জামিল শামীম জানান, বিধ্বংসী নানা কর্মকাণ্ড থেকে পরিবেশ, প্রতিবেশ আর প্রাণিকুলকে রক্ষায় সচেতনতার বার্তা তুলে ধরা হবে যশোরের এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায়। যেখানে থাকবে বন, বনের প্রাণী, যেমন—বাঘ, হরিণ, হাতি, ঘোড়া, পাখপাখালি, পাহাড়, নদী ইত্যাদি। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মতো সেজে হইহুল্লোড় করে, নেচে, গেয়ে পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তুলবেন। শুরুর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে দলমত-নির্বিশেষে যশোরের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন।

তাঁর কাজের মধ্যে জানতে চাওয়া হলো বৈশাখের শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার গল্প। একটু মৃদু হেসে বললেন, ‘একুশের প্রভাতফেরি থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রার চিন্তা মাথায় আসে। বাংলা ভাষার রাষ্ট্রের আন্দোলনে তারুণ্যের রক্তে গড়া একুশের পথ ধরে এসেছে আমাদের ভাষা ও স্বাধীনতা। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার মিলন। এ একুশের প্রভাতফেরিকেই যেন ফেলে আসা সব শিল্প ঐতিহ্যের সম্ভারে সাজিয়ে এ উৎসব রচনা করা হয়েছিল।’

মাহবুব জামিল বলেন, ‘নিগৃহীত ৯৫ ভাগ গ্রাম্য মানুষের মাঝে লালিত দেশজ কৃষ্টি। তাকেই আজ আমরা আদরে নয়ন মেলে দেখছি। শিল্প মর্যাদায় অনুভব করছি। তারই প্রাণবন্ত অথই জলের ধারা আজ স্বাধীন বাংলাদেশের নগরের মাঝ দিয়ে মৃত্তিকা ভেঙে যেন নদী হয়ে আশ্চর্য সুন্দর দেশজ কৃষ্টির রাজসিক উৎসব মঙ্গল শোভাযাত্রা। দলমত-নির্বিশেষে সব পর্যায়ের মানুষ এ আয়োজনে যুক্ত হয়েছিলেন। যার ফলশ্রুতিতে “মঙ্গল শোভাযাত্রা” সত্যিকার অর্থেই মাঙ্গলিক এক বিনোদনের অনুষঙ্গ হয়ে ওঠে। বাংলা ১৪০০ বর্ষবরণ উৎসবের ইতিহাস তো সবার জানা। যা যশোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সৃষ্টি করেছিল এক নতুন মহাকাব্য।’

১৯৮৮ সালে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য মাহবুব জামিল শামীম ও হিরণ্ময় চন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় ভর্তি হন। তাঁদের প্রচেষ্টায় ১৯৮৯ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটির চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা বের করেন ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’।

এই শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের ইতিহাস বলতে গিয়ে মাহবুব জামিল জানান, ১৯৯০ সালের দিকে ঢাকাতে বিভিন্ন সংস্কৃতিমনা মানুষেরা দাবি ওঠাল, বছরের প্রথম দিন মানেই নতুন একটি বছর বা শিশুর জন্ম হলো। জন্মের প্রথম দিনে তাঁর শুভ বা মঙ্গল কামনা করা উচিত। সেই থেকেই আনন্দ শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’য়। এ মঙ্গল শোভাযাত্রা ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের নানা প্রান্তে। এখন যা বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। শোভাযাত্রা বের হচ্ছে দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকেও। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যে মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন স্থান করে নিয়ে বিশ্ব সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলেও। বাংলাদেশের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ এখন জাতিসংঘের ইউনেসকো স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এর সূচনা হয়েছিল ১৯৮৫ সালে চারুপীঠ যশোর থেকে।

হঠাৎ নাম পরিবর্তন হওয়াতে কিছু করার নেই বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন প্রথম শুরু করি, তখনই বলেছিলাম বিভিন্ন অঞ্চল বিভিন্ন নাম রাখতে পারবে এই শোভাযাত্রার। শোভাযাত্রা উদ্দেশ্য ছিল, ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের শোভাযাত্রায় ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি উঠে আসবে। আর সেসব সংস্কৃতি জাতীয় কৃষ্টি-কালচার চর্চার অংশ হবে। আর্ট কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে এটার চর্চা হবে। এখন নাম পরিবর্তন হয়েছে; সেটা তো আমার কিছু করার নাই। আমি একজন সংস্কৃতিকর্মী। সংস্কৃতিকর্মীরা বিবাদে জড়ায় না। তাঁরা চায় বন্ধুত্ব। অনেক বাধা-বিপত্তি পার করেই আমরা শোভাযাত্রা অব্যাহত রেখেছি। যে শোভাযাত্রার শুরু হয়েছিল সেটা তো সবার উৎসব। রাষ্ট্রের উৎসব, আন্তর্জাতিক উৎসব।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামীণ মানুষের মাঝে লালিত দেশজ কৃষ্টি তুলে ধরা হয় এই শোভাযাত্রাতে। এটা আমাদের শিল্প মর্যাদা। এখন যে নামেই হোক না কেন; এটার যে লক্ষ্য ছিল, সেটা থেকে লক্ষ্যচ্যুত না হই আমরা, আমাদের শিল্প, মর্যাদা ও ঐতিহ্য যাতে বন্ধ না হয় সেটাই আমার কাম্য।’

চাঁদপুরে অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরিফ মাঠে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ জামাতে ইমামতি করেন দরবার শরিফের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি। অন্যদিকে সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে সকাল  ১০টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন সাদ্রা দরবার শরিফের পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী।

স্থানীয়রা জানান, প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ১৯২৮ সালে আগাম রোজা রাখাসহ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের নিয়ম চালু করেন সাদ্রা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইসহাক (রা.)। তার অনুসারীরা প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা রাখা ও ঈদ উদযাপন করা শুরু করেন। সেই থেকে বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা আরব দেশসমূহের সঙ্গে মিল রেখে রোজা এবং ঈদসহ ধর্মীয় উৎসব পালন করেন। এর মধ্যে জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলীপুর, ভোলাচোঁ, ঝাকনি, সোনাচোঁ, প্রতাপপুর ও সুরঙ্গচাইল গ্রাম, ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুরঙ্গচাউল, কাইতাড়া, উভারামপুর, টোরামুন্সিরহাট, মতলব উত্তর উপজেলার পাঁচানী, বাহেরচর পাঁচানী, আইটাদি পাঁচানী, দেওয়ানকান্দিসহ অর্ধশতাধিক গ্রামের মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকে সমেশপুর ঈদগাহ মাঠ, সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল, মাদরাসা মাঠ সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠসহ ১২টি ঈদগাহ মাঠে এবং উত্তর সাদ্রা বায়তুল সালাম জামে মসজিদ, দক্ষিণ সাদ্রা জামে মসজিদ, উত্তর অলিপুর বেপারী বাড়ি জামে মসজিদ, উত্তর অলিপুর ঢালী বাড়ি মসজিদ, দক্ষিণ বলাখাল হাজী বাড়ি, দক্ষিণ বলাখাল স্কুল বাড়ি, পাঁচানী দরগাম মসজিদ, পূর্ব পাঁচানী সরকার বাড়ি, দেওয়ানজিকান্দি প্রধানিয়াবাড়ী মসজিদ, সাড়ে পাঁচানী প্রধানিয়া জামে মসজিদ, দক্ষিণ মাথাভাঙ্গা ভেন্ডরবাড়ী মসজিদ, পাড়ে পাঁচানী উত্তরপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদসহ ১৮টি জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ৩০টি ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া স্ব-স্ব এলাকায় এ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মতলব উত্তরের দেওয়ানকান্দি গ্রামের বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, আমরা চট্টগ্রামের মির্জাখিল দরবার শরীফের অনুসারী। প্রতি বছর আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করে আসছি। এবারও দেশটির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেছি।

মানিক মিজি  বলেন, বুঝতে শেখার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রথম চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে রোজা, ঈদ পালন করে আসছি। আমরা বিশ্বের যেকোনো জায়গায় চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ পালন করি।

হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরিফের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি বলেন, আমরা কোরআন সুন্নাহের আলোকে সাদ্রা দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা পীর মাওলানা ইসহাক (র.) এর নিয়ম অনুযায়ী প্রথম চাঁদ দেখার ভিত্তিতে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছি। কোরআন সুন্নাহর ধর্মীয় উৎসবগুলো পালন করে আসছি।

হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফের পীর ও সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আরিফ চৌধুরী বলেন, আমরা ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলেই আমরা রোজা ও ঈদুল ফিতর পালন করছি। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে কোরবানির ঈদ উদযাপন করি। বর্তমানে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর হয়ে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ঈদ উদযাপন করছে।সুতরাং পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলেই আমরা তারাবি, রোজা ও ঈদ পালন করি। এবছরও একই সময়ে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের দরবার শরীফের পক্ষ থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ লুৎফর রহমান বলেন, আজ জেলার বিভিন্ন স্থানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মুসল্লিদের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নর্থ বেঙ্গল চিনিকলে এবার ১১ হাজার টন চিনি উৎপন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:  নাটোরের লালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলসের ৯২তম আখমাড়াই মৌসুম শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মিল চত্বরে এক দোয়া ও মাহফিলের মাধ্যমে চলতি মৌসুমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মিলের ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) মো. শাফীকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এবার মিলটি ১২৬ কর্মদিবসে মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার ৯৪১ টন আখমাড়াই করেছে। চিনি উৎপাদন হয়েছে ১১ হাজার ৩৫০ টন। এ বছর মিলটি গত মৌসুমের চেয়ে ৮ হাজার টন বেশি আখমাড়াই করলেও চিনি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ হাজার ৬৫০ টন কম করেছে।

চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ২ লাখ টন আখমাড়াই করে ১৫ হাজার টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) মো. আসহাব উদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে এই মিলে মাড়াইয়ের জন্য ১৭ হাজার ৫০০ একর জমিতে আখ রোপণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে মিলের নিজস্ব জমি ২ হাজার ৫০০ একর। কৃষকদের কাছ থেকে কেনার জন্য প্রতি মণ আখের মূল্য মিল গেটে ২৪০ টাকা ও মিলের ৩১টি ক্রয়কেন্দ্রে ২৩৭ টাকা দেওয়া হয়। আগামী ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১৮ হাজার একর জমিতে আখ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা সফল করতে ৫ হাজার ৬০০ আখচাষির মধ্যে বীজ ও প্রায় ১২ কোটি টাকার সার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হলে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন ভূঁইয়া টুটুল বলেন, এই মিল জোনে যে পরিমাণ আখ উৎপাদন হয়, তাতে মিলের আখমাড়াই ক্ষমতা বাড়ানো দরকার। দৈনিক ক্ষমতা ৩ হাজার টনে উন্নীত করা সম্ভব হলে মৌসুমে ৩ লাখ টন মাড়াই করা সম্ভব হবে। এতে চাষিরা ধৈর্যহারা হবেন না। চিনির উৎপাদন বাড়বে ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

এবার আখ থেকে চিনি আহরণের হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও অর্জিত হয়েছে ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়া প্রসঙ্গে এমডি জানান, চিনি আহরণের বিষয়টি প্রকৃতিগতভাবে আখের ওপর নির্ভরশীল। এ ছাড়া দীর্ঘ ৯১ বছরের পুরোনো এই মিলের আধুনিকায়ন করা গেলে উৎপাদন প্রক্রিয়ার ঘাটতি (প্রসেস লস) কমে যাবে এবং চিনি আহরণের মাত্রা বাড়বে।

লালপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক:  অধিকার, সমতা, ক্ষমতায়ন: নারী ও কন্যার উন্নয়ন- প্রতিপাদ্যে নাটোরের লালপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করেছে ডাসকো ফাউন্ডেশন। নেট্জ বাংলাদেশের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার সকালে আড়বাব ইউনিয়নে একটি র‍্যালি বের করা হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন দীপ্তি রাণী, আর প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আড়বাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেসুর রহমান। সভা পরিচালনা করেন সুনীল কুমার রায়।

বিশেষ অতিথি ছিলেন নিউ এরা ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও সংবাদ সাতদিন পত্রিকার সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ কিরণ।

বক্তারা বলেন, 'নারীরা শিক্ষিত হলে পুরো সমাজ এগিয়ে যাবে। ছেলে-মেয়ের মধ্যে বৈষম্য করা যাবে না। নারীর অধিকার নারীকেই আদায় করে নিতে হবে।'

 তারা আরও বলেন, 'দেশজুড়ে আলোচিত আছিয়ার নির্মম হত্যাকাণ্ড আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস থাকতে হবে।'

আলোচনায় আরও অংশ নেন নিজেরা করি সংস্থার রিনা রায়সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শাহজাদপুরে আবাসিক হোটেলে আগুন, চারজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর শাহজাদপুরে সৌদিয়া নামে একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লাগার পর সেখান থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। নিহত চারজনই পুরুষ। প্রাথমিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। 

সোমবার দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটের দিকে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। 

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটের দিকে আমাদের কাছে সংবাদ আসে শাহজাদপুরে সৌদিয়া হোটেলে আগুন লেগেছে। আমরা সেখানে দুটি ইউনিট পাঠাই। তারা আধা ঘণ্টা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি আরও বলেন, হোটেল ভবনটি ছয়তলা, আগুন লাগে দুই তলায়। পরে উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর আমাদের তল্লাশি দল হোটেলের ভেতরে চারজনের মরদেহ পায়। সব মরদেহ পাওয়া যায় ৬ষ্ঠ তলায়। সেখানে শৌচাগারের ভেতরে তিনটি সিঁড়ির গোড়ায় মরদেহগুলো পাওয়া যায়। সিঁড়ির দরজায় তালা মারা ছিল। নিহতরা সবাই পুরুষ। প্রাথমিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

অর্জুনপুরে নিউ এরা ফাউন্ডেশনের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক: লালপুর উপজেলার বিলায়েত খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিউ এরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লালপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নাজমুল খান। ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং পরিচালক মোস্তাক আহমেদ কিরণের সঞ্চালনায় আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্জুনপুর বরমহাটী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবেদ আলী, ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামের আমির শরিফুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. নাজমুল খান বলেন, 'শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে হবে। এতে তাদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটে এবং তারা মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হয়ে গড়ে উঠতে পারে।'

ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, 'শুধু পড়াশোনা নয়, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সংস্কৃতির চর্চা করাও জরুরি। এতে মন ও শরীর ভালো থাকে এবং ভবিষ্যতে তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে পারে।' তিনি শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারী উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক নাসরিন আক্তার শেলি, সমাজসেবক হাসান আলী মণ্ডল, আব্দুর রাজ্জাক, আফাজ আলী, ইউপি সদস্য সাহাবুল ইসলাম, রুকসানা বেগম, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুসসহ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা, শিক্ষক, শিক্ষিকা, সেবিকা এবং শিক্ষার্থীরা।

দিনব্যাপী আয়োজনে শিশু, কিশোর, যুবক, প্রবীণ, অভিভাবক, শিক্ষক ও সেবিকাদের জন্য ছিল চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, রচনা, দৌড়, গণিত দৌড়, গোলক নিক্ষেপ, চামচ দৌড়, মোরগযুদ্ধ, ভলিবলসহ নানা প্রতিযোগিতা। শেষে ৪১টি ইভেন্টের বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ও সমৃদ্ধি ফোকাল পার্সন বি. এম. ফাহিম রহমান। সকাল শুরু হয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা ও ক্রীড়া পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে।

বরমহাটীতে নিউ এরা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক: লালপুর বরমহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিউ এরা ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় বুধবার এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।

সকালে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন নিউ এরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোস্তাক আহমেদ কিরণের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অর্জুনপুর বরমহাটী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবেদ আলী, উপ-পরিচালক বি. এম. ফাহিম রহমান, সমাজসেবক মো. আমিনুর রহমান মতি এবং বরমহাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম।

উপজেলা সমৃদ্ধি সমন্বয়কারী শোভন লাহিড়ীর সঞ্চালনায় আয়োজিত এ স্বাস্থ্য ক্যাম্পে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন মেডিসিন, বাতব্যথা ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. এ. এস. এম. হানিফ এবং গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. তামান্না সুলতানা। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে প্রায় ২০০ জন রোগী বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন।

সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবেদ আলী বলেন, নিউ এরা ফাউন্ডেশনের এই মানবিক উদ্যোগ এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য আশীর্বাদ। এ ধরনের উদ্যোগ স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বঞ্চিত মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষা নিয়ে নিউ এরা ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। সেবামূলক কাজের এই ধারাবাহিকতা আমরা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখব।

পঞ্চগড়ে রাত যেন বরফ শীতল, তাপমাত্রার পারদ নামল ১০ ডিগ্রির ঘরে

নিজস্ব প্রতিবেদক: পঞ্চগড়ে অগ্রহায়নের শেষ সপ্তাহেই যেন শীত জেঁকে বসেছে। দুই দিন ধরে ভোরে কুয়াশা না থাকলেও হিমেল বাতাসে অনুভব হচ্ছে বরফের শীত। তাপমাত্রা কমে আসায় কনকনে শীতের প্রকোপে জর্জরিত হয়ে পড়েছে উত্তরের হিমালয়ের জেলা পঞ্চগড়ের মানুষ। গ্রামাঞ্চলের হতদরিদ্র মানুষগুলো খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ভোর ৬টায় রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল রোববার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালে তাপমাত্রার রেকর্ডের তথ্যটি জানান জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার তেঁতুলিয়া অফিস।

ভোরেই দেখা যায় রক্তিম আভা নিয়ে জেগে উঠেছে ভোরের সূর্য। প্রকৃতি জুড়ে জড়িয়ে রয়েছে হালকা কুয়াশা। ঝিরঝির করে বইছে হিমেল বাতাস। প্রয়োজনের বাইরে অনেকেই ঘর থেকে বের না হলেও জীবিকার তাগিদে কাজে বের হতে দেখা গেছে নিম্নআয়ের মানুষদের। পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, দিনমজুর, সবজি চাষি।

কথা হয় সবজি চাষি আজমিরের সাথে। তিনি জানান, ভাই খুবই ঠান্ডা। রাত-ভোর পর্যন্ত বরফের মতো লাগে। এতো ঠান্ডা, কাজ কাম করা খুবই কঠিন হয়ে উঠে। ভোরে পালং শাক, লাফা শাক ও লাউ শাক তুলতে এসেছি। ধরা যাচ্ছে না, বরফের মতো মনে হচ্ছে। হাত অবশ হয়ে আসে। কিন্তু কি করবো, টাটকা সবজি বাজারে নিতেই কাজ করতে হচ্ছে।

ঘর-গৃহস্থালী ও শিশু ছেলে-মেয়েদের রান্না তৈরি করতে শীতে বেকায়দায় পড়েন গৃহিনীর। তারা বলছেন, সন্ধ্যার পর থেকেই খুবই ঠান্ডা। ঘরের বিছানা,ফ্লোরসহ আসবাবপত্র বরফ হয়ে উঠে। ঘরে আনা পানিও বরফ হয়ে উঠে। ভোরে উঠে রান্নাবান্না করা খুবই কষ্টকর।

এদিতে শীতের কারণে বেড়েছে বিভিন্ন শীতজনিত রোগব্যাধি। জেলার পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল ও  অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে  শীতজনিত বিভিন্ন রোগীর ভিড়। শিশু ও বয়স্করা সর্দি,কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা শীতে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে চিকিৎসকরা চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

পঞ্চগড়ের প্রথম প্রেণির তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ বলেন, গতকাল রোববারের চেয়ে আরও তাপমাত্রা কমেছে। তাপমাত্রা কমে গত ১০ ডিগ্রির ঘরে এসেছে। আজ সোমবার সকাল ৯টায় ১০ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৯টায় ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছিল। তার আগে শনিবার রেকর্ড হয়েছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ ভোরেই সূর্য দেখা গেছে।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মো.সাবেত আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে দুই হাজার কম্বলের বরাদ্দ পেয়েছি। তা বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিশুস্বর্গ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তারা ৭ হাজার কোমলমতি শিশুদের শীতের উপহার দিচ্ছে। এছাড়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শীতবস্ত্র দিতে শুরু করেছে। শীতার্তদের পাশে সমাজের বিত্তশালীদের এগিয়ে আসা উচিত।

কুতুবদিয়ায় এলপিজি বহনকারী লাইটারেজ জাহাজে আগুন, ৩১ জন উদ্ধার

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া পয়েন্টে বসুন্ধরার এলপিজি বহনকারী একটি লাইটারেজ জাহাজে শনিবার মধ্যরাতে বিস্ফোরণ হয়ে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। রবিবার ভোর পর্যন্ত উদ্ধারকার্য চালিয়ে ওই জাহাজে থাকা ৩১ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী।

শনিবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

কুতুবদিয়া কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শাকিব মেহবুব জানান, কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল পয়েন্টে নোঙর করা সুফিয়া নামে এলপিজি বহনকারী একটি লাইটারেজ জাহাজে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

জাহাজে আগুন লাগলে নাবিকরা সাগরে লাফ দেয়। পরে নাবিকদের উদ্ধার করা হয়।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

এর আগে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এছাড়া নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডকে জানানো হয়েছে।

খবর পেয়ে রাতেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে এবং জাহাজে থাকা ক্রুদের উদ্ধারে যোগ দিয়েছে নৌবাহিনীর জাহাজ। পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হয়েছে কোস্ট গার্ড ও বন্দরের জাহাজ।

স্থানীয়রা জানায়, ‘বি-এলপিজি সুফিয়া’ নামের জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙরে অবস্থান করছিল। রাত ১টার দিকে জাহাজটি বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়।

ভীমরুলের কামড়ে বাবা-মেয়ের পর এবার ছেলের মৃত্যু

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ভীমরুলের কামড়ে বাবা আবুল কাশেম ও মেয়ে লাবিবা আক্তারের মৃত্যুর পর এবার ছেলে সিফাত উল্লাহও মারা গেছে।

শনিবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫ বছর বয়সি সিফাতের মৃত্যু হয়।

এর আগে শনিবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১টার দিকে আবুল কাশেম (৫৫) মারা যান। মেয়ে লাবিবার (৮) মৃত্যু হয় দুপুর ৩টার দিকে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ধোবাউড়ায় বন্যা হওয়ায় শনিবার দুপুরে দুধনই বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুল কাশেম মেয়ে লাবিবা ও ছেলে সিফাতকে নিয়ে নৌকা দিয়ে বাঁশ ঝাড়ের নিচ দিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন। এসময় বাঁশঝাড়ে বাসা বাঁধা তাদের ওপর আক্রমণ করে। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার আবুল কাশেম ও তার দুই সন্তানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তাদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শেরপুরে বন্যায় কৃষি ও মৎস্য খাতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

শেরপুরে বন্যা
শেরপুরে পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ছবিঃ সংবাদ সাতদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেরপুরে পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। এতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ার ফলে নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা, চরঅষ্টাধর ও পাঠাকাটা ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে।

বন্যায় জেলায় ৫ দিনে নারী, শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন প্রায় দুই শতাধিক।

এদিকে, বন্যায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে স্থানীয়দের ঘর-বাড়ি। পানি নেমে যাওয়ায় এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ভেসে উঠছে। ঘর-বাড়ি, আবাদ ফসল সব হারিয়ে দিশেহারা বন্যাকবলিতরা।

ঝিনাইগাতী-নালিতাবাড়ীতে বন্যায় অন্তত সাড়ে ৬ হাজার ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত কিংবা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবেছে আমন ও সবজির আবাদ। ঢলের তোড়ে ভেসে গেছে পুকুর ও মৎস্য খামার।

এছাড়া প্রাথমিক হিসাবে বন্যায় কৃষি ও মৎস্য খাতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে কৃষিখাতে ৫২৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং মৎস্যখাতে ৭০ কোটি ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুনর্বাসন শুরু হবে।

এদিকে, উজানের পানি নেমে গেলেও নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও নকলা উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ৮ ইউনিয়নের ২০ গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ এখনও পানিবন্দি। এসব এলাকায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে পানিবন্দিদের রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।

শেরপুর খামারবাড়ীর উপপরিচালক ড. সুকল্প দাস বলেন, চলতি বন্যায় জেলার ৫ উপজেলায় ৩৮ হাজার ২২৭ হেক্টর আবাদি জমি বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ২২ হাজার ৮৮৭ হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ১৫ হাজার ৩৩৯ হেক্টর জমির ফসল আংশিক নিমজ্জিত হয়। মোট ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির পরিমাণ ৩২ হাজার ১৫৭ হেক্টর। যার মধ্যে রোপা আমন আবাদি জমি রয়েছে ৩১ হাজার ২৮৬ হেক্টর, শাকসবজি ৮৬০ হেক্টর এবং বস্তায় আদা চাষ ১১ দশমিক ২৮ হেক্টর জমি। যার উৎপাদিত ফসলের মোট ক্ষতির পরিমাণ এক লাখ ৬১ হাজার ৯০৮ মেট্রিক টন। যা টাকার অংকে ৫২৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। আর সর্বমোট ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ১ লাখ ৭৭ হাজার ৮০৫ জন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রণব কুমার কর্মকার বলেন, বন্যায় জেলার ৫ উপজেলার ৩১ ইউনিয়নে অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ৭ হাজার ৩৬৪টি পুকুর-দিঘি-খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মোট আয়তন ১ হাজার ৩০৬ হেক্টর। এতে ৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিসহ টাকার অংকে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৭০ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

তিনি আরও বলেন, এটা প্রাথমিক হিসাব। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে হয়তো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এমনকি সেটা ১০০ কোটি টাকাও হতে পারে। আমরা কর্তৃপক্ষ বরাবরে প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির বিবরণী পাঠিয়েছি। কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের পুনর্বাসন কিংবা প্রণোদনা বরাদ্দ দিলে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষীদের সেটা দেওয়া হবে।

শেরপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিরুল ইসলাম বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে প্রায় ১৫/১৬ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা মেরামতের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত নদীর বাঁধ ও মহাসড়ক থেকে শুরু করে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক ও সেতু-কালভার্টের হিসাব এখনও করা সম্ভব হয়নি।

জেলা প্রশাসক তরফদার মাহবুবুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে বন্যার্তদের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

দুর্গাপূজার আনন্দে মেতেছে রাজধানী; মহাঅষ্টমীতে মণ্ডপগুলোতে ভিড়

মহাঅষ্টমী

নিজস্ব প্রতিবেদক:  সারা দেশের মতোই রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতেও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জমকালো উৎসবের সঙ্গে মণ্ডপগুলোতে ভিড় করছেন। । ছবিঃ সংগৃহীত

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দে মেতে উঠেছে দেশবাসী। সারা দেশের মতোই রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতেও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জমকালো উৎসবের সঙ্গে দেবী দুর্গার পূজা করছেন।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) মহা অষ্টমীর দিনে রাজধানীর প্রায় সব পূজা মণ্ডপেই বেশ ভিড় দেখা যায়। ছুটির দিন হওয়ায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পূজার আনন্দ উপভোগে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সবাই। সন্ধ্যার পর জমকালো আয়োজনে নানা রঙের আলোয় সেজে ওঠা ঢাকেশ্বরী মন্দিরসহ অন্যান্য মন্দিরের পূজা মণ্ডপগুলোতে দেখা গেছে হাজারো মানুষের ঢল।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পঞ্জিকা অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর মহাষষ্ঠী, ১০ অক্টোবর মহাসপ্তমী শেষে শুক্রবার ১১ অক্টোবর মহাষ্টমী ও শনিবার ১২ অক্টোবর মহানবমী। এরপর রবিবার ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে শারদীয় দুর্গোৎসবের।

এর আগে, ২ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। এরপর বোধনের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে জাগ্রত করা হয়।

পুরান ঢাকার নাজিরাবাজার এলাকার বাসিন্দা রত্না পাল বলেন, 'আমরা সবাই উৎসবের আমেজে পূজা উদযাপন করছি। আমাদের উৎসব বাংলার সব মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চাই।'

শ্রী শ্রী রমনা কালী মন্দিরে দেখা যায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপভোগ করতে জনতার ভিড়। নানা রঙের লাইট আর ঢাকের বাজনায় মুখরিত মন্দিরটিতে রাত বাড়ার সঙ্গে ভিড়ও যেন বাড়ছে সমানতালে।

মন্দিরের পূজা উদযাপন পরিষদের পরিচালক পরিষদ মৃণাল মজুমদার জানালেন, ‘সকালে অষ্টমীর অঞ্জলি দিতে ভিড় বেশি ছিল। দুপুরের দিকে একটু কমলেও সন্ধ্যার পর থেকে আবার মানুষ আসতে শুরু করেছে।

গতবারের তুলনায় ভিড় কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'গতবারের চেয়ে এবার ভিড় অনেক বেশি। নিরাপত্তা নিয়েও কোনো ভয় নেই।'

দুর্গাপূজার আনন্দ উপভোগ করতে রমনা কালী মন্দিরে আসা রোদসী মুকিত বলেন, 'সকাল থেকে বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে ঘুরছি। কুমারী পূজায় গিয়েছিলাম। এখন রমনায় এলাম। এখান থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যাব। পূজা দেখতে ভালো লাগছে। কারণ চারদিকটা উৎসবমুখর মনে হয়। যেকোনো উৎসবই তো আনন্দের।'

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আসাদ বলেন, 'আমাদের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি এখন পর্যন্ত।'

শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন সব ধর্মাবলম্বীরাই উপভোগ করে থাকেন। এবছর টানা চার দিনের সরকারি ছুটি এ আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সবাই পরিবার-পরিজন নিয়ে পূজা উপলক্ষে আয়োজিত মেলা ও অন্যান্য আয়োজন উপভোগ করতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন রাজধানীর পূজা মণ্ডপগুলোতে।

সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে চলচ্চিত্র প্রদর্শন

চলচ্চিত্র প্রদর্শন
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে তথ্যচিত্র ‘ফিফটিন মিনিটস অব শেইম’ প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। ছবিঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস উপলক্ষে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আমেরিকান ফিল্ম শোকেসের (এএফএস) সহযোগিতায় আমেরিকান সেন্টারে তথ্যচিত্রের ‘ফিফটিন মিনিটস অব শেইম’ প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়।


এই আয়োজনে প্রযুক্তি শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও একাডেমিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। যা ডিজিটাল নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণ প্রসারে চলমান প্রচেষ্টার অংশ।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ডেপুটি পাবলিক এনগেইজমেন্ট ডিরেক্টর ব্রেন ফ্ল্যানিগ্যান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। তিনি তার বক্তব্যে অনলাইন হয়রানি ও পাবলিক শেইমিংয়ের বাস্তব জীবনের প্রভাবের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি ডিজিটাল গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জগুলোর কথা তুলে ধরেন। নিরাপদ ও দায়িত্বশীল অনলাইন আচরণের ওপর জোর দেন।

‘ফিফটিন মিনিটস অব শেইম’ তথ্যচিত্রটি মনিকা লিউইনস্কি এবং ম্যাক্স জোসেফ পরিচালিত। যা অনলাইন শেইমিং ও সাইবার হয়রানির ব্যক্তিগত প্রভাবকে কেন্দ্র করে তৈরি। এতে অনলাইনে অপব্যবহারের শিকার ব্যক্তিদের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। প্রদর্শনী শেষে, মনের বন্ধু'র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও তাওহিদা শিরোপা ডিজিটাল যুগে মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষার গুরুত্ব নিয়ে একটি আলোচনা সেশন পরিচালনা করেন। এই আয়োজন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের চলমান প্রতিশ্রুতির অংশ, যেখানে অনলাইন গোপনীয়তা, হয়রানি এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজনটি ইন্টারনেটের সঙ্গে সচেতনভাবে যুক্ত থাকা, নিরাপদ ডিজিটাল স্পেস তৈরি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে গল্প বলার ভূমিকা তুলে ধরে। আমেরিকান ফিল্ম শোকেসের সহযোগিতায় এই আয়োজনটি যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেটের একটি প্রোগ্রামের অংশ, যা সাইবার হয়রানি ও মানবাধিকার সম্পর্কিত বিষয়গুলোতে আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপকে উৎসাহিত করে।

কুষ্টিয়ায় বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু, আহত ৫


৪ জনের মৃত্যু
কুষ্টিয়ায় বজ্রপাত। ছবিঃ সংবাদ সাতদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পৃথক দুটি স্থানে বজ্রপাতের ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

বুধবার (৯ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে মথুরাপুর ইউনিয়নের হোসেনাবাদ গড়ের পাড়া ও ফারকপুর গ্রামে বজ্রপাতের ঘটনাটি ঘটে।

নিহতরা হলেন- গড়েরপাড়ার আওলাদ হোসেন (৬০), নিজাম হোসেন (৪২), তরিকুল ইসলাম (২০) ও ফারাকপুরের জহুরা খাতুন (৪০)।

স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাত থেকে আটজন কৃষক মাঠে কাজ করার বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে ফারাকপুর গ্রামে বাড়ির পাশে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আহত হন জহুরা খাতুন। তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, তিনজন পুরুষ ও এক নারীকে মৃত অবস্থা হাসপাতালে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত কয়েকজন চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাড়ছে দুর্ভোগ, ৫০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি

শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাড়ছে দুর্ভোগ; ৫০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাহাড়ি ঢলের পানি কমতে শুরু করায় শেরপুর জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে ঢলের পানি কমলেও বন্যার্তদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।

এদিকে, সোমবার দুপুরে সদরের গাজীখামার থেকে নালিতাবাড়ীর কলসপাড় এলাকায় নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে জিনিয়া বেগম নামে এক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। এনিয়ে শেরপুরে চারদিনে দুই নারী ও এক শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাহাড়ে ভারী বৃষ্টি কিংবা উজানের ভারতীয় ঢল না নামলে নদ-নদীগুলোর পানি আরও কমবে এবং এক-দুই দিনের মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং ঢলের পানি নামার গতি ধীর হওয়ার কারণে গবাদি পশুসহ অনেকেই উঁচু রাস্তার ওপর অবস্থান করছেন এখনও। আবার অনেক জায়গায় বন্যার পানি কমতে থাকায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বন্যার্তরা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। কিন্তু বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি-রাস্তাঘাট মেরামত করে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে নগদ অর্থ সংকট এবং আয় উপার্জনের উপায় না থাকায় বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়ছেন শেরপুরবাসী।

এ অবস্থায় সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে সহযোগিতা কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুর জেলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেছেন খামারবাড়ির উপপরিচালক ড. সুকল্প দাস।

এদিকে ঢলের পানিতে শেরপুরের শিক্ষা ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা মিলিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ৩৪১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলতি বন্যায় ৮৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। যার মধ্যে নালিতাবাড়ী উপজেলাতেই বন্যাকবলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হলো ৬৩টি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ জানান, জেলার ৫ উপজেলায় সর্বমোট ৭৪১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে ৩০২টি। এর মধ্যে ২৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

তারল্য সংকটে ব্যাংকগুলো: সীমিত নগদ উত্তোলনের বিষয়ে হতাশ গ্রাহকরা

 তারল্য সংকটে ব্যাংকগুলো: সীমিত নগদ উত্তোলনের বিষয়ে হতাশ গ্রাহকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত বৃহস্পতিবার ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের (এফএসআইবি) বাসাবো শাখা থেকে ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করতে গিয়ে বিস্মিত হয়েছেন অভিবাসী শ্রমিক আলাউদ্দিন। সম্প্রতি তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছেন।

 লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে তার বাবার চিকিৎসাধীন। তার জন্য টাকা তুলতে আলাউদ্দিনকে ব্যাংক থেকে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা অফার করা হয়।

পরিস্থিতির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি টাকার অংক বাড়ানোর জন্য ব্যাংক কর্মকর্তাদের রাজি করানোর চেষ্টা করেন। তবে তারা তীব্র তারল্য সংকটের কথা উল্লেখ করে মাত্র ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন।

এরপর আলাউদ্দিনকে খুবই হতাশ দেখাচ্ছিল। তিনি  বলেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, এ টাকা আমার বাবার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন, কিন্তু তারা বলেছেন, ব্যাংক নগদ প্রবাহের সংকট রয়েছে। এর বেশি দিতে পারবেন না।এই খরচ আমি কীভাবে মেটাব?’

এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দেশজুড়ে একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে ইউএনবি জানতে পারে, টাঙ্গাইলে এফএসআইবি ও ন্যাশনাল ব্যাংকের শাখাই গত বুধ ও বৃহস্পতিবার গ্রাহকরা জড়ো হন। প্রত্যেকবার লেনদেনে মাত্র ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা অফার করার পরে অনেক গ্রাহক হতাশ হয়ে চলে গেছেন।

এফএসআইবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইউএনবির সঙ্গে কথা বলার সময় এই সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ব্যাংকগুলো নজিরবিহীন তারল্য সংকটে পড়েছে, কারণ গ্রাহকরা তাদের হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিয়েছেন।

একজন কর্মকর্তা বলেন, গ্রাহকদের ধীরে ধীরে কম পরিমাণে অর্থ উত্তোলন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এফএসআইবির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুল মান্নান চ্যালেঞ্জের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘জরুরি চাহিদা মেটাতে চলতি সপ্তাহে ৩০০ কোটি টাকা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এছাড়া ঘাটতি মেটাতে এফএসআইবি তাদের বিনিয়োগ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে।’

মান্নান বলেন, স্বল্প মেয়াদে তারল্য নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আন্তঃব্যাংক ঋণের নিশ্চয়তা দিয়েছিল।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সহসভাপতি মান্নান বলেন, 'ব্যাংকিং খাতের এটি একটি নিয়মিত ব্যবস্থা, যা দেশে বিগত সরকারের আমলে নানা অপব্যবহারের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।’

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের (এনবিএল) চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করে আর্থিক দুরবস্থার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণহীনতাকে দায়ী করেছেন। সবসময় ন্যাশনাল ব্যাংকের সুনাম ছিল, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বল তদারকির কারণে এটি গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে।

এখন পদক্ষেপ নেওয়া এবং তারল্য ঘাটতি ঠিক করা তাদের দায়িত্ব বলে জানান তিনি।

এস আলম ও সিকদার গ্রুপের মতো কোম্পানিগুলো ঋণের অর্থ ফেরত দিতে না পারায় ব্যাংকগুলো পঙ্গু হয়ে পড়ে। এখন আমানতকারীরা ভুগছেন।

দেশে ক্ষমতার পালাবদলের ফলে এসব ব্যক্তির অনেকেই আত্মগোপনে চলে গেছেন অথবা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। ফলে ব্যাংকগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।

সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ১১টি ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করেছে এবং এস আলম ও সিকদার গ্রুপের সম্পদ বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে এসব সম্পদ বিক্রি করা হতে পারে। আমানতকারীদের টাকা যাতে সুরক্ষিত থাকে, তা নিশ্চিত করবে সরকার।

দেশের ৬১টি ব্যাংকের ১১ হাজারের বেশি শাখার অনেকগুলোই নগদ অর্থের তীব্র সংকটে ভুগছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে বাজারে অর্থপ্রবাহ কিছুটা কমেছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ছাত্র বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মাধ্যমে সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে বিষয়টিকে আরও ঘনীভূত হয়েছে। সে সময় ব্যাংকিং কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, এর ফলে নগদ স্থানান্তরে ব্যাপক বিলম্ব এবং লেনদেনে জট তৈরি হয়।

রমজান ঘিরে ভোগ্যপণ্যের মজুত খাতুনগঞ্জে, দাম নিয়ে সংশয়

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: রমজান ঘিরে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ বেড়েছে দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে। সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে ছোলা, মসুর ডাল ও মোটরসহ মসলা জাতীয় পণ্যের। তবে দাম বেড়েছে মুগডালের। তবে সিন্ডিকেটের প্রভাবে রমজানের আগে নতুন করে আবার দাম বাড়ে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদেশে পণ্য বুকিং থেকে শুরু করে গুদামে আসা পর্যন্ত দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগে। অনেক সময় বন্দর থেকে পণ্য ছাড় করতেও সময়ের প্রয়োজন হয়। এখন থেকে পণ্য গুদামজাত না করলে মার্কেট ধরা কঠিন হবে। ইতোমধ্যে প্রচুর পরিমাণ ছোলা, মটর ও মসুর ডাল আমদানি হয়েছে। এছাড়া গত বছরের অনেক পণ্য গুদামে অবিক্রিত থেকে গেছে। সব মিলিয়ে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম সহনশীল পর্যায়ে থাকবে।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, গত ৬ মাসে ছোলা আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ২২৭ মেট্রিকটন। খেজুর আমদানি হয়েছে ৪৪ হাজার ৬৩৪ মেট্রিকটন।

 উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, গত এক সপ্তাতে ছোলা আমদানি হয়েছে ৩০ হাজার মেট্রিকটন ও খেজুর আমদানি হয়েছে ৬ হাজার মেট্রিকটন। এরমধ্যে সপ্তাহের ব্যবধানে ছোলা ও খেজুরের আমদানি বেড়েছে আড়াই থেকে তিন গুণ।

 খাতুনগঞ্জে সরেজমিনে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি হওয়া ছোলা মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে এই ছোলার বাজার দর ছিল ৩৫০০-৩৬০০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে মসুর ডালের দামও কমেছে কিছুটা। গত সপ্তাহে মসুর ডাল মণপ্রতি ৩৪০০ টাকা বিক্রি হলেও এখন কমেছে ১০০ টাকা। তুরস্ক থেকে আমদানি হওয়া জিরার দাম কমেছে মণপ্রতি ২০০ টাকা। মণপ্রতি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে ইউক্রেনে সাদা মটরের দাম কেজিপ্রতি ১ থেকে ২ টাকা কমেছে। খাতুনগঞ্জে মটর পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬৫ টাকা।

এসব পণ্যের সরবরাহ বাড়ায় দাম নিম্নমুখী বলছেন আড়তদারেরা। এদিকে কেজিতে ২০ টাকা দাম বেড়েছে মুগডালের। পাইকারিতে কেজিপ্রতি মুগডাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা।

চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘ভোগ্যপণ্য পর্যাপ্ত মজুদ আছে। রমজানে সংকট হবে না।’

খাতুনগঞ্জের মসলার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কেজিপ্রতি দারুচিনি ৩৮০ টাকা, কিসমিস ৪১০ টাকা, এলাচ মানভেদে ২১শ ৫০ থেকে ২৪শ ৫০টাকা ও লবঙ্গ ১৬শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের ইলিয়াস মার্কেটের মসলা আমদানিকারক মেসার্স হাজী জসিম ট্রেডার্সের ম্যানেজার আশিকুর রহমান জিহান বলেন, ‘রমজান ঘিরে মসলার চাহিদা বাড়ে। সেজন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আশাকরি বাজারে পণ্যের সংকট হবে না।’

দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেকে পেঁয়াজ মজুদ হয় খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মার্কেটের আড়তে। এই মার্কেট কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. ইদ্রিস বলেন, বাজারে এখন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের দাম বেশি। তবুও ১০-১৫দিন ধরে চোরাপথে ভারতীয় পেঁয়াজ আসছে। সেগুলো কেজিতে ১০৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে বলে শুনতে পাচ্ছি।

রমজানে পেঁয়াজের সংকট হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, মার্চে রমজান হবে। ওই সময় দেশীয় পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তাই বাজারে পেঁয়াজের সংকট হবে না। স্বাভাবিকভাবে তখন সরবরাহ বেশি থাকবে তাই দামও স্বাভাবিক থাকে।

বেসরকারি চাকরিজীবী আরাফাত হোসাইন বলেন, সবসময় সংকটের কারণে দাম বাড়ে তা ঠিক না। বেশিরভাগ সময়ে দেখা যায় সিন্ডিকেটের কারণে হঠাৎ করে দাম বেড়ে যায়। এখন আমদানি পর্যাপ্ত থাকলে শেষ পর্যন্ত দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে কি না সেটি সংশয় থেকেই যায়।
স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন