ময়মনসিংহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ময়মনসিংহ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ভীমরুলের কামড়ে বাবা-মেয়ের পর এবার ছেলের মৃত্যু

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় ভীমরুলের কামড়ে বাবা আবুল কাশেম ও মেয়ে লাবিবা আক্তারের মৃত্যুর পর এবার ছেলে সিফাত উল্লাহও মারা গেছে।

শনিবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫ বছর বয়সি সিফাতের মৃত্যু হয়।

এর আগে শনিবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১টার দিকে আবুল কাশেম (৫৫) মারা যান। মেয়ে লাবিবার (৮) মৃত্যু হয় দুপুর ৩টার দিকে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ধোবাউড়ায় বন্যা হওয়ায় শনিবার দুপুরে দুধনই বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুল কাশেম মেয়ে লাবিবা ও ছেলে সিফাতকে নিয়ে নৌকা দিয়ে বাঁশ ঝাড়ের নিচ দিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন। এসময় বাঁশঝাড়ে বাসা বাঁধা তাদের ওপর আক্রমণ করে। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার আবুল কাশেম ও তার দুই সন্তানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তাদের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ময়মনসিংহে দুই ভোটকেন্দ্রে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল ও গফরগাঁও উপজেলার দুইটি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটনা ঘটেছে। ৬ জানুয়ারি শনিবার ভোর ৪টার দিকে গফরগাঁও ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পরশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও সকাল ৯টার দিকে নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা।

গফরগাঁও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ভোর ৪টার দিকে পরশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে তেমন ক্ষতি হয়নি, কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করার মতো পরিস্থিতি আছে।

নান্দাইল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মজিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজ সকাল ৯টার দিকে নান্দাইল সিংরইল ইউনিয়নের হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে অগ্নিকাণ্ডে কেন্দ্রের তেমন ক্ষতি হয়নি।

এ ব্যাপারে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, কারা আগুন দিয়েছে তা চিহ্নিত হয়েছে। ইতোমধ্যে একজনকে আটকও করা হয়েছে।

ওইসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে সমস্যা হবে না বলেও জানান জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী।

বাড়ির জন্য কেনা জমিতে একসঙ্গে ৪ জনের কবর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দাদি, বাবা, আর ছোট দুই বোনের শেষ বিদায়ের সময় বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া জান্নাতুল মারুফা (৮)। একটু দূরে দাঁড়িয়ে চোখের জলে তাদের শেষ বিদায় দিচ্ছিল সে। অটোরিকশাচালক বাবা জামাল উদ্দিন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী মা মরিয়ম আক্তার টাকা জমিয়ে যে আট শতক জমি কিনেছিলেন, সেই জমিতেই ৩১ ডিসেম্বর রোববার সকালে দাফন করা হয় তাদের।

গতকাল শনিবার নান্দাইল উপজেলার বীর ঘোষপালা গ্রামে বসতঘরে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়। তারা হলেন- জামাল উদ্দিন (৪০), তার মা আনোয়ারা বেগম (৭০) এবং জামালের দুই মেয়ে ফাইজা মনি (৬) ও আনিকা (৪)। রোববার সকাল ১০টায় নিহতদের বাড়ির সামনে থাকা ফসলি জমিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের লোক ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন এসে জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষ হওয়ার পর একে একে চারজনের মরদেহ চারটি কবরে নামানো হয়। মাঝখানে জামালের দুই মেয়েকে রেখে দুই পাশে জামাল ও তার মা আনোয়ারাকে দাফন করা হয়।

জামাল উদ্দিনের স্ত্রী মরিয়ম আক্তার ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরি করেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। স্বামী-সন্তানদের মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতে বাড়িতে আসেন তিনি। 

মরিয়ম জানান, স্বামী-স্ত্রীর আয় দিয়ে জমি কিনেছিলেন। সেই জমিতে বাড়ি বানাতে পারেননি। এখন তাকে ছেড়ে সবাই চলে গেলেন। এ কথা বলে কাঁদতে কাঁদতে তিনি মূর্ছা যান।

অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া জামালের বড় মেয়ে জান্নাতুল মারুফা জানায়, দুপুরের পর সে ঘরে ঢুকে দেখতে পায় বাবা, দাদি ও ছোট দুই বোন ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। তখন সে দাদির শরীরে ধাক্কা দেয়। এ সময় সে (মারুফা) প্রচন্ড ঝাঁকি খেয়ে ঘরের এক কোণে গিয়ে ছিটকে পড়ে। তখন দাদি বলে চিৎকার করতে থাকলে কিছুটা দূরে পুকুরে গোসলরত বড় চাচা নুরুল হক ছুটে এসে শুকনো বাঁশ দিয়ে আঘাত করে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করেন।

বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু


নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইলে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর শনিবার বিকেলে উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের ঘোষপালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ঘোষপালা গ্রামের জামাল উদ্দিন (৩২), তার মা আনোয়ারা বেগম (৬৫), শিশু কন্যা আনিকা আক্তার (৪) ও মোছা. ফাইজা (৬)।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে- অটোরিকশাচালক জামাল উদ্দিন নিজের বসতঘরেই অটোরিকশা চার্জ দিতেন। এদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিনে চার্জ দেওয়া অটোরিকশাটি ঘর থেকে বাইরে বের করতে যান তিনি। অসাবধানতায় অটোরিকশাটি বিদ্যুৎতায়িুুুত হয়ে গেলে জামাল উদ্দিন বিদ্যুস্পৃষ্ট হন। এতে জামাল চিৎকার দিলে তার মেয়ে আনিকা ও ফাইজা দৌঁড়ে বাবার কাছে গেলে তারাও বিদ্যুতায়িত হয়। এ সময় জামাল উদ্দিনের মা আনোয়ারা বেগম দৌঁড়ে গিয়ে ছেলে ও নাতিদের ধরলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। 

নান্দাইল মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুল মজিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। 

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন