আহত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আহত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ঈশ্বরদীতে চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত ১

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে মুদি দোকানে চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে সুমন (৩২) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। চোরকে বাধা দিতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের হামলায় দোকানমালিক ও তাঁর দুই ছেলে গুরুতর আহত হন। তাঁরা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

রোববার রাত আনুমানিক ১টায় উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়া ঠান্ডাতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন ওই ইউনিয়নের মহাদেবপুর আজিজলতলা এলাকার মৃত বয়েন মণ্ডলের ছেলে।

স্থানীয় ব্যক্তি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে মুদিব্যবসায়ী হবিবুল ইসলামের দোকানে চুরির উদ্দেশ্যে ঢোকেন সুমন। দোকানের সঙ্গেই বসতবাড়ি হওয়ায় বিষয়টি টের পান হবিবুল। তিনি বাইরে বেরিয়ে এসে আটকানোর চেষ্টা করলে সুমন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে ও তাঁর দুই ছেলেকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। এ সময় তাঁদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে সুমনকে ধরে পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঈশ্বরদী থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য তা পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে ট্রেনের ধাক্কায় রিকশা ও সিএনজি ক্ষতিগ্রস্ত, আহত চারজন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী পৌর শহরের রেলগেটে শানটিং ট্রেনের (বগি সরানোর ট্রেন) ইঞ্জিনের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি রিকশা দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। এই ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল হালিম জানান, তিনি রেলগেট সংলগ্ন একটি দোকানে বসে ছিলেন। ট্রেনটি শানটিং করার সময় রেলগেট খোলা ছিল। ইঞ্জিন রেলগেটের কাছে আসার পরেও গেটম্যান গেট নামাননি। এ সময় একটি পাওয়ার ট্রলি ইঞ্জিনের সামনে দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পর, ইঞ্জিনের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আহতদের মধ্যে রিকশাচালক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘রেলগেট খোলা দেখে রিকশা নিয়ে পার হচ্ছিলাম। হঠাৎ ইঞ্জিন এসে রিকশায় ধাক্কা দেয়। রিকশাসহ আমি ছিটকে রেললাইনের পাশে পড়ে যাই।’

এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তাধীন। দোষী প্রমাণিত হলে লোকোমাস্টার ও গেটম্যানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পাবনায় ছাত্রলীগের সভায় হামলা-ভাঙচুর, সভাপতি আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত পাবনা জেলা ছাত্রলীগের বর্ধিত সভায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সবুজ আহত হয়েছেন। ১৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পাবনা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনের ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নির্বাহী সদস্য মুস্তাকিম মুহিব ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শীষ হাসানের নেতৃত্বে একদল যুবক এ হামলা করেছে বলে অভিযোগ জেলা ছাত্রলীগ নেতাদের।

প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্রলীগ নেতারা জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য কর্মীদের নির্দেশনা দিতে বৃহস্পতিবার দলীয় কার্যালয়ে বর্ধিত সভা আহ্বান করে জেলা ছাত্রলীগ। সভার শুরুতেই শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে নীরবতা পালনের সময় হঠাৎ করেই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মুস্তাকিম মুহিব ও শীষ হাসানের নেতৃত্বে একদল যুবক এসে সভা আয়োজনে তাদের পরামর্শ নেওয়া হয়নি অভিযোগ তুলে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মিজানুর রহমান সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক মীর রাব্বিউল ইসলাম সীমান্তকে ধমকাতে শুরু করেন।

এ সময় তারা আগতদের বসতে বললে তারা চেয়ার ভাঙচুর শুরু করেন ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। আকস্মিক হামলায় নেতাকর্মীরা ছোটাছুটি শুরু করলে সভাপতি সবুজ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ সাবেক নেতারা চেয়ার তুলে আঘাত করলে কপালে লেগে আহত হন সবুজ। পরে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে সভাস্থল ত্যাগ করেন হামলাকারীরা। এরপর জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে আবারো সভা শুরু করেন।

পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মীর রাব্বিউল ইসলাম সীমান্ত বলেন, কতিপয় চিহ্নিত যুবক প্রকাশ্যে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা ছাত্রলীগের কেউ না। পরিকল্পিতভাবে তারা আক্রমণ ও সভা পণ্ডের চেষ্টা করেছে। আমরা এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেব।

পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনের ছেলে মুহিব ছাত্রলীগে সক্রিয় নয়। তারা কোনো কারণ ছাড়াই হামলা করেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

তবে অপ্রীতিকর ঘটনার কথা স্বীকার করলেও হামলার ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি মুস্তাকিম মুহিবের। 

তিনি বলেন, আমরা ছাত্রলীগের সাথে দীর্ঘদিন জড়িত। এই সভাপতি-সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার বছর পেরিয়ে গেলেও তারা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করেনি। নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন দলীয় কার্যক্রমও তারা স্বৈরাচারী প্রক্রিয়ায় পরিচালনা করে। নির্বাচনী কমিটিগুলোতে কেন আমাদের রাখা হচ্ছে না তা জানতে আমরা গিয়েছিলাম। এ সময় তারা আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে বঞ্চিত কর্মীদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টিকে হামলা বলে ঘটনা ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।

এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দলীয় কার্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী বলেন, জেলা ছাত্রলীগের সভায় একটি ঘটনা ঘটেছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কেউ অভিযোগ দেয়নি।

কিশোরগঞ্জে পুলিশের গুলিতে ২ জন নিহত, দাবি বিএনপির

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিএনপির অবরোধ চলাকালে পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ছয়সূতি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম দাবি করেন, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপির দুইজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন বড় ছয়সূতি ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা শেফায়েত উল্লাহ (২০) ও একই ইউনিয়নের কৃষকদল সভাপতি বিল্লাল মিয়া (৩০)।

এ বিষয়ে বাজিতপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার রুখন উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, কুলিয়ারচরে সংঘর্ষে শেফায়েত উল্লাহ নামে একজনের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। তিনি বড় ছয়সূতি গ্রামের কাওসার মিয়ার ছেলে।

তবে এ বিষয়ে জানতে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তুফাকে (ওসি) একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন