শোক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শোক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সাবেক চেয়ারম্যান নেফাউর রহমান রাজু আর নেই


নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি নেতা নেফাউর রহমান রাজু (৫২) আর নেই। 

শনিবার ভোরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।  মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, আত্মীয়-স্বজন এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রাজু রাজনৈতিক জীবনে সাহাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের ভিপি এবং বিএনপির উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি সাহাপুর এলাকার প্রয়াত মাহফুজুর রহমান মাফুর ছেলে।

তিনি শেখ হাসিনার ট্রেনে হামলা মামলার আসামি ছিলেন এবং ওই মামলায় কয়েকবার কারাবাস করেন। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর জামিনে মুক্তি পান এবং পরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

শনিবার বাদ আসর সাহাপুর আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও দলটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। পরে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী সুজেয় শ্যাম আর নেই

সুজেয় শ্যাম
সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক : স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক সুজেয় শ্যাম মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।

তার মেয়ে রূপা মঞ্জুরী শ্যাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরপর রাজধানীর সবুজবাগ বরদেশ্বরী শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

সুজেয় শ্যাম ক্যান্সার, উচ্চ ডায়াবেটিস ও কিডনির সমস্যাসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন।

তার মেয়ে জানান, গত সেপ্টেম্বরে তার হৃদযন্ত্রে পেসমেকার বসানোর পর তার সংক্রমণ শুরু হয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। এ সময় আইসিইউতে শয্যা খালি না থাকায় তাকে সিসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন সুজেয় শ্যাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শেষ গান এবং পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর প্রথম গানের সুরকার হিসেবে সম্মানিত তিনি।

গানটি ছিল “বিজয় নিশান উড়ছে ঐ”। এটি লিখেছিলেন গীতিকার শহিদুল আমিন এবং কণ্ঠ দিয়েছিলেন অজিত রায়; ১৯৭১ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জন্য তার মোট নয়টি গান গাওয়া হয়েছিল।

তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে "রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি", "রক্ত চাই রক্ত চাই", "আহা ধন্য আমার জন্মভূমি" এবং "আয়রে চাষি মজুর কুলি"।

১৯৪৬ সালের ১৪ মার্চ সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন সুজেয় শ্যাম। বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ২০১৮ সালে একুশে পদক এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে ২০১৫ সালে শিল্পকলা পদক লাভ করেন।

তিনি হাছন রাজা (২০০২), জয়যাত্রা (২০০৪), অবুঝ বউ (২০১০) ও যৈবতী কন্যার মন (২০২১) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চারবার শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

চলে গেলেন বিশিষ্ট বাম রাজনীতিক শামসুজ্জামান সেলিম

শামসুজ্জামান সেলিম। ফাইল ছবি 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশিষ্ট বাম রাজনীতিক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুজ্জামান সেলিম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

বৃহস্পতিবার এগারোটার দিকে ঢাকা ধানমন্ডির নিজ বাসায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয় বন্ধ হয়ে তিনি মারা যান। মরহুমের ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ত ম শহিদুজ্জামান নাসিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি

জানান, শুক্রবার সিপিবির দলীয় কার্যালয় আনুষ্ঠানিকতার পর তার মরদেহ ঈশ্বরদীতে এনে শনিবার ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজার নামাজ শেষে দাফন সম্পন্ন করা হবে। 

তাঁর গ্রামের বাড়ি পাবনা ঈশ্বরদী শহরের শেরশাহ রোডে। মৃত্যুকালে আত্মীয়-স্বজন,বন্ধুবান্ধব ও দলীয় বহু নেতাকর্মী রেখে গেছেন।

এদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ঈশ্বরদীর কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুজ্জমান সেলিম এর মৃত্যতে বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কানাডা শাখার আহ্বায়ক শওকত আলী অনু সদস্য সচিব সরোজ দাস গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার মৃত্যুতে জাতি এক জন দেশ প্রেমিক রাজনীতিবিদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হারালেন। আল্লাহ পাক তাঁকে বেহেস্ত নসিব করুন। 

ঈশ্বরদীর সাবেক সাংসদ মঞ্জুর রহমান বিশ্বাস আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া) আসনের সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর রহমান বিশ্বাস (৭৪) মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন।

মঞ্জুর রহমান বিশ্বাসের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রয়াতের ভাগিনা ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কিরণ।  

মরহুমের প্রথম জানাজা বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঞ্জুর রহমান বিশ্বাসের জন্মভূমি ঈশ্বরদী উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারি গ্রামে বাদ আসর দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিউ এরা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। মঞ্জুর রহমান বিশ্বাস স্থানীয় সাংবাদিকদের অকৃত্রিক বন্ধু ছিলেন। তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য নিরলস ভূমিকার পালন করেন। রাজনীতিসহ বহুমুখী কর্মময় জীবনে মঞ্জুর রহমান সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেও যুক্ত ছিলেন।

এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর রহমান বিশ্বাসের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস এমপি। শোকবার্তায় মহান মুক্তিযুদ্ধে মঞ্জুর রহমান বিশ্বাসের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। শোক প্রকাশ করেছে ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েব আলী বিশ্বাস, পৌর মেয়র ইছাহক আলী মালিথা ও ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন