অবরোধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অবরোধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

১১ ঘণ্টা অবরোধের পর শাহবাগ ছাড়লেন চিকিৎসকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা যাবত রাজধানীর ব্যস্ততম শাহবাগ মোড় আটকে রেখে আন্দোলনের পর অবশেষে অবরোধ ছাড়লেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা। রাত ১০টার দিকে নতুন কর্মসূচি দিয়ে তারা শাহবাগ ছাড়েন বলে জানা গেছে।

এর আগে বেলা ১১টার শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন তারা। এতে করে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকা পোস্টকে শাহবাগ ছাড়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস সোসাইটির সভাপতি ডা. জাবির হোসেন।

তিনি বলেন, আজকের মতো আমরা আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছি। তবে আমরা আমাদের দাবিগুলো স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে জানাতে আগামীকাল (সোমবার) বেলা ১১টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে যাব। এটাই আপাতত আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি।

ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস সোসাইটির সভাপতি বলেন, আমরা জানি আমাদের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা খুবই প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি। তিনি নিশ্চয়ই আমাদের কষ্টগুলো বুঝবেন। আমাদের এখন একটা আশা, তিনি যদি আমাদের সমস্যাগুলো বোঝেন, আশা করি ভালো কিছু হবে।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টায় দিকে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। এসময় তিনি ট্রেইনি চিকিৎসকদের আগামী জুলাই থেকে ভাতা বাড়িয়ে ৩৫ হাজার টাকা করার আশ্বাস দেন। দেশের সংকটময় সময়ে সরকারকে সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান। তবে চিকিৎসকরা তার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

অবরোধ সফল করতে রাজধানীতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের একদফা এবং তফসিল বাতিলের দাবিতে ১০ম দফায় বিএনপির ডাকা ৪৮ ঘণ্টা অবরোধ সফল করতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা

৬ ডিসেম্বর বুধবার ঢাকার শহীদবাগ মোড় থেকে শাহজাহানপুর আমতলা, সেগুনবাগিচা এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মীরা।

মিছিলগুলোতে উপস্থিত ছিলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সহ সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব ফরাজী, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র সহ-সভাপতি এসএম সায়েম, সহ সভাপতি মনির হোসেন মৃধা, যুগ্ম সম্পাদক কাজী মহিউদ্দিন মহী, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক প্রমুখ।

অবরোধ সফলে বুধবার দুপুরে দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্র দলের নেতারা রাজধানীর মগবাজার এলাকায় ঝটিকা মিছিল করেছে। 

এছাড়া রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় অবরোধ সফলে আরেকটি ঝটিকা মিছিল করেছে যুবদলের নেতাকর্মীরা। এতে অংশ নেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. মহসীন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল আনোয়ার আহমেদ, আবদুল জব্বার খান, সহসাধারণ সম্পাদক আলমগীর হাসান সোহান, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক রুহুল ইসলাম মনি প্রমুখ।

এছাড়া এদিন সকালে জবি ছাত্রদল সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান আসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লার নেতৃত্বে বাবুবাজার ব্রিজে আগুন জ্বালিয়ে মিছিল করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। মিছিল শেষে ফেরার পথে পুলিশ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক সমুন সর্দার, জাফর আহম্মেদ ও মাসফিক আটক করে বলে দাবি করা হয় সংগঠনের পক্ষে থেকে।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

 ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ পান কমিশনার কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রমনা থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম তিনি বলেন, আমরা বিস্ফোরণের শব্দ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। কী ঘটেছে তা খতিয়ে দেখছি।

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কর্মচারী মো. জুয়েল বলেন, ‘আমরা কার্যালয়ের নিচে দাঁড়িয়েছিলাম। বিকেল ৩টা ৫ মিনিটের দিকে হঠাৎ কার্যালয়ের পকেট গেটের বাম পাশের কড়ই গাছের ওপরের দিকে বিকট শব্দ হয়। এরপর চারপাশে ধোঁয়া দেখা যায়। এ ঘটনায় উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।’

বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন।

এদিকে, আজ সারা দেশে বিএনপি-জামায়াতের ডাকে ১২ ঘণ্টার হরতাল চলছে। এর মধ্যেই দেশব্যাপী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার কাজ চলছিল। নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন আজ।

দুপুরের দিকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাবিরুল ইসলাম জানান, শেষ দিনে এখন পর্যন্ত ৫৩টি মনোনয়ন ফরম জমা পড়েছে।

নাটোরে দাঁড়িয়ে থাকা ৩টি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় পাটোয়ারী ফিলিং স্টেশনে পার্কিং করা জিএম ট্রাভেলসের তিনটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ গিয়ে আগুন নেভায়। এতে জিএম ট্রাভেলসের তিনটি বাস সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

২৭ নভেম্বর সোমবার ভোর ৫টার দিকে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার মহিষভাঙ্গা এলাকায় পাটোয়ারী ফিলিং স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় পাটোয়ারী ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিনের মতো জিএম ট্রাভেলসের বাস পার্কিং করে রাখা হয়। ভোরে দুর্বৃত্তরা এসে তিনটি গাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের দৃষ্টিতে আসে। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে তিনটি বাস পুড়ে যায়।

বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আজম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে পুলিশের টিম কাজ শুরু করেছে। দ্রুত সময়ের ভেতর তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

২৬ ও ২৭ নভেম্বর ফের অবরোধ বিএনপির


নিজস্ব প্রতিবেদক: দুই দিনের বিরতি দিয়ে আগামী ২৬ ও ২৭ নভেম্বর (রবি ও সোমবার) ৪৮ ঘণ্টা দেশব্যাপী সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিএনপি।

২৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, অবৈধ আওয়ামী সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুনপ্রতিষ্ঠা, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসা এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সকল বিএনপি নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এবং অবৈধ তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে আগামী ২৬ নভেম্বর রোববার ভোর ৬টা থেকে ২৮ নভেম্বর মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টা সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে রিজভী বলেন, এক বিশেষ পরিস্থিতি ও দুর্যোগ দুর্বিপাকের মধ্যে আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে হচ্ছে। দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেন না। স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। আর সরকার প্রতিনিয়ত ধাপ্পাবাজি করছে জনগণের সঙ্গে। সরকার প্রধান বলেছেন, ‘নির্বাচনে আসুন কার কত দৌড় আমরা দেখি’। নির্বাচনে দৌড়াবেন তো আপনি, আপনার মনের মতো করে তৈরি করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন তাদেরকে নিয়ে আপনি দৌড়াবেন। জনগণ তো প্রতিযোগিতার জন্য দৌড়াতে পারবে না। কারণ জনগণকে আপনি বন্দি করে রেখেছেন। 

তিনি বলেন, গণতান্ত্রকামী মানুষ আজ বন্দি জীবন যাপন করছে। বিএনপির অধিকাংশ নেতাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) কারাগারে দিয়েছেন। আমাদের দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলে ঢুকিয়েছেন। মাঠ খালি করে একা দৌড়ানোর জন্য আপনি রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করেছেন। আমরা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, আন্ডারগ্রাউন্ড দল নই। আমরা রাস্তায় প্রতিবাদ করি সকল অন্যায়ের। আর এই অপরাধেই আপনি গ্রেপ্তার করছেন । গ্রেপ্তারের জন্য মহাউৎসব শুরু করেছেন আপনি। প্রাণভরে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করেছেন আপনি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, একতরফা নির্বাচন, দুর্নীতি এবং টাকা পাচার করতে আপনি এবং আপনার সরকার পছন্দ করেন। একতরফা নির্বাচনী দৌড় আপনি দেবেন। তবে বলে রাখছি, এটা বাংলাদেশ। দেশের অসংখ্য মানুষের রক্তের বিনিময়ে এ দেশ গঠিত হয়েছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আপনি কিছু কিছু দেশকে সব উজাড় করে দিয়েছেন। 

উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সেদিন এক পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং অনেকে আহত হন। সমাবেশ ভন্ডুল করার প্রতিবাদে পরদিন হরতাল আহ্বান করে বিএনপি। ওইদিন বিএনপি মহসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পরের কয়েকদিনে মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় সব কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এসব গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং সরকারের পদত্যাগের আগে থেকে চলা এক দফা দাবিতে ৩১ অক্টোবর থেকে মোটামুটি লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে আসছে বিএনপি। এর মধ্যে তফসিল ঘোষিত হওয়ায় এর প্রতিবাদে ২ দিন হরতাল পালন করা হয়। এখন নিয়মিতভাবে সপ্তাহের মঙ্গলবার বাদে বাকি চারদিন অবরোধ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

বুধবার থেকে ষষ্ঠ দফায় ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১ দফা দাবিতে ষষ্ঠ দফায় ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

২০ নভেম্বর সোমবার বিকেলে ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 

রিজভী বলেন, ২২ নভেম্বর বুধবার ভোর ৬টা থেকে ২৪ নভেম্বর শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত সারাদেশে টানা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। আমি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক সব দলকে এই কর্মসূচি পালন করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এই কর্মসূচিকে সফল করার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে দেশবাসীকেও আহ্বান জানান রিজভী। 

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে বিএনপির ৪৮০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাবি করে রিজভী বলেন, সরকারি দল ও আওয়ামী লীগের হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় বিএনপির ৮০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোর ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের কর্মসূচি শেষ হবে ২১ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৬টায়।

আবারও ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আগামী ১২ নভেম্বর রোববার সকাল ৬টা থেকে ১৪ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আবারও ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। 

৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, আগামী ১২ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে ১৪ নভেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে। অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে অ্যাম্বুলেন্স, অক্সিজেন সিলিন্ডার বহনকারী গাড়ি ও গণমাধ্যমের গাড়ি।

এসময় রিজভী দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে বিএনপির ৩৬৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছে ৫০ জন। আর গত ২৮ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে নয় হাজার ৮৩১ জন। এক সাংবাদিকসহ নিহত হয়েছেন মোট ১২ জন নেতাকর্মী।

এর আগে, সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দিদের মুক্তির দাবিতে ৮ নভেম্বর বুধবার সকাল ৬টা থেকে ১০ নভেম্বর শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত অবরোধের ঘোষণা দেয় বিএনপিসহ সমমনা বিরোধী দলগুলো। তাদের ডাকা তৃতীয় দফার ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শেষ হচ্ছে আগামীকাল শুক্রবার সকাল ৬টায়।

এবারের অবরোধ কর্মসূচিতে খুব একটা সক্রিয় হতে পারেনি বিরোধী দলগুলো। তাই কর্মসূচির ধরনে এবার পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপিসহ সমমনা বিরোধী দল ও জোটগুলো।

নাম না প্রকাশে বিএনপির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, টানা অবরোধ কর্মসূচি চলতে থাকলে মানুষের মধ্যে বিরক্তি চলে আসবে। নেতাকর্মীরাও হতাশ হয়ে যাবে। এমনিতে নেতাকর্মীরা ঘর-বাড়িতে থাকতে পারছে না। 

এদিকে, গত ১৩ দিনের মতো আজ বৃহস্পতিবারও বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ রয়েছে। কার্যালয়ের গেটে পড়ে আছে নির্বাচন কমিশনের সংলাপের আহ্বান জানিয়ে দেওয়া চিঠিসহ বিভিন্ন চিঠি। আর প্রতিদিনের মতো আজও দলটির কার্যালয়ে দুই পাশে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।

পাবনা ও ঈশ্বরদীতে জামায়াত-ছাত্রদলের সাবেক নেতাকর্মীদের মহাসড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনায় জামায়াত-ছাত্রদলের সাবেক নেতাকর্মীদের মহাসড়ক অবরোধ পাবনায় বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা দুই দিনের অবরোধের প্রথম দিন ঢাকা-পাবনা ও পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদলের সাবেক নেতাকর্মী ও জামায়াতে ইসলামী।

৫ নভেম্বর বুধবার সকালে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জামায়াতে ইসলামীর নেতার্মীরা। পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের দাশুড়িয়া গোলচত্বরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নেতাকর্মীরা। বেশ কিছুক্ষণ সড়ক অবরোধ করে স্লোগান দেন তারা।

জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম, পেশাজীবী সেক্রেটারি ডা. মুনসুর রহমান, সমাজকল্যাণ সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান খান, প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মাসুদ রানা মাসুম, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

অপরদিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পাবনা হোমিওপ্যাথিক কলেজের সামনে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত সাবেক নেতাকর্মীরা। এসময় মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন।

পাবনা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তসলিম হাসান খান সুইটের নেতৃত্বে অবরোধ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ রানা, পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান হোসেন হৃদয়, পাবনা জেলা যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক বাহার হোসেন, জেলা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহবুব সুজন, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহবুব সুজন, জেলা যুবদল নেতা সোহানুর রহমান শোভন বিশ্বাস, সোহেল রানা ও খালিদ হোসেন হৃদয় প্রমুখ।

কিশোরগঞ্জে পুলিশের গুলিতে ২ জন নিহত, দাবি বিএনপির

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিএনপির অবরোধ চলাকালে পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ছয়সূতি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম দাবি করেন, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপির দুইজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন বড় ছয়সূতি ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা শেফায়েত উল্লাহ (২০) ও একই ইউনিয়নের কৃষকদল সভাপতি বিল্লাল মিয়া (৩০)।

এ বিষয়ে বাজিতপুর জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার রুখন উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, কুলিয়ারচরে সংঘর্ষে শেফায়েত উল্লাহ নামে একজনের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। তিনি বড় ছয়সূতি গ্রামের কাওসার মিয়ার ছেলে।

তবে এ বিষয়ে জানতে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তুফাকে (ওসি) একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন