রাজনীতিবিদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাজনীতিবিদ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে পদক্ষেপ নিন: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তারেক

নিজস্ব প্রতিবেদক: অপশক্তির যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) নয়াপল্টনে এক বিশাল সমাবেশে তারেক রহমান এই আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, 'আমি স্বাধীনতাকামী মানুষকে একটি বিষয়ে সতর্ক করতে চাই, আমি নিজেও সজাগ থাকতে চাই যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্র এখনো বন্ধ হয়নি ‘

বিএনপির এই নেতা বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে দুর্বল করতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সহযোগীরা এখনও দেশের প্রশাসনে, বিভিন্ন পদে এবং বিদেশেও সক্রিয় রয়েছেন।

তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি তার দলের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রশাসনকে কখনও ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।

তারেক বলেন, ‘তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যদি নিজেদের সতর্ক রাখতে চায়, তাহলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এটা এখন জনগণের দাবি।'

তিনি একটি সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটানোয় দেশের জনগণ ও ছাত্রদের অভিনন্দন জানান।

তারেক রহমান বলেন, '১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের বন্ধু ও শত্রুর মধ্যে পার্থক্য করার দিন, আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল বাংলাদেশের শত্রু চিহ্নিত করার দিন।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি যতদিন ঐক্যবদ্ধ থাকবে ততদিন দেশের স্বাধীনতাকে কেউ খর্ব করতে পারবে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, তাদের এই সমাবেশের লক্ষ্য কারও বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় তোলা নয়, বরং দেশের স্বার্থ রক্ষা, ভোট ও জনগণের অন্যান্য অধিকার রক্ষার মিছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘রাজপথে লাখো মানুষের এই মিছিল অগণিত ছাত্র-নাগরিক ও শহীদ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আহত মানুষের স্বপ্নের গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যয়ের মিছিল।’

তারেক জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে না আসে তা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক নাগরিকের ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সরকার পর্যন্ত যারা প্রতিনিধি হতে চায় তারা যতদিন জনগণের ভোটের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না, ততদিন জনগণ গণতন্ত্রের সুফল পুরোপুরি ভোগ করতে পারবে না।’

তারেক বলেন, যদি তাদের(জনগণের) সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার নিশ্চিত না করা যায়, তাহলে স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশেও নিম্ন আয়ের মানুষকে বাজার সিন্ডিকেটের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, 'আসুন আমরা নিশ্চিত করি যে এই বিশাল মিছিল বৃথা যাবে না। এই প্রত্যাশা নিয়েই আমি এই সমাবেশের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর বলেন, অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তার দোসররা এখনো সর্বত্র লুকিয়ে আছে, নানাভাবে বাংলাদেশের ক্ষতি করতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্য জোরদার করে বাংলাদেশকে ধ্বংস করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে। ‘কোনো স্বৈরশাসককে আর জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই এবং নিশ্চিত করি যে, বাংলাদেশে শুধু গণতন্ত্রই বিরাজ করবে।’

পরে 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করে দলটি।

বিকাল ৩টা ৩২ মিনিটে সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এর আগে দুপুর থেকেই রঙিন টুপি পরে নয়াপল্টনে জড়ো হওয়া বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী বড় ধরনের শোডাউনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেন।

দলের শীর্ষ নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে তারা নির্বাচন ও তারেক রহমানসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে স্লোগান দেন।

কাকরাইল মসজিদ ও ফকিরাপুল ও আশপাশের এলাকা বিএনপির সমর্থকদের পদচারণায় কানায় কানায় পূর্ণ থাকায় ওই এলাকায় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়।

সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব মোস্তাফা কামাল ৩ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যুবদল নেতা শামীম হত্যার অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক তন্ময় কুমার বিশ্বাস তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম থেকে মোস্তাফা কামাল উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী মহাসমাবেশ ডাকে বিএনপি। ওই মহাসমাবেশ পণ্ড করার জন্য একই দিনে আওয়ামী লীগ পাল্টা সমাবেশ ডাকে। ওইদিন বিএনপির ঢাকার মহাসমাবেশে হামলা চালানো হয়। এসময় যু্বদল নেতা শামীম নিহত হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

হিন্দন থেকে এখন দিল্লির লুটিয়েনসে রয়েছেন হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৫ আগস্ট ঢাকার গণঅভ্যুত্থানের পর পালিয়ে এসে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ভারতের নয়াদিল্লির লুটিয়েনস বাংলোতে বসবাস করছেন।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে উত্তর প্রদেশের হিন্দন বিমান বাহিনী ঘাঁটি থেকে ইন্ডিয়া গেট এবং খান মার্কেটের কাছে মধ্য দিল্লিতে নিরাপদ বাংলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা।

তার বাসভবনটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) একটি সেফহাউস বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে চলমান মৃত্যুর হুমকির কারণে কঠোরভাবে সুরক্ষিত বলেও জানা গেছে।

প্রথম তাকে স্থানান্তরিত করার কথা জানায় দ্য প্রিন্ট। এরপর হিন্দুস্তান টাইমস নিশ্চিত করেছে, তার বাসভবনের চারপাশে একাধিক স্তরের সুরক্ষা রয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্মকর্তা ও দিল্লি পুলিশের কমান্ডোরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।

প্রায় দুই দশক ধরে শেখ হাসিনা ঢাকায় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের জন্য নির্মিত ৩৬০০ বর্গমিটার আয়তনের প্রাসাদে বসবাস করতেন।

কিন্তু ৫ আগস্ট শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ তাকে ক্ষমতাচ্যুত করলে তিনি ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তার মেয়াদকালে সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে।

বাংলোর নিরাপত্তায় দিল্লি পুলিশের কমান্ডো ইউনিট এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির 'ওয়াচার অ্যান্ড স্পটার' রয়েছেন।

এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হিন্দন থেকে যখন হাসিনাকে স্থানান্তর করা হয়, তখন প্রথমে দিল্লি পুলিশের একজন সাব-ইনস্পেক্টরকে আইবি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

সাব-ইন্সপেক্টরকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তিনি যেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও অভিযান সম্পর্কে কোনো বিবরণ না দেন। এমনকি আইবি ও এমইএ কর্মকর্তারা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিন পর তার নিরাপত্তার দায়িত্ব থেকে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

দিল্লিতে অবস্থিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আঞ্চলিক পরিচালক শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ তিনিও নিরাপত্তার সুরক্ষায় রয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কঠোর প্রোটোকলের মধ্যে দু'জনের দেখা হয়েছে।

এর আগে ১৯৭৫ সালে পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ছয় বছর দিল্লিতে অবস্থান করেন শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা।

২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকা শেখ হাসিনা রাজনৈতিক নিপীড়ন ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এই অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ফিনান্সিয়াল টাইমস লোধি গার্ডেনে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক উপস্থিতির প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইঙ্গিত দেয়, তিনি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে থাকলেও মাঝে মাঝে জনসমক্ষে বেড়াতে গেছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী মারা গেছেন

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী মারা গেছেন। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

এভারকেয়ার হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাবেক মন্ত্রী ও মতিয়া চৌধুরীর মামা মোস্তফা জামাল হায়দারও তার মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে দুপুর ১টার দিকে মারা যান মতিয়া চৌধুরী। আরিফ মাহমুদ বলেন, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত মতিয়া চৌধুরীকে সকালে হাসপাতালে আনা হয়েছিলো। এরপরই আমরা ইসিজি করে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করি। শেষ পর্যন্ত আমরা সব ধরনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সফল হতে পারিনি। দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মতিয়া চৌধুরীর জন্ম ১৯৪২ সালের ৩০ জুন পিরোজপুরে। তার বাবা মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মা নুরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী। ১৯৬৪ সালের ১৮ জুন খ্যাতিমান সাংবাদিক বজলুর রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মতিয়া চৌধুরী।

তিনি ইডেন কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৫ সালে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৭ সালে ‘অগ্নিকন্যা’ নামে পরিচিত মতিয়া পূর্ব পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন এবং এর কার্যকরী কমিটির সদস্য হন। ১৯৭০ ও ১৯৭১ এর মাঝামাঝি সময়ে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, প্রচারণা, তদবির এবং আহতদের শুশ্রুষায় সক্রিয় অংশগ্রহণকারী ছিলেন।

১৯৭১ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সময়কালে তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হন।

১৯৯৬ ও ২০০৯ এবং ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ শাসনামলে কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মতিয়া চৌধুরী। সর্বশেষ তিনি আওয়ামী লীগের ১ নং প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

জাতীয় ঐক্যের ডাক জামায়াত আমিরের

জাতীয় ঐক্যের ডাক জামায়াত আমিরের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঐক্য ও ন্যায়বিচারের আহ্বান জানিয়ে জাতিকে রাজনীতি ও ধর্মীয় বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (৫ অক্টোবর) গাজীপুরের রাজবাড়ী ময়দানে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

তিনি একটি জাতি হিসেবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং ন্যায়ের জন্য যারা লড়াই করেছেন তাদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানানোর গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি চাই।’

তিনি বলেন, ‘দল বা ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। এখানে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই। এই দেশে আমরা সবাই সমান।’

তিনি বলেন, শহীদদের পরিবারকে তাদের প্রাপ্য সম্মান দিয়ে আচরণ করা উচিত। সরকারের কাছে প্রতিটি পরিবার থেকে কমপক্ষে একজন সদস্যকে সম্মানজনক চাকরি দেওয়ার দাবি জানান। তিনি আন্দোলনের সময় যারা আহত হয়েছেন তাদের সহযোগিতা করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তারা যাতে অন্যের করুণার উপর নির্ভরশীল না হন তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

শফিকুর বলেন, 'আমরা জাতিকে আর বিভক্ত হতে দেব না। যারা আমাদের বিভক্ত করতে চায় তারাই দেশের শত্রু। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় ভিত্তিতে আমাদের বিভক্ত করার আর কোনো সুযোগ থাকবে না।’

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিচার বিভাগের আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, আমরা এমন বিচারক চাই, যিনি পক্ষপাতহীনভাবে ন্যায়বিচারকে সমুন্নত রাখতে পারবেন। ‘কোনো দুর্বৃত্ত যেন বিচারকের চেয়ারে বসতে না পারে। ন্যায়বিচার হোক আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে।’

তিনি শহিদদের স্বীকৃতি দিতে এবং তাদের গল্পগুলো শিক্ষাগত পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম তাদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে পারে। তিনি বলেন, ‘শহীদরা জাতীয় সম্পদ এবং রাষ্ট্রকে অবশ্যই তাদের পরিবারের প্রতি নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে শফিকুর রহমান ঐক্যের ডাক দিয়ে বলেন, 'আমরা সব বিভেদ দূরে সরিয়ে রেখেছি। এখন আমাদের কর্তব্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে একসঙ্গে দেশকে গড়ে তোলা।’

বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি গঠন করলেন অভিনেতা সোহেল রানা

বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি গঠন করলেন অভিনেতা সোহেল রানা
মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢালিউড অভিনেতা, মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ মাসুদ পারভেজ ওরফে সোহেল রানা 'বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি' নামে একটি নতুন রাজনৈতিক সংগঠন গঠন করেছেন।


বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে বর্ষীয়ান এই অভিনেতার সভাপতিত্বে দল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

নতুন দলের ৫১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হবে এ মাসের শেষে অথবা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। শান্তির প্রতীক পায়রাকে দলের আনুষ্ঠানিক প্রতীক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ঢালিউডের 'সোনালি যুগ' খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ছাত্রজীবনে ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে পড়ার সময় তিনি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।

১৯৬৫ সালে তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সহকারী সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬৮ সালে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সোহেল রানা ইকবাল হলের ভিপি নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়ামের সদস্যপদ গ্রহণ করে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নির্বাচনি উপদেষ্টা নিযুক্ত হন।

প্রবীণ ও প্রশংসিত রুপালি পর্দার অভিনেতা সোহেল রানা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই প্রযোজক হিসেবে পারভেজ ফিল্মস প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে দেশের চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন।

এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে প্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলাম ১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'ওরা ১১ জন' নির্মাণ করেন।

১৯৭৩ সালে প্রয়াত কথাসাহিত্যিক কাজী আনোয়ার হুসাইনের বিখ্যাত স্পাই থ্রিলার সিরিজ 'মাসুদ রানা'র গল্প অবলম্বনে 'মাসুদ রানা' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিনেতা ও পরিচালক হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু হয়।

অভিনেতা হিসেবে চলচিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য সোহেল রানা তার ক্যারিয়ারে আজীবন সম্মাননাসহ তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

নিজেদের প্রতীকে আস্থা নেই, নৌকা নিয়ে ভোট করবেন ইনু-মঞ্জু-মেনন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলীয় জোটের নেতাদের নিজেদের দলীয় প্রতীকে আস্থা নেই। এজন্য এবার দলীয় প্রতীক ছেড়ে নৌকা প্রতীকে ভোট করবেন জোটের হেভিওয়েট তিন নেতা হাসানুল হক ইনু, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও রাশেদ খান মেনন। এছাড়া আ. লীগ থেকে ছেড়ে দেওয়া বাকি ৩ আসনেও জোটের প্রার্থীরা নৌকা মার্কায় ভোট করবেন।

১৭ ডিসেম্বর রোববার প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার সঙ্গে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলমের বৈঠকের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবারও নিজ দলের প্রতীক মশাল ছেড়ে নৌকা ধরেছেন। একাদশ সংসদের মতো দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকে ভোটে লড়বেন তিনি। কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে লড়বেন জোটের এ নেতা।

নিজস্ব প্রতীক ছেড়ে জাসদ নেতা এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন বগুড়া-৪ থেকে এবং লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসন থেকে জাসদ নেতা মোশারফ হোসেনও নৌকা প্রতীকে লড়বেন।

এ ছাড়া, জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পিরোজপুর-২ আসন ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর আগে জাতীয় পার্টি-জেপির প্রতীক সাইকেল নিয়ে ভোটের মাঠে লড়লেও এবার তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়বেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন

নিজেদের প্রতীক হাতুড়ি ছেড়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবারও লড়বেন নৌকা প্রতীকে। নিজস্ব প্রতীক ছেড়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাও রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে নৌকা প্রতীকে ভোটের মাঠে থাকবেন। 

প্রসঙ্গত, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের জন্য ৩২ আসন ছেড়ে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে জাতীয় পার্টিকে ২৬টি এবং শরিকদের জন্য ৬টি আসন ছাড় দিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে দলটি।

আ.লীগের নির্বাচনী ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না : ১২ দলীয় জোট

 নিজস্ব প্রতিবেদক: স্টেশনে বিকল হওয়া আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন ১২ দলীয় জোটের নেতারা। তারা বলেছেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো একতরফা এ নির্বাচন জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

শেখ হাসিনার পদত্যাগ-রাজবন্দিদের মুক্তি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার দাবিতে রোববার দুপুরে অবরোধের সমর্থনে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে মিছিল বের করেন জোটের নেতারা। মিছিলটি বিজয় নগর হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে জোটের মুখপাত্র শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘এ সরকারের পতনঘণ্টা অতীব নিকটে। আওয়ামী লীগ দেউলিয়া হয়ে এখন বিভিন্ন দলছুট নেতাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছে।’ 

দলছুট নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘অবৈধ ভোটে এমপি-মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন ভুলে যান। শেষ বেলায় গিয়ে দেখবেন এই প্রতারক আওয়ামী লীগ আপনাদের একটি করে শেখ মুজিবের কম্বল ধরিয়ে দেবে।’

সরকারের পায়ের তলায় মাটি নাই— উল্লেখ করে সেলিম বলেন, তারা এখন পুলিশ বাহিনীর ওপর ভরসা করে টিকে আছে। তারা দেশকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। তাদের ক্ষমতায় রাখলে বাংলাদেশ কঠিন বিপদে পড়বে।

বিক্ষোভ মিছিল অংশ নেয় জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য নওয়াব আলী আব্বাস খান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ফারুক রহমান, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামী বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ।

‘জয় বাংলা, জিতবে আবার নৌকা’ গানের নতুন সংস্করণের মুক্তি


নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘টিম জয় বাংলা’র একদল তরুণ শিল্পীর বানানো ‘শেখ হাসিনার সালাম নিন/নৌকা মার্কায় ভোট দিন/জয় বাংলা/জিতবে আবার নৌকা’ গানটির নতুন সংস্করণ মুক্তি পেয়েছে।

১৮ নভেম্বর শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভিশন ২০২১ টাওয়ার-১ (সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক) এর ২য় তলার কনফারেন্স রুমে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সাড়া জাগানো গানটির নতুন সংস্করণের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল ও গানটির প্রযোজক ও গীতিকার তৌহিদ হোসেন। এসময় সঙ্গে ছিলেন গানটির শিল্পী ও সুরকার সরোয়ার ও জিএম আশরাফ, সংগীত পরিচালক ডিজে তনু ও এলএমজি বিটস।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক সাড়া ফেলে গানটি। বিগত কয়েক বছরের উপজেলা নির্বাচন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, বিভিন্ন আসনের উপ-নির্বাচনসহ সব নির্বাচনেই গানটির জনপ্রিয়তা ছিল সর্বোচ্চ। তারই ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের গেল পাঁচ বছরের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা তুলে ধরে গানটির নতুন সংস্করণ বানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল বলেন, গত নির্বাচনের আগে টিম জয় বাংলার এক দল সৃজনশীল তরুণ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণার জন্য গানটি বানিয়েছিল। যার মাধ্যমে উৎসবের আমেজ পেয়েছিল নির্বাচনী প্রচারণা। এবার সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা তুলে ধরে নতুন সংস্করণ বানিয়েছে তারা। গতবারের মতো এবারও নতুন গানটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে আমার বিশ্বাস। আর সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই, এবারের নির্বাচনী প্রচারণাতে যেন তারা নতুন এ গানটি ব্যবহার করেন।

গানটির গীতিকার এবং প্রযোজক তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের প্রচারণার জন্য নিজেদের উদ্যোগে গানটি তৈরি করেছিলাম আমরা। প্রথম গানটির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আর এবারের নতুন সংস্করণে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন অগ্রযাত্রা, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, মহামারি করোনা জয়ের বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘গতবারের মতো এবারও গানটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উৎসর্গ করেছি।’
স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন