রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

অভ্যুত্থানের অগ্রভাগ থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্বে

নিজস্ব প্রতিবেদক: তারা ছিলেন শিক্ষাঙ্গনের নানা অসঙ্গতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর। সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত হলে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হন তারা।

রাজপথে গড়ে তোলেন আন্দোলন। সেই আন্দোলন দমনে তৎকালীন শেখ হাসিনার সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নেয়। স্বৈরাচারের লেলিয়া দেওয়া বাহিনীর গুলিতে রাজপথে রক্তের নদী বয়ে যায়। ঝরতে থাকে শত শত তরতাজা প্রাণ। এক পর্যায়ে তারা স্বৈরাচারের পতনেরই ডাক দেন। তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে আন্দোলন দুর্বার করে তোলে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বশক্তি প্রয়োগ করেও গদি টেকেনি স্বৈরাচারের। গণঅভ্যুত্থানে পতন ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা পালিয়ে যান ভারতে।

সেই অভ্যুত্থানের অগ্রভাগে যারা ছিলেন তাদের উদ্যোগে শুক্রবার আত্মপ্রকাশ ঘটেছে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের। তারুণ্যনির্ভর এ রাজনৈতিক দলের নাম দেওয়া হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি-এনসিপি)। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফার ঘোষক মো. নাহিদ ইসলামকে। আর সদস্য সচিব করা হয়েছে অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক আখতার হোসেনকে। এছাড়া অন্যান্য শীর্ষ নেতা হিসেবে যাদের নাম ঘোষিত হয়েছে, তারাও জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদ পতনের আন্দোলনের সামনের ভাগেই ছিলেন।

স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন

দেশের শিক্ষাঙ্গনসহ সমাজে যে কোনো অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অতীতে প্রতিবাদীর ভূমিকায় দেখা গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, আসিফ মাহমুদ, হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলমসহ অন্যদের। এদের মধ্যে আখতার-আসিফরা হাসিনার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

২০২৪ সালের জুন মাসে হাইকোর্টের রায়ে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা ফিরে আসে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন তারা। সেখানে সমন্বয়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ, আব্দুল কাদের, উমামা ফাতেমা, সারজিস আলম, আবু বাকের মজুমদার, মাহিন সরকার, আব্দুল হান্নান মাসউদ, নুসরাত তাবাসসুম, রাফিয়া রেহনুমা হৃদি, রিফাত রশীদ প্রমুখ।

১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ইঙ্গিত করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘রাজাকার’ বলায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ তীব্রতর হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগসহ সরকার সমর্থকরা। যা আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢালার কাজ করে। রংপুরে বিক্ষোভের সময় পুলিশ একেবারে কাছ থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করলে এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা দেশজুড়ে জনরোষের তৈরি করে।

এর মধ্যে তৎকালীন সরকারের নির্দেশে পুলিশ-র‌্যাবসহ নিরাপত্তা বাহিনী আরও বলপ্রয়োগ করলে শিক্ষার্থীরা অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। ৩ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের এক দফা ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। ৪ আগস্ট শেখ হাসিনা তার দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের অস্ত্রসজ্জিত করে মাঠে নামালে গোটা দেশ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ৫ আগস্ট শিক্ষার্থীরা ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ ঘোষণা করেন। সেদিন লাখ লাখ জনতা গণভবন অভিমুখে রওয়ানা দিলে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। টানা ২০ দিনের আন্দোলনে প্রায় দেড় সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ে মাধ্যমে পতন ঘটে স্বৈরাচার সরকারের।

অন্তর্বর্তী সরকারে অংশগ্রহণ, ‘প্রেসার গ্রুপেরও’ ভূমিকায়

হাসিনার সরকারের বিদায় ঘটলে ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বতী সরকার। এ সরকারে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব নেন মো. নাহিদ ইসলাম, মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ। শিক্ষার্থীদের অন্য একটি অংশ অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতার পাশাপাশি ‘প্রেসার গ্রুপ’ হিসেবে কাজ করারও পন্থা নেয়। এক্ষেত্রে নেতৃত্বভাগে ছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান মাসউদ, আবদুল কাদের, মাহিন সরকারসহ অন্যরা।

আনসারদের বিদ্রোহ, আহতদের আন্দোলনসহ নানা ক্ষেত্রে সমাধানে উদ্যোগীর ভূমিকায় দেখা গেছে হাসনাত-সারজিসদের।

এর মধ্যে গত বছরের শেষ দিক থেকে তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের আলোচনা তৈরি হয়। তার আগে অবশ্য অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নাগরিকদের নিয়ে সেপ্টেম্বরে একটি কমিটি গঠিত হয়, যার নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’। এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে, আর সদস্য সচিব করা হয় আখতার হোসেনকে। মুখপাত্র করা হয় সামান্তা শারমিনকে। এছাড়া কমিটিতে মানজুর আল-মাতিন, ডা. তাসনিম জারা ও সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের মতো পরিচিতমুখকেও রাখা হয়।

তরুণদের রাজনৈতিক দলের আলোচনা তৈরি হলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়। বলা হয়, কোনো উপদেষ্টা সরকারে থাকলে রাজনৈতিক দল গঠনে থাকতে পারবেন না। এর কিছু দিনের মাথায় নাহিদ ইসলাম উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ

নানা আলোচনা-পর্যালোচনার পর ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’র আত্মপ্রকাশের দিনক্ষণ ঠিক করা হয় শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি)। স্থান ঠিক করা হয় জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ। বিকেলে অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও দুপুর থেকেই নতুন এ দলের নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন আয়োজনস্থলে। বিকেল হতেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ।

সোয়া ৪টার দিকে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা। গীতা থেকে পাঠ করেন অর্পিতা শামা দেব, ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন আবির বড়ুয়া, বাইবেল থেকে পাঠ করেন অলীক মৃ।  

এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে মহান মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, খেলাফত মজলিস, লেবার পার্টি, জেএসডি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ এলডিপি, ইসলামী ঐক্যজোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এছাড়া কিছু দেশের কূটনীতিকও যোগ দেন অনুষ্ঠানে। ছিলেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও।

নতুন দলের নেতাদের বক্তব্যের পর জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ইসমাইল হোসেন রাব্বির বোন মিম আক্তার ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির’ আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে দলের প্রধান দুই নেতা অর্থাৎ আহ্বায়ক হিসেবে মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব হিসেবে আখতার হোসেনের নাম ঘোষণা করেন।

পরে আখতার হোসেন ‘সুপার টেন’ বা শীর্ষ ১০ পদসহ বেশ কিছু পদে দায়িত্ব পাওয়া নেতাদের নাম ঘোষণা করেন। আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব ছাড়া অন্য শীর্ষ আট পদের মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে তাসনিম জারা ও নাহিদা সরোয়ার নিভা, প্রধান সমন্বয়কারী পদে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সমন্বয়ক পদে আব্দুল হান্নান মাসউদ, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) পদে হাসনাত আবদুল্লাহ ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) পদে সারজিস আলমের নাম ঘোষণা করেন আখতার।

এরপর বক্তব্য দেন আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এখনই সময়—নতুন স্বপ্ন দেখার, নতুন পথচলার, এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার! আমরা পেছনের ইতিহাস অতিক্রম করে সামনের স্বপ্নের কথা বলতে চাই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্লোগান উঠেছিল, ‘তুমি কে, আমি কে, বিকল্প বিকল্প’। সে জায়গা থেকে নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।  

এসময় নাহিদ বিভাজনের রাজনীতির অবসানের কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে দুর্বল করে রাখার যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, আমরা তা ভেঙে দিয়েছি। বাংলাদেশকে আর কখনো বিভাজিত করা যাবে না। বাংলাদেশে ভারতপন্থী বা পাকিস্তানপন্থী কোনো রাজনীতির ঠাঁই হবে না।  

ঘোষণাপত্রে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়

অনুষ্ঠানে নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির ঘোষণাপত্র পাঠ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার লড়াই সূচনা করেছে। একটি গণতান্ত্রিক নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে আমাদেরকে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সকল সম্ভাবনার অবসান ঘটাতে হবে। আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন আমাদের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য। আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিকে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় গড়ে তোলা ও তাদের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা করা হবে আমাদের রাজনীতির অগ্রাধিকার। এর মধ্য দিয়েই কেবল আমরা একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারবো। ’

“আমরা এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ চাই যেখানে সমাজে ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বিভেদের বদলে ঐক্য, প্রতিশোধের বদলে ন্যায়বিচার এবং পরিবারতন্ত্রের বদলে মেধা ও যোগ্যতার মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হবে। আমাদের রাজনীতিতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান হবে না। ”

তিনি বলেন, আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিকে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে মূলধারায় তুলে আনা হবে। আমাদের রিপাবলিকে সাধারণ মানুষ, একমাত্র সাধারণ মানুষই হবে ক্ষমতার সর্বময় উৎস। তাদের সব ধরনের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকারের শক্তিশালী সুরক্ষাই হবে আমাদের রাজনীতির মূলমন্ত্র। আমরা রাষ্ট্রে বিদ্যমান জাতিগত, সামাজিক, লিঙ্গীয়, ধর্মীয় আর সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও বৈচিত্র্য রক্ষার মাধ্যমে একটি বহুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণ করতে চাই। আমাদের রিপাবলিক সব নাগরিককে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে শক্তিশালী সুরক্ষা দেবে। আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিকে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর কোনো অংশকেই অপরায়ন করা হবে না। বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে সমান গুরুত্ব প্রদান ও সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

একটি ন্যায্যতা ও সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় দলের সংকল্প আবারও পুনর্ব্যক্ত করে নাহিদ বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জুলাই ২০২৪ গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধেই বিজয় নয়, এটি আমাদের ভবিষ্যৎ নির্মাণেরও শপথ। চলুন আমরা একসঙ্গে, হাতে হাত রেখে, এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলি যেখানে প্রতিটি নাগরিকের কণ্ঠস্বর প্রতিধ্বনিত হবে, যেখানে  ন্যায় প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকারের সংগ্রামই হবে রাজনীতির অন্যতম লক্ষ্য। যেখানে সাম্য ও মানবিক মর্যাদা হবে রাষ্ট্রের ভিত্তি। এখনই সময়—নতুন স্বপ্ন দেখার, নতুন পথচলার, এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার! 

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এই নতুন বাংলাদেশ গড়ায় আমরা সবাই প্রত্যেকে যার-যার অবস্থান থেকে শপথ করি। ঐক্যবদ্ধ হই এবং আমাদের কাঙ্ক্ষিত সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে দৃঢ়চিত্তে এগিয়ে যাই। আমাদের দেশ, আমাদের অধিকার, আমাদের ভবিষ্যৎ—আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিক অধরা কোন স্বপ্ন নয়, এটি আমাদের প্রতিজ্ঞা!

স্বাগত জানাল বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যরা

আত্মপ্রকাশের পর জাতীয় নাগরিক পার্টিকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি সব সময় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং সেটি পরিচর্যা করে। আমরা আশা করব নতুন যে রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ ঘটল তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য কাজ করবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ  বলেন, নতুন রাজনৈতিক দল দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রাখবে এবং আগামী দিনের দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে, এটিই প্রত্যাশা।

গণ সংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, আমরা এই নতুন রাজনৈতিক দলকে স্বাগত জানাই। এই দল তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে, যারা জুলাই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। অনেকেই নেতৃত্বের জায়গায় ছিলেন। এরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণে যে ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জের মুখে আমরা আছি, সেখানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বাইরেও ন্যূনতম জাতীয় ঐক্য রক্ষা করার জন্যে তারা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, জনগণের ভেতর থেকে দল গড়ে তোলার কাজ করবে সেই প্রত্যাশা করি।

উপদেষ্টাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিপক্ষ না বানানোর আহ্বান ফখরুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দয়া করে রাজনৈতিক দলগুলোকে বা রাজনীতিকে আপনাদের প্রতিপক্ষ বানাবেন না। রাজনৈতিক দলগুলো আপনাদের সহযোগিতা করছে।

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, একজন উপদেষ্টা যখন এ কথা বলেন যে রাজনৈতিক দলগুলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য কাজ করছে, এটা অত্যন্ত ঘোরতর অভিযোগ। আমি তীব্রভাবে এর নিন্দা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ করছি এবং আমি মনে করি যে, এ ধরনের উক্তি তার প্রত্যাহার করা উচিত।

তিনি বলেন, দয়া করে রাজনৈতিক দলগুলোকে বা রাজনীতিকে আপনাদের প্রতিপক্ষ বানাবেন না। রাজনৈতিক দলগুলো আপনাদের সহযোগিতা করছে। এটা আপনাদের দায়িত্ব সেখানে আপনি যদি বলেন যে, এটা ব্যর্থ করার জন্য কাজ করছে। আমরা হাজার বার বলেছি, আমাদের চেয়ারম্যান বলেছেন, এই সরকার হওয়া ব্যর্থ হওয়া মানে জনগণ ব্যর্থ হয়ে যাবে, আমরা ব্যর্থ হয়ে যাব। তাহলে এরকম কথা কেন বলবেন আপনি?

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকতা না পাওয়া পর্যন্ত বিএনপিকে কাজ করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সামনে অনেক কাজ, অনেকে মনে করেছেন যে হাসিনা পালিয়ে গেছে কাজ শেষ হয়ে গেছে, তা না। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা গণতন্ত্রকে সংস্কৃতিতে পরিণত করতে পারব, কালচারে পরিণত করতে পারব, এটা একটা ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়াবে, ওই জায়গাতে আমাদেরকে পৌঁছাতে হবে। তাই আমাদের অনেক কাজ আছে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের কথা আমরা বলছি, সেই গণতন্ত্র একটা কথার কথা নয়। এটা একটা কালচার-এটা একটা সংস্কৃতি। আপনি-আমি কীভাবে কথা বলব, আমি আমার প্রতিবেশীর সঙ্গে কেমন কথা বলব, আমার রাজনীতির প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলব সেই বিষয়গুলো আমাদেরকে গণতন্ত্রের ভেতর দিয়ে শিখতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের মূল যে ইতিহাস, আজ এই স্বাধীন বাংলাদেশ, আজ ইতিহাস নিয়ে আমরা ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি, সেই ইতিহাস যেন বিকৃত না করি। গত ১৫ বছর ধরে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে, ঠিক তেমনি করে এখন যাতে ইতিহাস বিকৃত না হয় সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার জন্য অনুরোধ করছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রতি মুহূর্ত এখন আমাদেরকে সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলতে হবে। আমাদের প্রতিটি কথা মেপে কথা বলা দরকার। আমরা এমন কোনো কথা বলব না যা আমাদের এই বিজয়কে নষ্ট করে দেয়, অর্জনকে বিনষ্ট করে দেয়।

তিনি বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) অনেক অপপ্রচার করছে, মিথ্যাচার করছে যেগুলো বাংলাদেশের জন্য, এই বিপ্লবের জন্য অত্যন্ত উল্টো কথা। তাই আপনাদেরকে গণতন্ত্রের পক্ষে, জনগণের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ভেতর দিয়ে কথা মধ্য দিয়ে জবাব দিতে হবে। ফেসবুক, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিএনপির নেতাকর্মীদের আরও বেশি সম্পৃক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের মিথ্যাচার-অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‍উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ প্রমুখ।

অর্থ পাচার মামলায় তারেক রহমানের সাজা স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৭ বছরের সাজা স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই মামলায় তারেক রহমানের বন্ধু ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের সাত বছরের সাজাও স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

আদালতে তারেক রহমানের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, ব্যারিস্টার মো. জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট আজমল হোসেন।

আইনজীবীরা জানান, সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলায় ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার একটি আদালত তারেক রহমানকে খালাস দেন। ওই মামলায় তারেক রহমানের বন্ধু ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বিচারিক আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে দুদক। ২০১৬ সালে বিচারিক আদালতের রায় বাতিল করে তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেন। এটি ছিল তারেক রহমানের প্রথম সাজা। এই সাজার বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়।

শেখ হাসিনা না পালালে তার হাড্ডি মাংস খুঁজে পাওয়া যেত না: মান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেখ হাসিনা না পালালে তার হাড্ডি মাংস খুঁজে পাওয়া যেত না বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।

তিনি বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন। কারণ পালানো ছাড়া অন্য কোনো রাস্তা ছিল না।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) খুলনার উমেশচন্দ্র লাইব্রেরিতে নাগরিক ঐক্য খুলনায় দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের পুলিশগুলো কি ভোট দিতে দেয়? কোনো ঘুষ ছাড়া কি কাজ করে? এখন পুলিশ কি কোনো তদন্তে যায়? এই পুলিশগুলো বদলাতে হবে। নতুন পুলিশ বাহিনী সাজান।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দায়িত্ব হচ্ছে একটা ভালো ভোটের ব্যবস্থা করা।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ভোট ব্যবস্থা ধ্বংস করার মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। মানুষের অধিকার নষ্ট করেছে।

তিনি আরও বলেন, মানুষ ভোট দিতে এসে দেখে ভোট আগেই হয়ে গেছে, বা পুলিশ তাকে ঢুকতে দেয়নি। দিনের ভোট আগের রাতে হয়ে গেছে।

মান্না বলেন, এত বড় গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা কোনো চাদাবাজ দেখতে চাই না, মাস্তানি দেখতে চাই না, দখলবাজিত্ব দেখতে চাই না।

পরিবর্তনের একটা অন্যতম বিষয় হচ্ছে আমরা একটা ভালো ভোট চাই বলে জানান নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি আরও বলেন, সম্প্রতি আন্দোলনে দুটি মেট্রো স্টেশন ধ্বংস হয়েছিল। এটি পুনরায় নির্মাণ করতে শেখ হাসিনা বলেছিল ৩০০ কোটি খরচ হবে। এটি নির্মাণ করতে ৩০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ৩০ কোটি টাকা খরচ করে বাকি টাকা পাচার করতেন। চোর যদি আপনার দেশ শাসন করে, তাহলে আপনার দেশের উন্নতি হতে পারে না।

খুলনার সভাপতি আইনজীবী মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার। আলোচক ছিলেন খুলনা জেলা শাখার নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক আইনজীবী আব্দুল মজিদ হাওলাদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন নাগরিক ঐক্য দপ্তর সম্পাদক এস এম মহিদুজ্জামান মহিদ। এছাড়া নাগরিক ঐক্য’র খুলনা মহানগর ও জেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

ভারত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: ড. খন্দকার মোশাররফ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে অভিযোগ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি ঐক্যবদ্ধ মানুষের বিরুদ্ধে কোনো দেশই ষড়যন্ত্রে সফল হবে না।

তিনি বলেন, 'ভারত এবং এখানে থাকা কিছু হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য এখন কী ধরনের সমস্যা তৈরি করছে এবং সারা বিশ্বে আমাদের বদনাম করছে, আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে? তাদের একমাত্র লক্ষ্য এখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা এবং এই সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করা।’

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

স্বৈরাচার দিবসের পতন উপলক্ষে ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের (আপসু) বিএনপিপন্থী ছাত্রনেতারা এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

তিনি বলেন, সামরিক স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ক্যু করে ক্ষমতা দখলের অবসান হয়েছিল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ বলেন, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায় মাত্র কী তিন মাস ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছে? স্বাধীনতার পর থেকে তারা এখানে অত্যন্ত সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে।’

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার আহ্বানও জানান বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা জিয়াউর রহমান এই সমস্যার সমাধান করেছেন এই বলে যে, এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলমান বলে কিছু নেই। সবাই বাংলাদেশি ও বাংলাদেশের নাগরিক। তাহলে আমরা কেন এখানে এমন বিভাজন সৃষ্টি করব এবং এটা সহ্য করব।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বারবার সরকার পরিবর্তন করেছে। ‘তাই এদেশের মানুষকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তাদের সরকার কী হবে, কীভাবে তারা দেশ চালাবে।’

তিনি বলেন, শান্তি বজায় রাখতে এবং দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিতে সকল ধর্ম নির্বিশেষে দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, 'আমাদের ১৮ কোটি মানুষ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে তারা যে দেশেই থাকুক না কেন, আমাদের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল করতে পারবে না।’

তিনি বলেন, বিগত সরকার যেভাবে রাষ্ট্রীয় সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। বর্তমান সরকার সেগুলো সংস্কার করতে বদ্ধপরিকর।

দ্রুত নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার ও নির্বাচনি রোডম্যাপ প্রণয়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান খন্দকার মোশাররফ।

রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে বাংলাদেশ ইস্যুতে মেতেছেন ভারতীয়রা?

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের রাজধানী কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে কিছুদিন আগে এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যা ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের মসনদে কাঁপন ধরেছিল। আরজি করে চিকিৎসক খুনের এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে গড়ে উঠেছিল তুমুল আন্দোলন; যা ছড়িয়ে পড়েছিল ভারতজুড়ে। আর এই আন্দোলনের শুরুর দিকে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ব্যবহার করা স্লোগান থেকে ‘অনুপ্রাণিত’ হয়।

পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে বামপন্থী সিপিএমের ছাত্র-যুব কর্মীরাও স্লোগান দিচ্ছিলেন—‘দফা এক, দাবি এক, মমতার পদত্যাগ।’ যেভাবে বাংলাদেশে স্লোগান উঠেছিল, ‘দফা এক দাবি এক, হাসিনার পদত্যাগ।’

সেই আরজি কর আন্দোলন এখন অতীত। নিস্তরঙ্গ। প্রায় শেষ। কিন্তু বাংলাদেশে এক হিন্দু সন্ন্যাসীকে গ্রেপ্তার, সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নিপীড়নের অভিযোগকে ‘অস্ত্র’ বানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলগুলো নতুন করে আন্দোলনের রাস্তায় নামার ছক কষছে। আন্দোলনের রাজনৈতিক ফায়দার হিসেব-নিকেশ আঁচ করে শাসক তৃণমূলও অবস্থান নিয়েছে। তবে তা খানিক ‘এলোমেলো’ বলে দলেরই অনেকে মনে করছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক দিকে যেমন বলেছেন, তিনি বিদেশের (বাংলাদেশ) বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানই মেনে নেবেন। তেমনই আবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছেন তিনি। অর্থাৎ রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটের সঙ্গে তার হিসাবে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানোর অংকও যে নেই তা নয়। তিনি বারবার বলছেন, ‘‘আমরা সকলকেই ভালবাসি।’’

প্রত্যাশিতভাবেই বাংলাদেশকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মতো করে লাভের হিসেব কষতে শুরু করে দিয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী পরিসরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর রাস্তায় নামা এবং আন্দোলনে থাকার ‘তাগিদ’ চোখে পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তাতে ‘অক্সিজেন’ দিচ্ছে বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে ভারতের গণমাধ্যমের একাংশের ভূমিকাও। তাতে যেমন স্বাভাবিক নিয়মে বিজেপি রয়েছে, তেমনই রয়েছে সিপিএম-কংগ্রেসও। আনুষ্ঠানিকভাবে অংকের কথা না মানলেও একান্ত আলোচনায় প্রত্যেক শিবিরের নেতারা তাদের ‘ফর্মুলা’র কথা গোপন করছেন না।

২০১৯ সালের লোকসভা, ২০২১ সালের বিধানসভা কিংবা ছ’মাস আগে হয়ে যাওয়া আরও একটি লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির রাজনীতির মূল অস্ত্রই ছিল ‘মেরুকরণ’। তার সঙ্গে জুড়ে ছিল দুর্নীতি এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ। কিন্তু ২০১৯ সালে হঠাৎ পাওয়া সাফল্য পরবর্তী কালে আর ধরে রাখতে পারেনি তারা।

সেই বিজেপি বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর কথিত অত্যাচার নিয়ে সরব। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি তাদের সহযোগী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর নেতারাও ধারাবাহিক কর্মসূচি নিচ্ছেন। সমান্তরালভাবে চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারও। আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি মুখপাত্র রাজর্ষি লাহিড়ী অবশ্য বলছেন, ‘‘আমরা কোনও লাভ-ক্ষতি দেখে রাস্তায় নেই। বাঙালি হিন্দুদের বিপন্ন অবস্থা আমাদের উদ্বিগ্ন করছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘৫০০ বছর আগে মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের সঙ্গে যা হয়েছিল, ইসকনের সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণের সঙ্গেও তা-ই হয়েছে।’’

বিজেপির অনেক নেতা বলেছেন, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আবেগ রয়েছে। কলোনি এলাকার বহু মানুষ এই পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারবেন। ফলে সঙ্ঘবদ্ধ করার প্রশ্নে কর্মসূচি করতে হচ্ছে। এ কথা ঠিক যে, গত কয়েকটি ভোটে বিজেপি যেমন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ‘হিন্দু-মুসলমান’ বা ‘৭০ শতাংশ-৩০ শতাংশ’র কথা বলেছে, তেমনই তৃণমূলও ‘বাঙালি অস্মিতা’কে জাগিয়ে বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ প্রমাণ করার রাজনৈতিক আখ্যান তুলে ধরেছিল।

রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপির কিছু নেতা বলছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ‘বিপন্নতা’ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলন জারি রাখতে পারলে তৃণমূলের বাংলা ও বাঙালির রাজনীতিকে ‘ধাক্কা’ দেওয়া যাবে। তবে সে জন্য সাংগঠনিক জোর কতটা রয়েছে, তা নিয়েও সংশয়ের কথা গোপন করছেন না পদ্মশিবিরের প্রথম সারির নেতারা। কারণ, আন্দোলন আর ভোটবাক্সে তার প্রতিফলন যে ঐকিক নিয়মে হয় না, তা বিজেপি নেতাদের অজানা নয়।

আরজি কর আন্দোলনে যে নাগরিক ক্ষোভ আছড়ে পড়েছিল রাজপথে, শহরাঞ্চলে যার প্রভাব ছিল সবচেয়ে বেশি, সদ্যসমাপ্ত উপনির্বাচনে তা কোনও ছাপ ফেলেনি। যদিও অনেকের মতে, বিজেপি যে ‘পাঠ্যক্রম’ মেনে রাজনীতি করে, তাতে আরজি কর আন্দোলন তাদের জন্য ‘উর্বর’ জমি ছিল না। তা মাসখানেকের মধ্যে প্রমাণিতও হয়েছে। বিজেপিও আস্তে আস্তে রাস্তা ছাড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের বিষয়ে ‘উপযোগী উপাদান’ রয়েছে বলে মনে করছেন পদ্মশিবিরের নেতৃত্বের বড় অংশ।

বাংলার বিধানসভায় বাম-কংগ্রেস শূন্য। ভোট শতাংশেও তারা প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত। সেই দুই শক্তিও অংক কষেই বাংলাদেশ নিয়ে রাস্তায় নামছে। সিপিএম সরাসরি বলছে না যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। তারা সচেতনভাবে বলছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা ‘নির্যাতিত’। একই সঙ্গে ভারত, ফিলিস্তিনও জুড়ে দিচ্ছে।

যার অর্থ আন্তর্জাতিকতাবাদকে প্রতিষ্ঠা দেওয়া। কিন্তু সিপিএম নেতারা যে অঙ্ক কষছেন, তা হল হিন্দু ভোট। বিশেষ করে কলোনি এলাকার হিন্দু ভোট। যা এক সময়ে ছিল সিপিএমের ‘শক্ত ঘাঁটি’। কিন্তু বিজেপির আগ্রাসী রাজনীতির সামনে সেই ঘাঁটি কার্যত তছনছ হয়ে গেছে। বামের ভোট ধাপে ধাপে চলে গেছে রামের বাক্সে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে রাস্তায় নেমে সেই ক্ষতেই প্রলেপ দিতে চাইছেন বামরা। ৬ ডিসেম্বর প্রতি বছর ‘সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী দিবস’ পালন করে বামরা। ১৯৯২ সালের ওই দিনে বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয় উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। এবার ৬ ডিসেম্বর কলকাতায় সিপিএম যে মিছিল করতে চলেছে, তার বিষয় ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের প্রতিবাদ।’

পশ্চিমবঙ্গের বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার বলছে, ‘‘একটা সময়ে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম ভোটের সিংহভাগ ছিল বামেদের দখলে। ২০০৯ সাল থেকে সেই ভোট ঢলে পড়েছিল মমতার দিকে। ক্রমে সেই ভোটই এখন তৃণমূলের পুঁজিতে পরিণত। আর হিন্দু ভোট টেনে নিয়েছে বিজেপি। যার ফলস্বরূপ জামানত রক্ষা করাই দুষ্কর হয়ে যাচ্ছে বাম-কংগ্রেসের।’’

‘‘মুসলিম ভোট ভাঙার ক্ষেত্রে অবশ্য কৌশল নিয়েছিল সিপিএম। ফুরফুরা শরিফ, আব্বাস সিদ্দিকি, নওশাদ সিদ্দিককে সামনে রেখে ভোট ভাঙার সেই কৌশল সফল হয়নি। বরং মালদহ, মুর্শিদাবাদের মতো যেসব জেলায় কংগ্রেসের সঙ্গে কিয়দংশ মুসলিম ভোট ছিল, তা-ও চলে গেছে তৃণমূলের ঘাঁটিতে।’’

কংগ্রেসও বাংলাদেশ নিয়ে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। বেলঘরিয়ার যে তরুণ বাংলাদেশে বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন, সেই সায়ন ঘোষের সঙ্গে গিয়ে দেখা করে এসেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার-সহ দলের অন্যান্য নেতারা। ফলে এটা স্পষ্ট যে, কংগ্রেসও বিরোধী পরিসরে বিজেপির সমর্থনে থাবা বসানোর কৌশল নিয়েই বাংলাদেশ নিয়ে ‘সক্রিয়’ থাকার চেষ্টা করছে।

যদিও কংগ্রেসের তরুণ নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘বিজেপি সীমান্তে গিয়ে উত্তেজনা তৈরি করছে। কিন্তু বেলঘরিয়ায় যায়নি। তার কারণ একটাই—সায়ন বাংলাদেশে যে বন্ধুর বাড়ি গিয়েছিলেন, তিনি ধর্মীয় পরিচয়ে মুসলিম। সেই পরিবার সায়নকে আগলে রেখেছিল। সায়নের বন্ধুই তাকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গেদে সীমান্তে পৌঁছে দিয়েছিলেন। বিজেপি সেটা বিপণন করতে পারবে না। তাই সায়নের বাড়িতে যায়নি।’’

বাংলাদেশের ঘটনা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দলগত অবস্থান আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। তার বক্তব্য, বিদেশের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার যা অবস্থান নেবে, সেটাই তৃণমূলের অবস্থান।

মমতা দাবি করেছেন, জাতিসংঘের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশে ‘শান্তিরক্ষী’ পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক ভারত সরকার। এভাবে শান্তিসেনা পাঠানো যায় কি না বা কূটনৈতিক স্তরে তেমন সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে তৃণমূল দলগত অবস্থান স্পষ্ট করার পরও বাংলাদেশের বিষয়ে মন্তব্য করছে।

বুধবার তৃণমূলের মুখপত্রে প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা হয়েছে, ইউনূস সরকারের অসভ্যতা চলছে।’’ তৃণমূলও ‘কড়া’ কথা বলছে অংক কষেই। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন এই দলের প্রথম সারির একজন নেতা বলেছেন, ‘‘আমরা যদি এই অবস্থান না নিই, তা হলে বিজেপি হিন্দু ভোটে আরও মেরুকরণ করার চেষ্টা করবে। সেই সুযোগ ওদের দেওয়া হবে কেন?’’

তৃণমূলের নেতারা বলছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ালে পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, তারা ভালো করে জানেন, মমতার শাসনেই তারা নিরাপদ। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজেপি যাতে ‘উস্কানি’ না দিতে পারে, সে দিকেও সাংগঠনিকভাবে খেয়াল রাখতে হচ্ছে বলে দাবি দলটির নেতাদের।

‘আ.লীগের রাজনৈতিক অধিকার থাকা উচিত কি না, জনগণ বিবেচনা করবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে একটি গণহত্যা চালানো পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার থাকা উচিত কি না, তা দেশের সাধারণ মানুষ বিচার-বিবেচনা করবেন বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারবে কি না, জানতে চাইলে আইন উপদেষ্টা বলেন, এটা আমার বলার জায়গা না। এখন আপনি যদি মনে করেন, যারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, আরও চল্লিশ-পঞ্চাশ হাজার মানুষকে অঙ্গহানি করেছে, চোখ কেড়ে নিয়েছে, এখনো তারা সেই অপকর্মের পক্ষে কথা বলে। যদি ফাঁস হওয়া রেকর্ডটা সঠিক হয়, তাহলে এখনো তাদের নেত্রী ২৮৭ জনকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। অন্য দেশে বসে সন্ত্রাসী হুমকি দিচ্ছেন, যিনি একটা গণহত্যার মামলার আসামি। বিচারের আগে, দায়মুক্তির আগে তারা রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাবে আরও হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করার জন্য? কাজেই সবকিছু একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসবে।

‘আপনারা বিবেচনা করে দেখেন, একটা গণহত্যা চালানোর পর এখনো একটা দল বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আমাদের এত বড় আন্দোলনের নেতাদের তারা কিশোর গ্যাং বলছে, আরও মানুষকে হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে, সেই দলের রাজনৈতিক অধিকার থাকা উচিত কিনা তা প্রতিটি মানুষই বিবেচনা করবে। বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দেখা যাবে, তাদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।’

মৃত্যুদণ্ড নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, সব দেশেই মৃত্যুদণ্ড রহিত করার কথা বলে জাতিসংঘ। তাদের একটি অপশনাল প্রটোকল আছে। ওই প্রটোকলের মূল কথাই হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড রদ করার জন্য। কিন্তু পৃথিবীর খুব অল্প দেশেই মৃত্যুদণ্ড রদ করেছে। এটা তাদের অঙ্গীকার থেকে বলবেই। কিন্তু আমাদের যে ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম, আমাদের যে জুডিশিয়াল কালচার আছে, সেগুলোতো আমাদের কাছে প্রাধান্য পাবে। সবচেয়ে বড় কথা, মৃত্যুদণ্ড রহিত করার যে অপশনাল প্রটোকল, তাতে বাংলাদেশের কোনো সরকারই পক্ষ রাষ্ট্র হয়নি। আমাদের কোনো সরকারের পক্ষ থেকেই এই অপশনাল প্রটোকলের পক্ষরাষ্ট্র হওয়ার বিন্দুমাত্র উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

‘আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারব। এরইমধ্যে সার্চ কমিটি গঠন হয়েছে, কেবল প্রধান উপদেষ্টার সই বাকি আছে।’

তিনি আরও বলেন, তাদেরকে বলেছি, আমাদের আইনগত যে সংস্কার, সেটাতে তারা জড়িত আছেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে আমাদের যদি ফরেনসিক সহায়তা লাগে, সেটা তারা দেবেন। আমরা এখানে সুবিচার করব, প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বিচার করছি না।’

‘আগের আদালতে যেভাবে হয়েছে, সেভাবে আমরা অবিচার করব না। আমাদের কোনোকিছু লুকানোর নেই। স্বাগত, যে কেউ এসে, আমরা কীভাবে বিচার করছি, সেটা দেখতে পারবেন।’

জনগণ অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকবে না: বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য জনগণ অনির্দিষ্টকালের জন্য অপেক্ষা করবে না।

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।’

তিনি বলেন, কিন্তু মূল সমস্যা থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্য বিষয়ের দিকে নজর দিচ্ছেন তারা।

শুক্রবার(২৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলার নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যে গয়েশ্বর এসব কথা বলেন।

কয়েকজন উপদেষ্টার বক্তব্যে যৌক্তিক সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা।

গয়েশ্বর বলেন, ‘আপনি যা কিছু করেন তার জন্য আমরা আলহামদুলিল্লাহ বলব, তবে এর একটি সময়সীমা থাকা উচিত এবং ধৈর্যের একটি সময়সীমা থাকা উচিত। নির্বাচনের দ্রুত রূপরেখা তৈরি করুন, তারপর বাকিটা করুন।’

সরকার যদি সবকিছু সমাধানের চেষ্টা করে তাহলে কোনো কিছুই সফল হবে না বলেও উল্লেখ করেন বিএনপির এই নেতা। ‘নতুন সংস্কারের প্রয়োজন নেই, কারণ জনগণ অনির্দিষ্টকালের জন্য নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করবে না।’

রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কারের জন্য মাসের পর মাস সময় লাগা উচিত নয়।

গয়েশ্বর বলেন, বিএনপি ইতোমধ্যে ৩১ দফা সংস্কার রূপরেখা উপস্থাপন করেছে, যা সরকার পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসতে পারে।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার হওয়া উচিত। রাজনৈতিক সমস্যা রাজনীতিবিদদের দিয়েই সমাধান করতে হবে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ১/১১-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় শুরু হওয়া বিরাজনীতিকরণের চক্রান্ত এখনো চলছে। 'রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতির মোকাবিলা করতে হবে'

তিনি বলেন, 'আপনারা (সরকার) যদি মনে করেন শুধু ছাত্ররাই আপনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে, তাহলে আপনারা ভুল করছেন, আপনারা হোঁচট খাবেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের বহু বছরের আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি।’

২০২৪ সালের বিপ্লবের চেতনায় জাতীয় ঐক্যের ডাক জামায়াত আমিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের চেতনায় নিহিত জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর জেলা শাখার রোকন (সদস্য) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর, সকল রাজনৈতিক দলকে মূলনীতি থেকে সরে না গিয়ে সম্মিলিত আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

ড. শফিকুর বলেন, 'আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হতে হবে ২০২৪ সালের গণবিপ্লব। আমাদের দল এবং অন্যদের অবশ্যই এমন পথ বিবেচনা করা উচিত নয়, যা এই আন্দোলনের চেতনাকে উপেক্ষা করে।’

জনগণের সম্মিলিত দাবির বিরোধিতা না করার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জনগণের ন্যায্য আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা বা খাটো করার চেষ্টা না করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, 'আমাদের অবশ্যই জনগণের পাশে অবিচলভাবে দাঁড়াতে হবে।’

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সকলের। আমাদের জাতি মৌলিক স্বার্থ নিয়ে দলগুলোর মধ্যে বিভেদ দেখতে চায় না।’

চলমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, 'ঐক্যবদ্ধভাবে, দৃঢ় ঐক্যের মাধ্যমে প্রতিটি সংকট ও ষড়যন্ত্র আমাদের মোকাবিলা করতে হবে, ইনশাল্লাহ।’

জামায়াতের প্রধান তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষার কথাও বলেন। একটি 'মানবিক বাংলাদেশ' গড়ার  জন্য তাদের আকাঙ্ক্ষার ওপর জোর দেন। যেখানে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হবে। তিনি বলেন, 'আমরা এমন একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি, যেখানে কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই সকল নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ, ডা. সামিউল হক ফারুকী, ডা. খলিলুর রহমান মাদানী ও আবুল হাশেম খান প্রমুখ।

সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব মোস্তাফা কামাল ৩ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যুবদল নেতা শামীম হত্যার অভিযোগে পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক তন্ময় কুমার বিশ্বাস তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম থেকে মোস্তাফা কামাল উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুযায়ী মহাসমাবেশ ডাকে বিএনপি। ওই মহাসমাবেশ পণ্ড করার জন্য একই দিনে আওয়ামী লীগ পাল্টা সমাবেশ ডাকে। ওইদিন বিএনপির ঢাকার মহাসমাবেশে হামলা চালানো হয়। এসময় যু্বদল নেতা শামীম নিহত হন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

এখনই বৈষম্যবিরোধীদের রাজনৈতিক দল গঠন করা উচিত নয় : সারজিস

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, ৫ আগস্টের পর গিরগিটির মতো অনেক ভুয়া সমন্বয়ক তৈরি হয়েছে। তাদেরকে আলাদা করতে হবে। তাদের মধ্যে সুবিধাবাদী চরিত্রটা পূর্বে ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। এদেরকে আলাদা করা না হলে সমন্বয়কের নাম ভাঙিয়ে আমাদের ইমেজকে খেয়ে ফেলবে। দেশের অনেক জেলায় এমনটা হচ্ছে।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকালে মাদারীপুর পৌরসভার হলরুমে মাদারীপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্য এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে সারজিস আলম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের গণতান্ত্রিক অধিকার আছে। তবে অভ্যুত্থান পরবর্তী এই সময়ে সেটা করলে নিজেদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হবে। তবে ভবিষ্যতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নামের প্ল্যাটফর্মে নয় অন্য কোনো নামে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ত মানুষজন রাজনৈতিক দল গঠন করতে চাইলে করা যেতে পারে। তবে তা করার সময় এখন নয়।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকার যে অপকর্ম করেছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সেই জায়গাটা ভেঙে গেছে। শেখ হাসিনার সময়কার সুবিধাবাদীরা ছাত্রদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা করছে, চক্রান্ত করছে। এজন্য সবাইকে এক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে ১৬ বছরের রেডি করা সেটআপের অল্পকিছু মাথা পালাইছে, তাদের আসতে বেশি সময় লাগবে না।
সারজিস আলম বলেন, ছাত্রদের মধ্যে কেউ যদি ভবিষ্যতে ফ্যাসিস্ট হওয়ার চিন্তা করেন কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করার চেষ্টা করেন, তাদেরকে বহিষ্কার করে আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্ররা কেউ আলাদা হবেন না। সবাই একত্রে থাকবেন। তা না হলে পরিণতি খারাপের দিকে যাবে।

হিন্দন থেকে এখন দিল্লির লুটিয়েনসে রয়েছেন হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৫ আগস্ট ঢাকার গণঅভ্যুত্থানের পর পালিয়ে এসে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন ভারতের নয়াদিল্লির লুটিয়েনস বাংলোতে বসবাস করছেন।

হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে উত্তর প্রদেশের হিন্দন বিমান বাহিনী ঘাঁটি থেকে ইন্ডিয়া গেট এবং খান মার্কেটের কাছে মধ্য দিল্লিতে নিরাপদ বাংলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা।

তার বাসভবনটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) একটি সেফহাউস বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে চলমান মৃত্যুর হুমকির কারণে কঠোরভাবে সুরক্ষিত বলেও জানা গেছে।

প্রথম তাকে স্থানান্তরিত করার কথা জানায় দ্য প্রিন্ট। এরপর হিন্দুস্তান টাইমস নিশ্চিত করেছে, তার বাসভবনের চারপাশে একাধিক স্তরের সুরক্ষা রয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্মকর্তা ও দিল্লি পুলিশের কমান্ডোরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।

প্রায় দুই দশক ধরে শেখ হাসিনা ঢাকায় রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের জন্য নির্মিত ৩৬০০ বর্গমিটার আয়তনের প্রাসাদে বসবাস করতেন।

কিন্তু ৫ আগস্ট শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ তাকে ক্ষমতাচ্যুত করলে তিনি ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তার মেয়াদকালে সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে।

বাংলোর নিরাপত্তায় দিল্লি পুলিশের কমান্ডো ইউনিট এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির 'ওয়াচার অ্যান্ড স্পটার' রয়েছেন।

এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হিন্দন থেকে যখন হাসিনাকে স্থানান্তর করা হয়, তখন প্রথমে দিল্লি পুলিশের একজন সাব-ইনস্পেক্টরকে আইবি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

সাব-ইন্সপেক্টরকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তিনি যেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও অভিযান সম্পর্কে কোনো বিবরণ না দেন। এমনকি আইবি ও এমইএ কর্মকর্তারা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিন পর তার নিরাপত্তার দায়িত্ব থেকে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

দিল্লিতে অবস্থিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) আঞ্চলিক পরিচালক শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ তিনিও নিরাপত্তার সুরক্ষায় রয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কঠোর প্রোটোকলের মধ্যে দু'জনের দেখা হয়েছে।

এর আগে ১৯৭৫ সালে পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ছয় বছর দিল্লিতে অবস্থান করেন শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা।

২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী থাকা শেখ হাসিনা রাজনৈতিক নিপীড়ন ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এই অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ফিনান্সিয়াল টাইমস লোধি গার্ডেনে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক উপস্থিতির প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইঙ্গিত দেয়, তিনি কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে থাকলেও মাঝে মাঝে জনসমক্ষে বেড়াতে গেছেন।

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে এনে শাস্তির আওতায় আনতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের রাজনৈতিক আকাশকে আবারও ঘোলাটে করার চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আগস্টের বিপ্লবের পর, দেশের রাজনৈতিক আকাশকে আবার ঘোলাটে করার জন্য চক্রান্ত চলছে। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে এনে শাস্তির আওতায় আনতেহবে।

শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকাস্থ সেনবাগ ফোরাম আয়োজিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি এ দাবি জাননা।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, আপনার কাছে বাংলাদেশের মানুষের অনেক প্রত্যাশা। আপনি আবু সাঈদের রক্ত, মুগ্ধের রক্তের উপর দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন। আপনাকে কেউ বসিয়ে দেয়নি। আপনি নিজের ইচ্ছায় এ দেশের ক্ষমতায় আসেননি। আপনি বাংলাদেশের মানুষের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আপনাকে ক্ষমতায় বসাতে হবে। কারণ আপনিই পারবেন বাংলাদেশের ১৬ বছর ধরে যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে, মায়ের বুক খালি করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে।

ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনার কাছে জনগণের প্রত্যাশা শুধু ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করা নয়। বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করা দরকার। সেই সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আপনাকে অবশ্যই শুরু করতে হবে। তাই আপনি সময় বুঝে অবশ্যই বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা বলেন, আপনার করা সংস্কারগুলোকে বিনষ্ট করে আপনাকে বিতর্কিত করার প্রক্রিয়া চলছে। আপনার সহযোগীরা অত্যন্ত বিজ্ঞবান ব্যক্তি। আমরা তাদেরকে আহ্বান জানাবো, তারা যেন আপনাকে সততার সঙ্গে এমন পরামর্শ দেবেন; বাংলাদেশের মানুষের যে আস্থা, সে আস্থা যেন নষ্ট না হয়। সেজন্য অবশ্যই উপদেষ্টারা আপনাকে সহযোগিতা করবেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, কৃষক দলের সহ-সভাপতি ভিপি ইব্রাহীম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাওলানা নেছারুল হক, মাওলানা আলমগীর হোসেন, মৎস্যজীবী দলের সদস্য ইসমাইল হোসেন সিরাজী, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর আমির হোসেন আমু প্রমুখ।

নির্বাচন করতে দেরি হলে বসে থাকবে না বিএনপি

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচন যৌক্তিক সময়ের মধ্যে না হলে দলের নেতাকর্মীরা বসে থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, 'আমরা চাই জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করে সংসদ ও সরকার গঠন করবেন। এটাই ছিল বিপ্লবের মূল বিষয়।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভায় বিএনপির এই নেতা বলেন, জাতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব দিয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তার দল সরকারকে একটি যৌক্তিক সময়সীমা দেবে। সেই সময় পেরিয়ে গেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমানের বিএনপি নিশ্চয়ই ঘরে বসে চিনাবাদাম চিববে না। আগামীতে বাস্তবতার নিরীখে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর বলেন, সরকার কী করে, তা তারা কিছুদিন পর্যবেক্ষণ করবেন।

তিনি বলেন, এরপর আমরা অতীতে যা করেছি তা করব। ‘মৃত্যু পরোয়ানা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকা অবস্থায় আমাদের কাউকেই হত্যা করা যাবে না।’

'দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব' শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাগ্রত বাংলাদেশ।

কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে গয়েশ্বর বলেন, কিছু দল এমন কিছু কর্মকাণ্ড করছে, যে তারা ভাবছে তারা ক্ষমতায় আসছে।

তিনি বলেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তারা নিপীড়িত, কিন্তু তারা দেশ স্বাধীন করেনি... আমরা করেছি। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি দেশের শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করে। তিনিও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছে, যা সাহসী পদক্ষেপ। ‘এতে আমাদের আপত্তি নেই, তবে আপনি যে পদক্ষেপই নিন না কেন, সম্ভাব্য পরিণতিগুলো বিবেচনা করুন।’

তিনি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে। ‘কিন্তু জামায়াত শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টকে নিষিদ্ধ করেনি।’

রিজভী বলেন, যারা বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে নৃশংসতা চালিয়েছে এবং মানুষ হত্যা করেছে এবং লুটপাটে লিপ্ত হয়েছে তারা এখনো স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছে। ‘তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং অন্যায়ের পরিণতির জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।’

এত মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে কীভাবে বিদেশে গেল জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'কাকে জিজ্ঞেস করব? কারা তাদের পালাতে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করেছিল? এর জবাব কে দেবে? যারা ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নিয়েছেন, তারা কীভাবে বিদেশে গেলেন? বিচারের মুখোমুখি না হয়ে অপরাধীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ কে দিয়েছিল? সরকার কি এর জবাব দেবে?'

দেশের সাংবিধানিক সংকট রোধে বিএনপি নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করল সরকার

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বুধবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে গত ১৫ বছরে ছাত্রলীগ হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, ছাত্রাবাসে হয়রানি, টেন্ডারবাজিসহ জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও ছাত্রলীগ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক, ধ্বংসাত্মক ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে বলে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ফলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ এর ১৮(১) ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

সাহস থাকলে ফিরে এসে বিচারের মুখোমুখি হোন: হাসিনাকে অ্যাটর্নি জেনারেল

অ্যাটর্নি জেনারেল

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক : অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান বলেছেন, শেখ হাসিনার যদি সাহস থাকে তাহলে বাংলাদেশে ফিরে এসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি হবেন।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা এরকম কথাই বলতেন। সাহস থাকলে বাংলাদেশে ফিরে আসুন এবং আদালতে বিচারের মুখোমুখি হোন। আশা করি উনি এটা বিশ্বাস করেন এবং এটা উনার জন্য ভালো হবে। এছাড়া উনার বক্তব্য উনি যে ফিলোসোফিতে বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক আসামির উচিত আদালতের সামনে এসে বিচারের মুখোমুখি হোন। উনি হয়তো সেটাই করবেন।’

রবিবার (২০ অক্টোবর) বার সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের রিভিউ নিষ্পত্তির পর এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘প্রথম কথা হলো এটা অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের বিষয় নয়। আইনের ব্যাখ্যার কথা যদি বলেন, আমি যতটুকু বুঝি একটা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েছেন একটি কমপিটেন্ট ট্রাইব্যুনাল।’

তিনি আরও বলেন, সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করতে দেখতে হবে, যে শেখ হাসিনা কোথায় আছেন, সেটা যদি প্রসিকিউশন টিম জানে, বন্দি প্রত্যার্পণ চুক্তির আওতায় সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেটা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা যেতে পারে, এটা একটা অপশন।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিষয় হলো, ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। শেখ হাসিনা যে দেশে আছেন সে দেশের আইনে ইন্টারপোল কাভার করে কি না-তার জুরিসডিকশন কাভার করে কি না-এগুলো বিচার-বিবেচেনা করে ইন্টারপোল তার সিদ্ধান্ত নেবে।

গত ১৭ অক্টোবর গণহত্যা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনসহ দুটি অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে তাদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলেন আসিফ নজরুল

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইলেন আসিফ নজরুল
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল | ফাইল ছবি

স্টাফ রির্পোটার: নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ক্ষমা চেয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, সরকার পরিস্থিতির উন্নয়নে কঠোর পরিশ্রম করছে এবং সম্মিলিত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমার খুব খারাপ লাগছে। এটা আমাদের জন্য অসহনীয়। আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি। আমরা একসঙ্গে কাজ করছি।’

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে চ্যানেল আইয়ের 'আজকের পত্রিকা' অনুষ্ঠানে দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইন উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

আসিফ বলেন, বন্যার প্রভাব কমে আসছে এবং শীত আসছে। 'আমরা আশা করছি পরিস্থিতির অনেকাংশে উন্নতি হবে। কিছু কিছু এলাকায় এরই মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে।’

আইন উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের আমলে এটি পণ্য আমদানির সঙ্গে জড়িত একটি সিন্ডিকেট।

সিন্ডিকেট অত্যন্ত শক্তিশালী স্বীকার করে তিনি বলেন, এটা এত সহজ নয়।

আসিফ বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সমস্যা সমাধানে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা করছে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এ পর্যন্ত নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেছে।

তিনি বলেন, এটি এমন একটি বিষয় যা সরকারে থাকা সকলকে মানসিক যন্ত্রণা দেয়।

যুবদল নেতা হত্যা মামলায় শমসের মবিন চৌধুরী কারাগারে

শমসের মবিন
শমসের মবিন চৌধুরী

২০২৩ সালে যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শমসের মবিনকে হেফাজতে রাখার জন্য পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম আফনান সুমি এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ১৭ অক্টোবর ঢাকার বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে শমসের মবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর রাজনৈতিক সংঘর্ষের সময় নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালালে শামীমের মৃত্যু হয়।

২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কাছে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারেক

তারেক
তারেক রহমান । ফাইল ছবি

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক : দেশের মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) এক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিগত সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত বাজার সিন্ডিকেট নির্মূলকে অগ্রাধিকার দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, মানুষ যখন অর্ধভোজিত থাকবে তখন নিছক মিষ্টি কথাই যথেষ্ট হবে না।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি অন্তর্বর্তী সরকারকে অবিলম্বে দ্রব্যমূল্য কমাতে এবং জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার অগ্রাধিকার হিসেবে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে।

বিএনপি নেতা বলেন, 'বিগত সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া চ্যালেঞ্জিং হলেও সদিচ্ছা ও যথাযথ হস্তক্ষেপে তা অসম্ভব নয়।’

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রজতজয়ন্তী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তারেক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী সরকারের সহযোগীরা এখনো সরকারের জন্য জটিলতা সৃষ্টি ও সফলতা ক্ষুণ্ন করতে ষড়যন্ত্র করছে।

বিএনপি নেতা আরও বলেন, সরকারের বেহাল অবস্থা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং তারা একটি সুস্পষ্ট অগ্রাধিকার এজেন্ডা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ডা. জোবাইদা রহমান ভার্চুয়ালি বক্তব্যে ফাউন্ডেশনের রজতজয়ন্তী উপলক্ষে সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান।

তিনি ফাউন্ডেশনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করার জন্য ফাউন্ডেশনের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী জোবাইদা বলেন, 'আমি আশা করি, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন মানবতার সেবায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’

২০২৫ সালের মধ্যে আগামী নির্বাচন সম্ভব হতে পারে: আসিফ নজরুল

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে শিগগিরই সার্চ কমিটি

আসিফ নজরুল
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক : ২০২৫ সালের মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

তিনি বলেন, সার্চ কমিটির মাধ্যমে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনসহ নির্বাচনপূর্ব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী বছরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে।

উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি মনে করি, বাস্তবতার নিরীখে আগামী বছরের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব হবে। অনেকগুলো বিষয় আছে। এটা আমার প্রাথমিক অনুমান।’

বৃহস্পতিবার রাতে চ্যানেল আইয়ের 'আজকের পত্রিকা' অনুষ্ঠানে দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী নির্বাচনের সময় জানতে চাইলে আইন উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

ড. আসিফ বলেন, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে শিগগিরই সার্চ কমিটি গঠন করা হবে।

এরপর নতুন নির্বাচন কমিশন ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করবে এবং তারপর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রত্যর্পণ ও ন্যায্যতার বিধান

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ভারতের সঙ্গে প্রত্যার্পণ চুক্তি রয়েছে এবং ভারত চুক্তি মেনে চললে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো উচিত।

তিনি বলেন, ‘ন্যায্যতার’ ভিত্তিতে কাজ করা হয়নি-ভারত যদি এমন কোনো ধারা নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করে, তাহলে বাংলাদেশ পক্ষ থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হবে।

আসিফ বলেন, তাদের অনেক আইনি ব্যবস্থা থাকবে। ‘ভারত যদি সততার সঙ্গে এর বিশ্লেষণ করে, তাহলে অবশ্যই হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য।’

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা বলেন, ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় কোনো দণ্ডিত ব্যক্তির বিচার শুরু হলে বাংলাদেশ অবশ্যই তার প্রত্যর্পণ চাইবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করব, আদালত এক মাস সময় দিয়েছেন।’ উপদেষ্টা এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলতে চাননি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে পরস্পরবিরোধী বিভিন্ন প্রতিবেদনের মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারত সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তিনি সংক্ষিপ্ত নোটিশে ভারতে এসেছেন। আপাতত সেখানেই তিনি থাকবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'আমরা কিছু রিপোর্ট দেখেছি। আমার মন্তব্য করার কিছু নেই। আমি আগেই বলেছিলাম নিরাপত্তার কারণে খুব অল্প সময়ের নোটিশে তিনি এখানে (ভারত) এসেছেন।’

মতিউর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে টিভি অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, তিনি কখনো বলেননি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কোনো সাংবাদিকের বিচার হবে।

তিনি বলেন, সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে তিনি আসলে যা বলেছেন, তার বড় ধরনের ভুল ব্যাখ্যা এটি।

তিনি সবচেয়ে ক্ষমতাধর উপদেষ্টা-এমন ধারণার বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, এটি সম্পূর্ণ ভুল প্রচার এবং উপদেষ্টা পরিষদের অন্যান্য উপদেষ্টাদের মতো তারও একই ও সমান ক্ষমতা।

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ছাত্র নেতাদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি আলোচনা করেন এবং এটি যৌক্তিকভাবে সম্পন্ন হয়।

তার উপর প্রচণ্ড কাজের চাপ রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন উপদেষ্টা। তিনি বর্তমান অবস্থানের তুলনায় অতীতে অনেক স্বাধীনতা উপভোগ করেছেন বলেও জানান।

আসিফ তার বর্তমান অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, ‘অতীত জীবন ছিল সহজ-সরল। আমি অন্যের ভুল ধরিয়ে দিচ্ছি দেখে মানুষ খুশি হতো। এখন ২৪ ঘণ্টা কাজ করি, তবুও মানুষকে খুশি করতে পারি না। এর জন্য আমার খারাপ লাগছে।’

তিনি বলেন, পিএইচডি করতে গিয়ে তিনি একই রকম কঠোর পরিশ্রমী সময় পার করেছেন এবং তিনি যদি তার কাজ দিয়ে মানুষকে খুশি করতে পারেন তবে তিনি খুশি হবেন।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন