রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

যানজট ও ড্রেনেজ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ঈশ্বরদীতে জুয়েলের নির্বাচনী প্রচারণা

নিজস্ব প্রতিবেদন: আসন্ন পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রহিমপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী ও সাবেক যুবদল আহ্বায়ক জাকির জুয়েল।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাকির জুয়েল ঈশ্বরদী পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন স্মার্ট নগরীতে রূপান্তর করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পৌর এলাকার রাস্তাঘাট, সুপেয় পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ, সুশৃঙ্খল রিকশা স্ট্যান্ড ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধান করা হবে। বিশেষ করে রেলগেট ট্রাফিক মোড় থেকে বাজারের পৌর মার্কেট পর্যন্ত এলাকার তীব্র যানজট নিরসনে কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেন তিনি।

এ সময় তিনি শৈলপাড়া ও রহিমপুর এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ঈশ্বরদী পৌরসভাকে নিয়ে আমার যে সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন রয়েছে, তা বাস্তবায়নে আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।’

সভা শেষে অনুষ্ঠানের সফল আয়োজনের জন্য স্থানীয় নেতা-কর্মী ও উপস্থিত সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানান জাকির জুয়েল। বিশেষ করে ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ কে এম ফজলুর রহমান সোহেল এবং হাফিজুল ইসলাম হাফিজের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ আয়োজন জনসভায় রূপ নিয়েছে।

বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি কবর দেওয়া হবে: হাবিব

নিজস্ব প্রতিবেদক:  পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতি বাংলাদেশের মাটি থেকে চিরতরে কবর দেওয়া হবে। যত বেশি ষড়যন্ত্র করা হবে, ততই জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। যারা জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির মাধ্যমে বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করছে, দেশের মাটিতে তাদের রাজনীতি টিকবে না।

বুধবার বিকেলে ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আনন্দ র‍্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদেরই দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। এখন নতুন করে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে নানা অপপ্রচার চালিয়ে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিকূল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও তারেক রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে নানা চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে চলেছেন। দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পাবনা জেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে হাবিব জানান, তিনি নিজে এবং পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব সম্মিলিতভাবে জেলার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। এ সময় পাবনা থেকে ঢাকায় সরাসরি ট্রেন চালুর দাবি, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর সচলকরণ ও রেলগেটে ফ্লাইওভার নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন তিনি।

ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুলতান আলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াছ আহমেদ ও সদস্যসচিব মনির আহমেদ। এ সময় ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম, সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, সদস্যসচিব ইমরুল কায়েসসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বিকেলে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে রেলগেট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ে কমরেড জসিমউদ্দিন মণ্ডলের অবদান স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য প্রবীণ রাজনীতিক ও প্রখ্যাত শ্রমিকনেতা কমরেড জসিম উদ্দিন মণ্ডলের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঈশ্বরদীতে স্মরণসভা হয়েছে । শনিবার বিকেলে সিপিবি ঈশ্বরদী উপজেলা কমিটির উদ্যোগে পৌর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

গোলজার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সোহাগ হোসেনের পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহসীন রেজা, সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শহীদুল্লাহ সবুজ ও সিদ্দিক আহমেদ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন পাবনা জেলা সিপিবির সভাপতি অলোক মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, কমরেড জসিমউদ্দিন মণ্ডল ছিলেন শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের এক জীবন্ত ইতিহাস। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিসংগ্রাম এবং মেহনতি মানুষের অধিকারের লড়াইয়ে তিনি ছিলেন আপসহীন। ঈশ্বরদীর পাকশীর রেলওয়ে শ্রমিক আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি জনমানুষের মিছিলে তাঁর বজ্রকণ্ঠ শোষকদের কাঁপন ধরিয়ে দিত। রেল শ্রমিকদের ঐতিহাসিক ‘খুদ স্ট্রাইক’ আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বক্তারা বলেন, তিনি জীবনের তোয়াক্কা না করে শ্রমিকদের ভাতের অধিকারের জন্য আজীবন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

নেতারা আরও জানান, জীবনের দীর্ঘ ১৭ বছর পাকিস্তানের কারাগারে কাটিয়েও তিনি শোষকদের সঙ্গে কখনো আপস করেননি। রেলওয়ের সাধারণ ফায়ারম্যান থেকে নিজের প্রজ্ঞা ও ভালোবাসার গুণে তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম প্রাণপুরুষ ও সিপিবির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা হয়েছিলেন। তাঁর সহজ-সরল অথচ ধারাল বক্তব্য আজও মানুষকে সমাজ পরিবর্তনের লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে ৯৭ বছর বয়সে কমরেড জসিমউদ্দিন মণ্ডল মারা যান।

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জসিম উদ্দিন মণ্ডল ১৯২৪ সালে বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা ও তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের নদীয়া জেলার কালিদাসপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩৯ সালে তিনি রেলইঞ্জিনে কয়লা ফেলার চাকরি পান। সে সময় শ্রমিক শোষণের চিত্র দেখে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। তিনি ব্রিটিশ রেল কোম্পানির শ্রমিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। কিশোর বয়স থেকে জসিম উদ্দিন মণ্ডল ভারতের মহাত্মা গান্ধী, বাঘাজতীন, প্রীতিলতা, জ্যোতি বসু, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য, বিদ্রোহী কাজী নজরুল ইসলামসহ প্রখ্যাত মানুষের সান্নিধ্য পান। ষাটের দশকে রেলওয়েতে চালের বদলে খুদ দেওয়ায় তিনি রেল শ্রমিকদের নিয়ে প্রতিবাদ ও আন্দোলন করেন। এতে তাঁর চাকরি চলে যায়। তিনি শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিকবার কারাবরণ ও ব্রিটিশ সরকারের নির্যাতনের শিকার হন। আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি মোট ১৯ বছর কারাভোগ করেন।

জসিম উদ্দিন মণ্ডলের নিজস্ব কোনো বাড়ি নেই। বন্দোবস্ত নেওয়া সরকারি এক খণ্ড জায়গায় তিনি বসবাস করতেন। বাড়ির পাশেই নিজ উদ্যোগে ১৯৯৬ সালে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। পরবর্তী সময় বিদ্যালয়টি সরকারীকরণ হয়। বিদ্যালয়ের নাম পশ্চিম টেংরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

১৭ বছর পর ঈশ্বরদীতে বিএনপির সম্মেলন, নতুন সভাপতি রেজাউল, সম্পাদক জাকারিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ১৭ বছর পর ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কোনো আনুষ্ঠানিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার পৌর শহরের আলোবাগ মাঠে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এ দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।

জাতীয় ও দলীয় পতাকা তুলে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও বিশেষ অতিথি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ।

পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাহিদ উজ্জ্বলের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম নয়নের পরিচালনায় সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ।

সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার, সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, পৌর বিএনপির সদস্যসচিব ইমরুল কায়েস সুমন, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহীন, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খালিদ বিন পার্থিব, সাধারণ সম্পাদক রিয়ামুল ইসলাম রিয়াম ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বহিষ্কৃত নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, ধানের শীষের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে এবার নিজেরাই কমিটি ঘোষণা করেছে, যা হাস্যকর। সন্ত্রাসী ও মাস্তানি করে তারেক রহমানের বিএনপি করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, যারা বহিষ্কৃত হয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের আর দলে ফেরার সুযোগ নেই।

জামায়াত নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, জামায়াত নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন তাঁরা আর এই সরকারকে সমর্থন করবেন না। এত অল্প সময়ে অস্থির না হয়ে সরকারকে সময় দেওয়া উচিত।

সম্মেলনের শেষ পর্বে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কমিটির নাম ঘোষণা করেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ। নতুন কমিটিতে রেজাউল করিম সভাপতি ও এ এস জাকারিয়া সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

ঈশ্বরদীতে পদবঞ্চিতদের পাল্টা কমিটি ঘোষণা, ‘অবৈধ’ বলছে মূল নেতৃত্ব


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বিএনপির কোন্দল দীর্ঘদিনের। গত সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরও ঘনীভূত হয়। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া ও তাঁদের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে বেশ কিছু নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সম্প্রতি ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা ঈশ্বরদীর সাতটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেছেন।

সোমবার বিকেলে ঈশ্বরদী প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এসব কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সাতটি ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করেন উপজেলা বিএনপির স্বঘোষিত আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম এবং পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা করেন পৌর বিএনপির স্বঘোষিত আহ্বায়ক ইসলাম হোসেন জুয়েল।

এ সময় উপজেলা বিএনপির স্বঘোষিত সদস্যসচিব সাহাব উদ্দীন সেন্টু, পৌর বিএনপির স্বঘোষিত সদস্যসচিব আনোয়ার হোসেন জনি, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েলসহ পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পদবঞ্চিত নেতাদের দাবি, বছরের পর বছর মামলা-হামলার শিকার হলেও দল তাঁদের মূল্যায়ন করেনি; বরং একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠীকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের অস্তিত্ব রক্ষা ও আবেগ-অনুভূতির কথা বিবেচনা করে তাঁরা এই নতুন কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয়েছেন।

এর আগে গত ২২ আগস্ট রাতে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

উপজেলা কমিটিতে জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে আহ্বায়ক ও শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্যসচিব করা হয়। অন্যদিকে পৌর বিএনপির কমিটিতে মাহবুবুর রহমান পলাশকে আহ্বায়ক ও ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্যসচিব করা হয়। প্রায় এক মাস পর ২৫ সেপ্টেম্বর জেলা কমিটি ঈশ্বরদী উপজেলা কমিটিকে ৪৮ সদস্য এবং পৌর কমিটিকে ৩৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আকার দিয়ে প্রকাশ করে।

ওই সময় ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন পদবঞ্চিতরা। পরে গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যায় পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা ২৪ সদস্যের উপজেলা বিএনপি ও ২২ সদস্যের পৌর শাখার সমান্তরাল (প্যারালাল) কমিটি ঘোষণা করেন। যেখানে অনুমোদনকারী হিসেবে স্বাক্ষর করেছিলেন জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।

তবে ঘোষিত এসব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিকে ‘দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী’ ও ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছেন অনুমোদন পাওয়া জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতারা।

ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ বলেন, ‘বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে আলাদা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কিছু নেই। তারা বিএনপির নীতি-আদর্শ মেনে চলে না। তৃণমূল বিএনপির পক্ষে তারা কমিটি ঘোষণা করেছে, এ বিষয়ে তৃণমূল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাই ভালো বলতে পারবেন।’

উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন জানান, এক-দুজন নেতা-কর্মী পথভ্রষ্ট হলে সাংগঠনিক কার্যক্রমে তার প্রভাব পড়ে না। বিএনপির সার্বিক কার্যক্রম শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে পরিচালিত হয়। তবে দলীয় ছবি ও প্রতীক ব্যবহার করে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈশ্বরদী উপজেলার সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপি কমিটি বিলুপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলার সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার রাতে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার ও সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩ অক্টোবর সকালে সাহাপুরে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের বাসভবনে ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত সব সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো হলো—ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধ, সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী করা; উপজেলার সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড বিএনপির বিদ্যমান কমিটিগুলো বিলুপ্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি গঠন করা এবং উপজেলা বিএনপির দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান মনিরুলকে দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা। এসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

ঈশ্বরদীতে সাবেক মেয়র মিন্টুর বাসভবনে ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর বাসভবনে ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার গভীর রাতে শহরের হাসপাতাল সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক মামলার জেরে বর্তমানে এলাকাছাড়া রয়েছেন সাবেক এই মেয়র। অন্যদিকে স্ত্রীর অসুস্থতাজনিত চিকিৎসা এবং সন্তানদের পড়াশোনার সুবাদে তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাড়িতে ছিলেন না। বাড়িটি সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা তালা ও দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তারা ঘরের ভেতরে থাকা খাটের ফ্রেম, আলমারি এবং চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন মূল্যবান আসবাবপত্র ভাঙচুর করে পুরো ঘর তছনচ করে ফেলে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিক তদন্তে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাবেক মেয়র বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন, ‘বাড়িটি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা তালা ও দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি।

বিতর্ক -অভিযোগের মুখে ঈশ্বরদী উপজেলা ও সাত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিতর্ক ও নানা অভিযোগের মুখে ঈশ্বরদী উপজেলা ও এর অধীন সাতটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার পাবনা জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক জুবায়ের বিশ্বাস অন্ত ও যুগ্ম আহ্বায়ক তৌশিকুর রহমান রাভার যৌথ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার সলিমপুর, সাহাপুর, লক্ষীকুণ্ডা, পাকশী, দাশুড়িয়া ও মুলাডুলি ইউনিয়নের নবগঠিত কমিটিগুলোও বিলুপ্ত করা হয়েছে। তবে ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্তির সুনির্দিষ্ট কারণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে মঙ্গলবার রাতে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময় ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আরমান স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই সাত ইউনিয়নে এক বছরের জন্য নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

কমিটি ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দলীয় অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বঞ্চিত নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে বিবাহিত ও নিষ্ক্রিয় ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে, অথচ রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। এই তীব্র অসন্তোষ ও প্রতিবাদের জেরে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জেলা ছাত্রলীগ উপজেলা ও ইউনিয়নগুলোর এসব কমিটি বাতিল করে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময় জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে সম্মেলন করার সুযোগ না থাকায় প্রায় এক মাস ধরে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শেষে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে কী কারণে হঠাৎ কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হলো, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। তাঁর মতে, অভিযোগ ওঠার পর তা যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল।

অন্যদিকে, পাবনা জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তৌশিকুর রহমান রাভা বলেন, জেলা কমিটির নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হওয়া, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা, কমিটিতে বিবাহিতদের স্থান দেওয়া এবং যোগ্যদের বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঈশ্বরদীতে নতুন ও পরিচ্ছন্ন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।

দলের বিরুদ্ধে নির্বাচনকারীদের বিএনপির কমিটিতে ঠাঁই হবে না: হাবিব

নিজস্ব প্রতিবেদক: দলের শৃঙ্খলা ভেঙে যারা জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, বিএনপির নতুন কমিটিতে তাঁদের কোনো স্থান হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।

শনিবার ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সকালে ঈশ্বরদী শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে পৌর বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে পৌর কমিটির পরিচিতি সভা এবং সন্ধ্যায় সাহাপুরে উপজেলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান পলাশের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় পৌর কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল হক সন্টু সরদারের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিনের সঞ্চালনায় সাহাপুরে উপজেলা কমিটির সভা হয়। নবগঠিত কমিটিতে উপজেলা পর্যায়ে ৪৯ জন এবং পৌর কমিটিতে ৩৭ জন সদস্য রয়েছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘ঈশ্বরদীতে যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করে দলের সঙ্গে বেঈমানি করেছেন, বিএনপির কমিটিতে তাঁদের কোনো ঠাঁই হবে না। তাঁদের রাজনৈতিকভাবে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে এবং দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।’ দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

ঈশ্বরদীর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, অতীতে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রুদের সহায়তা করেছেন এবং নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন চালিয়েছেন, তাঁদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, দল থেকে বহিষ্কৃতরা যাতে বিএনপি বা শীর্ষ নেতাদের ছবি ব্যবহার করে কোনো ব্যানার-পোস্টার লাগাতে না পারে এবং দলীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যথায় দলের হাইকমান্ডকে বিষয়টি অবহিত করা হবে বলে জানান তিনি।

ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাবনা জেলা বিএনপি এই কমিটি অনুমোদন করে।

শুক্রবার রাতে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব মাসুদুর রহমান মাসুদ খানের স্বাক্ষর করা পৃথক দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়।

অনুমোদিত ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির ৪৮ সদস্যের আংশিক কমিটিতে জিয়াউল হক সন্টু সরদারকে আহ্বায়ক, আজমল হোসেন সুজনকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। এ ছাড়া কমিটিতে চারজনকে যুগ্ম আহ্বায়কসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সদস্য রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির ৩৭ সদস্যের নতুন কমিটিতে মাহবুবুর রহমান পলাশকে আহ্বায়ক, আজমল হোসেন ডাবলুকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

জেলা বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপজেলা আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এবং পৌর কমিটিকে আগামী ২০ দিনের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে হবে। এ ছাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ তিন নেতার যৌথ স্বাক্ষরে সংশ্লিষ্ট সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির অনুমোদন দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে বিএনপির কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের ‘মিছিল’, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বুধবার বিকেলে দাশুড়িয়া এলাকায় এই কর্মসূচি পালিত হয়।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব ও উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিনের নির্দেশনায় প্রতিবাদ মিছিলটি দাশুড়িয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ এবং দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ সুলভ মালিথা।

বক্তারা বলেন, দেশে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে সব ধরনের সন্ত্রাস ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। আওয়ামী লীগের নামে ঝটিকা বা গুপ্ত মিছিল বের করে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানোর অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। দাশুড়িয়ায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হাসান মুকুল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার হেদায়েতুল ইসলাম অনিক ও সাইফুল ইসলাম পণ্ডিত, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ডালিকী, সদস্যসচিব বিপুল মোল্লা, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম লাকিসহ বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

প্রশাসন ও জামায়াতের সমঝোতার অভিযোগ: ঈশ্বরদীতে বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ধানমন্ডি ৩২-এর বাড়ি ভাঙচুর, শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং হরতালের সমর্থনে পাবনার ঈশ্বরদীতে দফায় দফায় প্রকাশ্যে মিছিল করেছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। গত মঙ্গলবার প্রকাশ্যে মিছিলের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসন ও স্থানীয় বিএনপির মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়।

প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের মিছিল ও নৈরাজ্য সৃষ্টির আশঙ্কার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলা ও পৌর বিএনপির ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন দলের নেতা-কর্মীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঈশ্বরদী শহরের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় মিছিল বের করেন। সর্বশেষ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময়ের নেতৃত্বে একটি মিছিল বের করা হয়। ওই মিছিল থেকে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান ও বক্তব্য দেওয়া হয়।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে সংক্ষিপ্ত পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এর আগে নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে কর্মসূচিতে অংশ নেন।

বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পৌর বিএনপির সদস্যসচিব আনোয়ার হোসেন জনির সঞ্চালনায় বিক্ষোভ ও পথসভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাহাবুদ্দিন সেন্টু সরদার, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ইসলাম হোসেন জুয়েল, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল এবং উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত আহ্বায়ক বিটু মুস্তাফিজ।

বক্তারা বলেন, প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের বারবার মিছিল নৈরাজ্য সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করছে। আওয়ামী লীগের প্রতি জামায়াত ও প্রশাসনের উদার মনোভাবের কারণে দল দুটির মধ্যে সমঝোতা রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

তাঁরা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ১৭ বছর দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করে শত শত মানুষকে হত্যা করেছে। বর্তমানে দলটির নেতা-কর্মীরা পলাতক থাকা অবস্থায় তাদের পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, বিএনপি দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করলেও প্রশাসন ও জামায়াতের একটি অংশ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁরা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

প্রশাসনের উদ্দেশে বক্তারা বলেন, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তাদের নিরাপদে থাকার ও মিছিল করার সুযোগ করে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে তাঁদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, রাতের আঁধারে নির্জন এলাকায় ছাত্রলীগের একটি ঝটিকা মিছিল হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কোনোভাবেই মিছিল করার সুযোগ নেই।

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জয়নগরে উপজেলা, কলেজ ও পৌর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এই বিক্ষোভ মিছিল করেন। উপজেলা ছাত্রদল নেতা আল-আমিন হোসেনের নেতৃত্বে মিছিলটি জয়নগর বোর্ডঘর থেকে শুরু হয়ে শিমুলতলা বাজারে গিয়ে পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রদল নেতা আল-আমিন হোসেন, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি খালিদ বিন পার্থিব, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, পৌর ছাত্রদল নেতা ইঞ্জিনিয়ার আতিকুর রহমান সোহাগ, পাবনা জেলা ছাত্রদলের সদস্য সম্রাট হোসেন, উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর শরীফ হানিফ মহলদার এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ওবাইদুল কাদিম শিশির প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ছাত্রলীগ নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। দলীয় মুখোশ পাল্টে ছাত্রদলের ছদ্মবেশ ধারণ করে কেউ যেন কোনো অপকর্ম করতে না পারে, সেদিকে নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে প্রতিহত করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের উপজেলা শাখার সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময় তাঁর ফেসবুকে একটি ঝটিকা মিছিলের ভিডিও পোস্ট করেন। পুলিশের ধারণা, গত ৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মিরকামারী এলাকায় মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময়ের নেতৃত্বে ওই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: যতবার দেশ বিপথগামী ও গণতন্ত্র ভুল পথে পরিচালিত হয়েছে, ততবারই বিএনপিকে তা থেকে উত্তোলনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বলেন, বিগত ১৭-১৮ বছরের জমে থাকা সমস্যা সমাধানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

রোববার রাতে ঈশ্বরদীর মুলাডুলি ইউনিয়নে ছয় দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি একটি বড় পরিবার। দলে মতভেদ থাকতে পারে, তবে এখন সব ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার সময়। যাঁরা কোনো কারণে দল থেকে বিচ্যুত হয়েছেন, তাঁদেরও দল সুসংগঠিত করার কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বর্তমান সরকারের অনেক কাজ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু হবে। এ ছাড়া দেশের মানুষের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের কষ্ট হচ্ছে; এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে ভবিষ্যতে যেন জ্বালানি ও বিদ্যুতের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করতে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, যাঁরা সরকারকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের পাশাপাশি যাঁরা ভোট দেননি, তাঁদের জন্যও কাজ করা হবে। কারণ, সরকার পুরো দেশের মানুষের।

অনুষ্ঠানে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল হক সন্টু সরদার, সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ ও সদস্যসচিব ইমরুল কায়েস সুমনসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঈশ্বরদীতে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের উপস্থিতিতে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ের বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরাতন মোটরস্ট্যান্ডে গিয়ে পথসভায় মিলিত হয়।

উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রোকেয়া হাশেমের সভাপতিত্বে পথসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।


অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল হক সন্টু সরদার, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, সদস্য সচিব ইমরুল কায়েস সুমন, উপজেলা মহিলা দলের সহসভাপতি হীরা খাতুন, সাধারণ সম্পাদিকা চামেলী খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক আইভি খাতুন, পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী রোকেয়া সুলতানা, সিনিয়র সহসভাপতি শাহিনা আক্তার, সাধারণ সম্পাদিকা আফরোজা খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসমিন আক্তার নিপা ও মুলাডুলি ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী হোসনেয়ারা বেগমসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঈশ্বরদীতে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত


নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। গত বুধবার সকালে শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে বিএনপির অস্থায়ী দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী রোকেয়া হাশেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ।

এ সময় উপজেলা মহিলা দলের সহসভাপতি হীরা খাতুন, সাধারণ সম্পাদিকা চামেলী খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক আইভি খাতুন, পৌর মহিলা দলের সভানেত্রী রোকেয়া সুলতানা, সিনিয়র সহসভাপতি শাহিনা আক্তার, সাধারণ সম্পাদিকা আফরোজা খাতুন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসমিন আক্তার নিপা, নেত্রী শামীম আরা বেগম সাথী এবং মুলাডুলি ইউনিয়ন সভানেত্রী হোসনেয়ারা বেগম, দাশুড়িয়ার সভানেত্রী নুরজাহান বেগম, সাহাপুরের শাহনাজ পারভীন সোমা, সাঁড়ার আনোয়ারা বেগম ও ছলিপুর ইউনিয়ন সভানেত্রী চুমকি খাতুনসহ মহিলা দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঈশ্বরদীতে ট্রেনবহরে হামলার মামলার কারামুক্ত নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলার মিথ্যা মামলায় কারাভোগের পর কারামুক্তির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার জয়নগর বোর্ড অফিস মোড়সংলগ্ন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়।

সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের আয়োজনে এবং ছাত্রদল নেতা আল আমিন হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দুই বছর আগে কারামুক্ত সলিমপুর ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা জানানো হয়।

সংবর্ধিত ব্যক্তিরা হলেন সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, যুবদল নেতা কামাল পারভেজ চাঁদ, বিএনপি নেতা জামিরুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন ও পলাশ মাহমুদ।

ছাত্রদল নেতা আল আমিন হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল, যুবদল নেতা রাসেল হোসেন, ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম হোসেন প্রমুখ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য আসাদুল হক আশা, বিএনপি নেতা সানাউল হক প্রামাণিক, সেলিম রেজা, আফজাল হোসেন, নূর সালাম মন্ডল, হযরত আলী ও ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেনসহ ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অনুষ্ঠান শেষে কারামুক্তির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে কেক কাটা হয়। একই সঙ্গে মৃত্যুবরণকারী নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পাবনা জেলা কৃষক দলের সভাপতি আবুল হাসেম ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসিফ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে মোট ৩৭ জনকে রাখা হয়েছে। কমিটিতে পাঞ্জুর রহমান সরদারকে সভাপতি এবং শাহ আজিজুর রহমানকে সিনিয়র সহসভাপতি করা হয়েছে। এ ছাড়া মহিউল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক এবং রেজাউল ইসলাম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অন্যান্য পদে থাকা নেতাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটির সভাপতি পাঞ্জুর রহমান সরদার বলেন, ‘আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করব। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করার পাশাপাশি কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে কাজ করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আশা করি, কমিটির সব সদস্য দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করবেন এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবেন।’

ঈশ্বরদীতে 'পকেট কমিটি'র অভিযোগে বিএনপির পাল্টা কমিটি, সংঘাতের আশঙ্কা


নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ সাত বছর পর ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পরপরই শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। ঘোষিত কমিটিকে সুবিধাবাদীদের ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে বিপরীতে আজ রোববার পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেছেন দলের বহিষ্কৃত নেতারা।

একই সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কেন্দ্র করে শহরের একই স্থানে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি তোরণ নির্মাণ নিয়ে হাতাহাতির উপক্রম হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হলেও স্থানীয় রাজনীতিতে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় শহরের রেলওয়ে গেট এলাকায় ‘তৃণমূল বিএনপি’র ব্যানারে ৩১ সদস্যের এই পাল্টা কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপিতে ইসলাম হোসেন জুয়েলকে আহ্বায়ক ও আনোয়ার হোসেন জনিকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। আর উপজেলা কমিটিতে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আহ্বায়ক ও মো. সাহাবুদ্দিন সেন্টু সরদারকে সদস্যসচিব করা হয়।

ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু (বর্তমানে বহিষ্কৃত) এ দুটি কমিটি অনুমোদন দেন। এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ২২ আগস্ট রাতের অন্ধকারে যে পকেট কমিটি দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। পরীক্ষিতদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগীদের বসানো হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তৃণমূলের অধিকার রক্ষায় এ কমিটি গঠন করা হলো।’

এদিকে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন কেন্দ্র করে দুই পক্ষের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। শহরের আলহাজ্ব মোড়ে একই স্থানে দুই পক্ষ তোরণ নির্মাণ শুরু করলে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ান কর্মীরা। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এক পক্ষ পোস্ট অফিস মোড়ে এবং অপর পক্ষ আলহাজ্ব মোড়ে তোরণ সরাতে সম্মত হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার জানান, প্রশাসনিক পদক্ষেপে আপাতত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পৃথক কর্মসূচি ঘিরে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে আহ্বায়ক ও শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্যসচিব করে উপজেলা এবং মাহবুবুর রহমান পলাশকে আহ্বায়ক ও ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্যসচিব করে পৌর কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে কমিটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁরা দুই দফায় ঝাড়ুমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

ঈশ্বরদীতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপির প্রস্তুতি সভা, শীঘ্রই আসছে আহ্বায়ক কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগেই ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে রাজনৈতিকভাবে দূরদর্শী ও কার্যকর পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন পাবনা জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।

শনিবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জাকারিয়া পিন্টু বলেন, ‘সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আজ রোববার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে। নতুন কমিটি গঠনের পর এক মাসের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় সংগঠন পুনর্গঠন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক প্রতিবাদ র‍্যালি করে আমরা কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন নিয়ে আসব। বিএনপি আমরা করেছি, আমরাই করব; নিজেদের অধিকার নিজেরা আদায় করে নেব।’

দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যক্রমে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল উল্লেখ করে জাকারিয়া পিন্টু জানান, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে দলকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃত্ব পুনর্গঠন করা হলে মাঠপর্যায়ে নতুন গতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সভায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ছাড়াও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে আসা বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন