ঈশ্বরদীতে জেলা বিএনপির আহ্বায়কের উপস্থিতিতে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
ঈশ্বরদীতে মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
ঈশ্বরদীতে ট্রেনবহরে হামলার মামলার কারামুক্ত নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলার মিথ্যা মামলায় কারাভোগের পর কারামুক্তির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার জয়নগর বোর্ড অফিস মোড়সংলগ্ন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি সংসদ কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়।
সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের আয়োজনে এবং ছাত্রদল নেতা আল আমিন হোসেনের সার্বিক সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে দুই বছর আগে কারামুক্ত সলিমপুর ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের সংবর্ধনা জানানো হয়।
সংবর্ধিত ব্যক্তিরা হলেন সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল, বিএনপি নেতা আবুল কাশেম, যুবদল নেতা কামাল পারভেজ চাঁদ, বিএনপি নেতা জামিরুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন ও পলাশ মাহমুদ।
ছাত্রদল নেতা আল আমিন হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সলিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুল, যুবদল নেতা রাসেল হোসেন, ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম হোসেন প্রমুখ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য আসাদুল হক আশা, বিএনপি নেতা সানাউল হক প্রামাণিক, সেলিম রেজা, আফজাল হোসেন, নূর সালাম মন্ডল, হযরত আলী ও ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেনসহ ইউনিয়ন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
অনুষ্ঠান শেষে কারামুক্তির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে কেক কাটা হয়। একই সঙ্গে মৃত্যুবরণকারী নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষক দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে পাবনা জেলা কৃষক দলের সভাপতি আবুল হাসেম ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসিফ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নতুন কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে মোট ৩৭ জনকে রাখা হয়েছে। কমিটিতে পাঞ্জুর রহমান সরদারকে সভাপতি এবং শাহ আজিজুর রহমানকে সিনিয়র সহসভাপতি করা হয়েছে। এ ছাড়া মহিউল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক এবং রেজাউল ইসলাম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নতুন কমিটির অন্যান্য পদে থাকা নেতাদের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটির সভাপতি পাঞ্জুর রহমান সরদার বলেন, ‘আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করব। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করার পাশাপাশি কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিদাওয়া গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে কাজ করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়িয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। আশা করি, কমিটির সব সদস্য দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করবেন এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবেন।’
ঈশ্বরদীতে 'পকেট কমিটি'র অভিযোগে বিএনপির পাল্টা কমিটি, সংঘাতের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ সাত বছর পর ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পরপরই শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। ঘোষিত কমিটিকে সুবিধাবাদীদের ‘পকেট কমিটি’ আখ্যা দিয়ে বিপরীতে আজ রোববার পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেছেন দলের বহিষ্কৃত নেতারা।
একই সঙ্গে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কেন্দ্র করে শহরের একই স্থানে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি তোরণ নির্মাণ নিয়ে হাতাহাতির উপক্রম হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত হলেও স্থানীয় রাজনীতিতে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় শহরের রেলওয়ে গেট এলাকায় ‘তৃণমূল বিএনপি’র ব্যানারে ৩১ সদস্যের এই পাল্টা কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপিতে ইসলাম হোসেন জুয়েলকে আহ্বায়ক ও আনোয়ার হোসেন জনিকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। আর উপজেলা কমিটিতে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আহ্বায়ক ও মো. সাহাবুদ্দিন সেন্টু সরদারকে সদস্যসচিব করা হয়।
ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু (বর্তমানে বহিষ্কৃত) এ দুটি কমিটি অনুমোদন দেন। এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ২২ আগস্ট রাতের অন্ধকারে যে পকেট কমিটি দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। পরীক্ষিতদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগীদের বসানো হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তৃণমূলের অধিকার রক্ষায় এ কমিটি গঠন করা হলো।’
এদিকে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন কেন্দ্র করে দুই পক্ষের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। শহরের আলহাজ্ব মোড়ে একই স্থানে দুই পক্ষ তোরণ নির্মাণ শুরু করলে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ান কর্মীরা। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এক পক্ষ পোস্ট অফিস মোড়ে এবং অপর পক্ষ আলহাজ্ব মোড়ে তোরণ সরাতে সম্মত হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান সরকার জানান, প্রশাসনিক পদক্ষেপে আপাতত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পৃথক কর্মসূচি ঘিরে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ আগস্ট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে আহ্বায়ক ও শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্যসচিব করে উপজেলা এবং মাহবুবুর রহমান পলাশকে আহ্বায়ক ও ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্যসচিব করে পৌর কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে কমিটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁরা দুই দফায় ঝাড়ুমিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
ঈশ্বরদীতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিএনপির প্রস্তুতি সভা, শীঘ্রই আসছে আহ্বায়ক কমিটি
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আগেই ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনকে রাজনৈতিকভাবে দূরদর্শী ও কার্যকর পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন পাবনা জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু।
শনিবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জাকারিয়া পিন্টু বলেন, ‘সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে আজ রোববার দুপুরে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে। নতুন কমিটি গঠনের পর এক মাসের মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় সংগঠন পুনর্গঠন করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিক প্রতিবাদ র্যালি করে আমরা কেন্দ্র থেকে পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন নিয়ে আসব। বিএনপি আমরা করেছি, আমরাই করব; নিজেদের অধিকার নিজেরা আদায় করে নেব।’
দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যক্রমে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল উল্লেখ করে জাকারিয়া পিন্টু জানান, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে দলকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃত্ব পুনর্গঠন করা হলে মাঠপর্যায়ে নতুন গতি আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ছাড়াও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে আসা বিপুলসংখ্যক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
ঈশ্বরদীতে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক বিপুল হোসেন বুদুকে প্রধান আসামি করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের নতুনহাট গোলচত্বর এলাকায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের ব্যানারে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে নতুনহাট গোলচত্বর মোড়ে এসে প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়। এতে বক্তব্য দেন পাবনা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক বরকত আলী, দাশুরিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লাকী, পাকশী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহীন উদ্দিন শেখ, ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আলীমুল ইসলাম মৃধা, সাহাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আলিমুল ইসলাম বাধন ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক কনক মন্ডল।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, বিপুল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। কোনো একটি পক্ষের নির্দেশে কিংবা প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে ঘটনার আসল পথ ভিন্নখাতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুলকে মিথ্যা মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে। বক্তারা এই মামলাকে হয়রানিমূলক দাবি করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ১৯ আগস্ট রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে জয়নগরের নিজ বাসায় ফিরছিলেন শরিফুল ইসলাম শরীফ। পথে জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়ির পথরোধ করে গুলি ছোড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তাঁকে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার ছয় দিন পর ২৫ আগস্ট শরিফুল বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিপুল হোসেনকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
হত্যাচেষ্টার শিকার শরীফ, প্রধান আসামি বিএনপির হাবিবের ভাই
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার ছয় দিন পর গতকাল মঙ্গলবার রাতে হামলার শিকার শরিফুল নিজে বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বিপুল হোসেন বুদুকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের ছোট ভাই।
মামলায় বিপুলসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ থেকে সাতজনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন—উপজেলা তারুণ্য দলের যুগ্ম সম্পাদক রাব্বি মালিথা, যুবদল নেতা সাহান হোসেন, বিএনপি নেতা নসু প্রামাণিক, আরিফ হোসেন (কালা আরিফ) ও মুকুল হোসেন।
এজাহারের বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার জয়নগর শিমুলতলা বাজার থেকে ব্যক্তিগত গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন শরিফুল। পথে দুর্বৃত্তরা তাঁর গাড়ির গতিরোধ করে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি চালায়। বুলেট গাড়ির কাচ ভেদ করে শরিফুলের চোয়ালে লাগে। এরপর তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি থানায় গিয়ে এই মামলা করেন।
শরিফুলের দাবি, তিনি হামলাকারীদের চিনতে পেরেছেন। আসামিদের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা ছিল না। মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অন্যের নির্দেশে এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলার সময় জেলা বিএনপি নেতার ভাই বিপুল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
হামলার নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে শরিফুল জানান, সম্প্রতি স্থানীয় মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে জেলা বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। ওই সময় শরিফুল তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় হাবিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে এক পোস্টে লেখেন, আওয়ামী লীগ নেতার স্বজনের কাছে ওই স্কুলের সভাপতির পদ বিক্রি করা হয়েছে। এই বিরোধের জেরেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে তাঁর ধারণা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান আসামি বিপুল হোসেন বুদু বলেন, আমাদের পরিবার সম্পর্কে এলাকার মানুষ ভালোভাবে জানেন। আমি কখনো কোনো সহিংস রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় আমার নাম জড়ানো হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলেই মূল সত্য বেরিয়ে আসবে।
স্কুল কমিটির বিরোধের বিষয়টি নিয়ে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, শরিফুলের অনুরোধেই তাঁকে মানিকনগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সাময়িক কমিটির সভাপতি করা হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্বে থাকাকালে তিনি এক দিনও স্কুলে যাননি। পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিষ্ঠানপ্রধান মিলে নতুন কমিটি তৈরি করেন, এতে তাঁর কোনো ভূমিকা ছিল না।
পাল্টা অভিযোগ তুলে হাবিবুর রহমান আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর শরিফুল বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় দখল, চাঁদাবাজি ও লুটপাট চালিয়ে বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি অতীতেও নির্বাচনের সময় ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করেছিলেন। এখন রাজনৈতিক চক্রান্ত করে তাঁর ছোট ভাইকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। পুলিশও কোনো প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই মামলাটি নথিবদ্ধ করেছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, হামলার পরদিন থেকেই অপরাধীদের শনাক্তে কাজ করছিল পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তা মামলা হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঈশ্বরদীতে কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বিএনপির আনন্দ মিছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির নবগঠিত আংশিক আহ্বায়ক কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল ও পথসভা করেছেন দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা।
রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার দাশুড়িয়া গোলচত্বর এলাকায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। মিছিলটি দাশুড়িয়া গোলচত্বর ও বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা এসে মিছিলে অংশ নেন।
পরে আয়োজিত পথসভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন এ নেতৃত্বের মাধ্যমে ঈশ্বরদীতে বিএনপি আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী হবে। আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থেকে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
ঘোষিত কমিটিতে জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও মো. শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। অন্যদিকে মাহাবুবুর রহমান পলাশকে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বিএনপির কমিটি বাতিল চেয়ে ঈশ্বরদীতে একাংশের ঝাড়ু মিছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির সদ্য ঘোষিত আংশিক আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল করেছেন দলটির একাংশের নেতাকর্মীরা। এ সময় পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবি জানানো হয়।
রোববার রাত আটটার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যালয়ের সামনে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
এর আগে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে রেলওয়ে গেট এলাকার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে সেখানে ঝাড়ু মিছিল বের করা হয়। এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়কের ছবি প্রদর্শন করে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন তারা। মিছিলটি স্টেশন রোড প্রদক্ষিণ করে ঈশ্বরদী বাজারের প্রধান ফটকে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বিষ্টু কুমার সরকার এবং সঞ্চালনা করেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসলাম হোসেন জুয়েল। এতে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা সিন্টু সরদার, শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি আশিকুর রহমান নান্নু, সাবেক কমিশনার আনোয়ার হোসেন জনি, যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মাহমুদুর রহমান ফুল জুয়েলসহ অন্যরা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে নির্যাতিত ও রাজপথের সক্রিয় কর্মীদের বাদ দিয়ে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিগত সরকারের অনুসারীদের সঙ্গে সখ্য ছিল—এমন ব্যক্তিদেরও পদে রাখা হয়েছে। ঘোষিত কমিটিকে দলের নীতিপরিপন্থী আখ্যা দিয়ে তারা অবিলম্বে এটি বাতিলের দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন নেতাকর্মীরা।
অভিযোগের বিষয়ে সদ্য ঘোষিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদার বলেন, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন, তারা মূলত বহিষ্কৃত। তাই বহিষ্কৃতদের কমিটিতে রাখার কোনো সুযোগ নেই।
একই কথা জানান পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। তিনি বলেন, একাধিকবার বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা এই কমিটিকে অবৈধ বলার অধিকার রাখেন না। শীর্ষ নেতৃত্বের পছন্দ ও নির্দেশনা অনুসারেই ত্যাগীদের নিয়ে কমিটি অনুমোদিত হয়েছে। তারা বারবার শান্ত পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ আগস্ট জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপিতে জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে আহ্বায়ক ও শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্যসচিব এবং পৌর বিএনপিতে মাহাবুবুর রহমান পলাশকে আহ্বায়ক ও ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্যসচিব করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা জেলা বিএনপি ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির কমিটিতে মো. জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারকে আহ্বায়ক এবং মো. শরিফুল ইসলাম তুহিনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির কমিটিতে মাহবুবুর রহমান পলাশকে আহ্বায়ক ও ইমরুল কায়েস সুমনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ আগস্ট উপজেলা বিএনপি এবং ১৮ আগস্ট পৌর বিএনপির কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর হামলার প্রতিবাদে হাবিব
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে হাবিবুর রহমান বলেন, আমি এই ন্যাক্কারজনক ও বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব দুর্বৃত্তকে দ্রুত শনাক্ত করে অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহর দরবারে শরিফের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করছি—তিনি যেন দ্রুত আরোগ্য লাভ করে আবারও রাজপথে ও রাজনীতির ময়দানে আমাদের মাঝে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন।
এর আগে বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে জয়নগরে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে শরিফুল ইসলামের প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। গাড়িটি থেমে গেলে তাঁরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঈশ্বরদীতে হামলায় আহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন, আশঙ্কামুক্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর এই অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত।
এর আগে জয়নগরে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে তাঁর প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। গাড়িটি থেমে গেলে তাঁরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয় ব্যক্তিরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ছাত্রনেতা জয়নগর মধ্যপাড়ার প্রয়াত আব্দুল মজিদ প্রামাণিকের ছেলে। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, প্রাথমিক অস্ত্রোপচার সফল হলেও শারীরিক অবস্থা আরও স্থিতিশীল হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নিয়ে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হতে পারে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
হাবিবের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ মিছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অশ্লীল স্লোগান, মিথ্যা বক্তব্য এবং থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।
বুধবার বিকেলে দাশুড়িয়া বাজারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মিছিলে পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ও স্থানীয় জামায়াত নেতা হাফিজ মেম্বারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ঈশ্বরদী থানার সামনে জড়ো হয়ে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম তুহিনসহ দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান ও মিথ্যা বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে থানায় তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগও করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা ঈশ্বরদীতে হত্যা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সুদের কারবারে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান তারা।
ঈশ্বরদীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নানা আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
বুধবার সকাল ৯টায় উপজেলার রেলওয়ে গেট এলাকার বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক বিষ্টু কুমার সরকার।
ঈশ্বরদী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মাহমুদুর রহমান ফুল জুয়েলের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন জনি, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুমন আলী এবং ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ শাখার প্রস্তাবিত আহ্বায়ক মাহমুদুল হাসান শাওনসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল কবির।
সমাবেশে বক্তারা পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের কঠোর সমালোচনা করেন এবং তার বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি দিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসানসহ সব নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।
সাবেক মেয়র বাবলুর স্মরণসভা সফল করায় বিএনপি নেতা তুহিনের কৃতজ্ঞতা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক প্রধান মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রয়াত মোকলেছুর রহমান বাবলুর স্মরণসভা ও মিলাদ মাহফিল সফলভাবে সম্পন্ন করায় দলীয় নেতা-কর্মী, সাধারণ মানুষ ও সংবাদকর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শরিফুল ইসলাম তুহিন।
এক বার্তায় তিনি বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও স্মরণসভা সফল করে দলের নেতা-কর্মীরা প্রবীণ এই নেতার প্রতি তাঁদের অকৃত্রিম ভালোবাসার প্রমাণ দিয়েছেন।
এর আগে শুক্রবার দাশুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ জিন্নাহ মিলনায়তনে ওই স্মরণসভা ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটি সফল করতে ঈশ্বরদী পৌরসভাসহ দাশুড়িয়া, মুলাডুলি, সলিমপুর, সাহাপুর, লক্ষ্মীকুণ্ডা, পাকশী ও সাঁড়া ইউনিয়নের বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতি ব্যক্তিগত ও দলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান শরিফুল ইসলাম। একই সঙ্গে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
স্মরণসভার সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার জন্য সংবাদপত্র ও সম্প্রচার মাধ্যমের সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয় বার্তায়। এছাড়া বৈরী আবহাওয়া ও জায়গা কম থাকায় যেসব কর্মী-সমর্থক ভেতরে ঢুকতে না পেরে কষ্ট পেয়েছেন, তাঁদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির এই নেতা।
বার্তার শেষ অংশে ঈশ্বরদীর জনপ্রিয় প্রবীণ নেতা প্রয়াত মোকলেছুর রহমানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
ঈশ্বরদীতে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীর সাহাপুরে অসহায় ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার সকালে সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচরা গ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হুইলচেয়ার বিতরণ করেন পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল।
সাহাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা খোন্দকার সানাউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির আলহাজ আবুল কাশেম এবং সাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সগির বিন নাসির।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাহাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাসুম বিল্লাহ।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও গণহত্যার বিচারে ঈশ্বরদীতে জামায়াতের গণমিছিল
নিজস্ব প্রতিবেদক: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচারের দাবিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও গণমিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার বিকেলে উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
শোভাযাত্রা ও মিছিলটি ঈশ্বরদী রেলগেট এলাকার খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনালে থেকে শুরু হয়ে দাশুড়িয়া সড়ক মোড়, লালন শাহ সেতু, জয়নগর বোর্ড অফিস মোড় ও শিমুলতলা এলাকা প্রদক্ষিণ করে আলহাজ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পাবনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ যে রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জুলাই গণহত্যা, দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত রাখা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে জামায়াতে ইসলামী শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।
পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে উদ্দেশ করে অধ্যাপক আবু তালেব বলেন, একজন দায়িত্বশীল রাজনীতিবিদ হিসেবে আপনার বক্তব্য ও আচরণ আরও সংযত হওয়া উচিত। বেসামাল ও অসংযত মন্তব্য করে নিজের রাজনৈতিক মর্যাদাকে খাটো করবেন না। আপনি আইনের আশ্রয় নিয়েছেন, সেটি আপনার অধিকার। এখন ধৈর্য ধারণ করুন, আগামী পাঁচ বছর জনগণের পাশে থেকে তাদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনের চেষ্টা করুন। জনগণ যখন আপনাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করে, এতে আমার কষ্ট হয়।
ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা নুর মোহাম্মদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা গোলাম রাব্বানী খান জুবায়ের। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সম্পাদক মো. সাইদুল ইসলাম।
১৫ আগস্টের মধ্যে পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন: হাবিবুর রহমান হাবিব
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যেই পাবনা-ঢাকা রেলপথে নতুন ট্রেন চালু হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈশ্বরদীর পাকশী রূপপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের বার্ষিক মেধা পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, আমরা ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর জন্য চেষ্টা করছি। তবে আগামী ১৫ তারিখের মধ্যে পাবনা-ঢাকা রেলপথে নতুন ট্রেন চালু হবে।
তিনি বলেন, দেশের সব জেলাতেই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। তবে ঈশ্বরদী-পাবনা অঞ্চলে আরও বেশি উন্নয়ন প্রয়োজন। এ জন্য তিনি ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন।
ঈশ্বরদী বিমানবন্দর চালুর বিষয়ে হাবিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ছোটবেলায় আমরা বইয়ে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর সম্পর্কে পড়েছি। অথচ এখন সেটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সেখানে এখন গবাদিপশু চরানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমার দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় রয়েছে। উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট জায়গায় যোগাযোগ করার সুযোগ রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, পাবনা-ঢাকা ট্রেন উদ্বোধনের পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীকে ঈশ্বরদীতে নিয়ে আসব। এরপর সম্ভাব্যতা যাচাই করে যত দ্রুত সম্ভব ঈশ্বরদী বিমানবন্দরের কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় পাবনা শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে একটি উড়ালসড়ক (ফ্লাইওভার) নির্মাণের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মঞ্জুয়ারা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসাহাক আলী, পাবনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম, ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আজমল হোসেন সুজন, সাবেক ছাত্রদল নেতা তানভীর হাসান সুমন, সাবেক বিএনপি নেতা এনামুল হকসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতাদের সংবাদ সম্মেলন, পরে গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতিতে প্রস্থান
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঝুটবোঝাই দুটি ট্রাক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার দিয়ার বাঘাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য নুরুন্নবী আলমকে প্রধান আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জিয়াউল হাসান বিপ্লব।
এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার রূপপুর কড়ইতলা এলাকায় নিজেদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অভিযুক্ত পক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে নুরুন্নবী লিখিত বক্তব্যে জানান, ঝুট ব্যবসার অংশীদারত্বের ভিত্তিতে তাঁরা প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। তবে চুক্তি অনুযায়ী লাভের অংশ বা আসল মূলধন—কোনোটিই তাঁরা পাননি। পাওনা অর্থ দাবি করায় ঘটনাটি ভিন্ন খাতে মোড় ঘোরাতে তাঁদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা করা হয়েছে এবং গণমাধ্যমে তাঁদের 'ডাকাত' হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। এ সময় জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে সংবাদ সম্মেলন চলাকালেই পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে প্রধান আসামি নুরুন্নবীসহ অন্য অভিযুক্তরা সেখান থেকে দ্রুত সরে যান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, ডাকাতির ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতেই গাছপাড়া এলাকা থেকে অপহৃত ট্রাক দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। মামলায় নুরুন্নবীসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার আসামি মো. নিজামকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।





















