রেলওয়ে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রেলওয়ে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

পাবনা-ঢালারচর রুটে নতুন ট্রেন চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ে দুই সচিবের রেল পরিদর্শন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা-ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন চালুর সম্ভাবনা যাচাই করতে রেল ও সড়ক ও জনপথ মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ঈশ্বরদী-ঢালারচর রেলরুট পরিদর্শন করেছেন। 

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বুড়িমারী এক্সপ্রেসের একটি বিশেষ কোচে রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম ও সড়ক ও জনপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব এহছানুল হক ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী বাইপাস রেলস্টেশনে পৌঁছান।

স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসন, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে পাকশী বিভাগ ও স্থানীয় কর্মকর্তারা। তারা ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে সচিবদ্বয়কে স্বাগত জানান। এরপর তারা বাইপাস রেলস্টেশন ঘুরে দেখেন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

পরিদর্শনে ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল প্রধান প্রকৌশলী আফজাল হোসেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মুনসুর আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরুজ্জামান, পাকশী রেলওয়ে বিভাগের ব্যবস্থাপক লিয়াকত শরিফ খান এবং ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. স. ম. আব্দুন নূরসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনের পর তারা পাবনার ঢালারচর রেলস্টেশনও ঘুরে দেখেন। পরে বেড়া উপজেলার ঢালারচরে তারা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ঢাকা–পাবনা রুটে নতুন ট্রেন চালুর সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

এক বছরে পাকশী রেল বিভাগের আয় কমল ৯ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পশ্চিমাঞ্চলের পাকশী রেল বিভাগে গত এক অর্থবছরে আয়ে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ কমেছে ৯ কোটি টাকারও বেশি। রেল কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকা এবং ভারতীয় মালবাহী ট্রেন কমে যাওয়াই এর মূল কারণ।

পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যাত্রী পরিবহন, লাগেজ–পার্সেল ভ্যান, মালবাহী ট্রেন ও অন্যান্য খাতে আয় হয়েছিল ৪৭৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেই অঙ্ক নেমে দাঁড়ায় ৪৬৪ কোটি ২৩ লাখ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী আয় কমেছে ৯ কোটি ২১ লাখ টাকা।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, যাত্রী পরিবহন খাতে আয় বেড়েছে আগের চেয়ে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে আয় হয়েছিল প্রায় ৩৭৬ কোটি টাকা, যা ২০২৪-২৫ সালে দাঁড়ায় ৩৮৯ কোটি টাকায়। তবে বিপরীতে মালবাহী ট্রেন খাতে আয় কমেছে বড় অঙ্কে—৮৩ কোটি টাকা থেকে কমে প্রায় ৬৪ কোটি টাকায় নেমে আসে। পার্সেল ও লাগেজ ভ্যান খাতে সামান্য ঘাটতি থাকলেও বিবিধ খাতে (দোকান ভাড়া, ভূমি রাজস্ব ইত্যাদি) আয় কমেছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা।

রেল কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিক অস্থিরতায় টানা ২৮ দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। ওই সময়ে যাত্রী ও মালবাহী কোনো ট্রেনই চলেনি। একই সময়ে বাংলাদেশ-ভারত আন্তঃদেশীয় বন্ধন এক্সপ্রেস বন্ধ হয়ে যায়, যা এখনো চালু হয়নি। আগস্টের পর থেকে ভারতীয় মালবাহী ট্রেনও অর্ধেকে নেমে আসে। ফলে পুরো অর্থবছরে আয়ে ধস নামে।

তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন দুটি আন্তনগর ট্রেন চালু হওয়া এবং যমুনা রেল সেতু উদ্বোধনের পর ভাড়া সমন্বয় করায় আয় কিছুটা বেড়েছে। না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ত।

২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর খুলনা-ঢাকা রুটে জাহানাবাদ এক্সপ্রেস এবং বেনাপোল-ঢাকা রুটে রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস চালু হয়। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ যমুনা রেল সেতু উদ্বোধনের পর আসনভেদে ৪৫ থেকে ১৪৫ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়। এতে আয় কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়।

পাকশী বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) গৌতম কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘এই অর্থবছরে আয়ের ঘাটতির প্রধান দুটি কারণ হলো ভারতীয় মালবাহী ট্রেন কমে যাওয়া ও জুলাই-আগস্টে ২৮ দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকা। তবে এখন মালবাহী ট্রেন কিছুটা বাড়ছে। আশা করি পরের অর্থবছরে আয় আগের চেয়ে ভালো হবে।’

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (সিসিএম) সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘সব সংকটের মধ্যেও যাত্রী পরিবহন খাতে আগের চেয়ে আয় বেড়েছে। একমাত্র ভারতীয় মালবাহী ট্রেন কমে যাওয়ায় মোট আয়ে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আগে মাসে যেখানে ১০০টি ভারতীয় মালবাহী ট্রেন আসত, এখন সেটা নেমে দাঁড়িয়েছে ২০-এ।’

ঈশ্বরদীতে যানজট কমাতে পুরনো সাঁকো সংস্কারের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঈশ্বরদী শহরের তীব্র যানজট কমানোর জন্য বহুদিনের দাবি থাকলেও এখনই ফ্লাইওভার ব্রিজ তৈরি হচ্ছে না। তবে বিকল্পভাবে শহরের রেলগেটের উত্তর পাশে বন্ধ হয়ে থাকা পুরনো রাস্তার নিচের সাঁকো  সংস্কার করে খুলে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে।

সোমবার সকালে পাকশী রেলওয়ে বিভাগের প্রকৌশলী (ডিইএন-২) বীরবল মন্ডল, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কাজের উদ্বোধন করেন।

রেলওয়ের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, ১৯১৫ সালে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণের পর দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগের জন্য ঈশ্বরদী রেলস্টেশন তৈরি হয়। শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রেলগেট এবং রেললাইনের নিচ দিয়ে একটি সাঁকো তৈরি করা হয়, যেটি দিয়ে মানুষ ও ছোট যানবাহন চলাচল করত কিন্তু ১৯৯৮-৯৯ সালের দিকে কিছু ব্যক্তি সাঁকোটির দুই পাশ দখল করে দোকান-পাট গড়ে তোলেন। তখন থেকে রাস্তার নিচের ওই পথটি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শহরের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের যাতায়াত পুরোপুরি রেলগেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রতিদিন ২৫ বার রেলগেট বন্ধ রাখতে হয়, যার ফলে দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। সিএনজি, অটোরিকশা ও রিকশাচালকরা জানান, রেলগেটের কারণে দিনরাত যাত্রী নিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হয়। সাঁকোটি চালু হলে এই ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।

মাদক বিরোধী সংগঠন মানাবের সভাপতি মাসুম পারভেজ কল্লোল বলেন, 'ঈশ্বরদী শহরের পূর্ব পাশে হাসপাতাল, পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিসসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পশ্চিম পাশে উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়। রেলগেট বন্ধ থাকলে দুই পাশের যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। নিচের সাঁকোটি চালু হলে শহর যানজটমুক্ত হবে।'

ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান শাহীন বলেন, 'নিচ দিয়ে চলাচলের পথটি সংস্কার করে চালু করার সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। দ্রুত কাজ শেষ করা উচিত।'

পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু বলেন, 'শহরে দিন দিন জনসংখ্যা ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। ফ্লাইওভার না থাকায় রেলগেটের যানজট শহরবাসীর জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। নিচের রাস্তা খুলে দিলে যানজট অনেকটাই কমবে।'

পাকশী রেলওয়ে বিভাগের প্রকৌশলী বীরবল মন্ডল জানান, 'ফ্লাইওভার নির্মাণের কিছু জটিলতা রয়েছে। তাই আপাতত পুরনো সাঁকো সংস্কার করে ছোট ও মাঝারি আকারের যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এতে শহরের যানজট অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।'

দেশের দীর্ঘতম ডাবল লাইন রেলপথ হচ্ছে ঈশ্বরদী-জয়দেবপুরে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের দীর্ঘতম ডাবল লাইন রেলপথ রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে। প্রায় সাড়ে ৩০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ রেলপথে রয়েছে সমান্তরালে দুটি মিটার গেজ লাইন। দুই লাইন হওয়ায় এ করিডোরে সহজ হয়েছে ট্রেন পরিচালনা। ট্রিপ বাড়ার পাশাপাশি কমেছে যাত্রার সময়। এখন জয়দেবপুর-ঈশ্বরদীর মধ্যে ডাবল লাইন ডুয়াল গেজ রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রেল। দৈর্ঘ্য ১৬০ কিলোমিটারের বেশি, যা হবে দেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম ডাবল লাইন রেলপথ।

রেলভবন সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পনাধীন রেলপথটি বাস্তবায়নের পর সেটি দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে যাত্রীবাহী ট্রেন। আর পণ্যবাহী ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সম্প্রতি একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জয়দেবপুর—ঈশ্বরদী সেকশনে ডুয়াল গেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ’ শীর্ষক এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা। এ অর্থে রেলপথটির জন্য নতুন করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন করা হবে। তাতে ঋণ সহায়তা দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সমীক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকল্পটির বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের পাশাপাশি সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় নিরূপণ করা হবে। সমীক্ষা প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। মাঠপর্যায়ে কাজ শুরুর জন্য পরিকল্পিত ‘টাইম লাইন’ অনুযায়ী, জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়াল গেজ ডাবল লাইনের নির্মাণকাজ শুরু হবে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে। এ কাজ শেষ হওয়ার কথা পরবর্তী ৩০ মাসের মধ্যে বা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘পশ্চিমাঞ্চলে ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের সবচেয়ে বড় অসুবিধায় ফেলে সিঙ্গেল লাইনের রেলপথ। পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে ঈশ্বরদী—জয়দেবপুর সেকশনে ট্রেন চলাচল সবচেয়ে বেশি। সক্ষমতার চেয়ে বেশি ট্রেন চলাচল করায় এ অংশে ট্রেন পরিচালনায় অতিরিক্ত সময় লাগছে। ডাবল লাইন হওয়ার পর সমস্যাটি আর থাকবে না। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, জয়দেবপুর—ঈশ্বরদী সেকশনে বর্তমানে ২৮টি ট্রেন চলাচল করতে পারে। ডাবল লাইন হলে প্রতিদিন ৭৪টি ট্রেন পরিচালনা করা যাবে। এতে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেনের পরিচালন সময় কমবে যথাক্রমে ৩০ ও ২০ শতাংশ। সর্বোপরি ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর—পশ্চিম ও দক্ষিণ—পশ্চিম অঞ্চলে চলাচল করা ট্রেনগুলোর ভ্রমণ সময় কমে আসবে। বর্তমানে পণ্য পরিবহনে ভার বহন সীমাবদ্ধতা (এক্সেল লোড) দূর করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ঈশ্বরদী-জয়দেবপুর ডাবল লাইনের রেলপথ।

জানা গেছে, ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বাংলদেশ রেলওয়ে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোরে সব মিলিয়ে ৫৬ দশমিক শূন্য ৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে।

এখনো সমীক্ষা পর্যায়ে থাকলেও জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি শুরু হয় প্রায় পাঁচ বছর আগে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় হওয়া সমঝোতার আলোকে ঢাকার জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথের সমান্তরালে নতুন একটি ডুয়াল গেজ রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে।

গুরুত্বপূর্ণ এ রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করার জন্য ২০১৮ সালে একটি প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার, যার নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। কাজ বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদারও নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে নানা জটিলতায় এ প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়ায় চীন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনও (সিসিইসিসি) চুক্তি বাতিল করে। চীনের সরে দাঁড়ানো এ প্রকল্পে বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে জাইকা।

বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ, ৬৩০ যাত্রীকে জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণের দায়ে ঢাকাগামী ৬টি আন্তঃনগর ট্রেনের ৬৩০ জন যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়াসহ জরিমানা আদায় করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে। এসময় বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৫৫ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯টায় ঈশ্বরদী বাইপাস থেকে শুরু করে থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পশ্চিমাঞ্চল পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের আওতায় বিভিন্ন রেলওয়ে স্টেশনে ব্লক চেকিংয়ের মাধ্যমে অভিযান চালানো হয়।  

অভিযান পরিচালনা করা আন্তঃনগর ট্রেন ছয়টি হলো, রাজশাহী-ঢাকাগামী আন্তঃনগর সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, খুলনা-ঢাকগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, ঢাকা-রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস, ঢাকা-পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস, পঞ্চগড়-ঢাকাগামী পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, ঢাকা-রাজশাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস।

আন্তঃনগর ট্রেনে ব্লক চেকিংয়ের রেলওয়ে স্টেশনগুলো হলো, রাজশাহী, ঈশ্বরদী বাইপাস, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম, বড়ালব্রীজ, উল্লাপাড়া, নাটোর, সান্তাহার। 

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) অসীম কুমার তালুকদারের নেতৃত্বে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা কে, এম, নুরুল ইসলাম, ভ্রাম্যমাণ পরিক্ষক আব্দুল আলিম বিশ্বাস মিঠু, গোলাম মুস্তফা, প্রবীর কুমার, কামরুল ইসলাম, মঞ্জুরুল হাসানসহ স্ব-স্ব ট্রেনের ট্রেন পরিচালক (গার্ড) এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।

জিএম অসীম কুমার তালুকদার জানান, সরকারী ছুটির দিন উত্তরাঞ্চলের থেকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে বেশ উপচে পড়া ভীড় থাকে। বিনা টিকিটে অনেকে টিকিট ছাড়াই ট্রেনে চড়ে বসে।

তিনি আরও জানান, আমরা সাধারনত আন্তঃনগর ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রীদের পরবর্তী স্টেশনে শাস্তিস্বরুপ নামিয়ে দিয়ে থাকি। কিন্তু ট্রেনে ভ্রমণ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দদায়ক হওয়ার কারণে তারা নামতে চায় না। অনেকেই আবার ভাড়াসহ জরিমানা দিয়েই গন্তব্য পথে যেতে চায়। 

ঢাকা থেকে যাওয়া এবং আসা আন্তঃনগরের ছয়টি ট্রেনে মধ্যবর্তী স্টেশনে আকস্মিকভাবে অভিযান চালিয়ে ৬৩০ জন যাত্রীর কাছ থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৫৫ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। ভাড়া বাবদ ৯৫ হাজার ১৪৫ টাকা এব জরিমানা বাবদ ৩১ হাজার ৭১০ টাকা মোট এই মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৫৫ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য যাত্রীবাহী ট্রেনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যা চলমান থাকবে বলে জানান পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ওই কর্মকর্তা।

দাবি না মানলে ২৮ আগস্ট থেকে কর্মবিরতি রেলওয়ে শ্রমিক কর্মচারীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাইলেজ জটিলতা নিরসনের দাবিতে ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে রেলওয়ের রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারীরা।  বৃহস্পতিবার ঈশ্বরদী রেলওয়ে লোকশেড থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে স্টেশন প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। 

এ সময় বক্তারা আগামী ২৭ আগস্টের মধ্যে মাইলেজ জটিলতা চূড়ান্ত করার জন্য সময়সীমা বেঁধে দেন। অন্যথায় পরদিন ২৮ আগস্ট থেকে অবিরাম কর্মবিরতি যেতে বাধ্য হবেন বলে ঘোষণা দেন। 

জানা যায়, রেলওয়ের রানিং কর্মচারীদের অবসরোত্তর ৭৫% মাইলেজ মূল বেতনের সঙ্গে যোগ করে পেনশন নির্ধারণের বিধান প্রায় ১৬০ বছর যাবৎ চলমান রয়েছে। কিন্তু ২০২০ সালে রেলওয়ের কোডিফাইড রুল অমান্য করে রানিং স্টাফদের পার্ট অব পে-মাইলেজ টিএ খাতে নেওয়ার ফলে জটিলতা তৈরি হয়। এতে ২০২০ সালের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ রেলওয়ে রানিং স্টাফদের মাইলেজসহ পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা প্রদানে অসম্মতি জানায়। 

এর প্রেক্ষিতে রেলমন্ত্রী, রেলসচিবসহ রেল প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বহুবার বৈঠক করে অধিকারের বিষয়ে আইনগত যুক্তি তুলে ধরলে তাঁরা যৌক্তিকতা অনুধাবন করে অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় এবং কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করে। 

সংগঠনের সভাপতি মুহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ে গার্ড কাউন্সিল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন জিন্নাহ, গার্ড কাউন্সিল ঈশ্বরদী শাখার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, কর্মচারী সমিতির উপদেষ্টা জাহিদুল ইসলাম সনু, ঈশ্বরদী শাখার কার্যকরী সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আলী।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন