কারাগার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
কারাগার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রূপপুরে কাজাকিস্তান নাগরিক হত্যায় বেলারুশ নাগরিকের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পে কর্মরত এক কাজাকিস্তান নাগরিককে হত্যার দায়ে এক বেলারুশ নাগরিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় দুই বেলারুশ নাগরিককে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার বিকেলে পাবনার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম এ রায় দেন। 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের ট্রেস্ট রোসেমের কর্মকর্তা মাতাভিয়েভ ভ্লাদিমির (৪৩)। এই মামলা থেকে উরবানোভিচাস ভিটালি এবং ফেডারোভিচ গেনেডি নামে অপর দুই বেলারুশ নাগরিক খালাস পেয়েছেন। রায়ের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৬ মার্চ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকার একটি ভবন থেকে সেভেত্স ভ্লাদিমির নামে এক কাজাকিস্তান নাগরিকের রক্তাক্ত মরদেহ এবং তার ভাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিন বেলারুশ নাগরিককে দায়ী করে একটি হত্যা মামলা করেন নিকিমত কোম্পানির পরিচালক ভেদোরোভ ইউরি। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৭ মে তিন বেলারুশ নাগরিকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণা করেন আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ খান রতন এবং আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মুকুল বিশ্বাস ও হেদায়েত উল ইসলাম। এছাড়াও দোভাষী হিসেবে বাদীর পক্ষে এসএম আরিফ আলম এবং আসামির পক্ষে কেএম মুরাদুজ্জামান সহযোগিতা করেন।

পাবনায় কলেজছাত্রকে হত্যার দায়ে তিনজনের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার আমিনপুর থানা এলাকার কলেজছাত্র আব্দুল গাফফার মাছুমকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে পাবনার বিশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আহসান তারেক এ আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিরাজগঞ্জের চৌহালী থানার মিনিদিয়ার চর এলাকার নুরাল মেম্বারের ছেলে মো. আজিম (৩৫), চৌহালীর বাউসা এলাকার ওহাব মোল্লার ছেলে মো. শহিদুল (২৮) এবং একই এলাকার মৃত মছলত সরদারের ছেলে ছাবেদ আলী (৩০)। আসামিরা রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল গাফফার মাছুম সুজানগরের দুলাই ডা. জহরুল কামাল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৯ আগস্ট কলেজে ক্লাস চলাকালীন সময় মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয়ের কথা বলে কৌশলে অপহরণ করেন তার চাচাতো দুলাভাই মো. আজিম। পরের দিন মাছুমের ফোনে কল করা হলে অজ্ঞাত পরিচয়ে একজন জানান মাছুমকে অপহরণ করা হয়েছে। মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় দুলাভাই মো. আজিমকে সন্দেহ করে তার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। পরে আজিমকে জিজ্ঞাসাবাদে মাছুমকে অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা করে মরদেহ যমুনা নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনার তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর আজিমসহ আরও তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। পরে রমজান নামের এক আসামির মৃত্যু হলে তিনজনের বিচার শেষে আজ এই রায় দেন আদালত।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট দেওয়ান মজনুল হক এবং আসামিপক্ষে শুনানি করেন শফিকুল ইসলাম সুমন ও কামাল আহমেদ। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট হলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে বলে জানান আসামিপক্ষের আইনজীবী।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন