নির্বাচন কমিশন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নির্বাচন কমিশন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

আসনপ্রতি সাত কোটি টাকার বেশি খরচ ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিশাল অঙ্কের বাজেট ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ অর্থ ভোটের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রিজাইডিং-পোলিং অফিসারসহ নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের দুদিনের সম্মানী ভাতা হিসেবে দেওয়া হবে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ জানান, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৩০০ কোটি টাকা। এ নির্বাচনে আসনপ্রতি সাত কোটি টাকার বেশি ব্যয় করবে ইসি।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা খাত মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে বরাদ্দের চাহিদা বেড়ে সবমিলিয়ে ব্যয় প্রায় ২৩০০ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। 

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এবারের নির্বাচনে তিন হাজারের মতো ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। এ ছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সংখ্যা ও মোতায়েনের সময় বাড়ায় ব্যয় বেড়েছে।

জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে প্রাপ্ত চাহিদা অনুযায়ী সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় এক হাজার ২২৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং নির্বাচন পরিচালনা খাতে সম্ভাব্য ব্যয় এক হাজার ৫০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এতে আসনপ্রতি ব্যয় দাঁড়াচ্ছে সাত কোটি টাকার বেশি।

সংসদ নির্বাচনে ব্যয় বরাদ্দের বিষয়ে অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ইসির জন্য প্রথমে এক হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি, সময় বাড়ানো, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বাড়ানো ইত্যাদি কারণে ব্যয় অনেক বেড়েছে। দুই হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দ লাগবে। ইতোমধ্যে ইসি সচিব মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ৭০২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে দিয়েছি। বাকিটাও দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এক দিনের জন্য প্রিজাইডিং অফিসার চার হাজার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার তিন হাজার এবং পোলিং অফিসার দুই হাজার করে টাকা পাবেন। যাতায়াত ভাড়ার জন্য তারা অতিরিক্ত জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে পাবেন।

এ ছাড়া, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদানের গোপন কক্ষ ও বেষ্টনীর জন্য প্রতিটি কক্ষের জন্য ৮০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট বা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা সম্পন্ন কর্মকর্তারা নির্বাচনের আগে ও পরের দুই দিনসহ মোট পাঁচ দিনের জন্য দিনে নয় হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। স্টাফ ভাতা হিসেবে প্রতিদিন পাবেন আরও এক হাজার টাকা।

এর বাইরে ব্যালট পেপার আনা-নেওয়া, রিটার্নিং অফিসারের সহায়ক কর্মকর্তাদেরও ভাতা দেওয়া হবে।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের একাদশ সংসদের তুলনায় ২০২৪ সালে ভোটার, ভোটকেন্দ্র, ভোটকক্ষ যেমন বেড়েছে; তেমনই ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, নির্বাচনী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সরঞ্জামও বেশি ব্যবস্থাপনা করতে হয়েছে। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপ্তি ১০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৩ দিন করা হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সম্মানীসহ জ্বালানি, পরিবহন খাতের বরাদ্দও বেড়েছে। 

এবার ১১ কোটি ৯৭ লাখ ভোটারের এ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র্রের সংখ্যা  ৪২ হাজারের বেশি। ভোটকক্ষ দুই লাখ ৬১ হাজারের বেশি। প্রতি কেন্দ্রে থাকবেন ১৫-১৭ জন নিরাপত্তা সদস্য 

এবারের নির্বাচনে সারা দেশে আনসার সদস্য থাকছেন পাঁচ লাখ ১৬ হাজার জন। পুলিশ ও র‌্যাব থাকছেন এক লাখ ৮২ হাজার ৯১ জন, কোস্টগার্ড দুই হাজার ৩৫০ জন এবং ৪৬ হাজার ৮৭৬ জন বিজিবি সদস্য থাকছেন। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য থাকছেন প্রায় অর্ধলাখ।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবার চার লাখ ছয় হাজার ৩৬৪ প্রিজাইডিং অফিসার, দুই লাখ ৮৭ হাজার ৭২২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার ৪৪৩ জন পোলিং অফিসার, সবমিলিয়ে মোট নয় লাখ নয় হাজার ৫২৯ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। 

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং ইসি সচিবালয় ও প্রশিক্ষণেও বিপুল অর্থ খরচ হচ্ছে। 

দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলে এবার ১৯৭০ জন প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ অংশ নিচ্ছে ২৮টি দল। বিএনপি ও সমমনাদের ভোট বর্জনের মুখে এবারও আইনশৃঙ্খলায় বেশি সময় ধরে নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রাখা হচ্ছে।

নওগাঁ-২ আসনের একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় ৭ জানুয়ারি ২৯৯টি আসনে ভোট হবে। ওই আসনের নির্বাচন পরে অনুষ্ঠিত হবে। 

আগের ১১ নির্বাচনের যত ব্যয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জন্য মোট ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। পরে তা আরও বাড়ে।

দশম সংসদ নির্বাচন : ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৬৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। 

নবম সংসদ নির্বাচন: ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ভোটে ১৬৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

অষ্টম সংসদ নির্বাচন : মোট ব্যয় হয় ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

সপ্তম সংসদ নির্বাচন : পরিচালনা বাবদ ব্যয় ১১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

ষষ্ঠ জাতীয় নির্বাচন : মোট ৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচন : পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা খাতে ব্যয় হয় ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

চতুর্থ সংসদ নির্বাচন : ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

তৃতীয় সংসদ নির্বাচন : ৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন : ব্যয় হয় ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

প্রথম সংসদ নির্বাচন: ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ ৩ কোটি ৫২ লাখ ৫ হাজার ৬৪২ জন ভোটারের এ নির্বাচনে ব্যয় ছিল ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

ভোটের মাঠে বাড়ল প্রার্থী, লড়াইয়ে ১৯৭০ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ের পর নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সারাদেশে বৈধ প্রার্থী ছিলেন ১৮৯৬ জন। এরপর মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে হাইকোর্টে আপিল করেন। তাদের মধ্যে আজ বুধবার পর্যন্ত ৭৬ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ফলে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেন মোট ১৯৭০ জন। 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ইসি জানায়, মোট প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের। হাইকোর্ট থেকে ৩ জন প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর দলটির মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৬৬ জন। এরপরই রয়েছে জাতীয় পার্টির ২৬৫ জন, তৃণমূল বিএনপির রয়েছে ১৩৫ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির রয়েছে ১২২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ৯৬ জন, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী আন্দোলনের ৫৬ জনসহ ২৮টি রাজনৈতিক দলগুলোর মোট প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৫৩৪ জন। এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে ৪৩৬ জন। মোট প্রার্থীর মধ্যে ৭৬ জন প্রার্থী হাইকোর্ট থেকে আপিলের মাধ্যমে তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

যেসব রাজনৈতিক দল দ্বাদশ সংসদ ভোটে অংশগ্রহণ করছে

ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, গণ ফোরাম, গণফ্রন্ট, জাকের পার্টি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় পার্টি (জেপি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), তৃণমূল বিএনপি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম.এল), গণতন্ত্রী পার্টি।

ভোটের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণার নির্দেশ ইসির


নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ভোটগ্রহণের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

২৪ ডিসেম্বর রোববার ইসির উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে পাঠান। 

চিঠিতে বলা হয়, আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত নির্বাচন উপলক্ষ্যে ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ৭ জানুয়ারি রোববার সারা দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা প্রয়োজন। এ অবস্থায় ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ৭ জানুয়ারি রোববার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব, সকল মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক, আনসার ও ভিডিপি/ র‌্যাব/ কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক, এনআইডি মহাপরিচালক, ইসির অতিরিক্ত সচিব, সকল বিভাগীয় কমিশনার, সকল ডিআইজি, সকল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ইসির সকল যুগ্মসচিব এবং নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালককে এ চিঠি দিয়েছে ইসি।

আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে কঠোর ব্যবস্থা: সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: কোথাও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। বুধবার রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। সিইসি বলেন, ‘কোথাও যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়ে থাকে, তাৎক্ষণিকভাবে যেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আপনারা আশ্বাস রাখুন, নির্বাচন সুন্দর হবে।’

হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, ‘নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে, সেটা এই মুহূর্তে বলা যাবে না; কিন্তু নির্বাচন কমিশন, প্রার্থী- সবাই মিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।’ সাংবাদিকদের ভূমিকা নিয়ে সিইসি বলেন, ‘সবার প্রয়াসে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আপনারাও (সাংবাদিকরা) কিন্তু স্বচ্ছতার ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকেন। আপনাদের, আমাদের, প্রার্থীদের এবং ভোটারদের চেষ্টায় নির্বাচনটা সফল হবেই। সভায় আমরা সবাই এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছি।’

সিইসি বলেন, ‘মতবিনিময় সভায় প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা আন্তরিক। কিছু সমস্যার কথা এসেছে। আমরা শুনেছি স্থানীয় প্রশাসন কথা বলেছে। সেই সমস্যাগুলো কীভাবে নিরসন করা যায়, সেই গাইডলাইন আমরা দিয়েছি। আশা করি, ওনারা আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা তারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবেন।’ ওই সময় নির্বাচন কমিশনের অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যালট পেপার সংরক্ষণ ও গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারদের কাছে ব্যালট পেপারসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যালট পেপার সংরক্ষণ ও সেসবের গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

১৮ ডিসেম্বর সোমবার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান।

নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যালট পেপার এবং অন্যান্য মালামাল প্রিসাইডিং অফিসারদের মধ্যে বিতরণের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে এবং সকল পর্যায়ে যাতে ব্যালট পেপার, মার্কিং সিল এবং অফিসিয়াল সিলের গোপনীয়তা রক্ষিত হয়, তার নিশ্চয়তা বিধান করবেন।

আরও বলা হয়, ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনা, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৩৬ এর বিধান অনুসারে ভোটগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার সংগে সংগে প্রিসাইডিং অফিসারকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট অথবা পোলিং এজেন্ট ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের সম্মুখে আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে ভোট গণনার কাজ শেষ করতে হবে। সকল প্রিসাইডিং অফিসারকে বুঝিয়ে দেবেন যে, ভোটগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে ভোট গণনার কাজ ভোটকেন্দ্রেই শেষ করা তাদের আইনগত দায়িত্ব। এই দায়িত্ব তাদেরকে অবশ্যই পালন করতে হবে। কোনো অবস্থায়ই ভোটকেন্দ্র ছাড়া অন্য কোথাও ভোট গণনা করা যাবে না। ভোট গণনার বিবরণী ভোটকেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড/দেয়াল/ঝুলিয়ে প্রকাশ করতে হবে।

ভোট গণনার কাজ শেষ হওয়ার পর পরই প্রত্যেক প্রিসাইডিং অফিসারকে ব্যবহৃত ব্যালট পেপার ভর্তি সিলমোহরকৃত বিভিন্ন ধরনের প্যাকেট, ভোট গণনার বিবরণী, ব্যালট পেপারের হিসাব এবং অন্যান্য কাগজপত্রাদি সরাসরি উপযুক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রেরণ করতে হবে।

নিজেদের প্রতীকে আস্থা নেই, নৌকা নিয়ে ভোট করবেন ইনু-মঞ্জু-মেনন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলীয় জোটের নেতাদের নিজেদের দলীয় প্রতীকে আস্থা নেই। এজন্য এবার দলীয় প্রতীক ছেড়ে নৌকা প্রতীকে ভোট করবেন জোটের হেভিওয়েট তিন নেতা হাসানুল হক ইনু, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও রাশেদ খান মেনন। এছাড়া আ. লীগ থেকে ছেড়ে দেওয়া বাকি ৩ আসনেও জোটের প্রার্থীরা নৌকা মার্কায় ভোট করবেন।

১৭ ডিসেম্বর রোববার প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার সঙ্গে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলমের বৈঠকের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু এবারও নিজ দলের প্রতীক মশাল ছেড়ে নৌকা ধরেছেন। একাদশ সংসদের মতো দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকে ভোটে লড়বেন তিনি। কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে লড়বেন জোটের এ নেতা।

নিজস্ব প্রতীক ছেড়ে জাসদ নেতা এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন বগুড়া-৪ থেকে এবং লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসন থেকে জাসদ নেতা মোশারফ হোসেনও নৌকা প্রতীকে লড়বেন।

এ ছাড়া, জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পিরোজপুর-২ আসন ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এর আগে জাতীয় পার্টি-জেপির প্রতীক সাইকেল নিয়ে ভোটের মাঠে লড়লেও এবার তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়বেন।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন

নিজেদের প্রতীক হাতুড়ি ছেড়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবারও লড়বেন নৌকা প্রতীকে। নিজস্ব প্রতীক ছেড়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাও রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে নৌকা প্রতীকে ভোটের মাঠে থাকবেন। 

প্রসঙ্গত, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের জন্য ৩২ আসন ছেড়ে দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে জাতীয় পার্টিকে ২৬টি এবং শরিকদের জন্য ৬টি আসন ছাড় দিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে দলটি।

সোমবার প্রচারণায় মাঠে নামছেন প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:১৮ ডিসেম্বর সোমবার বিকেল থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রচারণায় ভোটের মাঠে নামছেন প্রার্থীরা।

১৮ ডিসেম্বর সোমবার সারাদেশে রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। প্রতীক পেয়েই ভোটের মাঠে পুরোদমে প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।

সংসদ নির্বাচনে বৈধ প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ১৭ ডিসেম্বর রোববার বেলা চারটা পর্যন্ত। অফিস চলাকালে রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করে প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। এরপর চূড়ান্ত হয় প্রার্থী তালিকা। সোমবার প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এদিন থেকেই নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। প্রতীক নিয়েই প্রার্থীরা ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত ভোটের প্রচার চালাতে পারবেন। আর ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৬৩ আসনে লড়বেন। দলটি ২৯৮ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে ৫টি আসন ইসির বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে। এ ছাড়া শরিকদের ৬টি আসন ও জাতীয় পার্টিকে ২৬টি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়।

জাপার সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে- ঠাকুরগাঁও-৩, নীলফামারী-৩ ও ৪, রংপুর-১ ও ৩, কুড়িগ্রাম-১ ও ২, গাইবান্ধা-১ ও ২, বগুড়া-২ ও ৩, সাতক্ষীরা-২, পটুয়াখালী-১, বরিশাল-৩, পিরোজপুর-৩, ময়মনসিংহ-৫ ও ৮, কিশোরগঞ্জ-৩, মানিকগঞ্জ-১, ঢাকা-১৮, হবিগঞ্জ-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ফেনী-৩, চট্টগ্রাম-৫ ও ৮, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন। এই আসনগুলোতে নৌকার প্রার্থী থাকবে না।

১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে- বগুড়া-৪, রাজশাহী-২, কুষ্টিয়া-২, বরিশাল-২, পিরোজপুর-২, লক্ষীপুর-৪ আসনে। 

এর আগে নারায়ণগঞ্জ-৫ ও কুষ্টিয়া-২ আসন বাকি রেখে ২৯৮ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে ক্ষমতাসীনরা। এবার এ দুই আসন জোটের শরিক দলের প্রার্থী সেলিম ওসমান ও হাসানুল হক ইনুকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

৫ দিনে ভোটের মাঠে ফিরলেন ২৫৭ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানিতে পঞ্চম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ৪৪ জন প্রার্থী। নামঞ্জুর হয়েছে ৫২ জনের, সিদ্ধান্ত হয়নি ৪ জন প্রার্থীর। এর মধ্য দিয়ে গত পাঁচ দিনে মোট ২৫৭ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন। 

১৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনের আইন শাখা সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।

ইসি জানায়, প্রথম দিনে ৫৬ জন প্রার্থিতা ফিরে পায়, ৩২ জনের নামঞ্জুর ও ৬টির সিদ্ধান্ত হয়নি। দ্বিতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ৫১ জন। নামঞ্জুর হয়েছে ৪১ জনের। তৃতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পায় ৬১ জন। বাতিল হয়েছে ৩৫ জনের। সিদ্ধান্ত হয়নি ৪ জনের। আর চতুর্থ দিনে ৪৮ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন। 

রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫৬১টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। আর ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশন। 

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনি প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি (রোববার)।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি : সুব্রত পাল


নিজস্ব প্রতিবেদক: কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল বলেছেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। পার্টির পক্ষ থেকেও দলীয় নেতাকর্মীদের নৌকা ছাড়াও যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। আমার এলাকার মানুষ সুন্দর, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন প্রত্যাশা করে। তারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে চায়। আমি মনে করি এখন তাদের সে সুযোগ তৈরি হয়েছে। 

১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনে আপিল শুনানিতে কিশোরগঞ্জ- ৫ আসনে প্রার্থীতা ফেরত পাওয়ার পর তিনি এসব কথা বলেন।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সুব্রত পাল বলেন, আমি প্রথমে মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এবং কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই আমার প্রার্থীতা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। আমি খুবই আনন্দিত। আমার এলাকার মানুষও খুব আনন্দিত। নিকলি-বাজিতপুরের মানুষ সুন্দর, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে চায়। আমি মনে করি এখন তাদের সে সুযোগ তৈরি হয়েছে। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই অবাধ, নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। সেজন্য তিনি দলের প্রার্থীর পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি। পার্টির পক্ষ থেকেও কিন্তু যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেজন্য দলীয় নেতাকর্মী বিশেষ করে এলাকার জনগণ তাদের ইচ্ছেমতো জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবেন। আমি আশা করি নিকলি-বাজিতপুরের মানুষ আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমাকে জয়ী করবেন।

বিএনপি নির্বাচনে আসছে না, বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বরাবরই দেখেছি— বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ, জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যাত এবং নির্বাচনে পরাজিত। এখন তারা আবার নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ- ৫ আসনে সুব্রত পালের দাখিল করা হলফনামায় দুটি মামলার তথ্য উল্লেখ নেই এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। যা তিনি আজ শুনানির মাধ্যমে ফেরত পেলেন। 

১৫ বছরে টুকুর আয় বেড়েছে ১৩ গুণ, সম্পদ ১৪৬ গুণ


জেলা প্রতিনিধি: গেল ১৫ বছরে অর্থাৎ তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন মেয়াদে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুর বার্ষিক আয় বেড়েছে ১৩ গুণ। আর এই সময়ের মধ্যে তার অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১৪৬ গুণ।

শামসুল হক টুকুর দাখিল করা নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

হলফনামায় দেখা গেছে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় শামসুল হক টুকু বার্ষিক আয় দেখিয়েছিলেন ২ লাখ ৫ হাজার টাকা। আর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিলকৃত হলফনামায় বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ২৬ লাখ ৮৪ হাজার ৫৭৮ টাকা। অর্থাৎ গেল ১৫ বছরে (তিন সংসদ মেয়াদে) তার আয় বেড়েছে ১৩ গুণ।

অপরদিকে, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি অস্থাবর সম্পদের হিসেব দিয়েছিলেন ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। আর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি দেখিয়েছেন ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪ হাজার ৫৫৩ টাকা। অর্থাৎ তার বর্তমান অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে ১৪৬ গুণ।    

হলফনামা সূত্রে আরও জানা যায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে তার বার্ষিক আয় ছিল ১৫ লাখ ১৯ হাজার ২৪১ টাকা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালে সেটি ছিল ১১ লাখ ৪ হাজার ২৮৯ টাকা। অনুরূপভাবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অস্থাবর সম্পদ ছিল ১৩ কোটি ৭৪ লাখ ৬ হাজার ৯৭১ টাকা সমমূল্যের। একাদশে গিয়ে সেই সম্পদ দাঁড়ায় ১২ কোটি ৩৬ লাখ ২ হাজার ৫৪৬ টাকা।

নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তিনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৩ কাঠা জমির মালিকানা দেখিয়েছিলেন। পরবর্তী দশম ও একাদশ এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় সেটির তথ্য উল্লেখ নেই। নবম হলফনামায় তার ৮ তোলা স্বর্ণ থাকলেও পরবর্তী দশম, একাদশ ও দ্বাদশে এসে সেটি ১০ তোলায় পরিণত হয়েছে। যার দাম ধরা হয়েছে ১০ হাজার টাকা তোলা। নবম হলফনামায় কোনো যানবাহন খরচ বা সম্পদ দেখানো হয়নি। দশমে ৭১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৫ টাকা, একাদশে ৯৩ লাখ টাকা এবং দ্বাদশে ৭৬ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।

নবম সংসদের হলফনামায় তার স্ত্রীর নামে নগদ ছিল ৮ হাজার টাকা। ব্যাংকে ছিল ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণ ছিল। যার মূল্য ৫ হাজার টাকা তোলা হিসেবে ২৫ হাজার টাকা। এছাড়া ২০ লাখ টাকা মূল্যের অর্ধেক বাড়ির শেয়ার ছিল। দশম সংসদের হলফনামায় এসে সব মিলিয়ে দেখানো হয় ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৫ হাজার ৮০ টাকা। ১০ লাখ টাকা মূল্যের একটি বাসা, একটি ওয়ারিশ ও দুইটি হেবা সূত্রে ৪৪ লাখ টাকা সমমানের সম্পদের মালিক হন। একাদশে এসে সব মিলিয়ে তিনি ৬৬ লাখ ৭২ হাজার ৮৩ টাকা সম্পদের মালিক হিসেবে হলফনামায় দাখিল করা হয়েছে।

এদিকে দ্বাদশ নির্বাচনের হলফনামায় তার স্ত্রীর নামে কোনো সম্পদ বিবরণী দেওয়া হয়নি। দ্বাদশ হলফনামায় তিনি একটি ব্যাংক থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার ঋণ গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন। আর একাদশে তিনটি ব্যাংক, দশমে তিনটি ব্যাংকের ঋণের তথ্য দাখিল করেছিলেন।

এবারের হলফনামায় তার একটি পিস্তল রয়েছে, যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৮৬ হাজার ৯০০ টাকা। স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ দেখিয়েছেন ৩ কোটি ৭১ লাখ ৪১ হাজার ৩৬৬ টাকা। এছাড়া নিজের নামে ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ও ৫০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র রয়েছে। তার নগদ অর্থ রয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৪৭ লাখ ৬ হাজার ২৮৭ টাকা।

শামসুল হক টুকুর শিক্ষাগত যোগ্যতা এম কম, এলএলবি। পেশা আইনজীবী। তিনি এই পেশা থেকে বার্ষিক ২ লাখ টাকা ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাবদ বছরে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় করেন। আর সম্মানীভাতা বাবদ তিনি বছরে আয় দেখিয়েছেন ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু নিজ নির্বাচনী এলাকায় পৈত্রিক ভিটা ও পাবনা শহরে একটি বাড়ি রয়েছে।

পাবনা-৫ আসনে গোলাম ফারুক প্রিন্সের সম্পদ বেড়েছে ৩২ গুণ


জেলা প্রতিনিধি: টানা তৃতীয় মেয়াদে পাবনা-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্সের গত পাঁচ বছরে আয় কমেছে ৫ কোটি ১৯ লাখ ২৯ হাজার ১৬৪ টাকা। তবে এ সময়ে সম্পদ বেড়েছে ৭ কোটি ২০ লাখ ৮৭ হাজার ২৮৭ টাকার। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় তার মোট সম্পদের মূল্য উল্লেখ করা হয়েছিল ১৩ কোটি ৫৪ লাখ ৪৫ হাজার ৫২৫ টাকা। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় সম্পদ দেখানো হয়েছে ১৬ কোটি ৭৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৯২ টাকা। তবে এতে ৪ কোটি ১ লাখ ৯৮ হাজার ২০ টাকার এফডিআরের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া ২০০৮ সালের হলফনামায় প্রিন্সের সম্পদ ছিল ৪৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকার। সে তুলনায় সম্পদ বেড়েছে ৩২ গুণ।

এবারে হলফনামায় প্রিন্স সর্বমোট সম্পদ দেখিয়েছেন ১৬ কোটি ৭৩ লাখ ৩৪ হাজার ৭৯২ টাকা। এর মধ্যে গত পাঁচ বছরে আয় করেছেন ১ কোটি ১০ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪২ টাকা। একাদশ নির্বাচনে তার আয় ছিল ৬ কোটি ২৯ লাখ ৬৫ হাজার ৮৮৮ টাকা। এবার সম্পদ বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৮৯ হাজার ২৬৭ টাকার। 

হলফনামা বলছে, অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে তার হাতে নগদ আছে ১ লাখ টাকা, এফডিআর আছে ৪ কোটি ১ লাখ ৯৮ হাজার ২০ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৯৩ হাজার ৮৮৩ টাকা, উত্তরা ব্যাংকের শেয়ার আছে ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা, এমপির সুবিধাপ্রাপ্ত হার্ডকারের দাম ৭৭ লাখ ৭৮ হাজার ৬৮৫ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণের দাম ধরা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।

সর্বমোট অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ৭ কোটি ৫৬ লাখ ১২ হাজার ৫৬৮ টাকা। একাদশ নির্বাচনের সময় অস্থাবর সম্পত্তি ছিল ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৪ হাজার ৭৫৪ টাকা। তার স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৮ কোটি ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮২ টাকা। একাদশ নির্বাচনে স্থাবর সম্পত্তি ছিল ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৭৪ হাজার ৮৮৩ টাকা। 

শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসএস পাস এবং পেশা হিসেবে ঠিকাদারি উল্লেখ করা আছে। তার নামে তিনটি ফৌজদারি মামলা হলেও সবগুলো থেকে তিনি খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন। 

পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, বিভিন্ন ব্যবসা থেকে আয় ভালো হওয়ায় সম্পদ বেড়েছে। হলফনামার হিসাবনিকাশ একজন উকিল এবং দলীয় অ্যাডভোকেট করায় কিছুটা গরমিল হতে পারে।

প্রথম দিন ইসিতে জমা পড়েছে ৪২ আপিল


নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে সারা দেশের প্রার্থীদের অবৈধ মনোনয়নপত্রের বৈধতা পেতে আপিল কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিন মোট ৪২টি আবেদন জমা পড়েছে।
৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসির অস্থায়ী বুথের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

তারা জানান, সকাল ১০টায় আপিল শুরুর পর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সর্বমোট ৪২টি আপিল জমা পড়েছে। এরমধ্যে রংপুর অঞ্চলের বুথে ২টি, খুলনা অঞ্চলের বুথে ৮টি, বরিশাল অঞ্চলের বুথে ২টি, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বুথে ৯টি, ফরিদপুর অঞ্চলের বুথে ৫টি, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বুথে ৬টি, ঢাকা অঞ্চলের বুথে ৬টি, কুমিল্লা অঞ্চলের বুথে ৩টি এবং সিলেট অঞ্চলের বুথে ১টি আবেদন জমা পড়েছে।
তবে রাজশাহী অঞ্চলের বুথে কোনো আপিল জমা পড়েনি বলে জানানো হয়েছে।

এরআগে, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে সারা দেশে প্রার্থীদের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে ৪ ডিসেম্বর সোমবার। সারা দেশে ১৯৮৫ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ৭৩১ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র।

আওয়ামী লীগের সমাবেশ ১০ ডিসেম্বর, ইসি বললো ‘অনুমতি লাগবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ১০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সমাবেশ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেছেন, সমাবেশের অনুমতির জন্য আমরা এখনো কোনো চিঠি পাইনি। সমাবেশ করতে ইসির অনুমতি লাগবে। আমাদের আচরণবিধিতে যা আছে তাই অনুসরণ করতে হবে।

রোববার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ইসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইইউ ইলেকশন এক্সপার্ট টিমের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, এখনো এ বিষয়ে আমরা কোনো চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে পরে চিন্তা করব। আমাদের আচরণবিধিতে যা আছে তাতে করে কোনো রাজনৈতিক দল সমাবেশ করতে চাইলে আমাদের লোকাল রিটার্নিং অফিস থেকে অনুমতি নিতে হবে।

এদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে দুই মাসের মিশন নিয়ে গত ২৯ নভেম্বর ঢাকায় আসা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চার সদস্যের নির্বাচনী এক্সপার্ট টিমের সঙ্গে কমিশন বৈঠক করে।  রোববার (৩ ডিসেম্বর) আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া বৈঠক চলে প্রায় দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত।

বৈঠকে ইইউ ইলেকশন এক্সপার্ট টিমের প্রতিনিধি দলের সদস্য ছিলেন ডেভিড নোয়েল ওয়ার্ড (ইলেকশন এক্সপার্ট), আলেকজান্ডার ম্যাটাস (ইলেকটোরাল এনালিস্ট), সুইবেস শার্লট (ইলেকটোরাল এনালিস্ট) এবং রেবেকা কক্স (লিগ্যাল এক্সপার্ট)।

এদিকে বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনে পূর্ণাঙ্গ কোনো পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে না ইইউ। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্ত জানায় ইউরোপের ২৭ দেশের এই জোট।

এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে গত ২৯ নভেম্বর যৌথসভা করে ইইউ। বৈঠকে সংস্থাটির ১০ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে তারা অবাধ ও সুষ্ঠু অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের তাগিদ দেয় ইসিকে।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ হয়েছিলো গত ৩০ নভেম্বর। সেখানে ৩০ রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে ২৭১৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দেয়। 

জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই চলবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি ৫ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি (রোববার)।

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে মোট ভোটার ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। গত ২ নভেম্বর সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটারসংখ্যা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন। নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ৮৫২।

বিধিমালা প্রয়োগে নির্লিপ্ততা : অবস্থান পরিষ্কার করল ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা প্রয়োগে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন নির্লিপ্ত— গণমাধ্যমে বিশিষ্টজনদের দেওয়া এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসি। কমিশন বলছে, টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে এবং পত্রপত্রিকায় বিশিষ্টজনদের বক্তব্য জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে।

শনিবার নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে ‘নির্লিপ্ত’ ইস্যুতে ইসির প্রকৃত অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশিষ্টজনদের কেউ কেউ টকশোতে বা পত্রপত্রিকায় মন্তব্য করছেন যে নির্বাচন কমিশন আচরণ বিধিমালার প্রয়োগ বিষয়ে নির্লিপ্ত। গণমাধ্যমে প্রচারিত বিশিষ্টজনদের এমন মনগড়া বক্তব্য জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে। সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের আস্থা বিনষ্টের মাধ্যমে তা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যা মোটেই কাম্য নয়। এ কারণে আইন ও বিধির প্রকৃত অবস্থান প্রকাশ করা হলো—

(ক) জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন ও উপনির্বাচনে প্রচারণা বিষয়ে আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজনৈতিক প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ নামে একটি সংবিধিবদ্ধ বিধিমালা রয়েছে। এই বিধিমালার ৫নং বিধি অনুযায়ী রাজনৈতিক দল, মনোনীত প্রার্থী কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বিধিমালার ৬ থেকে ১৪নং বিধিতে বর্ণিত নির্দেশনা প্রতিপালন করতে হবে। এক্ষেত্রে আচরণবিধির মূল বিষয় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী। প্রার্থী দলের পক্ষে মনোনীত প্রার্থী হতে পারেন বা স্বতন্ত্র হতে পারেন। বিধিমালার ১২নং বিধিতে ২১ দিন আগের কথা বলা হয়েছে। এর অর্থ প্রার্থীরা প্রচারণার জন্য ২১ দিনের বেশি সময় পাবেন না।

(খ) রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনীত বা স্বতন্ত্র কোনো প্রার্থী আইন ও আচরণবিধির অর্থে প্রার্থী নন। নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ হবে রিটার্নিং অফিসার বাছাই, আপিলের সিদ্ধান্ত ইত্যাদি সম্পন্ন করে কোনো একটি নির্বাচনী এলাকার জন্য প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করে প্রতীক বরাদ্দ দিয়ে প্রচারণার জন্য মাঠ উন্মুক্ত করার পর। তখন ওই নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীদের সবাই সমভাবে একেকজন প্রার্থী হবেন। সেসময় থেকে তাদের ক্ষেত্রে আচরণ বিধিমালা প্রযোজ্য হবে। আচরণ প্রতিপালন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ১২নং বিধিতে ২১ দিন আগে কোনো প্রার্থীর দ্বারা বা প্রার্থীর পক্ষে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা নিষিদ্ধ। প্রার্থীদের জন্য প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারের সময় চলতি বছরের ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ১৮ ডিসেম্বর তারিখের আগে কোনো ব্যক্তির প্রার্থী হওয়ার আইনগত সুযোগ নেই। ফলে আগে কোনো নির্বাচনী এলাকায় কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে নির্বাচনী প্রচারণারও সুযোগ নেই।

দেশের সব থানার ওসি বদলির নির্দেশ ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদলি করতে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে উদ্দেশ্য করে এ নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।

বৃহস্পতিবার ইসির উপসচিব মো. মিজানুর রহমান এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা পাঠিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে।

ইসি জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) পর্যায়ক্রমে বদলি করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রথম পর্যায়ে যেসব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বর্তমান কর্মস্থলে ছয় মাসের অধিক চাকরিকাল সম্পন্ন হয়েছে তাদের অন্য জেলায়/অন্যত্র বদলির প্রস্তাব আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে প্রেরণ করা প্রয়োজন। এ অবস্থায় উল্লিখিত সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশিত হয়ে বিনীত অনুরোধ করা হলো।

চিঠিটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং মহাপুলিশ পরিদর্শকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচনে মনোনয়ন জমা ২৭১৩টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭৪৭ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ৩০০টি আসনে মোট ২ হাজার ৭১৩টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৩২টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৯৬৬ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ৭৪৭ জন।

শুক্রবার এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।

তিনি জানান, নির্বাচনে ৩০০টি সংসদীয় আসনে ৩২টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৯৬৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৭৪৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

রাজনৈতিক দলগুলো যে কয়টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে তা হলো; আওয়ামী লীগ ২৯৮টি (পাঁচটি আসনে দুটি করে মনোনয়ন জমা দেয় দলটি), জাতীয় পার্টি ২৮৬টি (১৮টি আসনে দুইটি করে দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়েছে দলটি), তৃণমূল বিএনপি ১৫১টি, জাসদ ৯১টি, ইসলামী ঐক্যজোট ৪৫টি, জাকের পার্টি ২১৮টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ৩৯টি, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি ৩৩টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৩৪টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ৩৭টি, গণফ্রন্ট ২৫টি, গণফোরাম ৯টি ও জমিয়তে ইসলাম বাংলাদেশ ১টি।

আরও রয়েছে, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ১৪২টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ২টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ১৩টি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ৪৭টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ২০টি, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল ০৬টি, গণতন্ত্রী পার্টি ১২টি, বাংলাদেশ ন্যশনাল আওয়ামী পার্টি ৬টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ ১৪টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি ১৩টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১৮টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ বিএমএল ৫টি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ৭৪টি, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট বিএনএফ ৫৫টি, বাংলাদেশ কংগ্রেস ১১৬টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বিএনএম ৪৯টি ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি ৮২। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৭৪৭ জন।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা বাছাই করবেন ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়ের ও নিষ্পত্তি ৫ থেকে ১৫ ডিসেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনী প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি (রোববার)।

এর আগে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর। জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশ বসেছিল ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। আর ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪২ হাজার ১০৩টি।

গোপালগঞ্জ-৩ আসনের মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গোপালগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসনের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

২১ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতির পক্ষে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া হয়।

এসময় শেখ হাসিনার পক্ষে তার নির্বাচনী এলাকার মনোনীত প্রতিনিধি শহিদুল্লাহ খন্দকার, শেখ কবীর, আকরাম কাজী, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, টুঙ্গিপাড়া এবং কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসেন। তারা দলীয় কার্যালয়ের নিচতলায় তারা শেখ হাসিনার পক্ষে মনোনয়ন ফরম জমা দেন।

১৮ নভেম্বর শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলটির কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়। সেদিন প্রথম ফরম সংগ্রহ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য গোপালগঞ্জ-৩ আসনের মনোনয়ন ফরম কেনেন।

বিএনপি ভোটে এলে পুনঃতফসিলের বিবেচনা করবে ইসি


নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপি নির্বাচনে ফিরতে চাইলে নির্বাচন কমিশন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) বেগম রাশেদা সুলতানা। ২০ নভেম্বর সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

একটি বড় দল (বিএনপি) এবং আরও অনেক দল ভোটের বাইরে আছে, তারা যদি ভোটে ফিরতে চায়, এই তফসিলে কি ফেরা সম্ভব বা নাকি বিএনপির জন্য কোনো বিবেচনা থাকবে– এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদা সুলতানা বলেন, দেখেন যদি ফিরতে চায়, আমার জানামতে পূর্বেও ওনারা একটু পরেই এসেছিলেন এবং সুযোগটা পেয়েছিলেন। ওনারা যদি ফিরতে চান, কীভাবে কী করা যাবে, নিশ্চয়ই আমরা আলোচনা করব। সিদ্ধান্ত নেব। ওনারা সিদ্ধান্ত নিলে, আসতে চাইলে অবশ্যই আমরা ওয়েলকাম করব। কখনোই চাইব না যে ওনারা আসতে চেয়েছেন, আমরা ফিরিয়ে দেব। এটা হবে না।

তিনি বলেন, বিস্তারিত এখন কিছুই বলব না। ওনারা যদি আসেন, আমরা কমিশনাররা বসব। আইনকানুন দেখব। তারপর যেটা সিদ্ধান্ত হয়। অগ্রিম কিছু বলতে পারব না।

তার মানে আপনারা বিবেচনা করবেন– এ প্রশ্নের জবাবে ইসি রাশেদা বলেন, এলে তো বিবেচনা করবোই, অবশ্যই করব। আমরা তো চাই সব দল এসে একটা সুন্দর নির্বাচন হোক।

এই বিবেচনার মধ্যে কী পন্থা আছে– জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, কী পন্থা আছে এই মুহূর্তে আমি বিস্তারিত বলতে পারব না। আপনারা দেখেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমার জানামতে ওনারা এসেছিলেন। ওই নির্বাচনে কিন্তু ওনাদের জন্য একটু স্পেস তৈরি করা হয়েছিল। আমরা যেভাবে আইনে আছে, সেভাবেই করব। আমি ডিটেইল আর কিছু বলব না।

জাপা তফসিল পেছানোর জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানিয়েছে। তফসিল একটু পেছানো যায় কি না– এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা কিছুই বলব না। অগ্রিম বলার সময় এখনো আসেনি। যখন আসবে, যেটা হবে, সেটাই বলব। পরিস্থিতি যখন আসবে, পরিস্থিতি দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। অগ্রিম এ বিষয়ে কোনো কথাই বলব না। বলা উচিত না। ওনারা এলে আমরা ওয়েলকাম করব। এটার জন্য, ওনাদের জন্য আইন অনুযায়ী যেভাবে পথ সৃষ্টি করতে হবে সেভাবে করব। কিন্তু আগেই বলব না।

রাশেদা সুলাতানা বলেন, সংকট সৃষ্টি হওয়ার আগেই যদি ওনারা আসেন, কাজেই এখনই কিছু বলব না। অতীতে যেভাবে হয়েছে আমরা দেখব। যদি বাড়ানো প্রয়োজন হয়, আমরা বাড়াব। যদি বাড়ানোর প্রয়োজন না হয়, এভাবেই হয়, তাহলে হবে। কোনো অসুবিধা নেই। যদি এই তফসিলের মধ্যেই আসে, তাহলে তো তফসিলে হাত দেওয়ার দরকার নেই।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নিশ্চয়ই অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের এখনো স্পেস আছে। মাঠের রাজনীতিতে যখন বিভাজন তৈরি হয়েছে, তখন শান্ত নাকি অশান্ত তা আমার বলতে হবে না। আপনারাই দেখতে পাচ্ছেন। জনগণও দেখতে পাচ্ছে। কিন্তু অশান্ত আছে, তাই বলে শান্ত হবে না– এমন কোনো কথা না। যেকোনো মুহূর্তে শান্ত হতে পারে।

তিনি দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, আমাদের প্রতি আস্থা রাখেন। আসেন, নির্বাচন করেন। নিঃসন্দেহে আপনারা একটা ভালো, সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন। ভোটাররা এসে স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তাদের যাকে ইচ্ছা তাকে মনোনয়ন করবেন। নিশ্চয়ই আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করব।

সংবিধান অনুযায়ী আমরা এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে: ডিএমপি


নিজস্ব প্রতিবেদক: সংবিধান অনুযায়ী আমরা এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে, তাদের নির্দেশ মতো কাজ করে দেবো। নির্বাচনকালীন যে ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা দরকার, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্তরে সে কার্যক্রম চলবে।

১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন এ কথা বলেছেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে আমাদের যে কাজগুলো করতে বলবে তা আমরা করবো। এছাড়া যেসব জায়গা নিরাপদ রাখার জন্য বলবে প্রতিটা জায়গায় আমাদের আলাদা নিরাপত্তা প্রোগ্রাম থাকবে।

মহিদ উদ্দিন বলেন, বাসে আগুন ঠেকাতে ৩০টি জায়গায় আমাদের পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। রাজধানীতে ছোটবড় ৫০০টি মোড় রয়েছে। সব জায়গায় তো আর পুলিশ থাকতে পারবে না, তাই একেক বার একেক জায়গায় তারা দায়িত্ব পালন করছে।

নাশকতার বিষয়ে তিনি বলেন, যারা বিস্ফোরকদ্রব্য জোগাড় করতে চায় তারা ঝুঁকি নিয়েও জোগাড় করে। জনজীবনের জন্য জ্বালানি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সে কারণে আমরা প্রতিটি জায়গায় তা বিক্রি বন্ধ করে দিতে পারি না। বরং সেই জায়গাগুলোতে আমরা চেষ্টা করেছি যাতে লুজ (খোলা) বিক্রি না হয়। যারা নাশকতা করছে তারা কনডেন্স মিল্কের কৌটা নিয়ে আসে, টেপ নিয়ে আসে। এগুলো নিষিদ্ধ কোনো বস্তু নয়। এটা আপনার আমার সবার কাছে আছে। আমরা ব্যবহার করি কল্যাণের জন্য, প্রয়োজনের জন্য। কিন্তু নাশকতাকারীরা সেটা এনে তার সঙ্গে বিস্ফোরক ব্যবহার করে নাশকতা করছে। আমরা হাতেনাতে তাদের ধরছি।

যত্রতত্র পার্কিং করা বাসে আগুন দেওয়া প্রতিরোধে পুলিশের কোনো গাফিলতি রয়েছে কি না জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, আমাদের প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো রাজধানীতে যত মানুষ, সেই অনুযায়ী জায়গা নেই। ফলে গাড়ি রাখার জন্য যত জায়গা, রাস্তা থাকা দরকার, তা অপর্যাপ্ত।

ফের ৪৮ ঘন্টা হরতালের ডাক দিল বিএনপি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯ নভেম্বর রোববার থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। একতরফাভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে এ হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে।

১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, রোববার সকাল ৬টা থেকে ২১ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশব্যাপী ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ঘোষণা করছি। এ সময় তিনি দেশব্যাপী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানান।

এর আগে তফসিল বাতিলের দাবিতে একই সময়ে ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। গণতন্ত্র মঞ্চও দেশব্যাপী ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ডাক দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশে হামলা, হত্যা ও নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে ২৯ অক্টোবর হরতাল এবং ৩১ অক্টোবর, ১ ও ২ নভেম্বর মোট তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি-জামায়াত ও তাদের শরিকরা।

তারপর ৫ ও ৬ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায়, ৮ ও ৯ নভেম্বর তৃতীয় দফায়, ১১ ও ১২ নভেম্বর চতুর্থ দফায় অবরোধ পালন করা হয়। ১৫ নভেম্বর বুধবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয় পঞ্চম দফায় অবরোধ। শুক্রবার সকাল ৬টায় শেষ হবে এ কর্মসূচি।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন