সাঁথিয়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাঁথিয়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সুজানগরে পুলিশের ওপর হামলা: আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার


নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে আজ শনিবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

পুলিশ জানায়, এ হামলার ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে সুজানগর থানায় দলটির জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আসামি করে দুটি মামলা করা হয়।

ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, মামলার পর সুজানগরের বিভিন্ন স্থানে রাতভর অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতপরিচয় আসামি রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।

সাঁথিয়ায় সাংবাদিককে মারধর, এনসিপি নেতাসহ দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মিজানুর রহমান ফুল 

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার সাঁথিয়ায় সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তর-এর সাঁথিয়া প্রতিনিধি অধ্যক্ষ আব্দুদ দাইন সরকারকে (৬৮) মারধরের অভিযোগ উঠেছে এনসিপির এক নেতা ও তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে সাঁথিয়া প্রেসক্লাব চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এনসিপির সাঁথিয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক বকুল হোসেন, তাঁর ছোট ভাই উপজেলা জাসাসের সভাপতি মিজানুর রহমান ফুল এবং তাঁদের সহযোগীরা এ হামলায় জড়িত।

আব্দুদ দাইন সরকার জানান, সাঁথিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাচন উপলক্ষে তিনি ভোট দিতে সকাল ১০টার দিকে প্রেসক্লাব চত্বরে যান। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন তাঁর ওপর হামলা চালান। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন এবং তাঁর পরনের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেন। পরে উপস্থিত সাংবাদিক ও সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

অভিযুক্ত বকুল হোসেন ও মিজানুর রহমান ফুল সাঁথিয়া উপজেলার পিপুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগে মাহমুদপুর গ্রামের ঠাণ্ডু খানসহ আরও কয়েকজনের নামও এসেছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বকুল হোসেন বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের আগে সাঁথিয়া থিয়েটারের সভাপতি ছিলেন আব্দুদ দাইন সরকার। সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ওই টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে মিজানুর রহমান ফুলের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল। এ ছাড়া ব্যক্তিগত আরেকটি বিষয় নিয়েও তাঁদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেন, হামলায় অংশ নেওয়ার পরিবর্তে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে পাবনা প্রেসক্লাব। বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার ও সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সাঁথিয়ায় প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, সালিশে ‘জুতাপেটা’ করে ছাড়


প্রতিনিধি  সাঁথিয়া: পাবনার সাঁথিয়ায় এক বুদ্ধি ও বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে (৩০) ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ না করে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ২০টি জুতার আঘাত করার পর বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গুরুতর অপরাধের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা এবং এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের হারিয়াকাহন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মহব্বত আলী খাঁ (৪৫) ওই গ্রামের মৃত তায়জাল খাঁর ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন ওই নারীকে বাড়িতে একা রেখে তাঁর মা পাশের বাড়িতে থাকা ছেলের কাছে যান। এ সময় সুযোগ পেয়ে মহব্বত আলী ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। ওই নারীর চিৎকার ও কান্নার শব্দ শুনে তাঁর মা ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ঘটনার পর বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। প্রায় চার দিন পর রোববার সন্ধ্যায় হারিয়াকাহন এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মালেক মণ্ডলের বাড়ির উঠানে সালিশ বসানো হয়।

সালিশে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিল্টন, আরশেদ আলী, আব্দুল মালেকসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়। পরে তাঁকে ২০টি জুতার আঘাত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সেখানেই তা কার্যকর করে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, ধর্ষণচেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধ গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা আইনবহির্ভূত। ভুক্তভোগী পরিবারটি সহজ-সরল হওয়ায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিষয়টি সালিশে সমাধানের চেষ্টা করেছেন।

ভুক্তভোগী নারীর দুলাভাই মহরম আলী বলেন, ‘মহব্বত এর আগেও দুই জায়গায় একই ধরনের অপরাধ করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। শনিবার সালিশ হওয়ার কথা থাকলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত হয়নি। পরে রোববার সালিশে প্রথমে তাঁকে জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো ও সাতটি জুতার আঘাতের কথা বলা হয়। পরে ২০টি জুতার আঘাত দিয়ে বিষয়টি শেষ করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন প্রতিবন্ধী নারীর সঙ্গে এমন ঘটনার বিচার কি শুধু ২০টি জুতার আঘাত? আমরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিইনি। আমাদের কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই, আমরা সঠিক বিচার চাই। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে আইনের আশ্রয় নেব।’

সালিশে উপস্থিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে ইউপি সদস্য আরশেদ আলী বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে আইন জানি না। ওই ওয়ার্ডের সদস্যও আমি নই।’

গৌরীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব বলেন, ‘সাঁথিয়ায় একটি অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে আমাকে ওই সালিশে ডাকা হয়। সেখানে গিয়ে দেখি দুই পক্ষের স্বজনরা বসে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন। শুনেছি, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।’

এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারীর বড় ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের ঘটনার বিচার কোনোভাবেই গ্রাম্য সালিশে করার সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আইন অমান্য করে জনপ্রতিনিধিরা কেন সালিশে অংশ নিলেন, তা জানতে চেয়ারম্যানকে ডাকা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইউএনও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। এরপর তিনি থানার ওসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ভুক্তভোগী পরিবার যাতে আইন অনুযায়ী বিচার পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।

সাঁথিয়ায় ভ্যানচালককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যাচেষ্টা, হাসপাতালে ভর্তি


নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা: পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে জুয়েল রানা (৩৪) নামের এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি এখন পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

শনিবার রাতে উপজেলার জোলা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতের ভাই মোক্তার হোসেন বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে সাঁথিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—চর কলাগাছী গ্রামের রাসেল (৩৪), শাহীন (৩৫), হবি (৫৮), আলী (৪৫), হালিম (৪৫), রাজ্জাক (২৫) ও ওয়ালিদ (২২)।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশায় ভ্যানচালক জুয়েল রানা শনিবার রাতে চব্বিশ মাইল বাজার থেকে ভ্যান নিয়ে কাশিনাথপুর মোড়ের জোলা এলাকায় পৌঁছালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুয়েল রানা অভিযোগ করেন, কয়েক বছর আগে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অভিযুক্ত রাসেলের পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর তিনি স্ত্রীকে তালাক দেন। সেই ঘটনার জের ধরেই হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় তাঁর হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আহতের বোন সুফিয়া খাতুন ও ভাই মোক্তার হোসেন বলেন, জুয়েল রানা ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। পূর্ব শত্রুতার জেরে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অসম্পূর্ণ লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আহত ব্যক্তির চিকিৎসা শেষ হলে পূর্ণাঙ্গ অভিযোগ দেওয়া হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশে দিলেন মা, কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার সাঁথিয়ায় মাদকাসক্ত ছেলের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন এক মা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই যুবককে এক বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রাজ্জাক (৩০) সাঁথিয়া পৌর এলাকার ফকিরপাড়া মহল্লার মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। পরিবার ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

পুলিশ জানায়, মাদকের টাকা না পেলে আব্দুর রাজ্জাক প্রায়ই তাঁর মা ও স্ত্রীকে মারধর করতেন এবং পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করতেন। একাধিকবার তিনি মাকে বাড়ি থেকেও বের করে দেন। ছেলের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মনোয়ারা খাতুন পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে সাঁথিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে নিজ বাড়ি থেকে আব্দুর রাজ্জাককে আটক করে পুলিশ।

রোববার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিজু তামান্না ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদক সেবন ও বিক্রির অপরাধে তাঁকে এক বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফলে তাঁর মোট সাজা হয় এক বছর এক মাস।

সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুর রাজ্জাককে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ের পর তাঁকে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলার নাগডেমড়া ইউনিয়নের ভিটাপাড়া গ্রামের ইউনুস প্রামাণিকের ছেলে সানাউল্লাহকে মাদক সেবনের দায়ে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে চার মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

ধর্ষণের অভিযোগে ক্ষোভ, সাঁথিয়ায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার বিলকুলা গ্রামে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

রোববার দুপুরে বিলকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং শত শত এলাকাবাসী অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল এলাকার বিভিন্ন সড়ক ঘোরে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সমাজে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়বে। তাঁরা ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে বিলকুলা গ্রামের জুয়েল ও মামুন নামে দুই যুবক ওই শিক্ষার্থীকে তাঁর বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যান। পরে পাশের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে আতাইকুলা থানায় মামলা করেছেন।

আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান বলেন, ‘মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে। ঘটনার পর থেকেই জুয়েল ও মামুন পলাতক রয়েছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।’

সাঁথিয়ায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে বাবাকে মেরে ফেললেন ছেলে

নিজস্ব প্রতিবেদক:  পাবনার সাঁথিয়ায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে বাবাকে হত্যা করেছেন ছেলে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কাশিনাথপুর পাইকরহাটি ভাটিপাড়া গ্রামে বাবা আব্দুল মালেককে (৬০) ছেলে মানিক (২৮) কুপিয়ে হত্যা করেন। 

নিহত আব্দুল মালেক উপজেলার বরাট গ্রামের তয়জল শেখের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবা আব্দুল মালেক ও মানিকের মধ্যে তেমন বড় ঝামেলা ছিল না। তবে ছেলে কাজ কাম কম করতে চাইতো। শনিবার সকালে বাবা বাঁশ কাটার জন্য উঠানে কুড়াল ধার দিচ্ছিলেন এবং ছেলেকে কাজে যাওয়ার জন্য ঘুম থেকে ডাকছিলেন। ঘুম থেকে উঠে এসে বাবার সঙ্গে তর্কে জড়ায় ছেলে মানিক। তর্কের একপর্যায়ে বাবার ধার দেওয়া কুড়াল নিয়েই বাবাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে জখম করেন। এরপর ঘটনাস্থলেই বাবা মালেক মারা গেলে স্থানীয়রা মানিককে আটকে রাখলেও পরে পালিয়ে যান। 

নিহত মালেক শেখের দুই ছেলে দুই মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে মানিক বড়। মালেক পেশায় একজন বাঁশ ব্যবসায়ী এবং কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

সাঁথিয়া থানা ওসি সাইদুর রহমান বলেন, বাবা-ছেলের কথা কাটাকাটি থেকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ছেলে পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পাবনায় মধ্যরাতে মহাসড়কে গাছ ফেলে গণডাকাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনায় মধ্যরাতে মহাসড়কের ওপর গাছ ফেলে বাস-ট্রাকসহ অন্তত ৪০টি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে পাবনা-সাঁথিয়া মহাসড়কের ছেচানিয়া ব্রিজের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবু বলেন, ‘ঘটনা শুনেছি। এখনো বিস্তারিত জানি না। তবে ওই রাস্তাটি খুব বেশি ব্যস্ত না হলেও বেড়া-বাঘাবাড়ি হয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য বেশ কিছু গাড়ি ওই রাস্তা দিয়ে যায়। হয়তো এটি ডাকাতরা জেনেই গাছ ফেলে ডাকাতি করেছে।’

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাত দেড়টার দিকে ছেচানিয়া ব্রিজের পাশে মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রথমে একটি পণ্যবাহী ট্রাক আটকে রাখে ডাকাত দলের সদস্যরা। এতে কিছু সময়ের মধ্যেই বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও হাইয়েচসহ প্রায় ৪০টি গাড়ি আটকা পড়ে। এ সময় ৪০-৫০ জন হাসুয়া, রামদা, ছুরি, চাকুসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রের মুখে পর্যায়ক্রমে গাড়িগুলোতে ডাকাতি করে। গেট খুলতে দেরি করায় কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে তারা। এ সময় পরিবহণ শ্রমিক ও যাত্রীদের মারধর করে তাদের সঙ্গে থাকা মোবাইলফোন, টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ তাণ্ডব চলে।

ডাকাতির কবলে পড়া আব্দুস সালাম নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে ভিডিওতে বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে এই সড়কে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ডাকাতি করেছে। হুট করে আমাদের গাড়িতে আক্রমণ করে ডাকাতদলের সদস্যরা। বারবার গাড়িতে আঘাতের পর আমরা ড্রাইভারকে গেট খুলে দিতে বললে ডাকাতরা ঢুকে ড্রাইভারের গলা ও পেটে চাকু ধরে। একইভাবে অন্যদেরও জিম্মি করে সব লুটে নিয়ে যায়। আমরা বলেছি, ভাই যা আছে সব নেন, কিন্তু কাউকে আঘাত কইরেন না। আমাদের গাড়িতে কাউকে আঘাত করেনি। অনুরোধ করায় আমার দুটি মোবাইলফোন দিয়ে যায়।’ 

আব্দুস সালাম আরও বলেন, ‘একটা হাইয়েচে করে দেশে ফিরছিলেন এক প্রবাসী। ওই গাড়িতে আক্রমণ করে কয়েকজনকে মারধর করে সব লুটে নিয়ে গেছে। একইভাবে সব গাড়িতে পর্যায়ক্রমে ডাকাতি চালায়। গাড়ি ভাঙচুর ও অনেককেই মারধর করে।’ 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ পাঠানো হয়। সুনির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও কয়েকটি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন