সংসদ নির্বাচন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সংসদ নির্বাচন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

‘মিছা কথা কমু না, ভোট দুইটা দিছি’

নিজস্ব প্রতিবেদক: আমার বয়স ৭৫ বছর। স্বাধীনতা যুদ্ধ নিজের চোখে দেখেছি। সবগুলো নির্বাচনে ভোট দিয়েছি। ৫ বছর অপেক্ষায় থাকি ভোট দেওয়ার জন্য। মিছা কথা কমু না, আজকে দুইটা ভোট দিছি।

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের বনকোট কেন্দ্রের সামনে থেকে কথাগুলো বলছিলেন তমিজ উদ্দিন ভূইয়া নামের এক ভোটার। তিনি বনকোট এলাকার আলী আকবরের ছেলে। 

৭ জানুয়ারি রোববার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন তমিজ উদ্দিন ভূইয়া।

তিনি আরও বলেন, দিন-রাতে ঘুম নাই। এই আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল আমাদের ভাতিজা। কখন তাকে ভোট দিব সেই টেনশনে ঘুম আসে না। ভোট দেওয়ার পর শান্তি লাগছে। আমার পরিবারে ৮জন ভোটার। আমার স্ত্রীও ভোট দিয়ে গেছে। আমরা চাই রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ৩৫ হাজার ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হোক।

উল্লেখ্য, রোববার সকাল ৮টায় বহুল আলোচিত এবং প্রতিক্ষীত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দেশজুড়ে ৪২ হাজার ১০৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলবে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন মোট ১৯৭১ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৫৩৪ জন ২৮টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী। বাকি ৪৩৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সংখ্যা ২৬৬ জন। জাতীয় পাটির ২৬৫ জন, তৃণমূল বিএনপির ১৩৫ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ১২২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ৯৬ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ৫৬ জন ভোটের মাঠে আছেন।

নির্বাচনে এবার ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন পুরুষ আর ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন নারী ভোটার। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ৮৫২। সারা দেশে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ১০৩টি, আর ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১২টি। 

ভোটের আগের রাতে ১২ ঘণ্টায় ১৫ স্থানে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে সারাদেশে ১৫টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডের এসব ঘটনায় ১০টি যানবাহন ও ৭টি স্থাপনা পুড়ে গেছে।

৭ জানুয়ারি রোববার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শনিবার ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৫টি আগুনের সংবাদ পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২টি, চট্টগ্রামে ৩টি, সিলেটে ১টি, ময়মনসিংহে ৩টি,  খুলনায় ১টি, বরিশালে ৪টি ও রংপুরে ১টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

এসব ঘটনায় ৩টি বাস, ১টি ট্রাক, ৩টি কাভার্ড ভ্যান, ২টি মোটরসাইকেল, ১টি প্রাইভেটকার, ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১টি নির্বাচনী ক্যাম্প, কমিশনারের অফিস ও ১টি নৌকা পুড়ে যায়। 

এসব অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর ৩০টি ইউনিট ও ১৫০ জন জনবল কাজ করে। 

ফায়ার সার্ভিস জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বিসিকের বাদামতলীতে ১টি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এরপর ময়মনসিংহ সদরের নতুন বাজারে ১টি প্রাইভেট কারে, হবিগঞ্জে ২টি মোটরসাইকেল, নেত্রকোনায় ১টি কাভার্ড ভ্যান, মুন্সিগঞ্জে রাস্তার পাশে নৌকা, পিরোজপুর সদরে ১টি ট্রাক, ফেনী সদরে ২টি কাভার্ড ভ্যান, বরিশাল সদরে ২টি বাসে আগুন দেওয়া হয়।

এছাড়া ময়মনসিংহ, খুলনা ও লালমনিরহাটের ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলসকাঠীর বাকেরগঞ্জে নির্বাচনী ক্যাম্প, ফেনী সদরে কমিশনার অফিসে, কিশোরগঞ্জে স্কুলের একটি রুমে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

আসনপ্রতি সাত কোটি টাকার বেশি খরচ ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিশাল অঙ্কের বাজেট ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ অর্থ ভোটের দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রিজাইডিং-পোলিং অফিসারসহ নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের দুদিনের সম্মানী ভাতা হিসেবে দেওয়া হবে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ জানান, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৩০০ কোটি টাকা। এ নির্বাচনে আসনপ্রতি সাত কোটি টাকার বেশি ব্যয় করবে ইসি।

তিনি আরও জানান, নির্বাচন পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা খাত মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছিল। পরে বরাদ্দের চাহিদা বেড়ে সবমিলিয়ে ব্যয় প্রায় ২৩০০ কোটি টাকায় দাঁড়াতে পারে। 

ইসি কর্মকর্তারা জানান, এবারের নির্বাচনে তিন হাজারের মতো ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। এ ছাড়া, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের সংখ্যা ও মোতায়েনের সময় বাড়ায় ব্যয় বেড়েছে।

জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে প্রাপ্ত চাহিদা অনুযায়ী সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় এক হাজার ২২৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং নির্বাচন পরিচালনা খাতে সম্ভাব্য ব্যয় এক হাজার ৫০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এতে আসনপ্রতি ব্যয় দাঁড়াচ্ছে সাত কোটি টাকার বেশি।

সংসদ নির্বাচনে ব্যয় বরাদ্দের বিষয়ে অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, ইসির জন্য প্রথমে এক হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি, সময় বাড়ানো, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বাড়ানো ইত্যাদি কারণে ব্যয় অনেক বেড়েছে। দুই হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দ লাগবে। ইতোমধ্যে ইসি সচিব মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ৭০২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে দিয়েছি। বাকিটাও দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এক দিনের জন্য প্রিজাইডিং অফিসার চার হাজার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার তিন হাজার এবং পোলিং অফিসার দুই হাজার করে টাকা পাবেন। যাতায়াত ভাড়ার জন্য তারা অতিরিক্ত জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে পাবেন।

এ ছাড়া, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদানের গোপন কক্ষ ও বেষ্টনীর জন্য প্রতিটি কক্ষের জন্য ৮০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেট বা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা সম্পন্ন কর্মকর্তারা নির্বাচনের আগে ও পরের দুই দিনসহ মোট পাঁচ দিনের জন্য দিনে নয় হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। স্টাফ ভাতা হিসেবে প্রতিদিন পাবেন আরও এক হাজার টাকা।

এর বাইরে ব্যালট পেপার আনা-নেওয়া, রিটার্নিং অফিসারের সহায়ক কর্মকর্তাদেরও ভাতা দেওয়া হবে।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের একাদশ সংসদের তুলনায় ২০২৪ সালে ভোটার, ভোটকেন্দ্র, ভোটকক্ষ যেমন বেড়েছে; তেমনই ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, নির্বাচনী কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনি সরঞ্জামও বেশি ব্যবস্থাপনা করতে হয়েছে। 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপ্তি ১০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৩ দিন করা হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সম্মানীসহ জ্বালানি, পরিবহন খাতের বরাদ্দও বেড়েছে। 

এবার ১১ কোটি ৯৭ লাখ ভোটারের এ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র্রের সংখ্যা  ৪২ হাজারের বেশি। ভোটকক্ষ দুই লাখ ৬১ হাজারের বেশি। প্রতি কেন্দ্রে থাকবেন ১৫-১৭ জন নিরাপত্তা সদস্য 

এবারের নির্বাচনে সারা দেশে আনসার সদস্য থাকছেন পাঁচ লাখ ১৬ হাজার জন। পুলিশ ও র‌্যাব থাকছেন এক লাখ ৮২ হাজার ৯১ জন, কোস্টগার্ড দুই হাজার ৩৫০ জন এবং ৪৬ হাজার ৮৭৬ জন বিজিবি সদস্য থাকছেন। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য থাকছেন প্রায় অর্ধলাখ।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবার চার লাখ ছয় হাজার ৩৬৪ প্রিজাইডিং অফিসার, দুই লাখ ৮৭ হাজার ৭২২ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার ৪৪৩ জন পোলিং অফিসার, সবমিলিয়ে মোট নয় লাখ নয় হাজার ৫২৯ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। 

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা এবং ইসি সচিবালয় ও প্রশিক্ষণেও বিপুল অর্থ খরচ হচ্ছে। 

দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলে এবার ১৯৭০ জন প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ অংশ নিচ্ছে ২৮টি দল। বিএনপি ও সমমনাদের ভোট বর্জনের মুখে এবারও আইনশৃঙ্খলায় বেশি সময় ধরে নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রাখা হচ্ছে।

নওগাঁ-২ আসনের একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় ৭ জানুয়ারি ২৯৯টি আসনে ভোট হবে। ওই আসনের নির্বাচন পরে অনুষ্ঠিত হবে। 

আগের ১১ নির্বাচনের যত ব্যয় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন : ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জন্য মোট ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। পরে তা আরও বাড়ে।

দশম সংসদ নির্বাচন : ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৬৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। 

নবম সংসদ নির্বাচন: ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ভোটে ১৬৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

অষ্টম সংসদ নির্বাচন : মোট ব্যয় হয় ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

সপ্তম সংসদ নির্বাচন : পরিচালনা বাবদ ব্যয় ১১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

ষষ্ঠ জাতীয় নির্বাচন : মোট ৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচন : পরিচালনা ও আইনশৃঙ্খলা খাতে ব্যয় হয় ২৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

চতুর্থ সংসদ নির্বাচন : ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা।

তৃতীয় সংসদ নির্বাচন : ৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন : ব্যয় হয় ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

প্রথম সংসদ নির্বাচন: ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ ৩ কোটি ৫২ লাখ ৫ হাজার ৬৪২ জন ভোটারের এ নির্বাচনে ব্যয় ছিল ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।

ময়মনসিংহে দুই ভোটকেন্দ্রে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল ও গফরগাঁও উপজেলার দুইটি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটনা ঘটেছে। ৬ জানুয়ারি শনিবার ভোর ৪টার দিকে গফরগাঁও ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পরশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও সকাল ৯টার দিকে নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা।

গফরগাঁও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ভোর ৪টার দিকে পরশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে তেমন ক্ষতি হয়নি, কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করার মতো পরিস্থিতি আছে।

নান্দাইল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মজিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজ সকাল ৯টার দিকে নান্দাইল সিংরইল ইউনিয়নের হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে অগ্নিকাণ্ডে কেন্দ্রের তেমন ক্ষতি হয়নি।

এ ব্যাপারে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, কারা আগুন দিয়েছে তা চিহ্নিত হয়েছে। ইতোমধ্যে একজনকে আটকও করা হয়েছে।

ওইসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে সমস্যা হবে না বলেও জানান জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী।

চৌধুরী সাহেব টাকা দিলে নেবেন তবে ভোটটা ট্রাকে দেবেন : মাহি


নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি বলেছেন, সিনেমায় অনেক রাজনীতি দেখেছি। আর এখন বাস্তবে তা দেখছি। এর আগে অনেক কিছুই কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়নি কিন্তু এখন দেখছি। নিজের গাড়ি নিজে পুড়িয়ে দিয়ে বলার চেষ্টা করে যে আমার গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নিজের অফিস নিজেই পুড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমাদের নামে মামলা দেওয়ার জন্য এসবের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে তানোরের মুণ্ডুমালা এলাকায় নির্বাচনী সভায় মাহিয়া মাহি এসব কথা বলেন। 

চ্যালেঞ্জের বিষয়ে মাহি বলেন, চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জমিদারের অনেক টাকা। এটা একটা চ্যালেঞ্জ। জমিদার সাহেবের যত টাকা আমাদের সবার (সব প্রার্থীর) মিলে তা হবে না। এগুলো তো আসলে বিভিন্ন উপায়ে অর্জন করা। জনগণকে দেখা যাবে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করবে। জনগণকে বলে দিয়েছি, চৌধুরী সাহেব টাকা দিলে টাকা নেবেন, ভোট ট্রাকে দেবেন। 

মাহি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো শঙ্কা দেখছি না। বিরোধী লোকজন ঝামেলা করতে পারে। আমি নির্বাচনী এলাকা থেকে অনেক নিউজ পাচ্ছি। তারা ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের ভীতি সঞ্চার করতে চাচ্ছে। আমি ভোটে দাঁড়িয়েছি হয় জিতব না হয় হারব তবে ফিরে আসার সুযোগ নাই।

প্রসঙ্গত, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন মাহিয়া মাহি। না পেয়ে রাজশাহী-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী আবারও দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। ওমর ফারুক চৌধুরী ও মাহিয়া মাহি ছাড়াও আরও ১১ প্রার্থী রয়েছেন এ আসনে।

স্মার্ট সোনার বাংলা গড়তে আরেকবার ‍সুযোগ চাই

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভাষণে তিনি উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে আরেকবার নৌকা মার্কায় ভোট চেয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ভাষণ প্রদান করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ২৭ ডিসেম্বর আপনাদের সামনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরেছি। বিশদভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছি কী অবস্থায় দেশকে পেয়েছিলাম, আর আপনাদের জীবনমান উন্নয়নে কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। দেশের যে উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়েছে, তা টেকসই করে আরও উন্নত জীবন যাতে আপনারা পান—আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে আগামী ৫ বছরে আমরা কী কী কাজ করব সেই ব্যাখ্যা তুলে ধরেছি। 

‘আজকে আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাইতে হাজির হয়েছি। এই উন্নয়নকে টেকসই করা, আপনাদের জীবন মান উন্নত করা, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত স্মার্ট সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ চাই।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দারিদ্র্য হ্রাস, ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি ও জীবন জীবিকার স্থায়ী ব্যবস্থা করা, যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের আজকের শিশু এবং তরুণদের সুশিক্ষিত করা, স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করা, ১০০টা অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, প্রতি উপজেলায় কারিগরি ও কম্পিউটার ট্রেনিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছি তা সম্পন্ন করা, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন কর্মক্ষেত্র খুঁজে বের করা, গ্রামের মানুষের জন্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, রাস্তাঘাট উন্নত করা, বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের যে ব্যবস্থা নিয়েছি— তা টেকসই করে সব মানুষের জীবনমান উন্নত করাই আওয়ামী লীগ সরকারের লক্ষ্য।আপনাদের মূল্যবান ভোটে নির্বাচিত হয়ে আরেকটিবার সরকার গঠন করতে পারলে আমাদের গৃহীত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করে আপনাদের জীবনমান আরও উন্নত করার সুযোগ পাবো।

নদী, খাল, পুকুর, জলাধার খনন, ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ, বনায়ন সৃষ্টি, উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করে সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, নদী ভাঙনের হাত থেকে দেশের জনগণকে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলেও ভাষণে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সড়ক, রেল, নৌ, বিমান পথ ও সেবা উন্নত করে যোগাযোগ অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, অধিক ফসল উৎপাদন, খাদ্য সংরক্ষণ, খাদ্য ও কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাত করা, দেশের চাহিদা পূরণ করা ও বিদেশে রপ্তানির উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ অব্যাহত থাকবে। রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে নতুন বাজার খুঁজে বের করা, উপযুক্ত পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে। সে ক্ষেত্রে ডিজিটাল ডিভাইস, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত, ওষুধ, কুটির শিল্প, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্প উৎপাদন, জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ রিসাইক্লিনং শিল্প ও কারখানা গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত থাকবে। ব্যাপক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এই লক্ষ্যে কৃষি পণ্য, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, প্রযুক্তি বিজ্ঞান, পরমাণু গবেষণা, অ্যায়ারোস্পেস ও এভিয়েশন গবেষণা, সমুদ্র গবেষণা, জলবায়ু পরিবর্তন গবেষণার জন্য ইন্সটিটিউশন ও গবেষণাগার তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

ঈগলের প্রার্থী ডা. মুরাদ বললেন ‘নৌকার বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরব’

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে রয়েছেন সংসদ সদস্য ডা. মুরাদ হাসান। তিনি তার ঈগল প্রতীকে ভোট চাইতে গিয়ে ভুল করে নৌকা মার্কার বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরবেন বলে মন্তব্য করেছেন। 

বুধবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ডা. মুরাদ হাসানের বক্তব্যের ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে ডা. মুরাদ হাসান বলেন, ‘গাজী সাহেবের সন্তান। ঠিক আছে আপনারা চিনতে পারছেন, সবাই আপনারা দোয়া করবেন। নৌকা মার্কার বিজয় নিয়ে ঘরে ফিরব ইনশাআল্লাহ।’  পরে পাশে থাকা এক ব্যক্তি তাকে মনে করিয়ে দিলে তিনি হেসে ঈগল প্রতীকে ভোট চান।

এ বিষয়ে জানতে ডা. মুরাদ হাসানের সহযোগী সাখাওয়াত হোসেন মুকুল ও তার ব্যক্তিগত সহকারী নাঈমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা রিসিভ করেননি। 

জামালপুর-৪ আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মুরাদ হাসান‌ (ঈগল প্রতীক), আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান হেলাল (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রশীদ (ট্রাক) বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) তারিখ মাহদী, তৃণমূল বিএনপির মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম (সোনালী আঁশ), জাতীয় পার্টির আবুল কালাম আজাদ (লাঙ্গল) ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) গোলাম মোস্তফা জিন্নাহ (মশাল)।

প্রসঙ্গত, ডা. মুরাদ হাসান‌ রাষ্ট্রধর্ম ও ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া নিয়ে বক্তব্য দিয়ে প্রথম আলোচনায় এসেছিলেন। পরে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে ফোনালাপের রেকর্ড ফাঁস হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপর মন্ত্রিত্ব ও দলীয় পদ হারান তিনি। এবার নৌকা না পেয়ে নিজ এলাকা জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীকে নির্বাচন করছেন সংসদ সদস্য ডা. মুরাদ হাসান‌।

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন মানবে না জনগণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ নিজেদের বিরুদ্ধে নিজেরাই ডামি প্রার্থী দিয়ে এই নির্বাচনকে তামাশায় পরিণত করেছে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচনই দেশের জনগণ মানবে না। যেকোনো মূল্যে ৭ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচন প্রতিহত করা হবে।

৩ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে শাহবাগে নির্বাচন বর্জনের লিফলেট বিতরণকালে একথা বলেন তিনি।

কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নির্বাচন বর্জন ও ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ৩ জানুয়ারি রাজধানীর ৬৮টি সাংগঠনিক থানার বিভিন্ন স্পটে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মীরা।

অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকার জগদ্দল পাথরের মতো জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছে। ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছে। তারা ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো আরেকটি প্রহসনের নির্বাচন করতে সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন করেছে। 

তিনি আরও বলেন, বিরোধী মতের ওপর অব্যাহত জুলুম নিপীড়ন চালিয়ে পুরো বাংলাদেশকেই কারাগারে রূপান্তর করেছে। বাকশালী সরকার দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ধ্বংসের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। আদালতকে ব্যবহার করে ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে সাজা প্রদান করে প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দিতে চায়।

ইতিহাস থেকে আমরা দেখতে পাই, জনগণকে নির্যাতন করে অতীতে কোনো স্বৈরাচার সরকার টিকে থাকতে পারেনি, এই সরকারও টিকে থাকতে পারবে না। এদেশের জনগণই এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতার মসনদ থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে ছাড়বে ইনশাআল্লাহ।

তিনি ৭ জানুয়ারির ভোট বর্জন ও সরকার পতনের চলমান গণআন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

একইদিন ডেমরা, কোনাপাড়া, শাহজাহানপুর, মুগদা, কলাবাগান, নিউমার্কেট, যাত্রাবাড়ী-শ্যামপুর, মতিঝিল, পল্টন, খিলগাঁও  সবুজবাগ, বংশাল, রমনা, কোতোয়ালি, কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, ধানমন্ডি, কদমতলী, সূত্রাপুর, চকবাজার, লালবাগ, গেন্ডারিয়া থানায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা।

ভোটের মাঠে বাড়ল প্রার্থী, লড়াইয়ে ১৯৭০ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ের পর নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সারাদেশে বৈধ প্রার্থী ছিলেন ১৮৯৬ জন। এরপর মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে হাইকোর্টে আপিল করেন। তাদের মধ্যে আজ বুধবার পর্যন্ত ৭৬ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। ফলে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেন মোট ১৯৭০ জন। 

নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ইসি জানায়, মোট প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের। হাইকোর্ট থেকে ৩ জন প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর দলটির মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৬৬ জন। এরপরই রয়েছে জাতীয় পার্টির ২৬৫ জন, তৃণমূল বিএনপির রয়েছে ১৩৫ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির রয়েছে ১২২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ৯৬ জন, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী আন্দোলনের ৫৬ জনসহ ২৮টি রাজনৈতিক দলগুলোর মোট প্রার্থী সংখ্যা ১ হাজার ৫৩৪ জন। এর বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে ৪৩৬ জন। মোট প্রার্থীর মধ্যে ৭৬ জন প্রার্থী হাইকোর্ট থেকে আপিলের মাধ্যমে তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

যেসব রাজনৈতিক দল দ্বাদশ সংসদ ভোটে অংশগ্রহণ করছে

ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, গণ ফোরাম, গণফ্রন্ট, জাকের পার্টি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় পার্টি (জেপি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), তৃণমূল বিএনপি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম.এল), গণতন্ত্রী পার্টি।

পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিলেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতি ও তার সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানা ৩ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে বঙ্গভবনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পাবনা সদরের ভোটার।

এদিন ভোট প্রদান শেষে আগামী ৭ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

মো. সাহাবুদ্দিন আশা প্রকাশ করেন, সবার অংশগ্রহণে সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।  

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সচিব সংযুক্ত  মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান। 

স্বামী প্রার্থী, কিন্তু স্ত্রী ভোট চাচ্ছেন অন্য প্রার্থীর

সুফিয়া রহমান ও মাসুদুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনীতিতে মত পার্থক্য একটি চিরায়ত ব্যাপার। একই পদের জন্য স্বামী-স্ত্রীর ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকে লড়াইয়ের সংবাদ ইতিপূর্বে পাওয়া গেলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনে দেখা গেছে স্বামী মাসুদুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লাঙ্গল প্রতীকে আর স্ত্রী সুফিয়া রহমান ভোট চাচ্ছেন নৌকায়। একই ঘরে বসবাস করেও স্বামী স্ত্রীর বিপরীতমুখী রাজনীতির বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল, আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। মাসুদুর রহমান পদত্যাগ করার পর তার স্ত্রী সুফিয়া রহমান আওয়ামী মহিলা লীগে যোগদান করেন। এর কিছুদিন পরে সুফিয়া রহমান আওয়ামী মহিলা লীগের শরীয়তপুর সদর উপজেলার সভাপতি নির্বাচিত হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছুদিন আগে মাসুদুর রহমান জাতীয় পার্টিতে ফিরে এসে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পান। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেয়ে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাসুদুর রহমান। অন্যদিকে তার স্ত্রী সুফিয়া রহমান আওয়ামী মহিলা লীগেই থেকে যান। 

নির্বাচনী প্রচারণায় লাঙ্গলের প্রার্থী মাসুদুর রহমান

মাসুদুর রহমান তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দিন-রাত আসনটির সর্বস্তরের নাগরিকদের কাছে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করছেন। অন্যদিকে স্ত্রী সুফিয়া রহমান আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও আসনটির বর্তমান সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুকে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের কাছে গিয়ে সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরছেন। ইকবাল হোসেন অপুর স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিনের সঙ্গে সুফিয়া রহমান মহিলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে উঠোন বৈঠকও করছেন।

মেহেদী হাসান ফাহিম নামে এক ভোটার বলেন, এর আগে কোনো এক নির্বাচনে একই পদের জন্য স্বামী স্ত্রীকে একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেখেছি। তবে স্বামী প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও স্ত্রী অন্য এক প্রার্থীর প্রচারণা করে ভোট চাইছেন, এটা প্রথম দেখলাম। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিলেও আমি মনে করি, রাজনৈতিক এই মত পার্থক্য বাংলাদেশের নারীদের জেগে ওঠার চিত্র।

লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাসুদুর রহমানের স্ত্রী সুফিয়া রহমান বলেন, রাজনীতির মাঠে আমাদের মত পার্থক্য থাকলেও সংসার জীবনে আমরা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানাই, একে অপরের কথা মেনে চলি। কিন্তু রাজনৈতিক মাঠে দুইজনই আলাদা পথে হাঁটছি। কেউ কাউকে বাধা দিচ্ছি না, প্রভাবিত করার চেষ্টাও করছি না। ৫ বছর ধরে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভোটের মাঠে প্রচারণা করছি। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছি। আমার স্বামী মাসুদুর রহমান জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি তার দলীয় মনোনয়ন পেয়ে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন। তিনি তার মত ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।

নৌকার প্রচারণায় সুফিয়া রহমান

মহিলা আওয়ামী লীগের শরীয়তপুর জেলার সভাপতি সামিনা ইয়াছমিন বলেন, সুফিয়া রহমান এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। দলের একজন কর্মী হিসেবে তিনি আমাদের সঙ্গে নৌকা প্রতীকের প্রচার-প্রচারণা করছেন। তার স্বামী মাসুদুর রহমান জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছেন বলে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে স্বামী-স্ত্রী পরস্পর বিরোধী দুই প্রতীকের নির্বাচন করায় বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা আছে।

জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মাসুদুর রহমান বলেন, সুফিয়া ও আমি সংসার জীবনে সুখী দম্পতি। আমাদের তিন কন্যা সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমি জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলীয় সিদ্ধান্তে আমি নিজে প্রার্থী হলেও আমার স্ত্রী ভিন্ন মতাদর্শের হওয়ায় তাকে আমার পক্ষে কাজ করতে বলিনি। সুফিয়া আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করছে। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। রাজনীতিতে ভিন্নতা থাকলেও পারিবারিক জীবনে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।

শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ইকবাল হোসেন অপু, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির সোনালী আঁশ প্রতীকের প্রার্থী আবুল বাশার মাদবর, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকের আব্দুস সামাদ ও ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। আসনটির মোট সংখ্যা ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩৪৯ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯০ হাজার ৪২৮ ও নারী ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১০ জনসহ তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছেন ১১ জন। এসব ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন।

ভোট বর্জনের গণসংযোগ কর্মসূচি দুদিন বাড়ালো জামায়াত


নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন বর্জন ও ভোটদান থেকে বিরত থাকার আহ্বানে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি আরও দুই দিন বাড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

৩০ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম। বিএনপির পর এবার জামায়াতও গণসংযোগ কর্মসূচি দুদিন বাড়ালো।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন ঘোষিত প্রহসনের নির্বাচনের তফসিল দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করার নীল নকশা বাস্তবায়নের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তারা দেশকে ধ্বংস করে গণতন্ত্রহীনতার দিকে ঠেলে দিতে চায়। সরকারের এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে দেওয়া যাবে না। 

তিনি বলেন, মুক্তিকামী জনতা গণতন্ত্র ধ্বংসকারী সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছে। আমি জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আগামী রোববার ও সোমবার দেশব্যাপী গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বানও জানান তিনি।

সংসদে বিরোধী দল কে হবে জানতে চেয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন


নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দল কে হবে সে বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানতে চেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

২৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে একই কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। 

ওবায়দুল কাদের বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। তারা বলেছেন, শুধু কি আওয়ামী লীগের লোকজনই স্বতন্ত্র প্রার্থী? আমরা আমাদের জবাব দিয়েছি। তারা সেটা শুনেছেন। তারা বলার চেয়ে শুনতে আগ্রহী ছিলেন বেশি। 

বৈঠকে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ, উপ-দপ্তর সায়েম খান, কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সাকিব আল হাসানকে সতর্ক করল ইসি


নিজস্ব প্রতিবেদক: আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এবং বিএনএমের প্রার্থী এস এম নেওয়াজ মোর্শেদকে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন।

সম্প্রতি ইসির উপসচিব আতিয়ার রহমানের সই করা এক চিঠিতে তাদের সতর্ক করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, মাগুরা-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাকিব আল হাসান বিগত ২৯ নভেম্বর ঢাকা থেকে মাগুরায় আগমনের সময় কামারখালী এলাকা থেকে শোডাউন করে গাড়িবহর নিয়ে মাগুরা শহরে প্রবেশ করেন এবং নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করায় জনগণের চলাচলের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। এটি সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালার লঙ্ঘন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায় ভবিষ্যতে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন করার শর্তে আপনাকে পত্র মারফত সতর্ক করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

অপরদিকে খুলনা-৬ আসনের বিএনএম মনোনীত প্রার্থী এস এম নেওয়াজ মোর্শেদ শতাধিক মোটরবাইক ও সহস্রাধিক লোকজনসহ কয়রা বাজারে মিছিল ও শোডাউন করে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, এতে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

মাহির আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ডালিয়া


নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী-১ আসনে (গোদাগাড়ী-তানোর) প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহনেওয়াজ আয়েশা আক্তার জাহান ডালিয়া। ফলে এই আসনে চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিসহ দুই নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহনেওয়াজ আয়েশা আক্তার জাহান ডালিয়া আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য উপকমিটির সদস্য। এর আগে তার মনোনয়ন বাতিল হয়। নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও প্রার্থিতা ফিরে পাননি। পরে উচ্চ আদালত থেকে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান।

২৫ ডিসেম্বর সোমবার ডালিয়াকে প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ। তিনি ডালিয়াকে বেলুন প্রতীক বরাদ্দ দেন। প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। প্রচারণা শুরুর আগে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান ডারিয়া। বিকেলে তিনি তার নির্বাচনী আসন গোদাগাড়ীতে যান। এ সময় গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়ন ও বাসুদেবপুর ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আয়েশা আক্তার ডালিয়া বলেন, আমি রাজশাহী-১ আসনে বেশ কয়েক বছর ধরে সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছি। গত ১২ বছর থেকে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অবহেলিত এই অঞ্চলে কাজ করছি। এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ আমার শক্তি। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পিছিয়ে গেছি। আমার মাঠ তৈরি করা আছে গত চার বছর থেকে। এলাকার মানুষদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছি। যাদের জন্য কাজ করেছি এবং যারা আমাকে ভালোবাসেন তারা আমাকে ভোট দিয়ে জিতিয়ে নিয়ে আসবেন।  

তিনি বলেন, আমি সবসময় ইউনিক কাজ করতে পছন্দ করি। গতানুগতিক ধারার রাজনীতি করি না। জনগণের কাছে যেতে তাদের অন্তরে প্রবেশ করতে পছন্দ করি। একদম সাধারণ জনগণ বলতে গেলে পা ফাটা হতদরিদ্র মানুষগুলো আমার শক্তি। তাদেরকে আমি ভালোবাসি, তারা সিদ্ধান্ত নেবে। আগামী পাঁচবছর তাদের মাথার ওপর ছায়া হয়ে থাকব, ভক্ষক হয়ে নয়।  

প্রসঙ্গত, এই আসনে একটানা তিনবারের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী। তিনি এবারও আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। একই আসনে ট্রাক প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন মাহিয়া মাহি।

সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদানের আবেদন তৃণমূল বিএনপির


নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান এবং সেনা সদস্যদের ভোটকেন্দ্রে অবস্থানের নির্দেশনা জারির আবেদন জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়েছে তৃণমূল বিএনপি। সেই সঙ্গে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে জানাতে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেছে দলটি।

২৫ ডিসেম্বর সোমবার তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী ড. তৈমুর আলম খন্দকারের সই করা চিঠিতে এ আবেদন জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ইতঃপূর্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হয়েছিল, যাদের দায়িত্ব ছিল মাত্র স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সেনাবাহিনী শুধুমাত্র স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহলরত ছিল এবং ভোটকেন্দ্রে অবস্থান নেয়নি। ফলে ভোটকেন্দ্রের ভেতরের জালিয়াতি এবং জোরপূর্বক ভোট ছিনিয়ে নেওয়াসহ কেন্দ্র দখলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সেনাবাহিনী কোনো আইনগত অধিকার পায়নি।

এমতাবস্থায় সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদানসহ ভোটকেন্দ্রে অবস্থানের নির্দেশিকা জারি হওয়া আবশ্যক বলেও দাবি করে তৃণমূল বিএনপি।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল গত ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, মনোনয়ন আপিল ও নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ হবে ১৮ ডিসেম্বর এবং নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ১৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি দল ঢাকায়


নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন পর্য‌বেক্ষণ কর‌তে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউটের (এনডিআই) পাঁচ সদস্যের এক‌টি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ অবস্থান করছেন। তারা ছয় থেকে আট সপ্তাহ বাংলাদেশে অবস্থান করবেন বলে সংস্থা দুটির ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে। ২৪ ডিসেম্বর রোববার আইআরআই ও এনডিআই গণমাধ্যমে এসব তথ্য জানায়।

আইআরআই ও এনডিআই জানায়, আইআরআই ও এনডিআইয়ের যৌথ প্রতি‌নি‌ধিদল গত সপ্তা‌হে বাংলা‌দে‌শে এসেছে। প্রতি‌নি‌ধিদল ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচন পরবর্তী সহিংস পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে এবং সেগু‌লোর সীমিত প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন করবে।

প্রতিনিধিদলে পাঁচজন বিশ্লেষক রয়েছেন। যারা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন থেকে স্বীকৃতি পেয়েছেন এবং ছয় থেকে আট সপ্তাহ বাংলাদেশে থাকবেন। তারা প্রযুক্তিগত মূল্যায়নে বিভিন্ন ধরনের নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ করবেন। যার মধ্যে রয়েছে-আন্তঃ ও আন্তঃ-দলীয় সহিংসতা, নারী ও অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সহিংসতা, অনলাইনে হয়রানি ও হুমকি। এই ধরনের সহিংসতা মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা দেখবে প্রতি‌নি‌ধিদল। এছাড়া প্রতি‌নি‌ধিদল নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সমাপ্তির পর ভবিষ্যৎ নির্বাচনে সহিংসতা কমাতে গঠনমূলক সুপারিশসহ নির্বাচনী সহিংসতার উপর একটি প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন।

পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ তৃণমূল বিএনপির


নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা দেশে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থীদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং বিভিন্ন আসনে পোস্টার লাগাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান সালাম মাহমুদ।

২৪ ডিসেম্বর রোববার রাজধানীর পল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সালাম মাহমুদ বলেন, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ১৩৭টি আসনে লড়ছে তৃণমূল বিএনপি। একজন প্রার্থী এখনো আপিলে আছেন, রায়ে জিতলে প্রার্থীর সংখ্যা ১৩৮ জনে দাঁড়াবে। আমরা সরকারের সঙ্গে কোনো প্রকার সমঝোতায় না গিয়ে নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছি।

তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপি মূল বিরোধী হিসেবে কাজ করছে। ফলে সরকার আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে নানারকম বাধা সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন আসনে আমাদের প্রার্থীদের পোস্টার লাগাতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি রাতের আঁধারে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। ফলে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার শঙ্কায় আছি। আমরা ইসির কাছে এর সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুখসানা আমিন সুরমা ও নির্বাচন মনিটরিং সেলের সদস্যবৃন্দ।

‘দুইটা আগুন দিলেই সরকার পড়ে যাবে, অত সহজ নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আজকে সমস্ত জায়গায় বোমাবাজি, গুলি, অগ্নিসন্ত্রাস, আর আগুন দিয়ে মানুষ মারা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে সবাইকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মানুষের জীবন কেড়ে নেবে, মানুষকে ভোট দিতে দেবে না, নির্বাচন বন্ধ করবে, এত সাহস কোথা থেকে পায়? 

শেখ হাসিনা বলেন, লন্ডনে বসে একটা কুলাঙ্গার হুকুম দেয় আর কতগুলো লোক এখানে আগুন নিয়ে খেলে। আগুন নিয়ে খেলতে গেলে আগুনেই হাত পোড়ে, এটা তাদের মনে রাখা উচিত। তারা মনে করেছে দুইটা আগুন দিলেই সরকার পড়ে যাবে, (ব্যাপরটা) অত সহজ না।

২০ ডিসেম্বর বুধবার বিকেলে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি আজকে কী করছে? আমরা যখন দেশের উন্নয়নে কাজ করছি, তখন তাদের কাজ হলো আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ানো। কোনো মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্ব বোধ থাকলে এভাবে আগুন দিয়ে মা-শিশুকে হত্যা করতে পারে না। আজকে তারা রেল পোড়াচ্ছে, বাস পোড়াচ্ছে, গাড়ি পোড়াচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারি (২০১৪) নির্বাচন ছিল। সেই নির্বাচন ঠেকানোর নামে ২০১৩ সালে এই বিএনপি অগ্নিসন্ত্রাস শুরু করে। ৫৮২টা স্কুলঘর-ভোটকেন্দ্র পুড়িয়ে দেয়। ৭০টা সরকারি অফিস ভাঙে। ৩ হাজার ২৫২টা গাড়ি পুড়িয়ে ছিল। যেখানে যাত্রীবাহী গাড়ি ছিল, মানুষ সেখানে পুড়ে কয়লা হয়। ২৯টা রেলগাড়ি, ২টি লঞ্চ তারা পুড়িয়ে দেয়। ২০১৩-১৫ পর্যন্ত তাদের অগ্নিসন্ত্রাসে তিন হাজারের বেশি মানুষ পুড়ে যায়। পাঁচশর মতো মানুষ মৃত্যুবরণ করে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আছে, জনগণের উন্নতি হচ্ছে। আজকে দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলা এটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমি কাজ করে যাচ্ছি। 

জনসভায় নৌকা মার্কায় ভোট দিতে উপস্থিত জনতার প্রতিশ্রুতি নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় উপস্থিত জনতা হাত তুলে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। 

সিলেটের এই জনসভার মধ্য দিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি হজরত শাহজালাল ও শাহপরানের (র.) মাজার জিয়ারত করেন।

এর আগে বেলা ১১টা ৩৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৬০১ এর একটি ফ্লাইট সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ওসমানী বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন, প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপিত শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও বৃহত্তর সিলেটের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যালট পেপার সংরক্ষণ ও গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারদের কাছে ব্যালট পেপারসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যালট পেপার সংরক্ষণ ও সেসবের গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

১৮ ডিসেম্বর সোমবার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান।

নির্দেশনায় বলা হয়, ব্যালট পেপার এবং অন্যান্য মালামাল প্রিসাইডিং অফিসারদের মধ্যে বিতরণের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত নিরাপদে সংরক্ষণ করতে হবে এবং সকল পর্যায়ে যাতে ব্যালট পেপার, মার্কিং সিল এবং অফিসিয়াল সিলের গোপনীয়তা রক্ষিত হয়, তার নিশ্চয়তা বিধান করবেন।

আরও বলা হয়, ভোটকেন্দ্রে ভোট গণনা, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৩৬ এর বিধান অনুসারে ভোটগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার সংগে সংগে প্রিসাইডিং অফিসারকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, তাদের নির্বাচনী এজেন্ট অথবা পোলিং এজেন্ট ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের সম্মুখে আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে ভোট গণনার কাজ শেষ করতে হবে। সকল প্রিসাইডিং অফিসারকে বুঝিয়ে দেবেন যে, ভোটগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে ভোট গণনার কাজ ভোটকেন্দ্রেই শেষ করা তাদের আইনগত দায়িত্ব। এই দায়িত্ব তাদেরকে অবশ্যই পালন করতে হবে। কোনো অবস্থায়ই ভোটকেন্দ্র ছাড়া অন্য কোথাও ভোট গণনা করা যাবে না। ভোট গণনার বিবরণী ভোটকেন্দ্রের নোটিশ বোর্ড/দেয়াল/ঝুলিয়ে প্রকাশ করতে হবে।

ভোট গণনার কাজ শেষ হওয়ার পর পরই প্রত্যেক প্রিসাইডিং অফিসারকে ব্যবহৃত ব্যালট পেপার ভর্তি সিলমোহরকৃত বিভিন্ন ধরনের প্যাকেট, ভোট গণনার বিবরণী, ব্যালট পেপারের হিসাব এবং অন্যান্য কাগজপত্রাদি সরাসরি উপযুক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রেরণ করতে হবে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন