রাষ্ট্রপতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাষ্ট্রপতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন রাষ্ট্রপতি

বাসস, ঢাকা: খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

আজ শনিবার রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সুস্থতা এবং একইসাথে দেশবাসীর কাছে তাঁর জন্য দোয়া প্রার্থনা করি।’

এ ছাড়া রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে তিনি গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেন।

লালন শাহ সেতুতে হাঁটলেন রাষ্ট্রপতি, দেখলেন প্রমত্তা পদ্মা

নিজস্ব প্রতিবেদক: লালন শাহ সেতু ঘুরে দেখলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী রেবেকা সুলতানা।

জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর সোমবার বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী প্রান্ত দিয়ে লালন শাহ সেতুতে প্রবেশ করে। মাঝে সেতুতে নেমে কিছু সময় কাটিয়ে তিনি ভেড়ামারা প্রান্তে পৌঁছান । এরপর ফিরতি যাত্রায় মাত্র ৫ মিনিটে সেতু পেরিয়ে আবার পাকশীতে ফেরে গাড়িবহর।

২০০১ সালের ১৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটির ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০০৩ সালে। ২০০৪ সালে ১৮ মে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এই সেতুর কোল ঘেঁষেই নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবীর কুমার দাশ জানান, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সেতু এলাকায় পৌঁছালে সেতু কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। ভেড়ামারার পথে রওনা হওয়ার পর সেতুর মাঝামাঝি পিলারের কাছে গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন রাষ্ট্রপতি। ৫ মিনিট তিনি সেখানে অবস্থান করেন এবং গ্রীষ্মের প্রকৃতিতে পায়ে হেঁটে পদ্মার রূপ উপভোগ করেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পাবনার জেলা প্রশাসক মুহা. আসাদুজ্জামান, পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সি সেতু ভ্রমণের সময় উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির আগমনে পুরো সড়ক পথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।

এর আগে তিনি উপজেলার দিয়াড় সাহাপুরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আবাসিক ‘গ্রিন সিটি’ এলাকায় রুশদের জন্য গড়ে উঠা আধুনিক বিপণি বিতান ঘুরে দেখেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রোববার নিজ জেলা পাবনায় আসেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর নিজ জেলায় এটি তাঁর চতুর্থ সফর। ১২ জুন বেলা ১টা ৪০ মিনিটের দিকে পাবনা থেকে হেলিকপ্টারে করে তাঁর ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা।

চার দিনের সফরে পাবনায় পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি

পাবনা প্রতিনিধি: চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চতুর্থবারের মতো নিজ জেলা পাবনায় পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি রোববার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে পাবনার শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে পৌঁছান।

এ সময় পাবনার জেলা প্রশাসক মুহা. আসাদুজ্জামান, পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে শুভেচ্ছা জানান। সেখান থেকে পাবনা সার্কিট হাউসে উপস্থিত হয়ে রাষ্ট্রপতি গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।

পাবনার জেলা প্রশাসক মুহা. আসাদুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি চতুর্থবারের মতো নিজ জেলা পাবনায় ইতোমধ্যে পৌঁছেছেন। তাকে শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির পাবনা সফরকে ঘিরে ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তার সফর যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় সেজন্য প্রশাসন তৎপর থাকবে।

জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি সার্কিট হাউসে পৌঁছে গার্ড অব অনার শেষে বিশ্রাম গ্রহণ করবেন। তিনি রাতে সার্কিট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন।

এরপর তিনি আগামীকাল ১০ জুন বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে পাবনার সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। দুপুর ১টার দিকে সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। এরপর ১১ জুন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন। ১২ জুন দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে পাবনা থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতির পাবনা সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে চলছে আনন্দ উৎসব। অভিনন্দন জানিয়ে জেলা শহরজুড়ে ব্যানার-ফেস্টুন টানাচ্ছে নেতাকর্মীরা। এর আগের কয়েকটি সফরে তিনি পাবনার উন্নয়নমূলক বেশ কিছু কাজের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেগুলো বাস্তবায়নের পথে। এ সফরেও বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজের ঘোষণার আশা করছেন পাবনাবাসী।

পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাষ্ট্রপতির পাবনা সফরকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা পাবনায় আসেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার স্মৃতিবিজড়িত লক্ষ্মী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, প্যারাডাইস সুইটস অ্যান্ড মিষ্টান্ন ভাণ্ডার পরিদর্শন করেন। পাবনা প্রেসক্লাবে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর পাবনা মিডিয়া সেন্টার ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি শেখ কামাল হাইটেক পার্ক ও রাজাপুরে হেলিপ্যাড নির্মাণের ঘোষণা দেন।

৪ দিনের সফরে পাবনা যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রোববার নিজ জেলা পাবনায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে পাবনার জেলা প্রশাসক মুহা. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার মো. মামুনুল হক স্বাক্ষরিত সফরসূচি থেকে জানা গেছে, রোববার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে ঢাকা থেকে রাষ্ট্রপতি হেলিকপ্টারযোগে পাবনায় পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সার্কিট হাউসে পৌঁছে গার্ড অব অনার শেষে বিশ্রাম নেবেন এবং রাত্রিযাপন করবেন।

সোমবার বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে পাবনার সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। দুপুর ১টার দিকে সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন এবং সার্কিট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন। এরপর ১১ জুন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করবেন। দুপুর ১টার দিকে সার্কিট হাউজের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। ১২ জুন দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে পাবনা থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন রাষ্ট্রপতি।

এদিকে জেলাজুড়ে রাষ্ট্রপতির পাবনা সফরকে কেন্দ্র করে চলছে আনন্দ উৎসব। অভিনন্দন জানিয়ে জেলা শহরজুড়ে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙাচ্ছে নেতাকর্মীরা। এর আগের কয়েকটি সফরে তিনি পাবনার উন্নয়নমূলক বেশ কিছু কাজের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেগুলো বাস্তবায়নের পথে। এ সফরেও বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজের ঘোষণার আশা করছেন পাবনাবাসী।

পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী বলেন, রাষ্ট্রপতির পাবনা সফরকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বস্তরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

পাবনার জেলা প্রশাসক মুহা. আসাদুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রপতির পাবনা সফরকে ঘিরে ব্যাপকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। তার চতুর্থবারের মতো নিজ জেলা পাবনা সফর যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় সেজন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

চার দাবিতে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দিলো ইসলামী আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল, সংসদ ভেঙে দেওয়াসহ চার দাবিতে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারক লিপি পেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। রোববার দুপুর ১টার দিকে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে গিয়ে স্মারক লিপি জমা দেন।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ৷

প্রতিনিধিদলের বাকি সদস্যরা হলেন, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, যুগ্ম মহাসচিব, সহকারী মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ফজলে বারী মাসউদ এবং মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম।

এর আগে ৩১ ডিসেম্বর রোববার বেলা পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে রাষ্ট্রপতি বরাবর স্মারকলিপি পেশ করতে বের হন দলটির নেতাকর্মীরা। পরে দৈনিক বাংলা মোড়ে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। এরপর মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি পেশ করেন৷

স্মারকলিপিতে ৪টি দাবি  পেশ করেছে ইসলামি আন্দোলন:

১.অনতিবিলম্বে চলতি সংসদ ভেঙে দিয়ে সকল প্রতিনিধিত্বশীল রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনকালীন জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে।

২. রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার হওয়া বিরোধী দলের সকল নেতা-কর্মী এবং ওলামায়ে কেরামকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে আপনার মধ্যস্থতায় সংলাপের আয়োজন করতে হবে।

৩. দলান্ধ এই নির্বাচন কমিশন বাতিল করতে হবে।

৪. ৭ জানুয়ারি একতরফা প্রহসনের নির্বাচন বন্ধ করতে হবে। রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির আগে কোনো অবস্থাতেই দেশে কোন নির্বাচন করা যাবে না।

পার্বত্য শান্তিচুক্তি বিশ্বে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত : রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিশ্বে একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

২ ডিসেম্বর শনিবার পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘পার্বত্য জেলাগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকার কর্তৃক গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এক ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে পার্বত্য জেলাসমূহে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটে; সূচিত হয় শান্তির পথচলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ উদ্যোগ শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিশ্বে একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপার আধার। যুগযুগ ধরে পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বর্ণিল জীবনাচার, ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি এ অঞ্চলকে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে।’

রাষ্ট্রপতি পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে পার্বত্য এলাকার সকল অধিবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ধারাবাহিকতায় পার্বত্য অঞ্চল উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এগিয়ে যাবে।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে ১৮ নভেম্বর শনিবার সকালে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম ইউরোপের দেশ বেলজিয়াম এবং সৌদি আরবে সাম্প্রতিক সফরসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেন।’

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ব্রাসেলস ও জেদ্দা সফর সংক্রান্ত দুটি প্রতিবেদনও রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করেন।

প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইনের আমন্ত্রণে ‘গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরাম’-এ যোগ দিতে তিনদিনের (২৫-২৭ অক্টোবর) সরকারি সফরে গত ২৪ অক্টোবর বেলজিয়াম যান।

পরে সরকার প্রধান জেদ্দায় চার দিনব্যাপী (৬-৮ নভেম্বর) ‘ইসলামে নারী: মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে সৌদি আরব সফরে যান।

শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী পবিত্র ওমরাহ পালন করেন এবং মদিনায় মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক জিয়ারত করেন।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফল বিদেশ সফরের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান এবং একে অপরের স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নেন। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি করায় রাষ্ট্রপতির আশু আরোগ্য কামনা করেন।

এর আগে এদিন বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও তাঁর পত্নী ড. রেবেকা সুলতানা প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রীও প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধান এবং তার সহধর্মিনীকে ফুলের তোড়া উপহার দেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে তফসিল : সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন যথাসময়ে হবে মন্তব্য করে‌ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, দ্বাদশ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এখন নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন সিইসি।  

সিইসি বলেন, জানুয়ারির ২৯ তারিখের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাকতা রয়েছে। সেই বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছি। নির্বাচন নিয়ে আমাদের সব ধরনের ধরনের প্রস্তুতি তাকে বলেছি। সব শুনে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার সম্মতি দিয়েছেন। আমরা এখন নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে  দ্রুত সময়ের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করব। 

তবে কত তারিখে তফসিল ঘোষণা করা হবে তা এখনও পুরোপুরি সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে সিইসি বলেন, এই তারিখ ঠিক করতে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। তবে সেই তারিখ স্বল্প সময়ের মধ্যেই হবে।
তফসিল কি ১৫ তারিখের মধ্যেই হবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, এই সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান সিইসি।

সিইসি বলেন, আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতির কথা রাষ্ট্রপতিকে জানিয়েছি। তিনি সব শুনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে তার সহযোগিতা প্রয়োজন হলে তিনি সেই সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। 

সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য আমাদের তাগিদ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সাংবিধানিক যে ধারাবাহিকতা রয়েছে তা যেকোনো মূল্যে অব্যাহত রাখতে বলেছেন। আমরাও তাকে জানিয়েছি, আমাদের ওপর যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা পালন করতে সদা প্রস্তুত রয়েছি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকার, বিরোধী দলসহ জনগণের সহযোগিতা নিরবচ্ছিন্নভাবে কামনা করছি।

এ সময় অন্যান্য কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের সচিব উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতাকে ধারণ করে অগ্রবর্তী বাংলাদেশকে দেখতে হবে


নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিকে মেধা ও মননে ধারণ করে অগ্রবর্তী বাংলাদেশকে দেখতে হবে। বঙ্গবন্ধু’র যেসব চিন্তা এখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি, সেগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতির পিতার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণের শক্তি অর্জনের জন্যই জাতির পিতাকে এই অনন্য সম্মান প্রদর্শন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর অব ল’জ উপাধি প্রদান উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর অব ল’জ উপাধি দেওয়ার সিদ্ধান্ত বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিনম্র শ্রদ্ধা ও হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।

তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর অব ল’জ উপাধিতে ভূষিত করার উদ্যোগকে অভিনন্দন ও স্বাগত জানান। মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ১৯২১ সালে মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রতিশ্রুতি নিয়ে দেশের এই বিদ্যাপীঠের যে অগ্রযাত্রা সূচিত হয়েছিল, নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজও সেই মূলধারা বিকাশমান রয়েছে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ শিক্ষায়তন থেকেই দেশের সাধারণ মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন। মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মূলত বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্র-শিক্ষক নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি সে সকল বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিকবোধসম্পন্ন জাতি গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান-প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আরও কার্যকর ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা ও মননশীলতার প্রাণকেন্দ্র করে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে অনন্য উচ্চতায় এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন উপলক্ষ্যে তিনি বলেছিলেন ‘কোনো দেশ বা সমাজের বিকাশের জন্য শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে সর্বোৎকৃষ্ট- এর চেয়ে বড় বিনিয়োগ আর হতে পারে না।’ এই চিন্তা সময় উত্তীর্ণ, এই ভাবনা চিরকালীন। তার বিশ্বাস, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদা সচেতন।

তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিটি গণআন্দোলনে এই বিদ্যায়তন যেরূপ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে, বঙ্গবন্ধুর ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিয়ে নিজেদের কলঙ্কমুক্ত করতে তেমনি উদ্যোগী হয়েছে, আজ বঙ্গবন্ধুকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ উপাধিতে ভূষিত করার আয়োজনের মধ্য দিয়ে আবারও সেই পথিকৃতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে: রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, দেশের বিরুদ্ধে যত ষড়যন্ত্রই হোক আমরা এগিয়ে যাবো সামনের দিকে-উন্নয়নের দিকে। কেননা, বাঙালী বীরের জাতি।

বৃহস্পতিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম শুভ জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে পাবনার সাঁথিয়ায় ইছামতি নদীতে নৌকাবাইচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যুদ্ধ করে এ দেশ স্বাধীন করেছি। বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে আমৃত্যু লড়াই-সংগ্রাম করেছেন, জেল-জুলুম ও অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেছেন। স্বাধীনতার পর দেশকে এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধু অসাম্প্রদায়িক বাঙালি চেতনাকে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ শুরু করেছিলেন। সে লক্ষ্যে তিনি অল্প সময়ের মধ্যে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি সংবিধানও আমাদেরকে উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতকচক্রের ষড়যন্ত্রের কারণে স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় আমরা জাতির পিতাকে হারাই। এটা ছিল জাতি হিসাবে আমাদের চরম ব্যর্থতা। কারণ আমরা তাকে ধরে রাখতে পারিনি। আজ বঙ্গবন্ধু আমাদের সঙ্গে না থাকলেও তার নীতি-আদর্শই বাঙালির এগিয়ে যাওয়ার পথ-নির্দেশিকা ও অনুপ্রেরণা।

তিনি বলেন, নৌকা বাইচ আবহমান বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতির একটি অনন্য ঐতিহ্য। বাংলার প্রতিটি আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে লোকসংস্কৃতির অমূল্য বহু উপাদান। এসব লোক-সংস্কৃতি সঠিকভাবে লালন করা গেলে এগুলো বিশ্ব সংস্কৃতি ও সাহিত্যেরও অমূল্য সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। পাবনা জেলা বাঙালি লোক-সংস্কৃতির উর্বর ক্ষেত্র। নৌকা বাইচ আমাদের এলাকার তেমনই একটি ঐতিহ্যবাহী উৎসব।

রাষ্ট্রপতি বলেন, করোনা মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ গোটা বিশ্বের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এর বাইরে নয়। কিন্তু সেসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশ অর্থনীতির নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩য়  টার্মিনাল নির্মাণ, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সকল মেগা প্রকল্পের কাজ সময়মত শেষ হয়েছে। জনগণ এর সুফল পেতে শুরু করেছে।

পাবনার কৃতি সন্তান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, সারা দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পাবনার উন্নয়নে নতুন গতি এসেছে। ২০০৮ সালে পাবনায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলেও এতদিনে কোনো হাসপাতাল ছিল না। আজ সকালেই পাবনার ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ কাজের শুভসূচনা করা হয়েছে। পাবনা থেকে ঢাকা রেল চলাচল এ মাসেই শুরু করার কথা থাকলেও  প্রশাসনিক ও কারিগরিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তা শুরু হবে। এছাড়াও ইছামতি নদী সংস্কার ও পুন:খননের একটি প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। উন্নয়ন তখনই ফলপ্রসূ হয়, যখন এর সঙ্গে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা থাকে। তাই পাবনার উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

ডেপুটি স্পিকার ও পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- সাঁথিয়ার মেয়র মাহবুবুল আলম বাচ্চু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী ফার্স্টলেডি প্রফেসর ড. রেবেকা সুলতানা, পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুজ্জামান বিশ্বাস, পাবনার জেলা প্রশাসক মু. আছাদুজ্জামান, পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আসম আব্দুর রহিম পাকন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউল রহিম লাল, বেড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট আশিফ শামস রঞ্জন, সাঁথিয়ার ইউএনও মাসুদ হোসেন প্রমুখ।

পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম শুভ জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে পাবনার সাঁথিয়ার ইছামতি নদীতে নৌকাবাইচ উপভোগ করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাবনা মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যা হাসপাতালের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

বুধবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে পাবনা শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে এসে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। রাত ৯টার দিকে পাবনার গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি এবং সার্কিট হাউজে রাত্রিযাপন করেন।

বৃহস্পতিবার সাঁথিয়ার নৌকাবাইচ অনুষ্ঠান শেষে পাবনা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে সার্কিট হাউজে রাত্রিযাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। এর পর ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে পাবনা সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার শেষে পাবনা স্টেডিয়ামে হেলিপ্যাডে উপস্থিত হয়ে বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন তিনি।

পাবনা-ঢাকা ট্রেন চালু না হওয়ার বিষয়ে যা বললেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ঘোষণা অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে পাবনা থেকে ঢাকা সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল উদ্বোধনের কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। এবার সেই কারণ জানালেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, ‘সরকার তো ক্ষমতায় এসে অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়, পাঁচ বছরের মধ্যে কি সেই সব প্রতিশ্রুতি পালন করতে পারে? কিছু পারে, কিছু পারে না। তাই আমি যে সেপ্টেম্বরে পাবনা থেকে ঢাকা ট্রেন চলাচল উদ্বোধন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলাম, সেটা যে সেপ্টেম্বরেই হবে এটা ভাবার সুযোগ নেই। সবকিছু নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে হয় না। কোনো সময় হয়ে যায়, কোনো সময় হয় না।’

বুধবার  রাত ৯টার দিকে পাবনা সার্কিট হাউসে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। 

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেদিন প্রথমবার পাবনায় এসে তাড়াহুড়ো করে বলেছিলাম সেপ্টেম্বরেই পাবনা থেকে ঢাকা ট্রেন চলবে। কিন্তু ট্রেন চালু হলো না কেন তার পেছনে প্রেক্ষাপট রয়েছে। এখানেও অনেকেই প্রশ্ন করছে, সেপ্টেম্বর মাস তো আইসে গেল, কামতো কিছু দেহি না। অনেকেই আমাকে ফোন করে জানিয়েছে। কিন্তু আমি তো এদিকে লেগে আছি। ট্রেন চালুর বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মত দিয়েছেন যে, পাবনা থেকে ঢাকা ট্রেন চললে সরকারের বা রেল বিভাগের কী লাভ আছে এটা একটু যাচাই করা দরকার। এটা সরকারপ্রধান যাচাই করতে বলতেই পারেন। তিনি সন্তুষ্ট হতে চান। তিনি রেল কর্তৃপক্ষকে সার্বিক বিষয় বিবেচনা করতে বলেছেন। রেল কর্তৃপক্ষও সেগুলো নিয়ে কাজ করছে। তাই আপাতত ট্রেন চালু না হলেও নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। এখন এই পর্যায়ে আছে। কেউ এটা নিয়ে সমালোচনা করতেও পারে, নাও করতে পারে। আমি যতটুকু করার ততটুকু করছি।’

পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, পাবনায় মেডিকেল কলেজ আছে, হাসপাতাল নেই। সকলেই বিস্মিত হয়। কিন্তু আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আপনারা যাদের জনপ্রতিনিধি বানিয়েছেন তারা এ বিষয় নিয়ে সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট জায়গায় গিয়ে কখনো কথা বলেনি, এমনকি উত্থাপনই করেনি। বিষয়টি কারও নলেজেই নেই। ২০০৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এটা নিয়ে কোনো কথা হয়নি। বিষয়টা এমন দাঁড়িয়েছে যে এটা ডেট কেস, এটা হওয়ার মতো নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘পরে পরিকল্পনামন্ত্রীকে আমি বললাম এই প্রকল্পটা এমন এক জায়গায় নিয়ে আসেন যাতে বাস্তবায়ন করা যায়। তারপর অত্যন্ত তড়িত গতিতে এটা হতে থাকল। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে স্মরণ করিয়ে দিলাম। তারপর সবার আন্তরিকতায় সেটি একনেকে অনুমোদন হয়েছে। এখন পাবনায় এসেছি সেই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্বোধন করতে। তারপরও যারা এতদিন বিষয়টি উত্থাপনই করেনি, তাদের কেউ কেউ বলছে ‘হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর নাকি কি যিনি স্থাপন হবি, তে হোনে যায়ে কি হবি, এমনি হইতো, অমনি হইতো।’ মানে লোকজন যেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে না আসে এরকম একটি নেগেটিভ পাবলিসিটি হয়েছে। যারা ব্যর্থ তারা তো এটা করবেই।

ইছামতি নদীর সৌন্দর্যবর্ধন এবং খনন কাজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এসব কাজ করে আমার তো পাঁচ পয়সা লাভ নেই। আমি করবো পাবনার মানুষের জন্য। যেখানে জন্মগ্রহণ করেছি, মুক্তিযুদ্ধ করেছি, আমার দায়বদ্ধতা থেকে এগুলো করি। করার দায়িত্ব মনে করি। যারা আপনাদের দ্বারা নির্বাচিত তারা কী করলেন, না করলেন এটা আমার দেখার দরকার নেই। পাবনার মানুষ হিসেবে একটা দায়িত্ববোধ থেকে আমি পাবনার উন্নয়নে কাজ করে যাব।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনারা আমাকে পছন্দ করেন, ভালোবাসেন আগাগোড়াই। আমি এজন্য কৃতজ্ঞ। আপনারা তো জানেন, পাবনা থেকে এখন ঢাকায় প্রায় স্থায়ী হয়ে গেছি। কিন্তু পাবনার সঙ্গে আমার যোগাযোগ থাকত। আমি তো আসতাম সব সময়, নিজের বাসভবনে আসতাম। সকলের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হত। প্রেসক্লাবে তো আমি অন্তত একবার হলেও যেতাম এবং সকলের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতাম। খুবই ভালো লাগত। এবার তাড়াহুড়োর মধ্যে পাবনায় এসেছি, তাই আর প্রেসক্লাবে যাওয়া হলো না।’

মতবিনিময় সভায় পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম রবি, পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সৈকত আফরোজ আসাদ, পাবনা সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি আব্দুল মতীন খাঁন, প্রবীণ সাংবাদিক হাবিবুর রহমান স্বপনসহ জেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

৩ দিনের সফরে পাবনায় পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি

পাবনা প্রতিনিধি: তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে দ্বিতীয়বারের মতো নিজ জেলা পাবনায় পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বুধবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে পাবনার শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে এসে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। এরপর ৪টা ৩০ মিনিটে পাবনা সার্কিট হাউসে উপস্থিত হয়ে রাষ্ট্রপতি গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন।

পাবনার জেলা প্রশাসক মুহা. আসাদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাষ্ট্রপতির সফরসূচি থেকে জানা গেছে, ২৭ সেপ্টেম্বর পাবনার আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে সার্কিট হাউজে রাত্রিযাপন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় ৫০০ শয্যার পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টায় সাঁথিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে আয়োজিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। অনুষ্ঠান শেষে পাবনা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে সার্কিট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে পাবনা সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে পাবনা স্টেডিয়ামে হেলিপ্যাডে উপস্থিত হয়ে বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।

এদিকে ৫০০ শয্যার পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার মাধ্যমে পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে সাঁথিয়ার ইছামতি নদীর পাড়ে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠানে যোগদানকে ঘিরে গোটা উপজেলাজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ইছামতী নদীর কোনাবাড়িয়া থেকে বোয়াইলমাড়ি পর্যন্ত প্রতিযোগিতার আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সাঁথিয়া উপজেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এ উৎসব ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের উপজেলাগুলোতেও। বিভিন্ন স্থান থেকে নৌকা বাইচের এলাকা পরিদর্শনের জন্য জনসাধারণ আসছে।

পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী বলেন, রাষ্ট্রপতির পাবনা সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সর্বস্তরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

পাবনার জেলা প্রশাসক মুহা. আসাদুজ্জামান  বলেন, রাষ্ট্রপতির পাবনা সফরকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তার পাবনা সফর যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় সেজন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির বিদায়ী সাক্ষাৎ

 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বঙ্গভবনে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বঙ্গভবনে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন জানান, প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব পালনকালে সার্বিক সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধান বিচারপতি মামলার নিষ্পত্তির অগ্রগতিসহ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতের বিচার এবং অবকাঠামোসহ সব কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

প্রধান বিচারপতি জানান, নিম্ন আদালতের মামলা নিষ্পত্তির হার শতভাগেরও ওপরে অর্জিত হয়েছে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগেও মামলা নিষ্পত্তির হার অনেক বেড়েছে। বিচার বিভাগের উন্নয়ন ও বিচারিক কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য সরকারকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি বিচার কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়ন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রবর্তনের জন্য বিদায়ী প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানান। মামলা নিষ্পত্তির হার বৃদ্ধিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপ্রধান।

তিনি দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানান।

রাষ্ট্রপতি জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালনকালে এর নিয়োগ কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে বিচার বিভাগ জনগণের বিচার নিশ্চিত করতে অব্যাহত প্রয়াস চালিয়ে যাবে। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসা বিন ইউসুফ আল দুহাইলান। রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানান, সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। এ সময় বাংলাদেশিদের জন্য হজ-প্রক্রিয়া সহজ এবং ই-ভিসা চালু করায় সৌদি সরকারকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।

সৌদি আরব বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা উভয় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

রাষ্ট্রপতি দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে পারস্পরিক সফর বিনিময়ের ওপর জোর দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সৌদি বিনিয়োগও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

তিনি বলেন, কুয়েতের পরে বাংলাদেশ দ্বিতীয় দেশ যেখানে মোবাইল ওমরাহ ভিসা কার্যকর করা হয়েছে।

সৌদি আরবের বড় বড় অনেক কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলেও জানান রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহউদ্দিন ইসলাম এবং সচিব (সংযুক্ত) মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি ৪ দিনের সফরে পাবনা যাচ্ছেন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চার দিনের সফরে সোমবার নিজ জেলা পাবনায় যাচ্ছেন।

প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন বাসসকে জানান, ‘রাষ্ট্রপতি আজ  সকালে চারদিনের সফরে পাবনার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন।’

রাষ্ট্রপতি সেখানে গণসংবর্ধনাসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে যোগ দেবেন । তিনি সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের মতবিনিময় করবেন।

গত ২৪ এপ্রিল ২২ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটিই হবে পাবনায় তার প্রথম সফর।

আগামী ১৬ মে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে রাষ্ট্রপ্রধানকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। স্থানীয় জনগন সাবেক ছাত্রনেতা এই বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মানে সংবর্ধনার আয়োজন করেছে ।

বাসসের সংবাদদাতা জানান, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পাবনা সফর উপলক্ষে এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে।

স্থানীয় প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মী ও সাধারণ জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে তাদের প্রিয় মানুষটিকে এক নজর দেখার জন্য।

বাহারি ফেস্টুন, ব্যানার, পোস্টার ও তোরণে ছেয়ে গেছে গোটা পাবনা শহর ও আশেপাশের এলাকা।

১৬ মে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে গণসংবর্ধনা দেয়া হবে । আগামী ১৮ মে দুপুরে রাষ্ট্রপতির ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন