বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে আপিল বিভাগের নির্দেশ


নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

তবে দলটির প্রতীক দাঁড়িপাল্লার বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি আদালত। আপিল বিভাগ প্রতীকের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

রোববার সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দেশের সর্ব্বোচ আদালত এ রায় দেন।

আদালতে জামায়াতের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম।

আদালতে জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসেন, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিনসহ অনেকে।

এর আগে গত ১৪ মে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পেতে আপিলের শুনানি শেষ হয়। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য ১ জুন দিন ধার্য করা হয়।

গত ১২ মার্চ রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে আপিল শুনানি শুরু হয়। গত বছরের ২২ অক্টোবর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করে দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ। এর ফলে নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ফিরে জামায়াতের আইনি লড়াই করার পথ খুলে যায়।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান এ. সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড আলী আজম।

গত ১ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদনের শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করা হয়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত এ দিন ধার্য করেন। আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খারিজ হওয়া আপিলটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

এক রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এরপর ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তীতে হাইকোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াতে ইসলামী। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানিতে জামায়াতের মূল আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় গত বছরের নভেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগ ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ বলে আপিল খারিজের আদেশ দেন। ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল থাকে।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গত ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে শেখ হাসিনার সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারায় জামায়াত, ছাত্রশিবিরসহ তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে গত ২৮ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রান্তিক কৃষকদের পাশে সাউথইস্ট ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক। কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, যন্ত্রপাতি কেনা ও কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করতে বিভিন্ন এলাকার ২৫৭ জন কৃষকের হাতে এই সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

সম্প্রতি রাজধানীর সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) আবিদুর রহমান চৌধুরী, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিউ এরা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে এই সহায়তার অর্থ তুলে দেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন নিউ এরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মো. শফিকুল ইসলাম ও পরিচালক মোস্তাক আহমেদ কিরণ। সাউথইস্ট ব্যাংকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল আমিন, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. মুশফিকুর রহমান এবং ঈশ্বরদী শাখার ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী কর্মকর্তা আদনানুর রাফি।

অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয় করেন ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) বিভাগের সহকারী সহ-সভাপতি রবিউল আলম।

সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ঐকমত্য কমিশনের দুই সদস্যের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই তাগিদ দেন। 

শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ এবং সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে প্রফেসর আলী রীয়াজ ও ড. বদিউল আলম মজুমদার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। তারা জানান, বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা চলমান রয়েছে। শনিবার পর্যন্ত মোট ৮টি দলের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করা আছে।

তারা আরও জানান, সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে জনমত যাচাই এবং সে বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ সময় কমিশনের সভাপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা তথা সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন।

চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

রোববার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭টা থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এসব জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের এখানে ঈদের নামাজ আদায় করার কথা আছে।

সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এখানে একসঙ্গে ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে আশেপাশের সড়ক এবং জায়গা মিলিয়ে ঈদের নামাজে অংশ নিতে পারেন প্রায় ৯০ হাজার মুসল্লি। এছাড়া ভিভিআইপি গ্যালারিতে ২৫০ জনের মতো নামাজ আদায় করতে পারবেন। নামাজ আদায়ের জন্য আরামদায়ক কাপের্ট বিছানো হয়েছে। এছাড়া নামাজ পড়তে আসা মানুষের জন্য সুপেয় পানিরও ব্যবস্থা করেছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

এছাড়া সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ডিএনসিসির উদ্যোগে আয়োজিত এই ঈদ জামাতে লাখো মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নামাজ শেষে বর্ণাঢ্য ঈদ আনন্দ মিছিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দুই দিনব্যাপী ঈদ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

২.১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদান পাবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  চীনা সরকার ও কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঐতিহাসিক সফরের ফলস্বরূপ এ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার শুক্রবার এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশি কর্মকর্তারা এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে এক্সক্লুসিভ চায়না ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের উৎপাদন খাতে বিনিয়োগে চীনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করার পর এ প্রতিশ্রুতি এসেছে।

চীন মংলা বন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ, চায়না ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনের উন্নয়নে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য ১৫০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বাকি অর্থ অনুদান ও অন্যান্য ঋণের মাধ্যমে আসবে।

প্রধান উপদেষ্টার চার দিনব্যাপী প্রথম দ্বিপাক্ষিক চীন সফর প্রসঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও জয়েন বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক সফর।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, এ সফর বাংলাদেশের প্রতি চীনা বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় ড. ইউনূস চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বাংলাদেশে চীনা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের জন্য সবুজ সংকেত দেওয়ার অনুরোধ করেন।

আশিক চৌধুরী জানান, প্রেসিডেন্ট শি চীনা কোম্পানিগুলোকে তাদের উৎপাদন কেন্দ্র বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে স্থানান্তর করতে উৎসাহিত করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এ সফর চীনের অনেক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি কেবল সময়ের ব্যাপার। এ পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক।

শুক্রবার ড. ইউনূস এবং আশিক চৌধুরী বেইজিংয়ে তিনটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে বিশ্বের বৃহত্তম কিছু কোম্পানিসহ ১০০টিরও বেশি চীনা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তারা বাংলাদেশে, বিশেষ করে উন্নত বস্ত্রশিল্প, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

শুক্রবার খোলা ছিল ৪ ব্যাংকের শাখা, টাকা তুলতে শিক্ষকদের ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক: নানা জটিলতায় টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার বেতন পেয়েছেন যশোরের বীর প্রতীক ঈসা হক কলেজের একজন শিক্ষক। ঈদ বোনাসও দেওয়া হয়েছে। তবে টাকা তুলবে পারবেন কিনা এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। শুক্রবার ব্যাংক খোলা রাখায় এ দিন সকালে এসে লাইনে দাঁড়ান। কোনো ঝামেলা ছাড়াই টাকা তুলতে পেরে যেন সত্যিকারের ঈদের চাঁদ হাতে পান। সারা দেশে তার মতো ৫ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী আটকে থাকা বেতন পেয়েছেন।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন তোলার সুবিধার্থে গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের শাখা খোলা রাখা হয়। এ দিন সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। যেসব শাখায় বেতন হয় সেখানে ভিড় করেন শিক্ষকরা। অন্য অনেক গ্রাহকও এদিন এসেছেন টাকা উঠাতে বা জমা দিতে। মূলত রাষ্ট্রীয় মালিকানার এই চার ব্যাংকের মাধ্যমেই সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন হয়।

জানা গেছে, প্রত্যেক বিভাগে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন দেওয়ার জন্য প্রধানত একটি করে ব্যাংক নির্ধারিত আছে। অবশ্য শিক্ষক প্রতিষ্ঠান এলাকায় ওই ব্যাংক না থাকলে সেখানে যে সরকারি ব্যাংক রয়েছে ওই ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন দেওয়া হয়। 

খুলনা জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাংক রূপালী। ব্যাংকটির যশোর কর্পরেট শাখা থেকে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি শিক্ষকের বেতন হয়। শুক্রবার এই শাখা থেকে এক হাজার চেকের বিপরীতে পরিশোধ হয়েছে ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি। বিভিন্ন গ্রাহক এদিন জমা দিয়েছেন ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

রূপালী ব্যাংকের যশোর কর্পরেট শাখার ব্যবস্থাপক (এজিএম) শহীদুল ইসলাম বলেন, টাকা তোলার জন্য সকাল ৯টা থেকে শাখার সামনে লাইন ধরেন শিক্ষকরা। সুশৃঙ্খলভাবে তারা প্রত্যেককে টাকা দিতে পেরেছেন। তিনি বলেন, 'বৃহস্পতিবার প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। ছুটির দিনেও যেন সব কর্মী উপস্থিত হন সে ব্যবস্থা করা হয়। আবার এটিএম বুথেও পর্যাপ্ত টাকা রাখা হয়। যে কারণে কোনো সমস্যা হয়নি। সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুশৃংখলভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।'

জানা গেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (ইএফটিএন) পদ্ধতিতে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। তবে এ ব্যবস্থা চালু করতে গিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়। কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডিজিট ভুল,  কারও আবার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নামের অসঙ্গতিসহ বিভিন্ন ভুলের কারণে গত ডিসেম্বর থেকে অনেকের বেতন-ভাতা আটকে ছিল। জটিলতা নিরসন করে ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার অনেকের অ্যাকাউন্টে শেষ সময়ে বেতন দেওয়া হয়। যে কারণে তারা টাকা তুলতে পারেননি। শুক্রবার থেকে টানা ৯দিন ছুটি। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ব্যবস্থায় সরকারি চার ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়। 

অধ্যাপক কামরুল ১৮০০ কিডনি প্রতিস্থাপনের মাইলফলক ছুঁলেন


নিজস্ব প্রতিবেদক: কিডনি চিকিৎসার কথা বললেই যে নামটি সামনে আসে, তিনি হলেন অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। বিনামূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করা এই চিকিৎসক ঈশ্বরদীর কৃতি সন্তান এবং সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

শুক্রবার তিনি ১৮০০ কিডনি প্রতিস্থাপনের রেকর্ড গড়েছেন। বিশ্ব কিডনি দিবসে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত এই চিকিৎসক বলেন, ‘বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এর কারণ হলো—দক্ষ জনবলের অভাব, ওষুধের উচ্চমূল্য, আইনি জটিলতা, সরকারি অর্থায়নের অভাব এবং ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্টের (মৃত ব্যক্তির অঙ্গ সংযোজন) প্রতি মানুষের অনাগ্রহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিডনি প্রতিস্থাপনে আমাদের সফলতা আন্তর্জাতিক মানের হলেও, সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় এবং নিয়মিত ওষুধ না পাওয়ায় অনেক রোগী মারা যায়।’

গবেষণায় দেখা যায়, কিডনি প্রতিস্থাপনের এক বছরে ৯৬ শতাংশ রোগী ভালো থাকছে, তিন বছরে পর সুস্থ থাকছে ৮৫ শতাংশ, পাঁচ বছরে ৭৫ এবং ১০ বছরে অর্ধেক রোগী মারা যায় বিভিন্ন সংক্রমণের কারণে। অথচ তাদের কিডনি ঠিকমতো কাজ করছিল। 

ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘কিডনি প্রতিস্থাপনের পর রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কমে যায়। ফলে শিশুর মতো যত্ন না নিলে সামান্য সংক্রমণেও বড় ক্ষতি হতে পারে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কিডনি রোগে ভুগছেন। এর মধ্যে ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর অন্তত ১০ হাজার মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন, কিন্তু হয়ে থাকে মাত্র ৩৬৫টি, যা প্রয়োজনের মাত্র ৩.৬৫%।

এ পর্যন্ত দেশে সর্বমোট তিন হাজার ৫০০টির কিছু বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিস্থাপনের পর নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের অভাবে অনেক রোগী পাঁচ বছরের মধ্যেই মারা যান।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশে ক্যাডাভেরিক অঙ্গদান ব্যবস্থা চালু ও জনপ্রিয় করতে ধর্মীয়, আইনি ও সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এছাড়া কিডনি প্রতিস্থাপন পরবর্তী চিকিৎসার খরচ কমানো এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করাও জরুরি।

ঈদের আগে চাঙা প্রবাসী আয়, ১৫ দিনে এলো ১৬৫ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র রমজান মাস চলছে, কিছুদিন পরই আসছে খুশির ঈদ। প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের আগে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি বেশি রে‌মিট্যান্স পাঠান প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এখন থেকেই প্রবাসী আয়ে বেশ চাঙা ভাব লক্ষ্য করা যা‌চ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাং‌কের সবশেষ তথ্য বলছে, চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে ১৬৫ কো‌টি ৬১ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলা‌দেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা) এই অঙ্ক ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে মাসের শেষে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় আসবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এর আগে, ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)। দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৯ কো‌টি ডলার বা এক হাজার ১১০ কো‌টি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়া‌রি পর্যন্ত ৮ মাসে দেশে এক হাজার ৮৪৯ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে; যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৩ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৪৯৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, আগস্টে এসেছে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, নভেম্বর মাসে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়া‌রি‌তে ২১৯ কোটি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পা‌ঠি‌য়েছেন প্রবাসীরা। অর্থাৎ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দা‌য়িত্ব নেওয়ার পর টানা ৭ মাস দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসে‌ছে বাংলাদেশে।

দেশে জিকা ভাইরাসের প্রথম ‘ক্লাস্টার’ শনাক্ত, আক্রান্ত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্তের এক দশক পর এবার ভাইরাসটির ক্লাস্টার (গুচ্ছ) সংক্রমণ, অর্থাৎ এক স্থানে একাধিক ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একই এলাকার পাঁচ ব্যক্তির সংক্রমণের বিষয়টি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)।

সোমবার সংস্থাটি তাদের ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছে।

আইসিডিডিআর,বির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে সংগ্রহ করা নমুনা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পেয়েছেন তারা। বিজ্ঞানীরা সমগ্র জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশি এই স্ট্রেইন এশিয়ান লাইনেজের অন্তর্গত। এতে আক্রান্ত হলে মাইক্রোসেফালি ও অন্যান্য স্নায়বিক রোগের মতো গুরুতর সংকট দেখা দিতে পারে।

আইসিডিডিআর,বি তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যে জানিয়েছে, বাংলাদেশের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু, এর উষ্ণ তাপমাত্রা এবং দীর্ঘ বর্ষাকাল এডিস মশার জন্য সর্বোত্তম প্রজনন পরিস্থিতি তৈরি করে। এ কারণে মশাবাহিত অনেক রোগ হয়। ডেঙ্গু ছাড়াও এখানে চিকুনগুনিয়া দেখা গিয়েছিল। এবার জিকা ভাইরাসও শনাক্ত হলো।

জানা যায়, ২০১৬ সালে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালিত একটি পর্যালোচনা গবেষণায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি উঠে আসে। ওই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল ২০১৪ সালে। যদিও এই রোগীর বিদেশ ভ্রমণের কোনো ইতিহাস ছিল না। বিষয়টিতে ধারণা করা হয়, ২০১৫ সালে ব্রাজিলে প্রাদুর্ভাবের আগেই বাংলাদেশে জিকা ভাইরাস গোপনে সংক্রমিত হচ্ছিল।

ক্লাস্টার সংক্রমণের বিষয়ে আইসিডিডিআর,বি বলছে, গবেষকেরা ২০২৩ সালে তাদের ঢাকার রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে আসা রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করেন। জ্বর আক্রান্ত ১৫২ জন রোগীর শরীরে জিকার লক্ষণ রয়েছে এমন সন্দেহে তাদের নমুনা পিসিআরভিত্তিক পরীক্ষা করা হয়। এতে পাঁচজনের নমুনায় জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়। এই পাঁচজন রোগী এক কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করতেন। তাদের কেউ-ই দুই বছরের মধ্যে বিদেশ ভ্রমণ করেননি। এসব রোগীরা একই সময়ে পরীক্ষা করিয়েছেন। ফলে বিষয়টি একই সংক্রমণ চক্রের অংশ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া পাঁচজন আক্রান্তের মধ্যে একজন ডেঙ্গু ভাইরাসেও সংক্রমিত হয়েছিলেন।

‘অগ্নিঝরা মার্চ’ শুরু

অগ্নিঝরা মার্চ—বাঙালির স্বপ্নসাধ যৌক্তিক পরিণতির মাস। বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ঘটনা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এই ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক-রাজনৈতিক স্বপ্নসাধ পূরণ হয়।

১৯৭১ সালে এসে যে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে, তার গোড়াপত্তন হয়েছিল বহু বছর আগে।  ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলনের পথ ধরে  ৬৯’র গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের মার্চে এসে বাঙালির সেই স্বপ্নসাধ যৌক্তিক পরিণতিকে স্পর্শ করে। প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ের গহীনে লালন করা তখনো অধরা ‘স্বাধীনতা’র দুর্বার আকাঙ্ক্ষা যেন অগ্নিস্ফুলিঙ্গের মতো সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলার আন্দোলন-সংগ্রামের ঘটনাবহুল ও বেদনাবিধুর স্মৃতিবিজড়িত একাত্তরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত পর্বে এসে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।

২৬ মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। দুপুর ১টা ৫ মিনিটে রেডিও পাকিস্তানের সব কেন্দ্রে একযোগে প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা প্রচার করা হয়। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী, ৩ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ঢাকায় হওয়ার কথা ছিল। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে যায়, দেশ আবার কঠোর সামরিক ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে এবং সামরিক আইন কঠোর করে ভেতরে ভেতরে কোনো গভীর প্রস্তুতি চলছে। দুপুরে রেডিওতে যখন জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিত করার সংবাদ প্রচারিত হচ্ছিল, তখন ঢাকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠানরত পাকিস্তান ও বিশ্ব একাদশের মধ্যে এক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ধারা বিবরণী চলছিল। তাই মাঠের ক্রিকেট দর্শকরাই রেডিওতে প্রথম ইয়াহিয়ার এ ঘোষণা শুনতে পান।

রেডিওতে খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা শহরে সর্বপ্রথম সংঘটিত প্রতিক্রিয়াটি ব্যক্ত করে স্টেডিয়ামের  হাজার হাজার ক্রিকেট দর্শক। তারা সমস্বরে চিৎকার করে উঠে ‘জয় বাংলা’ বলে। ধাওয়া করে পশ্চিম পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের এবং স্লোগানে উত্তাল হয়ে জঙ্গি মিছিল নিয়ে রাজপথে নেমে পড়ে। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের খবর শুনে পিআইএ’র বাঙালি কর্মচারীরাও জনসাধারণের সঙ্গে রাস্তায় নেমে পড়েন। জগন্নাথ কলেজ ও পার্শ্ববর্তী কায়েদে আযম কলেজের ছাত্ররাও লাঠিসোটা হাতে রাস্তা প্রদক্ষিণ করতে থাকে। আদমজী মিলের শ্রমিকরা চাকা বন্ধ করে শোভাযাত্রা সহকারে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

সেইদিনের আন্দোলন শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়। সেদিন মতিঝিল-দিলকুশা এলাকার পূর্বাণী হোটেলে সংসদীয় দলের পূর্ব নির্ধারিত বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ক্ষুব্ধ ছাত্ররা সেখানে গিয়ে প্রথমবারের মতো স্লোগান দেন, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’। ছাত্ররা কর্মসূচি ঘোষণার দাবি জানান। বিক্ষোভ-স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকাসহ গোটা দেশ।

এ পরিস্থিতিতে পূর্বাণী হোটেলের বাইরে বিক্ষুব্ধ বাঙালির কঠোর কর্মসূচির দাবিতে মুহুর্মুহু স্লোগান চলতে থাকে। পরে ২ ও ৩ মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সর্বাত্মক হরতালের ডাক এবং ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসভার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ১ মার্চ পেরিয়ে ২ মার্চ। একে একে পার হয় ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ ২৫টি দিন। ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ চালায়, ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। এই পথ ধরে বাংলার দামাল ছেলেরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনে একটি স্বাধীন দেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।

রাতের তাপমাত্রা বাড়বে ২ ডিগ্রি

বিশেষ প্রতিনিধি: সারা দেশে আজ রাতের তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেইসঙ্গে দিনের তাপমাত্রাও সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

শনিবার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলামের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে, তবে সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে।

আগামীকাল রোববার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে, তবে সিলেট এবং চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেইসঙ্গে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আগামী সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে। আগামী পাঁচ দিনে তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র’

নিজস্ব প্রতিবেদক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একটি ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে এ ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হবে।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনার সামনে এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জনগণের ঐক্য, ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে সুসংহত রাখার জন্য এ ঘোষণাপত্রটি গৃহীত হবে।

শফিকুল আলম বলেন, গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দল ও পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে ঘোষণাপত্রটি প্রস্তুত করা হবে। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিত, ঐক্যের ভিত্তি ও জনগণের অভিপ্রায় ব্যক্ত হবে।

‘আমরা আশা করছি, সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে কিছুদিনের মধ্যেই সর্বসম্মতিক্রমে এ ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করা হবে এবং জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।’

সরকার দ্রুত রূপপুর প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে চায় : অর্থ উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার পক্ষে বলে জানিয়েছেন অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ দলকে সঙ্গে নিয়ে উপদেষ্টা রূপপুর প্রকল্প ঘুরে দেখেন।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, রূপপুর আমাদের সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট, এটা বিদ্যুতের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক হবে। এটা নিয়ে আগের সরকার কী করেছে না করেছে সেটা অন্য জিনিস, কিন্তু আমরা এটা শেষ করার পক্ষে, সেটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। আর নিরাপত্তার বিষয়টি যতটা সম্ভব আমরা খতিয়ে দেখছি।

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, বড় প্রকল্প হিসেবে যেটুকু মেয়াদ বেড়েছে তা খুব বেশি নয়, আর সুদের বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে।

এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোকাব্বির হোসেন, পাবনা জেলা প্রশাসক মফিজুল হক, পুলিশ সুপার মোর্তজা আলীসহ সকল সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওয়াশরুমে পড়েছিলেন কবি হেলাল হাফিজ, মাথা ফেটে বের হচ্ছিল রক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্রোহ ও প্রেমের কবি হেলাল হাফিজ মারা গেছেন। জানা গেছে, রাজধানীর শাহবাগের একটি হোস্টেলে তিনি মারা যান। ওই হোস্টেলের ওয়াশরুমে পড়েছিলেন কবি হেলাল হাফিজ। তখন তার মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছিল।

শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) শাহবাগের সুপার হোম হোস্টেলে মারা যান কবি হেলাল হাফিজ। বর্তমানে তার মরদেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে।

শাহবাগ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে হোস্টেলের একটি কমন ওয়াশরুমে যান কবি হেলাল হাফিজ। ওয়াশরুমে যাওয়ার অনেকক্ষণ পরেও তার কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে হোস্টেলের অন্য রুমের বাসিন্দারা বাথরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন তারা দেখেন কবি হেলাল হাফিজ ওয়াশরুমে পড়ে রয়েছেন এবং তার মাথা ফেটে রক্ত বের হচ্ছিল।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খলিল মনসুর বলেন, শাহবাগের ওই হোস্টেলের একটি কক্ষে থাকতেন কবি হেলাল হাফিজ। দুপুরে তিনি হোস্টেলের একটি কমন ওয়াশরুমে যান। অনেকক্ষণ হলেও তিনি ওয়াশরুম থেকে বের হচ্ছিলেন না। পরে হোস্টেলের অন্য রুমের সদস্যরা ওয়াশরুমের সামনে এসে ডাকাডাকি করলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে তারা বাধ্য হয়ে ওয়াশরুমের দরজা ভাঙেন। দরজা ভেঙে দেখতে পান কবি হেলাল হাফিজ ওয়াশরুমের ফ্লোরে পড়ে রয়েছেন এবং তার মাথা ফেটে অনেক রক্ত বের হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের প্রাথমিক ধারণা স্ট্রোক বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি বাথরুমে পড়ে যান। বাথরুমের বেসিনটিও ভাঙা ছিল। আমাদের ধারণা– তিনি বেসিনের ওপর পড়ে যান। তখন বেসিন ভেঙে যায় এবং উনার মাথা ফেটে যায়।

কবি হেলাল হাফিজ ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার বড়তলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা খোরশেদ আলী তালুকদার পেশায় ছিলেন স্কুলশিক্ষক আর মা কোকিলা বেগম গৃহিণী।

কবি হেলাল হাফিজ অনেকটা বোহেমিয়ান জীবন কাটালেও সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন।

কবি হেলাল হাফিজের লেখালেখির সূচনা ষাটের দশকের উত্তাল সময়ে। তবে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ প্রকাশিত হয় দেশ স্বাধীন হওয়ারও অনেক পরে ১৯৮৬ সালে। ২৬ বছর পর ২০১২ সালে প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতা একাত্তর’। ২০১৯ সালে প্রকাশ পায় কবির আরেকটি কাব্যগ্রন্থ ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’।

‘এখন যৌবন যার, মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়/ এখন যৌবন যার, যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’-উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় তার রচিত কবিতা ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’র এ পঙ্‌ক্তি দুটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে যেমন, তেমনি এখনো প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে।

উল্লেখ্য, কবিতায় অসামান্য অবদানের স্মারক হিসেবে হেলাল হাফিজকে ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়া তিনি পেয়েছেন যশোর সাহিত্য পরিষদ পুরস্কার (১৯৮৬), আবুল মনসুর আহমদ সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৭), নেত্রকোণা সাহিত্য পরিষদের কবি খালেকদাদ চৌধুরী পুরস্কার ও সম্মাননা।

‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান : স্থগিত আবেদন শুনবেন আপিল বিভাগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে আবেদনের শুনানি হবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে বিষয়টি শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

তখন আপিল বিভাগ বলেন, এ বিষয়টা আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হবে।

এর আগে গত ২ ডিসেম্বর ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

২০২০ সালের ১০ মার্চ জয় বাংলাকে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে রায় দেন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। বাংলায় দেওয়া রায়ের আদেশের অংশে আদালত বলেন, ‘আমরা ঘোষণা করছি যে জয় বাংলা বাংলাদেশের জাতীয় স্লোগান হবে।’

‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা চেয়ে ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. বশির আহমেদের করা রিটের শুনানি শেষে এই রায় দেন হাইকোর্ট।

পরে ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভা।

মেট্রোরেলে চাকরি স্থায়ীকরণ নিয়ে ‘অসন্তোষ’

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা চারটি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি বয়সসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) বিরুদ্ধে। গত ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে তড়িঘড়ি করে এসব বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ পাওয়া ২২ জনের চাকরি স্থায়ীকরণ করা হয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মীদের মধ্যে বিরোধ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ডিএমটিসিএলের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী নবম গ্রেডে নিয়োগের জন্য বয়সসীমা ৩০ বছর, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে তা ৩২ বছর। কিন্তু ডিএমটিসিএল তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করে। ফলে সরকারি বিধি মেনে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে চাকরি স্থায়ীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যারা ৩৫ বছর বয়সসীমায় নিয়োগ পেয়েছেন, তারা বিশেষ সুবিধা ভোগ করছেন।

নিয়োগগুলো হয়েছিল ডিএমটিসিএলের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিকের আমলে।

অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরি স্থায়ীকরণের প্রক্রিয়া চললেও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি বিধি মেনে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের চাকরি নিশ্চিত করা হয়নি। সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর প্রথম অধ্যায়ের ধারা অনুযায়ী, ডিএমটিসিএলের সব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি বিধিবিধান মেনে চলার কথা। কিন্তু বিশেষ কিছু নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তা উপেক্ষা করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে ডিএমটিসিএল বলছে, সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সুপারিশ জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে আইনজ্ঞরা বলছেন, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান যদি আইন অনুসরণ না করে নিয়োগ দেয়, তবে সেটি অবৈধ।


সরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস রুলস থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তারপরও সরকারের কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আলাদা আলাদা কিছু আইন করে। সেই আইনগুলো কিন্তু সরকারি মূল আইনের পরিপন্থি হবে না। যেখানে আইন নাই, সেখানে যদি সরকারের আইন অনুসরণ না করে, তবে সেটি অবৈধ। যে কেউ এটি আদালতের দৃষ্টিতে আনলে বিষয়টি বন্ধ হয়ে যাবে
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ

এদিকে, গত ১৪ আগস্ট ডিএমটিসিএলের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিষ্ঠানটির এমআরটি লাইন-৬ এ প্রেষণে নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীরা চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য একটি চিঠি দেয়। পরে ২০ নভেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের কাছে একই বিষয়ে স্মারকলিপি দেয় ডিএমটিসিএলের অধীন এমআরটি লাইনসমূহে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত জনবল নামের একটি পক্ষ।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, এমআরটি লাইন-৬ এর প্রকল্পে নিয়োজিত ৪৭ জন কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণে সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশন। এর মধ্যে নবম গ্রেডের রয়েছেন ২২ জন। এমআরটি লাইন-৬ এর সংশোধিত জনবল কাঠামোতে ১৪১টি পদের অনুমোদন ছিল। এর মধ্যে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, সহকারী প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলীসহ মোট ৫৮টি পদ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার জন্য নির্ধারণ করা হয়।

ডিএমটিসিএলের অধীন লাইনগুলো পরিচালনার জন্য বিশেষ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও সাধারণ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি— এ দুই ধরনের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে, সাধারণ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমটিসিএলের সরকারি বিধি অনুসরণ করা হয়নি। সরাসরি নিয়োগের ৩, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর বিজ্ঞপ্তিতে নবম গ্রেডে ৩৫ বছরের বয়সসীমা দেওয়া হয়।

অবৈধ নিয়োগে স্থায়ী হয়েছেন যারা

ওই চারটি বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ পাওয়া ২২ জনের তালিকা ঢাকা পোস্টের কাছে রয়েছে। সেখানে দেখা যায়, ১৫ জনের যোগদানের সময় ধরা হয়েছে ২০১৯ সালের ২২ জুলাই। আর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সময় ধরা হয়েছে ২০২১ সালের ২২ জুলাই থেকে ২০২৬ সালে ২১ জুলাই পর্যন্ত। দুজনের যোগদানের সময় ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সময় ২০২১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় ধরা হয়েছে।

অবশিষ্ট পাঁচজনের মধ্যে প্রথমজনের যোগদানের সময় ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সময় ২০২১ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, দ্বিতীয়জনের যোগদানের সময় ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সময় ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, তৃতীয়জনের যোগদানের সময় ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর আর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সময় ২০২৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত, চতুর্থজনের যোগদানের সময় ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি আর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সময় ২০২৪ সালের ২৭ জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এবং সর্বশেষ পঞ্চমজনের যোগদানের সময় ২০২২ সালের ১০ মার্চ আর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সময় ২০২৪ সালের ১০ মার্চ থেকে ২০২৯ সালের ৯ মার্চ পর্যন্ত সময় ধরা হয়েছে।

ওই ২২ জনের মধ্যে ২০ জন সহকারী ব্যবস্থাপক, একজন প্রোগ্রামার ও একজন প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক রয়েছেন।
 

 সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী নবম গ্রেডে নিয়োগের জন্য বয়সসীমা ৩০ বছর, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে তা ৩২ বছর। কিন্তু ডিএমটিসিএল তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণ করে। ফলে সরকারি বিধি মেনে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে চাকরি স্থায়ীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, কোম্পানির সার্ভিস রুলে যদি ৩৫ বছর বয়সসীমার কথা উল্লেখ থাকে, তা হলে কেবল এ ধরনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নিয়ম। তবে, বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সময় কোনো অনুমোদিত সার্ভিস রুল ছিল না। বিজ্ঞপ্তি যদি অবৈধ হয়, তবে ওই বিজ্ঞপ্তির অধীনে নিয়োগও অবৈধ হয়ে যাবে। অবৈধ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ করা জনবলের চাকরি চূড়ান্তকরণ বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিযোগ উঠেছে, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং সর্বোপরি ডিএমটিসিএল বোর্ডের সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে ৩৫ বছর বয়সসীমা দিয়ে সার্কুলারের অধীনে লোকবল নিয়োগ দিয়েছেন।

এদিকে উপদেষ্টাকে দেওয়া চিঠিতে জানানো হয়েছে, বিধিবহির্ভূত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত জনবলের চাকরি চূড়ান্তকরণ, শ্রান্তি বিনোদন, ভবিষ্যৎ তহবিল অনুমোদন, যোগদানকালীন দুটি বেতন বৃদ্ধি; সর্বোপরি জ্যেষ্ঠতা প্রদানসহ কোম্পানির সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অতি সম্প্রতি তড়িঘড়ি করে এসব প্রার্থীর চাকরি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বর্তমানে ডিএমটিসিএলের চাকরি বিধিমালায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

অথচ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ৩, ৪, ৫ ও ৬ এর বাইরেও ২০১৩ সালে ডিএমটিসিএল কোম্পানি গঠনের পর এর আওতায় বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে এবং সব ধরনের সরকারি নিয়ম মেনে জনবল নিয়োগপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু তারা এখনও স্থায়ী হতে পারেননি।
এ সমস্যা নিরসনের জন্য অতিরিক্ত সচিব মো. আছির উদ্দীন সরদারকে প্রধান করে একটা কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। তাদের আরও কিছু দাবি-দাওয়া আছে। কমিটি এসব বিষয় নিয়ে শুনানি করেছে। ইতোমধ্যে কমিটির তিনটি সভা হয়েছে, আরও হবে। এসব সভায় কর্মকর্তাদের আরও যেসব দাবি-দাওয়া আছে সেগুলো শোনা হবে। ওনাদের সুপারিশ আসলে তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে
ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ

তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০১৮ সালের সুপারিশ অনুযায়ী, এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ডিএমটিসিএল কোম্পানি থেকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৪৭ জন জনবল বিভিন্ন পদে যোগদান করেন।

অন্যদিকে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের কাছে লেখা অপর এক চিঠিতে বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সুপারিশ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রশাসনিক অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমটিসিএলে যোগদান করা এমআরটি লাইন-৬ এ প্রেষণে নিয়োজিত একজন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, ১৫ জন সহকারী প্রকৌশলী, ১৮ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী, ১২ জন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর এবং একজন হিসাবরক্ষকসহ মোট ৪৭ জন জনবলকে চাকরিতে যোগদানের তারিখ হতে স্থায়ী করা প্রয়োজন। ওই চিঠিতে বিভিন্ন সময় তাদের চাকরিতে স্থায়ী করার আলোচনা ও সিদ্ধান্তগুলো যুক্ত করা হয়েছে।

সার্ভিস রুলস না থাকা প্রতিষ্ঠানে সরকারি বিধি অনুযায়ী নিয়োগ

সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সার্ভিস রুলস না থাকলে এবং সেই প্রতিষ্ঠান যদি সরকারি নিয়োগবিধি না মেনে নিয়োগ দেয়, তাহলে সেই নিয়োগ অবৈধ হবে কি না— জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস রুলস থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। তারপরও সরকারের কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আলাদা আলাদা কিছু আইন করে। সেই আইনগুলো কিন্তু সরকারি মূল আইনের পরিপন্থি হবে না। যেখানে আইন নাই, সেখানে যদি সরকারের আইন অনুসরণ না করে, তবে সেটি অবৈধ। যে কেউ এটি আদালতের দৃষ্টিতে আনলে বিষয়টি বন্ধ হয়ে যাবে।

    উপদেষ্টাকে দেওয়া চিঠিতে জানানো হয়েছে, বিধিবহির্ভূত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়োগপ্রাপ্ত জনবলের চাকরি চূড়ান্তকরণ, শ্রান্তি বিনোদন, ভবিষ্যৎ তহবিল অনুমোদন, যোগদানকালীন দুটি বেতন বৃদ্ধি; সর্বোপরি জ্যেষ্ঠতা প্রদানসহ কোম্পানির সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অতি সম্প্রতি তড়িঘড়ি করে এসব প্রার্থীর চাকরি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বর্তমানে ডিএমটিসিএলের চাকরি বিধিমালায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে

‘তবে, আরেকটি কথা আছে। তারা যদি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পারমিশন নিয়ে থাকে তবে আলাদা কথা। অনেক সময় এমনও হয় যে, ওই নির্দিষ্ট বয়সে অভিজ্ঞ লোক পাওয়া যায় না; তখন কোনো কারণ দেখিয়ে যদি পারমিশন নিয়ে থাকে তবে সেটি বৈধ। কিন্তু পারমিশন না নিলে তা অবৈধ।’

চাকরি স্থায়ীকরণ সমস্যা নিয়ে জানতে চাইলে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, এ সমস্যা নিরসনের জন্য অতিরিক্ত সচিব মো. আছির উদ্দীন সরদারকে প্রধান করে একটা কমিটি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। তাদের আরও কিছু দাবি-দাওয়া আছে। কমিটি এসব বিষয় নিয়ে শুনানি করেছে। ইতোমধ্যে কমিটির তিনটি সভা হয়েছে, আরও হবে। এসব সভায় কর্মকর্তাদের আরও যেসব দাবি-দাওয়া আছে সেগুলো শোনা হবে। ওনাদের সুপারিশ আসলে তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

সার্ভিস রুলস নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘এটি নিয়েও একটি কমিটি করা হয়েছে। ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে। জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে ডিএমটিসিএলের বোর্ডে এটি উপস্থাপন করা হবে।’

দিল্লির নেতৃত্ব দিতে পদ্মায় বিক্রম মিশ্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। চলমান এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ঢাকায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ-ভারত। বৈঠকে দিল্লির পক্ষে নেতৃত্ব দিতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের গাড়ি বহর পদ্মায় প্রবেশ করে।

এফওসি শুরুর আগে একান্তে কিছু সময় আলাপ-আলোচনা করবেন পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন ও বিক্রম মিশ্রি। পরে জসীম-মিশ্রির নেতৃত্বে শুরু হবে ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি)। বৈঠকে উভয়পক্ষ রাজনৈতিক দূরত্ব কমানোর বিষয়ে জোর দেবে। ঢাকার পক্ষ থেকে ভারতে বসে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সক্রিয়তা বন্ধ, ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার ও ভিসার জট খোলার বিষয়ে গুরত্ব দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করে তোলার পাশাপাশি সংখ্যালঘু স্বার্থ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি জানাতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ থাকবে। বৈঠকে বাণিজ্য, কানেকটিভিটি, সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন ছাড়াও আরও অনেক উপাদান থাকবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের (২০২৩) নভেম্বরে দিল্লিতে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়।

জানা গেছে, এফওসি শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের দপ্তরে যাবেন সফররত ভারতের পররাষ্ট্রসচিব। সেখানে তিনি তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বিকেলে যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

ঢাকার একটি কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সংশ্লিষ্ট বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সম্ভবনা বেশি। এগুলোর মধ্যে ভারতে বসে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সক্রিয়তা বন্ধ, ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার ও ভিসার জট খোলার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে।

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার রাতে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব মিশ্রির।

ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রসচিব মিশ্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দিল্লির উচ্চ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা প্রথম ঢাকায় এলেন। আর পররাষ্ট্রসচিব হওয়ার পর মিশ্রির প্রথম ঢাকা সফরও এটি।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব।

রাজনৈতিক দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যে এদিন ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক বসছে বাংলাদেশ ও ভারত। বৈঠকে ঢাকার পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রসচিব মো. জসীম উদ্দিন। দিল্লির পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সচিব পর্যায়ের বৈঠক শুরুর আগে একান্তে কিছু সময় আলাপ-আলোচনা করবেন দুই পররাষ্ট্রসচিব। পরে জসীম-মিশ্রির নেতৃত্বে শুরু হবে ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি)। বৈঠকে উভয়পক্ষ রাজনৈতিক দূরত্ব কমানোর বিষয়ে জোর দেবে। ঢাকার পক্ষ থেকে ভারতে বসে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সক্রিয়তা বন্ধ, ভারতীয় গণমাধ্যমের বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার ও ভিসার জট খোলার বিষয়ে গুরত্ব দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে, দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করে তোলার পাশাপাশি সংখ্যালঘু স্বার্থ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আর্জি জানাতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ থাকবে। বৈঠকে বাণিজ্য, কানেকটিভিটি, সীমান্ত হত্যা, পানি বণ্টন ছাড়াও আরো অনেক উপাদান থাকবে।

ঢাকার কূটনৈতিক অঙ্গন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকায় বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্র সচিবদের বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু মুখ্য নয়। বরং, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দুই দেশ আলোচনায় বসছে-এটি এখন বড় বার্তা। রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

জানা গেছে, এফওসি শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন দপ্তরে যাবেন সফররত ভারতের পররাষ্ট্রসচিব। সেখানে তিনি তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বিকেলে যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

ঢাকার একটি কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সংশ্লিষ্ট বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরত্ব দেওয়ার সম্ভবনা বেশি। এগুলোর মধ্যে- ভারতে বসে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সক্রিয়তা বন্ধ, ভারতীয় গণমাধ্যমের বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার ও ভিসার জট খোলার বিষয়ে গুরত্ব দেওয়া হতে পারে।

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার রাতেই ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব মিশ্রির।

অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ জয়ে দেশের যুবাদের রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাংলাদেশের যুবাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

রবিবার (৮ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

অভিনন্দন বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, কোচ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন।

এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখবে এবং  ভবিষ্যতেও জয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

দুই ভুয়া ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুটি লাইসেন্সবিহীন ভূয়া ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

রবিবার (৮ ডিসেম্বর) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ-২ শাখা থেকে ‘আকবর হজ গ্রুপ বাংলাদেশ’ ও ‘আকবর ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল’ নামের দুটি এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব বরাবর পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ফেসবুক পেজ খুলে হজযাত্রী সংগ্রহের জন্য নানা ধরনের বিজ্ঞাপন ও ভিডিও প্রচার করে নিরীহ হজযাত্রীদের প্রতারিত করছে আকবর হজ গ্রুপ বাংলাদেশ ও আকবর ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল।

হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন ২০২১ এবং হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২২ অনুসারে একাধিক এজেন্সি একত্রিত হয়ে হজ গ্রুপ নামে কোনো গ্রুপ গঠনের সুযোগ নেই।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের হজে বৈধ হজ এজেন্সির তালিকাভুক্ত না থেকেও ‘আকবর হজ গ্রুপ বাংলাদেশ’ এবং ‘আকবর ট্রাভেল ইন্টারন্যাশনাল’ নামে অবৈধভাবে গ্রুপ খুলে ৫ লাখ ৩ হাজার টাকায় হারাম শরীফ থেকে মাত্র ৭০০ মিটার দূরে হোটেলে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হজযাত্রী সংগ্রহের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছে।

এমনকি ‘ফাইনাল নিবন্ধন করলেই নিশ্চিত ২০ হাজার টাকা ক্যাশব্যাক’ এবং উন্নতমানের সেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। নিবন্ধনের জন্য সারা দেশে প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়ে এই গ্রুপে একাধিক হজ এজেন্সি গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এই গ্রুপের কার্যক্রম ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’ উল্লেখ করে তাদের অফিস বন্ধ করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। অন্যথায়, হজের নামে বড় ধরনের প্রতারণার আশঙ্কা করছে বলে চিঠিতে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন