বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

তিনটি বিল পাসের প্রতিবাদে সংসদের অধিবেশন বর্জন ও ওয়াকআউট বিরোধী দলের

নিজস্ব প্রতিবেদক: তিনটি বিল পাসের প্রতিবাদে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। অধিবেশন বর্জনের পর মুখে কালো কাপড় বেঁধে তারা সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যান।

রোববার রাত ৮টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন চলাকালে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ ও ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ পাসের বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। এর প্রতিবাদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দলটির সদস্যরা অধিবেশন ত্যাগ করে সংসদ ভবনের টানেলে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ৬ সেপ্টেম্বরকে সংসদের জন্য ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করে স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন বিরোধীদলীয় নেতারা। তাদের দাবি, এসব বিল পাসের মাধ্যমে জনগণের মানবাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ উপেক্ষিত হয়েছে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাওয়া হলেও স্পিকার তা না দিয়ে বিষয়টি নিয়ে মশকরা করেছেন, যা হতাশাজনক ও পক্ষপাতদুষ্ট। তার অভিযোগ, সরকারের দ্রুততার সঙ্গে উত্থাপিত গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত আইনে স্বাধীনভাবে তদন্তের কার্যকর সুযোগ রাখা হয়নি।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র নজিবুর রহমান ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’কে কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী বলে দাবি করেন। আইনমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসলামি বিধান সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় বিষয়টি সংসদে সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি।

স্পিকার নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন অভিযোগ করে নজিবুর রহমান বলেন, মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আইনকে দুর্বল করে পাস করা হয়েছে। এই ‘কালো আইন’ মানুষের অধিকার সংকুচিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গুম ও হত্যার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘ সময়ের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে সরকার আবারও আগের পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনার পথে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থাভাবে অনিশ্চিত ছিল মেডিকেল পড়া, ফাতেমার পাশে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেধার জোর থাকলেও অর্থাভাবে চীনের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল মোছা. ফাতেমা খানমের। তবে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলা কাকফো গ্রামের এই শিক্ষার্থীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এবং প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের সহযোগিতায় ফাতেমার উচ্চশিক্ষার দুয়ার খুলল।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চায়না মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুসংবাদ পাওয়ার পর ভর্তি ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ বহনের সামর্থ্য না থাকায় চরম হতাশায় পড়ে ফাতেমার পরিবার। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে ফাতেমাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন। পাশাপাশি তাঁর পড়াশোনা নিরবচ্ছিন্ন করতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ পাঠান তিনি। এর ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়।

২৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ফাতেমার কাছে অনুদানের অর্থ তুলে দেন। এতে অর্থের সংকট কাটিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার পথ সুগম হলো তাঁর।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এলাকার কোনো মেধা যেন অর্থাভাবে ঝরে না পড়ে, সেটিই লক্ষ্য। ফাতেমা অত্যন্ত মেধাবী, তাঁর পাশে দাঁড়াতে পেরে আনন্দিত। ভবিষ্যতেও তাঁর পড়াশোনায় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’ প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও মানবিক নেতৃত্বের কারণেই এমন উদ্যোগ সম্ভব হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মেধাবী শিক্ষার্থী ফাতেমা খানম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন।

নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল পান ২৫৫ ভোট এবং অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

সিইসি জানান, নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন, যার মধ্যে ৩৪৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। অব্যবহৃত ছিল ৬টি ব্যালট। নিয়ম মেনে ত্রুটিপূর্ণ ৪টি ব্যালট পুনর্স্থাপন করা হয়। ভোট গণনার আনুষ্ঠানিকতা শেষে সিইসি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

ফলাফল ঘোষণার পর নতুন রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বিরোধীদলীয় নেতাসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।

গোপন ব্যালট প্রক্রিয়ার এই নির্বাচনে এমপিরা নিজ নিজ আসনে বসে ব্যালটে স্বাক্ষর করে ভোট প্রদান করেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রথম ভোটটি দেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্য সংসদ সদস্যরা পর্যায়ক্রমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

আজ ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যার ৫১ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে সংঘটিত ইতিহাসের ঘৃণ্য ও নৃশংসতম সেই হত্যাকাণ্ডের ৫১ বছর আজ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়াও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল; পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল; শেখ মুজিবুর রহমানের একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তাঁর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়।

১৫ আগস্টের সেই রাতে সেনাসদস্যদের আরেকটি দল শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগনে তৎকালীন যুবলীগের নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাঁকে ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করে তাঁকে ও তাঁর কন্যা বেবি, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় আবদুল নঈম খানকে হত্যা করা হয়।

ওই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। ১৫ আগস্টের সেই হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর হত্যাকারীদের বিচার শুরু হয়। একই সঙ্গে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস এবং এই দিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।

১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পরে উচ্চ আদালত ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এখন পর্যন্ত ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একজন বিদেশে মারা গেছেন। পাঁচজন এখনো পলাতক।

২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এ দফায় টানা প্রায় সাড়ে ১৫ বছরের শাসনকালে আওয়ামী লীগ ১৫ আগস্ট এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাকে ঘিরে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করত। ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর কবরে শ্রদ্ধা জানানোসহ নানা আয়োজন করা হতো।

২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে এখন আর সরকারি ছুটি নেই। গত বছর এই ছুটি বাতিল করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়। এর ছয় মাস পর দ্বিতীয়বার হামলা চালিয়ে বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়।

গত শতকের ষাটের দশকের শেষ দিকে দেশে সুপরিচিত অনেক রাজনীতিবিদ থাকলেও শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর নেতৃত্বগুণে অন্যদের ছাপিয়ে চলে আসেন সামনের কাতারে। জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে আদর্শিক ভিত্তি করে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধুর ভাষণ যুদ্ধদিনে মুক্তিসেনাদের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। সেদিন সমবেত লাখো মানুষকে সামনে রেখে তিনি বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডাবল রেললাইন প্রকল্পে কাজ ধীরগতির, ব্যয় বাড়তে পারে ৮২ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগে গতি আনা এবং পণ্য পরিবহন সহজ করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে পরিকল্পনা গ্রহণের এক যুগ পার হলেও প্রকল্পটির দৃশ্যমান ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। দীর্ঘসূত্রতার কারণে এখন প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৮২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ১৪ হাজার ২৫০ কোটি ৬১ লাখ টাকার এই প্রকল্প অনুমোদন পায়। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা রয়েছে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এই প্রকল্পে খরচ হয়েছে মাত্র ৪০৮ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের খুব সামান্য অংশ।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের বাস্তবায়নে শুরু থেকেই গতি মেলেনি। প্রথমে চীন সরকারের অর্থায়নে এটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও ২০২১ সালে তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এতে অর্থায়নে রাজি হয়। অর্থায়নের উৎস পরিবর্তনের কারণে নতুন করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রকৌশল নকশার কাজ শুরু করতে হয়, যা প্রকল্পটিকে দীর্ঘ মেয়াদে স্থবির করে ফেলে।

চলতি বছরের ২৭ জুন জাইকার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চূড়ান্ত ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর অধীনে জাইকা ৬ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা (৯২ হাজার ৭৭ মিলিয়ন ইয়েন) দেবে। বর্তমানে জাইকার অধীনে বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মনিরুল ইসলাম ফিরোজী জানান, অর্থায়নের উৎস পরিবর্তনের কারণেই মূলত এই বিলম্ব। নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান জানান, আগের প্রাক্কলনটি ছিল কয়েক বছর আগের দর অনুযায়ী। ইতোমধ্যে ডলারের দাম ও উপকরণের মান নির্ধারিত মানদণ্ডে পরিবর্তন এসেছে। বিস্তারিত নকশার পর নতুন বাজারদর অনুযায়ী সংশোধিত ডিপিপি (আরডিপিপি) তৈরি করা হবে।

জাপানি পরামর্শকদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ২৫ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা, যা মূল অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে ৮২ শতাংশ বেশি।

প্রকল্পের আওতায় ১৬২ কিলোমিটার মূল রেললাইন, প্রায় ২৫ কিলোমিটার লুপ লাইন এবং ১১ কিলোমিটারের বেশি বিদ্যমান লাইন পুনর্নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৬৬টি বড় সেতু, ১৩৮টি ছোট সেতু ও ৩টি রোড ওভারব্রিজ তৈরি করা হবে। একটি নতুন স্টেশন নির্মাণসহ মোট ৪২টি স্টেশনের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ৭১৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ, ২,৯৯১টি পরিবার পুনর্বাসন এবং প্রায় ৭৫ হাজার গাছ কাটার প্রয়োজন হবে। তবে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ব্যাপকভাবে বিকল্প বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বর্তমানে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী একক (সিঙ্গেল) লাইনে দিনে ২৫টি ট্রেন চালানোর সক্ষমতা থাকলেও বাধ্য হয়ে ৩৬টি ট্রেন চালাতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। প্রকল্পটি শেষ হলে দৈনিক ৫৬টি ট্রেন চালানো সম্ভব হবে এবং ঢাকা থেকে ভ্রমণের সময় ৬ ঘণ্টা থেকে কমে প্রায় ৪ ঘণ্টায় নামবে। পাশাপাশি যমুনা রেলসেতুর পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহারের জন্যও এই রুটটি অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, “এই করিডোরটি বর্তমানে একটি বড় ‘বটলনেক’ বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রেখেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কনটেইনার পরিবহন সহজ হবে এবং রেলের রাজস্ব বাড়বে। কিন্তু সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারলে ব্যয় আরও বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।”

তিনি আরও মনে করেন, শুধুমাত্র অর্থায়ন বদল নয়—পরিকল্পনার ত্রুটি এবং বড় প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবলের অভাবও এই দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম কারণ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণকাজ শেষ করাই এখন রেলওয়ের মূল চ্যালেঞ্জ।

৫ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা


নিজস্ব প্রতিবেদক: সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও উজানের ভারী বর্ষণে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বর্তমানে ৫টি প্রধান নদীর ৯টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, দেশের সাঙ্গু, মাতামুহুরী, কুশিয়ারা, মনু ও খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্টে পানি যথাক্রমে ৯৫ ও ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। মাতামুহুরী নদীর লামা ও চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৪৭ ও ৩২ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারার মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১৮ ও ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদীর মনু রেলওয়ে ব্রিজ ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৩৫ ও ৮০ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর বল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।

এ ছাড়া আরও ৫টি নদীর ৯টি স্টেশন সতর্ক সীমায় পৌঁছেছে। এগুলো হলো—তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর; কুশিয়ারার শেরপুর; সুরমা নদীর কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ; সোমেশ্বরীর কলমাকান্দা এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ পয়েন্ট।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে দেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, তাদের পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি পরিমাপক স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, কমেছে ৪৩টিতে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫টি স্টেশনের পানি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঈশ্বরদীর নাজমুল


নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএসএ) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন পাবনার ঈশ্বরদীর সন্তান নাজমুল হাসান।

নাজমুল হাসান বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বুধবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাজমুল হাসান। 

প্রতিক্রিয়ায় নাজমুল হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ। সংগঠনের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করব। সহকর্মীদের কল্যাণ, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যেতে চাই। এ জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।’

তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মেগাসানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাত, চিকিৎসাসামগ্রী তৈরি এবং এই শিল্পে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে।

সোমবার দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের সৌজন্যে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজ সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। ঢাকায় তুর্কি দূতাবাসে আয়োজিত এই সভায় অংশ নেন মেগাসান মেডিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী নাজমুল হাসান।

সৌহার্দ্যপূর্ণ এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও মজবুত করার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো, আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী তৈরি এবং তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর বিশেষ জোর দেন।

অনুষ্ঠানে মেগাসান বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রকৌশলী নাজমুল হাসান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মেগাসান তুরস্কের চেয়ারম্যান আরিফ সিলেকতিন, পরিচালক ইউনুস সিলেকতিন এবং ঢাকায় তুর্কি দূতাবাসের বাণিজ্য শাখার (কমার্শিয়াল উইং) কর্মকর্তা বিলাল বেলার।

দেশের ৫ জেলায় বন্যার সতর্কতা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী এক সপ্তাহ দেশের পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

রোববার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সরদার উদয় রায়হান স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ১২ জুলাই অথবা এর কাছাকাছি সময়ে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের মেঘালয়, আসাম, বরাক অববাহিকা, ত্রিপুরা ও মিয়ানমারের পার্বত্য ও উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় ১০০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত একটি মৌসুমি নিম্নচাপ দেশের পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়াতে পারে।

বিশেষ বার্তায় জানানো হয়েছে, ৫ থেকে ১০ জুলাই গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি কিছু স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আগামী দুই দিন এসব নদীর পানি কমতে পারে। তবে ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে আবারও পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রাশিয়ার সরকারি বৃত্তি বেড়ে ২০০

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রাশিয়া সরকারের বৃত্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৮ সালে যেখানে বৃত্তির সংখ্যা ছিল ৬৫, ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০-এ।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার রাশিয়ান হাউসে আয়োজিত অর্ধবার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আলেক্সান্দ্রা খলেনভয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এর ফলে আরও বেশি মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। ২০১৮ সালে বৃত্তির সংখ্যা ছিল ৬৫, যা ২০২৬ সালে বেড়ে ২০০ হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রুশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব কর্মসূচি, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এ সময় সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম (এসপিআইইএফ) ২০২৬-এ অংশ নেওয়া বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘নিউ জেনারেশন’ কর্মসূচির আওতায় ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল, ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম এবং ‘চিলড্রেন ফর পিস’ আন্তর্জাতিক সম্মেলনসহ বিভিন্ন আয়োজনে বাংলাদেশি তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সাংবাদিকদের জন্য ‘ইন্টাররাশিয়া ফেলোশিপ ফর জার্নালিস্টস’ এবং ‘ওপেন ডায়ালগ’ কর্মসূচির সুযোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসের অ্যাটাশে ও প্রেস সেক্রেটারি সোফিয়া কুতেপোভাও বক্তব্য দেন।

খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন রাষ্ট্রপতি

বাসস, ঢাকা: খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

আজ শনিবার রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সুস্থতা এবং একইসাথে দেশবাসীর কাছে তাঁর জন্য দোয়া প্রার্থনা করি।’

এ ছাড়া রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে তিনি গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেন।

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে আপিল বিভাগের নির্দেশ


নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

তবে দলটির প্রতীক দাঁড়িপাল্লার বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি আদালত। আপিল বিভাগ প্রতীকের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

রোববার সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দেশের সর্ব্বোচ আদালত এ রায় দেন।

আদালতে জামায়াতের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম।

আদালতে জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসেন, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিনসহ অনেকে।

এর আগে গত ১৪ মে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পেতে আপিলের শুনানি শেষ হয়। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য ১ জুন দিন ধার্য করা হয়।

গত ১২ মার্চ রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে আপিল শুনানি শুরু হয়। গত বছরের ২২ অক্টোবর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করে দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ। এর ফলে নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ফিরে জামায়াতের আইনি লড়াই করার পথ খুলে যায়।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান এ. সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড আলী আজম।

গত ১ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদনের শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করা হয়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত এ দিন ধার্য করেন। আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খারিজ হওয়া আপিলটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

এক রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এরপর ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তীতে হাইকোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াতে ইসলামী। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানিতে জামায়াতের মূল আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় গত বছরের নভেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগ ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ বলে আপিল খারিজের আদেশ দেন। ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল থাকে।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গত ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে শেখ হাসিনার সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারায় জামায়াত, ছাত্রশিবিরসহ তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে গত ২৮ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রান্তিক কৃষকদের পাশে সাউথইস্ট ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক। কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, যন্ত্রপাতি কেনা ও কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করতে বিভিন্ন এলাকার ২৫৭ জন কৃষকের হাতে এই সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

সম্প্রতি রাজধানীর সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) আবিদুর রহমান চৌধুরী, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিউ এরা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে এই সহায়তার অর্থ তুলে দেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন নিউ এরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মো. শফিকুল ইসলাম ও পরিচালক মোস্তাক আহমেদ কিরণ। সাউথইস্ট ব্যাংকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল আমিন, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. মুশফিকুর রহমান এবং ঈশ্বরদী শাখার ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী কর্মকর্তা আদনানুর রাফি।

অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয় করেন ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) বিভাগের সহকারী সহ-সভাপতি রবিউল আলম।

সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ঐকমত্য কমিশনের দুই সদস্যের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই তাগিদ দেন। 

শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ এবং সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে প্রফেসর আলী রীয়াজ ও ড. বদিউল আলম মজুমদার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। তারা জানান, বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা চলমান রয়েছে। শনিবার পর্যন্ত মোট ৮টি দলের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করা আছে।

তারা আরও জানান, সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে জনমত যাচাই এবং সে বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ সময় কমিশনের সভাপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা তথা সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন।

চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। আগামীকাল বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

রোববার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭টা থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে এসব জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের এখানে ঈদের নামাজ আদায় করার কথা আছে।

সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আয়োজনের সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এখানে একসঙ্গে ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে আশেপাশের সড়ক এবং জায়গা মিলিয়ে ঈদের নামাজে অংশ নিতে পারেন প্রায় ৯০ হাজার মুসল্লি। এছাড়া ভিভিআইপি গ্যালারিতে ২৫০ জনের মতো নামাজ আদায় করতে পারবেন। নামাজ আদায়ের জন্য আরামদায়ক কাপের্ট বিছানো হয়েছে। এছাড়া নামাজ পড়তে আসা মানুষের জন্য সুপেয় পানিরও ব্যবস্থা করেছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

এছাড়া সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ডিএনসিসির উদ্যোগে আয়োজিত এই ঈদ জামাতে লাখো মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নামাজ শেষে বর্ণাঢ্য ঈদ আনন্দ মিছিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দুই দিনব্যাপী ঈদ মেলা অনুষ্ঠিত হবে।

২.১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদান পাবে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:  চীনা সরকার ও কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঐতিহাসিক সফরের ফলস্বরূপ এ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার শুক্রবার এ তথ্য জানান।

বাংলাদেশি কর্মকর্তারা এবং ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে এক্সক্লুসিভ চায়না ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের উৎপাদন খাতে বিনিয়োগে চীনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করার পর এ প্রতিশ্রুতি এসেছে।

চীন মংলা বন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ, চায়না ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনের উন্নয়নে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য ১৫০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বাকি অর্থ অনুদান ও অন্যান্য ঋণের মাধ্যমে আসবে।

প্রধান উপদেষ্টার চার দিনব্যাপী প্রথম দ্বিপাক্ষিক চীন সফর প্রসঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও জয়েন বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক সফর।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, এ সফর বাংলাদেশের প্রতি চীনা বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় ড. ইউনূস চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বাংলাদেশে চীনা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের জন্য সবুজ সংকেত দেওয়ার অনুরোধ করেন।

আশিক চৌধুরী জানান, প্রেসিডেন্ট শি চীনা কোম্পানিগুলোকে তাদের উৎপাদন কেন্দ্র বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে স্থানান্তর করতে উৎসাহিত করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, এ সফর চীনের অনেক কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে রাজি করাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি কেবল সময়ের ব্যাপার। এ পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক।

শুক্রবার ড. ইউনূস এবং আশিক চৌধুরী বেইজিংয়ে তিনটি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে বিশ্বের বৃহত্তম কিছু কোম্পানিসহ ১০০টিরও বেশি চীনা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তারা বাংলাদেশে, বিশেষ করে উন্নত বস্ত্রশিল্প, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

শুক্রবার খোলা ছিল ৪ ব্যাংকের শাখা, টাকা তুলতে শিক্ষকদের ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক: নানা জটিলতায় টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার বেতন পেয়েছেন যশোরের বীর প্রতীক ঈসা হক কলেজের একজন শিক্ষক। ঈদ বোনাসও দেওয়া হয়েছে। তবে টাকা তুলবে পারবেন কিনা এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। শুক্রবার ব্যাংক খোলা রাখায় এ দিন সকালে এসে লাইনে দাঁড়ান। কোনো ঝামেলা ছাড়াই টাকা তুলতে পেরে যেন সত্যিকারের ঈদের চাঁদ হাতে পান। সারা দেশে তার মতো ৫ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী আটকে থাকা বেতন পেয়েছেন।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন তোলার সুবিধার্থে গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের শাখা খোলা রাখা হয়। এ দিন সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। যেসব শাখায় বেতন হয় সেখানে ভিড় করেন শিক্ষকরা। অন্য অনেক গ্রাহকও এদিন এসেছেন টাকা উঠাতে বা জমা দিতে। মূলত রাষ্ট্রীয় মালিকানার এই চার ব্যাংকের মাধ্যমেই সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন হয়।

জানা গেছে, প্রত্যেক বিভাগে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন দেওয়ার জন্য প্রধানত একটি করে ব্যাংক নির্ধারিত আছে। অবশ্য শিক্ষক প্রতিষ্ঠান এলাকায় ওই ব্যাংক না থাকলে সেখানে যে সরকারি ব্যাংক রয়েছে ওই ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন দেওয়া হয়। 

খুলনা জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাংক রূপালী। ব্যাংকটির যশোর কর্পরেট শাখা থেকে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি শিক্ষকের বেতন হয়। শুক্রবার এই শাখা থেকে এক হাজার চেকের বিপরীতে পরিশোধ হয়েছে ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি। বিভিন্ন গ্রাহক এদিন জমা দিয়েছেন ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

রূপালী ব্যাংকের যশোর কর্পরেট শাখার ব্যবস্থাপক (এজিএম) শহীদুল ইসলাম বলেন, টাকা তোলার জন্য সকাল ৯টা থেকে শাখার সামনে লাইন ধরেন শিক্ষকরা। সুশৃঙ্খলভাবে তারা প্রত্যেককে টাকা দিতে পেরেছেন। তিনি বলেন, 'বৃহস্পতিবার প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম। ছুটির দিনেও যেন সব কর্মী উপস্থিত হন সে ব্যবস্থা করা হয়। আবার এটিএম বুথেও পর্যাপ্ত টাকা রাখা হয়। যে কারণে কোনো সমস্যা হয়নি। সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুশৃংখলভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।'

জানা গেছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (ইএফটিএন) পদ্ধতিতে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। তবে এ ব্যবস্থা চালু করতে গিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়। কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডিজিট ভুল,  কারও আবার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নামের অসঙ্গতিসহ বিভিন্ন ভুলের কারণে গত ডিসেম্বর থেকে অনেকের বেতন-ভাতা আটকে ছিল। জটিলতা নিরসন করে ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস বৃহস্পতিবার অনেকের অ্যাকাউন্টে শেষ সময়ে বেতন দেওয়া হয়। যে কারণে তারা টাকা তুলতে পারেননি। শুক্রবার থেকে টানা ৯দিন ছুটি। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ব্যবস্থায় সরকারি চার ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়। 

অধ্যাপক কামরুল ১৮০০ কিডনি প্রতিস্থাপনের মাইলফলক ছুঁলেন


নিজস্ব প্রতিবেদক: কিডনি চিকিৎসার কথা বললেই যে নামটি সামনে আসে, তিনি হলেন অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। বিনামূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করা এই চিকিৎসক ঈশ্বরদীর কৃতি সন্তান এবং সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

শুক্রবার তিনি ১৮০০ কিডনি প্রতিস্থাপনের রেকর্ড গড়েছেন। বিশ্ব কিডনি দিবসে স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত এই চিকিৎসক বলেন, ‘বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপনের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এর কারণ হলো—দক্ষ জনবলের অভাব, ওষুধের উচ্চমূল্য, আইনি জটিলতা, সরকারি অর্থায়নের অভাব এবং ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্টের (মৃত ব্যক্তির অঙ্গ সংযোজন) প্রতি মানুষের অনাগ্রহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিডনি প্রতিস্থাপনে আমাদের সফলতা আন্তর্জাতিক মানের হলেও, সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় এবং নিয়মিত ওষুধ না পাওয়ায় অনেক রোগী মারা যায়।’

গবেষণায় দেখা যায়, কিডনি প্রতিস্থাপনের এক বছরে ৯৬ শতাংশ রোগী ভালো থাকছে, তিন বছরে পর সুস্থ থাকছে ৮৫ শতাংশ, পাঁচ বছরে ৭৫ এবং ১০ বছরে অর্ধেক রোগী মারা যায় বিভিন্ন সংক্রমণের কারণে। অথচ তাদের কিডনি ঠিকমতো কাজ করছিল। 

ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘কিডনি প্রতিস্থাপনের পর রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কমে যায়। ফলে শিশুর মতো যত্ন না নিলে সামান্য সংক্রমণেও বড় ক্ষতি হতে পারে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কিডনি রোগে ভুগছেন। এর মধ্যে ৪০ হাজার রোগী ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর অন্তত ১০ হাজার মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপন প্রয়োজন, কিন্তু হয়ে থাকে মাত্র ৩৬৫টি, যা প্রয়োজনের মাত্র ৩.৬৫%।

এ পর্যন্ত দেশে সর্বমোট তিন হাজার ৫০০টির কিছু বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু প্রতিস্থাপনের পর নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের অভাবে অনেক রোগী পাঁচ বছরের মধ্যেই মারা যান।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশে ক্যাডাভেরিক অঙ্গদান ব্যবস্থা চালু ও জনপ্রিয় করতে ধর্মীয়, আইনি ও সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এছাড়া কিডনি প্রতিস্থাপন পরবর্তী চিকিৎসার খরচ কমানো এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করাও জরুরি।

ঈদের আগে চাঙা প্রবাসী আয়, ১৫ দিনে এলো ১৬৫ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র রমজান মাস চলছে, কিছুদিন পরই আসছে খুশির ঈদ। প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের আগে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি বেশি রে‌মিট্যান্স পাঠান প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এখন থেকেই প্রবাসী আয়ে বেশ চাঙা ভাব লক্ষ্য করা যা‌চ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাং‌কের সবশেষ তথ্য বলছে, চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে ১৬৫ কো‌টি ৬১ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলা‌দেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা) এই অঙ্ক ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে মাসের শেষে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় আসবে বলে আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এর আগে, ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)। দৈনিক গড়ে রেমিট্যান্স এসেছে ৯ কো‌টি ডলার বা এক হাজার ১১০ কো‌টি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়া‌রি পর্যন্ত ৮ মাসে দেশে এক হাজার ৮৪৯ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে; যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৩ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৪৯৩ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, আগস্টে এসেছে ২২২ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ৪১ লাখ, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, নভেম্বর মাসে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়া‌রি‌তে ২১৯ কোটি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ২৫২ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পা‌ঠি‌য়েছেন প্রবাসীরা। অর্থাৎ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দা‌য়িত্ব নেওয়ার পর টানা ৭ মাস দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসে‌ছে বাংলাদেশে।

দেশে জিকা ভাইরাসের প্রথম ‘ক্লাস্টার’ শনাক্ত, আক্রান্ত ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্তের এক দশক পর এবার ভাইরাসটির ক্লাস্টার (গুচ্ছ) সংক্রমণ, অর্থাৎ এক স্থানে একাধিক ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। একই এলাকার পাঁচ ব্যক্তির সংক্রমণের বিষয়টি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)।

সোমবার সংস্থাটি তাদের ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছে।

আইসিডিডিআর,বির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে সংগ্রহ করা নমুনা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পেয়েছেন তারা। বিজ্ঞানীরা সমগ্র জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশি এই স্ট্রেইন এশিয়ান লাইনেজের অন্তর্গত। এতে আক্রান্ত হলে মাইক্রোসেফালি ও অন্যান্য স্নায়বিক রোগের মতো গুরুতর সংকট দেখা দিতে পারে।

আইসিডিডিআর,বি তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যে জানিয়েছে, বাংলাদেশের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু, এর উষ্ণ তাপমাত্রা এবং দীর্ঘ বর্ষাকাল এডিস মশার জন্য সর্বোত্তম প্রজনন পরিস্থিতি তৈরি করে। এ কারণে মশাবাহিত অনেক রোগ হয়। ডেঙ্গু ছাড়াও এখানে চিকুনগুনিয়া দেখা গিয়েছিল। এবার জিকা ভাইরাসও শনাক্ত হলো।

জানা যায়, ২০১৬ সালে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালিত একটি পর্যালোচনা গবেষণায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি উঠে আসে। ওই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল ২০১৪ সালে। যদিও এই রোগীর বিদেশ ভ্রমণের কোনো ইতিহাস ছিল না। বিষয়টিতে ধারণা করা হয়, ২০১৫ সালে ব্রাজিলে প্রাদুর্ভাবের আগেই বাংলাদেশে জিকা ভাইরাস গোপনে সংক্রমিত হচ্ছিল।

ক্লাস্টার সংক্রমণের বিষয়ে আইসিডিডিআর,বি বলছে, গবেষকেরা ২০২৩ সালে তাদের ঢাকার রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে আসা রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করেন। জ্বর আক্রান্ত ১৫২ জন রোগীর শরীরে জিকার লক্ষণ রয়েছে এমন সন্দেহে তাদের নমুনা পিসিআরভিত্তিক পরীক্ষা করা হয়। এতে পাঁচজনের নমুনায় জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়। এই পাঁচজন রোগী এক কিলোমিটারের মধ্যে বসবাস করতেন। তাদের কেউ-ই দুই বছরের মধ্যে বিদেশ ভ্রমণ করেননি। এসব রোগীরা একই সময়ে পরীক্ষা করিয়েছেন। ফলে বিষয়টি একই সংক্রমণ চক্রের অংশ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া পাঁচজন আক্রান্তের মধ্যে একজন ডেঙ্গু ভাইরাসেও সংক্রমিত হয়েছিলেন।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন