বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাংলাদেশ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রূপপুর প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় ঢাকা-মস্কো আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক কাজ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদলের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।

গত ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর রাশিয়া থেকে আসা একটি প্রতিনিধিদল রূপপুর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে এসব বৈঠকে অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’-এর উপমহাপরিচালক আন্দ্রেই পেত্রোভ। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনও উপস্থিত ছিলেন।

সফরকালে প্রকল্প এলাকায় কয়েক দফায় এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের চলমান কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ নিয়ে কথা বলেন কর্মকর্তারা। রোসাটমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলোচনা অনেক সন্তোষজনক হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি নিরাপত্তায় মাইলফলক: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব


নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, এই মেগা প্রকল্প দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

 রোববার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) আয়োজিত ‘বেসিক প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে গত ১১ অক্টোবর সফলভাবে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ নিউক্লিয়ার চেইন রিঅ্যাকশন (পরমাণু বিক্রিয়া) শুরু হলো। পরবর্তী ধাপে বিভিন্ন ক্ষমতায় চুল্লির কার্যক্রম পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুতই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, নিখুঁত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য দেশের নবীন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের আন্তর্জাতিক মানের গভীর প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মঈনুল ইসলাম বলেন, এই নিবিড় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পারমাণবিক পদার্থবিদ্যা, বিকিরণ সুরক্ষা, নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ডিজাইন, জ্বালানি চক্র, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে তরুণদের দক্ষতা বাড়বে; যা দেশের নিরাপদ ও টেকসই পারমাণবিক শক্তি কর্মসূচি বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে।

বায়েরা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) টেকনিক্যাল অফিসার রাহিলা হাম্মাদ।

চার সপ্তাহব্যাপী এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সে বায়েরা, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বায়েক) এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ৪০ জন নবীন বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী অংশগ্রহণ করছেন। ১৮ অক্টোবর শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণ আগামী ১২ নভেম্বর শেষ হবে।

ভারত থেকে এল ১৮টি ব্রডগেজ রেলকোচ, দর্শনা হয়ে যাবে সৈয়দপুর

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারত থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য আনা ২০০টি ব্রডগেজ কোচের প্রথম চালানের ১৮টি যাত্রীবাহী কোচ দর্শনা স্টেশনে পৌঁছেছে। শুক্রবার দুপুর ২টা ৩৭ মিনিটে গেদে-দর্শনা আন্তদেশীয় রেল সংযোগ দিয়ে কোচগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে ও ভারতের সমঝোতা চুক্তির আওতায় পাঞ্জাবের কাপুরথালা রেলকোচ ফ্যাক্টরি থেকে এসব কোচ আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশী বিভাগের বিভাগীয় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মো. রবিউল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কোচগুলো দর্শনা থেকে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন হয়ে সরাসরি সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় নেওয়া হবে।

প্রথম চালানের ১৮টি কোচের মধ্যে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার কার, তিনটি এসি চেয়ার কার, দুটি এসি স্লিপার কেবিন এবং দুটি এসি পাওয়ার কার রয়েছে। এসব কোচে নন-এসি আসন ১০৪টি, এসি আসন ৮০টি এবং কেবিনে দিনে ৪৮টি ও রাতে ২৪টি আসন রয়েছে।

দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলস্টেশনে এ সময় প্রকল্প পরিচালক মো. জয়দুল ইসলাম, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী পাকশীর কমান্ড্যান্ট মো. রেজওয়ান উর রহমান, বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা হাছিনা খাতুন, বিভাগীয় প্রকৌশলী-১ গৌতম বিশ্বাস, সহকারী কমান্ড্যান্ট মো. ফিরোজ আহমেদ এবং ভারতীয় প্রতিনিধি মিরাজ ও আকরামসহ উভয় দেশের রেলওয়ে কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে আইএইএর সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আইএইএর সদর দপ্তরে সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসির সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ সহযোগিতা চাওয়া হয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। বৈঠকে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখায় আইএইএ মহাপরিচালককে ধন্যবাদ জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও আইএইএর পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক উল্লেখ করে বিজ্ঞানমন্ত্রী বলেন, ইউনিট-১-এ ফুয়েল লোডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। এতে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মাহবুব আনাম বলেন, পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারমাণবিক বর্জ্য ও স্পেন্ট ফুয়েল ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত যৌথ কনভেনশনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

বৈঠকে ‘রেজ অব হোপ: ক্যানসার কেয়ার ফর অল’ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আইএইএ মহাপরিচালক ও আইএইএ সচিবালয়ের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০২৫ সালে ‘রেজ অব হোপ’ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে এবং এই অংশীদারিত্বকে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর কর্মসূচিতে রূপ দিতে আইএইএর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। এর অন্যতম অগ্রাধিকার হলো একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ক্যানসার কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সহজলভ্য, সমন্বিত ও রোগীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় এবং টেকসই ক্যানসার চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আইএইএর কারিগরি সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ-রাশিয়া বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে বিজনেস কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মাসের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন। আজ বুধবার গুলশানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ কথা জানান। এফবিসিসিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে যৌথ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে মস্কো চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। একই সঙ্গে মস্কোতে ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত জানান, দুই দেশের উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগের জন্য মস্কোতে এই ফোরাম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উক্ত ফোরামে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের প্রোফাইলের ওপর ভিত্তি করে সরাসরি বিটুবি বৈঠকসহ বিভিন্ন সেশনের আয়োজন করা হবে।

এ ছাড়া দুই দেশের বাণিজ্য বাড়াতে তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক। এ সময় তিনি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিকপণ্য এবং রাশিয়ায় মানবসম্পদ রপ্তানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিষয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। এ ছাড়া রাশিয়ার তীব্র শীতের উপযোগী ভারী জুতো ও চামড়াজাত পণ্যেরও ভালো চাহিদা রয়েছে। কৃষি, মৎস্য ও জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং সেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা প্রদান করেছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রকল্পের কারিগরি ইস্যুগুলো দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে প্রায় চার হাজার রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী নিরলসভাবে কাজ করছেন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন বলেন, আগামী মাসের মধ্যে প্রথম ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলেছে।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করে যে, সরকার ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হবে।

পদ্মার চরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসনসহ চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সরকার সবসময় পাশে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল। তিনি বলেন, দেশের যেকোনো প্রান্তের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নাটোরের লালপুরের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবারের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা বিতরণকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। লালপুর উপজেলার নওশারা সুলতানপুরে ২১৪টি এবং দিয়াড় শংকরপুরে ১৮৬টি পরিবারের হাতে তিনি ৩০ কেজি করে চালসহ ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, চিড়া, মুড়ি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নগদ অর্থ তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হারুনার রশিদ পাপ্পু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. আব্দুস সালামসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

ত্রাণ বিতরণকালে বন্যার্তদের খোঁজখবর নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট—যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলার পূর্ণ সক্ষমতা সরকারের রয়েছে। চরাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের কোনো অপতৎপরতা সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, চরের মানুষের যাতায়াত সহজ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের পাশাপাশি চরাঞ্চলের অর্থনীতি গতিশীল করতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনটি বিল পাসের প্রতিবাদে সংসদের অধিবেশন বর্জন ও ওয়াকআউট বিরোধী দলের

নিজস্ব প্রতিবেদক: তিনটি বিল পাসের প্রতিবাদে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। অধিবেশন বর্জনের পর মুখে কালো কাপড় বেঁধে তারা সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যান।

রোববার রাত ৮টার দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন চলাকালে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ ও ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ পাসের বিরোধিতা করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। এর প্রতিবাদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দলটির সদস্যরা অধিবেশন ত্যাগ করে সংসদ ভবনের টানেলে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ৬ সেপ্টেম্বরকে সংসদের জন্য ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করে স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন বিরোধীদলীয় নেতারা। তাদের দাবি, এসব বিল পাসের মাধ্যমে জনগণের মানবাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ উপেক্ষিত হয়েছে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাওয়া হলেও স্পিকার তা না দিয়ে বিষয়টি নিয়ে মশকরা করেছেন, যা হতাশাজনক ও পক্ষপাতদুষ্ট। তার অভিযোগ, সরকারের দ্রুততার সঙ্গে উত্থাপিত গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত আইনে স্বাধীনভাবে তদন্তের কার্যকর সুযোগ রাখা হয়নি।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র নজিবুর রহমান ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’কে কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী বলে দাবি করেন। আইনমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসলামি বিধান সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় বিষয়টি সংসদে সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি।

স্পিকার নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন অভিযোগ করে নজিবুর রহমান বলেন, মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধসংক্রান্ত আইনকে দুর্বল করে পাস করা হয়েছে। এই ‘কালো আইন’ মানুষের অধিকার সংকুচিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে গুম ও হত্যার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। দীর্ঘ সময়ের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে সরকার আবারও আগের পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনার পথে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থাভাবে অনিশ্চিত ছিল মেডিকেল পড়া, ফাতেমার পাশে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: মেধার জোর থাকলেও অর্থাভাবে চীনের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল মোছা. ফাতেমা খানমের। তবে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার তমালতলা কাকফো গ্রামের এই শিক্ষার্থীর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল এবং প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের সহযোগিতায় ফাতেমার উচ্চশিক্ষার দুয়ার খুলল।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চায়না মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুসংবাদ পাওয়ার পর ভর্তি ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ বহনের সামর্থ্য না থাকায় চরম হতাশায় পড়ে ফাতেমার পরিবার। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে ফাতেমাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেন। পাশাপাশি তাঁর পড়াশোনা নিরবচ্ছিন্ন করতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ পাঠান তিনি। এর ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়।

২৭ আগস্ট, বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ফাতেমার কাছে অনুদানের অর্থ তুলে দেন। এতে অর্থের সংকট কাটিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার পথ সুগম হলো তাঁর।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এলাকার কোনো মেধা যেন অর্থাভাবে ঝরে না পড়ে, সেটিই লক্ষ্য। ফাতেমা অত্যন্ত মেধাবী, তাঁর পাশে দাঁড়াতে পেরে আনন্দিত। ভবিষ্যতেও তাঁর পড়াশোনায় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’ প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও মানবিক নেতৃত্বের কারণেই এমন উদ্যোগ সম্ভব হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মেধাবী শিক্ষার্থী ফাতেমা খানম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন।

নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল পান ২৫৫ ভোট এবং অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

সিইসি জানান, নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন, যার মধ্যে ৩৪৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। অব্যবহৃত ছিল ৬টি ব্যালট। নিয়ম মেনে ত্রুটিপূর্ণ ৪টি ব্যালট পুনর্স্থাপন করা হয়। ভোট গণনার আনুষ্ঠানিকতা শেষে সিইসি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

ফলাফল ঘোষণার পর নতুন রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বিরোধীদলীয় নেতাসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।

গোপন ব্যালট প্রক্রিয়ার এই নির্বাচনে এমপিরা নিজ নিজ আসনে বসে ব্যালটে স্বাক্ষর করে ভোট প্রদান করেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রথম ভোটটি দেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্য সংসদ সদস্যরা পর্যায়ক্রমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

আজ ১৫ আগস্ট, বঙ্গবন্ধু হত্যার ৫১ বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে সংঘটিত ইতিহাসের ঘৃণ্য ও নৃশংসতম সেই হত্যাকাণ্ডের ৫১ বছর আজ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়াও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল; পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল; শেখ মুজিবুর রহমানের একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তাঁর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়।

১৫ আগস্টের সেই রাতে সেনাসদস্যদের আরেকটি দল শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগনে তৎকালীন যুবলীগের নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাঁকে ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করে তাঁকে ও তাঁর কন্যা বেবি, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় আবদুল নঈম খানকে হত্যা করা হয়।

ওই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। ১৫ আগস্টের সেই হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর হত্যাকারীদের বিচার শুরু হয়। একই সঙ্গে ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস এবং এই দিনে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।

১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পরে উচ্চ আদালত ১২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এখন পর্যন্ত ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একজন বিদেশে মারা গেছেন। পাঁচজন এখনো পলাতক।

২০০৯ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এ দফায় টানা প্রায় সাড়ে ১৫ বছরের শাসনকালে আওয়ামী লীগ ১৫ আগস্ট এবং ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাকে ঘিরে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করত। ১৫ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তাঁর কবরে শ্রদ্ধা জানানোসহ নানা আয়োজন করা হতো।

২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে এখন আর সরকারি ছুটি নেই। গত বছর এই ছুটি বাতিল করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়। এর ছয় মাস পর দ্বিতীয়বার হামলা চালিয়ে বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়।

গত শতকের ষাটের দশকের শেষ দিকে দেশে সুপরিচিত অনেক রাজনীতিবিদ থাকলেও শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর নেতৃত্বগুণে অন্যদের ছাপিয়ে চলে আসেন সামনের কাতারে। জাতীয়তাবাদী রাজনীতিকে আদর্শিক ভিত্তি করে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রমনার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধুর ভাষণ যুদ্ধদিনে মুক্তিসেনাদের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। সেদিন সমবেত লাখো মানুষকে সামনে রেখে তিনি বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডাবল রেললাইন প্রকল্পে কাজ ধীরগতির, ব্যয় বাড়তে পারে ৮২ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগে গতি আনা এবং পণ্য পরিবহন সহজ করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে পরিকল্পনা গ্রহণের এক যুগ পার হলেও প্রকল্পটির দৃশ্যমান ভৌত অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। দীর্ঘসূত্রতার কারণে এখন প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৮২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) ১৪ হাজার ২৫০ কোটি ৬১ লাখ টাকার এই প্রকল্প অনুমোদন পায়। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা রয়েছে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এই প্রকল্পে খরচ হয়েছে মাত্র ৪০৮ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের খুব সামান্য অংশ।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের বাস্তবায়নে শুরু থেকেই গতি মেলেনি। প্রথমে চীন সরকারের অর্থায়নে এটি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও ২০২১ সালে তা বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এতে অর্থায়নে রাজি হয়। অর্থায়নের উৎস পরিবর্তনের কারণে নতুন করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও প্রকৌশল নকশার কাজ শুরু করতে হয়, যা প্রকল্পটিকে দীর্ঘ মেয়াদে স্থবির করে ফেলে।

চলতি বছরের ২৭ জুন জাইকার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চূড়ান্ত ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর অধীনে জাইকা ৬ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা (৯২ হাজার ৭৭ মিলিয়ন ইয়েন) দেবে। বর্তমানে জাইকার অধীনে বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে, যা ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মনিরুল ইসলাম ফিরোজী জানান, অর্থায়নের উৎস পরিবর্তনের কারণেই মূলত এই বিলম্ব। নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর মূল নির্মাণকাজ শুরু হবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান জানান, আগের প্রাক্কলনটি ছিল কয়েক বছর আগের দর অনুযায়ী। ইতোমধ্যে ডলারের দাম ও উপকরণের মান নির্ধারিত মানদণ্ডে পরিবর্তন এসেছে। বিস্তারিত নকশার পর নতুন বাজারদর অনুযায়ী সংশোধিত ডিপিপি (আরডিপিপি) তৈরি করা হবে।

জাপানি পরামর্শকদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ২৫ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা, যা মূল অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে ৮২ শতাংশ বেশি।

প্রকল্পের আওতায় ১৬২ কিলোমিটার মূল রেললাইন, প্রায় ২৫ কিলোমিটার লুপ লাইন এবং ১১ কিলোমিটারের বেশি বিদ্যমান লাইন পুনর্নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৬৬টি বড় সেতু, ১৩৮টি ছোট সেতু ও ৩টি রোড ওভারব্রিজ তৈরি করা হবে। একটি নতুন স্টেশন নির্মাণসহ মোট ৪২টি স্টেশনের আধুনিকায়ন ও সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ৭১৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ, ২,৯৯১টি পরিবার পুনর্বাসন এবং প্রায় ৭৫ হাজার গাছ কাটার প্রয়োজন হবে। তবে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ব্যাপকভাবে বিকল্প বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বর্তমানে জয়দেবপুর-ঈশ্বরদী একক (সিঙ্গেল) লাইনে দিনে ২৫টি ট্রেন চালানোর সক্ষমতা থাকলেও বাধ্য হয়ে ৩৬টি ট্রেন চালাতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে। প্রকল্পটি শেষ হলে দৈনিক ৫৬টি ট্রেন চালানো সম্ভব হবে এবং ঢাকা থেকে ভ্রমণের সময় ৬ ঘণ্টা থেকে কমে প্রায় ৪ ঘণ্টায় নামবে। পাশাপাশি যমুনা রেলসেতুর পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহারের জন্যও এই রুটটি অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, “এই করিডোরটি বর্তমানে একটি বড় ‘বটলনেক’ বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রেখেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কনটেইনার পরিবহন সহজ হবে এবং রেলের রাজস্ব বাড়বে। কিন্তু সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারলে ব্যয় আরও বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।”

তিনি আরও মনে করেন, শুধুমাত্র অর্থায়ন বদল নয়—পরিকল্পনার ত্রুটি এবং বড় প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবলের অভাবও এই দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম কারণ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণকাজ শেষ করাই এখন রেলওয়ের মূল চ্যালেঞ্জ।

৫ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা


নিজস্ব প্রতিবেদক: সক্রিয় মৌসুমি বায়ু ও উজানের ভারী বর্ষণে দেশের উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বর্তমানে ৫টি প্রধান নদীর ৯টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থার নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, দেশের সাঙ্গু, মাতামুহুরী, কুশিয়ারা, মনু ও খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্টে পানি যথাক্রমে ৯৫ ও ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। মাতামুহুরী নদীর লামা ও চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৪৭ ও ৩২ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারার মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১৮ ও ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদীর মনু রেলওয়ে ব্রিজ ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৩৫ ও ৮০ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদীর বল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।

এ ছাড়া আরও ৫টি নদীর ৯টি স্টেশন সতর্ক সীমায় পৌঁছেছে। এগুলো হলো—তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর; কুশিয়ারার শেরপুর; সুরমা নদীর কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ; সোমেশ্বরীর কলমাকান্দা এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ পয়েন্ট।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে দেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, তাদের পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি পরিমাপক স্টেশনের মধ্যে ৭৯টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, কমেছে ৪৩টিতে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫টি স্টেশনের পানি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঈশ্বরদীর নাজমুল


নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএসএ) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন পাবনার ঈশ্বরদীর সন্তান নাজমুল হাসান।

নাজমুল হাসান বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বুধবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নাজমুল হাসান। 

প্রতিক্রিয়ায় নাজমুল হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ। সংগঠনের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করব। সহকর্মীদের কল্যাণ, তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যেতে চাই। এ জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।’

তুরস্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মেগাসানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাত, চিকিৎসাসামগ্রী তৈরি এবং এই শিল্পে যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে।

সোমবার দুপুরে ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের সৌজন্যে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজ সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। ঢাকায় তুর্কি দূতাবাসে আয়োজিত এই সভায় অংশ নেন মেগাসান মেডিকেল ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী নাজমুল হাসান।

সৌহার্দ্যপূর্ণ এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও মজবুত করার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো, আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী তৈরি এবং তুরস্ক থেকে বাংলাদেশে প্রযুক্তি স্থানান্তরের ওপর বিশেষ জোর দেন।

অনুষ্ঠানে মেগাসান বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূত রামিস শেনের হাতে একটি সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রকৌশলী নাজমুল হাসান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মেগাসান তুরস্কের চেয়ারম্যান আরিফ সিলেকতিন, পরিচালক ইউনুস সিলেকতিন এবং ঢাকায় তুর্কি দূতাবাসের বাণিজ্য শাখার (কমার্শিয়াল উইং) কর্মকর্তা বিলাল বেলার।

দেশের ৫ জেলায় বন্যার সতর্কতা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী এক সপ্তাহ দেশের পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

রোববার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সরদার উদয় রায়হান স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ১২ জুলাই অথবা এর কাছাকাছি সময়ে সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের মেঘালয়, আসাম, বরাক অববাহিকা, ত্রিপুরা ও মিয়ানমারের পার্বত্য ও উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় ১০০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার বা তারও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত একটি মৌসুমি নিম্নচাপ দেশের পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়াতে পারে।

বিশেষ বার্তায় জানানো হয়েছে, ৫ থেকে ১০ জুলাই গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কিছু এলাকায় বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি কিছু স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। আগামী দুই দিন এসব নদীর পানি কমতে পারে। তবে ৮ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে আবারও পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রাশিয়ার সরকারি বৃত্তি বেড়ে ২০০

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রাশিয়া সরকারের বৃত্তির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৮ সালে যেখানে বৃত্তির সংখ্যা ছিল ৬৫, ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০-এ।

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার রাশিয়ান হাউসে আয়োজিত অর্ধবার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আলেক্সান্দ্রা খলেনভয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। এর ফলে আরও বেশি মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন। ২০১৮ সালে বৃত্তির সংখ্যা ছিল ৬৫, যা ২০২৬ সালে বেড়ে ২০০ হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রুশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক যুব কর্মসূচি, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। এ সময় সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম (এসপিআইইএফ) ২০২৬-এ অংশ নেওয়া বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘নিউ জেনারেশন’ কর্মসূচির আওতায় ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল, ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম এবং ‘চিলড্রেন ফর পিস’ আন্তর্জাতিক সম্মেলনসহ বিভিন্ন আয়োজনে বাংলাদেশি তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সাংবাদিকদের জন্য ‘ইন্টাররাশিয়া ফেলোশিপ ফর জার্নালিস্টস’ এবং ‘ওপেন ডায়ালগ’ কর্মসূচির সুযোগ নিয়েও আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসের অ্যাটাশে ও প্রেস সেক্রেটারি সোফিয়া কুতেপোভাও বক্তব্য দেন।

খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন রাষ্ট্রপতি

বাসস, ঢাকা: খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

আজ শনিবার রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘গণতন্ত্র উত্তরণের এই সন্ধিক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। মহান আল্লাহর নিকট তাঁর সুস্থতা এবং একইসাথে দেশবাসীর কাছে তাঁর জন্য দোয়া প্রার্থনা করি।’

এ ছাড়া রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরে তিনি গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেন।

জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে আপিল বিভাগের নির্দেশ


নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।

তবে দলটির প্রতীক দাঁড়িপাল্লার বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি আদালত। আপিল বিভাগ প্রতীকের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।

রোববার সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় বাতিল করে দেশের সর্ব্বোচ আদালত এ রায় দেন।

আদালতে জামায়াতের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন, ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম।

আদালতে জামায়াত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মোবারক হোসেন, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির মো. সেলিম উদ্দিনসহ অনেকে।

এর আগে গত ১৪ মে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পেতে আপিলের শুনানি শেষ হয়। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য ১ জুন দিন ধার্য করা হয়।

গত ১২ মার্চ রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে আপিল শুনানি শুরু হয়। গত বছরের ২২ অক্টোবর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করে দেন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগ। এর ফলে নিবন্ধন ও দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ফিরে জামায়াতের আইনি লড়াই করার পথ খুলে যায়।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান এ. সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড আলী আজম।

গত ১ সেপ্টেম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত করার আবেদনের শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করা হয়। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত এ দিন ধার্য করেন। আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খারিজ হওয়া আপিলটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

এক রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এরপর ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তীতে হাইকোর্টে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াতে ইসলামী। তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানিতে জামায়াতের মূল আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় গত বছরের নভেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগ ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ বলে আপিল খারিজের আদেশ দেন। ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল থাকে।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে গত ১ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে শেখ হাসিনার সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারায় জামায়াত, ছাত্রশিবিরসহ তাদের অন্যান্য অঙ্গসংগঠনকে নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে গত ২৮ আগস্ট জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রান্তিক কৃষকদের পাশে সাউথইস্ট ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক। কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, যন্ত্রপাতি কেনা ও কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা করতে বিভিন্ন এলাকার ২৫৭ জন কৃষকের হাতে এই সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।

সম্প্রতি রাজধানীর সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) আবিদুর রহমান চৌধুরী, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিউ এরা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে এই সহায়তার অর্থ তুলে দেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন নিউ এরা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মো. শফিকুল ইসলাম ও পরিচালক মোস্তাক আহমেদ কিরণ। সাউথইস্ট ব্যাংকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল আমিন, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. মুশফিকুর রহমান এবং ঈশ্বরদী শাখার ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী কর্মকর্তা আদনানুর রাফি।

অনুষ্ঠানের সার্বিক সমন্বয় করেন ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) বিভাগের সহকারী সহ-সভাপতি রবিউল আলম।

সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ঐকমত্য কমিশনের দুই সদস্যের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই তাগিদ দেন। 

শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ এবং সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে প্রফেসর আলী রীয়াজ ও ড. বদিউল আলম মজুমদার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। তারা জানান, বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা চলমান রয়েছে। শনিবার পর্যন্ত মোট ৮টি দলের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করা আছে।

তারা আরও জানান, সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে জনমত যাচাই এবং সে বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ সময় কমিশনের সভাপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা তথা সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন