অগ্নিকাণ্ড লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অগ্নিকাণ্ড লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অস্থায়ী ভবনে আগুন: ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেইজে একটি অস্থায়ী ভবনে গত সোমবার মধ্যরাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের স্থানটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনার বাইরে হওয়ায় এর প্রভাব পড়েনি প্রকল্পের মূল নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট সৈকত আহমেদ। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডে অস্থায়ী ভবনের দুটি কক্ষের অফিস আসবাবপত্র, নথিপত্র, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও যোগাযোগসংক্রান্ত কিছু সরঞ্জাম আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত নথিপত্রের প্রয়োজনীয় ব্যাকআপ কপি প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত থাকায় তথ্য সংরক্ষণ বা কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে প্রকল্পের নির্ধারিত অগ্নিনিরাপত্তা পদ্ধতি অনুসরণ করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। তদন্ত শেষে কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। নির্ধারিত অগ্নিনিরাপত্তা পদ্ধতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় হিসেবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ইতিমধ্যে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনাসমূহের বাইরে থাকা একটি অস্থায়ী ভবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেইজে আগুন: মূল কার্যক্রমে প্রভাব পড়েনি দাবি কর্তৃপক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাইওনিয়ার বেইজে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েকের) জিসিভি সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে কম্পিউটার, এসি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, কাগজপত্র ও ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে।

রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে বায়েকের পাইওনিয়ার বেইজে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে ঘটনাটি মঙ্গলবার বিকেলে প্রকাশ্যে আসে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বুধবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের দুটি কক্ষে মেরামতের কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া ও আগুন আশপাশের কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডের পর পাইওনিয়ার বেইজসহ বায়েকের আশপাশের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কাস্টমস বিল্ডিং ও ক্যান্টিনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

অগ্নিকাণ্ডের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গতকাল বুধবার দুপুরে প্রকল্পের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, পাইওনিয়ার বেইজ রূপপুর প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের অংশ নয়; এটি প্রকল্পের একটি সহায়ক অংশ। ফলে অগ্নিকাণ্ডের কারণে মূল প্রকল্পের কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি এবং সার্বিক কাজ স্বাভাবিক রয়েছে।

ওই সূত্র আরও জানায়, মূল প্রকল্প এলাকায় বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে পাইওনিয়ার বেইজে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা প্রকল্পের দৃষ্টিকোণ থেকে তেমন বড় কিছু নয়। শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অফিসের দুটি কক্ষে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

তবে গভীর রাতে পাইওনিয়ার বেইজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি কোনো নাশকতা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। সূত্রটি জানায়, ডিজিটাল সিস্টেমে ফাইলের ব্যাকআপ কপি সংরক্ষিত থাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিটি ফাইল অক্ষত রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকেই রূপপুর প্রকল্পের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থান করছেন।

পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী বলেন, গভীর রাতে আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রকল্প এলাকায় ছুটে যান। ঈশ্বরদীর চারটি ইউনিট দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

রূপপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবু হাশেম বলেন, প্রকল্পের ভেতরে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। যে দুটি কক্ষে আগুন লেগেছিল, সেগুলো মূল প্রকল্পের রেডিয়েশন এরিয়ার বাইরে অবস্থিত। ভবনটি মূলত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের একটি অস্থায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তিনি আরও জানান, ওই ভবনে প্রায় ২০টি কক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে বায়েকের অফিসের বিভিন্ন কম্পিউটার, এসি, কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

রূপপুর প্রকল্পে বায়েকের অফিসে গভীর রাতে আগুন, পুড়ে গেছে সার্ভার রুম ও সরঞ্জাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বায়েক) অফিসে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বায়েকের সার্ভার রুমসহ আশপাশের কয়েকটি কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগুনে পুড়ে গেছে কম্পিউটার, এসি, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।

রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে মঙ্গলবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের পর বায়েকের দুটি ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঘটনার প্রায় ৪০ ঘণ্টা পরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

সূত্রমতে, বায়েকের সার্ভার রুমে আগুন লাগার পর মুহূর্তেই তা আশপাশের কয়েকটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রূপপুর গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের ভেতরে আগুন লাগার খবর পেয়ে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। আগুনে বায়েকের বিভিন্ন কম্পিউটার, এসি, কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ইন্টারনেট সার্ভারের যন্ত্রাংশ পুড়ে গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

পাবনা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সাদেকুল বারী বলেন, গভীর রাতে আগুনের খবর পেয়ে তিনি ও প্রকল্প পরিচালক তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে ছুটে যান। ঈশ্বরদীর চারটি ইউনিট আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে; তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঈশ্বরদীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নারীর মৃত্যু

ঈশ্বরদীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় এক নারী নিহত হয়েছেন এবং ১২টি ছাগল দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। 

বুধবার  দুপুর বারোটার দিকে সাঁড়া ইউনিয়নের আসনা গ্রামে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসনা গ্রামের আব্দুর রহমান কাজির বাড়িতে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তেই আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পরে ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস ও লালপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জিয়ারুল কাজি। আগুনে পুড়ে তার স্ত্রী হাজেরা বেগম (৩৫) মারা যান। এছাড়া তার পরিবারের ১২টি ছাগলও পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। নিহত হাজেরা তিন সন্তানের জননী ছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় হাজেরা বেগম তার শিশু সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু আগুনের ধোঁয়া ও তাপে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে রয়েছেন আব্দুর রহমান কাজি, তার দুই ছেলে রকিব কাজি ও রতন কাজি, মাহবুর কাজি, জিয়ারুল কাজি ও মাহবুব রহমান। 

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, এসব পরিবারের বাড়ির ছাউনি ও বেড়া টিনের হওয়ায় পুরো ঘরই পুড়ে গেছে। বাড়ির আসবাবপত্রসহ মূল্যবান মালামাল কিছুই অবশিষ্ট নেই।

ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস ইনচার্জ মীর আমিরুল ইসলাম জানান, ‘আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা যাবে।

শাহজাদপুরে আবাসিক হোটেলে আগুন, চারজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর শাহজাদপুরে সৌদিয়া নামে একটি আবাসিক হোটেলে আগুন লাগার পর সেখান থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। নিহত চারজনই পুরুষ। প্রাথমিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। 

সোমবার দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটের দিকে আগুন লাগার সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। 

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম বলেন, দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটের দিকে আমাদের কাছে সংবাদ আসে শাহজাদপুরে সৌদিয়া হোটেলে আগুন লেগেছে। আমরা সেখানে দুটি ইউনিট পাঠাই। তারা আধা ঘণ্টা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি আরও বলেন, হোটেল ভবনটি ছয়তলা, আগুন লাগে দুই তলায়। পরে উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর আমাদের তল্লাশি দল হোটেলের ভেতরে চারজনের মরদেহ পায়। সব মরদেহ পাওয়া যায় ৬ষ্ঠ তলায়। সেখানে শৌচাগারের ভেতরে তিনটি সিঁড়ির গোড়ায় মরদেহগুলো পাওয়া যায়। সিঁড়ির দরজায় তালা মারা ছিল। নিহতরা সবাই পুরুষ। প্রাথমিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

ভোটের আগের রাতে ১২ ঘণ্টায় ১৫ স্থানে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগের রাতে সারাদেশে ১৫টি আগুনের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডের এসব ঘটনায় ১০টি যানবাহন ও ৭টি স্থাপনা পুড়ে গেছে।

৭ জানুয়ারি রোববার ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শনিবার ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৫টি আগুনের সংবাদ পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২টি, চট্টগ্রামে ৩টি, সিলেটে ১টি, ময়মনসিংহে ৩টি,  খুলনায় ১টি, বরিশালে ৪টি ও রংপুরে ১টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

এসব ঘটনায় ৩টি বাস, ১টি ট্রাক, ৩টি কাভার্ড ভ্যান, ২টি মোটরসাইকেল, ১টি প্রাইভেটকার, ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১টি নির্বাচনী ক্যাম্প, কমিশনারের অফিস ও ১টি নৌকা পুড়ে যায়। 

এসব অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর ৩০টি ইউনিট ও ১৫০ জন জনবল কাজ করে। 

ফায়ার সার্ভিস জানায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বিসিকের বাদামতলীতে ১টি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এরপর ময়মনসিংহ সদরের নতুন বাজারে ১টি প্রাইভেট কারে, হবিগঞ্জে ২টি মোটরসাইকেল, নেত্রকোনায় ১টি কাভার্ড ভ্যান, মুন্সিগঞ্জে রাস্তার পাশে নৌকা, পিরোজপুর সদরে ১টি ট্রাক, ফেনী সদরে ২টি কাভার্ড ভ্যান, বরিশাল সদরে ২টি বাসে আগুন দেওয়া হয়।

এছাড়া ময়মনসিংহ, খুলনা ও লালমনিরহাটের ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলসকাঠীর বাকেরগঞ্জে নির্বাচনী ক্যাম্প, ফেনী সদরে কমিশনার অফিসে, কিশোরগঞ্জে স্কুলের একটি রুমে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহে দুই ভোটকেন্দ্রে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের নান্দাইল ও গফরগাঁও উপজেলার দুইটি ভোটকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটনা ঘটেছে। ৬ জানুয়ারি শনিবার ভোর ৪টার দিকে গফরগাঁও ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পরশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও সকাল ৯টার দিকে নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় দুর্বৃত্তরা।

গফরগাঁও উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ভোর ৪টার দিকে পরশীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে তেমন ক্ষতি হয়নি, কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করার মতো পরিস্থিতি আছে।

নান্দাইল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মজিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আজ সকাল ৯টার দিকে নান্দাইল সিংরইল ইউনিয়নের হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে অগ্নিকাণ্ডে কেন্দ্রের তেমন ক্ষতি হয়নি।

এ ব্যাপারে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, কারা আগুন দিয়েছে তা চিহ্নিত হয়েছে। ইতোমধ্যে একজনকে আটকও করা হয়েছে।

ওইসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে সমস্যা হবে না বলেও জানান জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী।

পৌরসভার গ্যারেজে পুড়ল মেয়রের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সসহ ১১টি যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরের সিংড়া পৌরসভার গ্যারেজে রাখা মেয়রের ব্যবহৃত গাড়ি, ২টি অ্যাম্বুলেন্সসহ ১১টি যানবাহন আগুনে পুড়ে গেছে। ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ২ ঘণ্টার চেষ্টার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সিংড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ৪ ডিসেম্বর সোমবার রাতে মেয়রের ব্যবহৃত গাড়ি, দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও ‘চলো’ প্রকল্পের ৮টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গ্যারেজে রাখা ছিল। আজ ভোর ৪টার দিকে হঠাৎ গ্যারেজে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। আশপাশের বাড়ির লোকজন বিকট শব্দ পেয়ে বাহিরে এসে দেখেন গ্যারেজে আগুন জলছে। পরে তারা দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশে ফোন দেন। এ সময় গ্যারেজের একজন নৈশপ্রহরী আগুনে আহত হন। তিনি সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে গ্যারেজে থাকা সব গাড়ি পুড়ে যায়।

খবর পেয়ে পৌরসভার মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সিংড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় দুই কোটি টাকার ওপরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সিংড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। এছাড়া এখন পর্যন্ত আগুন লাগার অন্য কোনো আলামত পাইনি।

স্বত্ব © ২০২৬ সংবাদ সাতদিন