তৃণমূল বিএনপি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
তৃণমূল বিএনপি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদানের আবেদন তৃণমূল বিএনপির


নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান এবং সেনা সদস্যদের ভোটকেন্দ্রে অবস্থানের নির্দেশনা জারির আবেদন জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) চিঠি দিয়েছে তৃণমূল বিএনপি। সেই সঙ্গে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে জানাতে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেছে দলটি।

২৫ ডিসেম্বর সোমবার তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী ড. তৈমুর আলম খন্দকারের সই করা চিঠিতে এ আবেদন জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ইতঃপূর্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হয়েছিল, যাদের দায়িত্ব ছিল মাত্র স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সেনাবাহিনী শুধুমাত্র স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে টহলরত ছিল এবং ভোটকেন্দ্রে অবস্থান নেয়নি। ফলে ভোটকেন্দ্রের ভেতরের জালিয়াতি এবং জোরপূর্বক ভোট ছিনিয়ে নেওয়াসহ কেন্দ্র দখলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সেনাবাহিনী কোনো আইনগত অধিকার পায়নি।

এমতাবস্থায় সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদানসহ ভোটকেন্দ্রে অবস্থানের নির্দেশিকা জারি হওয়া আবশ্যক বলেও দাবি করে তৃণমূল বিএনপি।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল গত ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর, মনোনয়ন আপিল ও নিষ্পত্তি ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ছিল ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ হবে ১৮ ডিসেম্বর এবং নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ১৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ তৃণমূল বিএনপির


নিজস্ব প্রতিবেদক: সারা দেশে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থীদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং বিভিন্ন আসনে পোস্টার লাগাতে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান সালাম মাহমুদ।

২৪ ডিসেম্বর রোববার রাজধানীর পল্টনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সালাম মাহমুদ বলেন, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ১৩৭টি আসনে লড়ছে তৃণমূল বিএনপি। একজন প্রার্থী এখনো আপিলে আছেন, রায়ে জিতলে প্রার্থীর সংখ্যা ১৩৮ জনে দাঁড়াবে। আমরা সরকারের সঙ্গে কোনো প্রকার সমঝোতায় না গিয়ে নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছি।

তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপি মূল বিরোধী হিসেবে কাজ করছে। ফলে সরকার আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে নানারকম বাধা সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন আসনে আমাদের প্রার্থীদের পোস্টার লাগাতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি রাতের আঁধারে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। ফলে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার শঙ্কায় আছি। আমরা ইসির কাছে এর সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুখসানা আমিন সুরমা ও নির্বাচন মনিটরিং সেলের সদস্যবৃন্দ।

নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে আন্দোলন : তৈমুর আলম খন্দকার

নিজস্ব প্রতিবেদক:  আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বাইরে গিয়ে তৃতীয় শক্তি হিসেবে জনগণের কাছে পৌঁছাতে চায় তৃণমূল বিএনপি। সম্প্রতি রাজধানীর তোপখানা রোডে তৃণমূল বিএনপির অফিসে আলাপকালে দলটির মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘আমরা সরকারের সঙ্গে হাত মেলাব না। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামব।’

তার কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করছেন কি না, করলে কাদের সঙ্গে। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কোনো দলের জোট হয়নি। তবে, ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের সমন্বয়ে গঠিত প্রগতিশীল ইসলামী জোট আমাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে। তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে বেশকিছু আসনে আমরা প্রার্থী দিইনি।’

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। শেষ পর্যন্ত আপনারা নির্বাচনে থাকবেন কি না— জানতে চাইলে বিএনপির সাবেক এ নেতা বলেন, ‘আমরা নির্বাচন বয়কট করব না। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে লড়ে যাব। যে কোনো পরিস্থিতিতে মাঠে থাকব। মাঠে থাকার লোকই আমি। এখন যদি দেখি যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, তাহলে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামব।’

বিএনপি থেকে কতজন আপনাদের দলে যোগ দিয়েছেন— উত্তরে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘কে কোন দল থেকে এসেছে, সেই খবর আমরা রাখি না। শুধু বিএনপির নয়, বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের দলে লোক আসছেন। ফলে কারোই আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। আমাদের দলের আদর্শ মানলে যে কেউ যুক্ত হতে পারেন। আমরা কাউকে জিজ্ঞাসা করি না যে আপনি হিন্দু নাকি মুসলিম, আওয়ামী লীগ নাকি বিএনপির।’

অভিযোগ আছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আপনার বনিবনা না হওয়ায় তৃণমূল বিএনপিতে এসেছেন। এ প্রসঙ্গে কী বলবেন— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের সঙ্গে আমার বনিবনা হয়েছে কি হয়নি, তা আপনার ভালো জানেন। এটা নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না।’
সাধারণ জনগণের জানার ইচ্ছা, আপনাদের নির্বাচনি ইশতেহার কোনো চমক থাকছে কি না। উত্তরে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে কিছু জিনিস থাকবে, ডিসেন্ট্রালাইজড। এখন ইউনিয়ন পরিষদের মনোনয়নপত্রের জন্য ঢাকায় এসে বসে থাকতে হয়। ঢাকা থেকে নমিনেশন না দিলে নির্বাচন করা যায় না। আমরা এ সিস্টেম ভেঙে দিতে চাই। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা আমরা উন্মুক্ত করে দেব। সেখানে দলীয় প্রতীক থাকবে না। যারা দল করে না কিন্তু সমাজের ভালো মানুষ, তাদের সুযোগ দিতে হবে স্থানীয় নির্বাচনে। এ ধরনের কিছু পদক্ষেপ আমরা নেব।’
প্রার্থী হওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আপনার কথা হয়েছে— এমন একটি ভিডিওচিত্র সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। তাহলে কি সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচন করছেন— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি একটা দলের প্রতিনিধিত্ব করি। বিভিন্ন বিষয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হতেই পারে। তাই বলে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচন করছি, এটা বলা যাবে না। আমি নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচন করব। সেখানকার আওয়ামী লীগের লোকজনও এমপির পরিবার দ্বারা নির্যাতিত। তারাও চান আমি এ আসন থেকে নির্বাচন করি।’

নির্বাচনের পরে তৃণমূল বিএনপি কি বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকবে, নাকি সরকারের সঙ্গী হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, ‘এটা কেমন প্রশ্ন করলেন। সরকারের সঙ্গে থাকলে তো তাদের সঙ্গে থেকে নির্বাচন করতাম। আমরা তো সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচন করছি। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচনের পর কোথায় থাকব। তবে, সরকারের সঙ্গে হাত মেলাব না।’

কেন জনগণ তৃণমূল বিএনপিকে ভোট দেবে— উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি দুটি দলের কাছে ম্যানিপুলেট হয়ে আছে। মানুষ মনে করে, এ দেশে রাজনীতি করতে হলে দুটি দলের হাত ধরতে হবে। কিন্তু মানুষ এখন একটা তৃতীয় শক্তির উত্থান চায়। যাদের ক্লিন ইমেজ থাকবে। আশা করি, আমরা সেই তৃতীয় শক্তি হিসেবে জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারব।’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকার। ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র থেকে মেয়র পদে নির্বাচন করেন তিনি। কিন্তু আওয়ামী লীগদলীয় মেয়র পদপ্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর কাছে পরাজিত হন।

তৈমুর আলম খন্দকার বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়। বর্তমানে তিনি ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া তৃণমূল বিএনপির মহাসচিব। 

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন