সাকিব আল হাসান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাকিব আল হাসান লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মিরপুরে সাকিব-ভক্তদের সঙ্গে বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া

সাকিব-ভক্ত
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সাকিবের অবস্থানের কারণে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের কারণে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে দেশে আসতে পারেননি সাকিব আল হাসান। তবে এরপর থেকেই বিক্ষোভে মূখর হয়েছে সাকিব-ভক্তরা।

বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট ম্যাচের ঠিক একদিন আগে রবিবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম এলাকায় সাকিব আল হাসানের ফেরার পক্ষে সমর্থকর ও সাকিব-বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

এদিন সাকিবকে দেশে ফিরিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামানো এবং বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের পদত্যাগ নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন ‘সাকিবিয়ান’রা। কিন্তু সাকিব-বিরোধী একদল যুবক সেখানে গিয়ে তাদের বাধা দিলে দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এরপর সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

উল্লেখ্য, ভারত সফর চলাকালে সংবাদ সম্মেলন করে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা জানিয়ে দেন সাকিব। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, সরকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে দেশে ফিরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে চান তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে জরিমানার মুখেও পড়তে হয়েছে এই অলরাউন্ডারকে। ফলে তার দেশে ফেরা নিয়ে জটিলতা ছিলই।

এরপর গত রবিবার সাকিবকে দেশে ফেরাতে সবরকম নিরাপত্তা দেওয়ার কথা জানান ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া। এমনকি বুধবার মিরপুর টেস্টের জন্য তাকে নিয়েই স্কোয়াড ঘোষণা করে বিসিবি।

কিন্তু পরের দিনই ঘটনা বিপরীত দিকে মোড় নেয়। ১৭ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারের অবসান করতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশের পথে ছিলেন সাকিব। মাঝে দুবাইয়ে তার যাত্রাবিরতির সময় বদলে যায় দৃশ্যপট।

সেখান থেকে সাকিব নিজেই জানান, আপাতত দেশে ফেরা হচ্ছে না তার। নিরাপত্তার কথা ভেবেই সংশ্লিষ্টরা তাকে এমন পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

ফলে নিজ ভূমি থেকে টেস্টে বিদায় নেওয়া আর হয়ে উঠল না দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটারের। ভারতের বিপক্ষে কানপুরে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিই ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট হয়ে থাকল সাকিবের।

দেশে ফিরছেন না সাকিব


সাকিব
সাকিব আল হাসান

টেস্ট ম্যাচ খেলতে ঢাকায় ফিরছেন না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

এর আগে তার শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলতে ঢাকায় আসবেন বলে জানালেও ছাত্র আন্দোলনে তার ভূমিকার জন্য জনরোষের আশঙ্কায় তিনি আসছেন না বলে জানান।

এর ফলে কানপুরে অনুষ্ঠিত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সিরিজের টেস্টটিই ছিল সাকিবের ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট।

কানপুরে সেই ম্যাচের আগে সাকিব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘতম ফরম্যাট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। ঢাকায় দেশের দর্শকদের সামনে তার শেষ টেস্ট খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু সেই ইচ্ছে অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।

দুবাই থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রানজিট স্টপেজে থাকা সাকিব নিজের পরিকল্পনা পরিবর্তনের কথা জানান।

তিনি বলেন, 'আমার দেশে ফেরার কথা ছিল, কিন্তু এখন নিরাপত্তাজনিত কারণে, নিজের নিরাপত্তার কারণে আমি হয়তো তা করতে পারব না।

এটা স্পষ্ট যে, সাকিবের দেশে ফেরা নিয়ে চলমান বিক্ষোভের কারণে তার পরিকল্পনা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করেন একদল শিক্ষার্থী। আরেক দল সাকিবকে স্টেডিয়ামে ঢুকতে না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিসিবিকে চিঠি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সাকিবের নীরবতার কারণেই শিক্ষার্থীদের এই প্রতিরোধ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন পতনের আগে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করেছিল এবং শেষ পর্যন্ত কমপক্ষে ১০০০ জনকে হত্যা করেছিল।

বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সেলিব্রেটি ক্রিকেটার হওয়া সত্ত্বেও সাকিব আন্দোলনের সময় নীরব ছিলেন। এর কারণে আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তারা আশা করেছিলেন, সাকিব তাদের পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য সাকিব আন্দোলন চলাকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের হাসিখুশি ছবি পোস্ট করেন, যা তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উসকে দেয়।

কানপুরে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার সময় সাকিব দেশে ফেরার পর নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। ঢাকায় অবস্থানকালে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বোর্ডের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কিন্তু বোর্ড ও ক্রীড়ামন্ত্রণালয় কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ সংগঠক আসিফ মাহমুদ।

পরে ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান, সাকিব দেশে ফিরলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন তারা। তবে সাকিবের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের প্রতিক্রিয়ায় সরকার তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে।

সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বুধবার রাতে নিশ্চিত করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সাকিবকে তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এ অবস্থা থেকে বোঝা যায়, সাকিবের টেস্ট ক্যারিয়ার এখন হয়তো অনানুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেছে।

বিক্ষোভের হুমকি সত্ত্বেও সাকিবের নিরাপত্তার আশ্বাস সরকারের

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে আগামী ২১ অক্টোবর থেকে মিরপুরে শুরু হতে যাওয়া শেষ টেস্ট খেলতে দেশে ফিরবেন তিনি।

তবে গত আগস্টে নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে সাকিবের সম্পৃক্ততার জন্য তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

সম্প্রতি, একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারী জুলাই ও আগস্টের আন্দোলনের সময় সাকিবের কর্মকাণ্ডের জন্য তার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রাফিতি প্রদর্শন করেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি আন্দোলনের সময় দেড় হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে।

মিরপুরের ক্রিকেট স্টেডিয়াম এলাকায় সাকিবের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে দেয়াল লিখনও করেছেন আন্দোলনকারীরা।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন, তারা চায় না সাকিব আবার বাংলাদেশের জার্সি গায়ে জড়ান। কারণ, তার সঙ্গে 'ফ্যাসিবাদী সরকারের'  সম্পৃক্ততা রয়েছে।

এদিকে সাকিবের দেশে ফিরে আসা কিংবা টেস্ট ম্যাচে অংশগ্রহণে কোনো বাধা দেখছেন না বলে জানিয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া।

রবিবার (১৩ অক্টোবর) গণমাধ্যেমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

 

ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘তিনি একজন ক্রিকেটার, তিনি খেলবেন এবং তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে কোনো বাধা দেখছি না। ক্রিকেট দলসহ প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা সেটা নিশ্চিত করব।’

মিরপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সাকিব ও বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার জার্সি পোড়ালে তিনি এ মন্তব্য করেন। দুজনই শেখ হাসিনা সরকারের সংসদ সদস্য ছিলেন।

আসিফ মাহমুদ এই ক্ষোভকে 'আবেগের বহিঃপ্রকাশ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

সাকিব ফ্যাসিবাদী সরকারের সদস্য ছিলেন উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, 'আমরা অনেক বড় আন্দোলনের পর এখানে এসেছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। তবে এখনও কিছু আবেগ জড়িত রয়েছে।’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাকিব আন্দোলনের সময় নিশ্চুপ থাকার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। বলেন, ‘নিজ শহর মাগুরার অগ্রগতির জন্য' তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং কেবল 'অল্প সময়ের জন্য' সংসদ সদস্য ছিলেন।


আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তার বিরুদ্ধে এবং সাকিবসহ তার দল আওয়ামী লীগের আরও অনেকের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে ক্রীড়া উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সাকিব জড়িত না থাকলে মামলার ফাইল থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হবে।

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা সাকিবের

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও মাঠের অফ-ফর্ম নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

বৃহস্পতিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কানপুরে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে অবসরের ঘোষণা দেন সাকিব।

তবে ঘরের মাঠে ২১ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলার কথা রয়েছে তার।

সাকিব বলেন, 'আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টিতে আমি শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছি, মিরপুর টেস্টে (দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে) খেলতে পারলে সেটি হবে আমার শেষ টেস্ট। মিরপুর থেকে টেস্টে বিদায় নেব।'

আর গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই ক্যারিয়ারের শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেন সাকিব।

ওয়ানডে ক্রিকেট নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী বছর পাকিস্তানে হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়ন ট্রফি পর্যন্ত খেলার ইচ্ছা রয়েছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সাকিব আল হাসানকে সতর্ক করল ইসি


নিজস্ব প্রতিবেদক: আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এবং বিএনএমের প্রার্থী এস এম নেওয়াজ মোর্শেদকে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন।

সম্প্রতি ইসির উপসচিব আতিয়ার রহমানের সই করা এক চিঠিতে তাদের সতর্ক করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, মাগুরা-১ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাকিব আল হাসান বিগত ২৯ নভেম্বর ঢাকা থেকে মাগুরায় আগমনের সময় কামারখালী এলাকা থেকে শোডাউন করে গাড়িবহর নিয়ে মাগুরা শহরে প্রবেশ করেন এবং নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগদান করায় জনগণের চলাচলের প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। এটি সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালার লঙ্ঘন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এমতাবস্থায় ভবিষ্যতে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন করার শর্তে আপনাকে পত্র মারফত সতর্ক করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

অপরদিকে খুলনা-৬ আসনের বিএনএম মনোনীত প্রার্থী এস এম নেওয়াজ মোর্শেদ শতাধিক মোটরবাইক ও সহস্রাধিক লোকজনসহ কয়রা বাজারে মিছিল ও শোডাউন করে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, এতে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

বাজে পারফরম্যান্সের ‘পুরস্কার’ পেলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা

স্পোর্টস ডেস্ক: আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল এবারের আইপিএলের দলবদলে বড় ভূমিকা রাখবে খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপ পারফর্ম্যান্স। শেষ পর্যন্ত সে কথারই সত্যতা দেখা গেল আইপিএল ট্রেডিংয়ের শেষ দিনে। বেশ কিছু বড় নামের ছিটকে পড়া দেখতে হয়েছে ট্রেডিংয়ের শেষদিনে। যে তালিকায় আছেন জশ হ্যাজেলউড, আদিল রাশিদ কিংবা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বড় কিছু নামও। 

গত আইপিএলে বাংলাদেশের তিন প্রতিনিধি ছিলেন সাকিব আল হাসান, লিটন কুমার দাস এবং মুস্তাফিজুর রহমান। এদের মধ্যে প্রথম দুজন ছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্স শিবিরে। আর মুস্তাফিজুর রহমান খেলেছিলেন দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে। বলে রাখা ভালো, এদের কেউই নিজেদের পারফর্ম্যান্স দিয়ে আলো ছড়াতে পারেননি।

সাকিব তো খেলতেই পারেননি গত আসরে। লিটন এক ম্যাচ সুযোগ পেলেও হাস্যকর ভুলে নিজের জায়গা হারিয়ে ফেলেছিলেন। আর দিল্লির দরবারে মুস্তাফিজুরের অবস্থাও ছিল বেশ নাজুক। দুই ম্যাচে ১১ এর বেশি ইকোনমিকে বল করে দিয়েছিলেন ৭৯ রান। আর উইকেট নিয়েছেন মোটে ১টি। দেশের ক্রিকেটে কাটারমাস্টারের কাঁটায় যে কেউ বিঁধছে না সেটারই উদাহরণ হয়ে ছিল গত আইপিএল।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবারের বিশ্বকাপের বাজে পারফর্ম্যান্স। বিশ্বকাপে দলীয় পারফর্ম খারাপ হলেও ইংল্যান্ডের রিস টপলিকে রেখে দিতে ভুল করেনি রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। একই দলে টিকে গিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। আবার ট্রাভিস হেডকে নিয়ে আলোচনা চলছে জোরেশোরে।

অন্যদিকে দল ভাল করেও আইপিএলে দল হারিয়েছেন লকি ফার্গুসন এবং টিম সাউদি। দুই ম্যাচে ভাল খেলে দাসুন শানাকাও ছিটকে গিয়েছেন নিজের ফ্র্যাঞ্চাইজ থেকে। তিন বাংলাদেশির বেলায় যে তাই বিশ্বকাপের পারফর্ম্যান্সও বড় ভূমিকা রেখেছে সেটা বলাই বাহুল্য।
আইপিএলে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে নিয়মিত মুখ ছিলেন সাকিব আল হাসান। এবারের বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে যিনি করেছেন মাত্র ১৮৬ রান। গড় ছিল মোটে ২৬.৫৭। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের ৮২ রান বাদ দিলে সেই গড় নেমে আসে ১৭.৩৩ এ। আবার বল হাতেও যে খুব বেশি ভাল সময় গিয়েছে, তাও না। ৭ ম্যাচে ৩৬ এর বেশি গড়ে নিয়েছেন ৯ উইকেট। এক ম্যাচে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হলেও সাকিবের পারফর্ম্যান্স ছিল না সাকিব-সুলভ। ফলাফল কলকাতার তালিকা থেকে বাদ।

বিশ্বকাপে লিটন দাসের উপরেও ছিল বড় রকমের আস্থা। তবে সেখানেও হতাশ করেছেন লিটন। বিশ্বকাপের আগে থেকেই অফফর্মে ছিলেন ড্যাশিং এই ওপেনার। ৯ ইনিংসে ২৮৪ রান করলেও বিশ্বক্রিকেটের অন্যান্য ওপেনারদের তুলনায় একেবারেই সাদামাটা ছিলেন লিটন। আগের আসরের বাজে পারফর্মের সঙ্গে এবারের বিশ্বকাপের ফর্মহীনতা। লিটনকে তাই আর বিবেচনায় রাখেনি শাহরুখ খানের দল। 

মুস্তাফিজুর রহমানের অবস্থা যেন আরও শোচনীয়। অনেকদিন ধরেই তিনি প্রদীপের নিভু আলো। কাটারমাস্টার বা ফিজ এখন শুধুই উপাধি হয়ে সঙ্গী দেয় তাকে। আদতে মুস্তাফিজের অবস্থান বেশ ভালোই নাজুক।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নিয়মিত বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বাজে পারফর্ম্যান্স তার। ৮ ম্যাচে ৩৯৮ রান দিয়ে নিয়েছেন মাত্র ৫ উইকেট। একেকটি উইকেট পেতে খরচ করেছেন ৭৯ এর বেশি রান। এমন পেসারকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই দল সাজাতে চায়নি দিল্লি ফ্র্যাঞ্চাইজি। বাদ পড়তে হয়েছে তাকেও।

ভারতীয় গণমাধ্যম এই অবস্থাকে দেখছে আইপিএলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ব্রাত্য অবস্থান হিসেবে। বাংলাদেশ নিজেও হয়ত জানে তার অবস্থান। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজে এবার টাইগার কোন ক্রিকেটারকে দেখতে পাওয়ার আশা এখন হয়ত বেশ অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনলেন সাকিব

নিজস্ব প্রতিবেদক:  দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে তিনটি আসনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। আসনগুলো হলো— ঢাকা-১০, মাগুরা-১ ও ২। 

১৮ নভেম্বর শনিবার ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সাকিব আল হাসানের পক্ষে স্বজনরা ফরমগুলো সংগ্রহ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সিদ্দিকী নাজমুল আলম।

এদিকে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ প্রথম দিনেই ১০৬৪টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সরাসরি ১০৫০ জন, আর অনলাইনে ১৪ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। 

তিনি জানান, প্রথম দিনে ঢাকা বিভাগে ২১৩টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৮টি, সিলেট বিভাগ ৫৫টি, ময়মনসিংহ বিভাগ ১০৫টি, বরিশাল বিভাগে ৭৫টি, খুলনা বিভাগে ১২৫টি, রংপুর বিভাগে ১০৯টি ও রাজশাহী বিভাগে ১৬৯টি দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে আওয়ামী লীগ। ফরম বিক্রি থেকে আয় হয়েছে ৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

১৮ নভেম্বর শনিবার সকালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলটির কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ফরম সংগ্রহ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য গোপালগঞ্জ-৩ আসনের মনোনয়ন ফরম কেনেন। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

বিশ্বকাপে বাজে পারফরম্যান্স : পাপন-সাকিবের পদত্যাগ চেয়ে আইনি নোটিশ

স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেট বিশ্বকাপের চলমান আসরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল বাজে পারফরম্যান্স করায় বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের পদত্যাগ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

১২ নভেম্বর রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খোন্দকার হাসান শাহরিয়ার তাদের এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে বলা হয়, মাঠের খেলার বাইরে এবারের বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসান টুর্নামেন্টের মাঝে দলকে ফেলে দেশে এসেছিলেন অনুশীলন করতে। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সময়ে খেলা চলাকালীন সময়ে বিজ্ঞাপনের শুটিং করে সমালোচিত হয়েছিলেন। যা কাম্য নয়। সাকিবের মতো একজন উঁচু মাপের খেলোয়াড়ের কাছে সমগ্র জাতি আরও পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে।

নোটিশে আরও বলা হয়, বর্তমান ক্রিকেট বিশ্বে এমন কোনো ক্রিকেট বোর্ড সম্ভবত খুঁজে পাওয়া যাবে না, যারা সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপ দল গড়েছিল তাদেরই দেশ সেরা ওপেনারকে দলের বাইরে রেখে। যে ওপেনারকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডেকে নিয়ে অবসর থেকে খেলায় ফিরিয়েছিলেন। বিশ্বকাপ শুরুর দুই মাস আগে নিয়মিত অধিনায়ক তামিম ইকবাল দলের দায়িত্ব ছাড়েন। সেই ঘটনায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বাংলাদেশ দলের বৃহত্তর স্বার্থে বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করে সময়োপযোগী কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। আবার ওপেনার লিটন দাসও ব্যক্তিগত কারণে (পুত্রসন্তানের জন্ম) দুইবার খেলা চলাকালীন সময়ে দেশে এসেছেন। পেশাদার দলে মানবিক কারণে একবার আসা মেনে নেওয়া যায়। তাই বলে একাধিকবার! ম্যাচ গুরুত্বহীন হলেও পেশাদার টিমে এমনটা চলতে পারে না। ম্যানেজমেন্টের এমন শিথিল মানসিকতা চূড়ান্ত পেশাদার সময়ে আরও বেমানান। অথচ এ ক্ষেত্রেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বোর্ড।

বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেছেন, 'হ্যাঁ আমরা অনেক আন্ডার প্রিপেয়ার্ড ছিলাম। এখন এসব অভিযোগ দিয়ে আসলে লাভ হবে না। তবে অবশ্যই প্রস্তুতি কম ছিল। তাহলে আইসিসি পুরুষ বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০২৩ এ সাফল্য পেতে জাতীয় দলে প্রধান কোচ, কোচিং স্টাফ, টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক কমিটি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কেন প্রস্তুতি সঠিকভাবে নিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি? ফলে আপনারা বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের ব্যর্থতার দায়ভার কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।

নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ কোচিং স্টাফ ও নির্বাচক কমিটি বাতিল করবেন। একইসঙ্গে আইসিসি পুরুষ বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০২৩ এ ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন। এছাড়াও উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে নিজস্ব কোচ তৈরি, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলো যে ধরনের উইকেটে হয় তার অন্তত কাছাকাছি মানের উইকেটে ঘরোয়া লিগে আয়োজন, স্কুল ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ও প্রশিক্ষণের আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে চলমান বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতার দায়ভার কাঁধে নিয়ে সমগ্র জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করবেন। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, হারের মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে টাইগারদের এবারের বিশ্বকাপ মিশন। রোববার সকাল ১০টায় ভারত থেকে দেশে পৌঁছেছে বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ৯ ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছে মাত্র দুটিতে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের টানা হার নিয়ে দেশজুড়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। এরই পরিপ্রেক্ষিতেই অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের পদত্যাগের দাবি জানান।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন