দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

পররাষ্ট্র, পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে বড় চমক

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন মন্ত্রিসভার শপথ শেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের শপথগ্রহণ শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন।

এই দায়িত্ব বণ্টনে অনেক চমক প্রত্যাশিত ছিল। তবে এর মধ্যে অর্থ, পরিকল্পনা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব বণ্টনে চমক দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা।

এর মধ্যে এবারের মন্ত্রিসভার নতুন মুখ সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুস সালামকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সামলাতে হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে। সদ্য বিদায়ী সরকারের তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদকে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে উপস্থাপনের দায়িত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রথমে প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। 

এরপর ২৫ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রজ্ঞাপন জারি করেন।

আবারও সংসদনেতা শেখ হাসিনা, উপনেতা মতিয়া চৌধুরী

 আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ছবি : ফোকাস বাংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন।  

বুধবার  আওয়ামী লীগের এমপিদের শপথ শেষে সংসদীয় দলের সভায় শেখ হাসিনাকে সংসদনেতা নির্বাচিত করা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদেরও নেতা ছিলেন শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তার নাম প্রস্তাব করেন এবং নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন ওই প্রস্তাবের সমর্থন জানান। পরে সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।

সংসদনিতা নির্বাচনের পাশাপাশি বৈঠকে সংসদ উপনেতাও নির্বাচিত করা হয়। একাদশে জাতীয় সংসদের উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরীকেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদের উপনেতা নির্বাচিত করা হয়।

এদিকে সংসদীয় দলের সভায় বর্তমান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আবারও স্পিকার হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়। শামসুল হক টুকুকে আবারও ডেপুটি স্পিকার করা হয়।

এছাড়া নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটনকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদে চিফ হুইপ হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। লিটন চৌধুরী আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সেক্রেটারি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পিকার, শামসুল হক টুকু ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংসদীয় দলের সভায় বর্তমান স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আবারও স্পিকার হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুকে আবারও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে সংসদনেতা নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

আজ বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের প্রথম লেভেলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংসদনেতা নির্বাচনের পাশাপাশি সংসদ উপনেতাও নির্বাচিত করা হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদের উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরীকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদেও উপনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে।

এছাড়া বর্তমান একাদশ সংসদে সরকারি দলের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটনকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদেও চিফ হুইপ হিসেবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। লিটন চৌধুরী আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সেক্রেটারি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

শপথ নিলেন আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা

 
নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। আজ বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবনের পূর্ব ব্লকের প্রথম লেভেলের শপথকক্ষে এ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শপথ বাক্য পাঠ করান।

এর মধ্য দিয়ে একাদশ সংসদ বিলুপ্ত এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হলো।

এর আগে সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শপথকক্ষে প্রবেশ করেন সকাল ১০টা ৮ মিনিটের দিকে। অবশ্য সকাল ১০টার আগেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিতে জাতীয় সংসদে উপস্থিত হন।

রোববারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা ২২২টি আসনে জয়লাভ করে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয় ৬২টি আসনে।

অপরদিকে, জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা ১১টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। আর বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ও বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির প্রার্থীরা একটি করে মোট তিনটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন।

শপথের রেওয়াজ অনুযায়ী, যেহেতু স্পিকার নিজেই জয় পেয়েছেন প্রথমে তিনি নিজেকে নিজে এবং পরে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সদস্যদের শপথ পাঠ করান।

নির্বাচনে সহিংসতার অভিযোগে ৯ আসনের ২১ কেন্দ্রে ভোট স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে দিনভর নানান অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগে সারাদেশের মোট ৯টি আসনের ২১টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২০ জনের বেশি ব্যক্তিকে সাজা দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। 

শনিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ভোট স্থগিত হওয়া কেন্দ্রগুলো হলো—

সুনামগঞ্জ-২ : মিরাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় (৭ নং কেন্দ্র), নোয়াগাও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৫৬ নং কেন্দ্র), শুকুরনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় (৭০ নং কেন্দ্র)।
কক্সবাজার-১ : চরনদীপ ভূমিহীন প্রাইমারি স্কুল (২৫ নং কেন্দ্র), দক্ষিণ ফুল ছুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৭৪ নং কেন্দ্র), মরংগুনা অসুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮০ নং কেন্দ্র)।

জামালপুর-৫ :  জাগির মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৭০ নং কেন্দ্র)।

নরসিংদি-৪ : ইব্রাহীমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (১৩৪ নং কেন্দ্র)।

নরসিংদী-৩ : দুলালপুর সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ( ৫ নং কেন্দ্র), ভিটিচিনাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ( ৮ নং কেন্দ্র)।

টাঙ্গাইল-২ : কাহেতা সরকারি প্রাথমিক স্কুল (১৬ নং কেন্দ্র)।

কুমিল্লা-৩ : ৭৬ নং গুর্গারাম (ডি.আর) পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (৭৬ নং কেন্দ্র), ধনিরামপুর ডিডিএসওয়াই উচ্চ বিদ্যালয় ( ৮১ নং কেন্দ্র)

কুমিল্লা-৪ : সূর্য্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮৪ নং কেন্দ্র)।

কুমিল্লা-১১ : ২৮ নং কেন্দ্র। বগৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (২৮ নং কেন্দ্র), গোবিন্দপুর সামছুল হুদা দাখিল মাদ্রাসা (৩৫ নং কেন্দ্র), ধনিজকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৩৮ নং কেন্দ্র),আমানগন্ডা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (৪৯ নং কেন্দ্র), হিংগুলা হাছানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় -১ (৭৪ নং কেন্দ্র), হিংগুলা হাছানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় -২ (৭৫ নং কেন্দ্র),বাতিসা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়-১ (৮৩ নং কেন্দ্র)।

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৮টি দল এবারের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। তবে দেশের বড় রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও এ নির্বাচন বয়কট করেছে বিএনপি। দলটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ একাধিক দাবিতে নির্বাচনে অংশ নেয়নি। 

এছাড়া নির্বাচনে ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, গণ ফোরাম, গণফ্রন্ট, জাকের পার্টি, জাতীয় পাটি, জাতীয় পার্টি-জেপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, তৃণমূল বিএনপি, ন্যাশনাল পিপলস পাটি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এম.এল) ও গণতন্ত্রী পার্টি প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।

ভোট গণনা শুরু হয়েছে, অপেক্ষা ফলের

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেষ হয়েছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ভোট গ্রহণ শেষে সারদেশে শুরু হয়েছে গণনার কাজ।

সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোট গ্রহণ করা হয়। নওগাঁ-২ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়েছে। 

ভোটগ্রহণ চলাকালে যশোর, লালমনিরহাট, বগুড়া, রাজধানীর হাজারীবাগসহ কিছু জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম, জামালপুর, ফরিদপুরসহ আরও কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২২ জন।

এদিকে ময়মনসিংহ-১০ আসনে প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারা ও ভোটারদের নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগে প্রিসাইডিং অফিসারসহ তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরে তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। একই অভিযোগে রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনের হাঁড়িভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মুহাম্মদ ফরিদ সেখকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

রোববার বিকেলে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানান, বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঢাকায় ২৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে ২৭ শতাংশ, খুলনায় ৩২ শতাংশ, সিলেটে ২২ শতাংশ, ময়মনসিংহে ২৯ শতাংশ, রাজশাহীতে ২৬ শতাংশ, রংপুরে ২৬ শতাংশ ও বরিশালে ৩১ শতাংশ ভোট পড়েছে। আট বিভাগে গড়ে ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত (বিকেল ৩টা) ৭টি কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হয়েছে।

৪ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ১৮.৫ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টায় ১৮.৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. জাহাংগীর আলম।

রোববার দুপুরে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম বলেন, সকাল ৮টা দুপুর বেলা ১২টা পর্যন্ত বিভাগভিত্তিক ভোট পড়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সময়ে ঢাকা বিভাগে ১৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ২০ শতাংশ, সিলেটে ১৮ শতাংশ, বরিশালে ২২ শতাংশ, খুলনায় ২১ শতাংশ, রাজশাহীতে ১৭ শতাংশ, ময়মনসিংহে ২০ শতাংশ ভোট পড়েছে। সেই হিসেবে গড়ে ৮টি বিভাগে ১৮.৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জের নিহত হওয়ার ঘটনাটি ভোট কেন্দ্রের বাইরে। এটা ভোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের জানিয়েছি। তিনি মার্ডার কেইসের আসামি ছিলেন, তিনি এলাকায় গেছেন আর ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। প্রকৃত ঘটনা আমরা তদন্তের পর বলতে পারব।

জাহাংগীর আলম বলেন, এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে তিনটি ভোট কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হয়েছে। যার মধ্যে একটি নরসিংদী আর বাকি দুটি নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলায়।

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনের তথ্য জানানোর জন্য ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ইসি কোনো অ্যাপ তৈরি করেনি। ৬ বছর মেয়াদি এই অ্যাপের সার্বিক একটা খরচ ধরা হয়েছে, আর এখানে এ পর্যন্ত আমরা ৮ কোটি টাকা খরচ করেছি। অ্যাপটি বর্তমানে স্লো চলছে, হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছে। সারারাত আমাদের টিম কাজ করছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ, যুগ্ম সচিব আবদুল বাতেন, ফরহাদ আহমেদ খান।

এদিকে ইসি কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের ৩৭ স্থানে অনিয়মের ঘটনা (এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত) ঘটেছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অনিয়মের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে চট্টগ্রামের এক নারী চেয়ারম্যান রয়েছেন।

সংসদ নির্বাচনে আজ ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজকের নির্বাচনে এবার ভোটার সংখ্যা ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন পুরুষ আর ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন নারী ভোটার। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ৮৫২। সারা দেশে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ১০৩টি, আর ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১২টি।

সকাল থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। রোববার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ভোটদান। শীত উপেক্ষা করে সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। 

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সময় সংবাদের প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর পর পরই ভোটাররা কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতও বাড়তে থাকে। বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
 
ঝিনাইদহে ভোটদান পরিস্থিতি সরেজমিনে জানা গেছে, ঝিনাইদহের ৪টি সংসদীয় আসনে শান্তিপুর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সকাল ৮টায় জেলার ৬ উপজেলার ৫৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকে তীব্র শীত উপেক্ষা ভোট দিতে আসছেন নানা বয়সী নারী-পুরষ। তাছাড়া ভোটকেন্দ্রগুলোর বাইরেও যেন উৎসব চলছে। নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো ৪টি আসনের প্রতিটি কেন্দ্রেই বেলার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বাড়ছে। 

কিশোরগঞ্জেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সকাল ৮টায় জেলার ৬টি আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সরেজমিনে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা লাইন লক্ষ্য করা গেছে।
 
এদিকে সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মায়ের পর ভোট দেন মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন শেখ রেহানা ও তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি।
 
নওগাঁ-২ আসনের ভোট স্থগিত হওয়ায় আজ মোট ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে; যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
 
প্রসঙ্গত, দেশের  প্রায় ১২ কোটি ভোটার দেশের পরবর্তী শাসক নির্বাচন করবেন। বিএনপি ও সমমনাদের বর্জনের মধ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ২৮টি দল। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৫৩৪ জন আর স্বতন্ত্র ৪৩৬ জন।প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল গত ১৫ নভেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। সেই অনুযায়ী ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন, যা শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় শেষ হয়েছে।

পাবনা-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী গালিবের জনসভায় জনতার ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজ এলাকার ভোটকে ভালোবাসার ভোট বলে আখ্যায়িত করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী গালিবুর রহমান শরীফ। তিনি বলেছেন, আপনারা সাত তারিখে সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দেন এটা ভালোবাসার ভোট। আপনারা গালিবকে কতটা ভালোবাসেন দেখিয়ে দেন।

নির্বাচনের প্রচার প্রচারণার শেষের দিন বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনালে ‘নির্বাচনী জনসভায়’ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে। অন্যদিকে, অগ্নিসন্ত্রাসের মতো কাজই করে যাচ্ছে বিএনপি। ২০০১ সালে বিএনপি জোট ক্ষমতাই ছিল, তখন হাওয়া ভবন তৈরি করে হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করে লন্ডনে পাচার করা টাকা নিয়ে তারেক জিয়া লন্ডনে বসে আছে। আন্দোলন করবে, নেতাকর্মীর পাশে থাকবে এসব নাই।

প্রয়াত বাবা শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর আমলের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা বেঁচে থাকা অবস্থায় রাস্তা-ঘাট,স্কুলকলেজ,ব্রীজ-কালভাটসহ অধিকাংশ উন্নয়ন করে গেছেন। আপনারা সকলে আমার পাশে থাকলে আমার পিতার মতই আমি আপনাদের জন্য কাজ করতে চাই। আমাদের ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়ার কিছুই নাই। আমাদের মহান রাব্বুল আলামিন অনেক যোগ্যতা দিয়েই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আমি আমার বাবার মত কাজ করতে চাই, আল্লাহ্ যতদিন হায়াত দিয়েছে। আমি যেন আমার কাজের মধ্য দিয়ে তাঁর স্মৃতি, মানইজ্জত, এই শহরে তিনি যা রেখে গেছেন, সেটি যেন টিকে থাকে শত বছর ধরে, তাঁর সন্তান হিসেবে এটি চাওয়া’।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইছাহক মালিথার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিন্টু,  উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান মিন্টু, লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিস উর রহমান শরীফ, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রশীদুল্লাহ্, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার সৈয়দ আলী জিরু, মহিলা সম্পাদক মাহজেবিন শিরিন পিয়া , পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কাশেম গোলবার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা চান্না মণ্ডল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খাঁন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আতিয়া ফেরদৌস কাকলী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমাল ও উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময়।

বিকেল ৪টায় সভা শুরু কথা থাকলেও বেলা ১টার পর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল আর নির্বাচনী প্রতীক নৌকা নিয়ে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা ঢোলবাদ্য বাজিয়ে জনসভাস্থলে উপস্থিত হতে থাকে। বিকেল তিনটার মধ্যে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় বাস টার্মিনাল মাঠ। এরপরও আশেপাশের এলাকাগুলো থেকে জনতার ঢল জনসভাস্থলের দিকে আসতে থাকে।

ঈশ্বরদীতে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে মাঠে বঙ্গবন্ধু পরিষদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈশ্বরদীতে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ।পাবনা-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী গালিবুর রহমান শরীফের পক্ষে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেন সংগঠনের নেতারা।

বৃহস্পতিবার সকালে শহরের রেলগেট, হরিজন কলোনি ও ঈশ্বরদী বাজার এলাকায় ভোটারদের কাছে গিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন তারা। পাশাপাশি কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ায়ও আহ্বান জানান।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, আগামী ৭ জানুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসতে সহায়তা করবে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতাকর্মীরা। তারই ধারাবাহিকতায় গালিবুর রহমান শরীফের জয় করতে প্রচার প্রচারণা, পোস্টার লাগানো, ব্যানার, লিফটের বিতরণ, করছে। এছাড়াও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ পৌঁছে দিচ্ছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনা ও গালিবের সালাম পৌঁছে দিয়ে নৌকায় ভোট চাচ্ছে। 

বঙ্গবন্ধু পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক জালাল উদ্দীন তুহিনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ড. মো. কামরুজ্জামান, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ঈশ্বরদী উপজেলা কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক উদয় নাথ লাহেড়ী, সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারি স্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ আইনুল ইসলাম, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইমরুল কায়েস দারা, বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মতিয়ার রহমান চঞ্চল, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক মাসুদ রানা প্রমুখ।

ঈশ্বরদীতে নৌকার পক্ষে প্রচারে ডা. সাহেদ ইমরান

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ আসনে নৌকার প্রার্থী গালিবুর রহমান শরীফের পক্ষে ভোট চাইলেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ডা. সাহেদ ইমরান।

বুধবার সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে নৌকা প্রতীকে ভোট চান তিনি।

ডা. সাহেদ ইমরান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে নৌকার বিকল্প নেই। তাই উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হলে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় অন‌্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতা সংগ্রাম বিষয়ক সম্পাদক সাদ বিন কাদের চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের  কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপকমিটির সদস্য কামাল ওসমান ও প্রশান্ত কুমার দাশ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক মানব উন্নয়ন বিষয়ক উপসম্পাদক রোমান মিয়াসহ ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। 

নির্বাচন বানচাল করে কাউকে লাভবান হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে এবং আগামী ৭ জানুয়ারি আসন্ন সাধারণ নির্বাচন বানচাল করে কাউকে লাভবান হতে দেয়া হবে না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন-২০২৩ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে বলেন, ‘বাংলার মাটিতে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা ও নির্বাচন বানচাল করে কাউকে লাভবান হতে দেয়া হবে না।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে ও প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র বোন শেখ রেহানাও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

যারা আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার মতো জঘন্য হামলা চালানোর নির্দেশ দেয় এবং যারা সেই নির্দেশ পালন করে তাদের কঠোর সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি-জামায়াত চক্রের যাত্রীবাহী ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক মা তার ছোট সন্তানকে বাঁচাতে বুকে আঁকড়ে ধরে ছিলেন, সেভাবেই পুড়ে মারা গেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এই ধরনের দৃশ্য দেখতে চাই না।’

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে, বাস এবং ট্রেন ও অন্যান্য যানবাহনে আগুন দিয়ে লাভটা কী হবে? মানুষ হত্যা, রেললাইনের ফিশপ্লেট উপড়ে ফেলে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে জনগণের সম্পত্তির ক্ষতি করে তারা কী অর্জন করেছে? এটা কী ধরনের রাজনীতি, আমি জানি না।’

‘মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা মহাপাপ ও অন্যায়’ উল্লেখ করে বলেন, ‘এই অন্যায় আর সহ্য করা যায় না। কোনো ধর্মগুরু এটা মেনে নিতে পারেন না। মানবতার জন্য যীশু খ্রিস্ট তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানবতা ও মানবজাতির কল্যাণই সব ধর্মের মূল কথা।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সেই বিশ্বাস থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করছি।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এদেশের মাটি জাতি-ধর্ম-বর্ণ-পেশা নির্বিশেষে সবার। এখানে সবাই স্বাধীনভাবে বসবাস করবে। আমি সবার কল্যাণ ও উন্নয়ন কামনা করি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হওয়ায় সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকে।’

তিনি বলেন, “সব ধর্মের মানুষ তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অবাধে (দেশে) পালন করবে। ‘ধর্ম যার যার কিন্তু উৎসব সবার’।”

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিশ্ব মঞ্চে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। এ অঞ্চলের মানুষ হাজার বছর ধরে ধর্মীয় সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে আসছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ম নির্বিশেষে সকলেই রক্ত দিয়েছেন এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন।’

তিনি ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও ‘স্মার্ট সোনার বাংলাদেশে’ রূপান্তরিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘ইতোমধ্যে দেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।’

গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসন প্রসংগে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানবতা প্রচারের মহৎ উদ্দেশ্যে জীবন উৎসর্গকারী যিশু খ্রিস্টের জন্মস্থানে শিশু ও নারীদের হত্যা করা হচ্ছে। এটা খুবই দুঃখের বিষয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যখনই আমি সুযোগ পাচ্ছি, বারবার যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বড়দিন উপলক্ষ্যে দেশে ও বিদেশে অবস্থানকারি খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজনকে শুভেচ্ছা জানান। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান, আর্চবিশপ বেজয় নাইসেফরাস ডি’ক্রুজ, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি জুয়েল আরং এমপি, অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার এমপি, ধর্ম মন্ত্রণায়ের সচিব মো. এ হামিদ জমাদ্দার, বাংলাদেশ খ্রিস্টান লীগের সভাপতি ড্যানিয়েল নির্মল ডি. কস্তা এবং বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হেমন্ত আই কোরায়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও।

ঢাকার আর্চবিশপ আর্চডায়োসিস বেজয় নাইসেফরাস ডি’ক্রুজ এবং বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে বড়দিনের শুভেচ্ছা কার্ড তুলে দেন। অনুষ্ঠানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা বড়দিনের ক্যারোল এবং অন্যান্য দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।

শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিলে আবেদনের শুনানি ২ জানুয়ারি

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ২ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন চেম্বার আদালত। আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে ওই দিন শুনানি হবে।

বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ দিন ধার্য করেন।

আদালতে শামীম হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, অ্যাডভোকেট সাঈদ রাজা ও অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এ একে আজাদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান ও ব্যারিস্টার তানজীবুল আলম। 

এদিন শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল করতে চেম্বার আদালতে ফের আবেদন করেন ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ।

গত মঙ্গলবার শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল করে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন চেম্বার আদালত। একইসঙ্গে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দেন আদালত।

শামীম হকের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ আদেশ দেন।

আদালতে শামীম হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, অ্যাডভোকেট সাঈদ রাজা ও অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এ কে আজাদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী, ব্যারিস্টার তানজীবুল আলম। এ মামলায় অ্যামিক্যাস কিউরি হিসেবে আদালতে মতামত দেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম, মুরাদ রেজা ও অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।

তার আগে সোমবার শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন হাইকোর্ট। তার রিট খারিজ করে বিচারপতি মো. ইকবাল কবীর ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল বিভাগে আবেদন করেন তিনি।

এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর ফরিদপুর-৩ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে এই রায় দেয় ইসি। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন শামীম হক।

শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেছিলেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম (এ কে) আজাদ। তার আপিল মঞ্জুর করা করায় শামীম হকের প্রার্থিতা বাতিল হয়।

শামীম হক নেদারল্যান্ডসের নাগরিক—এমন অভিযোগ তুলে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে গত ৮ ডিসেম্বর আবেদন করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদ। আজাদের পক্ষে তার আইনজীবী মো. গোলাম কিবরিয়া ইসিতে আপিল আবেদন জমা দেন।

অন্যদিকে এ কে আজাদের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে শামীম হকের করা আপিল আবেদন নামঞ্জুর করে ইসি। ফলে একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ কে আজাদের প্রার্থিতা বহাল থাকছে। শামীম হক ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও এ কে আজাদ জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য।

এদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সোমবার। প্রতীক পেয়েই প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ৭ জানুয়ারি হবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু গালিবের

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা- ৪ আসনে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই প্রচারণা শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী গালিবুর রহমান শরীফ। 

সোমবার সকালে ঈশ্বরদী শহরের ঈমান কমিউনিটি সেন্টারে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজনে ‘নির্বাচনী প্রচারণা সভা’ হয়েছে। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেই তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ও দোয়া প্রার্থনা করেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নায়েব আলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হাবিবুর রহমান হাবিব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা চান্না মন্ডল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রশিদুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, পৌর মেয়র ইসাহক আলী মালিথা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম খান ও আতিয়া ফেরদৌস কাকলী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

এসময় গালিবুর রহমান শরীফ বলেন, বিপদ-আপদে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারলে আমি গর্বিত হব। এ সুযোগ আপনারা আমাকে দেবেন আমি আপনাদের পাশে আছি।

নৌকায় ভোট দিন শেখ হাসিনা আপনাদের উন্নত জীবন দেবে: গালিবুর রহমান শরীফ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শান্তি, সম্প্রীতি, উন্নয়ন এবং আগামীর উন্নত সম্ভাবনা নিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে  ঈশ্বরদীতে ‘নির্বাচনি পথসভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়ন দরগা বাজারে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী গালিবুর রহমান শরীফের পক্ষে এটি হয়। ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এর আয়োজন করে।

এসময় গালিবুর রহমান শরীফ বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার জনসাধারণের প্রতি সম্মান আর ভালোবাসা দেখিয়ে আমাকে নৌকা দিয়ে আপনাদের কাছে পাঠিয়েছেন।

তিনি বলেন, ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আগামী ৭ জানুয়ারি আপনারা সেই নৌকা বোঝাই করে ভোট দিবেন। আর শেখ হাসিনা দিবেন আপনাদের নিরাপদ উন্নত জীবন, উন্নত জীবনযাত্রা এবং স্মার্ট সোনার বাংলাদেশ। যে দেশে আপনারা মাথা উঁচু করে বীরের মতো বাঁচবেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি এখন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নেই। রাজনৈতিক দল থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে গেছে। বাসে পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে তারা এখন সাধারণ মানুষকে হত্যা করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করছে। রাষ্ট্রের সম্পদ ধ্বংস করে তাদের দ্বারা দেশ ও জাতির কল্যাণ হতে পারে না। বিএনপি এখন দেশের শত্রু ও জাতির শত্রু। তাই তাদের এখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে।

৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু সাঈদের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক আলাউদ্দিন খাঁনের সঞ্চালনায় নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাক মকলেছুর রহমান মিন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহজাবিন শিরিন পিয়া, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান,আতিয়া ফেরদৌস কাকলি, ইউনিয়ন পরিষদের নুরুল ইসলাম বকুল সরদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মল্লিক মিলন মাহমুদ তন্ময় প্রমুখ।

প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে গালিবুর রহমান শরীফ বললেন, কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনা–৪ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকা প্রতীক পেলেন গালিবুর রহমান শরীফ। আজ সোমবার সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তাঁকেসহ এই আসনের অন্যান্য প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রতীক পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় গালিব জানিয়েছেন, আগামী ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে কেন্দ্রে বেশিসংখ্যক ভোটার উপস্থিত করাকেই মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি।

ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা–৪ আসনে গালিবুর রহমান শরীফের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন পাঁচজন। তাঁরা হচ্ছেন স্বতন্ত্র হিসাবে পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক, জাতীয় পার্টির রেজউল করিম খোকন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মনছুর রহমান ও বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের আতাউর হাসান।

স্থানীয় রাজনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা বলছেন, তাঁদের কেউই আওয়ামী লীগ বা গালিবুর রহমান শরীফের সামনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী নন। কারণ হিসেবে তাঁরা বলছেন, দল হিসেবে জাতীয় পার্টি ছাড়া অন্য তিনটি দলই সাধারণ ভোটারের কাছে নতুন। তা ছাড়া এসব দল থেকে যাঁরা প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাঁরাও তেমন একটা জনপ্রিয় নন।

গালিবুর রহমান শরীফ অবশ্য তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের যোগ্য হিসেবেই বিবেচনা করছেন। আজ পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রতীক বরাদ্দের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে পাঁচজন প্রার্থী আছেন। তাঁরা সবাই যোগ্য। ভোটাররা যাঁকে পছন্দ করবেন, তাঁরই নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ থাকবে এখানে। আমাদের সবারই চেষ্টা থাকবে, যাতে আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারি। একই সঙ্গে চেষ্টা থাকবে, যত বেশি ভোটার আনা যায়। কারণ, নিকট অতীতের নির্বাচনগুলোতে হয়তো ওই রকম ভোটার টার্নআউট হয়নি। এর ফলে এবার এটাই বড় চ্যালেঞ্জ যে আমরা কত ভোটারের আগ্রহ জোগাতে পারি।’

সকাল ৯টার পরপরই প্রতীক বরাদ্দ পেতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসেন গালিবুর রহমান শরীফ। সেখানে পাবনা–১, ২, ৩, ৪ ও ৫ আসনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মু. আসাদুজ্জামান। এ সময় গালিবের সঙ্গে পাবনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আখতারুজ্জামান মুক্তাসহ আওয়ামী লীগ সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন ।

এক প্রশ্নের জবাবে গালিবুর রহমান শরীফ বলেন, ‘ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া থেকে আমি এত কিছু পেয়েছি, আর তো পাওয়ার কিছু নেই। আমি যদি এখন কিছু দিতে পারি, এটা আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগবে। আমি চেষ্টা করব, আমার জায়গা থেকে কাজ করার, যদি সুযোগ পাই। সবাই আমাকে সেই সুযোগটা দিলে আমি চেষ্টা করব সর্বোচ্চ কাজ করার। সবার কথা শুনব, সবার পরামর্শ নিব। সব শুনে সমষ্টিগতভাবে পুরো ঈশ্বরদী-আটঘরিয়ার উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাব।’

নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন। তবে, কবে থেকে সেনা মোতায়েন হবে তা আলোচনা-সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব।

রোববার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল ও ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম। সাক্ষাতে সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি— জানান ইসি সচিব।

ইসি সচিব বলেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।’

এর আগে (১১ ডিসেম্বর) সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি অনুমতি দিলে আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ দিনের জন্য তারা ভোটের দায়িত্ব পালন করবেন।

তফসিল অনুযায়ী, আজ ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত ভোটের প্রচারণা চালাতে পারবেন। ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।

৫ দিনে ভোটের মাঠে ফিরলেন ২৫৭ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানিতে পঞ্চম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ৪৪ জন প্রার্থী। নামঞ্জুর হয়েছে ৫২ জনের, সিদ্ধান্ত হয়নি ৪ জন প্রার্থীর। এর মধ্য দিয়ে গত পাঁচ দিনে মোট ২৫৭ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন। 

১৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনের আইন শাখা সূত্রে এই তথ্য জানা যায়।

ইসি জানায়, প্রথম দিনে ৫৬ জন প্রার্থিতা ফিরে পায়, ৩২ জনের নামঞ্জুর ও ৬টির সিদ্ধান্ত হয়নি। দ্বিতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ৫১ জন। নামঞ্জুর হয়েছে ৪১ জনের। তৃতীয় দিনে প্রার্থিতা ফিরে পায় ৬১ জন। বাতিল হয়েছে ৩৫ জনের। সিদ্ধান্ত হয়নি ৪ জনের। আর চতুর্থ দিনে ৪৮ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন। 

রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫৬১টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। আর ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশন। 

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। নির্বাচনি প্রচার চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ হবে ৭ জানুয়ারি (রোববার)।

নির্বাচন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে পুলিশ: আইজিপি


নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

১২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের এসআই শিরু মিয়া মিলনায়তনে পুলিশ ব্লাড ব্যাংকের ১৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

আইজিপি বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশ দেড়শ বছরের পুরোনো একটি প্রতিষ্ঠান। আমরা এর মধ্যে অনেক নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করে এসেছি। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্যও পুলিশ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নির্বাচন উপলক্ষে যে সব ব্যবস্থা নেয়া দরকার, আমাদের সব ধরনের প্রশিক্ষণ আছে, লজিস্টিকস ও ইক্যুইপমেন্টও আছে। আমরা আমাদের পুরো জনবল নিয়ে প্রস্তুত আছি।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা নির্বাচন পূর্ববর্তী, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছি। তফসিল ঘোষণার পর আমরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। নির্বাচন কমিশন থেকে আমাদের যে সব দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে, আমরা পালন করছি। সফলভাবে ইতোপূর্বে আমরা অনেক নির্বাচন সম্পন্ন করেছি, আগামী দিনেও যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেয়ার জন্য আমাদের গোয়েন্দা ভিত্তিক অপারেশন পরিচালিত হচ্ছে। আপনারা জানেন বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্নস্থানে নাশকতা করা হচ্ছে। কিন্তু নাশকতাকারীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে দাঁড়ানোর মতো সাহস আছে বলে আমি মনে করি না। আমাদের সেই সামর্থ্য ও সাহস আছে।’

তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশন থেকে সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের তালিকা পাইনি, তবে তাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশনা পেয়েছি। সন্ত্রাসী-অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান আমরা সবসময়ই করি, এখনও করছি। প্রতিনিয়ত তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে ভোট বন্ধ


নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে ভোট বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ১০ ডিসেম্বর রোববার ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা পাঠান।

নির্দেশনায় বলা হয়, প্রিসাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে যদি কোনো সময় ভোটগ্রহণ বিঘ্নিত ব্য বাধাগ্রস্ত হয় এবং তা ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় শুরু করা সম্ভব না হয়, তা হলে তিনি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ২৫-এর বিধান অনুসারে অনতিবিলম্বে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেবেন। এবং নিকটস্থ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যগণকে ঘটনাবলী সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি রিটার্নিং অফিসারকেও তা অবহিত করবেন।

এছাড়া ভোটকেন্দ্রে ব্যবহৃত কোনো স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স প্রিজাইডিং অফিসারের হেফাজত থেকে বেআইনিভাবে ও জোরপূর্বক অপসারণ করা হলে বা দুর্ঘটনাক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট করা হলে বা হারিয়ে গেলে বা এরূপ ক্ষতিগ্রস্ত বা বিকৃত হলে, যে ক্ষেত্রে ওই ভোটকেন্দ্রের ফলাফল নির্ধারণ করা যাবে না, সেক্ষেত্রেও প্রিজাইডিং অফিসার ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেবেন এবং রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করবেন। রিটার্নিং অফিসার অনতিবিলম্বে ওই ঘটনা সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের নিকট একটি প্রতিবেদন পেশ করবেন এবং যথাসম্ভব, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নিয়ে নতুনভাবে ভোটগ্রহণের জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করবেন।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, যে ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ হবে সেই ভোটকেন্দ্রের ফলাফল ব্যতীত যদি ওই নির্বাচনী এলাকার ফলাফল বাকি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল দ্বারা নির্ধারিত না হয়, তা হলে নির্বাচন কমিশন ওই ভোটকেন্দ্রে পুনঃভোটগ্রহণের জন্য রিটার্নিং অফিসারকে নির্দেশ প্রদান করবে। রিটার্নিং অফিসার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশক্রমে ওই ভোটকেন্দ্রে/ভোটকেন্দ্রসমূহে ভোটগ্রহণের জন্য একটি দিন ও সময় ধার্য করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবেন। 

মনে রাখবেন, এমন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রাধীন সকল ভোটার ভোট দিতে পারবেন এবং বন্ধ ঘোষিত নির্বাচনে ভোট গণনা করা যাবে না।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন