সরকার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সরকার লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

উন্নয়ন ব্যয়ে পরিমাণের চেয়ে গুণগত মানকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার: পরিকল্পনা উপদেষ্টা

উন্নয়ন ব্যয়ে পরিমাণের চেয়ে গুণগত মানকে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার: পরিকল্পনা উপদেষ্টা
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, সরকার উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণের পরিবর্তে ব্যয়ের গুণগত মান ও দক্ষতার দিকে নজর দিচ্ছে।

সোমবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ড. মাহমুদ বলেন, 'আমরা উন্নয়ন ব্যয়ের আকারের চেয়ে গুণগত মানের দিকে বেশি নজর দিচ্ছি।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. মাহমুদ বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এসব প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করছে সরকার। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, তার অফিসকে এই জাতীয় প্রকল্পগুলো চিহ্নিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, বিশেষত যেগুলোতে উল্লেখযোগ্য সরকারি ব্যয় জড়িত।

তিনি বলেন, 'দায়িত্ব গ্রহণের পর আমাকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রকল্প এবং সর্বোচ্চ ব্যয়বহুল প্রকল্প চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্বশীল আর্থিক ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, যদি কোনো প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য ব্যয় হয়, তাহলে সরকারি অর্থের অপচয়রোধে তা সম্পন্ন করা উচিত।’

ড. মাহমুদ আরও বলেন, স্বল্প ব্যয় কিন্তু উচ্চ সম্ভাবনাময় ছোট প্রকল্পগুলো লাভজনক প্রমাণিত হলে সেগুলো সমাপ্তির জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।

দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে ড. মাহমুদ উন্নয়ন প্রকল্প পর্যালোচনা পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের কাজের প্রশংসা করেন।

ন্যূনতম অপচয়ে প্রকল্প সম্পন্ন করতে সরকারের প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এই প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করি এবং এই প্রকল্পগুলোর যাচাই-বাছাই ত্বরান্বিত করতে চাই।’

উন্নয়ন বাজেটের বিষয়ে ড. মাহমুদ অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থ উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর উভয়ই চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে সীমিত তহবিল দিয়ে একটি অতিরিক্ত সম্প্রসারণমূলক বাজেট মুদ্রাস্ফীতির চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সুবিধার্থে উন্নয়ন বাজেট হ্রাস করার চেষ্টা করছি।’ সরকারকে অবশ্যই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। অর্থনীতির জন্য স্থবিরতা কোনো বিকল্প নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমাদের উভয় পক্ষকেই পরিচালনা করতে হবে।’

বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ মন্দার কথা উল্লেখ করে ড. মাহমুদ বলেন, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে শিল্পপতি ও ব্যাংকাররা বিনিয়োগ করতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়েছেন। ‘শিল্প, ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং বেসরকারি খাতকে ঋণ দেওয়া সবই ধীর হয়ে পড়েছে।’ তিনি ক্ষমতার পরিবর্তনের কারণে অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাবের দিকেও ইঙ্গিত করেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি খাতের বিনিয়োগও হ্রাস পেয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারণে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প তদন্তাধীন রয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও প্রভাবিত করেছে।

দাম নিয়ন্ত্রণে চাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর চিন্তা করছে সরকার

ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

সংবাদ সাতদিন ডেস্ক: দেশে চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে চালের আমদানি শুল্ক কমানোর কথা ভাবছে সরকার।

অর্থ, বাণিজ্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় ধান চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ সিদ্ধান্তের কথা ভাবা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লাসহ প্রধান কৃষি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে রংপুর, শেরপুর, লালমনিরহাট, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ বন্যার কবলে পড়েছে। এই অঞ্চলগুলো দেশের ধান উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে স্থানীয় বাজারে চালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা সংকটে পড়েছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন ধরনের চালের দাম বেড়েছে ৮-১০ শতাংশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ অবস্থায় সরকারের লক্ষ্য চাল আমদানি করে দাম নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল করা। চালের ওপর আমদানি শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

বর্তমানে চাল আমদানিতে ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। এই শুল্ক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর যুগ্ম সচিব লুৎফর রহমান এনবিআরকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠান।

উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খাদ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকদের প্রণোদনা দিতে চলতি বোরো মৌসুমে ৫ লাখ টন ধান ও ১ কোটি ৪৭ লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

৩১ আগস্ট পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৯৭০ টন ধান ও ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৪৯৭ টন চাল। বর্তমানে সরকারি গুদামে ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৪০ টন চাল ও ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৯২৮ টন গম মজুদ রয়েছে।

তবে বন্যার পর উৎপাদন, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে চালের দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে। এ কারণে খাদ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য অধিদপ্তর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন দাম নিয়ন্ত্রণে বাজার নজরদারি বাড়িয়েছে। সুষ্ঠু বাজার পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এরপরও খাদ্যশস্যের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সম্প্রতি ১৪টি জেলায় বন্যায় আউশ, আমনের চারা এবং আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চালের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সরবরাহ কমে গেলে দাম আরও বাড়তে পারে। উপরন্তু, ভারতের গম রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গম আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম বৃদ্ধি শস্যের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

এ প্রেক্ষাপটে চালের বাজার স্থিতিশীল করা এবং সরকারের মজুদ বাড়ানো অপরিহার্য। বেসরকারি পর্যায়ে চাল আমদানিরও প্রয়োজন হতে পারে। এরই মধ্যে পাঁচ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন পেয়েছে সরকার।

যদিও বর্তমানে স্থানীয় বাজারের তুলনায় বৈশ্বিক বাজারে চালের দাম বেশি, তবে বিদ্যমান চালের আমদানি শুল্ক ৬২.৫০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে কমানোর সিদ্ধান্তকে দাম স্থিতিশীল রাখতে একটি জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে চালের আমদানিতে ২৫ শতাংশ কাস্টমস শুল্ক, ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ শুল্ক, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর, ৫ শতাংশ অগ্রিম ট্যাক্স, ১ শতাংশ বীমা, ১ শতাংশ ল্যান্ডিং চার্জ এবং ০.৫ শতাংশ ডি এফ ভ্যাট প্রযোজ্য।

সম্প্রতি ভারত তাদের চাল রপ্তানি শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে। বাংলাদেশ যদি তার আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনে, তাহলে ভারত থেকে চাল আমদানির ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ সম্মিলিত শুল্ক প্রযোজ্য হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, এই শুল্ক হ্রাস আমদানিকারকদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে উৎসাহিত করবে। সরকারি-বেসরকারি আমদানিতে বাসমতি ছাড়াই অন্যান্য সিদ্ধ চাল ও সুগন্ধি ছাড়াই আতপ চালের শুল্ক কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এনবিআরকে অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

পঞ্চমবার প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিলেন শেখ হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। একইসঙ্গে টানা চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড গড়েলেন তিনি।  

আজ বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনাকে শপথবাক্য পাঠ করান। এরপর একে একে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নেবেন। এই মন্ত্রিসভায় আছেন ২৫ মন্ত্রী ও  ১১ প্রতিমন্ত্রী।

গতকাল বুধবার আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়ে সচিব মো. মাহবুব হোসেনের স্বাক্ষরে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আর আজ বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভায় ৩৬ সদস্যকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আজ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন আসাদুজ্জামান খান (ঢাকা-১২), আ ক ম মোজাম্মেল হক (গাজীপুর-১), ওবায়দুল কাদের (নোয়াখালী-৫), নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন (নরসিংদী-৪), ডা. দীপু মনি (চাঁদপুর-৩), মো. তাজুল ইসলাম (কুমিল্লা-৯), মুহাম্মদ ফারুক খান (গোপালগঞ্জ-১), আবুল হাসান মাহমুদ আলী (দিনাজপুর-৪), আনিসুল হক (বাহ্মণবাড়িয়া-৪), মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ (চট্টগ্রাম-৭), মো. আব্দুস শহীদ (মৌলভীবাজার-৪), সাধন চন্দ্র মজুমদার (নওগাঁ-১), র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩), মো. আব্দুর রহমান (ফরিদপুর-১), আব্দুস সালাম (ময়মনসিংহ-৯), নারায়ন চন্দ্র চন্দ (খুলনা-৫), মহিবুল হাসান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৯), ফরহাদ হোসেন (মেহেরপুর-১), মো. ফরিদুল হক খান (জামালপুর-২), মো. জিল্লুল হাকিম (রাজবাড়ী-২), সাবের হোসেন চৌধুরী (ঢাকা-৯), জাহাঙ্গীর কবির নানক (ঢাকা-১৩), নাজমুল হাসান (কিশোরগঞ্জ-৬), স্থপতি ইয়াফেস ওসমান ও সামন্ত লাল সেন।

এ ছাড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বেগম সিমিন হোমেন রিমি (গাজীপুর-৪), নসরুল হামিদ (ঢাকা-৩), জুনাইদ আহমেদ পলক (নাটোর-৩), মোহাম্মদ আলী আরাফাত (ঢাকা-১৭), মো. মহিববুর রহমান (পটুয়াখালী-৪), খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (দিনাজপুর-২), জাহিদ ফারুক (বরিশাল-৫), কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (খাগড়াছড়ি), বেগম রুমানা আলী (গাজীপুর-৩), শফিকুর রহমান চৌধুরী (সিলেট-২) ও আহসানুল ইসলাম (টিটু) (টাঙ্গাইল-৬)।

কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২২২ আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। গতকাল শপথ নিয়েছেন নতুন সংসদ সদস্যরা। আজ মন্ত্রিসভার ৩৭ সদস্য শপথ নেন। সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগের মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য নতুন মন্ত্রিসভায়ও স্থান পেয়েছেন। এমনকি তাদের কারও কারও পূর্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ও পরিবর্তন হয়নি।

আ. ক. ম মোজাম্মেল হক (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়), ওবায়দুল কাদের (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়), নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন (শিল্প মন্ত্রণালয়), আসাদুজ্জামান খান (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), ডা. দীপু মনি (সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়), মো. তাজুল ইসলাম (স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়), মুহাম্মদ ফারুক খান (বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়), আবুল হাসান মাহমুদ আলী (অর্থ মন্ত্রণালয়), আনিসুল হক (আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়), হাছান মাহমুদ (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়), আবদুস শহীদ (কৃষি মন্ত্রণালয়), সাধন চন্দ্র মজুমদার (খাদ্য মন্ত্রণালয়), র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী (গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়), আব্দুর রহমান (মৎস্য ও ‍প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়), নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (ভূমি মন্ত্রণালয়), আবদুস সালাম (পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়), মহিবুল হাসান চৌধুরী (শিক্ষা মন্ত্রণালয়), ফরহাদ হোসেন (জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়), ফরিদুল হক খান (ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়), জিল্লুল হাকিম (রেলপথ মন্ত্রণালয়), সাবের হোসেন চৌধুরী (পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়), জাহাঙ্গীর কবির নানক (বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়), নাজমুল হাসান পাপন (যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়), ইয়াফেস ওসমান (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) ড. সামন্ত লাল সেন (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়)।
 
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ ২৮টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তারা শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে।

নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে গোলযোগের কারণে একটি আসনের ফল স্থগিত রাখা হয়েছে। বাকি ২৯৮টি আসনের ফলাফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ২২২ আসনে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ১১টি আসন। বাকি ৬৫ আসনের মধ্যে ৬২টিতে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আর জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও কল্যাণ পার্টি পেয়েছে একটি করে আসন।

স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হওয়া ৬২ জনের মধ্যে ৫৯ জন আওয়ামী লীগের নেতা। জাতীয় পার্টি যে ১১টি আসনে জয়লাভ করেছে সেগুলোতে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার প্রার্থী প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এছাড়া জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছে আর কল্যাণ পার্টি যে আসনে জিতেছে সেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থন দিয়েছে।

আমন ও বোরোতে চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলমান ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমন ধান কাটা চলছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৮২ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। এবার ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। 

এ বছর আমন মৌসুমে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ মেট্রিক টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমনে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টন আর ২০২১-২২ অর্থবছরে ১ কোটি ৫০ লাখ টন চাল উৎপাদিত হয়েছিল।

অন্যদিকে, আসন্ন বোরো মৌসুমে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ৫০ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর ও ২ কোটি ২২ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

১৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সরকারি এক তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, প্রায় সাড়ে ২৯ লাখ কৃষকের মাঝে ১৯৮ কোটি টাকার সার, বীজসহ বিভিন্ন প্রণোদনা বিনামূল্যে বিতরণ কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে চলমান আছে। 

উল্লেখ্য, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ভালো হওয়ার কারণে ২০২৩ সালের ১ জুলাই থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো চাল আমদানি করার প্রয়োজন হয়নি।

পেঁয়াজ ইস্যুতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হঠাৎ দাম বৃদ্ধির পেছনে দায়ী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি।

১২ ডিসেম্বর সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচ্য সূচির বাইরে আলাদা করে সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশ দেন সরকার প্রধান।

বিকেলে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

সচিব বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে উনি (প্রধানমন্ত্রী) ক্যাবিনেটে না, আলাদাভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন। সেটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বলেছেন। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন- মাঠ পর্যায়ে এখন ক্লোজ মনিটরিং হচ্ছে এবং আজকে তার কিছুটা ইম্প্যাক্ট পাওয়া যাচ্ছে, এটা দেখতে পাচ্ছেন তো আপনারা, পাচ্ছেন না? গতকাল যে ট্রেন্ড ছিল আজকে সে ট্রেন্ড নেই।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সুনির্দিষ্টভাবে কী ছিল— জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে নির্দেশনা হচ্ছে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো। যারা এসব কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের দিকে নজরদারি বাড়ানো এবং যারা অতিরিক্ত মুনাফা পাওয়ার চেষ্টা করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা।

নির্দেশনা পাওয়ার পর মাঠপর্যায়ে টিম কাজ করছে বলে জানান সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

প্রসঙ্গত, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের অজুহাতে দেশে অস্থির পেঁয়াজের বাজার। একদিনের ব্যবধানে দাম কেজিপ্রতি দিগুণ বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে ভারতীয় পেঁয়াজ ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির খবরে বেড়ে যায় দেশি পেঁয়াজের দামও। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকায়। হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ এবং দাম বৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে তার সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৭৮তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৈনন্দিন কর্মসূচি সম্পর্কে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করার সময় এ কথা বলেন।
  
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অহিংস নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বিশেষে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা প্রদর্শন করতে হবে। ইনশাআল্লাহ, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারব।

এক প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্য তারা সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসি একটি আইনের আওতায় গঠিত এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ করেন না। এমনকি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনারদের অপসারণ করতে পারেন না। কোনো সরকারি কর্মচারী অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে ইসি তাকে সাময়িক বরখাস্ত বা শাস্তি দিতে পারে।

তিনি বলেন, ভোট কারচুপি হলে ইসি কোনো ভোটকেন্দ্রের ভোট বাতিলও করতে পারে।

বাংলাদেশ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে মোমেন বলেন, আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের অত্যন্ত উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই সম্পর্ককে আরও জোরদার ও মজবুত করতে চান।

একজন বন্ধু অন্য বন্ধুকে পরামর্শ দিতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা তাদের অনেকগুলো পরামর্শ গ্রহণ করেছি। যদি পরামর্শটি বাস্তবসম্মত হয় তবে আমরা অবশ্যই সেটি গ্রহণ করব।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতি সম্পর্কে মোমেন বলেন, যারা নির্বাচন বানচাল করবে তাদের জন্যই যুক্তরাষ্ট্র নতুন ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে। এটা আমাদের জন্য ভালো কারণ আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত। আমরা চাই এখানে কেউ যেন ভোট বিঘ্নিত করতে না পারে এবং সহিংসতা করতে না পারে। সুতরাং, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে খুব নিবিড়ভাবে কাজ করছি।

সাবেক তিন সচিব ও ডিএমপি কমিশনারকে পিএসসির সদস্য নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক তিন সচিব এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক একজন কমিশনারকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য করেছে সরকার।

তারা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী, পিআরএল ভোগরত প্রাক্তন সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ, পিআরএল ভোগরত প্রাক্তন সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম এবং পিআরএল ভোগরত প্রাক্তন অ্যাডিশনাল আইজি (গ্রেড-১) (ডিএমপির সাবেক কমিশনার) মোহা. শফিকুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত চারটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১৩৮ (১) অনুচ্ছেদের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাদেরকে এ নিয়োগ দিয়েছেন বলে প্রজ্ঞাপনগুলোতে জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনগুলোতে আরও জানানো হয়, সংবিধানের ১৩৯ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে তারা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে ৫ বছর বা তাদের বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হওয়ার মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সেসময় পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

স্বত্ব © ২০২৫ সংবাদ সাতদিন